বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ৪০১৫০০ / ৩,৮২৯

৪০১.
"সংগঠন করার স্বাধীনতা" কোন ধরনের সাম্য?
  1. আইনগত সাম্য
  2. অর্থনৈতিক সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সামাজিক সাম্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাজনৈতিক সাম্য প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।
- প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছ।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের যে চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) প্রাতিষ্ঠানিকতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) আইনী কাঠামো
ব্যাখ্যা
''সুশাসন'' প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন। সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’।
সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Government এর মতই Governance শব্দটি এসেছে ‘‘kubernao’’ নামক ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হল−
(i) দায়িত্বশীলতা
(ii) স্বচ্ছতা
(iii) আইনী কাঠামো
(iv) অংশগ্রহণ

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
৪০৩.
সুশাসনের মূলনীতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. কর্তৃত্ববাদী শাসন
  3. কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. স্বজন প্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Good Governance.
- সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে - জাতিসংঘ।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- জাতিসংঘের সংস্থা UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করে - সুশাসন।
- সুশাসনের মূলনীতি হচ্ছে - স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। 
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন - আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত এবং সম্পাদিত কাজের জন্য আইনসভার নিকট
দায়বদ্ধ থাকে।
- আইন সভার সদস্যগণ জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪০৪.
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে কোনটি ঘটে?
  1. সাক্ষরতার হার হ্রাস
  2. বেকারত্ব
  3. রাহাজানি
  4. দারিদ্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা - ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
৪০৫.
নৈরাজ্য নিম্নের কোন তত্ত্বের মূল উপাদান?
  1. উদারতাবাদ
  2. ভাববাদ
  3. বাস্তববাদ
  4. শূন্যবাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ (Realism):
- বাস্তববাদ অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।
- মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
⇒ ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।
- তাঁদের মতে, চিন্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা প্রভৃতির যেমন মন-নিরপেক্ষ কোন সত্তা নেই, তেমনি বাইরের বস্তুরও কোন মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব নেই।
- ভাববাদীদের মতে, বাইরের বস্তু যখন জ্ঞানের জন্য জানা বিষয় বা বস্তু হয়, তখন এই বাইরের বস্তু হয় মানুষের উপর, না হয় স্রষ্টার উপর জ্ঞানের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ভর করে।
- তাই বস্তুর জ্ঞান-নিরপেক্ষ বা মন-নিরপেক্ষ কোন স্বতন্ত্র সত্তা নেই।

⇒ উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।

⇒ শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৪০৬.
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ক) ২০০৮ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১০ সালে
  4. ঘ) ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- তথ্য প্রাপ্তি বর্তমানে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার প্রণয়ন করেছে।
- এই আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশন গঠন ও প্রত্যেকটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগদানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

• তথ্য কমিশনের গঠন:
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১১(১) উপ-ধারার বিধান মতে আইন জারির ৯০ দিনের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার, তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার ছিলেন এম আজিজুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৭.
সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে -
  1. জনগণের অংশগ্রহণ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক দূরদর্শীতা
  4. নতুন আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
• জনগণের অংশগ্রহণ:
- অংশগ্রহণ অর্থ হলো রাজনৈতিক ও শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ, নীতি প্রণয়নে নাগরিকের সম্পৃক্ততা, তথ্য, মত ও  পরামর্শমূলক কাজে জনগণের অংশীদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যৌথ উদ্যোগ, যৌথ পরিকল্পনা এবং জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
- রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪০৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণের মাঝে কীসের প্রতিফলন ঘটবে?
  1. অধিকার সচেতন
  2. কর্তব্য সচেতন 
  3. অর্থনৈতিক সচেতন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। 

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ  প্রভাবে জনগণের দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪০৯.
কে বিশ্বাস করতেন যে, উত্তম জীবন গড়ে তোলার জন্যই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব?
  1. প্লেটো
  2. ইবনে খালদুন
  3. এরিস্টটল
  4. সকলেই
ব্যাখ্যা
- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র মানব সভ্যতার বিবর্তনের ফসল।
- যুগের পর যুগ ও বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে বিভিন্ন শক্তি ও উপাদানের সমন্বয়ে এসবের উদ্ভব ঘটেছে।
- এসব সংগঠন গড়ে উঠেছে মানব জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদানের জন্য।
- এ সকল সংগঠনের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য একসময় শাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
- আদিতে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসন প্রবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- মনুসংহিতায় লক্ষ্য করা যায় যে, রাজা প্রজাদের নিকট থেকে উৎপন্ন ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ রাজস্ব আদায় করতো।
- এর বিনিময়ে রাজা প্রজাদের নিরাপত্ত বিধান করতো।
- প্লেটো, এরিস্টটল, ইবনে খালদুন প্রমুখ দার্শনিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানিগণ বিশ্বাস করতেন যে, উত্তম জীবন গড়ে তোলার জন্যই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব (The State exists to Promote good life) I

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১০.
কোন দেশের সাধারণ আইন চিরাচরিত রীতি ও প্রথা নির্ভর?
  1. ক) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) যুক্তরাজ্য
  3. গ) গ্রীস
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• যা সাধারণত মেনে চলা হয় তাই প্রথা।
- প্রত্যেক সমাজে কিছু কিছু আচরণ বিধি গড়ে উঠে।
- অভ্যাসগতভাবে বা সুবিধার জন্য এই রীতিনীতিকে মানুষ মেনে চলে, কেউ লঙ্ঘন করে না।
- এভাবে রীতিনীতিগুলো ক্রমাগতভাবে অনুসরণের ফলে প্রথার সৃষ্টি হয়।
- পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের দ্বারা স্বীকৃতি ও অনুমোদন লাভের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়।
- ইংল্যান্ডের সাধারণ আইনগুলো প্রথার উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। 


সূত্র: পৌরনীতি, ৯ম-১০ম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
"পেশা পরিবর্তনের সুযোগ" কোন ধরনের সাম্য?
  1. ব্যক্তিগত সাম্য
  2. সামাজিক সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. অর্থনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য:
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১২.
'নিজেকে জানো' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1.  এরিস্টটল
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৩.
'আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. এ্যারিস্টটল
  2. জন অস্টিন
  3. হল্যান্ড
  4. হেনরি মেইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. নৈতিকতা
  4. উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা

→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি - উদারতাবাদ ।

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমতসহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায় ।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৫.
জাতীয় সংহতির জন্যে কী প্রয়োজন?
  1. ক) সম্পদের সুষম বন্টন
  2. খ) শক্তিশালী সামরিক বাহিনী
  3. গ) রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
  4. ঘ) সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংহতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী পৃথক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জাতীয় একাগ্রতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪১৬.
“The Conquest of Happiness” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. স্টুয়ার্ট মিল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. এরিস্টটল
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
-The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

অপরদিকে,
• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

• স্টুয়ার্ট মিলের বিখ্যাত বই: 
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৪১৭.
___থেকে আইন আসে
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সমাজ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) ন্যায়বোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ থেকে আসে আইন
▪ আইন হচ্ছে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কিছু বিধানের সমষ্টি যা রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত ও সমর্থিত এবং জনকল্যানের জন্য অপরিহার্য।
▪ সুশাসন মূল্যবোধের জাতক।
▪ মূল্যবোধ সুশাসনের কারিগর।
▪ সুশাসন হলো মূল্যবোধের রক্ষক। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : প্রথমপত্র প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শ গঠনে কী ভূমিকা রাখে?
  1. সহায়ক
  2. নেতিবাচক
  3. ক্ষতিকর
  4. অপ্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ন্যায়পরায়ণতার মতো মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকশিত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি হিসেবে কাজ করে, যা ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তৈরি করে। এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

• মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় আদর্শ গঠনে সুনাগরিক তৈরি, নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
- এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে। এই শিক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৪১৯.
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি কোনগুলো?
  1. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট টেকনোলজি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
  2. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট টেকনোলজি
  3. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট টেকনোলজি ও স্মার্ট সোসাইটি
  4. স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও স্মার্ট সোসাইটি
ব্যাখ্যা
স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

⇒ স্মার্ট নাগরিক:
- শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকেরা নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের এবং সমাজের সকলের জীবন ও জীবিকার মান বদলে দেবে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; সরকারি ও বেসরকারি খাত প্রদত্ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে; দেশ বিদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ঋদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

⇒ স্মার্ট অর্থনীতি:
- স্মার্ট অর্থনীতি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী-পুরুষ, শিক্ষা অথবা ভৌগোলিক দূরত্ব নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। রোবটিক্সের ব্যবহার হবে কৃষি, শিল্প, সেবা সকল খাতে; কমিয়ে ফেলা যাবে কায়িক শ্রম; সম্পদের হবে সুষ্ঠু ব্যবহার; কমবে অপচয়; বাড়বে উৎপাদনশীলতা; খরচ কমবে উৎপাদনের; উৎপাদন হয়ে উঠবে প্রতিযোগিতামূলক; প্রসারিত হবে আভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজার। তথ্য প্রযুক্তি সহযোগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেয়া যাবে দ্রুত ও তথ্য নির্ভর সিদ্ধান্ত; সহজে করা যাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে দক্ষ।

⇒ স্মার্ট সরকার:
- প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার পরিচালনা ব্যবস্থাকে দক্ষ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবে। স্মার্ট সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে জ্ঞাননির্ভর। আইওটি, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং স্মার্ট নাগরিকদের স্মার্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করবে। সরকার তথা রাষ্ট্র হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

⇒ স্মার্ট সমাজ:
- স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তির সহযোগিতায় দূর করা যাবে সব রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজে নাগরিকেরা জ্ঞান চর্চা ও প্রয়োগের সুযোগ পাবেন অনেক বেশি। সঠিক তথ্য প্রবাহের ফলে কমে যাবে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ। প্রযুক্তি ব্যবহার সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৪২০.
'সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।' উক্তিটি কার?
  1. ডাইসি
  2. গার্নার
  3. লাস্কি
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪২১.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের ______
  1. প্রতিদ্বন্দ্বী
  2. অসংলগ্ন
  3. সম্পূরক
  4. পৃথক
ব্যাখ্যা

জাতীয় উন্নয়ন:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বিত প্রয়োগ একটি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। যেমন-

• রাজনৈতিক উন্নয়ন:
মূল্যবোধ শিক্ষা রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। সুশাসনের ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, দুর্নীতি কমে, এবং জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।

• অর্থনৈতিক উন্নয়ন:
সুশাসনের ফলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়, দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ায়।

• সামাজিক উন্নয়ন:
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন সমাজে ন্যায়বিচার, সামাজিক সমতা, আইন-শৃঙ্খলা, এবং নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করে। এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখে।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র। 

৪২২.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. জনকল্যাণ
  4. কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের অন্যতম প্রধান উপাদানসমূহ-
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- স্বচ্ছতা,
- সমতা ও ন্যায্যতা,
- সংবেদনশীলতা,
- কার্যকারিতা ও দক্ষতা,
- কৌশলগত দৃষ্টি,
- বিকেন্দ্রীকরণ
- জনকল্যাণ,
- সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা,
- দুর্নীতি প্রতিরোধ
- জবাবদিহিতা ইত্যাদি।

• অপরদিকে, সুশাসনের পথে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

৪২৩.
নিচের কোনটি পরিবর্তনশীল?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সবগুলো অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪২৪.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নৈর্ব্যক্তিকতা
  2. লিখিত দলিল
  3. আপেক্ষিকতা
  4. বিভিন্নতা
ব্যাখ্যা
লিখিত দলিল মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪২৫.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সুশাসনের কতটি উপাদানের উল্লেখ করেছে?
  1. ৮টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ওয়েবসাইট)
৪২৬.
"সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"-উক্তিটি কে বলেছেন? 
  1. ডেবিড আর্চার
  2. এফ ই মেরিল
  3. এইচ এম জনসন
  4. ক্লাইড ক্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের ধারণা: 
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।

অন্যদিকে,
• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল: 
- "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৭.
রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস কে?
  1. ক) জনগণ
  2. খ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. গ) রাজনৈতিক দল
  4. ঘ) আমলা 
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে নেতারা জনমত গঠন করেন।
- জনগণ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস।
- জনগণ যাতে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে সেদিকে নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ নাগরিকেরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে সে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪২৮.
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা হয় কবে? 
  1. ৮ ডিসেম্বর
  2. ৯ ডিসেম্বর
  3. ১০ ডিসেম্বর
  4. ১২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ৩০টি ধারা সম্বলিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরের দিন ১০ ডিসেম্বরকে প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রে মোট ৩০ টি ধারা রয়েছে।
- এটি প্রস্তুত করেন নোবেল বিজয়ী ওরেন ক্যাসিন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।

৪২৯.
সুশাসন হচ্ছে একটি-
  1. ক) পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা
  2. খ) পুরাতন ধ্যান-ধারণা
  3. গ) আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  4. ঘ) আদর্শ পরিচালনা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা, বৈধতা, স্বচ্ছতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ইত্যাদি থাকে তাকে সুশাসন বলে। তাই সুশাসন আদর্শ পরিচালনা ব্যবস্থা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩০.
কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. আইনের শাসন
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ হল এমন কিছু নির্দেশিকা যা একজন ব্যক্তিকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনে সৎ, বিশ্বাসযোগ্য এবং ন্যায্য বিচার এবং সম্পর্ক তৈরি করতে, মানুষের নৈতিকতার সাথে আত্ম-সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নৈতিক মূল্যবোধ একজন ব্যক্তির আচরণকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৩১.
‘ন্যায়নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে যা অন্যায়, তা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক বা ন্যায় হতে পারে না’-উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক লাস্কি
  2. আইভর ব্রাউন
  3. ম্যাকাইভার
  4. সি জে ফকস
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক:
- পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র নাগরিকের নৈতিকতা সম্বন্ধীয় বিষয়াবলি আলোচনা করে থাকে।
- উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- সেক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পরের পরিপূরক।
- যেকোন নৈতিক আদর্শ নাগরিক দ্বারা স্বীকৃত হলে রাষ্ট্র সহজেই সেটাকে আইনে পরিণত করতে পারে।
- আবার রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত হলেও কোন আইন নৈতিকতা বিরোধী হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- এ প্রসঙ্গে সি জে ফক্স (C. J. Fox) বলেন, "ন্যায়নীতির দিক থেকে যা অন্যায় তা রাজনৈতিক দিক থেকে ন্যায় হতে পারে না।"

⇒ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- উভয় শাস্ত্রের মূল লক্ষ্য নৈতিকতা ও সুনাগরিকতার জ্ঞানের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধন।
- এ প্রসঙ্গে আইভর ব্রাউন (Ivor Brown) বলেন, "নীতিশাস্ত্রের ধারণা রাজনৈতিক মতবাদ ছাড়া অসম্পূর্ণ এবং নীতিশাস্ত্রের ধারণা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক মতবাদ অর্থহীন।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩২.
‘খ্যাতি বা সম্মান অর্জনের অধিকার’ কোন শ্রেণির অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. আইনগত অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে।  
- সামাজিক অধিকার সমূহ নিম্নরূপ:
i. জীবনের অধিকার,
ii. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার,
iii. চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
iv. সভা-সমিতির অধিকার, 
v. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার ইত্যাদি । 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

৪৩৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় হচ্ছে -
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. আইন মান্য করা
  3. সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ জনসম্মতি।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৩৪.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. Transparency
  2. Predictability
  3. Participation
  4. Responsiveness
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় Responsiveness বা প্রতিক্রিয়াশীলতা। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:

- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: i) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৩৫.
মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে কী গড়ে তোলে?
  1. সংস্কৃতি
  2. আইন
  3. শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৬.
ছায়া মন্ত্রিসভার প্রধান কে হন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বিরোধী দলের নেতা
  3. স্পিকার
  4. রাষ্ট্রপ্রধান
ব্যাখ্যা

ছায়া সরকার:
- সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ছায়া সরকার (Shadow government) গঠিত হয়।
- নির্বাচনে পরাজিত দল তাদের দলীয় নেতাদের নিয়ে অনেক সময় ছায়া সরকার গঠন করেন।
- এর উদ্দেশ্য হলাে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযােগ সৃষ্টি হলে দ্রুততম সময়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠন করা যায়।
- কেননা সংসদীয় সরকার অস্থিতিশীল।
- যে কোন সময় আইনসভার ভােটাভােটিতে সরকার পতন হলে বিরােধী দল বিকল্প সরকার গঠন করে।

⇒ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারে সরকারের যে মন্ত্রিপরিষদ থাকে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমকে মনিটরিং করে বিরােধী দল।
- মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের ছায়া সরকার সরকারের বিভিন্ন দোষত্রুটি খুঁজে বের করে সরকারকে সংশােধনের সুযােগ করে দেয়। 

বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩৭.
জাতিসংঘ কত সালে সুশাসনের 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৪৩৮.
Power: A New Social Analysis গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. অ্যাডাম স্মিথ
  3. কার্ল মার্কস
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিজমের কারণে ক্যামব্রিজ থেকে পদত্যাগ;
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৪৩৯.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সৌজন্যবোধ
  2. আনুগত্য
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. মিথ্যা না বলা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
সৌজন্যবোধ ও শৃঙ্খলাবোধ হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- মিথ্যা না বলা হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৪৪০.
'আইন মেনে চলা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ,
▪ পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ,
▪ ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

৪৪১.
গণমাধ্যম কোন ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের নানা ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরে?
  1. ক) ওয়াচম্যান
  2. খ) ওয়াচডগ
  3. গ) ওভারসিয়ার
  4. ঘ) লিংক ব্রিজ
ব্যাখ্যা
সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। গণমাধ্যম তার ওয়াচডগ ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের নানা ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
[সূত্রঃ গণযোগাযোগ তত্ত্ব ও প্রযোগ : শায়ন্তী হায়দার ও সাইফুল সামিন]
৪৪২.
ইউএনডিপি (UNDP) এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।
- ইউএনডিপি এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: ইউএনডিপি ওয়েবসাইট।

৪৪৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
  1. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরণ
  3. সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান
  4. অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া
ব্যাখ্যা
• সুশসান:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করত হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন।
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
→ আইন মান্য করা।
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন। (অর্থাৎ সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।)
→ নিয়মিত কর প্রদান।
→ রাষ্ট্রের সেবা করা।
→ সন্তানদের শিক্ষাদান।

উল্লেখ্য, 
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন (Selection of honest and qualified leadership):
- নির্বাচনে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সততা ও বিজ্ঞতার সাথে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত করা উচিত।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
-এই জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের অন্যতম কর্তব্য হলো সততার সাথে নির্বাচনে ভোট প্রদান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৪৪.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস - 
  1. ৫টি 
  2. ৬টি 
  3. ৭টি 
  4. ৮টি 
ব্যাখ্যা

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৪৫.
জেরেমি বেন্থাম কোন মতবাদের প্রবক্তা ছিলেন?
  1. সামাজিক চুক্তি
  2. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ
  3. উপযোগবাদ
  4. সাম্যবাদ নীতি
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদের

জেরেমি বেন্থাম:

- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'। 
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

নৈতিকতা ও উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

উৎস: i) Britannica.
         ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
জাতিসংঘ দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে- 
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সংস্থায় (UNCAC) বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে : ২০০৭ সালে। 

• মেরিডা কনভেনশন:
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী একমাত্র বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা।
- UNCAC-এর লক্ষ্য: দুর্নীতি প্রতিরোধ, অপরাধীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং কারিগরি সহায়তা।
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরকাল: ৯-১১ ডিসেম্বর, ২০০৩ সালে।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, ইউকাটান, মেক্সিকো।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫সালে।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী দেশ: ১৯১টি দেশ।
- বাংলাদেশের স্বাক্ষর: ২০০৭ সালে, এবং পরবর্তীতে অনুমোদনও দিয়েছে।

উৎস: UNCAC ওয়েবসাইট।

৪৪৭.
ই-গভর্ন্যান্স প্রচলনের মাধ্যমে কোন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়?
  1. সরকারি ব্যবস্থায়
  2. বেসরকারি ব্যবস্থায়
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- সকল প্রকার সরকারি ও বেসরকারি সেবা-প্রদান, 'ব্যাক-অফিস' কার্যক্রম, তথ্য আদান-প্রদান, লেনদেন এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলেক্ট্রনিক, কম্পিউটিং এবং আইসিটির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে, কম খরচে, সঠিকভাবে এবং সহজে সকল ধরনের কর্মকাণ্ড বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচালনা করার প্রক্রিয়াকে ই-গভর্নেন্স বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায় যে, শাসন ব্যবস্থা ও সরকারি-বেসরকারি কার্য-প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক্স বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হচ্ছে ই-গভর্নেন্স।
- আর সে কারণেই ই-গভর্নেন্সকে অনেক সময় ডিজিটাল গভর্নেন্সও বলা হয়ে থাকে।
- কোনো একটি দেশে সুপ্রশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য।
- আর ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রচলনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ সম্ভব।
- ফলে নাগরিক-হয়রানি এবং সেবা-গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানির অবসান ঘটে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ ই-গভর্নেন্সে সরকারি- বেসরকারি সেবা ও তথ্যাদি আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াটি সরকার থেকে সরকারি সংস্থা (Government to Government Agencies i.e. G2G), সরকার থেকে নাগরিক (Government to Citizen i.e. G2C), নাগরিক থেকে সরকার (Citizen to Government i.e. C2G), সরকার থেকে সরকারি কর্মচারী (Government to Employee i.e. G2E) এবং/অথবা সরকার থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে (Government to Business i.e. G2B) সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৮.
'ভুল' ও 'শুদ্ধ' এর পার্থক্য নির্ণয় হয় কোন গুণের মাধ্যমে?
  1. ক) সততা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) কর্তব্যবোধ
  4. ঘ) সদাচার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৪৯.
আমলাতন্ত্র পেশাগত ও নিম্নের কোন মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে?
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৫০.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি কোন গ্রন্থে "অস্ত্রহীন নবী" (The Unarmed Prophet) সম্পর্কিত আলোচনা করেছেন?
  1. The Prince
  2. Discourses on Livy
  3. Florentine Histories
  4. The Art of War
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

→ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি "অস্ত্রহীন নবী" (The Unarmed Prophet) সম্পর্কিত আলোচনা "The Prince" গ্রন্থে করেছেন।
- ম্যাকিয়াভেলি "The Prince" গ্রন্থে রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং শাসকদের নৈতিকতা ও কৌশল সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন।
- "অস্ত্রহীন নবী" ধারণাটি তিনি এখানে একটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি এমন এক নেতার কথা বলেছেন যিনি অস্ত্র বা বাহিনী ছাড়া ক্ষমতা অর্জন ও পরিচালনা করতে চেয়েছেন।
- ম্যাকিয়াভেলি এক্ষেত্রে গিরোলামো সাভনরোলা (Girolamo Savonarola), যিনি ফ্লোরেন্সে ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার উদাহরণ দেন। সাভনরোলা তার আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় দর্শনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন অর্জন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু অস্ত্র বা বাহিনী না থাকার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
৪৫১.
কোনটি রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান নয়?
  1. ক) জাতীয়তাবাদ
  2. খ) সার্বভৌমত্ব
  3. গ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  4. ঘ) জনসমষ্টি
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।

- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথা:
১. স্থায়ী জনসমষ্টি,
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩. সরকার ও
৪. সার্বভৌমত্ব।

- রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান:
১. স্থায়িত্ব,
২. জাতীয়তাবাদ,
৩. অধিকার ও সাম্য,
৪. সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা,
৫. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি।

৪৫২.
শব্দগত অর্থে উদারতাবাদ কী?
  1. ক) অধিকারের মতবাদ
  2. খ) গণতন্ত্রের মতবাদ
  3. গ) স্বাধীনতার মতবাদ
  4. ঘ) আধুনিক রাষ্ট্রদর্শন
ব্যাখ্যা
• উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধুত।
• Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন। শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ
• আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে উদারতাবাদ উনিশ শতকের বিশের দশকে জন্ম নিলেও এর মূল ষোড়শ শতাব্দীর ‘রেনেসাঁ’ ও ‘রিফরমেশন’ আন্দোলন পর্যন্ত বিস্তৃত।
• এ দুটি আন্দোলনে ব্যক্তির স্বকীয় সত্ত্বা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়াস চালানো হয়েছিল। উদারতাবাদ এ প্রয়াসেরই নবতর সংস্করণ। • আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে উদারতাবাদ গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নামেও সমধিক প্রচলিত। চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতার সমন্বয়ে ব্যক্তি নাগরিকের অধিকারের যে সৌধ বা ইমারত গড়ে ওঠে, উদারতাবাদ তারই ফল।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৪৫৩.
Nihilism হলো একটি-
  1. সংশয়বাদী ধারণা
  2. নৈতিক মানদণ্ড
  3. সুখবাদী ধারণা
  4. উপযোগবাদী ধারণা
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪৫৪.
আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর -
  1. বিপরীত
  2. সম্পূরক
  3. নির্ভরশীল
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য সমাজের জন্য অতীব প্রয়োজন।
- সাম্য অর্থ সমান নয় বরং সমান করার ব্যবস্থাকে সাম্য বলে।
- নানা ধরনের সাম্য বিদ্যমান।
- একটি সভ্য সামাজে সাম্যের উপস্থিতি একান্তভাবে অপরিহার্য।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব নয়।
- আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল একে অপরের সম্পূরক।
- সমাজ ভেদে সাম্য চেতনা আলাদা হয়ে থাকে।
- তবে গণতন্ত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।
- তাই গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

⇒ সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, "গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।"
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।

• তদ্রূপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ করে।
- তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিম্নলিখিত কোন উপাদানটি আবশ্যক নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. দক্ষতা
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. মানবাধিকার সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
'স্বেচ্ছাচারিতা' সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক নয়, এটি সুশাসনের অন্তরায় নয়।
 
সুশাসনের জন্য নিম্নলিখিত উপাদানগুলি আবশ্যক:
⇒ আইনের শাসন;
⇒ অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ;
⇒ স্বচ্ছতা;
⇒ জবাবদিহিতা;
⇒ দক্ষতা;
⇒ সমতা ও অন্তর্ভুক্তি;
⇒ দুর্নীতি দমন;
⇒ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো;
⇒ দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি;
⇒ মানবাধিকার সংরক্ষণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৫৬.
কোন সংস্থার এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. আইএমএফ 
  3. ইউএনডিপি 
  4. জাতিসংঘ 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় কোথায়?
  1. কর্মক্ষেত্রে
  2. বিদ্যালয়ে
  3. পরিবারে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
৪৫৮.
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কী ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) অর্থনৈতিক
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) আইনগত
ব্যাখ্যা
নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
- উদাহরণ: বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫৯.
জাতীয় রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা কে ছিলেন?
  1. বেনিতো মুসোলিনি
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. অ্যাডলফ হিটলার
  4. রুশো
ব্যাখ্যা
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince, Discourses on Livy, The Life of Castruccio Castracani of Lucca, Florentine Histories, Lettera to Francesco Vettori, The Portable Machiavelli, The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৬০.
Worldwide Governance Indicators (WGI) কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক বর্ণিত সুশাসন সূচক:
- বিশ্বব্যাংকের Worldwide Governance Indicators (WGI) হলো বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত শাসনব্যবস্থা (governance) পরিমাপের সূচক।
- এটি ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- WGI মোট ৩৫টি আন্তঃদেশীয় তথ্যসূত্র থেকে সংগৃহীত উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। এসব তথ্যসূত্রের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি জরিপ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জরিপ এবং বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন। এই সূচকগুলো প্রতিবছর প্রকাশিত হয়।

• WGI প্রতিবছর শাসনের ছয়টি মাত্রাকে কেন্দ্র করে যৌগিক সূচক প্রকাশ করে। এই ছয়টি মাত্রা হলো:
১) মত প্রকাশ ও জবাবদিহিতা (Voice and Accountability),
২) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (Political Stability),
৩) সরকারি কার্যকারিতা (Government Effectiveness),
৪) নিয়ন্ত্রক গুণমান (Regulatory Quality),
৫) আইনের শাসন (Rule of Law) এবং
৬) দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ (Control of Corruption)।

উৎস: i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) The Worldwide Governance Indicators 2025 Methodology.
iii) WGI 2025 Revision: Governance Estimates and Absolute Scores (1996-2024).

৪৬১.
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত কোন স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. নাগরিক
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
-  যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৬২.
শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক হলো -
  1. ক) অবিচ্ছেদ্য
  2. খ) চিরন্তন
  3. গ) সাপেক্ষ
  4. ঘ) অভিন্ন
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতি ও শিক্ষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একের সঙ্গে অন্যের যোগাযোগ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। 
- অনেক ক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ও শিক্ষাকে পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। 
- এই দুটো প্রত্যয় একটি অন্যটির সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে বা একটি অন্যটি এমনভাবে বিলীন হয়ে যায় যে, এদের স্বতন্ত্ররূপে চিনে নেয়া কঠিন।
- শিক্ষা যেমন সংস্কৃতিকে গতিশীল রাখে, আবার সংস্কৃতিও তেমনি শিক্ষার দ্বারাই অর্জিত হয়। ফলে উভয়ই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
- পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া শিক্ষা-দীক্ষা, ভাবধারা, রীতি-নীতি, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান, কৌশল, দক্ষতা, দর্শন ইত্যাদিকে সংস্কৃতি (Culture) বলা হয়। সংস্কৃতির আরেক নাম ‘সামাজিক উত্তরাধিকার’ (Social Heritage)।

সংক্ষেপে ‘সংস্কৃতি’ বলতে একটি মানবগোষ্ঠীর সমগ্র জীবন ধারাকে বোঝায়। “Culture is the total way of life”. এ হলো একটি মানবগোষ্ঠীর আচার-আচরণ, বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আহার-বিহার, বিলাস-ব্যাসন, উপকরণ প্রভৃতি সবকিছুই।


আর সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীব হিসেবে মানুষের ব্যক্তিত্বে উৎস মূলত দ্বিবিধ: একটি হলো জন্মগত ও অপরটি হলো সংস্কৃতিগত। 
অর্থাৎ সমাজ-সংস্কৃতির ওপর মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল।
 
- বস্তুত, মানুষের ব্যক্তিত্বকে রূপায়ন করে তার সংস্কৃতি। মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠিত ও বিকশিত হয় তার সামগ্রিক সংস্কৃতিরই অংশ হিসেবে।
- মানুষের ব্যক্তিত্ব মূলত তার সংস্কৃতিরই ফল
- আর শিক্ষার পরিধি প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনেরই পরিধি।
- শিক্ষা ব্যক্তিত্ব গঠন করে, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। শিক্ষা ব্যক্তিত্ব বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির আচরণে অপেক্ষাকৃত ইতিবাচক স্থায়ী পরিবর্তন আনে। 

উৎসঃ স্কুল অব এডুকেশন, এমএড প্রোগ্রামের; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৩.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. ক্ষমতা
  2. স্বাধীনতা
  3. জনকল্যাণ
  4. কর্মদক্ষতা
ব্যাখ্যা
• মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা।

অন্যদিকে,
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
'Political Man' বইটি কার লেখা?
  1. স্যামুয়েল হান্টিংটন
  2. সেইমুর মার্টিন লিপসেট
  3. ডেভিড স্টরম্যান
  4. গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড
ব্যাখ্যা

- "Political Man" গ্রন্থের লেখক হলেন সেমুর মার্টিন লিপসেট।
- গ্রন্থটি তার রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ ও তাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য আমেরিকান সোসিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানজনক ম্যাকআইভার পুরস্কার অর্জন করে।

• সেমুর মার্টিন লিপসেট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই:
- Political Man.
- American Exceptionalism: A Double-Edged Sword.
- Political Man: The Social Bases of Politics.
- The First New Nation: The United States in Historical and Comparative Perspective.
- Revolution and Counterrevolution: Change and Persistence in Social Structures.

উৎস: ব্রিটানিকা, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

৪৬৫.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলাে-
  1. সমাজ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
- স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।

- সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
আমলাতন্ত্রকে সর্বপ্রথম যুক্তিসঙ্গত ও আইনগত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন-
  1. ক) রিচার্ড ক্রসম্যান
  2. খ) ফাইনার
  3. গ) ম্যাক্সওয়েবার
  4. ঘ) রুশো
ব্যাখ্যা

- সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন ম্যাক্সওয়েবার।
- আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য অঙ্গ।
- রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকরা এবং বাস্তবায়ন করেন আমলারা।
- জনগণের সাথে আমলাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক।
- রিচার্ড ক্রসম্যানের মত, অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।
- আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য খুব বেশি।

৪৬৭.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. পরিবেশগত মূল্যবোধ
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

• মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
→ সামাজিক মূল্যবোধ,
→ রাজনৈতিক মূল্যবোধ,
→ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
→ ধর্মীয় মূল্যবোধ,
→ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
→ নৈতিক মূল্যবোধ,
→ অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,
→ আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও
→ আধুনিক মূল্যবোধ।

'পরিবেশগত মূল্যবোধ'- মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪৬৮.
কোন অধিকার নীতি এবং বিবেক দ্বারা জাগ্রত?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. নৈতিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার।
- ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৯.
বিশ্ব ব্যাংকের মতে, সুশাসন ______ প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
  1. চারটি
  2. ছয়টি
  3. নয়টি
  4. এগারোটি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৪৭০.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে 'চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা'র কথা উল্লেখ আছে-
  1. ক) ৩৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৩৯(১) নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৩৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৩৭(২) নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- ৩৯(১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
- ৩৯(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের এবং
(খ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
- ৩৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সমাবেশে স্বাধীনতা,
- ৩৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- সংগঠনের স্বাধীনতা।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

৪৭১.
মূল্যবোধ কত ধরনের?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ৯
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ ৯ ধরনের -
১. সামাজিক মূল্যবোধ
২. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
৩. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
৪. ধর্মীয় মূল্যবোধ
৫. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
৬. নৈতিক মূল্যবোধ
৭. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
৮. আধ্যাতিক মূল্যবোধ
ও ৯. আধুনিক মূল্যবোধ। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক। আজ আছে কাল নেই৷ বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ হয়তো ভবিষ্যতে থাকবে না৷
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই

৪৭২.
ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি না থাকলে কী ঘটতে পারে?
  1. ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব হয় না
  2. স্বেচ্ছাচারিতার  বৃদ্ধি পায় না
  3. নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ আছে।
- এগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- এই তিনটি বিভাগ যদি স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে নিজ-নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয় তাহলে আশা করা যায় যে রাষ্ট্রের নাগরিকেরা তাদের প্রাপ্য স্বাধীনতাগুলো ভোগে সক্ষম হবে।
- শাসন বিভাগ যদি বিচার বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করে তবে একজন নাগরিক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
- এবং তার স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে,স্বেচ্ছাচারিতার জন্ম দেবে।
- তাই রাষ্ট্রের তিন বিভাগ ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথকভাবে সক্রিয় থাকা একান্ত প্রয়োজন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৩.
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সুশাসনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা হয়েছে কোনটিকে?
  1. নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায়ন
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. দারিদ্র বিমোচন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

⇒ জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
- মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪৭৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কোন উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে?
  1. ক) জাতীয় সুশাসন নীতিমালা
  2. খ) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল
  3. গ) ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান
  4. ঘ) গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
৪৭৫.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস- 
  1. ন্যায়বোধ
  2. প্রথা
  3. ধর্ম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন: 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। এগুলো হলো:
- প্রথা;
- ধর্ম;
- বিচার সংক্রান্ত রায়;
- বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
- ন্যায়বোধ এবং;
- আইনসভা।

অন্যদিকে,
- জন অস্টিনের মতে আইনের একমাত্র উৎস হলো সার্বভৌমের আদেশ
- ওপেনহেইম জনমতকেও আইনের উৎস বলে মনে করেছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)

৪৭৬.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সামাজিক নৈতিকতা
  2. সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা
  3. বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক
  4. অপরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

 মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী রীতিনীতি ও মানদণ্ডের সমষ্টি। এসব রীতিনীতি সমাজের বৃহৎ অংশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দ্বারা স্বীকৃত।

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. মানুষের কর্মকান্ডের ভালো-মন্দ বিচারের ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে
৩. মূল্যবোধ মূলত এক প্রকার সামাজিক নৈতিকতা
৪. মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল ও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে।
৫. মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক ইত্যাদি।

অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্নে "অপরিবর্তনশীল" এটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৭৭.
শ্বেতপত্র কী?
  1. সরকারের সাথে নির্দিষ্ঠ গোষ্ঠীর গোপন চুক্তিপত্র
  2. সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিগত নথি
  3. রাষ্ট্রের গোপনীয় দলিল
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উদাহরণ স্বরূপ:
- চার্চিল হোয়াইট পেপার (১৯২২) এবং একীভূত প্যালেস্টাইনীয় রাজ্য গঠন সংক্রা্ন্ত শ্বেতপত্র (১৯৩৯) উল্লেখ করা যায়।
- অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ শ্বেতপত্রের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছে পূর্ণ কর্মসংস্থান (১৯৪৫) এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত শ্বেতপত্র (১৯৬৪)।

উল্লেখ্য,
- ব্রিটিশ সংসদীয় প্রথায় ’সবুজপত্র’ জারী করার রীতিও বিদ্যমান।
- সবুজপত্র মূলত বিভিন্ন জনস্বার্থ বিষয়ক সমস্যার জন্য ব্যাপক আলোচনার উদ্দেশ্যে জারী করা হয়।
- সবুজপত্রে সরকার কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা সমাধানের পথ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেয়।

এছাড়াও,
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৮.
প্লেটো কোন সদ্গুণকে রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন?
  1. ন্যায়
  2. মিতাচার
  3. সাহস
  4. প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় -
  1. সমাজে
  2. পরিবারে
  3. বিদ্যালয়ে
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হল সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হল পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮০.
অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত কারণ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র -
  1. দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ
  2. রাজনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ
  3. গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ
  4. সুশিক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ
ব্যাখ্যা

অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত কারণ অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৪৮১.
সভ্য সমাজের মানদন্ড কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. নৈতিকতা
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
৪৮২.
‘মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ’ –মূল্যবোধ সম্পর্কে এটি কার অভিমত?
  1. ক্লাউড কুখোন
  2. এফ. ডব্লিউ. পামফ্রে
  3. কার্ল মার্কস
  4. স্টুয়াট সি. ডড
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে এফ. ডব্লিউ. পামফ্রে বলেন,
- ‘মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ’।

- সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে স্টুয়াট সি. ডড এর ভাষ্য হলো,
- ‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেসব রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।’

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৪৮৩.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" উক্তিটি কার? 
  1. মন্টেস্কু 
  2. জন লক 
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. উইলোবি
ব্যাখ্যা

- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই"

আইন স্বাধীনতার পরিপূরক:

- আইন যেমন কেবল নিয়ন্ত্রণ নয় তেমনি স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়।
- উভয়টির সাথেই যৌক্তিকতা বিষয়টি রয়েছে।
- আইন স্বাধীনতাকে পূর্ণ করে। স্বাধীনতা কোনভাবে বাধাগ্রস্থ হলে আইনের মাধ্যমে তা বলবৎ করা হয়।
- অর্থাৎ আইন ছাড়া স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না।
- আইন স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায়
- সমাজে আইনের অভাবে অনেক সময় মৌলিক স্বাধীনতাও খর্ব হয়।
- সেসব ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত হলে নাগরিকগণ প্রাপ্য স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে।
- আইন না থাকলে এক জনের দ্বারা অন্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে।
- তাই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে স্বাধীনতার সম্প্রসাবণ ঘটে।
- অর্থাৎ আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী।
- যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- তাই আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ‍এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ-
  1. ক) অধিকার সচেতন হবে
  2. খ) অধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দল গঠন করবে
  3. গ) কর্তব্য সচেতন হবে
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার আচরণ ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে মানুষ অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হবে। অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দিবে। জবাবদিহি মূলক আচরণ বা মানসিকতা বৃদ্ধি পাবে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৮৫.
'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন'-উক্তিটি করেছেন -
  1. লর্ড এ্যাকটন
  2. জি, ডি, এইচ, কোল
  3. আর, এইচ টনী
  4. হার্বার্ট এ, ডীন
ব্যাখ্যা
সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুটো পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
ক. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী'.
খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক'.

ক. স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর বিরোধী এবং আপোসহীন। একটির উপস্থিতি অপরটির মৃত্যু ঘটায়।
- লর্ড এ্যাকটন (Lord Acton) এ মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সাম্য ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
- বলা বাহুল্য, লর্ড এ্যাকটেনের এ মতবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তাঁর মতানুসারে স্বাধীনতার অর্থ দাঁড়ায় নিয়ন্ত্রণবিহীন স্বাধীনতা যা প্রকৃত প্রস্তাবে স্বেচ্ছারিতারই নামান্তর। আর সাম্য বলতে বোঝায় সুযোগের সমতা: সকল মানুষ সমান তা নয়।

খ. 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক। অর্থাৎ সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়। একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা। কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- জি, ডি, এইচ, কোল (G. D. H. Cole) এবং আর, এইচ টনী (R. H. Tawny) উভয়ে এ মতবাদে বিশ্বাসী। তাঁরা সাম্যের উপস্থিতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রকান্ত অপরিহার্য বলে মনে করেন। হার্বার্ট এ, ডীন (Herbert A. Deane) যথার্থই বলেন, "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।" আধুনিক গণতান্ত্রিক যুগে এটি এক অনন্য সত্য।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৬.
সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) ন্যায়বিচার
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না। উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

- একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে। যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ। এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।

- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না। যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
IDA-এর মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- International Development Association (IDA) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: আইনের শাসন, অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা।

এছাড়াও,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৪৮৮.
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনের প্রধানতম উৎস কোনটি?
  1. ন্যায়বিচার
  2. আইনসভা
  3. প্রথা
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

আইনসভা: 
- আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই হচ্ছে আইনের প্রধানতম উৎস।
- আইনসভা সমাজের প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে নতুন নতুন আইন তৈরি করে, আইনের রদবদল ও সংশোধন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ।
- তাই আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন করে থাকে।
- আইনসভাই হচ্ছে আইন প্রণয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

অন্যদিকে,
• ন্যায়বিচার: যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রচলিত আইন যখন অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে কিংবা নতুন সমস্যার সমাধান প্রচলিত আইনের মধ্যে না পাওয়া যায়, তখন বিচারকগণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের বিচারবুদ্ধি ও ন্যায়বোধ প্রয়োগ করেন। এভাবে নতুন আইন সৃষ্টি হয় এবং আইন যুগোপযোগী হয়।

• প্রথা বা রীতিনীতি: প্রথা হল আইনের এক সুপ্রাচীন উৎস। প্রত্যেক সমাজেই সুপ্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন প্রকার প্রথা ও রীতিনীতি প্রচলিত। এ সমস্ত প্রথা ও রীতিনীতি সমাজ জীবনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। সমাজ জীবনের প্রয়োজনীয়তা ও কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ যখন এগুলোর প্রতি সমর্থন জানায় তখন এ সব প্রথা ও রীতিনীতি আইনে পরিণত হয়। অতএব এভাবেই সমাজ জীবনে প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি আইনের উৎস রূপে গণ্য হয়।

• ধর্ম: আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল ধর্ম। বিশ্বে প্রচলিত প্রত্যেক ধর্মের অনুশাসন মর্যাদা সহকারে পালিত হয়ে থাকে। ধর্মীয় এ সমস্ত অনুশাসনের যেগুলো সমাজ জীবনকে বিকশিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে থাকে সেগুলো পরবর্তিতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের স্বীকৃতি পেয়ে আইনের মর্যাদা লাভ করে। মুসলিম, খ্রিষ্টীয় ও হিন্দু আইন এর উপযুক্ত উদাহরণ।

উৎস: পৌরনীতি, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৯.
নিচের কোনটি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ?
  1. সৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা
  2. অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা
  3. সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া
  4. ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 
- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৪৯০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রের সেবা করা
  2. নিয়মিত কর প্রদান
  3. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিম্নরূপ:
১. সামাজিক দায়িত্ব পালন
২. রাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রদর্শন
৩. আইন মান্য করা
৪. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
৫. নিয়মিত কর প্রদান
৬. রাষ্ট্রের সেবা করা
৭. সন্তানদের শিক্ষাদান
৮. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ণ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
৯. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
১০. আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা
১১. সচেতন ও সজাগ হতে হবে
১২. সংবিধান মেনে চলা
১৩. সুশাসনের আগ্রহ
১৪. উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৯১.
সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. ক) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. খ) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  3. গ) নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম
  4. ঘ) দক্ষ জনশক্তি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের জন্যে অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ ব্যতীত আইনের শাসন তথা সুশাসন নিশ্চিত সম্ভব নয়। একইভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সুশাসনের জন্যে অত্যাবশ্যক।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৪৯২.
মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে কোনটি বৃদ্ধি করে?
  1. রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
  2. দায়িত্বশীলতা ও কর্তব্যবোধ
  3. সামাজিক বিভাজন
  4. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- "মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা" বলতে বোঝানো হয়, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে কীভাবে সহায়ক হতে পারে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত এবং সমাজের উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

তাদের উপযোগিতা হল:
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা;
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ প্রতিষ্ঠা;
- স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা;
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা;
- মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠা;
- দুর্নীতিমূক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা;
- দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি;
- সমাজে শৃঙ্খলাবোধ বিরাজ করা;
- নাগরিক সচেতনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের -
  1. নব্য সংস্কৃতি
  2. প্রাণ
  3. চাবিকাঠি
  4. চালিকাশক্তি
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় নিচের কোনটির মাধ্যমে?
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. সুশাসনের মাধ্যমে
  4. আইনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়৷
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়৷
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৯৫.
সুশাসনের মূল ভিত্তি কোনটি? 
  1. মতপ্রকাশ 
  2. আইনের শাসন 
  3. সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা
  4. অংশগ্রহন
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসনের মূল ভিত্তি আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্র বা সমাজে সুবিচার, ন্যায়বিচার ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন নিশ্চিত করে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় থাকবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
- এর ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত জনগণের মতপ্রকাশ, ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হতে পারে না।

উল্লেখ্য, 
- সুশাসনের জন্য এমন আইনগত কাঠামোর উপস্থিতি প্রয়োজন যা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম।
- আবার এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

তথ্যসূত্র:  পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৬.
কোন তত্ত্ব অনুযায়ী 'মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল'?
  1. উপযোগবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. ভাববাদ
  4. উদারতাবাদ
ব্যাখ্যা
বাস্তববাদ:
- বাস্তববাদ (Realism) অনুযায়ী মানুষ স্বভাবতই বিশৃঙ্খল।

⇒ মানুষ যেহেতু বিশৃঙ্খল, তাই মানুষের দ্বারা সৃষ্ট যেকোন কিছুই বিশৃঙ্খল অর্থ্যাৎ, রাষ্ট্রও বিশৃঙ্খল।
- রাষ্ট্রসমূহ তাদের অস্তিত্ব ও স্বার্থরক্ষার জন্য সবসময় কোন না কোন ভাবে দ্বন্দ্বে লিপ্ত থাকে।
- বাস্তববাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যেকোন মূল্যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় টিকে থাকা, অর্থ্যাৎ জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চাকে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় বাস্তববাদের ব্যাপক চর্চা হচ্ছে।
- বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসন বাস্তববাদ কেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
- অর্থাৎ, বাস্তববাদ (Realism) আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে জিরো-সাম গেম হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে এক পক্ষ জিতবে এবং অন্যপক্ষ অবশ্যই হারবে।
- অর্থাৎ, নৈরাজ্য বাস্তববাদ তত্ত্বের মূল উপাদান।

অন্যদিকে,
ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।

উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।

উৎস: জ্ঞানতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৭.
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার উভয়ের লক্ষ্য হচ্ছে-
  1. ক) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
  2. খ) রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়ন
  3. গ) সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার উভয়ের লক্ষ্যই হচ্ছে ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
- তবে প্রকারগতভাবে এক রকমের হলেও বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে।
- তবে সব মৌলিক অধিকারই মানবাধিকার। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৮.
নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. জবাবদিহিতা
  3. অদক্ষতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন হলো উত্তম শাসন বা আইনের শাসন। সুশাসন একটি চলমান ও সম্মিলিত প্রক্রিয়া। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার ও নাগরিক উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, আইনের শাসন প্রভৃতি আবশ্যকীয় উপাদান।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৪৯৯.
নেতৃত্বের জন্য কোন গুণাবলি প্রয়োজন?
  1. ব্যক্তিত্ব
  2. চারিত্রিক কঠোরতা
  3. বাগ্মিতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যোগ্য নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- জনগণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে, জাতিকে উন্নতির দিকে অগ্রসর করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সুযোগ্য নেতৃত্ব আবশ্যক।
- জনপ্রিয় নেতা ও যোগ্য নেতৃত্বই গণতন্ত্রের বাহন।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৫০০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা? 
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা 
  2. ভোটদানের স্বাধীনতা
  3. জীবন ধারণের স্বাধীনতা
  4. সম্পত্তি ভোগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
• রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- ভোটার হবার স্বাধীনতা,
- ভোটদানের স্বাধীনতা,
- রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।

অন্যদিকে, 
• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
- এই স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগে অন্যের উপর কোন প্রভাব পড়ে না।
- যেমন, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

• সামাজিক স্বাধীনতা:
- মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- যেমন, জীবন ধারণ, সম্পত্তি ভোগ কিংবা সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা।

• পৌর স্বাধীনতা:
- জীবনের অধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্ম সংক্রান্ত অধিকারগুলো পৌর স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ব্যক্তিজীবনের পরিপূর্ণ বিকাশ ও সমাজে সখ-শান্তি নিশ্চিতকরণে এই সব স্বাধীনতা অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।