⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৫২(২)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, শিশুকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধটি জামিনযোগ্য বা অজামিনযোগ্য কি না, তা বিবেচনা করবেন না। এটি শিশু আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান, যা ফৌজদারি কার্যবিধি বা অন্যান্য আইনের সাধারণ বিধান থেকে ভিন্ন। এর উদ্দেশ্য হলো শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং তাদের গ্রেফতার বা আটকের পর দ্রুত মুক্তির সুযোগ দেওয়া।
যদি অপরাধটি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হয়, জামিন দেওয়া শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হয়, শিশু কুখ্যাত অপরাধীর সান্নিধ্যে যেতে পারে, নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হতে পারে, বা ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে জামিন দেওয়া হবে না। এই ক্ষেত্রে শিশুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু-আদালতে হাজির করতে হবে।
অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
শিশুর নিরাপত্তা (ক): ধারা ৫২(৩) অনুযায়ী, শিশুর নিরাপত্তা জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। যদি জামিন দেওয়া শিশুর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয় বা তাকে কুখ্যাত অপরাধীর সান্নিধ্যে নিয়ে যায়, তবে জামিন দেওয়া হবে না।
অপরাধের প্রকৃতি (খ): ধারা ৫২(৩)-এ বলা হয়েছে, যদি অপরাধ গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হয়, তবে জামিন দেওয়া থেকে বিরত থাকা যেতে পারে। অর্থাৎ, অপরাধের প্রকৃতি জামিনের সিদ্ধান্তে বিবেচিত হয়।
শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ (গ): শিশু আইনের মূলনীতি হলো শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করা। ধারা ৫২(৩)-এ উল্লেখ আছে যে, জামিন দেওয়া শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হলে তা দেওয়া হবে না। সুতরাং, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
⇒ শিশু আইন, ২০১৩-এর ধারা ৫২ জামিন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধিসহ বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন বা এই আইনের অন্য কোন বিধানে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শিশুকে গ্রেফতার করিবার পর এই আইনের অধীন মুক্তি প্রদান বা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে হাজির করা সম্ভবপর না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুটিকে, ক্ষেত্রমত, তাহার মাতা-পিতা এবং তাহাদের উভয়ের অবর্তমানে তত্ত্বাবধানকারী অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষ অথবা আইনানুগ বা বৈধ অভিভাবক বা, ক্ষেত্রমত, বর্ধিত পরিবারের সদস্য বা প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শর্ত ও জামানত সাপেক্ষে, অথবা, শর্ত ও জামানত ব্যতীত জামিনে মুক্তি প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিশুকে জামিনে মুক্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধ জামিনযোগ্য বা জামিন অযোগ্য কি না তাহা শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা বিবেচনায় লইবেন না।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর বা ঘৃণ্য প্রকৃতির হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে উহা শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হইলে বা জামিন প্রদান করা হইলে সংশ্লিষ্ট শিশু কোন কুখ্যাত অপরাধীর সাহচর্য লাভ করিতে পারে বা নৈতিক বিপদের সম্মুখীন হইতে পারে বা জামিন প্রদান করা হইলে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হইবার আশঙ্কা থাকিলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিশুকে জামিন বা মুক্তি প্রদান করিবেন না।
(৪) গ্রেফতারকৃত শিশুকে উপ-ধারা (৩) এর অধীন জামিনে মুক্তি প্রদান করা না হইলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্রেফতারের পর আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ সময় ব্যতীত, ২৪ (চবিবশ) ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিশুকে নিকটস্থ শিশু-আদালতে হাজির করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৫) থানা হইতে জামিনপ্রাপ্ত হয় নাই এমন কোন শিশুকে শিশু-আদালতে উপস্থাপন করা হইলে শিশু-আদালত তাহাকে জামিন প্রদান করিবে বা নিরাপদ স্থানে বা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখিবার আদেশ প্রদান করিবে।