- সংস্কৃতি ও শিক্ষার সম্পর্ক
অবিচ্ছেদ্য। একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
- অনেক ক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার।
- এই দুটো প্রত্যয় একটি অন্যটির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে বা একটি অন্যটি এমনভাবে বিলীন হয়ে যায় যে, এদের স্বতন্ত্ররূপে চিনে নেয়া কঠিন।
- শিক্ষা যেমন সংস্কৃতিকে গতিশীল রাখে, আবার সংস্কৃতিও তেমনি শিক্ষার দ্বারাই অর্জিত হয়। ফলে উভয়ই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
- পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া শিক্ষা-দীক্ষা, ভাবধারা, রীতি-নীতি, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান, কৌশল, দক্ষতা, দর্শন ইত্যাদিকে সংস্কৃতি (Culture) বলা হয়। সংস্কৃতির আরেক নাম ‘সামাজিক উত্তরাধিকার’ (Social Heritage)।
সংক্ষেপে ‘সংস্কৃতি’ বলতে একটি মানবগোষ্ঠীর সমগ্র জীবন ধারাকে বোঝায়। “Culture is the total way of life”. এ হলো একটি মানবগোষ্ঠীর আচার-আচরণ, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আহার-বিহার, বিলাস-ব্যাসন, উপকরণ প্রভৃতি সবকিছুই।
আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীব হিসেবে মানুষের ব্যক্তিত্বে উৎস মূলত দ্বিবিধ: একটি হলো জন্মগত ও অপরটি হলো সংস্কৃতিগত।
অর্থাৎ সমাজ-সংস্কৃতির ওপর মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল।
- বস্তুত, মানুষের ব্যক্তিত্বকে রূপায়ন করে তার সংস্কৃতি। মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত ও বিকশিত হয় তার সামগ্রিক সংস্কৃতিরই অংশ হিসেবে।
- মানুষের ব্যক্তিত্ব মূলত তার সংস্কৃতিরই ফল।
- আর শিক্ষার পরিধি প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনেরই পরিধি।
- শিক্ষা ব্যক্তিত্ব গঠন করে, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। শিক্ষা ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির আচরণে অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক স্থায়ী পরিবর্তন আনে।
উৎসঃ স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রামের; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।