বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা২১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৯ / ৩৯ · ৩,৮০১৩,৮২১ / ৩,৮২৯

৩,৮০১.
কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
  2. বিমূর্ত, লিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়
  3. পরিবর্তনশীল
  4. আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।
- মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়।

⇒ বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলো:
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই- সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০২.
জাতীয় সত্ত্বার বিকাশ সাধিত হয় কিসের প্রতিষ্ঠার ফলে?
  1. ক) আইন
  2. খ) শাসন
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
সমাজ তথা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেই জাতীয় সত্ত্বার বিকাশ সাধিত হয়।
৩,৮০৩.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের শ্রেণি বিভাগ নয়?
  1. ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ
  2. খ) জাতীয় মূল্যবােধ
  3. গ) রাজনৈতিক মূল্যবােধ
  4. ঘ) আধুনিক মূল্যবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবােধের শ্রেণিবিভাগ গুলাে হলাে-
- সামাজিক মূল্যবােধ,
- রাজনৈতিক মূল্যবােধ,
- গণতান্ত্রিক মূল্যবােধ,
- ধর্মীয় মূল্যবােধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবােধ,
- নৈতিক মূল্যবােধ,
- অর্থনৈতিক মূল্যবােধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবােধ ও
- আধুনিক মূল্যবােধ।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মােঃ মােজাম্মেল হক।

৩,৮০৪.
কোনটি দ্বারা শাসনযন্ত্রের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য বুঝায়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) সংবেদনশীলতা
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
- সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়।
- অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশাআকাঙ্খা যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই সংবেদনশীলতা।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০৫.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কোনটির ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ক) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) উপদল
  4. ঘ) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে দলীয় সরকারে বলা হয়। রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক গণতন্ত্রের প্রাণ। রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হল জনমত সংগ্রহ করে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৮০৬.
রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  3. আইনের শাসন
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ আইনের শাসন।

আইনের শাসন:
- সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বৈধ উপকরণ।
- মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আইনের শাসন।
- আইনের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা ও আধিপত্য রোধ করা যায়।
- রাষ্ট্রের সংবিধান হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের আইনের প্রধানতম উৎস।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮০৭.
সুশাসনের অন্ত:সারের অন্তর্ভুক্ত নয় -
  1. ক) সুষ্ঠু, বাস্তবায়নযোগ্য নীতি
  2. খ) পেশাদারী আমলাতন্ত্র এবং শাসনবিভাগ
  3. গ) শক্তিশালী সুশীল সমাজ ও আইনের শাসন
  4. ঘ) স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অন্ত:সার হচ্ছে সুষ্ঠু, বাস্তবায়নযোগ্য নীতি এবং নীতি বাস্তবায়নের জন্য একটি পেশাদারী আমলাতন্ত্র এবংচ শাসনবিভাগ, যা এর কর্মকান্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে।
সুশাসনের জন্য আরও প্রয়োজন হচ্ছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী একটি শক্তিশালী সুশীল সমাজ।
সর্বোপরি, সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যদি সমাজের সকল সদস্য আইনের শাসন মেনে চলে।
সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা, ন্যায়বিচার এবং সম্পদের ও সেবার সুষ্ঠ বণ্টন রয়েছে।

সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র(উন্মুক্ত)।
৩,৮০৮.
গোল্ডেন মিন ধারণার প্রবর্তক কে? 
  1. রেনে ডেকার্ত
  2. চার্লস মন্টেস্কু 
  3. অ্যারিস্টটল
  4. জি ই ম্যুর
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- এই ধারণার মূল কথা হলো, কোনো বিষয়ে চরম অবস্থা পরিহার করে দুটি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বা মধ্যম পথ অবলম্বন করা উচিত।
- যেমন একদিকে অতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং অন্যদিকে অভাব- এই দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান হলো "সুবর্ণ মধ্যক"।

⇒ গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলএই ধারণার প্রবর্তক।

উৎস: Britannica.

৩,৮০৯.
জাতিসংঘ প্রকাশিত ই-গভর্মেন্ট সূচক-২০২০ অনুসারে শীর্ষদেশ কোনটি?
  1. ক) ফিনল্যান্ড
  2. খ) এস্তোনিয়া
  3. গ) নরওয়ে
  4. ঘ) ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগ (DESA) জাতিসংঘভুক্ত দেশগুলো নিয়ে প্রতি দুবছর অন্তর ই-গভর্মেন্ট সূচক প্রকাশ করে আসছে।
১১তম ই-গভর্নমেন্ট সূচক-২০২০:
- প্রথম : ডেনমার্ক
- দ্বিতীয় : দক্ষিণ কোরিয়া
- তৃতীয় : এস্তোনিয়া
- ১৯৩তম : দক্ষিণ সুদান
- বাংলাদেশ : ১১৯তম।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৩,৮১০.
রাষ্ট্রের উপাদান কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের উপাদান:
- রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।

১। জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই।

২। ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

৩। সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।

৪। সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১১.
'Methods of Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) এরিস্টিপাস
  2. খ) সিজউইক
  3. গ) সাইরেনিক
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
- নীতিদর্শনে সিজউইক তাঁর সমন্বয়বাদী ভূমিকার জন্য প্রসিদ্ধ। 
- অষ্টাদশ শতকের ইংরেজ স্বজ্ঞাবাদীদের নৈতিক চিন্তা এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় নীতিদর্শন উপযোগবাদের মধ্যে যে বিরোধ ছিল তিনি তার একটা নিষ্পত্তি চেয়েছিলেন। 
- তাঁর বিখ্যাত পুস্তক (Methods of Ethics) এ তিনি তিন ধরনের নৈতিক চিন্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যেগুলো হচ্ছে, স্বজ্ঞাবাদ, আত্মসুখবাদ এবং উপযোগবাদ। 
- তাঁর মতে আমাদের সাধারণ বুদ্ধিই আমাদেরকে এদের স্বীকৃতি দানে প্ররোচিত করে। 
- এ ব্যাপারে সিজউইক দেখান যে, স্বজ্ঞাবাদ স্বজ্ঞার মাধ্যমে যেসব নৈতিক নিয়ম জানার দাবি করে ঐসব নিয়মগুলো উপযোগবাদের নিয়ম ছাড়া আর কিছুই নয়। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৮১২.
"আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।” উক্তিটি কে বলেছেন?
  1. গেটেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন লক
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

নৈতিকতার ধারণা: 
- নৈতিকতা ব্যক্তিগত একটি বিষয়।
- পৃথিবীতে ভালো-মন্দ যাচাই করার কোন শ্বাশত মানদন্ড না থাকার ফলে একজনের দৃষ্টিতে যে বিষয়টি ভালো অন্য জনের দৃষ্টিতে তা খারাপ হতে পারে।
- তবে ভালো-মন্দের একটি গড়পড়তা মানদন্ড সব সমাজে প্রায় একই রকম।
- সততা, সদাচারী, সৌজন্যমূলক আচরণকারী, প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারি ব্যক্তিকে সব সমাজই নৈতিক গুনসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে।
- এ রকম ব্যক্তি কোন বিষয়টি সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য ভালো বা মন্দ তা নির্ণয় করতে পারে।
- এই ভালো ও মন্দের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারাটাই হল ব্যক্তির নৈতিকতা।

নৈতিকতাকে বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ-
- ডি এন সিডলি'র মতে "সঠিক ও বেঠিক এর মাঝে পার্থক্যই হল নৈতিকতা”।

আইন ও নৈতিকতার সুসম্পর্ক: 
- উদ্দেশ্যগত: আইন ও নৈতিকতা উভয়েরই উদ্দেশ্য হল সৎ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ সমাজ ও দেশ গঠন।
- আইনের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৎ, যুক্তিসংগত, নিয়মের মাঝে রাখা।
- অন্যদিকে, নৈতিকতারও একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নীতিবান ব্যক্তি তার কর্মে ও কথায় সবসময় সৎ, সদাচারী, সৌজন্যমূলক ও সৎচিন্তাশীল হয়ে থাকে। এসব গুণ সমাজজীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত সমাজে যেসব বিষয়গুলো আইন বিরোধী, সেগুলো সাধারণত নীতিবিরোধীও হয়। যেমন, প্রতারণা বিষয়টি নীতিবিরোধী আবার তা আইন বিরোধীও। বাংলাদেশে কেউ প্রতারণা করলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২০ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।
- এ ধরনের বিবেচনা থেকে অধ্যাপক আর জি গেটেল বলেন, “আইন ও নৈতিকতার মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বিরাজমান।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮১৩.
ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ইলেক্ট্রিক গভর্নেন্স
  2. ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স
  3. ইলেক্টেড গভর্নেন্স
  4. ইলাস্ট্রেটেড গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স শব্দটি 'ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স' এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- অনলাইনের মাধ্যমে পাবলিক ডেলিভারি ও সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করা ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য।
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স এর উদ্ভব ঘটে।
- জাতিসংঘের মতে, "সরকারি তথ্য ও সেবা ইন্টারনেত এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছানোর ব্যাবস্থাই হল ই-গভর্নেন্স"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৮১৪.
কোন নৈতিক মতবাদ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে?
  1. উপযোগবাদ
  2. উদারতাবাদ
  3. পূর্ণতাবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ
ব্যাখ্যা

সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন:
- পূর্ণতাবাদ সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উল্লেখ্য,
- পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদ অনুসারে পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধিই মানব জীবনের পরম কল্যাণ। অর্থাৎ পূর্ণতা লাভ বা আত্মেপলব্ধিই নৈতিকতার মানদণ্ড।
- প্লেটোর মতে, বুদ্ধি বা প্রজ্ঞার দ্বারা কামনা বাসনা জাতীয় প্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ফলেই মানুষের পূর্ণতা বা কল্যাণ আসে।
- এরিস্টটলের মতে, সদগুণ অনুযায়ী মানুষের অন্ত নিহিত শক্তিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন করার ফলেই পূর্ণতা আসে। তিনি মনে করেন, মানব জীবনের উৎকর্ষতা ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির পরিবর্তে বুদ্ধির উপর নির্ভর করে।
- পূর্ণ বিকাশ বলতে বোঝায় মানুষের মধ্যে একপ্রকার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে সেই শক্তিসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
- মানুষ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের পূর্ণতা লাভ বা আত্মোপলব্ধির ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি ও বিচারবুদ্ধি এই উভয় দিকের বিচার বিবেচনা করতে হয়।
- এ কথা ঘোষণা করার সাথে সাথে পূর্ণতাবাদ, সুখবাদ ও বুদ্ধিবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৮১৫.
রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক কে?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক:
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কারণ একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভিত তিনিই প্রথম তৈরী করেন।

এরিস্টটল:
- তিনি ছিলেন গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর ছাত্র এবং দ্বিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের গৃহ শিক্ষক।
- তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন।
- নীতিশাস্ত্র, অধিবিদ্যা, রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যাসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন।
- রাজনীতি বিষয়ক পুস্তকের মধ্যে তাঁর রচিত 'দি পলিটিকস' প্রধান।
- এ ছাড়াও তাঁর 'দি এথিকস', 'দি লজিক' ইত্যাদি পুস্তকও উল্লেখ যোগ্য।
- তবে 'দি পলিটিকস' গ্রন্থেই তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বিষয়গুলো বিবৃত হয়েছে।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৪ অব্দে ষ্ট্যাগিরা নামক স্থানে তাঁর জন্ম এবং চালসিস নামক শহরে ৩২২ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।
- 'লাইসিয়াম' নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি এথেন্সে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১৬.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচেনা করা হয়? 
  1. গণমাধ্যম
  2. সুশীল সমাজ
  3. সরকার
  4. শিক্ষক সমাজ
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
-গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা  গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৮১৭.
মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, “রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য ________ আবশ্যক।”
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. অর্থনৈতিক উন্নতি
  4. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা হলো:

→ মিশেল ক্যামডেসাস বলেন,
“রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক।”


→ ম্যাক করণী (Mac Corney)
 এ প্রসঙ্গে বলেন,
“সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

→ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue)
সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

→ ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill)
 মনে করেন,
সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ্য বই , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮১৮.
নৈতিক অধিকার কোথায় থেকে জাগ্রত হয়?
  1. রাজনৈতিক দল থেকে
  2.  রাষ্ট্রের আইন থেকে 
  3. মানুষের বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে 
  4. অর্থনৈতিক নীতি থেকে
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ: 
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।

• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না।
- নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

• আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
 যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৮১৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা কোনটি?
  1. ক) নিরপেক্ষ ন্যায়পাল
  2. খ) আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা
  3. গ) স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা।
- আইনের শাসনের অভাব।
- সরকারের জবাবদিহিতার অভাব।
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
- স্বজনপ্রীতি।
- দারিদ্র্য।
- জনসচেতনতার অভাব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮২০.
ই.বি. টেইলর সংস্কৃতিকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক কাঠামো
  4. অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- সংস্কৃতি সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী এবং নৃবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-
ই.বি টেইলর (Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন,
"সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানবিশ্বাস, শিল্পকলানীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।"


সংস্কৃতির সংজ্ঞায় Jones বলেন,
"মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।"

ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন,
"সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে।"

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮২১.
কোনটি বাংলাদেশে সুশাসনের অন্তরায়?
  1. আমলাতান্ত্রিকতা
  2. দুর্নীতি
  3. দারিদ্র্য
  4. সবকয়টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অন্তরায়:
- সুশাসন বলতে এমন এক আদর্শ শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায় যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটায়। অন্যভাবে, সুশাসন বলতে এমন এক ধরণের শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আইনের অনুশাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়। সুশাসন আইনের শাসনেরই আরেক নাম।
- সুশাসন হল যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা। এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে। জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

দারিদ্র্য, আমলাতান্ত্রিকতা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বচনী বিরোধ, জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণের অভাব সর্বোপরি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার অভাব বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা। দুর্নীতিও বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।