বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৬ / ৩৯ · ৩,৫০১৩,৬০০ / ৩,৮২৯

৩,৫০১.
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছ? 
  1. অনুচ্ছেদ-১৪
  2. অনুচ্ছেদ-১৭
  3. অনুচ্ছেদ-১৮
  4. অনুচ্ছেদ-১৩
ব্যাখ্যা

সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগ:
- অনুচ্ছেদ-১৮: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।
- (১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

- (২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩,৫০২.
জনগণের শাসন স্বীকৃত কোথায়?
  1. গণতন্ত্রে
  2. একনায়কতন্ত্রে
  3. রাজতন্ত্রে
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হল জনগণের শাসন।
-  জনগণের শাসন স্বীকৃত - গণতন্ত্রে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত। 
- গণতন্ত্রে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকে।
- গণতন্ত্রে একাধিক রাজনৈতিক দল অপরিহার্য। 
 - গণতন্ত্র জনগণের সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা। জনগণ ইচ্ছা করলেই সরকারের পরিবর্তন করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫০৩.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে কবে? 
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাংক:

- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫০৪.
United Nations Convention Against Corruption গৃহিত হয় কবে?
  1. ক) ২০০১ সালে
  2. খ) ২০০৩ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) হলো জাতিসংঘ গৃহিত দুর্নীতি রোধ বিষয়ক বৈশ্বিক কনভেনশন।
- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এটির অংশীদার।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
৩,৫০৫.
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কী ধরণের কর্তব্য?
  1. ক) অর্থনৈতিক
  2. খ) আইনগত
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫০৬.
সুশাসন বলতে সরকারের সাথে জনগণের সম্পর্ককে বুঝিয়েছেন কে?
  1. মারটিন মিনোগ
  2. এইচ এম জনসন
  3. ম্যাক করণী
  4. ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।

অন্যদিকে,
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫০৭.
ইমানুয়েল কান্টের নৈতিক নীতিমালা কোনটির ওপর নির্ভরশীল?
  1. অশুদ্ধ বুদ্ধি
  2. বিকৃত আচরণ
  3. মন্দ আচরণ
  4. শর্তহীন আদেশ
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।

উল্লেখ্য,
⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,৫০৮.
সুশাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব কী?
  1. জনসম্মতি নেওয়া
  2. নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- সংবিধান মেনে চলা।

অন্যদিকে,
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

৩,৫০৯.
নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্য কোন আইনের প্রয়োজন?
  1. প্রশাসনিক আইন
  2. ফৌজদারি আইন
  3. শাসনতান্ত্রিক আইন
  4. বেসরকারি আইন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইন সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে বিভিন্ন ভাগেভাগ করা যায়:

⇒ জাতীয় আইন:
- জাতীয় আইন হচ্ছে সেসব আইন যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও কার্যকর হয়।
- জাতীয় আইন সরকারই কিংবা বেসরকারি দুই রকমের হতে পারে।

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

⇒ বেসরকারি আইন:
- এ আইন রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রণীত নয় তবে সামাজিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- এ আইন দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।
- যেমন, কোন সংঘের আইন, চুক্তি ও দলিল সংক্রান্ত আইন।

⇒ আন্তর্জাতিক আইন:
- আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণ ও বজায় রাখার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
- আন্তর্জাতিক আইনকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- শান্তিকালীন আইন, যুদ্ধসংক্রান্ত আইন এবং নিরপেক্ষতার আইন।
- এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক, রাষ্ট্রগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান, আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্ভূক্ত।

⇒ সাংবিধানিক বা শাসনতান্ত্রিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।
- শাসনতান্ত্রিক আইন লিখিত এবং অলিখিত এই দুই রকমের হতে পারে।

⇒ প্রশাসনিক আইন:
- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরূপ।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

⇒ ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১০.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব চর্চা বা প্রয়োগের পদ্ধতিই সুশাসন’ উক্তিটি কার?
  1. World Bank
  2. UNHCR
  3. UNDP
  4. United Nations
ব্যাখ্যা
UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৩,৫১১.
সাম্য ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন?
  1. বিরূপ
  2. সম্পূরক
  3. নির্ভরশীল
  4. চমৎকার
ব্যাখ্যা

সাম্য ও গণতন্ত্র:
- সাম্য ও গণতন্ত্র পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য না থাকলে গণতন্ত্র অর্থহীন।
- কেননা গণতন্ত্র প্রত্যেকেরমতের মূল্যায়ন করে।
- সাম্যের অনুপস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়।
- যেখানে শ্রেণিভেদ প্রথা ও জাতিভেদ প্রথা রয়েছে, বংশ ও রক্তের আলাদা মর্যাদা রয়েছে সেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল।
- অর্থাৎ সামাজিক সাম্য গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত।
- সমাজবিজ্ঞানী উফ বলেন, “গণতান্ত্রিক সমাজ বলতে বুঝায় মুক্ত, সমান, সক্রিয় ও সচেতন নাগরিকের এক সমাজ।”
- এরূপ সমাজ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি ও সংরক্ষণ করতে পারে।
- তদ্রুপ যে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রকট সেখানে জীবিকার্জন নিয়ে মানুষ এত ব্যস্ত হবে যে, রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা করার সময় ও সুযোগ পাবে না।
- আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সুযোগ থাকে বলে জনগণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুযোগ লাভ
করে। তাই দেখা যায় গণতন্ত্র ও সাম্য পরস্পর নির্ভরশীল। 

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৩,৫১২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো -
  1. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  3. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
  4. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:-
- আইনের শাসন,
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা,
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা,
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা,
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- বৈধতা প্রভৃতি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
৩,৫১৩.
‘সুবর্ণ মধ্যক’ ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- এই ধারণার মূল কথা হলো, কোনো বিষয়ে চরম অবস্থা পরিহার করে দুটি অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বা মধ্যম পথ অবলম্বন করা উচিত।
- যেমন একদিকে অতিরিক্ত ভোগবিলাস এবং অন্যদিকে অভাব- এই দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান হলো "সুবর্ণ মধ্যক"।
- গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলএই ধারণার প্রবর্তক।

উৎস: Britannica.
৩,৫১৪.
বর্তমানে কোন দেশে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে?
  1. ফিনল্যান্ড
  2. সুইজারল্যান্ড
  3. যুক্তরাষ্ট্র
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
- গণতন্ত্র দুই প্রকার। যথা- একটি প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এবং অপরটি পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- প্রাচীন আমলে গ্রিসে এবং বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বিদ্যমান রয়েছে।

৩,৫১৫.
মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা কোন ধরনের শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) বৃত্তিমূলক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
মূল্যবোধের শিক্ষা আমরা লাভ করি পরিবার, সমাজ, বিদ্যালয়, সামাজিক প্রথা প্রভৃতি থেকে। এগুলো অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
(সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৫১৬.
'The Prince'-গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম 
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. ফ্রেডরিখ হেগেল
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

⇒ ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৫১৭.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'-এর মূল প্রবক্তা কে? 
  1. চার্লস মন্টেস্কু
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. জন লক
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা। প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত। এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে। কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না। প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

এছাড়াও,
• ফরাসি চিন্তাবিদ জ্যাঁ বডিন বলেন, "আইন প্রণয়ন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা কয়েকজন ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাঁরা কঠোর আইন প্রণয়ন করে তা নির্দয়ভাবে প্রয়োগ করবেন।" তাঁর কথায় একই সাথে বিচারক এবং আইন প্রণেতা হওয়ার অর্থ হচ্ছে ন্যায়বিচারের সাথে ক্ষমতার অধিকার এবং আইনের প্রতি আনুগত্যের সাথে স্বেচ্ছাচারিতার সংমিশ্রণ।"

• ইংল্যান্ডের বিখ্যাত চিন্তাবিদ জন লক এ প্রসঙ্গে বলেন, "একই ব্যক্তি আইন রচনা এবং তা প্রয়োগ করলে ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং নাগরিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। তাই তিনি অধিকার রক্ষার স্বার্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ অপরিহার্য বলে মনে করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫১৮.
নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে কী প্রতিষ্ঠা সহজ হয়?
  1. সুশাসন
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  3. সামাজিক ন্যায়বিচার
  4. অবকাঠামোগত উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব:
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।
- এ জন্য বলা হয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হলো বৈধ নেতৃত্ব।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫১৯.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সত্যি নয়?
  1. ক) মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
  2. খ) মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
  3. গ) মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
  4. ঘ) মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত এবং সর্বজনীন প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ সমাজস্থ প্রত্যেক মানুষের জীবন ধারণের নির্দেশনা দিয়ে থাকে। মূল্যবোধ এক ধরনের বিশ্বাস, যা ব্যক্তি তথা মানুষের সার্বিক বিশ্বাস ব্যবস্থার (total belief system) কেন্দ্রে অবস্থান করে ব্যক্তির করণীয় অথবা মর্যাদা অর্জন সম্পর্কে বিশ্বাসবোধের জন্ম দেয়। বিভিন্ন সংজ্ঞা হতে মূল্যবোধের যে বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায় তা হলোঃ
১. মূল্যবোধ হচ্ছে মানুষের বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি;
২. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে;
৩. মূল্যবোধ একটি অলিখিত সামাজিক বিধান;
৪. মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভাল-মন্দ বিচার করে;
৫. মূল্যবোধ একটি বিমূর্ত, অলিখিত ও আপেক্ষিক প্রত্যয়;
৬. মূল্যবোধের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তনশীল।

সুত্রঃ সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২০.
`Ethics’ শব্দটি এসেছে -
  1. ক) গ্রিক শব্দ Ethos থেকে
  2. খ) ল্যাটিন শব্দ Ethos থেকে
  3. গ) গ্রিক শব্দ Ethis থেকে
  4. ঘ) ল্যাটিন শব্দ Ethus থেকে
ব্যাখ্যা
▪ নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ `Ethics’ যা গ্রিক শব্দ ‘ইথস’ (Ethos) হতে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’ বা রীতিনীতি।
▪ বর্তমানকালে এ ‘ইথস’ শব্দটি বিশেষ প্রবণতা, বিশেষ লোকের মনোভাব, চরিত্র, সংস্কৃতি প্রভৃতি প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।
▪ নৈতিকতা এমন কিছু জিনিস চিহ্নিত করে এবং মানুষের আচরণকে এমনভাবে চালিত করে, যা সমাজের প্রত্যাশিত।
▪ প্রতিটি মানুষই নৈতিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট। নৈতিকতা হলো আচরণগত মান এবং নৈতিক বিচার যা সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করে।
▪ ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে বলা হয়েছে, “নৈতিকতা হলো এমন এক শৃঙ্খলা, বা নৈতিক কর্তব্য ও জবাবদিহিতার সাথে কী ভালো ও কী মন্দ তার মাত্রা নির্ধারণ করে।”
▪ Godiwalla & Faramarz এর মতে, “ নৈতিকতা হলো ভুল ও খারাপ থেকে সঠিক ও ভালোর পার্থক্য নির্ণয় করার প্রক্রিয়া এবং এটার ভালো ও সঠিক কাজটি করার জন্য নৈতিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।”

তথ্যসূত্র: এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২১.
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে কী হয়?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
  2. জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
  3. জনগণের মতামত উপেক্ষিত হয়
  4. রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয় এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- যখন জনগণ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তখনই সুশাসনের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়।
- জনগণের মতামত, চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
- রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে, তাহলে নাগরিকরা প্রশাসনের ওপর আস্থাশীল হয়।
- তাই, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫২২.
একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে-
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) সামাজিক শিক্ষা
  3. গ) নৈতিক শিক্ষা
  4. ঘ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
যে শিক্ষার মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে স্বীকৃত, মমত্ববোধ, মানবীয়, আদর্শিক ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ অনুশীলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫২৩.
নৈতিকতা হলো একটি-
  1. ক) আধুনিক ধারণা
  2. খ) ধর্মীয় তত্ত্ব
  3. গ) মানসিক ধারণা
  4. ঘ) রাজনৈতিক এজেন্ডা
ব্যাখ্যা
Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৫২৪.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় -
  1. দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই
  2. আইনের শাসন
  3. অংশগ্রহণ
  4. আইনি ও বিচারিক কাঠামো
ব্যাখ্যা

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় আইনের শাসন।

সুশাসনের উপাদান:

• আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৫টি। এগুলো হলো: 
- জবাবদিহিতা (Accountability),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই (Combating Corruption),
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনি ও বিচারিক কাঠামো (Legal and Judicial Framework).

উৎস: AfDB ওয়েবসাইট।

৩,৫২৫.
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে নিচের কোনটি জরুরি?
  1. স্বীকৃতি
  2. স্নেহ
  3. সাফল্য
  4. উল্লেখিত সবকটি
ব্যাখ্যা
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে উল্লেখিত সবকটিই (ক) স্বীকৃতি, (খ) স্নেহ এবং (গ) সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

স্বীকৃতি: 
- শিশুদের সাফল্য, চেষ্টা এবং অগ্রগতি স্বীকৃত হওয়া দরকার। 
- এটি তাদের আত্মবিশ্বাস এবং আত্ম-মর্যাদা গড়ে তোলে। 

স্নেহ: 
- শিশুদের অনুভব করতে হবে যে তারা পরিবার ও সমাজের দ্বারা গৃহীত এবং স্নেহ পাচ্ছে। 
- স্নেহ এবং গ্রহণযোগ্যতার অনুভূতি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। 

সাফল্য: 
- শিশুদের সামান্য সাফল্য ও কৃতিত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। 
- এটি তাদের আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি করে। 
সুতরাং, স্বীকৃতি, স্নেহ এবং সাফল্য এই তিনটি উপাদান শিশুর সুস্থ এবং সুষম মনোবৈজ্ঞানিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। 
৩,৫২৬.
মূল্যবোধ (Values) বলতে কী বোঝায়?
  1. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
  2. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. মানুষের বাহ্যিক রূপ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

⇒ শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫২৭.
সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ কোন ধরণের সাম্য?
  1. সামাজিক সাম্য
  2. রাজনৈতিক সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. আইনগত সাম্য
ব্যাখ্যা
• সামাজিক সাম্য (Social Equality):
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- সামাজিক সাম্যের মূল কথা হলো সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৮.
'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. কান্ট
ব্যাখ্যা
- অ্যারিস্টটল মধ্যপন্থাকে সদগুণ উদ্ভবের কারণ বলেছিলেন।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
- তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদগুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫২৯.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  2. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  3. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
৩,৫৩০.
নিচের কোনটি আত্মকেন্দ্রিক সততা?
  1. ক) দেশপ্রেম
  2. খ) মিতাচার
  3. গ) বন্ধুত্ব
  4. ঘ) স্নেহ
ব্যাখ্যা
সততার শ্রেণীবিন্যাস
সততা ও সদগুণাবলী অসংখ্য। অনেকেই সততাকে তিনটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। যথা:
- (ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা 
- (খ) পরকেন্দ্রিক সততা এবং 
- (গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততা।

(ক) আত্মকেন্দ্রিক সততা : এ ধরনের সততা মূখ্যত ব্যক্তির নিজের কল্যাণ সাধনের উপযোগী। তাই বলে সততা যে শুধু ব্যক্তির কল্যাণে সীমিত থাকবে এমন নয়। কেননা যেহেতু ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেহেতু ব্যক্তির কল্যাণ সমাজ কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত। আত্মকেন্দ্রিক সততার কতকগুলো উপভাগ দেয়া হবে :
(১) সাহসিকতা : মানুষের দুঃখভীতিকে জয় করার শক্তিকে সাহসিকতা বলা হয়। ভবিষ্যতের বৃহত্তর এবং মহৎ উদ্দেশ্য লাভের জন্যে বর্তমানের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি হল সাহসিকতা। মনোবল, ধৈর্য, অধ্যবসায়, দৈহিক সাহস ইত্যাদি এ শ্রেণীর সততার অন্তর্গত।
(২) মিতাচার : ব্যক্তিগত কল্যাণ ও সামাজিক কল্যাণ লাভের ইচ্ছা ও বিচারবুদ্ধির মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে মিতাচার বলা হয়। মানুষ কল্যাণ লাভের জন্যে সংযত ও বিচারবুদ্ধিসম্মত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
(৩) পরিশ্রম ও অধ্যবসায় : সাময়িক আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে উচ্চতর কল্যাণ লাভের জন্যে দেহ ও মনের উৎকর্ষ সাধন করা ব্যক্তির অবশ্য করণীয় ; পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছাড়া জীবনের সীমাহীন সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। সুতরাং মানুষকে মানুষ হিসাবে বাঁচতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের অনুশীলন আবশ্যক।
(৪) মিতব্যয়িতা : মিতব্যয়িতা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের উৎকর্ষ বিধানের জন্যে অপরিহার্য। বাক্য, কার্য ও চিন্তায় মিতব্যয়ী হওয়া মানুষের উচিত। আর্থিক মিতব্যয়িতাই শুধু পালনীয় নয়। মানুষের ব্যবহারিক জীবনের বিভিন্ন দিকে মিতব্যয়িতার অভ্যাস বাঞ্ছনীয়। মিতব্যয়িতা শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণই আনয়ন করে না, সমাজের কল্যাণও সাধন করে।

(খ) পরকেন্দ্রিক সততা : পরকেন্দ্রিক সদগুণাবলী অপরের কল্যাণ সাধনের জন্যে নিয়োজিত হয়। 
যেমন:
 (১) ন্যায়পরায়ণতা : প্রত্যেক মানুষের পরিশ্রমের যোগ্য পুরস্কার দেওয়া, কিংবা তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের পথে অন্তরায় সৃষ্টি না করা ন্যায়পরায়ণতার অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপক অর্থে ন্যায়পরায়ণতা বলতে সেই সকল গুণকে বুঝায়, যেগুলো সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক মধুময় করে । 
(২) বদান্যতা : অপরের কল্যাণ সাধনের ইচ্ছাকে বদান্যতা বলা হয়। বদান্যতা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত
হয়, যেমন- স্নেহ, বন্ধুত্ব, দেশপ্রেম ইত্যাদি।

(গ) আদর্শকেন্দ্রিক সততাঃ নৈর্ব্যক্তিক আদর্শের জন্যে আকাক্ষা আদর্শের সততা। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের আদর্শ অনুসারে জীবনকে গড়ে তোলার বাসনা ও সে অনুসারে কাজ করার অভ্যাসকে আদর্শকেন্দ্রিক সততা বলে। আদর্শকেন্দ্রিক সততা তিন ধরনের হতে পারে। যথা:
- (১) বুদ্ধি সম্বন্ধীয় সততা 
- (২) সৌন্দৰ্যসম্বন্ধীয় সততা এবং 
- (৩) নৈতিক সততা ।
 
উৎস: সিভিক এডুকেশন- ১, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৩১.
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দারিদ্র বিমোচনের জন্য সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?  
  1. সুশাসনের বুদ্ধিভিত্তিক দিক
  2. সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
  3. সুশাসনের মূল্যবোধের দিক
  4. সুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক
ব্যাখ্যা

Millennium Development Goals:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়সংগত ও কার্যকর প্রশাসনের কথা উল্লেখ করা হয়, যা টেকসই মানব উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে।
- এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals—MDG) অর্জনের ক্ষেত্রেও সুশাসনের গুরুত্ব বিশেষভাবে স্বীকৃত।

- MDG মূলত বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
- ২০০০ সালের ৬–৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলনে ৮টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- এবং সেগুলো অর্জনের জন্য ১৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়।
- এই লক্ষ্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় বিশ্বের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

- MDG-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল- দারিদ্র্য বিমোচন। 
- এটি অর্জনের জন্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় দারিদ্র্যসীমার ওপরে—অর্থাৎ ১.২৫ মার্কিন ডলারের বেশি—নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দায়িত্বশীল শাসন অপরিহার্য হওয়ায় MDG বাস্তবায়নে সুশাসনের অর্থনৈতিক মাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (MDG) হচ্ছে -
• চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল,
• সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন,
• শিক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ,
• শিশু মৃত্যু হ্রাসকরণ,
• মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন,
• এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ,
• পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ,
• উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটানো।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

৩,৫৩২.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. সততা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ

৩,৫৩৩.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্তের উল্লেখ করেন?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৩৪.
গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কী হিসেবে দেখা হয়?
  1. ক) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. খ) শাসনের ব্যবস্থা
  3. গ) দলীয় ব্যবস্থা
  4. ঘ) সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শাসনের ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। ল্যান্ডেল মিলস এবং সেরাজেল্ডিন এর মতে- ‘জনগণ কীভাবে শাসিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি পরিচালিত হয়, কীভাবে দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয় এবং একই সাথে এ সকল প্রক্রিয়া কীভাবে লোকপ্রশাসন ও আইনের সাথে সম্পর্কিত সে বিষয়কেই গভর্নেন্স বলে'।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৩৫.
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চতুর্থ ভিত্তি কী?
  1. স্মার্ট সরকার
  2. স্মার্ট সমাজ
  3. স্মার্ট অর্থনীতি
  4. স্মার্ট নাগরিক
ব্যাখ্যা
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চতুর্থ ভিত্তি হলো স্মার্ট সমাজ।

স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

স্মার্ট নাগরিক:
- শতভাগ শিক্ষিত নাগরিকেরা নতুন নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নিজেদের এবং সমাজের সকলের জীবন ও জীবিকার মান বদলে দেবে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা কম্পিউটারের মাধ্যমে তারা সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে; সরকারি ও বেসরকারি খাত প্রদত্ত পণ্য ও সেবা গ্রহণ করবে; দেশ বিদেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন ঋদ্ধ করে তুলবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

স্মার্ট অর্থনীতি:
- স্মার্ট অর্থনীতি ধর্ম, বর্ণ, জাতি, নারী-পুরুষ, শিক্ষা অথবা ভৌগোলিক দূরত্ব নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। রোবটিক্সের ব্যবহার হবে কৃষি, শিল্প, সেবা সকল খাতে; কমিয়ে ফেলা যাবে কায়িক শ্রম; সম্পদের হবে সুষ্ঠু ব্যবহার; কমবে অপচয়; বাড়বে উৎপাদনশীলতা; খরচ কমবে উৎপাদনের; উৎপাদন হয়ে উঠবে প্রতিযোগিতামূলক; প্রসারিত হবে আভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজার। তথ্য প্রযুক্তি সহযোগে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেয়া যাবে দ্রুত ও তথ্য নির্ভর সিদ্ধান্ত; সহজে করা যাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা; ব্যবস্থাপনা হয়ে উঠবে দক্ষ।

স্মার্ট সরকার:
- প্রযুক্তির ব্যবহার সরকার পরিচালনা ব্যবস্থাকে দক্ষ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে, সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করবে। স্মার্ট সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তই হবে জ্ঞাননির্ভর। আইওটি, মেশিন লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যাবলী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে এবং স্মার্ট নাগরিকদের স্মার্ট প্রতিনিধির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরকার পরিচালনার সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণ করবে। সরকার তথা রাষ্ট্র হয়ে উঠবে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।

স্মার্ট সমাজ:
- স্মার্ট বাংলাদেশের প্রযুক্তির সহযোগিতায় দূর করা যাবে সব রকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট সমাজে নাগরিকেরা জ্ঞান চর্চা ও প্রয়োগের সুযোগ পাবেন অনেক বেশি। সঠিক তথ্য প্রবাহের ফলে কমে যাবে ভুল ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে অনৈতিক সুযোগ। প্রযুক্তি ব্যবহার সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদন ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সময় ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৩,৫৩৬.
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কী বলে?
  1. ক) চাকরিজীবী
  2. খ) আমলা
  3. গ) কর্মকর্তা
  4. ঘ) শাসক
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একটি অপরিহার্য অংশ।
- সাধারণত রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকগণ এবং এসব নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন আমলারা।
- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমলা বলে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৫৩৭.
আধুনিককালে আইনের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. আইনসভা
  3. ন্যায়বোধ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা
আধুনিককালে আইনের প্রধান উৎস আইনসভা।

আইন:

- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইনের উৎস:
- আইনের উৎস: প্রথা, ধর্ম, আইনসভা, সংবিধান, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা।

⇒ আইন সভা:
- আইন সভার প্রধান কাজ আইন প্রণয়ন করা। আধুনিক রাষ্ট্র সাধারণত জন কল্যাণে নিয়োজিত থাকে। ফলে সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষের নানাবিধ অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্ব। তাই আইন সভার সদস্যগণ জন কল্যাণে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার্থে নতুন নতুন অনেক বিষয়কে আইনে রুপান্তর করার জন্য তা বিল (আইনের খসড়া) আকারে আইনসভায় উত্থাপন করে থাকে। বিষয়টি যদি সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামত প্রাপ্ত হয় তবে তা আইনে পরিণত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৩৮.
কোন ধরনের মূল্যবোধকে সুশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সুসাশনের মানদণ্ড।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু আদর্শ ও নিয়মনীতি থাকে। যার দ্বারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
৩,৫৩৯.
জনপ্রশাসনে নব্য সংযোজিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) শ্রমবিভাজন
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আমলাতন্ত্র
  4. ঘ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসনে নব্য সংযোজিত প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন মানে হলো উত্তম ও কার্যকরি শাসন।
সুশাসন ধারণাটির উদ্ভব ঘটে গত শতকের শেষ দশকে। এটি উদ্ভাবন করে বিশ্বব্যাংক।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৫৪০.
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের লক্ষ্য কোনটি?
  1. ক) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. খ) মূল্যবোধের বিকাশ
  3. গ) নৈতিকতা সৃষ্টি
  4. ঘ) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
▪ মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার উভয়ের লক্ষ্যই হচ্ছে ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
▪ তবে প্রকারগতভাবে এক রকমের হলেও বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে।
▪ তবে সব মৌলিক অধিকারই মানবাধিকার। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪১.
কোন দুটি ব্যবস্থার মাঝামাঝি একটি মধ্যম পথ হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র উদ্ভূত হয়?
  1. রাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র
  2. গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র 
  3. চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র
  4. ধর্মতন্ত্র ও নাস্তিকতা
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
 
⇒ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
 - মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- মূলত সামজতন্ত্রকে প্রতিরোধ করার জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্ম পন্থা গ্রহণ করে। এই ভাবে চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি একটি মধ্যম ব্যবস্থা হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। বর্তমান বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কম-বেশী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষের দুঃখ কষ্টের লাঘব করে থাকে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে সুফল লাভের ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
iii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪২.
মূল্যবোধ হল -
  1. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
  2. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  3. সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৩.
উপযোগবাদ অনুসারে কোনো কাজের নৈতিকতা নির্ধারিত হয় কীভাবে?
  1. কাজের উদ্দেশ্য দিয়ে
  2. ব্যক্তিগত গুণাবলী দিয়ে
  3. কাজের প্রকৃতি দিয়ে
  4. কাজের ফলাফল দিয়ে
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ (Utilitarianism) অনুসারে, কোনো কাজের নৈতিকতা সম্পূর্ণরূপে তার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, উদ্দেশ্য বা কাজের প্রকৃতির ওপর নয়।

উল্লেখ্য,
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,৫৪৪.
N.G.O শব্দটির পূর্ণরূপ কী?
  1. National Governmental Organisation
  2. Non-Governmental Organisation
  3. New Governmental Organisation
  4. Non-Governing Organisation
ব্যাখ্যা
এন.জি.ও (N.G.O): 
- এন.জি.ও (N.G.O) শব্দটির পূর্ণরূপ হলো Non-Governmental Organisation.
- এন.জি.ও বলতে বেসরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বোঝায়।
- এন.জি.ও.-গুলো উন্নয়ন সহযোগী। এ কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে এর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলছে।
- অনুন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহে এন.জি.ও. সমূহ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
- এসব রাষ্ট্রে এন.জি.ও.গুলো মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানবসম্ভাবনাকে জাগ্রত করে।
- স্থানীয় ও গ্রামীণ জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণে, সম্পদ সমাবেশ ও ক্ষুদ্র পুঁজি সংগ্রহ ও সমাবেশ উন্নয়নমূলক কাজে জনগণের বিশেষ করে গ্রামীণ জনগণের বিনিয়োগ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর ক্ষমতায়নে এন.জি.ও.-গুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেই চলেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৪৫.
সামাজিক সাম্যের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কী দেওয়া যাবে না?
  1. সমান সুযোগ
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
  3. অর্থনৈতিক সাহায্য
  4. আইনগত সুরক্ষা
ব্যাখ্যা

সাম্যের বিভিন্ন রূপ: 
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
- নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ১। সামাজিক সাম্য, ২। রাজনৈতিক সাম্য, ৩। অর্থনৈতিক সাম্য, ৪। আইনগত সাম্য, ৫। স্বাভাবিক সাম্য ও ৬। ব্যক্তিগত সাম্য।

১. সামাজিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

২. রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

৩. অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

৪. আইনগত সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৪৬.
‘খ্যাতি লাভের অধিকার‘ নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সাংস্কৃতিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
- জীবনের অধিকার।
- ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
- চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
- খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৪৭.
ই-গভর্নেন্সের মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৫৪৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্য নয়?
  1. ভোটাধিকার প্রয়োগ
  2. নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা
  3. যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা
  4. সংগঠন করার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার সুবিধা, ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' রাজনৈতিক সাম্য নয়। 
-'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' অর্থনৈতিক সাম্য। 

উল্লেখ্য,
অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
-বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৪৯.
European Economic Community (EEC) সুশাসন নিয়ে কী প্রকাশ করেছে?
  1. অর্থনৈতিক নীতি
  2. সবুজপত্র
  3. আইনি নীতিমালা
  4. শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।

⇒ সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

⇒ শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,৫৫০.
নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক কোনটি? 
  1. আইন ও বিধি
  2. বিবেক ও মূল্যবোধ
  3. সততা ও নিষ্ঠা
  4. সমাজ ও রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উল্লেখ্য, 
- নৈতিকতার ইংরেজী প্রতিশব্দ Morality.
- নীতবিদ ম্যুর বলেন: শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৫৫১.
শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. গণমাধ্যম
  3. স্থানীয় সরকার
  4. জনপ্রশাসন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩,৫৫২.
ই-গভরনেন্সের বৈশিষ্ট্য কোনগুলো?
  1. ক) সেবার উন্নত মান
  2. খ) সরকারি দপ্তরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি
  3. গ) সরকারের দপ্তরের দীর্ঘসূত্রিতা
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে, দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে উন্নত সেবা পৌছে দেয়া কে ই-গভরনেন্স বলে।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
৩,৫৫৩.
সুশাসনের চালিকাশক্তি কী?
  1. সম্মতি
  2. স্বচ্ছতা
  3. সন্তুষ্টি
  4. আপেক্ষিক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক

৩,৫৫৪.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয় ভাগে বিভক্ত করেছেন?
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৫৫.
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী- 
  1. নীতি
  2. মানদণ্ড
  3. দর্শন
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৫৫৬.
'যে সকল দেশে সুশাসন আছে শুধুমাত্র সে সকল দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'- কে বলেছেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. ইব্রাহিম গানবারি
  3. মিশেল ক্যামডেসাস
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

• 'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৫৭.
'নিয়মিত কর প্রদান করা' নাগরিকের কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক কর্তব্য:
- নাগরিকের বেশকিছু অর্থনৈতিক দায়িত্বও রয়েছে।
যেমন:
 → কর্মক্ষম সকল নাগরিকের রাষ্ট্রীয় উৎপাদন ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা,
 → নিয়মিত খাজনা ও কর প্রদান করা প্রভৃতি হলো একজন মানুষের অর্থনৈতিক কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৫৮.
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা হয়
  2. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করা হয়
  3. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে
  4. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
ব্যাখ্যা
Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

⇒ সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৫৯.
UNDP সুশাসন নিশ্চিত করতে কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. কৌশলগত লক্ষ্য
  2. দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
  3. জবাবদিহিতা
  4. সমতা
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। যথা:
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- UNDP সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র উপাদানটি উল্লেখ করেনি।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৩,৫৬০.
কোন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়?
  1. সামাজিক ক্ষেত্রে
  2. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
  3. ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে
  4. রাজনৈতিক ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং সুশাসন:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩,৫৬১.
কোন মূল শব্দ থেকে 'Law' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে?
  1. ক) Lag
  2. খ) Lug
  3. গ) Lau
  4. ঘ) Law
ব্যাখ্যা
- আইনের সাধারণ অর্থ হলাে নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান। ফার্সি ‘আইন’ শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law. ইংরেজি Law শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি টিউটনিক মূল শব্দ ‘Lag' থেকে।
- Law শব্দের অর্থ ‘স্থির’ বা ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযােজ্য। সমাজের  আইন কানুনও স্থির। 

তথ্যসূত্র:- সমাজবিজ্ঞান (১ম পত্র), এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬২.
"Two Treatises of Government" গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ম্যাকেয়াভেলি 
  2. টমাস হবস
  3. জন লক
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

জন লক (John Locke):
- আধুনিক গণতান্ত্রিক চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপনকারী হিসেবে জন লককেই 'আধুনিক গণতন্ত্রের জনক' বলা হয়। 
- তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আধুনিক গণতন্ত্রের তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলে।

• জন লক একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক।
- তিনি ১৬৩২ সালে ব্রিস্টলের নিকটবর্তী রিংটনে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন লক জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনায় পদ্ধতিগত দিক থেকে নতুনভাবে অভিজ্ঞতাবাদের প্রয়োগ করেছেন এবং দার্শনিক চিন্তাধারাতে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
- জন লক  ছিলেন ইউরোপীয় আলোকপ্রাপ্তি যুগের অন্যতম প্রধান চিন্তাবিদ।
- তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Two Treatises of Government আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের ইতিহাসে এক মাইলফলক।
- ইংল্যান্ডের Glorious Revolution (1688) তাঁর চিন্তাধারাকে বাস্তব রাজনৈতিক রূপ দেয়।

উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক অধিকার তত্ত্ব: 
- জন লক মানুষের জন্মগত অধিকারকে রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- জন লকের মতে, প্রতিটি মানুষের তিনটি মৌলিক প্রাকৃতিক অধিকার রয়েছে। এগুলো হলো: জীবন, স্বাধীনতা, সম্পত্তি।
- এই অধিকার রাষ্ট্র দেয় না; বরং রাষ্ট্রের কাজ হলো এসব অধিকার রক্ষা করা। আধুনিক গণতন্ত্রে মানবাধিকার ধারণার মূল উৎস এই তত্ত্ব।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

৩,৫৬৩.
কোনটির পরিধি অপেক্ষাকৃত ব্যাপক?
  1. ক) মানবাধিকার
  2. খ) মৌলিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকারের চেয়ে মানবাধিকারের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
মৌলিক অধিকারের সীমানা রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে আবদ্ধ; কিন্তু মানবাধিকার বৈশ্বিক। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৫৬৪.
অধ্যাপক ডাইসির মতে আইনের শাসনের মৌলিক শর্ত কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
​- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
​- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫৬৫.
'The Elements of Ethics' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,৫৬৬.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত
  2. খ) প্রভাবশালীদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) শিক্ষিত শ্রেণীর মতামত
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৫৬৭.
নিচের কোনটি সুশাসনের জন্য আবশ্যক নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. সামরিক শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- সুশাসনের জন্য আবশ্যক নয় সামরিক শাসন। 

- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৬৮.
'জীবনের নিরাপত্তা লাভ' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ব্যক্তিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ ব্যক্তিক অধিকার:
- ব্যক্তি জীবনের পবিত্রতা এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও রক্ষার জন্য ব্যক্তি যে সব অধিকার লাভ তাকে ব্যক্তিক অধিকার বলে। জীবনের নিরাপত্তা লাভ, নির্বিঘ্নে জীবন যাপন, নিজ ধর্ম নির্ভয়ে পালন, নিজের রুচি সংরক্ষণ, গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠি-পত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, নিজের জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও জামিন লাভের অধিকার ব্যক্তিক অধিকারের কয়েকটি উদাহরণ

⇒ রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সক্রিয় হওয়ার জন্য নাগরিকগণ যে সমস্ত অধিকার ভোগ করেন তাকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। অন্যকথায় রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশগ্রহণ ও মতামত নাদের সুযোগই রাজনৈতিক অধিকার। ভোটদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকার গৃহীত ব্যবস্থার পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকার।

⇒ অর্থনৈতিক অধিকার:
- অর্থনৈতিক অধিকারের গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই বলা হয়ে থাকে যে, অর্থনৈতিক অধিকার ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার অর্থহীন।
- বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্ত থাকা বুঝায়।
- ধারনের ন্যূনতম ক্যালরীসম্পন্ন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার অর্থনৈতিক অধিকার।
- কর্মের অধিকার ও নিশ্চয়তা, ন্যায্য মজুরী লাভের অধিকার, আইন অনুযায়ী স্বীকৃত সময়ের বেশি কাজ না করার অধিকার, কর্মস্থলে শারীরিক ক্ষয়-ক্ষতির বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা লাভ প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

⇒ সামাজিক অধিকার:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সংঘবদ্ধ জীবনের অধিকারকে সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলো অপরিহার্য। শিক্ষার অধিকার, সম্পত্তি অর্জন ও ভোগের অধিকার প্রকৃতি সামাজিক অধিকার।

⇒ সাংস্কৃতিক অধিকার:
- নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে। অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। এভাবে অপসংস্কৃতির জন্য হতে পারে আবার সংস্কৃতি সমৃদ্ধও হতে

⇒ ধর্মীয় অধিকার:
- স্বাধীনভাবে ধর্মগ্রহণ, পালন, ধর্ম পরিবর্তন ও নিজ ধর্মের বিকাশে কর্তব্য পালন, অন্য ধর্মের জন্য বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা দিতে বাধ থাকার স্বাধীনতাকে ধর্মীয় অধিকার বলে। ধর্মকে কেন্দ্র করে এক জাতির চাল-চলন ও আচরণ, বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা পৃথক হতে পারে। ধর্মীয় অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৬৯.
প্লেটো কয়টি সদগুনের কথা উল্লেখ করেছেন? 
  1. ২টি
  2. ৪টি 
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭০.
'সরকারি চাকরি লাভের অধিকার' ব্যক্তির কোন ধরনের স্বাধীনতা?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. জাতীয় স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  4. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা:
- ইংরেজি Liberty শব্দের বাংলা অর্থ স্বাধীনতা।
- শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Liber থেকে এসেছে, যার অর্থ 'free' বা স্বাধীন।
- যদিও স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা বা স্বেচ্ছাচারিতা করা নয়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, অন্যের অধিকার বা কার্যাবলির ওপর হস্তক্ষেপ না করে, স্ব-ইচ্ছানুসারে নিজের কার্য করার অধিকারকে স্বাধীনতা বলে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন-অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৭১.
সৎ প্রতিবেশি নীতি'র প্রবক্তা কে?
  1. ক) আব্রাহাম লিঙ্কন
  2. খ) ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
  3. গ) কিম দামে জং
  4. ঘ) মিখাইল গর্বাচেভ
ব্যাখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট সৎ প্রতিবেশি নীতির প্রবক্তা। ১৯৩০-৪০ এর সময়ে লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণে রুজভেল্ট পূর্বেকার হস্তক্ষেপ নীতির বিপরীতে এই নীতি প্রবর্তন করে। ১৯৩৩ সালে প্রথম এ বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের এন্টি-কমিউনিষ্ট নীতির ফলে সৎ প্রতিবেশি নীতি গুরুত্ব হারায়। (সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩,৫৭২.
কোনটি রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান নয়?
  1. ক) জনসমষ্টি
  2. খ) সরকার
  3. গ) সার্বভৌমত্ব
  4. ঘ) স্থায়িত্ব
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।
- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথাঃ স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- স্থায়িত্ব, জাতীয়তাবাদ, অধিকার ও সাম্য, সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি কোনো রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান।

৩,৫৭৩.
ইভটিজিংয়ের জন্যে মুখ্যত দায়ী কোনটি?
  1. ক) আইনের অপপ্রয়োগ
  2. খ) ধর্মীয় শিক্ষার অভাব
  3. গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. ঘ) দরিদ্রতা
ব্যাখ্যা

- ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। পুরুষ কর্তৃক নারীদের উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাই হলো ইভটিজিং।
- ইভটিজিং এর জন্যে মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রধানত দায়ী।
- এছাড়া সুশাসনের অভাব, অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি প্রভৃতিও এর জন্যে দায়ী।

৩,৫৭৪.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
  2. শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
  4. সুশাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক (World Bank) প্রথমবারের মতো সুশাসন (Good Governance)-এর ধারণা ও সংজ্ঞা প্রদান করে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে। রিপোর্টের নাম "Governance and Development" (শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন)।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।
- এটি বিশেষ করে আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে (Sub-Saharan Africa) উন্নয়নের বাধা হিসেবে দুর্বল শাসনকে চিহ্নিত করে সুশাসনকে উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫৭৫.
প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থ কী সম্পর্কিত?
  1. বিচার ব্যবস্থা
  2. মূল্যবোধ
  3. ন্যায়বিচার
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
The Republic:
- The Republic হল প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক প্লেটোর একটি ডায়ালগ।
- এতে সক্রেটিসের চরিত্র দেখানো হয়েছে ।
- The Republic গ্রন্থ হচ্ছে ন্যায়বিচার সম্পর্কে।
- ডায়ালগটি "কেন আমি ন্যায়পরায়ণ হব?" প্রশ্ন থেকে শুরু হয়।

উৎস: Britannica.
৩,৫৭৬.
'পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য'-উক্তিটি কী নির্দেশ করে?
  1. সব পেশার মূল্যবোধ একই
  2. পেশাগত মূল্যবোধ কেবল ব্যক্তিগত বিষয়
  3. পেশাগত মূল্যবোধ পেশাভেদে ভিন্ন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে। যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৭৭.
'International Development Agency' এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কয়টি?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) ন্যায়বিচার
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
▪ আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। 
- এ এগুলো হল:
১। জবাবদিহিতা
২। স্বচ্ছতা
৩। আইনের শাসন ও
৪। অংশগ্রহণ। 

অন্যদিকে, 
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:- 
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
৩,৫৭৮.
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন -
  1. ক) লর্ড একটন
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) লাস্কি
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী - লর্ড ব্রাইস।

• সুনাগরিক:

- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,

- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৭৯.
কোন শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়? 
  1. একনায়কতান্ত্রিক শাসন 
  2. সামরিক শাসন 
  3.  স্বৈরাচারী শাসন 
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮০.
প্লেটোর মতে চারটি প্রধান সদ্গুণ কোনগুলো?
  1.  ন্যায়, সাম্য, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, ন্যায়, স্বাধীনতা
  3. সাহস, নৈতিকতা, দায়িত্ব, মিতাচার
  4. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮১.
‘Leviathan’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. Thomas More
  2. T.S. Eliot
  3. Thomas Hobbes
  4. Bertrand Russell
ব্যাখ্যা
Leviathan:
- Leviathan গ্রন্থটি লিখেছেন Thomas Hobbes.
- গ্রন্থটি ১৬৫১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বইটি 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তি নিয়ে লেখা।

এছাড়া,
- Utopia গ্রন্থটির লেখক Sir Thomas More

উৎস: Britannica.
৩,৫৮২.
Nihilism বা শূন্যতাবাদের উদ্ভব হয়েছিল-
  1. ক) রাশিয়ায়
  2. খ) জার্মানিতে
  3. গ) ফ্রান্সে
  4. ঘ) চীনে
ব্যাখ্যা
Nihilism বা শূন্যতাবাদ (ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে, যার অর্থ “Nothing বা কিছুই নয়”), মূলত নৈতিক ও জ্ঞানতত্ত্ব সংশয়ের একটি দর্শন যা ১৯ শতকের রাশিয়ায় দ্বিতীয় জার আলেকজান্ডারের শাসনের প্রথম বছরগুলিতে উদ্ভূত হয়েছিল। এই শব্দটি পাশ্চাত্য সমাজের নৈতিকতার বিশৃঙ্খলা বর্ণনা করার জন্য ফ্রেডরিচ নিত্শে(Friedrich Nietzsche) প্রথম ব্যবহার করেছিলেন। সূত্র- ব্রিটানিকা।
৩,৫৮৩.
সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে কী সৃষ্টি করে?
  1. বিশৃঙ্খলা
  2. শান্তি ও সমৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  4. সামাজিক ঐক্য
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা: 
- সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না।
- কারণ, সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণস্বরূপ, কাউকে ইচ্ছামত সবকিছু করার স্বাধীনতা দিলে সমাজে অন্যদের ক্ষতি হতে পারে যা এক অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
- তাই পৌরনীতিতে স্বাধীনতা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা।
- অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সকলেই নিজের অধিকার ভোগ করে।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৫৮৪.
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নৈতিক চরিত্র
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. আইনের প্রয়োগ
ব্যাখ্যা

দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণে জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

জবাবদিহিতা:

- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮৫.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নয় কোনটি?
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
- সামাজিক মূল্যবোধ সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়।
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- আইনের শাসন
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- গ্রহণযোগ্যতা
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা
- দায়বদ্ধতা
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রভৃতি।

এক নজরে সুশাসন:

– সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
– সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
– সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
– সুশাসনের মূল চাবিকাঠি জবাবদিহিতা।
– সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি নৈতিকতা।
– সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
– সুশাসনের অন্তরায় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি।
– সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৮৬.
মৌলিক অধিকারের উৎস কোনটি?
  1. ক) ইউএন চার্টার
  2. খ) ন্যায় ও বিবেকবোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের উৎস:
- মৌলিক অধিকারের উৎস সংবিধান বা শাসনতন্ত্র
- সাধারণত রাষ্ট্রের সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সন্নিবেশিত গণতান্ত্রিক থাকে।
অন্যদিকে,
- সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকার ঘোষিত ও স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৫৮৭.
আধুনিক বিশ্ব কোন ধরনের মূল্যবোধকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
-  ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়। 
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৮৮.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. ক) সহনশীলতা
  2. খ) আইনের শাসন
  3. গ) শৃঙ্খলাবোধ
  4. ঘ) সৌজন্যবোধ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৮৯.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।

- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৩,৫৯০.
'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আলেকজান্ডার 
  2. অ্যারিস্টটল 
  3. প্লেটো 
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

- “শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক” –উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর।
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯১.
সুশাসনের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. গণতন্ত্র
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। 

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫৯২.
প্লেটোর মতে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুন কোনটি?
  1. সাহস
  2. প্রজ্ঞা
  3. ন্যায়
  4. মিতাচার
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৩.
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো
  2. লেনদেন পরিচালনা
  3. ভার্চুয়াল মিটিং
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম: 
- ই-সরকার বা ই-গভর্নেন্স-এর পারস্পরিক লেনদেন সরকার ও জনগণ বা সেবাগ্রহণকারী, সরকার ও ব্যবসায়ী, এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের কিংবা সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে পারে।
- এরূপ লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়: 
১. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো: যেমন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, সাধারণ ছুটি, জনগণের জন্য বিভিন্ন ঘটনার দিন তারিখ, বিভিন্ন ইস্যুর ব্যাখ্যা, নোটিশ ইত্যাদি।
২. সরকার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ: এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেট সংলাপে বসতে পারে এবং তাদের সমস্যা, মন্তব্য ও অনুরোধ প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা: যেমন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া ও তা জমা দেয়া এবং অনুদান চাওয়া ও তা প্রদান করা।
৪. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: জনগণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
৫. জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং: জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৯৪.
কোনটিকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. সহনশীলতা
  2. গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  4. যথার্থ আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা: 
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ। অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে। সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৫৯৫.
মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ কী নির্ধারণ করতে পারে?
  1. সঠিক ও ভুল
  2. জ্ঞান ও অজ্ঞতা
  3. আনন্দ ও দুঃখ
  4. শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
​- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
​- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
​- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
​- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-​ তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

​উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৫৯৬.
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কত সালে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে?
  1. ক) ১৯৮৯ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই IMF এর বোর্ড অব ডিরেক্টরসগণ রিভিউ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
৩,৫৯৭.
'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'- ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. ডেকার্ট
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. ডেভিড হিউম
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৫৯৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কোনটি?
  1. রাষ্ট্র
  2. বিদ্যালয়
  3. পরিবার
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র - সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৫৯৯.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বাট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা ৩টি। যথা:
• সৎ ইচ্ছা।
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য।
• শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৩,৬০০.
“পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই হলো শিক্ষা”।- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) রুশো
  2. খ) হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. গ) সক্রেটিস
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
উক্তিটি করেছেন হার্বার্ট স্পেন্সার- –“পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই হলো শিক্ষা”। । সক্রেটিস বলেছেন “শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ”। রুশো এর মতে “সু-অভ্যাস গঠনের নামই শিক্ষা”। প্লেটো বলেছেন – “শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের পরিপূর্ণ ও সার্বিক বিকাশ সাধনই হলো শিক্ষা”।