বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৮ / ৩৯ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ৩,৮২৯

৩,৭০১.
কোন সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
  3. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  4. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
⇒ সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে: 
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭০২.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হলো -
  1. কর্মদক্ষতা 
  2. ক্ষমতা
  3. জনকল্যাণ 
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা। প্রশাসকের প্রতিটি কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে হওয়া উচিত, যাতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

অন্যদিকে,
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি এটি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। প্রশাসকের কাছে থাকা ক্ষমতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
- কর্মদক্ষতা প্রশাসকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মৌলিক মূল্যবোধ নয়। এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক উপাদান। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০৩.
‘আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা’- কে বলেছেন?
  1. লাস্কি
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. আইনবিদ স্যামন্ড
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন:

• এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।”
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
• আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭০৪.
প্লেটো কয়টি সদ্গুণের কথা বলেছেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- Virtue শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে Excellence বা উৎকর্ষতা।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।

⇒ অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

⇒ প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- এটা স্পষ্ট যে, এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭০৫.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭০৬.
নিচের কোনটি জাতীয়তার উপাদান নয়?
  1. ক) শাসন-তান্ত্রিক ঐক্য
  2. খ) ভৌগোলিক ঐক্য
  3. গ) বংশগত ঐক্য
  4. ঘ) ভাষা ও সাহিত্যের ঐক্য
ব্যাখ্যা

জাতীয়তা বলতে আমরা সেই জনসমাজকে বুঝি, যারা দেশ, ভাষা ও সাহিত্য, রীতি-নীতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ। এই ঐক্যসূত্রগুলোই জাতীয়তার উপাদান। জাতীয়তার উপাদান অনেক, তবে নিম্নলিখিতগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
(ক) বংশগত ঐক্য,
(খ) ভৌগোলিক ঐক্য,
(গ) ধর্মের ঐক্য,
(ঘ) ভাষা ও সাহিত্যের একতা,
(ঙ) রীতি-নীতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একতা,
(চ) সাধারণ রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্খা।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৩,৭০৭.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. ক) দুর্নীতি দূর হয়
  2. খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয় রোধ হয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ঠ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পুড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প কারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
৩,৭০৮.
ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ হতে সাহায্য করে -
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রগতিশীল, দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হতে সাহায্য করে মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধানতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি হলো মূল্যবোধ।
- ব্যক্তির মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির মনোভাব জাগ্রত হয় মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে।

উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)
৩,৭০৯.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) জাঁ জ্যাক রুশো
  3. গ) নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. ঘ) এইচ জে লাস্কি
ব্যাখ্যা
• জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন যে, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে' (Man is born free but everywhere he is in chains)।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে”।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১০.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় কে ছায়া সরকার গঠন করে?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল 
  3. স্বতন্ত্র প্রার্থী
  4. রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

ছায়া সরকার:
- সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারী দল প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করে এবং সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মন্ত্রীদের মধ্যে বন্টন করে দেয়।
- পাশাপাশি বিরোধীদলও তার সংসদীয় দলের নেতার নেতৃত্বে একটি ছায়া সরকার (Shadow Government) গঠন করে এবং সরকারের মতই বিভিন্ন দফতরের নীতিমালার পাশাপাশি নিজেদের নীতিমালা আইনসভায় তুলে ধরে এবং এসব ক্ষেত্রে সরকারের ভুলত্রুটি নির্দেশ করে।

• বিকল্প সরকার:
- সসংদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনেক সময় সমমনা দল বা গ্রুপের সহায়তা ও সমর্থনে কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়।
- বিরোধীদল এ অবস্থায় কোয়ালিশনের অংশীদার দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য দৃষ্টির চেষ্টা করে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করার জন্য এসব দলকে উদ্বুদ্ধ করে।
- তাদের সে প্রচেষ্টা সফল হয় যখন আইনসভায় সরকারী দল আস্থা ভোটে পরাজয় বরণ করে।
- এভাবে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটলে বিরোধী দল তার ঘনিষ্ট সহযোগী দল ও অন্যান্য নতুন মিত্র দলের সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনে উদ্যোগী হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭১১.
একজন যোগ্য প্রশাসকের মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসকের মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে নৈতিকতাকে শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করতে সাহায্য করে এবং দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতা প্রদর্শনের ভিত্তি তৈরি করে যা প্রশাসককে জনগণের আস্থা অর্জনে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য করে তোলে। 

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
- দায়িত্বশীলতা: দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।
- দক্ষতা: দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

৩,৭১২.
নিচের কোনটি জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা  জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭১৩.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. শিক্ষা
  2. আইন
  3. মূল্যবোধ
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৪.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. সততা
  2. সহনশীলতা
  3. শিষ্টাচার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭১৫.
কোনটি লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয়?
  1. সহানুভূতি
  2. শ্রদ্ধা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. আনুগত্য
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় - আনুগত্য।

আইন মান্য করার কারণ:

লর্ড ব্রাইস জনসাধারণের আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন-

(ক) নির্লিপ্ততা: নির্লিপ্ততার অর্থ হল উদাসীনতা। বিশাল ভূখণ্ডে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তি নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে। ফলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন বিচার বিশ্লেষণ না করে অন্যদের ন্যায় নিজেও অতি সহজেই আইন মান্য করে চলে।
(খ) শ্রদ্ধা: যুগ যুগ ধরে সমাজ জীবনে যেসব রীতি-নীতি প্রথা চলে আসছে; মা, বাবা, গুরুজন ও বংশধররা যে সব রীতিনীতি দীর্ঘকাল ধরে মান্য করে আসছে, সেগুলো জনসাধারণও শ্রদ্ধাভরে মান্য করে থাকে।
(গ) সহানুভূতি: সমাজের প্রায় সকলেই যখন আইন মান্য করে চলে তখন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে অন্যদের মধ্যেও আইন মান্য করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।
(ঘ) শাস্তির ভয়: জনসাধারণ জানে আইন ভঙ্গ করলে আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করা হবে এবং তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। তাই জনসাধারণ শাস্তির ভয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং আইন মান্য করে চলে।
(ঙ) যৌক্তিকতার উপলব্ধি: জীবন, সম্পত্তি, নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে মানুষ আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং আইন মান্য করতে শেখে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭১৬.
"Good Governance is important for countries at all stages of development"—উক্তিটি কার?
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. UNDP
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইব্রাহিম গানবারি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

এছারাও,
• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭১৭.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ক) সম্পত্তি লাভের অধিকার
  2. খ) ধর্ম চর্চার অধিকার
  3. গ) মত প্রকাশের অধিকার
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

মত প্রকাশের অধিকার, ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযােগ লাভের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা এসব অধিকার ভােগ করে থাকি।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)

৩,৭১৮.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো-
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. স্বেচ্ছাচারিতা
  3. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
          ii) সিপিডি।

৩,৭১৯.
পৌরনীতি ও সুশাসন কোন ধরনের বিজ্ঞান?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন হলো সামাজিক বিজ্ঞান। সমাজবদ্ধ মানুষের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি, আশা আকাঙ্ক্ষা, কার্যাবলী ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতির আলোচনার বিষয়।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি অপর সামাজিক বিজ্ঞানগুলোও মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন নিয়ে আলোচনা করে। সুতরাং সব সামাজিক বিজ্ঞান পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭২০.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের কতটি উৎস রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. উপরের কোনটিই  নয়
ব্যাখ্যা

• আইনের উৎস (Sources of Law):
- জন অস্টিনের মতে, আইনের উৎস একটি এবং তা হচ্ছে 'সার্বভৌমের আদেশ'।
-  অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইনের উৎস হলো ৬টি; যথা : (১) প্রথা, (২) ধর্ম, (৩) বিচারকের রায়, (৪) ন্যায়বিচার, (৫) বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, (৬) আইনসভা।
- ওপেনহাইম জনমতকেও আইনের উৎস বলে মনে করেছেন। কেননা জনমতের প্রভাবে অনেক সময় সরকার আইন প্রণয়ন বা প্রচলিত আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৩,৭২১.
সরকার ও জনগণের win win game বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

⇒ সুশাসনের ফলে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game' বলা হয়৷

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা ।
- ‘সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
- মূলত ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব
হয় ।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com

৩,৭২২.
নিম্নোক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনটি সুশাসনের সর্বোচ্চ সংখ্যক উপাদান বর্ণনা করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩,৭২৩.
"আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।" উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. জি পাওয়েল
  3. এস ই ফাইনার 
  4. জন ফিফনার
ব্যাখ্যা

• আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। ইংরেজি 'Bureaucrary' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে।
- ফরাসিতে শব্দটি এসেছে ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা।
-সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"

-অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"

- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭২৪.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিক চেতনা
  4. গণতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা

সুশাসন :
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো জবাবদিহিতা।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও
ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭২৫.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭২৬.
ম্যাক্স ওয়েবার রাজনৈতিক দলকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. রাষ্ট্রের পিতা
  2. গণতন্ত্রের পিতা
  3. গণতন্ত্রের সন্তান
  4. রাষ্ট্রের পুত্র
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে।
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে মতাদর্শ ভিত্তিক সুসংবদ্ধ সংগঠন।
- এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ করা।
- রাজনৈতিক দলকে জনসমর্থন আদায়ের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি নিজ কর্মসূচিতে সন্নিবেশিত করতে হয়।

⇒ আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের উদ্ভবের প্রশ্নটি গণতন্ত্রের সঙ্গেই জড়িত, সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার যে কারণে রাজনৈতিক দলকে ‘গণতন্ত্রের সন্তান’ বলে বর্ণনা করেছেন
- গণতন্ত্রের একটা প্রধান লক্ষণ হচ্ছে যে এই ব্যবস্থা জনসাধারণকে পছন্দের সুযোগ দেয়; বিভিন্ন বিকল্পের মধ্য থেকে তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা কেবল গণতন্ত্রই দিতে পারে।
- একই সঙ্গে গণতন্ত্র সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও উন্মুক্ত রাখে।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল ১৮৫৯ সালে অন লিবার্টি বইয়ে লিখেছেন, সুস্থ রাজনীতির জন্য যেমন দরকার স্থিতিশীলতার পক্ষের দল, তেমনি দরকার প্রগতিশীলতার বা সংস্কারের পক্ষের দল। বিপরীতমুখী চিন্তাভাবনার এবং আদর্শের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমাজে উপস্থিত থাকলে আমরা তার প্রতিফলন দেখতে পাব রাজনীতিতে সংসদে এবং সংসদের বাইরেও। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
ii) প্রথম আলো।
৩,৭২৭.
সভ্য সমাজের মানদণ্ড কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. সংবিধান
  3. আইনের শাসন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭২৮.
কোনটি মূল্যবোধ গঠনের মাধ্যম নয়?
  1. ক) পরিবার
  2. খ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  3. গ) সভা
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড। এগুলো মানুষ প্রথমে পরিবার থেকে শিখে। পরবর্তীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ ব্যক্তির মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যালয় মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৭২৯.
ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে কয়টি উপাদান উল্লেখ করেছে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- ১৯৯৭ সালে ইউএনডিপি সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেন।
- ইউএনডিপি সুশাসন নিশ্চিত করতে ৯টি উপাদান উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো-
• সমতা ও ন্যায্যতা,
• সমঅংশীদারিত্ব,
• আইনের শাসন,
• স্বচ্ছতা,
• জবাবদিহিতা,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রাধান্য,
• কার্যকারিতা ও দক্ষতা এবং
• কৌশলগত লক্ষ।

তথ্যসূত্র - ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।
৩,৭৩০.
"অধিকার সমাজ বহির্ভূত বা সমাজ নিরপেক্ষ নয়, এটা সমাজভিত্তিক" - কে বলেছেন? 
  1. টি, এইচ, গ্রীন 
  2. অধ্যাপক লাস্কি
  3. ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট
  4. দার্শনিক বুসাঁকে
ব্যাখ্যা

অধিকারের সংজ্ঞা ও অর্থ: 
- অধিকার বলতে  নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা বুঝায়।
- পৌরনীতিতে অধিকার বলতে কতকগুলি সুযোগ-সুবিধাকে বুঝায় যা ছাড়া ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "অধিকার সমাজ বহির্ভূত বা সমাজ নিরপেক্ষ নয়, এটা সমাজভিত্তিক।
- " এজন্যই অধিকার বলতে সীমিত ক্ষমতা বুঝায় এবং একজনের অধিকার অন্যের কর্তব্যের ইঙ্গিত দান করে।
- অধিকারের অর্থ মঙ্গলময় জীবন। রাষ্ট্র সামাজিক কল্যাণের পরিবেশ সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করে।
- অধিকার হল সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রযুক্ত দাবি।"-দার্শনিক বুসাঁকে।
- " টি, এইচ, গ্রীন অধিকার বলতে অনুরূপ ধারণা দিয়ে বলেন, "মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণাবলির বিকাশ সাধনের জন্য অধিকার কতকগুলো বাহ্যিক শর্ত।
- " সহজ কথায় অধিকার বলতে কতকগুলো অনুকূল শর্তকে বুঝায় যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৩১.
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো -
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে- মূল্যবোধ শিক্ষা।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৩২.
Morality শব্দের প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. চরিত্র
ব্যাখ্যা
♦ নৈতিকতা:
-  নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Morality. 
- ইংরেজি Morality. শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
-‍ গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন- সৎ গুণই জ্ঞান এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে অজ্ঞতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৩৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. জাতীয় সংসদ
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

• শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

উল্লেখ্য,
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩,৭৩৪.
জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে কী বলে?
  1. রাজনৈতিক সাম্য
  2. আইনগত সাম্য
  3. সামাজিক সাম্য
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সাম্যের বিভিন্ন রূপ: 
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
- নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ১। সামাজিক সাম্য, ২। রাজনৈতিক সাম্য, ৩। অর্থনৈতিক সাম্য, ৪। আইনগত সাম্য, ৫। স্বাভাবিক সাম্য ও ৬। ব্যক্তিগত সাম্য।

১. সামাজিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

২. রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

৩. অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

৪. আইনগত সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৭৩৫.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যম
  3. সুশাসনের মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন। জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৩৬.
“Politics have no relation to morals.” - কার উক্তি?
  1. ক) Niccolo Machiavelli
  2. খ) John Locke
  3. গ) Thomas Hobbs
  4. ঘ) Edmund Burke
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত উক্তিটি Modern Political Philosophy -এর জনক Niccolo Machiavelli কর্তৃক প্রদত্ত। ম্যাকিয়াভ্যালি ইতালির নাগরিক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই -
The Prince,
The Discourses,
The Art of War,
Selected Political Writings,
On Conspiracies ইত্যাদি।
৩,৭৩৭.
কার্ল মার্কস কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. জার্মানি
  2. অস্ট্রিয়া
  3. ইংল্যান্ড
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা

কার্ল মার্ক্স:
- কার্ল মার্ক্স ছিলেন একজন জার্মান বিপ্লবী চিন্তাবিদ, ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি মার্কসবাদ (Marxism) নামক রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তার প্রবক্তা।
- তাঁর জন্ম: ৫ মে, ১৮১৮ ট্রিয়ার, প্রুশিয়া (বর্তমান জার্মানি)।
- মৃত্যু: ১৪ মার্চ, ১৮৮৩ – লন্ডন, ইংল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- কার্ল মার্ক্সের মতবাদ মার্কসবাদ হিসেবে পরিচিত।
- মার্কসবাদ হলো একটি বিপ্লবী সামাজিক ও অর্থনৈতিক দর্শন যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেণির শোষণের সমালোচনা করে এবং একটি শ্রেণিহীন, রাষ্ট্রহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। মার্কসবাদ অনুযায়ী, পুঁজিবাদ তার নিজস্ব অন্তর্ঘাতের কারণে ধসে পড়বে। শ্রমিক শ্রেণি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করবে এবং 'সর্বহারার একনায়কত্ব' প্রতিষ্ঠা করবে, যা শেষ পর্যন্ত একটি শ্রেণিহীন সাম্যবাদী সমাজে পরিণত হবে।
- মার্কস দর্শনের মূল কথা: সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা।

• কার্ল মার্ক্সের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দ্য কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সাথে) এবং দাস ক্যাপিটাল। তার এই মতবাদ পুঁজিবাদ, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।

উৎস: Britannica.

৩,৭৩৮.
সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে -
  1. ক) প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  2. খ) সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।
  3. গ) সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে।
  4. ঘ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- একটি পরিস্থিতি যেখানে দুটি ভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বা লক্ষ্য ভিন্ন।
⇒ নির্বাচিত কর্মকর্তা বা কর্পোরেট লবিস্টদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের অফিসিয়াল ক্ষমতায় গৃহীত কর্ম বা সিদ্ধান্ত থেকে  ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের অবস্থানে থাকে।
এ ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায় সঠিক উত্তর “সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।”

উৎস: লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৩,৭৩৯.
স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SAP) কে প্রণোদিত করেছিল?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউরোপীয় কমিশন
  3. আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক
  4. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

Structural Adjustment Programs (SAP):
- স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (SAP) হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও বিশ্বব্যাংক (World Bank)-এর দেওয়া ঋণের শর্ত হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপানো কিছু অর্থনৈতিক নীতি, যার লক্ষ্য সরকারি ব্যয় কমানো, বেসরকারীকরণ, মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগোত পরিবর্তন আনা।

⇒ ১৯৮৬ সালে  নাইজেরিয়া এসএপি গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সংস্কার করা।
- বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করা।
- ব্যবসায়িক এবং কৃষি খাতের নিয়ন্ত্রণ পুনর্বিন্যাস করা।
- অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্য আনা।
- তেল খাতের উপর নির্ভরতা কমানো।
- সরকারের বাজেট ঘাটতি কমানো।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।

৩,৭৪০.
নিম্নের কোনটি মূল্যবোধ শিক্ষার বিকাশের সহায়ক নয়?
  1. রীতিনীতি
  2. আদর্শ
  3. প্রথা
  4. অন্নচিন্তা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪১.
নীতিবিদ জোনাথন হাইটের মতে নৈতিকতার উদ্ভব কোথা থেকে হয়? 
  1. রাষ্ট্র ও আইন
  2. ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
  3. সমাজ ও পরিবার
  4. শিক্ষা ও গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- “Morality” শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে। 
- এর অর্থ হলো সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতার গুরুত্ব প্রথমে বিশেষভাবে তুলে ধরেন সক্রেটিস। 
- তাঁর বিখ্যাত বক্তব্য “Virtue is Knowledge” দ্বারা নৈতিকতা ও জ্ঞানের সংযোগ নির্দেশিত হয়।

নৈতিকতার প্রামাণ্য সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ—এই তিনটির ভিত্তিতে উদ্ভব হয়েছে (জোনাথন হাইট)। 
• নীতিবিদ ম্যুর নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন শুভের প্রতি অনুরাগ এবং অশুভের প্রতি বিরাগের মাধ্যমে। 
• অন্যদিকে এস. ম্যাকাইভার উল্লেখ করেছেন যে নৈতিকতার পেছনে সার্বভৌম রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের কোনো সমর্থন বা বাধ্যবাধকতা থাকে না।

• নৈতিকতার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- মানুষের কল্যাণ সাধন হলো নৈতিকতার লক্ষ্য। 
- নৈতিকতা অর্জনে বিবেক ও মূল্যবোধ প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- মানুষের মানসিক আচরণ এই নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নৈতিকতার রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেকের দংশন বা অন্তর্দৃষ্টি কাজ করে।
- নৈতিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে।
- নৈতিকতার মূল ভিত্তি মানুষের নিজের মনের মধ্যে জন্ম নেয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৭৪২.
যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয় সেই শাসনব্যবস্থার নাম -
  1. ক) স্বৈরশাসন
  2. খ) অপশাসন
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
 • সুশাসনের সংজ্ঞা:
»  সুশাসন সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সামাজিক নিয়ম- শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
 » সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন। 
 »  সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৩.
প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  2. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  4. উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:

- বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে।
- দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
- এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা- নারীর ক্ষমতায়ন,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৪৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. দায়হীনতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. সচেতনাবোধ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
দায়হীনতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:

• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৪৫.
সুশাসনের ইস্যু কীসের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে?
  1. রাষ্ট্র ও সমাজ
  2. অর্থনীতি
  3. শিক্ষা
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'। সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

• সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়। সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে। যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৬.
''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''- উক্তিটির কার?
  1. উইলিয়াম
  2. গার্নার 
  3. আবারাহাম লিংকন 
  4. ফ্রাংকেল 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ ফ্রাঙ্কেল এর মতে,
- ''মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের ধারণ''।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৭.
UNDP-এর মতে, সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।

৩,৭৪৮.
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?
  1. জনমনে ভীতি সৃষ্টি
  2. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন
  3. আইনের শাসন উপেক্ষা
  4. নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে, যা সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- এভাবে, সমাজে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৪৯.
নিচের কোনটি কর্তব্যের পরিপূরক?
  1. দেশসেবা
  2. স্বাধীনতা
  3. অধিকার
  4. আইন
ব্যাখ্যা
অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক:
- অধিকার ও কর্তব্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- অধিকার ও কর্তব্যের প্রকৃতি, স্বরূপ এবং পরিধি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এগুলো একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- কর্তব্যহীন অধিকার বা অধিকারবিহীন কর্তব্যের কথা কল্পনা করা যায় না।
- অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর পরিপূরক।
- এরা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

⇒ নাগরিকের যা অধিকার রাষ্ট্রের নিকট তাই কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের যা অধিকার নাগরিকের নিকট তাই কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার আছে এবং রাষ্ট্র যখন সে অধিকার দাবি করে তখন নাগরিকের চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।
- যেমন- রাষ্ট্র যখন বিপদগ্রস্ত হয় তখন নাগরিকদের জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হয়।
- রাজনৈতিক সচেতনতার ফলে নাগরিক কখনও অধিকার ও কর্তব্যকে পৃথক করে দেখতে পারে না।
- অধিকারের মধ্যে কর্তব্য নিহিত থাকে।

তথ্যসূত্র - সিভিক এডুকেশন-১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৫০.
কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে কী বলা হয়?
  1. শ্বেতপত্র
  2. নথিপত্র
  3. প্রত্যয়ন পত্র
  4. পত্রজারি
ব্যাখ্যা
• শ্বেতপত্র (White paper):
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

• সুশাসন ও শ্বেতপত্র:
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community.
৩,৭৫১.
'E-Governance' এর মাধ্যমে কোন ধরণের সরকারকে বোঝানো হয়েছে?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. এককেন্দ্রিক
  3. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  4. ডিজিটাল
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ - Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ - ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- E-Governance এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে - সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- E-Governance এর মূল উপাদান - কম্পিউটার।
- E-Governance এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- E-Governance বাস্তবায়নে প্রধান মাধ্যম - তথ্য প্রযুক্তি।
- E-Governance-এর স্তম্ভ - ৪ টি।
- E-Governance-মূল কাজ - নাগরিক সেবা বৃদ্ধি।
- 'E-Governance' এর মাধ্যমে ডিজিটাল সরকারকে বোঝানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৫২.
কোনটি মানব আচরণের অলিখিত দলিল?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল।
- মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত।
- সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
- মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ।
৩,৭৫৩.
কোন মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ তৈরি হয়?
  1. ক) ধর্মীয়
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) গণতান্ত্রিক
  4. ঘ) নৈতিক
ব্যাখ্যা
⇒ সামাজিক মূল্যবোধ:
• সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী রীতিনীতির সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে -
- শিষ্টাচার,
- সততা,
- ন্যায়পরায়ণতাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতাবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সৌজন্যবোধ।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
• যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে। যেমন -
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- পরমতসহিষ্ণুতা,
- বিরোধী মতকে প্রচার প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর রাখা।

['রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ' হচ্ছে রাজনৈতিক মূল্যবোধ। কিন্তু অপশনে রাজনৈতিক মূল্যবোধ না থাকায় সামাজিক মূল্যবোধের সাথে অধিক সম্পৃক্ত হওয়ায় উত্তর হিসেবে 'সামাজিক মূল্যবোধ' নেওয়া হয়েছে।]

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৫৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় -
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
  3. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  4. আইন মান্য করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ জনসম্মতি।
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৫৫.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নীতিমালা কত সালে পাশ হয়?
  1. ২০১১
  2. ২০১০
  3. ২০১৩
  4. ২০১২
ব্যাখ্যা

- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল নীতিমালা ২০১২ সালে পাশ হয়।

• জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো - দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।

⇒ স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

৩,৭৫৬.
কোন ধরনের অনুভূতি সমাজের ভিত্তি মজবুত করে?
  1. সহমর্মিতা
  2. কর্তব্যবোধ
  3. শ্রমের মর্যাদা
  4. সচেতনতা
ব্যাখ্যা

• সহমর্মিতা: 
- সহমর্মিতা একটি অন্যতম মানবীয় গুন।
- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যকে আমরা পরের তরে, এটা সহমর্মিতার মূল কথা।
- সহমর্মিতার অনুভূতি সমাজের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

অপরদিকে, 
- সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ  নাগরিকের অন্যতম গুন।
- সব ধরনের শ্রমের মর্যাদার প্রতি  শ্রদ্ধা করাকে শ্রমের মর্যাদা  বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৭৫৭.
মূল্যবোধ কীভাবে সুদৃঢ় হয়?
  1. প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. আইন প্রয়োগের মাধ্যমে
  4. ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি। 
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৫৮.
একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেই দেশের-
  1. ক) রাজনৈতিক সংস্কৃতি
  2. খ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর
  3. গ) সামাজিক পরিবেশ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সেই দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর এবং সামাজিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূলে রয়েছে সুশাসন। সুশাসন ও উন্নয়ন পরস্পরের পরিপূরক। সুশাসন জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় নিশ্চয়তা দেয়। ফলে একটি দেশের উন্নয়ন সূচকে ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা দেখা যায়। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র(উন্মুক্ত)।
৩,৭৫৯.
সুশাসনের ‍মুখ্য উদ্দেশ্য -
  1. জনগণের সার্বিক কল্যান সাধন
  2. সমাজের অনুশাসন উন্নয়ন
  3. জনগণের সংহতি প্রতিষ্ঠা
  4. ধর্মীয় অনুশাসন বজায় রাখা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সুশাসনকে দেখা হলেও জনগণ ও রাষ্ট্রের মোট কল্যাণ সাধনই সুশাসনের মূল লক্ষ্য।

সুশাসন:
• সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা। একে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
•  সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
• জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
• বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও গোষ্ঠী সুশাসনকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৬০.
সামাজিক নৈরাজ্যের জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  2. খ) আইন-শৃঙ্খলার অবনতি
  3. গ) অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সামাজিক নৈরাজ্য হলো সামাজিক বিশৃঙ্খলার চরমরূপ। মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও শিথিলতা, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি ইত্যাদির ফলে সমাজে সামাজিক নৈরাজ্য দেখা দেয়।
(সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৭৬১.
কোন মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজে সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও বাঞ্চিত পরিবর্তন নিশ্চিত করে?
  1. ক) সামাজিক মূল্যবোধ
  2. খ) পারিবারিক মূল্যবোধ
  3. গ) ব্যাক্তিগত মূল্যবোধ
  4. ঘ) রাষ্ট্রীয় জীবনের মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা সমাজে সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও বাঞ্চিত পরিবর্তন নিশ্চিত করে; ফলে সমাজ হয় সুশৃঙ্খল, সুসংহত এবং উন্নত।
৩,৭৬২.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয় কোনটি?
  1. ভ্রাতৃত্ব
  2. স্বাধীনতা
  3. আইন
  4. সাম্য
ব্যাখ্যা
আইন গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়।

গণতন্ত্র: 

- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৩.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস-
  1. ক) ১টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা

- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
১. প্রথা,
২. ধর্ম
৩. বিচারকের রায়
৪. ন্যায়বিচার
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা
৬. আইনসভা
৭. জনমত
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৭৬৪.
কোথা থেকে শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়?
  1. ক) গৃহ শিক্ষক
  2. খ) সমাজ
  3. গ) স্কুল
  4. ঘ) পরিবার
ব্যাখ্যা
⇨ মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
⇨ মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
⇨ এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।      

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৬৫.
অবাধ তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে কোনটি নিশ্চিত হতে পারে?
  1. আইনের শাসন
  2. জবাবদিহিতা
  3. ন্যায়বিচার
  4. শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হল যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা। সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।
জনসাধারণের তথ্য চাওয়ার অধিকার এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ - প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা বই (উন্মুক্ত)
৩,৭৬৬.
সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয়? 
  1. কর্তব্যবোধ
  2. শৃঙ্খলা
  3. যোগ্যতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- সততা , ন্যায়পরায়নতা ,সহনশীলতা, প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে কী বলা হয় মূল্যবোধ।

সামাজিক মূল্যবোধ:

- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।


• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৭৬৭.
'সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার' নাগরিকের কোন ধরনের অধিকারের অর্ন্তভুক্ত?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক অধিকার সমূহ
১। সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার  
২। নির্বাচনের অধিকার
৩। আবেদন করার অধিকার 
৪। স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
৫। বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার 
৬। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।

সামাজিক অধিকারসমূহ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার

অর্থনৈতিক অধিকার সমূহ 
১। অবকাশ লাভের অধিকার
২। কর্মের অধিকার
৩। ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার
৪। শ্রমিক সংঘ করার অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৬৮.
নিচের কোনটি সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. মানবিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
- মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান: নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
          ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৭৬৯.
কাকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়?
  1. জ্যাক রুশো
  2. অস্টিন
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. ম্যাক্স ওয়েভার
ব্যাখ্যা
ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.

উল্লেখ্য,
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েভারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৭৭০.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
• আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৫টি। এগুলো হলো: 
- জবাবদিহিতা (Accountability),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই (Combating Corruption),
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনি ও বিচারিক কাঠামো (Legal and Judicial Framework).

উৎস: AfDB ওয়েবসাইট। [link]

৩,৭৭১.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, আইন মান্য করার কারণ- 
  1. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা 
  2. শাস্তির ভয়
  3. নির্লিপ্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।
- লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
- যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
- অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
- নির্লিপ্ততা;
- সহানুভূতি;
- শাস্তির ভয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৭২.
“গণতন্ত্র যেহেতু জনগণের নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা সেহেতু গণতান্ত্রিক দেশে সকল কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবগত রাখা উচিত। সরকার পরিচালনার গোপনীয়তা থেকে দুর্নীতি ও অপশাসনের সূচনা হয়।”
উপরের বক্তব্য অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সরকারের কার্যক্রমে ______ থাকতে হবে।
  1. গোপনীয়তা
  2. স্বচ্ছতা
  3. নমনীয়তা
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
- নির্বাচিত সরকার যেহেতু জনগণের সরকার বা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার, সেহেতু সরকার কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।
- গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় 'স্বচ্ছতা' তাই সবার কাম্য।
৩,৭৭৩.
আমলাতন্ত্রকে সর্বপ্রথম যুক্তিসঙ্গত ও আইনগত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন-
  1. ক) রিচার্ড ক্রসম্যান
  2. খ) ফাইনার
  3. গ) ম্যাক্সওয়েবার
  4. ঘ) রুশো
ব্যাখ্যা

- সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন ম্যাক্সওয়েবার।
- আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অপরিহার্য অঙ্গ।
- রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকরা এবং বাস্তবায়ন করেন আমলারা।
- জনগণের সাথে আমলাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক।
- রিচার্ড ক্রসম্যানের মত, অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ।
- আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য খুব বেশি।

৩,৭৭৪.
'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন' - কোন সংস্থার অভিমত?
  1. UNDP
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ADB
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নে রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।

অন্যদিকে,
- ইউএনডিপির মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩,৭৭৫.
“স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” উক্তিটি কার?
  1. আর্নেস্ট বার্কার
  2. জন লক
  3. হার্বাট
  4. এ ভি ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা:
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- হার্বাট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- জন লকের মতে, “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই।”
- আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৬.
বয়সের সাথে কিসের পরিবর্তন ঘটে?
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৭৭.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”-এটি কার অভিমত?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. ক্লাইড ব্লুখোন
  3. নিকোলাস রেসার
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

⇒ সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেনন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৭৮.
আইনের শাসনের ফলে নিচের কোনটি হ্রাস পায়?
  1. জনসংখ্যা
  2. উন্নয়ন
  3. দুর্নীতি
  4. আমদানি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন এবং সুশাসন:
- সুশাসনের মূল ভিত্তি আইনের শাসন।
- এটি একটি রাষ্ট্র বা সমাজে সুবিচার, ন্যায়বিচার ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন নিশ্চিত করে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে সবাই সমানভাবে আইনের আওতায় থাকবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না।
- এর ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
- আইনের শাসন ব্যতীত জনগণের মতপ্রকাশ, ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হতে পারে না।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৭৯.
'সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা'-বিষয়টি সংবিধান মতে-
  1. নৈতিক বিষয়
  2. মানবাধিকার
  3. মৌলিক অধিকার
  4. নিয়োগ ও কর্মের শর্ত
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগ (অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭) মৌলিক অধিকারসমূহের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। 

- এর মধ্যে অনুচ্ছেদ ২৯ নং অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে ‘সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা’ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে।

- অনুচ্ছেদ ২৯(১): সকল নাগরিকের জন্য সরকারি নিয়োগ-লাভে সমান সুযোগ থাকবে।
- অনুচ্ছেদ ২৯(২): কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না বা তার প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।
- অনুচ্ছেদ ২৯(৩): এই অনুচ্ছেদে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বিধান (যেমন: কোটা ব্যবস্থা) রাখার বিষয়ে উল্লেখ আছে, তবে এটি সাধারণ সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে,
• নৈতিক বিষয়:
-  সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা কোনো নৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি সংবিধানে আইনগতভাবে সুরক্ষিত একটি অধিকার। 

• মানবাধিকার: 

- যদিও সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা মানবাধিকারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে (যেমন: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদে), বাংলাদেশের সংবিধানের প্রেক্ষাপটে এটি সুনির্দিষ্টভাবে মৌলিক অধিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত। 
- তাই ‘মানবাধিকার’ শব্দটি এখানে সঠিক নয়।

• নিয়োগ ও কর্মের শর্ত: 
- সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি দিক হলেও, এটি কেবল নিয়োগ বা কর্মের শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- এটি একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে স্বীকৃত, যা নিয়োগের আগে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল পর্যায়ে প্রযোজ্য।

সুতরাং 'সরকারি নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা'-বিষয়টি সংবিধান মতে মৌলিক অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩,৭৮০.
নীতিবিদ হেগেলের বিখ্যাত উক্তি কোনটি?
  1. Be a person
  2. Know thyself
  3. I think, therefore I am
  4. Live to die
ব্যাখ্যা

জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল:
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও। জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।

হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।
- তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়।
- তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,৭৮১.
'Governance' শব্দটি এসেছে-
  1. kubernao
  2. Governo
  3. Governan
  4. kubernan
ব্যাখ্যা
Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
এর অর্থ - শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।

According to Oxford Dictionary:
Middle English: from Old French, from governer, from Latin gubernare ‘to steer, rule’, from Greek kubernanto steer’.
মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষার শব্দ kubernao থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।
------------------
Good Governance শব্দটির অর্থ - কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৮২.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. সমাজ
  2. গোষ্ঠী
  3. পরিবার
  4. বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ :
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭৮৩.
সক্রেটিসের দর্শনের শুরু কোথা থেকে হয়?
  1. সামাজিক নিয়ম
  2. আত্মজিজ্ঞাসা
  3. বাহ্যিক আচার-ব্যবহার
  4. রাজনৈতিক নীতি
ব্যাখ্যা

গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে। অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।

• সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- তাঁর অন্যতম বাণী ছিল 'সদগুণই জ্ঞান'। তাঁর মতে, জ্ঞান দু'প্রকার: একটি হলো আপাত জ্ঞান এবং অপরটি প্রকৃত জ্ঞান।
- তিনি বলেন, সব মানুষের কর্তব্য হলো সত্য জ্ঞানের সন্ধান করা এবং তা তারা তখনই আয়ত্ব করতে পারবে যখন তারা নিজেদেরকে জানতে পারবে।
- জ্ঞানের মতো সদগুণও দু'প্রকার। এক ধরনের সদগুণ মতামত নির্ভর; অন্যটি সত্য নির্ভর। প্রথমটি ক্ষণস্থায়ী এবং দ্বিতীয়টি চিরস্থায়ী।
- তাঁর মতে, দর্শনের শুরু হয় আত্মজিজ্ঞাসা দিয়ে (Know thyself)। তিনি মনে করতেন 'পৃথিবীতে মানুষের চাইতে বড় কিছু নেই; আর মানুষের মাঝে আত্মার চাইতে বড় কিছু হয় না।' মানুষের কি হওয়া উচিৎ আর কোন গুণের পেছনে ধাবিত হওয়া কর্তব্য এ সব বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনায় অবতীর্ণ হতেন। সদগুণ ও উত্তম রাষ্ট্রের মাঝে যোগসূত্রতা স্থাপনে তিনি সক্ষম হন। রাষ্ট্রকে তিনি প্রকৃতিগত ও অপরিহার্য মানবিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৭৮৪.
নিচের কোনটি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) স্বচ্ছতা
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
৩,৭৮৫.
নৈতিকতার ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Equity
  3. Moral
  4. Morality
ব্যাখ্যা
⇒ নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন - "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী -গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।

⇒ নৈতিকতার প্রামান্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, "ধর্ম, ঐতিহ্য, ও মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮৬.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এরিস্টটলের আইন সম্পর্কিত মতবাদ?
  1. যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।
  2. আইন হচ্ছে সার্বভৌম শক্তির আদেশ।
  3. আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।
  4. আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ব্যাখ্যা
আইন:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason.)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও -
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,৭৮৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. শৃঙ্খলাবোধ
  3. প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোনটি অপরিহার্য উপাদান নয়- প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। 

মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
• সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ:
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। সমাজজীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। শৃঙ্খলাবোধ মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধ সুশাসনের ও বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োজনীয় উপাদান। যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এ উপাদান অনুপস্থিত সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

• সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা:
- মূল্যবোধ সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।

• আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা:
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে। আইনের শাসন সুশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও আবশ্যকীয় উপাদান। আইনের শাসন না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৭৮৮.
রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস কে?
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) জনগণ
  3. গ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ঘ) আমলা 
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে নেতারা জনমত গঠন করেন। জনগণ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস।
জনগণ যাতে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে সেদিকে নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণ নাগরিকেরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে সে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৮৯.
মূল্যবোধের ভিত্তি নয় কোনটি?
  1. পরশ্রীকাতরতা
  2. সহনশীলতা
  3. সহমর্মিতা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা

⇒ পরশ্রীকাতরতা মূল্যবোধের ভিত্তি নয়।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন,
- নাগরিক সচেতনতা,
- কর্তব্যবোধ,
- সরকার ও রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখিতা,
- সরকার ও রাষ্ট্রের দায়দায়িত্ব ও জবাব্দিহিতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭৯০.
UNHCR সুশাসনের কোন উপাদান চিহ্নিত করেনি?
  1. Responsibility
  2. Predictability
  3. Responsiveness
  4. Accountability
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- এগুলো হলো:
১. স্বচ্ছতা (Transparency).
২. দায়বদ্ধতা (Responsibility).
৩. জবাবদিহিতা (Accountability).
৪. অংশগ্রহণ এবং (Participation).
৫. সংবেদনশীলতা (Responsiveness).

উৎস: UNHCR ওয়েবসাইট।
৩,৭৯১.
সুশাসন মূল্যায়নে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত চারটি স্তম্ভ বা নির্দেশকের একটি নয় –
  1. ক) সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
  4. ঘ) সমঅংশীদারিত্ব
ব্যাখ্যা
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience' '' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লে করা হয়। এগুলো হলোঃ সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা, উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ। (সূত্রঃ বিশ্বব্যাংক)
৩,৭৯২.
‘দি আইডিয়া অব জাস্টিস’ গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) অ্যাডাম স্মিথ
  3. গ) অমর্ত্য সেন
  4. ঘ) জন রাউলস
ব্যাখ্যা
'দি আইডিয়া অব জাস্টিস' হল নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। তিনি এই গ্রন্থে নীতি এবং ন্যায়ের পার্থক্য সম্পর্কে বিশদ বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। পলিটিক্যাল ইকোনমি’ গ্রন্থের লেখক- অ্যাডাম স্মিথ। ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থের রচয়িতা – প্লেটো। ‘এ থিওরি অফ জাস্টিস' এর লেখক জন রাউলস।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং আনন্দবাজার পত্রিকা]
৩,৭৯৩.
কোন গুণটি না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না?
  1. সহমর্মিতা
  2. সততা
  3. মানবিকতা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৪.
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের যে দিকের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে -
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সাংস্কৃতিক
  4. গণতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের সামাজিক দিকের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG):

- MDG এর পূর্ণরূপ: Millennium Development Goals বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা।
- বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রণীত কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে MDG বলা হয় ৷

উল্লেখ্য,
- প্রথমত, বিষযটি অনুধাবনমূলক।
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।
- সামাজিক দিক বললে এটা অনেক বৃহৎ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
- যেমন- নীতি প্রণয়ন, জনমত গঠন, সচেতনতা তৈরি ইত্যাদি।
- তবে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও গুরুত্বপূর্ণ ইন্ডিকেটর তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর প্রেক্ষিতে।
- সার্বিক ভাবে বলা যায়, সুশাসনের আর্থ-সামাজিক দিকের প্রতিই গুরুত্বারোপ করা হয়েছে মূলত।
- তবে বৃহৎ আঙ্গিকে চিন্তা করলে এবং সুশাসনের প্রায়োগিকতা বিবেচনায় সামাজিক দিকটাই অধিক প্রাধান্য পাবে।

⇒ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো:
- চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল,
- সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন,
- শিক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ,
- শিশু মৃত্যু হ্রাসকরণ,
- মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন,
- এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মারাত্মক,
- রোগ প্রতিরোধ,
- পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ এবং,
- উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটানো।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,৭৯৫.
দাস ক্যাপিটাল বইটি কে লিখেছেন?
  1. কার্ল মার্কস
  2. জোসেফ স্ট্যালিন
  3. ভিআই লেনিন
  4. মিখাইল গর্ভাচেভ
ব্যাখ্যা
কার্ল মার্কস: 
- কার্ল মার্কস (১৮১৮-১৮৮৩) ছিলেন একজন বিপ্লবী, সমাজবিজ্ঞানী, ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের সাথে যৌথভাবে ১৮৪৮ সালে "কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো" প্রকাশ করেন, যা সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে সর্বাধিক প্রভাবশালী গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
- "কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো" (১৮৪৮): সমাজতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা।
- "দাস ক্যাপিটাল": অর্থনীতি ও শ্রেণি সংগ্রামের বিশ্লেষণমূলক বই, যা পুঁজিবাদী শোষণের সমালোচনা করে।
- মার্কস ও এঙ্গেলসের রচনাগুলো "মার্কসবাদ" নামে পরিচিত একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।
- তাঁর চিন্তাধারা সাম্যবাদী বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
- মার্কসবাদ বিশ্বব্যাপী শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
- রাশিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার বিকাশে তাঁর মতাদর্শ বড় ভূমিকা রাখে।
- কার্ল মার্কসের তত্ত্ব ও দর্শন আজও রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞানে গভীরভাবে আলোচিত হয়।

উৎস: Britannica.
৩,৭৯৬.
নিচের কোনটি নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত নয়?
  1. সত্যকে সত্য বলা
  2. দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  3. আর্থিক লেনদেন
  4. অন্যায়কে অন্যায় বলা
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে নৈতিক মূল্যবোধ।

• নৈতিক মূল্যবোধ: 
- সত্যকে সত্য বলা,
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা,
- অন্যায়কে অন্যায় বলা,
- অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা
- এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা,
- দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
- বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
- ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা,

উল্লেখ্য,
- আর্থিক লেনদেন অর্থনৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৭৯৭.
সরকারি অফিস-আদালতে ও কর্মকর্তা-কর্মচারি পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ডিজিটাল রূপ --
  1. ক) G2C (Government to Citizens)
  2. খ) G2B (Government to Business)
  3. গ) G2E (Government to employees)
  4. ঘ) G2G (Government to Government)  
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স অর্থ হলো তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শাসন। অর্থাৎ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে আধুনিকতম পদ্ধতিকে ই-গভর্নেন্স বা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শাসন বলে।
• ই-গর্ভনেন্স হলো (e-governance) সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আধুনিকতম একটি উদ্যোগ।

• ই-গভর্নেন্স  সাধারণত ৪ প্রকার ।যথা: 
G2C (Government to Citizens)
G2B (Government to Business)
G2E (Government to employees)
G2G (Government to Government)
 
• সরকার থেকে সরকার G2G (Government to Government)
ই-গভর্নেন্স সরকার থেকে সরকার G2G (Government to Government)হলো এক সরকারি সংস্থা, বিভাগ, কর্ত পক্ষের সাথে অন্যান্য সরকারি সংস্থা, বিভাগ এবং কর্তপক্ষের মধ্যে অনলাইনভিত্তিক মিথস্ক্রিয়া।

• সুতরাং সরকারি অফিস-আদালতে ও কর্মকর্তা-কর্মচারি পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ডিজিটাল রূপ হলো -- সরকার থেকে সরকার G2G (Government to Government)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৭৯৮.
সুশাসনের জন্য অপরিহার্য উপাদান কোনটি?
  1. স্বাধীন গণমাধ্যম
  2. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  3. জবাবদিহিতামূলক সরকার
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা অপরিহার্য উপাদান নয়।
- সুশাসন একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- ফলে বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও গোষ্ঠী সুশাসনকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।

⇒ সুশাসনের জন্য অপরিহার্য উপাদান:
- স্বাধীন গণমাধ্যম,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ,
- জবাবদিহিতামূলক সরকার,
- আইনের শাসন,
- গণতন্ত্র ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৭৯৯.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. বিনিয়োগ
  2. সুশাসন
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৮০০.
“Laws does not and can not cover all grounds of morality.” - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) আর.এম ম্যাকাইভার
  2. খ) অধ্যাপক লাস্কি
  3. গ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালী
  4. ঘ) মাইকেল ফাউকোল্ট
ব্যাখ্যা

শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়।
তাই আর. এম ম্যাকাইভার বলেছেন - “Laws does not and can not cover all grounds of morality.”।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর বোর্ড বই।