ব্যাখ্যা
Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।
প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
এগুলো হচ্ছে :
- প্রজ্ঞা,
- সাহস,
- মিতাচার বা বিনয় ও
- ন্যায়।
এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন। তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
=============
অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদগুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
নৈতিক সদগুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
তদ্স্বত্বেও বলা যায়, কিছু কিছু সদগুণ প্রায় সর্বকালে এবং সর্বদেশেই আদৃত, যেমন ন্যায়, সততা, সত্যবাদিতা, ইত্যাদি।
অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘Nicomachean Ethics’ - এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।
উৎস: নীতিবিদ্যা, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা নং - ২০।