বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন২,৯৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

PrepBank · পাতা / ৩০ · ৩০১৪০০ / ২,৯৬৪

৩০১.
একটি বিক্রয়-চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হবে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒  ধারা ১৭কঃ বিক্রয় চুক্তি, ইত্যাদির নিবন্ধন:
 (১) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র লিখিত হইতে হইবে, তৎসঙ্গে উহা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হইতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিক্রয়-চুক্তি, সম্পাদনের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
----
Section 17A. Registration of contract for sale, etc.
(1) Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immovable property shall be in writing, executed by the parties thereto and registered. 
 
(2) A contract for sale referred to in sub-section (1) shall be presented for registration within sixty days from the date of execution of the contract and the provisions regarding registration of instruments shall apply.

৩০২.
ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্ম লাভকারী শিশু কার পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার অধিকারী হবে?
  1. পিতার
  2. মাতার
  3. শিশুর ইচ্ছানুযায়ী ব্যক্তির
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ধারা ১৩: ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান:

(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষণের কারণে কোন সন্তান জন্মলাভ করিলে-
(ক) উক্ত সন্তানকে তাহার মাতা কিংবা তাহার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাবধানে রাখা যাইবে;
(খ) উক্ত সন্তান তাহার পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হইবার অধিকারী হইবে;
(গ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহণ করিবে;
(ঘ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় তাহার বয়স একুশ বৎসর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হইবে, তবে একুশ বত্সরের অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে।

(২) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে।

(৩) এই ধারার অধীন কোন সন্তানকে ভরণপোষণের জন্য প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে এবং ধর্ষকের বিদ্যমান সম্পদ হইতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে।
৩০৩.
মুসলিম উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে কন্যা মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে?
  1. যদি একাধিক কন্যা থাকে ও পুত্র না থাকে
  2. যদি একজন পুত্র থাকে ও একাধিক কন্যা থাকে
  3. যদি পুত্র না থাকে ও সে একমাত্র কন্যা হয়
  4. যদি পিতা ও পুত্র উভয়ই অনুপস্থিত থাকে
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে, কন্যার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–
- ১/২ অংশ,
- ২/৩ অংশ এবং
- অবশিষ্টাংশভোগী।

যখন ১/২ অংশ পাবে: দুটি শর্ত পূরণ করলে এই অংশ পাবে। তা হলো-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। একমাত্র কন্যা হিসেবে অংশীদার হলে।

যখন ২/৩ অংশ পাবে: দুটি শর্তে এই অংশ পাবে-
১। কোন পুত্র থাকবে না;
২। দুই বা তার অধিক কন্যা থাকলে।

যখন অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পাবে:
কন্যার সাথে যদি পুত্র ও থাকে তবে কন্যা আর অংশীদার হিসেবে অংশ পায় না। তখন সে অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে পুত্রের সাথে ২:১ অনুপাতে অংশ পাবে। যাকে আমরা Tasib Rule বলে জানি।
৩০৪.
'The Supreme Court shall be a court of record.' বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে এই বিধান বলা আছে?
  1. বাংলাদেশের সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদে
  2. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৭ অনুচ্ছেদে
  3. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদে
  4. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
 ⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদের বিধান: "কোর্ট অব রেকর্ড" রূপে সুপ্রীম কোর্ট:
 সুপ্রীম কোর্ট একটি "কোর্ট অব্ রেকর্ড" হইবেন এবং ইহার অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দণ্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন-সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।
------------
⇒ Article 108. Supreme Court as court of record:
The Supreme Court shall be a court of record and shall have all the powers of such a court including the power subject to law to make an order for the investigation of or punishment for any contempt of itself.
৩০৫.
The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ধারা ১৩৮(১ক) অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার মোট কয়টি বৈধ পদ্ধতি উল্লেখ আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ১৩৮(১ক) অনুসারে নোটিশ প্রদানের ৩টি বৈধ পদ্ধতি উল্লেখ আছে:
১. ব্যক্তিগতভাবে সরবরাহ - ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ সরবরাহ করার মাধ্যমে। 
২. রেজিস্টার্ড ডাক - প্রাপ্তি স্বীকারসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বসবাস বা ব্যবসার স্থানে প্রেরণের মাধ্যমে। 
৩. পত্রিকায় প্রকাশ - বহুল প্রচারিত একটি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশ করার মাধ্যমে।

⇒ The Negotiable Instruments Act, 1881 অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পদ্ধতি - ১৩৮ (১ক): ৩টি উপায়ে নোটিশ দেয়া যায়-
ⅰ) ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ সরবরাহ করেন;
ii) উক্ত ব্যক্তির বসবাস বা ব্যবসার স্থানে প্রাপ্তি স্বীকারসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে;
iii) বহুল প্রচারিত ১টি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশ করে।

-------
The Negotiable Instruments Act, 1881, Section 138-(1A) The notice required to be served under clasue (b) of sub-section (1) shall be served in the following manner-
(a) by delivering it to the person on whom it is to be served; or
(b) by sending it by registered post with acknowledgement due to that person at his usual or last known place of abode or business in Bangladesh; or
(c) by publication in a daily Bangla national newspaper having wide circulation.

৩০৬.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাগণ মামলা দায়ের করলে কে বিচার করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বা কর্মকর্তা।
  2. দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নে নয় এরূপ আদালত বা কর্মকর্তা।
  3. তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নে নয় এরূপ আদালত বা কর্মকর্তা।
  4. উল্লিখিত সবায়
ব্যাখ্যা
• নিবন্ধন আইন এর ৮৩ ধারার বিধান নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাগণ মামলা দায়ের করতে পারেন:

১) মহা-পরিদর্শক, রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্টার কর্তৃক অথবা তাদের অনুমতিক্রমে অপরাধীকে যথারীতি ফৌজদারিতে সোপর্দ করা যাবে।

২) এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নে নয়, এরূপ আদালত বা কর্মকর্তা কর্তৃক বিচার্য হবে।

- অর্থাৎ দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিম্নে নয়- এমন কোন আদালত বা কর্মকর্তা বিচার করতে পারবে।
৩০৭.
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর বিধান অনুসারে ডিক্রীকৃত অর্থ আদায়ের জন্য দায়িক, কে দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখতে পারে-
  1. এক মাস পর্যন্ত
  2. তিন মাস পর্যন্ত
  3. ছয় মাস পর্যন্ত
  4. ডিক্রীকৃত অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৪- দেওয়ানী আটকাদেশ

(১) উপ-ধারা (১২) এর বিধান সাপেক্ষে, অর্থ ঋণ আদালত, ডিক্রীদার কর্তৃক দাখিলকৃত দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে, ডিক্রীর টাকা পরিশোধে বাধ্য করিবার প্রয়াস হিসাবে, দায়িককে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক রাখিতে পারিবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এর উল্লিখিত বিধান, মূল ঋণ গ্রহীতার মৃত্যুর কারণে পারিবারিক উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী স্থলাভিষিক্ত দায়িক-ওয়ারিশদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
৩০৮.
A তার বর্তমান বাড়ি এবং আগামী বছরে ধানক্ষেত থেকে যে ফসল হবে তা  B-কে দান করতে চায়।  সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুসারে-
  1. উভয় দান বাতিল
  2. শুধু ফসলের দান বাতিল
  3. শুধু বাড়ির দান অবৈধ
  4. উভয় দান বৈধ
ব্যাখ্যা

• সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ ধারা ১২৪- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পত্তি একত্রে দান:
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় সম্পত্তি একত্রে দান করা হলে, শেষােক্ত সম্পত্তির দান বাতিল বলে গণ্য হবে।

ধারা ১২৪ অনুযায়ী,
যদি কোনো ব্যক্তি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পত্তি একত্রে দান করেন, তবে সেই দানের যে অংশটি ভবিষ্যৎ সম্পত্তি বা ভবিষ্যতে অর্জিত হতে পারে, তা বাতিল বলে গণ্য হবে। এর অর্থ হলো, দাতার মালিকানাধীন বর্তমানে বিদ্যমান সম্পত্তি দান করা বৈধ হলেও ভবিষ্যৎ সম্পত্তি, যা দাতার দানকালে তার মালিকানায় নেই এবং ভবিষ্যতে অর্জিত হতে পারে এমন সম্পত্তি, দানের আওতায় আসবে না এবং সেই অংশটি আইনের বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

⇒ অর্থাৎ বাড়ির দান বৈধ। আগামী বছরের ফসলের দান বাতিল। 

৩০৯.
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পিতামাতা ও সন্তানের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির দান হলে নিবন্ধন ফিস কত হবে?
  1. ১০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ফিস লাগবে না
  4. সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভর করে
ব্যাখ্যা
ধারা ৭৮ক- বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, হেবা এবং বন্ধকী দলিলের নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তির জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস্ হইবে-
(অ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(আ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার টাকা; এবং
(ই) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা;

(খ) মুসলমানগণের ব্যক্তিগত আইনের (শরীয়াহ) অধীন কোন স্থাবর সম্পত্তির হেবার ঘোষণা নিবন্ধনের জন্য সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে একশত টাকা ফিস পরিশোধ করিতে হইবে, যদি এইরূপ হেবা স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী (নানা-নানী) ও নাতি-নাতনি, সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়;

(খখ) হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণের ব্যক্তিগত আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দান বিষয়ক ঘোষণা, যদি এইরূপ দান তাহাদের ব্যক্তিগত আইনে সমর্থন করে, তাহা হইলে সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে প্রদেয় নিবন্ধন ফিস একশত টাকা হইবে, যদি উক্ত দান স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, পিতামহ-পিতামহী (মাতামহ-মাতামহী) ও পৌত্র-পৌত্রী (দৌহিত্র-দৌহিত্রী), সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়।
৩১০.
লিখিত ইজারার মাধ্যমে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে অকৃষি ভূমি দখলে নেয়া হলে এবং তিন বছরের বেশি সময় ধর্মীয় কাজে ব্যবহার না হলে কী হবে?
  1. কর মওকুফ হবে
  2. জমি সরকারি মালিকানায় যাবে
  3. ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে
  4. চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ১০: ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ভাড়ার জন্য বিশেষ বিধান-
এই আইনের অন্য কোথাও বা বর্তমান কার্যকর কোনো আইনে বা কোনো চুক্তিতে অন্য কিছু বলা থাকলেও, যদি কোনো অকৃষি ভূমি কোনো লিখিত ইজারার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ের জন্য ধরা হয়ে থাকে এবং সেই চুক্তিতে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ থাকে, তাহলে সেই ভাড়াভিত্তিক জমিকে ধারা ৭-এ উল্লিখিত শ্রেণির ভাড়াভুক্ত জমি হিসেবে গণ্য করা হবে।

তবে শর্ত থাকে যে,
ভাড়াটিয়া সেই জমি থেকে তখনই উচ্ছেদযোগ্য হবেন যদি তিনি:
- জমিটি নির্ধারিত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন; অথবা
- তিন বছরের বেশি সময় ধরে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করেন।
৩১১.
তৃতীয় পক্ষের ভরণ-পোষণের অধিকার কখন নতুন মালিকের উপর কার্যকর হয় না?
  1. মূল্যের বিনিময়ে হস্তান্তর হলে
  2. হস্তান্তর নিঃস্বার্থ (gratuitous) হলে
  3. হস্তান্তরগ্রহীতা অধিকার বিষয়ে অবগত থাকলে
  4. কোনো ক্ষেত্রেই কার্যকর হয় না
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৯: যেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ভরণ-পোষণের অধিকারী থাকেন:
যদি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তির আয় থেকে ভরণ-পোষণ, বিবাহ বা উন্নতির জন্য অর্থপ্রাপ্তির অধিকার রাখেন, এবং উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়, তাহলে:
- যদি হস্তান্তরগ্রহীতা এ বিষয়ে অবগত থাকেন অথবা
- যদি হস্তান্তর নিঃস্বার্থ (gratuitous) হয়, তাহলে তৃতীয় ব্যক্তির অধিকার হস্তান্তরগ্রহীতার বিরুদ্ধে বলবৎ করা যাবে।

তবে: যদি হস্তান্তর মূল্যের বিনিময়ে হয় এবং হস্তান্তরগ্রহীতার এই অধিকারের বিষয়ে কোনো জ্ঞান না থাকে, তাহলে তৃতীয় পক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো দাবি করতে পারবে না।
৩১২.
The Civil Courts Act,1887 আইনের কত ধারায় ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে?
  1. ৩৯ ধারায়
  2. ৩৮ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৩৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

৩৭ ধারায় বলা হয়েছে-
"কোন মামলা বা কার্যধারায় দেওয়ানি আদালত কর্তৃক উত্তরাধিকার ও ওয়ারিশী, বিবাহ বা ব্যক্তিগত ধর্মীয় আচরণ বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত বিষয়ে পক্ষগন হিন্দু হলে হিন্দু আইন এবং মুসলিম হলে মুসলিম আইন প্রযোজ্য হবে।"

Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished. 
 
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.
৩১৩.
পারিবারিক আদালত বিবাদীর প্রার্থনামতে লিখিত বর্ণনা দাখিলের জন্য সর্বোচ্চ কতদিন সময় দিতে পারে? 
  1. ২১ কর্মদিবস
  2. অন্যূন ২১ দিন
  3. অন্যূন ২১ কর্মদিবস
  4. অনধিক ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ লিখিত জবাব:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখে, বাদী ও বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবে এবং বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিল করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী উপযুক্ত কারণ প্রদর্শনপূর্বক সময় প্রার্থনা করিলে আদালত তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য অনধিক ২১(একুশ) দিনের মধ্যে অপর একটি তারিখ ধার্য করিতে পারিবে।
(২) লিখিত জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার তফসিল থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, পরবর্তী যেকোনো পর্যায়ে সাক্ষী আহ্বান করিতে পারিবে, যদি আদালত মনে করে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
(৩) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্ত দলিল একটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া উহা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় এইরূপ দলিল অন্তর্ভুক্ত করিবেন এবং যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন উহা রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
(৫) উপধারা (২), (৩) ও (৪) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাতে যতসংখ্যক বাদী রহিয়াছে তাহার দ্বিগুণসংখ্যক লিখিত জবাবের অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত প্রদান করিতে হইবে।
(৬) উপধারা (৫) এ বর্ণিত তপশিল, দলিল এবং দলিলসমূহের তালিকাসহ লিখিত জবাবের অনুলিপি বাদী, ক্ষেত্রমত, আদালতে উপস্থিত তাহার প্রতিনিধি বা আইনজীবীকে প্রদান করিতে হইবে।
(৭) যেক্ষেত্রে লিখিত জবাব দাখিল করিবার সময় বিবাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা লিখিত জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ব্যতীত, মোকদ্দমার শুনানিতে উক্ত দলিল তাহার অনুকূলে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না।
(৮) আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত উপধারা (৭) এর অধীন কোনো দলিল অন্তর্ভুক্তির অনুমতি প্রদান করিবে না।

৩১৪.
The Family Courts Ordinance, 1985 এর কোন ধারায় আপস মীমাংসার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৮ ও ৯
  2. ৮ ও ১০
  3. ১০ ও ১৩
  4. ২০ ও ২১
ব্যাখ্যা
- The Family Courts Ordinance, 1985 এর ১০ ও ১৩ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)

- এই আইনে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ২টি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বিচার-পূর্ব কার্যধারায়
২. বিচার-পরবর্তী কার্যধারায়

- ১০ ধারায় বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে এবং ১৩ ধারায় বিচার-পরবর্তী পর্যায়ে আপোষ-মীমাংসার বিধান উল্লেখ আছে।
- ১০(৩) ধারা অনুযায়ী, বিচার-পূর্ব শুনানীর পর্যায়ে আদালত পক্ষগণের মধ্যেকার বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করবে এবং যদি সম্ভব হয়, পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার চেষ্টা করবে।
- ১৩(১) ধারায় দেয়া আছে, সকল পক্ষের সাক্ষ্য সমাপ্তির পর পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা করার আরও একটি চেষ্টা করবে।
---------
বর্তমান Family Courts Ordinance, 1985 রহিতপূর্বক সময়োপযোগী করিয়া উহা পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরণের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। 

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারার বিধান বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১৪ ধারার বিধান বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
৩১৫.
হানাফি মতবাদ অনুসারে নিম্নের কোন উত্তরাধিকারী একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন?
  1. পুত্র
  2. স্বামী
  3. স্ত্রী
  4. পিতা
ব্যাখ্যা
⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে কোরআনিক শেয়ারার হিসেবে একজন পিতা সন্তান-সন্ততি থাকলে পায় ১/৬ অংশ করে।
⇒ সন্তান না থাকলে- অবশিষ্টভোগী হিসেবে বাকি সম্পত্তি পায়। কেউ তাকে অংশচ্যুত করতে পারে না।

⇒ হানাফি মতবাদ অনুসারে পিতা একই সাথে কোরআনিক অংশীদার ও অবশিষ্টভোগী হিসাবে উত্তরাধিকার পেতে পারেন।
৩১৬.
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. আদালতের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়
  2. শুধুমাত্র নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য
  3. আইন ও সংবিধানের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্দেশক
  4. শুধুমাত্র বিচার বিভাগের জন্য প্রযোজ্য
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ৮: মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে৷

(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।

• সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি হলো-
১. জাতীয়তাবাদ [Nationalism];
২. সমাজতন্ত্র [Socialism];
৩. গণতন্ত্র [Democracy];
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা [Secularism]।

Article 8: Fundamental principles:
(1) The principles of nationalism, socialism, democracy and secularism, together with the principles derived from those as set out in this Part, shall constitute the fundamental principles of state policy.

(2) The principles set out in this Part shall be fundamental to the governance of Bangladesh, shall be applied by the State in the making of laws, shall be a guide to the interpretation of the Constitution and of the other laws of Bangladesh, and shall form the basis of the work of the State and of its citizens, but shall not be judicially enforceable.
৩১৭.
সংবিধান অনুযায়ী নিম্নের কোন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের অন্তর্গত?
  1. সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করা
  2. রাষ্ট্রপতির পদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করা
  3. সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব

(১) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী-
 
(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; 
(খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; 
(গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং 
(ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।
 
(২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন।

Article 119: Functions of Election Commission


(1) The superintendence, direction and control of the preparation of the electoral rolls for elections to the office of President and to Parliament and the conduct of such elections shall vest in the Election Commission which shall, in accordance with this Constitution and any other law – 

(a) hold elections to the office of President; 
(b) hold elections of members of Parliament; 
(c) delimit the constituencies for the purpose of elections to Parliament ; and 
(d) prepare electoral rolls for the purpose of elections to the office of President and to Parliament.
 
(2) The Election Commission shall perform such functions, in addition to those specified in the foregoing clauses, as may be prescribed by this Constitution or by any other law.
৩১৮.
সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তিকে কোন আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে?
  1. ভবিষ্যতে প্রণীত হবে এমন আইন ভঙ্গ করলে
  2. অপরাধ সংঘটনের পর প্রণীত আইন ভঙ্গ করলে
  3. অপরাধ সংঘটনের সময় বলবৎ আইন ভঙ্গ করলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, "অপরাধের দায়যুক্ত কার্য সংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না।"

→ এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি কেবল সেই আইন ভঙ্গ করলে দোষী সাব্যস্ত হতে পারেন, যা অপরাধ সংঘটনের সময় কার্যকর ছিল।
- এটি আইনের শাসন এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ, যা নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তি পশ্চাদমুখী (retroactive) আইন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

অন্যদিকে, বাকি অপশন গুলো:
(ক) ভবিষ্যতে প্রণীত হবে এমন আইন ভঙ্গ করলে → সংবিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতে প্রণীত কোনো আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। এটি ex post facto law নিষিদ্ধ করার নীতি।
(খ) অপরাধ সংঘটনের পর প্রণীত আইন ভঙ্গ করলে → অপরাধ সংঘটনের পর নতুন কোনো আইন কার্যকর হলে তা পূর্ববর্তী অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(ঘ) উপরের সবগুলো → এটি ভুল, কারণ কেবলমাত্র অপরাধ সংঘটনের সময় বলবৎ থাকা আইন প্রয়োগ করা যাবে।
৩১৯.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 অনুসারে বকেয়া খাজনা আদায়ের তামাদির মেয়াদ-
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা
- The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪২ ধারার বিধান: তামাদি:
- যে বছরের খাজনা বকেয়া পড়ে সেই বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ সেই বছরের শেষ দিন হতে তিন বছর হবে।
-----------
Section 142. Limitation:
- The period of limitation for the recovery of an arrear of rent shall be three years running from the last day of the year in which the arrear fell due.
৩২০.
Who is 'guardian at litem'?
  1. A biological parent of a minor
  2. A step-parent of the child
  3. A legal advisor for the family
  4. A court-appointed person to represent a minor in legal proceedings
ব্যাখ্যা
Guardian ad litem হল এমন একজন ব্যক্তি, যাকে আদালত নিয়োগ দেয় একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নাবালক (minor) বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পক্ষে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। মুসলিম আইনে, এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন কোনো নাবালক তার অধিকার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো আইনি সমস্যা সম্মুখীন হয় এবং নিজের পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম থাকে।

Guardian ad litem-এর ভূমিকা:

আদালত কর্তৃক নিয়োগ:
Guardian ad litem শুধুমাত্র আদালতের অনুমোদন এবং নির্দেশের মাধ্যমে কাজ করেন। এটি নিশ্চিত করে যে নাবালকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

নাবালকের স্বার্থের সুরক্ষা:
Guardian ad litem-এর প্রধান কাজ হল নাবালকের সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য কাজ করা। তারা আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা নাবালকের ভবিষ্যৎ এবং সম্পত্তি সংরক্ষণ করে।

সম্পত্তির সুরক্ষা:
মুসলিম আইনে, একটি নাবালকের সম্পত্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যদি কেউ নাবালকের সম্পত্তি দখল করতে বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, Guardian ad litem সেই সম্পত্তি রক্ষায় আদালতে মামলা করতে পারেন।

পারিবারিক বিরোধ:
পারিবারিক আইন অনুযায়ী, শিশুদের অভিভাবকত্ব, দেখভাল বা হেফাজত নিয়ে যদি কোনো বিরোধ হয়, তখন Guardian ad litem দায়িত্ব নেন।

নাবালকের সম্পত্তি:
মুসলিম আইন অনুযায়ী, নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য যদি তার পিতা বা নিকটতম অভিভাবক উপস্থিত না থাকে, তাহলে আদালত একটি Guardian ad litem নিয়োগ করতে পারে।
৩২১.
একজন হানাফি মুসলিম নারী তার স্বামী, দুই কন্যা, পিতা এবং মাতাকে রেখে মারা গেল। তার মাতার অংশ কত হবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

• ইসলামে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মায়ের অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে-
- ১/৬,
- ১/৩ এবং
- অবশিষ্টাংশের ১/৩ (1/3 of residue)।

যখন ১/৬ অংশ পায়:
- যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান-সন্ততি থাকে, কন্যা, পুত্রের পুত্র-এভাবে নিচের দিকে কেউ না থাকলে;
- যদি মৃত ব্যক্তির দুইয়ের অধিক ভাই বা বোন থাকে। ভাই বা বোন আপন, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হতে পারে।

যখন ১/৩ অংশ পায়:
-  যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে;
- যদি মৃত ব্যক্তির একের অধিক ভাই বা বোন না থাকে

যখন অবশিষ্টাংশের ১/৩ অংশ পাবে: এই ব্যতিক্রম অংশ শুধু দুটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যেগুলো হলো–
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বামী, বাবা ও মা কে রেখে কোন মহিলা মারা যান এবং
- যদি উত্তরাধিকারী হিসেবে স্ত্রী, বাবা ও মা কে রেখে কোনো পুরুষ মারা যান।
- এই নীতি Umriyatin Rule হিসেবে পরিচিত।

⇒ হানাফি আইন অনুযায়ী, স্ত্রী মারা গেলে সন্তান থাকলে স্বামী ১/৪ ভাগ পাবেন।
- দুটি কন্যা  মিলিয়ে ২/৩ ভাগ পাবে।
- মায়ের অংশ ১/৬ ভাগ।
- শরিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, পিতা জীবিত থাকলে তার অংশ নির্ধারণের জন্য অনেক বিষয় থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে, দুটি কন্যা এবং স্বামী থাকলে পিতা ১/৬ অংশ পাবে এবং আসাবা হিসেবে অবশিষ্টাংশও পাবেন। সুতরাং, পিতা পাবে ১/৬ + অবশিষ্টাংশ।

৩২২.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ধারা ১০ অনুযায়ী, প্রজা কত বছরের অধিক সময় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার না করলে উচ্ছেদযোগ্য হবে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছ
  4. ৫ বছ
ব্যাখ্যা

অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ধারা ১০- সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় উদ্দেশ্যের প্রজাস্বত্ব সমূহের প্রতি প্রযোজ্য বিশেষ বিধানাবলি- 
এই আইনের অন্য কোথাও অথবা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে অথবা কোনো চুক্তিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো প্রজাস্বত্বের অন্তর্ভুক্ত অ-কৃষি জমি লিখিত ইজারা চুক্তির অধীন কোনো সময়ের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, যাহার উল্লেখ উক্ত ইজারা চুক্তিতে রহিয়াছে, অধিকৃত থাকে, তাহা হইলে উক্ত প্রজাস্বত্ব ধারা ৭ এ বর্ণিত শ্রেণীর প্রজাস্বত্ব বলিয়া গণ্য হইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত জমির অধিকারসম্পন্ন প্রজা কর্তৃক উক্ত জমি উক্ত ধর্মীয় উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার, অথবা তিন বৎসরের অধিক সময়ের জন্য উক্ত ধর্মীয় উদ্দেশ্যে উক্ত জমি ব্যবহার না করার, কারণ ব্যতীত উক্ত প্রজাকে তাহার ভূমি মালিক কর্তৃক উচ্ছেদ করা যাইবে না।

৩২৩.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, নিচের কোনটি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়?
  1. স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর
  2. বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন
  3. স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা
  4. স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য উক্ত ধারায় লিখিত ভিত্তিগুলোর যেকোনো একটির উপর আবেদন করতে পারেন। তবে, স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের সরাসরি ভিত্তি নয়। 

স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর:
এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলার ইসলাম ত্যাগ বা অন্য ধর্মে ধর্মান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার বিবাহ বিচ্ছেদ করে না।
তবে, ধর্মান্তরের পর তিনি এই আইনের ধারা ২ এর অন্যান্য ভিত্তিতে (যেমন নিষ্ঠুরতা, ভরণপোষণে ব্যর্থতা ইত্যাদি) বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
তাই, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়।

অন্য অপশন গুলার মধ্যে: 
 খ) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন:
এই আইনের ধারা ২(৫) অনুযায়ী, যদি স্বামী বিবাহের সময় পুরুষত্বহীন থাকে এবং বিয়ের পরেও পুরুষত্বহীন অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
গ) স্বামীর ২ বছর ধরে ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থতা:
এই আইনের ধারা ২(২) অনুযায়ী, যদি স্বামী ২ বছর ধরে স্ত্রীর ভরণপোষণ প্রদানে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।
ঘ) স্বামীর ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড :
এই আইনের ধারা ২(৩) অনুযায়ী, যদি স্বামী ৭ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তাহলে এটি বিবাহ বিচ্ছেদের একটি বৈধ ভিত্তি।

সঠিক উত্তর:
ক) স্ত্রীর অন্য ধর্মে ধর্মান্তর - কারণ, ধর্মান্তর সরাসরি বিবাহ বিচ্ছেদের ভিত্তি নয়, তবে এটি অন্যান্য ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ দেয়।
৩২৪.
The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৩(২৬) অনুযায়ী "কারাদণ্ড" _________ সংজ্ঞায়িত যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড বুঝাইবে।
  1. সংবিধানে
  2. ফৌজদারি কার্যবিধিতে
  3. দেওয়ানি কার্যবিধিতে
  4. দণ্ডবিধিতে
ব্যাখ্যা
• The General Clauses Act,1897- ধারা ৩(২৬): কারাদণ্ড-
"কারাদণ্ড” অর্থে দণ্ডবিধি (সনের ৪৫ নং আইন) তে সংজ্ঞায়িত যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ড বুঝাইবে।
"Imprisonment" shall mean imprisonment of either description as defined in the Penal Code:
৩২৫.
কোনো জিনিস ভাড়ার ভিত্তিতে জিম্মা দেওয়ার ক্ষেত্রে জিম্মাদাতার দায় সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ত্রুটি সম্পর্কে জানলে দায়ী
  2. ত্রুটি সম্পর্কে না জানলেও দায়ী
  3. শুধুমাত্র লিখিত চুক্তি থাকলে দায়ী
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা

The Contract Act, 1872 এর ধারা ১৫০- জিম্মায় প্রদত্ত পণ্যের ত্রুটি প্রকাশ করা জিম্মাদারের দায়িত্ব- 
জিম্মাদাতা জিম্মার পণ্যের যে সকল ত্রুটিসম্পর্কে জানেন সেইগুলি, এবং সেইগুলি উহাদের ব্যবহারের ক্ষেত্র গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেইগুলি, বা জিম্মাদারকে বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে ফেলিয়া দেয় সেইগুলি জিম্মাদারের নিকট প্রকাশ করিতে বাধ্য; এবং যদি তিনি এইরূপ ত্রুটিসমূহ প্রকাশ না করেন, তাহা হইলে তিনি এইরূপ ত্রুটিসমূহ হইতে প্রত্যক্ষভাবে উদ্ভূত জিম্মাদারের ক্ষতির জন্য দায়ী থাকিবেন। যদি কোনো জিনিস ভাড়ায় জিম্মা প্রদান করা হয়, তাহা হইলে জিম্মাদাতা এইরূপ ক্ষতির জন্য দায়ী থাকিবেন, তিনি জিম্মাকৃত জিনিসের ত্রুটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন বা না জানেন।

উদাহরণ-
(ক) ক, খ-কে একটি ঘোড়া ধার দেন, যাহাকে তিনি বদমেজাজী বলিয়া জানেন। ঘোড়াটি যে বদমেজাজী উহা তিনি প্রকাশ করেন নাই। ঘোড়াটি দৌড়াইয়া পালাইয়া যায়। খ ছিটকাইয়া পড়িয়া আহত হন। সংঘটিত ক্ষতির জন্য ক খ এর নিকট দায়ী হইবেন।

(খ) ক, খ এর গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়িটি অনিরাপদ, যদিও খ ইহা সম্পর্কে অবগত নন, এবং ক আহত হন। খ, ক-এর নিকট আহত হইবার জন্য দায়ী হইবেন।

৩২৬.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনে “উন্নয়ন” (Improvement) বলতে কী বোঝায়?
  1. জমিতে নতুন দখল প্রতিষ্ঠা
  2. কৃষি কাজে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি
  3. জমির উপযোগিতা হ্রাস করে এমন কাজ
  4. জমির মূল্য বৃদ্ধি করে এমন কাজ
ব্যাখ্যা
ধারা ৬৪: "Improvement" (উন্নয়ন)-
এই আইনের উদ্দেশ্যে "উন্নয়ন" (Improvement) বলতে এমন কোনো কাজকে বোঝায়- যা কোনো অকৃষি জমির মূল্য বৃদ্ধি করে, যা সেই জমির জন্য উপযোগী, এবং ধারা ৪-এ উল্লিখিত যেকোনো নির্ধারিত ব্যবহার অনুযায়ী কাজটি উপযুক্ত, এবং কাজটি যদি সরাসরি সেই জমির ওপর করা না হয়, তবুও তা যদি সেই জমির উপকারে আসে, তাহলে সেটি "উন্নয়ন" হিসেবে গণ্য হবে।

এইরূপ উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে, যথা-
(ক) পথ বা রাস্তা তৈরি করা,
(খ) বায়ু চলাচলের জন্য খোলা স্থান রাখা,
(গ) পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা,
(ঘ) ড্রেনেজ (পয়নিষ্কাশন) সংযোগ স্থাপন করা।

তবে, কোনো অকৃষি প্রজার দ্বারা সম্পাদিত এমন কোনো কাজ, যা বাড়িওয়ালার (জমিদারের) সম্পত্তির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে, তা "উন্নয়ন" হিসেবে গণ্য হবে না।
৩২৭.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হলে তা কখন কার্যকর হবে?
  1. তৎক্ষণাত কার্যকর হবে
  2. দায়রা আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে
  3. হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে
  4. খ এবং গ
ব্যাখ্যা
• ধারা ২৯: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন

এই আইনের অধীনে কোন ট্রাইব্যুনাল, মৃত্যুদণ্ড প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র অবিলম্বে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ এর বিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত বিভাগের অনুমোদন ব্যতীত মৃতুদণ্ড কার্যকর করা যাইবে না।

Section 29: Confirmation of death penalty

When any Tribunal under this Act passes the sentence of death, the proceeding shall immediately be sent to the High Court Division according to the provision of section 374 of the Code of Criminal Procedure and the sentence shall not be executed unless it is confirmed by the High Court Division.
৩২৮.
এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হবেনা [shall not be judicially enforceable]। শব্দগুলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ১১
  2. ১০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৮- মূলনীতিসমূহ:

(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।
 
(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।

Article 8: Fundamental principles:

(1) The principles of nationalism, socialism, democracy and secularism, together with the principles derived from those as set out in this Part, shall constitute the fundamental principles of state policy.

(2) The principles set out in this Part shall be fundamental to the governance of Bangladesh, shall be applied by the State in the making of laws, shall be a guide to the interpretation of the Constitution and of the other laws of Bangladesh, and shall form the basis of the work of the State and of its citizens, but shall not be judicially enforceable.
৩২৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২ অনুচ্ছেদে ভোটার হওয়ার কয়টি শর্ত উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৪ টি
  2. ৬ টি
  3. ৫ টি
  4. ৩ টি
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা

(১) প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি-
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

Article 122: Qualifications for registration as voter

(1) The elections to Parliament shall be on the basis of adult franchise.

(2) A person shall be entitled to be enrolled on the electoral roll for a constituency delimited for the purpose of election to the Parliament, if he- 
(a) is a citizen of Bangladesh; 
(b) is not less than eighteen years of age; 
(c) does not stand declared by a competent court to be of unsound mind; 
(d) is or is deemed by law to be a resident of that constituency; and 
(e) has not been convicted of any offence under the Bangladesh Collaborators (Special Tribunals) Order, 1972.
৩৩০.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্টকে বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১০৪
  2. অনুচ্ছেদ ১০৬
  3. অনুচ্ছেদ ১০৭
  4. অনুচ্ছেদ ১০৮
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১০৭: সুপ্রীম কোর্টের বিধিপ্রণয়ন-ক্ষমতা

(১) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে সুপ্রীম কোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রত্যেক বিভাগের এবং অধঃস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি-নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
 
(২) সুপ্রীম কোর্ট এই অনুচ্ছেদের (১) দফা এবং এই সংবিধানের ১১৩ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের অধীন দায়িত্বসমূহের ভার উক্ত আদালতের কোন একটি বিভাগকে কিংবা এক বা একাধিক বিচারককে অর্পণ করিতে পারিবেন।

(৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-সাপেক্ষে কোন্ কোন্ বিচারককে লইয়া কোন্ বিভাগের কোন্ বেঞ্চ গঠিত হইবে এবং কোন্ কোন্ বিচারক কোন্ উদ্দেশ্যে আসন গ্রহণ করিবেন, তাহা প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করিবেন।

(৪) প্রধান বিচারপতি সুপ্রীম কোর্টের যে কোন বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারককে সেই বিভাগে এই অনুচ্ছেদের (৩) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা অর্পিত যে কোন ক্ষমতাপ্রয়োগের ভার প্রদান করিতে পারিবেন।
৩৩১.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী কয় প্রকার?
  1. ৫৩ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:

ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য ও
গ- সমানোদক।

সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।

সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
৩৩২.
ইসতিহসান প্রধানত কোন মাজহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. হানাফী
  2. মালিকী
  3. শাফেয়ী
  4. হাম্বলী
ব্যাখ্যা

⇒ ইসতিহসান (Juristic Preference) ইসলামী আইনের (ফিকহ) একটি অপ্রধান উৎস, যা প্রধানত হানাফী মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি কিয়াসের (analogical reasoning) কঠোর প্রয়োগের পরিবর্তে শক্তিশালী দলিল (নস, যেমন কোরআন বা হাদিস), ইজমা, প্রয়োজন (দরূরা/হাজা), রেওয়াজ (‘উর্‌ফ), মাসলাহা (জনস্বার্থ), বা গোপন/শক্তিশালী কিয়াসের ভিত্তিতে ব্যতিক্রমী রায় প্রদানের একটি পদ্ধতি।

মূল কারণগুলো হলো হানাফী মাযহাবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তাঁর শিষ্যগণ (ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) ইসতিহসানকে ইজতিহাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তারা কিয়াস (অ্যানালজি) এর কঠোরতা থেকে সরে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন।

অন্যান্য মাযহাবের অবস্থান:
মালিকী: মাসলাহা (জনস্বার্থ) কে প্রাধান্য দেয়, ইসতিহসানের সাথে আংশিক মিল আছে।
শাফেয়ী: ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ইসতিহসানকে "من استحسن فقد شرع" (যে ইসতিহসান করে, সে শরীয়াহ তৈরি করে) বলে সমালোচনা করেন। তবে তিনি নস (কোরআন/হাদিস), ইজমা বা প্রয়োজনে কিয়াস থেকে সরে আসাকে স্বীকার করেন।
হাম্বলী: ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর মতো আলিমরা সীমিত অর্থে ইসতিহসানের অনুরূপ নীতিমালা মেনেছেন।

হানাফীদের ব্যবহারিক উদাহরণ:
সালাম চুক্তি (অগ্রিম পণ্য কেনা): সাধারণ কিয়াসে নিষিদ্ধ, কিন্তু হাদিসের ভিত্তিতে ইসতিহসানে বৈধ।

উল্লেখ্য, ইসতিহসান "দুর্বল কিয়াস ত্যাগ করে শক্তিশালী দলিলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া" (আল-কারখির সংজ্ঞা)।
- এটি ইসলামী আইনের নমনীয়তা ও সামাজিক প্রয়োজনের প্রতিফলন।

৩৩৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ড আদায়ের ক্ষেত্রে কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করা যাবে
  2. শুধুমাত্র বিদ্যমান সম্পদ হতে আদায় করা যাবে
  3. সম্পদের উপর অন্যান্য দাবী অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড এর দাবী প্রাধান্য পাবে
  4. সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
ধারা ১৫- ভবিষ্যত সম্পত্তি হইতে অর্থদণ্ড আদায়:

এই আইনের ধারা ৪ হইতে ১৪ পর্যন্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অপরাধের জন্য ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ডকে, প্রয়োজনবোধে, ট্রাইব্যুনাল অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে এবং অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবী অপেক্ষা উক্ত অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবী প্রাধান্য পাইবে।
৩৩৪.
সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ কত বছর?
  1. উক্ত কমিশনারের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত
  2. কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে ৫ বছর পর্যন্ত
  3. উক্ত কমিশনারের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত
  4. ক বা খ এর মধ্যে যেটা আগে হবে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা

(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।

(২) একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া নির্বাচন কমিশন গঠিত হইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাহার সভাপতিরূপে কার্য করিবেন।

(৩) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না;
(খ) অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।

(৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।

(৬) কোন নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
৩৩৫.
আইন, গ্রেফতার, বিচার ও দণ্ড সম্পর্কিত মৌলিক অধিকার উল্লেখ আছে-
  1. অনুচ্ছেদ ৩৩
  2. অনুচ্ছেদ ৩১
  3. অনুচ্ছেদ ৩৫
  4. ক, খ এবং গ
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার [Fundamental Rights]:

মৌলিক অধিকার হলো বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে স্বীকৃত এবং সুরক্ষিত অধিকারসমূহ এবং যে সকল অধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে যেমন হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিকার পাওয়া যায়। সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৬ থেকে ৪৭ক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধান আলোচনা করা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪ পর্যন্ত মোট ১৮টি অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করার অধিকার ৪৪ অনুচ্ছেদে দেয়া হয়েছে এবং এই কারণে ৪৪ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার বলবৎ সংক্রান্ত বিধানটিও মৌলিক অধিকার হিসাবে গণ্য হবে। উল্লেখিত মৌলিক অধিকারসমূহ হলো-

আইন, গ্রেফতার, বিচার ও দণ্ড সম্পর্কিত মৌলিক অধিকার: 

অনুচ্ছেদ ৩১- আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার [Right to protection of law]
অনুচ্ছেদ ৩২- জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ [Protection of right to life and personal liberty]
অনুচ্ছেদ ৩৩- গ্রেফতার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ [Safeguards as to arrest and detention] 
অনুচ্ছেদ ৩৫- বিচার ও দন্ড সম্পর্কিত রক্ষণ [Protection in respect of trial and punishment]
৩৩৬.
লিখিত জবাব দাখিলের পর পারিবারিক আদালত বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে তারিখ নির্ধারণ করবে?
  1. ৭ দিন
  2. ১০ দিন
  3. ১৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ১১: বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।

(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।

(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।
৩৩৭.
যদি একই ভূমি নিয়ে নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত উভয় দলিল থাকে, তাহলে উক্ত অনিবন্ধিত দলিলটির চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ এর জন্য মামলা করতে হবে-
  1. জমির মালিকের বিরুদ্ধে
  2. জমির অংশীদারদের বিরুদ্ধে
  3. রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে
  4. পরবর্তীতে নিবন্ধিত দলিলের অধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা
• রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫০ ধারার বিধান ভূমি সম্পর্কিত কতিপয় নিবন্ধিত দলিল অ-নিবন্ধিত দলিলের বিপরীতে কার্যকর হইবে:-(১) এই আইনের ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ক), (খ), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত প্রত্যেক প্রকারের দলিল এবং ধারা ১৮ এর অধীন নিবন্ধনযোগ্য প্রত্যেক দলিল, যে পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত করে বা স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে কোন লেনদেন সংক্রান্ত কোনরূপ পণ গ্রহণ বা প্রদানের প্রাপ্তিস্বীকার করে, যদি যথাযথভাবে নিবন্ধিত হয় তাহা হইলে, আদালতের ডিক্রি বা আদেশ ব্যতীত, সেই একই পরিমাণ সম্পত্তি সংক্রান্ত অ-নিবন্ধিত দলিলের প্রতিকূলে কার্যকর হইবে, উক্ত অ-নিবন্ধিত দলিল নিবন্ধিত দলিলের মত একই প্রকৃতির হউক বা না হউক:

তবে শর্ত থাকে যে, পূর্বের তারিখের অনিবন্ধিত দলিলের অধীন যে ব্যক্তি সম্পত্তির দখলে রহিয়াছেন, তিনি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ (১৮৮২ সনের ৪নং আইন) এর ধারা ৫৩ক এর অধীন সকল প্রকার অধিকারপ্রাপ্ত হইবেন, যদি উক্ত ধারার সকল শর্ত পূরণ করা হয়:

আরও শর্ত থাকে যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (১৮৭৭ সনের ১নং আইন) এর ধারা ২৭ এর দফা (খ) এর বিধান সাপেক্ষে, যে ব্যক্তির অনুকূলে অনিবন্ধিত দলিল সম্পাদিত হইয়াছে, তিনি উক্ত অনিবন্ধিত দলিলের চুক্তি, পরবর্তীতে নিবন্ধিত দলিলের অধীন দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলবৎ করিবার জন্য সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা দায়ের করিবার অধিকারী হইবেন।

(২) এই ধারার উপ-ধারা (১) এর কোন কিছুই ধারা ১৭ এর উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশের অধীন অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইজারার ক্ষেত্রে বা একই ধারার উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ফোম দলিলের ক্ষেত্রে, বা এই আইন প্রবর্তনকালে বলবৎ আইনের অধীন প্রাধান্য ছিল না এইরূপ ফোন মিবর্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
--------------
Section 50. Certain registered documents relating to land to take effect against unregistered documents:
(1) Every document of the kinds mentioned in clauses (a), (b), (c) and (d) of section 17, sub-section (1), and every document registrable under section 18, in so far as such document affects immoveable property or acknowledges the receipt or payment of any consideration in respect of any transaction relating to immoveable property, shall, if duly registered, take effect as regards the property comprised therein, against every unregistered document relating to the same property, and not being a decree or order, whether such unregistered document be of the same nature as the registered document or not: 
 
Provided that the person in possession of the property under an unregistered document prior in date, would be entitled to the rights under section 53A of the Transfer of Property Act, 1882 if the conditions of that section are fulfilled: 
 
Provided further that the person in whose favour an unregistered document is executed shall be entitled to enforce the contract under the unregistered document in suit for specific performance against a person claiming under a subsequent registered document, subject to the provisions of clause (b) of section 27 of the Specific Relief Act, 1877. 
 
(2) Nothing in sub-section (1) applies to leases exempted under the proviso to sub-section (1) of section 17 or to any document mentioned in sub-section (2) of the same section, or to any registered document which had not priority under the law in force at the commencement of this Act.
৩৩৮.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুসারে সালিশি পরিষদ কতজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ২ অনুযায়ী সালিশি পরিষদ ৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
১. চেয়ারম্যান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র।
২. পক্ষগণের প্রতিনিধি: বিবাদী ও বাদী পক্ষের মনোনীত ১ জন করে মোট ২ জন প্রতিনিধি।

⇒ The Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ২-এ "Arbitration Council" বা সালিশি পরিষদের সংজ্ঞা ও গঠন পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ধারায় বলা হয়েছে যে সালিশি পরিষদ তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে:-
- একজন চেয়ারম্যান (যিনি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান/মেয়র হবেন)।
- প্রত্যেক পক্ষের ১ জন করে প্রতিনিধি, অর্থাৎ দুই পক্ষের সম্মতিতে ২ জন প্রতিনিধি থাকবেন।

তাছাড়া, ধারা ২-এ আরও বলা হয়েছে:
- যদি কোনো পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনীত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সে পক্ষের প্রতিনিধি ছাড়া সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।
- যদি চেয়ারম্যান অমুসলিম হন বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে সালিশি পরিষদের একজন মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হবে।

৩৩৯.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এ অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে ধৃত না হলে, অভিযোগ/রিপোর্ট অপরাধ সংঘটনের কত কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে?
  1. ৩ কার্যদিবস
  2. ৫ কার্যদিবস
  3. ৭ কার্যদিবস
  4. ১০ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ৭ কার্যদিবস।

আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ১০-বিচার পদ্ধতি:

(১) আদালত এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে এই আইনে ভিন্নতর কিছু না থাকিলে, ফৌজদারী কার্যবিধির Chapter XXII-তে বর্ণিত পদ্ধতি, যতদূর প্রযোজ্য হয়, অনুসরণ করিবে৷ 
 
(২) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইলে বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হইয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হইলে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক রিপোর্টসহ তাহাকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করিবে এবং উহার পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে অপরাধ সম্পর্কে আদালতে রিপোর্ট বা অভিযোগ পেশ করিবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রিপোর্ট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কার্য সম্পন্ন করিবে৷ 
 
(৩) অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে হাতেনাতে ধৃত না হইলে, অপরাধ সংঘটনের পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং উক্ত রিপোর্ট বা অভিযোগ দায়েরের পরবর্তী ষাট কার্যদিবসের মধ্যে, ধারা ১১ এর বিধান সাপেক্ষে, আদালত বিচার কার্য সম্পন্ন করিব৷ 
 
(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতভাবে ধৃত না হইয়া অন্য কোনভাবে ধৃত হইলে বা আদালতে আত্নসমর্পণ করিলে, উক্ত অপরাধের বিষয়ে, যত দ্রুত সম্ভব, ধারা ৯(২) এর অধীন রিপোর্ট বা অভিযোগ দাখিল করিতে হইবে এবং আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্নপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করিয়া উক্তরূপ রির্পোট বা অভিযোগ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করিবে।

৩৪০.
দায়রা আদালত কোন অপরাধের বিচার করতে পারে না?
  1. হত্যা
  2. ডাকাতি
  3. অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখা
  4. রাষ্ট্রদ্রোহিতা
ব্যাখ্যা
• অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার বিচার ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারা অনুযায়ী হয়, যা বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর আওতাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী এই আইনে উল্লেখিত ও এই আইনের সিডিউলে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালে অনুষ্ঠিত হবে।
 
• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৬ (২) ধারা অনুসারে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই আইনের তফসিলে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তফসিলে উল্লেখিত নিম্নলিখিত অপরাধসমূহের বা নিম্নলিখিত আইনে উল্লেখিত অপরাধসমূহের বিচার করতে পারবে-
 
১. ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন বর্ণিত অপরাধসমূহ;
২. the Arms Act, 1878 (XI of 1878) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৩. the Explosive Substances Act, 1908 (VI of 1908) এর অধীন অপরাধসমূহ;
৪. the Emergency Powers Act, 1975 এর অধীন অপরাধসমূহ;
৫. ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ [Formalin Control Act, 2015] এর অধীন অপরাধসমূহ;
৬. Any attempt or conspiracy to commit, or any abetment of, or any preparation for commission of, any of the above offences.
 
অর্থাৎ অবৈধ অস্ত্র দখলে রাখার অপরাধ স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের বিচার্য বিষয়।
৩৪১.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর পাগল বা অপ্রকৃতিস্থ থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে আবেদন করতে পারেন?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৪ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

৩৪২.
'Contract of indemnity' সংজ্ঞায়িত হয়েছে-
  1. ১২২ ধারায়
  2. ১২৪ ধারায়
  3. ১২৮ ধারায়
  4. ১২০ ধারায়
ব্যাখ্যা
• চুক্তি আইনের ১২৪ ধারার বিধান "ক্ষতিপূরণের চুক্তি”-এর সংজ্ঞা (Contract of indemnity defined):
- যে চুক্তির মাধ্যমে এক পক্ষ অপর পক্ষকে স্বয়ং অঙ্গীকারকারীর আচরণ বা অন্য কোন ব্যক্তির আচরণ হতে সৃষ্ট ক্ষতি হতে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন, তাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলে।
উদাহরণ:
ক কোন বিশেষ ২০০ টাকা সম্পর্কে খ-এর বিরুদ্ধে গ-এর সম্ভাব্য আইনগত কার্যধারা পরিচালনার বিরুদ্ধে খ-কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য চুক্তি করেন। তা একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি।
---------------------
• Section 124.  "Contract of indemnity" defined:

A contract by which one party promises to save the other from loss caused to him by the conduct of the promisor himself, or by the conduct of any other person, is called a "contract of indemnity". 
Illustration 
A contracts to indemnify B against the consequences of any proceedings which C may take against B in respect of a certain sum of 200 Taka. This is a contract of indemnity.
৩৪৩.
একজন উইলদাতা তার সম্পত্তির কত শতাংশ অংশ উইলমূলে আগন্তুক ব্যক্তিকে দান করতে পারেন?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ২/৩
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা
উইল বা অছিয়ত:
মুসলিম আইনে উইলকে অছিয়ত বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এ সম্পকে মুসলমানদের অনুমতি দিয়েছেন তা করার জন্য। মৃত্যুকালে  কিংবা মুত্যুর আগে পরের জন্য নিজ মালিকানার কিছু অংশ নিঃস্বার্থভাবে কাউকে দান করার নাম ওসিয়ত বা উইল।

মুসলিম আইন অনুযায়ী উইল বা অছিয়ত এর সংজ্ঞা বিশ্লষণ করলে যে বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করা যায়, সেগুলো নীচে উল্লেখ করা হলো:
১) মুসলিম আইন আনুযায়ী প্রত্যেক সাবালক ও সুস্থমনা ব্যক্তিই উইল বা অছিয়ত করতে পারে।
২) মুসলিম উইলকে বৈধ করবার জন্য বিশেষ কোন আনুষ্ঠিকতার প্রয়োজন নেই। এটি লিখিত দলিল দ্বারা বা মৌখিক হতে পারে। এ সম্পকে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো উইলকারীর ইচ্ছা সুস্পস্টভাবে প্রকাশিত এবং সঠিকভাবে নির্ভরযোগ্য  হতে হবে।
৩) উইলকারী তার যে কোন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি উইল করতে পারে। কিন্তু উইল যেহেতু উইলকারীর মৃত্যুর পর বলবত হয়, সেহেতু উইলকারী মৃত্যুর সময় অবশ্যই উইলে বর্ণিত সম্পত্তির অস্বিত্ব হবে।

ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা:
১) মুসলিম আইনের বিধান মোতাবেক একজন উইলদাতা যে কোনো আগন্তুক ব্যক্তিকে তার সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশী উইলমূলে দান করতে পারে না। উইলকারী ১/৩ অংশের বেশী উইল করলেও ১/৩ অংশ কাযকর হবে এবং বাকী অংশ আইনে অগ্রাহ্য হবে। যে অবশিষ্ট ২/৩ অংশ থাকবে তা স্বাভাবিক ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে।

২) মুসলিম আইনের বিধান মতে উইলদাতার মৃত্যুর পর যারা ওয়ারিশ বলে গন্য হবে, তাদের বরাবরে কোনো সম্পত্তি উইল করতে পারবেন না। কোনো সম্পত্তি ওয়ারিশের বরাবরে উইল করলে তা বৈধ হবে না, তবে উইলদাতার মৃত্যুর পর তার অন্যান্য ওয়ারিশেরা অনুমোদন বা সম্মতি দিলে উইলটি কাযকর বা বৈধ হবে।

৩) আবার উইলদাতার ওইরূপ কোনো উইলে সব ওয়ারিশ যদি অনুমোদন বা সম্মতি না দেয়, তাহলে যারা অনুমোদন বা সম্মতি না দেয় তারা ব্যতীত যারা অনুমোদন করবে বা মেনে নিবে, কেবলমাত্র তাদের অংশই সংশ্লিষ্ট উইলগ্রহীতা প্রাপ্ত হবে। উত্তরাধিকারীদের সম্মতি অবশ্যই উইলকারীর মৃত্যুর পরে প্রদান করতে হবে এবং উইলকারীর জীবদ্দশায় প্রদত্ত সম্মতি অবৈধ হবে। উইল দলিল রেজিস্ট্রি করলেই তা বৈধ বলে ধরে নেয়া যায় না। উইলে সম্মতি দানের ক্ষেত্রে নীরবতা সম্মতি বলে ধরে নেয়া যাবে না। উইল করা হয়নি এবং উইল করার সময় বিদ্যমান ছিল না, তাতে সম্মতির প্রয়োজন নেই।

যদি কিছু উত্তরাধিকারী নাবালক থাকে, তবে তারা সাবালক হওয়ার পর উইলে সম্মতি বা অসন্মতি দিতে পারে। তাদের নাবালকত্বের সময় অভিভাবকগণ কর্তৃক প্রদত্ত সম্মতির কোনো বৈধতা নেই এবং এ অবস্থায় তারা সাবালক হওয়ার পর উইলের বৈধতা সম্পর্কে বিবাদ করতে পারে। অতএব, কোনো মা যদি নাবালক সন্তানের পক্ষে সম্মতি দেয়, তবে যতদূর সন্তান সংশ্লিষ্ট, ততদূর পর্যন্ত উইলটি অকাযকর হবে। একমাত্র উইলকারীর মৃত্যুর পরেই সম্মতি কাযকর হবে; সুতরাং উইলের উদ্দেশ্যে উইলকারীর মৃত্যুর সময় যারা উত্তরাধিকারী থাকেন, তারাই উত্তরাধিকারী বলে গন্য হবেন, এবং উইল করার সময় যারা ছিলেন তারা নয়।
৩৪৪.
কোন অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রী রাদের নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে?
  1. একমাত্র অংশীদার না হলে
  2. একমাত্র অংশীদার হলে
  3. যদি সন্তান থাকে
  4. কোনো অবস্থাতেই তারা রদে সম্পত্তি পাবে না
ব্যাখ্যা
রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি
মুসলিম সুন্নি আইনের বিধানমতে, অংশীদারগণের নির্ধারিত অংশ বা দাবি পূরণ করার পর ক্ষেত্র বিশেষে যদি সম্পত্তির কোনো অংশ অবশির থাকে তবে উক্ত অবশিষ্ট সম্পত্তি ঐ সব অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে পুনঃবণ্টন করা হবে, অর্থাৎ সমস্ত সম্পতি অংশীদারদের প্রাপ্য আংশ হারে বণ্টন করার পর বন্টিত অংশের সমষ্টি সব অপেক্ষা হর বেশি হলে অবশিষ্ট অংশ অংশীদারদের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করে দেয়া হয় যার ফলে অংশীদারদের পূর্ব প্রাপ্ত অংশ বৃদ্ধি পায়, এই নীতিকে রাদ বা প্রত্যর্পণ নীতি বলে।

• রাদের নীতি
⇒ সম্পদের অবশিষ্ট অংশ অংশীদারগণের মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক অংশীদারের অংশ আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
⇒ স্বামী এবং স্ত্রী রদের মাধ্যমে কোনো সম্পদ পাবে না। কিন্তু স্বামী বা স্ত্রী যদি একমাত্র অংশীদার হয়, তাহলে সে রাদের মাধ্যমে সম্পত্তি পেতে পারে।
৩৪৫.
A চুক্তি করে যে, যদি C, B-এর বিরুদ্ধে মামলা করে তবে সে B-কে ক্ষতিপূরণ দেবে - এটি কী ধরনের চুক্তি?
  1. দান চুক্তি
  2. জিম্মা চুক্তি
  3. বন্ধক চুক্তি
  4. ক্ষতিপূরণ চুক্তি
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৪: "ক্ষতিপূরণ চুক্তি" (Contract of Indemnity) সংজ্ঞা-
যে চুক্তিতে একজন পক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয় অন্য পক্ষকে কোনো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য— (যে ক্ষতি হতে পারে প্রতিশ্রুতিদাতার নিজের কার্যকলাপ থেকে, অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির কার্যকলাপ থেকে), সে চুক্তিকে বলা হয় "ক্ষতিপূরণ চুক্তি" (Contract of Indemnity)।

উদাহরণ (Illustration):
A, B-কে এই মর্মে চুক্তি করে যে, C যদি B-এর বিরুদ্ধে ২০০ টাকার কোনো মামলা করে, তবে সে (A) এর পরিণতির ক্ষতি থেকে B-কে রক্ষা করবে। এটি একটি ক্ষতিপূরণ চুক্তি (Contract of Indemnity)।
৩৪৬.
একটি নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র পুরুষ ভোটারদের আলাদা করে রাখা হয়েছে। এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন?
  1. অনুচ্ছেদ ১২০
  2. অনুচ্ছেদ ১২১
  3. অনুচ্ছেদ ১২২
  4. অনুচ্ছেদ ১২৩
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অনুচ্ছেদ ১২১।
→ সংবিধানের ১২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার জন্য মাত্র একটি ভোটার তালিকা থাকবে।

অনুচ্ছেদ ১২১- প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা:
সংসদের নির্বাচনের জন্য প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করিয়া ভোটার-তালিকা থাকিবে এবং ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে ভোটারদের বিন্যস্ত করিয়া কোন বিশেষ ভোটার-তালিকা প্রণয়ন করা যাইবে না।

৩৪৭.
'আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু' বলতে বোঝায়-
  1. বিদ্যমান কোন আইনের অধীন অপরাধে অভিযুক্ত
  2. বিদ্যমান কোন আইনের অধীনে কোন অপরাধের শিকার
  3. শিশু আইনের অধীনে কোন অপরাধে অভিযুক্ত
  4. উল্লিখিত সকল শিশু
ব্যাখ্যা
• শিশু আইন, ২০১৩

ধারা ২(৪)-
‘আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (Children in Contact with the Law)’ অর্থ এমন কোন শিশু, যে বিদ্যমান কোন আইনের অধীনে কোন অপরাধের শিকার বা সাক্ষী;
৩৪৮.
বিনিময় পত্র (Bill of Exchange) কে তৈরি করে?
  1. বাহক (Bearer)
  2. ধারক (Holder)
  3. গ্রহীতা (Acceptor)
  4. প্রদানকারী (Drawer)
ব্যাখ্যা

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ৭ অনুযায়ী, বিনিময় পত্র (Bill of Exchange) তৈরি করে প্রদানকারী (Drawer)। প্রদানকারী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি বিনিময় পত্রে স্বাক্ষর করে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে (প্রদানকারী বা Drawee) নির্দিষ্ট অর্থ প্রদানের জন্য শর্তহীন নির্দেশ দেন।

⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ৭ অনুসারে:
- প্রদানকারী (Drawer) হলেন তিনি যিনি বিনিময় পত্র তৈরি করেন বা টানেন (draws the bill)
- গ্রহীতা (Acceptor) হলেন তিনি যিনি বিনিময় পত্রে সম্মতি প্রকাশ করেন
- ধারক (Holder) হলেন তিনি যিনি দলিলের দখলে থাকেন
- বাহক (Bearer) হলেন তিনি যিনি বাহকের নামে প্রদানযোগ্য দলিলের দখলে থাকেন
⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ধারা ৫ এ বিনিময় পত্রের সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে এটি একটি লিখিত দলিল যাতে নির্মাতা (maker) দ্বারা স্বাক্ষরিত শর্তহীন নির্দেশ থাকে। বিনিময় পত্রের ক্ষেত্রে এই নির্মাতাই হলেন প্রদানকারী (Drawer)।

⇒ Section-5. “Bill of exchange”
 A “bill of exchange” is an instrument in writing containing an unconditional order, signed by the maker, directing a certain person to pay on demand or at fixed or determinable future time a certain sum of money only to, or to the order of, a certain person or to the bearer of the instrument.

⇒ Section-7. The maker of a bill of exchange or cheque is called the “drawer;” the person thereby directed to pay is called the “drawee.”

৩৪৯.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কোন ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত?
  1. কন্যা, বোন, মাতা, মায়ের বোন, পিতার বোন
  2. পুত্রবধূ, কন্যা, মাতা, ভাইয়ের স্ত্রী, দিদি
  3. মাতা, মায়ের মা, স্ত্রী, কন্যা, বোন
  4. বিধবা স্ত্রী, কন্যা, মাতা, পিতার মাতা, পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
⇒ মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
৩৫০.
নিম্নলিখিত কোন অধিকারটি কোন প্রকার বাধা-নিষেধ ব্যতীত সংবিধানে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে?
  1. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  2. চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা
  3. বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। ৩৯ (১) অনুচ্ছেদে নিশ্চয়কৃত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা চূড়ান্ত প্রকৃতির অর্থাৎ এই অধিকার কোন প্রকার বাধা-নিষেধ ছাড়াই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
 
৩৯ (২) অনুচ্ছেদে ২টি স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হলো। এই অনুচ্ছেদে স্বীকৃত বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কতিপয় বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে মঞ্জুর করা হয়েছে।

নিম্নলিখিত বিষয় সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে-
⇒ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা (Secutiry of state),
⇒ বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (Friendly relations with foreign states),
⇒ জনশৃঙ্খলা (public order),
⇒ শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে (decency or morality),
⇒ আদালত অবমাননা (contempt of court),
⇒ মানহানি (defamation), বা
⇒ অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা (Incitement to an offence)।

অনুচ্ছেদ-৩৯: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা:

(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।

(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার; নিশ্চয়তা দান করা হইল।
৩৫১.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৮০চ অনুযায়ী, কে টাউট গ্রেফতারের লিখিত আদেশ দিতে পারেন?
  1. সিভিল জজ
  2. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পুলিশ অফিসার 
  4. নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৮০চ(১)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: কোন নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা, লিখিত আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত যে কোন ব্যক্তিকে এইরূপ কোন টাউট নিবন্ধন কার্যালয়ের আঙ্গিনায় পাওয়া গেলে তাহাকে গ্রেফতার করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
- অর্থাৎ, নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা নিজেই লিখিত আদেশ দ্বারা টাউট গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারেন। এটি নিবন্ধন কার্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাঁর বিশেষ ক্ষমতা।

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৮০চ: টাউটদের গ্রেফতার ও বিচার-
(১) কোন নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা, লিখিত আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত যে কোন ব্যক্তিকে এইরূপ কোন টাউট নিবন্ধন কার্যালয়ের আঙ্গিনায় পাওয়া গেলে তাহাকে গ্রেফতার করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন। নির্দেশ অনুসারে উক্ত টাউটকে গ্রেফতার করিয়া অবিলম্বে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার সম্মুখে উপস্থিত করিতে হইবে।
(২) যদি উক্তরূপ টাউট তাহার অপরাধ স্বীকার করে, তাহা হইলে তাহার আটক, বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন) এর ধারা ৪৮০ ও ৪৮১ এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।
উক্ত টাউট যদি তাহার অপরাধ স্বীকার না করে, তাহা হইলে অনুরূপভাবে উক্ত কার্যবিধির ধারা ৪৮২ এর বিধানাবলি তাহার আটক, বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৩) উক্ত কার্যবিধির ধারা ৪৮০, ৪৮১ ও ৪৮২ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাকে দেওয়ানি আদালত হিসাবে গণ্য করা হয়।
 ----------------
The Registration Act, 1908, Section 80F- Arrest and trial of touts:
(1) Any registering officer may, by an order in writing, direct any person named in the order to arrest any such tout found within the precincts of the registration office. Such tout may be arrested accordingly and shall be forthwith produced before the registering officer. 
(2) If the tout admits his offence the provisions of section 480 and 481 of the Code of Criminal Procedure, 1898, shall be applicable, so far as may be, to his detention, trial and punishment. 
If the tout does not admit his offence the provisions of section 480 of the said Code shall be similarly applicable to his detention, trial and punishment. 
(3) A registering officer shall be deemed to be a Civil Court for the purposes of sections 480, 481 and 482 of the said Code.

৩৫২.
The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারার মামলার কারণ কখন উদ্ভব হয়? যে দিন-
  1. চেক ইস্যু করা হয়
  2. চেকটি অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়
  3. চেক দাতা নোটিশ গ্রহণ করেন
  4. চেক দাতার নোটিস প্রাপ্তির পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়
ব্যাখ্যা
• অপর্যাপ্ত তহবিল, ত্রুটিপূর্ণ স্বাক্ষর ও অন্য যে কোন যথাযথ কারনে বাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া চেক যদি প্রত্যাখ্যাত হয় বা চেকে উল্লেখিত টাকা বাহককে প্রদান করা সম্ভব না হয় সেটিকেই বলা হয় চেক ডিজঅনার। কোন কারনে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে হস্তারযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) অনুযায়ী আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

 উক্ত আইনের ১৩৮ ধারার বিধান মোতাবেক চেক গ্রহীতা বা ধারক চেক ডিজঅনারের বিষয়টি জানার পর ৩০ দিন সময় দিয়ে টাকা পরিশোধের জন্য চেক দাতাকে নোটিশ দিতে হবে। ৩০ দিনের মধ্যে চেকদাতা চেকগ্রহীতাকে চেকে উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করতে না পারলে, তার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে চেকগ্রহীতা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন।
৩৫৩.
অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন কী জারি করতে পারে?
  1. রুল
  2. সমন
  3. নোটিশ
  4. ওয়ারেন্ট
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১৯ – অনুসন্ধান বা তদন্তকার্যে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা:
(১) দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে, কমিশনের নিম্নরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা:- 
(ক) সাক্ষীর প্রতি নোটিশ জারী ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা; 
(খ) কোন দলিল উদ্‌ঘাটন এবং উপস্থাপন করা; 
(গ) সাক্ষ্য গ্রহণ;
(ঘ) কোন আদালত বা অফিস হইতে পাবলিক রেকর্ড বা উহার অনুলিপি তলব করা;
(ঙ) সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দলিল পরীক্ষা করার জন্য নোটিশ জারী করা; এবং 
(চ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নির্ধারিত অন্য যে কোন বিষয়৷ 
 
(২) কমিশন, যে কোন ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন তথ্য সরবরাহ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত ব্যক্তি তাহার হেফাজতে রক্ষিত উক্ত তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন৷ 
 
(৩) কোন কমিশনার বা কমিশন হইতে বৈধ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতা প্রয়োগে কোন ব্যক্তি বাধা প্রদান করিলে বা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত কোন নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তি অমান্য করিলে উহা দণ্ডনীয় অপরাধ হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বত্সর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় প্রকার দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
৩৫৪.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ১৫ক অনুসারে, স্পেশাল মেডিয়েটরদের তালিকা প্রস্তুত করবে-
  1. সরকার
  2. জেলা আদালত
  3. জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা
  4. চীফ লিগ্যাল এড অফিসার
ব্যাখ্যা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ১৫ক: স্পেশাল মেডিয়েটরগণের (Special Mediators) তালিকা:
(১) এই আইনের অধীনে স্পেশাল মেডিয়েটর হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংস্থা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এবং মধ্যস্থতা বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আইনজীবীগণের মধ্য হইতে স্পেশাল মেডিয়েটরগণের একটি তালিকা প্রস্তুত করিবে।

⇒ “সংস্থা” অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা;

(২) সংস্থা, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত তালিকা হইতে প্রত্যেক লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ প্রদান করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটরগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করিবে।

(৪) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত স্পেশাল মেডিয়েটরকে প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্মানি বা ফি প্রদান করা হইবে।

৩৫৫.
রেজিস্ট্রেশন আইনে আবশ্যক দলিল রেজিস্ট্রেশন না করার ফলাফল কোনটি?
  1. দত্তক গ্রহনের ক্ষমতা দিবে না
  2. স্থাবর সম্পত্তির অধিকার বর্তাবে
  3. অধিকার সৃষ্টি হয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৯:  নিবন্ধনযোগ্য দলিল নিবন্ধন না হওয়ার ফল।- এই আইনের অধীন বা দলিল নিবন্ধনের বিধান-সংবলিত বা সম্পর্কিত পূর্ববর্তী কোন আইনের অধীন কোন দলিলের নিবন্ধন প্রয়োজন হইলে, যদি উহা নিবন্ধিত না হয়, তাহা হইলে-
(ক) উক্ত দলিল স্থাবর সম্পত্তিতে কায়েমি বা সম্ভাব্য কোন অধিকার, স্বত্ব বা স্বার্থ বর্তমানে বা ভবিষ্যতে সৃজন, ঘোষণা, অর্পণ বা সীমিত করিতে বা অবসান ঘটাইতে কার্যকর হইবে না: বা
(খ) উক্ত দলিল দত্তকগ্রহণের কোন ক্ষমতা অর্পণ করিবে না।

- এই আইনের অধীন বা পূর্ববর্তী কোন আইনের অধীন (যথা, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২) বাধ্যতামূলক নিবন্ধীকরণের বিধানসমূহ এই ধারার মাধ্যমে কার্যকর করা হইয়াছে। নিবন্ধিত না হইলে এইরূপ দলিল কার্যকর হয় না এবং উহাতে অন্তর্ভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত বিষয়াদি বাতিল বলিয়া গণ্য হয়।
----
- Section 49. Effect of non-registration of documents required to be registered:
No document required to be registered under this Act or under any earlier law providing for or relating to registration of documents shall- 
(a) operate to create, declare, assign, limit or extinguish, whether in present or in future, any right, title or interest, whether vested or contingent, to or in immoveable property, or 
(b) confer any power to adopt, 
unless it has been registered.
৩৫৬.
অনাগত (ভবিষ্যতের) ব্যক্তিকে দেওয়া দান ইসলামি আইনে-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে অনুমোদিত
ব্যাখ্যা

• মুসলিম আইনে হেবা একটি বিশেষ চুক্তি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায়, কোনো প্রকার বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়া, নিজের সম্পত্তি অন্য ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। এটি মূলত একটি দান বা উপহার, যা স্থাবর (যেমন জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর (যেমন টাকা, গহনা) – উভয় প্রকার সম্পত্তির ক্ষেত্রেই করা যায়।

একটি দানের আবশ্যিক উপাদানগুলো হলো-
ক. Offer (প্রস্তাব);
খ. Acceptance (গ্রহণ);
গ. Delivery of possession (সম্পত্তির দখল অর্পণ)।

দান বৈধ হওয়ার শর্তাবলি:
- দাতাকে সম্পূর্ণ অধিকার ও সক্ষমতার মালিক হতে হবে।
- গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত এবং বিদ্যমান (in existence) হতে হবে।
- সম্পত্তি অবশ্যই বিদ্যমান, চিহ্নিত এবং হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে।
- দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে একটি স্পষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে এবং গ্রহীতা তা গ্রহণ করতে হবে।
- সম্পত্তির দখল প্রকৃতভাবে গ্রহীতার কাছে স্থানান্তর করতে হবে।

ইসলামী আইনের শর্ত অনুযায়ী,
গ্রহীতাকে অবশ্যই তখন জীবিত থাকতে হবে। অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তাকে কিছু প্রদান করা সম্ভব নয়। যেহেতু অনাগত ব্যক্তি এখনও অস্তিত্ব লাভ করেনি, তাই তার পক্ষে দখল গ্রহণ বা তা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। অনাগত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে কোনো অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। একারণে ইসলামী আইনে অনাগত ব্যক্তিকে দেওয়া উপহার বাতিল (void) হিসেবে গণ্য হয়। এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।

৩৫৭.
পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন কত দিনের মধ্যে করতে হবে?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০(৫) অনুসারে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: "বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন"
- অর্থাৎ, পারিবারিক আদালতে খারিজ হওয়া মোকদ্দমা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আবেদন খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০ পক্ষগণের অনুপস্থিতির ফলাফল:
(১) বিবাদীর উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে মোকদ্দমার শুনানির জন্য ডাকা হইলে উক্ত সময়ে কোনো পক্ষই উপস্থিত না থাকিলে, আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিয়া দিতে পারিবে।
(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বাদী উপস্থিত হন, তবে বিবাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে-
(ক) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে, তাহা হইলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে;
(খ) যদি সমন বা নোটিশ বিবাদীর উপর যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে মর্মে প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে আদালত বিবাদীর উপর নূতনভাবে সমন ও নোটিশ জারি কারিবার আদেশ প্রদান করিবে;
(গ) যদি প্রমাণিত হয় যে, বিবাদীর প্রতি সমন বা নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তবে তাহার উপস্থিতির জন্য ধার্যকৃত তারিখে তাহাকে উপস্থিত হইয়া জবাব প্রদানের যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে আদালত পরবর্তী অনধিক ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোনো তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখিবে এবং বিবাদীকে উক্ত তারিখ সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার শুনানি মুলতবি করিয়া একতরফা শুনানির জন্য ধার্য করে এবং বিবাদী শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আদালতে হাজির হইয়া পূর্বে হাজির না হইবার উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে, সেইক্ষেত্রে আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, শর্তসাপেক্ষে বিবাদীকে জবাব দাখিলের সুযোগ প্রদান করিয়া এইরূপে শুনানি করিবে যেন তিনি তাহার হাজির হইবার জন্য ধার্যকৃত দিনেই উপস্থিত হইয়াছেন।
(৪) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হইলে বিবাদী উপস্থিত হন, তবে বাদী অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ করিবে, তবে বিবাদী যদি দাবির সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ স্বীকার করে, তাহা হইলে বিবাদীর উক্তরূপ স্বীকৃতির উপর আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করিবে এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশবিশেষ স্বীকার করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি ততটুকু খারিজ করিবে যতটুকু দাবির অবশিষ্টাংশের সহিত সম্পর্কিত।
(৫) যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা উপধারা (১) এর অধীন খারিজ করা হয় অথবা উপধারা (৪) এর অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিক খারিজ করা হয়, সেইক্ষেত্রে বাদী, খারিজ আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, আদেশ প্রদানকারী আদালতে উক্ত আদেশ রহিত করিবার জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং যদি তিনি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমাটি শুনানির সময় তাহার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খারিজ আদেশ রহিত করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি চালাইয়া যাইবার জন্য একটি তারিখ ধার্য করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে আদালত যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ শর্তে উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করা পর্যন্ত উপধারা (৪) এর অধীন মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রহিত করা যাইবে না।
(৬) বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাভাবে ডিক্রি প্রদান করা হইলে, তিনি ডিক্রি প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা বাতিলের আদেশ দানের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন এবং তিনি যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে সক্ষম হন যে, মোকদ্দমার শুনানির সময় তাহার আদালতে অনুপস্থিত থাকিবার যথেষ্ট কারণ ছিল, তাহা হইলে আদালত খরচ বা অন্য কোনো বিষয়ে যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে, সেইরূপ শর্তে তাহার বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিবে এবং মোকদ্দমাটি পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যদি ডিক্রিটি এমন হয় যে, তাহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধেই বাতিল করা যায় না, তাহা হইলে সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত ডিক্রি বাতিল করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, বাদীর উপর আবেদনের নোটিশ জারি না করিয়া এই উপধারার অধীন কোনো আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(৭) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 এর বিধানাবলি উপধারা (৬) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৩৫৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, নিচের কোন বিষয়টি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়?
  1. দেনমোহর
  2. বিবাহ বিচ্ছেদ
  3. দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন
  4. শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বিবাহ বিচ্ছেদ (খ)
- দেনমোহর (ক)
- শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান (ঘ)
- দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার
- ভরণপোষণ
যেখানে দাম্পত্য সম্পত্তি বন্টন এই আইনের অধীনে উল্লেখিত নয়, তাই এটি পারিবারিক আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ৫ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:
মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, পারিবারিক আদালতে নিম্নরূপ সকল বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কিত বা উহা হইতে উদ্ভূত যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তির এখতিয়ার থাকিবে, যথা:-
(ক) বিবাহ বিচ্ছেদ;
(খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার;
(গ) দেনমোহর;
(ঘ) ভরণপোষণ; এবং
(ঙ) শিশু সন্তানদের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান।

৩৫৯.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য পাঠ করানোর দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত?
  1. স্পিকার
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী:
→ স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ মন্ত্রীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ স্পিকার সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
→ রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

৩৬০.
"It is the judges who are the guardians of justice in this land" -উক্তিটি কার?
  1. Charles Dickens
  2. Lord Diplock
  3. Lord Denning (M.R)
  4. Lord Byron
ব্যাখ্যা
'It is the judges who are the guardians justice in this land' - উক্তিটি  Lord Denning (M.R) - এর।

- Lord Denning was a British barrister and judge.
৩৬১.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয় কোনটি?
  1. সমন জারির খরচা না দেওয়া
  2. তফসিলসহ আরজির অবিকল নকল দাখিল না করা
  3. কোর্ট ফি পরিশোধ না করা
  4. প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালতে আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার উপ ধারা (৮) এ আরজি খারিজের কারণসমূহ উল্লেখ আছে।
উক্ত ধারা মতে,নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উল্লিখিত অপশন গুলোর মধ্যে ‘প্রতিকারের মূল্যায়ন উল্লেখ না করা’ পারিবারিক আদালত কর্তৃক আরজি খারিজের কারণ নয়।
৩৬২.
ধারা ৫৩ঘ অনুযায়ী বন্ধককৃত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হলে কী লাগবে?
  1. সরকারের অনুমতি
  2. আদালতের আদেশ
  3. বন্ধকগ্রহীতার লিখিত অনুমতি
  4. দাতা ও গ্রহীতার মৌখিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
• ধারা ৫৩ঘ: বন্ধককৃত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে না-
বন্ধকগ্রহীতার লিখিত অনুমতি ব্যতীত নিবন্ধনকৃত বন্ধকী সম্পত্তিকে পুনরায় বন্ধক করা যাবে না অথবা বিক্রয় করা যাবে না, এবং অন্যথায় যে কোন পুনঃবন্ধক বা বিক্রয় বাতিল হবে।

Section 53D: Immoveable Property under mortgage not to be transferred-
No immoveable property under registered mortgage shall be re-mortgaged or sold without the written consent of the mortgagee, and any re-mortgage or sale made otherwise shall be void.
৩৬৩.
বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে গৃহীত হয়?
  1. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  2. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
  3. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
৩৬৪.
'Rule of Harmonious Construction' এর উদ্দেশ্য কী?
  1. পরস্পর বিরোধী বিধান বাতিল করা
  2. বিরোধী বিধানগুলো উপেক্ষা করা
  3. একটিকে বাতিল করা এবং অন্যটিকে কার্যকর করা
  4. পরস্পর বিরোধী বিধানগুলোকে একসাথে কার্যকর করা
ব্যাখ্যা
Rule of Harmonious Construction:
- একই আইনের মধ্যে পরস্পর অসংগতিপূর্ণ বা সাংঘর্ষিক বিধান বিদ্যমান থাকলে তাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ঐ আইনের সবগুলো বিধানকে একই সাথে কার্যকর করা যায়

- আইন ব্যাখ্যার এই নীতিই 'Rule of Harmonious Construction' (আইন ব্যাখ্যার বৈরিতামুক্ত নীতি/সামঞ্জস্যমূলক নীতি) নামে পরিচিত।
- যখন দুটি বা ততোধিক বিধান একে অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ মনে হয়, তখন এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
- এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইনগুলো একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করুক, এবং কোনো বিধান অপরটির বিরুদ্ধে না গিয়ে একত্রে কার্যকর থাকুক।

ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট 'Rule of Harmonious Construction' নীতির নিম্নরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
(১) কোনো আইনে দুটি ধারার প্রয়োগে যদি দেখা যায়, ধারা দু'টি একে অন্যের সাথে বিরোধপূর্ণ; তাহলে ধারা দু'টি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, যেন ধারা দুটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগ করা যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যেন উভয় ধারা কার্যকর হয়।

(২) একটি ধারার বিধানকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না, যাতে অন্য কোনো ধারার বিধান অকার্যকর বা সাংঘর্ষিক হয়।
৩৬৫.
Which article of the Constitution protects individuals from 'Self-incrimination'?
  1. Article 33(2)
  2. Article 35(4)
  3. Article 35(2)
  4. Article 33(4)
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বিচার ও দণ্ড সম্পর্কিত সুরক্ষার বিধান দেয়া হয়েছেে। নিম্নলিখিত ৫টি বিষয়ে সুরক্ষার বিধান দেয়া হয়েছে-

অনুচ্ছেদ ৩৫(১)- ভূতাপেক্ষ আইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা;
অনুচ্ছেদ ৩৫(২)- দোবারা সাজার বিরুদ্ধে সুরক্ষা; 
অনুচ্ছেদ ৩৫(৩)- দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচারের নিশ্চয়তা;
অনুচ্ছেদ ৩৫(৪)- নিজের বিরুদ্ধে দোষ-স্বীকারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা;
অনুচ্ছেদ ৩৫(৫)- যন্ত্রণা, নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ডের বিরুদ্ধে সুরক্ষা।

নিজের দোষ স্বীকারের [Self-incremination] বিরুদ্ধে সুরক্ষাঃ অনুচ্ছেদ ৩৫ (৪)

৩৫ (৪) অনুচ্ছেদে অভিযুক্তকে নিজের দোষ-স্বীকারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। ৩৫ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। যদি কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের দোষ-স্বীকার করে কোন বিবৃতি প্রদান করে, সেক্ষেত্রে এমন দোষ-স্বীকারোক্তি গ্রহণে কোন আইনত বাধা নেই। তবে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নিয়ে জোরপূর্বক বা বল প্রয়োগ করে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য করা যাবে না।

অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ

(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না। 
(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না। 
(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন। 
(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না। 
(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না। 
(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

Article 35: Protection in respect of trial and punishment

(1) No person shall be convicted of any offence except for violation of a law in force at the time of the commission of the act charged as an offence, nor be subjected to a penalty greater than, or different from, that which might have been inflicted under the law in force at the time of the commission of the offence. 
(2) No person shall be prosecuted and punished for the same offence more than once. 
(3) Every person accused of a criminal offence shall have the right to a speedy and public trial by an independent and impartial Court or tribunal established by law. 
(4) No person accused of any offence shall be compelled to be a witness against himself. 
(5) No person shall be subjected to torture or to cruel, inhuman, or degrading punishment or treatment. 
(6) Nothing in clause (3) or clause (5) shall affect the operation of any existing law which prescribes any punishment or procedure for trial.
৩৬৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী নিম্নের কাকে শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. স্পীকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
⇒ তৃতীয় তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।
- শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা ৩ জন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ছে।
- যথা- স্পীকার , রাষ্ট্রপতি , প্রধান বিচারপতি।

⇒ স্পীকার কর্তৃক - রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;
⇒ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক - প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি; 
⇒ প্রধান বিচারপতি কর্তৃক - সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।

অর্থাৎ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে প্রধানমন্ত্রীকে শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
৩৬৭.
'ক' ও 'খ' এরুপ ভ্রান্ত বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি চুক্তি করে যে, বিশেষ কোনো একটি ঋণ বাংলাদেশের তামাদি আইন দ্বারা বাতিল হয়েছে। চুক্তিটি -
  1. বাতিল হবে
  2. বাতিলযোগ্য হবে
  3. বাতিলযোগ্য হবে না
  4. ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের ইচ্ছানুযায়ী বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
• চুক্তি আইনের ২১ ধারায় আইনগত ভুলের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এই ধারা অনুসারে,

বাংলাদেশে বলবৎ কোন আইন বিষয়ে ভুলের কারণে চুক্তি সম্পাদিত হলে, উক্ত চুক্তি বাতিলযোগ্য হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে বলবৎ নয় এমন কোন আইন বিষয়ে ভুলের কারণে চুক্তি সম্পাদিত হলে, উক্ত চুক্তিটি বাতিল হবে।
 
উদাহরণ-
'ক' ও 'খ' এরুপ ভ্রান্ত বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি চুক্তি করে যে, বিশেষ কোনো একটি ঋণ বাংলাদেশের তামাদি আইন দ্বারা বাতিল হয়েছে। চুক্তিটি বাতিলযোগ্য হবে না কারণ এখানে ভ্রান্ত ধারণ হলো বাংলাদেশী তামাদি আইনের ব্যাপারে।

Section 21- Effect of mistakes as to law:

A contract is not voidable because it was caused by a mistake as to any law in force in Bangladesh; but a mistake as to a law not in force in Bangladesh has the same effect as a mistake of fact.
৩৬৮.
C.S খতিয়ান প্রস্তুত শুরু হয় কোথায়?
  1. দিনাজপুর
  2. কক্সবাজার
  3. সিলেট
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা
সি.এস খতিয়ান [C.S Khatian]:
CS'র পূর্ণরূপ Cadastral Survey। Cada শব্দের অর্থ ভূখন্ড বা মাঠ। এই Survey'র মাধ্যমে প্রণীত খতিয়ানই C.S Khatian নামে পরিচিত।
- সর্বপ্রথম ১৮৮৮ সালে বর্তমান কক্সবাজার জেলার রামু থানা থেকে এ সার্ভে শুরু হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়।
- সি.এস খতিয়ান লম্বালম্বিভাবে লেখা থাকে।
- সি.এস খতিয়ানে জমিদারদের নাম, ভোগদখলকারী রায়তের নাম, জমির পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখ আছে।
-C.S Khatian সর্বাধিক সঠিক; যা মালিকানা ও দখল উভয়ের অনুমানের প্রমাণ দেয়।
- খতিয়ানগুলোর মধ্যে এ খতিয়ান সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। কারণ, এটি সরেজমিনে গিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
৩৬৯.
মুসলিম উইলকারী জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি করলে কী ঘটে?
  1. উইল অপরিবর্তিত থাকে
  2. বিক্রয় বাতিল হয়
  3. উইল বাতিল হয়
  4. আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে উইল কার্যকর হয়
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম আইনে,
একজন ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারেন, সেটি তার সম্পূর্ণ অধিকার। তবে, যদি তিনি ওই সম্পত্তির কিছু অংশ উইল করেন, তবে ওই উইলটি মৃত্যুর পর কার্যকর হবে। কিন্তু, যদি ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ওই সম্পত্তি বিক্রি করেন, তাহলে উইলটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রত্যাহৃত হয়ে যাবে, কারণ বিক্রি একটি কার্যকর আইনগত কাজ, যা সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন করে।

কোন মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষনাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয় সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছা পত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে খবমধঃবব বা উত্তরদানগ্রহী বলা হয়

⇒ উইলের অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো-
ক. যে ব্যক্তি উইল করে তাকে অবশ্যই তার জীবনকালের মধ্যেই উইলের ঘোষণা দিতে হবে। উইলকারীকে অবশ্যই উইল করার যোগ্য হতে হবে।
খ. উইলকারীকে অবশ্যই উইলগ্রহীতার পূর্বে মৃত্যুবরণ করতে হবে। অর্থাৎ উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকরী হয়।
গ. উইলকারী মৃত্যুর পর যার বরাবর উইল করা হয়েছে তাকে অবশ্যই উইলটি গ্রহণ করতে হবে। এ তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একটি উইল কার্যকর হয়।

৩৭০.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় ‘মাদকাসক্ত’ এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ২(১৫) ধারায়
  2. ২(৩১) ধারায়
  3. ২(২৭) ধারায়
  4. ২(৩৪) ধারায়
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮

ধারা ২(৩১)-
‘মাদকাসক্ত’ অর্থ শারীরিক অথবা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি অথবা অভ্যাসবশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী অথবা সেবনকারী কোনো ব্যক্তি।
৩৭১.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের অধীনে Land Survey Tribunal এর বিচারক হবে-
  1. জেলা জজ
  2. যুগ্ম জেলা জজ
  3. হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি
  4. অতিরিক্ত জেলা জজ
ব্যাখ্যা
- The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৫ক(৩) ধারার বিধান ট্রাইব্যুনালের বিচারক:
সরকার সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য হতে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ করবেন।
উপধারা- ৩ক: এভাবে বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সরকার যুগ্ম জেলা জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের ক্ষমতা দিতে পারবে। 
উপধারা-৩খ: এরূপভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ম জেলা জজ ট্রাইব্যুনালের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে গণ্য হবেন।
উপধারা- ৩গ: এ ছাড়া ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল থেকে স্থানান্তরিত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সরকার এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ বা ক্ষমতা দিতে পারবে।
-----------
- Section 145A. (3) The Government shall, in consultation with the Supreme Court, appoint the judge of the Land Survey Tribunal from among persons who are Joint District Judges.
(3A) Until such judge is appointed under sub-section (3), the Government may empower a Joint District Judge in each district as the judge of the Land Survey Tribunal of the district.
(3B) The Joint District Judge empowered under sub-section (3A) shall be deemed to be the judge of the Land Survey Tribunal appointed under sub-section (3).
(3C) The Government may, if necessary, appoint one or more Senior Assistant judge or Assistant Judge as a judge of the Land Survey Tribunal to dispose of the suits transferred by the judge of the Land Survey Tribunal appointed or empowered under this section.
৩৭২.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী কোন ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে ভরণপোষণ পেতে পারবেন না?
  1. স্বামী ধর্মান্তর হলে
  2. স্বামী স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করলে
  3. স্ত্রী ধর্মান্তরিত হলে
  4. স্বামী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তাকে পরিত্যাগ করলে
ব্যাখ্যা

১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।

৩৭৩.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৫ক(৩) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মূলত কোন কর্মকর্তা হতে পারবেন?
  1. জেলা জজ
  2. সহকারী জজ
  3. যুগ্ম জেলা জজ
  4. সিনিয়র সহকারী জজ
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৫ক(৩) অনুযায়ী, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারককে সরকার সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে যুগ্ম জেলা জজদের মধ্যে নির্বাচন করবে।
- The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৫ক(৩) ধারার বিধান ট্রাইব্যুনালের বিচারক:
সরকার সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে যুগ্ম জেলা জজদের মধ্য হতে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ করবেন।
উপধারা- ৩ক: এভাবে বিচারক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সরকার যুগ্ম জেলা জজদের ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের ক্ষমতা দিতে পারবে। 
উপধারা-৩খ: এরূপভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যুগ্ম জেলা জজ ট্রাইব্যুনালের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে গণ্য হবেন।
উপধারা- ৩গ: এ ছাড়া ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনাল থেকে স্থানান্তরিত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সরকার এক বা একাধিক সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ বা ক্ষমতা দিতে পারবে।
-----------
- The State Acquisition and Tenancy Act 1950, Section 145A. (3) The Government shall, in consultation with the Supreme Court, appoint the judge of the Land Survey Tribunal from among persons who are Joint District Judges.
(3A) Until such judge is appointed under sub-section (3), the Government may empower a Joint District Judge in each district as the judge of the Land Survey Tribunal of the district.
(3B) The Joint District Judge empowered under sub-section (3A) shall be deemed to be the judge of the Land Survey Tribunal appointed under sub-section (3).
(3C) The Government may, if necessary, appoint one or more Senior Assistant judge or Assistant Judge as a judge of the Land Survey Tribunal to dispose of the suits transferred by the judge of the Land Survey Tribunal appointed or empowered under this section.

৩৭৪.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ প্রণয়নের পর কোন ঘটনা ঘটে?
  1. কৃষকরা ভূমিহীন হয়
  2. জমিদারি প্রথা চালু হয়
  3. জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (State Acquisition and Tenancy Act, 1950) পূর্ববঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রণীত হয়েছিল কৃষকদের দীর্ঘদিনের শোষণ ও জমিদারি প্রথার অত্যাচারের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে। এই আইনের মাধ্যমে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে:
জমিদারি প্রথার বিলোপ: এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল জমিদারি প্রথা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক প্রবর্তিত স্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদাররা ভূমির মালিকানা পেয়েছিল এবং কৃষকরা (রায়তরা) তাদের অধীনে শোষিত হতো। ১৯৫০ সালের এই আইনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করা হয়, এবং জমিদারদের মধ্যস্থতা বাদ দিয়ে কৃষকরা রাষ্ট্রের সরাসরি ভাড়াটিয়া হিসেবে স্বীকৃত হয়।
কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা: আইনটি কৃষকদের (রায়তদের) জমির উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে কৃষকরা ভূমিহীন হওয়ার পরিবর্তে তাদের জমির মালিকানার অধিকার পায় এবং রাষ্ট্রের সরাসরি ভাড়াটিয়া হিসেবে জমি ভোগ করার সুযোগ পায়।
জমির সিলিং ও বিতরণ: আইনটি জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা (Ceiling) নির্ধারণ করে। অতিরিক্ত জমি রাষ্ট্র অধিগ্রহণ করে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করে। এটি কৃষকদের ভূমিহীনতা দূর করার পরিবর্তে তাদের জমির মালিকানা প্রদানে সহায়ক ছিল।

- অর্থাৎ  রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ প্রণয়নের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়, যা ছিল এই আইনের প্রধান কৃতিত্ব। এটি কৃষকদের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বিতরণের পথ সুগম করে। অতএব, সঠিক উত্তর হলো গ) জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়।

৩৭৫.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৮ অনুযায়ী কোন ধরনের মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হবে?
  1. যেখানে শুধু অর্থদণ্ড প্রযোজ্য
  2. যেখানে শাস্তি ২ বছরের বেশি নয়
  3. যেখানে শাস্তি ৩ বছরের বেশি নয়
  4. যেখানে শাস্তি ৫ বছরের বেশি নয়
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৮ অনুসারে: "বিচারের বিশেষ পদ্ধতি:-  এই আইনের অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক কারাদণ্ড না হইলে, সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২ এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।"
অর্থাৎ, যে সকল মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ড নয় (মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন বা ৫ বছরের বেশি কারাদণ্ড না হলে), সেসব মামলার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হবে।
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৮ অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পন্ন হবে যদি অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বা ৫ (পাঁচ) বছরের অধিক কারাদণ্ড না হয়। এই ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির অধ্যায় ২২-এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, যেসব অপরাধের শাস্তি ৫ বছর বা তার কম হয়, সেগুলোর বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা হবে।

৩৭৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে কয়জন ব্যক্তিকে শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা দেওয়া আছে?
ব্যাখ্যা
• তৃতীয় তফসিল:

বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে।
- শপথগ্রহণ বা ঘোষণাপত্র পাঠ করানোর ক্ষমতা ৩ জন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ছে। যথা- স্পীকার , রাষ্ট্রপতি , প্রধান বিচারপতি।

- স্পীকার কর্তৃক  ⇒ রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;

- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ⇒ প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি; 

- প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ⇒ সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।
৩৭৭.
নিম্নের কোনটি নালিশযোগ্য দাবি (actionable claim)?
  1. যেকোনো ঋণ দাবি
  2. বন্ধক দ্বারা সুরক্ষিত ঋণ
  3. জামানতবিহীন ঋণ
  4. অঙ্গীকার দ্বারা সুরক্ষিত ঋণ
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩: নালিশযোগ্য দাবী (Actionable Claim)
অনিরাপদ ঋণের দাবীকে নালিশযোগ্য দাবী বলা হয়েছে। অনিরাপদ ঋণ অর্থ যে ঋণের বিপরীতে কোন জামানত থাকে না বা জামানতবিহীন ঋণ।

"Actionable claim" বা মামলা করা যায় এমন দাবি বলতে এমন কোনো ঋণের দাবি বোঝায়, যা—
- অস্থাবর সম্পত্তির বন্ধক, হাইপোথিকেশন বা অঙ্গীকার দ্বারা সুরক্ষিত নয়, এবং
- এমন কোনো অস্থাবর সম্পত্তিতে উপকারজনক স্বত্ব (beneficial interest), যা দাবি কারীর প্রকৃত বা আনুমানিক (constructive) দখলে নেই,
- এই ধরনের দাবি যদি এমন হয় যা দেওয়ানি আদালত (Civil Court) স্বীকার করে এবং যার ভিত্তিতে প্রতিকার বা সহায়তা চাওয়া যায়— তাহলে তা actionable claim হিসেবে গণ্য হবে।

এমন দাবি হতে পারে-
- বর্তমানে বিদ্যমান (existent),
- ভবিষ্যতে প্রাপ্য (accruing),
- শর্তসাপেক্ষ (conditional), অথবা
- সম্ভাব্য (contingent)।

Section 3:

“Actionable claim” means a claim to any debt, other than a debt secured by mortgage of immoveable property or by hypothecation or pledge of moveable property, or to any beneficial interest in moveable property not in the possession, either actual or constructive, of the claimant, which the Civil Courts recognize as affording grounds for relief, whether such debt or beneficial interest be existent, accruing, conditional or contingent:
৩৭৮.
'ক' তার বন্ধু 'খ' কে ত্রিশ হাজার টাকা ধার দেয়। পরবর্তীতে টাকা ফেরত দেওয়ার সময় 'খ', 'ক' কে চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে বলেন। 'ক' ব্যাংকে গিয়ে দেখেন একাউন্টে কোনো টাকা নেই। 'ক' যথাযথ কার্যক্রম সম্পন্ন করে 'খ' এর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করে। এক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী 'খ' কী শাস্তি পেতে পারে?
  1. ৩ বছরের কারাদণ্ড
  2. চেকে উল্লেখিত টাকার ২ গুন জরিমানা
  3. চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন জরিমানা
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
• অপর্যাপ্ত তহবিল, ত্রুটিপূর্ণ স্বাক্ষর ও অন্য যে কোন যথাযথ কারনে বাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া চেক যদি প্রত্যাখ্যাত হয় বা চেকে উল্লেখিত টাকা বাহককে প্রদান করা সম্ভব না হয় সেটিকেই বলা হয় চেক ডিজঅনার। কোন কারনে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে হস্তারযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) অনুযায়ী আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮(১) ধারায় চেক প্রত্যাখিত হবার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা আছে চেক ডিজঅনারের শাস্তি হল ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন জরিমানা অথবা উভয়।
৩৭৯.
Land Survey Tribunal এর কোন রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি কোথায় আপীল করতে পারে?
  1. জেলা জজ আদালতে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. কালেক্টরের নিকট
  4. ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৫খ ধারার বিধান: ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল:
(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশ হইতে উদ্ভূত আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে।
(৪) ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের রায়, ডিক্রি বা আদেশ হইতে উদ্ভূত আপিল ব্যতীত, অন্য কোনো আপিল ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে চলিবে না।
(৫) উপ-ধারা (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালের কোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ রায়, ডিক্রি বা আদেশের তিন মাসের মধ্যে ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিতে পারিবেন।
(৬) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরেও পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আপিল গৃহীত হইতে পারে, যদি ভূমি জরিপ আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিলকারী কর্তৃক প্রদর্শিত বিলম্বের কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট হন।
-----------
Section 145B. Land Survey Appellate Tribunal:
(1) The Government may, by notification in the official Gazette, establish as many Land Survey Appellate Tribunals as may be required to hear the appeals arising out of the judgment, decree or order of the Land Survey Tribunals.
(2) The Government may, by notification in the official Gazette, fix and alter the territorial limits of the jurisdiction of any Land Survey Appellate Tribunal.
(3) The Government shall appoint the judge of the Land Survey Appellate Tribunal from among the persons who are District judges.]
(3A) Until such judge is appointed under sub-section (3), the Government may empower the District Judge as the judge of the Land Survey Appellate Tribunal of the district.
(3B) The District Judge, empowered under sub-section (3A), shall be deemed to be the judge of the Land Survey Appellate Tribunal appointed under sub-section (3).
(3C) The Government may, if necessary, appoint one or more Additional District Judges as a judge of the Land Survey Appellate Tribunal to hear appeals transferred by the judge of the Land Survey Appellate Tribunal appointed or empowered under this section.]
(4) No appeal other than the appeals arising out of the judgment, decree or order of the Land Survey Tribunal shall lie in the Land Survey Appellate Tribunal.
(5) Subject to the provision of sub-section (6), any person aggrieved by any judgment, decree or order of the Land Survey Tribunal may, within three months from the date of such judgment, decree or order, prefer an appeal to the Land Survey Appellate Tribunal.
(6) An appeal may be admitted within next three months even after the expiry of the period specified in sub-section (5), if the Land Survey Appellate Tribunal is satisfied with the reasons for delay shown by the appellant.
৩৮০.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ৬ অনুযায়ী জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের সদস্য-সচিব কে হবেন?
  1. নির্বাহী পরিচালক
  2. অ্যাটর্নি জেনারেল
  3. রেজিস্ট্রার জেনারেল
  4. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ৬(১)(দ) অনুসারে, জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের সদস্য-সচিব হলেন নির্বাহী পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা। 
- "(দ) নির্বাহী পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।"

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ৬-জাতীয় পরিচালনা বোর্ড:
(১) জাতীয় পরিচালনা বোর্ড নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-
(ক) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী/উপদেষ্টা, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানও হইবেন;
(খ) জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত ২ (দুই) জন সংসদ-সদস্য, যাহাদের একজন সরকারদলীয় এবং অপরজন বিরোধীদলীয় হইবেন;
(গ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল;
(ঘ) সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়;
(ঙ) সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ;
(চ) সচিব, অর্থ বিভাগ;
(ছ) সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ;
(জ) সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়;
(ঝ) সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়;
(ঞ) রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট;
(ট) মহা-পুলিশ পরিদর্শক;
(ঠ) মহা-কারা পরিদর্শক;
(ড) ভাইস-চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল;
(ঢ) সভাপতি, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি;
(ণ) চেয়ারম্যান, জাতীয় মহিলা সংস্থা;
(ত) সরকার কর্তৃক মনোনীত আইন ও অধিকার সম্পর্কিত বেসরকারি সংস্থার ৩ (তিন) জন প্রতিনিধি;
(থ) সরকার কর্তৃক নারী সংস্থা হইতে মনোনীত ৩ (তিন) জন প্রতিনিধি; এবং
(দ) নির্বাহী পরিচালক, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ত) ও (থ) এ উল্লিখিত সদস্যগণের প্রত্যেকে স্ব স্ব মনোনয়ন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উপযুক্ত কারণ উদ্ভব হইলে সরকার উপ-ধারা (১) এর দফা (ত) ও (থ) এ উল্লিখিত সদস্যগণের যে কাহারো মনোনয়ন মেয়াদপূর্তির পূর্বেই বাতিল করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (১) এর দফা (ত) ও (থ) এ উল্লিখিত সদস্যগণ সরকার বরাবর পদত্যাগপত্র প্রেরণপূর্বক স্বীয় পদ হইতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিতে পারিবেন।

৩৮১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭ অনুযায়ী, তালাকের ঘোষণার পর তা কার্যকর হতে কত দিন সময় লাগে?
  1. ১২০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ধারা ৭(৩) এ বলা হয়েছে: “তালাক, যদি এর আগে প্রত্যাহার না করা হয় (স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে), তবে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ প্রদানের তারিখ থেকে নব্বই (৯০) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
অর্থাৎ স্বামী তালাক উচ্চারণ করার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে এবং স্ত্রীর কাছেও একটি কপি পাঠাতে হবে।
- চেয়ারম্যান নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একটি সালিশি পরিষদ (Arbitration Council) গঠন করবেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানো।
- তালাকের নোটিশ দেওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিন পার হওয়ার আগে তালাক কার্যকর হয় না। এই সময়টিকে এক ধরনের “Cooling-off Period” বা সমঝোতার সুযোগ বলা যায়।
- যদি স্ত্রী নোটিশ দেওয়ার সময় গর্ভবতী থাকেন, তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরেও গর্ভকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।

⇒ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৭ ধারার বিধান: তালাক (Talaq):
১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছা করলে সে কোন প্রকারেই হোক তালাক উচ্চারণ করার পরেই সে তালাক দিয়েছে বলে চেয়ারম্যানকে লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানাবে এবং তার স্ত্রীকেও একটি কপি পাঠাবে।
২) উপর্যুক্ত বিধান লঙ্ঘনের শান্তি- ১ বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড।
৩) অন্য কোনোভাবে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে কোন তালাক প্রত্যাহার না করা হলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরিত নোটিশের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৪) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের ভিতরে চেয়ারম্যান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করবেন ও এই কাউন্সিল পুনর্মিলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৫) তালাক প্রদানের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে ৩নং উপধারায় উল্লিখিত মেয়াদ বা গর্ভকাল এই দুই এর মধ্যে যা পরে শেষ হবে, তা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না।
৬) এই ধারা অনুযায়ী কার্যকর তালাক দ্বারা যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রীর তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে মধ্যবর্তী বিবাহ ছাড়া তার পূর্বের স্বামীর সঙ্গে পুনর্বিবাহে কোনো বাধা থাকবে না, যদি না বিবাহবিচ্ছেদ তৃতীয়বারের মত কার্যকর হয়ে থাকে।

৩৮২.
জাতীয় সংসদ বাংলাদেশ সংবিধানের কত অনুচ্ছেদের অধিকারবলে 'Delegated Legislation' এর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৫(১)
  2. অনুচ্ছেদ ৬৫(২)
  3. অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)
  4. অনুচ্ছেদ ৬৫(৪)
ব্যাখ্যা
• অর্পিত আইন প্রণয়ন [Delegated Legislation]:
 
অনুচ্ছেদ ৬৫(১) এর অধীন জাতীয় সংসদ তার আইন প্রণয়ন ক্ষমতা অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করতে পারে। যে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়, উক্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ উক্ত অর্পিত ক্ষমতাবলে যে আইন প্রণয়ন করে তাকে অর্পিত আইন বা Delegated Legislation বলে।

অনুচ্ছেদ ৬৫: সংসদ-প্রতিষ্ঠা:

(১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:
 
তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।
 
(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।
 
(৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন:
 
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।
 
(৩ক) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।
 
(৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে।
৩৮৩.
একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ কী সাজা দিতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: গ) সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৮: বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা (Powers of Special Tribunals):

যেকোনো প্রচলিত আইনে ভিন্নরূপ কিছু থাকলেও, এই ধারার অধীন নিম্নরূপ ব্যবস্থা করা হয়েছে:
(ক) যদি কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় সেশন জজ, অতিরিক্ত সেশন জজ, অথবা সহকারী সেশন জজ দ্বারা, তবে
- উক্ত ট্রাইব্যুনাল যে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে,
- তার জন্য আইনে অনুমোদিত যেকোনো দণ্ড প্রদান করিতে পারিবে।

(খ) যদি কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা, তবে
- উক্ত ট্রাইব্যুনাল যে অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে, তার জন্য
- আইনে অনুমোদিত দণ্ড প্রদান করিতে পারিবে, তবে নিম্নোক্ত দণ্ড প্রদান করিতে পারিবে না:
• মৃত্যুদণ্ড;
• যাবজ্জীবন কারাদণ্ড;
• সাত বছরের বেশি মেয়াদে কারাদণ্ড;
• ১০,০০০ টাকার বেশি অর্থদণ্ড।
৩৮৪.
'Ubi jus ibi remedium' এর বাংলা অর্থ কী?
  1. যেখানে আইন সেখানে শাস্তি
  2. যেখানে ক্ষতি সেখানে প্রতিকার
  3. যেখানে আদালত সেখানে বিচার
  4. যেখানে অধিকার সেখানে প্রতিকার
ব্যাখ্যা

⇒ "Ubi jus ibi remedium" একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাক্সিম (Legal Maxim) যার অর্থ "Where there is a right, there is a remedy". 
- বাংলায়: "যেখানে অধিকার আছে, সেখানে প্রতিকারও আছে"।
- এটি আইনের মৌলিক নীতি, যা বলে যে কোনো আইনি অধিকারের সাথে তার লঙ্ঘনের জন্য প্রতিকারের অধিকারও যুক্ত। অন্যান্য অপশনগুলো এই ম্যাক্সিমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

৩৮৫.
কারফিউ আদেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ কত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ২৪: কারফিউ (Curfew):
(১) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মহানগরীতে পুলিশ কমিশনার, সরকারের নিয়ন্ত্রণে, আদেশের মাধ্যমে নির্দেশ দিতে পারবেন যে—যে কোনো এলাকা বা এলাকায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, কোনো ব্যক্তি বাইরে থাকতে পারবে না, তবে যে ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত লিখিত পারমিট থাকবে তার ব্যতীত। আদেশে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হতে পারে।

(২) এই ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত কোনো আদেশ লঙ্ঘন করলে, অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়ই দেওয়া যেতে পারে।

৩৮৬.
A transfer of immovable property made with the intent to defeat or delay the creditors of the transferor shall be:
  1. Void
  2. Voidable at the discretion of the court
  3. Voidable at the option of any creditor so defeated or delayed
  4. None of the above
ব্যাখ্যা
• শঠতামূলক হস্তান্তর (Fraudulent transfer):

৫৩ ধারা অনুসারে,
হস্তান্তরকারী তার পাওনাদারদের (creditors) ঠকানো বা পাওনা আদায়ে বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে যদি কোন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তাহলে যেকোন পাওনাদারের দাবী অনুযায়ী উক্ত হস্তান্তর বাতিলযোগ্য বিবেচিত হবে।

⇒ পরবর্তী হস্তান্তর গ্রহীতাকে ঠকানাের উদ্দেশ্যে পূর্বে সম্পাদিত প্রত্যেকটি বিনামূল্যের হস্তান্তর পরবর্তী হস্তান্তর গ্রহীতার দাবিক্রমে বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
⇒ পরবর্তী কোনো একটি হস্তান্তর মূল্যের বিনিময়ে করা হয়েছে, কেবল এ কারণেই ধরে নেয়া হবে না যে, পূর্বের বিনামূল্যের হস্তান্তরটি পরবর্তী হস্তান্তর গ্রহীতাকে ঠকানাের জন্য করা হয়েছিল।

Section 53: Fraudulent transfer

(1) Every transfer of immoveable property made with intent to defeat or delay the creditors of the transferor shall be voidable at the option of any creditor so defeated or delayed. Nothing in this sub-section shall impair the rights of a transferee in good faith and for consideration. Nothing in this sub-section shall affect any law for the time being in force relating to insolvency. 
 
A suit instituted by a creditor (which term includes a decree-holder whether he has or has not applied for execution of his decree) to avoid a transfer on the ground that it has been made with intent to defeat or delay the creditors of the transferor, shall be instituted on behalf, or for the benefit of, all the creditors. 
 
(2) Every transfer of immoveable property made without consideration with intent to defraud a subsequent transferee shall be voidable at the option of such transferee. 
For the purposes of this sub-section, no transfer made without consideration shall be deemed to have been made with intent to defraud by reason only that a subsequent transfer for consideration was made.
৩৮৭.
আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী, আয়ের সীমা বিবেচনা করা ব্যতীত কোন সকল ব্যক্তি আইনগত সহায়তা পাইবার যোগ্য?
  1. শিশু
  2. ব্যবসায়ী
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. বৈদেশিক শিক্ষার্থী
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪-এর অনুচ্ছেদ ২(২) এ আয়ের সীমা বিবেচনা না করে কিছু বিশেষ শ্রেণির ব্যক্তিদের সরাসরি আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে "শিশু"।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪-এর অনুচ্ছেদ ২-এর উপ-অনুচ্ছেদ (২)-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, আয়ের সীমা বিবেচনা না করেই (অর্থাৎ আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন) নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে গণ্য হবেন:
- শিশু
- মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি
- শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু
- নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে
- ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি
- পারিবারিক সহিংসতার শিকার বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি
- বয়স্ক ভাতাভোগী ব্যক্তি
- ভিজিডি কার্ডধারী দুস্থ মাতা
- এসিড দগ্ধ নারী বা শিশু
- অসচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও দুস্থ মহিলা
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
- আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অধিকার প্রতিষ্ঠায় অক্ষম ব্যক্তি
- বিনা বিচারে আটক ব্যক্তি
- আদালত বা জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অসচ্ছল বলে বিবেচিত ব্যক্তি
- সংস্থা কর্তৃক চিহ্নিত অন্যান্য দুর্যোগকবলিত বা অসচ্ছল ব্যক্তি

অপশনগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র “শিশু” এই তালিকায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত। অন্য অপশনসমূহ (ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, বৈদেশিক শিক্ষার্থী) আয়ের সীমা বিবেচনা ব্যতীত যোগ্যতার তালিকায় নেই; তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত আয়ের সীমা (অথবা অন্যান্য শর্ত) যাচাই করা হয়।


৩৮৮.
'A' একটি গাভী যত্ন নেওয়ার জন্য 'B' এর হেফাজতে রাখেন। গাভীটি একটি বাছুর জন্ম দিলো। গাভীটির বাছুরটির অধিকারী হবেন-
  1. জিম্মাগ্রহীতা হিসেবে 'B'
  2. জিম্মাদার হিসেবে 'A'
  3. জিম্মাকৃত মালের লাভ হিসেবে 'A' ও 'B' দুইজনে
  4. জিম্মাদাতা হিসেবে 'A'
ব্যাখ্যা
- জিম্মাকৃত মালের বৃদ্ধি বা লাভের অধিকারী হবেন-জিম্মাদাতা। অর্থাৎ গাভীটির বাছুরটির অধিকারী হবেন- জিম্মাদাতা হিসেবে 'A'।
উল্লেখ্য এখানে 'A' জিম্মাদার হবেন না, 
'A' হচ্ছেন জিম্মাদাতা।
 
⇒ চুক্তি আইনের ১৬৩ ধারার বিধান জিম্মাকৃত পণ্যের বৃদ্ধি বা লাভের অধিকারী জিম্মাদাতা:
- জিম্মাকৃত পণ্যের কোন বৃদ্ধি বা লাভ জিম্মাদার জিম্মাদাতাকে বা জিম্মাদাতার নির্দেশ অনুসারে প্রদান করতে বাধ্য।
- উদাহরণ:
A একটি গাভী যত্ন নেওয়ার জন্য B এর হেফাজতে রাখেন। গাভীটি একটি বাছুর জন্ম দিলো। B গাভীটির সাথে বাছুরটিকেও A এর নিকট প্রদান করতে বাধ্য।
-----------------------------
-Section 163. Bailor entitled to increase or profit from goods bailed:
In the absence of any contract to the contrary, the bailee is bound to deliver to the bailor, or according to his directions, any increase or profit which may have accrued from the goods bailed.
Illustration:
A leaves a cow in the custody of B to be taken care of. The cow has a calf. B is bound to deliver the calf as well as the cow to A. 
৩৮৯.
'A' প্রতিশ্রুতি দিলো যে, সে 'B'-কে টাকা দেবে যদি কোনো জাহাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে ফিরে আসে। যদি ৬ মাসের মধ্যে জাহাজ না ফেরে, তাহলে-
  1. চুক্তি বাতিল হবে
  2. শর্তসাপেক্ষে বৈধ 
  3. চুক্তি কার্যকর থাকবে
  4. আদালত অনুমোদন দিলে কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৩৫ অনুসারে, কোনো শর্তসাপেক্ষ চুক্তি (Contingent Contract) যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো অনিশ্চিত ঘটনা ঘটার উপর নির্ভরশীল হয়, এবং সেই সময়ের মধ্যে ঘটনাটি না ঘটে, তবে চুক্তিটি বাতিল (Void) হয়ে যায়।
উদাহরণ:
'A' প্রতিশ্রুতি দিলো যে, সে 'B'-কে টাকা দেবে যদি কোনো জাহাজ আগামী ৬ মাসের মধ্যে ফিরে আসে। যদি ৬ মাসের মধ্যে জাহাজ না ফেরে, তাহলে চুক্তি বাতিল (Void) হবে।
-------
⇒ The Contract Act, 1872, Section 35: When contracts become void which are contingent on happening of specified event within fixed time:
- Contingent contracts to do or not to do anything if a specified uncertain event happens within a fixed time become void if, at the expiration of the time fixed, such event has not happened, or if, before the time fixed, such event becomes impossible.

- When contracts may be enforced which are contingent on specified event not happening within fixed time:
Contingent contracts to do or not to do anything if a specified uncertain event does not happen within a fixed time may be enforced by law when the time fixed has expired and such event has not happened or, before the time fixed has expired, if it becomes certain that such event will not happen. 

Illustrations:
(a) A promises to pay B a sum of money if a certain ship returns within a year. The contract may be enforced if the ship returns within the year, and becomes void if the ship is burnt within the year. 
(b) A promises to pay B a sum of money if a certain ship does not return within a year. The contract may be enforced if the ship does not return within the year, or is burnt within the year.

৩৯০.
কোনো কোম্পানি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত অপরাধ করলে, কে দায়ী হবে?
  1. শুধুমাত্র কোম্পানি
  2. শুধুমাত্র কোম্পানির পরিচালক
  3. কোম্পানির মালিক এবং শেয়ারহোল্ডারগণ শুধু
  4. কোম্পানি এবং কোম্পানির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত উভয়ই
ব্যাখ্যা

Negotiable Instruments Act, 1881– ধারা ১৪০ (কোম্পানির দ্বারা সংঘটিত অপরাধ)-
(১) যদি ধারা ১৩৮ অনুযায়ী কোনো কোম্পানি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত অপরাধ করে, তবে যিনি ওই সময় কোম্পানির ব্যবসার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি এবং কোম্পানিটি উভয়ই অপরাধী বলে গণ্য হবেন এবং শাস্তিযোগ্য হবেন।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে:
- তিনি অপরাধ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলেন, অথবা
- তিনি যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন, তাহলে তিনি দণ্ড থেকে অব্যাহতি পাবেন।

(২) যদি প্রমাণিত হয় যে কোম্পানির কোনো পরিচালক/ম্যানেজার/সেক্রেটারি/কর্মকর্তা জানিয়ে সম্মতি দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, বা অবহেলা করেছেন, তাহলে তিনিও অপরাধী বলে গণ্য হবেন এবং শাস্তিযোগ্য হবেন।

ব্যাখ্যা (Explanation):
- “কোম্পানি” বলতে বোঝায়: বডি কর্পোরেট, ফার্ম, বা বিভিন্ন ব্যক্তির সমিতি।
- ফার্মের ক্ষেত্রে “ডিরেক্টর” বলতে বোঝায় অংশীদার।

৩৯১.
'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬' কবে জারি করা হয়?
  1. ১ জানুয়ারি, ২০২৬
  2. ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  3. ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  4. ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
⇒ ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ (২০২৬ সনের ০৫ নং অধ্যাদেশ) ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রণীত হয় এবং সরকারি গেজেট (Extraordinary Gazette) এ প্রকাশিত হয়েছে।
- এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের মাধ্যমে পূর্বে প্রচলিত 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩ নং আইন)' সম্পূর্ণরূপে রহিত করা হয়েছে।
- 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬' এ মোট ৯টি অধ্যায় এবং ৬৫টি ধারা রয়েছে।

৩৯২.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৬ অনুসারে কোন বিভাগ বাধ্যতামূলকভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে?
  1. আইন বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. উল্লিখিত সবগুলাই 
ব্যাখ্যা

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধান: নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান:  নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।
- এখানে "নির্বাহী কর্তৃপক্ষ" বলতে নির্বাহী বিভাগ (Executive Authorities)-কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারের সকল নির্বাহী বিভাগ, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের কাজে সহায়তা করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য।
- সুতরাং, নির্বাহী বিভাগ-ই সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে বাধ্য।
------------
⇒ The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh -Article 126. Executive authorities to assist Election Commission:
 It shall be the duty of all executive authorities to assist the Election Commission in the discharge of its functions.  

৩৯৩.
চেক ডিজঅনারের মামলায় আপীল দায়েরের পূর্বে সর্বনিম্ন কত শতাংশ অর্থ জমা দিতে হবে?
  1. ১০%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ১০০%
ব্যাখ্যা
⇒ হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ১৩৮ক ধারার বিধান- আপিলের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ:
১৩৮ ধারার আওতায় প্রদত্ত শাস্তির আদেশের (Order of Sentence) বিরুদ্ধে আপিল করার পূর্বে প্রত্যাখ্যাত চেকের পরিমাণের ৫০% অর্থ দণ্ড প্রদানকারী আদালতের নিকট জমা দিতে হবে।

আপীল দায়েরের পূর্বশর্ত:
- চেক ডিজঅনারের মামলায় চেকে উল্লেখিত অর্থের সর্বনিম্ন ৫০% জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে।
- চেক ডিজঅনারকৃত চেকের টাকার ৫০% টাকা যে আদালত শাস্তি দিয়েছে সে আদালতে জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে।

NI Act Section-138A. Restriction in respect of appeal:
Notwithstanding anything contained in the Code of Criminal Procedure, 1898, no appeal against any order of sentence under sub-section (1) of section 138 shall lie, unless an amount of not less than fifty per cent of the amount of the dishonoured cheque is deposited before filing the appeal in the court which awarded the sentence.
৩৯৪.
'Ratio decidendi' means-
  1. a thing to be corrected
  2. reason for a decision
  3. decision of a man
  4. a thing said by the way
ব্যাখ্যা
• একটি Judgment -এর চারটি অংশ থাকে; যথা-
০১. A concise statement of fact;
০২. Point of determination or issue;
০৩. Reason behind the judgment;
০8. The decision thereon;

আদালতের Reasoning- কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
i. Ratio decidendi;
ii. Obiter Dictum;

Ratio decidendi-
The meaning of ratio decidendi is Latin for “the reason,” or “the foundation for” a decision. For example, ratio decidendi in the field of law refers to the moment or principle in a case that ultimately determines its outcome. Ratio decidendi is a legal rule regarding the legal reasoning behind the judgment of the judge or jury.

অর্থাৎ সেই সব Legal Basis বা Legal Principles যেগুলোর উপর ভিত্তি করে আদালত রায় প্রদান করে। Precedent হিসেবে Ratio decidendi এর binding force আছে। নজির হিসেবে আদালত মানতে বাধ্য।

Obiter Dictum-
"A thing said by the way"  অর্থাৎ মামলার রায়ের এমন অংশকে বোঝায়, যেটা মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিচারক যেটা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের সময় বিচারক প্রসঙ্গক্রমে যে সব কথা বলেন, তাই Obiter Dictum এর binding force নেই তবে, persuasive value আছে।
৩৯৫.
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে নিম্নের কোন আইন প্রণীত হয়েছে?
  1. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ২০২৩
  2. পারিবারিক আইন, ২০২৩
  3. পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩
  4. মুসলিম পারিবারিক আইন, ২০২৩
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এটি ২০২৩ সনের ২৬ নং আইন।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না। পূর্বে তা ৫০০০ টাকা ছিল।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
৩৯৬.
স্বামী কত বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে একজন বিবাহিতা স্ত্রীলোক বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যেসব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
 
⇒ চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
⇒ দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
⇒ স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
⇒ স্বামী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
⇒ বিয়ের সময় পুরষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
⇒ স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যধিতে আক্রান্ত থাকলে;
 
⇒ বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
 
⇒ স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
⇒ স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
 
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়েবিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।
৩৯৭.
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত শাস্তির বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে?
  1. ৬০ দিনের মধ্যে
  2. ৯০ দিনের মধ্যে
  3. ৩০ দিনের মধ্যে
  4. ১৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষমতা আইন,১৯৭৪

ধারা ৩০- আপিল এবং মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন

বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের ক্ষেত্রে কোন আপীল উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ দান বা ঘোষণা প্রকাশের তারিখ হতে ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করতে হবে।
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত কোন মৃত্যুদণ্ডাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। 

Section 30: Appeals and confirmation of death sentences

(1) An appeal from any order, judgment or sentence of a Special Tribunal may be preferred to the High Court Division within thirty days from the date of delivery or passing thereof.
(2) Where a Special Tribunal passes a sentence of death, the proceedings shall be submitted forthwith to the High Court Division and the sentence shall not be executed unless it is confirmed by that Division.
৩৯৮.
সেলিম একজন সুন্নী মুসলমান সে পিতা, এক পুত্র ও এক কন্যাকে ওয়ারিশ রেখে মৃত্যুবরণ করেছে, এক্ষেত্রে পিতা কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/৪ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোন অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা

পিতার অংশ তিন ধরনের হয়ে থাকে–

- ১/৬ অংশ: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র রেখে মারা যান তবে পিতার অংশ হবে ১/৬ অংশ।

- ১/৬+অবশিষ্টাংশ (Residuary): যদি মৃত ব্যক্তির কন্যা, পুত্রের কন্যা রেখে মারা যায় এবং কোন পুত্র বা পুত্রের পুত্র—- না থাকে তবে পিতার অংশ হবে ১/৬+অবশিষ্টাংশ।

- অবশিষ্টাংশভোগী (Residuary) : যদি কোন সন্তান-সন্ততি না থাকে তবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে পিতা অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে অংশ পাবে।

ধাপ ১: অংশীদার ও অবশিষ্টাংশভোগী চিহ্নিত করা-
অংশীদার: পিতা → স্বাভাবিকভাবে ১/৬ (যদি সন্তান থাকে)
অবশিষ্টাংশভোগী: পুত্র ও কন্যা → বাকি সম্পত্তি ভাগ করবে।
 
ধাপ ২: অংশীদার হিসাব-
পিতার অংশ: ১/৬ = ৩/১৮
অবশিষ্টাংশ (মোট − পিতার অংশ) = ১ − ১/৬ = ৫/৬ = ১৫/১৮
 
ধাপ ৩: অবশিষ্টাংশ ভাগ করা-
শারিয়াহ অনুযায়ী পুত্র = ২ অংশ, কন্যা = ১ অংশ
মোট অংশ = ৩ (পুত্র + কন্যা)
পুত্র = ১৫/১৮ × (২/৩) = ১০/১৮
কন্যা = ১৫/১৮ × (১/৩) = ৫/১৮।

৩৯৯.
What does the Latin maxim “Caveat Emptor” mean?
  1. ক্রেতাকে সতর্ক থাকতে হবে
  2. ক্রেতার ক্ষতির প্রতিকার আছে
  3. বিক্রেতাকে সতর্ক থাকতে হবে
  4. বিক্রেতার ক্ষতির প্রতিকার নেই
ব্যাখ্যা
Caveat Emptor — "Let the purchaser beware"
বাংলায় অর্থ: "ক্রেতা সাবধান" বা "ক্রেতাকে সতর্ক থাকতে হবে"।

এটি এমন একটি আইনগত নীতি যা বলে যে, কোনো কিছু ক্রয়ের সময় সেই পণ্যের গুণগত মান যাচাই করার দায়দায়িত্ব ক্রেতার নিজের ওপর বর্তায়। পণ্যের দোষত্রুটি পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হলে, সাধারণত বিক্রেতা দায়ী থাকেন না যদি না তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করে থাকেন।

Jyoti Swaroop Arora বনাম Tulip Infratech Ltd. ও অন্যান্য (03.02.2015 - CCI): MANU/CO/0006/2015 মামলার রায় অনুযায়ী:
"এটি আরও বলা হয়েছিল যে, সাধারণভাবে প্রথা অনুযায়ী, ক্রেতাদের সমস্ত প্রযোজ্য বিধি-বিধান, লাইসেন্স, বিল্ডিং প্ল্যান ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করা হয়, এবং এটি due diligence পর্যায়েই করা হয়ে থাকে। সমস্ত তথ্য যাচাই করার সুযোগ এবং দায়িত্ব ক্রেতারই থাকে। এই ধারণাটি আইন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে প্রতিফলিত করে, যা Caveat Emptor নামে পরিচিত, যার অর্থ 'ক্রেতা সতর্ক থাকুক'।"
৪০০.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১গ(১) এর অধীন মধ্যস্থতা চুক্তি কী হিসাবে গণ্য হবে?
  1. আদালতের ডিক্রি
  2. আদালতের নোটিশ
  3. আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ
  4. পক্ষগণের নোটিশ
ব্যাখ্যা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ২১গ: মধ্যস্থতা-চুক্তির কার্যকারিতা:
(১) পক্ষগণের সহি/স্বাক্ষর ও মধ্যস্থতাকারীর স্বাক্ষরক্রমে সম্পাদিত এবং চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত প্রতিটি মধ্যস্থতা চুক্তি চূড়ান্ত, বলবৎযোগ্য এবং পক্ষগণের উপর বাধ্যকর হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন চুক্তি আদালতের ডিক্রি অথবা ক্ষেত্রমত, চূড়ান্ত আদেশ হিসাবে গণ্য হইবে এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের মাধ্যমে উক্ত ডিক্রি বা আদেশ জারি করা যাইবে।