বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৫০১৬০০ / ৩,৮২৯

৫০১.
মূল্যবোধকে মানুষের ইচ্ছার মানদণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন কে?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. মেরিল
  3. উইলিয়াম
  4. শেফার
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
"মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
"মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

- মেরিল এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫০২.
আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে?
  1. ৩১ নং
  2. ৩২ নং
  3. ৩৩ নং
  4. ৩৪ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৬ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে।
- সংবিধানের ৩১ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার

অন্যদিকে,
- সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ।
- সংবিধানের ৩৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে, 'গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ'।
- সংবিধানের ৩৪ নং অনুচ্ছেদে, বর্ণিত হয়েছে: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫০৩.
আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা নিচের কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
  3. আইন বিভাগের স্বাধীনতা
  4. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নির্দেশ করে ।
-সরকারের যে শাখা নতুন আইন প্রণয়ন, পুরাতন আইন সংশোধনও পরিবর্তন করে তাকে আইন বিভাগ বলে।
- অধ্যাপক গার্নার-এর ভাষায়, আইনসম্মতভাবে সরকারের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরে চৌকিদার পর্যন্ত সকল কর্মচারীকে নিয়ে যে বিভাগ গঠিত হয়, সেই বিভাগকে শাসন বিভাগ বলা হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।- বাংলাদেশ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ স্বাধীন হয় ২০০৭ সালে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)

৫০৪.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫০৫.
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন?
  1. The Social Contract
  2. The Spirit of Laws
  3. Politics
  4. Leviathan
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

⇒ এরিস্টটল তিন ধরনের ক্ষমতা বণ্টনের কথা বলেছেন। তিনি সরকারকে (ক) আলোচনামূলক, (খ) শাসন সম্পর্কীয় ও (গ) বিচার বিষয়ক এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই তিনটি কাজের একত্রীকরণ হলে প্রশাসনের দক্ষতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সালে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৬.
মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. শৃঙ্খলা
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতা
  3. স্বাধীনতা
  4. শ্রমের মর্যাদা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে। 
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

ক. নীতিবোধ: 
নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা: 
শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা: 
মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ: 
ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

চ. মানবিকতা: 
মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

ছ. শ্রমের মর্যাদা: 
শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৭.
"আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি" উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. জন অস্টিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল। -
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
- "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৫০৮.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র কী?
  1. স্বাধীনতা
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. সাম্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৯.
কোন উপায়ে সমাজে মূল্যবোধ দৃঢ় করা সম্ভব?
  1. জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে
  2. আইনের মাধ্যমে
  3. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
  4. গণমাধ্যমের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষা বা জ্ঞানার্জন মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৫১০.
আধুনিক গণতন্ত্র হলো - 
  1. প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র
  2. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
  3. পরোক্ষ গণতন্ত্র
  4. ক ও গ উভয়ই 
ব্যাখ্যা
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- বর্তমান সময়ের বিশালায়তন রাষ্ট্রগুলোর বিপুল জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে তাই জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- এই নির্বাচনকার্য সম্পন্ন হয় দলীয় ভিত্তিতে। বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে তাই দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১১.
“A Manual of Ethics” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?  
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জে. এস. ম্যাকেঞ্জি
  3. হারবার্ট স্পেন্সার
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা

- "A Manual of Ethics" গ্রন্থটি  দার্শনিক জন. এস. ম্যাকেঞ্জি রচিত গ্রন্থ। 

• এস. ম্যাকেঞ্জি / John Stuart Mackenzie:
- তিনি একজন স্কটিশ দার্শনিক, যিনি ভাববাদ বা আদর্শবাদী (Idealism) দর্শনের প্রভাবে ছিলেন এবং নৈতিকতা, রাজনৈতিক দর্শন ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করেছেন।
- তার রচিত "A Manual of Ethics" প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ সালে।
- এটি নৈতিকতার মৌলিক নীতি, তত্ত্ব এবং এর প্রয়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করে। 

• তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: 
- An Introduction to Social Philosophy: The Shaw Fellowship Lectures at Glasgow,
- Outlines of Metaphysics,
- Lectures on Humanism: With Special Reference to Its Bearings On Sociology,
- Elements of Constructive Philosophy, 

তথ্যসূত্র:
i) Amazon.
ii) Goodreads.

৫১২.
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- তথ্য প্রাপ্তি বর্তমানে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার প্রণয়ন করেছে।
- এই আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশন গঠন ও প্রত্যেকটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগদানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

• তথ্য কমিশনের গঠন:
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১১(১) উপ-ধারার বিধান মতে আইন জারির ৯০ দিনের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার, তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার ছিলেন এম আজিজুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৩.
নিচের কোনটি বার্ট্রান্ড রাসেলের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. Power: A New Social Analysis
  2. The Elements of Ethics
  3. Principles of Social Reconstruction
  4. Perpetual Peace
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে ১৮৭২-২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭০) ব্রিটিশ দার্শনিক, প্রভূত গ্রন্থ ও প্রবন্ধের রচয়িতা, শান্তিবাদী ‘অ্যাকটিভিস্ট’, গণবক্তা, গণবুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও নোবেল পুরস্কারে ভূষিত সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্ব পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বিশ্লেষণী দর্শনের একজন প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর দর্শন, গণিত, যুক্তি, সেট তত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানতত্ত্ব ও অধিবিদ্যায় মৌলিক অবদান রেখেছে।
- তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘বিশ্ব সরকার’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

⇒ বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics (1910),
- Roads to Freedom (1918),
- Human Society in Ethics and Politics,
- Mortal and others,
- Principles of Social Reconstruction (1916),
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- The Analysis of mind,
- The Prospects of Industrial Civilization (1923),
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

অন্যদিকে,
- Perpetual Peace ইমানুয়েল কান্ট রচিত।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৫১৪.
যে গুণের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তাকে বলা হয়- 
  1. ন্যায়পরায়নতা 
  2. কর্তব্যবোধ
  3. মূল্যবোধ
  4. সদাচার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে তাকে বলা হয় মূল্যবোধ।
-মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫১৫.
'An Introduction to Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. জি. ই. ম্যুর
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics.
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যাকে মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলা হয়।

উল্লেখ্য:
- নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।
- এটি নীতিশাস্ত্রের (Ethics) একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়।
- এই গ্রন্থে লিলি নৈতিকতার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন নৈতিক তত্ত্ব এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

⇒ উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
'নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।'

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
সমাজের ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ঐক্য
  2. খ) কর্তব্যবোধ
  3. গ) শিষ্টাচার
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
- একদল মানুষ যখন কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে বসবাস করে তখন তাকে
সমাজ বলে।
- অন্যভাবে বলা যায়, পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠা জনসমষ্টিকে সমাজ বলে।
- সমাজের ভিত্তি হলো ঐক্য

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫১৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে
  2. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
  4. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:

- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১৮.
নিচের কোনটি অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. অধিকার স্থিতিশীল
  2. অধিকার নিরঙ্কুশ
  3. অধিকার অসীম
  4. অধিকার সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
• অধিকারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Right):
→ প্রথমতঃ অধিকারের ধারণা মানুষের সামাজিক চেতনাবোধ থেকে উদ্ভূত। সমাজেই এর সৃষ্টি এবং সমাজেই এর বিকাশ ঘটে থাকে।
→ দ্বিতীয়তঃ অধিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত, স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।
→ তৃতীয়তঃ সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে অধিকারও পরিবর্তিত হয়। অধিকার গতিশীল।
→ চতুর্থতঃ অধিকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
→ পঞ্চমতঃ অধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
→ ষষ্ঠতঃ অধিকার নাগরিক ও নৈতিক গুণাবলিকে জাগ্রত করে।
→ সপ্তমতঃ অধিকার সর্বজনীন (universal)।
→ অষ্টমতঃ অধিকার হচ্ছে কতগুলো সুযোগ-সুবিধা।
→ নবমতঃ অধিকার অসীম বা অবাধ নয়। কর্তব্য সম্পাদন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫১৯.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  2. সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী
  3. নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী
  4. স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২০.
পুঁজিবাদ কোন গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উপর নির্ভরশীল?
  1. ক) উদার বাজার ব্যবস্থা
  2. খ) স্বাধীন শ্রম
  3. গ) ব্যক্তি মালিকানা
  4. ঘ) পুঁজির সম্প্রসারণ
ব্যাখ্যা
- পুঁজিবাদ প্রকৃতপক্ষে এক প্রকার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা' সমাজতন্ত্রবাদ নামক মতবাদের বিপরীত। 
- এ অর্থব্যবস্থার মূল কথা হল, ব্যক্তি তার উপার্জিত ধনসম্পদের একচেটিয়া মালিক। 
- রাষ্ট্রীয় বিধি বিধানের মধ্যে থেকে সে অবাধে ধনসম্পদ উপার্জন করতে পারে এবং তার পছন্দমত ক্ষেত্রে ও পন্থায় তা ভোগ-ব্যবহার ও বিনিয়োগ করতে পারে। রাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বাধীনতা ততদূর পর্যন্ত নিশ্চিত করবে যতদূর পর্যন্ত ভোগ করলে অন্যের অধিকারের সীমায় অনুপ্রবেশ ঘটবে না।
-  পুঁজিবাদ শব্দটির সাথে স্বার্থপরতা, শোষণ, অসাম্য, সাম্রাজ্যবাদ এবং যুদ্ধ - এর মিল দেখা যায়। 
- এ মতবাদের ফলে সমাজে ধনবন্টনের ক্ষেত্রে একপ্রকার বৈষম্য বিরাজ করে, সর্বদাই সম্পদশালী তার পুঁজিকে সম্প্রসারিত করার জন্য শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের আয় ও উপার্জন নানা প্রক্রিয়ার কুক্ষিগত করে থাকে।
-  পুঁজিবাদ এমন এক ব্যবস্থা যাতে উৎপাদন ও বন্টনের সকল উপাদান ব্যক্তি, গোষ্ঠী, কোম্পানী, সমবায় ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রাষ্ট্রশক্তিকে করায়ত্ত করে তারা এসব উপাদানের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রয়োগের মাধ্যমে এ সব উপাদান হতে অর্জিত সম্পদ নিজেদের কল্যাণে ব্যয় করতে উদ্যোগী হয়।
 
উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব; এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
 
৫২১.
কাকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়?
  1. পল এইচ অ্যাপলবি
  2. ম্যাক্স ওয়েভার
  3. মন্টেস্কু
  4. আর ডি প্রেমনাথ
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫২২.
প্রথা কী?
  1. সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ আইন
  2. ধর্মীয়ভাবে স্বীকৃত আইন
  3. দীর্ঘকাল প্রচলিত কোন নিয়মকানুন
  4. সমাজের অভিজাত শ্রেণি কর্তৃক প্রবর্তিত আইন
ব্যাখ্যা
প্রথা:
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- আবার যেসব প্রথা সমাজ ও জনগণের জন্য অকল্যাণকর তা আইন করে বন্ধ করা হয়।
- গ্রেট ব্রিটেনে অনেক প্রথা সাংবিধানিক আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- অন্যদিকে যৌতুক প্রথা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো কোন ধরণের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

→ সত্যকে সত্য বলা,
→ মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
→ অন্যায়কে অন্যায় বলা,
→ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
→ দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
→ বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,
→ অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫২৪.
নিচের কোনটি সুশাসনের অন্তরায়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অস্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, ন্যায়পরায়ণতা, বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি হলো সুশাসনের উপাদান। এসবের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা ইত্যাদি সুশাসনের পথে অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫২৫.
নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য কোনটি প্রতিষ্ঠা জরুরি?
  1. সুশাসন
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. কার্যকরী আমলাতন্ত্র
  4. পারিবারিক আদালত
ব্যাখ্যা
নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।

সামাজিক উন্নয়নে সুশাসন:

- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না।
- উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

উল্লেখ্য,
- একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে।
- যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
- এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ।
- এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।
- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না।
- যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।
- নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
- অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২৬.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত ও ঘোষিত হয় কবে?
  1. ১৯৪৬ সালের ১০ ডিসেম্বর
  2. ১৯৪৭ সালের ১০ ডিসেম্বর
  3. ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর
  4. ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
মানবাধিকার ঘোষণাপত্র: 
- ব্যক্তি সমাজ জীবনে যেসব সুযোগ ও সুবিধার দাবিদার হয় এবং যা ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকশিত হতে পারে না, তাই মানবাধিকার।
- মানবাধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার।
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মৌলিক মানবাধিকারসমূহ গৃহীত ও ঘোষিত হয়।
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ যে মানবাধিকার ঘোষণাপত্র ঘোষণা করে সেখানে ১-৩০ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত সর্বত্রই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকারের ঘোষণা রয়েছে।
- এ জন্যই ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদকে বিশ্বের সকল মানুষের ম্যাগনা কাটা' বলে অভিহিত করা হয়।
- বিশ্বের যেসব দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা হচ্ছে সেসব দেশ মানবাধিকারের এই নীতিগুলোর প্রতিও শ্রদ্ধাশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫২৭.
নীতি ও ঔচিত্যবোধ থেকে যে মূল্যবোধ বিবেচনা করা হয় তাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ
করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫২৮.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো-
  1. রাষ্ট্র
  2. সমাজ
  3. সুশাসন
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

- সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।

• সভ্যতা(Civilization):

- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধার প্রথা সংস্কৃতির উন্নত
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মরে আমরা যাতা যনো সংস্কৃতি এবং আমরা য ব্যবহার করি তা ধনো সভ্যতা)
- স্কটের মতে সহাতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোর মতে সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টদেমূহের সমন্বয়।
- জেরি এবং জেরি বলেন, সভ্যতা হচ্ছে সাস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন।
- নীতি-নৈতিকতার সমচিত এগ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এব। বৃষএর সমাজ
- সব মিনিয়ে নরা ধায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধর। প্রথ্য সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমগ্রিলে যোগায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রধিকতা অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রণয়িত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সলতার সম্পর্কে হারনা পাপ্রয়া যায়।

উৎসে সমাজবিজ্ঞান চম পর, এইচটি বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৯.
জন স্টুয়ার্ট মিল নিচের কোন তত্ত্বের জনক?
  1. ক) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. খ) জাতি রাষ্ট্র
  3. গ) কর্তব্যমুখী নৈতিকতা
  4. ঘ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি
ব্যাখ্যা
• মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]-এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
• জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
• মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
• ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

অন্যদিকে, 
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।
• ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু সর্বপ্রথম তার 'The Spirit of Laws' গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যার কারণে মন্টেস্কু কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা বলা হয়।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রিবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩০.
মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কোনটি?
  1. পরিবার
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. শিক্ষালয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাব্দিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৩১.
‘Nihilism' যে ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত তার অর্থ –
  1. ক) সব
  2. খ) কিছুই না
  3. গ) সর্বজনীন
  4. ঘ) কিছু
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না। শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ। রেফারেন্সঃ ব্রিটানিকা।
৫৩২.
'A System of Logic' গ্রন্থটি লিখেছেন -
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. হেগেল 
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, রাজনীতিক। 
- তিনি দর্শন, জ্ঞানতত্ত্ব, অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতি, নৈতিকতা, ধর্ম, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে লেখা লিখেছেন।

⇒ A System of Logic:
- A System of Logic গ্রন্থটি বিখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক ও রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল-এর লেখা।
- এটি ১৮৪৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

• জে. এস. মিলের যুক্তিবিদ্যার ধারণা (J.S.Mill on Logic):
- দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ জেমস মিল ও তাঁর স্ত্রী হ্যারিয়েট ব্যারোর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন উনিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, নৈতিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- জে. এস. মিল যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখেন।
- তিনি মনে করেন যে, অবরোহ ও আরোহ যুক্তিবিদ্যার এ দুটি শাখার নিয়মই হলো সত্য ও জ্ঞান অনুসন্ধান করা।
- তাঁর মতে, অবরোহ যুক্তিবিদ্যা প্রতিষ্ঠিত সত্যের আলোকে আমাদের সত্য অনুসন্ধানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে এবং বিজ্ঞানের যুক্তিবিদ্যা বা আরোহ যুক্তিবিদ্যা সত্য আবিষ্কারের জন্য আমাদেরকে প্রয়োজনীয় নিয়ম সরবরাহ করে।
- মিল তাঁর A System of Logic গ্রন্থে যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন, যুক্তিবিদ্যা হলো আমাদের জ্ঞানগত প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য এমন বিজ্ঞান যা বিচার বা প্রমাণের মাধমে জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপণীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিগত কাজ ও চিন্তাগত ক্রিয়ার মানসিক প্রক্রিয়াসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩৩.
'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন করা' উক্তিটি যে সংস্থার -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউএনডিপি
  4. এডিবি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

⇒ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো: অংশগ্রহণ; মতামতের উপর নির্ভরশীলতা; জবাবদিহিতা; স্বচ্ছতা; দায়বদ্ধতা; কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা; ন্যাযতা; এবং আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৫৩৪.
নিচের কোনটির মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়?
  1. আইনসভা
  2. বিচারবিভাগ
  3. জনমত
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

জনমত: 
- সাধারণ অর্থে জনমত বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে বুঝায়।
- তবে প্রকৃত অর্থে জনমত হচ্ছে কল্যাণধর্মী বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক ও সুষ্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- জনমতের মাধ্যমে জনসাধারণের ইচ্ছা প্রকাশিত হয়।
- সভা-সমিতি, সংবাদপত্র, আইন পরিষদ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি জনমত গঠনের বাহন হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৩৫.
সুশাসনের জন্যে কোন ধরনের শাসনব্যবস্থা উপযোগী?
  1. ক) সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  2. খ) রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  3. গ) গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
  4. ঘ) স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ধারণাটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
সুশাসনের অন্যতম মূল বিষয় হলো কার্যকর অংশগ্রহণ।
আর শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ একমাত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সম্ভব।
তাছাড়া স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি মূল্যবোধসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।

(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৫৩৬.
'ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও' ও 'বাঁচার জন্য মরো' মূলত কার নৈতিক মতবাদ?
  1. হেগেল
  2. জেরেমি বেন্থাম 
  3. রুশো
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

পূর্ণতাবাদ:
- পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে।
- হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
(১) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সৃষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়। মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতৃপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে। কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মাৎসর্গও করে। হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়।
 
২) বাঁচার জন্য মরো (Die to live): মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বৃত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকৃত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না। অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববৃত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকৃতপক্ষে সে বেঁচে যাবে। প্রত্যেকটি স্বার্থপর আবেগকে অবশ্যই অস্বীকার করতে হবে অথবা সম্পূর্ণ যৌক্তিক সত্তাময় জীবনের আওতায় আনতে হবে মিথ্যা, অযোগ্য, বিশেষ, স্বতন্ত্র, আলাদা সত্তাকে অবশ্যই লুপ্ত হতে হবে, যদি সত্যিকারের বৌদ্ধিক ব্যক্তিকে বেঁচে থাকতে হয়"।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৫৩৭.
‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন -
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. অধ্যাপক ডাইসি
  3. অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার
  4. অধ্যাপক ক্লাউস সোয়েব
ব্যাখ্যা
আইন:
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে। 

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫৩৮.
আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য স্পষ্ট করেন কে? 
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. জন অস্টিন
  3. ম্যাকাইভার
  4. হ্যান্স কোহন
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য স্পষ্ট নির্ণয় করেন ম্যাকিয়াভেলি।

• নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৩৯.
'Critique of Pure Reason'- গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ডি এইচ পার্কার
  2. নিকোলাস রেসার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. মেটা স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৫৪০.
রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে কোন ধরনের স্বাধীনতা বলে?
  1. জাতীয় স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. আইনগত স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

⇒ স্বাধীনতার বিভিন্ন রুপ: রাজনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, আইনগত স্বাধীনতা, প্রাকৃতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পৌর স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- যে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- এ স্বাধীনতা ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যক্তির বাহ্যিক কিছু আচরণের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা।
- যেমন ইচ্ছামতো রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডে চলাফেরার অধিকার, নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার প্রভৃতি।

• প্রাকৃতিক স্বাধীনতা:
- সামাজিক চুক্তিবাদী দার্শনিক হবস, সক এবং রুশো বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্র পূর্বাবস্থায় প্রকৃতির রাজ্যে মানুষ কতকগুলো সুযোগ-সুবিধা বা স্বাধীনতা ভোগ করত।
- কিন্তু স্বাধীনতার এরকম ধারণা অলীক, অসার ও অবাস্তব বলেই প্রতিপন্ন হয়।
- দার্শনিক রুশো তাঁর বক্তব্যে তাই স্বাধীনতাকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করে বলেছেন, ‘মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মায়, কিন্তু সর্বত্রই যে শৃঙ্খলাবদ্ধ” (“Man is born free but everywhere he is in chain.”)

• আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।
- সামাজিক স্বাধীনতা মানুষকে সুন্দর জীবনের পথ দেখায়।
- তার মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা:
- এ ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে পেশা বাছাই ও জীবিকার স্বাধীনতা অন্যতম।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিকল্প নেই।
- তাছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে শ্রেণি-বৈষম্য বেড়ে গিয়ে যেকোন শ্রেণি শোষণ-বঞ্চনার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আইনগত ভিত্তি রয়েছে।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতাও খর্ব হয়।

• জাতীয় স্বাধীনতা:
- বর্তমানে রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে জাতি রাষ্ট্র।
- অর্থাৎ তারা স্বাধীন জাতি হিসেবে রাষ্ট্র গঠন করেছে।
- একটি জাতির নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাই হল জাতীয় স্বাধীনতা।
- জাতি হিসেবে স্বাধীন থাকা যেমন গর্বের, তেমনি তা অর্জন করাও কষ্টসাধ্য।
- স্বাধীনতা অর্জনের পথে অনেক জাতিকে বিপুল আত্মদান করতে হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৪১.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলাে -
  1. সুশাসন
  2. রাষ্ট্র
  3. নৈতিকতা
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪২.
বিখ্যাত পুস্তক 'A Treatise of Human Nature' এর লেখক কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. ডেভিড হিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা
ডেভিড হিউম:
- তিনি জন্ম গ্রহন করেন  ১৭১১ সালে। 
- তিনি স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি মানব প্রকৃতির প্রবর্তক ছিলেন।
- মৃত্যুবরন করেন ১৭৭৬ সালে।

ডেভিড হিউমের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-
- A Treatise of Human Nature;
- An Enquiry Concerning Human Understanding;
- Human Understanding;
- Enquiry Concerning the Principles of Morals;
-  Moral and Political;
- History of England।

অন্যদিকে, 
বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto 
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা। লিঙ্ক
৫৪৩.
নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে কোনটি থেকে?
  1. ধর্ম
  2. ঐতিহ্য
  3. মানব আচরণ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৪৪.
ইমানুয়েল কান্টের মতে কর্মের নৈতিকতা কোন বিষয়ের উপর নির্ভর করে?
  1. কর্মের ফলাফলের উপর
  2. সামাজিক অনুমোদনের উপর
  3. কর্মের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর
  4. সামাজিক সম্মতির উপর
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উল্লেখ্য,
- ইমানুয়েল কান্ট-এর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৫৪৫.
Johannesburg Plan of Implementation কত সালে গৃহীত হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

Johannesburg Plan of Implementation:
- জোহানেসবার্গ প্ল্যান অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (Johannesburg Plan of Implementation) ২০০২ সালে গৃহীত হয়।
- এটি 'টেকসই উন্নয়নের উপর বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন (World Summit on Sustainable Development)'-এর একটি অংশ ছিল যা দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। 

⇒ জোহানেসবার্গ প্ল্যান অব ইমপ্লিমেন্টেশন হলো জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা।
- ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলন। 
- বিশ্বের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতীয় প্রতিনিধি এবং বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রধান গোষ্ঠীর নেতারা সহ কয়েক হাজার অংশগ্রহণকারী একত্রিত থয়েছে এই সম্মেলনে।
- খাদ্য, পানি, আশ্রয়, স্যানিটেশন, জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদা সহ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন একটি বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সহ কঠিন চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলার দিকে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
- মূলত এই সম্মেলন সুশাসনের টেকসই উন্নয়ন এর বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

৫৪৬.
ব্যক্তির ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার বলতে কী বোঝায়?
  1. সহনশীলতা
  2. কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা 
  3. ধর্মীয় অনুশীলন
  4. সামাজিক খ্যাতি
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচারের ধারণা
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। 
- এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়।
- ব্যক্তিপর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- এই দলিলটিতেও শুদ্ধাচারের এই অর্থকেই গ্রহণ করা হয়েছে।
- ব্যক্তির সমষ্টিতেই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয় এবং তাদের সম্মিলিত লক্ষ্যই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রতিফলিত হয়। 

- প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সমন্বিত রূপ হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার অনুশীলনও জরুরি।
- বাংলাদেশের সমাজ বিভিন্ন খাত, যথা রাষ্ট্র, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং সুশীল সমাজে বিভিন্ন আইনকানুন, নিয়মনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পালন ও লালন করে শুদ্ধাচার অনুশীলন করে চলেছে এবং সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তাতে সংস্কার ও উন্নয়ন সাধন করছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫৪৭.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল কত ধরনের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উল্লেখ করেছেন?
  1. ক) তিন ধরনের
  2. খ) চার ধরনের
  3. গ) পাঁচ ধরনের
  4. ঘ) আট ধরনের
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮.
সংস্কৃতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ভাষা
  2. নৈতিকতা
  3. বিজ্ঞান
  4. আচার-অনুষ্ঠান
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃতি:
- সাধারণত সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি মার্জিত রুচি বা অভ্যাসগত উৎকর্ষ।
- মানুষের বিশ্বাস ,আচার-আচরন এবং জ্ঞানের একটি সমন্বিত কাঠামোকে সংস্কৃতি বলা যায় ।

- সংস্কৃতির কিছু সাধারন কিছু উপাদান আছে যা হচ্ছে:
→ ভাষা,
→ প্রতীক,
→ আচরণবিধি,
→ নৈতিকতা,
→ মূল্যবোধ,
→ পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস,
→ আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

অন্যদিকে -
- বিজ্ঞান সংস্কৃতির উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
'আইনের শাসন' এর অর্থ কি?
  1. ক) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. খ) আবেদন করার অধিকার
  3. গ) আইনের প্রাধান্য স্বীকার
  4. ঘ) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
- আইনের শাসনের মূল বক্তব্য হলো আইনের চোখে সবাই সমান। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয় এবং সবাই আইনের অধীন।
অর্থ্যাৎ, আইনের শাসন মূলত আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা।
- আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পূর্বশর্ত হচ্ছে - আইনের শাসন।
সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৫৫০.
সংস্কৃতিকে মূল্যবোধের কোন বৈশিষ্ট্য বলা হয়? 
  1. প্রাণ
  2. সোপান
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৫৫১.
সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো-
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) বিচার ব্যবস্থা
  3. গ) সংবিধান
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
যথার্থ আইনের শাসন গণতান্ত্রিক সরকারের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। যে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে, জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সমাজের সকল মানুষ সমান আইনগত ও বিচারিক সুবিধা পেয়ে থাকে - এমন সমাজকে বলা হয় সভ্য সমাজ। [সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই]
৫৫২.
আদর্শ আমলাতন্ত্রের (Ideal Bureaucracy) উদ্ভাবক কে?
  1. জন ফিফনার
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. রবার্ট প্রেসথাস
  4. গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড 
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন। এজন্য ম্যাক্স ওয়েবারকে আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৫৩.
সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. নেতৃত্বের সংকট
  3. দুর্নীতি
  4. জনগণের অসচেতনতা
ব্যাখ্যা

সুশাসনের পথে সরাসরি বাধা দুর্নীতি।

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

৫৫৪.
নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় কী?
  1. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা
  2. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার কৌশল
  3.  মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫৫.
নৈতিক সমস্যা কে সর্বপ্রথম তুলে ধরে-
  1. ক) আর্যরা
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) সোফিস্টরা
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
জীবনের ভালো-মন্দের নিহিতভাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে সোফিস্টরাই সর্বপ্রথম নৈতিক সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসেন। সোফিস্টদের মতে মানুষই সবকিছুর পরিমাপক অর্থাৎ নৈতিকতার কোন মানদণ্ড নেই, এটি ব্যক্তি নির্ভর৷ (সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
৫৫৬.
নৈতিকতা কী ধরনের বিষয়?
  1. ক) আধুনিক
  2. খ) ধর্মীয়
  3. গ) মানসিক
  4. ঘ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৫৭.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৫৮.
কোনটি ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant) এর রচিত বই নয়?
  1. Critique of Pure Reason
  2. The Metaphysics of Morals
  3. Critique of Practical Reason
  4. Critique of Justice and Rights
ব্যাখ্যা
⇒ দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট (Emanuel Kant):
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

-'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
-ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals ইত্যাদি।

- উল্লিখিত প্রশ্নের 'Critique of Justice and Rights' ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়। 
- তার রচিত বই হচ্ছে - 'Critique of Judgement'।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৫৫৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একজন নাগরিকের করণীয় হলো-
  1. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
  2. সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  3. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা
  4. শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়কেই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নাগরিকের করণীয় হলো:
- রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা
- আইন মেনে চলা
- নিয়মিত কর প্রদান করা
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা প্রভৃতি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হলো:
- স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা
- সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা
- ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৬০.
'সম্পত্তি লাভের অধিকার' নিম্নের কোনটির সাথে সম্পৃক্ত? 
  1.  নৈতিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

- 'সম্পত্তি লাভের অধিকার'  সামাজিক অধিকার।

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:

- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

১. নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

২. আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত -অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৫৬১.
মূল্যবোধ কীসের মাধ্যমে দৃঢ় হয়? 
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. শিক্ষার মাধ্যম
  4. ধর্মের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন। জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬২.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস নয় কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. প্ৰথা
  3. বিচারকের রায়
  4. সার্বভৌমের আদেশ
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:

• অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

অন্যদিকে,
• জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

• ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উল্লেখ্য,
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৬৩.
সুশাসনের কোন উপাদানটি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. আইনি কাঠামো
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত চারটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৬৪.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ’গণমাধ্যম’ কে চিহ্নিত করেন কে?
  1. এডমন্ড বার্ক
  2. ম্যাককরনি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যা জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা

গণমাধ্যম: 
- গণমাধ্যমকে প্রায়শই রাষ্ট্রের "চতুর্থ স্তম্ভ" হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- গণমাধ্যম কোনো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং আইনসভা—এই তিনটি স্তম্ভের পাশাপাশি গণমাধ্যম সমাজে জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এডমুন্ড বার্ক (Edmund Burke)-কে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
- ১৭৭১ সালে ব্রিটিশ সংসদে একটি বিতর্কের সময় বার্ক বলেছিলেন যে, সংসদের তিনটি ঐতিহ্যগত স্তম্ভ (লর্ডস, কমন্স এবং ক্লার্জি) ছাড়াও রিপোর্টারদের গ্যালারিতে বসে থাকা সাংবাদিকরাই "চতুর্থ স্তম্ভ" (Fourth Estate), যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এই উক্তিটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নজরদারির ভূমিকাকে তুলে ধরে।

উৎস: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল। [লিঙ্ক]

৫৬৫.
পরোক্ষ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে নাগরিকেরা কীভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করেন?
  1. শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল গঠন করে
  2. শুধুমাত্র কর প্রদানের মাধ্যমে
  3. নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে
  4. সরাসরি আইন প্রণয়ন ও বিচারকার্য পরিচালনা করে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের প্রকারভেদ:
• প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy):
- যে শাসনব্যবস্থায় নাগরিকেরা প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্য পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন, তাকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রিসে এই প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত ছিল।
- তখন নগররাষ্ট্রের সব নাগরিক কোনো বিশেষ স্থানে জমায়েত হয়ে আইন প্রণয়ন, কর ধার্য, কর্মচারী নিয়োগ, বিচারকার্য পরিচালনা ইত্যাদি কাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।

• পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র (Indirect or Representative Democracy):
- পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়।
- পরোক্ষ গণতন্ত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই আইন প্রণয়নসহ শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে পরোক্ষ গণতন্ত্র প্রচলিত।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৬.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. সামাজিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার:
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার।
- সম্পত্তি লাভের অধিকার।
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার।
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী।
৫৬৭.
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ কোন ধরনের সাম্য রক্ষা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. আইনগত
  3. সামাজিক
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ আইনগত সাম্য রক্ষা করে।

• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৬৮.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

⇒ সুনাগরিক:
- সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ সুনাগরিকের গুণাবলি:
- লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ ৩টি।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
• বুদ্ধি,
• আত্মসংযম,
• বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও পত্রিকা রিপোর্ট।

৫৬৯.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ কোনটি?
  1. নির্বাচনী সভা
  2. জনমত
  3. আমলাতন্ত্র
  4. লালফিতার দৌরাত্ম্য
ব্যাখ্যা
জনমতের ধারণা ও সংজ্ঞা: 
- সাধারণ অর্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে জনমত' বলা হয়।
- এ অর্থে যে কোনো বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের সমষ্টিকে জনমত বলা যেতে পারে।
- কিন্তু পৌরনীতিতে সকল মতামতই জনমত নয়।
- পৌরনীতিতে কেবল প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত বলা হয়।
- 'জনমত' শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় রুশোর লেখনীতে।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণাও বিকশিত হতে থাকে।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭০.
'সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল' - এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
• বিশ্বব্যাংক:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- চারটি স্তম্ভ হল:-
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭১.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে __________ সরকার পরিবর্তিত হয়।
  1. গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে
  2. সামরিক অভ্যুত্থানে মাধ্যমে
  3. নির্বাচনের মাধ্যমে
  4. অভিশংসনের মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
→ যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে।
→ এটি এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যেখানে শাসনকার্যে জনগণের সকলে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকলে মিলে সরকার গঠন করে।
→ এটি জনগণের অংশগ্রহণে, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের কল্যাণার্থে পরিচালিত একটি শাসন ব্যবস্থা।
→ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতপ্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ থাকে।
→ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হয়। 
→ একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে, সকলের স্বার্থ রক্ষার সুযোগ থাকে এবং নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
→ বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ইত্যাদিসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭২.
সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ন্ত্রন করে-
  1. ব্যক্তিগত আচরন
  2. সামাজিক আচরন
  3. রাজনৈতিক আচরন
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উল্লেখ্য
- এস সি ডডের ভাষায়,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে,
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটি বৃদ্ধি করে?
  1. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা
  2. সামাজিক বিভাজন
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- "মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা" বলতে বোঝানো হয়, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কীভাবে সহায়ক হতে পারে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং সমাজের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

⇒ তাদের উপযোগিতা হল:
• সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
• নীতি ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা।
• স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা।
• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
• আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা।
• মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা।
• দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা।
• দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি।
• সমাজে শৃঙ্খলাবোধ বিরাজ করা।
• নাগরিক সচেতনতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৪.
সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  4. বিকেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো মূল্যবোধ।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বচ্ছতা,
- বৈধতা,
- দায়িত্বশীলতা,
- জবাবদিহিতা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা ,
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা,
- সুশীল সমাজ;
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭৫.
বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচকে কোনো দেশের সূচক ০.০০ হলে, সে দেশের সু-শাসনের অবস্থা কি বলে পরিগনিত হবে? 
  1. নিচু মানের
  2. উচু মানের 
  3. মাঝারি মানের
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

“বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক” বলতে সাধারণত Worldwide Governance Indicators (WGI)–এর মূল সূচক-মান (governance estimate) বোঝানো হয়। এই স্কেলে কোনো দেশের সূচক 0.00 হলে সেটি গড়/মাঝারি অবস্থান নির্দেশ করে।

বিশ্বব্যাংক (WGI) একই “indicator”–কে একাধিকভাবে প্রকাশ করে। এবং এটা নিয়ে বিভ্রান্তি অস্বাভাবিক নয়। 

Governance estimate (প্রায় –2.5 থেকে +2.5)
WGI-এর composite indicator/মূল সূচক-মান (governance estimate) প্রকাশ করা হয় standard normal units–এ, যেখানে mean ≈ 0, এবং সাধারণত মান থাকে –2.5 থেকে +2.5;
বেশি মান = ভালো শাসন।
তাই 0.00 এখানে গড়/মাঝারি বোঝায়।

Absolute 0–100 score (Mapped score, rank নয়)
WGI আরও একটি absolute 0–100 score দেয়, যা “best-case” ও “worst-case” constructed benchmark ধরে Estimate-কে 0-100 স্কেলে ম্যাপ করে।
এখানে “0” হলো constructed worst-case anchor; বাস্তবে সবচেয়ে খারাপ দেশও সাধারণত 0 পায় না (কারণ কেউই constructed worst-case পর্যন্ত পৌঁছায় না)।
তাই “Absolute score = 0.00” ধরে সোজা ‘নিচু মানের’ সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিসংগত নয়।


The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology অনুসারে:
"The figure highlights an important feature of the absolute scale: even the lowest-performing observed countries do not receive a score of zero, because none attains the constructed worst possible benchmark. Instead, each country receives an absolute score that reflects its level of governance when mapped onto the fixed 0–100 scale. This property—anchoring all estimates of governance to a fixed global scale—allows the revised WGI to report estimates of governance that are directly interpretable across both countries and years."

প্রশ্ন থেকে, "বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচকে কোনো দেশের সূচক ০.০০ হলে" - যেটা Abosolute Score এ কোন দেশের ক্ষেত্রেই সাধারণত হয়না

WGI এর Excel ফাইল থেকে কয়েকটি ছোট উদাহরণ (লজিক পরিষ্কার করতে)

একই বছরে একই মাত্রায় (যেমন Voice and Accountability) দেখা যায় -

Estimate প্রায় 0 হলে স্কোরও সাধারণত মাঝামাঝি ধাঁচের এলাকায় পড়ে:
Albania (2024): estimate ≈ –0.0124, score ≈ 56.63 → অর্থাৎ 0.00 Estimate “মাঝামাঝি/মধ্যম” অবস্থান বোঝায়।

Estimate খুব কম (খুব নেগেটিভ) হলে স্কোর অনেক কম হয় এবং Estimate খুব বেশি (পজিটিভ) হলে স্কোর অনেক বেশি হয়:
Eritrea (2024): estimate ≈ –2.2898, score ≈ 16.77
Norway (2024): estimate ≈ 1.9294, score ≈ 90.62

খেয়াল করুন,
-২.৫ স্কেলে Voice and Accountability-তে সর্বনিম্ন সূচকের দেশ ইরিত্রিয়া এর মান –2.2898 হলেও,
০-১০০ এর স্কেলে Score ≈ 16.77.
অর্থাৎ, Absolute scale-এ 0 এবং 100 হলো constructed benchmark; তাই বাস্তবে সবচেয়ে খারাপ দেশও সাধারণত 0 পায় না - স্কোরটি fixed 0–100 স্কেলে ম্যাপ করা মান।

WGI-এর মূল সূচক-মান (estimate) ধরে 0.00 -> মাঝারি মানের (গ) সঠিক উত্তর ধরে নেয়া হচ্ছে।

এছাড়াও, WGI একই indicator-কে ‘percentile rank (0–100)’ হিসেবেও প্রকাশ করে; যদি প্রশ্নে র‍্যাঙ্ক/পারসেন্টাইল বোঝানো হতো, 0.00 মানে সর্বনিম্ন অবস্থান হতো - কিন্তু প্রশ্নে র‍্যাঙ্ক বলা নেই, সূচক বলা আছে।

বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক:

- Worldwide Governance Indicators (WGI) হলো শাসনব্যবস্থা পরিমাপের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক উদ্যোগ। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে। বিশ্বব্যাংক এটি প্রকাশ করে।
- WGI মোট ৩৫টি আন্তঃদেশীয় তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। এসব তথ্যসূত্রের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি জরিপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরিপ এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন। এই সূচকগুলো প্রতিবছর প্রকাশিত হয়।

- WGI প্রতিবছর শাসনের ছয়টি মাত্রাকে কেন্দ্র করে যৌগিক সূচক প্রকাশ করে। এই ছয়টি মাত্রা হলো:
১) মত প্রকাশ ও জবাবদিহিতা (Voice and Accountability),
২) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (Political Stability),
৩) সরকারি কার্যকারিতা (Government Effectiveness),
৪) নিয়ন্ত্রক গুণমান (Regulatory Quality),
৫) আইনের শাসন (Rule of Law) এবং
৬) দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ (Control of Corruption)।

উৎস:
i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট। [link]
ii) The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology [Link]
iii) WGI 2025 Revision: Governance Estimates and Absolute Scores (1996-2024) (Excel) [Link]

৫৭৬.
নিচের কে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আমলাগণ 
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
 সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়ন:
- সরকার যে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে থাকে আমলাতন্ত্র।
- অর্থাৎ আমলাগণ সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।
- আমলারা সরকারের আদেশ-নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে।
- আমলাদের দ্বারা সরকারি নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের উপর সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় নয় কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হচ্ছে সুশাসনের পূর্বশর্ত, অন্তরায় নয়।

• সুশাসনের উপাদান:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ ইত্যাদি।

• সুশাসনের অন্তরায়:
- স্বজনপ্রীতি,
- দুর্নীতি,
- অস্বচ্ছতা,
- স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৭৮.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান?
  1. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
১. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
২. সামাজিক ন্যায়বিচার
৩. শৃঙ্খলাবোধ
৪. সহনশীলতা
৫. সহমর্মিতা
৬. শ্রমের মর্যাদা 
৭. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
৮. আইনের শাসন
৯. নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ
১০. সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা
১১. সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৭৯.
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা কী?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. দুর্নীতি 
  3. শিক্ষার অভাব
  4. প্রযুক্তির ঘাটতি
ব্যাখ্যা

• সুশাসন ও দুর্নীতি:
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার পথে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি।
- দুর্নীতি প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে।
- উন্নত ভবিষ্যতের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কিন্তু দুর্নীতির কারণে সুশাসনের মূল উপাদান- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

• দুর্নীতি যেভাবে উন্নয়ন ও সুশাসন ব্যাহত করে-
- অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি;
- সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি;
- সুশাসনের অবক্ষয়;
- অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে নেতিবাচক প্রভাব;
- গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ক্ষতি।

• দুর্নীতি প্রতিরোধের উপায়-
- জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা;
- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করা;
- আইনের শাসন নিশ্চিত করা;
- প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো;
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৫৮০.
একজন সুনাগরিকের গুণাবলি হিসেবে কোন গুনসমূহ সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে?
  1. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা এবং বুদ্ধি
  2. বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক
  3. সহিষ্ণুতা, নিষ্ঠা এবং কর্তব্যবোধ
  4. জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সুনাগরিকের গুণাবলি:
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে।
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- তবে, লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮১.
নৈতিকতা মূলত কোন ধরনের ব্যাপার?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. ব্যক্তিগত ও সামাজিক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮২.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কীভাবে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন করে
  2. নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে
  3. নাগরিকদের ভাতা প্রধান করে
  4. বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
সরকার ও সুশাসন:
-সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য,
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

অন্যদিকে,
- নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন করে: নিয়মিত সুষ্ঠু নির্বাচন সুশাসনের একটি অংশ হলেও, এটি এককভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়।
- নাগরিকদের ভাতা প্রদান করে: ভাতা প্রদান একটি সামাজিক সুরক্ষা নীতি হতে পারে, কিন্তু এটি সরাসরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক মাধ্যম নয়।
- বেকারত্বের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে: কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ, তবে এটি সুশাসনের একটি উপাদান মাত্র।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৫৮৩.
'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ডাইসি
  2. লেকি
  3. বার্কার
  4. আব্রাহাম লিংকন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন।
- গণতন্ত্র কথাটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন বা কর্তৃত্ব।

উল্লেখ্য,
- বার্কারের মতে, 'গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার'।

এছাড়াও,
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮৪.
গণতন্ত্র বিকাশ ও প্রতিষ্ঠার জন্যে একান্ত অপরিহার্য-
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. কর্তব্যবোধ
  3. ঔচিত্যবোধ
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূ্ল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্যে সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে ‍সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫৮৫.
নীতিবিদ্যাকে "নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান" বলেছেন কে?
  1. পি. ডব্লিও. টেইলার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. জে.এস. ম্যাকেনজি
  4. উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যার কিছু প্রচলিত সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা”।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”
- ডি.ডি. রাফায়েলের মতে, "আদর্শ বা মূল্য সম্পর্কে, যথোচিত-অযথোচিত এবং শুভ-অশুভের ধারণা সম্পর্কে অথবা কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয় সে সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান হচ্ছে নীতিদর্শন"।
- জে.এস. ম্যাকেনজি নীতিবিদ্যাকে এমন একটি বিদ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন যা মানুষের আচরণের যথোচিত্য বা ভালত্ব নিয়ে আলোচনা করে ৷

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৬.
মানুষের সভা-সমিতি করার অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

আইনগত অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, ভোটদানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার।
- আইনগত অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

(ক) সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

(খ) রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভ, সরকারি কাজের সমালোচনা, আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

(গ) অর্থনৈতিক অধিকার:
- ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৮৭.
'ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙিক্ষত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ' - উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. মেরিল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হল মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলতে গেলে মূল্যবোধ হল কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস ।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হল মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে ।

♦ উল্লেখ্য:
⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন:
- "ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙিক্ষত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।"

⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে:
- 'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।'

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন:
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে:
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৮৮.
জনমত গঠনের জন্যে অত্যাবশ্যক?
  1. ক) তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) রাজনৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা
ব্যাখ্যা
জনমত গঠনের ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জনমত গড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
- জনমত গঠনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে গণমাধ্যম, সভা-সমিতি, আইনসভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রধান।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৫৮৯.
সভ্য সমাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
  2. আইনের শাসন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে "আইনের শাসন" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৯০.
ই-গভর্নেন্সের ফলে কী কী সুফল অর্জিত হয়?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়
  2. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  3. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• ই-গভর্নেন্স:
-  ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৯১.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল-এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণী নয় কোনটি?
  1. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী
  2. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  4. সমদৃষ্টিসম্পন্ন গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল-এর মতে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর শ্রেণী নয় - সমদৃষ্টিসম্পন্ন (গোষ্ঠী। 

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করে।
- ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী: স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী: যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী: অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী: উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

• অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ২ ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
(১) স্বার্থকারী গোষ্ঠী,
(২) সমদৃষ্টিসম্পন্ন (গোষ্ঠী।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯২.
নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে কী বলে?
  1. মূল্যবোধ
  2. শুদ্ধাচার
  3. সফলতা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান সততা ও নিষ্ঠা।
- নীতির বিপরীত হলো দুর্নীতি।
- নীতিশাস্ত্রের বিকাশ করেন এরিস্টটল।
- নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৫৯৩.
কোনটি সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসন?
  1. সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র রক্ষা
  2. রাজনৈতিক অংশগ্রহন বৃদ্ধি
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলছে। 

⇒ সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব:
- প্রথমেই ধরা যাক সামাজিক ক্ষেত্রের কথা। সুশাসন ছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা ও তা বজায় রাখা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ; সন্তানসন্ততিকে শিক্ষিত, রুচিবান ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেননা এগুলো সবই সম্ভব সুশাসিত সমাজ ও রাষ্ট্রে।

⇒ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইন না মানলে শাস্তি পেতে হবে, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সব থেকে বড় কথা আইন মানুষের অধিকার উপভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। আইনের উপস্থিতি ছাড়া উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় না এবং নাগরিক অধিকার উপভোগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সততা ও সতর্কতার সাথে একজন নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে না, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে না৷

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্ব:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৯৪.
নিচের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান?
  1. ক) প্রতীক
  2. খ) ভাষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি হলো একটি সম্প্রদায় বা গোত্রের সাধারণ বিশ্বাস, আচরণ, প্রথা তথা পুরো জীবন প্রণালি।
সংস্কৃতির সাধারণ উপাদানসমূহ হলো:
- প্রতীক
- ভাষা
- মূল্যবোধ
- প্রথা বা সাধারণ আদর্শ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
৫৯৫.
নিচের কোনটি মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে?
  1. ক) সামাজিক শিক্ষা
  2. খ) পারিবারিক শিক্ষা
  3. গ) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
- নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রেখে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে।
- নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।

তথ্যসূত্র:- নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৬.
সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের পরিস্থিতিতে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি
  2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৭.
‘আত্মসুখবাদ' এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন -
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) এরিস্টিপাস
  4. ঘ) ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা
সুখবাদ একটি প্রাচীন মতবাদ; প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল সবাইকে এক  অর্থে সুখবাদী বলা যায়। 
কিন্তু প্রকৃতঅর্থে গ্রিকদের মধ্যে সুখবাদী বলতে যাদেরকে আমরা বুঝি তাঁরা হলেন সাইরেনিক সম্প্রদায়ের লোক; আর তাঁরা ছিলেন আত্ম-সুখবাদী। 
 
আত্ম-সুখবাদী মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সাইরিনের অধিবাসী এরিস্টিপাস, যিনি ছিলেন সক্রেটিসের শিষ্য। 
বলা হয়ে থাকে যে, সক্রেটিসের নৈতিক ভাবনার একটি দিককে নিজের মত বিকশিত করে তিনি তার সুখবাদ প্রবর্তন করেছিলেন। 
অপর আরেক দিক বিকশিত করে দুঃখবাদের প্রবর্তন করেছিলেন সিনিক এন্টিসথেনিস।
 
এরিস্টিপাস এবং তাঁর সম্প্রদায়ের লোকদের মতে মানুষের জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষণিকের সুখ।
শিক্ষা-সংস্কৃতি তাঁদের মতে মূল্যবান এই কারণে যে, এগুলোও সুখ দেয়। 
তবে জ্ঞানী শিক্ষিত সংস্কৃতিবান ব্যক্তিদের অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য এই যে, তাঁরা আত্ম-সংযম অনুশীলন করেন এবং তাঁরা তা করেন সর্বোচ্চ সুখ পাওয়ার জন্য। 
 
সাইরেনিকদের মতে সুখের পরিমাপ করতে হবে এর তীব্রতা দিয়ে। 
সক্রেটিস সদ্গুণের কথা বলেছিলেন; তাঁদের মতে এগুলো নিজে কোন লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য অর্জনের উপায়মাত্র। 
ন্যায়, প্রজ্ঞা, বন্ধুত্ব,  সৎ, কেননা তারা সুখ আনয়ন করে।
 
উৎস: এসএসএইচএল, বিএ/বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
সততা সম্পর্কে এরিষ্টটলের মতে কোনটি সঠিক?
  1. সততা কেবল আইনের মাধ্যমে অর্জিত হয়
  2. সততা শুধুমাত্র কর্তব্য পালনের ফল
  3. সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত
  4. সততা জন্মগত প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
সততা (Honesty):
- নীতিশাস্ত্রে সততা বলতে বুঝায় মানুষের চরিত্রের স্থায়ী প্রবণতা।
- সততা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা নয়, অর্জিত প্রবণতা।
- কর্তব্য করার অভ্যাসের ফলেই সততা জন্মে।
- সততার স্বরূপ সম্পর্কে এরিষ্টটল বলেন, সততা মনের স্থায়ী অবস্থা যা ইচ্ছার দ্বারা গঠিত এবং যার ভিত্তি বাস্তব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শ-যে আদর্শটি বিচারবুদ্ধি স্থির করে দিয়েছে।
- তাই দেখা যায় নৈতিক আদর্শ অনুসারে ভাল কাজ নির্বাচন ও সম্পাদনের মাধ্যমেই যে অভ্যাস গড়ে উঠে তাই সততা।
- কোন মানুষ জন্মগতভাবে সৎ হতে পারে না, মানুষ ভাল কাজ করতে যখন সৎ অভ্যাস গঠন করে, তখন তাকে সৎলোক বলা হয়।
- মানুষ যখন তার প্রবৃত্তি, কামনা ও বাসনাকে বিচার-বুদ্ধির দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে জীবনযাপন করে তখন সে চরিত্রবান বলে বিবেচিত হয়।
- তাই ম্যাকেনজী বলেন, সততা বলতে বুঝায় চরিত্রের সৎ অভ্যাস এবং তা কর্তব্য থেকে পৃথক।
- কর্তব্য বলতে বুঝায় এক বিশেষ ধরনের কাজ যা আমাদের করা উচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৯.
‘Morality’ - শব্দটি এসেছে ল্যাটিন -
  1. ক) Moralitas
  2. খ) Moralitis
  3. গ) Morali
  4. ঘ) Moral
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ ‘Morality’।
- ইংরেজী এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে।
- যার অর্থ ‘সঠিক আচরণ বা চরিত্র’।     

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬০০.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হচ্ছে- 
  1. ধর্ম
  2. সংস্কৃতি
  3. আইন
  4. গনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস.. সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।