বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

মোট প্রশ্ন১,৩১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয় পদ।

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৪ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৩১৩

১,২০১.
‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা।’ - বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. আবেগ
  2. অনুসর্গ
  3. যোজক
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা।’ - বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরে’ সম্বোধন আবেগ পদের উদাহরণ।

• আবেগ-শব্দ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২০২.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. মেঘমালা
  2. মেঘবরন
  3. মেঘমুক্ত
  4. মেঘলা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - মেঘমালা
শব্দের অর্থ:
- মেঘরাশি, পুঞ্জীভূত মেঘ।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - মেঘবরন।
শব্দের অর্থ:
- মেঘের মতো কালো রঙের (মেঘবরন কেশ)।

• বিশেষণ পদ - মেঘমুক্ত।
শব্দের অর্থ:
- মেঘহীন, নির্মল (মেঘমুক্ত আকাশ)।

• বিশেষণ পদ - মেঘলা।
শব্দের অর্থ:
- মেঘে ঢাকা, মেঘাচ্ছন্ন (মেঘলা আকাশ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২০৩.
ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন। নিম্নরেখ শব্দ নিচের কোনটি নির্দেশ করে?
  1. ক) বাক্যের বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়ের বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
-প্রদত্ত বাক্যের 'ধিক্‌' এবং 'শত ধিক্‌' দ্বরা অব্যয়ের বিশেষণ কে নির্দেশ করে।

ভাব বিশেষণ: যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাই ভাব বিশেষণ।
ভাব বিশেষণ কে আবার ৪ ভাগে ভাগ করা যায়,যথা: 

»ক্রিয়া বিশেষণ
»বিশেষণের বিশেষণ অব্যয়ের বিশেষণ
»বাক্যের বিশেষণ
»অব্যয়ের বিশেষণ

ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব,কাল বা রূপ নির্দেশ করে,তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
যথা-
ক্রিয়া সংঘটনের ভাব: ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
ক্রিয়া সংঘটনের কাল: পরে একবার এসো।

বিশেষণের বিশেষণ: যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বাবিশেষণীয় বিশেষণ বলে ।
যথা-
নাম-বিশেষণের বিশেষণ: সামান্য একটু দুধ দাও ।


অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে,তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে ।
যথা-ধিক্‌ তারে, শত ধিক্‌ নির্লজ্জ যে জন ।

বাক্যের বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ একটি সম্পূর্ণ বাক্যকে বিশেষিত করে,তাকে বাক্যের বিশেষণ বলে ।
যেমন- দুর্ভাগ্যক্রমে দেশ আবার নানা সমস্যাজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
১,২০৪.
'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?'- বাক্যে 'সবল' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ পদ:
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন- ভাঙা ঘর, অন্ধকার রাত, চলন্ত গাড়ি- এই উদাহরণগুলোর মধ্যে ভাঙা, অন্ধকার, চলন্ত পদগুলো বিশেষণ পদ। এগুলো ঘর, রাত, গাড়ি বিশেষ্য পদের পূর্বে বসে বিশেষ্য পদগুলোকে বিশেষিত করেছে। এ ধরনের উদাহরণগুলো হলো বিশেষ্যের বিশেষণ।

• নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-
বিশেষ্যের বিশেষণ: সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালবাসে?
সর্বনামের বিশেষণ: সে রূপবানগুণবান

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২০৫.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. মানুষ
  2. জনতা
  3. সাগর
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• জাতি বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণাীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২০৬.
নিচের কোনটি ভাববাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. গমন
  2. দর্শন
  3. যৌবন
  4. শোনা
ব্যাখ্যা
- যে বিশেষ্যপদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন, দেখা, শোনা।

- যৌবন গুণবাচক বিশেষ্য।

বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।
বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য
২. জাতিবাচক বিশেষ্য
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
৫. ভাববাচক বিশেষ্য
৬. গুণবাচক বিশেষ্য

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১,২০৭.
'ভোজন' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. নাম-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য:
কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।

১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২০৮.
জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. মিছিল
  2. চিনি
  3. দল
  4. নদী
ব্যাখ্যা
• 'নদী'- জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 
------------------------
জাতিবাচক বিশেষ্য: 
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
---------------- 
অন্য অপশনে, 
বস্তুবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২০৯.
কোন শব্দটি বিশেষ্য?
  1. চঞ্চল
  2. চাতুর্য
  3. বুনো
  4. লবণাক্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চাতুর্য' - বিশেষ্য পদ।

• 'চাতুর্য' অর্থ:
- চতুরতা।

অন্যদিকে,
চঞ্চল, বুনো, লবণাক্ত - বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২১০.
কোন বাক্যটিতে বিশেষণের বিশেষণ রয়েছে?
  1. পরে একবার এসো
  2. রকেট অতি দ্রুত চলে।
  3. সে পূণ্যবান।
  4. বাতাস ধীরে বইছে।
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:
• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২১১.
কোন বাক্যে অকর্মক ক্রিয়া রয়েছে?
  1. মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন।
  2. কাঞ্চন পড়ছে।
  3. শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।
  4. আমি রাতে ভাত খাব।
ব্যাখ্যা
• অকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- স্বপন লিখছে।
- কাঞ্চন পড়ছে।

--------------------------
সকর্মক ক্রিয়া:

- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে৷
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
- এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া।
- 'বই' হলো ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।
তেমনি,
- আমি রাতে ভাত খাব।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন
- মা শিশুকে দুধ খাওয়াচ্ছেন

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২১২.
তুমি কী খাবে? বাক্যে 'কী' ব্যবহৃত হয়েছে-
  1. ক) প্রশ্নবোধক হিসেবে
  2. খ) বিশেষণ হিসেবে
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ হিসেবে
  4. ঘ) সর্বনাম হিসেবে
ব্যাখ্যা
সর্বনামকে মোট ৯টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
তাঁর মধ্যে অন্যতম হলো - প্রশ্নবাচক সর্বনাম।

প্রশ্নবাচক সর্বনাম:
প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম তৈরি করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

কী দিয়ে ভাত খাবে? - এখানে 'কী' সর্বনাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
তেমনিভাবে, তুমি কী খাবে? - বাক্যটিতেও "কী" প্রশ্নবাচক সর্বনাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

==============
মনে রাখার উপায়:
কী + ক্রিয়া = সর্বনাম
কী + বিশেষ্য = বিশেষণ।
১,২১৩.
'আমি আজ আলবত যাব!' – বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয় 
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
বাক্যে ব্যবহার: 
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়।

প্রশ্নে আলোচিত বাক্য - 'আমি আজ আলবত যাব।’
- বাক্যটিতে 'আলবত' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।

১,২১৪.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. ক) লবণ
  2. খ) তারল্য
  3. গ) ভোজন
  4. ঘ) বহর
ব্যাখ্যা

যে বিশেষ্য দ্বারা কোন বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বুঝায় তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমনঃ তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য ; মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা ইত্যাদি।
- ‘লবণ’ বস্তুবাচক বা দ্রব্য বাচক বিশেষ্য।
- ‘ভোজন’ ভাববাচক বিশেষ্য।
- ‘বহর’ সমষ্টি বাচক বিশেষ্য।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১,২১৫.
'সোমবার' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) সৃষ্টিনাম
  3. গ) কালনাম
  4. ঘ) ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
'সোমবার' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১,২১৬.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. জানুয়ারি
  2. গীতাঞ্জলি
  3. গুরুত্ব
  4. পর্বত
ব্যাখ্যা

জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - গীতাঞ্জলি, জানুয়ারি।
গুণ-বিশেষ্য - গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২১৭.
বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না কোন পদের সাথে?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
অব্যয় শব্দের সাথে কোনো বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলোর একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলোর স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২১৮.
নিম্নের কোন বাক্যে ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে?
  1. রকেট অতি দ্রুত চলে।
  2. বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
  3. এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
  4. আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।

যেমন:
নাম-বিশেষণের বিশেষণ:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- বাগানটি অত্যন্ত সুন্দর।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
- আজ আবহাওয়া অনেক ভালো।

ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।
- ঘোড়া খুব দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২১৯.
কোনটি ভাববাচক বিশেষ্য?
  1. দুঃখ
  2. দর্শন
  3. যৌবন
  4. সৌরভ
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

অন্যদিকে,
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২০.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. সামর্থ্য
  2. বিচিত্র
  3. সামগ্র্য
  4. নৈষ্কর্ম
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - বিচিত্র
- 'বিচিত্র' শব্দের বিশেষ্য পদ - বৈচিত্র্য।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- নানা বর্ণবিশিষ্ট, নানারূপে চিত্রিত, নকশাদার।
- মনোরম, মনোহর, সুন্দর, বিস্ময়কর।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - সামর্থ্য, সামগ্র্য, নৈষ্কর্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২২১.
'উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়।' বাক্যে 'ও' কোন জাতীয় অব্যয়?
  1. ক) বিয়োজক অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) সংযোজক অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।
- প্রদত্ত বাক্যটিতে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করেছে।
- কয়েকটি সংযোজক অব্যয়ঃ আর, ও, এবং, অধিকন্তু, সুতরাং ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২২.
'কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।' - এখানে অনন্বয়ী অব্যয়টি কী প্রকাশ করছে?
  1. যন্ত্রণা
  2. বিরক্তি
  3. স্বীকৃতি
  4. অনুমোদনবাচকতা
ব্যাখ্যা
• 'কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ে না।' - এখানে অনন্বয়ী অব্যয় 'বিরক্তি' প্রকাশ করেছে।

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

এছাড়াও অনন্বয়ী অব্যয়ের কয়েকটি উদাহরণ-
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
হ্যাঁ, আমি যাব না- স্বীকৃতি জ্ঞাপনে।
উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে- যন্ত্রণা প্রকাশে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১,২২৩.
'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?'- বাক্যে বিশেষ্য পদ কোনটি 
  1. সুস্থ
  2. সবল
  3. দেহ
  4. খ ও গ 
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত বাক্যে 'সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?' - 'দেহ' বিশেষ্য পদ। 

এখানে পদ নির্ণয় করলে পাওয়া যায়:
সুস্থ- বিশেষণ। 
সবল- বিশেষণ। 
দেহকে- বিশেষ্য (কর্ম কারক; ‘কে’ বিভক্তিযুক্ত)। 
কে- প্রশ্নবাচক সর্বনাম। 
না- অব্যয় (নিষেধার্থে ব্যবহৃত)। 
ভালোবাসে- ক্রিয়া। 

 -----------------
• নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। যথা-

বিশেষ্যের বিশেষণ:
- সুস্থ সবল দেহকে কে না ভালোবাসে?
- নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।

সর্বনামের বিশেষণ:
- সে রূপবান ও গুণবান।

একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ: বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন:
বিশেষণ রূপে: নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি।
বিশেষ্য রূপে: গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে: ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন।
বিশেষ্য রূপে: আপন ভালো সবাই চায়।

বিশেষণ রূপে: মন্দ কথা বলতে নেই।
বিশেষ্য রূপে: এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে: তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক।
বিশেষ্য রূপে: পুণ্যে মতি হোক।

বিশেষণ রূপে: শীতকালে কুয়াশা পড়ে। 
বিশেষ্য রূপে: শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার।

বিশেষণ রূপে: সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে: এ এক বিরাট সত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২২৪.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. মধুরতা
  2. শীতল
  3. দুঃখ
  4. তারল্য
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

-----------------------
• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- শীতল পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘শীতল' হলো গুণবাচক বিশেষণ।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

১,২২৫.
'চলন্ত গাড়ি’- এখানে ’চলন্ত’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. উপাদানবাচক
  3. বর্ণবাচক
  4. অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা

 অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন-
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২২৬.
'পঞ্চাশ টাকা'- এখানে 'পঞ্চাশ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায়, তাকে বিশেষণ বলে।
যেমন:
- সুন্দর ফুল,
- বাজে কথা,
- পঞ্চাশ টাকা,
- হাজার সমস্যা,
- তাজা মাছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,২২৭.
কোন ধরনের বিশেষ্য 'সাধারণ বিশেষ্য' নামে পরিচিত?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. সমষ্টি-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য, সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।যেমন- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ। কালনাম: সোমবার, বৈশাখ। সৃষ্টিনাম : গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা।
• সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
• বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,২২৮.
‘সমস্ত লোকে ঘটনাটা শুনেছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘সমস্ত’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা

• ‘সমস্ত লোকে ঘটনাটা শুনেছে।’- ‘সমস্ত’ সকলবাচক সর্বনাম হলেও এই বাক্যে সমস্ত শব্দটি ‘লোক’ শব্দটিকে বিশেষিত করেছে।

⇒ সুতরাং এই বাক্যে ‘সমস্ত’ শব্দটি বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

⇒ বিশেষণ:
যে পদের বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখা ও পরিণাম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে। বিশেষণ দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. নাম বিশেষণ,
২. ভাব বিশেষণ।

অন্যদিকে,
⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন:
• সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,২২৯.
"ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।" - এই বাক্যে ‘দ্রুত’ কোন বিশেষণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. বিশেষণের বিশেষণ
  3. অব্যয়ের বিশেষণ
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:

যেমন:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৩০.
'এক টাকা', 'আট দিন'— এখানে 'এক' ও 'আট' কী ধরনের বিশেষণ?
  1. পূরণবাচক
  2. ক্রমবাচক
  3. পরিমাণবাচক
  4. নির্দিষ্টতাবাচক 
ব্যাখ্যা

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন
- এক টাকা, আট দিন এখানে 'এক' ও 'আট' ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৩১.
'দশম শ্রেণি' - এখানে 'দশম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  2. ক্রমবাচক বিশেষণ
  3. সংখ্যাবাচক বিশেষণ
  4. অংশবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
নাম বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
রূপবাচক: নীল আকাশ, কালো মেঘ।
গুণবাচক: দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে।
সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ টাকা।
ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা।
পরিমাণবাচক: পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ।
উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি।
প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ, কেমন অবস্থা।
নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩২.
“সভাটি আজকের মত স্থগিত করা হলো ”- বাক্যে ‘সভা’ কোন পদ?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. নাম বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
⇒ “সভাটি আজকের মত স্থগিত করা হলো”- বাক্যে ‘সভা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্য

• বিশেষ্য:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন: নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ।
১,২৩৩.
‘হিমালয়’ কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. সৃষ্টিনাম
  2. কালনাম
  3. স্থাননাম
  4. ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা।
স্থাননাম: বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩৪.
'পিপাসিত অধ্যাপক এক গ্লাস পানি চাইলেন।' - বাক্যে 'পিপাসিত' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'পিপাসিত' শব্দটি বিশেষণ পদ।
- শব্দের অর্থ - পিপাসাযুক্ত, তৃষ্ণার্ত।
- 'পিপাসিত' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ - পিপাসিতা।
 
উল্লেখ্য,
• 'পিপাসা' - বিশেষ্য পদ। 
- পিপাসী এবং পিপাসু বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৩৫.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. মধুরতা
  2. দুঃখকর 
  3. তিতা 
  4. সাহসী
ব্যাখ্যা

• গুণবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
- মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা,
- তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য,
- তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা,
- তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।

তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

অন্যদিকে, 
 দুঃখকর,  তিতা, সাহসী বিশেষণ পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৩৬.
কোনটি বিমূর্ত বিশেষ্য?
  1. নদী
  2. বই
  3. সৌন্দর্য
  4. কাঁঠাল
ব্যাখ্যা

• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।   

১,২৩৭.
‘সৌন্দর্য সকলকেই আকর্ষণ করে।’ - এ বাক্যে ‘সৌন্দর্য’ কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। 
তদ্রুপ-
- সৌরভ, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৮.
বিশেষণ কোন পদের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে?
  1. সর্বনাম ও অব্যয়
  2. ক্রিয়া ও বিশেষ্য
  3. বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. বিশেষ্য ও ক্রিয়াবিশেষণ
  5. খ ও গ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে পদ সাধারণত বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-১৯ সংস্করণ)।
১,২৩৯.
'হায়! হায়! আগুনে যে সব পুড়ে গেল" বাক্যে কী ধরনের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ক) বিরক্তিবাচক
  2. খ) আতঙ্কবাচক
  3. গ) বিস্ময়বাচক
  4. ঘ) করূণাবাচক
ব্যাখ্যা
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে
নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:

সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।

প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- বাহ, চমৎকার লিখেছ। 

বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- উহ! কি বিপদে পরা গেল।

বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- আরে! তুমি আবার কখন এলে?

করূণা আবেগ
: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- হায়! হায়! আগুনে যে সব পুড়ে গেল।

সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর। 

অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪০.
'অতিশয় মন্দ কথা' - বাক্যে 'অতিশয়' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য 
  2. বিশেষণ 
  3. ক্রিয়াবিশেষণ 
  4. বিশেষণের বিশেষণ
ব্যাখ্যা

বিশেষণীয় বিশেষণ:
যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন,
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- অতিশয় মন্দ কথা।
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৪১.
সামীপ্যবাচক সর্বনামের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) এই
  2. খ) পরস্পর
  3. গ) যিনি
  4. ঘ) খোদ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্মলিখিত ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ক. ব্যক্তিবাচক : আমি, সে, তারা, তিনি, ও, এরা ইত্যাদি।
খ. আত্মবাচক : স্বয়ং,খোদ, আপনি।
গ. সামীপ্যবাচক : এ, এই, এরা,ইহারা, ইনি।
ঘ. দূরত্ববাচক : ঐ, ঐসব।
ঙ. সাকুল্যবাচক : সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
চ. প্রশ্নবাচক : কে, কি, কী, কেন, কাহার, কার, কিসে?
ছ. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
জ. ব্যতিহারিক : নিজে নিজে, পরস্পর ইত্যাদি।
ঝ. সংযোগজ্ঞাপক : যে, যিনি, যারা ইত্যাদি।
ঞ. অন্যাদিবাচক : অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪২.
'ভালো নিজেকে জাহির করে না, অনেক সময়ই তাকেই খুঁজে বের করতে হয়।'- এই বাক্যে 'ভালো' শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায় তাই গুণবাচক বিশেষ্য। যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ- মধুরতা। তদ্রুপ সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৩.
নিচের কোন বাক্যে 'ভালো' বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ভালো মানুষ কমই দেখা যায়।
  2. খ) ভালো লোক সবার প্রিয়।
  3. গ) আদি ভালো দৌড়াতে পারে।
  4. ঘ) নিজের ভালো কে না চাই।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ ৬ প্রকার। নামবাচক, জাতিবাচক, বস্তুবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক ও গুণবাচক। নিজের ভালো কে না চাই। এই বাক্যে 'ভালো' গুণবাচক বিশেষ্য।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৪.
'এ কাপড়ের রং কাঁচা' -এখানে কাঁচা কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অপরিণত
  2. খ) অস্থায়ী
  3. গ) অপক্ব
  4. ঘ) বাজে
ব্যাখ্যা
'এ কাপড়ের রং কাঁচা' বাক্যে কাঁচা শব্দটি অস্থায়ী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অপরিণত অর্থে কাঁচা' শব্দের ব্যবহার হলো- কাঁচা বয়সে অত বোঝ না। অপক্ব অর্থে কাঁচা শব্দের ব্যবহার হলো- দেখেই বুঝা যাচ্ছে এটা কাঁচা হাতের লেখা। বাজে অর্থে কাঁচা শব্দের ব্যবহার হলো সোহেল সাহেব কাঁচা কথার লোক নন। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১,২৪৫.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. বই
  2. ফুল
  3. গরু
  4. ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা

বস্তু-বিশেষ্য: 
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য - ইত্তেফাক।
জাতি-বিশেষ্য - গরু, ফুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৪৬.
ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে কোন সর্বনাম হয়?
  1. আত্মবাচক
  2. অন্যবাচক
  3. ব্যক্তিবাচক
  4. সকলবাচক
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন -
"শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সকলবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়।
যেমন -সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৪৭.
সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম কোনটি?
  1. যিনি
  2. সমুদয়
  3. পরস্পর
  4. খোদ
ব্যাখ্যা

সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব।
(৫) সাকুল্যবাচক সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৪৮.
'গুরুত্ব' কোন পদ?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. ক্রিয়া-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

গুরুত্ব (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- মনোযোগ আকর্ষণের যোগ্যতা।
- মূল্য, তাৎপর্য; ওজন।
- মহত্ত্ব, মাহাত্ম্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৪৯.
কোনটি সাকুল্যবাচক সর্বনাম?
  1. কোথাও
  2. তাবৎ
  3. ওই
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম:
- ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন: নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনাে কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বােঝানাের জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
- নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,২৫০.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. অথবা
  2. যখন-তখন
  3. শন শন
  4. অধিকন্তু
ব্যাখ্যা
নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।
যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যে রূপ- সে রূপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৫১.
'পরে একবার এসো।' - এখানে 'পরে' কোন বিশেষণ?
  1. বাক্যের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া বিশেষণ: 
- যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যথা-
ক. ক্রিয়া সংগঠনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংগঠনের কাল- পরে একবার এসো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৫২.
'আপনাকে' - কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।

সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:
ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ. ও)।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্যে প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন কে, কারা, কাকে, কার, কী (কী দিয়ে ভাত খায়?) ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম হয়। যেমন সবাই, সকলে, সকলকে, সবার, সমস্ত, সব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১,২৫৩.
তুমি কাকে চাও? - এ বাক্যে ‘কাকে’ কোন পদ?
  1. ক) সর্বনাম
  2. খ) বিশেষ্য
  3. গ) অনুসর্গ
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
যে সর্বনাম দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্ন করা বুঝায় তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে।
এ জাতীয় সর্বনাম হলো : কে, কী, কোন, কার, কাকে, কীসে ইত্যাদি।

যেমন : 
- ওখানে কে? 
- তুমি কাকে চাও? 
- কারা পড়ে আসেনি?

উৎস : মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন) এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
১,২৫৪.
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়-এর উদাহরণ হলো-
  1. অধিকন্তু
  2. যেন
  3. নিশ্চয়ই
  4. হায়রে
ব্যাখ্যা
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-

১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

অন্যদিকে,
সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

• অনন্বয়ী অব্যয় - নিশ্চয়ই পারব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৫.
'রমজান' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) সৃষ্টিনাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) স্থাননাম
  4. ঘ) ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
রমজান' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ - ২০২২)।
১,২৫৬.
জাতি-বিশেষ্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. পর্বত
  3. পরিবার
  4. পাঠানো
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
- বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন - মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য - পদ্মা।
• সমষ্টি-বিশেষ্য - পরিবার।
• ক্রিয়া-বিশেষ্য - পাঠানো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫৭.
বিশেষ্য থেকে বিশেষণে পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত -
  1. ক) নৌ' থেকে 'নাব্য'
  2. খ) 'নাব্য' থেকে 'নৌ'
  3. গ) 'নাব্য' থেকে 'নাব্যতা'
  4. ঘ) 'নৌ' থেকে 'নাব্যতা'
ব্যাখ্যা
নৌ (বিশেষ্য) - নাও; তরণী; পোত; জলযান।
নাব্য (বিশেষণ) - নৌকা জাহাজ ইত্যাদি চালানোর পক্ষে যোগ্য বা অনুকূল।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,২৫৮.
"তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।" - বাক্যে ‘অথচ’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার।
যথা:
সংযোজক, বিয়োজক এবং সংকোচক। 

সংযোজক অব্যয়:
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

বিয়োজক অব্যয়:
- হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী। বাক্যে ‘কিংবা’ বিয়োজক অব্যয়।

সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৯.
"সে একজন দক্ষ কারিগর" - এখানে 'দক্ষ' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. অবস্থাবাচক
  2. রূপবাচক
  3. গুণবাচক
  4. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা

• "সে একজন দক্ষ কারিগর" - এখানে 'দক্ষ' গুণবাচক বিশেষণ।
--------------------
নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ :
ক. রূপবাচক : নীল আকাশ, কালো মেঘ;
খ. গুণবাচক : দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক : তাজা মাছ, রোগা ছেলে;
ঘ. সংখ্যাবাচক : হাজার লোক, দশ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক : দশম শ্রেণি, প্রথমা কন্যা;
চ. পরিমাণবাচক : পাঁচ শতাংশ ভূমি, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক : অর্ধেক সম্পত্তি, সিকি পথ;
জ. উপাদানবাচক : বেলে মাটি, মেটে কলসি।
ঝ. প্রশ্নবাচক : কতদূর পথ, কেমন অবস্থা;
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক : এই লোক, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৬০.
‘ইহারা’ কোন ধরনের সর্বনাম পদের উদাহরণ?
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. নির্দেশক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
⇒ নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
• নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
• দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
⇒ আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

⇒ অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

⇒ সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ২০১৯ সংস্করণ।
১,২৬১.
"শেষ তর্কে তুমি হেরেছিলে।" - এ বাক্যে 'শেষ' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• "শেষ তর্কে তুমি হেরেছিলে।" - এ বাক্যের 'শেষ' বিশেষণ পদ।

বিশেষণ পদ:  
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ, বৈশিষ্ট্য, ধর্ম ইত্যাদি প্রকাশ করে তাকে বিশেষণ পদ বলে।
যেমন: 
- নিশীথ (বিশেষণ) রাতে বাজছে বাঁশি।
- দশটি (বিশেষণ) বছর।
- এ আমার চেনা (বিশেষণ) লোক।
---------------------- 
• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৬২.
‘তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ - বাক্যে ‘কোথাও’ কোন পদ?
  1. যোজক
  2. অনুসর্গ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৬৩.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ কোন গুচ্ছটি?
  1. ক) আমি, আমরা, তুমি
  2. খ) এ, এই, এরা
  3. গ) সে, তারা, তিনি
  4. ঘ) স্বয়ং, খোদ, আপনি
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ১০ ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচকঃ আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
আত্মবাচকঃ স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
সামীপ্যবাচকঃ এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূরত্ববাচকঃ ঐ, ঐসব, সব।
সাকল্যবাচকঃ সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
প্রশ্নবাচকঃ কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে।
অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপকঃ কোন, কেহ, কেউ, কিছু
ব্যতিহারিকঃ আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর
সংযোগজ্ঞাপকঃ যে, যিনি, যাঁরা, যাহারা।
অন্যাদিবাচকঃ অন্য, অপর, পর।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

১,২৬৪.
নিম্নের কোনটি 'অন্যবাচক' সর্বনামের উদাহরণ?
  1. ক) নিজেরা নিজেরা
  2. খ) যেমন
  3. গ) অপর
  4. ঘ) এই
ব্যাখ্যা

সর্বনাম কে ৯ টি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়।
যথা -
১. ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম - আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।
২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম - কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।
৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।
৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম - এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।
৫. আত্মবাচক সর্বনাম - নিজ, স্বয়ং ইত্যাদি।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম - যেমন, তেমন ইত্যাদি।
৭. পারষ্পরিক সর্বনাম - পরষ্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
৮. সকলবাচক সর্বনাম - সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম - অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৬৫.
কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. আনন্দ
  2. সরলতা
  3. দীনতা
  4. করা
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি । 

অন্যদিকে,
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৬৬.
বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে কী বলে?
  1. উদ্দেশ্য
  2. প্রসারক
  3. সম্পূরক
  4. পূরক
ব্যাখ্যা
বাক্যকে উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
- বাক্য দীর্ঘতর হলে বাক্যের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। 
- উদ্দেশ্য ও বিধেয় কে এইসব  শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুকোকে প্রসারক বলে। 
- এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক। 

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৬৭.
‘ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পরেছে।’ - এখানে ‘ঝাঁক’ কোন পদ?
  1. জাতিবাচক বিশেষ্য
  2. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

⇒ সমষ্টিবাচক-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ জাতি বিশেষ্য: জাতি বিশেষ্য সাধারণ বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণাীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

⇒ বস্তু বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

⇒ ভাববাচক বিশেষ্য/ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্যপদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ), গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন, দেখা, শোনা।

উল্লেখ্য, ভাববাচক বিশেষ্য (২০২৩ সংস্করণ) অনুসারে ক্রিয়া-বিশেষ্য নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৮.
নিচের কোনটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য?
  1. পানি
  2. আনন্দ
  3. মানুষ
  4. পঞ্চায়েত
ব্যাখ্যা
• 'পঞ্চায়েত' - সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। 

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun) :
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
পানি - বস্তুবাচক বিশেষ্য। 
আনন্দ - গুণ বিশেষ্য। 
মানুষ - জাতিবাচক বিশেষ্য। 
------------------- 
অপরদিকে,
• গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন – সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

জাতিবাচক বিশেষ্য: 
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, সাগর, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ। 

বস্তু-বিশেষ্য: 
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ও০২২ সংস্করণ)।
১,২৬৯.
'লবণ' শব্দের বিশেষ্য কোনটি?
  1. নুন
  2. লবণাক্ত
  3. লাবণ্য
  4. ললিত
ব্যাখ্যা
• লবণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নুন,
- সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমানুর রাসায়নিক বিক্রিয়াজাত কেলাসিত খনিজপদার্থ।
- সমুদ্রের জল শুকিয়ে প্রপ্ত লবণাক্ত সাদা যৌগবিশেষ।

অন্যদিকে,
• লবণাক্ত (বিশেষণ পদ)।

• লাবণ্য (বিশেষ্য পদ),
অর্থ: সৌন্দর্য, শোভা, লাবণি।

• ললিত (বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়),
অর্থ: লাস্য, চারু, কোমল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭০.
‘খুব ভালো খবর’- বাক্যে 'ভালো' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খবর।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।]

------------------
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

শব্দটি কীভাবে গঠিত, কোন শ্রেণির শব্দকে বিশেষিত করে এবং বাক্যের মধ্যে বিশেষণের অবস্থান কোথায় এসব বিবেচনায় বিশেষণকে নানা নামে উপস্থাপন করা যেতে পারে। যেমন:
- বর্ণবাচক বিশেষণ,
- গুণবাচক বিশেষণ,
- অবস্থানবাচক বিশেষণ,
- ক্রমবাচক বিশেষণ,
- পূরণবাচক বিশেষণ,
- পরিমাণবাচক বিশেষণ,
- উপাদানবাচক বিশেষণ,
- প্রশ্নবাচক বিশেষণ,
- নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ,
- ভাববাচক বিশেষণ,
- বিধেয় বিশেষণ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৭১.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. জাত
  2. গৈরিক
  3. উদ্ধত
  4. গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
• গাম্ভীর্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

• গাম্ভীর্য শব্দের বিশেষণ রূপ - গম্ভীর।

অন্যদিকে,
- জাত ও উদ্ধত - বিশেষণ পদ।
- আর ‘গৈরিক’ শব্দটি অর্থ ভেদে বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭২.
কোনটি বিশেষ্য পদ নয়?
  1. একতা
  2. সৎ
  3. জনতা
  4. দর্শন
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ নয় - সৎ
- এটি বিশেষণ পদ।
অর্থ: নৈতিকভাবে ভালো, সত্যবাদী।
- এটি একটি বিশেষণ, কারণ এটি বিশেষ্যের গুণ বা অবস্থা বোঝায়।
উদাহরণ: সৎ মানুষ (মানুষ বিশেষ্যকে সৎ বিশেষিত করছে)।

অন্যদিকে,
একতা:
অর্থ: ঐক্য বা মিলন।
- এটি গুণবাচক বিশেষ্য।

দর্শন:
অর্থ: দৃষ্টি, দর্শনশাস্ত্র, বা দেখা।
- এটি ভাববাচক বিশেষ্য।

জনতা:
অর্থ: জনসাধারণ বা মানুষের সমষ্টি। 
- এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২৭৩.
বিশেষ্যের পরিবর্তে কোন পদ ব্যবহৃত হয়?
  1. অব্যয়
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ভাব বিশেষণ
ব্যাখ্যা

সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন:
"শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।"
দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৭৪.
'এ এক বিরাট সত্য'- এই বাক্যে 'সত্য' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
• এ এক বিরাট সত্য’—এখানে ‘সত্য’ একটি বিশেষ্য।
বিশেষণ সবসময় বিশেষ্যের পূর্বে বসে।
বিরাট একটি বিশেষণ।
[বিরাট্‌] (বিশেষণ) ১ বিশাল; প্রকাণ্ড; সুবৃৎ।

• যে পদ কোন ব্যক্তি, বস্ত্ত, প্রাণী, সমষ্টি, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম, গুণ ইত্যাদির নাম বোঝায়, তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

• একই পদের বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে প্রয়োগ
বাংলা ভাষায় একই পদ বিশেষ্য ও বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন -

বিশেষণ রূপে - ভালো বাড়ি পাওয়া কঠিন ।
বিশেষ্য রূপে - আপন ভালো সবাই চায় ৷

বিশেষণ রূপে - মন্দ কথা বলতে নেই ।
বিশেষ্য রূপে - এখানে কী মন্দটা তুমি দেখলে?

বিশেষণ রূপে - তোমার এ পুণ্য প্রচেষ্টা সফল হোক ।
বিশেষ্য রূপে - পুণ্যে মতি হোক ।

বিশেষণ রূপে - নিশীথ রাতে বাজছে বাঁশি ।
বিশেষ্য রূপে - গভীর নিশীথে প্রকৃতি সুপ্ত।

বিশেষণ রূপে - শীতকালে কুয়াশা পড়ে
বিশেষ্য রূপে - শীতের সকালে চারদিক কুয়াশায় অন্ধকার ।

বিশেষণ রূপে - সত্য পথে থেকে সত্য কথা বল।
বিশেষ্য রূপে - এ এক বিরাট সত্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,২৭৫.
সর্বনামের প্রতিনিধি স্থানীয় কোনটি?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ। যেমন: হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।
বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৭৬.
'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।' বাক্যে 'বেশ' কোন ধরনের বিশেষণ পদ?
  1. ভাববাচক বিশেষণ
  2. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. অবস্থাবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
[এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২৭৭.
কোনটি জাতি-বিশেষ্য?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. কুমিল্লা
  3. ইত্তেফাক
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।

যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নাম-বিশেষ্য - কুমিল্লা, ইত্তেফাক, গীতাঞ্জলি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৭৮.
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে তাকে কী বলা হয়?
  1. গুণ-বিশেষ্য
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়া-বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ধরনবাচক ক্রিয়া বিশেষণ: 
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
 - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: 
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন: মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৭৯.
"এটা সত্য কিংবা মিথ্যা, বলা কঠিন।" - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

• "এটা সত্য কিংবা মিথ্যা, বলা কঠিন।" - এখানে 'কিংবা' বিয়োজক অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৮০.
'শায়িত' কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শায়িত' - বিশেষণ পদ।

• 'শায়িত' শব্দের অর্থ: 
- শয়ন করানো হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৮১.
'ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে।' - বাক্যটি কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- ইলমি গুনগুনিয়ে গান করছে

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৮২.
'এবং' কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

সংযোজক অব্যয়:
সংযোজক অব্যয়গুলো হলো- ও, এবং, তাই, আর, অধিকন্তু, সুতরাং ইত্যাদি। যেমন- সে রূপবান ও গুণবান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮৩.
জাতিবাচক বিশেষ্য নয় কোনটি?
  1. পাখি
  2. গাছ
  3. পর্বত
  4. মাটি
ব্যাখ্যা

জাতিবাচক বিশেষ্য: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।

-----------------
• বিশেষ্য পদ:

বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য পদ ছয় প্রকার-
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য (Proper Noun)
২. জাতিবাচক বিশেষ্য (Common Noun)
৩. বস্তু (বা দ্রব্য) বাচক বিশেষ্য (Material Noun)
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun)
৫. ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun)
৬. গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৮৪.
কোনটি বস্তু-বিশেষ্য?
  1. আকাশ
  2. ফুল
  3. মানুষ
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতি-বিশেষ্য - মানুষ, ফুল।
গুণ-বিশেষ্য - সরলতা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২৮৫.
'ধীরে ধীরে বায়ু বয়।' বাক্যে 'ধীরে' কোন ধরনের বিশেষণের উদাহারণ? 
  1. সর্বনামের বিশেষণ
  2. অব্যয়ের বিশেষণ
  3. বিশেষণীয় বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়া বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংঘটনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে। 
যথা-
ক. ক্রিয়া সংগঠনের ভাব- ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
খ. ক্রিয়া সংগঠনের কাল- পরে একবার এসো।

অন্যদিকে, 
--------------
• বিশেষণীয় বিশেষণ: যে পদ নাম বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যথা-
ক. নাম বিশেষণের বিশেষণ : সামান্য একটু দুধ দাও। এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।
খ. ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ: রকেট অতি দ্রুত চলে।

• অব্যয়ের বিশেষণ: যে ভাব-বিশেষণ অব্যয় পদ অথবা অব্যয় পদের অর্থকে বিশেষিত করে, তাকে অব্যয়ের বিশেষণ বলে।
যথা- ধিক্ তারে, শত ধিক্ নির্লজ্জ যে জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৮৬.
'করুণাময় তুমি।' বাক্যে 'করুণাময়' কোন বিশেষণের উদাহরণ?
  1. বিশেষ্যের বিশেষণ
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. সর্বনামের বিশেষণ
  4. বিশেষণীয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

বিশেষ্যের বিশেষণ: চলন্ত গাড়ি।
সর্বনামের বিশেষণ: করুণাময় তুমি।
ক্রিয়া বিশেষণ: দ্রুত চল।

তাছাড়া,
বিশেষণীয় বিশেষণ:
- যে পদ নাম-বিশেষণ অথবা ক্রিয়া বিশেষণকে বিশেষিত করে ,তাকে বিশেষণের বিশেষণ বা বিশেষণীয় বিশেষণ বলে।
যেমন:

• নাম-বিশেষনের বিশেষণ হলো:
- সামান্য একটু দুধ দাও।
- এ ব্যাপারে সে অতিশয় দুঃখিত।

• ক্রিয়া-বিশেষণের বিশেষণ:
- রকেট অতি দ্রুত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৭.
নিম্নের কোনটি ক্রিয়াবিশেষণের পদাণু নয়?
  1. ক) তো
  2. খ) না
  3. গ) কি
  4. ঘ) তে
ব্যাখ্যা

- পদাণু হচ্ছে আপাত অর্থহীন পদখণ্ড যা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশেষ অর্থ বা ইঙ্গিত প্রকাশ করে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াবিশেষণ পদাণুগুলি (Adverbial clitic) হচ্ছে: ‘তো’, ‘না’, ‘কি’, ‘যে’ ‘বা’ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ

১,২৮৮.
বাক্যের শোভা বর্ধন করে কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ: 
- ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোন বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, এর কোন একবচন-বহুবচন হয় না।
- এই শব্দসমূহের কোন পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ নির্ণয় করা যায় না।

• যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনো বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বদ্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৯.
"চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. ক্রমবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. পূরণবাচক
  4. গুণবাচক
ব্যাখ্যা

• অবস্থাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন,
- চলন্ত ট্রেন, - তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• "চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়ো না।" – বাক্যটিতে ‘চলন্ত' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
-------------------

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন চালাক - ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা’ হলো গুণবাচক বিশেষণ। 

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন: এক টাকা, - আট দিন – এখানে এক’ ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২৯০.
'গেঁয়ো' এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) গাঁ
  2. খ) গেছো
  3. গ) গ্রাম্য
  4. ঘ) গ্রামীণ
ব্যাখ্যা
• গাঁ (বিশেষ্য) 
অর্থ: গ্রাম। 

• গেঁয়ো (বিশেষণ) 
অর্থ: 
- গ্রামবাসী
- গ্রামসম্বন্ধীয় 
- গ্রাম্য

• গ্রাম্য (বিশেষণ) 
অর্থ: গ্রামসংক্রান্ত 

• গ্রামীণ (বিশেষণ) 
অর্থ: গ্রামজাত 

• গেছো (বিশেষণ) 
অর্থ: গাছসংক্রান্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,২৯১.
গুণবাচক বিশেষ্য কোনটি?
  1. বহর
  2. সাহসী
  3. দর্শন
  4. মধুরতা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য: কোন কিছুর নামকে বিশেষ্যপদ বলে। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন – স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ।

২. জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন – মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

৩. বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন – ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

৪. সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন – জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, বহর, মিছিল ইত্যাদি।

৫. গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন – মধুরতা, সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন – পঠন, দর্শন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সাহসী- বিশেষণ পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও ১দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৯২.
আত্মবাচক সর্বনাম পদ নয় কোনটি?
  1. ক) নিজে
  2. খ) খোদ
  3. গ) আপনি
  4. ঘ) আমি
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম পদ- স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি। ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৩.
'ট্রেনটি বেশ জোরে চলছে।'- বাক্যটিতে 'বেশ' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. ক) গুণবাচক
  2. খ) ভাববাচক
  3. গ) উপাদানবাচক
  4. ঘ) অবস্থাবাচক
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – 'খুব ভালাে খবর' ও 'ট্রেনটি  বেশ জোরে চলছে' – এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যান্য অপশন:

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন – চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে চলন্ত ও তরল অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• উপাদানবাচক বিশেষণ: 
- যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে 'বেলে' ও 'পাথুরে' উপাদানবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১,২৯৪.
‘কোথাও তাকে খুজে পাচ্ছিনা।’- বাক্যে ‘কোথাও’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• ‘কোথাও তাকে খুজে পাচ্ছিনা।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘কোথাও’ শব্দটি অনির্দিষ্ট সর্বনাম পদ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৯৫.
'খুব ভালো খরব।' - এখানে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে:
অবস্থাবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বােঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।

গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বােঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক’ ও ঠান্ডা হলাে গুণবাচক বিশেষণ।

নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন:
- এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯৬.
‘সে নিজে এখানে এসেছে।’ বাক্যে ‘নিজে’ কোন ধরনের সর্বনামের উদাহরণ?
  1. পারস্পরিক সর্বনাম
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. আত্মবাচক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।

• আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
- বাক্য: সে নিজে অঙ্কটা করছে।
- বাক্য: সে নিজে এখানে এসেছে।

অন্যদিকে,
• অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন: কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি।
- বাক্য: একজন এসে খবরটা দেয়।
- বাক্য: একজন এসে পত্রটা দেয়।

• সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
- বাক্য: যেমন কর্ম তেমন ফল।

• পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।
- বাক্য: যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
১,২৯৭.
'সামঞ্জস্য' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• সামঞ্জস্য(বিশেষ্য)

অর্থ:
১ সমীচীনতা, উপযুক্ততা।
২ মিল, সংগতি (সামঞ্জস্য বিধান)।

অন্যদিকে,
সামঞ্জস্যপূর্ণ(বিশেষণ)

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২৯৮.
'ইত্তেফাক' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ব্যক্তিনাম
  2. স্থাননাম
  3. কালনাম
  4. সৃষ্টিনাম
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও  গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে।
যেমন - নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।

• বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন - 
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, জুয়েল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: বাংলাদেশ, ঢাকা, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
- সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৯৯.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) সৌন্দর্য
  3. গ) মাধুর্য্য
  4. ঘ) সারল্য
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে মাধুর্য্য বানানটি ভুল।
- এর সঠিক বানান হচ্ছে মাধুর্য।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।

১,৩০০.
'গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. নামবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. সংজ্ঞাবাচক
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
নামবাচক বা সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।

যেমন:
- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, অগ্নিবীণা, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।