বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৭০১৮০০ / ৩,৮২৯

৭০১.
প্লেটোর মতে নিচের কোনটি সদগুণ (Virtue) নয়?
  1. ক) প্রজ্ঞা
  2. খ) বিনয়
  3. গ) সাহস
  4. ঘ) মিথ্যাচার
ব্যাখ্যা
ইংরেজিতে যাকে Virtue বলা হয়, সেটাকে বাংলায় বলে - সদগুণ।
Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা। 
এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদগুণ বলা হয়।

প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।  
এগুলো হচ্ছে : 
- প্রজ্ঞা, 
- সাহস, 
- মিতাচার বা বিনয় ও 
- ন্যায়। 
এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন। তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদগুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
=============
অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদগুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন। 
নৈতিক সদগুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। 
তদ্‌স্বত্বেও বলা যায়, কিছু কিছু সদগুণ প্রায় সর্বকালে এবং সর্বদেশেই আদৃত, যেমন ন্যায়, সততা, সত্যবাদিতা, ইত্যাদি। 

অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ‘Nicomachean Ethics’ - এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদগুণের সষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে। আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। পৃষ্ঠা নং - ২০।
৭০২.
’The Elements of Ethics’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন? 
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
-The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

অপরদিকে,
• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

• স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত বই: 
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৭০৩.
কোন সংস্থার দৃষ্টিতে সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে থাকে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

অন্যদিকে,
- ইউএনডিপির মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭০৪.
উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্রকে বলা হয় -
  1. Desk Government
  2. Bureau Government
  3. Co-Government
  4. Shadow Government
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭০৫.
সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড কী?
  1. গণতন্ত্র
  2. সংস্কৃতি
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে "আইনের শাসন" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
গণতন্ত্র (ক) – গণতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ শাসনব্যবস্থা যা নাগরিকদের মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়, তবে এটি আইনের শাসন ছাড়া কার্যকর হতে পারে না।
সংস্কৃতি (খ) – সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে, তবে এটি সভ্য সমাজের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।
সংবিধান (গ) – সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাঠামো নির্ধারণ করে, তবে এটি কার্যকর করার জন্যও আইনের শাসন অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০৬.
আইএমএফ সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে-
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই IMF এর বোর্ড অব ডিরেক্টরসগণ রিভিউ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
৭০৭.
সুশাসন হলো-
  1. ক) একটি নৈতিক ধারণা
  2. খ) এক ধরনের মূল্যবোধ
  3. গ) নৈর্ব্যক্তিক সামাজিকতা
  4. ঘ) রাজনৈতিক ধারণা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো এক ধরনের মূল্যবোধ যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করে। সুশাসন বলতে বুঝায় উত্তমরূপে শাসন বা যথার্থ শাসন।

সুশাসনের ধারণাটি একটি আধুনিক ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক তাদের এক রিপোর্টে সর্বপ্রথম সুশাসন ধারণাটি তুলে ধরে।

(তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৭০৮.
সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের কোন উপাদান অনুপস্থিত থাকলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. কেন্দ্রীকরণ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।
- সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭০৯.
'নীতিবিদ্যা হল সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান'- উক্তিটি করেছেন -
  1. পি. ডব্লিও. টেইলার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
  4. জে.এস. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
⇒ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে উইলিয়াম লিলি'র মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।

অন্যদিকে, 
⇒ উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।

⇒ পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।"

⇒ ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।

⇒ জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে। তাঁর ভাষায় "নীতিবিদ্যা হচ্ছে আচরণের সাধারণ মতবাদ এবং মানুষকে তাদের যথোচিত্য ও অ-যথোচিত্য এবং তাদের শুভ বা অশুভের প্রবণতার নিরিখে বিবেচনা করে"।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১০.
প্লেটোর সমগ্র দর্শন কোন তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত?
  1. নৈতিকতা
  2. ন্যায়বিচার তত্ত্ব
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  4. শিক্ষাবাদ
ব্যাখ্যা

প্লেটোর ন্যায়বিচার তত্ত্ব:
- প্লেটোর সমগ্র দর্শন তাঁর ন্যায়বিচার তত্ত্বের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ন্যায়বিচার তত্ত্ব তাঁর 'দি রিপাবলিক' পুস্তকের মূল আলোচ্য বিষয়। এমনকি 'দি রিপাবলিক' গ্রন্থের বিকল্প শিরোনাম হলো 'ন্যায়বিচার বিষয়ক গ্রন্থ' (Concerning Justice)।
- অধ্যাপক স্যাবাইন বলেন, “দি রিপাবলিকের ন্যায়বিচার তত্ত্বের মধ্য দিয়ে প্লেটোর রাষ্ট্রীয় মতবাদ চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েছে।"

⇒ প্লেটোর কাছে ন্যায়বিচার এর সাধারণ অর্থের মত তথা 'ঔচিত্য' বা 'অন-ঔচিত্যবোধক' নয়, বরং তা যোগ্যতা ও শ্রমবিভক্তির ধারণার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।
- প্লেটোর সময় ক্রম:ক্ষয়িষ্ণু এথেন্সের নগররাষ্ট্রে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তিনি সে সংকটকে সাধারণভাবে 'ন্যায়ের সংকট' বলেই মনে করেছিলেন। ন্যায়ের সংকট বলতে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, 'যার যে যোগ্যতা আছে, সে সেখানে না থেকে অন্যত্র অবস্থান করছে। অর্থাৎ যারা শাসন করছেন তারা শাসক হওয়ার উপযুক্ত নন। শাসন একটি শিল্প ও গুণ। এই গুণ যাদের মধ্যে বিরাজমান কেবলমাত্র তারাই হবেন শাসক। তবেই রাষ্ট্রের কাজকর্ম সুষ্ঠু ও ঐক্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। মানুষের জীবনে আসবে স্থায়ী শান্তি।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১১.
কোন সালে ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

ইউএনডিপি ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' শিরোনামের নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন"।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৭১২.
নিচের কোনটি সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. আইনের শাসনের অনুপস্থিতি
  4. শক্তিশালী সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা। এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন না থাকলে কখনো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যাবশ্যক। প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সুশাসনের জন্যে অত্যাবশ্যক নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো. মোজাম্মেল হক।
৭১৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কী জাগ্রত করে?
  1. ক) পেশাদারিত্ব
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) দেশাত্মবোধ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে। গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসো ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১৪.
সমাজে ব্যক্তির কোনটি ভালো ও মন্দ, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য করতে সাহায্য করে?
  1. শিক্ষা
  2. আইন
  3. ঐতিহ্য
  4. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে। নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারো ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেওয়া, কটূক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।  নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- ফলে সে ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থ্যক্য করে ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭১৫.
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কি
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) অধ্যাপক হারমান ফাইনার
ব্যাখ্যা
‘আইনের চোখে সকলে সমান’ উক্তিটি কে করেছেন অধ্যাপক ডাইসি। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৭১৬.
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মত অনুসারে, আইন এর উৎস নয় কোনটি?
  1. প্রথা
  2. ধর্ম
  3. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
  4. জনমত
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মত অনুসারে , আইন এর উৎস নয় জনমত।

আইন এর উৎস:

অস্টিন এর মতে, আইন এর উৎস ১ টি: সার্বভৌম আদেশ

অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন এর উৎস ৬ টি
১. প্রথা,
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা। 

ওপেনহাইম এর মতে, আইন এর উৎস ৭ টি
১. প্রথা, 
২.ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭১৭.
আত্মসুখবাদের প্রতিষ্ঠাতা গ্রিক দার্শনিক এরিস্টিপাস কার শিষ্য ছিলেন?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. থ্যালেস
ব্যাখ্যা
আত্ম-সুখবাদ:
- সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক অর্থে সুখবাদী বলা যায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী।
- এ মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য।
- বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন।
- অপর আরেকদিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।

উল্লেখ্য, 
-থ্যালেস ছিলেন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক।
-তিনিই প্রথম সূর্য গ্রহণের প্রাকৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক] এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা [৯ম-১০ম শ্রেণি(উন্মুক্ত)]
৭১৮.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ বলতে কী বুঝায়?
  1. সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  2. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রাভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

সূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও  তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৭১৯.
'সৃষ্টিরহস্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আরজ আলী মাতুব্বর
  2. আহমদ ছফা
  3. আব্দুশ শুকর আলী
  4. আব্দুল মতিন
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুববর:
→ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক ছিলেন আরজ আলী মাতুববর (১৯০০-১৯৮৫)।
→ তিনি লড়াই করেছেন ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ করেছেন জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত।
→ তিনি মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
→ মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
→ তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
→ তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

◉ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টিরহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭২০.
‘Practical Ethics’ গ্রন্থটির লেখক-
  1. ক) পিটার সিঙ্গার
  2. খ) জন অস্টিন
  3. গ) টমাস হবস
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ হচ্ছে ‘Practical Ethics’ যা ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
[সূত্রঃ ব্রিটানিকা]
৭২১.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. লাল ফিতার দৌরাত্ম্য
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  4. জনবান্ধব প্রশাসন
ব্যাখ্যা

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য সুশাসনের উপাদান নয়। 

সুশাসনের উপাদান:

- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। 

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭২২.
নিচের কোনটি গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. স্বাধীন বিচারব্যবস্থা
  2. প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার
  3. এক দলীয় ব্যবস্থা
  4. নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
এক দলীয় ব্যবস্থা গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়।

গণতন্ত্র:

- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- আব্রাহাম লিংকন-এর ভাষ্য মতে, ‘Government of the people, by the people, for the people’ অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার।’

⇒ গণতন্ত্রকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
i) প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র,
ii) পরোক্ষ গণতন্ত্র।

⇒ গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
• জনগণের সম্মতি,
• বহু দল ব্যবস্থা,
• স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,
• নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা,
• আইনের শাসন,
• সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
• প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার,
• দায়িত্বশীল সরকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭২৩.
গণতন্ত্র ব্যবস্থায় সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস- 
  1. সরকার
  2. জনগণ 
  3. রাষ্ট্র
  4. আইন
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy,
- যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

সংজ্ঞাসমূহ-
- বার্কার: -"গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।"।
- আব্রাহাম লিংকন: "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা" ("Democracy is a government of the people,by the people and for the people)"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২৪.
নিম্নোক্ত কোনটি গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হিসেবে পরিচিত?
  1. আইনের শাসন
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. সাম্য
  4. স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন: 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- ব্যক্তি স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার-মাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭২৫.
মানবাধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. আইনগত অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. জন্মগত অধিকার
ব্যাখ্যা

মানাবাধিকার: 
- মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত অধিকার।
- অর্থাৎ মানবাধিকার বলতে সেসব অধিকারকে নির্দেশ করে যেসব অধিকার নিয়ে মানুষ জন্মায় এবং যেসব অধিকার অর্জিত হলে মানুষ পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে।
- মানবাধিকারের ধারণা আন্তর্জাতিকাবে স্বীকৃত।
- অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্যের কারণে মানবাধিকারের কোন তারতম্য হয় না।
- আধুনিক সময়ে মানবাধিকার আইনগত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের আগে থেকেই ছিলো।

অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনধারণের জন্যে অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্য অধিকারসমূহ।
- এসব অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধানে নির্দেশিত থাকে।
- আইনগত অধিকার আইনের দ্বারা নির্ধারিত।
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উৎসারিত।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৬.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - এই অভিমত প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. বিশ্বব্যাংক 
  2. ইউএডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা

'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।

◉ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
→ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
→ সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
→ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

◉ স্তম্ভ চারটি হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২৭.
'The Spirit of Laws' গ্রন্থে কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন?
  1. জন লক 
  2. অ্যারিস্টটল
  3. চার্লস মন্টেস্কু
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে। কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।

উল্লেখ্য,
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৮.
মূল্যবোধকে কোনটি সুদৃঢ় করে?
  1. শিক্ষা
  2. ঐক্য
  3. পরিবার
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭২৯.
যৌতুক প্রথার ‍জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. অশিক্ষা
  2. দারিদ্র্য
  3. আইনের অপপ্রয়োগ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক কুপ্রথা। এই প্রথানুসারে বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে স্বামীপক্ষকে অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করতে হয়।
- এই প্রথার পেছনে মূল কারণ হলো দারিদ্র্য।
- এছাড়া অশিক্ষা, অর্থলিপ্সা, আইনের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়া প্রভৃতি যৌতুক প্রথার জন্যে দায়ী।
- যৌতুক প্রথা নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৭৩০.
"The Subjection of Women" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• জন স্টুয়ার্ট মিল:
- The Subjection of Women গ্রন্থটি জন স্টুয়ার্ট মিল রচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ দার্শনিক। 

তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- On Liberty,
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- The Subjection of Women,

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৭৩১.
সক্রেটিস বলেছেন -
  1. আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস
  2. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে
  3. সৎ গুণই জ্ঞান
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

উল্লেখ্য,
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। 
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা'।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.
- এরিস্টটলের মতে আভিজ্ঞতাই জ্ঞানের উৎস।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৩২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কি নিশ্চিত হবে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
  3. দারিদ্র বিমোচন
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৩৩.
নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি নীতিবিদ্যার যে অংশে আলোচনা করা হয় -
  1. ক) পরানীতিবিদ্যা
  2. খ) বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  3. গ) মানমূলক নীতিবিদ্যা
  4. ঘ) ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা

পরানীতিবিদ্যা মূলত যেসব প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে তা হচ্ছে : যথোচিত (Right), শুভ (Good), এসব শব্দের অর্থ কি? নৈতিক অবধারণগুলোর বৈধতা কিভাবে নিরূপিত হবে? এগুলোর কি আদৌ কোন বৈধতা আছে? ইত্যাদি।
এই নীতিবিদ্যা বহুলাংশে বিংশ শতাব্দীর অবদান। সাধারণভাবে ব্রিটিশ দার্শনিক জি. ই. ম্যূরকে এর প্রবর্তক বলা হয়।
বিগত শতাব্দীর গোড়ার দিকে ১৯০৩ সালে ‘প্রিনসিপিয়া এথিকা’ শীর্ষক পুস্তকে তিনি এই ধরনের আলোচনার সূত্রপাত করেন।
এরপর তাঁর আলোচনার সূত্র ধরে তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে অনেক দার্শনিকের আগমন ঘটে। তাদের মধ্যে আবেগবাদ-খ্যাত দার্শনিক এ. জে. এয়ার ও জে. এল. স্টিভেনশন, ব্যবস্থাবাদ-খ্যাত দার্শনিক আর. এম. হেয়ার এবং সমকালীন বর্ণনাবাদী বলে পরিচিত জি. জে. ওয়ারনক, ফিলিপ্পা ফুট, জে. আর. সার্লে ও অন্যান্যরা রয়েছেন।
সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৩৪.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ কীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে?
  1. ব্যক্তির পেশাগত কাজ
  2. ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশাসন
  3. ব্যক্তির সমাজের রীতিনীতি
  4. ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব ও নীতি-নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
→ মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

→ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
→ পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
→ সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
→ ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৫.
ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত কোন আইন প্রয়োগ করে থাকে?
  1. ক) ফৌজদারি আইন
  2. খ) বেসরকারি আইন
  3. গ) আন্তর্জাতিক আইন
  4. ঘ) সাংবিধানিক আইন
ব্যাখ্যা
ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত ফৌজদারি আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা, ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়। যেমন- পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন, যৌতুক বিরোধী আইন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে ‘শোষণমুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৮
  2. অনুচ্ছেদ ৯
  3. অনুচ্ছেদ ১০
  4. অনুচ্ছেদ ১১
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদে ‘মানুষের ওপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ’-এর কথা বর্ণিত রয়েছে।

ধারার মূল বক্তব্য:
মানুষকে মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত করে ন্যায়নিষ্ঠ ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠন নিশ্চিত করার জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই ধারার লক্ষ্য হলো:
- প্রতিটি মানুষ যাতে অন্য কোনো মানুষের শোষণের শিকার না হয়
- সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা।
- ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য কমানো।
- সমাজে ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা।
- সবাইকে তার অধিকার ও সুযোগের সমান ভাগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

৭৩৭.
কোনটি আইনের উৎস নয়?
  1. ধর্ম
  2. জনমত
  3. চিরাচরিত প্রথা
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস নয়- আমলাতন্ত্র।
অন্যদিকে জনমত, চিরাচরিত প্রথা ও ধর্ম আইনের উৎস।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।

• জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা: প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:  প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭৩৮.
কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান
  2. খ) জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ধারণার বিস্তার ঘটানো
  3. গ) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের জন্য প্রচেষ্টা চালানো
  4. ঘ) স্বীয় স্বার্থে সরকারি কাজকর্মকে প্রাভাবিত করে
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে - স্বীয় স্বার্থে সরকারি কাজকর্মকে প্রাভাবিত করে।

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:


সরকারকে নিয়ন্ত্রণ:
- স্বার্থকামী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠন বা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না।
- এর লক্ষ্য হলো সরকারের নীতি ও আচরণকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইনসভার সদস্যগণকে প্রভাবিত করে নিজেদের অনুকূলে আইন প্রণয়ন করিয়ে নেয়, শাসন বিভাগকে প্রভাবিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায়, পছন্দের দল-ব্যক্তিকে নির্বাচনে সহযোগিতা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৩৯.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. ক) পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ
  4. ঘ) অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা
পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ, আইনের শাসন, অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ - ইত্যাদি বিষয়গুলো ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, সুশাসনের জন্য উচ্চ শিক্ষিত কর্মকর্তা নিয়োগ - ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির সম্পর্কিত নয়।
৭৪০.
ভারতের কোন মুখ্যমন্ত্রী ই-গভনের্ন্সকে 'SMART সরকার ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেন?
  1. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. নীতিশ কুমার
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
ব্যাখ্যা
SMART Government:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent.
- অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ E-Governance:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance.
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় -
  1. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  2. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান
  3. সামাজিক দায়িত্ব পালন
  4. নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
- আইন মান্য করা।
- আনুগত্য প্রদর্শন।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪২.
আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজন-
  1. রাজনৈতিক প্রভাব
  2. যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব
  3. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকারী
  4. দলীয় স্বার্থের প্রতি নিবেদিত শাসক
ব্যাখ্যা
আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশের আমলাদের সততা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার অধিকারী হতে হবে।
- রাজনৈতিক বাধা যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি না করে, এ বিষয়ে দেশের নেতাদের খেয়াল রাখতে হবে।
- একমাত্র যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বই পারে স্বচ্ছ আমলাতন্ত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করতে।
- আমলাদের দায়িত্ব ও পদোন্নতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ করতে নেতাকে সজাগ থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৪৩.
কার রচিত গ্রন্থে সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায়?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. মন্টেস্কু
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো।

অন্যদিকে -
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্ এবং ইসমাইল সেরাজেলডিন তাদের লিখিত ‘Governance and the Eternal Factor' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন যে, 'গভর্ন্যান্স বলতে বোঝায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার যা একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে জনগণের সুষ্ঠু চাহিদা ও তাদের বৈধ অধিকার উপভোগের বাধ্যবাধকতা'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) Britannica.
৭৪৪.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে কোন নীতি বাস্তবায়িত হয়?
  1. একক ক্ষমতা
  2. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ
  3. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শাসন
  4. রাজতন্ত্র শক্তিশালীকরণ
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। 
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য,
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কুকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- তিনি তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৫.
সুশাসন প্রত্যয়টি কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ?
  1. ক) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র
  2. খ) সমাজতন্ত্র
  3. গ) সামরিক
  4. ঘ) গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
• সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
• সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
• আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
• তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪৬.
"ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।” - উক্তিটি কার প্রদত্ত?
  1. ক) অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. খ) অধ্যাপক স্যালমন্ড
  3. গ) জন অস্টিন
  4. ঘ) অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।" (A Law is a general rule of external action enforced by the sovereign political authority.)
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" (Law is the command of the political superior i. e. sovereign to the political inferior.) 
- অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, "ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" (Only those rules which the state creates or which as recognises, enforces become law.)

- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)।
তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।” (Law is that portion of the established thought and habit which has gained distinct and formal recognition in the shape of uniform rules backed by the authority and power of the government.)
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৪৭.
রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী -
  1. আইনের প্রয়ােগের অভাব
  2. নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব
  3. দুর্বল পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা
  4. অসৎ নেতৃত্ব
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ দুর্নীতির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ জটিল।
- কারণ সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুেযাগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- সুতরাং, "নৈতিকতা ও মূল্যবােধের অভাব" রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতিপ্রবণতার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৪৮.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান?
  1. সংবেদনশীলতা
  2. কৌশলগত লক্ষ্য
  3. অংশগ্রহণ
  4. দুর্নীতি দমন
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে। সংস্থাটি ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি।
যথা-
- বাক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- নিয়ন্ত্রণ গুণ,
- আইনের শাসন,
- দুর্নীতি দমন

তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক
৭৪৯.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  2. আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. দুর্নীতি প্রতিরোধ
  4. শিশু অধিকার
ব্যাখ্যা
• CEDAW:
→ CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
→ এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
→ এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।
৭৫০.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. নৈতিকতা
  3. দক্ষতা
  4. সরলতা
ব্যাখ্যা
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ নৈতিকতা।

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ উল্লেখ্য,
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন, ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৫১.
'জাতিসংঘ মানবউন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এর বাংলাদেশের অবস্থান কত? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৩১ তম
  2. ১২৯তম
  3. ১৩০ তম
  4. ১২৮ তম
ব্যাখ্যা

'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫':
- ইউএনডিপি (UNDP) 'মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫' এ বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০ তম।

এছাড়াও,
- মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান:
- শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৮৯ তম।
- ভারতের অবস্থান ১৩০ তম। (বাংলাদেশের এবং ভারতের অবস্থান সমান।)
-পাকিস্তানের অবস্থান ১৬৮ তম।
- নেপালের অবস্থান ১৪৫ তম।
- ভূটানের অবস্থান ১২৫ তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৭৫২.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’—উক্তিটি কার?
  1. মন্টেস্কু
  2. উইলোবি
  3. বার্কার
  4. লক
ব্যাখ্যা
• আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
- আইন  ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত পরস্পর বিরোধী দুটি মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- প্রথম দল মনে করেন, আইন ও স্বাধীনতা গভীর ভাবে সম্পর্কযুক্ত সুতরাং স্বাধীনতা আইনের উপর নির্ভশীল।
- বার্কারের ভাষায়- ‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’।

-  অন্যদিকে, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী। জন স্টুয়ার্ট মিল, হার্বাট স্পেনসার, এ.ভি ডাইসি, গডউইন প্রমুখ মনীষী এই দলের সমর্থক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৫৩.
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার প্রধান বাধা কী?
  1. শিক্ষা ঘাটতি
  2. প্রযুক্তির অভাব
  3. ভৌগলিক সীমাবদ্ধতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উৎস :পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭৫৪.
গণতন্ত্রের বাহন কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. অর্থনৈতিক সাম্য 
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
→ গণতন্ত্রের বাহন হচ্ছে নির্বাচন।
→ নির্বাচন যেন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয় সেজন্য নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে।
→ অযোগ্য লোক যেন নির্বাচিত হতে না পারে সেজন্য নাগরিকদের সচেতনভাবে ভোট দিয়ে উপযুক্ত লোককে নির্বাচিত করতে হবে। এতে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম  শ্রেণি।
৭৫৫.
কোন দেশে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে?
  1. ক) পাকিস্তান
  2. খ) চীন
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশন সমূহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। দেশটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং রিপাবলিকান পার্টি নামে দুটো রাজনৈতিক দলের প্রাধান্য বিদ্যমান।
অন্যদিকে, চীনে একদলীয় ব্যবস্থা এবং ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৭৫৬.
'আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' কত সালে 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৫৭.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংক উল্লিখিত সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম নির্দেশক?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. সরকারি খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
  3. ন্যায্যতা ও সাম্য
  4. বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক Governance : The World Bank Experience শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে।
এগুলো হলো:
- সরকারি খাত বা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।

(তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট)
৭৫৮.
'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'-আইন সম্পর্কে এই উক্তিটি করেছে কে?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হেনরী মেইন
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'-আইন সম্পর্কে এই উক্তিটি করেছে রাষ্ট্রদার্শনিক জন লক।

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

উল্লেখ্য,
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৫৯.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-উক্তিটি কার?
  1. পল সাঁত্রে
  2. এইচ এম জনসন
  3. জন লক
  4. এফ ই মেরিল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ধারণা:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক- বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড ক্রুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬০.
কোনটি সার্বজনীন মূল্যবোধ?
  1. ক) পরোপকারিতা
  2. খ) সততা
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সাধারণত আপেক্ষিক যা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন বা পরিবর্তন হতে পারে। তবে কিছু কিছু মূল্যবোধ যেমন: সততা, ন্যায়পরায়ণতা, পরোপকারিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ।
এসব মূল্যবোধ স্থান কিংবা সময়ের ভিন্নতায় সর্বত্র একই থাকে।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৭৬১.
মূল্যবোধ বলতে কোনটিকে বুঝায়? 
  1. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  2. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

- স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

- এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৭৬২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শ্বেতপত্রের মূল ভূমিকা কী?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. দলীয় প্রচার করা
  3. গোপন তথ্য প্রকাশ করা
  4. বিরোধী দলের কর্মসূচি সফল করা
ব্যাখ্যা

শ্বেতপত্র: 
- শ্বেতপত্র (White Paper) হলো সরকার বা কোনো সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রামাণ্য দলিল, যা কোনো জটিল সমস্যা, নীতি বা বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে। এটি সাধারণত কোনো নতুন আইন, নীতি বা সংস্কারের পূর্বে জনমত তৈরি বা সঠিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- শ্বেতপত্র রাষ্ট্রের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে সুশাসনের মূল উপাদান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৭৬৩.
Morality শব্দটির উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ফরাসি
  2. ল্যাটিন
  3. জার্মান
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৭৬৪.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' -এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
◉ 'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - বিশ্বব্যাংক এই অভিমত প্রকাশ করে।

◉ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
→ বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
→ সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
→ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

◉ স্তম্ভ চারটি হলো:
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৬৫.
জন স্টুয়ার্ট মিলের রচয়িত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. Two Treatises of Government
  2. Utilitarianism
  3. An Essay Concerning Human Understanding.
  4. The Republic
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

• জন লক বিখ্যাত বই:
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.
- আধুনিক গনতন্ত্রের জনক জন লক।

অন্যদিকে,
- প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭৬৬.
“স্থান, কাল ও পাত্রভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে”- এটি মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য বোঝায়?
  1. নির্দিষ্টতা
  2. আপেক্ষিকতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

নৈতিক প্রাধান্য:
মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।

নির্দিষ্টতা:
যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।

বিভিন্নতা:
সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।

আপেক্ষিকতা:
মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

সামাজিক মানদণ্ড: 
বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।

পরিবর্তনশীলতা:
মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। 

সম্পর্কের সেতু: 
অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৭.
কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিবছর Rule of Law Index প্রকাশ করে থাকে?
  1. World Bank
  2. World Justice Project
  3. World Economic Forum
  4. Transparency International
ব্যাখ্যা

⇒ World Justice Project প্রতিবছর Rule of Law Index প্রকাশ করে থাকে।

World Justice Project:
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ।
- World Justice Project বিশ্বব্যাপী দুইটি বিষয় নিয়ে কাজ করে।
• আইন ব্যবস্থা,
• সুশাসন।
- 'World Justice Project' আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে ।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বার্ষিক প্রতিবেদন
প্রকাশ করে আসছে।
- 'WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

⇒ ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়:
• রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা,
• নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ,
• জননিরাপত্তা,
• মৌলিক অধিকার,
• দুর্নীতি,
• সরকারি তথ্য প্রকাশ,
• দেওয়ানি বিচার,
• ফৌজদারি বিচার।

তথ্যসূত্র - World Justice Project ওয়েবসাইট।

৭৬৮.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকারের উদাহরণ?
  1. ভোটাধিকার
  2. ন্যায্য মজুরি
  3. জীবন রক্ষার অধিকার
  4. শ্রমিকসংঘ গঠন
ব্যাখ্যা

- জীবন রক্ষার অধিকার সামাজিক অধিকার। 

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

১. নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

২. আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭৬৯.
কোনটি অভিজ্ঞতাবাদের মূল বৈশিষ্ট্য?
  1. ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা জ্ঞান লাভের মাধ্যম
  2. জ্ঞান অনুভূতি দ্বারা নির্ধারিত
  3. জ্ঞান শুধুই স্বজ্ঞা থেকে আসে
  4. চিন্তা জ্ঞান উৎপাদনের একমাত্র উৎস
ব্যাখ্যা

অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ: স্বজ্ঞাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কীয় এমন একটি মতবাদ, যা স্বজ্ঞাকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে। স্বজ্ঞাবাদ অনুসারে অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। একমাত্র সজ্ঞাই জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে।

- ভাববাদ: ভাববাদ এমন একটি দার্শনিক মতবাদ, যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে। ভাববাদকে অধ্যাত্মবাদও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ মতবাদ অনুসারে মন বা আত্মাই প্রাথমিক ও মৌলিক সত্তা। জড়বাদ যেমন জড় থেকে সব বস্তুর উৎপত্তির কথা বলে, তেমনি ভাববাদ যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টির মূলে মন, ধারণা, চিন্তা বা আত্মার কথা বলে। জড়, গতি, শক্তি ইত্যাদি বস্তুতান্ত্রিক কথার পরিবর্তে ভাববাদ আত্মা, চেতনা, চিন্তা, বুদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে। 

- অস্তিত্ববাদ: অস্তিত্ববাদ স্বাধীনতার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। কোন অর্থে মানুষ স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন ইত্যাদির ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই অস্তিত্ববাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অস্তিত্ববাদের মতে, মানুষ স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই মূল্যের মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিজেই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৭৭০.
'চলাফেরার স্বাধীনতা' ব্যক্তির কোন ধরনের স্বাধীনতা?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'চলাফেরার স্বাধীনতা' ব্যক্তির সামাজিক স্বাধীনতা।

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭১.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ বলতে কী বোঝায়?
  1. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
  4. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। 
​- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৭৭২.
কোন বছর ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের সংজ্ঞা প্রবর্তন করে?
  1. ১৯৯৫
  2. ১৯৯৬
  3. ১৯৯৭
  4. ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• UNDP:
- UNDP এর মতে” একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- ১৯৯৭ সালে ইউএনডিপি সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে।
- এগুলো হলো- সমতা ও ন্যায্যতা, সমঅংশীদারিত্ব, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য, কার্যকারিতা ও দক্ষতা এবং কৌশলগত লক্ষ।

উৎস: ইউএনডিপির ওয়েবসাইট ও পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৭৩.
নিচের কোনটি আইনের উৎস নয়?
  1. রীতিনীতি
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. বিচারকের রায়
  4. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
ব্যাখ্যা
আইন ও আইনের উৎস:
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

আইনের উৎস:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ:
১। প্রথা বা রীতিনীতি,
২। ধর্ম,
৩। বিচারকের রায়,
৪ । ন্যায়বিচার,
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬ । আইনসভা।

উল্লেখ্য,
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হলো ব্যক্তির স্বতন্ত্র মূল্যবোধ।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ আইনের উৎস নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৪.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে শুদ্ধচার হচ্ছে -
  1. শুদ্ধভাবে কার্য সম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়। 
গ্রহণ : ২০১২ সাল।
গ্রহণকারী : মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)। 

রূপকল্প (Vision) :
সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। 

অভিলক্ষ (Mission) :
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও
(খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৭৫.
“বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় এ বিভাগের নিরপেক্ষতা ও অন্য বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকা।”- কথাটি কে বলেছেন?
  1. আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন
  2. হেনরি সিজউইক
  3. জেমন কেন্ট
  4. লর্ড ব্রাইস 
ব্যাখ্যা
→ জেমস কেন্ট বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বোঝায় এ বিভাগের নিরপেক্ষতা ও অন্য বিভাগের প্রভাব মুক্ত থাকা।”
→ বিচারপতি আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হল সরকারের অন্য বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে বিচারের রায় ঘোষণা করা।”
→ হেনরি সিজউইক এর মতে, “সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন থেকে ন্যায়পরায়ণতা ও সামাজিক বাস্তবতা অনুসারে নিরপেক্ষতার নীতি অনুযায়ী বিচার কাজ সম্পন্ন করাকেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭৬.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি
  2. খ) মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে
  3. গ) মূল্যবোধ অপরিবর্তনশীল
  4. ঘ) মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।    

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য:- 
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৭৭.
নিম্নের কোনটি মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. মানবিক গুণাবলী
  4. আইন
ব্যাখ্যা
• আইন :
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের মনের অনুভূতির সাথে আইনের কোন মিল নাই।
- আইন মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্যে অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৭৮.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
  2. দুর্বল সংসদ
  3. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব:
- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল: প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল সংসদ, অনুন্নত রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
- আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (দ্বিতীয় বর্ষ), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৯.
কীসের অভাবে সরকারি সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রের স্বার্থ পরিপন্থী নীতিনির্ধারণের প্রবণতা রয়েছে?
  1. সুশাসন
  2. স্বচ্ছতা
  3. নৈতিকতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

• Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৮০.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় হয়
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি দূর হয়
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক বিনিয়োগ:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৮১.
রাজনৈতিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্যবাদিতা
  2. দেশপ্রেম
  3. সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ
  4. দানশীলতা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮২.
'অপরকে সম্মান বা শ্রদ্ধা না করা'- কোনটি থেকে তৈরি হয়?
  1. মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. নৈতিকতার প্রভাব
  3. মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:

- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়। যেমন- ইভ-টিজিং পর্নোগ্রাফি ইত্যাদি।
- মূল্যবোধের অবক্ষয় ফলে সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
- এটি সমাজে সম্মান ও শ্রদ্ধার অভাব তৈরি করে এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৩.
"শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।" - উক্তিটি কার?
  1. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  2. ডাইসি
  3. এফ. আই. গাউড
  4. রিচার্ড ক্রসম্যান
ব্যাখ্যা
নিকোলো  ম্যাকিয়াভেলির মতে , "শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।"

অন্যদিকে,
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দূর্নীতি পরায়ণ হয় তাহলে আইন নিরর্থক’।
- 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ' (“An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy”) - রিচার্ড ক্রসম্যান। 
- ‘আইনের চোখে সকলে সমান’ - অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৪.
Shadow Pandemic কীসের সাথে জড়িত?
  1. জলবায়ু পরিবর্তন
  2. অর্থনৈতিক মন্দা
  3. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  4. নারীর প্রতি সহিংসতা
ব্যাখ্যা

- Shadow Pandemic নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িত।  

Shadow Pandemic: 
- Shadow Pandemic মূলত COVID-19 মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রতি সহিংসতার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধিকে বোঝায়।
- মহামারির কারণে নারীরা অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়লে, তাদের নির্যাতনের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- UN Women এই সংকটকে "Shadow Pandemic" নামে অভিহিত করেন। 

সূত্র: UN ওয়েবসাইট।

৭৮৫.
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইনসভা
  4. সংবাদ মাধ্যম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক। তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে ঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

অন্যদিকে -
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
- এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে।
- স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
৭৮৬.
নিচের কোনটি বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের স্তম্ভ নয়?
  1. ক) সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা
  2. খ) দায়বদ্ধতা
  3. গ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. ঘ) বেসরকারি সেক্টরের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
৭৮৭.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) থমাস হবস
  3. গ) আর.এম ম্যাকাইভার
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আর.এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।
৭৮৮.
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক -উক্তিটি করেছেন-
  1. অ্যারিস্টটল
  2. রিচার্ড ক্রসম্যান
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

বিখ্যাত উক্তি:
- মানুষের আচার-আচরণের, ভালো-মন্দ আলোচনা হল নীতিশাস্ত্র।
- সর্বজন স্বীকৃত নৈতিক আদর্শই রাষ্ট্রীয় সংগঠনের আইনে পরিণত হয়।
- কেননা কোনো রাষ্ট্রীয় আইন জনগণের নৈতিক মানদণ্ডের বিরোধী হলে তার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের আশঙ্কা থাকে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”

অন্যদিকে,
- ম্যাকিয়াভেলির মতে , "শাসক হবে সিংহের মতো সাহসী, শৃগালের মতো ধূর্ত।"
- রিচার্ড ক্রসম্যান মতে , 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ'।

উৎস:  ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি,এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮৯.
সুশাসনের ধারণাটির উদ্ভাবক কোন সংস্থা? 
  1. আইএমএফ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক 
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৯০.
‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্য নিয়ে কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করা হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৭৯১.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. মানুষের আবশ্যিক কার্যাবলি
  2. মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী মানদণ্ড
  3. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলী
  4. নৈতিক ও ধর্মীয় জীবন বিধান
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় আচরণের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতির পার্থক্য বুঝা যায়। মূল্যবোধের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৭৯২.
সামাজিক অধিকার নয় কোনটি?
  1. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  2. ধর্মের অধিকার
  3. সম্পত্তির অধিকার
  4. কর্মের অধিকার
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
১. জীবনের অধিকার।
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
৩. চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
৪. সভা-সমিতির অধিকার।
৫. চলাফেরার অধিকার।
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা।
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার।
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার।
৯. সম্পত্তির অধিকার।
১০. ধর্মের অধিকার।
===========
- অপরদিকে - 
- কর্মের অধিকার হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৭৯৩.
মূল্যবোধ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) Price
  2. খ) Values
  3. গ) Value
  4. ঘ) Norms
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ বা Values শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Valere' থেকে আগত। Valere means - to be worth
৭৯৪.
সমাজের শিক্ষিত শ্রেণির একটি অংশ সরকার বা কর্পোরেট গ্রুপে থাকে না, কিন্তু সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে সেটি হচ্ছে -
  1. ক) প্রশাসন বিভাগ
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) রাজনৈতিক দল
  4. ঘ) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
- সুশীল সমাজ হলো সমাজের এমন একটি শ্রেণি যারা সরকারে থাকে না আবার কর্পোরেট গ্রুপেও থাকে না।
- এরা সরকার ও প্রাইভেট সেক্টরের মাঝামাঝি একটি গ্রুপ।
- এদের ধর্ম হলো- এরা সরকার ও প্রাইভেট সেক্টর উভয় ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
- এরা সরকারকে সহযোগিতাও করতে পারে আবার সরকার বিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের ভিতও নাড়িয়ে দিতে পারে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭৯৫.
নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল -
  1. ক) নীতি নির্ধারণ
  2. খ) জনমত গঠন
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  4. ঘ) পরিকল্পনা প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা। জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৬.
'সর্বাধিক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ'—উক্তিটি কার?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদ:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন উপযোগবাদের বলিষ্ঠ উপস্থাপক, সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকার।
- উনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে যখন ব্যবসায়ী শ্রেণী শিল্পপতি শ্রেণীতে রূপান্তরিত হবার মধ্যে দিয়ে বাণিজ্য ও শিল্প-পুঁজিবাদের প্রসার ঘটছিল, সে সময় তিনি তার মতামত প্রদানে এগিয়ে আসেন।

• উপযোগিতার নীতি:
- জেরেমি বেন্থাম রাষ্ট্র, সরকার, নৈতিকতা, আইন প্রণয়ন প্রভৃতি ব্যাপারে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে যে নীতিকে উপজীব্য করেছেন তা হ'ল উপযোগিতার নীতি (Principle of Utility)।
- এ নীতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেনথাম নিজেই বলেন যে, উপযোগিতার নীতি হচ্ছে সেই নীতি যা' সংশ্লিষ্ট পক্ষের সুখ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল বা প্রতিকূল প্রবণতার ভিত্তিতে যাবতীয় কাজের অনুমোদন দান করে।
- অন্যভাবে বললে, যে নীতি সুখ অন্বেষণকে ত্বরান্বিত বা ব্যাহত করে তাই উপযোগিতার নীতি।'
- রাষ্ট্রশাসন ও বিচার সম্পাদনে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বেনথাম এই নীতির প্রয়োজনীয়তার উপর অত্যন্ত জোর দেন।
- তাঁর মতে আইন প্রণয়নের মূল ভিত্তি হবে এর উপযোগিতা।
- এক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, প্রণীতব্য আইন অধিকাংশ লোকের জন্য আনন্দদায়ক হবে কিনা।
- মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থে প্রণীত আইনকে এ পর্যায়ে তিনি অনুপযোগী বলে চিহ্নিত করেন।
- এ প্রসংগে তিনি বলেন, "It is the greatest happiness of the greatest number that is the measure ot right and wrong." অর্থাৎ "সত্য ও মিথ্যা পরিমাপের প্রধান সূত্রই হ'ল সর্বাধিক সংখ্যকের সর্বাধিক সুখ।"
 - তার এ তত্ত্ব বিশ্লেষণে যা বেরিয়ে আসে তা' হল 'সর্বাধিক সংখ্যক লোকের সর্বাধিক সুখ' (greatest happiness of the greatest number)।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৭.
নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. রাজনৈতিক চাপ
  2. ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা
  3. সামাজিক রীতি
  4. নৈতিক চেতনা
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

⇒ অর্থাৎ, নৈতিক মূল্যবোধের মূল ভিত্তি হলো নৈতিক চেতনা। 
- কারণ নৈতিক চেতনা  বা নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ মানুষের আচরণকে সঠিক-ভুল, ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে নির্দেশনা দেয়।
- এটি নৈতিক মূল্যবোধের জন্ম ও বিকাশ ঘটায় এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৭৯৮.
নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো -
  1. ক) নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
  2. খ) মানবিকতার প্রধান উৎস
  3. গ) কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের প্রধান উৎস
  4. ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রধান উৎস
ব্যাখ্যা
▪ নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস
▪ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সে সব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
▪ নৈতিক মূল্যবোধের অন্যান্য উৎসের মধ্যে পরিবার, ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থ অন্যতম।
▪ অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।   

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭৯৯.
কে ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ বলে বর্ণনা করেছেন?
  1. দার্শনিক মন্টেস্কু
  2. দার্শনিক ম্যাকিয়াভেলি
  3. দার্শনিক অ্যারিস্টটল
  4. দার্শনিক রেনে ডেকার্ত
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি (separation of Power): 
- কোনো একক কর্তৃপক্ষের ওপর আইন প্রণয়ন, শাসন পরিচালনা ও বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা অর্পিত হলে ব্যক্তিস্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে।
- এ কারণে ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের এবং শাসনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের তিনটি বিভাগের দায়িত্ব পৃথক ও স্বতন্ত্রভাবে অর্পিত হওয়া উচিত।
- এভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি কার্যকর হলে সরকারের কোনো বিভাগের পক্ষে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা সম্ভব হয় না।
- প্রখ্যাত ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু ব্যক্তিস্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ বলে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন?
  1. গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন
  2. সামরিক নেতৃত্ব
  3. ধর্মীয় নেতৃত্ব
  4. স্বৈরাচারী
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।