বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন২,৯৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ২৩ / ৩০ · ২,২০১২,৩০০ / ২,৯৬৪

২,২০১.
A will may be presented for registration:
  1. at any time
  2. immediately after it is made
  3. after the death of the testator
  4. within 6 months after creation
ব্যাখ্যা
Section 27: Wills may be presented or deposited at any time:
A will may at any time be presented for registration or deposited in manner hereinafter provided.

ধারা ২৭- উইল যে কোন সময় দাখিল করা বা জমা দেওয়া যাইবে-
উইল যে কোন সময় নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা যাইবে, অথবা অতঃপর বর্ণিত পদ্ধতিতে জমা দেওয়া যাইবে।

⇒ উইল একমাত্র দলিল, যা দাখিলের জন্য কোন সময়সীমা নাই। উইল গচ্ছিতকরণ অর্থে উইল নিবন্ধীকরণ বুঝায় না।
২,২০২.
আদালত কর্তৃক একজন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪ এর অধীন অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে-
  1. শুধুমাত্র দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন আবশ্যক হবে
  2. শুধুমাত্র সরকারের অনুমোদন আবশ্যক হবে
  3. কমিশন ও সরকার উভয়ের অনুমোদন আবশ্যক হবে
  4. কোনো অনুমোদনেরই আবশ্যকতা নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪ এর অধীনে একজন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশন ও সরকার উভয়ের অনুমোদন আবশ্যক হবে। অর্থাৎ, সঠিক উত্তর গ)।

১. দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন (ধারা ৩২(১)):

"ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না।"
-অর্থাৎ এই ধারা সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রেই (সরকারি কর্মকর্তা সহ) দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করে। এটি একটি সর্বজনীন শর্ত।

২. সরকারের অনুমোদন (ধারা ৩২ক ও ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭):

- ধারা ৩২ক: "ধারা ৩২ এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭ এর বিধান আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করিতে হইবে।"
- ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭(১): "যখন কোনো ব্যক্তি যিনি দণ্ডবিধির ধারা ১৯ এর অর্থে একজন বিচারক, অথবা যখন কোনো ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা যখন কোনো সরকারি কর্মচারী যাকে সরকারের অনুমোদন ব্যতিরেকে তার পদ থেকে অপসারণ করা যায় না, তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয় যা তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে বা দায়িত্ব পালনেরত থাকাকালে কথিত সময় সংঘটিত বলে অভিযোগ করা হয়, তখন কোনো আদালত সরকারের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে এই ধরনের অপরাধের আমল গ্রহণ করবে না।"

- অর্থাৎ এই দুটি বিধান অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন অতিরিক্তভাবে প্রয়োজন। ধারা ৩২ক ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭ কে দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে বাধ্যতামূলক করে।
 
উভয় অনুমোদনের সমন্বয় (ধারা ৩২(২)):
"এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সরকার ও কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনপত্রের কপি মামলা দায়েরের সময় আদালতে দাখিল করিতে হইবে।"
অর্থাৎ "প্রযোজ্য ক্ষেত্রে" শব্দবন্ধটি সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। এটি উভয় অনুমোদনের সমন্বয় নিশ্চিত করে।

অতএব, বলা যায় যে,
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দ্বৈত শর্ত:ধারা ৩২(১): সকল অভিযুক্তের জন্য কমিশনের অনুমোদন আবশ্যক।
ধারা ৩২ক + ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭(১): সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারের অনুমোদন অতিরিক্তভাবে আবশ্যক।
অতএব, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিতে হলে কমিশন ও সরকার উভয়ের লিখিত অনুমোদন আদালতে দাখিল করতে হবে।

সুতরাং, দুর্নীতি দমন আইনের অধীন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে উভয় অনুমোদন প্রয়োজন: 
১) দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন (ধারা ৩২ অনুযায়ী)
২) সরকারের অনুমোদন (ধারা ৩২ক ও ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯৭ অনুযায়ী)
সঠিক উত্তর: গ) কমিশন ও সরকার উভয়ের অনুমোদন আবশ্যক হবে।

২,২০৩.
বাংলাদেশের সকল আদালতে কার বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. অ্যাটর্নি-জেনারেলের
  3. প্রধান বিচারপতির
  4. প্রধানমন্ত্রীর
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৬৪: অ্যাটর্নি-জেনারেল

(১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

Article 64: The Attorney-General

(1) The President shall appoint a person who is qualified to be appointed as a Judge of the Supreme Court to be Attorney-General for Bangladesh.
(2) The Attorney-General shall perform such duties as may be assigned to him by the President.
(3) In the performance of his duties, the Attorney-General shall have the right of audience in all courts of Bangladesh.
(4) The Attorney-General shall hold office during the pleasure of the President, and shall receive such remuneration as the President may determine.
২,২০৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানী করার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১০ বছরের কারাদণ্ড
  4. ৭ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১২ ধারার বিধান: ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তি: 
 - যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত, পা, চক্ষু বা অন্য কোন অঙ্গ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনোভাবে বিকলাঙ্গ বা বিকৃত করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
২,২০৫.
নিবন্ধন অফিসে থাকা কত সময়ের বেশি অদাবিকৃত নথি ধ্বংস করা যেতে পারে?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
The Registration Act, 1908 ধারা ৮৫-:
"নিবন্ধন অফিসে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অদাবিকৃত অবস্থায় পড়ে থাকা নথিপত্র (উইল ব্যতীত) ধ্বংস করা যেতে পারে।"
[Documents (other than wills) remaining unclaimed in any registration office for a period exceeding two years may be destroyed.]
২,২০৬.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(২) এর বিষয়বস্তু কি?
  1. সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত
  2. সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
  3. সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার
  4. নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ২৮: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য-

(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না। 

(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।

(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না। 

(৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

Article 28: Discrimination on grounds of religion, etc.

(1) The State shall not discriminate against any citizen on grounds only of religion, race, caste, sex or place of birth. 
(2) Women shall have equal rights with men in all spheres of the State and of public life. 
(3) No citizen shall, on grounds only of religion, race, caste, sex or place of birth be subjected to any disability, liability, restriction or condition with regard to access to any place of public entertainment or resort, or admission to any educational institution. 
(4) Nothing in this article shall prevent the State from making special provision in favour of women or children or for the advancement of any backward section of citizens.
২,২০৭.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর কত ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যাবলী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. ১৯ ধারায়
  2. ২১ ধারায়
  3. ১৭ ধারায়
  4. ২৩ ধারায়
ব্যাখ্যা
• দেশে দুর্নীতি এবং দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধানকল্পে প্রণীত আইন হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪।
 
ধারা ১৭- কমিশনের কার্যাবলী:
 
কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:- 
 
(ক) তফসিলে উল্লিখিত অপরাধসমূহের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা; 
(খ) অনুচ্ছেদ (ক) এর অধীন অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনার ভিত্তিতে এই আইনের অধীন মামলা দায়ের ও পরিচালনা; 
(গ) দুর্নীতি সম্পর্কিত কোন অভিযোগ স্বউদ্যোগে বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান; 
(ঘ) দুর্নীতি দমন বিষয়ে আইন দ্বারা কমিশনকে অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করা; 
 
(ঙ) দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কোন আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(চ) দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরী করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে করণীয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(ছ) দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়িয়া তোলার ব্যবস্থা করা;
(জ) কমিশনের কার্যাবলী বা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে এমন সকল বিষয়ের উপর সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা ইত্যাদি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা; 
 
(ঝ) আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা এবং তদ্‌নুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করা; 
(ঞ) দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা দায়ের এবং উক্তরূপ অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন পদ্ধতি নির্ধারণ করা; এবং 
(ট) দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যে কোন কার্য সম্পাদন করা৷
২,২০৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা অনুযায়ী, উভয়পক্ষের অনুরোধে আদালত কি করবে?
  1. রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানি করবে
  2. শুনানি স্থগিত রাখবে
  3. উন্মুক্ত কক্ষে শুনানি করবে
  4. মোকদ্দমার কার্যধারা বাতিল করবে
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১২ ধারা: রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার:
(১) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার কার্যধারার সম্পূর্ণ বা কোনো অংশবিশেষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিতে পারিবে।

(২) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কার্যধারা উভয়পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠানের জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন, সেইক্ষেত্রে আদালত উহা রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠান করিবে।
২,২০৯.
অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান বিধান কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ২০
  2. ধারা ২২
  3. ধারা ২৪
  4. ধারা ২৫
ব্যাখ্যা

⇒ অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৫ম পরিচ্ছেদ (বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি) এর অধীনে ধারা ২২-এ মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান ও বিস্তারিত বিধান প্রদান করা হয়েছে। এই ধারার বিভিন্ন উপ-ধারায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্ধারিত হয়েছে:
- মামলা মধ্যস্থতার জন্য প্রেরণের সময় (লিখিত জবাব দাখিলের পর)
- মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের পদ্ধতি
- মধ্যস্থতার সময়সীমা (৬০ দিন + সর্বোচ্চ ৩০ দিন বর্ধিত)
- গোপনীয়তা রক্ষা
- সফল নিষ্পত্তিতে কোর্ট ফি ফেরত
- নিষ্পত্তির আদেশের চূড়ান্ততা ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
ক) ধারা ২০ → এই ধারায় সাধারণত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সংক্রান্ত অন্য বিধান রয়েছে (প্রধান মধ্যস্থতার বিধান নয়)।
গ) ধারা ২৪ → আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত।
ঘ) ধারা ২৫ → ৫ কোটি টাকার অধিক দাবির মধ্যস্থতা প্রতিবেদনের অনুমোদন সংক্রান্ত।

- সুতরাং মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান বিধান ধারা ২২-এ রয়েছে।

২,২১০.
The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের [Commissioner of Division] নিকট আপিলের তামাদির মেয়াদ-
  1. ত্রিশ দিন
  2. ষাট দিন
  3. নব্বই দিন
  4. ছয় মাস
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৭ ধারার বিধান আপিল:
- এই ভাগ বা এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালাতে আপিলের বিশেষ বিধানসাপেক্ষে, এই ভাগের অধীন রাজস্ব কর্মকর্তার প্রত্যেক মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নরূপভাবে আপিল করা যাইবে, যথা:
(ক) কালেক্টরের অধস্তন রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, কালেক্টরের নিকট;
(কক) বিভাগের মধ্যে জেলার কালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, বিভাগীয় কমিশনারের নিকট; এবং
(গ) বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হইলে, ভূমি প্রশাসন বোর্ডএর নিকট

The State Acquisition and Tenancy Act 1950 এর ১৪৮ ধারার বিধান আপিল: আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ:
- ধারা ১৪৭ অনুযায়ী আপিলের জন্য তামাদির মেয়াদ যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় সেই আদেশের তারিখ হইতে চলিতে থাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ হইবে, অর্থাৎ-
       (ক) কালেক্টরের নিকট আপিল__________ত্রিশ দিন।
       (খ) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল________ষাট দিন। 
       (খখ)ভূমি প্রশাসন বোর্ড এর নিকট আপিল___________নব্বই দিন।

-----------
- Section 147. Appeals:
-Subject to any special provisions for appeal made in this Part or in any rules made under this Act, an appeal shall lie from every original or appellate order made under any of the provisions of this Part by a Revenue-officer as follows, namely:- 
(a) to the Collector, when the order is made by a Revenue-officer subordinate to the Collector; 
(aa) to the Commissioner of the division, when the order is made by the Collector of a district within the division; and
(c) to the Board of Land Administration, when the order is made by the Commissioner of a division.

- Section 148. Limitation for appeals:

- The period of limitation for an appeal under section 147 shall run from the date of the order appealed against and shall be as follows, that is to say- 
 (a) when the appeal lies to the Collector .............................. thirty days. 
(b) when the appeal lies to the Commissioner of a division ............ sixty days.
(bb) when the appeal lies to the Board of Land Administration ........................ ninety days.
২,২১১.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন বিচারের স্থান হতে পারে-
  1. যে স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল
  2. যে স্থানে অভিযোগকারী বাস করে
  3. যে স্থানে আসামী বাস করে
  4. উল্লিখিত সকল স্থান
ব্যাখ্যা
• মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১

ধারা ১১ক- বিচারের স্থান
সাময়িকভাবে বলবৎ অন্য কোন আইনে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত কোন অপরাধ ঐ আদালত কর্তৃকই বিচার্য হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে-
ক) অপরাধটি সংঘটিত হইয়াছিল,
খ) অভিযোগকারী বা আসামী বাস করে বা সর্বশেষ বাস করিয়াছিল।

Section 11A- Place of trial
Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, an offence under this Ordinance shall be tried by a Court within the local limits of whose jurisdiction- 
(a) the offence was committed; or 
(b) the complainant or the accused resides or last resided.
২,২১২.
The Special Powers Act, 1974 এর ১৩ ধারার বিধান কী?
  1. Sabotage
  2. Revocation of detention orders
  3. Temporary release of persons detained
  4. Detention orders not to be invalid or inoperative on certain grounds
ব্যাখ্যা
⇒ Section 13 of The Special Powers Act, 1974- Revocation of detention orders:
A detention order may, at any time, be revoked or modified by the Government.
-------------------------
বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ১৩ ধারার বিধান: আটক আদেশ প্রত্যাহার: সরকার যেকোন সময় আটক আদেশ প্রত্যাহার বা সংশোধন করতে পারবেন।
২,২১৩.
The Transfer of Property Act, 1882 এর ধারা ৭১ মূলত কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. বন্ধক মুক্তকরণ
  2. বন্ধকীকৃত সম্পত্তির বিক্রয়
  3. বন্ধকীকৃত ইজারার নবায়ন
  4. বন্ধকীকৃত সম্পত্তির দখল
ব্যাখ্যা

The Transfer of Property Act, 1882 এর ধারা ৭১: বন্ধকীকৃত ইজারা নবায়ন:
যখন বন্ধকীকৃত সম্পত্তি একটি ইজারা হয় এবং বন্ধকদাতা উক্ত ইজারার নবায়ন গ্রহণ করেন, তখন বিপরীত কোনো চুক্তি না থাকিলে, বন্ধকগ্রহীতা নিরাপত্তার স্বার্থে উক্ত নতুন ইজারার অধিকারী হইবেন।

Renewal of mortgaged lease:
When the mortgaged property is a lease, and the mortgagor obtains a renewal of the lease, the mortgagee, in the absence of a contract to the contrary, shall, for the purposes of the security, be entitled to the new lease.

২,২১৪.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা কত?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ধারা ৩০: আপিল এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন:
(১) বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ড আরোপ বা প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করা যাইবে।

(২) যেক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কোনো মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে উহার কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরণ করিতে হইবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর করা যাইবে না।
২,২১৫.
Which two main sects exist among Muslims?
  1. Hanafi and Shafi
  2. Sunni and Shia
  3. Maliki and Hanbali
  4. None of them
ব্যাখ্যা
ইসলামী আইনের স্কুলসমূহ:
মুসলিমদের মধ্যে দুটি প্রধান মতবাদ রয়েছে। তারা হলো সুন্নি এবং শিয়া। বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম সুন্নি সম্প্রদায়ের অনুসারী।
সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে চারটি প্রধান ইমাম আছেন, যাদের মাধ্যমে চারটি ভিন্ন চিন্তাধারার সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলি হলো:
১. হানাফি ২. শাফি ৩. মালিকি ৪. হানবালি

সুন্নি এবং শিয়া মুসলিমদের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল, তারা বিশ্বাস করেন কি না যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার উত্তরাধিকারী হিসাবে কাউকে নির্ধারণ করেছিলেন।
সুন্নি মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কোন উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেননি, তবে শিয়া মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার চাচাতো ভাই এবং জামাই হজরত আলী (রাঃ) কে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।
২,২১৬.
সম্প্রতি, হাইকোর্টের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে কোন অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়?
  1. ১৪১ অনুচ্ছেদ
  2. ১৪২ অনুচ্ছেদ
  3. ১৪৩ অনুচ্ছেদ
  4. ১৪৪ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
- এই সংশোধনীতে ৫৪টি পরিবর্তন আনা হয়েছিলো।

গুরত্বপূর্ণ কিছু সংশোধনী:
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল;
• সংরক্ষিত মহিলা আসন ৪৫ থেকে ৫০ করা;
• জরুরী অবস্থার মেয়াদ অনধিক ১২০ দিন করা হয়;
• সংবিধানে নতুন তিনটি তফসিল যুক্ত করা হয়- যথা পঞ্চম, ষষ্ঠ, ও সপ্তম।

উল্লেখ্য,
⇒ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আংশিক অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
- বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
- রায়ে আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করে।
২,২১৭.
'A Contract is an agreement creating and defining obligations between the parties.' চুক্তি সম্পর্কিত এই মতবাদটি কার?
  1. Frederik Pollock
  2. Rousseau
  3. Salmond
  4. John Locke
ব্যাখ্যা
⇒ চুক্তি (Contract): সম্মতি থেকেই চুক্তির উৎপত্তি হয়ে থাকে। দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোন কার্য করা বা করা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে একমত বা সম্মত হতে পারে, আইনের সাহায্যে বলবৎযোগ্য এরূপ সম্মতিই চুক্তি।
 চুক্তির ক'টি উল্লেখযোগ্য সংজ্ঞা হলো:
১. বাংলাদেশে বলবৎযোগ্য চুক্তি আইনের ২ (জ) ধারায় বলা হয়েছে আইনের সাহায্যে বলবৎযোগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে। ('An agreement enforceable by law is a contract' (Sec 2(H), Contract Act. 1872)
২. Frederik Pollock এর মতে আইনের সাহায্যে বলবৎযোগ্য প্রত্যেকটি সম্মতি ও প্রতিশ্রুতিকে চুক্তি বলে। ('Every agreement and promise enforceable at law is a contract'.)
৩. Salmond এর মতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দায় সৃষ্টি এবং নির্দিষ্ট করে যে সম্মতি সাধিত হয় তাকে চুক্তি বলে। ('A Contract is an agreement creating and defining obligations between the parties.")

উপরের সংজ্ঞাগুলো আলোচনা করে বলা যায় যে চুক্তির মৌলিক বৈশিষ্ট্য ২টি :-
১. একটি সম্মতি থাকবে (One agreement); এবং
২. সম্মতিটি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হবে (It is enforceable by law).
২,২১৮.
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর কত ধারায় কালেক্টরের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ২(৩) ধারায়
  2. ২(৫) ধারায়
  3. ২(৭) ধারায়
  4. ২(৯) ধারায়
ব্যাখ্যা
কালেক্টর [Collector]

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ এবং প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ২(৩) ধারায় কালেক্টরের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কালেক্টর বলতে জেলার কালেক্টর এবং ডেপুটি কমিশনার এবং এই আইনের অধীনে একজন কালেক্টরের সকল অথবা যে কেন দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারে এইরুপ অন্যান্য কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং, কালেক্টর বলতে-
i. জেলার কালেক্টর; এবং
ii. ডেপুটি কমিশনার; এবং
III. এই আইনের অধীনে একজন কালেক্টরের সকল অথবা যে কোন দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারে এইরুপ অন্যান্য কর্মকর্তা; অন্তর্ভুক্ত হবে।
২,২১৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের বিধান আছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৬
  2. অনুচ্ছেদ ৯৭
  3. অনুচ্ছেদ ৯৮
  4. অনুচ্ছেদ ৯৯
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ৯৮- সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ:
সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির নিকট সুপ্রীম কোর্টের কোন বিভাগের বিচারক-সংখ্যা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি করা উচিত বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে অনধিক দুই বৎসরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবেন, কিংবা তিনি উপযুক্ত বিবেচনা করিলে হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারককে যে কোন অস্থায়ী মেয়াদের জন্য আপীল বিভাগের আসন গ্রহণের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, অতিরিক্ত বিচারকরূপে নিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে এই সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের অধীন বিচারকরূপে নিযুক্ত হইতে কিংবা বর্তমান অনুচ্ছেদের অধীন আরও এক মেয়াদের জন্য অতিরিক্ত বিচারকরূপে নিযুক্ত হইতে বর্তমান অনুচ্ছেদের কোন কিছুই নিবৃত্ত করিবে না।

২,২২০.
অকৃষি প্রজাকে কোর্ফা পত্তন থেকে কোন ধারা নিষিদ্ধ করে?
  1. NAT Act, 1949 এর ৯৩ ধারা
  2. SAT Act, 1950 এর ২৬ ধারা
  3. NAT Act, 1949 এর ২৬ক ধারা
  4. SAT Act, 1950 এর ৯৩ ধারা
ব্যাখ্যা
NAT Act, 1949 ধারা ২৬ক: কোর্ফা পত্তন নিষিদ্ধ (Bar to Sub-let):
(১) এই আইন, বা প্রচলিত অন্য কোনো আইন, কিংবা কোনো চুক্তিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, কোনো অকৃষি প্রজা (non-agricultural tenant) তার ভাড়া নেওয়া জমির পুরোটা বা কোনো অংশ অন্য কাউকে কোর্ফা পত্তন দিতে পারবে না- যে কোনো শর্তেই হোক না কেন।

(২) যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তার ভাড়াকৃত জমি বা তার কোনো অংশ কোর্ফা পত্তন করে, তাহলে-
- সেই প্রজার জমির ওপর অধিকার বাতিল (extinguished) হয়ে যাবে।
- এবং সেই জমি বা তার অংশ সকল দায়-দেনা মুক্তভাবে সরকার (প্রাদেশিক সরকার)-এর অধীনে চলে যাবে।
২,২২১.
According to Section 9 of the Transfer of Property Act, property can be transferred orally when:
  1. Both parties agree
  2. The value is below tk 100
  3. The property is movable
  4. The law does not require it to be in writing
ব্যাখ্যা
• Section 9: Oral transfer-
A transfer of property may be made without writing in every case in which a writing is not expressly required by law.

ধারা ৯: মৌখিক হস্তান্তর-
যে সকল ক্ষেত্রে লিখিত হওয়ার আবশ্যকতা আইন দ্বারা প্রত্যক্ষ ভাবে উল্লেখ করা হয় নাই, সে সকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ছাড়াই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে।

মৌখিক হস্তান্তর (Oral transfer):
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৯ ধারায় বলা হয়েছে, যেসকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিলের আবশ্যকতা আইনে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয় নাই, সেসকল ক্ষেত্রে লিখিত দলিল ছাড়াই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যেতে পারে। রেজিস্ট্রেশন আইন সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের পরিপূরক। সুতরাং যে সকল হস্তান্তরে রেজিস্ট্রেশনের বিধান রয়েছে, তা মৌখিক ভাবে হস্তান্তর করা যায় না। এক্ষেত্রে বলা যায়, যে সকল সম্পত্তির হস্তান্তর লিখিত দলিলের মাধ্যমে হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং যে সকল হস্তান্তরের জন্য রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই সে সকল হস্তান্তর মৌখিক ভাবে করা যায়।
২,২২২.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীনে সংঘটিত অপরাধ কোন আদালতে বিচারযোগ্য হবে?
  1. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে
  2. শুধুমাত্র হাইকোর্টে
  3. যেকোন দায়রা আদালতে
  4. আইনের অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালে
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২১: মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন:
(১) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের দ্রুত বিচারের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারকের সমন্বয়ে যেকোন জেলায় মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারিবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠিত না হওয়া পর্যন্ত, সরকার প্রত্যেক জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালকে উক্ত জেলার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল হিসাবে নিয়োগ (assign) বা ক্ষমতায়িত করিতে পারিবে। 

(৩) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের বিচার কেবল এই আইনের অধীন গঠিত ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হইবে। 

(৪) যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে কোন অপরাধ বা উহার অংশবিশেষ সংঘটিত হইয়াছে অথবা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিকে যে অঞ্চল হইতে উদ্ধার করা হইয়াছে বা তিনি যে অঞ্চলের অধিবাসী সেই আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে। 

(৫) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাহিরে বাংলাদেশী কোন নাগরিক বা কোম্পানী অথবা স্বভাবতঃ বাংলাদেশে আবাসী (habitually resident in Bangladesh) এমন কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে, তিনি যেই ট্রাইব্যুনালে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রের অধিবাসী ছিলেন অথবা কোম্পানীর ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানীর নিবন্ধিত অফিস (registered office) যে আঞ্চলিক অধিক্ষেত্রে ছিল, সেই ট্রাইব্যুনাল উক্ত অপরাধের বিচার করিতে পারিবে।
২,২২৩.
মুসলিম আইন অনুযায়ী, স্বামী কি স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করতে বাধ্য?
  1. না, এটি ইচ্ছাধীন
  2. হ্যাঁ, তবে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব
  3. না, তবে স্ত্রীর ইচ্ছা হলে দিতে হবে
  4. হ্যাঁ, এটি তার ধর্মীয় ও আইনগত দায়িত্ব
ব্যাখ্যা
নাফাকা (Nafaqa) মুসলিম আইন অনুসারে:
নাফাকা (Nafaqa) শব্দটি আরবি "نفقہ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো জীবিকা বা ভরণপোষণ, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি প্রদান। মুসলিম আইন অনুসারে, নাফাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য যা পরিবারিক জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য স্বামী, বাবা বা অভিভাবককে প্রদান করতে হয়। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নাফাকায় অন্তর্ভুক্ত।

মুসলিম আইনে নাফাকার বিবরণ:
মুসলিম শরিয়াহ অনুসারে, স্বামীর প্রধান দায়িত্ব হলো তার স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান। এটি স্বামীর আইনি ও ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্বশীল। নাফাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় সাধারণত স্বামী ও স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে। স্বামী যদি ধনী হয়, তবে স্ত্রীর জন্য তার ভরণপোষণও বেশি হতে পারে। যদি স্বামী দরিদ্র হয়, তবে স্ত্রীর নাফাকা তার আর্থিক সামর্থ্য অনুসারে নির্ধারিত হবে। সাধারণভাবে, নাফাকা এমনভাবে নির্ধারিত হবে যেন স্ত্রীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে, এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হয়।

স্ত্রীর অধিকার:
যদি কোনো স্ত্রীর কাছে স্বামীর অর্থনৈতিক সহায়তা বা নাফাকা প্রদান না করা হয়, তবে সে আদালতে নাফাকা চেয়ে মামলা করতে পারে। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, স্ত্রীর জন্য নাফাকা একটি মৌলিক অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। তালাকের পর, ইদ্দতকালে স্ত্রীর জন্য নাফাকা প্রদান করাটা স্বামীর কর্তব্য।
২,২২৪.
হিন্দু আইনে দানের বৈধতা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য
  4. উল্লিখিত সবগুলাই সঠিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে। 

→ হিন্দু আইনে, দানের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার আগে, দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল পেতে হবে। দানের বিষয়বস্তুর দখল দেওয়া ছাড়া দান কার্যকর হয় না।
- হিন্দু আইনে, দান সম্পন্ন হওয়ার জন্য দানগ্রহীতাকে সম্পত্তির দখল নিতে হবে। দান কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন। দানের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর ঘটে, তবে দানের বিষয়বস্তুর দখল নিলে তবেই সেটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে পূর্ণ হয়।

বাকি অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: এটি সঠিক নয়, কারণ মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দান হিন্দু আইনে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
গ) দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য: এটি সঠিক নয়, কারণ একবার দান করার পর তা প্রত্যাহার করা যায় না।

২,২২৫.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ১৪ ধারায় কোন বিষয়ে বিধান রয়েছে?
  1. জামিন সংক্রান্ত বিধান
  2. ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
  3. আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার
  4. ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ১৪- ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা ইত্যাদির সাক্ষ্যমূল্য:
কোন পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি এই আইনে বর্ণিত কোন অপরাধ সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনে সহায়তা সংক্রান্ত কোন ঘটনার চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোন কথাবার্তা বা আলাপ আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে উক্ত চলচ্চিত্র বা স্থিরচিত্র বা টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধের বিচারে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।
২,২২৬.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর কত ধারায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান আছে?
  1. ২১(৪) ধারায়
  2. ২২(৪)  ধারায়
  3. ২৩(৪)  ধারায়
  4. ২৪(৪)  ধারায়
ব্যাখ্যা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২৪: সাক্ষীর উপস্থিতি:
(১) এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারের জন্য সাক্ষীর সমন বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাক্ষীর সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা যে থানায় অবস্থিত, সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত সাক্ষীকে উক্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করিবার দায়িত্ব উক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার থাকিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান সত্ত্বেও সাক্ষীর সমনের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সাক্ষীকে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার বা, ক্ষেত্রমত, পুলিশ কমিশনারকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সমেত নিবন্ধিত ডাকযোগে প্রেরণ করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন কোন সমন বা ওয়ারেন্ট কার্যকর করিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি করিলে ট্রাইব্যুনাল উহাকে অদক্ষতা হিসাবে চিহ্নিত করিয়া সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) কোন ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে কিংবা ট্রাইব্যুনাল স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করিলে যে কোন দূরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য, এ সম্পর্কিত বলবৎ আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রহণ করিতে পারিবে এবং এতদুদ্দেশ্যে সরকার এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালকে তথ্যপ্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করিবে।

২,২২৭.
জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি কীভাবে পেশ করা হয়?
  1. গেজেট আকারে
  2. সংসদের গোপন বৈঠকে
  3. প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে
  4. মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি:
বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।
২,২২৮.
আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের অভিজ্ঞতা ন্যূনতম কত বছর হতে হবে?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৭ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ১৫ এবং আইনগত সহায়তা প্রদান প্রবিধানমালা, ২০১৫ অনুযায়ী, আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের ন্যূনতম অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্টভাবে:
- ধারা ১৫(১): সুপ্রিম কোর্ট কমিটি সুপ্রিম কোর্টের মামলার জন্য এবং জেলা কমিটি জেলা আদালতের মামলার জন্য আইনজীবীদের তালিকা তৈরি করবে। এই তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের ন্যূনতম ৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজদের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিলযোগ্য।
- ধারা ১৫(২): বিশেষ কমিটি (যেমন শ্রম আদালত বা চৌকি আদালতের জন্য) তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের জন্যও ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
- আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং প্রবিধানমালা, ২০১৫ এও এই শর্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।

- তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মহিলা আইনজীবী অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়, যদি উপযুক্ত মহিলা আইনজীবী পাওয়া যায় (ধারা ১৫(৩))।
- আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থীর পছন্দকেও বিবেচনা করা হয়।
- অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা যেতে পারে, যা আইনের একটি বিশেষ বিধান।

অর্থাৎ আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের ন্যূনতম ৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যা ধারা ১৫ এবং সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখিত। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) ৫ বছর।

২,২২৯.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ 'গৃহে নিরাপত্তা লাভের' অধিকার নিশ্চিত করে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪০
  2. অনুচ্ছেদ ৪১
  3. অনুচ্ছেদ ৪২
  4. অনুচ্ছেদ ৪৩
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৩ নাগরিকদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করে:
- গৃহে নিরাপত্তার অধিকার (তল্লাশি বা আটক হতে নিরাপদ থাকা);
- যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা (চিঠিপত্র ও অন্যান্য মাধ্যমের গোপনীয়তা);

অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ:
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের-
(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকিবে; এবং
(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকিবে।

২,২৩০.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর অধীন প্রতিরোধমূলক তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনার কত ঘন্টার মধ্যে তল্লাশির কারণ ও ফলাফল সম্বলিত বিবরণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হয়?
  1. ৪৫ ঘন্টা
  2. ৭২ ঘন্টা
  3. ৬০ ঘন্টা
  4. ১২ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২০(৪) অনুসারে: "তল্লাশী সম্পাদনের ৭২ (বাহাত্তর) ঘন্টার মধ্যে তল্লাশী কার্যে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা তল্লাশীর কারণ এবং ফলাফলের বিবরণ সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরী করিবেন..."
অর্থাৎ, প্রতিরোধমূলক তল্লাশি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ৭২ ঘন্টার (৩ দিনের) মধ্যে তল্লাশির কারণ ও ফলাফল সম্বলিত বিবরণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হয়।

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ২০: প্রতিরোধমূলক তল্লাশী এবং আটক:
(১) কোন মানব পাচার অপরাধ প্রতিরোধকল্পে, উপ-পরিদর্শকের নিম্ন পদমর্যাদার নহেন, এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা তাহার ঊর্ধ্বতন নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে বা নির্দেশে এই আইনের অধীন প্রতিরোধমূলক তল্লাশী করিবার, যে কোন আঙ্গিনায় প্রবেশ করিবার এবং এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে এমন সরঞ্জামাদি বা তথ্য-প্রমাণ বা দলিল আটক করিবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তির সহিত অথবা কোন স্থানে এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের উপযোগী সরঞ্জাম বা উপাদান উপস্থিত আছে এবং তল্লাশী পরোয়ানা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে অপরাধটি প্রকৃতই সংঘটিত হইবার বা কোন সাক্ষ্য প্রমাণ নষ্ট হইবার যুক্তিসঙ্গত কারণ বিদ্যমান থাকিলে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিনা পরোয়ানায় তল্লাশী করা যাইবে এবং তল্লাশী চালাইবার পূর্বে তল্লাশীর জন্য প্রস্ত্তত অফিসার যেই স্থানে তল্লাশী চালাইবেন উক্ত স্থানটি যেই এলাকায় অবস্থিত সেই এলাকার দুই বা ততোধিক সম্মানিত অধিবাসীকে তল্লাশীতে হাজির থাকিতে ও উহার সাক্ষী হইতে আহবান জানাইবেন এবং উক্ত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশী চালাইতে হইবে এবং উক্ত অফিসার তল্লাশীর সময় জব্দকৃত সমস্ত সামগ্রী এবং যেই সকল স্থানে উক্ত সামগ্রীসমূহ পাওয়া গিয়াছে তাহাদের একটি তালিকা প্রস্ত্তত করিবেন এবং উহাতে সাক্ষীগণের স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন।
(৩) ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১০৩ এর বিধানের আলোকে এবং যেই ব্যক্তির শরীর বা সম্পত্তিতে তল্লাশী চালানো হইবে তাহার মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক উপ-ধারা (১) এর অধীন তল্লাশী সম্পাদন করিতে হইবে এবং, বিশেষতঃ, কোন নারীর বিরুদ্ধে তল্লাশী পরিচালনা করা হইলে তল্লাশী দলের সহিত অবশ্যই একজন নারী কর্মকর্তা বা নারী প্রবেশন কর্মকর্তা থাকিবেন।
(৪) তল্লাশী সম্পাদনের ৭২ (বাহাত্তর) ঘন্টার মধ্যে তল্লাশী কার্যে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা তল্লাশীর কারণ এবং ফলাফলের বিবরণ সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরী করিবেন এবং তাহার অনুলিপি ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনো উপায়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এবং একই সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিবে, যাহা ট্রাইব্যুনালের হেফাজতে রক্ষিত থাকিবে এবং উক্ত কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যাহার বিরুদ্ধে তল্লাশী পরিচালিত হইয়াছে তাহাকে প্রতিবেদনের একটি করিয়া অনুলিপি প্রদান করিতে হইবে।

২,২৩১.
মুসলিম উত্তরাধিকার সম্পর্কে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না
  2. হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না।
  3. জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
  4. তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
ব্যাখ্যা
- মুসলিম উত্তরাধিকার অনুযায়ী 'তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীর সন্তান ওয়ারিশ হবে না' এই কথাটি সত্য নয়।
অর্থাৎ স্ত্রীকে তালাক দিলেও ঐ স্ত্রীর সন্তানগুলো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না।

⇒ যারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে:
(১) কোনো মুসলিম কোনো অমুসলিমের ওয়ারিশ হবে না এবং কোনো অমুসলিম কোনো মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না।
(২) হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির ওয়ারিশ হবে না। (এ বিধির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, কেউ তাড়াতাড়ি উত্তরাধিকার পাওয়ার জন্য যেন কাউকে হত্যা করতে উদ্যত না হয় সেজন্যই এ বিধি প্রণীত হয়েছে।)
(৩) জারজ সন্তান ওয়ারিশ হবে না।
২,২৩২.
রেজিস্ট্রেশন অফিসে উইল ছাড়া অন্য ডকুমেন্ট সংরক্ষণের সর্বোচ্চ মেয়াদ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী কত বছর? 
  1. ৭ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর 
ব্যাখ্যা

⇒ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৮৫ (Section 85) অনুযায়ী:
“Documents (other than wills) remaining unclaimed in any registration office for a period exceeding two years may be destroyed.”
অর্থাৎ, উইল ব্যতীত অন্য যেকোনো দলিল যদি ২ বছরের বেশি সময় ধরে রেজিস্ট্রেশন অফিসে অনাদায়ী (unclaimed) অবস্থায় থাকে, তাহলে তা ধ্বংস (destroy) করা যেতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে ২ বছর পরই সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে—এটা হলো সর্বনিম্ন সংরক্ষণকাল, এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে তা নষ্ট করতে পারেন।

→ অতএব, ধারা ৮৫ অনুযায়ী, উইল ছাড়া অন্য ডকুমেন্ট ২ বছরের বেশি অদাবিকৃত থাকলে ধ্বংস করা যেতে পারে।

২,২৩৩.
কমপক্ষে কয় জন সাক্ষী দ্বারা স্থাবর সম্পত্তির দান প্রত্যায়িত হতে হবে?
  1. এক জন
  2. দুই জন
  3. তিন জন
  4. নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই
ব্যাখ্যা
⇒সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারার বিধান: দান হস্তান্তর পদ্ধতি:
- স্থাবর সম্পত্তির দান অবশ্যই দাতা কর্তৃক বা তার পক্ষে স্বাক্ষরিত, কমপক্ষে দুই জন সাক্ষী দ্বারা প্রত্যায়িত এবং নিবন্ধন করতে হবে। মুসলিম আইনের অধীন হেবা স্থাবর সম্পত্তির দান বলে গণ্য হবে এবং নিবন্ধন করতে হবে। অস্থাবর সম্পত্তির দান নিবন্ধন অথবা শুধু দখল অর্পনের মাধ্যমে কার্যকর করা যায়।
------------------------------
⇒Transfer of Property Act, Section 123: Transfer how effected:
-For the purpose of making a gift of immoveable property, the transfer must be effected by a registered instrument signed by or on behalf of the donor, and attested by at least two witnesses.
- Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force, a heba under Muhammadan law shall be deemed to be a gift of immoveable property for the aforesaid purpose.For the purpose of making a gift of moveable property, the transfer may be effected either by a registered instrument signed as aforesaid or by delivery. Such delivery may be made in the same way as goods sold may be delivered.
২,২৩৪.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান কারণ কী?
  1. ধর্মীয় ও পার্থিব
  2. সামাজিক ও আইনি
  3. পার্থিব ও অর্থনৈতিক
  4. ধর্মীয় ও আইনি
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
২,২৩৫.
"Amicus Curiae" এর অর্থ কী?
  1. আদালতের বন্ধু
  2. বাদী পক্ষের বন্ধু
  3. আদালতের বিচারক
  4. বিবাদীর আইনজীবী
ব্যাখ্যা
Amicus Curiae হল ''friend of the court'' আদালতের বন্ধু।
- যিনি আইন বা বাস্তবতার প্রশ্ন সম্পর্কিত তথ্য বা পরামর্শ প্রদান করে আদালতকে সহায়তা করেন।
- অনেক সময় দেখা যায় বিজ্ঞ আদালত কোন জটিল মামলার রায়ের ব্যাপারে আইন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়েন।
- সে ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালত এক বা একাধিক অভিজ্ঞ এ্যাডভোকেট মহোদয়কে নিয়োগ প্রদান করতে পারেন। উক্ত ব্যক্তিগণ ঐ সমস্যার সমাধান তাদের নিজের অভিজ্ঞতা ও আইনের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করেন অতঃপর তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আদালতের নিকট অবহিত করেন।
২,২৩৬.
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত অধ্যাদেশ কত দিনের মধ্যে সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা না হলে বিলুপ্ত হয়ে যাবে? অধ্যাদেশ জারীর-
  1. তারিখ থেকে নব্বই দিন
  2. তারিখ থেকে ছয় মাস
  3. পর প্রথম সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিন হতে ত্রিশ দিন
  4. পর প্রথম সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের তারিখ হতে ত্রিশ দিন
ব্যাখ্যা
• সাধারণত যখন সংসদ অকার্যকর থাকে অথবা যখন সংসদের অধিবেশন বন্ধ থাকে তখন রাষ্ট্রের জরুরী প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি নিজের একক ক্ষমতাবলে যে আইন জারী করে তাকে অধ্যাদেশ বলে।

• সংবিধানের ৯৩(১) উপ - অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি দু' অবস্থায় অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
প্রথমত, সংসদের কোন অধিবেশন না থাকলে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন

কোনো অধ্যাদেশ জারির পূর্বে যদি তা ইতঃপূর্বে বাতিল না হয় তাহলে সংসদের পরবর্তী প্রথম অধিবেশনে সেটি উপস্থাপিত হতে হবে এবং উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অনুমোদন না দিলে অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।

অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:

 (১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত] কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,

(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।

(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।
২,২৩৭.
মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে কয় শ্রেণির উত্তরাধিকারীরা কখনো বঞ্চিত হয় না?
  1. ৪ শ্রেণির
  2. ৩ শ্রেণির
  3. ৫ শ্রেণির
  4. ৬ শ্রেণির
ব্যাখ্যা
উত্তরাধিকার [Inheritance]:

মুসলিম আইনে সম্পদ বণ্টন একমাত্র মৃত্যুর পরেই কোন ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারীগণের অধিকার সৃষ্টি হয়, মৃত্যুর পূর্বে নয়। একজন সুন্নি মুসলমানের বৈধ ওয়ারিশগন মূলতঃ দুই প্রকার। যথা:

১) প্রধান শ্রেণি (Principal Hairs);
২) অপ্রধান শ্রেণি (Secondary Hairs)।

⇒ প্রধান শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নিম্নে বর্ণিত ব্যক্তিরা কখনো উত্তরাধিকার বঞ্চিত হয় না:

১/ স্বামী
২/ স্ত্রী
৩/ পিতা
৪/ মাতা
৫/ পুত্র ও
৬/ কন্যা- এই ৬ শ্রেনীর উত্তরাধিকারী কখনো বঞ্চিত হয় না।
২,২৩৮.
“Obiter Dictum” হচ্ছে-
  1. রায়ের ভিত্তি
  2. আদালতের উপর বাধ্য
  3. Precedent হিসেবে কাজ করে
  4. বিচারকের প্রসঙ্গক্রমে বলা কথা
ব্যাখ্যা
• একটি Judgment -এর চারটি অংশ থাকে; যথা-
০১. A concise statement of fact;
০২. Point of determination or issue;
০৩. Reason behind the judgment;
০8. The decision thereon;

আদালতের Reasoning- কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
i. Ratio decidendi;
ii. Obiter Dictum;

Ratio decidendi-
সেই সব Legal Basis বা Legal Principles যেগুলোর উপর ভিত্তি করে আদালত রায় প্রদান করে। Precedent হিসেবে Ratio decidendi এর binding force আছে। নজির হিসেবে আদালত মানতে বাধ্য।

Obiter Dictum-
"A thing said by the way" অর্থাৎ মামলার রায়ের এমন অংশকে বোঝায়, যেটা মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিচারক যেটা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের সময় বিচারক প্রসঙ্গক্রমে যে সব কথা বলেন, তাই Obiter Dictum এর binding force নেই তবে, persuasive value আছে।
২,২৩৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারী করতে পারেন?
  1. ৪৮
  2. ৬৫
  3. ৯৩
  4. ১৪১
ব্যাখ্যা
• সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় এবং সংসদ অধিবেশনকাল ব্যতীত সময়ে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি আইনের ন্যায় কার্যকর যে আদেশ জারি করেন তা ‘অধ্যাদেশ’ নামে পরিচিত। সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুাযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অনুচ্ছেদ ৯৩: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:

 (১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত] কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,

(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।

(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।
২,২৪০.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতিগুলো কীভাবে প্রয়োগ হয়?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. আইনের ব্যাখ্যার নির্দেশক হিসেবে
  3. রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে
  4. নির্বাহী বিভাগের নির্দেশ অনুসারে
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ ৮: মূলনীতিসমূহ:
(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে৷

(২) এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।

২,২৪১.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী নারী বা শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫(৩) অনুসারে, যদি কোনো ব্যক্তি নারী বা অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বছরের শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন বা শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর কারাদণ্ডে, বা সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

⇒ সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২৫- যৌন হয়রানি, ব্ল‍্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে অন্য কোনো ব্যক্তিকে ব্ল‍্যাকমেইলিং, বা যৌন হয়রানি, বা রিভেঞ্জ পর্ন, বা ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত উপাদান (চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ ম্যাটেরিয়াল) বা সেক্সটর্শন করিবার অভিপ্রায়ে সৃষ্ট, বা প্রাপ্ত, বা সংরক্ষিত কোনো তথ্য, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত, এডিটকৃত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত অথবা এডিটকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এইরূপ কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, বা প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করার হুমকি প্রদান করেন, যাহা ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ, কোনো নারী বা অনূর্ধ্ব ১৮ (আঠারো) বৎসরের কোনো শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘ব্ল‍্যাকমেইলিং’ অর্থ এমন হুমকি বা ভীতি প্রদর্শনকে বুঝাইবে, যাহার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তাহার গোপনীয় তথ্য প্রকাশের বা ক্ষতি করিবার ভয় দেখাইয়া বেআইনি সুবিধা, সেবা বা চাহিত কোনো কার্য সম্পাদনে বাধ্য করে।

২,২৪২.
যখন কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে একাধিক সমাধান থাকে, তখন ইসলামি আইনজ্ঞরা সর্বাধিক গ্রহণীয় সমাধান গ্রহণ করবে এটা কি নামে পরিচিত?
  1. কিয়াস
  2. ইজমা
  3. ইসতিসলাহ
  4. ইসতিহসান
ব্যাখ্যা
ইসতিহসান: ইসতিহসান অর্থ সমর্থন বা অনুমোদন। এ শব্দটি 'কোরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামী আইনের অপ্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ইমাম আবু হানিফা একেও একটি উৎসরূপে গণ্য করেন।

-কোন নির্দিষ্ট সমস্যার একাধিক সমাধান থাকলে তখন ইসলামী আইনজ্ঞগণ সর্বাধিক গ্রহণীয় যে সমাধান গ্রহণ করেন তা হলো ইসতিহসান।

যখন কতিপয় আইন কোনো ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হয় এবং প্রযোজ্য বলে প্রতীয়মান হয়, তখন দুর্বলভিত্তিক আইনের ওপর দৃঢ়ভিত্তিক আইন প্রাধান্য লাভ করবে এবং সমর্থনীয় বা অনুমোদনযোগ্য হবে, এটাই 'ইসতিহসান। এখানে দুর্বলভিত্তিক আইন বলতে কোরআন ও হাদিসের তুলনায় দুর্বলভিত্তিক 'ইজমা' বা কিয়াসের আইনকে বুঝানো হয়েছে। কোরআন এবং হাদিস হলো দৃঢ়ভিত্তিক আইন। ইসতিহসান দ্বারা কিয়াস প্রত্যাখ্যান এবং যুক্তিযুক্ততার আইনকে সমর্থন করা বুঝায়।

যে নীতির বলে আইনবিদগণ তাদের ব্যক্তিগত বিচার বুদ্ধির ওপর নির্ভর করতে পারেন, সে নীতিকেই হানাফীগণ ইসতিহসান বলে। তাদের মতে কিয়াসভিত্তিক আইন অভ্রান্ত নয়। এমনকি ইজমাকেও অভ্রান্ত বলা যায় না। প্রয়োজনবোধে ঐগুলোর পরিবর্তে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করাই ইসতিহসানের মূল মর্ম। হানাফীগণ বলেন যে, ইসতিহসানও এক প্রকার কিয়াস, তবে কিয়াস অপেক্ষা ইসতিহসানের এখতিয়ার ব্যাপক। ইমাম আবু হানিফা এ নীতির প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ মুসলিম আইনের উৎস প্রধানত ৪টি।
১. পবিত্র কোরআন
২. হাদিস
৩. ইজমা
৪. কিয়াস

⇒  অন্যান্য উৎসগুলো হলো
ক. ইসতিহসান [Istihsan]
খ. ইসতিসলাহ [Istislah]
গ. ইসতিদলাল
ঘ. ইজতিহাদ
ঙ. তকলিদ
২,২৪৩.
একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর কত শতাংশ সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সম্পূর্ণ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৩ অংশ
  4. ১/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• উইল বা অসিয়ত:
কোনো মুসলমানের সম্পত্তি তার মৃত্যুর পর কিভাবে পরিচালিত বা প্রাপ্ত হবে, সেই মর্মে তার সম্পত্তি সম্পর্কে তার অভিপ্রায়ের আইনগত ঘোষণাই হলো উইল বা অসিয়ত। আবার, কোনো ব্যক্তির নিজের মৃত্যু পরবর্তীকালের জন্য, তার বৈধ বিষয়সম্পত্তির মূলস্বত্ব কিংবা তার মুনাফার অধিকার চিরকালীন বা নির্দিষ্ট মেয়াদে অপর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিনিময় ছাড়া হস্তান্তর করার চূড়ান্ত ইচ্ছা প্রকাশ করার নাম উইল বা অসিয়ত। ইসলামি আইন অনুসারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়।

- যে ব্যক্তি উইল করে তাকে Testator বা ইচ্ছাপত্রকারী এবং যার বরাবর উইল করা হয় তাকে উত্তরদানগ্রহী বলা হয়।
- উইলকারী মৃত্যুর আগে চাইলে উইল পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।
- একজন মুসলমান তার দাফন-কাফনের ব্যয়ভার এবং ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পত্তির ১/৩ অংশের অধিক উইলের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে না। যদি ১/৩ অংশের অধিক উইল করা হয়, তবে উইলকারীর উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে, অন্যথায় উইল ১/৩ অংশের বেশি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ, সম্পত্তির ১/৩ অংশের বেশি উইল করতে আদালত নয়, উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি লাগবে।
২,২৪৪.
যখন কোনো নতুন আইন পূর্ববর্তী আইনকে রহিত বা পুনঃপ্রবর্তন করে এবং যদি স্পষ্ট কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ না করা থাকে তখন পুরানো আইনের বরাত (reference) কীভাবে গণ্য হবে?
  1. বৈধ হবে না
  2. শুধুমাত্র পুরানো আইনের বরাত হিসেবে গণ্য হবে
  3. নতুন বা পুনঃপ্রবর্তিত আইনের বরাত হিসেবে গণ্য হবে
  4. আদালত সিদ্ধান্ত নিবে
ব্যাখ্যা

The General Clauses Act, 1897 এর ধারা ৮: রহিত আইনের ক্ষেত্রে বরাতের ব্যাখ্যা:
১) যদি এই আইন, বা এই আইনের কার্যকর হওয়ার পরে সংসদে প্রণীত কোনো আইন বা প্রবিধি, কোনো পূর্ববর্তী আইনকে বাতিল ও পুনঃপ্রবর্তন (re-enact) করে, তা পরিবর্তনসহ বা পরিবর্তনবিহীনভাবে হোক, তবে, অন্য কোনো আইন বা কোনো দলিলে যদি সেই বাতিলকৃত ধারা বা বিধানের কথা উল্লেখ থাকে, এবং যদি স্পষ্ট কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ না করা থাকে, তাহলে সেই উল্লেখ পুনঃপ্রবর্তিত ধারা বা বিধানের বরাত (reference) হিসেবে গণ্য হবে।

২,২৪৫.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর অধীনে মোকদ্দমা দায়েরের জন্য কোর্ট ফি কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুসারে, এই আইনের অধীনে কোনো মোকদ্দমা দায়ের করার জন্য ২০০ টাকা কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি পরিশোধের মাধ্যমে মোকদ্দমা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর-২৫ ধারার বিধান: কোর্ট ফি: 
- পারিবারিক আদালতে এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমার আরজি দাখিল করিতে প্রদেয় কোর্ট ফি হইবে ২০০ (দুইশত) টাকা।
২,২৪৬.
নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক অনুসারে, মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা এমন একটি স্থাবর সম্পত্তির 'বিক্রয়-চুক্তি' নিবন্ধনের ফিস কত?
  1. ১০০ টাকা
  2. ২০০ টাকা
  3. ৫০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৭৮ক(ক)(অ) অনুসারে, কোন স্থাবর সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হলে, সেই সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তি নিবন্ধনের জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস পাঁচশত টাকা (৫০০ টাকা)।

⇒ The Registration Act, 1908 এর ধারা ৭৮ক- বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, হেবা এবং বন্ধকী দলিলের নিবন্ধন ফিস:
ধারা ৭৮ বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-
(ক) কোন স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয়-চুক্তির জন্য প্রদেয় নিবন্ধন ফিস্ হইবে-
(অ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য অনূর্ধ্ব পাঁচ লক্ষ টাকা হইলে, পাঁচশত টাকা;
(আ) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে কিন্তু অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হইলে, এক হাজার টাকা; এবং
(ই) উক্ত সম্পত্তির মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকার ঊর্ধ্বে হইলে, দুই হাজার টাকা;

(খ) মুসলমানগণের ব্যক্তিগত আইনের (শরীয়াহ) অধীন কোন স্থাবর সম্পত্তির হেবার ঘোষণা নিবন্ধনের জন্য সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে একশত টাকা ফিস পরিশোধ করিতে হইবে, যদি এইরূপ হেবা স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদী (নানা-নানী) ও নাতি-নাতনি, সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়;

(খখ) হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণের ব্যক্তিগত আইন অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দান বিষয়ক ঘোষণা, যদি এইরূপ দান তাহাদের ব্যক্তিগত আইনে সমর্থন করে, তাহা হইলে সম্পত্তির মূল্য নির্বিশেষে প্রদেয় নিবন্ধন ফিস একশত টাকা হইবে, যদি উক্ত দান স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, পিতামহ-পিতামহী (মাতামহ-মাতামহী) ও পৌত্র-পৌত্রী (দৌহিত্র-দৌহিত্রী), সহোদর ভ্রাতা, সহোদর ভগিনী এবং সহোদর ভ্রাতা-সহোদর ভগিনীগণের মধ্যে সৃষ্ট হয়।

২,২৪৭.
আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে বিকল্প পন্থা (Diversion) গ্রহণ করা হলে বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন বিষয়ে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব কার উপর বর্তায়?
  1. শিশুর মাতা-পিতা বা অভিভাবক
  2. প্রবেশন কর্মকর্তা
  3. শিশু আদালত
  4. শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) প্রবেশন কর্মকর্তা।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৮(৩) অনুসারে:
যখন শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে কোনো আইনগত বিরোধ এড়িয়ে Diversion (বিকল্প পন্থা) গ্রহণ করা হয়, তখন সেই বিকল্প শর্তগুলো পালন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব থাকে প্রবেশন কর্মকর্তার উপর। প্রবেশন কর্মকর্তা শিশুকে ও তার পরিবারকে পরামর্শ, তত্ত্বাবধান ও সহায়তা করে, শর্তাবলীর বাস্তবায়ন সম্পর্কে আদালতকে রিপোর্ট করে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী/সহায়তা নিশ্চিত করে।

শিশু আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪৮- বিকল্প পন্থা (diversion):
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুকে গ্রেফতার বা আটকের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রমের পরিবর্তে, শিশুর পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৃতাত্ত্বিক, মনস্তাত্ত্বিক ও শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনাপূর্বক, বিরোধীয় বিষয় মীমাংসাসহ তাহার সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিতকল্পে বিকল্প পন্থা (diversion) গ্রহণ করা যাইবে।

(২) ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শিশুর গ্রেফতারের পর হইতে বিচার কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালত আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির নিমিত্ত বিকল্প পন্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি প্রবেশন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিকল্প পন্থা গ্রহণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার শর্ত প্রতিপালন করিতেছে কি না প্রবেশন কর্মকর্তা তাহা লক্ষ্য রাখিবেন এবং বিষয়টি, সময় সময়, শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।

(৪) শিশু, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বিকল্প পন্থার কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে প্রবেশন কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, শিশু-আদালতকে অবহিত করিবেন।
 
(৫) বিকল্প পন্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধিদপ্তর বিকল্প পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ যুগোপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।

২,২৪৮.
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়?
  1. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৭ অনুচ্ছেদে
  2. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে
  3. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে
  4. বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট দায়ের করে প্রতিকার পাওয়া যায়। 

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের বিধান:- কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা: 

(১) কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।

(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই, তাহা হইলে
(ক) যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয়, এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের দ্বারা তাঁহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাঁহার কোন আইনগত কার্যকরতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া
উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন; অথবা

(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে-
(অ) আইনসংগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে, সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনয়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা
(আ) কোন সরকারি পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন্ কর্তৃত্ববলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন, তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া
উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপরি-উক্ত দফাসমূহে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও এই সংবিধানের ৪৭ অনুচেছদ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোন আইনের ক্ষেত্রে বর্তমান অনুচ্ছেদের অধীন অন্তর্বর্তীকালীন বা অন্য কোন আদেশ দানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের থাকিবে না।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (১) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (ক) উপ-দফার অধীন কোন আবেদনক্রমে যে ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী আদেশ প্রার্থনা করা হইয়াছে এবং অনুরূপ অর্ন্তবর্তী আদেশ
(ক) যেখানে উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য কোন ব্যবস্থা কিংবা কোন উন্নয়নমূলক কার্যের প্রতিকূলতা বা বাধা সৃষ্টি করিতে পারে; অথবা
(খ) যেখানে অন্য কোনভাবে জনস্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হইতে পারে সেইখানে অ্যাটর্নি-জেনারেলকে উক্ত আবেদন সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত নোটিশদান এবং অ্যাটর্নি-জেনারেলের (কিংবা এই বিষয়ে তাহার দ্বারা ভারপ্রাপ্ত অন্য কোন এ্যাডভোকেটের) বক্তব্য শ্রবণ না করা পর্যন্ত এবং এই দফার (ক) বা (খ) উপ-দফায় উল্লিখিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করিবে না বলিয়া হাইকোর্ট বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান না হওয়া পর্যন্ত উক্ত বিভাগ কোন অন্তর্বর্তী আদেশদান করিবেন না।

(৫) প্রসংগের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই অনুচ্ছেদে ‘‘ব্যক্তি’’ বলিতে সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ অথবা কোন শৃংখলা-বাহিনী সংক্রান্ত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত কিংবা এই সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত যে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল অন্তর্ভুক্ত হইবে।
২,২৪৯.
Which one is chronologically correct in case of making demand for 'right to pre-emption'?
  1. talab-i-tamlik>talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat
  2. talab-i-mwasibat > talab-i- ishhad> talab-i- tamlik
  3. talab-i-mwasibat> talab-i-tamlik> talab-i-ishhad
  4. talab-i-ishhad> talab-i-mwasibat> talab-i- tamlik
ব্যাখ্যা
শুফা:
কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি শরীক বা প্রতিবেশী হওয়ার কারনে উক্ত সম্পত্তি সর্বাগ্রে ক্রয়ের অধিকারী হয় কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে দূরবর্তী কারো নিকট বিক্রয় করিলে উক্ত শরীক বা প্রতিবেশী অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করিয়া উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করিতে পারেন। মুসিলম আইনে উক্তরূপ ক্রয় অধিকার কে হক শুফা বা শুফার অধিকার বলে।

মুসলিম আইনে নিম্নরূপ ৩ শ্রেনীর ব্যক্তি শুফার অধিকার দাবি করিতে পারে-
১। শাফী ই শরিক বা বিক্রিত ভূমির একজন সহ-শরীক।
২। শাফী ই খালিত বা বিক্রিত ভূমির মাধ্যমে পথ ব্যবহার বা পানি নিষ্কাশনের অধিকারী ব্যক্তি।
৩। শাফী ই জার বা বিক্রিত ভূমির সংলগ্ন ভূমির মালিক।

উপরোক্ত ৩ শ্রেনীর মধ্যে প্রথম শ্রেনী সর্ব প্রথম শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন এবং প্রথম শ্রেনী দাবী না করিলে দ্বিতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর মধ্যে কেউ দাবি না করিলে তৃতীয় শ্রেনী শুফার অধিকার দাবি করিতে পারিবেন। তবে একি শ্রেনী ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করিলে প্রত্যেকেই সমান অংশ দাবি করিতে পারিবেন।শুফার অধিকার শুধুমাত্র বিক্রয় দলিলের ক্ষেত্রে দাবি করা যায়, অন্য কোন ভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দাবি করা যায় না এবং খরিদ্দার যদি অমুসলিম হয় সেক্ষেত্রেওশুফার অধিকার দাবি করা যায় না।

• অগ্রক্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা। যদি এই সকল আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে এবং উপযুক্ত সময়ে পালন করা না হয়, তবে কোন ব্যক্তিই অগ্রক্রয়ের অধিকারী নয়। এই সকল আনুষ্ঠানিকতাগুলো হচ্ছে-

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ):
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক):
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
২,২৫০.
পারিবারিক আদালত অবমাননার ক্ষেত্রে অনধিক কত টাকা র্অথদণ্ড দেয়া যাবে?
  1. ২০০ টাকা
  2. ১০০ টাকা
  3. ৩০০ টাকা
  4. ৫০০ টাকা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩

ধারা ২৩- পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা

(১) যদি কোনো ব্যক্তি আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে-
(ক) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন, বা
(খ) পরিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালতের কার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, বা
(গ) পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত কর্তৃক জিজ্ঞাসিত কোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদানে বাধ্য থাকা সত্ত্বেও, উত্তর প্রদানের অস্বীকার করেন, বা
(ঘ) সত্য কথা বলিবার জন্য শপথ গ্রহণ করিতে অথবা পারিবারিক আদালতে বা পারিবারিক আপিল আদালতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করিতে অস্বীকার করেন,
তাহা হইলে তিনি পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত অবমাননা করিয়াছেন মর্মে গণ্য হইবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কৃত অপরাধের ক্ষেত্রে, পারিবারিক আদালত বা পারিবারিক আপিল আদালত উক্তরূপ অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার করিতে পারিবে এবং তাহাকে অনধিক ২০০ (দুইশত) টাকা র্অথদণ্ডে দণ্ডিত করিতে পারিবে।
২,২৫১.
কোনো দলিল কত সময়ের অধিক দাবিবিহীন থাকলে বিনষ্ট করা যায়?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
ধারা ৮৫- দাবিবিহীন দলিলপত্র বিনষ্টকরণ:
উইল ব্যতীত, অন্য কোন দলিল ২ (দুই) বৎসরের অধিক সময়ের জন্য কোন নিবন্ধন কার্যালয়ে দাবিবিহীন অবস্থায় থাকিলে তাহা বিনষ্ট করা যাইবে।

⇒ এই ধারা কেবল উইল ব্যতীত অন্যান্য দাবিবিহীন দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অন্যান্য রেকর্ডপত্রের ক্ষেত্রে নহে। রেকর্ডপত্রের বিনষ্টকরণ আইন, ১৯১৭ (১৯১৭ সনের ৫নং আইন) এর ৩(২) (গ) ধারার অধীন অন্যান্য সকল রেকর্ডপত্র বিনষ্টকরণ বা ধ্বংসকরণ মহা-পরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

⇒ নিবন্ধিত দলিলের ক্ষেত্রে, নিবন্ধীকরণের তারিখ হইতে এবং নিবন্ধীকরণে অস্বীকৃতিজ্ঞাপনকৃত দলিলের ক্ষেত্রে, অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর সময় গণনা করিতে হইবে।
২,২৫২.
সাইবার অপরাধ তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করলে, উক্ত ব্যক্তির সুরক্ষায় সাইবার নিরাপত্তা আইন,২০২৩ এ কোন ধরনের বিধান দেয়া হয়েছে?
  1. উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা যাবে না
  2. উক্ত ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে
  3. উক্ত ব্যক্তির গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  4. উল্লিখিত সকল বিধান
ব্যাখ্যা
সাইবার নিরাপত্তা আইন,২০২৩

ধারা ৪৬- তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা

(১) তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারী কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করিলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে অভিযোগ দায়ের করা যাইবে না।

(২) এই আইনের অধীন তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে অনুরূপ লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২,২৫৩.
হিন্দু বিধবার সম্পত্তির [Widow's Property] ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে
  2. সাধারণত চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে না
  3. একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
  4. কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি: [Widow's Property]

কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না। স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

অর্থাৎ এমন সম্পত্তির উপর মহিলার কোন একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না এবং তিনি এমন সম্পত্তি ইচ্ছানুসারে হস্তান্তর করতে পারে না। বিধবার সম্পত্তি কোন হিন্দু নারী চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করার অধিকারী না হলেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে-

১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে;
২) আইনগত প্রয়োজনে;
৩) সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে।
২,২৫৪.
দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় আপিল পর্যায়ে মধ্যস্থতার (Mediation in Appeal) বিধান রয়েছে?
  1. ৮৯ক
  2. ৮৯খ
  3. ৮৯গ
  4. ৮৯ঘ
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গ (Section 89C) আপিল আদালতে মধ্যস্থতার (mediation in appeal) বিষয়ে বিধান প্রদান করে।
- এ ধারায় বলা হয়েছে, যদি আদেশ ৪১ এর অধীন কোনো ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং তা মূল পক্ষগণ বা তাদের স্থলাভিষিক্তদের মধ্যে হয়, তাহলে আপিল আদালত নিজে মধ্যস্থতা করতে পারে বা অন্য কারো মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য পাঠাতে পারে।

অর্থাৎ The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৮৯গ (Section 89C) ধারায় আপীল পর্যায়ে মধ্যস্থতার বিধান আছে।

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯গ ধারার বিধান আপিলে মধ্যস্থতা (Mediation in Appeal):
- যদি আদেশ ৪১ এর অধীনে মূল ডিক্রি হতে কোন আপিল দায়ের হয় এবং যদি একই পক্ষগণের বা মূল পক্ষগণের স্থলাভিষিক্ত পক্ষগণের মধ্যে উক্ত আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত উক্ত আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে অথবা আপিলের বিরোধ বা বিরোধসমূহ মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবে। এরূপ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আপিল আদালত প্রয়োজনীয় মনে করলে যতদূর সম্ভব ৮৯ক ধারার বিধানসমূহকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন (Mutatis Mutandis) সাপেক্ষে অনুসরণ করবে।
----------
⇒The Code of Civil Procedure, 1908, Section 89C- Mediation in Appeal:
- (1) An Appellate Court shall mediate in an appeal or refer the appeal for mediation in order to settle the dispute or disputes in that appeal, if the appeal is an appeal from original decree under Order XLI, and is between the same parties who contested in the original suit or the parties who have been substituted for the original contesting parties.
- (2) In mediation under sub-section (1), the provisions of section 89A shall be followed with necessary changes (mutatis mutandis) as may be expedient.

২,২৫৫.
চুক্তি আইনের ৬৮ ধারার মূল বিষয়বস্তু কি?
  1. Quantum Meruit
  2. Quasi contract
  3. Doctrine of frustration
  4. Supervening Impossibility 
ব্যাখ্যা
• উপ-চুক্তি (Quasi-Contract): চুক্তি দ্বারা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে আইনগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় চুক্তি না হয়েও চুক্তির ন্যায় সম্পর্কের সৃষ্টি হয় এবং চুক্তির আবশ্যকীয় উপাদানের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও পক্ষদ্বয়ের আচার-আচরণ এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা চুক্তির মতোই দায় সৃষ্টি হয়। এইরূপ অবস্থা যদিও চুক্তির পর্যায়ভুক্ত নয়। তথাপি ইহা দ্বারা চুক্তির মতোই অধিকারও দায়-দায়িত্ব সৃষ্ট হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ চুক্তির ন্যায় আইনগত ফলাফল ভোগ করে। এই অবস্থাকে ইংল্যান্ডের আইনে উপ-চুক্তি (Quasi- Contract) এবং বাংলাদেশের চুক্তি আইনে চুক্তির ন্যায় সম্পর্ক (Relations Resembling to those contracts) বলা হয়।

মূল কথা: উপচুক্তির মূল কথা হলো যদি কোন ব্যক্তির জন্য কিছু ব্যয় করার দায়িত্ব অপর কোন ব্যক্তির উপর এসে পড়ে এবং সে যদি যথাযথভাবে ব্যয় করে যায়, তবে সে উপকৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তার ব্যয়কৃত অর্থ ফেরৎ পাবার অধিকারী। ইহা যে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, আইনের ভাষায় তাকে 'অবৈধ বিত্তবানতা (Unjust enrichment) বলে'।

• চুক্তি আইনের ৬৮ ধারায় উপ-চুক্তি (Quasi-Contract) সম্পর্কে বিধান রয়েছে। যা চুক্তি সম্পাদনে অক্ষম ব্যক্তিকে অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ।

• চুক্তি আইনের ৬৮ ধারার বিধান চুক্তি করতে অক্ষম ব্যক্তিকে কিংবা তাকে সরবরাহকৃত জিনিসপত্রের জন্য দাবি:
যদি কোন ব্যক্তি- চুক্তিতে আবদ্ধ হতে অক্ষম ব্যক্তিকে বা, পোষণ করতে আইনত বাধ্য এমন কোন ব্যক্তিকে; জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করলে উক্ত অক্ষম ব্যক্তির সম্পত্তি হতে পরিশোধিত হওয়ার অধিকারী হবে।
২,২৫৬.
রাষ্ট্রপতি নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বিষয়টি কেবলমাত্র তাঁর নিজস্ব বিবেচনায় সম্পন্ন করেন?
  1. সেনাপ্রধানের নিয়োগ
  2. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  3. স্পীকার নিয়োগ
  4. মহা হিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তাঁর সব কার্যাবলি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সম্পন্ন করেন, তবে ব্যতিক্রম রয়েছে প্রধান বিচারপতির নিয়োগের ক্ষেত্রে।
- এই ব্যতিক্রম অনুচ্ছেদ ৯৫(১)-এ বর্ণিত আছে, যেখানে বলা হয়েছে যে:
-  “Chief Justice shall be appointed by the President.”
- এখানে কোথাও বলা হয়নি যে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কারো পরামর্শে এটি করতে হবে। 
অতএব, সঠিক উত্তর: খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ রাষ্ট্রপতি: 
(১) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন। 
(২) রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন। 
(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্টপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন: 
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শদান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।
২,২৫৭.
কোন সংসদ-সদস্য তার নির্বাচনের পর ৬৬ (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হয়েছে কিনা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী এবং নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি প্রেরণ করতে হবে-
  1. রাষ্ট্রপতির নিকট
  2. নির্বাচন কমিশনের নিকট
  3. স্পীকারের নিকট
  4. প্রধান বিচারপতির নিকট
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধান: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা:

(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।

(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফা তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-
এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।
 
(৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।

(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
২,২৫৮.
The General Clauses Act, 1897 এ কোন পঞ্জিকা অনুসারে বৎসর সংজ্ঞায়িত?
  1. British
  2. Arabic
  3. Bengali
  4. Not mentioned in Act
ব্যাখ্যা
• জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ধারা ৩(৫৯) এর বিধান- বছর (year):
ব্রিটিশ পঞ্জিকা অনুযায়ী বর্ণিত বছরকে বুঝাবে।

The General Clauses Act, 1897 Section 3(59)-
"year" shall mean a year reckoned according to the British calendar.
২,২৫৯.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনার দণ্ডের বিধান রয়েছে?
  1. ২৮ ধারায়
  2. ৩০ ধারায়
  3. ৩৭ ধারায়
  4. ৪১ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৪১- মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ইত্যাদির দণ্ড:
কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে কাহাকেও প্ররোচিত করিলে অথবা সাহায্য করিলে অথবা কাহারও সহিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলে অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোনো উদ্যোগ অথবা প্রচেষ্টা গ্রহণ করিলে, মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটিত হউক অথবা না হউক, তিনি সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

Section 41: Punishment for instigation, assistance, or conspiracy to commit narcotics-related offenses:
If any person instigates, assists, conspires with anyone to commit a narcotics-related offense, or undertakes or attempts to undertake any initiative or effort for this purpose, whether or not the narcotics-related offense is ultimately committed, the person shall be punished with the penalty provided for the related offense.
২,২৬০.
দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার নিয়োগের সুপারিশের জন্য বাছাই কমিটির সদস্য নয় কে?
  1. সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান
  2. বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান
  4. অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের মধ্যে সর্বশেষে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে 'পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান',  দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার নিয়োগের সুপারিশের জন্য বাছাই কমিটির সদস্য নয়।

• দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ : ধারা ৭- বাছাই কমিটি:

(১) কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত পাঁচ জন সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথা:- 
(ক) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারক; 
(খ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক; 
(গ) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; 
(ঘ) সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান; এবং 
(ঙ) অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের মধ্যে সর্বশেষে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব: 
 
তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অব্যবহিত পূর্বের অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব: 
 
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ কোন অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে বর্তমানে কর্মরত মন্ত্রিপরিষদ সচিব৷ 
 
(২) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক বাছাই কমিটির সভাপতি হইবেন।
 
(৩) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে৷ 
 
(৪) বাছাই কমিটি, কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, উপস্থিত সদস্যদের অন্যুন ৩ (তিন) জনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুই জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করিয়া ধারা ৬ এর অধীন নিয়োগ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করিবে৷ 

(৫) অন্যুন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে৷
২,২৬১.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর অধীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যের গোপনীয়তার বিধান লঙ্ঘন করলে, তার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত বছর হতে পারে?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৩৯: তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা:
(১) তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারী কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করিলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে অভিযোগ দায়ের করা যাইবে না।

(২) এই অধ্যাদেশের অধীন তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে অনুরূপ লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এর আওতায় তদন্তের স্বার্থে প্রকাশিত তথ্য বা উপাত্তের তালিকা উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীকে ষাণ্মাষিক ভিত্তিতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে জমা প্রদান করিতে হইবে।

২,২৬২.
কোন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
  1. যখন সংসদ চলমান থাকে
  2. যখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়
  3. যখন সংসদ ভেঙে যায় বা অধিবেশন থাকে না
  4. যখন প্রধান বিচারপতির পদ শূণ্য থাকে
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৯৩- অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা:
(১) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন এবং জারী হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না,

(ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন-দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না;
(খ) যাহাতে এই সংবিধানের কোন বিধান পরিবর্তিত বা রহিত হইয়া যায়; অথবা
(গ) যাহার দ্বারা পূর্বে প্রণীত কোন অধ্যাদেশের যে কোন বিধানকে অব্যাহতভাবে বলবৎ করা যায়।

(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার অধীন প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে তাহা উপস্থাপিত হইবে এবং ইতঃপূর্বে বাতিল না হইয়া থাকিলে অধ্যাদেশটি অনুরূপভাবে উপস্থাপনের পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইলে কিংবা অনুরূপ মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বে তাহা অননুমোদন করিয়া সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হইলে অধ্যাদেশটির কার্যকরতা লোপ পাইবে।

(৩) সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থার কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট ব্যবস্থা-গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি এমন অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারী করিতে পারিবেন, যাহাতে সংবিধান-দ্বারা সংযুক্ত তহবিলের উপর কোন ব্যয় দায়যুক্ত হউক বা না হউক, উক্ত তহবিল হইতে সেইরূপ ব্যয়নির্বাহের কর্তৃত্ব প্রদান করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে প্রণীত কোন অধ্যাদেশ জারী হইবার সময় হইতে তাহা সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।

(৪) এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন জারীকৃত প্রত্যেক অধ্যাদেশ যথাশীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে এবং সংসদ পুনর্গঠিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯ ও ৯০ অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী প্রয়োজনীয় উপযোগীকরণসহ পালিত হইবে।
২,২৬৩.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কোন ধারায় 'Doctrine of Priority' নীতি প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ৩৮
  2. ৪৩
  3. ৪৮
  4. ৫২
ব্যাখ্যা
⇒ ধারা ৪৮: হস্তান্তর দ্বারা সৃষ্ট অধিকারের অগ্রাধিকার (Priority of rights created by transfer):
যদি কোন ব্যক্তি একই স্থাবর সম্পত্তি বিভিন্ন সময় হস্তান্তর করে একাধিক অধিকার সৃষ্টি করেন এবং সেই অধিকারগুলি একই সঙ্গে বা পরিপূর্ণভাবে বলবৎ না হয়, সেক্ষেত্রে বিশেষ চুক্তির অবর্তমানে পূর্বে সৃষ্ট অধিকার পরে সৃষ্ট অধিকারের উপর অগ্রাধিকার পাবে।

- রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অরেজিস্ট্রিকৃত দলিলের উপর প্রাধান্য পাবে।
- একই তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত দুটি দলিলের মধ্যে যার নম্বর আগে সেটি অগ্রাধিকার পাবে।
-----------------------------
⇒ Section 48: Priority of rights created by transfer:
Where a person purports to create by transfer at different times rights in or over the same immoveable property, and such rights cannot all exist or be exercised to their full extent together, each later created right shall, in the absence of a special contract or reservation binding the earlier transferees, be subject to the rights previously created. 
২,২৬৪.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১১ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ স্বত্ব হস্তান্তরের পর যদি ভোগদখলের উপর শর্ত আরোপ করা হয় তবে—
  1. শর্ত বৈধ হবে
  2. শর্ত অবৈধ হবে
  3. হস্তান্তর হবে না
  4. হস্তান্তর অবৈধ হবে
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১১ (Restriction Repugnant to Interest Created) অনুযায়ী, যখন কোনো সম্পত্তির সম্পূর্ণ স্বত্ব বা স্বার্থ পরিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করা হয়, তখন সেই সম্পত্তির ভোগদখলের উপর কোনো বিধিনিষেধ বা শর্ত আরোপ করা হলে তা অবৈধ (Void) বলে গণ্য হবে। এর কারণ হলো, সম্পত্তির সম্পূর্ণ স্বত্ব হস্তান্তরের পর হস্তান্তরগ্রহীতা সেই সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা পান, এবং তার ভোগদখল ও হস্তান্তরের অধিকার অবিচ্ছেদ্য। এই ধরনের শর্ত স্বত্বের সাথে সাংঘর্ষিক (Repugnant) হয়, তাই শর্তটি বাতিল হয়ে যায়, কিন্তু হস্তান্তর নিজেই বৈধ থাকে।

ব্যতিক্রম:
ধারা ১১-এ দুটি ব্যতিক্রম উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে শর্ত বৈধ হতে পারে:
অসম্পূর্ণ স্বত্ব হস্তান্তর: যদি সম্পূর্ণ স্বত্ব হস্তান্তর না হয় (যেমন, আংশিক স্বার্থ বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে হস্তান্তর), তবে ভোগদখলের উপর শর্ত আরোপ করা যেতে পারে।
অন্য সম্পত্তির সুবিধার জন্য: যদি শর্তটি অন্য কোনো সম্পত্তির সুবিধাজনক ভোগদখলের জন্য হয় (যেমন, সুখাধিকার বা Easement Right), তবে তা বৈধ হবে।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) শর্ত অবৈধ হবে।

২,২৬৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করার বিধানটি বলা হয়েছে?
  1. ১০৩
  2. ১০৪
  3. ১০৫
  4. ১০৬
ব্যাখ্যা
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদের বিধান আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা:
- সংসদের যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে এবং আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত যে কোন বিধি-সাপেক্ষে আপীল বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার ক্ষমতা উক্ত বিভাগের থাকিবে।
-----------
⇒ The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh Article 105. Review of judgments or orders by Appellate Division:
The Appellate Division shall have power, subject to the provisions of any Act of Parliament and of any rules made by that division to review any judgment pronounced or order made by it.
২,২৬৬.
"A Judge should be sans per et sans reproche" এর অর্থ কী?
  1. একজন বিচারককে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকা উচিত।
  2. একজন বিচারককে বিচারের ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থানে থাকা উচিত।
  3. একজন বিচারককে সকল প্রকার সন্দেহের উর্ধ্বে থাকা উচিত।
  4. একজন বিচারককে সকল ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।
ব্যাখ্যা
Sans peur et sans reproche
- একটি French Phrase.
- যার বাংলা অর্থ হচ্ছে- Without fear and without reproach বা সকল ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করা।
 
বিশিষ্ট আইনজ্ঞ Lord Denning এর মতে-
A judge should be sans peur et sans reproche. অর্থাৎ- একজন বিচারককে সকল তিরস্কার/নিন্দা/ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত।

অন্য অপশন:
ক) একটা অংশ সত্য হলেও এটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না।
২,২৬৭.
অকৃষি প্রজা X এবং জমির মালিক Y এর মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ডেপুটি কমিশনার জমির মালিকের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অকৃষি প্রজা X এর প্রতিকার কী?
  1. ১৫ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট রিভিউ
  2. ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট রিভিশন
  3. ১৫ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল
  4. ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল
ব্যাখ্যা

উত্তর: ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল।

অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ৬৬ ধারা- উন্নয়ন ইত্যাদি করার অধিকারের প্রশ্নে কালেক্টর সিদ্ধান্ত দিবেন:

১) যদি অকৃষি প্রজা ও তার ভূ-স্বত্বাধিকারীর মধ্যে এমন প্রশ্ন উঠে-
ক) উন্নয়ন কাজ করার অধিকার সম্বন্ধে; বা
খ) কোন বিশেষ একটি কাজ উন্নয়নমূলক কি না, 
তখন যে কোন পক্ষের আবেদন অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন।

২) ডেপুটি কমিশনারের প্রদত্ত আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের নিকট আপিল করা যাবে। এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে জেলা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

২,২৬৮.
Marz-ul-maut means-
  1. Gifts made during one's deathbed.
  2. A conditional gift.
  3. A long-standing disease.
  4. Either (A) or (B) or (C)
ব্যাখ্যা
⇒ Marz-ul-maut-
The concept of Marz-ul-Maut in Islam is actually a doctrine of death-bed gifts. The governing tenet of Muslim personal civil law is the Shariat. One of the provisions relates to Marz-ul-Maut (death bed Gifts). This can only be executed in case there is genuine apprehension that the testator will die.
২,২৬৯.
চুক্তি আইনের ধারা ২০১ অনুসারে, নিম্নের কোনটি প্রতিনিধিত্ব (Agency) পরিসমাপ্তির কারণ নয়?
  1. এজেন্সির কাজ সম্পন্ন হওয়া
  2. প্রিন্সিপাল বা এজেন্টের মৃত্যু
  3. প্রিন্সিপাল কর্তৃক ক্ষমতা প্রত্যাহার
  4. এজেন্টের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়া
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২০১ অনুসারে, প্রতিনিধিত্বের (Agency) পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে প্রিন্সিপালের ক্ষমতা প্রত্যাহার, এজেন্টের পরিত্যাগ, এজেন্সির কাজ সম্পন্ন হওয়া, প্রিন্সিপাল বা এজেন্টের মৃত্যু বা অপ্রকৃতিস্থ হওয়া, বা প্রিন্সিপালের দেউলিয়া হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু এজেন্টের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়া কোনো কারণ নয়, কারণ ধারায় বয়সসম্পর্কিত কোনো বিধান নেই।

⇒ চুক্তি আইনের ২০১ ধারার বিধান প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি (Termination of agency):
প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে-
- প্রিন্সিপাল তার ক্ষমতা প্রত্যাহার করলে; অথবা
- এজেন্ট তার এজেন্সির কাজ পরিহার করলে; অথবা
- এজেন্সির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে; অথবা
- প্রিন্সিপাল বা এজেন্টের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে বা অপ্রকৃতিস্থ হলে; অথবা 
- দেনাদারদের প্রতিকারের জন্য প্রিন্সিপাল দেউলিয়া হলে।
-------------
⇒ The Contract Act, 1872, Section 201. Termination of agency:
 An agency is terminated by the principal revoking his authority; or by the agent renouncing the business of the agency; or by the business of the agency being completed; or by either the principal or agent dying or becoming of unsound mind; or by the principal being adjudicated an insolvent under the provisions of any Act for the time being in force for the relief of insolvent debtors.

২,২৭০.
The Special Powers Act, 1974 এর কত ধারায় 'Double Jeopardy' এর প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ২৭
  2. ২৮
  3. ৩১
  4. ৩২
ব্যাখ্যা
⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ৩১ ধারার বিধান: নতুন বিচারে বাধা: যার সাক্ষ্য একবার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল এমন কোন সাক্ষীকে পুনরায় ডাকতে বা তার বক্তব্য শ্রবণ করতে বাধ্য নয় অথবা যে কার্যক্রম একবার অনুষ্ঠিত হয়েছে তা পুনরায় আরম্ভ করতে বাধ্য নয়।
এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে দাখিলকৃত বা লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করতে পারে এবং মামলা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে সেই পর্যায় হতে বিচার অব্যাহত রাখতে পারে।
অর্থাৎ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩১ ধারায় principle of double jeopardy এর প্রতিফলন ঘটেছে।
-----------------------
⇒ The Special Powers Act, 1974,-Section 31: Bar on trial de-novo:
- A Special Tribunal, unless it otherwise decides, shall not be bound to recall or re-hear any witness whose evidence has already been recorded, or to re-open proceedings already held, but may act on the evidence already produced or recorded and continue the trial from the stage which the case has reached.
২,২৭১.
Quantum meruit বলতে কী বুঝায়?
  1. অপর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ
  2. কার্যানুপাতিক মূল্যমান
  3. ক্ষতিপূরণের পদ্ধতি
  4. পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ
ব্যাখ্যা
• কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান (Quantum Meruit): কার্যানুপাতে মূল্য প্রদান বলতে কার্যানুপাতে পারিশ্রমিক বা যেমন কাজ তেমন পারিশ্রমিক বা যে পরিমাণ কার্য সম্পাদিত হয়েছে, সেই পরিমাণ মূল্য প্রদানকে বুঝায়।

চুক্তি আইনের ৭০ ধারা মতে নিম্নের ৩টি ক্ষেত্রে চুক্তি না থাকলে বা কোন এক পক্ষের কারণে চুক্তি ভঙ্গের দ্বারা চুক্তি পরিসমাপ্তি হলে, বা অন্য কোন কারণে চুক্তি বাতিল হলে, কোন পক্ষ যে পরিমাণ কার্য সম্পাদন করেছে বা যে পরিমাণ পণ্য বা সেবা সরবরাহ করেছে তার জন্য উক্ত পক্ষ আনুপাতিক মূল্য দাবি করতে পারে। সুতরাং - যে পরিমাণ কার্য সম্পাদন বা পণ্য প্রদত্ত হয়েছে সেই অনুযায়ী আনুপাতিক মূল্য দাবি এবং তা পরিশোধকে কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান বলে।

নিয়মাবলী: চুক্তির শর্তানুযায়ী চুক্তি পালন আবশ্যিক। কোন পক্ষ পুরো চুক্তি পালন না করতে পারলে যে পরিমাণ করেছে, সেটুকুর মূল্য দাবি করতে পারে না তবে, নিম্নের তিনটি ক্ষেত্রে সে মূল্য দাবি করতে পারে-
ক) একপক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ যতটা কাজ করেছে, তার ন্যায্য এবং যুক্তিযুক্ত পারিশ্রামিক বা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। যেমন 'ক' এর একটি পত্রিকায় ধারাবাহিতকভাবে প্রকাশিত হবে শর্তে 'খ' একটি বই লেখেন। কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশিত হবার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। বইটির যতখানি প্রকাশিত হয়েছে তার জন্য তিনি (খ) কার্যানুপাতিক মূল্য এবং চুক্তি ভঙ্গের জন্য খেসারত পাবার অধিকারী।

খ) আইনগত কারণে অবলবৎযোগ্য: কোন আইনগত কারণে চুক্তি অবলবৎযোগ্য হলে চুক্তি বলবৎ থাকা অবস্থায় চুক্তি অনুযায়ী কোন পক্ষ যদি কোন কিছু করে থাকে তবে সে যুক্তিসঙ্গত খেসারত পাবে। যেমন একটি লিখিত চুক্তি মোতাবেক 'খ' কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক এমডি নিযুক্ত হলো। ঐ পরিচালনা পরিষদ আইনসঙ্গত ভাবে গঠিত হয় নাই বলে 'খ' এর সাথে চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। 'খ' কিছুদিন এমডি হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে ধার্য্য হলো "কার্যানুপাতিক মূল্য প্রদান" নীতি অনুযায়ী 'খ' যে কদিন কাজ করেছে ঐ কদিনের কার্যানুপাতিক মূল্য পাবে।

গ) বিনা চুক্তিতে কার্য বা পণ্য সরবরাহ: চুক্তি ছাড়াই কেহ যদি অপর কোন ব্যক্তির জন্য কোন কাজ করে থাকে বা পণ্য সরবরাহ করে থাকে এবং অপর ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে থাকে তবে, যে ঐ ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ বা সরবরাহকৃত পণ্য ফেরত দিতে বাধ্য। যেমন- 'ক' একজন ব্যবসায়ী। সে ক'টি পণ্য ভুলক্রমে 'খ' এর নিকট রেখে যায়। ঐ গুলো নিজের মনে করে 'খ' ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে সে ঐগুলোর মূল্য 'ক'-কে প্রদানে বাধ্য।
২,২৭২.
অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করবেন?
  1. হাইকোর্ট বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক
  2. আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারক
  3. সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আপিল বিভাগের বিচারক
  4. সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হাইকোর্ট বিভাগের প্রবীণতম বিচারক
ব্যাখ্যা

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদের বিধান: অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ:
 প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে প্রধান বিচারপতি তাঁহার দায়িত্বপালনে অসমর্থ বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে ক্ষেত্রমত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করিবেন।

The Constitution of the People‌‌‍’s Republic of Bangladesh -Article 97: Temporary appointment of Chief Justice:
If the office of the Chief Justice becomes vacant, or if the President is satisfied that the Chief Justice is, on account of absence, illness, or any other cause, unable to perform the functions of his office, those functions shall, until some other person has entered upon that office, or until the Chief Justice has resumed his duties, as the case may be, be performed by the next most senior Judge of the Appellate Division.

২,২৭৩.
According to The Constitution of the People‌‌‍'s Republic of Bangladesh: "The Chief Justice shall be appointed by _________."
  1. The Prime Minister
  2. The President
  3. The Chief Whip
  4. The Speaker
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের বিধান: বিচারক-নিয়োগ: 
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে ; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
 
(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।
-----------------
⇒ Article 95. Appointment of Judges:
 (1) The Chief Justice shall be appointed by the President, and the other Judges shall be appointed by the President after consultation with the Chief Justice.
(2) A person shall not be qualified for appointment as a Judge unless he is a citizen of Bangladesh and –
(a) has, for not less than ten years, been an advocate of the Supreme Court ; or
(b) has, for not less than ten years, held judicial office in the territory of Bangladesh ; or
(c) has such qualifications as may be prescribed by law for appointment as a Judge of the Supreme Court.
 
(3) In this article, “Supreme Court” includes a court which at any time before the commencement of this Constitution exercised jurisdiction as a High Court in the territory of Bangladesh.
২,২৭৪.
বাংলাদেশের বাহিরে সম্পাদিত দলিল বাংলাদেশে পৌঁছানোর _______ মাসের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হবে।
ব্যাখ্যা
• নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ২৬ ধারা- বাংলাদেশের বাহিরে সম্পাদিত দলিলপত্র:

বাংলাদেশের বাহিরে সকল বা যে কোন পক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত বলিয়া দাবিকৃত কোন দলিল দাখিলকরনের জন্য ইতঃপূর্বে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যেক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা না হয়, সেইক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে,-
(ক) দলিলটি উক্তরূপে সম্পাদিত, এবং
(খ) ইহা বাংলাদেশে পৌছিবার পর চার মাস সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা হইয়াছে।
 
তাহা হইলে তিনি, উপযুক্ত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, উক্ত দলিল নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ করিতে পারিবেন।
২,২৭৫.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুসারে কোন গোষ্ঠী একত্রে মানব পাচার অপরাধ করলে প্রত্যেক সদস্যের জন্য সর্বনিম্ন কত অর্থদণ্ড ধার্য আছে?
  1. ১ লক্ষ টাকা
  2. ৫ লক্ষ টাকা
  3. ১০ লক্ষ টাকা
  4. ৫০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭ অনুসারে, কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী (Organized Criminal Group) যদি মানব পাচার অপরাধ সংঘটন করে, তবে সেই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অন্যূন ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

⇒ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৭-সংঘবদ্ধ মানব পাচার অপরাধের দণ্ড:
কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর একাধিক সদস্য গোষ্ঠীর সকল সদস্যের সাধারণ অভিপ্রায় সাধনের উদ্দেশ্যে কোন আর্থিক বা অন্য কোনো বস্ত্তগত বা অবস্ত্তগত মুনাফা অর্জনের নিমিত্ত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করিলে উক্ত গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য উক্ত অপরাধ সংঘটনের দায়ে অভিযুক্ত হইবে এবং অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অন্যূন ৭(সাত) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

২,২৭৬.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. সরকার
  2. দানকারী
  3. সেবায়েত
  4. মন্দির কমিটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) সেবায়েত

- দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হলো সেবায়েতের। সেবায়েত হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দেবতার পূজা, সেবা এবং সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- যদিও দেবতা বা বিগ্রহ সম্পত্তির আইনি মালিক, তার পক্ষে নিজে তা পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সেবায়েতকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। 
- সেবায়েত, দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন।
- সেবায়েতের দায়িত্ব, তার নিয়োগ এবং তার উত্তরাধিকার সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে উল্লেখ থাকে।
২,২৭৭.
মুসলিম ব্যক্তিগত আইনানুযায়ী মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক ____।
  1. বৈধ
  2. স্ত্রীর সম্মতিতে কার্যকর
  3. অবৈধ
  4. মৃত্যু না হলে কার্যকর
ব্যাখ্যা
তালাক: তালাক অর্থ হলো স্বামী কর্তৃক তার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে স্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করা। অন্যভাবে বলতে গেলে স্বামীর পক্ষ হতে বিবাহ-বিচ্ছেদ কার্যকর করা হলে তাকে তালাক বলা হয়। বয়ঃসন্ধিতে পদার্পণ করেছেন বা পূর্ণ যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছেন এমন সুস্থ মস্তিষ্কের যেকোন মুসলমান ব্যক্তি কোনরূপ কারণ না দর্শিয়ে ইচ্ছানুযায়ী নিজ স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে।
- তালাক মৌখিক বা লিখিত হতে পারে।
- স্ত্রীর অনুপস্থিতেও তালাক প্রদান করা যায়।

- মৃত্যুশয্যায় স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত তালাক বৈধ বলে গণ্য হবে এবং তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে; ইদ্দতকালে স্বামী মারা গেলেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
২,২৭৮.
হারানো পণ্যের মালিক যদি পণ্য ফেরত পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পুরস্কারের প্রস্তাব দেন, হারানো পণ্যের প্রাপক কী করতে পারে?
  1. পুরস্কারের জন্য মামলা করতে পারে
  2. পুরস্কারের জন্য মামলা করতে পারে না
  3. পুরস্কার না পাওয়া পর্যন্ত পণ্য আটকে রাখতে পারবে না
  4. প্রাপক কোনো অধিকার রাখে না
ব্যাখ্যা

হারানো পণ্যের প্রাপকের অধিকার (Section 168, The Contract Act, 1872)
স্বেচ্ছাকৃত খরচ বা শ্রমের জন্য ক্ষতিপূরণ:
হারানো পণ্যের প্রাপক নিজের খরচ ও শ্রমের জন্য মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না। তবে, ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত প্রাপক পণ্য আটক রাখতে পারবে।

নির্দিষ্ট পুরস্কারের প্রস্তাব:
যদি মালিক হারানো পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট পুরস্কারের প্রস্তাব দেন, তবে হারানো পণ্যের প্রাপক সেই পুরস্কারের জন্য মামলা করতে পারবেন। পুরস্কার না পাওয়া পর্যন্ত পণ্য আটক রাখা যাবে।

২,২৭৯.
সুন্নি মুসলিম আইনে বিবাহের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক সাক্ষী না থাকলে বিবাহটি -
  1. বৈধ বিবাহ
  2. বাতিল বিবাহ
  3. অনিয়মিত বিবাহ
  4. মুত‘আ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম সুন্নি পারিবারিক আইনে বিবাহের বৈধতা ও অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিবাহকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে।
১. বৈধ (সহিহ / Valid)
২. বাতিল (Void)
৩. অনিয়মিত (ফাসিদ / Irregular)

১. বৈধ বিবাহ (সহিহ / Valid)
-  এমন বিবাহ যেখানে সকল শর্ত পূরণ করা হয়েছে (যেমন: স্বাধীন সম্মতি, সাক্ষীর উপস্থিতি, মোহর নির্ধারণ ইত্যাদি)।
- এ ধরনের বিবাহ পূর্ণ আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব (যেমন দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: দু’জন মুসলিমের মধ্যে বা একজন মুসলিম পুরুষের সাথে একজন আহলে কিতাব (যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান) নারীর বিবাহ।
২. বাতিল বিবাহ (Void)
- এটি চিরতরে অবৈধ বিবাহ। আইনের মৌলিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে বিবাহটি বাতিল হয় (যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক বা দুধভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ)।
- এই বিবাহ কোনো আইনগত বৈধতা পায় না এবং এটিকে কখনোই সংশোধন করে বৈধ করা যায় না। এর কোনো আইনগত ফলাফল নেই (দেনমোহর, ভরণপোষণ বা উত্তরাধিকারের অধিকার সৃষ্টি হয় না) এবং এর ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান অবৈধ বলে গণ্য হয়।
৩. অনিয়মিত বিবাহ (ফাসিদ / Irregular)
- এটি আপাতদৃষ্টিতে অবৈধ কিন্তু সংশোধনযোগ্য বিবাহ। কিছু অস্থায়ী বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে (যেমন: প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর অভাব, মোহর নির্ধারণ না করা, বিদ্বেষপূর্ণ অসাম্য ইত্যাদি) বিবাহটি অনিয়মিত হয়। ত্রুটি দূর করা গেলে (যেমন: সাক্ষী যোগ করা, মোহর নির্ধারণ করা) বিবাহটি বৈধ হয়ে যায় এবং তখন থেকে সব আইনগত ফলাফল প্রযোজ্য হয়।তবে ত্রুটি না দূর করা পর্যন্ত এটি অবৈধই থাকে।

উল্লেখ্য, মুত‘আ বিবাহ হলো এক ধরনের অস্থায়ী বা সাময়িক বিবাহ, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহরের বিনিময়ে নারী-পুরুষ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সময়সীমা শেষ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভঙ্গ হয়, তালাকের প্রয়োজন হয় না। সুন্নি ইসলামে মুত‘আ বিবাহ হারাম এবং কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। শিয়া ইসলামে: বিশেষত ইরানের কিছু অঞ্চলে এখনো চুক্তিভিত্তিক মুত‘আ বিবাহ প্রচলিত আছে।

২,২৮০.
অনুচ্ছেদ ১৪১গ অনুযায়ী, জরুরী অবস্থার সময় কোন সংবিধানিক অংশের অধিকার স্থগিত করা হতে পারে?
  1. দ্বিতীয় ভাগ
  2. তৃতীয় ভাগ
  3. চতুর্থ ভাগ
  4. পঞ্চম ভাগ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪১গ- জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ:
(১) জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি] আদেশের দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবেন যে, আদেশে উল্লেখিত এবং সংবিধানের তৃতীয় ভাগের অন্তর্গত মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎকরণের জন্য আদালতে মামলা রুজু করিবার অধিকার এবং আদেশে অনুরূপভাবে উল্লেখিত কোন অধিকার বলবৎকরণের জন্য কোন আদালতে বিবেচনাধীন সকল মামলা জরুরী-অবস্থা ঘোষণার কার্যকরতা-কালে কিংবা উক্ত আদেশের দ্বারা নির্ধারিত স্বল্পতর কালের জন্য স্থগিত থাকিবে। 
 
(২) সমগ্র বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশে এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আদেশ প্রযোজ্য হইতে পারিবে। 
 
(৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত প্রত্যেক আদেশ যথাসম্ভব শীঘ্র সংসদে উপস্থাপিত হইবে।
২,২৮১.
আইনগত সহায়তার কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে, তার বিরুদ্ধে আপীল করতে হবে-
  1. আপীল বিভাগে
  2. হাইকোর্ট বিভাগে
  3. সুপ্রীম কোর্ট কমিটির নিকট
  4. জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট
ব্যাখ্যা
⇒ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ১৬ ধারাতে বলা আছে-
'আইনগত সহায়তার জন্য সকল আবেদন সুপ্রীম কোর্ট কমিটি, জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটির নিকট পেশ করতে হবে।'

উল্লেখ্য, কোন আবেদন জেলা কমিটি বা বিশেষ কমিটি কর্তৃক অগ্রাহ্য হলে তা মঞ্জুরের জন্য সংক্ষুদ্ধ বিচারপ্রার্থী উক্তরুপ সিদ্ধান্তের তারিখ হতে ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিচালনা বোর্ডের নিকট আপীল পেশ করবে এবং এই ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
২,২৮২.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২০৫ অনুযায়ী, এজেন্সি বাতিল বা এজেন্টের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কী প্রয়োজন?
  1. শুধু প্রধানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  2. শুধু এজেন্টকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
  3. কোনো ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন নেই
  4. পূর্ব চুক্তির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২০৫ অনুযায়ী, যদি কোনো এজেন্সি পূর্বে স্থির সময়ের জন্য চালানোর চুক্তি থাকে এবং প্রিন্সিপাল অনুমতি ছাড়া এজেন্সি বাতিল করে বা এজেন্ট পূর্ব জানিয়ে এজেন্সি ত্যাগ করে, তাহলে প্রিন্সিপালকে এজেন্টকে, বা প্রয়োজনে এজেন্টকে প্রিন্সিপালকে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অর্থাৎ, পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের বাধ্যবাধকতা থাকে।

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২০৫ অনুযায়ী: যদি এক্সপ্রেস বা ইমপ্লাইড চুক্তি (express or implied contract) থাকে যে এজেন্সি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলবে,
তাহলে প্রধান (principal) বা এজেন্ট (agent) কেউই যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) ছাড়া এজেন্সি বাতিল (revocation) বা প্রত্যাহার (renunciation) করতে পারবেন না।
যদি কোনো পক্ষ যথেষ্ট কারণ ছাড়া এজেন্সি বাতিল বা প্রত্যাহার করেন, তাহলে ক্ষতিপূরণ (compensation) দিতে বাধ্য থাকবেন।
অর্থাৎ, ধারা ২০৫ ক্ষতিপূরণের obligation কে একটি পূর্ববর্তী চুক্তি (prior contract) এর উপর নির্ভরশীল করে। যদি এমন চুক্তি থেকে থাকে যে এজেন্সি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী হবে, তাহলে এটি বাতিল বা প্রত্যাহার করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হল: ঘ) পূর্ব চুক্তির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
-----------
⇒ The Contract Act, 1872 section- 205. Compensation for revocation by principal or renunciation by agent:
Where there is an express or implied contract that the agency should be continued for any period of time, the principal must make compensation to the agent, or the agent to the principal, as the case may be, for any previous revocation or renunciation of the agency without sufficient cause.

২,২৮৩.
চুক্তি আইনের ১১ ধারায় চুক্তি সম্পাদনের কয়টি যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ২টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• চুক্তি আইনের ১১ ধারায় চুক্তি সম্পাদনে যোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ ধারায় বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তিই চুক্তি করার যোগ্য যদি-
⇒ সে নিজ আইনে সাবালক,
⇒ সুস্থ মনের অধিকারী, এবং
⇒ নিজ আইনে চুক্তি করার জন্য অযোগ্য না হন।

[Every person is competent to contract who is age of majority according to the law to which he is subject, and sound mind and is not disqualified from contracting by any law to which he is subject.]

অতএব বলা যায় চুক্তি সম্পাদনে সে ব্যক্তি যোগ্য, যিনি সাবালক ও সুস্থ মনের অধিকারী এবং যাকে কোনো আইনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি।

এখানে ব্যক্তি বলতে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম ব্যক্তি উভয়কে বোঝানো হয়েছে। প্রাকৃতিক ব্যক্তি বলতে মানুষকে বলা হয়েছে আর কৃত্রিম ব্যক্তি বলতে কোম্পানি, কর্পোরেশন, সংঘ যারা আইন অনুসারে গঠিত ও নিবন্ধিত।
২,২৮৪.
“Ut Lite Pendente Nihil Innovetur”- এই নীতি The Transfer of Property Act, 1882 এর কত ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. ধারা ৩৫
  2. ধারা ৪৮
  3. ধারা ৫২
  4. ধারা ৫৮
ব্যাখ্যা

“Ut Lite Pendente Nihil Innovetur” একটি লাতিন আইনসংক্রান্ত উক্তি, যার বাংলা অর্থ: “মোকদ্দমা চলমান অবস্থায় কিছু নতুন প্রবর্তন বা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”

- এর মূল উদ্দেশ্য হলো আইনগত কার্যাবলীর সময় বর্তমান অবস্থা (status quo) বজায় রাখা, যাতে কোন পক্ষ অন্যায় সুবিধা নিতে না পারে।

অর্থাৎ, যখন কোনো মামলা চলমান থাকে, তখন মোকদ্দমার প্রক্রিয়ায় নতুন কোনো পরিস্থিতি বা পরিবর্তন প্রবর্তন করা যাবে না, যাতে বিচারের ন্যায্যতা এবং পক্ষগুলোর সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ: কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা চলাকালীন সময়ে সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না, কারণ এটি মামলার ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

⇒ এই নীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন,১৮৮২ এর ৫২ ধারায় প্রতিফলিত হয়েছে।

ধারা ৫২ অনুযায়ী,
কোন স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় প্রত্যক্ষ ও সুনির্দিষ্টভাবে ঐ সম্পত্তি সংক্রান্ত কোন অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে, মামলার কোন পক্ষই আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবে না। তবে আদালত অনুমতি দিলে তা হস্তান্তর করা যাবে। মামলা চলাকালীন হস্তান্তর মামলার ফলাফলকে কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না বা মামলার কোনো পক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

২,২৮৫.
পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত ______________ পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
  1. জেলা জজ আদালত
  2. সহকারী জজ আদালত
  3. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা

• পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩ এর ধারা ৪- পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রত্যেক জেলায় এক বা একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো জেলায় একাধিক পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ করিবে।

(২) সহকারী জজ বা সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার ১ (এক) জন বিচারক সমন্বয়ে পারিবারিক আদালত গঠিত হইবে।

(৩) উপধারা (১) এর অধীন পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় অধিক্ষেত্রভুক্ত সহকারী জজ আদালত বা সিনিয়র সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবে।

২,২৮৬.
A, তার ভাগ্নী C-কে এই শর্তে ৫০০ টাকা হস্তান্তর করে যে, সে তার স্বামীকে ত্যাগ করবে। এই হস্তান্তর-
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. শর্তসাপেক্ষে কার্যকর হবে
ব্যাখ্যা
ধারা ২৫ - শর্তসাপেক্ষ হস্তান্তর (Conditional Transfer):
যদি কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং তা কোনো শর্তের উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে সেই শর্ত যদি—
- অসম্ভব হয়,
- আইনে নিষিদ্ধ হয়,
- এমন প্রকৃতির হয় যে তা অনুমোদন করা হলে কোনো আইনের বিধান অকার্যকর হয়ে পড়ে,
- প্রতারণামূলক হয়,
- অন্য কারো ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতি ঘটায়,
- অথবা আদালতের দৃষ্টিতে অনৈতিক বা জননীতির পরিপন্থী হয়—

তাহলে ঐ শর্তের উপর নির্ভরশীল স্বার্থ ব্যর্থ হবে (অর্থাৎ হস্তান্তরটি বাতিল বলে গণ্য হবে)।

উদাহরণ:
(ক) A, B-কে একটি খামার ইজারা দেয় এই শর্তে যে, B এক ঘণ্টায় ১০০ মাইল হাঁটবে। এই ইজারা বাতিল।
(খ) A, B-কে ৫০০ টাকা দেয় এই শর্তে যে, সে A-এর কন্যা C-কে বিয়ে করবে। কিন্তু হস্তান্তরের তারিখে C মৃত ছিল। এই হস্তান্তর বাতিল।
(গ) A, B-কে ৫০০ টাকা এই শর্তে দেয় যে, সে C-কে হত্যা করবে। এই হস্তান্তর বাতিল।
(ঘ) A, তার ভাগ্নী C-কে এই শর্তে ৫০০ টাকা হস্তান্তর করে যে, সে তার স্বামীকে ত্যাগ করবে। এই হস্তান্তর বাতিল।
২,২৮৭.
Pecuniary jurisdiction of civil court is specified in-
  1. The Court Fees act,1870
  2. The Civil Courts Act,1887
  3. The Civil Procedure Code,1908
  4. The Suit Valuation Act,1887
ব্যাখ্যা
• কোন দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হবে,সেটা ২টি বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়-
১) আদালতের আর্থিক এখতিয়ার এবং
২) আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার।

দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫ থেকে ২৩ ধারায় দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছেন এবং আর্থিক এখতিয়ার The Civil Courts Act,1887 অনুসারে নির্ধারিত হয়।

• The Civil Courts Act,1887 এর ২০২১ সালের সংশোধনী অনুসারে, দেওয়ানি আদালতে আর্থিক এখতিয়ার-
সহকারী জজ আদালত (The Court of Assistant Judge)  = ১৫ লক্ষ  টাকা পর্যন্ত 
সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (The Court of Senior Assistant Judge)  = ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
যুগ্ম জেলা জজের আদালত (The Court of Joint District Judge)  =  ২৫ লক্ষ টাকার উপরে
২,২৮৮.
আইনশাস্ত্রে “onus probandi” এর অর্থ কোনটির সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. Burden of proof
  2. Res judicata
  3. Habeas Corpus
  4. Presumption of innocence
ব্যাখ্যা

⇒ "Onus probandi" একটি ল্যাটিন আইনি পরিভাষা যার সরাসরি অর্থ হলো "প্রমাণের ভার" বা "Burden of Proof"। এটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রকার মামলার একটি মৌলিক নীতি, যা নির্ধারণ করে কোন পক্ষকে তার দাবি বা বক্তব্য প্রমাণের দায়িত্ব বহন করতে হবে।
অর্থাৎ  আইনি পরিভাষায় এটি বোঝায় যে একটি দাবি বা অভিযোগ প্রমাণ করার দায়িত্ব কার উপর বর্তায়। যিনি কোনো বিষয়ে দাবি করেন, সাধারণত তার উপরই প্রমাণের ভার থাকে।
- Burden of proof (প্রমাণের ভার): "Onus probandi" এর সরাসরি ইংরেজি অনুবাদ।
- Res judicata: একটি ভিন্ন নীতি, যার অর্থ "বিষয়টি Already নিষ্পত্তি হয়েছে"।
- Habeas Corpus: একটি রিট, যার মাধ্যমে বেআইনি আটকদানের বিরুদ্ধে remedies নেওয়া হয়।
- Presumption of innocence: "নির্দোষতার অনুমান", যা ফৌজদারি মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
সুতরাং, "Onus Probandi" সরাসরি Burden of Proof-এর সাথেই সম্পর্কিত।

২,২৮৯.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর কত ধারায় “যৌতুক” এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ধারা ২(গ)
  2. ধারা ২(জ)
  3. ধারা ২(ঝ)
  4. ধারা ২(ঞ)
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(ঞ)- “যৌতুক” অর্থ-
(অ) কোন বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিবাহের সময় বা তৎপুর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে বিবাহের কনে পক্ষের নিকট দাবীকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ; অথবা

(আ) কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বা প্রত্যক্ষভাবে বিবাহের সহিত জড়িত বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্ত বিবাহের সময় বা তৎপুর্বে বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বিবাহের পণ হিসাবে প্রদত্ত বা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ।
২,২৯০.
'ক', 'খ'-কে ১০০০/= টাকা ধার দেন এই শর্তে যে, "খ" উক্ত টাকা ফেরত দিতে না পারলে 'গ', 'ক'-কে তা ফেরত দিবেন। এটি একটি-
  1. বাজী চুক্তি
  2. প্রায় চুক্তি
  3. জিম্মা চুক্তি
  4. ক্ষতিপূরণের চুক্তি
ব্যাখ্যা
⇒ চুক্তি আইনের ১২৪ ধারার বিধান "ক্ষতিপূরণের চুক্তি”-এর সংজ্ঞা (Contract of indemnity defined) যে চুক্তির মাধ্যমে এক পক্ষ অপর পক্ষকে স্বয়ং অঙ্গীকারকারীর আচরণ বা অন্য কোন ব্যক্তির আচরণ হতে সৃষ্ট ক্ষতি হতে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন, তাকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলে।

উদাহরণ
ক কোন বিশেষ ২০০ টাকা সম্পর্কে খ-এর বিরুদ্ধে গ-এর সম্ভাব্য আইনগত কার্যধারা পরিচালনার বিরুদ্ধে খ-কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য চুক্তি করেন। তা একটি ক্ষতিপূরণের চুক্তি।

⇒ Section 124. "Contract of indemnity" defined:
- A contract by which one party promises to save the other from loss caused to him by the conduct of the promisor himself, or by the conduct of any other person, is called a "contract of indemnity". 

Illustration
- A contracts to indemnify B against the consequences of any proceedings which C may take against B in respect of a certain sum of 200 Taka. This is a contract of indemnity.
২,২৯১.
'Areeat' শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত-
  1. দান
  2. বিক্রয়
  3. উইল
  4. ওয়াকফ
ব্যাখ্যা
- আরিয়ত (Areeat): এর অর্থ সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর বুঝায় না বরং আরিয়ত হলো এমন ধরনের দান যেক্ষেত্রে দাতার ইচ্ছাধীন সময়কাল পর্যন্ত সম্পত্তির আয় এবং লভ্যাংশ ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়। আরিয়ত চাইলে রদ করা যায়।
অর্থাৎ আরিয়ত (Areeat) শব্দটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হচ্ছে দান।

- দাতার ইচ্ছাধীন সময়কালে পুনঃপ্রবর্তনযোগ্য কোনো কিছু গ্রহণ ও তার আয় ভোগ করার অস্থায়ী অনুমতিকে আরিয়ত (Areeat) বলে।
২,২৯২.
"Doctrine of cy-pres" বা সাইপ্রেস নীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কোন ধারায় প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. ধারা ১০
  2. ধারা ১১
  3. ধারা ১৫
  4. ধারা ১৭
ব্যাখ্যা

⇒ "Doctrine of cy-pres" বা সাইপ্রেস নীতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১৫ এর সাথে সম্পর্কিত। এই নীতি অনুসারে, যদি কোনো শ্রেণির মানুষের সুবিধার জন্য স্বার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের মধ্যে কিছু স্বার্থ ধারা ১৩ বা ধারা ১৪ এর কারণে অবৈধ হয়, তবে শুধুমাত্র ঐ অবৈধ স্বার্থগুলো বাতিল হবে, সমগ্র শ্রেণির স্বার্থ নয়। এছাড়াও, এই নীতি হস্তান্তরকারীর মূল উদ্দেশ্যের যথাসম্ভব কাছাকাছি হস্তান্তর কার্যকর করার জন্য প্রয়োগ করা হয়। উল্লেখ্য, এই নীতি ধারা ২৬-তেও প্রয়োগ হয়েছে।

ধারা ১৫: শ্রেণি বিশেষের নিকট হস্তান্তর:
- যদি কোনো শ্রেণির মধ্যে কিছু ব্যক্তির স্বার্থ ধারা ১৩ বা ১৪-এর কারণে কার্যকর না হয়, শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তিদের স্বার্থ বাতিল হবে, সমগ্র শ্রেণি নয়।
Doctrine of cy-pres (সাইপ্রেস নীতি): অর্থ: যতটা সম্ভব কাছাকাছি বা সম্ভবপর উপায়ে হস্তান্তর কার্যকর করা।
প্রয়োগ: যদি হুবহু হস্তান্তর কার্যকর করা সম্ভব না হয় বা অযৌক্তিক হয়, তবে হস্তান্তরকারীর মূল উদ্দেশ্যের যতটা সম্ভব কাছাকাছি স্বার্থ কার্যকর করা হবে।

২,২৯৩.
চুক্তি আইনের কোন ধারায় জামিনের চুক্তি (Contract of guarantee) সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে?
  1. ধারা ১২৪
  2. ধারা ১২৬
  3. ধারা ১২৭
  4. ধারা ১২৮
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১২৬-এ "জামিনের চুক্তি" (Contract of guarantee), "জামিনদার" (surety), "প্রধান দেনাদার" (principal debtor) এবং "পাওনাদার" (creditor)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে যে, জামিনের চুক্তি হলো তৃতীয় ব্যক্তির অনাদায়ের ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকার পালন বা দায় পরিশোধের চুক্তি, এবং এটি মৌখিক বা লিখিত হতে পারে।

⇒ চুক্তি আইনের ১২৬ ধারার বিধান "জামিনের চুক্তি", "জামিনদার", "প্রধান দেনাদার" এবং "পাওনাদার" ("Contract of guarantee", "surety", "principal debtor" "creditor"):
- জামিনের চুক্তি: জামিনের চুক্তি হল অনাদায়ের ক্ষেত্রে কোন তৃতীয় ব্যক্তির অঙ্গীকার পালন বা দায় পরিশোধের চুক্তি।
- জামিনদার: যে ব্যক্তি এমন অঙ্গীকার করে তাকে জামিনদার বলে।
- প্রধান দেনাদার: যে ব্যক্তির অনাদায় সম্পর্কে জামিন প্রদান করা হয় তাকে প্রধান দেনাদার বলা হয়।
- পাওনাদার: যে ব্যক্তির নিকট এমন জামিন প্রদান করা হয় তাকে পাওনাদার বলে। জামিনের চুক্তি মৌখিক বা লিখিত উভয় প্রকার হতে পারে।
-----------
⇒ The Contract Act, 1872, Section 126. "Contract of guarantee", "surety", "principal debtor" and "creditor":
 A "contract of guarantee" is a contract to perform the promise, or discharge the liability, of a third person in case of his default. The person who gives the guarantee is called the "surety": the person in respect of whose default the guarantee is given is called the "principal debtor", and the person to whom the guarantee is given is called the "creditor". A guarantee may be either oral or written.

২,২৯৪.
তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য গোপন না রাখলে, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সর্বোচ্চ কী দণ্ড হতে পারে?
  1. ১ বছর কারাদণ্ড
  2. ২ বছর কারাদণ্ড
  3. ৩ বছর কারাদণ্ড
  4. ৫ বছর কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৩৯: তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের গোপনীয়তা:
(১) তদন্তের স্বার্থে কোনো ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারী কোনো তথ্য প্রদান বা প্রকাশ করিলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আইনে অভিযোগ দায়ের করা যাইবে না।

(২) এই অধ্যাদেশের অধীন তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীর তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যাদির গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।

(৩) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে অনুরূপ লঙ্ঘন হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এর আওতায় তদন্তের স্বার্থে প্রকাশিত তথ্য বা উপাত্তের তালিকা উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা সেবা প্রদানকারীকে ষাণ্মাষিক ভিত্তিতে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে জমা প্রদান করিতে হইবে।
২,২৯৫.
রাহিম তার সমস্ত সম্পত্তি করিমকে দান করলেন। এক্ষেত্রে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুসারে রাহিমের কোন ধরনের দেনার জন্য করিম ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবে?
  1. অতীতের সকল দেনার জন্য
  2. দানের সময় বিদ্যমান সকল দেনার জন্য
  3. ভবিষ্যতের সকল দেনার জন্য
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: খ) দানের সময় বিদ্যমান সকল দেনার জন্য।

• সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ধারা ১২৮: সার্বজনীন দানগ্রহীতা:
দাতা তার সমস্ত সম্পত্তি কাউকে দান করে গেলে গ্রহীতাকে সার্বজনীন দানগ্রহীতা বলে। সার্বজনীন দান গ্রহীতা দাতার দানের সময় বিদ্যমান সমস্ত দেনা ও দায়ের জন্য দানের সম্পত্তির মূল্যের সমপরিমাণ ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবে।

Section 128: Universal donee-
Subject to the provisions of section 127, where a gift consists of the donor's whole property, the donee is personally liable for all the debts due by and liabilities of the donor at the time of the gift to the extent of the property comprised therein.

২,২৯৬.
দুই পক্ষ যদি চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না থাকে, তাহলে চুক্তিটি ______ বলে গণ্য হয়।
  1. বৈধ
  2. বাতিল
  3. বাতিলযোগ্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ২০- সম্মতির উভয়পক্ষ সম্মতি সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে ভুলের অধীন হলে সম্মতিটি বাতিল

⇒ সম্মতির উভয় পক্ষ সম্মতি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে ভুল করলে (Mistake as to matter of fact) সেই সম্মতিটি বাতিল।
দুই পক্ষ যদি চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত না থাকে, তাহলে চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হয়।

তবে, সম্মতির বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত কোন জিনিসের মূল্য সম্পর্কে ভুল ধারণা কোন তথ্য বিষয়ক ভুল বলে বিবেচিত হবে না।

Section 20- Agreement void where both parties are under mistake as to matter of fact
Where both the parties to an agreement are under a mistake as to a matter of fact essential to the agreement, the agreement is void.
Explanation - An erroneous opinion as to the value of the thing which forms the subject-matter of the agreement is not to be deemed a mistake as to a matter of fact.
২,২৯৭.
‘তলব-ই-মৌসিবত’ বলতে কী বোঝায়?
  1. সাক্ষীর সামনে দাবী করা
  2. আদালতে মামলা করে দাবী প্রকাশ
  3. সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা
  4. বিক্রয় সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দাবী প্রকাশ
ব্যাখ্যা
মুসলীম আইন অনুযায়ী অগ্রক্রয়ের দাবী উত্থাপনের পদ্ধতি:

(ক) প্রথম দাবী (তলব-ই-মৌসিবত):
শব্দগত অর্থে তলব-ই-মৌসিবত হলো লাফ দিয়ে দাবী করা। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। অগ্রক্রয়কারী ব্যক্তিকে বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার সংবাদ পাবার সাথে সাথে অগ্রক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের ব্যাপারে নিজের অভিপ্রায় ঘোষণা করতে হবে। এটা মৌখিকভাবে ও করা যেতে পারে আবার লিখিতভাবে ও করা যেতে পারে। প্রথম দাবীর জন্য কোন সাক্ষীর উপস্হিতি অপরিহার্য নয়। সাক্ষীর অনুপস্হিতির কারণে তলব-ই-মৌসিবত অবৈধ হবে না। তবে তলব-ই-মৌসিবত যে যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে করা হয়েছিল এই বিষয়ে কিছু প্রমাণ থাকতে হবে।

(খ) দ্বিতীয় দাবী (তলব-ই-ইশাদ) :
তলব-ই-ইশাদ অর্থ হলো সাক্ষীর সম্মুখে দাবী করা। তলব-ই-মৌসিবত উত্থাপনের পর এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ এবং এটা প্রথম দাবীরই পুনরাবৃত্তি। তবে দ্বিতীয় দাবী কমপক্ষে দুইজন সাক্ষীর সামনে হতে হবে।এজন্য একে ‘তলব-ই-তকরির’ ও বলা হয়। তলব-ই-ইশাদ ঘোষণা আকারে ও হতে পারে, লিখিত আকারেও হতে পারে। আবার মৌখিক আকারেও হতে পারে। ইতিপূর্বে প্রথম দাবী করা না হয়ে থাকলে তলব-ই-ইশাদ অকার্যকর হবে। এটি বিক্রেতা বা ক্রেতাকে সম্বোধন করে প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের কাউকে পাওয়া না গেলে দ্বিতীয় দাবীটি বিক্রিত সম্পত্তিটিকে সম্বোধন করে করতে হবে।

(গ) তৃতীয় দাবী (তলব-ই-তমলিক) :
তলব-ই-তমলিক প্রথম দুটি দাবীর পরে তৃতীয় দাবী। প্রথম দুটি দাবীর পর যদি ক্রেতা মেনে নেয় এবং তার নিকট সম্পত্তিটি বিক্রয় করে দেয় তাহলে অগ্রক্রয়ের দাবী বাস্তবায়িত হয়। সেক্ষেত্রে আর কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই এবং ক্রেতার স্হলে অগ্রক্রয়কারী প্রতিস্হাপিত হয়। কিন্তু যদি প্রথম দুটি দাবীর পর অগ্রক্রয়কারী বিক্রীত সম্পত্তিটি পুনরায় ক্রয় করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার শরনাপন্ন হতে হবে অর্থাৎ আদালতে কোন মামলা দায়ের করতে হবে।
২,২৯৮.
বিকল্প অঙ্গীকারে (Alternative Promise) যদি একটি শাখা বৈধ এবং অন্যটি অবৈধ হয়, তাহলে কী হবে?
  1. পুরো অঙ্গীকার অবৈধ হবে
  2. উভয় শাখা কার্যকর হবে
  3. শুধুমাত্র বৈধ শাখা কার্যকর থাকবে
  4. আদালতের বিবেচনায় নির্ধারিত হবে
ব্যাখ্যা

বিকল্প অঙ্গীকার (Alternative Promise) – Section 58, The Contract Act, 1872:
বিকল্প অঙ্গীকারে যদি একটি শাখা বৈধ (legal) এবং অন্যটি অবৈধ (illegal) হয়, তাহলে শুধুমাত্র বৈধ শাখা কার্যকর হবে। অবৈধ শাখা বাতিল বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ (Illustration):
ক ও খ একমত হন যে, ক খ-কে ১,০০০ টাকা প্রদান করবেন। এর বিনিময়ে খ ক-কে পরবর্তীতে চাল বা চোরাইকৃত আফিম সরবরাহ করবে।
- চাল সরবরাহ: বৈধ চুক্তি, তাই এটি কার্যকর।
- চোরাইকৃত আফিম সরবরাহ: অবৈধ চুক্তি, তাই এটি বাতিল।

২,২৯৯.
“রাজধানী” বলতে কোন অনুচ্ছেদে উল্লিখিত অর্থ বোঝায়?
  1. ৩ অনুচ্ছেদ
  2. ৫ অনুচ্ছেদ
  3. ১৫১ অনুচ্ছেদ
  4. ১৫২ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৫২-
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের প্রয়োজনে অন্যরূপ না হইলে এই সংবিধানে-

"রাজধানী" অর্থ এই সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদের রাজধানী বলিতে যে অর্থ করা হইয়াছে;
“the capital” has the meaning assigned to that expression in article 5;
২,৩০০.
ইসতিদলাল বলতে কী বোঝায়?
  1. জনকল্যাণ
  2. ধর্মীয় অনুশীলন
  3. শরিয়া বাতিল করা
  4. যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা
’মুসলিম আইনের প্রধান উৎস চারটি- কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস। আরও কিছু বিষয়কেও ইসলামি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলো হলো-

ইজতিহাদ:
ইজতেহাদ অর্থ গবেষণা করা। ইসলামি পরিভাষায় শরিয়তের কোনো নির্দেশ সম্পর্কে সুষ্ঠু জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সর্বাঙ্গীণ চেষ্টা ও সমাধানের নাম ইজতেহাদ। সাধারণ লোকের চিন্তাধারায় ইজতেহাদ হয় না। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে কিয়াস প্রয়োগ করে ইজতেহাদ করতে হয়।

ইসতিহসান:
পরবর্তী শতাব্দীতে কোনো বিধান কিয়াসের চাহিদা থেকে পৃথক হলে তাকে ইসতিহসান বলা হতো। ইসতিহসান অর্থ বিচার-বিবেচনায় যা মঙ্গলজনক। কিয়াসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান কঠিন মনে হলে জনসাধারণের সাহায্যের জন্য ইসতিহসান করা হয়।

ইসতিসলাহ:
ইসতিহসানের থেকে সহজ ইসতিসলাহ। ইসতিসলাহ অর্থ জনকল্যাণ। এটা জনসাধারণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের সহজ মাধ্যম।

ইসতিদলাল:
ইসলামী আইনে যুক্তিনির্ণীত সিদ্ধান্তকে ‘ইসতিদলাল’ বলে। অন্য কথায় কোনো একটি বিষয় হতে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য একটি অনুরূপ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ইসতিদলাল বলে। ইসতিদলালের মাধ্যমে এক নীতি থেকে যুক্তি-তর্কের সাহায্যে অন্য নীতির প্রবর্তন করা হয়।