বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

মোট প্রশ্ন২,৯৬৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিজেএস-এর জন্য অতিরিক্ত আইনসমূহ

PrepBank · পাতা ১৬ / ৩০ · ১,৫০১১,৬০০ / ২,৯৬৪

১,৫০১.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর অধীনে গঠিত আদালতের নাম কী?
  1. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল
  2. সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
  3. প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত
  4. দ্রুত বিচার আদালত
ব্যাখ্যা
⇒আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা২(গ) এর মাঝে বলা আছে “আদালত” অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত দ্রুত বিচার আদালত।

এই আইনের ৮ ধারার বিধান: দ্রুত বিচার আদালত গঠন:
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রত্যেক জেলায় এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এক বা একাধিক দ্রুত বিচার আদালত গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকটি দ্রুত বিচার আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে৷
(২) সরকার বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত আদালতের বিচারক নিযুক্ত করিবে।
১,৫০২.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে আপীল করতে হবে কত দিনের মধ্যে?
  1. ৩০ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
⇒ "নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন" এর ধারা ২৮ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করতে হবে
- এটি আইনের স্পষ্ট বিধান,  প্রাসঙ্গিক অংশ:
"ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।"

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ধারা ২৮ আপীল:
- ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে, হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করিতে পারিবেন।
১,৫০৩.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর অধীন মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের শাস্তি অনধিক কত বছর কারাদণ্ড?
  1. ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর বিনাশ্রম বা সশ্রম কারাদণ্ড
  3. ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
ধারা ১৭: মিথ্যা মামলা, অভিযোগ দায়ের ইত্যাদির শাস্তি-
 
(১) যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের অন্য কোন ধারার অধীন মামলা বা অভিযোগ করার জন্য ন্যায্য বা আইনানুগ কারণ নাই জানিয়াও মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন বা করান তাহা হইলে মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি এবং যিনি অভিযোগ দায়ের করাইয়াছেন উক্ত ব্যক্তি অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
 
(২) কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও মামলার বিচার করিতে পারিবে।
 
Section 17: Punishment for filing any false case, complaint etc.
 
i. If any person files or causes to be filed any case or complaint against a person under this Act for the purpose of causing injury to that person, although he knows that he had not any proper or; legal ground to do so, the person filing or causing to be filed that case or complain shall be punished with rigorous imprisonment for either description which may extend to seven years and also with fine.
 
ii. The Tribunal can take cognizance and adjudicate any offence under subsection (і), on a written application by any person.
১,৫০৪.
চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৩ অনুসারে কোন ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি গণ্য হবে?
  1. প্রতারণাপূর্ণ হলে
  2. আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হলে
  3. আইনের বিধান ব্যর্থ করলে
  4. উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ধারা ২৩-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি হবে যদি তা:
- আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হয় (forbidden by law); অথবা
- আইনের বিধান ব্যর্থ করে (defeat the provisions of any law); অথবা
- প্রতারণাপূর্ণ হয় (fraudulent); অথবা
- অন্য ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতির সাথে জড়িত হয় (injury to person or property); অথবা
- আদালত কর্তৃক অনৈতিক বা জননীতির পরিপন্থী বিবেচিত হয় (immoral or opposed to public policy)।
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে প্রতারণাপূর্ণ, আইন দ্বারা নিষিদ্ধ এবং আইনের বিধান ব্যর্থ করলে — এই তিনটি ক্ষেত্রই ধারা ২৩-এর অধীনে বেআইনি প্রতিদান বা উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে।
সুতরাং, উপরোক্ত সবগুলো ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য বেআইনি হবে।

⇒ চুক্তি আইনের ২৩ ধারার বিধান: কোন কোন প্রতিদানসমূহ এবং উদ্দেশ্যাবলি আইনানুগ এবং কোন কোনটি আইনানুগ নয়:
কোন সম্মতির প্রতিদান বা উদ্দেশ্য আইনানুগ হয় যদি না তা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ করা না হয়; বা তা কোন আইনের বিধানাবলি ব্যর্থ করে; বা তা প্রতারণাপূর্ণ হয়; বা তা অন্য ব্যক্তির বা অন্যের সম্পত্তির জন্য ক্ষতিকর পরিগণিত হয়; বা তা আদালত অযৌক্তিক বা জননীতির পরিপন্থি মনে করেন।
এরূপ প্রতিটি ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিদান বা উদ্দেশ্যকে বেআইনি বলা হয়। যে সকল চুক্তির উদ্দেশ্য বা প্রতিদান বেআইনি সেগুলো বাতিল।
-----------------
⇒ The Contract Act, 1872 Section 23. What considerations and objects are lawful and what not:
The consideration or object of an agreement is lawful, unless- it is forbidden by law; or is of such a nature that, if permitted, it would defeat the provisions of any law; or is fraudulent; or involves or implies injury to the person or property of another; or the Court regards it as immoral, or opposed to public policy.
In each of these cases, the consideration or object of an agreement is said to be unlawful. Every agreement of which the object or consideration is unlawful is void.

১,৫০৫.
'Obiter Dictum' means-
  1. The decision
  2. Precedents
  3. Legal Principles
  4. A thing said by the way
ব্যাখ্যা
• একটি Judgment -এর চারটি অংশ থাকে; যথা-
০১. A concise statement of fact;
০২. Point of determination or issue;
০৩. Reason behind the judgment;
০8. The decision thereon;

আদালতের Reasoning- কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
i. Ratio decidendi;
ii. Obiter Dictum;

Obiter Dictum-
"A thing said by the way" অর্থাৎ মামলার রায়ের এমন অংশকে বোঝায়, যেটা মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিচারক যেটা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের সময় বিচারক প্রসঙ্গক্রমে যে সব কথা বলেন, তাই Obiter Dictum এর binding force নেই তবে, persuasive value আছে।

Ratio decidendi-
সেই সব Legal Basis বা Legal Principles যেগুলোর উপর ভিত্তি করে আদালত রায় প্রদান করে। Precedent হিসেবে Ratio decidendi এর binding force আছে। নজির হিসেবে আদালত মানতে বাধ্য।
১,৫০৬.
সম্পাদনের তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে একটি বিক্রয়-চুক্তি নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হবে?
  1. ১৫দিন
  2. ৩০দিন
  3. ৪৫দিন
  4. ৬০দিন
ব্যাখ্যা
রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭ক ধারার বিধান: বিক্রয় চুক্তি, ইত্যাদির নিবন্ধন
 (১) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র লিখিত হইতে হইবে, তৎসঙ্গে উহা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হইতে হইবে।
 
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিক্রয়-চুক্তি, সম্পাদনের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
----
Section 17A. Registration of contract for sale, etc.
(1) Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immovable property shall be in writing, executed by the parties thereto and registered. 
 
(2) A contract for sale referred to in sub-section (1) shall be presented for registration within sixty days from the date of execution of the contract and the provisions regarding registration of instruments shall apply.
১,৫০৭.
মানব পাচার অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনার ন্যূনতম কারাদণ্ড কত?
  1. ৭ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা

• মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৮- অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা প্রচেষ্টা চালানোর দণ্ড:
(১) কোন ব্যক্তি মানব পাচার অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা প্রদান করিয়া, ষড়যন্ত্র করিয়া এবং প্রচেষ্টা চালাইয়া অথবা সজ্ঞানে কোন মানব পাচার অপরাধ সংঘটন বা সংঘটিত করিবার সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাহার সম্পত্তি ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করিয়া অথবা কোন দলিল-দস্তাবেজ গ্রহণ, বাতিল, গোপন, অপসারণ, ধ্বংস বা তাহার স্বত্ত্ব গ্রহণ করিয়া নিজেকে উক্ত অপরাধের সহিত জড়িত করিলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর এবং অন্যূন ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি এই আইনের আওতাধীন কোন অপরাধ সংঘটনে সহযোগী (abettor) হইলে উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ধার্যকৃত দণ্ডের সমপরিমাণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

১,৫০৮.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর আদালত কত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে প্রতিলিপি প্রেরণ করবে?
  1. ৫ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ২১ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬(২) এর বিধান অনুসারে, মুসলিম পারিবারিক আইনের অধীন সংঘটিত বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি প্রদানের পর ৭ দিনের মধ্যে আদালত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার/সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে ডিক্রির প্রত্যায়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করতে বাধ্য। 

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩: ধারা ২৬: মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধানকে প্রভাবিত না করা:
(১) এই আইনের কোনো কিছুই মুসলিম পরিবারিক আইন অথবা তদধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধানকে প্রভাবিত করিবে না।
(২) যেক্ষেত্রে কোনো পারিবারিক আদালত মুসলিম আইনের অধীন সংঘটিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে আদালত ডিক্রি প্রদানের ৭(সাত) দিনের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের ধারা ৭ এ উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে উক্ত ডিক্রির প্রত্যয়িত প্রতিলিপি প্রেরণ করিবে এবং, চেয়ারম্যান উক্ত প্রতিলিপি প্রাপ্ত হইবার পর, এইরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন যেন তিনি উক্ত আইনের অধীন কোনো তালাকের সংবাদ প্রাপ্ত হইয়াছেন।
(৩) মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত কোনো বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পারিবারিক আদালত কোনো ডিক্রি প্রদান করিলে যে তারিখে চেয়ারম্যান উপধারা (২) এর অধীন উহার প্রতিলিপি গ্রহণ করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত উহা কার্যকর হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের মধ্যে পক্ষগণের মধ্যে মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে কোনো আপোষ মীমাংসা কার্যকর হইলে উক্ত ডিক্রির কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।

১,৫০৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৭ সালে
  3. ২০১৮ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা

সপ্তদশ সংশোধনী, ২০১৮:
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। ৮ জুলাই, ২০১৮ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখার প্রস্তাব সংবলিত সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৯৮-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ২৯ জুলাই, ২০১৮ এটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।

উল্লেখ্য,
নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের ১০ বৎসরের মেয়াদ ২০১৯ সালের ২৪ই জানুয়ারী শেষ হয়। সপ্তদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ ২৫ বৎসর বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ১১তম সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে পরবর্তী ২৫ বৎসর পর্যন্ত নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ থাকবে।

১,৫১০.
পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ কাদের জন্য প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য
  2. বাংলাদেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য
  3. ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ বলবৎ হওয়ার পর একটি বিতর্ক দেখা দেয়। বলা হয় যে, পারিবারিক আদালত কি মুসলমানদের জন্য একটি আদালত। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এখানে মামলা করতে পারবে না।

সর্বপ্রথম Krishnapada Talukdar V Geetasree Talukdar 14 (1994) BLD 415 নামক মামলায় এরকম প্রশ্ন দেখা দেয়। এই মামলায় প্রশ্ন উঠে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলা তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবে কিনা। এই মামলার রায়ে বলা হয়- এই আইনের বিধান শুধু মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য। এই সংকটটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।

Pochon Rikssi Das Vs Khuku Rani Dasi and others 50 (1998) DLR(HCD) 47 মামলায় এই সংকটটি চূড়ান্ত ভাবে দূর করা হয়। তিন জন বিচারকের সমন্বয় গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চ এটা বহাল রাখে যে, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ,১৯৮৫ ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকদের জন্য।

এই আইন রহিত করে পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ প্রনীত হয়। তাছাড়া, এই আইনে শুধুমাত্র 'পারিবারিক' কথাটি উল্লেখ রয়েছে এবং ধারা ১ এ বলা হয়েছে-  ইহা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশে প্রয়োগ হইবে। অর্থাৎ এই পারিবারিক আদালত আইন,২০২৩ ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
১,৫১১.
সংবিধানের কোন ভাগে 'মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. সপ্তম ভাগে
  2. অষ্টম ভাগে
  3. নবম ভাগে
  4. দশম ভাগে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• নবম-ক ভাগ - জরুরী বিধানাবলী।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।
১,৫১২.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুসারে কত বছর যাবৎ স্বামী স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবে?
  1. চার বছর
  2. তিন বছর
  3. দুই বছর
  4. এক বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(১)(ii)অনুযায়ী, যদি স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হন বা অবহেলা করেন, তবে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করতে পারবেন।
- সঠিক উত্তর: গ) দুই বছর।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারার বিধান: বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদ:
নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথা:

i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বছর যাবত স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্ঘন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বছর বা তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বছর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বছর  যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেতাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বছর বয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐসময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাৎ
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বানিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবনশোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়ণতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহারপ্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এইমর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুতরহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বছরের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতাহইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মেআদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদিসে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্তহেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।

১,৫১৩.
চেক ডিজঅনার মামলা কোন আদালতে দায়ের করতে হয়?
  1. যুগ্ম দায়রা আদালতে
  2. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. খ বা গ
ব্যাখ্যা
চেক ডিজঅনারের মামলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করতে হয়। মেট্রোপলিটন এরিয়াতে চেক ডিজঅনারের মামলা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। আর অন্য এলাকাতে এই মামলা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়। তারপর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অথবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি প্রস্তুত করে বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠিয়ে দিবেন। হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করা হয়।

একটা কথা বলে রাখা প্রয়োজন, চেক ডিজঅনারের মামলা কখনো চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কিংবা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিচার করতে পারবে না। প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারা অনুযায়ী নালিশকারীকে পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা করার পর যদি ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন নালিশের Prima facie ভিত্তি আছে তাহলে তিনি মামলা আমলে নিয়ে মামলাটি প্রস্তুত করে বিচারের জন্য এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালতে পাঠিয়ে দিবেন। তারপর মামলাটি উক্ত আদালত কর্তৃক বিচার করা হবে। চেক ডিজঅনারের মামলা সবসময় সি.আর মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ এই সকল মামলা সরাসরি এখতিয়ার সম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে।
১,৫১৪.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুযায়ী, কোন বিচারক কত বছর বয়স পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকতে পারেন?
  1. ৬০ বছর
  2. ৬৫ বছর
  3. ৬৭ বছর
  4. ৬৮ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের বিধান: বিচারকদের পদের মেয়াদ:
(১) এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন বিচারক সাতষট্টি বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

(২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোন বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না।

(৩) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোন বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন।

(৪) কোন বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করিয়া স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
১,৫১৫.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২(ঝ) ধারায় কোনটির সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে?
  1. ডিজিটাল ডিভাইস
  2. গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স
  3. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো
  4. জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম
ব্যাখ্যা
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ২(ঝ): “গ্লোবাল থ্রেট ইন্টেলিজেন্স” অর্থ-
এমন একটি কর্ম-প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি যাহার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর সাইবার সুরক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার খাতে বৈশ্বিক হুমকি এবং ঝুঁকির তথ্য ও লগ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং রিপোর্ট করা হয় যাহার উদ্দেশ্য হইল সঠিক এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য রিপোর্ট করা, সাইবার ডিফেন্স ও কৌশল সমাধান প্রস্তাব করা যাহা কোনো ব্যক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে এইরূপ হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
ধারা ২(জ)- “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (Critical Information Infrastructure-CII)” অর্থ সরকার কর্তৃক ঘোষিত এইরূপ কোনো বাহ্যিক বা ভার্চুয়াল তথ্য পরিকাঠামো যাহা কোনো তথ্য-উপাত্ত বা কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চারণ বা সংরক্ষণ করে এবং যাহা ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকটাপন্ন হইলে-
(অ) জননিরাপত্তা, বা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বা জনস্বাস্থ্য, এবং
(আ) জাতীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বা সার্বভৌমত্ব, এর উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়িতে পারে।

ধারা ২ (ঞ)- “জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (National Cyber Emergency Response Team-NCERT)” অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একটি সত্তা যাহা সাইবার আক্রমণ এবং সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত ঘটনাসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফোরকাস্ট ও পর্যালোচনা, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োগের কারিগরি জ্ঞান নির্মাণ ও বিস্তারে সহায়তা এবং সাইবার অপরাধের আইনি তদন্তের জন্য সকল ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে।

ধারা ২ (ণ)- “ডিজিটাল ডিভাইস” অর্থ কোনো ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল বা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র বা সিস্টেম, যাহা ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল, ম্যাগনেটিক বা অপটিক্যাল ইমপালস ব্যবহার করিয়া যৌক্তিক, গাণিতিক এবং স্মৃতি কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং কোনো ডিজিটাল বা কম্পিউটার ডিভাইস সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সহিত সংযুক্ত এবং সকল ইনপুট, আউটপুট, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চিতি, ডিজিটাল ডিভাইস সফটওয়্যার বা যোগাযোগ সুবিধাদিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে যাহাতে সফটওয়্যার, এপিআই, কোডিং, সফটওয়্যার এপ্লিকেশন, এ্যালগরিদম, ডাটা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কাজ করে, বা যাহাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার টুল কাজ করে, যাহাতে ওয়েবসাইট বা পোর্টাল চলে, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ব্লকচেইন কম্পিউটিং, মেশিন লার্নিং, গেইমিং, কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং, মেশিন ভিশন, ব্লক চেইন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) সহ এতদ্‌সংশ্লিষ্ট আধুনিক কম্পিউটিং বা সফটওয়্যার বা অ্যাপস কাজ করে।
১,৫১৬.
কোন ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন কত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হলে সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না?
  1. ৫ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের বিধান: সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা: 
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে এবং তাঁহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হইলে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি
(ক) কোন উপযুক্ত আদালত তাঁহাকে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;
(খ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(গ) তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন;
(ঘ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া থাকেন;
(চ) আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করিতেছে না, এমন পদ ব্যতীত তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন; অথবা]
(ছ) তিনি কোন আইনের দ্বারা বা অধীন অনুরূপ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হন।
 
(২ক) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার (গ) উপ-দফা তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি-
(ক) দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিলে; কিংবা
(খ) অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে-
এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন না।
(৩) এই অনুচেছদের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন ব্যক্তি কেবল রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রী হইবার কারণে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত বলিয়া গণ্য হইবেন না।]
(৪) কোন সংসদ-সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত অযোগ্যতার অধীন হইয়াছেন কি না কিংবা এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানী ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(৫) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফার বিধানাবলী যাহাতে পূর্ণ কার্যকরতা লাভ করিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাদানের জন্য সংসদ যেরূপ প্রয়োজন বোধ করিবেন, আইনের দ্বারা সেইরূপ বিধান করিতে পারিবেন।
১,৫১৭.
Ratio decidendi-এর বৈশিষ্ট্য কী?
  1. তা বাধ্যতামূলক নয়
  2. তা শুধুমাত্র প্রসঙ্গক্রমে বলা হয়
  3. তা binding precedent হিসেবে কাজ করে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

• একটি Judgment -এর চারটি অংশ থাকে; যথা-
০১. A concise statement of fact;
০২. Point of determination or issue;
০৩. Reason behind the judgment;
০8. The decision thereon;

আদালতের Reasoning- কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
i. Ratio decidendi;
ii. Obiter Dictum;

Obiter Dictum-
"A thing said by the way" অর্থাৎ মামলার রায়ের এমন অংশকে বোঝায়, যেটা মান্য করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বিচারক যেটা কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন। অর্থাৎ, রায় প্রদানের সময় বিচারক প্রসঙ্গক্রমে যে সব কথা বলেন, তাই Obiter Dictum এর binding force নেই তবে, persuasive value আছে।

Ratio decidendi-
সেই সব Legal Basis বা Legal Principles যেগুলোর উপর ভিত্তি করে আদালত রায় প্রদান করে। Precedent হিসেবে Ratio decidendi এর binding force আছে। নজির হিসেবে আদালত মানতে বাধ্য।

১,৫১৮.
কোনো সংসদ-সদস্য পদত্যাগ করতে চাইলে কাকে লিখিতভাবে জানাতে হবে?
  1. রাষ্ট্রপতিকে
  2. প্রধানমন্ত্রীকে
  3. স্পীকারকে
  4. নির্বাচন কমিশনকে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদের বিধান: সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া:
(১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি,
(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;
(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;
(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;
(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা
(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

১,৫১৯.
সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারালে প্রধানমন্ত্রী কী করবেন?
  1. নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন
  2. পদত্যাগ করবেন
  3. সংসদ ভেংগে দিবেন
  4. সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজনের কাছে ক্ষমতা অর্পণ করবেন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৭- প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ:
(১) প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি- 
(ক) তিনি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন; অথবা 
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন। 

(২) সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাংগিয়া দিবার জন্য লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন এবং তিনি অনুরূপ পরামর্শদান করিলে রাষ্ট্রপতি, অন্য কোন সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন নহেন এই মর্মে সন্তুষ্ট হইলে, সংসদ ভাংগিয়া দিবেন। 

(৩) প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

১,৫২০.
সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শ গ্রহণ করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. সংসদ
  3. আইনমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৯৫- বিচারক-নিয়োগ:
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন। 
 
(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হইলে, এবং 
(ক) সুপ্রীম কোর্টে অন্যূন দশ বৎসরকাল এ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলে; অথবা 
(খ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বৎসর কোন বিচার বিভাগীয় পদে অধিষ্ঠান না করিয়া থাকিলে; অথবা 
(গ) সুপ্রীমকোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকিয়া থাকিলে ; তিনি বিচারকপদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না। 
 
(৩) এই অনুচ্ছেদে ‘‘সুপ্রীম কোর্ট’’ বলিতে এই সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে যে কোন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে আদালত হাইকোর্ট হিসাবে এখতিয়ার প্রয়োগ করিয়াছে, সেই আদালত অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১,৫২১.
একজন বাড়িওয়ালাকে তার পাওনা ভাড়া আদায়ে The Small Cause Courts Act, 1887 এর 27A ধারার বিধানমতে কত দিনের মধ্যে Small causes Court এর আবেদন করতে হবে?
  1. ০৩ মাস
  2. ১২ মাস
  3. ০৬ মাস
  4. ০৩ বছর
ব্যাখ্যা
• The Small Cause Courts Act, 1887 এর ২৭ ধারার অধীনে যেকোনো ব্যক্তি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (Distress warrant) - এর জন্য আবেদন করতে পারে। ২৭(ক) ধারায় বলা হয়েছে-

একজন বাড়িওয়ালা তার পাওনা ভাড়া আদায়ের জন্য ১২ মাসের বা ১ বছরের মধ্যে Small Causes Court এ আবেদন করতে হবে।
১,৫২২.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, স্বামী কত বছর অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯-এর ধারা ২(৬) অনুসারে, যদি স্বামী অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল হয়ে যায় অথবা কুষ্ঠরোগ বা মারাত্মক যৌন রোগে আক্রান্ত হয় এবং এই অবস্থা ২ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে স্ত্রী আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি চাইতে পারেন।

⇒ ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের ২ ধারা অনুযায়ী, স্ত্রী যে-সব কারণে আদালতে তালাক চাইতে পারেন সেগুলো হলো-
- চার বছর পর্যন্ত স্বামী নিরুদ্দেশ থাকলে;
- দুই বছর স্বামী তার স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হলে;
- স্বামীর সাত বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি কারাদণ্ড হলে;
- স্বামী কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া তিন বছর যাবত দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে;
- বিয়ের সময় পুরুষত্বহীন থাকলে এবং তা মামলা দায়ের করা পর্যন্ত বহাল থাকে;
- স্বামী দুই বছর ধরে অপ্রকৃতিস্থ বা পাগল থাকলে অথবা কুষ্ঠরোগে বা মারাত্মক যৌন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকলে;
- বিয়ে অস্বীকার করলে। অর্থাৎ যদি কোনো মেয়ের বাবা বা অভিভাবক মেয়েকে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দেন এবং সেই মেয়েটি ১৯ বছর হওয়ার আগে বিয়ে অস্বীকার করে বিয়ে ভেঙে দিতে পারে। তবে শর্ত হলো, মেয়েটির সঙ্গে স্বামীর দাম্পত্য সম্পর্ক (সহবাস) যদি স্থাপিত না হয়ে থাকে, তখনই কেবল বিয়ে অস্বীকার করে আদালতে বিচ্ছেদের ডিক্রি চাওয়া যাবে;
- স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান লঙ্ঘন করে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করলে;
- স্বামীর নিষ্ঠুরতার কারণে। নিম্নলিখিত আচরণগুলো ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হবে-
(ক) অভ্যাসগত আচরণে স্ত্রীকে আঘাত করা (দৈহিক আঘাত ছাড়াও মানসিক আঘাতও এর অন্তর্ভুক্ত, যা তার জীবন শোচনীয় বা দুর্বিষহ করে তুলেছে);
(খ) অন্য কোনো খারাপ নারীর সঙ্গে জীবনযাপন বা মেলামেশা;
(গ) স্ত্রীকে অনৈতিক জীবনযাপনে বাধ্য করা;
(ঘ) স্ত্রীর সম্পত্তি নষ্ট করা;
(ঙ) স্ত্রীকে নিজস্ব ধর্মপালনে বাধা দেয়া;
(চ) যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে, তাদের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুসারে সমান ব্যবহার না করা;
(ছ) এছাড়া মুসলিম আইনে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত অন্য যে কোনো কারণে স্ত্রী পারিবারিক আদালতে বিয়ে বিচ্ছেদের দাবি করতে পারবে।

১,৫২৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি কেবল সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করার বিধান রয়েছে?
  1. ১৪৩
  2. ১৪৫
  3. ১৪৪
  4. ১৪৫ক
ব্যাখ্যা
 ⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদের বিধান: আন্তর্জাতিক চুক্তি:
-বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন;

তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।
১,৫২৪.
'Improvements to mortgaged property' সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কত ধারায় দেয়া আছে?
  1. ৬৪ ধারায়
  2. ৬৩ক ধারায়
  3. ৬৫ ধারায়
  4. ৬৫ক ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ৬৩ক: রেহেনী সম্পত্তির উন্নয়ন

রেহেন কার্যকর অবস্থায় রেহেনী সম্পত্তি রেহেনগ্রহীতার দখলে থাকার সময় উন্নয়ন (Improvement) করা হলে রেহেন মুক্তির সময় রেহেনদাতা এই উন্নতির স্বত্ব লাভের অধিকারী হবেন এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্র ব্যতীত এর ব্যয় তাকে পরিশোধ করতে হবে না। অর্থাৎ শুধুমাত্র নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে তাকে ব্যয় পরিশোধ করতে হবে-

⇒ এরূপ উন্নয়ন রেহেনগ্রহীতার ব্যয়ে হলে,
⇒ রেহেনী সম্পত্তির ধ্বংস বা ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য হলে,
⇒ জামানতের পরিমাণ হ্রাস প্রতিরোধের জন্য হলে,
⇒ কোন সরকারী কর্মকর্তা বা সরকারী কর্তৃপক্ষের আইনসঙ্গত আদেশক্রমে করা হলে,

উপর্যুক্ত ক্ষেত্রে রেহেনদাতাকে মূল রেহেনী অর্থ ছাড়াও উন্নয়নের ব্যয় পরিশোধ করতে হবে। সুদের কোন হার নির্ধারিত না থাকলে বার্ষিক ৯% হারে সুদ দিতে হবে এবং উন্নয়নের ফলে কোন লাভ হয়ে থাকলে তা রেহেনদাতাকে প্রদান করতে হবে।

Section 63A: Improvements to mortgaged property
(1) Where mortgaged property in possession of the mortgagee has, during the continuance of the mortgage, been improved, the mortgagor, upon redemption, shall, in the absenceof a contract to the contrary, be entitled to the improvement; and the mortgagor shall not, save only in cases provided for in sub-section (2), be liable to pay the cost thereof. 
 
(2) Where any such improvement was effected at the cost of the mortgagee and was necessary to preserve the property from destruction or deterioration or was necessary to prevent the security from becoming insufficient, or was made in compliance with the lawful order of any public servant or public authority, the mortgagor shall, in the absence of a contract to the contrary, be liable to pay the proper cost thereof as an addition to the principal money with interest at the same rate as is payable on the principal, or, where no such rate is fixed, at the rate of nine per cent. per annum, and the profits if any, accruing by reason of the improvement shall be credited to the mortgagor.
১,৫২৫.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী সাধারণ জখমের সর্বোচ্চ শাস্তি কত বৎসর?
  1. ১২
ব্যাখ্যা
⇒ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১১ ধারার বিধান যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি:
- যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন কিংবা উক্ত নারীকে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করেন বা সাধারণ জখম (simple hurt) করেন] তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্মীয় বা ব্যক্তি-
(ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদণ্ডে বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(খ) মারাত্মক জখম (grievous hurt) করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অনধিক বার বৎসর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;
(গ) সাধারণ জখম (simple hurt) করার জন্য অনধিক তিন বৎসর কিন্তু অন্যূন এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।
১,৫২৬.
হিন্দু দায়ভাগ মতে, সকুল্যের ঊর্ধ্বতন ____________ পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত।
  1. তিন
  2. পাঁচ
  3. সাত
  4. আট
ব্যাখ্যা

দায়ভাগ আইনে তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত আছে, যথা: সপিণ্ড, সাকুল্য এবং সমানোদক।

সপিণ্ড:
একজন মারা গেলে সে অর্থাৎ তার আত্মা যাদের নিকট হতে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী তাহারা সকলেই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। সপিণ্ড সর্বমোট ৫৩ জন।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন তিন পুরুষ সকুল্য নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় সপিণ্ডদের পিণ্ডদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে সেই পিণ্ডলেপ সকুল্যদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

সমানোদক:
সকুল্যের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় তাদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র জল নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতে উদক শব্দের অর্থ জল।

উত্তরাধিকারিত্বে সপিণ্ডদের দাবী অগ্রগণ্য অর্থাৎ তাহারা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী। সপিণ্ডদের পর সকুল্যদের দাবী এবং সর্বশেষ সমানোদকের দাবী।

১,৫২৭.
'ক', 'খ'-এর নিকট ১০ শতক ভূমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করে। উক্ত ১০ শতকের মধ্যে ৭ শতক সাভার, ২ শতক ধামরাই এবং ১ শতক কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। উক্ত দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য কোথায় উপস্থাপন করতে হবে?
  1. সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে
  2. টাঙ্গাইল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে
  3. কেরানীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে
  4. ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে
ব্যাখ্যা
রেজিস্ট্রেশন আইন: ১৯০৮ এর ২৮ ধারায় বলা হয়েছে,

যে জমি হস্তান্তর করার জন্য দলিল রেজিস্ট্রি করা হবে, সেই জমির সম্পূর্ণ বা বেশি অংশ যে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অধীন অবস্থিত সেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য উপস্থাপন করতে হবে।

উক্ত সম্পত্তির বৃহত্তর অংশ একই উপজেলায় অবস্থিত না হলে যে সাব-রেজিস্ট্রারের এলাকায় এইরুপ সম্পত্তির কোন অংশ বিশেষ অবস্থিত সেই সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিলটি নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা যাবে।

'ক', 'খ'-এর নিকট ১০ শতক ভূমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করে। উক্ত ১০ শতকের মধ্যে বেশি অংশ (৭ শতক) সাভারে অবস্থিত হওয়ায়, দলিলটি রেজিস্ট্রির জন্য সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উপস্থাপন করতে হবে।
১,৫২৮.
দলিল রেজিস্ট্রেশনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি করা
  2. জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করা
  3. দলিলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা
  4. সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

⇒ রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ এর উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে দলিলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করা এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাহায্য করা অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়।

⇒ দলিল রেজিস্ট্রেশনের প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- দলিলের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা
- জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধ করা
- সম্পত্তির হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা
- সরকারি রেকর্ডে তথ্য সংরক্ষণ
- আদালতে দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার নিশ্চিত করা
- সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাহায্য করা
তবে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি করা এই উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে নেই।

১,৫২৯.
'Succession per stripes' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. অংশপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়:
 
(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।
 
খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।
 
(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১,৫৩০.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ ধারার উদ্দেশ্যে জেলা জজ কার সাথে পরামর্শ করে মধ্যস্থতাকারীর প্যানেল প্রস্তুত করেন?
  1. অতিরিক্ত জেলা জজের
  2. পক্ষদ্বয়ের আইনজীবীদের
  3. মধ্যস্থতাকারী পক্ষদ্বয়ের
  4. জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির
ব্যাখ্যা

ধারা ৮৯(১০):
এই ধারার উদ্দেশ্যে, জেলা জজ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করে একটি মধ্যস্থতাকারীর (Mediator) তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় তা হালনাগাদ করা হবে)।

এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন- আইনজীবীগণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকগণ, বিবাদ নিষ্পত্তি (dispute resolution) বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ, এবং এমন অন্যান্য ব্যক্তি— যাদেরকে এই উদ্দেশ্যে উপযুক্ত মনে করা হয়; তবে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি এই তালিকায় থাকতে পারবেন না।

জেলা জজ তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন সকল দেওয়ানি আদালতকে এ তালিকা সম্পর্কে অবহিত করবেন।

শর্ত:
এই উপ-ধারার অধীনে তালিকাভুক্ত কোনো মধ্যস্থতাকারী কোনো মামলায় মধ্যস্থতা করতে পারবেন না, যদি তিনি পূর্বে ওই মামলার কোনো পক্ষের আইনজীবী হিসেবে কোনো আদালতে নিযুক্ত হয়ে থাকেন।

১,৫৩১.
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ২৬-এর অধীনে কে বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বা বহু-পাক্ষিক চুক্তি করতে পারে? 
  1. সরকার
  2. BFIU
  3. বাংলাদেশ ব্যাংক
  4. অর্থ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

⇒ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারা ২৬(১) এ স্পষ্ট ভাষায় বলা আছে: এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার দ্বি-পাক্ষিক বা বহু-পাক্ষিক চুক্তি, কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অন্য কোনভাবে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তি করিতে পারিবে।
অর্থাৎ সরকার (Government) সরাসরি বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করার ক্ষমতা রাখে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ধারা ২৬(৩) অনুযায়ী বিদেশী সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক (Memorandum of Understanding - MoU) স্বাক্ষর করতে পারে, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির সমতুল্য নয়।
- তাই সঠিক উত্তর ক) সরকার।

⇒ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা-২৬: বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তি:
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার দ্বি-পাক্ষিক বা বহু পাক্ষিক চুক্তি, কনভেনশন বা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত অন্য কোনভাবে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তি করিতে পারিবে। 
(২) এই ধারার অধীন সরকার কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সহিত চুক্তিবদ্ধ হইলে মানিলন্ডারিং অপরাধ প্রতিরোধে সরকার— 
(ক) উক্ত বিদেশী রাষ্ট্র বা সংস্থার নিকট প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চাহিতে পারিবে; এবং 
(খ) উক্ত বিদেশী রাষ্ট্র এবং সংস্থা কর্তৃক যাচিত তথ্যাদি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি না হইলে, সরবরাহ করিবে। 
(৩) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিদেশী ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট অথবা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করিতে পারিবে এবং স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিএফআইইউ— 
(ক) উক্ত বিদেশী ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট বা সংস্থার নিকট প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চাহিতে পারিবে; এবং 
(খ) উক্ত বিদেশী ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং সংস্থা কর্তৃক যাচিত তথ্যাদি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি না হইলে, সরবরাহ করিবে। 
(৪) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন চুক্তির অধীন কোন বিদেশী রাষ্ট্রের আদালতের কোন আদেশ কার্যকর করিবার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করিবার বা ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হইলে এটর্নী জেনারেলের অফিসের আবেদনক্রমে আদালত যেইরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে; একইভাবে বাংলাদেশে আদালতের বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ বা উক্ত সম্পত্তি ফেরত আনয়নের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকের অধীনস্থ রাষ্ট্রকে এটর্নী জেনারেলের অফিস অনুরোধ করিতে পারিবে। 
(৫) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতার আওতায় কোন বিদেশী রাষ্ট্রের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত দলিলাদি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণীয় হইবে।

১,৫৩২.
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর কত ধারায় আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধান আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৪
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ১১ ধারার বিধান আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার:
 যদি আদালতের এ মর্মে বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে,- 
(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহার গ্রেফতার বা তাহাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াইবার জন্য পলাতক রহিয়াছেন বা আত্মগোপন করিয়াছেন, এবং 
(খ) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর সাত দিনের মধ্যে তাহার গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই- 

তাহা হইলে আদালত অন্ততঃ একটি বাংলা দৈনিক খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা আদেশে উল্লিখিত সময় যাহা সাত দিনের বেশী হইবে না, এর মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হইবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে আদালত তাহার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য সম্পন্ন করিতে পারিবে৷
১,৫৩৩.
দুর্নীতি দমন কমিশন কোন অভিযোগের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কী কী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে?
  1. সরকার বা সরকারের অধীনস্থ কোন কর্তৃপক্ষ হতে যে কোন প্রতিবেদন বা তথ্য চাওয়ার
  2. সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী (Expert) এর সহায়তা চাওয়ার
  3. সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ছাড়া স্বীয় উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪

ধারা ২৩- অভিযোগের তদন্ত:


(১) কমিশন দুর্নীতি বিষয়ক কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে, তদ্‌কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, সরকার বা সরকারের অধীনস্থ কোন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা হইতে যে কোন প্রতিবেদন বা তথ্য চাহিতে পারিবে বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পারদর্শী (Expert) এক বা একাধিক কর্মকর্তার বিশেষজ্ঞ সহায়তা চাহিতে পারিবে এবং যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চাহিত প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া না যায়, তাহা হইলে কমিশন স্বীয় উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত সম্পন্ন করিতে পারিবে।
 
(২) কমিশন কর্তৃক স্বউদ্যোগে দুর্নীতি বিষয়ক কোন অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত করিবার সময় সরকার বা সরকারের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কমিশন কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনকে সহযোগিতা করিতে বাধ্য থাকিবে৷ 

(৩) উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান না করিলে বা স্বীয় উদ্যোগে বা বিবেচনায় তথ্যাদি সরবরাহ করিতে ব্যর্থ হইলে, কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার উক্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
১,৫৩৪.
মানব পাচারে কোন পন্থা ব্যবহৃত হতে পারে?
  1. প্রতারণা
  2. বলপ্রয়োগ
  3. ভয়ভীতি প্রদর্শন
  4. ক বা খ বা গ
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩: মানব পাচার:
(১) ‘‘মানব পাচার’’ অর্থ কোন ব্যক্তিকে- 
(ক) ভয়ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ করিয়া; বা 
(খ) প্রতারণা করিয়া বা উক্ত ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক বা পরিবেশগত বা অন্য কোন অসহায়ত্বকে (vulnerability) কাজে লাগাইয়া; বা 
(গ) অর্থ বা অন্য কোন সুবিধা (kind) লেনদেন-পূর্বক উক্ত ব্যক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ রহিয়াছে এমন ব্যক্তির সম্মতি গ্রহণ করিয়া; 
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে যৌন শোষণ বা নিপীড়ন বা শ্রম শোষণ বা অন্য কোনো শোষণ বা নিপীড়নের (exploitation) উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ক্রয়, সংগ্রহ বা গ্রহণ, নির্বাসন বা স্থানান্তর, চালান বা আটক করা বা লুকাইয়া রাখা বা আশ্রয় দেওয়া (harbour)। 
 
(২) যেইক্ষেত্রে কোন শিশু পাচারের শিকার হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) হইতে (গ) তে বর্ণিত মানব পাচার অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমসমূহ (means)অনুসৃত হইয়াছে কিনা তাহা বিবেচিত হইবে না। 
 
ব্যাখ্যা-
এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, যদি কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা বাহিরে প্রতারণার মাধ্যমে, অসৎ উদ্দেশ্যে এবং বাধ্যতামূলক শ্রম বা ‘সার্ভিচিউড’ (servitude) বা ধারা-২ এর উপ-ধারা (১৫) এ বর্ণিত কোনো শোষণ বা নিপীড়নমূলক পরিস্থিতির শিকার হইতে পারে মর্মে জানা থাকা সত্বেও অন্য কোন ব্যক্তিকে কাজ বা চাকুরীর উদ্দেশ্যে গমন, অভিবাসন বা বহির্গমন করিতে প্রলুব্ধ বা সহায়তা করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কর্ম উপ-ধারা (১) এ সংজ্ঞায়িত ‘‘মানব পাচার’’ এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।
১,৫৩৫.
যেক্ষেত্রে কোন কর্ম বা কর্মবিচ্যুতি দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, সেক্ষেত্রে নিম্নের কোনটি সঠিক হবে?
  1. অপরাধীকে দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা যাবে
  2. অপরাধীকে দুই বা ততোধিক আইনের অধীনে শাস্তি দেওয়া যাবে
  3. অপরাধীকে যে কোন একটি আইনের অধীনে অভিযুক্ত ও শাস্তি প্রদান করা যাবে
  4. দুটি আইনের অধীনে দায়েরকৃত পৃথক দুটি মামলার যুগপথ Anaiogous বিচার হবে
ব্যাখ্যা
• The General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারা: দুই বা ততোধিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে বিধান:

যেক্ষেত্রে কোন কার্য বা বিচ্যুতি দুই বা ততোধিক আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, সেই ক্ষেত্রে অপরাধীকে ঐ আইন সমূহের সকল বা যে কোন একটির অধীন অভিযুক্ত এবং শাস্তি প্রদান করা যাবে, কিন্তু একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি প্রদান করা যাবে না।

ধারা ২৬ এর মধ্যে দোবারা সাজা নীতি বা ‘Doctrine of Double Jeopardy' প্রতিফলিত হয়েছে। দোবারা সাজা নীতিটি আরো কয়েকটি আইনে বর্ণিত আছে। যথা:

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২);
- ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩;
- দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ১১;
- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৪০; এবং
- ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ এর ধারা ৮।
১,৫৩৬.
উইল সম্পর্কিত দলিল নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধন অফিসে কত দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়?
  1. ১ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ মাস
  4. যেকোন সময়
ব্যাখ্যা
 •নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ এর ধারা ২৭: উইল যে কোন সময় দাখিল করা বা জমা দেওয়া যাইবে:

- উইল যে কোন সময় নিবন্ধনের জন্য দাখিল করা যাইবে, অথবা অতঃপর বর্ণিত পদ্ধতিতে জমা দেওয়া যাইবে।

- উইল হইল একমাত্র দলিল যাহা দাখিলের জন্য কোন সময়সীমা নাই।
১,৫৩৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. স্পীকার
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি
ব্যাখ্যা
• তৃতীয় তফসিল- বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ৯টি পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তির শপথগ্রহণ বা ঘোষনাপত্র পাঠের বিষয় উল্লেখ আছে। যথা-

স্পীকার কর্তৃক  ⇒ রাষ্ট্রপতি, সংসদ-সদস্য;
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ⇒ প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার, প্রধান বিচারপতি;
প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ⇒ সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক, সরকারী কর্মকমিশনের সদস্য, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার।
১,৫৩৮.
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর কত ধারায় ডিজিটাল রেকর্ডকে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. ৫৫ ধারায়
  2. ৫৬ ধারায়
  3. ৫৭ ধারায়
  4. ৫৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ধারা ৫৬: ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ইত্যাদির সাক্ষ্য মূল্য:
Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বা তদন্তকারী সংস্থার কোনো সদস্য বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনে সহায়তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোনো কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে উক্ত ভিডিও, স্থিরচিত্র, টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধ বা ক্ষতি সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারের সময় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে।
১,৫৩৯.
আইন ব্যাখ্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে আক্ষরিক (Gramatical) এবং যুক্তিবাদী (Logical) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন বিখ্যাত আইনবিদ-
  1. N.S Bindra
  2. Salmond
  3. Francis Bacon
  4. John Chipman Gray
ব্যাখ্যা

⇒ আইন ব্যাখ্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে আক্ষরিক (Grammatical) এবং যুক্তিবাদী (Logical) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন বিখ্যাত আইনবিদ খ) Salmond।

স্যালমন্ডের (Salmond) আইন ব্যাখ্যা তত্ত্ব:
স্যার জন স্যালমন্ড (Sir John William Salmond) তার বিখ্যাত গ্রন্থ "Jurisprudence"-এ আইন ব্যাখ্যার পদ্ধতিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন:
আক্ষরিক বা ব্যাকরণগত পদ্ধতি (Grammatical Method): এই পদ্ধতিতে আইনের ভাষার শাব্দিক অর্থ, বাক্য গঠন এবং শব্দের অভিধানিক অর্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এটি আইনের পাঠ্যকে যথাসম্ভব শাব্দিকভাবে ব্যাখ্যা করে।
যুক্তিবাদী পদ্ধতি (Logical Method): এই পদ্ধতিতে আইনের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট, এবং আইন প্রণয়নের পেছনের যুক্তি ও নীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এটি আইনের "আত্মা" বা মূল উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করে।
 
স্যালমন্ডের তত্ত্বের গুরুত্ব:
স্যালমন্ডের মতে, আক্ষরিক ব্যাখ্যা আইনের স্থিতিশীলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে, যেখানে যুক্তিবাদী ব্যাখ্যা আইনের প্রয়োগকে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত করে।
তিনি বলেন, আদর্শ আইন ব্যাখ্যায় উভয় পদ্ধতির সমন্বয় প্রয়োজন।

স্যালমন্ডের তত্ত্বের প্রভাব:
- স্যালমন্ডের এই দ্বিবিভাজন আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক চিন্তাধারা হিসেবে স্বীকৃত।
- এই তত্ত্ব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনবিদ ও বিচারপতিদের দ্বারা গৃহীত হয়েছে।
- বাংলাদেশ ও ভারতের আইনগত ব্যবস্থায়ও এই দ্বিবিভাজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
অর্থাৎ আইন ব্যাখ্যার প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে আক্ষরিক (Grammatical) এবং যুক্তিবাদী (Logical) দুটি ভাগে ভাগ করেছেন বিখ্যাত আইনবিদ স্যার জন স্যালমন্ড (Salmond)। তাই সঠিক উত্তর: খ) Salmond।
 
অন্যান্য আইনবিদদের সাথে তুলনা:
N.S Bindra: তিনি ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় বিশেষ অবদান রেখেছেন, কিন্তু আইন ব্যাখ্যার পদ্ধতিকে আক্ষরিক ও যুক্তিবাদী দুই ভাগে ভাগ করার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত নন।
Francis Bacon: তিনি আইন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট দ্বিবিভাজনের জন্য তিনি পরিচিত নন।
John Chipman Gray: তিনি আইনের উৎস এবং বিচারপতিদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট দ্বিবিভাজনের জন্য তিনি পরিচিত নন।

জন সালমন্ড (John Salmond) তাঁর Jurisprudence গ্রন্থে আইন ব্যাখ্যার (statutory interpretation) প্রচলিত পদ্ধতিগুলিকে স্পষ্টভাবে গ্রামাটিক্যাল (Grammatical বা আক্ষরিক) এবং লজিক্যাল (Logical বা যুক্তিবাদী) দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন। এটি কমন ল (যেমন ইংরেজ এবং ভারতীয় আইন) শিক্ষা ও অনুশীলনে ব্যাপকভাবে গৃহীত, কারণ এই বিভাজন আইনের অক্ষরিক অর্থ এবং উদ্দেশ্যের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করে। অন্যান্য আইনবিদ যেমন গ্রে (Gray) এই বিভাজন উল্লেখ করলেও, তা স্যাভিগনির (Savigny) ফ্রেমওয়ার্কের অংশ হিসেবে এবং অপ্রচলিত বলে উল্লেখ করেছেন, যা সালমন্ডের মতো স্বতন্ত্র অবদান নয়।
Salmond-On-Jurisprudence বই [লিঙ্ক] lawndlegislation ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]

- জন চিপম্যান গ্রে (John Chipman Gray) তাঁর The Nature and Sources of the Law (১৯০৯) গ্রন্থে আইন ব্যাখ্যার (statutory interpretation) পদ্ধতিগুলির উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি এগুলিকে স্পষ্টভাবে শুধুমাত্র 'আক্ষরিক (Grammatical)' এবং 'যুক্তিবাদী (Logical)' দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেননি। বরং, তিনি জার্মান আইনবিদ ফ্রিডরিখ কার্ল ভন স্যাভিগনির (Friedrich Carl von Savigny) চারটি ভাগের (grammatical, logical, historical, systematic) উল্লেখ করে বলেছেন যে এটি 'generally followed' নয়। এই বিভাজন গ্রে-এর মূল অবদান নয়, যেখানে তিনি বিচারকদের ভূমিকা এবং আইনের সোর্সস (judges' decisions as law) উপর বেশি ফোকাস করেছেন।- জন সালমন্ড (John Salmond) তাঁর Jurisprudence (১৯০২) গ্রন্থে এই দ্বৈত বিভাজনকে স্পষ্টভাবে প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা কমন ল-এর ঐতিহ্যে (যেমন ইংল্যান্ড এবং ভারত) ব্যাপকভাবে গৃহীত। গ্রে-এর ক্ষেত্রে এটি secondary reference মাত্র, এবং তাঁর ফোকাস US legal formalism-এ।
The Nature and Sources of the Law  বই এর [ লিঙ্ক ]

১,৫৪০.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী বকেয়া খাজনা আদায়ের তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950–এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যে বছরের খাজনা বকেয়া পড়ে, সেই বছরের শেষ দিন থেকে গণনা করে বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ হবে ৩ (তিন) বছর।

⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৪২ ধারার বিধান: তামাদি:
- যে বছরের খাজনা বকেয়া পড়ে সেই বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ সেই বছরের শেষ দিন হতে তিন বছর হবে।
-----------
⇒ The State Acquisition and Tenancy Act, 1950- Section 142. Limitation:
- The period of limitation for the recovery of an arrear of rent shall be three years running from the last day of the year in which the arrear fell due.

১,৫৪১.
কোনটি বিবাহিতা মহিলার সীমিত স্ত্রীধন এর উদাহরণ?
  1. স্বামীর নিকট হতে দানসূত্রে প্রাপ্ত স্থাবর সম্পত্তি
  2. অনাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানকৃত সম্পত্তি
  3. কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

১,৫৪২.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২(১) অনুসারে, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারার্থ আমলে নেওয়ার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. মন্ত্রিপরিষদের সম্মতি
  2. কমিশনের অনুমোদন
  3. পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
  4. মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদন
ব্যাখ্যা

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২(১) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, "নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না।"
সুতরাং, এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার শুরু করতে হলে আদালতকে অবশ্যই দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২- মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনুমোদন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না।
(২) এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সরকার ও কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনপত্রের কপি মামলা দায়েরের সময় আদালতে দাখিল করিতে হইবে।

১,৫৪৩.
রাষ্ট্রপতি যদি প্রথমবার বিল ফেরত দেওয়ার পর সংসদ তা পুনরায় পাস করে, তবে রাষ্ট্রপতি কত দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন?
  1. ৫ দিনের মধ্যে
  2. ৭ দিনের মধ্যে
  3. ১০ দিনের মধ্যে
  4. ১৫ দিনের মধ্যে
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(৪) অনুচ্ছেদের অনুসারে, রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি প্রথমবার পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠান, তাহলে সংসদ তার বার্তাসহ পুনর্বিবেচনা করে সংশোধন সহ বা ছাড়া পুনরায় গ্রহণ করলে বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপিত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে; না দিলে সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদের বিধান: আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি: (১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।
------------
⇒ Article 80. Legislative procedure:
(1) Every proposal in Parliament for making a law shall be made in the form of a Bill.
(2) When a Bill is passed by Parliament it shall be presented to the President for assent.
(3) The President within fifteen days after a Bill is presented to him, shall assent to the Bill or, in the case of a Bill other than a Money Bill, may return it to Parliament with a message requesting that the Bill or any particular provisions thereof be reconsidered, and that any amendments specified by him in the message be considered ; and if he fails so to do he shall be deemed to have assented to the Bill at the expiration of that period.
(4) If the President so returns the Bill Parliament shall consider it together with the President's message, and if the Bill is again passed by Parliament with or without amendments, it shall be presented to the President for his assent, whereupon the President shall assent to the Bill within the period of seven days after it has been presented to him, and if he fails to do so he shall be deemed to have assented to the Bill on the expiration of that period.
(5) When the President has assented or is deemed to have assented to a Bill passed by Parliament it shall become law and shall be called an Act of Parliament.

১,৫৪৪.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ৪১ অনুযায়ী কৃত্রিম মালিক (Ostensible Owner) দ্বারা হস্তান্তরের নীতি কী?
  1. Doctrine of Estoppel
  2. Doctrine of cy-pres
  3. Doctrine of Election
  4. Doctrine of Double Possibilities
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ৪১ অনুসারে, কৃত্রিম মালিক (Ostensible Owner) দ্বারা হস্তান্তরের নীতি হলো Doctrine of Estoppel। এই নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃত মালিকের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে কৃত্রিম মালিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে হস্তান্তরগ্রহীতা যুক্তিসঙ্গত সাবধানতার সাথে সৎ বিশ্বাসে কাজ করলে, হস্তান্তরটি বৈধ বলে গণ্য হবে। এই ধারার উদ্দেশ্য হলো সৎ বিশ্বাসে সম্পত্তি গ্রহণকারীকে সুরক্ষা প্রদান করা।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৪১ ধারার বিধান: প্রতীয়মান মালিক কর্তৃক হস্তান্তর: যখন কোন ব্যক্তি, স্থাবর সম্পত্তিতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে, ঐ সম্পত্তির প্রতীয়মান মালিক বলে পরিগণিত হয় এবং মূল্যের বিনিময়ে সে তা হস্তান্তর করে, তখন তার হস্তান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য গৃহীত যুক্তিসঙ্গত সাবধানতা গ্রহণ করে থাকলে এবং সরল বিশ্বাসে কার্য করে থাকলে, দাতার হস্তান্তরের ক্ষমতা ছিল না, এই যুক্তিতে হস্তান্তর বাতিলযোগ্য হবে না।
----------
- The Transfer of Property Act, 1882 Section 41. Transfer by ostensible owner:
 - Where, with consent, express or implied, of the persons interested in immoveable property, a person is the ostensible owner of such property and transfers the same for consideration, the transfer shall not be voidable on the ground that the transferor was not authorised to make it: provided that the transferee, after taking reasonable care to ascertain that the transferor had power to make the transfer, has acted in good faith.

১,৫৪৫.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪(১) ধারায় প্রদত্ত সর্বনিম্ন শাস্তি কী?
  1. অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড
  3. অনধিক সাত বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. অনধিক দশ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা
• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০ এর ৪(১) ধারায় 'দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার' শাস্তির বিধান রয়েছে। উক্ত ধারানুসারে,

⇒ সর্বোচ্চ শাস্তি- মৃত্যুদণ্ড;
⇒ সর্বনিম্ন শাস্তি- যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড;
⇒ অর্থদণ্ড- অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা।

ধারা ৪- দহনকারী, ইত্যাদি পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি:

(১) যদি কোন ব্যক্তি দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী বা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীকে এমনভাবে আহত করেন যাহার ফলে উক্ত শিশু বা নারীর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয় বা শরীরের কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হয় বা তাহার শরীরের অন্য কোন স্থান আহত হয়, তাহা হইলে উক্ত শিশুর বা নারীর-

(ক) দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট বা মুখমণ্ডল, স্তন বা যৌনাংগ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন;

(খ) শরীরের অন্য কোন অংগ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার বা শরীরের কোন স্থানে আঘাত পাওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক চৌদ্দ বৎসর কিন্তু অন্যূন সাত বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ কোন শিশু বা নারীর উপর নিক্ষেপ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, তাহার উক্তরূপ কার্যের দরুণ সংশ্লিষ্ট শিশু বা নারীর শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনভাবে কোন ক্ষতি না হইলেও, অনধিক সাত বৎসর কিন্তু অন্যূন তিন বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

(৪) এই ধারার অধীন অর্থদণ্ডের অর্থ প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী দণ্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ, বা তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে আদায় করিয়া অপরাধের দরুণ যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে তাহার উত্তরাধিকারীকে বা, ক্ষেত্রমত, যেই ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন, সেই ব্যক্তিকে বা সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে, তাহার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হইবে।
১,৫৪৬.
কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ৫ম
  2. ৭ম
  3. ৮ম
  4. ৯ম
ব্যাখ্যা
অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ অষ্টম সংবিধান সংশোধন আইন দ্বারা সংবিধানের ২ক, ৩, ৫, ৩০ ও ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনী আইনবলে-
১. ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষিত হয়;
২. সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদকে সংশোধন করে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হয়;
৩. সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদে Bengali শব্দটি পরিবর্তন করে Bangla করা হয় এবং Dacca পরিবর্তন করে Dhaka করা হয়;
৪. সংবিধানের ৩০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতি ছাড়া এদেশের কোনো নাগরিক কর্তৃক কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের প্রদত্ত কোনো খেতাব, সম্মাননা, পুরস্কার বা অভিধা গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়।
১,৫৪৭.
আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর অধীনে গঠিত সুপ্রীম কোর্ট কমিটির সদস্য-সচিব কে?
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. অ্যাটর্নি-জেনারেল
  3. লিগ্যাল এইড অফিসার
  4. হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারপতি
ব্যাখ্যা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এর ধারা ৮ক- সুপ্রীম কোর্ট কমিটি:
(১) বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে সুপ্রীম কোর্ট কমিটি নামে একটি কমিটি থাকিবে এবং উহা নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:  
(ক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(কক) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন রেজিস্ট্রার;]
(খ) সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এবং উক্ত সমিতি কর্তৃক মনোনীত সমিতির অন্য একজন সদস্য;
(গ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত মানবাধিকার ও সমাজকল্যাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দুইজন আইনজীবী, যাহাদের মধ্যে একজন মহিলা থাকিবেন;
(ঘ) বোর্ড কর্তৃক মনোনীত জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আইন ও মানবাধিকার ইস্যুতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থার দুইজন প্রতিনিধি;
(ঙ) বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল কর্তৃক মনোনীত একজন অন্যূন ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল;
(চ) বোর্ডের চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত সংস্থার অন্যূন উপ-পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা;
(ছ) লিগ্যাল এইড অফিসার, সুপ্রীম কোর্ট, যিনি ইহার সদস্য-সচিবও হইবেন;

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এবং (ঘ) এর অধীন মনোনীত সদস্যগণ তাহাদের মনোনয়নের তারিখ হইতে দুই বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

১,৫৪৮.
হিন্দু উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে -
  1. প্রত্যেকে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  2. প্রত্যেকে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক করে পাবে
  3. সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  4. সকলে একত্রে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।

১,৫৪৯.
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী মানব পাচার অপরাধের অর্থদণ্ডসহ সর্বনিম্ন কারাদণ্ড কত বৎসর?
  1. 8
ব্যাখ্যা
মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২

ধারা ৬- মানব পাচার নিষিদ্ধকরণ ও দণ্ড

(১) কোন ব্যক্তি ধারা ৩ এ উল্লিখিত কোন কার্য করিলে উহা মানব পচার অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। 
(২) মানব পাচার অপরাধ সংঘটনকারী কোন ব্যক্তি অনধিক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫(পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে এবং অন্যূন ৫০(পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
১,৫৫০.
কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে কে অনুরোধ করতে পারে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. কেউ নয়
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ৫৮: অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ

(১) প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন;
(খ) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন, তবে ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার শর্তাংশের অধীনে মনোনীত মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে না;
(গ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুসারে রাষ্ট্রপতি অনুরূপ নির্দেশ দান করেন; অথবা
(ঘ) এই অনুচ্ছেদের (৪) দফায় যেরূপ বিধান করা হইয়াছে তাহা কার্যকর হয়।

(২) প্রধানমন্ত্রী যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শ দান করিতে পারিবেন।

(৩) সংসদ ভাংগিয়া যাওয়া অবস্থায় যে-কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে স্বীয় পদে বহাল থাকিতে এই অনুচ্ছেদের (১) দফার (ক), (খ) ও (ঘ) উপ-দফার কোন কিছুই অযোগ্য করিবে না।

(৪) প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে; তবে এই পরিচ্ছেদের বিধানাবলী-সাপেক্ষে তাঁহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন।

(৫) এই অনুচ্ছেদে "মন্ত্রী" বলিতে প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী  অন্তর্ভুক্ত।

Article 58: Tenure of office of other Ministers

(1) The office of a Minister other than the Prime Minister shall become vacant – 
(a) if he resigns from office by placing his resignation in the hands of the Prime Minister for submission to the President; 
(b) if he ceases to be a member of Parliament, but this shall not be applicable to a Minister chosen under the proviso to article 56(2); 
(c) if the President, pursuant to the provisions of clause (2), so directs; or 
(d) as provided in clause (4). 
 
(2) The Prime Minister may at any time request a Minister to resign, and if such Minister fails to comply with the request, may advise the President to terminate the appointment of such Minister. 
 
(3) Nothing in sub clauses (a), (b) and (d) of clause (1) shall disqualify a Minister for holding office during any period in which Parliament stands dissolved. 
 
(4) If the Prime Minister resigns from or ceases to hold office each of the other Ministers shall be deemed also to have resigned from office but shall, subject to the provisions of this Chapter, continue to hold office until his successor has entered upon office. 

(5) In this article “Minister” includes Minister of State and Deputy Minister.
১,৫৫১.
The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী বিবাহ নিবন্ধন না করালে সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে?
  1. ১ হাজার টাকা
  2. ২ হাজার টাকা
  3. ৩ হাজার টাকা
  4. ৫ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ যে আইনি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বামী ও স্ত্রীর আইনগত মর্যাদা সৃষ্টি এবং সে মর্যাদা হতে উদ্ভুত আইনগত বাধ্যবাধকতাসমূহ সৃষ্টি করে তাকে বিবাহ বলে।

মুসলিম আইনে বিবাহ হলো Civil Contract বা দেওয়ানি চুক্তি। Abdul Kadir Vs. Salima মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিবাহকে দেওয়ানি চুক্তি বলে আখ্যায়িত করেছে। অপর পক্ষে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট Khurshid Bibi মামলায় বলেন- বিবাহ যদিও দেওয়ানি চুক্তির ন্যায় একটি চুক্তি, এটি পুরোপুরি দেওয়নি চুক্তি নয়। কিন্তু Anwar Hossain vs Momtaz Begum 18, CLC, HCD, 51 মামলায় বাংলাদেশর সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেন যে, বিবাহ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় বরং এটি একটি দেওয়ানি চুক্তি।

⇒ বিবাহ নিবন্ধন [Registration of Marriage]:
- মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের ব্যাপারে ধর্মীয় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে, আইন অনুসারে বিবাহ নিবন্ধন বা ৮ এখন বাধ্যতামূলক।
- The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 এর ৩ ধারা অনুসারে প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
- বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি হলো- অনধিক ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ৩ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ড। (ধারা-৫)
- এ আইনের অধীন অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আমলযোগ্য। (ধারা-৫ক)
------------------------ 
⇒Section-5: Solemnization of a marriage to be reported and registered:
(1) Where a marriage is solemnized by the Nikah Registrar himself, he shall register the marriage at once. 
(2) Where a marriage is solemnized by a person other than the Nikah Registrar, the bridegroom of the marriage shall report it to the concerned Nikah Registrar within thirty days from the date of such solemnization. 
(3) Where solemnization of a marriage is reported to a Nikah Registrar under sub-section (2), he shall register the marriage at once. 
(4) A person who contravenes any provision of this section commits an offence and he shall be liable to be punished with simple imprisonment for a term which may extend to two years or with fine which may extend to three thousand taka, or with both.
১,৫৫২.
উইল কার্যকর হওয়ার আগে কোন খরচগুলো আগে মেটানো হয়?
  1. দান-খয়রাত
  2. আদালতের ফি
  3. উত্তরাধিকারীদের ভরণ-পোষণ
  4. দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুসারে, উইল (অসিয়ত) কার্যকর হওয়ার আগে নিম্নলিখিত খরচগুলো পরিশোধ করতে হয় অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্রমে:
১. দাফন-কাফনের যাবতীয় খরচ (মৃত্যু পরবর্তী দাফন, কাফন, জানাজার ব্যবস্থা ইত্যাদি)
২. মৃত ব্যক্তির বৈধ ঋণ পরিশোধ (যদি কোনো ঋণ থাকে)
৩. উইল কার্যকর (শুধুমাত্র অবশিষ্ট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত)
৪. অবশিষ্ট সম্পত্তি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বণ্টন
- অর্থাৎ, উইল কার্যকর করার আগে প্রথমেই দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এরপরই উইলের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
- সুতরাং, উইল কার্যকর হওয়ার আগে দাফন-কাফনের খরচ ও ঋণ পরিশোধ প্রথমেই করতে হয়।

১,৫৫৩.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর কত ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান আছে?
  1. ৯ ও ১০ ধারা
  2. ১০ ও ১৩ ধারা
  3. ১১ ও ১৪ ধারা
  4. ২১ ও ২৪ ধারা
ব্যাখ্যা
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ১১ ও ১৪ ধারায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে। এই আইনে ২ ধরনের উপায়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান করা হয়েছে-
১. আপোষ (Compromise) বা
২. মীমাংসা (Reconciliation)।

ধারা ১১- বিচার-পূর্ব কার্যক্রম:
(১) লিখিত জবাব দাখিল করা হইলে পারিবারিক আদালত মোকদ্দমার বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।ণ(২) বিচার-পূর্ব শুনানির জন্য ধার্যকৃত তারিখে আদালত আরজি, লিখিত জবাব এবং পক্ষগণ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিলসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যথাযথ মনে করিলে, পক্ষগণের বক্তব্যও শ্রবণ করিবে।
(৩) আদালত বিচার-পূর্ব শুনানিকালে পক্ষগণের মধ্যে বিরোধীয় বিষয়সমূহ ধার্য করিবে এবং সম্ভব হইলে পক্ষগণের মধ্যে একটি আপোষ বা মীমাংসার চেষ্টা করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে আদালত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় গঠন করিবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের একটি তারিখ ধার্য করিবে।

ধারা ১৪- বিচারের সমাপ্তি:
(১) পারিবারিক আদালত, সকল পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হইবার পর, উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠার জন্য পুনরায় প্রচেষ্টা চালাইবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন আপোষ বা মীমাংসা প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হইলে, আদালত রায় ঘোষণা করিবে এবং উক্ত রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে রায় সম্পর্কে পক্ষগণ বা তাহাদের প্রতিনিধি বা আইনজীবীগণকে যথাযথ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে ও ডিক্রি প্রদত্ত হইবে।
১,৫৫৪.
'রাষ্ট্র আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।' বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা আছে?
  1. ১৫
  2. ১৭
  3. ১৯
  4. ২১
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদের বিধান: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা: রাষ্ট্র-
(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;
(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
১,৫৫৫.
The Contract Act, 1872 অনুযায়ী নিম্নের কোনটি এজেন্সি সমাপ্তির কারণ নয়?
  1. মালিক মারা গেলে
  2. এজেন্ট মারা গেলে
  3. এজেন্ট দেউলিয়া হয়ে গেলে
  4. মালিক অপ্রকৃতিস্থ হলে
ব্যাখ্যা
• চুক্তি আইনের ২০১ ধারার বিধান প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি (Termination of agency):
প্রতিনিধিত্বের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে-
- প্রিন্সিপাল তার ক্ষমতা প্রত্যাহার করলে; অথবা
- এজেন্ট তার এজেন্সির কাজ পরিহার করলে; অথবা
- এজেন্সির কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে; অথবা
- প্রিন্সিপাল বা এজেন্টের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে বা অপ্রকৃতিস্থ হলে; অথবা 
- দেনাদারদের প্রতিকারের জন্য প্রিন্সিপাল দেউলিয়া হলে।

অর্থাৎ  The Contract Act, 1872 অনুযায়ী এজেন্ট দেউলিয়া হয়ে গেলে এজেন্সি সমাপ্তির হয় না।
-------------
• Section 201. Termination of agency:
 An agency is terminated by the principal revoking his authority; or by the agent renouncing the business of the agency; or by the business of the agency being completed; or by either the principal or agent dying or becoming of unsound mind; or by the principal being adjudicated an insolvent under the provisions of any Act for the time being in force for the relief of insolvent debtors.
১,৫৫৬.
যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে সে মোট সম্পত্তির কত অংশ পাবে?
  1. ২/৩
  2. ১/২
  3. ১/৬
  4. ১/৪
ব্যাখ্যা
ছেলে-কন্যা: স্বামী/স্ত্রী এবং বা-মার অংশ দেওয়ার পর যা থাকবে তা সম্পূর্ণ মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলে, ছেলের ছেলে এভাবে যত নিচেই হোক তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে পাবে।
- ছেলের সঙ্গে মেয়ে থাকলে প্রত্যেক কন্যা প্রত্যেক ছেলের (১/২) অর্ধেক হারে পাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে।
- আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে। 

অর্থাৎ যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবেন।
১,৫৫৭.
The Civil Courts Act, 1887 এর কত ধারায় 'nemo debet esse judex in propria causa' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ১৯ ধারায়
  2. ২২ ধারায়
  3. ২৬ ধারায়
  4. ৩৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
The Civil Courts Act, 1887 এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী-
কোন বিচারক যদি মোকদ্দমার কোন পক্ষ হন বা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে, অথবা কোন আপিল এমন ডিক্রি থেকে হয় যা ঐ বিচারক ঘোষণা করেছিলেন; তাহলে উক্ত বিচারকের শুনানী করে এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি ঐ মামলা বা আপীলের শুনানী করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে জেলা জজ তাঁর স্থানীয় সীমার মধ্যে মামলা বা আপিল এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে পারবেন।

এই ধারায় 'Principles of natural justice' এর দ্বিতীয় নীতি 'nemo debet esse judex in propria causa' অর্থাৎ নিজের মামলায় নিজেই বিচারক হওয়া যায় না- 'No one shall be judge of his own case' নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
১,৫৫৮.
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধনের জন্য যে ব্যক্তিদের লাইসেন্স দেওয়া হয় তাদের কী বলা হয়?
  1. কাজি
  2. বিবাহ অফিসার
  3. নিকাহ রেজিস্ট্রার
  4. নিকাহ অফিসার
ব্যাখ্যা

⇒ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার এই আইনের অধীনে নিকাহ রেজিস্ট্রার (Nikah Registrar) লাইসেন্স প্রদান করে থাকেন।
এদের দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করা।
অর্থাৎ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিকাহ রেজিস্ট্রার বলা হয়।
তাদের মূল দায়িত্ব হলো মুসলিম বিবাহ ও তালাক সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসেবে সরকারি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা।
"কাজি" শব্দটি প্রচলিত ও ধর্মীয়ভাবে ব্যবহৃত হলেও, আইনের ভাষায় এবং সরকারি নথিতে তাদের আনুষ্ঠানিক পদবী হলো নিকাহ রেজিস্ট্রার।
---------
⇒ The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 Section 4: Nikah Registrars: 
- For the purpose of registration of marriages under this Act, the Government shall grant licences to such number of persons, to be called Nikah Registrars, as it may deem necessary for such areas as it may specify:
Provided that not more than one Nikah Registrar shall be licensed for any one area.
Provided further that the Government may, whenever it deems fit so to do, extend, curtail or otherwise alter the limits of any area for which a Nikah Registrar has been licensed.

১,৫৫৯.
বাংলাদেশ সংবিধানে কত অনুচ্ছেদে 'প্রচলিত আইনের হেফাজত' এর বিধান আছে ?
  1. ১৫২
  2. ১৪৯
  3. ১৫১
  4. ১৪৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদের বিধান: প্রচলিত আইনের হেফাজত:
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে সকল প্রচলিত আইনের কার্যকরতা অব্যাহত থাকিবে, তবে অনুরূপ আইন এই সংবিধানের অধীন প্রণীত আইনের দ্বারা সংশোধিত বা রহিত হইতে পারিবে।
-----------
⇒ Article 149. Saving for existing laws:
Subject to the provisions of this Constitution all existing laws shall continue to have effect but may be amended or repealed by law made under this Constitution.
১,৫৬০.
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী আইনানুগ কর্তৃত্ব ছাড়া ই-ট্রানজেকশন করলে সর্বোচ্চ কত বছর কারাদণ্ড হতে পারে?
  1. ৫ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ২ বছর
  4. ১ বছর
ব্যাখ্যা
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ২৪ ধারা: আইনানুগ কর্তৃত্ব বহির্ভূত ই ট্রানজেকশনের অপরাধ ও দণ্ড:
(১) যদি কোনো ব্যক্তি-
(ক) কোনো ব্যাংক, বিমা বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হইতে কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করিয়া আইনানুগ কর্তৃত্ব ব্যতিরেকে ই-ট্রানজেকশন করেন, বা

(খ) সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারিকৃত কোনো ই-ট্রানজেকশনকে অবৈধ ঘোষণা করা সত্ত্বেও ই-ট্রানজেকশন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ডে এবং অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘ই-ট্রানজেকশন’ অর্থ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক তাহার তহবিল স্থানান্তরের জন্য কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব নম্বরে অর্থ জমা প্রদান বা উত্তোলন বা উত্তোলন করিবার জন্য প্রদত্ত নির্দেশনা, আদেশ বা কর্তৃত্বপূর্ণ আইনানুগ আর্থিক লেনদেন এবং কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর।
১,৫৬১.
সংবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত ব্যক্তি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ না করালে কে শপথ পাঠ করাবেন?
  1. স্পীকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রীপরিষদের সচিব
  4. প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ১৪৮- পদের শপথ:
(১) তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে "শপথ" বলিয়া অভিহিত) করিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন।

(২) এই সংবিধানের অধীন নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট শপথগ্রহণ আবশ্যক হইলে অনুরূপ ব্যক্তি যেরূপ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ ব্যক্তির নিকট সেইরূপ স্থানে শপথগ্রহণ করা যাইবে।

২(ক) ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।]

(৩) এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
১,৫৬২.
মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল কত দিনের মধ্যে করা যাবে?
  1. ১৫ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৯০ দিন
ব্যাখ্যা

মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩১: আপিল:
ট্রাইব্যুনালের কোন আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে রায় প্রদান অথবা আদেশ বা দণ্ড ঘোষণার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাইবে।

১,৫৬৩.
আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোন বিবাহ সবচেয়ে অসম্মানজনক?
  1. ব্রহ্ম বিবাহ
  2. দৈব বিবাহ
  3. আর্শ বিবাহ
  4. পৈশাচ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
খ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।
গ) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) পৈশাচ বিবাহ।

১,৫৬৪.
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কত ধারায় “অপহরণ” এর সংজ্ঞা রয়েছে?
  1. ২(ঘ)
  2. ২(খ)
  3. ২(চ)
  4. ২(ছ)
ব্যাখ্যা
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ২(খ) এর বিধান-

“অপহরণ” অর্থ বলপ্রয়োগ বা প্রলুব্ধ করিয়া বা ফুসলাইয়া বা ভুল বুঝাইয়া বা ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন স্থান হইতে কোন ব্যক্তিকে অন্যত্র যাইতে বাধ্য করা।
১,৫৬৫.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী, কেবল মামলা করার অধিকার (mere right to sue)-
  1. হস্তান্তরযোগ্য নয়
  2. সম্পূর্ণ হস্তান্তরযোগ্য
  3. আংশিক হস্তান্তরযোগ্য
  4. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে হস্তান্তরযোগ্য
ব্যাখ্যা
• ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী নিম্নের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায় না :

(ক) উত্তরাধিকারসূত্রে সম্ভাব্য সম্পত্তি পাওয়ার সুযোগ, কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুর পরে সম্পত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা বা এ ধরনের কেবলমাত্র সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে কিছু - হস্তান্তরযোগ্য নয়।
(খ) কোনো শর্ত ভঙ্গের কারণে পুনরায় দখলে যাওয়ার (re-entry) কেবলমাত্র অধিকার - শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিক ছাড়া অন্য কারও কাছে হস্তান্তরযোগ্য নয়।
(গ) ইজমেন্ট (easement) অধিকার;
(ঘ) যে সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার শুধু মালিকের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ;
(ঙ) ভবিষ্যতে পাওয়া যেকোনো রকম ভরণ-পোষণের অধিকার;
(চ) কেবল মামলা করার অধিকার (mere right to sue);
(ছ) সরকারি পদ (public office) এবং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন (পাওয়ার আগে বা পরে);
(জ) সরকার প্রদত্ত সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর এবং বেসামরিক পেনশন বা রাজনৈতিক পেনশন;
(ঝ) নিচের যেকোনো শর্তে হস্তান্তর করা যাবে না:
- যেখানে হস্তান্তরের স্বভাবগত দিকের সঙ্গে সাংঘর্ষিক,
- অবৈধ উদ্দেশ্য বা মূল্যবোধের ভিত্তিতে (চুক্তি আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী),
- যিনি আইনত সম্পত্তি গ্রহণে অযোগ্য — তার কাছে।

(ঞ) এই ধারায় কিছুই এমন নয় যা অনুমোদন দেয়:
- এমন ভাড়াটে যাঁর দখলের অধিকার হস্তান্তরযোগ্য নয়,
- এমন ভূস্বামী যিনি রাজস্ব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন,
- বা আদালতের ব্যবস্থাপনায় থাকা কোনো ভূসম্পত্তির ইজারাদার — তাঁদের জন্যও হস্তান্তরের অনুমতি নেই।
১,৫৬৬.
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর অধীন নাশকতার (Sabotage) সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
  4. ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪, ধারা ১৫(৩) অনুযায়ী:
নাশকতা বা অন্তর্ঘাত (Sabotage) করলে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড।

⇒ বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ১৫ ধারার বিধান- অন্তর্ঘাতী কার্য/নাশকতা (Sabotage):
(১) কোনো ব্যক্তি যদি নিম্নলিখিত কোনো সম্পদ বা সেবার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করে, তবে তা অন্তর্ঘাত হিসেবে গণ্য হবে:
(ক) সরকার বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা জাতীয়কৃত বাণিজ্যিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবহৃত বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোনো ভবন, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ বা অন্যান্য সম্পদ;
(খ) কোনো রেলপথ, আকাশ রোপওয়ে, সড়ক, খাল, সেতু, কালভার্ট, কজওয়ে, বন্দর, ডকইয়ার্ড, বাতিঘর, বিমানবন্দর, টেলিগ্রাফ বা টেলিফোন লাইন বা পোস্ট, বা টেলিভিশন বা বেতার স্থাপন;
(গ) কোনো রেলপথের রোলিং স্টক বা কোনো জাহাজ বা বিমান;
(ঘ) কোনো ভবন বা অন্যান্য সম্পদ যা কোনো মৌলিক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ বা সরবরাহের সাথে সম্পর্কিত, কোনো স্যুয়েজ কাজ, খনি বা কারখানা;
(ঙ) এই আইনের অধীনে বা অন্য কোনো আইনের অধীনে নিষিদ্ধ বা সুরক্ষিত কোনো স্থান বা এলাকা;
(চ) কোনো পাট, পাটজাত পণ্য, পাট গোডাউন, পাট মিল বা পাট বেলিং প্রেস।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক এইরূপ কোনো কার্য করা হইতে বিচ্যুতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক যে কার্য করা সরকারের বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বা কোনো ব্যক্তির প্রতি তাহার কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

(৩) কোনো ব্যক্তি যদি এই ধারার কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে, বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, বা অনধিক চৌদ্দ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে, এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হইবেন।

১,৫৬৭.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে নিম্নবর্ণিত কোন বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না?
  1. বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার
  2. যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি
  3. যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম
  4. বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী
ব্যাখ্যা
⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুসারে মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আরজিতে "যে আইনের প্রতিকার দাবি করেন তার নাম, ধারা ও শাস্তি" বিষয়টি উল্লেখ থাকিবে না

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর ৬ ধারার বিধান: মোকদ্দমা দায়ের:
(১) এই আইনের অধীন কোনো মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে-
(ক) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা
(খ) পক্ষগণ একত্রে বসবাস করেন বা সর্বশেষ বসবাস করিয়াছিলেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের মোকদ্দমায় সেই আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে, যাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে স্ত্রী সাধারণত বসবাস করেন।
 
(২) যে-ক্ষেত্রে কোনো এখতিয়ারবিহীন আদালতে কোনো আরজি দাখিল করা হয় সেইক্ষেত্রে-
(ক) আরজিটি যে আদালতে দাখিল করা সমীচীন ছিল সেই আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেওয়া হইবে; এবং
(খ) আরজি ফেরত প্রদানকারী আদালত ইহার নিকট আরজি দাখিলের ও ফেরত প্রদানের তারিখ, দাখিলকারীর নাম ও ফেরত প্রদানের কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করিবেন।
 
(৩) আরজিতে বিরোধ সম্পর্কিত সকল অত্যাবশ্যকীয় তথ্যাদির উল্লেখ থাকিবে এবং উহার একটি তপশিল থাকিবে, যাহাতে আরজির সমর্থনে উপস্থিত করিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানার উল্লেখ থাকিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, বাদী পরবর্তী যেকোনো সময়, যেকোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করিতে পারিবেন।
 
(৪) আরজিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহেরও উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(ক) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হইবে উহার নাম;
(খ) বাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(গ) বিবাদীর নাম, বর্ণনা ও বাসস্থান;
(ঘ) বাদী বা বিবাদী নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ হইলে তৎসংশ্লিষ্ট একটি বিবরণী;
(ঙ) মোকদ্দমার কারণ সংক্রান্ত তথ্যাবলি এবং তাহা যেস্থানে ও তারিখে উদ্ভূত হইয়াছে;
(চ) আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত তথ্যাবলি; এবং
(ছ) বাদীর প্রার্থীত প্রতিকার।
 
(৫) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীন রহিয়াছে এইরূপ কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, সেইক্ষেত্রে তিনি আরজি দাখিলের সময় আদালতে উহা উপস্থাপন করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল বা উহার কোনো অবিকল নকল বা ছায়ালিপি বা অন্য যেকোনো কপি আরজির সহিত নথিভুক্ত করিবার জন্য দাখিল করিবেন এবং উক্তরূপ দলিল আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায়ও উহা অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
 
(৬) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে এমন কোনো দলিলের উপর নির্ভর করেন, যাহা তাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে নাই, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলটি আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়া সংশ্লিষ্ট দলিলটি যাহার দখলে বা ক্ষমতাধীনে রহিয়াছে তাহা উল্লেখ করিবেন।
 
(৭) উপধারা (৫) ও (৬) এ বর্ণিত তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ মোকদ্দমাটিতে যতসংখ্যক বিবাদী রহিয়াছেন তাহার দ্বিগুণসংখ্যক আরজির অবিকল নকল উক্ত বিবাদীগণের উপর জারির জন্য আরজির সহিত দাখিল করিতে হইবে।
 
(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।
 
(৯) যেক্ষেত্রে আরজি দাখিল করিবার সময় বাদী কর্তৃক কোনো দলিল আদালতে দাখিল করিবার প্রয়োজন ছিল অথবা আরজির সহিত সংযুক্ত করিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবার প্রয়োজন ছিল, তবে উহা দাখিল বা অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে মোকদ্দমার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা তাহার পক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে গৃহীত হইবে না:
 
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত কোনো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত এইরূপ অনুমতি প্রদান করিবে না।
১,৫৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৪(১) অনুচ্ছেদে কী নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
  1. শিশুশ্রম
  2. নারীশ্রম
  3. জবরদস্তি-শ্রম
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদের বিধান: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ:
(১) সকল প্রকার জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধ; এবং এই বিধান কোনোভাবে লঙ্ঘিত হইলে তাহা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই সেই সকল বাধ্যতামূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যেখানে
(ক) ফৌজদারি অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তি আইনত দণ্ডভোগ করিতেছেন; অথবা
(খ) জনগণের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা তাহা আবশ্যক হইতেছে। 

১,৫৬৯.
An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called-
  1. Imam
  2. Mujtahid
  3. Mujahideen
  4. Muslim
ব্যাখ্যা
⇒ An individual who is qualified to exercise ijtihad in the evaluation of Islamic law is called mujtahid (Arabic: مُجْتَهِد, "diligent"). an authoritative interpreter of the religious law of Islame specially : a living religious teacher that is recognized by the Shiʽa as competent to exercise private judgment in formulating authoritative answers to legal questions.

⇒ There are some specific criteria that must be satisfied for a person to be eligible to make an ijtihad. The person who can make an ijtihad is known as 'Mujtahid' who must have, inter alia, an in depth knowledge and understanding of Islam.

⇒ Ijtihad is one of the dependent sources of Islamic law. If a matter not resolved expressly in a Quran, Sunnah and by way of Ijma the jurist must not leave the matter unresolved rather he should strive hard to find out the solution under the light of Quran and Sunnah.

⇒ In Islamic law the use of individual reasoning in general is called Ijtihad or Ijtihad al-ra'y, and Mujtahid is the qualified lawyer who uses it. "Exertion" is the literal meaning of Ijtihad. In general usage, this Arabic word denotes the utmost effort, physical or mental, expended in a particular activity. In its Islamic and technical legal connotation, it denotes the thorough exertion of the jurist's mental faculty in finding a solution for a case of law. Ijtihad therefore is 'the logical deduction on a legal or theological question by a Mujtahid or learned and enlightened doctor, as distinguished from Ijma, which is the collective opinion of a council of divines.'
১,৫৭০.
The Transfer of Property Act, 1882 এর বিধান অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির মাসিক ইজারা হলে ইজারা দাতা বা ইজারা গ্রহীতা কত দিনের নোটিশে ইজারার সমাপ্তি ঘটাতে পারে?
  1. ৭ দিন পূর্বে
  2. ১০ দিন পূর্বে
  3. ১৫ দিন পূর্বে
  4. ১৪ দিন পূর্বে
ব্যাখ্যা
ধারা ১০৬: লিখিত চুক্তি বা স্থানীয় রীতির অবর্তমানে কতিপয় ইজারার মেয়াদ

কৃষি কার্য বা শিল্প উৎপাদনের জন্য স্থাবর সম্পত্তির ইজারা হলে তা বছর হতে বছরের ইজারা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এই ইজারাদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যে কোন পক্ষ কর্তৃক ইজারার বছরের শেষ দিন হতে ৬ মাস পূর্বে দেওয়া নোটিশ মূলে সমাপ্তিযোগ্য।
অন্য কোন উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তির ইজারা হলে তা মাস হতে মাসের ইজারা হিসেবে গণ্য হবে এবং তা ইজারাদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যে কোন পক্ষ কর্তৃক ইজারার মাসের শেষ দিন হতে ১৫ দিন পূর্বে দেওয়া নোটিশ মূলে বাতিলযোগ্য।

এই ধারার আওতায় প্রত্যেকটি নোটিশ অবশ্যই লিখিত এবং নোটিশ দাতা বা তার পক্ষ হতে স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং এই নোটিশ ডাকযোগে বা অর্পণের মাধ্যমে বা ব্যক্তিগত ভাবে প্রদান করতে হবে অথবা তার পরিবারের কোন সদস্যকে বা তার বাসভবনের কোন কর্মচারীকে তা প্রদান করতে হবে। অথবা যদি এরূপ সম্ভব না হয় তাহলে সম্পত্তির প্রকাশ্য স্থানে লটকিয়ে দিতে হবে।

⇒ কোন চুক্তি বা প্রচলিত আইনের অবর্তমানে কৃষিকাজ ব্য শিল্প উৎপাদনের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেয়া হলে তা বার্ষিক ইজারা বলে গণ্য হবে।
⇒ কৃষিকাজ বা শিল্প উৎপাদন ব্যতীত অন্য কোন কাজের জন্য স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেওয়া হলে তা মাসিক ইজারা বলে গন্য হবে।

Section 106: Duration of certain leases in absence of written contract or local usage
In the absence of a contract or local law or usage to the contrary, a lease of immoveable property for agricultural or manufacturing purposes shall be deemed to be a lease from year to year, terminable, on the part of either lessor or lessee, by six months' notice expiring with the end of a year of the tenancy; and a lease of immoveable property for any other purpose shall be deemed to be a lease from month to month, terminable, on the part of either lessor or lessee, by fifteen days' notice expiring with the end of a month of the tenancy. 
 
Every notice under this section must be in writing signed by or on behalf of the person giving it, and either be sent by post to the party who is intended to be bound by it or be tendered or delivered personally to such party, or to one of his family or servants at his residence, or (if such tender or delivery is not practicable) affixed to a conspicuous part of the property.
১,৫৭১.
ভোটার-তালিকা প্রস্তুতের ক্ষমতা কার উপর অর্পিত?
  1. আইন কমিশন
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগ
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১১৯: নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব:
(১) রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং নির্বাচন কমিশন এই সংবিধান ও আইনানুযায়ী-

(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;
(খ) সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন;
(গ) সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং
(ঘ) রাষ্ট্রপতির পদের এবং সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করিবেন।

(২) উপরি-উক্ত দফাসমূহে নির্ধারিত দায়িত্বসমূহের অতিরিক্ত যেরূপ দায়িত্ব এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে, নির্বাচন কমিশন সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন।

১,৫৭২.
আকরাম ৪০ বছর বয়সে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। রেখে গেল বাবা, স্ত্রী রেহানা, দুই ভাই ও এক মেয়ে মিতা। এক্ষেত্রে তার সম্পত্তিতে বাবা কত অংশ পাবে?
  1. ১২/২৪ অংশ
  2. ৪/২৪ অংশ
  3. ৯/২৪ অংশ
  4. ৩/২৪ অংশ
ব্যাখ্যা
• মুসলিম আইনে উত্তরাধিকার:

স্ত্রী: বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী রেখে মারা গেলে তার স্ত্রী নির্ধারিত হারে সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন। যদি মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকে তবে স্ত্রী পাবেন (১/৮) এক অষ্টমাংশ। আর সন্তান না থাকলে স্ত্রী পাবেন (১/৪) এক চতুর্থাংশ। একাধিক স্ত্রী থাকলেও এ অংশ বাড়বে না বরং স্ত্রীরা সবাই মিলে তাদের অংশ সমভাবে ভাগ করে নেবেন।

কন্যা: যদি মৃত ব্যক্তির শুধু এক কন্যা থাকে তবে তিনি মোট সম্পত্তির (১/২) অর্ধেক পাবে। আর যদি একাধিক কন্যা থাকে তবে সবাই মিলে (২/৩) দুই তৃতীয়াংশ পাবে।

বাবার অংশ: বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন।

• উল্লিখিত প্রশ্নে,

⇒ স্ত্রী রেহেনা পাবে সম্পত্তির ১/৮ বা ৩/২৪ অংশ [যেহেতু সন্তান আছে];
⇒ মিতা পাবে সম্পত্তির ১/২ বা ১২/২৪ অংশ [যেহেতু একমাত্র কন্যা] এবং
⇒ বাবা অংশীদার হিসেবে ১/৬ বা ৪/২৪ অংশ [ যেহেতু মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান আছে];

মোট= ১/৮ + ১/২ + ১/৬ অংশ
= ১৯/২৪ অংশ।

অবশিষ্ট= ১ - ১৯/২৪ অংশ
= ৫/২৪ অংশ।

অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাবা বাকি ৫/২৪ অংশ পাবে।
অর্থাৎ বাবা মোট পায়= ৯/২৪ অংশ।

উল্লেখ্য, বাবা জীবিত থাকায় এক্ষেত্রে ভাইয়েরা কোন সম্পত্তি পাবে না।
১,৫৭৩.
The Civil Courts Act, 1887 এর Section 18 অনুযায়ী District Judge বা Subordinate Judge এর আদি এখতিয়ার কীসের অধীন?
  1. Civil Procedure Code এর Section 5
  2. Civil Procedure Code এর Section 10
  3. Civil Procedure Code এর Section 15
  4. Civil Procedure Code এর Section 21
ব্যাখ্যা

⇒ সিভিল কোর্টস অ্যাক্ট, ১৮৮৭-এর ধারা ১৮ অনুসারে, District Judge বা Subordinate Judge-এর আদি এখতিয়ার (original jurisdiction) সিভিল কোর্টে বিচারযোগ্য সকল মূল মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে এটি সিভিল প্রসিডিউর কোড (CPC)-এর ধারা ১৫-এর বিধানের অধীন। ধারা ১৫-এ উল্লেখ আছে যে, প্রতিটি মামলা সেই আদালতে দায়ের করতে হবে যে আদালত স্থানীয় এখতিয়ার এবং মামলার মূল্যের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন গ্রেডের আদালত হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নিশ্চিত করে যে মামলাগুলো যথাযথ আদালতে বিচারের জন্য দায়ের করা হয়, এবং District Judge বা Subordinate Judge-এর এখতিয়ার এই বিধানের আলোকে নির্ধারিত হয়।

- Sonali Bank vs Abidur Rahman 42 DLR 311, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধারা ১৮ অনুসারে District Judge বা Subordinate Judge-এর আদি এখতিয়ার সিভিল প্রসিডিউর কোডের ধারা ১৫-এর বিধানের অধীন।

তাই, সঠিক উত্তর হলো গ) Civil Procedure Code এর Section 15।
--------- 
⇒ The Civil Courts Act, 1887, Section-18: Extent of original jurisdiction of District or Joint District Judge:
- Save as otherwise provided by any enactment for the time being in force, the jurisdiction of a District Judge or Joint District Judge extends, subject to the provisions of section 15 of the Code of Civil Procedure, 1908 to all original suits for the time being cognizable by Civil Courts.

১,৫৭৪.
যদি অধীনস্ত প্রজার লিখিত চুক্তি থাকে কিন্তু তাতে কোনো মেয়াদ নির্ধারিত না থাকে, তবে তাকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজন-
  1. মৌখিক নোটিশ
  2. আদালতের আদেশ
  3. দুই মাসের লিখিত নোটিশ
  4. ছয় মাসের লিখিত নোটিশ
ব্যাখ্যা
The Non-Agricultural Tenancy Act, 1949 ধারা ২০: অধীন-প্রজাকে উচ্ছেদ (Ejectment of an under-tenant):

বর্তমানে কার্যকর কোনো আইন বা চুক্তিতে ভিন্ন কিছু থাকলেও, এই আইনের বিধান অনুযায়ী একজন অধীন-প্রজা (under-tenant) কেবল নিচের যে কোনো একটি বা একাধিক কারণে উচ্ছেদের জন্য দায়ী হবেন; অন্য কোনো কারণে নয়:
(ক) যদি তিনি তার অধীনে থাকা অকৃষি জমিকে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যাতে তা ধারা ৪-এ উল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলোর জন্য ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
(খ) যদি তিনি লিখিত চুক্তির (written lease) অধীনে জমি ধারণ করে থাকেন এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

তবে,
যদি কোনো অধীন-প্রজা লিখিত চুক্তি ছাড়া বা এমন লিখিত চুক্তির অধীনে থাকেন যেখানে মেয়াদ নির্দিষ্ট নেই, তাহলে মালিক তাকে এক বছরের শেষে কার্যকর ছয় মাসের লিখিত নোটিশ প্রদান করে এবং ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে উচ্ছেদ করতে পারেন।
১,৫৭৫.
ওয়াকফের উদ্দেশ্য হতে হবে-
  1. ধর্মীয়
  2. দাতব্য
  3. ব্যক্তিগত
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
ওয়াকফ আরবি শব্দ, এর অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে মুক্ত কোনো সম্পত্তির হেফাজত করা। ১৯১৩ সালের ওয়াকফ বৈধকরণ আইনের ২ ধারায় বলা হয়েছে, 
“ওয়াকফ” বলতে বোঝায়:
- একজন মুসলমান ব্যক্তি কর্তৃক
- যেকোনো সম্পত্তিকে
- স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা,
- এমন উদ্দেশ্যে যা মুসলিম আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়াকফ সৃষ্টি করার মুসলমানের ক্ষমতা (ধারা ৩)
যে ব্যক্তি মুসলমান ধর্মে বিশ্বাসী, তিনি মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী ওয়াকফ তৈরি করতে পারেন এবং তা নিম্নোক্ত উদ্দেশ্যসহ অন্যান্য বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য হতে পারে:
(ক) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিজের পরিবার, সন্তান বা উত্তরসূরিদের ভরণপোষণ ও সহায়তার জন্য।
(খ) যদি ওয়াকফকারী ব্যক্তি হানাফি মুসলমান হন, তাহলে তিনি ওয়াকফের সম্পত্তি থেকে পাওয়া ভাড়া ও মুনাফা থেকে— নিজের জীবদ্দশায় ভরণপোষণের জন্য, অথবা নিজের দেনা পরিশোধের জন্য ওয়াকফ করতে পারেন।

তবে শর্ত হচ্ছে: এই ক্ষেত্রে ওয়াকফে যেসব সুবিধা রাখা হবে, তার চূড়ান্ত উপকারভোগী হতে হবে গরিবরা, অথবা ইসলামী আইনে ধর্মীয়, পুণ্য বা দাতব্য স্থায়ী উদ্দেশ্যে যেসব বিষয় স্বীকৃত, সেসব উদ্দেশ্যে তা ব্যয়যোগ্য হতে হবে।
১,৫৭৬.
প্রধান বিচারপতি ব্যতীত সুপ্রীম কোর্টের অন্যান্য বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শ গ্রহণ করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রীর
  2. জাতীয় সংসদের
  3. প্রধান বিচারপতির
  4. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের
ব্যাখ্যা

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৫(১): বিচারক-নিয়োগ:
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। অন্যান্য বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ করেন

৯৫(২): বিচারক হতে হলে –
- বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস করতে হবে, অথবা
- বিচার বিভাগে অন্তত ১০ বছর পদে অধিষ্ঠান করতে হবে।

৯৫(৩):
"সুপ্রিম কোর্ট" বলতে সংবিধান প্রবর্তনের পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমায় হাইকোর্ট হিসেবে কাজ করা কোনো আদালতও অন্তর্ভুক্ত হবে।

১,৫৭৭.
According to the Constitution of Bangladesh, The people of Bangladesh as a nation are known as -
  1. Bangladeshis
  2. Bengalis
  3. Bangalees
  4. Bangabanshis
ব্যাখ্যা

Article 6 of the Constitution of Bangladesh: Citizenship-
(1) The citizenship of Bangladesh shall be determined and regulated by law. 
(2) The people of Bangladesh shall be known as Bangalees as a nation and the citizens of Bangladesh shall be known as Bangladeshies.

অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব-
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে। 
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশি বলিয়া পরিচিত হইবেন।

১,৫৭৮.
Shayara Bano Vs. Union of India (2017) case is related with-
  1. Mahr
  2. Divorce
  3. Triple Talaq
  4. Muta marriage
ব্যাখ্যা

তিন তালাক মামলা (Shayara Bano v. Union of India, 2017):
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করে ঘোষণা করে যে, তিন তালাক (Triple Talaq বা Talaq-e-Biddat) অসাংবিধানিক ও স্বেচ্ছাচারী। 

ঘটনাপ্রবাহ (Facts of the Case):
আবেদনকারী শায়ারা বানু (Shayara Bano) ও তার স্বামী রিজওয়ান আহমদ (Rizwan Ahmad)-এর বিবাহ ১১ এপ্রিল ২০০১ সালে শরিয়ত মোতাবেক সম্পন্ন হয়। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ১০ অক্টোবর ২০১৫ সালে রিজওয়ান আহমদ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনবার “তালাক, তালাক, তালাক” উচ্চারণ করে ত্রিপল তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শায়ারা বানু সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন এবং তিন তালাকের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

সিদ্ধান্ত (Conclusion):
- আদালত ঘোষণা করে, তিন তালাক অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
- আদালত সরকারকে নির্দেশ দেয়, যেন মুসলিম বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত প্রথা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

১,৫৭৯.
একটি বিক্রয়-চুক্তি সম্পাদনের তারিখ হতে কত দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হবে?
  1. ৭দিন
  2. ১৫দিন
  3. ৩০দিন
  4. ৬০দিন
ব্যাখ্যা

• ধারা ১৭কঃ বিক্রয় চুক্তি, ইত্যাদির নিবন্ধন
 (১) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তিপত্র লিখিত হইতে হইবে, তৎসঙ্গে উহা সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ কর্তৃক সম্পাদিত ও নিবন্ধিত হইতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বিক্রয়-চুক্তি, সম্পাদনের তারিখ হইতে ৬০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য দাখিল করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
----
Section 17A. Registration of contract for sale, etc.
(1) Notwithstanding anything to the contrary contained in this Act or any other law for the time being in force, a contract for sale of any immovable property shall be in writing, executed by the parties thereto and registered. 
 
(2) A contract for sale referred to in sub-section (1) shall be presented for registration within sixty days from the date of execution of the contract and the provisions regarding registration of instruments shall apply.

১,৫৮০.
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, আরজি খারিজ হওয়ার কারণ কোনটি হতে পারে?
  1. আরজির সাথে তপশিল ও দলিলের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে
  2. সমন জারির খরচ বা নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ না হলে
  3. ধারা ২৫ অনুযায়ী ফি পরিশোধ না হলে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) অনুযায়ী, আরজি নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে খারিজ হতে পারে-
(ক) আরজির সাথে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকা সংযুক্ত না থাকলে,
(খ) সমন জারির খরচ ও নোটিশের ডাক খরচ পরিশোধ করা না হলে,
(গ) ধারা ২৫ অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা না হলে।
- এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে আদালত আরজি গ্রহণ করবে না বা তা খারিজ করে দিতে পারে।
- তাই সঠিক উত্তর “উপরে সকল কারণ” অর্থাৎ ঘ)।

⇒ পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬(৮) নিম্নলিখিত যেকোনো কারণে আরজি খারিজ হইবে, যথা:-
(ক) উপধারা (৭) এর অধীন আবশ্যকতা অনুসারে তপশিল ও দলিলসমূহের তালিকাসহ আরজির অবিকল নকলসমূহ উহার সহিত সংযুক্ত না থাকে;
(খ) ধারা ৭ এর উপধারা (৫) অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিশের জন্য ডাক খরচ পরিশোধিত না হয়;
(গ) আরজি উপস্থাপনের সময় ধারা ২৫ অনুযায়ী প্রদেয় ফি পরিশোধ করা না হয়।

১,৫৮১.
The Negotiable Instruments Act, 1881 এর Section 138(1) এর বিধান অনুসারে ব্যাংকের হিসাবে অপর্যাপ্ত অর্থ আছে জানা সত্ত্বেও চেক প্রদানের ফলে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মামলায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসাবে-
  1. তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যায়
  2. এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করা যায়
  3. কারাদণ্ডসহ তিনগুণ পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদান করা যায়
  4. উপরের সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
• অপর্যাপ্ত তহবিল, ত্রুটিপূর্ণ স্বাক্ষর ও অন্য যে কোন যথাযথ কারনে বাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া চেক যদি প্রত্যাখ্যাত হয় বা চেকে উল্লেখিত টাকা বাহককে প্রদান করা সম্ভব না হয় সেটিকেই বলা হয় চেক ডিজঅনার। কোন কারনে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে হস্তারযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instrument Act, 1881) অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ রয়েছে।

হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইনের ১৩৮(১) ধারায় চেক প্রত্যাখিত হবার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা আছে, চেক ডিজঅনারের শাস্তি হল ১ বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন জরিমানা অথবা উভয়।
১,৫৮২.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর কত ধারায় তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার বিধান নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. ২৮ ধারায়
  2. ২৮গ ধারায়
  3. ২৮খ ধারায়
  4. ২৬ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ২৮খ- তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা

(১) এই আইনের অধীন ও উহার তফসিলে বর্ণিত কোন অপরাধের বিষয়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত কোন তথ্য (information) কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা যাইবে না, বা কোন সাক্ষীকে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা বা পরিচয় প্রকাশ করিতে দেওয়া বা প্রকাশ করিতে বাধ্য করা যাইবে না, বা এমন কোন তথ্য উপস্থাপন বা প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে না যাহাতে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় প্রকাশিত হয় বা হইতে পারে। 
 
(২) কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলার সাক্ষ্য প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত কোন বহি, দলিল বা কাগজপত্রে যদি এমন কিছু থাকে, যাহাতে তথ্য প্রদানকারীর নাম, ঠিকানা বা পরিচয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহা হইলে আদালত কোন ব্যক্তিকে উক্ত বহি, দলিল বা কাগজপত্রের যে অংশে উক্তরূপ পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকে সেই অংশ পরিদর্শনের অনুমতি প্রদান করিবে না। 
 
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও উহার তফসিলে বর্ণিত কোন অপরাধের অভিযোগ পূর্ণ তদন্তের পর আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, তথ্য প্রদানকারী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করিয়াছেন অথবা তথ্য প্রদানকারীর প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ ব্যতীত মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাহা হইলে আদালত তথ্য প্রদানকারীর পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করিতে পারিবে।
১,৫৮৩.
অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯ এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী, কোন কাজ ‘উন্নয়ন’-এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পথ বা রাস্তা নির্মাণ
  2. কৃষি কাজে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি
  3. পানি সরবরাহের সুবিধা প্রদান
  4. বায়ুচলাচলের জন্য খোলা জায়গা প্রদান
ব্যাখ্যা

⇒ অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৪৯-এর ধারা ৬৪ অনুযায়ী, ‘উন্নয়ন’ (Improvement) বলতে অকৃষি জমির মূল্য বৃদ্ধি করে এমন কাজকে বোঝায়, যা জমির ব্যবহারের উদ্দেশ্যের (ধারা ৪-এ উল্লিখিত) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং জমির সরাসরি উপকারের জন্য বা উপকারী হিসেবে সম্পাদিত হয়। এই ধারায় নিম্নলিখিত কাজগুলো ‘উন্নয়ন’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে:
(ক) পথ বা রাস্তা নির্মাণ
(খ) বায়ুচলাচলের জন্য খোলা জায়গা প্রদান
(গ) পানি সরবরাহের সুবিধা প্রদান
(ঘ) নিকাশি সংযোগ স্থাপন
তবে, ধারা ৬৪-এ আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অকৃষি প্রজা কর্তৃক সম্পাদিত কোনো কাজ যদি জমির মালিকের সম্পত্তির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে, তবে তা ‘উন্নয়ন’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।
- কৃষি কাজে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি এই তালিকায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই এবং এটি অকৃষি জমির উদ্দেশ্যের (ধারা ৪-এ উল্লিখিত) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ এই আইন অকৃষি জমির প্রজাস্বত্বের জন্য প্রযোজ্য। কৃষি কাজে জমির ব্যবহার অকৃষি জমির প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতে পারে এবং এটি জমির মালিকের সম্পত্তির মূল্য হ্রাস করতে পারে।
সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) কৃষি কাজে জমির ব্যবহার বৃদ্ধি।

১,৫৮৪.
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি স্বামীর অবস্থান অজানা থাকে:
  1. ১ বছর
  2. ২ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা
মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ এর ধারা ২(১) অনুযায়ী, একজন মুসলিম মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেন যদি তার স্বামীর অবস্থান ৪ বছর ধরে অজানা থাকে। অর্থাৎ, যদি স্বামী ৪ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকেন এবং তার কোনো খোঁজ না পাওয়া যায়, তাহলে মহিলা আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করতে পারেন।

- এই বিধানটি এমন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন স্বামী দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত থাকেন এবং তার কোনো সংবাদ বা অবস্থান জানা যায় না।
- এই সময়সীমা (৪ বছর) আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহিলাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে যাতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকেন।
- এই ভিত্তিতে ডিক্রি পাস হওয়ার পর, যদি স্বামী ৬ মাসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে তার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত হন, তাহলে আদালত ডিক্রি বাতিল করতে পারেন।
১,৫৮৫.
দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হয় মূলত কোথায়?
  1. বিভাগীয় শহরে
  2. থানা পর্যায়ে
  3. মেট্রোপলিটন ও জেলা পর্যায়ে
  4. উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে
ব্যাখ্যা
আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ৮- দ্রুত বিচার আদালত গঠন:
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রত্যেক জেলায় এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় এক বা একাধিক দ্রুত বিচার আদালত গঠন করিতে পারিবে এবং উক্ত প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকটি দ্রুত বিচার আদালতের স্থানীয় অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে৷ 

(২) সরকার বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত আদালতের বিচারক নিযুক্ত করিবে।
১,৫৮৬.
'ক' এর পুত্র 'খ' ১৯৬০ সনে মারা যান। ১৯৬২ সনে 'ক' ১ পুত্র এবং মৃত পুত্রের ১ পুত্র রেখে মারা যান। The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 অনুযায়ী মৃত পুত্র 'খ' এর পুত্রের অংশ হবে-
  1. ১/৩ অংশ
  2. ১/২ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. ১৯৬১ সনের অধ্যাদেশ জারীর আগে 'খ' এর মৃত্যু হওয়ায় তার পুত্র সম্পত্তি পাবে না।
ব্যাখ্যা
Doctrine of Representation: MFLO, 1961 এর 4 ধারা মোতাবেক:

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে যাহার সম্পত্তি বণ্টিত হবে তার মৃত্যুর পূর্বে যদি তার পুত্র বা কন্যার মৃত্যু ঘটে এবং উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের সময় ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তান যদি কেউ থাকে, তবে ঐ মৃত পুত্র বা কন্যা জীবিত থাকলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পেত, তার সমান অংশ ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানরা অংশ অনুপাতে [per-stripes] পাবে। এ নিয়মকেই 'Doctrine of Representation' বলা হয়।

এখানে, Section 4 অনুযায়ী 'খ' বেঁচে থাকলে যে অংশ পেত, 'খ' এর পুত্র তা পাবে। সুতরাং, মোট সম্পত্তির ১/২ অংশ 'ক' এর জীবিত পুত্র এবং বাকি ১/২ অংশ 'খ' - এর পুত্র পাবে।

উল্লেখ্য:
যেহেতু MFLO, 1961 আইনটি ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, সেহেতু, 'ক' ১৯৬২ সালে মৃত্যুবরণ করার পরই উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয়েছে। 'খ'-এর ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করা এখানে বিবেচ্য নয়।
১,৫৮৭.
মুসলিম আইনানুযায়ী কোনটি ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য নয়?
  1. মসজিদে আলোর ব্যবস্থা করা
  2. পয়ঃপ্রণালি নির্মাণ
  3. ভিক্ষুককে অর্থ দান
  4. ২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান
ব্যাখ্যা
ওয়াকফ:
- মালিকানার দাবি না রেখে ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে কোন সম্পত্তি উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলা হয়৷ ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ অনুসারে কোন মুসলমান দ্বারা ধর্মীয় , পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা কে ওয়াকফ বলা হয়। যিনি ওয়াকফ করে তাকে ওয়াকিফ বলে।
-১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ এর ২ ধারায় বলা হয়েছে যে:
কোনো মুসলমান কর্তৃক ধর্মীয়, পবিত্র বা দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি স্থায়ী ভাবে উৎসর্গ করাকে বুঝায়।

ওয়াকফ দুই প্রকারঃ-
১- ওয়াকফ লিল্লাহ (ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করা) এবং 
২- ওয়াকফ আল-আওলাদ ( সম্পত্তি ওয়াকফ করে তার আয় হতে নিজের সন্তান সন্ততি বা তার বংশধর বা নিজের ভারণ পোষণের ব্যবস্থা করা। তবে বংশধরদের মৃত্যুর পরে ওয়াকফ সম্পত্তির আয় দাতব্য বা ধর্মীয় কাজে ব্যয়িত হবে।

প্রদত্ত সংজ্ঞানুযায়ী, ওয়াকফ চিরস্থায়ী হতে এবং চিরতরে স্থায়ী উদ্দেশ্যে করা হয়। অর্থাৎ উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে ‘২০ বছরের জন্য ঈদগাহে দান’ যা চিরস্থায়ী নয়, তা ওয়াকফ্ এর বৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে না।
১,৫৮৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকারসমূহ বলবৎ করতে মামলা দায়েরের অধিকার নিশ্চিত করেছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৪৪ (২)
  2. অনুচ্ছেদ ৪২
  3. অনুচ্ছেদ ৪৪ (১)
  4. অনুচ্ছেদ ৪৫
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে,

যখন কোন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, বা লঙ্ঘিত হওয়ার হুমকি থাকে, সে তার উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা দায়ের করতে পারে। অন্যদিকে, উক্ত মৌলিক অধিকার বলবৎ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, আদেশ বা রিট জারি করার ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগ-কে ১০২ অনুচ্ছেদে দেয়া হয়েছে। সুতরাং ৪৪ অনুচ্ছেদ মূলত একটি তত্ত্বগত বিধান যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ১০২ অনুচ্ছেদ মূলত একটি পদ্ধতিগত বিষয়, যেখানে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণে হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন নির্দেশনা, রিট বা আদেশ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অনুচ্ছেদ ৪৪: মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
(১) এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করিবার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হইল। 
(২) এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটাইয়া সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।

Article 44: Enforcement of fundamental rights
(1) The right to move the High Court Division in accordance with clause (1) of article 102, for the enforcement of the rights conferred by this Part is guaranteed. 
(2) Without prejudice to the powers of the High Court Division under article 102, Parliament may by law empower any other court, within the local limits of its jurisdiction, to exercise all or any of those powers.
১,৫৮৯.
হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ইস্টোপেল নীতি
  2. প্রতিনিধিত্ব নীতি
  3. উভয়
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়-

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১,৫৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ১০৬ অনুচ্ছেদ
  2. ১০৮ অনুচ্ছেদ
  3. ১১০ অনুচ্ছেদ
  4. ১১১ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগসহ) একটি "কোর্ট অব রেকর্ড" হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে হল যে, সুপ্রিম কোর্টের সকল কার্যক্রম রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে এবং ওই রেকর্ডগুলি আদালতের কার্যক্রমের আইনগত মূল্য ও গুরুত্ব বহন করবে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮-এ সুপ্রীম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" (Court of Record) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে:
১. কোর্ট অব রেকর্ডের মর্যাদা:
- সুপ্রীম কোর্টের সকল রায়, আদেশ ও কার্যক্রম রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত হয় এবং এগুলো আইনগত প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়।
- ভবিষ্যতে কোনো মামলায় এই রেকর্ডগুলি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
২. অবমাননার ক্ষমতা:
- কোর্ট অব রেকর্ড হিসেবে সুপ্রীম কোর্টের নিজস্ব মর্যাদা রক্ষার অধিকার রয়েছে।
- আদালতের অবমাননা (Contempt of Court) করলে সুপ্রীম কোর্ট তদন্ত করে শাস্তি দিতে পারে (জরিমানা বা কারাদণ্ড)।
১,৫৯১.
নিবন্ধন আইনের ধারা ২৩ অনুযায়ী উইল ব্যতীত অন্য দলিল কতদিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করতে হবে?
  1. ১ মাস 
  2. ৩ মাস 
  3. ৪ মাস
  4. ৬ মাস
ব্যাখ্যা

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৩ অনুযায়ী, উইল ব্যতীত অন্য কোনো দলিল নিবন্ধনের জন্য যথাযথ কর্মকর্তার কাছে তার সম্পাদনের তারিখ থেকে তিন মাসের মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে। এই সময়সীমা ধারা ২৪, ২৫, এবং ২৬-এর বিধান সাপেক্ষে প্রযোজ্য। তবে, কিছু ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে (যেমন, জরুরি প্রয়োজন বা অনিবার্য দুর্ঘটনার কারণে) ধারা ২৫ অনুযায়ী জরিমানা দিয়ে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে তিন মাসের মধ্যে দলিল উপস্থাপন করতে হয়। উইলের ক্ষেত্রে ধারা ২৭ অনুযায়ী যে কোনো সময়ে নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপন করা যায়।

⇒ নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৩: দলিল দাখিলকরণের সময়:
ধারা ২৪, ২৫ এবং ২৬ এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি উহা সম্পাদনের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিল করা না হয়, তাহা হইলে উহা নিবন্ধনের জন্য গৃহীত হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রি বা আদেশের নকল, ডিক্রি বা আদেশ দানের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে, বা, যেক্ষেত্রে উহা আপিলযোগ্য, সেক্ষেত্রে আপিল চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে দাখিল করা যাইবে।
--------
⇒ The Registration Act, 1908, Section 23. Time for presenting documents:
Subject to the provisions contained in sections 24, 25 and 26, no document other than a will shall be accepted for registration unless presented for that purpose to the proper officer within [three months] from the date of its execution: 
Provided that a copy of a decree or order may be presented within three months from the day on which the decree or order was made, or, where it is appealable, within three months from the day on which it becomes final.

১,৫৯২.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কোন তারিখে কার্যকর হয়েছে?
  1. ১ জানুয়ারি ২০১২
  2. ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  3. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
  4. ১৫ আগস্ট ২০১৩
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর প্রেক্ষাপট:
- আইন পাসের তারিখ: আইনটি প্রণীত হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২ (ধারা ১(৩) অনুযায়ী)।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন (এস.আর.ও নং ৩০-আইন/২০১৩) দ্বারা ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে এটি কার্যকর হয়।

⇒ অর্থাৎ আইনের ধারা ১(৩) এ বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করবে।
- প্রকৃতপক্ষে, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ (১৪ মাঘ ১৪১৯ বঙ্গাব্দ) থেকে এটি কার্যকর হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ২৭ জানুয়ারি ২০১৩।

১,৫৯৩.
"Injuria sine damno" means:
  1. Injury with damage
  2. Injury without damage
  3. Damage without injury
  4. No injury, no remedy
ব্যাখ্যা

⇒ ল্যাটিন আইনি ম্যাক্সিম "Injuria sine damno" এর অর্থ হলো "Injury without damage" বা ক্ষতি ছাড়া আঘাত। এই ম্যাক্সিমটি আইনের ক্ষেত্রে বোঝায় যে, কোনো ব্যক্তির আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে (অর্থাৎ, একটি "আঘাত" বা "injury" সংঘটিত হয়েছে), কিন্তু সেই লঙ্ঘনের ফলে কোনো বাস্তব ক্ষতি (damage) হয়নি। এমন ক্ষেত্রেও আইনি প্রতিকার (remedy) পাওয়া যেতে পারে, কারণ আইনি অধিকার লঙ্ঘনই প্রতিকারের জন্য যথেষ্ট।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পত্তিতে প্রবেশ করে (trespass), তবে সম্পত্তির মালিক কোনো বাস্তব ক্ষতি না হলেও মামলা করতে পারেন, কারণ তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এই নীতিটি আইনের ক্ষেত্রে অধিকার রক্ষার গুরুত্বকে জোর দেয়।

অন্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
ক) Injury with damage: এটি ভুল, কারণ ম্যাক্সিমটি ক্ষতি ছাড়া আঘাতের কথা বলে, ক্ষতিসহ আঘাতের কথা নয়।
গ) Damage without injury: এটি উল্টো ধারণা। এটি বোঝায় ক্ষতি হয়েছে কিন্তু আইনি অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি, যা "Damnum sine injuria" নামে পরিচিত।
ঘ) No injury, no remedy: এটি ভুল, কারণ এই ম্যাক্সিমটি বলে যে আঘাত (injury) থাকলেই প্রতিকার পাওয়া যায়, এমনকি ক্ষতি না হলেও।

১,৫৯৪.
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩গ ধারা লঙ্ঘন করে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা হলে, সেই বিক্রয়ের ফলাফল কী হবে?
  1. বিক্রয়টি বাতিল হবে
  2. বিক্রয়টি স্থগিতাদেশ যোগ্য হবে
  3. বিক্রেতাকে জরিমানা করা হবে
  4. বিক্রয়টি বৈধ হবে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন করতে হবে
ব্যাখ্যা

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ৫৩গ স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, যদি বিক্রেতার নাম (বা উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক হলে তাঁর পূর্বসূরির নাম) রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর অধীনে প্রস্তুত সর্বশেষ খতিয়ানে উল্লেখ না থাকে, তবে সেই স্থাবর সম্পত্তির বিক্রয় বাতিল (Void) হবে।
অতএব, বিক্রয়টি আইনত অবৈধ এবং বাতিল বলে গণ্য হবে।

⇒ সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩গ ধারার বিধান: খতিয়ান না থাকা কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করা যাবে না:
কোন ব্যক্তি কোন অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করতে পারবেন না যদি না তার নাম, যদি তিনি উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে সম্পত্তির মালিক হন, অথবা তার নাম বা তার পূর্বসূরির নাম, যদি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর অধীনে প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ খতিয়ানে সেই সম্পত্তির সম্পর্কে উল্লেখিত থাকে, এবং অন্যথায় কৃত যেকোন বিক্রয় বাতিল হবে।
------------
⇒ The Transfer of Property Act, 1882, Section 53C. Immoveable Property without Khatian not to be sold:
No immoveable property shall be sold by a person unless his name, if he is the owner of the property otherwise than by inheritance, or his name or the name of his predecessor, if he is the owner of the property by inheritance, appears in respect of the property in the latest khatian prepared under the State Acquisition and Tenancy Act, 1950, and any sale made otherwise shall be void.

১,৫৯৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদের কোন দফা প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত বিধানের প্রয়োগকে প্রভাবিত করবে না?
  1. ৪ ও ৫ দফা
  2. ২ ও ৪ দফা
  3. ১ ও ৪ দফা
  4. ৩ ও ৫ দফা
ব্যাখ্যা
• অনুচ্ছেদ ৩৫: বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে রক্ষণ

(১) অপরাধের দায়যুক্ত কার্যসংঘটনকালে বলবৎ ছিল, এইরূপ আইন ভঙ্গ করিবার অপরাধ ব্যতীত কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে না এবং অপরাধ-সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে যে দণ্ড দেওয়া যাইতে পারিত, তাঁহাকে তাহার অধিক বা তাহা হইতে ভিন্ন দণ্ড দেওয়া যাইবে না। 
(২) এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দণ্ডিত করা যাইবে না। 
(৩) ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারলাভের অধিকারী হইবেন। 
(৪) কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাইবে না। 
(৫) কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া যাইবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেওয়া যাইবে না কিংবা কাহারও সহিত অনুরূপ ব্যবহার করা যাইবে না। 
(৬) প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কোন দণ্ড বা বিচারপদ্ধতি সম্পর্কিত কোন বিধানের প্রয়োগকে এই অনুচ্ছেদের (৩) বা (৫) দফার কোন কিছুই প্রভাবিত করিবে না।

Article 35: Protection in respect of trial and punishment

(1) No person shall be convicted of any offence except for violation of a law in force at the time of the commission of the act charged as an offence, nor be subjected to a penalty greater than, or different from, that which might have been inflicted under the law in force at the time of the commission of the offence. 
(2) No person shall be prosecuted and punished for the same offence more than once. 
(3) Every person accused of a criminal offence shall have the right to a speedy and public trial by an independent and impartial Court or tribunal established by law. 
(4) No person accused of any offence shall be compelled to be a witness against himself. 
(5) No person shall be subjected to torture or to cruel, inhuman, or degrading punishment or treatment. 
(6) Nothing in clause (3) or clause (5) shall affect the operation of any existing law which prescribes any punishment or procedure for trial.
১,৫৯৬.
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের অধীনে কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটির অন্যুন কত জন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম গঠিত হবে?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৭ ধারার বিধান বাছাই কমিটি: 
 (১) কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে নিম্নবর্ণিত পাঁচ জন সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথা:- 
(ক) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারক; 
(খ) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক; 
(গ) বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক; 
(ঘ) সরকারী কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান; এবং 
(ঙ) অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবদের মধ্যে সর্বশেষে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব: 
তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অব্যবহিত পূর্বের অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব: 
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ কোন অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাওয়া না যায় অথবা তিনি বাছাই কমিটির সদস্যপদ গ্রহণে অসম্মত হন, তাহা হইলে বর্তমানে কর্মরত মন্ত্রিপরিষদ সচিব৷ 

(২) প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক বাছাই কমিটির সভাপতি হইবেন৷
(৩) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে৷ 
(৪) বাছাই কমিটি, কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, উপস্থিত সদস্যদের অন্যুন ৩ (তিন) জনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুই জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করিয়া ধারা ৬ এর অধীন নিয়োগ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণ করিবে৷
(৫) অন্যুন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে৷
১,৫৯৭.
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর অধীন সালিশী কাউন্সিল কোন মর্মে সার্টিফিকেট ইস্যু করতে পারে?
  1. তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  2. স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  3. বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণের টাকার অংক নির্দিষ্ট করে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ৯- ভরণপোষণ

১) যেক্ষেত্রে কোন স্বামী তাহার স্ত্রীকে পর্যাপ্তভাবে ভরণপোষণ দিতে অসমর্থ হয় অথবা একাধিক স্ত্রী থাকিলে  তাহাদিগকে সমভাবে ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রী বা স্ত্রীগণের সকলে অথবা স্ত্রীগণের যে কোন জন অপর কোন আইনসঙ্গত প্রতিকার প্রার্থনা ব্যতীতও চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করিতে পারে। চেয়ারম্যান একটি সালিশী কাউন্সিল গঠন করিবেন ও উক্ত কাউন্সিল স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ প্রদানের নিমিত্ত টাকার অংক নির্দিষ্ট করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যু করিতে পারিবেন।

২) একজন স্বামী অথবা স্ত্রী নির্ধারিত পন্থায় নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে নির্ধারিত ফিস প্রদানপূর্বক উক্ত সার্টিফিকেট পুর্নবিবেচনার নিমিত্ত সহকারী জজের নিকট আবেদন পেশ করিতে পারেন। তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং কোন আদালতে এই সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যাইবে না।

৩) ১নং অথবা ২নং উপধারা অনুযায়ী দেয় কোন টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করিলে বকেয়া ভূমিরাজস্বরুপ আদায়যোগ্য হইবে।

Section 9- Maintenance
(1) If any husband fails to maintain his wife adequately, or where there are more wives than one, fails to maintain them equitably, the wife, or all or any of the wives, may in addition to seeking, any other legal remedy available apply to the Chairman who shall constitute an Arbitration Council to determine the matter, and the Arbitration Council may issue a certificate specifying the amount which shall be paid as maintenance by the husband. 
 
(2) A husband or wife may, in the prescribed manner, within the prescribed period, and on payment of the prescribed fee, prefer an application for revision of the certificate to the Assistant Judge concerned and his decision shall be final and shall not be called in question in any Court. 
 
(3) Any amount payable under sub-section (1) or (2), if not paid in due time, shall be recoverable as arrears of land revenue.
১,৫৯৮.
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ১৫০ ধারা অনুসারে, কোন পরিস্থিতিতে রাজস্ব কর্মকর্তার আদেশ পর্যালোচনা করা যাবে না?
  1. আদেশটি মৌখিক হলে
  2. আদেশটি বাতিল না হলে
  3. আবেদনকারী অনুপস্থিত থাকলে
  4. আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়ে থাকলে
ব্যাখ্যা
The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 এর ধারা ১৫০: রাজস্ব কর্মকর্তার দ্বারা পর্যালোচনা (Review by Revenue-officer):
(১) কোনো স্বার্থসম্পন্ন পক্ষের আবেদনক্রমে অথবা নিজ উদ্যোগে, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা নিজে বা তাঁর পূর্বসূরিদের দ্বারা এই অংশের অধীনে গৃহীত কোনো আদেশ পর্যালোচনা করতে পারেন এবং সেই পর্যালোচনার মাধ্যমে উক্ত আদেশ সংশোধন, বাতিল বা অনুমোদন করতে পারেন:

তবে শর্ত থাকে যে—
(ক) কোনো আদেশের পর্যালোচনার আবেদন সেই আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে না করা হলে তা গৃহীত হবে না, তবে ত্রিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবেদন করা হলে, আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করার যথার্থ কারণ ছিল।
(খ) কোনো আদেশের বিরুদ্ধে যদি আপিল করা হয়ে থাকে বা কোনো উচ্চতর রাজস্ব কর্তৃপক্ষের কাছে সংশোধনের আবেদন করা হয়ে থাকে, তবে সেই আদেশ পর্যালোচনা করা যাবে না।
(গ) কোনো আদেশ পর্যালোচনার মাধ্যমে সংশোধন বা বাতিল করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে যুক্তিসঙ্গত নোটিশ প্রদান করতে হবে যেন তারা উপস্থিত হয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারে।

(২) পর্যালোচনার আবেদন প্রত্যাখ্যান বা পূর্বের কোনো আদেশ পর্যালোচনার মাধ্যমে অনুমোদন করার বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না।
১,৫৯৯.
কার অনুমোদন ব্যতিরেকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর অধীন অপরাধ বিচারার্থ আমলে নেয়া যাবে না?
  1. সরকার
  2. স্পেশাল জজ
  3. বাছাই কমিটি
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ধারা ৩২ – মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে অনুমোদন, ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনের অনুমোদন (Sanction) ব্যতিরেকে কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ আমলে (Cognizance) গ্রহণ করিবে না। 
 
(২) এই আইনের অধীন মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সরকার ও কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত অনুমোদনপত্রের কপি মামলা দায়েরের সময় আদালতে দাখিল করিতে হইবে।
১,৬০০.
মিতাক্ষরা আইনে কারা অসতীত্বের কারণে স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
  1. কন্যা
  2. বিধবা স্ত্রী
  3. মাতা
  4. সকল মহিলা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, যথা:
-  অসতীত্ব;
- ধর্মচ্যুত হলে বা ধর্ম ত্যাগ করলে;
- সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়;
- অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধীগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত;
- হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।


উল্লেখ্য,
⇒ অসতীত্ব জনিত কারণে মিতাক্ষরা আইনে শুধুমাত্র বিধবাই স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত। এই কারণে অন্য কোন মহিলা সম্পত্তি পাইতে বাধাপ্রাপ্ত হন না। কিন্তু দায়ভাগ মতে শুধু বিধবাই নহে, একই নিয়মে এবং কারণে অন্যান্য মহিলারাও যেমন কন্যা অথবা মাতা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে। 

অসতীত্ব একজন নারীকে পুরুষের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারিত্ব লাভে বঞ্চিত করিলেও অসতীত্বের কারণে একজন নারী কোন স্ত্রীলোকের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় না। নজীরে আছে, অসতীত্বের কারণে কন্যা তাহার মাতার স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় নাই। কলিকাতা হাইকোর্টে নগেন্দ্র বনাম বিনয়কৃষ্ণ মামলায় এই প্রশ্নটির মীমাংসা হয়। (30 cal 521)।