বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৮০১৯০০ / ৩,৮২৯

৮০১.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো-
  1. সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  3. ত্রিভুজের দুটি বাহন ভূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
৮০২.
কোনটি ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নয়?
  1. তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
•  ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:

- ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা ।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ সৃষ্টি করে জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
- দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌঁছে দেওয়া ।
- দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌঁছানো ।
- সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া ।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা ।
- দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া ।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ।
- গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা ৷
-. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা ।
- শাসন ব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮০৩.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) নিরপেক্ষতা
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) যথার্থতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক। তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৮০৪.
রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ কোনটি?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার
  2. ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমান সম্পদ বণ্টন
  3. সার্বজনীন ভোটাধিকার
  4. জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সামাজিক মর্যাদা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক সাম্য:
- রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কার্যক্রমে সমান অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সমান রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করার অধিকার।
- এটি গণতন্ত্রের একটি মৌলিক ভিত্তি।
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে সার্বজনীন ভোটাধিকার।

⇒ উল্লেখ্য:
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার’ আইনগত সাম্য।
- ‘ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সমান সম্পদ বণ্টন’ অর্থনৈতিক সাম্য।
- জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমান সামাজিক মর্যাদা সামাজিক সাম্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮০৫.
সুশাসন জনপ্রশাসনের একটি -
  1. প্রাচীন সংস্কৃতি
  2. নব্য সংস্কৃতি
  3. রূপ
  4. শাখা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনপ্রশাসনের একটি নব্য সংস্কৃতি হলো সুশাসন। 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ।
- সুশাসনের ভিত্তিকে দৃঢ় করে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৬.
নিচের কোনটি সরকারি আইন নয়?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. প্রশাসনিক আইন
  3. সাংবিধানিক আইন
  4. আন্তর্জাতিক আইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
- সরকারি আইন আবার কয়েক প্রকার।
- যেমন:
• ফৌজদারি আইন,
• প্রশাসনিক আইন,
• সাংবিধানিক আইন।

অন্যদিকে -
আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকা হচ্ছে -
  1. দলীয় নীতি নির্ধারণ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ
  3. জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিম্নরুপ:
→ দলীয় নীতি নির্ধারণ,
→ সুষ্ঠু জনমত গঠন,
→ রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি,
→ সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন,
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ,
→ সমন্বয় সাধন,
→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুদৃঢ়করণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৮.
জন অস্টিন আইনের কতটি উৎস চিহ্নিত করেছেন?
  1. ৫টি
  2. ১টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: - সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে,
• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
- প্রথা,
- ধর্ম,
- বিচারকের রায়,
- ন্যায়বিচার,
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
- আইনসভা।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
- প্রথা,
- ধর্ম,
- বিচারকের রায়,
- ন্যায়বিচার,
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
- আইনসভা,
- জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮০৯.
জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে কী হ্রাস পাবে?
  1. বাল্যবিবাহ
  2. দুর্নীতি
  3. অপসংস্কৃতি
  4. অরাজকতা
ব্যাখ্যা
দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- জবাবদিহিতার দুইটি দিক থাকে, একটি, রাজনৈতিক অপরটি প্রশাসনিক।
- গণতান্ত্রিক সরকার গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত এবং সম্পাদিত কাজের জন্যে আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে।
- আইনসভার সদস্যগণ জনগণের নির্বাচিত সদস্য।
- এর ফলে সরকারের গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বা কাজকর্মের জন্যে আইনসভার মাধ্যমে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতার অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি হ্রাস পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮১০.
প্লেটোর দৃষ্টিতে ‘সদগুণ’ কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• সদগুন: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১১.
’সৃষ্টির রহস্য’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. মুহাম্মদ রেজা 
  2. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  3. আব্দুল মতিন
  4. আরজ আলী মাতুব্বর
ব্যাখ্যা

আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।
- বাংলাদেশের আরেকজন দার্শনিক জি.সি দেব বস্তুবাদ ও অধ্যাত্মবাদের মিশিলে গঠিত সমন্বয়ী দর্শনের প্রচার করেছিলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

⇒ তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮১২.
The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কোন নির্দেশকের উল্লেখ করেছে?
  1. সরকারের বৈধতা
  2. সরকারের রাজনৈতিক জবাবদিহিতা
  3. মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়। 

⇒ The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৩.
কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না?
  1. ধনসম্পত্তি
  2. নৈতিক জ্ঞান
  3. আইন
  4. স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

সাম্য ও স্বাধীনতা:

- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৪.
সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় কোনটি?
  1. ক) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা
  2. খ) জবাবদিহিতার অভাব
  3. গ) বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা
  4. ঘ) দক্ষ আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
 • সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো: মোজাম্মেল হক।
৮১৫.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়-
  1. ক) গ্রহণযোগ্যতা
  2. খ) দায়বদ্ধতা
  3. গ) নেতার শাসন
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের পূর্বশর্ত সমূহ:

- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮১৬.
'শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ'-উক্তিটি কোন দার্শনিক দিয়েছেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

সক্রেটিসের মতে,
- "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে,
- শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়।
- এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।

দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে,
- সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা।
- শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।

মহাত্মা গান্ধী বলেন,
- "শিক্ষা হলো শিশু ও মানুষের দেহ, মন ও আত্মার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ।

রুশো মন্তব্য করেন,
- "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি।
- শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়।
- প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৭.
সৎ জীবনযাপন ও অসততার প্রতি ঘৃণাবোধ কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক। 

৮১৮.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতি? 
  1. আইন
  2. জ্ঞান-বিজ্ঞান
  3. আদর্শ
  4. পোশাক
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১৯.
সামাজিক মূল্যবোধকে ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুণাবলির সমষ্টি হিসেবে দেখেছেন কে?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. জেন লেন্নন
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২০.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে-
  1. বিনিয়ােগ বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি দূর হয়
  3. প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
  4. যােগাযােগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৮২১.
জনমত গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) রাজনৈতিক শিক্ষা 
  3. গ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা 
ব্যাখ্যা
- জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
৮২২.
“রাষ্ট্রই হচ্ছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা এবং তার ওপর উচ্চতর কোন ক্ষমতা থাকতে পারেনা”- উক্তিটি কার?
  1. আর. এম. ম্যাকাইভার
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. অ্যারিস্টটল
  4. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রঃ
প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে। হঠাৎ করে কোন রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয় নি।
- আদিম মানুষ প্রথমে গোত্রভিত্তিক বসবাস করতো। সময়ের বিবর্তনে একসময় রাষ্ট্রের উৎপত্তি হয়।
- রাষ্ট্রের সৃষ্টিকারী মূলত মানুষই।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী জনগণকে রাষ্ট্রের নাগরিক বলা হয়। প্রত্যেক নাগরিককে রাষ্ট্রের সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়ে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক তত্ত্ববিদরা রাষ্ট্রকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- অ্যারিস্টটলের মতে, 'স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের জন্য কতিপয় পরিবার ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনই রাষ্ট্র।'
- আর. এম. ম্যাকাইভার - এর মতে, 'রাষ্ট্র হচ্ছে সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা পরিচালিত একটি সংগঠন, যার কর্তৃত্বমূলক ক্ষমতা রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে বসবাসরত অধিবাসীদের উপর বলবৎ হয়।'
- নিকোলা ম্যাকিয়াভেলির মতে, 'রাষ্ট্রই হচ্ছে সর্বোচ্চ ক্ষমতা এবং তার ওপর উচ্চতর কোন ক্ষমতা থাকতে পারেনা'।
- অধ্যাপক গার্নার রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন -
'রাষ্ট্র হলো বহুসংখ্যক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত এমন এক সমাজ, যারা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যা বহির্শক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত এবং যাঁদের একটি সুসংগঠিত সরকার আছে, যে সরকারের প্রতি ঐ জনসমাজ স্বভাবতই অনুগত।'

রাষ্ট্রের উপাদানঃ
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথাঃ
(ক) জনসমষ্টি
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
(গ) সরকার
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৩.
কোন ধরনের কর্তব্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে?
  1. নৈতিক কর্তব্য
  2. রাজনৈতিক কর্তব্য
  3. আইনগত কর্তব্য
  4. সামাজিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
যেমন-
→ বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
→ ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেয়া,
→ দরিদ্রকে সাহায্য করা,
→ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
→ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮২৪.
ই-গভর্ন্যান্সের ফলে প্রশাসনে কী ঘটে?
  1. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  2. অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পায়
  3. দুর্নীতির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়
  4. স্বচ্ছতা ব্যাহত হয়
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্স। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছে দেওয়াই হলো ই-গভর্ন্যান্স। এটি প্রশাসন ব্যবস্থায় একটি আধুনিক ধারণা।

ই-গভর্ন্যান্সের ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয় ও দ্রুততা আসে এবং জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৮২৫.
বিশ্বব্যাংক কবে প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯৪ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮২৬.
অ্যারিস্টটলের মতে, সদগুণ অর্জনের প্রধান উপায় কোনটি?
  1. জন্মগতভাবে
  2. অভ্যাস ও অনুশীলন
  3. জ্ঞানার্জন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের (৩৮৪-৩২২ খ্রি.পূ.) মতে আমাদের প্রবৃত্তিসমূহ বিচার-বুদ্ধি দ্বারা পরিচালিত হয়।
- তিনি অভ্যাসের মাধ্যমে প্রবৃত্তিসমূহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কার্য সম্পাদন করার মধ্যক নির্ণয়ের উপায়কে সদগুণ বলেছেন।
- তাঁর মতে, সদগুণ মানুষের মধ্যে সহজাতভাবে থাকে না, এটি অর্জনের বিষয়। মানুষ শিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সদগুণ অর্জন করে। অর্জিত সদগুণকে অধিকতর চর্চার মাধ্যমে মানুষ তার আচরণের উৎকর্ষ ঘটায়। এরিস্টটল সদগুণকে ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে অভিহিত করেছেন; যে বৈশিষ্ট্য অর্জনে ব্যক্তির যুক্তি-বুদ্ধির ভূমিকা রয়েছে।
- বর্তমান সময়ে মানুষ যেভাবে আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী হয়ে পড়ছে, তাতে এরিস্টটলের সদগুণ সম্পর্কিত নৈতিক মতাদর্শ আমাদের এই আত্মকেন্দ্রিক হবার প্রবণতা থেকে ফিরিয়ে আসার জন্যে সহায়ক হতে পারে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) নৈতিক আলোচনায় এরিস্টটলের সদগুণ: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, মানববিদ্যা গবেষণাপত্র।

৮২৭.
শাসনের কোন দিকটি নির্দেশ করতে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গুণগত
  2. খ) বাহ্যিক
  3. গ) পরিমাণগত
  4. ঘ) সংখ্যাগত
ব্যাখ্যা
• শাসন শব্দের সাথে সু প্রত্যয় যুক্ত করে সুশাসন শব্দটি তৈরি হয়েছে।
• সুশাসন শাসনের গুণগত দিককে নির্দেশ করে।
• নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে শাসন পরিচালনা করাই হলো সুশাসন।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৮.
জনগনের কল্যাণকামী, যুক্তিভিত্তিক ও সচেতন মতের সমষ্টি কী?
  1. ক) রাজনৈতিক সংহতি
  2. খ) গনতন্ত্র
  3. গ) রাজনৈতিক সংস্কৃতি
  4. ঘ) জনমত
ব্যাখ্যা
জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগনকে প্রভাবিত করতে সক্ষম। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮২৯.
বৈষম্যযুক্ত সমাজে কি বিরাজ করে?
  1. স্থিতিশীলতা
  2. অস্থিতিশীলতা
  3. শান্তি
  4. সমৃদ্ধি 
ব্যাখ্যা
• সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
→ পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনায় সাম্য ও স্বাধীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সমাজে বসবাস করতে হলে সাম্য ও স্বাধীনতা দুটিই প্রয়োজন।
→ বৈষম্যযুক্ত সমাজে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে। পক্ষান্তরে, স্বাধীনতাহীন ব্যক্তি বা জাতির বিকাশের সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়।
→ সাম্য ও স্বাধীনতার মাঝে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ দু’ধরনের সম্পর্ক চিহ্নিত করেন। একটি ধারা সাম্য ও স্বাধীনতার মধ্যে সমধর্মীতার কথা বলে অন্য ধারাটি এই দুইয়ের মাঝে কিছু বৈপরীত্য দেখতে পায়। 

পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩০.
নাগরিকের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়-
  1. ক) আনুগত্য পোষণ
  2. খ) আইন মান্য করা
  3. গ) কর প্রদান করা
  4. ঘ) দুঃস্থকে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের বা সমাজের নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা, আইন মেনে চলা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি আইন দ্বারা নির্ধারিত নাগরিকের পালনীয় কর্তব্য। এসব পালন না করলে রাষ্ট্র নাগরিককে আইনের মুখোমুখি করতে পারে। অন্যদিকে দুঃস্থকে সাহায্য করা হলো নৈতিক কর্তব্য যা আইন দ্বারা নির্ধারিত নয়। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৩১.
মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে নিচের কোনটি রোধ করা যায়?
  1. ব্যভিচার
  2. রাহাজানি
  3. ইভটিজিং
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।
উল্লেখ্য:
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩২.
নিচের কোনটি লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের গুণ নয়?
  1. বুদ্ধি
  2. বিবেক
  3. সু-শিক্ষা
  4. আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,

- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

অর্থাৎ সকল নাগরিক সুনাগরিক নয়। সুনাগরিক হলো সেই ব্যক্তি, যার তিনটি প্রধান গুণ রয়েছে: ১) বুদ্ধি, ২) বিবেক, ৩) আত্মসংযম।

১. বুদ্ধি: বুদ্ধিমান নাগরিক সমাজের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে পারে। সুনাগরিকের বুদ্ধিমত্তা রাষ্ট্রের উন্নতি এবং গণতান্ত্রিক সফলতার ভিত্তি।
২. বিবেক: বিবেকবান নাগরিক ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং রাষ্ট্রের অধিকার ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে। তারা আইন মেনে চলে ও সৎ ব্যক্তিকে ভোট দেয়।
৩. আত্মসংযম: আত্মসংযম হলো লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করা। এ গুণের মাধ্যমে ব্যক্তি বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে সক্ষম হয় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৩.
কোনটি সকলের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য?
  1. ক) প্রশাসন
  2. খ) আইন
  3. গ) সমিতি
  4. ঘ) সত্তা
ব্যাখ্যা
আইনের সাধারণ অর্থ হলো নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান। ফার্সি 'আইন' শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম। আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। অধ্যাপক ডাইসির মতে, 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৩৪.
নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের -
  1. স্বভাবজাত প্রবৃত্তি
  2. স্থায়ী প্রবণতা
  3. স্বভাবজাত প্রবণতা
  4. স্থায়ী প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৫.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) ধর্মীয় অনুশাসন
  2. খ) শিষ্টাচার
  3. গ) সততা
  4. ঘ) ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ হলোঃ শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি। ধর্মীয় অনুশাসন হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৩৬.
নৈতিকতার বিধান আনুসারে 'Instinct' এর অর্থ কী?
  1. ঝোঁক
  2. আগ্রহ
  3. প্রবৃত্তি
  4. প্রেষণা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার বিকাশের স্তর:
- নৃতাত্ত্বিক তথা সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমগ্র নৈতিকতার বিকাশে তিনটি স্তর নির্দেশ করা হয়:
-(১) প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর
-(২) প্রথার স্তর ও
-(৩) বিবেকের স্তর।
-প্রবৃত্তি কথাটি ইংরেজি 'Instinct' এর বাংলা প্রতিশব্দ।
- অর্থাৎ 'Instinct' এর অর্থ প্রবৃত্তি।
-আজকাল মনোবিজ্ঞানীরা এ কথাটি ব্যবহার করতে চান না। তাই বিকল্প হিসেবে প্রবণতা কথাটি ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৭.
“দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা” কোন মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- পরমতসহিষ্ণুতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৮.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস কোনটি?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. জনগণ
  3. আইনসভা
  4. সশ্বস্ত্র বাহিনী
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ।
জনগণের সম্মতির ভিত্তিতেই গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয় এবং পরিচালিত হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৮৩৯.
“Considerations on Representative Government” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. খ) ম্যাকাইভার
  3. গ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ঘ) জ্যাক রুঁশো
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৮৪০.
একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল -
  1. ক) সৌজন্যবোধ
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল, যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক। এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আর্দশ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

• মূল্যবোধ সর্ম্পকে বিভিন্ন মনিষীদের উক্তি:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
- ক্লাইড ক্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
-  সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪১.
সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম-
  1. সুশাসন
  2. গণতন্ত্র
  3. মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক উন্নতি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
- সুতরাং সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার নাম সুশাসন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)

-
৮৪২.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে-
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) আইন বিভাগ
  3. গ) শাসন বিভাগ
  4. ঘ) বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
⇨ সুশাসন হলো যথার্থ শাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
⇨ একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে শাসন বিভাগ।    

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৮৪৩.
আইন ও নৈতিকতার আলোচ্য বিষয়-
  1. ক) রাষ্ট্র
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) প্রথা
  4. ঘ) মানুষ ও সমাজ
ব্যাখ্যা
আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় একই। আইন ও নৈতিকতার আলোচ্য বিষয় মানুষ ও সমাজ।
[সূত্রঃ নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি]
৮৪৪.
জাতিসংঘের সুশাসন সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি সর্বপ্রথম কোন প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়?
  1. শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিবেদন
  2. শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন
  4. 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ কারণ: মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

অন্যদিকে,
- বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন' (Governance and Development) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- ইউএনডিপি (UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে। 

উৎস: i) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৪৫.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার -
  1. সম্পত্তি ভোগ
  2. দায়মুক্তি
  3. সরকারি চাকুরি
  4. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
→ সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে। যেমন:  জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৬.
কে নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন?
  1. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি
  2. হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  3. হার্বার্ট স্পেনসার
  4. শেলী
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৪৭.
কোনটিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ বলা হয়?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. জনপ্রশাসন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।

সুশাসনের ধারণা:
- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

গণতন্ত্র:
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮৪৮.
নিচের কোনটি ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা? 
  1. রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা
  2. ভোটার হবার স্বাধীনতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. সম্পত্তি ভোগ করার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- মত প্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 

- একটি রাষ্ট্রে নাগরিকগণ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে।স্থান, কাল, পাত্রভেদে এটি আবার ভিন্ন হয়ে থাকে।
- যেমন-(১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (২) সামাজিক স্বাধীনতা (৩) রাজনৈতিক স্বাধীনতা (৪) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (৫) জাতীয় স্বাধীনতা ও (৬) পৌর স্বাধীনতা

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: 
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

অন্যদিকে,

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত। 

•  পৌর স্বাধীনতা: 
- জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকারগুলো পৌর স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও সমাজে সখ-শান্তি নিশ্চিতকরণে এই সব স্বাধীনতা অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৯.
সুশাসন এর আবির্ভাব ঘটেছিল -
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
• সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে।

বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা:
• বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।
• বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বব্যাংকের সুশাসন সংজ্ঞা:
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
• সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫০.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা'- জন স্টুয়ার্ট মিল তাঁর কোন গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেন?
  1. Moral and others
  2. Utilitarianism
  3. Political Ideals
  4. On Liberty
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• প্রাকৃতিক স্বাধীনতা:
- সামাজিক চুক্তিবাদী দার্শনিক হবস, সক এবং রুশো বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পূর্বাবস্থায় প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা ভোগ করত।
- কিন্তু স্বাধীনতার এরকম ধারণা অলীক, অসার ও অবাস্তব বলেই প্রতিপন্ন হয়।
- দার্শনিক রুশো তাঁর বক্তব্যে তাই স্বাধীনতাকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই যে শৃঙ্খলাবদ্ধ” (“Man is born free but everywhere he is in chain.”)

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
- তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে গিয়ে যেকোন শ্রেণি শোষণ-বঞ্চনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতাও খর্ব হয়।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮৫১.
কোন আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করা হয়?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. ফৌজদারি আইন
  3. প্রশাসনিক আইন
  4. শাসনতান্ত্রিক আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইন সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে বিভিন্ন ভাগেভাগ করা যায়:

⇒ জাতীয় আইন:
- জাতীয় আইন হচ্ছে সেসব আইন যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও কার্যকর হয়।
- জাতীয় আইন সরকারই কিংবা বেসরকারি দুই রকমের হতে পারে।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

⇒ বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
- যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

⇒ আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
- আন্তর্জাতিক আইনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- শান্তিকালীন আইন, যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং নিরপেক্ষতার আইন।
- এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত।

⇒ সাংবিধানিক বা শাসনতান্ত্রিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।
- শাসনতান্ত্রিক আইন লিখিত এবং অলিখিত এই দুই রকমের হতে পারে।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরূপ।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫২.
'Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্ট কে প্রকাশ করে?
  1. আইএমএফ
  2. আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৫৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা সুশাসনের পথ প্রশস্ত করতে কোনটি বিকাশ ঘটায়?
  1. ব্যক্তিসত্তা
  2. জাতিসত্তা
  3. গোষ্টিসত্তা
  4. ধর্মীয় সত্তা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদ শ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৫৪.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. ব্যক্তির নীতিবোধের মাধ্যমে  
  2. ব্যক্তির আচার-আচরণ
  3. ব্যক্তির সহমর্মিতার মাধ্যমে  
  4. ব্যক্তির সাম্যর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৫৫.
"শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"- উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টটল
  4. ম্যাকইভার
ব্যাখ্যা
দার্শনিক প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৮৫৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কী?
  1. সরকারের হস্তক্ষেপ বৃদ্ধি
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  3. রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের সরকারের করণীয়:
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
- জনসম্মতি।
- সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
- স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
- একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
- দক্ষ জনশক্তি।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার।
- দারিদ্র্য দূরীকরণ।
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৮৫৭.
চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন কোন ধরনের আইন?
  1. আন্তর্জাতিক আইন
  2. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন
  3. প্রশাসনিক আইন
  4. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার। ১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।
জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)

১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন: রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হলো রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন। রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন আবার নিম্নরূপ-
ক. ফৌজদারি আইন: রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের কাজ পরিচালনার জন্য এ ধরনের আইন প্রণয়ন করা হয়। সমাজে শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং দণ্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
খ. প্রশাসনিক আইন: প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা হয় ও সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি বর্গের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন: এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত না হলেও সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। যেমন- চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।
৩. আন্তর্জাতিক আইন: এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৮.
'আত্মসুখবাদ' এর প্রতিষ্ঠাতা কে? 
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. এরিস্টিপাস
  4. সাইরেনিক
ব্যাখ্যা
আত্মসুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৯.
সুশাসনের কোন নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. সাম্য ও সমতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের নীতি:
- সুশাসনের বিভিন্ন নীতি রয়েছে যেমন অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, সাম্য ও সমতা, এবং স্বচ্ছতা ইত্যাদি।
- সুশাসনের 'অংশগ্রহণের নীতি' সংগঠনের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করে।
- কারণ এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সকল স্তরের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
• অংশগ্রহণের মাধ্যমে
- সংগঠনের সদস্যদের মতামত এবং উদ্বেগগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়, যা স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংস্থার বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা তাদের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে, যা তাদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- অংশগ্রহণ সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে, যা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।

উল্লেখ্য, 
- অন্য নীতিগুলো সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তবে অংশগ্রহণ সরাসরি স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৬০.
দুর্নীতির ক্ষতিকর দিক কোনটি?
  1. জনগণের দরিদ্রতা বৃদ্ধি
  2. জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি
  3. জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।
- যখন কোনো প্ৰতিষ্ঠান বা ব্যক্তি স্বীয় অবস্থানের সক্রিয় অপব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাভবান হয় বা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জন করে। 
- এর ফলে অন্যের ক্ষতি সাধিত হয় তখনই দুর্নীতি সংঘটিত হয়। 
 
দুর্নীতির ক্ষতিকর দিকসমূহ নিম্নরূপ:
ক. জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি,
খ. জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়, এবং
গ. জনগণের দরিদ্রতা বৃদ্ধি।  

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট এবং ti-bangladesh.org [link]
৮৬১.
‘রাজনৈতিক দল হচ্ছে কোন নীতির সমর্থনে সংগঠিত সংঘ বিশেষ, যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিচালনায় প্রয়সী হয়'।- উক্তিটি কার?
  1. ক) এডমন্ড বার্ক
  2. খ) অধ্যাপক ফাইনার
  3. গ) অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. ঘ) আর্নেস্ট বার্কার
ব্যাখ্যা
উপর্যুক্ত উক্তিটি করেছেন ম্যাকাইভার। অধ্যাপক ফাইনারের মতে- গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন। এডমন্ড বার্কের মতে- রাজনৈতিক দল এমন একটি সংগঠিত জনগোষ্ঠী যারা একটি নির্দিষ্ট স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সচেষ্ট।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৬২.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3.  সহনশীলতা ও সহমর্মিতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার,  সহনশীলতা ও সহমর্মিতা অর্থাৎ উপরোক্ত সবগুলো।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে  শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৩.
সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো বেশি উদ্ভূত হয় 'সামাজিক ______' থেকে।
  1. আচরন
  2. বৈষম্য
  3. প্রথা
  4. নীতি
ব্যাখ্যা

● সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলো বেশি উদ্ভূত হয় সামাজিক প্রথা থেকে।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের মনস্তত্ত্বের সাথে সম্পর্কিত।
- মূল্যবোধ নানারূপ হয়ে থাকে যেমন- সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ। মূল্যবোধের কারণে একজন মানুষ কোন বস্তু, ব্যক্তি ও বিষয়ে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে থাকে এবং তার সঠিক মূল্যমান বুঝতে পারে। একটি সমাজে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের প্রক্রিয়ায়।

⇒ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে।
- সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।
- সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে।
- সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।
- তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

⇒ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সাধারণত দীর্ঘদিনের লালিত সামাজিক প্রথা, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি থেকে উদ্ভূত হয়, যা একটি সমাজের মানুষের আচরণ, বিশ্বাস ও জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এই মূল্যবোধগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা প্রথা থেকে জন্ম নেয় এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করে।

• প্রথা হলো সমাজে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলে আসা রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও আচরণের ধরন, যা সমাজের সদস্যদের মধ্যে কোনটাকে গ্রহণযোগ্য, কাঙ্ক্ষিত বা মূল্যবান মনে করা হয় তা নির্ধারণ করে। 
- এই প্রথাগুলোই সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে তোলে এবং সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- অন্যান্য উপাদান থেকেও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ উদ্ভূত হয় তবে সবচেয়ে বেশি উদ্ভূত হয় প্রথা থেকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৬৪.
সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশীল সমাজ 
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সুশাসন
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

৮৬৫.
সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. বিশৃঙ্খলা
  3. ঔচিত্যবোধ
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, ‘‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজে মানুষের আচরণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- ন্যায়বিচার,
- আইনের শাসন,
- নৈতিকতা,
- সাম্য,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৮৬৬.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ?
  1. নেতিবাচক
  2. সাংঘর্ষিক
  3. ইতিবাচক
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৮৬৭.
অবাধ স্বাধীনতা কিসের নামান্তর?
  1. ক) গণতন্ত্রের
  2. খ) ব্যক্তি স্বাধীনতার
  3. গ) স্বেচ্ছাচারিতার
  4. ঘ) শান্তির
ব্যাখ্যা
অবাধ স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এই জন্যই সকল রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন করা হয় এবং সুনাগরিকগণ তা মেনে চলে। উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৮৬৮.
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর -
  1. স্থিতিশীল
  2. পরিপূরক
  3. সাংঘর্ষিক
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- সাম্য ও স্বাধীনতা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে অন্যের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করাই হল সাম্যচিন্তা।
- রুশো, লাস্কি, বার্কার প্রমূখ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মনে করেন সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর পরিপূরক।
- উভয়ের সম্পর্ক অতি নিবিড়। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার অস্তিত্ব নাই। সমাজে সাম্য না থাকলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ভেদে বৈষম্য ঘটে।
- লর্ড অ্যাকটন এর মতে “সাম্য অর্জনের আগ্রহ স্বাধীনতার আশাকে ব্যর্থ করে” । মার্কসবাদীগণ সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বলেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৯.
"সৎ ইচ্ছা" - কে নীতিবিদ্যার মূল হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালি
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ব্রিটানিকা
৮৭০.
“আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক ডাইসি
  4. এটিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো - আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।

- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন - জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন - উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।
- ''Law is the passionless reason'' উক্তিটি করেন - এরিস্টটল। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৭১.
সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে কে দার্শনিক রাজার কথা উল্লেখ করেন?
  1. এরিস্টটল
  2. মেকিয়াভেলি
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন গ্রিসে প্লেটো সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন।
- তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৮৭২.
জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে কতটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
'সুশাসন' ও বিভিন্ন সংস্থার মতে সুশাসনের উপাদান:
→ প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' (Good Governance) বলে।

জাতিসংঘ সুশাসনের মধ্যে ৮টি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এগুলো হলো:
১) অংশগ্রহণ
২) আইনের শাসন
৩) জবাবদিহিতা
৪) ন্যায়বিচার
৫) স্বচ্ছতা
৬) কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন
৭) দায়বদ্ধতা
৮) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য

অন্যদিকে, বিভিন্ন সংস্থা সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপাদান উল্লেখ করেছে:
→ ইউএনডিপি সুশাসনের ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৬টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন (UNHCR) সুশাসনের ৫টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
→ আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AFDB) সুশাসনের ৫টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান উল্লেখ করেছে।
→ এডিবি (Asian Development Bank) সুশাসনের ৪টি মূল উপাদান বলেছে।
→ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদান উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৩.
নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি কিসের অন্তরায়?
  1. সামাজিক অবক্ষয়ের
  2. মূল্যবোধ অবক্ষয়ের
  3. সুশাসনের
  4. শিক্ষার গুণগতমানের
ব্যাখ্যা
• নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায়। 
-------------- 
• সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।

- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৭৪.
‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গর্ভনেন্স’- সংজ্ঞাটি প্রদান করে/করেন?
  1. ক) কফি আনান(Kofi Annan)
  2. খ) বিশ্বব্যাংক(WB)
  3. গ) আইএমএফ(IMF)
  4. ঘ) ইউএনডিপি(UNDP)
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গর্ভনেন্স’।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]
৮৭৫.
এসডিজির কত নং লক্ষ্যমাত্রায় 'শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান' গড়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে?
  1. ক) ১৬ নং লক্ষ্যমাত্রা
  2. খ) ৫ নং লক্ষ্যমাত্রা
  3. গ) ৪ নং লক্ষ্যমাত্রা
  4. ঘ) ১০নং লক্ষ্যমাত্রা
ব্যাখ্যা
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যস্থির করা হয়।
এসডিজির লক্ষ্যসমূহ হলো:
- প্রথম : দারিদ্র্য নির্মূল
- দ্বিতীয় : ক্ষুধামুক্তি
- তৃতীয় : সুস্বাস্থ্য
- চতুর্থ : মানসম্মত শিক্ষা
- পঞ্চম : লিঙ্গ সমতা
- ষষ্ঠ : বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন
- সপ্তম : সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- অষ্টম : উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
- নবম : শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো
- দশম : বৈষম্য হ্রাস
- একাদশ : টেকসই শহর ও জনগণ
- দ্বাদশ : পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন
- ত্রয়োদশ : জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ
- চতুর্দশ : সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান
- পঞ্চদশ : স্থলভাগের জীবন
- ষোড়শ : শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং
- সপ্তদশ : অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

(তথ্যসূত্র: SDG ওয়েবসাইট)
৮৭৬.
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয় কোনটি?
  1. দুর্বল সংসদ
  2. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  3. শক্তিশালী বিরোধীদল
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব
ব্যাখ্যা

- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ নয়- শক্তিশালী বিরোধীদল।
- জবাবদিহিতার অভাবের কারণ বিরোধীদল দুর্বল হলে।

• রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব: 

- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল:
- প্রশাসনিক জটিলতা,
- দুর্বল সংসদ,
- অনুন্নত রাজনৈতিক দল,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং
- দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা। 

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না। আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৭.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত? 
  1. বড়দের সম্মান করা
  2. দানশীল হওয়া
  3. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা নৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ।

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।

» নৈতিক মূল্যবোধ:
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- অন্যায়কে অন্যায় বলা
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা
- অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে। 
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।

- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"

- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

» সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পর –
  1. অপরিহার্য
  2. নির্ভরশীল
  3. পরিপূরক
  4. বিপরীত
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তিকে মজবুত করে।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৭৯.
সাম্য বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?
  1. যোগ্যতা অনুসারে সমান সুযোগ প্রদান
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান
  3. অবাধ স্বাধীনতা প্রদান
  4. পিছিয়ে পরা গোষ্ঠীকে সুযোগ-সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

সাম্য:
- সাম্য এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Liberty. এর অর্থ সমান।
- সমান বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়। কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে সুযোগ-সুবিধা না দেয়া।
-  অর্থাৎ সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেন সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।

⇒ সাম্যের প্রকারভেদ:
ক) সামাজিক সাম্য
- সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।
(খ) রাজনৈতিক সাম্য 
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাজের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থনৈতিক সামা না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
(ঘ) আইনগত সাম্য 
- কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত। 
(ঙ) ব্যক্তিগত সাম্য
 - মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সামা, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের করা বয়নের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। অর্থাৎ সাম্য বিভিন্ন ধরনের দর্শ নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের সাম্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ব্যক্তি পর্যায়ে যেন একজন অন্যজনের নষ্ট না করে তা খেয়াল রাখা নাগরিকের কর্তব্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮০.
_______ অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
  1. রাজনৈতিক
  2. নৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার:
- নাগরিকদের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এ রকম সুযোগ-সুবিধাই হল অধিকার।
- এ বিষয়ে টি, এইচ, গ্রীন বলেন, ”অধিকার হচ্ছে সেসব বাহ্যিক অবস্থা যা মানসিক পরিপুষ্টি সাধন করে।” 

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার।
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।
- নৈতিক অধিকার মানুষের নৈতিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুরক্ষিত নয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮১.
স্বচ্ছতা কেন সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকের ধারনাকে উন্নত ও স্বচ্ছ করে?
  1. এটি প্রশাসনিক চাপ বাড়ায় 
  2. এটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমায়
  3. এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

● স্বচ্ছতা সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণা উন্নত ও স্বচ্ছ করে কারণ এটি জনগনের নজরদারি ও সচেতন মূল্যায়নের জন্য সুযোগ দেয়।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা:

- স্বচ্ছতা সুশাসনের একটি মূল স্তম্ভ।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- যখন আইন এবং নীতি মেনে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে স্বচ্ছতা বলে।
- একটি স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের ফলে যারা প্রভাবিত হবে তারা স্বাধীনভাবে এবং সরাসরি সে সকল তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করবে যেটি গণমাধ্যমে সহজেই প্রচার করা যাবে। 
- স্বচ্ছতার স্তম্বগুলো হচ্ছে (১) তথ্য প্রবাহ, (২) তথ্য উন্মুক্তকরণ, (৩) ই-তথ্য সেবা প্রতিষ্ঠা, এবং (৪) দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ। 

⇒ স্বচ্ছতার মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পদ ব্যবহার ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকে।
- ফলে নাগরিকরা সরকারের কাজকর্ম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, ভুল-ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারেন এবং সচেতনভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন।
- এটি সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ায়, দুর্নীতি কমায় এবং সু-শাসন সম্পর্কে নাগরিকদের ধারণাকে আরও ইতিবাচক, স্পষ্ট ও উন্নত করে।
- অর্থাৎ স্বচ্ছতার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও ব্যয় সম্পর্কে তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত করা। 
 
অন্যদিকে,
- প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়: এটি স্বচ্ছতার একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, কিন্তু স্বচ্ছতার মূল উদ্দেশ্য নয়।
- রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমায়: স্বচ্ছতা প্রতিযোগিতা কমানোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়; বরং এটি প্রতিযোগিতাকে আরও ন্যায্য বা বৃদ্ধি করতে পারে।

উৎস: i) The Annual Review of Political Science. ওয়েবসাইট [লিংক] PDF (লিংক)
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিংক]

৮৮২.
নিচের কোনটি প্রতিরোধে মেরিডা কনভেনশন গৃহীত হয়?
  1. সাইবার ক্রাইম
  2. দুর্নীতি
  3. সন্ত্রাস
  4. বাল্যবিয়ে
ব্যাখ্যা
⇒ দুর্নীতি প্রতিরোধে মেরিডা কনভেনশন গৃহীত হয়।

দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল: মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী: জাতিসংঘভুক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

তথ্যসূত্র - UN ওয়েবসাইট ও Mexico সরকারি ওয়েবসাইট।
৮৮৩.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের কী বিসর্জন দিতে হয়?
  1. জাতীয় স্বার্থ 
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. অধিকার সচেতনতা
  4. দলীয় স্বার্থ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত বা দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয় বা পিছনে ফেলে রাখতে হয়, যাতে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, জনকল্যাণ এবং সামগ্রিক ন্যায়-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।

উল্লেখ্য,
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
- সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৮৪.
সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন কে?
  1. চার্লস মন্টেস্কু
  2. এরিস্টটল
  3. জন লক
  4. জ্যাঁ বডিন
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৫.
অবিচার, কুশাসন ও দুর্নীতি এগুলো বাংলাদেশের কোন ধরনের সমস্যা?
  1. আঞ্চলিক সমস্যা
  2. স্থানীয় সমস্যা
  3. জাতীয় সমস্যা
  4. আন্তর্জাতিক সমস্যা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। যথা:- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।
- দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার ও কুশাসন হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮৮৬.
ইমানুয়েল কান্ট কোনটির জন্য সদিচ্ছার কথা বলেছেন?
  1. কর্তব্য
  2. ক্ষমতা
  3. নৈতিকতা
  4. সততা
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৮৮৭.
“রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই আইনের জন্ম হয়েছে”।- এটি কার মতামত?
  1. ক) জন অস্টিন
  2. খ) হেনরি মেইন
  3. গ) টমাস হবস
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
উপর্যুক্ত উক্তি টি করেছেন হেনরি মেইন। এরিস্টটল বলেছেন-“আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”। অস্টিন এর মতে- “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ”। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৮৮৮.
কোন স্থানকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়?
  1. স্পার্টা
  2. রোম
  3. বার্লিন
  4. এথেন্স
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের সূচনা:
- ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি ইংরেজি ‘Democracy’ থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুত্পত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন (Solon) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।

⇒ প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৮৮৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার উপায় কোনটি?
  1. ক) সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
  2. খ) হরতালের মাধ্যমে
  3. গ) শাস্তির ভয় দেখিয়ে আইন মানানোর মাধ্যমে
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা, বিবেকবোধ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে মেনে চলা, বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগ থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে৷
৮৯০.
শূন্যবাদ যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভুত তার অর্থ---
  1. ক) সব
  2. খ) কিছুই না
  3. গ) সর্বজনীন
  4. ঘ) কিছু
ব্যাখ্যা
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ। যার অর্থ হলো- সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে। যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো- সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।
- শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
৮৯১.
মূল্যবোধ সমাজের কাদের দ্বারা অনুমোদিত?
  1. ক) প্রভাবশালী গোষ্ঠী
  2. খ) সমাজের বৃহৎ অংশ
  3. গ) শিক্ষিত শ্রেণী
  4. ঘ) সকল জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ড। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৮৯২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য-
  1. জনসম্মতি নেওয়া
  2. নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. সংবিধান মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- সংবিধান মেনে চলা।

অন্যদিকে,
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 
৮৯৩.
নিচের কোনটি মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার পরিপন্থী?
  1. আইনের শাসন
  2. অপসংস্কৃতি
  3. সামাজিক প্রথা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
- আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস, আবেগ, রীতিনীতি, ভাষা, প্রথা, মূল্যবোধ প্রভৃতির সমষ্টি হলো সংস্কৃতি।
- অপসংস্কৃতি এসবের হানি ও বিকৃতি ঘটায়। যার কারণে অপসংস্কৃতি সামাজিক ও ধর্মীয় আদর্শ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণী)
৮৯৪.
মানুষ জন্মের পর থেকেই কী শিখতে শুরু করে?
  1. নৈতিকতা
  2. সংস্কৃতি
  3. মূল্যবোধ
  4. নীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
​- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
​- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
​- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
​- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-​ তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

​উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

৮৯৫.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. যথার্থতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক।
- তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৮৯৬.
"বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ"—এই উক্তিটি কার?
  1. জন ডিউই
  2. অ্যারিস্টটল
  3. অ্যান্থনি জি. ক্যাটান্স
  4. এরিক ফ্রম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- বিশ্বাসের অন্তর্নিহিত মূল্য হলো মূল্যবোধ- অ্যান্থনি জি. ক্যাটান্স।

⇒ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৭.
“The Idea of Justice” গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) অমর্ত্য সেন
  4. ঘ) অ্যালেন লেইন
ব্যাখ্যা

The Idea of Justice is a 2009 book by the economist Amartya Sen.
In this book, Sen makes a radical break with the traditional notion of homo economicus, or 'rational economic man' as motivated mainly by self-interest.
He points out that children have strong notions of 'fairness' and acute aversion to 'manifest injustice'.

তার রচিত অন্যান্য বই -
- Development as Freedom,
- The Argumentative Indian,
- Identity & Violence,
- Inequality Reexamined ইত্যাদি।

৮৯৮.
গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস কোন মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধুনিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৮৯৯.
কোন নৈতিক মানদণ্ডটি সর্বোচ্চ সুখের উপর গুরুত্ব প্রদান করে?
  1. ক) আত্মস্বার্থবাদ
  2. খ) পরার্থবাদ
  3. গ) পূর্ণতাবাদ
  4. ঘ) উপযােগবাদ
ব্যাখ্যা
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ। সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন। তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।
(তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা : স্নাতক শ্রেণী)
৯০০.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত জনগণের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়'-উক্তিটি কার?
  1. মেকিয়াভেলি
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. ম্যাককরনী
  4. জন স্মিথ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- ম্যাককরনী বলেছেন যে, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা , বৈধতা , স্বচ্ছতা থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন , আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে 'সুশাসন' বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।