বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৬০১৭০০ / ৩,৮২৯

৬০১.
রাষ্ট্রের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) জনসমষ্টি
  2. খ) নির্দিষ্ট ভুখন্ড
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদানঃ
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথা-
(ক) জনসমষ্টি (খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (গ) সরকার (ঘ) সার্বভৌমত্ব।

ক. স্থায়ী জনসমষ্টিঃ জনসমষ্টি রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান উপাদান। জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্রের কথা ভাবা যায় না। আবার তেমনি জনসমষ্টির জন্যই রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ তার নিজস্ব প্রয়োজনেই রাষ্ট্র গঠন করেছে। জনমানবহীন রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। কোন ভূখণ্ডে নাগরিকগণ স্থায়ীভাবে বসবাস করলে সেই জনসমষ্টিকে নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।

খ. নির্দিষ্ট ভূখণ্ডঃ রাষ্ট্রের দ্বিতীয় উপাদান নির্দিষ্ট ভূখণ্ড। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে শুধু স্থলভাগকে বোঝায় না। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে নির্দিষ্ট কোন ভৌগোলিক সীমানার স্থলভাগ, নদ-নদী, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সাগর ও মহাসাগরের সীমানা এর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডলকে বোঝায়।
ভূখণ্ড ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। যাযাবর জাতি শুধুমাত্র নিদিষ্ট ভূখণ্ডের অভাবে রাষ্ট্র গঠন করতে সমর্থ হয়নি।

গ. সরকারঃ সরকার জনগণের মুখপাত্র। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি সুসংগঠিত সরকার প্রয়োজন যার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রকাশিত ও কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে সরকার গঠিত হবে। সরকার গঠিত হয় আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে নিয়ে। তবে সরকারের রূপ বা প্রকৃতি সকল রাষ্ট্রে একরূপ নয়, ফলে বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের সরকার দেখা যায়। যেমন : সংসদীয় সরকার, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ইত্যাদি।

ঘ. সার্বভৌমত্ব : রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব। সার্বভৌমত্ব বলতে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। শুধু স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড এবং সরকার থাকলে রাষ্ট্র হয় না। এ তিনটি নির্দিষ্ট উপাদানের ভিত্তিতে ২৬ মার্চ, ১৯৭১ এর আগে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট গঠন করতে পারিনি। যখন পূর্ববাংলার জনণের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে গণসমর্থনে প্রাপ্ত পরম রাজনৈতিক কর্তৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা তথা সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেন তখন এই চতুর্থ উপাদানের সংযোগে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকার জন্য কোন রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রদেশ রাষ্ট্র নয়। আন্তর্জাতিক সংঘ বা প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র নয়। এমনকি জাতিসংঘও রাষ্ট্র নয়।
সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক রয়েছে-
১। সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
২। সার্বভৌম ক্ষমতা দেশকে বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত রাখতে পারে।
উৎসঃ এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০২.
নিচের কোনটি সরকারের সাথে নাগরিকদের মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে?
  1. ক) জিটুজি
  2. খ) জিটুবি
  3. গ) জিটুসি
  4. ঘ) জিটুই
ব্যাখ্যা
জিটুসি (গভর্নমেন্ট টু সিটিজেন) সরকারের সাথে নাগরিক বা ব্যক্তির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়াকে নির্দেশ করে। এই মডেলের সাহায্যে নাগরিকগণ সরকারের বিভিন্ন সুবিধাদি পেয়ে থাকে।

অন্যদিকে,

- জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) হলো সরকারের সাথে সরকারের বা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়া।
- জিটুই (গভর্নমেন্ট টু এমপ্লয়ি) সরকারের সাথে সরকারি কর্মচারীদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াকে নির্দেশ করে।
- জিটুবি হলো সরকারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের সম্পর্ক।

(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৬০৩.
ব্যক্তিজীবনে মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনটি?
  1. ক) মানবীয় গুণাবলির বিকাশ
  2. খ) আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  3. গ) সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) কর্তব্যবোধ জাগ্রতকরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিক ও মানবীয় গুণাবলির বিকাশ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ জাগ্রতকরণে ভূমিকা রাখে ব্যক্তিজীবনের মূল্যবোধ।
৬০৪.
’গণতন্ত্র ও মানবাধিকার’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-১২
  2. অনুচ্ছেদ-১১
  3. অনুচ্ছেদ-১৩
  4. অনুচ্ছেদ-১৫
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি:
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে- অনুচ্ছেদ-১১।

- প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে।
- এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ-১২:  ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ-১৩: ১৩৷ মালিকানার নীতি।
- অনুচ্ছেদ-১৫: মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 

৬০৫.
নাগরিক কর্তৃক অধিকার ভোগের জন্যে আবশ্যক-
  1. নৈতিক শিক্ষা
  2. কর্তব্য পালন
  3. মূল্যবোধ শিক্ষা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
- নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার ব্যতীত মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলদ্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
- তবে অধিকার ভোগের জন্যে নাগরিকদেরকে রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয় যা কর্তব্য নামে পরিচিত।
- কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগ প্রত্যাশিত নয়। অধিকার ভোগের জন্যে কর্তব্য পালন অত্যাবশ্যক। অধিকার কর্তব্যের মধ্যেই নিহিত।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬০৬.
"সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন"- উক্তিটি করেছেন -
  1. জন অস্টিন
  2. এ্যারিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. ম্যাককররনি
ব্যাখ্যা

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৭.
'Moral and others' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ফ্রান্সিস বেকন
  2. প্লেটো
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. মেকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

⇒ Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন:
- রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।
- বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র - শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.com
৬০৮.
সুশাসন সম্পর্কিত ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNHCR
  2. UNDP 
  3. European Economic Community 
  4. International Development Agency
ব্যাখ্যা

European Economic Community (EEC) সুশাসন উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।
------------------------------- 
• White Paper ও সুশাসন:
- White Paper বা শ্বেতপত্র- হলো কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা, নীতি বা প্রকল্পের ওপর বিস্তারিত তথ্য, বিশ্লেষণ এবং সমাধানের প্রস্তাবনা সম্বলিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন।
- এটি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, জনগণ বা পার্লামেন্টকে তথ্য প্রদান করতে এবং ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। 
- শ্বেতপত্র প্রকাশ সাধারণত পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক করা হয়।
- এবং কখনও কখনও নতুন আইন বা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে জারি করা হয়।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এই প্রথা প্রচলিত।

- শ্বেতপত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—
- তথ্যবহুল বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণী প্রস্তাব, স্বচ্ছতা প্রদর্শন, এবং জনগণকে প্রচারের মাধ্যমে সচেতন করা। সহজ কথায়, শ্বেতপত্র হলো।
- ইংল্যান্ডে এটিকে Parliamentary Papers বলা হয়।

- সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য।
- দুর্নীতি হলো সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।

- European Economic Community (EEC) সুশাসনের উন্নয়ন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য শ্বেতপত্র প্রকাশ করে থাকে
- এই পত্রে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

৬০৯.
নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার কোনটি?
  1. কর্মের অধিকার
  2. জীবনধারণের অধিকার
  3. চলাফেরা করার অধিকার
  4. নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার
ব্যাখ্যা

অধিকার:
- সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়।
- কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, 'অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।'
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬১০.
'রাষ্ট্রের সকল উন্নয়েনের ক্ষেত্রে সুশাসন আবশ্যক।' এই উক্তিটি কার?
  1. এম ডব্লিউ পামপ্রে
  2. কফি আনান
  3. ম্যাককরনি
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক'' এই উক্তিটি করেছেন।

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, 'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৬১১.
‘কর্তব্যমুখী নৈতিকতা’ ধারণার প্রবর্তক বলা হয় কাকে?
  1. স্টুয়ার্ট মিল
  2. রাসেল
  3. হবস
  4. কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।

'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ব্রিটানিকা
৬১২.
মূল্যবোধ ও শাসনের মধ্যে সম্পর্ক হলো-
  1. নৈতিক নীতি, নিয়ম ও রাজনৈতিক নির্দেশ মানা
  2. নৈতিক নীতি, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
  3. স্তরবিন্যাস, স্বচ্ছতা ও ঐতিহ্য 
  4. নৈতিকতা ছাড়া প্রশাসনিক দক্ষতা
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধ ও শাসনের মধ্যে সম্পর্ক হলো - নৈতিক নীতি, স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।

মূল্যবোধ:
-  মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি এবং আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- শিষ্টাচার, সততা, আইনের শাসন, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের কল্যাণমুখিতা, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

• মূল্যবোধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বহুমাত্রিক ও আন্তর্জাতিক ধারণা হলো সুশাসন।
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সঙ্গে সুশীল সমাজের, সরকারের সঙ্গে শাসিত সমাজের, শাসকের সঙ্গে শাসিতের সম্পর্ক বোঝায়।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে শাসক-শাসিতের সুসম্পর্ক, স্বাধীন বিচার বিভাগ, আইনের শাসন, নীতির গণতন্ত্রায়ন, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজন মূল্যবোধের চর্চা। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে কখনোই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না। 

• মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের প্রভাবে জাতীয় জীবনে সহনশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬১৩.
পূর্ণতাবাদ কোন দুটি দর্শনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে?
  1. সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদ
  2. স্বজ্ঞাবাদ ও ভাববাদ
  3. উপযোগবাদ ও উদারতাবাদ
  4. সমাজবাদ ও পুঁজিবাদ
ব্যাখ্যা
পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ।
- অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে।
- তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।

⇒ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদের মতে, পূর্ণতালাভ বা আত্মোপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- এ মতবাদ অনুসারে আত্মোপলব্ধি বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৪.
'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক স্পেন্সার
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. আর্থার কিং লুথার
ব্যাখ্যা

- 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উল্লেখ্য,
• আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৫.
"ঐচ্ছিক আচরণ" বলতে কী বোঝায়?
  1. যে আচরণ বাধ্যতামূলক
  2. যে আচরণ আইন দ্বারা পরিচালিত
  3. যে আচরণ স্বপ্রণোদিত হয়ে করা হয়
  4. যে আচরণ সামাজিক চাপের কারণে হয়
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।

উল্লেখ্য,
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- এটি সঠিক ও ভুল, ন্যায় ও অন্যায়, এবং ভালো ও খারাপ আচরণের পার্থক্য নির্ধারণে সহায়ক।
- নীতিবিদ্যার মাধ্যমে মানুষ কীভাবে নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং কীভাবে নৈতিক জীবনযাপন করবে, সেই বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৬.
একটি জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক কোনটি?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) শৃংখলাবোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৬১৭.
কোনটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস?
  1. সরকার গঠন
  2. বিরোধী বিকল্প পক্ষ
  3. জনমত
  4. জনগণ ও সরকার মধ্যে সেতুবন্ধন
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো - জনগণ।
- গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত।
- রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
৬১৮.
দুটি চরম পন্থার ___________ পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
  1. কঠোর
  2. শিথিল
  3. মধ্যবর্তী
  4. সর্বোত্তম
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
৬১৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের উপাদান নয়?
  1. ক) শ্রমের মর্যাদা
  2. খ) নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  3. গ) সহনশীলতা
  4. ঘ) নাগরিক অসচেতনতা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যে উপাদানগুলো মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান বলে স্বীকার করা হয় তা হলো- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা, সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা ইত্যাদি।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬২০.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC) স্বাক্ষরিত হয় কোথায়?
  1. মেরিডা, মেক্সিকো
  2. জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
  3. ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া
  4. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন:
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশনের নাম- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC)।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption।
- এটি জাতিসংঘের একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী চুক্তি।
- লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার ও কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর ২০০৩।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- কার্যকর: ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫।
- বর্তমান রাষ্ট্রপক্ষ: ১৯৫টি দেশ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৬২১.
"Duty for Duty's Sake" -ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. এ্যারিস্টটল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' বা "Duty for Duty's Sake"-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি, যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

→ সৎ ইচ্ছা (Good Will):
মানুষের আন্তরিক ইচ্ছা যদি সৎ হয়, তাহলেই তার কাজটি নৈতিক হবে। সুতরাং নৈতিকতার মূল উৎস হল সৎ ইচ্ছা বা সদিচ্ছা।

→ কর্তব্যের জন্য কর্তব্য (Duty for Duty's Sake):
মানুষকে কর্তব্য পালন করতে হবে কর্তব্যবোধের কারণেই, কোনো বাহ্যিক প্রলোভন বা চাপের কারণে নয়।

→ শর্তহীন আদেশ (Categorical Imperative):
শর্তহীন আদেশ হল এমন একটি নীতি যা সর্বজনীন ও অবশ্যপালনীয়, কোনো শর্তসাপেক্ষ নয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
৬২২.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত?
  1. সরকারি চাকুরি
  2. দায়মুক্তি
  3. সম্পত্তি ভোগ
  4. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
যেমন -
 → জীবন রক্ষা,
 → মত প্রকাশ,
 → চলাফেরা,
 → বিনা বিচারে আটক না হওয়া,
 → সংঘবদ্ধ হওয়া,
 → সভা-সমিতি,
 → চুক্তি স্থাপন,
 → সম্পত্তি ভোগ,
 → আইনের চোখে সমতা লাভ,
 → শিক্ষা লাভ,
 → সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
 → পরিবার গঠন,
 → নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৩.
জাতিসংঘ কত সালে ‘শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতিসংঘ:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৬২৪.
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে বুঝায়?
  1. ক) আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি
  2. খ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা
  3. গ) রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন
  4. ঘ) প্রশাসনের দলীয়করণ
ব্যাখ্যা
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৬২৫.
বিশ্বব্যাংক তাদের কোন রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. ক) Governance and Development
  2. খ) Governance : Sound Development Management
  3. গ) Good Governance and Sound Development
  4. ঘ) Governance for Sustainable Human Development
ব্যাখ্যা
• বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
• সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
• বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
• পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।

অন্যদিকে, 
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• ১৯৯৫ সালে  Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৬২৬.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো বুদ্ধি, আত্মসংযম ও -
i.নিষ্ঠা
ii.প্রজ্ঞা
iii.বিবেক 

নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ii
  2. iii
  3. i ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
সুনাগরিক:
- সুনাগরিক ছাড়া সমাজ সুন্দর ও সার্থক হতে পারে না।
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

এছাড়াও,
 অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইটের মতে সুনাগরিকের গুণাবলী হলো− জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১ এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৭.
নীতিশাস্ত্রের উপর লেখা 'Nicomachean Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) ইমানুয়েল কান্ট
  4. ঘ) চার্লস ডিকেন্স
ব্যাখ্যা

- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের জনক।
- তারূ নীতিশাস্ত্রের উপর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থঃ
• Eudemian Ethics
• Nicomachean Ethics.
- এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থঃ
• Politics,
• Poetics,
• Republic,
• On the Soul,
• Metaphysics,
• Rhetoric ইত্যাদি।

৬২৮.
একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো-
  1. ক) উপযোগবাদ
  2. খ) সমাজতন্ত্র
  3. গ) সুবর্ণ মধ্যক
  4. ঘ) সাম্যবাদ
ব্যাখ্যা

- 'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা।
- যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।

৬২৯.
কোনটি সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান নয়?
  1. ক) শিক্ষা
  2. খ) শিল্পায়ন
  3. গ) বাসস্থান
  4. ঘ) নগরায়ন
ব্যাখ্যা

বাসস্থানের তুলনায় শিক্ষা, শিল্পায়ন এবং নগরায়ন সামাজিক পরিবর্তনের সাথে বেশি সম্পৃক্ত,
তাই বাসস্থান কে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত আলোচনাঃ
বিভিন্ন ধরনের উপাদানের নানামুখী তৎপরতার কারণে সামাজিক পরিবর্তন হয়ে থাকে।
এর মধ্যে জৈবিক, প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত উপাদান অতি গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষসহ অন্যান্য প্রাণি জৈবিক উপাদানের অংশ।
অন্যদিকে ঝড়, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রাকৃতিক উপাদানের এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কার প্রযুক্তিগত উপাদানের অংশ।
উৎসঃ এইসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩০.
নিচের কোনটি অধিকারের রক্ষাকবচ নয়?
  1. ক) আইন
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) গনতন্ত্র
  4. ঘ) জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
অধিকারের রক্ষাকবচ হলো আইন, গনতন্ত্র, সংবিধানে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, আইনের অনুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের সজাগ দৃষ্টি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৩১.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সর্বজনীন রূপ নেই
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনা করে
  3. বিমূর্ত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  4. লিখিত সামাজিক বিধান
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
কে প্রথম সংবাদপত্রকে Fourth Estate হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. উইনস্টোন চার্চিল
  4. কফি আনান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke) প্রথম সংবাদপত্রকে "ফোর্থ এস্টেট" বা চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- তিনি ১৭৮৭ সালে হাউস অফ কমন্সে বিতর্ক করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
৬৩৩.
Nihilism অর্থ কী?
  1. ক) শূন্যবাদ
  2. খ) মধ্যমপন্থা
  3. গ) উত্তম আচরণ
  4. ঘ) চরমপন্থা
ব্যাখ্যা
- Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬৩৪.
কোন সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়?
  1. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
  2. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  3. প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা

⇒ প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়।

সুশাসনের পূর্বশর্ত:
⇒ সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৩৫.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা
  3. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  4. ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা
ব্যাখ্যা
• ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা:
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি হল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারিক কার্য সম্পাদন সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
→ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকাই প্রধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৬.
'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।' এই উক্তিটি কার?
  1. টি.এইচ. গ্রিন
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. হার্বার্ট স্পেনসার
  4. অধ্যাপক লাস্কি
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'
- সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার বলেন, "স্বাধীনতা বলতে খুশিমত কাজ করাকে বোঝায় যদি উক্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কাজে বাধা সৃষ্টি করা না হয়।”
- টি.এইচ. গ্রিন বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে।"
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "স্বাধীনতা বলতে সেই সব সামাজিক বিধিনিষেধের অপসারণকে বোঝায় যা সভ্য জগতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অপরিহার্য।"
- সুতরাং স্বাধীনতা হল এমন পরিবেশ যা কারও ক্ষতি না করে নিজের অধিকার উপভোগ করতে পারে।

উল্লেখ্য,
স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ:
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা,
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা,
- সামাজিক স্বাধীনতা,
- আইনগত স্বাধীনতা,
- প্রাকৃতিক স্বাধীনতা,
- জাতীয় স্বাধীনতা,
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৩৭.
‘শাসক যদি ন্যায়বান হন, তাহলে আইন অনাবশ্যক। আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন, তাহলে আইন নিরর্থক।’—এ উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. ইব্রাহীম গানবারি
ব্যাখ্যা
প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৬৩৮.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মাধ্যমে মূল্যবোধের যে বহিঃপ্রকাশ ঘটে তা মূল্যবোধের কোন উপাদানের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মানবিকতা
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. নীতিবোধ
  4. সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। 

• মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।
- শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
 - মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৯.
জোনাথান হেইট এর মতে, কী থেকে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটেছে?
  1. ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ
  2. সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আদর্শ
  3. নৈতিক আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতি
  4. মূল্যবোধ, ধর্ম এবং রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

জোনাথান হেইট (Jonathan Haidr) মনে করেন,
- 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ'- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৪০.
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি-এর তথ্যমতে, সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৬৪১.
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে -
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানব মনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour. 
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৬৪২.
UNDP কোন বিষয়গুলোর কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগ পদ্ধতিকে 'সুশাসন' হিসাবে অভিহিত করেছে?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) প্রশাসনিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংকের মতে, ‘সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়’।

- বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞাকে আরো সমৃদ্ধ করে UNDP বলেছে, ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’।

- কফি আনান বলেন , “সুশাসন মনাবধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে,গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে”।

- অধ্যাপক ড. মহব্বত খানের মতে-‘সুশাসন হলো,একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের কার্যকরী ব্যবস্থা। তবে ব্যবস্থাটি হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায্য সমতাপূর্ণ’।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৬৪৩.
নিম্নলিখিত কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দ্বৈত অর্থবোধকতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা

স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৪৪.
সংস্কৃতির উপাদান নয় কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. পরিবার
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে। পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা। সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই। তবে সাধারন কিছু উপাদান আছে যা সকল দেশে একই রকম।
- এগুলো হলো: ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
• বস্তুগত সংস্কৃতি: 
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম। 

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি। এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

অন্যদিকে -
- পরিবার সংস্কৃতির উপাদান নয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৫.
এরিস্টটলের সংখ্যা নীতি অনুসারে, মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যক্তির বিকৃত শাসন হলো -
  1. স্বৈরতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র
  3. কতিপয়তন্ত্র
  4. অভিজাততন্ত্র
ব্যাখ্যা
সরকারের শ্রেণিবিভাগ:
- এরিস্টটল দু'টি মূল সূত্র বা নীতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন।
- সরকার ও শাসনব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তিনি এ দুটি মূল সূত্র উপস্থাপন করেন -
(ক) উদ্দেশ্য নীতি (Principle of Purpose)
(খ) সংখ্যা নীতি (Principle of Number)

• সংখ্যা নীতি (Principle of Number):
- সরকারের শ্রেণি বিভক্তিকরণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় নীতিটি হল সংখ্যা নীতি।
- সংখ্যা নীতি অনুসারে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা কতজন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত আছে তার ভিত্তিতে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
- সংখ্যা নীতির ভিত্তিতে এরিস্টটল তিন শ্রেণির সরকারের কথা বলেছেন।

(i) একজনের শাসন (Rule by one):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা একজনের হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং জনকল্যাণসাধনই শাসনব্যবস্থা বা সরকারের উদ্দেশ্য হলে তাকে রাজতন্ত্র বলে। অর্থাৎ এক ব্যক্তির স্বাভাবিক শাসনই হল রাজতন্ত্র। কিন্তু এক ব্যক্তির দ্বারা শাসিত শাসন ক্ষমতা যদি কেবল শাসক বা রাজার স্বার্থেই ব্যবহৃত হয়, তবে তাকে স্বৈরতন্ত্র বলে। অতএব এক ব্যক্তি শাসিত রাষ্ট্রের বিকৃত শাসনকেই স্বৈরতন্ত্র বলা হয়।

(ii) কয়েকজনের শাসন (Rule by few):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা পরিচালনার দায়িত্ব একজনের পরিবর্তে কয়েকজন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং তা জনসাধারণের মঙ্গল বিধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলে তাকে অভিজাততন্ত্র বলে। অর্থাৎ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্যক্তির স্বাভাবিক শাসনই হল অভিজাততন্ত্র। কিন্তু এ শাসনব্যবস্থা শুধুমাত্র শাসকশ্রেণির মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থ সাধনে পরিচালিত হলে তা কতিপয়তন্ত্র (Oligarchy) হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যক্তির বিকৃত শাসনই হল কতিপয়তন্ত্র।

(iii) বহুজনের শাসন (Rule by many):
- রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা বহুজনের হাতে ন্যস্ত থাকলে এবং সর্বসাধারণের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলে, এরিস্টটলের মতে তা হল ন্যায়তন্ত্র। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ থাকলে ন্যায়তন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এরিস্টটলের মতে এর বিকৃতিরূপ হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রে ক্ষমতা বহুজনের হাতে ন্যস্ত থাকে। কিন্তু এ ব্যবস্থাতে ক্ষমতা সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পরিচালিত না হয়ে শুধুমাত্র শাসক সম্প্রদায়ের স্বার্থে পরিচালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৬.
মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ ও ন্যায়নীতি নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে কী বলে?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. নীতিশাস্ত্র
  3. ধর্মশাস্ত্র
  4. মনোবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র: 
- মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ ও ন্যায়নীতি নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে নীতিশাস্ত্র বলে। 
- নাগরিকতা ও জাতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিক নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি ও সুশাসন বলে।
- প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকগণ পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে নীতিশাস্ত্রের অন্যতম শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের লক্ষ্য হলো এক এবং তা হল আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা। 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৪৭.
সুশাসনের পথে অন্তরায়-
  1. জবাবদিহিতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. নির্বাচন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।

• সুশাসনের অন্তরায়:
- স্বজনপ্রীতি,
- দুর্নীতি,
- অস্বচ্ছতা,
- স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি।
৬৪৮.
'Red Tapism' কোনটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুনাগরিক
  3. সহনশীলতা
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। 

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৪৯.
সুশাসনে কোনটি থাকবে না?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) আইনের অনুশাসন
  3. গ) বাক স্বাধীনতা
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনে প্রশাসনের জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা থাকে, এতে অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলেই সেই প্রশাসন ব্যবস্থায় সুশাসন গড়ে উঠে।
স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫০.
বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা নিচের কোনটির বৈশিষ্ট্য?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
১. সামাজিক মাপকাঠি,
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
৩. নৈতিক প্রাধান্য,
৪. বিভিন্নতা,
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫১.
সুশাসনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা
  2. সুশাসন একটি প্রাচীন ধারণা
  3. সুশাসন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ধাপে ধাপে
ব্যাখ্যা
- সুশাসন ধারণার উদ্ভব আধুনিককালে। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৬৫২.
‘Ethics may be defined as the study of what is right or good in conduct.’ উক্তিটি কার?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Ethics):
-নৈতিকতা হলো এমন একটি শাস্ত্র বা দর্শন, যা মানুষের সঠিক ও ভুল, ভালো ও মন্দ, এবং ন্যায় ও অন্যায় আচরণ সম্পর্কে বিচার ও বিশ্লেষণ করে।
- এটি আমাদের শেখায়- কোন কাজ করা উচিত আর কোনটা অনুচিত, এবং কেন তা উচিত বা অনুচিত।

অধ্যাপক ম্যাকেঞ্জি এর মতে:
"Ethics may be defined as the study of what is right or good in conduct."
অর্থাৎ, নৈতিকতা হলো আচরণে কী সঠিক বা ভালো, তা নিয়ে অধ্যয়ন।
- তার মতে, নৈতিকতা কোনো একক বা সংকীর্ণ ধারণা নয়।
- এটি মানুষের আচরণের সর্বজনীন মানদণ্ড নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া।
- এটি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের আচরণগত নির্দেশনাও প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৫৩.
'সুশাসন' ধারণাটি কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত একটি ধারণা?
  1. ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক
  2. নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
  3. বিশ্ব ব্যাংক
  4. ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
​- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
​- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
​- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
​- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
​- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
​- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৫৪.
নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য- 
  1. স্বার্থরক্ষা
  2. কল্যাণ সাধন
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
  4. ধর্মীয় নিয়ম রক্ষা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
-  নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৫৫.
দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারন -
  1. সম্পদের অভাব
  2. নাগরিকের বিরোধিতা 
  3. সিদ্ধান্ত গ্রহনে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব
  4. প্রযুক্তির অভাব
ব্যাখ্যা

● দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব।

দুর্বল শাসন ব্যবস্থা:
- দুর্বল শাসন ব্যবস্থায় উন্নয়ন প্রকল্প ব্যর্থ হয় কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব।
- সুশাসনের অভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। 
- সাধারণত শাসন হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ও তা বাস্তবায়নের একটি প্রক্রিয়া। এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।

• স্বচ্ছতার অভাব: স্বচ্ছতার অভাব বলতে প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীতে উন্মুক্ততা, জবাবদিহিতা ও তথ্যের সঠিক আদান-প্রদানের ঘাটতিকে বোঝায়, যা দুর্নীতি ও প্রকল্প ব্যর্থতার অন্যতম মূল কারণ। এটি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়, যার ফলে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

• সততার অভাব: সততা হলো সৎ হওয়া এবং দৃঢ় নৈতিক নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি সুসংগত ও আপসহীন আনুগত্য দেখানোর গুণ। সততাকে একজনের কর্মের সততা এবং সত্যবাদিতা বা আন্তরিকতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সততার ওভাবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রকল্পের গুণমান নষ্ট হয়।

উল্লেখ্য,
- এসব কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে সম্পদ সঠিকভাবে বরাদ্দ ও ব্যবহার হয় না। প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং অকার্যকর হয়। জনগণের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসের অভাবে প্রকল্পের স্থায়িত্ব কমে যায়।

অন্যদিকে,
- দুর্বল শাসনে সম্পদ থাকলেও দুর্নীতির কারণে অপচয় হয়।
- প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পএ সাহায্য করে, কিন্তু সঠিক শাসন ছাড়া প্রযুক্তিও অকার্যকর। 
- তাই সর্বোত্তম গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহনে স্বচ্ছতা ও সততার অভাব নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ওয়েবসাইট। 
iii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৫৬.
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোনটি অনুসরণ করা উচিত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ করা
  2. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রচার করা
  3. জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা
  4. আইনের শাসন উপেক্ষা করা
ব্যাখ্যা

সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্বারোপ করা উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে।
- এটি সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে আইন এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা করা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রচার করা, বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
- যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৭.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. রুশো
  3. জন লক
  4. ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
 স্বাধীনতা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা।
- সাধারণত স্বাধীনতার আন্দোলন বা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতি স্বাধীনতা লাভ করে। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি,  বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৮.
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সফলতার জন্য কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা
  2. খ) পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা
  3. গ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. ঘ) মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সফলতার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। অপরদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথাও চিন্তা করা যায় না।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
৬৫৯.
'সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮' অনুসারে, অসদাচরণ বলতে কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. ক) আইনসংগত আদেশ অমান্যকরণ
  2. খ) কর্তব্যে অবহেলা প্ৰদৰ্শন
  3. গ) সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অবজ্ঞাকরণ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ নামক দুই ধরনের দণ্ড আরােপের বিধান রয়েছে।
 
 এই বিধিমালা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(ক) “অভিযুক্ত” অর্থ এইরূপ কোনো সরকারি কর্মচারী যাহার বিরুদ্ধে এই বিধিমালার অধীন কোনো কার্যক্রম (Aaction) গ্রহণ করা হইয়াছে;
(খ) “অসদাচরণ” অর্থ অসংগত আচরণ বা চাকুরী শৃঙ্খলার জন্য হানিকর আচরণ, অথবা সরকারি কর্মচারীদের আচরণ সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালার কোনো বিধানের পরিপন্থি কোনো কার্য, অথবা কোনো সরকারি কর্মচারীর পক্ষে শিষ্টাচার বহির্ভূত কোনো আচরণ, এবং নিম্নবর্ণিত আচরণসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা :–
(অ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্যকরণ;
(আ) কর্তব্যে অবহেলা প্ৰদৰ্শন;
(ই) আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র এবং নির্দেশ অবজ্ঞাকরণ:
(ঈ) কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসংগত, ভিত্তিহীন, হয়রানিমূলক, মিথ্যা অথবা তুচ্ছ অভিযোগ সংবলিত দরখাস্ত দাখিল; অথবা
অন্য কোনো আইন বা বিধি-বিধানে যে সমস্ত কার্য অসদাচরণ হিসাবে গণ্য হইবে মর্মে উল্লেখ আছে এইরূপ কোনো কার্য।
 
উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। 
৬৬০.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে নিম্নলিখিত কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. বিশ্বস্ততা
  2. নিরপেক্ষতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে মূল্যবোধগুলির মধ্যে 'সৃজনশীলতা' গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কারণ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট নীতিমালা, আইন এবং প্রোটোকলের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- এই প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হয় এবং এগুলি সৃজনশীলতার চেয়ে নিয়মিত এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিগুলির উপর নির্ভরশীল।
- সৃজনশীল সিদ্ধান্ত প্রণয়ন কিছু ক্ষেত্রে সরকারের অবিশ্বাস বা পক্ষপাতিত্বের সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
- তাই, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সৃজনশীলতার পরিবর্তে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অন্যদিকে,
- সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে বিশ্বস্ততা অপরিহার্য, কারণ এটি জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে।
- সরকারি সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতিত্বহীন এবং সবার জন্য সমান সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যে সরকারি কর্মকর্তারা ও নীতিনির্ধারকরা তাদের সিদ্ধান্তের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬১.
নৈতিকতা বিষয়ক দর্শন “Beyond Good and Evil” - বইটি কার লেখা?
  1. ক) Aristotle
  2. খ) Friedrich Nietzsche
  3. গ) Jonathan Haidt
  4. ঘ) Plato
ব্যাখ্যা
Friedrich Nietzsche - একজন জার্মান দার্শনিক। তার লেখা অন্যান্য বই -
On the Genealogy of Morality,
Revaluation of All Values ইত্যাদি।
তার লেখা Beyond Good and Evil বইটি ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
৬৬২.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কতটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
- উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২১-২০৪১ খ্রি. মেয়াদে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশন দেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।
এই পরিকল্পনা চারটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল।
এগুলো হলো:
- সুশাসন
- গণতন্ত্রায়ণ
- বিকেন্দ্রীকরণ এবং
- সক্ষমতা বৃদ্ধি।
(তথ্যসূত্র: দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা : ২০২১-২০৪১)
৬৬৩.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কী?
  1. শিক্ষা
  2. সংস্কৃতি
  3. আইন
  4. অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের চালিকাশক্তি:
- মূল্যবোধের চালিকাশক্তি হলো সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ (Values) হলো সমাজে ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায়ের ভিত্তিতে গৃহীত কিছু আদর্শ ও নীতিমালা।
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠে একটি সমাজের বিশ্বাস, আচরণ, নীতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।
- এসব উপাদান সবচেয়ে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিতে।

অন্যদিকে,
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- এই সংস্কৃতিই সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
- তাই, সংস্কৃতিকেই বলা হয় মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৬৪.
UNDP সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে কবে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
ইউএনডিপি সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে ১৯৯৭ সালে। আইএমএফ সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে ১৯৯৬ সালে। বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে এজেন্ডা হিসাবে গ্রহণ করে আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৬৬৫.
উদারনৈতিক গণতন্ত্রে সাম্য বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট জাতির অগ্রাধিকার
  2. ধর্মভিত্তিক অধিকার
  3. কেবল অর্থনৈতিক সাম্য
  4. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমান অধিকার
ব্যাখ্যা

সাম্যের ধারণা:
- সাম্য শব্দটি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- প্রাচীন গ্রীসের নগররাষ্ট্র প্রসঙ্গে প্লেটোর লেখনীতেও সাম্যবাদের কথা পাওয়া যায়।
- আধুনিকযুগে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিলোপ করে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন কার্ল মার্কস।
- ফরাসি বিপ্লবের মূল কথাই ছিল সাম্য। সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্ব এই তিনটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করা ছিল ফরাসি বিপ্লবের মূল্য লক্ষ্য।
- বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে সাম্য বলতে মানুষের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের উপযোগী সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে পাওয়াকে বুঝায়।
- উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়।
- অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কির মতে, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।
- অর্থাৎ, সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৬.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের জননী?
  1. ক) সততা
  2. খ) বিবেক
  3. গ) ন্যায় বিচার
  4. ঘ) সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা
বিবেকই মূল্যবোধের জননী। আর সুশাসন মূল্যবোধের জাতক। মূল্যবোধ সুশাসনের কারিগর। সুশাসন হলো মূল্যবোধের রক্ষক। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
৬৬৭.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. নির্বাহী বিভাগ
  2. বিচার বিভাগ
  3. এনজিও
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার হলো এমন একটি জীবনদর্শন ও আচরণের ধরন, যেখানে সততা, নৈতিকতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠা একসঙ্গে মিলেমিশে একটি উৎকৃষ্ট চরিত্র গড়ে তোলে।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়৷
- শুদ্ধাচার যখন ব্যক্তি থেকে পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, তখনই সত্যিকারের সুশাসনের পরিবেশ তৈরি হয়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান: 
• নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন,
• জাতীয় সংসদ,
• বিচার বিভাগ,
• নির্বাচন কমিশন,
• অ্যাটর্নি জেনারেল।

⇒ অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
• রাজনৈতিক দল,
• বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান,
• এনজিও ও সুশীলসমাজ,
• পরিবার,
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৬৬৮.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের জন্য কী করা প্রয়োজন?
  1. ক) সরকারের অঙ্গগুলোকে ক্ষমতাশূন্য করা
  2. খ) প্রত্যেক বিভাগকে পৃথক ক্ষমতা দেওয়া
  3. গ) বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য রক্ষা না করা
  4. ঘ) এক বিভাগের সঙ্গে অন্য বিভাগের সম্পর্ক না রাখা 
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের এই ধারণা প্রাচীনকালের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের নিকটও পরিচিত ছিল। এরিস্টটল, পলিবিয়াস, সিসেরো প্রমুখ চিন্তাবিদগণ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
• মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগেও এই মতবাদের সমর্থন মিলে। মধ্যযুগে মার্সিলিও অব পাদুয়া ও জিন বডিন এবং আধুনিক যুগে হবস, লক প্রভৃতি দার্শনিকগণও এই মতবাদ সমর্থন করেন।
• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু। ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন। এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
• মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে - আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা। তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
কোন ভিত্তি বা মাপকাঠী অনুযায়ী এরিস্টটল সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন?
  1. সংখ্যানীতি
  2. উদ্দেশ্যনীতি
  3. সংখ্যা ও উদ্দেশ্যনীতি
  4. ন্যায়নীতি
ব্যাখ্যা
 • এরিস্টটল:
→ গ্রিক দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটল দুটি নীতি বা ভিত্তি বা মাপকাঠির সাহায্যে সরকারের শ্রেণিবিভাগ করেছেন,
যথা- (ক) সংখ্যানীতি ও (খ) লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যনীতি।
→ সংখ্যানীতি অনুযায়ী তিনি সরকারকে একজনের, কয়েকজনের এবং অনেকের শাসন এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন।
→ উদ্দেশ্য নীতি অনুযায়ী তিনি সরকারকে আবার স্বাভাবিক ও বিকৃত এই দু'ভাগে বিভক্ত করেছেন।
→ তাঁর মতে রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং পলিটি হলো স্বাভাবিক সরকার।
→ অপরদিকে স্বৈরতন্ত্র, ধনিকতন্ত্র বা কুলীনতন্ত্র এবং গণতন্ত্র বা জনতাতন্ত্র হলো বিকৃত সরকার।
→ পলিটিকে তিনি উত্তম সরকার এবং জনতাতন্ত্রকে (গণতন্ত্রের বিকৃত রূপ) নিকৃষ্ট ও বিকৃত সরকার বলে অভিহিত করেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি কার ওপর নির্ভর করে?
  1. বিচারক
  2. রাজনীতিবিদ
  3. নাগরিক
  4. বিদেশী রাষ্ট্রদূত
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৭১.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সহায়ক" — এই কথাটি কে বলেছেন?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. এফ ই মেরিল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
সুশাসনের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা
  4. নৈতিক অনুশাসন
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন। সুশাসনের জন্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ, আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা প্রভৃতি আবশ্যক।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিক অনুশাসন বা সৃজনশীলতা আবশ্যক নয়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৬৭৩.



উপরের ? চিহ্নিত স্থানে কোনটি বসবে?

  1. সুশাসন
  2. সততা
  3. স্থানীয় সরকার
  4. ন্যায় বিচার
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

• জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
যথা:
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

এখানে, সুশাসনের মধ্যে উল্লিখিত উপাদান গুলো রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৬৭৪.
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের বয়স সীমা কত?
  1. ক) ৬-১২ বছর
  2. খ) ৬-১৩ বছর
  3. গ) ৭-১৬ বছর
  4. ঘ) ৮-১৮ বছর
ব্যাখ্যা
- কিশোর অপরাধ হলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ।
- বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ কিশোর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে এই সীমা ৭-১৮ বছর।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী-পৃষ্ঠা)
৬৭৫.
E-Governance কে 'SMART Government'-এর ধারণাটি কে প্রদান করেন?
  1. মার্টিন মিনোগ
  2. ম্যাক করণী
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।

উল্লেখ্য,
⇒ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৭৬.
'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬৭৭.
সুশাসন সম্পর্কে ম্যাককরনি’র অভিমত হলো:
‘সুশাসন বলতে _________ সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।’
  1. রাষ্ট্রের
  2. সমাজের
  3. নাগরিকের
  4. শাসনের
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৬৭৮.
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে' এটি কার অভিমত?
  1. গার্ডনার মারফি
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জোনাথান হেইট
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৬৭৯.
Morality শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. স্প্যানিশ
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮০.
কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিকে নিয়ে কী গড়ে উঠে?
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) উপদল
  3. গ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ঘ) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
দলের মধ্যেই যখন কিছু কিছু সদস্য ও দলীয় নীতি ও কর্মসূচির বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করে কিংবা সাধারণ স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে উপদল বলে।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬৮১.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো-
  1. ক) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
  3. গ) সামাজিক উন্নয়ন
  4. ঘ) রাজনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
৬৮২.
"যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না" - উক্তিটি কার? 
  1. জন লক 
  2. ডাইসি 
  3. ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

• আইন: 
- মূল্যবোধ থেকে আসে আইন।
- আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।
- আইন স্বাধীনতার রক্ষক।
- জন লক বলেছেন, "যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বোর্ড বই।

৬৮৩.
'The Principles of Morals and Legislation’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ড মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. ইমানুয়েল কান্ট 
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

উৎস: i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. সমতা 
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. The Spirit of Laws
  2. Two Treatises of Government 
  3. Leviathan
  4. The Prince
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৮৬.
উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্রকে বলা হয় -
  1. Bureau Government
  2. Local Government
  3. Shadow Government
  4. Desk Government
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

উল্লেখ্য,
- "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tape) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৬৮৭.
জন স্টুয়ার্ট মিল কোন দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. মার্ক্সবাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উৎস: Britannica.

৬৮৮.
নৈতিকতা বা নীতিবোধ কোথা থেকে উৎসারিত হয়?
  1. আইন থেকে
  2. সমাজ থেকে
  3. মানুষের হৃদয়-মন থেকে
  4. রাষ্ট্র থেকে
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি, যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- এর বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট মনে করেন,
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন,
'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞায় Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে,
'নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৬৮৯.
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধৰ্মীয়
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯০.
সুশাসন সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সুশাসন ধারণাটি বহুমাত্রিক।
  2. সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন।
  3. এটি আইএমএফের উদ্ভাবিত ধারণা।
  4. সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণার উদ্ভব আধুনিককালে। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনুন্নয়নের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। সুশাসন হলো দক্ষ, নির্ভুল ও কার্যকরি শাসন যা একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে অর্জন করতে হয়।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]
৬৯১.
কোনটির মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে?
  1. বিবেক
  2. শিক্ষা
  3. মূল্যবােধ
  4. কর্তব্যবােধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।
৬৯২.
কোনটি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. প্রযুক্তি
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৯৩.
’Johannesburg Plan of Implementation‘ সুশাসনের সঙ্গে অধিকতর যুক্তিযুক্ত- 
  1. শিক্ষার উন্নয়ন 
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন।
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
• মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৬৯৪.
নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে কোনটি অত্যাবশ্যক?
  1. ক) উচ্চশিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) ধর্মীয় শিক্ষা
  4. ঘ) রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৯৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো- 
  1. সৎ ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান করা
  3. নিজের অধিকার ভোগ করা
  4. সরকার পরিচালনায় সাহায্য করা
ব্যাখ্যা

 সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করনীয়: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

৬৯৬.
নীতিবিদ্যাকে 'নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান' বলেছেন কে?
  1. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. পি. ডব্লিও, টেইলার
  4. জে.এস. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।"
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৭.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) কত সালে ‘Governance: Sound Development Management’ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৬৯৮.
ইমানুয়েল কান্ট কোন দেশের নীতিবিজ্ঞানী?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
”অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"- উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. জি.ডি.এইচ. কোল
  3. জন অস্টিন
  4. ওপেনহাইম
ব্যাখ্যা

সাম্য: 
- জাতি ধর্ম বর্ণ, স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান প্রদানের ব্যবস্থাকে সাম্য বলে। 
- সাম্য: সুযোগ সুবিধার সমতা। 
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন" -উক্তিটি ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রী চিন্তাবিদ এবং লেখক G.D.H. Cole (জি.ডি.এইচ. কোল)

এছাড়াও,
• অধ্যাপক লাস্কির মতে, সাম্যের ০৩ টি বিশেষ দিক রয়েছে।
১. বিশেষ সুযোগ সুবিধার অনুপস্থিতি
২. পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি
৩. বেচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়, সম্পদ ও দ্রব্যাদি জাতি, ধর্ম বর্ণ, নারী পুরুষ নির্বিশেষে সমভাবে বন্টন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০০.
যে গুণের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তা হচ্ছে-
  1. মূল্যবােধ
  2. কর্তব্যবােধ
  3. সদাচার
  4. সততা
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।