বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন২,৯৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ২৭ / ৩০ · ২,৬০১২,৭০০ / ২,৯৬৪

২,৬০১.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১ক(১) অনুযায়ী চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং লিগ্যাল এইড অফিসার কাদের মধ্য থেকে নিয়োগ করা হবে?
  1. সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্য থেকে
  2. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে
  3. জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে
  4. বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১ক(১) অনুযায়ী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং লিগ্যাল এইড অফিসার বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং সরকার কর্তৃক সম্পন্ন হবে।

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১ক - চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার, লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ, দায়িত্ব, ইত্যাদি:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের মধ্য হইতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ ও পদায়ন করিবে এবং তাহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সংস্থা, সময় সময়, আদেশ দ্বারা নির্ধারণ করিবে।
(১ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংস্থা আদেশ দ্বারা লিগ্যাল এইড অফিসারকে, ক্ষেত্রমত, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসারের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(২) চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার বা লিগ্যাল এইড অফিসার আইনগত সহায়তা প্রার্থীকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আইনি পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে, মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার (Pre-case Mediation) উদ্যোগ গ্রহণ করিতে পারিবে এবং প্রচলিত আইনের অধীন আপসযোগ্য যে কোন বিষয় কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল মামলা দায়ের-পরবর্তী মধ্যস্থতা (Post-case Mediation) কার্যক্রমের জন্য প্রেরণ করিলে উহা নিষ্পত্তির ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অফিসারের থাকিবে।

২,৬০২.
'Decisions Sub Silentio' বলতে বোঝায়-
  1. আইনের যে প্রশ্ন উচ্চ আদালতের মনে উদ্রেক হয়নি
  2. বিচারিক আদালতের রায়ে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত ছিল
  3. আইনের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতাহেতু কোনো ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত
  4. আইনের কোনো শব্দ বা বাক্যের অর্থ বুঝাতে না পারা
ব্যাখ্যা
• The concept of Sub silentio is a legal term that simply refers to a situation in which a court makes a ruling or applies a principle without taking into account the applicable law or any argument. The precedents that pass sub silentio are of "little or no authority,"

Its literal meaning is "in silence," and it's used to describe something which is not explicitly stated.

অর্থাৎ- নীরব থাকা এবং সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি এমন কিছুকে বোঝানো হয়। কোন যুক্তিতর্ক বা প্রয়োগযোগ্য আইন বিবেচনা না করে, যে অবস্থায় আদালত কর্তৃক কোন আদেশ (রুলিং) দেওয়া হয় তাকে বুঝায়।
২,৬০৩.
কোন ধরণের হস্তান্তর ধারা ৭ অনুযায়ী বৈধ?
  1. সম্পূর্ণ সম্পত্তির
  2. আংশিক সম্পত্তির
  3. শর্তযুক্ত হস্তান্তর
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
ধারা ৭: সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য যোগ্য ব্যক্তি (Persons competent to transfer):

যে ব্যক্তি-
- চুক্তি করার জন্য আইনগতভাবে যোগ্য, এবং
- যে ব্যক্তি হস্তান্তরযোগ্য সম্পত্তির মালিক, অথবা
- যে ব্যক্তি এমন কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য বৈধভাবে অনুমোদিত, যা তার নিজের নয়,

তারা সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন-
- পুরোটা বা আংশিকভাবে,
- চূড়ান্ত (নির্বর্তনহীন) বা শর্তযুক্তভাবে,
- সেই পরিস্থিতিতে, সেই পরিমাণে এবং সেই পদ্ধতিতে যেভাবে তখনকার প্রচলিত আইনে অনুমোদিত।
২,৬০৪.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতার অংশ কত হবে যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে?
  1. ১/২
  2. ১/৩
  3. ১/৪
  4. ১/৬
ব্যাখ্যা
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে মৃত ব্যক্তির পিতা (বাবা) একজন নির্ধারিত অংশীদার (Zawil Furud)। 
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতা (Father) হলেন একজন প্রাথমিক উত্তরাধিকারী, যার অংশ কোরআনে নির্ধারিত রয়েছে এবং তাকে কখনই সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করা যায় না।
পিতা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্পত্তির অংশ পেতে পারেন।

⇒ পিতার তিনটি অবস্থা:

(ক) ১/৬
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে, তাহলে পিতা ১/৬ অংশ পাবেন।

(খ) ১/৬ + অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকে, তবে পিতা প্রথমে ১/৬ অংশ পাবেন এবং বাকি অবশিষ্ট সম্পত্তি তিনি আসাবা (Asaba) হিসেবে পাবেন।
কারণ: পিতা আংশিক অংশীদার হলেও, বাকি সম্পত্তি আসাবা হিসেবে পাওয়ার অধিকারী হন। অর্থাৎ, তিনি সম্পত্তির বাকী অংশ ভোগ করবেন।

(গ) অবশিষ্টাংশ
অবস্থা: যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান ও অন্য কোনো আসাবা না থাকে, তবে পিতা সম্পূর্ণ সম্পত্তি পাবেন।
কারণ: কোনো অংশীদার বা আসাবা না থাকলে, পিতা আসাবা হিসেবে পুরো সম্পত্তি পেয়ে যাবেন।
২,৬০৫.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর কোন ধারায় “নতুন করে বিচার (trial de-novo)” এর উপর বাধা আরোপ করা হয়েছে?
  1. ধারা ২৬
  2. ধারা ২৮
  3. ধারা ৩০
  4. ধারা ৩১
ব্যাখ্যা

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৩১ "নতুন বিচারে বাধা" (Bar on trial de-novo) এর বিধান দেয়। এটি ট্রাইব্যুনালকে এই ক্ষমতা দেয় যে, যদি কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে বা কোনো কার্যক্রম হয়ে থাকে, তবে ট্রাইব্যুনাল সেগুলো পুনরায় শুনানি বা পুনরায় শুরু করতে বাধ্য নয়। ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে দাখিলকৃত প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করে মামলা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখান থেকে বিচার অব্যাহত রাখতে পারে। এটি দ্বিবার সাজা নীতি (Principle of double jeopardy)-এর প্রতিফলন হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি একই বিষয়ে বারবার বিচারের সম্ভাবনা সীমিত করে।

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩১ ধারার বিধান: নতুন বিচারে বাধা: যার সাক্ষ্য একবার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল এমন কোন সাক্ষীকে পুনরায় ডাকতে বা তার বক্তব্য শ্রবণ করতে বাধ্য নয় অথবা যে কার্যক্রম একবার অনুষ্ঠিত হয়েছে তা পুনরায় আরম্ভ করতে বাধ্য নয়।
এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে দাখিলকৃত বা লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে এবং মামলা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সেই পর্যায় হতে বিচার অব্যাহত রাখতে পারে।
--------------
⇒ The Special Powers Act, 1974, - Section 31: Bar on trial de-novo:
- A Special Tribunal, unless it otherwise decides, shall not be bound to recall or re-hear any witness whose evidence has already been recorded, or to re-open proceedings already held, but may act on the evidence already produced or recorded and continue the trial from the stage which the case has reached.

২,৬০৬.
কৃত্রিম মালিক (Ostensible Owner) দ্বারা হস্তান্তর সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কোন ধারায় আলোচিত?
  1. ধারা ৩৮
  2. ধারা ৪১
  3. ধারা ৪৩
  4. ধারা ৪৪
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ (Transfer of Property Act, 1882)-এর ধারা ৪১-এ কৃত্রিম মালিক (Ostensible Owner) দ্বারা সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে।
- কৃত্রিম মালিক (Ostensible Owner): এমন ব্যক্তি যিনি প্রকৃত মালিক নন, কিন্তু প্রকৃত মালিকের সম্মতি বা অবহেলার কারণে তিনি মালিকের মতো দেখাতে সক্ষম হন।
- যদি এই কৃত্রিম মালিক সু-প্রতিশ্রুত ক্রেতার (Bona fide purchaser) কাছে মূল্য দিয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করে, এবং ক্রেতা যদি সৎভাবে ও যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করে চুক্তি করে, তবে ঐ হস্তান্তর প্রকৃত মালিকের বিরুদ্ধেও বৈধ হবে।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর: যখন কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে, ঐ সম্পত্তির প্রতীয়মান মালিক বলে পরিগণিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সে তা হস্তান্তর করে, তখন তার হস্তান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গৃহীত যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা গ্রহণ করে থাকলে এবং সরল বিশ্বাসে কার্য করে থাকলে, দাতার হস্তান্তরের ক্ষমতা ছিল না, এই যুক্তিতে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে না।
---------------- 
- The Transfer of Property Act, 1882 Section 41. Transfer by ostensible owner:
 - Where, with consent, express or implied, of the persons interested in immoveable property, a person is the ostensible owner of such property and transfers the same for consideration, the transfer shall not be voidable on the ground that the transferor was not authorised to make it: provided that the transferee, after taking reasonable care to ascertain that the transferor had power to make the transfer, has acted in good faith.

২,৬০৭.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য কী প্রয়োজন?
  1. স্বাক্ষরিত চুক্তি
  2. নিবন্ধিত দলিল
  3. মৌখিক আবেদন
  4. আদালতের আদেশ
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬(৩) অনুসারে, তালাক-ই-তাফওয়েজ (Talaq-e-Tafweez) বা প্রতিনিধিত্বমূলক তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি নিবন্ধিত দলিল (Registered Document) অথবা বিয়ের নিবন্ধন রেজিস্টারে থাকা স্বামীর তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণের প্রমাণ থাকা আবশ্যক।

তালাক-ই-তাফওয়েজ:
তালাক-ই-তাফওয়েজ হলো স্বামীর দ্বারা স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করা। এটি সাধারণত বিয়ের সময় নির্দিষ্ট চুক্তিতে উল্লেখ থাকে এবং যদি স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তবে সেটি বৈধ তালাক হিসেবে গণ্য হয়।

আইন অনুসারে তালাক-ই-তাফওয়েজ নিবন্ধনের জন্য নিম্নলিখিত দুটি উপায়ে প্রমাণ থাকতে হবে:
১) একটি দলিল, যা রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৯০৮-এর অধীনে নিবন্ধিত থাকতে হবে, যেখানে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছেন।
২) নিকাহ রেজিস্ট্রারের রেজিস্টারে থাকা বিয়ের নথিতে উল্লেখ থাকতে হবে যে স্বামী তালাক-ই-তাফওয়েজের ক্ষমতা স্ত্রীকে প্রদান করেছেন।

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৬ এর বিধান তালাক নিবন্ধন:
(১) নিকাহ রেজিস্ট্রার মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পাদিত তালাক তাহার এখতিয়ারের মধ্যে নিবন্ধন করিতে পারিবেন, যদি তাহার নিকট উক্ত নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়।
(২) তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদন তালাক প্রদানকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে করা হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলা পর্দানশীন হন, তাহা হইলে তাহার পক্ষে তাহার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওকালতনামা দ্বারা আবেদন করা যাইবে।
(৩) নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক-ই-তাফওয়েজ নামক তালাক নিবন্ধন করিবেন না, যদি না স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণের জন্য ১৯০৮ সনের রেজিস্ট্রেশন আইন (১৯০৮ সনের ১৬ নং আইন) অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল বা বিবাহ নিবন্ধনের রেজিস্টারে উক্ত অর্পণের প্রমাণস্বরূপ সত্যায়িত নকল প্রদান করা হয়।
(৪) যদি নিকাহ রেজিস্ট্রার তালাক নিবন্ধনে অস্বীকৃতি জানান, তাহা হইলে তালাক নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং রেজিস্ট্রার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
------------- 
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974-Section- 6. Registration of divorces: 
(1) A Nikah Registrar may register a divorce effected under Muslim Law within his jurisdiction on application being made to him for such registration. 
(2) An application for registration of a divorce shall be made orally by the person or persons who has or have effected the divorce: 
Provided that if the woman be a parda-nashin, such application may be made by her duly authorised vakil. 
(3) The Nikah Registrar shall not register a divorce of the kind known as Talaq-i-tafweez except on the production of a document registered under the Registration Act, 1908 (XVI of 1908), by which the husband delegated the power of divorce to the wife or of an attested copy of an entry in the register of marriages showing that such delegation has been made. 
(4) Where the Nikah Registrar refuses to register a divorce, the person or persons who applied for such registration may, within thirty days of such refusal, prefer an appeal to the Registrar and the order passed by the Registrar on such appeal shall be final.
২,৬০৮.
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন কোন মতবাদ অনুসারে হয়?
  1. দায়ভাগ মতবাদ
  2. মিতাক্ষরা মতবাদ
  3. মায়ূখ মতবাদ
  4. ব্যক্তিগত আইন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়। এই মতবাদে মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অখণ্ড হিন্দু পরিবার বা যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ (Dayabhaga School) অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল বাংলা অঞ্চলে এবং এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত।

মতবাদের বৈশিষ্ট্য:
- উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় মালিকের মৃত্যুর পর (জন্মসূত্রে নয়)।
- মৃত ব্যক্তির সপিণ্ডরা (যারা পিণ্ডদানের অধিকারী) প্রধান উত্তরাধিকারী।
- এটি আধ্যাত্মিক নীতি (Doctrine of Spiritual Benefit) এর উপর ভিত্তি করে গঠিত।

- সুতরাং, বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়।

২,৬০৯.
মরজ-উল-মউত দানের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কত অংশ দান করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ সম্পত্তি
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা

মরজ-উল-মউত বা মৃত্যুশয্যায় দান:
মরজ শব্দের অর্থ- রোগ, মউত শব্দের অর্থ- মৃত্যু। মরজ-উল-মউত'র অর্থ মৃত্যুরোগ (Death Sickness) বা যে রোগে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে। অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যু আশঙ্কায় থেকে তথা মৃত্যু শয্যায় থেকে দান করাকে মরজ-উল-মউত বলে। এরূপ দানের পর দাতার মৃত্যু হলে তা উইলের ন্যায় কার্যকর হবে অর্থাৎ তখন উইলের সীমাবদ্ধতা, বিধান ইত্যাদি প্রযোজ্য হবে। 

অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি এমন অসুস্থতায়/রোগে ভোগে, যার ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়, এমতাবস্থায় কোনো দান (Gift/Hiba) করলে, দানটিকে মৃত্যুশয্যায় দান (Marz-ul-Maut) বলে।

এমন দান উইল (Wasiyyat) বলে গণ্য হবে এবং উইলের বিধান প্রযোজ্য হবে। কোনো ব্যক্তি মরজ-উল-মউতের সময় উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তি বরাবর তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ সম্পত্তি দান (Gift/Hiba) করতে পারেন।

২,৬১০.
সপ্রতিবন্ধ দায় বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র দানকৃত সম্পত্তির অধিকার
  2. জীবিত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্পত্তি পাওয়া
  3. জন্মসূত্রে কোনো বাধা ছাড়া সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
  4. কারো মৃত্যুর পরে সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
ব্যাখ্যা

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়। অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

২,৬১১.
মাদকদ্রব্যের উৎস হতে গন্তব্য পর্যন্ত অপরাধী শনাক্ত করতে কোন বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়?
  1. ডোপ টেস্ট
  2. বিশেষ তল্লাশি
  3. নিয়ন্ত্রিত বিলি
  4. গোপন অভিযান
ব্যাখ্যা

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৫ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত বিলি (Controlled Delivery) হলো একটি বিশেষ তদন্ত কৌশল। এই পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদকদ্রব্যকে তার উৎস থেকে গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয়, যাতে করে চোরাচালান কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল অপরাধী (যেমন: সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, গ্রাহক) শনাক্ত ও গ্রেফতার করা যায়।

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ২(১৫) ধারার বিধান:
- ‘নিয়ন্ত্রিত বিলি (Control Delivery)’ অর্থ কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করিবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ তদন্ত কৌশল, যাহাতে কোনো মাদকদ্রব্য, উহার উৎসবস্তু, উপাদান অথবা মিশ্রণের বেআইনি অথবা সন্দেহজনক চালানকে তদন্তের ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো আইন প্রায়োগকারী সংস্থার (সরকারের) জ্ঞাতসারে ও তত্ত্বাবধানে শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পরিবহন ও বিতরণ অথবা হস্তান্তর করিতে দেওয়া যাহার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত উক্ত মাদকদ্রব্যের উৎস হইতে গন্তব্য পর্যন্ত যাবতীয় কার্যক্রমের সহিত জড়িত সকল অপরাধীকে গ্রেফতার করা যায়।

⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৫ ধারার বিধান: গোপন অভিযোগ ও নিয়ন্ত্রিত বিলি:
(১) উপ-ধারা (২) এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সহিত বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তি অথবা সমঝোতা সাপেক্ষে, সরকার, এই আইন অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অনুরূপ কোনো আইনের অধীন সংঘটিত কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সম্পর্কে বাংলাদেশে অথবা অন্য কোথাও প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, নিয়ন্ত্রিত বিলির লিখিত অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুমোদন প্রদান করা হইবে না, যদি না সরকার-
(ক) কোনো ব্যক্তিকে, যাহার পরিচিতি জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত যাহাই হউক না কেন, এই বলিয়া সন্দেহ করে যে, তিনি এইরূপ কোনো কার্যে লিপ্ত ছিলেন অথবা রহিয়াছেন অথবা হইবার উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছেন যাহা এই আইন অথবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের অনুরূপ কোনো আইনের অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধ বলিয়া পরিগণিত; এবং
(খ) এই মর্মে সন্তুষ্ট হয়, নিয়ন্ত্রিত বিলির ব্যবস্থা এইরূপ নির্ধারিত করা হইয়াছে যে, উহাতে উক্ত ব্যক্তির কার্য প্রকাশিত হইবার অথবা উক্ত কার্যসংক্রান্ত অন্য কোনো প্রমাণ লাভের সুযোগ রহিয়াছে।
(৩) সরকার অনধিক ৩ (তিন) মাসের জন্য, সময়ে সময়ে, উক্ত অনুমোদন প্রদান করিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্ত উপ-ধারার অধীন অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, নিয়ন্ত্রিত বিলি ও গোপন অভিযান চলাকালে এবং তদুদ্দেশ্যে, নিম্নরূপ কার্যাবলি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) কোনো বাহনকে বাংলাদেশে প্রবেশ অথবা বাংলাদেশ ত্যাগ করিতে দেওয়া;
(খ) কোনো বাহনকে মাদকদ্রব্য সরবরাহ অথবা সংগ্রহ করিতে দেওয়া;
(গ) কোনো বাহনে প্রবেশ ও তল্লাশির জন্য পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তিসংগত শক্তি প্রয়োগ করা;
(ঘ) কোনো বাহনে গোপন সংকেত প্রদানকারী যন্ত্র (Tracking Device) স্থাপন করা; এবং
(ঙ) যে ব্যক্তির অধিকারে অথবা হেফাজতে মাদকদ্রব্য রহিয়াছে তাহাকে বাংলাদেশে প্রবেশ অথবা বাংলাদেশ ত্যাগ করিতে দেওয়া।
(৫) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো গোপন অভিযান অথবা নিয়ন্ত্রিত বিলিতে অংশগ্রহণকারী কোনো অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী, উক্ত অভিযান অথবা নিয়ন্ত্রিত বিলিতে অংশগ্রহণের জন্য কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের দায়ে দায়ী হইবে না।

২,৬১২.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী টাউটের সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. এক মাস কারাদণ্ড
  2. তিন মাস কারাদণ্ড
  3. ছয় মাস কারাদণ্ড
  4. এক বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
•নিবন্ধন আইন, ধারা ৮২ক এর বিধান টাউটের শাস্তি।- যদি কোন ব্যক্তি, যাহার নাম এই আইনের অধীন প্রণীত এবং প্রকাশিত টাউটদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে, টাউটের ন্যায় কার্য করেন, তাহা হইলে তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন যাহার মেয়াদ তিন মাস পর্যন্ত হইতে পারে, বা পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২,৬১৩.
শুফার অধিকার নিম্নের কোন পদ্ধতিতে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য?
  1. হেবা
  2. উইল
  3. বিক্রয়
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
• Pre-emption বা অগ্রক্রয় হলো জমির ক্রয় সংক্রান্ত একটি অধিকার। আরবি ভাষায় এটি 'শুফা' (Shufaa) নামে পরিচিত। অগ্রক্রয় বলতে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা লাভের অধিকারকে বুঝায়, যা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঐ সম্পত্তিতে শরিক কিংবা প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়। 

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ—শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।
২,৬১৪.
The Transfer of Property Act, 1882 এর কত ধারায় বন্ধকগ্রহীতাকে বন্ধকী অর্থের জন্য মামলা করার অধিকার দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ৬৭
  2. ধারা ৬৮
  3. ধারা ৬৯
  4. ধারা ৬৯ক
ব্যাখ্যা
ধারা ৬৮: বন্ধকী অর্থের জন্য মামলা করার অধিকার-
(১) বন্ধকগ্রহীতার নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বন্ধকী অর্থের জন্য মামলা করার অধিকার থাকবে, এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রে তা থাকবে না, যথা:

(ক) যেখানে বন্ধকদাতা নিজেকে অর্থ পরিশোধ করার জন্য বাধ্য করেন;

(খ) যেখানে কোনো কারণে, যা বন্ধকদাতা বা বন্ধকগ্রহীতার অন্য কোনো অন্যায় কাজ বা অবহেলা ছাড়া ঘটেছে, বন্ধককৃত সম্পত্তি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বা নিরাপত্তা অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছে এবং বন্ধকগ্রহীতা বন্ধকদাতাকে আরও যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করেছেন, এবং বন্ধকদাতা তা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন;

(গ) যেখানে বন্ধকগ্রহীতা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে তার নিরাপত্তা হারিয়েছেন বন্ধকদাতার অন্যায় কাজ বা অবহেলার কারণে;

(ঘ) যেখানে, বন্ধকগ্রহীতা বন্ধককৃত সম্পত্তির দখল পাওয়ার অধিকারী হলেও, বন্ধকদাতা তাকে তা প্রদান করতে ব্যর্থ হন, বা সম্পত্তির দখল নিরাপদে তার কাছে ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন, কিংবা বন্ধকদাতা বা তার অধিকারী কোনো ব্যক্তি যা বন্ধকদাতার উপরে অধিকারী হতে পারে, তার দ্বারা বিরক্তিকরভাবে দখল দেওয়া হয়।

তবে, উপধারা (১)-এর (ক) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ক্ষেত্রে, যদি বন্ধকদাতা বা তার আইনী প্রতিনিধি থেকে কোনো ট্রান্সফারকারি থাকে, তবে তাকে বন্ধকী অর্থের জন্য মামলা করার জন্য দায়ী করা যাবে না।

(২) যদি (ক) বা (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো মামলা করা হয়, তবে আদালত তার বিবেচনার ভিত্তিতে মামলা এবং এর সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত করতে পারবেন, যেটি কোনও চুক্তির বিপরীতে হবে না, যতক্ষণ না বন্ধকগ্রহীতা তার সমস্ত উপলব্ধ ব্যবস্থা বন্ধককৃত সম্পত্তির বিরুদ্ধে বা যা অবশিষ্ট আছে তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ না করেন, যদি না বন্ধকগ্রহীতা তার নিরাপত্তা ত্যাগ করেন এবং প্রয়োজনে বন্ধককৃত সম্পত্তি পুনঃস্থানান্তর করেন।
২,৬১৫.
The Transfer of Property Act, 1882 এর ১০৫ ধারা অনুসারে ইজারার মূল্যকে কী বলা হয়?
  1. খাজনা
  2. সুদ
  3. কর
  4. সেলামী
ব্যাখ্যা

⇒ The Transfer of Property Act, 1882 এর ১০৫ ধারা অনুসারে ইজারার মূল্যকে দুইভাবে অভিহিত করা হয়:
১. এককালীন মূল্যকে বলা হয় সেলামী (Premium)।
২. পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রদেয় অর্থ, ফসলের অংশ বা সেবাকে বলা হয় খাজনা (Rent)।
যেহেতু প্রশ্নে সাধারণভাবে 'ইজারার মূল্যকে কী বলা হয়?' জানতে চাওয়া হয়েছে এবং উত্তরে 'খাজনা' ও 'সেলামী' উভয় বিকল্পই রয়েছে, তাই সঠিক উত্তর নির্ভর করবে মূল্যটি এককালীন না পর্যায়ক্রমিক তার উপর। তবে আইনি সংজ্ঞায় উভয়ই ইজারার মূল্য।
যদি প্রশ্নটি এককালীন মূল্যকে উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে সঠিক উত্তর হবে ঘ) সেলামী।
যদি প্রশ্নটি পর্যায়ক্রমিক মূল্যকে উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে সঠিক উত্তর হবে ক) খাজনা।
সাধারণ অর্থে, ইজারা বা লিজের ক্ষেত্রে শুরুতেই যে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়, সেটি সেলামী হিসেবেই পরিচিত।

- প্রশ্নে শুধুমাত্র "ইজারার মূল্য" (price) বলা হয়েছে। ধারা ১০৫-এ "price"-কে "premium" (সেলামী) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আর পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রদেয় অর্থকে "rent" (খাজনা) বলা হয়েছে।যেহেতু প্রশ্নে "মূল্য" (price) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এর সঠিক পরিভাষা হলো: ঘ) সেলামী।
- খাজনা হলো মূল্য নয়, বরং তা মূল্যের বিনিময়ে প্রদেয় পর্যায়ক্রমিক অর্থ।
সুতরাং, প্রশ্নের শাব্দিক প্রেক্ষিতে সেলামী-ই সঠিক উত্তর।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২, ধারা-১০৫। "ইজারা" (Lease) এর সংজ্ঞা:
স্থাবর সম্পত্তির ইজারা হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, স্পষ্টভাবে বা উহ্যভাবে, অথবা চিরস্থায়ীভাবে, কোনো সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার হস্তান্তর। এই হস্তান্তরের প্রতিদানস্বরূপ একটি মূল্য পরিশোধিত বা প্রতিজ্ঞাত হতে পারে, অথবা অর্থ, ফসলের অংশ, সেবা বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস হতে পারে, যা হস্তান্তর গ্রহীতা কর্তৃক হস্তান্তরকারীর নিকট পর্যায়ক্রমিকভাবে বা নির্দিষ্ট উপলক্ষে প্রদান করা হবে এবং হস্তান্তর গ্রহীতা সেই শর্তাবলীতে হস্তান্তরটি গ্রহণ করবেন।
"ইজারাদাতা", "ইজারাদার", "সেলামী" এবং "খাজনা" এর সংজ্ঞা:
যিনি সম্পত্তি হস্তান্তর করেন, তাকে ইজারাদাতা (lessor) বলা হয়; যিনি হস্তান্তর গ্রহণ করেন, তাকে ইজারাদার (lessee) বলা হয়; এককালীন মূল্যকে সেলামী (premium) বলা হয়; এবং যে অর্থ, ফসলের অংশ, সেবা বা অন্য কোনো জিনিস পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রদান করতে হবে, তাকে খাজনা (rent) বলা হয়।

⇒ The Transfer of Property Act, 1882, Section-105. “Lease” defined:
A lease of immoveable property is a transfer of a right to enjoy such property, made for a certain time, express or implied, or in perpetuity, in consideration of a price paid or promised, or of money, a share of crops, service or any other thing of value, to be rendered periodically or on specified occasions to the transferor by the transferee, who accepts the transfer on such terms.

"Lessor", "lessee", "premium" and "rent" defined:
The transferor is called the lessor, the transferee is called the lessee, the price is called the premium, and the money, share, service or other thing to be so rendered is called the rent.

২,৬১৬.
নিম্নের কোন ধরনের ব্যক্তি 'মাদকাসক্ত' এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানসিকভাবে নির্ভরশীল
  2. অভ্যাসবশে মাদক সেবনকারী
  3. শারীরিকভাবে মাদকের উপর নির্ভরশীল
  4. উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ২(৩১):
‘মাদকাসক্ত’ অর্থ শারীরিক অথবা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের উপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি অথবা অভ্যাসবশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী অথবা সেবনকারী কোনো ব্যক্তি।

এই সংজ্ঞাটির মাধ্যমে “মাদকাসক্ত” বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে তা পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে মূলত তিন শ্রেণির ব্যক্তিকে “মাদকাসক্ত” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:

শারীরিকভাবে নির্ভরশীল ব্যক্তি:
এমন ব্যক্তি যিনি মাদকদ্রব্য না পেলে শরীরিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করেন।

মানসিকভাবে নির্ভরশীল ব্যক্তি:
এখানে বোঝানো হয়েছে এমন ব্যক্তি, যিনি মানসিকভাবে মনে করেন মাদক না পেলে তিনি স্বাভাবিক চিন্তা বা কাজ করতে পারবেন না। এটি মানসিক অভ্যাস বা আসক্তি।

অভ্যাসবশে ব্যবহারকারী বা সেবনকারী ব্যক্তি:
এমন ব্যক্তি যিনি হয়তো শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্ভরশীল নন, কিন্তু নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করে মাদক সেবন করেন। এটি সামাজিক বা ব্যক্তিগত অভ্যাসের কারণে হতে পারে।
২,৬১৭.
জোত-জমা বিভক্তিকরণ এবং এর সমস্ত খাজনা বিভক্তিকরণের আবেদনের প্রেক্ষিতে জোত-জমা বিভক্তিকরণের নির্দেশনা কে দিতে পারেন?
  1. ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা
  2. উপজেলা নির্বাহী অফিসার
  3. রাজস্ব কর্মকর্তা
  4. সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা
জোত-জমা বিভক্তিকরণ এবং এর সমস্ত খাজনা বিভক্তিকরণের আবেদনের প্রেক্ষিতে জোত-জমা বিভক্তিকরণের নির্দেশনা রাজস্ব কর্মকর্তা দিতে পারেন।

AMALGAMATION, SUBDIVISION AND CONSOLIDATION OF HOLDINGS
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (East Bengal Act), Section 117. Subdivision of holding and restrictions thereon:
(1) Notwithstanding anything contained elsewhere in this part, the Revenue-officer may,- 
 
(a) for the purpose of amalgamation of tenancies under section 116, either on his own motion or on an application made to him by one or more co-sharer tenants, in that behalf, or 
(b) for the purpose of consolidation of holdings of a malik, under section 119, either on his own motion or on an application made to him, in that behalf, or 
(c) for the purpose of subdivision of a joint tenancy for distribution of rent thereof, on an application made to him by one or more co-sharer tenants, 
direct, by order in writing, such subdivision of a joint tenancy amongst the co-sharer tenants and distribution of rent thereof, including arrears of rent, if any, as he may consider fair and equitable: 

Provided that no such order shall be passed unless reasonable notice is given to the parties concerned to appear and be heard in the matter: 

Provided further that where an order under clause (c) is passed, and distribution of rent, by reason thereof, results in bringing the rent of a portion of the tenancy below rupee one, a fraction of rupee one shall be rounded off into rupee one. 
(2) Omitted by section 19 of the State Acquisition and Tenancy (Amendment) Ordinance, 1967 (East Pakistan Ordinance No. VIII of 1967). 
(3) When an order under sub-section (1) has been passed subdividing a joint holding, such subdivision may be demarcated on the ground and also shown on the cadastral survey map.
২,৬১৮.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর কোন ধারা অনুযায়ী বিদেশ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত সিস্টেমে অপরাধ করলে তা বাংলাদেশে সংঘটিত বলে গণ্য হবে?
  1. ধারা ৩
  2. ধারা ৪
  3. ধারা ৫
  4. ধারা ৮
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৪ এর অধীনে অধ্যাদেশের অতিরাষ্ট্রিক প্রয়োগ সম্পর্কিত বিধান বর্ণিত হয়েছে। এই ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে:
বিদেশ থেকে অপরাধ: যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো কম্পিউটার সিস্টেম বা ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন করে, তবে তা বাংলাদেশে সংঘটিত বলে গণ্য হবে।
- এই ধারার মাধ্যমে সাইবার অপরাধের আন্তর্জাতিক মাত্রা বিবেচনা করে বাংলাদেশের এখতিয়ার নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি সাইবার স্পেসে সীমান্তের সীমাবদ্ধতা দূর করে বাংলাদেশের নাগরিক বা সিস্টেমের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

- অর্থাৎ ধারা ৪-এর বিধান অনুযায়ী, বিদেশ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত সিস্টেম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটন করলে তা বাংলাদেশে সংঘটিত বলে বিবেচিত হবে। এটি সাইবার অপরাধের আন্তর্জাতিক প্রকৃতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করে।

২,৬১৯.
'Documents of which registration is optional' বিধানটি রেজিস্ট্রেশন আইনের কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ধারা ১৭
  2. ধারা ১৭ক
  3. ধারা ১৮
  4. ধারা ১৯
ব্যাখ্যা
• ধারা ১৮ যে সকল দলিলের নিবন্ধন ঐচ্ছিক (Documents of which registration is optional): ১৭ ধারার অধীনে যে সকল দলিল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয় সে সকল দলিলেরও নিবন্ধন করা যাবে।

• ধারা ১৭(২) অনুযায়ী নিম্নলিখিত দলিল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক না (optional):
১. যে কোন প্রকার সোলেনামা;
২. জয়েন্ট স্টক কোম্পানির শেয়ার সংক্রান্ত দলিল;
৩. উক্ত কোম্পানি ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার যা অধিকার সৃষ্টি করে না;
৪. রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বাটোয়ারা দলিল;
৫. নিলামে বিক্রিত কোন সম্পত্তির ক্রেতার বরাবর মঞ্জুরকৃত নিলামের বিক্রয়নামা;
৬. সরকার কর্তৃক স্থাবর সম্পত্তির কোন মঞ্জুরি;
৭. ১০০ টাকা বা তার অধিক মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির দলিল যা কোন অধিকার সৃষ্টি করে না।
২,৬২০.
একজন হানাফি মুসলিম মা, বাবা ও তিন বোনকে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মা সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ১/৩ অংশ
  2. ২/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লিখিত ক্ষেত্রে,
⇒ তিন বোন কোনো অংশ পাবে না; (বাবা জীবিত থাকায়, বোনেরা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে);
মা ১/৬ অংশ পাবে ( যেহেতু দুই বা ততোধিক বোন রয়েছে); এবং
⇒ বাবা বাকি ৫/৬ অংশ পাবে (আসাবা হিসেবে)।
২,৬২১.
হানাফি মুসলিম মোবারক মারা গেছেন। তার তিন স্ত্রী  এবং এক সন্তান জীবিত আছে। সম্পত্তি থেকে স্ত্রীরা মোট কত অংশ পাবেন?
  1. অর্ধেক
  2. এক তৃতীয়াংশ
  3. এক চতুর্থাংশ
  4. এক অষ্টমাংশ
ব্যাখ্যা

ইসলামী উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, স্ত্রীর অংশ: 
বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

অর্থাৎ: স্ত্রী সংখ্যা যাই হোক, সন্তান থাকলে স্ত্রীরা সবাই মিলে ১/৮ অংশ পাবেন।

২,৬২২.
অকৃষি প্রজা ও তার ভূ-স্বত্বাধিকারীর মধ্যে যদি কোন কাজ উন্নয়নমূলক কি না তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়, কে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন?
  1. আদালত
  2. জমির মালিক
  3. ভূমি পরিদর্শক
  4. ডেপুটি কমিশনার
ব্যাখ্যা
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ৬৬ ধারা- উন্নয়ন ইত্যাদি করার অধিকারের প্রশ্নে কালেক্টর সিদ্ধান্ত দিবেন:
১) যদি অকৃষি প্রজা ও তার ভূ-স্বত্বাধিকারীর মধ্যে এমন প্রশ্ন উঠে-
ক) উন্নয়ন কাজ করার অধিকার সম্বন্ধে; বা
খ) কোন বিশেষ একটি কাজ উন্নয়নমূলক কি না, 
তখন যে কোন পক্ষের আবেদন অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

২) ডেপুটি কমিশনারের প্রদত্ত আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল করা যাবে। এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

Section 66- Collector to decide question as to right to make improvement, etc.:
(1) If a question arises between the non-agricultural tenant and his landlord- 
(a) as to the right to make an improvement, or 
(b) as to whether a particular work is an improvement, 
the Deputy Commissioner may, on the application of either party, decide the question. 

(2) An appeal, if presented within thirty days from the date of the order appealed against, shall lie to the District Judge from every order passed by the Deputy Commissioner under sub-section (1) and the order passed by the District Judge on such appeal shall be final.
২,৬২৩.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে, তার স্বামী কত অংশ সম্পত্তি পাবে যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকে?
  1. ১/৮ অংশ
  2. ১/৬ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১/২ অংশ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ১/২ অংশ।
⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) অনুসারে, একজন বিবাহিত মহিলার মৃত্যু হলে তার স্বামীর প্রাপ্ত সম্পত্তির অংশ নির্ভর করে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) আছে কিনা তার উপর:
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান (নাতি) না থাকে, তাহলে স্বামী অর্ধেক (১/২) অংশ পাবেন।
→ যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী এক-চতুর্থাংশ (১/৪) অংশ পাবেন।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে মৃতার (মৃত ব্যক্তির) কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান নেই, তাই স্বামী ১/২ অংশ পাবেন।

উদাহরণ:
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সম্পত্তি ১,০০,০০০ টাকা হয় এবং তার কোনো সন্তান বা নাতি না থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ৫০,০০০ টাকা (অর্ধেক)।
যদি মৃতার (মৃত ব্যক্তির) সন্তান থাকে, তাহলে স্বামী পাবেন ২৫,০০০ টাকা (এক-চতুর্থাংশ)।
২,৬২৪.
কোন নবজাতক শিশুকে পিতা-মাতার হেফাজত হতে অপহরণ করার অপরাধের জন্য মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এ প্রদত্ত সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাবাস
  3. ১২ বৎসর কারাবাস
  4. ৭ বৎসর কারাবাস
ব্যাখ্যা
ধারা ১০: মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, চুরি এবং আটক করার দণ্ড: 

১. কোন ব্যক্তি মানব পাচারের অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়ে বা যৌন শোষণ বা নিপীড়নসহ এই আইনের ধারা ২(১৫) এ বর্ণিত অন্য কোন শোষণের উদ্দেশ্যে অন্য কোন ব্যক্তিকে অপহরণ, গোপন অথবা আটক করে রাখলে তিনি অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ১০ বৎসর এবং অন্যূন ৫ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২. মানব পাচারের অপরাধ সংঘটনের অভিপ্রায়ে কোন ব্যক্তি কোন নবজাত শিশুকে কোন হাসপাতাল, সেবা- সদন, মাতৃ-সদন, শিশু-সদন, বা উক্ত নবজাত শিশুর পিতা-মাতার হেফাজত হতে চুরি করলে বা অপহরণ করলে তিনি অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে এবং উত্তরুপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,৬২৫.
চুক্তি আইনের ২৩ ধারার বিধান অনুযায়ী, যে সকল চুক্তির উদ্দেশ্য বা প্রতিদান বেআইনি সেগুলো __________।
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. বাতিলঅযোগ্য
ব্যাখ্যা
• চুক্তি আইনের ২৩ ধারা: কোন কোন প্রতিদানসমূহ এবং উদ্দেশ্যাবলি আইনানুগ এবং কোন কোনটি আইনানুগ নয়:
কোন সম্মতির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য আইনানুগ হয় যদি না তা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা না হয়; বা তা কোন আইনের বিধানাবলি ব্যর্থ করে; বা তা প্রতারণাপূর্ণ হয়; বা তা অন্য ব্যক্তির বা অন্যের সম্পত্তির জন্য ক্ষতিকর পরিগণিত হয়; বা তা আদালত অযৌক্তিক বা জননীতির পরিপন্থি মনে করেন।
এরূপ প্রতিটি ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্যকে বেআইনি বলা হয়। যে সকল চুক্তির উদ্দেশ্য বা প্রতিদান বেআইনি সেগুলো বাতিল।

Section 23- What considerations and objects are lawful and what not:
The consideration or object of an agreement is lawful, unless- it is forbidden by law; or is of such a nature that, if permitted, it would defeat the provisions of any law; or is fraudulent; or involves or implies injury to the person or property of another; or the Court regards it as immoral, or opposed to public policy.
In each of these cases, the consideration or object of an agreement is said to be unlawful. Every agreement of which the object or consideration is unlawful is void.
২,৬২৬.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৪৫(১) অনুযায়ী সাইবার সুরক্ষা ট্রাইব্যুনালকে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে কত কার্যদিবসের মধ্যে?
  1. ৯০ কার্যদিবস
  2. ১২০ কার্যদিবস
  3. ১৮০ কার্যদিবস
  4. ৩৬৫ কার্যদিবস
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৪৫(১) অনুসারে: ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করিবেন।
সুতরাং, সাইবার সুরক্ষা ট্রাইব্যুনালকে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ৪৫: মামলা নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা:
(১) ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই অধ্যাদেশের অধীন কোনো মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ হইতে ১৮০ (একশত আশি) কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করিবেন।
(২) ট্রাইব্যুনালের বিচারক উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া উক্ত সময়সীমা সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) কার্যদিবস পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কোনো মামলা নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উহার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্ট বিভাগকে অবহিত করিয়া মামলার কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখিতে পারিবেন।

২,৬২৭.
________ সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে না।
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. সংসদের
  3. প্রধানমন্ত্রীর
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৬৩: যুদ্ধ

(১) সংসদের সম্মতি ব্যতীত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাইবে না কিংবা প্রজাতন্ত্র কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করিবেন না।

Article 63: War
(1) War shall not be declared and the Republic shall not participate in any war except with the assent of Parliament.
২,৬২৮.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ১১(গ) এর অপরাধ কোন ধরণের হবে?
  1. আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য
  2. আমলঅযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য
  3. আমলযোগ্য ও আপসঅযোগ্য
  4. আপসযোগ্য ও জামিনঅযোগ্য
ব্যাখ্যা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৩৫: ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ সম্পর্কে বিশেষ বিধান:
(১) এই আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বলবৎ হওয়ার তারিখ হইতে ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচারার্থ গ্রহণীয় ও বিচারযোগ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বলবৎ হওয়ার পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধারা ১১ এর দফা (গ) এর অধীন দায়েরকৃত অনিষ্পন্ন মামলাসমূহ এখতিয়ারসম্পন্ন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বদলি হইবে না এবং উক্ত অধ্যাদেশ বলবৎ হইবার পূর্বে এই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন মামলাসমূহ তদন্তকারী কর্মকর্তা, এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং আপীল-সংশ্লিষ্ট আদালতে এমনভাবে পরিচালিত ও নিষ্পত্তি হইবে যেন উক্ত অধ্যাদেশ বলবৎ হয় নাই।

(২) ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), আপসযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার, আপিল ও নিষ্পত্তিসহ পদ্ধতিগত সকল ক্ষেত্রে এই আইনের অন্যান্য ধারার বিশেষ বিধানাবলির পরিবর্তে ফৌজদারী কার্যবিধি ও Evidence Act, 1872 (Act I of 1872)-এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(৩) যদি ট্রাইব্যুনালে বিচার্য কোন অপরাধের সহিত ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ এমনভাবে জড়িত থাকে যে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে উভয় অপরাধের বিচার একই সংগে বা একই মামলায় করা প্রয়োজন, তাহা হইলে উক্ত ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধটির বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার্য অপরাধের সহিত এই আইনের বিধান অনুসরণে একই সংগে বা একই ট্রাইব্যুনালে করা যাইবে।]

২,৬২৯.
সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব ৩ লক্ষ টাকা হলে, স্থাবর সম্পত্তির বণ্টননামা দলিলের নিবন্ধন ফিস কত হবে?
  1. ৩০০ টাকা
  2. ৫০০ টাকা
  3. ৭০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮খ- বণ্টননামা দলিলের জন্য নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন; স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক বণ্টননামা দলিলের নিবন্ধন ফিস হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(১) সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব তিন লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(২) সম্পত্তির মূল্য তিন লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব দশ লক্ষ টাকা হইলে, সাতশত টাকা:
(৩) সম্পত্তির মূল্য দশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব ত্রিশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার দুইশত টাকা:
(৪) সম্পত্তির মূল্য ত্রিশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে এবং অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার আটশত টাকা:
(৫) সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা।
২,৬৩০.
“অকৃষি জমি” বলতে কোন ধরনের জমিকে বোঝানো হয়?
  1. শুধুমাত্র শহরের জমি
  2. সরকারি খাস জমি
  3. যা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয়
  4. যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ধারা ২(৪):
“অকৃষি জমি” বলতে এমন জমিকে বোঝায় যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার (horticulture) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং এর মধ্যে এমন জমিও অন্তর্ভুক্ত যা কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন উদ্দেশ্যে লিজে ধরা হয়েছে - এমনকি বাস্তবে কৃষি বা উদ্যানবিদ্যা কাজে ব্যবহার না হলেও।

তবে এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়:
(খ) যে জমি মূলত কৃষি বা উদ্যানবিদ্যার উদ্দেশ্যে লিজে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এখন তা মালিকের সরাসরি বা পরোক্ষ সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এভাবে ব্যবহার করার সময়কাল ১২ বছরের কম।

(গ) যে জমি চা চাষ বা চা প্রস্তুতকারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যে ধরে রাখা হয়েছে।
শর্ত থাকে যে, যদি ধারা ৭২-এর অধীনে কোনো জমিকে (যা অকৃষি জমি নয়) এমন ভাড়াটিয়া ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করা হয় যাতে এই আইনের বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে সেই জমিকে অকৃষি জমি হিসেবে গণ্য করা হবে।
২,৬৩১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তারের কারণ জানানো এবং আইনজীবীর সাথে পরামর্শের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩১
  2. অনুচ্ছেদ ৩৩
  3. অনুচ্ছেদ ৩৪
  4. অনুচ্ছেদ ৩৫
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩ (১) এ বলা হয়েছে,
"গ্রেপ্তারকৃত কোন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব শীঘ্র গ্রেপ্তারের কারণ জ্ঞাপন না করিয়া প্রহরায় আটক রাখা যাইবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তাঁহার মনোনীত আইনজীবীর সহিত পরামর্শের ও তাঁহার দ্বারা আত্মপক্ষ-সমর্থনের অধিকার হইতে বঞ্চিত করা যাইবে না।"
- এটি একটি মৌলিক অধিকার যা একজন নাগরিককে পুলিশ বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা অন্যায়ভাবে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করে।

অর্থাৎ গ্রেপ্তারের কারণ জানানো, আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করার অধিকার,  এই দুইটি সুরক্ষা অনুচ্ছেদ ৩৩-এর অধীনেই নিশ্চিত করা হয়েছে।

২,৬৩২.
আইনগত সহায়তা প্রদান নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বার্ষিক গড় আয় সর্বোচ্চ কত টাকা?
  1. ১,০০,০০০
  2. ১,৫০,০০০
  3. ২,০০,০০০
  4. ৩,০০,০০০
ব্যাখ্যা
⇒ আইনগত সহায়তা নীতিমালা ২০১৪ এর বিধি ২ এর বিধান:
 আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির যোগ্যতা:
(১) এই নীতিমালার অধীন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ আইনগত সহায়তা পাইবার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:-
(ক) অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি যাহার বার্ষিক গড় আয় সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ১,৫০,০০০/- টাকা এবং অন্যান্য আদালতের ক্ষেত্রে ১,০০,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বে নয়;
(খ) কর্মে অক্ষম, আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন কোন ব্যক্তি;
(গ) বাৎসরিক ১,৫০,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বে আয় করিতে অক্ষম কোন মুক্তিযোদ্ধা; এবং
(ঘ) কোন শ্রমিক যাহার বার্ষিক গড় আয় ১,০০,০০০/- টাকার ঊর্ধ্বে নয়।
(২) উপ-অনুচ্ছেদ (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই নীতিমালার অধীন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণও আইনগত সহায়তা পাইবার যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন, যথা:-
(ক) কোন শিশু;
(খ) মানব পাচারের শিকার কোন ব্যক্তি;
(গ) শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু;
(ঘ) নিরাশ্রয় ব্যক্তি বা ভবঘুরে;
(ঙ) ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা নৃ-গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি;
(চ) পারিবারিক সহিংসতার শিকার বা সহিংসতার ঝুঁকিতে রহিয়াছেন এইরূপ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি;
(ছ) বয়স্ক ভাতা পাইতেছেন এইরূপ কোন ব্যক্তি; 
(জ) ভি জি ডি কার্ডধারী কোন দুস্থ মাতা;
(ঝ) দুর্বৃত্ত কর্তৃক এসিড দগ্ধ নারী বা শিশু;
(ঞ) আদর্শ গ্রামে গৃহ বা ভূমি বরাদ্দপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি;
(ট) অসচ্ছল বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং দুস্থ মহিলা;
(ঠ) প্রতিবন্ধী ব্যক্তি;
(ড) আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আদালতে অধিকার প্রতিষ্ঠা বা আত্মপক্ষ সমর্থন করিতে অসমর্থ ব্যক্তি;
(ঢ) বিনা বিচারে আটক এমন কোন ব্যক্তি যিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আর্থিকভাবে অসচ্ছল;
(ণ) আদালত কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলিয়া বিবেচিত ব্যক্তি;
(ত) জেল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আর্থিকভাবে অসহায় বা অসচ্ছল বলিয়া সুপারিশকৃত বা বিবেচিত কোন ব্যক্তি; এবং
(খ) আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সংস্থা কর্তৃক সময় সময় চিহ্নিত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন, নানাবিধ আর্থ-সামাজিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তি যিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্বীয় অধিকার প্রতিষ্ঠা বা মামলা পরিচালনায় অসমর্থ।
২,৬৩৩.
A, B-কে ৫,০০০ টাকা দেয় এই শর্তে যে B, C, D এবং E-এর সম্মতিতে বিয়ে করবে, কিন্তু E মারা যায়, তবে C ও D ও C-এর সম্মতিতে বিয়ে করলে-
  1. শর্ত পূর্ণ হবে না
  2. শর্ত অকার্যকর হবে
  3. শর্ত পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য হবে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

The Transfer of Property Act, 1882 (ধারা ২৬):
যদি সম্পত্তি হস্তান্তরের শর্ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি শর্ত পূরণ করার পরই সম্পত্তির মালিকানা লাভ করতে পারেন, তবে শর্তটি যদি মোটামুটি বা মূলত পূরণ করা হয়, তবে তা পূর্ণাঙ্গভাবে পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ:
(ক) A, B-কে ৫,০০০ টাকা হস্তান্তর করেন এই শর্তে যে B, C, D এবং E-এর সম্মতিতে বিয়ে করবে। পরে E মারা যায়। B, C এবং D-এর সম্মতিতে বিয়ে করে। এ ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে যে B শর্তটি পূরণ করেছে।

২,৬৩৪.
প্রধান বিচারপতি ব্যতীত সুপ্রীমকোর্টের অন্যান্য বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক?
  1. কারো পরামর্শ ব্যতীত রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করবেন
  2. প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করবেন
  3. প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করবেন
  4. রাষ্ট্রপতির সাথে পরামর্শ করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের বিধান: বিচারক-নিয়োগ: 

(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে ; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
 
(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।

Article 95: Appointment of Judges

(1) The Chief Justice shall be appointed by the President, and the other Judges shall be appointed by the President after consultation with the Chief Justice.
(2) A person shall not be qualified for appointment as a Judge unless he is a citizen of Bangladesh and –
(a) has, for not less than ten years, been an advocate of the Supreme Court ; or
(b) has, for not less than ten years, held judicial office in the territory of Bangladesh ; or
(c) has such qualifications as may be prescribed by law for appointment as a Judge of the Supreme Court.
 
(3) In this article, “Supreme Court” includes a court which at any time before the commencement of this Constitution exercised jurisdiction as a High Court in the territory of Bangladesh.
২,৬৩৫.
চুক্তি আইনের কোন ধারায় চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১০ ধারা
  2. ১১ ধারা
  3. ১২ ধারা
  4. ১৫ ধারা
ব্যাখ্যা
চুক্তি আইনের ১১ ধারায় চুক্তি সম্পাদনে যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই চুক্তি করার যোগ্য যদি-
⇒ সে নিজ আইনে সাবালক,
⇒ সুস্থ মনের অধিকারী, এবং
⇒ নিজ আইনে চুক্তি করার জন্য অযোগ্য না হন।

[Every person is competent to contract who is age of majority according to the law to which he is subject, and sound mind and is not disqualified from contracting by any law to which he is subject.]

অতএব বলা যায়,
চুক্তি সম্পাদনে সে ব্যক্তি যোগ্য, যিনি সাবালক ও সুস্থ মনের অধিকারী এবং যাকে কোনো আইনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।
২,৬৩৬.
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন না করার জন্য আইন অনুযায়ী কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হতে পারে?
  1. শুধুমাত্র কারাদণ্ড
  2. শুধুমাত্র অর্থদণ্ড
  3. সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
  4. বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)

Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:

(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years orwith fine which may extend to three thousand taka,or with both.
২,৬৩৭.
মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী-
  1. কোন দেনমোহর পাবে না
  2. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে
  3. স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারবে না
  4. নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা
- দেনমোহর হলো স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর নিকট অনিরাপদ ঋণ [Unsecured debt]।
- তালাকের পরবর্তী সময়ে যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তবে স্বামীর রেখে যাও প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই।
- স্ত্রী বেঁচে থাকা অবস্থায়, তার মৃত স্বামীর সম্পত্তি হতে নিজে ঋণ পুনরুদ্ধার করতে পারে।
- স্ত্রী তার স্বামীর সম্পত্তিতে দখল বহাল রাখতে পারে যতক্ষণ পর্যন্ত না তার দেনমোহর পরিশোধ হয়। এটাকে স্ত্রীর The Widow's Right to Retention বলে।
- যদি স্বামীর পূর্বে স্ত্রী মারা যায়, তাহলে তার উত্তরাধিকারীরা এমনকি স্বামী উক্ত দেনমোহরে অধিকারী হয়ে যায়।
- অর্থাৎ মুসলিম আইনে যদি স্বামী স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে মারা যায়, সেই ক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তি দখলে রাখতে পারে।
২,৬৩৮.
জরুরি অবস্থা ঘোষণার পূর্বে রাষ্ট্রপতির ঘোষণার বৈধতার জন্য কার অনুমতি প্রয়োজন?
  1. প্রধান বিচারপতির
  2. সংসদের অনুমোদন
  3. প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর
  4. সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪১ক: জরুরী-অবস্থা ঘোষণা:
(১) রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরী-অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবে: তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি-স্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।

(২) জরুরী-অবস্থার ঘোষণা-
(ক) পরবর্তী কোন ঘোষণার দ্বারা প্রত্যাহার করা যাইবে;
(খ) সংসদে উপস্থাপিত হইবে;
(গ) একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে কার্যকর থাকিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অনুরূপ কোন ঘোষণা জারী করা হয় কিংবা এই দফার (গ) উপ-দফায় বর্ণিত এক শত কুড়ি দিনের মধ্যে সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়, তাহা হইলে তাহা পুনর্গঠিত হইবার পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে ঘোষণাটি অনুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত ত্রিশ দিনের অবসানে অথবা একশত কুড়ি দিন সময়ের অবসানে, যাহা আগে ঘটে, অনুরূপ ঘোষণা কার্যকর থাকিবে না।

(৩) যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের বিপদ আসন্ন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, প্রকৃত যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগ সংঘটিত হইবার পূর্বে তিনি অনুরূপ যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বিপন্ন বলিয়া জরুরী-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন।
২,৬৩৯.
ধারা ৬০খ অনুযায়ী, দলিল পরিদর্শনের খরচ বহন করতে হবে-
  1. আদালতকে
  2. বন্ধকদাতাকে
  3. বন্ধকগ্রহীতাকে
  4. উভয়পক্ষ সমানভাবে
ব্যাখ্যা
ধারা ৬০খ- দলিল পরিদর্শন ও উপস্থাপনের অধিকার:
যতক্ষণ পর্যন্ত বন্ধকদাতার মুক্তিদানের অধিকার (right of redemption) বহাল থাকে, ততক্ষণ তিনি নির্ধারিত শর্তে বন্ধকসম্পত্তির দলিলসমূহ পরিদর্শনের অধিকার রাখেন। বন্ধকদাতা যুক্তিসঙ্গত সময়ে, নিজের অনুরোধে এবং নিজ খরচে, সেইসঙ্গে বন্ধকগ্রহীতার খরচ ও ব্যয় পরিশোধ করে- বন্ধকসম্পত্তির শিরোনাম-সংক্রান্ত যে দলিলসমূহ বন্ধকগ্রহীতার হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে আছে, সেগুলোর পরিদর্শন করতে, অনুলিপি (copy), সারসংক্ষেপ (abstract) তৈরি করতে পারেন।

Section 60B. Right to inspection and production of documents:
A mortgagor, as long as his right of redemption subsists, shall be entitled at all reasonable times, at his request and at his own cost, and on payment of the mortgagee's costs and expenses in this behalf, to inspect and make copies or abstracts or, extracts from, documents of title relating to the mortgaged property which are in the custody or power of the mortgagee.]
২,৬৪০.
Writ of Quo warranto এর উল্লেখ রয়েছে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
  1. ১০২(খ) (আ)
  2. ১০২(খ) (অ)
  3. ১০২(ক) (আ)
  4. ১০২(ক) (অ)
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১০২(২)(খ)(আ) অনুচ্ছেদে  Writ of Quo warranto এর বিধান রয়েছে।

• রীট হলো এক ধরনের আইনি অধিকার যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার লঙ্ঘিত হলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার লঙ্ঘিত অধিকার  বাস্তবায়নের জন্য আদালতের নিকট প্রতিকার  চাইতে পারে। যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রতিকার চাওয়া হয় তাকেই বলা হয় Writ (রীট)। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ নাম্বার আর্টিকেল অনুযায়ী মোট পাঁচ ধরনের  Writ (রীট) সম্পর্কে  জানা যায়। সেগুলো হল-

ক. নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of prohibition),
খ. হুকুমজারি রীট (Writ of Mandamus),
গ. উৎপ্রেষণমূলক রীট (Writ of Certiorari),
ঘ. বন্দী প্রদর্শন রীট (Writ of Habeas Corpus),
ঙ. কারণ দর্শাও রীট ( Writ of Quo warranto)।

দুই ধরনের  ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মূলত Writ (রীট) করতে পারে।

প্রথমত, কোন  সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যার অধিকার  ভঙ্গ হয়েছে। তিন ধরনের  Writ (রীট) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি করতে পারে সেগুলো হল-
ক. নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of prohibition),
খ. হুকুমজারি রীট (Writ of Mandamus),
গ. উৎপ্রেষণমূলক রীট (Writ of Certiorari)।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক। দুই ধরনের Writ (রীট) রাষ্ট্রের যেকোনো নাগরিক করতে পারে। সেগুলো হল-
ক. বন্দী প্রদর্শন রীট (Writ of Habeas Corpus),
খ. কারণ দর্শাও রীট (Writ of Quo warranto)।

নিষেধাজ্ঞামূলক রীট-
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২(২)(ক)(অ) অনুচ্ছেদের প্রথমাংশে Writ of prohibition এর কথা উল্লেখ আছে।  বলা হয়েছে ‘ যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন ক্রমে প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়ায়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত  নয়,  এমন কোন কার্য করা হতে বিরত রাখার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
অর্থাৎ, অধঃস্তন আদালত,  প্রতিষ্ঠান, কোন কর্তৃপক্ষ,  ব্যক্তি যদি তার উপর অর্পিত  দায়িত্বের বাহিরে কোন কাজ করতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যে রীট করা যাবে সেটাই হলো নিষেধাজ্ঞামূলক রীট (Writ of prohibition)।

হুকুমজারী রীট-
হুকুমজারি রীট সম্পর্কে  বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২(২)(ক)(অ) অনুচ্ছেদের শেষাংশে বলা হয়েছে। উক্ত অনুচ্ছেদে  বলা হয়েছে যে- কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদন ক্রমে প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়ায়াবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা তাঁর করণীয় কার্য করিতে নির্দেশ প্রদান করিবেন। অর্থাৎ অধঃস্তন আদালত, প্রতিষ্ঠান, কোন কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি যদি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানায় বা করতে না চায় অথবা করতে কালক্ষেপণ করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে রীট করা যাবে তাই হলো হুকুমজারি রীট (Writ of Mandamus)।

উৎপ্রেষণ রীট-
কোন অধঃস্তন আদালত, কোন কর্তৃপক্ষ, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান  যদি এমন কোন কাজ করে যা তার উপর অর্পিত নয় অর্থাৎ আইনগত ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করে কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে যে রীট করা যায়, তাই হল উৎপ্রেষণমূলক রীট( Writ of Certiorari)। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২(২)(ক)(আ) অনুচ্ছেদে এই রীটের বিধান রয়েছে। 

বন্দী প্রদর্শন রীট-
বন্দী প্রদর্শন কথাটির অর্থ হল কোন ব্যক্তিকে স্বশরীরে আদালতে  হাজির করা। বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২(২)(খ)(অ) অনুচ্ছেদে এই রীটের বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তিকে সরকার বা অন্য কোন ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠান আটক করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে যে কেউ এই রীট করতে পারেন। এই রীটের মাধ্যমে আদালত আটককারীকে আটককৃত ব্যক্তিকে আদলতে প্রদর্শনের নির্দেশ  দেয়।

কারণ দর্শাও রীট-
কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন সরকারি পদ দাবী করেন অথবা অবৈধ ভাবে এমন কোন পদ দখল করে থাকেন, যেখানে থাকার তাঁর কোন যোগ্যতা নেই তখন যেই রীট করা যায় তাকে বলা হয় কারণ দর্শাও রীট (Writ of Quo warranto)। সংবিধানের ১০২(২)(খ)(আ) অনুচ্ছেদে  এই রীটের  বিধান রয়েছে।
২,৬৪১.
'ক' মৃত্যু শয্যায় তার সম্পত্তির ১/৩ অংশ 'খ' বরাবর হেবা করে এবং দখল অর্পণের পূর্বেই মারা যায়। এমতাবস্থায় এই হেবার আইনগত ফলাফল কী?
  1. হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে
  2. হেবা কার্যকর হবে যদি ওয়ারিশগণ আপত্তি না করে
  3. যেহেতু ১/৩ অংশ দান করেছে মৃত্যুশয্যায়, সেহেতু এটি উইলের ন্যায় কার্যকর হবে
  4. কোনটি সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
হেবা (Hiba) মুসলিম আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া যা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়। যদি সম্পত্তি হেবা (দানে) করা হয় কিন্তু দখল অর্পণের পূর্বেই হেবাকার (দানকারী) মারা যায়, তাহলে:
ক) হেবা কার্যকর হবে না এবং সমগ্র সম্পত্তি 'ক' এর ওয়ারিশগণ পাবে।

হেবা এবং দখল:
মুসলিম আইনে, হেবা (সম্পত্তির দান) কার্যকর হতে হলে দুইটি শর্ত পূরণ করতে হয়: (১) হেবার (দানকারী) জীবিত থাকতে হবে এবং (২) হেবা সম্পন্ন হওয়ার জন্য দখল অর্পণ করা প্রয়োজন। যদি দখল অর্পণ না হয় এবং হেবাকার মারা যান, তাহলে হেবা সম্পন্ন হয় না।

উইল:
উইল এবং হেবা দুটি ভিন্ন বিষয়। উইল মৃত্যুর পর কার্যকর হয়, তবে হেবা জীবিত অবস্থায় সম্পন্ন হতে হয়।

ওয়ারিশগণ:
হেবা কার্যকর না হলে সম্পত্তি হেবাকারের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টিত হয়।
২,৬৪২.
Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর অধীনে নোটিশ জারি না হলে হস্তান্তর সম্পর্কে অবগত হওয়ার কত দিনের মধ্যে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের আবেদন দায়ের করতে পারে?
  1. ৩ মাস
  2. ৪ মাস
  3. ৬ মাস
  4. ২ মাস
ব্যাখ্যা
Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ২৪ ধারার বিধান সহ-শরীকের ক্রয় করার ক্ষমতা:
(১) আদালতে আবেদন দাখিল:  অকৃষি প্রজার দখলে থাকা অকৃষি জমির কোন অংশ বা শেয়ার যদি হস্তান্তর করা হয় সেক্ষেত্রে ঐ জমির এক বা একাধিক সহ-অংশীদার ঐ জমির অংশ বা শেয়ার তাদের নিকট হস্তান্তর করার জন্য আদালতে আবেদন দায়ের করতে পারে- ২৩ ধারার অধীনে নোটিশ জারি করার ৪ মাসের মধ্যে বা নোটিশ জারি না হলে হস্তান্তর সম্পর্কে অবগত হওয়ার তারিখ থেকে ৪ মাসের মধ্যে।
----------
Section 24. Power of the co-sharer or the immediate landlord of transferor to purchase:
(1) If a portion or share of the non-agricultural land held by a non-agricultural tenant is transferred, one or more co-sharer tenants of such land may, within four months of the service of notice issued under section 23 and, in case no notice had been issued or served, then within four months from the date of knowledge of such transfer, apply to the court for such portion or share to be transferred to himself or to themselves, as the case may be. 
 
(2) The application under sub-section (1) shall be dismissed unless the applicant at the time of making it deposits in Court the amount of the consideration money or the value of the portion or share of the property transferred as stated in the notice served on the applicant under section 23 together with compensation at the rate of five per centum of such amount.
২,৬৪৩.
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর অধীন একজন হ্যাকার সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন?
  1. ৩ কোটি
  2. ১ কোটি
  3. ৫ কোটি
  4. ৫০ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩২- হ্যাকিং সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড:
 
যদি কোনো ব্যক্তি হ্যাকিং করেন, তাহা হইলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
 
ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “হ্যাকিং” অর্থ-

(ক) কম্পিউটার তথ্য ভাণ্ডারের কোনো তথ্য চুরি, বিনাশ, বাতিল, পরিবর্তন বা উহার মূল্য বা উপযোগিতা হ্রাসকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিসাধন; বা

(খ) নিজ মালিকানা বা দখলবিহীন কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশের মাধ্যমে উহার ক্ষতিসাধন।
২,৬৪৪.
According to Article 116A, judicial officers must act:
  1. Based on public opinion
  2. Independently, subject to the Constitution
  3. Under the supervision of the executive
  4. In accordance with political directives
ব্যাখ্যা
Article 116A: Judicial officers to be independent in the exercise of their functions
Subject to provisions of the Constitution, all persons employed in the judicial service and all magistrates shall be independent in the exercise of their judicial functions.

অনুচ্ছেদ ১১৬ক: বিচারবিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন:
এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে বিচার-কর্মবিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিগণ এবং ম্যাজিস্ট্রেটগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।
২,৬৪৫.
স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক ও চার্জ সম্পর্কিত অধ্যায়ের বিধানসমূহ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে বিধি প্রণয়ন করতে পারে-
  1. সরকার
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. আইন মন্ত্রণালয়
  4. দেওয়ানি বিচারাধীন আদালত
ব্যাখ্যা
বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা (ধারা ১০৪):
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) প্রয়োজন অনুসারে সময় সময় এই অধ্যায়ে (৪র্থ অধ্যায়) অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে- নিজে এবং তার তত্ত্বাবধানে থাকা দেওয়ানি বিচারাধীন আদালতসমূহে- এই আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
২,৬৪৬.
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়?
  1. শূদ্র
  2. বৈশ্য
  3. ব্রাহ্মণ
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়।
- শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্রকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বাভাবিক পুত্রের সমান অধিকার দেয়া হয়।
- অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, ও ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র সাধারণত সম্পত্তির এক ভাগ পায়, যা স্বাভাবিক পুত্রের অংশের তুলনায় কম।

এই বিধান মূলত হিন্দু আইন এবং ঐতিহাসিক সমাজ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে শূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য এই নিয়মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যেন তারা তাদের পুত্রকে সমান অধিকার প্রদান করতে পারে।
২,৬৪৭.
বিশেষ ক্ষমতা আইনের কত ধারায় 'Temporary release' এর বিধান রয়েছে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১৪ ধারায়
  3. ১৩ ধারায়
  4. ১১ ধারায়
ব্যাখ্যা
• Section 14: Temporary release of persons detained-

(1) The Government may, at any time, direct that any person detained in pursuance of a detention order may be released for any specified period either without conditions or upon such conditions specified in the direction as that person accepts, and may, at any time, cancel his release. 

(2) In directing the release of any person under sub-section (1), the Government may require him to enter into a bond, with or without sureties, for the due observance of the conditions specified in the direction. 

(3) Any person released under sub-section (1) shall surrender himself at the time and place, and to the authority, specified in the order directing his release or cancelling his release, as the case may be. 

(4) If any person fails without sufficient cause to surrender himself in the manner specified in sub-section (3), he shall be punishable with imprisonment for a term which may extend to two years, or with fine, or with both. 

(5) If any person released under sub-section (1) fails to fulfil any of the conditions imposed upon him under the said sub-section or in the bond entered into by him, the bond shall be declared to be forfeited and any person bound thereby shall be liable to pay the penalty thereof.

• ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৪ ধারা সরকার আটককৃত ব্যক্তিকে অস্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে পারে। এমন অস্থায়ীভাবে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারিত স্থান এবং সময়ে আত্মসমর্পণ করবে। যদি সে নিজেকে আত্মসমর্পণ করতে ব্যর্থ হয় সে যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে যার মেয়াদ ২ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে বা জরিমানাসহ বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
২,৬৪৮.
A transfer of property in completion of an exchange can be made only in manner provided of the transfer of such property by _______.
  1. Gift
  2. Sale
  3. Lease
  4. Mortgage
ব্যাখ্যা
Section 118. “Exchange” defined":
When two persons mutually transfer the ownership of one thing for the ownership of another, neither thing or both things being money only, the transaction is called an “exchange”. 
A transfer of property in completion of an exchange can be made only in manner provided of the transfer of such property by sale.

ধারা ১১৮ – বিনিময় (Exchange) এর সংজ্ঞা:
যখন দুইজন ব্যক্তি একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে মালিকানা পরিবর্তন করেন- অর্থাৎ একজনের কোনো একটি সম্পত্তির মালিকানা অপরজনকে এবং অপরজনের অন্য কোনো সম্পত্তির মালিকানা প্রথমজনকে দেন- তখন এই লেনদেনকে "বিনিময় (Exchange)" বলা হয়।
- উভয় বস্তু অর্থ (money) হলেও, অথবা একটিও অর্থ না হলে, তাও "বিনিময়" হিসেবে গণ্য হবে।
- বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সেই সম্পত্তি বিক্রয়ের যেভাবে হস্তান্তর করা হয়, ঠিক একই নিয়ম অনুসরণ করে হস্তান্তর সম্পন্ন করতে হবে
২,৬৪৯.
'কোনো রায়তের তাহার জোতের অন্তর্ভুক্ত ভূমি তাহার ইচ্ছামাফিক ভোগ-দখল করার অধিকার থাকিবে।'- SAT Act, 1950 এর কত ধারায় বলা আছে?
  1. ৮০ ধারায়
  2. ৮৩ ধারায়
  3. ৮৬ ধারায়
  4. ৮৭ ধারায়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইনের ৮৩ ধারার বিধান- রায়তের ভূমি ব্যবহার সম্পর্কিত অধিকার:
কোনো রায়তের তাহার জোতের অন্তর্ভুক্ত ভূমি তাহার ইচ্ছামাফিক ভোগ-দখল করার অধিকার থাকিবে।

⇒ Section 83- Rights of raiyat in respect of use of land:
A raiyat shall have the right to occupy and use the land comprised in his holding in any manner he likes.
২,৬৫০.
ধারা ১৭ক কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পাদিত রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিক্রয় চুক্তি কতদিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা নিতে হবে?
  1. ১ মাস
  2. ২ মাস
  3. ৩ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭খ: ধারা ১৭ক কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পাদিত কিন্তু রেজিস্ট্রেশনবিহীন বিক্রয় চুক্তির প্রভাব-
(১) যদি কোন স্থাবর সম্পত্তি (immovable property) বিক্রয়ের চুক্তি ধারা ১৭ক কার্যকর হওয়ার পূর্বে সম্পাদিত হয় কিন্তু রেজিস্টার না করা হয়, সেক্ষেত্রে:
(ক) সেই চুক্তির পক্ষগণকে, ধারা ১৭ক কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে নিম্নের যেকোনো একটি করতে হবে-
(i) উক্ত চুক্তির ভিত্তিতে সম্পাদিত বিক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে; অথবা
(ii) বিক্রয়ের চুক্তিপত্রটিই রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে; অথবা

(খ) যদি উপরোক্ত (ক) ধারার কোন শর্ত পালন না করা হয় এবং কোন পক্ষ এতে অসন্তুষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তারা, প্রযোজ্য সীমাবদ্ধতার আইন সত্ত্বেও, উল্লেখিত ৬ মাস মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে আদালতে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের মামলা (suit for specific performance) বা চুক্তি বাতিলের মামলা (recession) করতে পারবেন।
 এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে, উক্ত চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (void) বলে গণ্য হবে।

(২) উপ-ধারা (১)-এর বিধান প্রযোজ্য হবে না যদি: ধারা ১৭এ কার্যকর হওয়ার পূর্বেই উক্ত বিক্রয় চুক্তির ভিত্তিতে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়ে থাকে।
২,৬৫১.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ৪১ কোন ধরনের সম্পত্তির হস্তান্তরের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থাবর সম্পত্তি
  2. স্থাবর সম্পত্তি
  3. বুদ্ধিগত সম্পত্তি
  4. ভবিষ্যৎ সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ৪১ শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তি (Immovable Property) এর হস্তান্তরের সাথে সম্পর্কিত। অস্থাবর সম্পত্তি, বুদ্ধিগত সম্পত্তি বা ভবিষ্যৎ সম্পত্তির জন্য এই ধারা প্রযোজ্য নয়।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর: যখন কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে, ঐ সম্পত্তির প্রতীয়মান মালিক বলে পরিগণিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সে তা হস্তান্তর করে, তখন তার হস্তান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গৃহীত যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা গ্রহণ করে থাকলে এবং সরল বিশ্বাসে কার্য করে থাকলে, দাতার হস্তান্তরের ক্ষমতা ছিল না, এই যুক্তিতে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে না।
----------------
⇒ The Transfer of Property Act, 1882 Section 41. Transfer by ostensible owner:
- Where, with consent, express or implied, of the persons interested in immoveable property, a person is the ostensible owner of such property and transfers the same for consideration, the transfer shall not be voidable on the ground that the transferor was not authorised to make it: provided that the transferee, after taking reasonable care to ascertain that the transferor had power to make the transfer, has acted in good faith.

২,৬৫২.
The Civil Courts Act, 1887 এর ২২ ধারার অধীনে জেলা জজ কোন কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল স্থানান্তর করতে পারেন?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ 
  2. শুধু যুগ্ম জেলা জজ
  3. শুধু অতিরিক্ত জেলা জজ
  4. যুগ্ম ও অতিরিক্ত জেলা জজ উভয়ের নিকট
ব্যাখ্যা

The Civil Courts Act, 1887 এর ধারা ২২: জেলা জজের আপিল স্থানান্তরের ক্ষমতা:
(১) জেলা জজ, তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন যে কোনো যুগ্ম জেলা জজের নিকট, তার নিকটে মুলতুবি থাকা এবং সিনিয়র সহকারী জজ বা সহকারী জজ কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রি বা আদেশ থেকে উদ্ভূত যে কোনো আপিল স্থানান্তর করতে পারবেন।

(২) জেলা জজ, এভাবে স্থানান্তরিত কোনো আপিল প্রত্যাহার করে তা নিজে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন অথবা তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য কোনো উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

(৩) এই ধারার অধীনে স্থানান্তরিত আপিলসমূহ সেই নিয়ম অনুসারে নিষ্পত্তি করা হবে, যেভাবে জেলা জজ কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত অনুরূপ আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।

[Power of District Judge to transfer appeals]
(1) A District Judge may transfer to any Joint District Judge under his administrative control any appeals pending before him from the decrees or orders of Senior Assistant Judges or Assistant Judges.

(2) The District Judge may withdraw any appeal so transferred, and either hear and depose of it himself or transfer it to a Court under his administrative control competent to dispose of it. 
 
(3) Appeals transferred under this section shall be disposed of subject to the rules applicable to like appeals when disposed of by the District Judge.

২,৬৫৩.
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত কে গ্রহণ করে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সংসদের স্পিকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের প্রতি দায়ী এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে গৃহীত হয়। যদি প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকেন, তবে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
→ সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, কারণ মন্ত্রিসভা দলগতভাবে পরিচালিত হয় এবং এটি সংসদের নিকট যৌথভাবে দায়ী।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ- মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। 
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। 
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন। 
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে। 
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। 
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।
২,৬৫৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ৩-এর শর্ত অনুযায়ী, যদি স্বামীর চাচা বা ভাই থাকে, তাহলে-
  1. তারা মামলা থেকে বাদ পড়বেন
  2. শুধুমাত্র উত্তরাধিকারী হলে মামলায় পক্ষভুক্ত হবেন
  3. উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবেন
  4. তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হবে
ব্যাখ্যা

• মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর  ধারা ৩- নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধীকারদের উপর নোটিশ প্রদান:
২নং ধারার ১নং উপ ধারার প্রয়োগযোগ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর মৃত্যু ঘটলে তবে মুসলিম আইন অনুসারে যারা তার উত্তরাধীকারী হতো তাদের নাম, ঠিকানা, আরজিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে;
খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করতে হবে; এবং
গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাদের বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোন চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তার উত্তরাধিকারী না হলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হবে।

২,৬৫৫.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কয় প্রকার রেহেনের উল্লেখ রয়েছে?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা
⇒ নগদ অর্থ ঋণ হিসেবে গ্রহণের নিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যত দেনা সৃষ্টি করতে পারে, এমন সম্পত্তির স্বত্ব অপরের নিকট হস্তান্তর করাকে রেহেন বা বন্ধক বলে।
-সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ৬ প্রকার রেহেনের উল্লেখ রয়েছে।
ক) সাধারণ রেহেন:
সম্পত্তির দখল হস্তান্তর না করে রেহেনের টাকা ব্যক্তিগতভাবে পরিশােধের দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে সাধারণ রেহেন বলে। এখানে শর্ত থাকে চুক্তি মােতাবেক ঋণ গ্রহীতা টাকা পরিশােধ করতে না পারলে ঋণদাতা উক্ত সম্পত্তি বিক্রয় করে তার প্রাপ্য টাকা গ্রহণ করতে পারবে।
(খ) শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে রেহেন:
যদি কোন সম্পত্তি এই শর্তে বিক্রয় করা হয় যে, নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ না করলে বিক্রয় চূড়ান্ত হবে অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশােধ করলে বিক্রয় বাতিল হবে তাহলে তাকে শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে নেহেন বলে।
(গ) খাই খালাসী রেহেন:
দাতা সম্পত্তির দখল গ্রহীতাকে প্রদান করবে, টাকা পরিশােধ না হওয়া পর্যন্ত দখল রাখবে তাকে খাই খালাসী রেহেন বলে ।
(ঘ) ইংলিশ রেহেন:
দাতা নির্দিষ্ট তারিখে রেহেনের টাকা পরিশােধের অঙ্গীকার করে সম্পত্তি গ্রহীতার নিকট হস্তান্তর করবে। শর্ত থাকবে নির্দিষ্ট তারিখে টাকা পরিশােধ করলে গ্রহীতা দাতাকে সম্পত্তি ফিরিয়ে দিবে। এটি হলাে ইংলিশ রেহেন।
(ঙ) দলিল জমা দেওয়ার রেহেন:
ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম শহরে বা সরকারী গেজেট দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন শহরে কোন ব্যক্তি যখন মহাজন বা তার প্রতিনিধির উপর জামানত সৃষ্টির জন্য দলিল জমা দেয়া হয় তাকে দলিল জমা দেওয়ার রেহেন বলে।
(চ) সংজ্ঞাহীন রেহেন:
যে রেহেন উপরােক্ত কোন রেহেনের অন্তর্ভুক্ত হয় না তাকে সংজ্ঞাহীন রেহেন বলে ।
২,৬৫৬.
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা
  2. দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরী করা
  3. দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা
  4. দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে আইন তৈরি করা
ব্যাখ্যা
• দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪।

ধারা ১৭- কমিশনের কার্যাবলী

কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:- 
 
(ক) তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা; 
(খ) অনুচ্ছেদ (ক) এর অধীন অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার ভিত্তিতে এই আইনের অধীন মামলা দায়ের ও পরিচালনা; 
(গ) দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগ স্বউদ্যোগে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান; 
(ঘ) দুর্নীতি দমন বিষয়ে আইন দ্বারা কমিশনকে অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করা; 

(ঙ) দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কোন আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(চ) দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরী করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে করণীয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(ছ) দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়িয়া তোলার ব্যবস্থা করা;
(জ) কমিশনের কার্যাবলী বা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এমন সকল বিষয়ের উপর সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা; 

(ঝ) আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা এবং তদ্‌নুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(ঞ) দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা দায়ের এবং উক্তরূপ অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন পদ্ধতি নির্ধারণ করা; এবং 
(ট) দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা৷
২,৬৫৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদের বিষয় কী?
  1. স্পীকার
  2. সংসদের স্থায়ী কমিটি
  3. ন্যায়পাল
  4. অর্থবিল
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদের বিষয়: ন্যায়পাল:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন। 
(৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করিবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
------------
 ⇒ Article 77 Ombudsman:
(1) Parliament may, by law, provide for the establishment of the office of Ombudsman. 
(2) The Ombudsman shall exercise such powers and perform such functions as Parliament may, by law, determine, including the power to investigate any action taken by a Ministry, a public officer or a statutory public authority. 
(3) The Ombudsman shall prepare an annual report concerning the discharge of his functions, and such report shall be laid before Parliament.
২,৬৫৮.
'Noting in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code or to prevent abuse of the process of any Court otherwise to secure the ends of Justice' বিধানটি The Code of Criminal Procedure, 1898 এর কত ধারায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৪৩৯
  2. ৪৩৫
  3. ৪৩৯এ
  4. ৫৬১এ
ব্যাখ্যা
Section 561A- Saving of inherent power of High Court Division
Nothing in this Code shall be deemed to limit or affect the inherent power of the High Court Division to make such orders as may be necessary to give effect to any order under this Code, or to prevent abuse of the process of any Court or otherwise to secure the ends of justice.

• ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power) আছে। একটি মামলার ক্ষেত্রে কি পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে যাবতীয় বিধি দেওয়ানী ও ফৌজদারি কার্যবিধিতে রয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে এমন অবস্থার উদ্ভব হতে পারে, আদালতের কি করণীয় হবে সে বিষয়ে কোন সুস্পষ্ট বিধি নেই। এক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের প্রয়োজনে আদালত তার সুবিবেচনা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনার জন্য যে ক্ষমতা প্রয়োগ করে, তাকেই আদালতের সহজাত বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent power of the court) বলে। 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ক ধারামতে ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ ৩টি ক্ষেত্রে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। যথা-
i) ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে প্রদত্ত কোন আদেশ কার্যকর করা (to give effect to any order under CrPC);
ii) কোন আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার রোধ করা (to prevent abuse of the process of any court); এবং
iii) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা (to secure the ends of justice)।
২,৬৫৯.
The Civil Courts Act, 1887 অনুযায়ী Hindus parties-এর ক্ষেত্রে religious usage বিষয়ে decision কীভাবে হবে?
  1. Common law অনুযায়ী
  2. Muslim law অনুযায়ী
  3. Hindu law অনুযায়ী
  4. International law অনুযায়ী
ব্যাখ্যা

⇒ The Civil Courts Act,1887 আইনের ৩৭ ধারায় কতিপয় বিষয়ে রাষ্ট্রীয় আইন নয় বরং হিন্দু এবং মুসলিমদের ধর্মীয় আইনের বিধানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
⇒ The Civil Courts Act, 1887-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে, কোনো মামলা বা কার্যক্রমে যদি উত্তরাধিকার (Succession), বিবাহ (Marriage), জাতি (Caste), বা ধর্মীয় প্রথা ও প্রতিষ্ঠান (Religious Usage or Institution) সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে পক্ষগুলোর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে:
- যদি পক্ষগুলো মুসলিম হয়, তবে মুসলিম আইন প্রয়োগ করা হবে।
- যদি পক্ষগুলো হিন্দু হয়, তবে হিন্দু আইন প্রয়োগ করা হবে।
এই ক্ষেত্রে, প্রশ্নে উল্লিখিত হিন্দু পক্ষগুলোর (Hindu parties) ধর্মীয় প্রথা (Religious Usage) সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হিন্দু আইন প্রযোজ্য হবে, যদি না সেই আইন কোনো আইনসভার দ্বারা পরিবর্তিত বা বাতিল করা হয়।

- ধারা ৩৭(২) অনুসারে, যদি ধারা ৩৭(১) বা অন্য কোনো প্রচলিত আইন প্রযোজ্য না হয়, তবে আদালত ন্যায়, ইক্যুইটি এবং সৎ বিবেক (Justice, Equity, and Good Conscience) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে, হিন্দু পক্ষগুলোর ধর্মীয় প্রথা সংক্রান্ত বিষয়ে হিন্দু আইনই প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য।

⇒ The Civil Courts Act,1887-এর ধারা ৩৭(১) অনুসারে, হিন্দু পক্ষগুলোর ধর্মীয় প্রথা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে হিন্দু আইন প্রয়োগ করা হবে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) Hindu law অনুযায়ী।
----------
⇒ The Civil Courts Act,1887, Section 37- Certain decisions to be according to local law:
(1) Where in any suit or other proceeding it is necessary for a Civil Court to decide any question regarding succession, inheritance, marriage or caste, or any religious usage or institution, the Muslim law in cases where the parties are Muslim, and the Hindu law in cases where the parties are Hindus, shall form the rule of decision except in so far as such law has, by legislative enactment, been altered or abolished.
(2) In cases not provided for by sub-section (1) or by any other law for the time being in force, the Court shall act according to justice, equity and good conscience.

২,৬৬০.
সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হলে তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও বাতিল হবে না?
  1. সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ
  3. খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধানের অধিকার নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, যদি সংসদ কোনো আইনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে সেটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি কার্যকর করার জন্য প্রণীত হয়েছে, তবে তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও বাতিল হবে না।
বিশেষত, নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর জন্য করা আইন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলেও সংবিধানবিরোধী হিসেবে বাতিল হবে না—
- (ক) সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল।
- (খ) বাণিজ্যিক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ।
- (গ) খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধান ও লাভের অধিকার নিয়ন্ত্রণ।
এছাড়াও, এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি সরকার কোনো শিল্প, ব্যবসা বা বাণিজ্য সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হলেও বাতিলযোগ্য হবে না।
তাই, ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে উপরের সবগুলো বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সঠিক উত্তর: "ঘ) উপরের সবগুলো"।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৭: কতিপয় আইনের হেফাজত:
(১) নিম্নলিখিত যে কোন বিষয়ের বিধান-সংবলিত কোন আইনে (প্রচলিত আইনের ক্ষেত্রে সংশোধনীর মাধ্যমে) সংসদ যদি স্পষ্টরূপে ঘোষণা করেন যে, এই সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহের কোন একটিকে কার্যকর করিবার জন্য অনুরূপ বিধান করা হইল, তাহা হইলে অনুরূপ আইন এই ভাগে নিশ্চয়কৃত কোন অধিকারের সহিত অসমঞ্জস কিংবা অনুরূপ অধিকার হরণ বা খর্ব করিতেছে, এই কারণে বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে না:
(ক) কোন সম্পত্তি বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ, রাষ্ট্রায়ত্তকরণ বা দখল কিংবা সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা;
(খ) বাণিজ্যিক বা অন্যবিধ উদ্যোগসম্পন্ন একাধিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক সংযুক্তকরণ;
(গ) অনুরূপ যে কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, ব্যবস্থাপক, এজেন্ট ও কর্মচারীদের অধিকার এবং (যে কোন প্রকারের) শেয়ার ও স্টকের মালিকদের ভোটাধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ;
(ঘ) খনিজদ্রব্য বা খনিজ তৈল-অনুসন্ধান বা লাভের অধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ;
(ঙ) অন্যান্য ব্যক্তিকে অংশতঃ বা সম্পূর্ণতঃ পরিহার করিয়া সরকার কর্তৃক বা সরকারের নিজস্ব, নিয়ন্ত্রণাধীন বা ব্যবস্থাপনাধীন কোন সংস্থা কর্তৃক যে কোন কারবার, ব্যবসায়, শিল্প বা কর্মবিভাগ-চালনা; অথবা
(চ) যে কোন সম্পত্তির স্বত্ব কিংবা পেশা, বৃত্তি, কারবার বা ব্যবসায়-সংক্রান্ত যে কোন অধিকার কিংবা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারী প্রতিষ্ঠান বা কোন বাণিজ্যিক বা শিল্পগত উদ্যোগের মালিক বা কর্মচারীদের অধিকার বিলোপ, পরিবর্তন, সীমিতকরণ বা নিয়ন্ত্রণ।
(২) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও প্রথম তফসিলে বর্ণিত আইনসমূহ (অনুরূপ আইনের কোন সংশোধনীসহ) পূর্ণভাবে বলবৎ ও কার্যকর হইতে থাকিবে এবং অনুরূপ যে কোন আইনের কোন বিধান কিংবা অনুরূপ কোন আইনের কর্তৃত্বে যাহা করা হইয়াছে বা করা হয় নাই, তাহা এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না;
তবে শর্ত থাকে যে, এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অনুরূপ কোন আইনকে সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিল করা হইতে নিবৃত্ত করিবে না।
(৩) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য28[বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন] কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দণ্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।
২,৬৬১.
এস. এ (State Acquisition) খতিয়ান তৈরির কাজ কোন জেলা থেকে শুরু হয়?
  1. ফরিদপুর
  2. কক্সবাজার
  3. পটুয়াখালী
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
এস. এ খতিয়ান:
পাকিস্তান আমলে ১৯৫০ সালে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের চতুর্থ অধ্যায় এর ১৭ হতে ৩১ দ্বারা মতে ১৯৫৬-৬০ সালের দিকে যে খতিয়ান তৈরি করা হয় তাকে এস. এ (State Acquisition) খতিয়ান বলে।
- এটা করতে The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৭ ধারার অধীন State Acquisition Survey এর উপর ভিত্তি করে এস.এ খতিয়ান তৈরী করা হয়েছিল। তাই এই খতিয়ানকে এস.এ খতিয়ান বলা হয়।
- এটা ১৯৫৪ সালে পটুয়াখালীতে শুরু হয়ে ১৯৬৫ সালে ফরিদপুরে শেষ হয়েছিল।

- মূলত, জমিদারী ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে/রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এস.এ. খতিয়ান বলে পরিচিত পায়।
- ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতেলেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।
- সে সময় এই রেকর্ড মোট তিন কপি প্রস্তুত করা হয় যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে, এক কপি তহশলি ( ইউনিয়ন ভূমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয়।
- জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।
২,৬৬২.
হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৪ জন
  2. ৫ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
২,৬৬৩.
হানাফী আইন অনুযায়ী কত শ্রেণির ব্যক্তি অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পরেন?
ব্যাখ্যা
⇒ অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:
হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
 
- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
 
- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।
 
- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
২,৬৬৪.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 অনুসারে অগ্রক্রয়ের মামলা মঞ্জুর হলে আবেদনকারীর অনুকূলে কতদিনের মধ্যে দলিল কার্যকর করতে হবে?
  1. ৪৫
  2. ৬০
  3. ৩০
  4. ৯০
ব্যাখ্যা
⇒ আইনে অগ্রক্রয় একটি আলোচিত বিধান। জমির সহ-অংশীদারদের জন্য কোনো জোতের কোনো শরিক বা সহ-শরিকরা যদি ওই জোতে অবস্থিত তার জমির কোনো অংশ বা অংশ-বিশেষ ওই জোতের কোনো শরিক বা সহ-শরিক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে, তবে ওই জোতের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির অন্য কোনো শরিক বা সহ-শরিক ওই সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য ও নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করে আদালতের মাধ্যমে ওই জোতের বিক্রয়কৃত জমিটি আবার ক্রয় করার অধিকার অর্জন করতে পারে। সহ-শরিক কর্তৃক অর্জিত এ ধরনের অধিকারকে অগ্রক্রয় বলে। 
- কৃষি জমির অগ্রক্রয়ের অধিকার সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০ এর ৯৬ ধারায় বলা হয়েছে। 
এ আইনের ৯৬ (১) ধারা মতে, 
৮৯ ধারার অধীন সহ-শরিককে নোটিশ দেয়া হলে, নোটিশ পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ২ (দুই) মাসের মধ্যে এবং নোটিশ না পেলে হস্তান্তর সম্পর্কে জানার পরবর্তী ২ (দুই) মাসের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করতে হয়।
-আইনের ৯৬ (১) (ক) ধারা মতে, 
কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো হোল্ডিংয়ের সহ-শরিক অগ্রক্রয়ের আবেদন করতে পারবে। 
-৯৬ (১) (ঘ) ধারা মতে, বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রেশনের ৩ (তিন) বছর পর অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করা যায় না। ৯৬ (২) ধারা মতে, আদালতে অগ্রক্রয় মামলা দায়েরের সময় ওই জোতের উত্তরাধিকার সূত্রের সব শরিক ও কবলা ক্রেতাকে পক্ষ করতে হবে।
-আইনের ৯৬ (৩) (ক) ধারা মতে, জমির কবলা দলিলে উলিস্নখিত মূল্য; ৯৬ (৩) খ) ধারা মতে, ২৫% ক্ষতিপূরণ এবং ৯৬ (৩) (গ) ধারা মতে, ৮% সরল সুদ জমা দিয়ে অগ্রক্রয় মামলা দায়ের করতে হবে।
এই আইনের ৯৬ (৯) (ঙ) ধারা মতে, আদালতে অগ্রক্রয়ের আবেদন মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট আদালত কবলা দলিলের ক্রেতাকে পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদনকারীর বরাবরে দলিল রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দিবেন। এ ধারার দলিল রেজিস্ট্রেশন সব শুল্ক, ফি ও কর মুক্ত হবে। আইনের ৯৬ (১০) ধারা মতে, কবলা দলিলের ক্রেতা ৬০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি করে দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আদালত পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে কবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করবেন।

অর্থাৎ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 অনুসারে অগ্রক্রয়ের মামলা মঞ্জুর হলে আবেদনকারীর অনুকূলে ৬০ দিনের মধ্যে দলিল কার্যকর করতে হবে।
২,৬৬৫.
A, B এর পক্ষে মাল বিক্রির জন্য নিযুক্ত একজন এজেন্ট, C-কে মাল কিনতে রাজি করানোর জন্য একটি মিথ্যাবর্ণনা দেয়, যা B তাকে করার অনুমতি দেননি। এই চুক্তি-
  1. বাতিল
  2. B-এর ইচ্ছায় বৈধ
  3. C-এর ইচ্ছায় বাতিলযোগ্য
  4. B-এর ইচ্ছায় বাতিলযোগ্য
ব্যাখ্যা
এজেন্ট কর্তৃক প্রতারণা বা মিথ্যাবর্ণনার কারণে চুক্তির ওপর প্রভাব (ধারা ২৩৮)-
যেসব মিথ্যাবর্ণনা বা প্রতারণা কোনো এজেন্ট তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বা কর্তা (Principal)-এর জন্য ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে করে থাকে, তা ঠিক তেমনই প্রভাব ফেলে যেভাবে কর্তা নিজে ঐ মিথ্যাবর্ণনা বা প্রতারণা করলে প্রভাব ফেলত। কিন্তু, যদি কোনো এজেন্ট এমন কোনো বিষয়ে মিথ্যাবর্ণনা বা প্রতারণা করে যা তার ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না, তাহলে সেই মিথ্যাবর্ণনা বা প্রতারণা কর্তাকে প্রভাবিত করে না।

উদাহরণসমূহ
(ক) A, B-র পক্ষে মাল বিক্রির জন্য নিযুক্ত একজন এজেন্ট, C-কে মাল কিনতে রাজি করানোর জন্য একটি মিথ্যাবর্ণনা দেয়, যা B তাকে করার অনুমতি দেননি। এই চুক্তি B ও C-এর মধ্যে C-এর ইচ্ছায় বাতিলযোগ্য (voidable)।

(খ) A, B-র জাহাজের ক্যাপ্টেন, কিছু পণ্য না তোলা সত্ত্বেও ঐসব পণ্যের জন্য বিল অব লেডিং (Bill of Lading) স্বাক্ষর করে দেন। ঐ বিল অব লেডিং B ও তথাকথিত প্রেরক (consignor)-এর মধ্যে বাতিলযোগ্য বা বাতিল (void) হিসেবে বিবেচিত হবে।
২,৬৬৬.
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি কে হন?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আইনমন্ত্রী
  4. সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

⇒ শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভাপতি হন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। বোর্ডটি শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও কল্যাণ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন, তদারকি এবং সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৭ জাতীয় শিশুকল্যাণ বোর্ড: বোর্ড গঠন:
সভাপতি: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। 
 মূল সদস্যরা:
- সংসদের মনোনীত ২ জন মহিলা এমপি (সরকার ও বিরোধীদল থেকে)
- পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় সচিব/যুগ্মসচিব।
- বিভাগীয় কমিশনার (ঢাকা)।
- বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
- সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি।
- শিশু ও প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
- ২ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ১টি এনজিও প্রতিনিধি।

২,৬৬৭.
'P' তার ২ পুত্র 'A' ও 'B', ২ পৌত্র 'C' ও 'D', ২ প্রপৌত্র 'E' ও 'F', ১ কন্যা 'G' এবং ১ স্ত্রী 'H' কে রেখে মারা যায়। হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কে বঞ্চিত হবেন?
  1. স্ত্রী (H)
  2. কন্যা (G)
  3. পৌত্র (C & D)
  4. প্রপৌত্র (E & F)
ব্যাখ্যা

⇒ সমাধান: এখানে 'P' সম্পত্তি মোট পাঁচ অংশে বিভক্ত হবে। এই পাঁচ অংশের মধ্যে ১ অংশ পাবে পুত্র 'A', ১ অংশ পাবে পুত্র 'B', ১ অংশ পাবে ২ পৌত্র মিলে 'C' ও 'D', ১ অংশ পাবে ২ প্রপৌত্র মিলে 'E' ও 'F' এবং ১ অংশ পাবে স্ত্রী 'H'। কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।

সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র(A)পাবে ১/৫ অংশ
- পুত্র (B) পাবে ১/৫ অংশ
- পৌত্র(C&D) পাবে ১/৫ অংশ
- প্রপৌত্র (E&F) পাবে ১/৫ অংশ
- স্ত্রী (H) পাবে ১/৫ অংশ

-হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কন্যা 'G'  বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।
২,৬৬৮.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কত ধারায় ইজারার সংজ্ঞা দেয়া আছে?
  1. ১০৩ ধারায়
  2. ১০০ ধারায়
  3. ১০১ ধারায়
  4. ১০৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ১০৫: ইজারার সংজ্ঞা:
স্থাবর সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার প্রকাশিত ভাবে বা অপ্রকাশিত ভাবে, নির্দিষ্ট মেয়াদে বা স্থায়ীভাবে এবং প্রদত্ত বা এই শর্তসমূহে সম্মত হহুস্তরগ্রহীতা কর্তৃক শর্ত অনুসারে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বা নির্ধারিত সময়ে প্রদানের বিনিময়ে হস্তান্তর করাকে ইজারা বলে।

• Section 105: “Lease” defined:


A lease of immoveable property is a transfer of a right to enjoy such property, made for a certain time, express or implied, or in perpetuity, in consideration of a price paid or promised, or of money, a share of crops, service or any other thing of value, to be rendered periodically or on specified occasions to the transferor by the transferee, who accepts the transfer on such terms.
২,৬৬৯.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত নন এরূপ ব্যক্তির নিকট থেকে মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি পেলে উক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শান্তি________ বৎসর কারাদণ্ড?
  1. ১০
  2. ১৪
ব্যাখ্যা
⇒ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৭ ধারার বিধান মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি, ইত্যাদি রাখিবার দণ্ড:
- লাইসেন্সপ্রাপ্ত নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির নিকট অথবা তাহার দখলকৃত কোনো স্থানে যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায়, তাহা হইলে তিনি অন্যূন ২ (দুই) বৎসর অনূর্ধ্ব ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।
২,৬৭০.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সংক্রান্ত সংসদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় নয়?
  1. প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ
  2. প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ
  3. রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ
  4. প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের বাজেট অনুমোদন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১) অনুযায়ী, সংসদ নিম্নলিখিত প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে:
১) প্রতিরক্ষা বাহিনীর গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ
২) প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কমিশন মঞ্জুরী
৩) প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ ও তাঁদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ
৪) প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়
→ তবে, রাষ্ট্রপতির সামরিক উপদেষ্টার নিয়োগ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ সম্পর্কিত বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত বা সাংবিধানিক প্রশাসনিক বিষয়, যা সংসদ কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত নয়। সাধারণত, সামরিক উপদেষ্টা নিয়োগ রাষ্ট্রপতির নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত বিষয় এবং এটি সংসদীয় নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিরক্ষা নীতির মধ্যে পড়ে না।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬২ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণ করিবেন: 
(ক) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও উক্ত কর্মবিভাগসমূহের সংরক্ষিত অংশসমূহ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ; 
(খ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহে কমিশন মঞ্জুরী; 
(গ) প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগদান ও তাঁহাদের বেতন ও ভাতা-নির্ধারণ; এবং 
(ঘ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহ ও সংরক্ষিত অংশসমূহ-সংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয়। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত বিষয়সমূহের জন্য বিধান না করা পর্যন্ত অনুরূপ যে সকল বিষয় প্রচলিত আইনের অধীন নহে, রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা সেই সকল বিষয়ের জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
২,৬৭১.
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. স্পীকার
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. সংসদের উপনেতা
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়, অথবা তিনি অনুপস্থিত, অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তাহলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
→ যখন স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন:
১) রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে— নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত।
২) রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে— তিনি ফিরে না আসা পর্যন্ত।
৩) রাষ্ট্রপতি গুরুতর অসুস্থ হলে— সুস্থ হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত।
৪) অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে— তিনি দায়িত্ব নিতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত।

অর্থাৎ সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে স্পীকার অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ- অনুপস্থিতি প্রভৃতির-কালে রাষ্ট্রপতি-পদে স্পীকার:
- রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।
২,৬৭২.
বন্ধকদাতা যদি বন্ধককৃত সম্পত্তির উন্নয়ন খরচ পরিশোধ করতে বাধ্য হন এবং সুদের হার নির্ধারিত না থাকে, তবে তাকে বার্ষিক কী পরিমাণ সুদ দিতে হবে?
  1. ৫%
  2. ৭%
  3. ৯%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা
• ধারা ৬৩ক: বন্ধককৃত সম্পত্তির উন্নয়ন-
(১) যদি বন্ধকগ্রহীতার দখলে বন্ধককৃত সম্পত্তির উন্নয়ন হয় এবং বন্ধকদাতা যদি বন্ধক মুক্ত করার পরেও কোনো চুক্তি না থাকে, তবে বন্ধকদাতা ওই উন্নয়ন লাভ করার অধিকারী হবে; এবং, শুধুমাত্র উপ-ধারা (২) তে উল্লেখিত কিছু ক্ষেত্রে বাদে, বন্ধকদাতা তার খরচ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকবেন না।

(২) যদি কোনো উন্নয়ন বন্ধকগ্রহীতার খরচে হয় এবং তা সম্পত্তির ধ্বংস বা ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বা নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় হয়, অথবা এটি কোনো সরকারী কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের আইনগত আদেশ অনুসারে করা হয়, তবে বন্ধকদাতা, যদি কোনো চুক্তি না থাকে, ওই উন্নয়নের সঠিক খরচ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকবেন এবং তা মূল অর্থের সাথে সুদ হিসেবে যোগ হবে। যদি কোনো সুদের হার নির্ধারিত না থাকে, তবে সেটি বার্ষিক ৯% সুদ দিয়ে পরিশোধ করতে হবে, এবং উন্নয়নের ফলে কোনো লাভ হয়ে থাকলে তা বন্ধকদাতার কাছে জমা হবে।
২,৬৭৩.
প্রত্যেক অর্থবিলে কার স্বাক্ষর সম্বলিত একটি সার্টিফিকেট থাকবে?
  1. প্রধানমন্ত্রীর
  2. স্পীকারের
  3. অর্থমন্ত্রীর
  4. চিফ হুইপের
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদ- অর্থবিল: 

(১) এই ভাগে "অর্থবিল" বলিতে কেবল নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল বা যে কোন একটি সম্পর্কিত বিধানাবলী-সংবলিত বিল বুঝাইবে:
(ক) কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ; 
(খ) সরকার কর্তৃক ঋণগ্রহণ বা কোন গ্যারান্টিদান, কিংবা সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত আইন সংশোধন; 
(গ) সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অনুরূপ তহবিলে অর্থপ্রদান বা অনুরূপ তহবিল হইতে অর্থ দান বা নির্দিষ্টকরণ; 
(ঘ) সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় আরোপ কিংবা অনুরূপ কোন দায় রদবদল বা বিলোপ; 
(ঙ) সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব বাবদ অর্থপ্রাপ্তি, কিংবা অনুরূপ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ বা দান, কিংবা সরকারের হিসাব-নিরীক্ষা; 
(চ) উপরি-উক্ত উপ-দফাসমূহে নির্ধারিত যে কোন বিষয়ের অধীন কোন আনুষঙ্গিক বিষয়। 
 
(২) কোন জরিমানা বা অন্য অর্থদণ্ড আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোন কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোন কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোন বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না। 
 
(৩) রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য তাঁহার নিকট পেশ করিবার সময়ে প্রত্যেক অর্থবিলে স্পীকারের স্বাক্ষরে এই মর্মে একটি সার্টিফিকেটে থাকিবে যে, তাহা একটি অর্থবিল, এবং অনুরূপ সার্টিফিকেট সকল বিষয়ে চূড়ান্ত হইবে এবং সেই সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
২,৬৭৪.
পারিবারিক আদালত কর্তৃক মোহরানা বাবদ প্রদত্ত ৫,০০০/- টাকার ডিক্রির বিরুদ্ধে কোথায় আপীল করতে হবে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগে
  2. জেলা জজ আদালতে
  3. যুগ্ম জেলা জজ আদালতে
  4. আপীল চলে না
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ আইন অনুযায়ী, দেনমোহরের ক্ষেত্রে ৫০০০ টাকার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যেতো না। তবে বর্তমানে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ রহিত করে, পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। এই আইনে টাকার পরিমাণ ৫০ হাজার করা হয়।

যা কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে-

⇒ নতুন আইন অনুযায়ী- সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১(এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হবে। ১৯৮৫ সালের আইনে শুধু সহকারী জজ এর কথা উল্লেখ ছিলো।

⇒ ১৯৮৫ সালের আইন অনুযায়ী আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ ছিলো না। নতুন আইনের ৯ ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

⇒ সাক্ষ্য লিপিবদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিধান অর্থাৎ ১৩ ধারা অনেকটা স্পষ্ট করা হয়েছে। এফিডেভিটের মাধ্যমে জবানবন্দী গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

⇒ ৫০ হাজার বা তার কম টাকার ডিক্রী হলে আপীল করা যাবে না।

⇒ নতুন আইনে সকল প্রকার পারিবারিক মামলার কোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা, পূর্বে যা ৫০ টাকা ছিল।
২,৬৭৫.
B বলে A-কে: "তুমি যদি এটা অস্বীকার না করো, তাহলে আমি ধরে নেবো ঘোড়াটি সুস্থ।" A কিছু না বলে চুপ থাকে। এই ক্ষেত্রে-
  1. প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে
  2. A-এর নীরবতা কথার সমতুল্য
  3. প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে না
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা
Fraud (প্রতারণা) - ধারা ১৭, চুক্তি আইন:
প্রতারণা বলতে বোঝায়, এমন কিছু কর্মকাণ্ড যা একজন পক্ষ, তার সহযোগী বা এজেন্ট দ্বারা অপর পক্ষকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে বা চুক্তিতে প্ররোচিত করার জন্য করা হয়। এই ধরণের কর্মকাণ্ডগুলো নিম্নরূপ:
১. এমন একটি মিথ্যা তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা, যা প্রদানকারী নিজেই সত্য বলে বিশ্বাস করে না।
২. কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে-বুঝেও ইচ্ছাকৃতভাবে তা গোপন রাখা।
৩. প্রতিশ্রুতি দেওয়া, যার বাস্তবায়নের কোনো ইচ্ছাই নেই।
৪. যেকোনো এমন কর্মকাণ্ড যা প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা হয়।
৫. আইন যেসব কার্য বা অবহেলাকে স্পষ্টভাবে প্রতারণা হিসেবে ঘোষণা করে।

ব্যাখ্যা (Explanation):
শুধুমাত্র নীরবতা (silence) সাধারণত প্রতারণা নয়। কিন্তু যদি এমন পরিস্থিতি হয় যেখানে তথ্য গোপন না করে বলা উচিত ছিল, বা নীরবতা মানেই সম্মতির মতো আচরণ হয় — তখন তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(ক) A একটি ঘোড়া নিলামে B-কে বিক্রি করে, যদিও A জানে ঘোড়াটি অসুস্থ। কিন্তু A এই অসুস্থতার বিষয়ে B-কে কিছু বলে না।
- এটি A-এর পক্ষ থেকে প্রতারণা নয়।

(খ) B বলে A-কে: "তুমি যদি এটা অস্বীকার না করো, তাহলে আমি ধরে নেবো ঘোড়াটি সুস্থ।" A কিছু না বলে চুপ থাকে।
- এই ক্ষেত্রে, A-এর নীরবতা কথার সমতুল্য ধরা হবে।
- এটি প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।
২,৬৭৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রিদের নিয়োগ দেন?
  1. ৫৫(১)
  2. ৫৮(২)
  3. ৫৮(১)
  4. ৫৬(২)
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৫৬: মন্ত্রিগণ

(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন। 
(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।
(৩) যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন। 
(৪) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া এবং সংসদ-সদস্যদের অব্যবহিত পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তীকালে এই অনুচ্ছেদের (২) বা (৩) দফার অধীন নিয়োগ দানের প্রয়োজন দেখা দিলে সংসদ ভাংগিয়া যাইবার অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা সংসদ-সদস্য ছিলেন, এই দফার উদ্দেশ্যসাধনকল্পে তাঁহারা সদস্যরূপে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

Article 56: Ministers

(1) There shall be a Prime Minister, and such other Ministers, Ministers of State and Deputy Ministers as may be determined by the Prime Minister. 

(2) The appointments of the Prime Minister and other Ministers and of the Ministers of State and Deputy Ministers, shall be made by the President: 
Provided that not less than nine-tenths of their number shall be appointed from among members of Parliament and not more than one tenth of their number may be chosen from among persons qualified for election as members of Parliament. 
 
(3) The President shall appoint as Prime Minister the member of Parliament who appears to him to command the support of the majority of the members of Parliament. 
 
(4) If occasion arises for making any appointment under clause (2) or clause (3) between a dissolution of Parliament and the next following general election of members of Parliament, the persons who were such members immediately before the dissolution shall be regarded for the purpose of this clause as continuing to be such members.
২,৬৭৭.
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারীকৃত অধ্যাদেশটি কখন তার কার্যকরতা হারাবে?
  1. সংসদে উপস্থাপনের তারিখেই
  2. প্রণয়নের তারিখ হতে ৯০ দিন অতিবাহিত হলে
  3. সংসদে উপস্থাপনের পর ৩০ দিন অতিবাহিত হলে
  4. সংসদে উপস্থাপনের পর ৬০ দিন অতিবাহিত হলে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩(২)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারীকৃত অধ্যাদেশটি সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের পর ত্রিশ (৩০) দিন অতিবাহিত হলে অথবা তার আগেই সংসদ যদি এটি অননুমোদনের প্রস্তাব পাস করে, তাহলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাবে। অর্থাৎ, উপস্থাপনের পর ৩০ দিন পার হওয়ার সাথে সাথেই অধ্যাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, যদি না সংসদ ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে এটি অনুমোদন দেয়।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:
(১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,
(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।
(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে। 
(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।

২,৬৭৮.
পারিবারিক আদালতের কোর্ট ফি নির্ধারিত হয়-
  1. The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২২ ধারানুসারে
  2. The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২৩ ধারানুসারে
  3. The Court - fees Act, 1870 এর ২২ ধারানুসারে
  4. The Court - fees Act, 1870 এর ২৩ ধারানুসারে
ব্যাখ্যা
⇒ The Family Courts Ordinance, 1985 এর ২২ ধারানুসারে।
Section 22. Court-fee:

The Court-fees to be paid on any plaint presented to a Family Court shall be twenty-five taka for any kind of suit.
২,৬৭৯.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ১১ অনুযায়ী জেলা কমিটির সভা _________ অনুষ্ঠিত হবে।
  1. প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার
  2. প্রতি দুই মাসে কমপক্ষে একবার
  3. প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে একবার
  4. প্রতি ছয় মাসে কমপক্ষে একবার
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ১১(২) অনুসারে জেলা কমিটির সভা সম্পর্কে বলা হয়েছে: "(২) জেলা কমিটির সভা উহার চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিমাসে জেলা কমিটির কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে৷"
অর্থাৎ আইন অনুযায়ী জেলা কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করতে হবে। সুতরাং, সঠিক উত্তর ক।

২,৬৮০.
শপথ গ্রহণের পূর্বে সংসদে আসন গ্রহণ বা ভোট দান করলে একজন সদস্য কত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন?
  1. ৫০০ টাকা প্রতিদিন
  2. ১,০০০ টাকা প্রতিদিন
  3. ৫,০০০ টাকা প্রতিদিন
  4. ১০,০০০ টাকা প্রতিদিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি যদি শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করার পূর্বে কিংবা তিনি সংসদ-সদস্য হওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য হয়েছেন জেনেও সংসদ-সদস্য হিসেবে আসনগ্রহণ বা ভোটদান করেন, তাহলে তিনি প্রতিদিনের জন্য ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। এই অর্থদণ্ড প্রজাতন্ত্রের নিকট দেনা হিসাবে উসুলযোগ্য হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) ১,০০০ টাকা প্রতিদিন।
২,৬৮১.
শাফি-ই-জার (Shafi-e-jar) বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. সহ-উত্তরাধিকারী
  2. সুবিধাসমূহের অধিকারী
  3. সংলগ্ন স্থাবর সম্পত্তির মালিক
  4. চুক্তি প্রদত্ত সম্পত্তির অধিকারী
ব্যাখ্যা

অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ:

হানাফী আইন অনুযায়ী ৩ শ্রেণির ব্যক্তির অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের অধিকার আছে।
১) শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
২) শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
৩) শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]

- শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik ]
শাফি-ই-শরিক [Shafi-e-sharik | হলো সম্পত্তিতে কোন সহ-অংশীদার। যেমন; 'ক' এবং 'খ' হলো 'ম' এর সন্তান। সুতরাং 'ম' এর সম্পত্তির যৌথ মালিক হলো 'ক' এবং 'খ'। যদি 'ক' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করে তাহলে 'খ' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আবার 'খ' তার সম্পত্তি 'গ' এর নিকট বিক্রয় করলে, 'ক' অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

- শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit]
শাফি-ই-খালিত [Shafi-e-Khalit] অর্থ হলো সুবিধাসমূহের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী (Participator in immunities]। এটা বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কোন সুখাধিকার যেমন পথে চলাচলের অধিকার ইত্যাদিতে অধিকারী।

- শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar]
শাফি-ই-জার [Shafi-e-jar) অর্থ হলো সংলগ্ন বা পার্শবর্তী স্থাবর সম্পত্তির মালিক (owners of adjoining immovable property)। হানাফী আইন অনুযায়ী যে ভূমি বিক্রয় হবে তার সংলগ্ন জমির মালিক অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

২,৬৮২.
দুর্নীতি দমন কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দায়িত্ব কার?
  1. কমিশনের চেয়ারম্যানের
  2. রাষ্ট্রপতির
  3. প্রধানমন্ত্রীর
  4. সচিবালয়ের
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ২৯: বার্ষিক প্রতিবেদন:
(১) প্রতি পঞ্জিকা বত্সরের মার্চ মাসের মধ্যে কমিশন পূর্ববর্তী বত্সরে সম্পাদিত উহার কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে৷ 
 
(২) এই ধারার অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর রাষ্ট্রপতি উহা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন৷

২,৬৮৩.
যে ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি পায় এবং হেফাজতে নেয়, তার দায়িত্ব কী?
  1. কোনো দায়িত্ব নেই
  2. পুলিশে জমা দেওয়া
  3. জিম্মাদারের মতো দায়িত্ব
  4. শুধু সম্পত্তি ফেরত দেওয়া
ব্যাখ্যা

চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৭১ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের সম্পত্তি পায় এবং তা তার হেফাজতে নেয়, তাহলে সে একজন জিম্মাদার (Bailee)-এর মতো একই দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হয়।
- সম্পত্তিটি যত্ন সহকারে রাখা (Reasonable Care)
- সম্পত্তির মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা
- মালিক পাওয়া গেলে তা ফেরত দেওয়া
- অযত্ন বা অবহেলার কারণে সম্পত্তি ক্ষতি হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া
অতএব, সঠিক উত্তর হল গ) জিম্মাদারের মতো দায়িত্ব।

ধারা ৭১ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি পায় এবং হেফাজতে নেয়, সে জিম্মাদারের (bailee) মতো দায়িত্ব বহন করে। অর্থাৎ, তাকে সেই সম্পত্তির যত্ন নিতে হবে এবং যথাযথভাবে ফেরত দিতে হবে। কোনো অবহেলা বা অনিয়ম হলে, সে দায়বদ্ধ হবে।
--------
⇒ The Contract Act, 1872 section- 71 Responsibility of finder of goods:
A person who finds goods belonging to another and takes them into his custody, is subject to the same responsibility as a bailee.

২,৬৮৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনটি প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য?
  1. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  2. ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
  3. দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা
  4. দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের বিধান: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য:
(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷ 

(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য৷
-----------
⇒ The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh Article 21. Duties of citizens and of public servants:
(1) It is the duty of every citizen to observe the Constitution and the laws, to maintain discipline, to perform public duties and to protect public property. 

(2) Every person in the service of the Republic has a duty to strive at all times to serve the people.
২,৬৮৫.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুসারে, নিম্নলিখিত কোনটি ‘‘শোষণ’’ বা ‘‘নিপীড়ন’’ এর উদাহরণ নয়?
  1. ঋণ-দাসত্ব
  2. জবরদস্তিমূলক শ্রম
  3. ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা
  4. চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো।

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২(১৫):
‘‘শোষণ’’ বা ‘‘নিপীড়ন’’ (exploitation) অর্থ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাহার সম্মতিক্রমে বা বিনা সম্মতিতে কৃত নিম্নলিখিত কার্যসমূহ, তবে কেবল এইসব বিষয়েই ইহার অর্থ সীমিত হইবেনাঃ— 
(ক) পতিতাবৃত্তি বা যৌন শোষণ বা নিপীড়নের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে শোষণ বা নিপীড়ন; 
(খ) কোন ব্যক্তিকে পতিতাবৃত্তি অথবা পর্ণোগ্রাফি উৎপাদন বা বিতরণে নিয়োজিত করিয়া মুনাফা ভোগ; 
(গ) জবরদস্তিমূলক শ্রম বা সেবা আদায়; 
(ঘ) ঋণ-দাসত্ব (debt-bondage), দাসত্ব বা সার্ভিচিউড্(servitude) , দাসত্বরূপ কর্মকাণ্ড, বা গৃহস্থালীতে সার্ভিচিউড্; 
(ঙ) প্রতারণামূলক বিবাহের মাধ্যমে শোষণ বা নিপীড়ন; 
(চ) কোন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বিনোদন ব্যবসায় ব্যবহার; 
(ছ) কোন ব্যক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা; এবং 
(জ) ব্যবসা করিবার উদ্দেশ্যে অপরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহানী বা কাউকে বিকলাঙ্গ করা।

উল্লেখ্য,
'কাউকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো'- এটি সরাসরি "শোষণ" বা "নিপীড়ন"-এর মধ্যে পড়ে না, যতক্ষণ না সেটির মাধ্যমে পরবর্তীতে জবরদস্তিমূলক শ্রম, যৌন নিপীড়ন, দাসত্ব ইত্যাদি ঘটে। তবে এটি একটি প্রতারণার কৌশল হতে পারে যার মাধ্যমে পরে শোষণ ঘটানো হয়।
২,৬৮৬.
দানে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পত্তি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকলে-
  1. দানটি সম্পূর্ণভাবে বৈধ হবে
  2. দানটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ হবে
  3. শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ সম্পত্তির অংশ অবৈধ হবে
  4. শুধুমাত্র ভবিষ্যৎ সম্পত্তির অংশ বৈধ হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ১২৪: বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পত্তির দান-
যে দানে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সম্পত্তি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে, তা ভবিষ্যৎ সম্পত্তির ক্ষেত্রে অবৈধ হবে।

[A gift comprising both existing and future property is void as to the latter.]
২,৬৮৭.
'Per incuriam' শব্দের অর্থ-
  1. বিচারক কর্তৃক কৃত অনিচ্ছাকৃত ভুলের বিষয় তার গোচরে আসামাত্র ন্যায়বিচারের স্বার্থে শুদ্ধ করা
  2. আইনের কোন শব্দ বা বাক্যের অর্থ বুঝাতে না পারা
  3. আইনে ব্যবহৃত কোন শব্দ বা বাক্যের ব্যাখ্যা করা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "Per incuriam"

The expressin "Per incuriam" is a latin word, which means "through in advertence".
According to Oxford Dictionary: "through lack of care". A decision of a court is made per incuriam. if it fails to apply a relevant statutory provision or ignores a binding precedent.

অর্থাৎ, উচ্চ আদালত কর্তৃক কোনো আইনগত বিধান লংঘনকরে কোনো রায় দিলে তা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের অধীনে Law Declared by HCD হবে না এবং তা নিম্ন-আদালতের উপর বাধ্যকর হবে না। অর্থাৎ, তা 'Judgment per incuriam' বলে গণ্য হবে। সংক্ষেপে Per incuriam এর বাংলা অর্থ- ভুলবশত রায় দেয়া (Decided Wrongly).

এখানে প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে অপশন 'ক' এর সাথেই এর অর্থ মিলে। তাই সঠিক উত্তর হবে 'ক'।
২,৬৮৮.
"ইসতিদলাল" এর মাধ্যমে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়?
  1. কিয়াসের মাধ্যমে
  2. কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে
  3. জনকল্যাণের ভিত্তিতে
  4. যুক্তি-তর্কের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
মুসলিম আইনের উৎস:
ইসলাম পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। শরিয়ত (আইন বা বিধান), তরিকত (পদ্ধতি বা নিয়ম), মারেফত (জানা বা আলো) ও হাকিকত (সত্য বা বাস্তব) হচ্ছে ইসলামি জীবনবিধানের এক একটি বিশেষ পদ্ধতি। ইসলামি আইনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নির্দেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ মোতাবেক মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।

আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।
২,৬৮৯.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এ সাক্ষী বা ভিকটিমকে হুমকি প্রদানের অপরাধের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর?
  1. যাবজ্জীবন
  2. ৭ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা
ভিকটিম বা মামলার সাক্ষীকে হুমকি প্রদানের দণ্ড (ধারা ১৪, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২):
কোন ব্যক্তি মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি বা মামলার সাক্ষীকে বা তাহার পরিবারের কোনো সদস্যকে হুমকি প্রদান, ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া এই আইনের অধীন রুজুকৃত কোন মামলার তদন্ত বা বিচারকার্যে কোনরূপ গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২,৬৯০.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী "সাইবার স্পেস" এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ইন্টারনেট
  2. টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা
  3. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ক
  4. অফলাইন কম্পিউটার সিস্টেম
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২(১)(শ)-এ "সাইবার স্পেস" এর সংজ্ঞায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “সাইবার স্পেস” অর্থে আন্তঃসংযোগকৃত সকল ডিজিটাল ডিভাইস এবং ডিজিটাল নেটওয়ার্কসমূহের সকল ফিজিক্যাল এবং ভার্চুয়াল জগত বুঝাইবে (যেমন-ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ক, গেইমিং নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেশিন ভিশন, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য সকল আধুনিকতম ইলেকট্রনিক ও অপটিক্যাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে ডাটা তৈরি, ডাটা মিররিং, অ্যাক্সেস, প্রেরণ, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনাসহ সকল ধরনের হিউম্যান ও নন-হিউম্যান অনলাইন কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়; ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার ডাটা, সিগনালিং ডাটা, ট্রাফিক ডাটা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপন্ন ডাটাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

 ⇒ সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট যে সাইবার স্পেসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো "আন্তঃসংযোগকৃত" (interconnected) ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক। একটি অফলাইন কম্পিউটার সিস্টেম কোনো নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত নয়, তাই এটি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়।

২,৬৯১.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে 'right to social security' নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৫
  3. অনুচ্ছেদ ১৬
  4. অনুচ্ছেদ ১৮
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা:
রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়:
(ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা;
(খ) কর্মের অধিকার, অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার;
(গ) যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার; এবং
(ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্য লাভের অধিকার৷

​Article 15: Provision of basic necessities:
It shall be a fundamental responsibility of the State to attain, through planned economic growth, a constant increase of productive forces and a steady improvement in the material and cultural standard of living of the people, with a view to securing to its citizens –
(a) the provision of the basic necessities of life, including food, clothing, shelter, education and medical care;
(b) the right to work, that is the right to guaranteed employment at a reasonable wage having regard to the quantity and quality of work;
(c) the right to reasonable rest, recreation and leisure; and
(d) the right to social security, that is to say, to public assistance in cases of undeserved want arising from unemployment, illness or disablement, or suffered by widows or orphans or in old age, or in other such cases.

২,৬৯২.
যথার্থ দেনমোহর (Proper Dower)-এর আরবি প্রতিশব্দ কী?
  1. মোহরে মুতআ
  2. মোহরে মিসল
  3. মোহরে মুসাম্মা
  4. মোহরে সুন্নাহ
ব্যাখ্যা

• দেনমোহর [Dower]:
বিবাহ বন্ধনের বিনিময়ে স্ত্রী স্বামীর নিকট শরিয়ত সম্মতভাবে যে অর্থ-সম্পদ লাভের অধিকারী হয় সে অর্থ সম্পদকে দেনমোহর বলে। দেনমোহরের পরিমাণ বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় কিংবা বিবাহের পর নির্দিষ্ট করা যায়। বিবাহের পর দেনমোহরের পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায়।

⇒ দেনমোহর প্রথমত দুই প্রকার, যথা-
নির্ধারিত দেনমোহর (fixed/specified dower):
বিবাহের সময় বা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মধ্যে অথবা তাদের পক্ষে যে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় তাকে মোহরে মুসাম্মা বা fixed/specified dower বলে।

যথার্থ দেনমোহর (Proper dower):
বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করা না হলে শরিয়ত অনুযায়ী তা নিরূপিত বলে। গণ্য হবে এবং স্বামীর উপর মোহরে মিসল বা Proper dower বা উপযুক্ত মোহর ওয়াজিব হবে।

⇒ পরিশোধের সময়ের উপর ভিত্তি করে Fixed dower বা নির্ধারিত দেনমোহরকে আবার দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক. তাৎক্ষণিক দেনমোহর (Prompt dower):
যে দেনমোহর স্ত্রী কর্তৃক দাবি করা মাত্রই স্বামী তা দিতে বাধ্য থাকে তা Prompt dower বা তাৎক্ষণিক দেনমোহর বলে। তাৎক্ষণিক দেনমোহরের ক্ষেত্রে স্ত্রী যেকোনো সময় দেনমোহর দাবি করতে পারে, সেক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি অনুসারে স্বামী দেনমোহর পরিশোধ করতে বাধ্য।

খ. বিলম্বিত দেনমোহর (Deferred dower):
যে দেনমোহর বিবাহবিচ্ছেদের সময় বা কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বা ঘটনা সাপেক্ষে পরিশোযোগ্য তাকে বিলম্বিত দেনমোহর বা Deferred dower বলে।

২,৬৯৩.
কোন উৎসটি হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. শ্রুতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
২,৬৯৪.
প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সংরক্ষিত অংশসমূহের শৃঙ্খলামূলক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে কে?
  1. সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সেনাবাহিনী প্রধান
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২(১)(ঘ) অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ ও এর সংরক্ষিত অংশসমূহের শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সংসদের উপর ন্যস্ত হয়েছে। সংসদ আইনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
→ সংসদ প্রতিরক্ষা বাহিনীর শৃঙ্খলা, নিয়োগ, পদোন্নতি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রণয়ন করতে পারে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য পৃথক সেনা আইন, নৌ আইন ও বিমান বাহিনী আইন রয়েছে, যা সংসদ কর্তৃক প্রণীত।
- তবে, সংসদ আইন দ্বারা যে বিধান করবে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর অধীন কর্তৃপক্ষের হাতে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৬২ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি:
(১) সংসদ আইনের দ্বারা নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ নিয়ন্ত্রণ করিবেন: 
(ক) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও উক্ত কর্মবিভাগসমূহের সংরক্ষিত অংশসমূহ গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ; 
(খ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহে কমিশন মঞ্জুরী; 
(গ) প্রতিরক্ষা-বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগদান ও তাঁহাদের বেতন ও ভাতা-নির্ধারণ; এবং 
(ঘ) উক্ত কর্মবিভাগসমূহ ও সংরক্ষিত অংশসমূহ-সংক্রান্ত শৃঙ্খলামূলক ও অন্যান্য বিষয়। 
(২) সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত বিষয়সমূহের জন্য বিধান না করা পর্যন্ত অনুরূপ যে সকল বিষয় প্রচলিত আইনের অধীন নহে, রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা সেই সকল বিষয়ের জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
২,৬৯৫.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা মতবাদের প্রধান পার্থক্য কোন বিষয়ে দেখা যায়?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. স্ত্রীধন
  3. উত্তরাধিকার
  4. বিবাহ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা এই দুই হিন্দু আইন মতবাদের প্রধান পার্থক্য তাদের উত্তরাধিকার নীতি ও পূর্বপুরুষের সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

মিতাক্ষরা মতবাদ (ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার জন্মসূত্রে: সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই পিতৃসম্পত্তিতে তার অধিকার জন্মায়।
যৌথ পরিবার ব্যবস্থা: পরিবার যৌথভাবে সম্পত্তির মালিক হয়।
সহঅংশীদারিত্ব (Coparcenary): পিতা, পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র – এই চার পুরুষ মিলে সহঅংশীদার গঠন করে।

ফলাফল: প্রত্যেক সহঅংশীদারের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে তার ভাগ দাবি করতে পারে।

দায়ভাগা মতবাদ (মূলত বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার মৃত্যুর পর: পিতার মৃত্যুর পরেই পুত্র সম্পত্তিতে অধিকার পায়।
পিতার জীবিত অবস্থায় অধিকার নেই: পিতার জীবিত অবস্থায় সন্তানদের কোনো আইনগত অধিকার থাকে না।
সহঅংশীদারিত্বের সৃষ্টি হয় না: পিতার মৃত্যুর পূর্বে কোনো Coparcenary বা যৌথ মালিকানা গঠিত হয় না।

⇒ অন্যান্য ক্ষেত্রে,
- অভিভাবকত্ব (Guardianship) বিষয়ে উভয় বিদ্যালয় প্রায় একই নীতি অনুসরণ করে।
- স্ত্রীধন (Stridhan) সম্পর্কেও মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র কিছু ক্ষুদ্র পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে স্ত্রীধনের ব্যবস্থাপনা বা সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে এগুলো মূল মতবাদগত পার্থক্য নয়।
-  বিবাহ ব্যবস্থা (Marriage Laws) উভয় বিদ্যালয়ে প্রায় একই নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত। বিবাহ, তার বৈধতা, ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

২,৬৯৬.
A নিলামের মাধ্যমে B-কে একটি ঘোড়া বিক্রি করে। A জানে যে ঘোড়াটি অসুস্থ, কিন্তু B-কে সে কিছু বলে না। এই ক্ষেত্রে, A-
  1. প্রতারণা করেছে
  2. প্রতারণা করে নাই
  3. অযাচিত প্রভাব দেখিয়েছে
  4. ভুল উপস্থাপন করেছে
ব্যাখ্যা
The Contract Act, 1872- ধারা ১৭: "প্রতারণা" (Fraud) এর সংজ্ঞা-
আইন অনুযায়ী, "প্রতারণা (Fraud)" বলতে বোঝায় এমন কিছু কার্যকলাপ যা কোনো চুক্তির এক পক্ষ অথবা তার এজেন্ট বা যোগসাজশে অন্য কেউ, ইচ্ছাকৃতভাবে অপর পক্ষকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে করে - যেন সে প্রতারিত হয়ে চুক্তিতে প্রবেশ করে।

প্রতারণার ধরনগুলো:
১. ভুল তথ্যকে সত্য বলে উপস্থাপন করা, যখন উপস্থাপক জানে বা বিশ্বাস করে না যে তা সত্য।
২. গোপন করা কোনো সত্য, যখন ব্যক্তি সেই তথ্য জানে এবং তা গোপন করে।
৩. মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া, যার উদ্দেশ্য হলো প্রতিশ্রুতি রাখার কোনো ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও অন্যকে প্রতারিত করা।
৪. প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা অন্য যেকোনো কাজ, যা কাউকে প্রতারিত করতে পারে।
৫. আইনে যেসব কাজ প্রতারণা হিসেবে ঘোষিত, সেসব কাজ।

Explanation (ব্যাখ্যা):
শুধু নীরব থাকা বা কোনো কিছু না বলা চুক্তিতে প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তথ্য প্রকাশ করা তার দায়িত্ব হয়, বা সেই নীরবতাই এমন হয়, যা কার্যত প্রতারণার সমান।

উদাহরণ (Illustration):
(a) A নিলামের মাধ্যমে B-কে একটি ঘোড়া বিক্রি করে। A জানে যে ঘোড়াটি অসুস্থ, কিন্তু B-কে সে কিছু বলে না। এই ক্ষেত্রে, A কিছু না বললেও এটি প্রতারণা নয়, কারণ শুধু "নীরব থাকা" প্রতারণা নয়, যদি না আইনি দায়িত্ব থাকে সেটা প্রকাশ করার।
২,৬৯৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ________ অধীন হবেন।
  1. সংবিধানের
  2. আইনের
  3. সংসদের
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১১৮: নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা

(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।

(২) একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া নির্বাচন কমিশন গঠিত হইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাহার সভাপতিরূপে কার্য করিবেন।

(৩) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং
(ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোন ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না;
(খ) অন্য কোন নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।

(৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।

(৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে; তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।

(৬) কোন নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

Article 118: Establishment of Election Commission

(1) There shall be an Election Commission for Bangladesh consisting of 67[the Chief Election Commissioner and not more than four Election Commissioners] and the appointment of the Chief Election Commissioner and other Election Commissioners (if any) shall, subject to the provisions of any law made in that behalf, be made by the President. 
 
(2) When the Election Commission consists of more than one person, the Chief Election Commissioner shall act as the chairman thereof. 

(3) Subject to the provisions of this Constitution the term of office of an Election Commissioner shall be five years from the date on which he enters upon his office, and – 
(a) a person who has held office as Chief Election Commissioner shall not be eligible for appointment in the service of the Republic; 
(b) any other Election Commissioner shall, on ceasing to hold office as such, be eligible for appointment as Chief Election Commissioner but shall not be otherwise eligible for appointment in the service of the Republic. 
 
(4) The Election Commission shall be independent in the exercise of its functions and subject only to this Constitution and any other law. 

(5) Subject to the provisions of any law made by Parliament, the conditions of service of Election Commissioners shall be such as the President may, by order, determine: 
Provided that an Election Commissioner shall not be removed from his office except in like manner and on the like grounds as a Judge of the Supreme Court. 

(6) An Election Commissioner may resign his office by writing under his hand addressed to the President.
২,৬৯৮.
Which of the following courts is competent to try an offence under Section 138 of the Negotiable Instruments Act?
  1. Any Civil Court
  2. Any Magistrate's Court
  3. Court of Sessions
  4. Only Magistrate of First Class
ব্যাখ্যা
Section 141: Cognizance of offences:
Notwithstanding anything contained in the Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898),- 
(a) no court shall take cognizance of any offence punishable under section 138 except upon a complaint, in writing, made by the payee or, as the case may be, the holder in due course of the cheque; 
(b) such complaint is made within one month of the date on which the cause of action arises under clause (c) of the proviso to section 138; 
(c) no court inferior to that of a Court of Sessions shall try any offence punishable under section 138.

ধারা ১৪১-
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (অধিনিয়ম V of 1898)-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নলিখিত বিধান প্রযোজ্য হবে:
(ক) ধারা ১৩৮-এ বর্ণিত অপরাধে কোনো আদালত অভিযোগ গ্রহণ করবে না, যদি না চেকের প্রাপকের (payee) অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যথাযথ ধারক (holder in due course) এর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।

(খ) এই অভিযোগটি অবশ্যই করতে হবে ধারা ১৩৮-এর প্রভিশোর (c) দফার অধীনে কার্য কারণ (cause of action) উদ্ভবের এক মাসের মধ্যে।

(গ) ধারা ১৩৮-এর অধীনে শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ বিচার করতে পারবে না সেশন আদালতের চেয়ে নিম্ন কোনো আদালত।
২,৬৯৯.
'Onerous Gift' কোন আইনের বিধানে প্রযোজ্য?
  1. মুসলিম আইন
  2. হিন্দু আইন
  3. সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১২৭ Onerous Gifts বা কষ্টকর দান (বা বোঝাযুক্ত দান) সম্পর্কে আলোচনা করে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি একই দলিলে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে একাধিক সম্পত্তি দান করেন, যার মধ্যে কিছু সম্পত্তি দাতার জন্য সুবিধাজনক এবং কিছু সম্পত্তি দাতার জন্য বোঝা বা দায়যুক্ত (যেমন, ঋণ বা অন্য কোনো বাধ্যবাধকতা), তবে যাকে দান করা হয়েছে তাকে সম্পূর্ণ দানটিই গ্রহণ করতে হবে। সে কেবল সুবিধাজনক অংশ গ্রহণ করে বোঝা বা দায়যুক্ত অংশ প্রত্যাখ্যান করতে পারে না, যদি না দাতা তাকে সেই সুযোগ দেন।
মুসলিম আইনেও হিবার (হিবা-বিল-এওয়াজ, হিবা-বা-শর্ত-উল-এওয়াজ) কিছু ধারণা আছে যেখানে প্রতিদান বা শর্ত থাকে, কিন্তু Onerous Gift শব্দটি এবং ১২৭ ধারার বিস্তারিত বিধানটি মূলত সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের অংশ। 
যদিও এই আইনের বিধানগুলি হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে যদি তাদের ব্যক্তিগত আইনে সুনির্দিষ্ট ভিন্ন বিধান না থাকে, তথাপি এর মূল ভিত্তি হলো সম্পত্তি হস্তান্তর আইন।
'Onerous Gift' বা দায়যুক্ত দান মূলত গ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন (The Transfer of Property Act, 1882)-এর বিধানে প্রযোজ্য।

- অর্থাৎ "Onerous Gift" বা "বোঝাস্বরূপ দান" সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ (The Transfer of Property Act, 1882)-এর ধারা ১২৭-এ বিধৃত হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো দান এমন শর্তসাপেক্ষে বা এমন সম্পত্তির হয়, যা পালন করতে গৃহীতার উপর আর্থিক দায় বা ব্যয় বর্তায় (যেমন: ঋণগ্রস্ত সম্পত্তি), তাহলে গৃহীতা সেই দান প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। মুসলিম বা হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে "Onerous Gift"-এর সরাসরি ও সুনির্দিষ্ট বিধান এভাবে নেই।
- সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২- এর ১২৭ ধারা: দায়যুক্ত দান (Onerous Gifts) অযোগ্য ব্যক্তির প্রতি দায়যুক্ত দান:
যেখানে একটি দান একই ব্যক্তির কাছে একাধিক জিনিসের একটিমাত্র হস্তান্তরের আকারে করা হয়, যার মধ্যে একটি জিনিস কোনো বাধ্যবাধকতা (বোঝা) দ্বারা ভারাক্রান্ত এবং অন্যগুলি নয়, সেখানে গ্রহীতা দানটি সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ না করলে দানের মাধ্যমে কিছুই নিতে পারে না।
যেখানে একটি দান একই ব্যক্তির কাছে একাধিক জিনিসের দুটি বা ততোধিক পৃথক এবং স্বাধীন হস্তান্তরের আকারে করা হয়, সেখানে গ্রহীতা তাদের একটি গ্রহণ করতে এবং অন্যগুলি প্রত্যাখ্যান করতে স্বাধীন, যদিও প্রথমটি সুবিধাজনক এবং পরেরগুলি দায়যুক্ত হতে পারে।
অযোগ্য ব্যক্তির প্রতি দায়যুক্ত দান:
একজন গ্রহীতা যিনি চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য নন এবং যিনি কোনো বাধ্যবাধকতা দ্বারা ভারাক্রান্ত সম্পত্তি গ্রহণ করেন, তিনি তার সেই গ্রহণের মাধ্যমে বাধ্য (বাউন্ড) হন না। কিন্তু যদি তিনি চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার যোগ্য হওয়ার পর এবং বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন হয়েও প্রদত্ত সম্পত্তিটি ধরে রাখেন বা বজায় রাখেন, তবে তিনি সেই বাধ্যবাধকতা দ্বারা বাধ্য হবেন।
উদাহরণসমূহ:
(ক) 'ক'-এর 'এক্স' (X) নামক একটি সমৃদ্ধ যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে শেয়ার আছে এবং 'ওয়াই' (Y) নামক একটি সমস্যায় জর্জরিত যৌথ মূলধনী কোম্পানিতেও শেয়ার আছে। 'ওয়াই'-এর শেয়ারগুলির জন্য বড় অঙ্কের তলবি অর্থ (calls) প্রত্যাশিত। 'ক' তার সমস্ত যৌথ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার 'খ'-কে দান করে। 'খ' 'ওয়াই'-এর শেয়ারগুলি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। 'খ' 'এক্স'-এর শেয়ারগুলিও নিতে পারে না।
(খ) 'ক'-এর একটি বাড়ি কয়েক বছরের জন্য ইজারা নেওয়া আছে, যার ভাড়া তাকে এবং তার প্রতিনিধিদের ইজারার মেয়াদকালে পরিশোধ করতে হবে এবং যা বাড়িটির ভাড়া দেওয়ার চেয়েও বেশি। 'ক' সেই ইজারাটি 'খ'-কে দেয় এবং একটি পৃথক ও স্বাধীন লেনদেন হিসেবে কিছু অর্থও দেয়। 'খ' ইজারাটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এই অস্বীকারের কারণে 'খ' অর্থ বাজেয়াপ্ত করে না বা হারায় না।

⇒ The Transfer of Property Act, 1882, Section-127. Onerous gifts. Onerous gift to disqualified person.
 Where a gift is in the form of a single transfer to the same person of several things of which one is, and the others are not, burden by an obligation, the donee can take nothing by the gift unless he accepts it fully. 
Where a gift is in the form of two or more separate and independent transfers to the same person of several things, the donee is at liberty to accept one of them and refuse the others, although the former may be beneficial and the latter onerous.
Onerous gift to disqualified person:
A donee not competent to contract and accepting property burdened by any obligation is not bound by his acceptance. But if, after becoming competent to contract and being aware of the obligation, he retains the property given, he becomes so bound. 
 
Illustrations:
(a) A has shares in X, a prosperous joint stock company, and also shares in Y, a joint stock company, in difficulties. Heavy calls are expected in respect of the shares in Y. A gives B all his shares in joint stock companies. B refuses to accept the shares in Y. He cannot take the shares in X. 
(b) A having a lease for a term of years of a house at a rent which he and his representatives are bound to pay during the term, and which is more than the house can be let for, gives to B the lease, and also, as a separate and independent transaction, a sum of money. B refuses to accept the lease. He does not by this refusal forfeit the money. 

২,৭০০.
The Transfer of Property Act, 1882 এর বিধানে বিনা জামানতে ঋণ গ্রহণ করা হলে ঋণদাতার পাওনার যে অধিকার সৃষ্টি হয় তাকে কী বলে?
  1. চার্জ
  2. দান
  3. রেহেন
  4. নালিশযোগ্য দাবী
ব্যাখ্যা

⇒ The Transfer of Property Act, 1882-এর ধারা ৩ অনুসারে, বিনা জামানতে (unsecured) ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ঋণদাতার পাওনার অধিকারকে "Actionable Claim" (নালিশযোগ্য দাবী) বলা হয়। এটি একটি এমন দাবি যা অচল সম্পত্তির মর্টগেজ, চল সম্পত্তির হাইপোথেকেশন বা প্লেজ দ্বারা সুরক্ষিত নয়, এবং যা সিভিল আদালতে মামলা করে আদায় করা যায়।
- অর্থাৎ, যেকোনো অবার্তিত ঋণ (unsecured debt) যা স্থাবর সম্পত্তির বন্ধকী বা চল সম্পত্তির হাইপোথিকেশন/প্লেজ দ্বারা সুরক্ষিত নয়, সেটি একটি "Actionable Claim"।
বিনা জামানতে ঋণের প্রকৃতি:
- যখন ঋণদাতা কোনো সম্পত্তি বন্ধক রাখেন না (যেমন মর্টগেজ, প্লেজ, হাইপোথিকেশন), তখন তার পাওনা শুধুমাত্র আইনি প্রতিকারের অধিকার (right to legal remedy) হিসেবে থাকে।
- এই অধিকার আদালতে দাবি করা যায় (নালিশযোগ্য), কিন্তু এটি কোনো সম্পত্তির উপর সুনির্দিষ্ট অধিকার (যেমন চার্জ বা রেহেন) নয়।
- সঠিক উত্তর: ঘ) নালিশযোগ্য দাবী (Actionable Claim)
কারণ, বিনা জামানতে ঋণদাতার পাওনা শুধুমাত্র আইনি প্রতিকারের অধিকার (right to sue) হিসেবে বিদ্যমান, যা Transfer of Property Act-এর Section 3 অনুযায়ী "Actionable Claim"-এর সংজ্ঞায় পড়ে।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয়:
ক) চার্জ (Charge): Section 100 অনুযায়ী, চার্জ হলো সম্পত্তির উপর একটি নিরাপত্তা স্বার্থ (security interest)। বিনা জামানতে ঋণে কোনো সম্পত্তি জড়িত থাকে না, তাই চার্জ প্রযোজ্য নয়।
খ) দান (Gift): Section 122 অনুযায়ী, দান হলো বিবেচনাবিহীন সম্পত্তি হস্তান্তর। ঋণ একটি বিবেচনামূলক চুক্তি (consideration-based contract), দান নয়।
গ) রেহেন (Rehn): রেহেন হলো একটি সুরক্ষিত লেনদেন (secured transaction), যেখানে ঋণগ্রহীতা সম্পত্তির দখল ঋণদাতার কাছে হস্তান্তর করে। বিনা জামানতে ঋণে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকে না।

- “Actionable claim” means a claim to any debt, other than a debt secured by mortgage of immoveable property or by hypothecation or pledge of moveable property, or to any beneficial interest in moveable property not in the possession, either actual or constructive, of the claimant, which the Civil Courts recognize as affording grounds for relief, whether such debt or beneficial interest be existent, accruing, conditional or contingent:

“a person is said to have notice” of a fact when he actually knows that fact, or when, but for wilful abstention from an inquiry or search which he ought to have made, or gross negligence, he would have known it.

Explanation I.-Where any transaction relating to immoveable property is required by law to be and has been effected by a registered instrument, any person acquiring such property or any part of, or share or interest in, such property shall be deemed to have notice of such instrument as from the date of registration or, where the property is not all situated in one sub-district, or where the registered instrument has been registered under sub-section (2) of section 30 of the Registration Act, 1908, from the earliest date on which any memorandum of such registered instrument has been filed by any Sub-Registrar within whose sub-district any part of the property which is being acquired, or of the property wherein a share or interest is being acquired, is situated;