বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩৪ / ৩৯ · ৩,৩০১৩,৪০০ / ৩,৮২৯

৩,৩০১.
মূল্যবোধকে কোনটি সুদৃঢ় করে?
  1. পরিবার
  2. শিক্ষা
  3. ঐক্য 
  4. সামাজিক বণ্টন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৩০২.
নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে কোন শাস্ত্র?
  1. নীতিশাস্ত্র
  2. ন্যায়শাস্ত্র
  3. পৌরনীতি ও সুশাসন
  4. অর্থশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক:
- পৌরনীতি ও সুশাসন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের নাগরিকের বাহ্যিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র নাগরিকের নৈতিকতা সম্বন্ধীয় বিষয়াবলি আলোচনা করে থাকে।
- উভয় শাস্ত্রের উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ সাধন করা।
- সেক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৩.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. দুর্বল সংসদ
  2. অনুন্নত রাজনৈতিক দল
  3. দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাব: 
- বাংলাদেশের সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জবাবদিহিতার অভাব।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাবের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে।
- এগুলো হল: প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল সংসদ, অনুন্নত রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব এবং দুর্বল নির্বাচন ব্যবস্থা
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি সংসদে কোন শক্তিশালী বিরোধীদল ছিল না।
- এ কারণে সংসদ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
- আমলারা অনেক সময় জনগণের সামনে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচার করতে চায় না।
- শাসক শ্রেণীরও একটি অংশ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়।
- এই অস্বচ্ছতা দুর্নীতির জন্ম দেয় এবং সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (দ্বিতীয় বর্ষ), এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৪.
কোন ধরনের মূল্যবোধ আধুনিক বিশ্বে সর্বাধিক প্রাধান্য পাচ্ছে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩০৫.
'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া' এটা কোন আইনের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ক) ধর্মীয় আইন
  2. খ) সামাজিক আইন
  3. গ) নৈতিক আইন
  4. ঘ) প্রথাভিত্তিক আইন
ব্যাখ্যা
'ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া' এটি একটি নৈতিক আইন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩০৬.
সুশাসন কত ধরণের ধারণা নির্মাণ করে?
  1. ২ ধরণের
  2. ৩ ধরণের
  3. ৪ ধরণের
  4. ৬ ধরণের
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা: 
- সুশাসন শব্দটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন: আন্তর্জাতিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন, যৌথ শাসন ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
- বর্তমানে সুশাসনকে একটি দেশের উন্নয়নের দিক নির্দেশনা প্রদানকারী হিসেবে দেখা হয়।
- সুশাসন প্রত্যয়টিকে সংজ্ঞায়িত করতে হলে শাসন বলতে কি বুঝায় তা জানা প্রয়োজন।
- শাসন বলতে বুঝায় ক্ষমতাকে কিভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিভাবে জনগণের দাবি-দাওয়ার প্রতি সাড়া প্রদান করা হয় কিংবা কিভাবে একটি জনসমষ্টি শাসিত ও পরিচালিত হয়।
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। 
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩০৭.
'সার্বভৌমত্ব' রাষ্ট্রের কততম উপাদান?
  1. ১ম
  2. ২য়
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র বলতে সেই জনসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় বসবাস করে, যাদের একটি সরকার আছে সর্বোপরি যারা বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ হতে সর্বোতভাবে মুক্ত থাকে।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।

⇒ রাষ্ট্রের উপাদান ৪টি। যথা:
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও,
(৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।
- এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৮.
আইনকে সার্বভৌম শক্তির আদেশ বলে অভিহিত করেছেন-
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. হল্যাণ্ড
  3. অস্টিন
  4. লর্ড এ্যাকটন
ব্যাখ্যা
আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা
১. গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
২. আইনবিদ জন অস্টিনের মতে, "সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন।"
৩. অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
৪. স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
৫. আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।”

আইনের উপরিউক্ত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করে বলা যেতে পারে যে, আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি, যা রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক গৃহীত, সমর্থিত ও প্রযুক্ত হয়। জনগণের কল্যাণের জন্য আইন অত্যাবশ্যক। আইন ভঙ্গ করলে সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে বল প্রয়োগ ও শাস্তি প্রদান করে আইন মেনে চলতে বাধ্য করে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩০৯.
'যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

- লাস্কির মতে, “ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন। "

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১০.
কার মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"?
  1. উইলিয়াম ফ্রাংকেনার
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. টেইলার
  4. ম্যাকেনজি
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার কিছু সংজ্ঞা: 
- উইলিয়াম লিলি এর মতে, "নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।

- উইলিয়াম. কে. ফ্রাংকেনার মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, “নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা"।
- পি. ডব্লিও. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, “নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান।”

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩১১.
সুশাসন এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে _________ সম্পর্ক বিদ্যমান।
  1. বৈরী
  2. সৌহার্দ্যের
  3. আস্থার
  4. অনুকূল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,৩১২.
মানুষের আচরন নিয়ন্ত্রন করে কল্যাণ সাধন করা কোনটির লক্ষ্য?
  1. গণতন্ত্রের
  2. মূল্যবোধের
  3. সুশাসনের
  4. নৈতিকতার
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
- লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
- নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
- শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
- রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
- উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩১৩.
“দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।" - উক্তিটি কোন দার্শনিকের? 
  1. আর. বি. পেরি
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস 
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

- “দর্শন হচ্ছে ধর্ম ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এক অনধিকৃত প্রদেশ।" - উক্তিটি দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। 

• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

উল্লেখ্য,
- বিখ্যাত দার্শনিক বাট্রান্ড রাসেলের মতে সচেতনভাবে বা অচেতনভাবেই হোক মানুষের মনে এমন কিছু প্রশ্ন জাগে যাদের কোন যুক্তি সঙ্গত উত্তর ধর্মতত্ত্বে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আবার বিজ্ঞান এদের নিয়ে আদৌ মাথা ঘামায় না।
- ধর্মতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের মধ্যবর্তী এই যে অনধিকৃত একটি রাজ্য তাতেই দর্শন বিচরণ করে চলেছে।
- আর এ কারণেই রাসেল দর্শনকে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের মধ্যবর্তী অনধিকৃত রাজ্য (No Man's Land) বলে অভিহিত করেছেন।

⇒ তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

তথ্যসূত্র: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩১৪.
আইনগত সাম্যের মূল কথা হচ্ছে -
  1. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
  2. আইনের চোখে সকলেই সমান
  3. সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা
  4. সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৫.
নিচের কোন গুণের চর্চার মাধ্যমে 'উদারতাবাদ' প্রকাশ পায়?
  1. ক) ব্যক্তিস্বাধীনতা
  2. খ) সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ
  3. গ) পারস্পরিক সম্মতি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:  
• বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
• নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়। একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
• সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
• মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
• মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চচার্ই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
• গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।        

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৬.
নিচের কোনটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) ন্যায়বিচার বোধ
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) অধিকার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
⇨ এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
⇨ মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চার ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
⇨ এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩১৭.
রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা কোনটি?
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. ভূ-খন্ড
  4. সরকার
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা-
(১) জনসমষ্টি,
(২) ভূ-খন্ড,
(৩) সরকার ও
(৪) সার্বভৌমত্ব।

সার্বভৌমত্ব: 
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।

- সার্বভৌমত্বের দু'টো দিক রয়েছে। যথা-
(ক) অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব, যার দ্বারা রাষ্ট্র তার সীমানার মধ্যে যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর অবাধ ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার মাধ্যমে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

(খ) বাহ্যিক সার্বভৌমত্ব, এ ক্ষমতা বলে রাষ্ট্র বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩১৮.
UNDP-এর মতে সুশাসনের মোট কয়টি উপাদান রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

৩,৩১৯.
সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় নিচের কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. এককেন্দ্রিক শাসন
  2. জন অংশগ্রহণ
  3. প্রশাসনের স্বচ্ছতা
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ নয় - এককেন্দ্রিক শাসন।

সুশাসনের ধারণা:

- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

সুশাসনের পূর্বশর্ত:

• সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩২০.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. যােগাযােগ বৃদ্ধি পায়
  2. প্রতিষ্ঠানের সুনাম হয়
  3. দুর্নীতি দূর হয়
  4. বিনিয়ােগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে। তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৩,৩২১.
'পলিটিক্স' বইটি কার লেখা?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. অ্যারিস্টটল
  4. আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা
অ্যারিস্টটলের 'পলিটিক্স': 
- 'পলিটিক্স' অ্যারিস্টটলের লেখা বিখ্যাত বই। 

- অ্যারিস্টটল উল্লেখ করেন, "মানুষ একটি রাজনৈতিক প্রাণী," যা শহর ও সম্প্রদায়ে একত্রে বসবাস করে।
- মানব সমাজের বৈশিষ্ট্য হলো মাংস ও রক্তের মানুষদের একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া।
- অ্যারিস্টটল এবং তার ছাত্ররা ১৫৮টি রাষ্ট্রের সংবিধান নথিভুক্ত করেন।
- এর মধ্যে একটি 'এথেন্সের সংবিধান' প্যাপিরাসে সংরক্ষিত আছে।
- অ্যারিস্টটলের রাজনীতি গবেষণা তার প্রাণিবিজ্ঞানের কাজের মতোই পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বের সমন্বয়।
- 'পলিটিক্স' শাসনব্যবস্থার গুণগত বিশ্লেষণ এবং মানব সমাজের রাজনৈতিক প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

'পলিটিক্স'-এর লক্ষ্য:
- সংবিধানগুলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভালো শাসন ও খারাপ শাসনের কারণ অনুসন্ধান।
- এমন উপাদান চিহ্নিত করা যা একটি সংবিধানের স্থায়িত্বে সহায়ক বা প্রতিবন্ধক।

উৎস: Britannica. 
৩,৩২২.
প্রতি বছর কোন সংস্থা মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে?
  1. World Bank
  2. UNCTAD
  3. UNDP
  4. UNEP
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচক হলো বিশ্বের সকল দেশ-সমূহের জীবন মান, শিক্ষা, নিরক্ষরতা প্রভৃতির একটি তুলনামূলক সূচক।
- একে সংক্ষেপে HDI ( Human Development Index) বলা হয়।
- মানব উন্নয়ন মাপকাঠি সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সাজানো হয়।
- প্রতি বছর UNDP মানব উন্নয়ন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।
- মানব উন্নয়ন সূচক ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
৩,৩২৩.
কোন প্রকারের মূল্যবোধ সুশাসনের মানদণ্ড হিসাবে বিবেচিত?
  1. ক) নৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গ) ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  4. ঘ) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো সুসাশনের মানদণ্ড।
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কিছু আদর্শ ও নিয়মনীতি থাকে। যার দ্বারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আচার-আচরণ ও তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।

৩,৩২৪.
আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো-
  1. ঘুষ গ্রহণ
  2. নীতির বিরুদ্ধে আচরণ
  3. ক্ষমতার অপব্যবহার
  4. দায়িত্ব পালনে অবহেলা
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতি:
- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো “Corruption”.
- এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Corruptus” থেকে।
- আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো 'নীতির বিরুদ্ধে আচরণ'।
- সুশাসনের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে 'দুর্নীতি'।
- বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝানো হয়েছে-
'ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।'

যেমন-
→ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার,
→ সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা,
দায়িত্ব পালনে অবহেলা,
→ অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার,
→ ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ,
→ স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩২৫.
"আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. আতাউর রহমান
  3. বারট্রান্ড রাসেল
  4. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
ব্যাখ্যা
গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর দার্শনিক চিন্তাভাবনা জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মানবতাবাদী ভাবনাকে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করেছে।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

উল্লেখ্য, 
- "আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস" গ্রন্থের রচয়িতা গোবিন্দ চন্দ্র দেব।
- "আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস" গ্রন্থে তিনি আইডিয়ালিজম এবং সমাজের অগ্রগতি সম্পর্কিত ধারণাগুলি বিশ্লেষণ করেছেন।

গোবিন্দ চন্দ্র দেবের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস (১৯৫২)
- আইডিয়ালিজম: এ নিউ ডিফেন্স অ্যান্ড এ নিউ অ্যাপলিকেশন (১৯৫৮)
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭)
- অ্যাসপিরেশন অব দি কমন ম্যান (১৯৬৩)
- দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান (১৯৬৩)
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬)
- বুদ্ধ: দি হিউম্যানিস্ট (১৯৬৯)
- দি প্যারাবুলস অব দি ইস্ট (১৯৮৪)
- মাই আমেরিকান এক্সপিরিয়েন্স (১৯৯৩

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,৩২৬.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার - 
  1. দায়মুক্তি
  2. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  3. সরকারি চাকুরি
  4. সম্পত্তি ভোগ 
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩২৭.
Nihilism অর্থ কী?
  1. ক) শূন্যবাদ
  2. খ) মধ্যমপন্থা
  3. গ) উত্তম আচরণ
  4. ঘ) চরমপন্থা
ব্যাখ্যা
Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৩,৩২৮.
ইভটিজিং বিরোধী ধারা-
  1. ক) ২০৯
  2. খ) ৩০৯
  3. গ) ৪০৯
  4. ঘ) ৫০৯
ব্যাখ্যা
- ইভ মানে রমণী বা নারী এবং টিজিং মানে উত্ত্যক্ত করা বা বিরক্ত করা।
- ইভটিজিং মানে হচ্ছে পুরুষ সমাজ কর্তৃক নারীর উত্ত্যক্ত বা বিরক্তির শিকার।
- ইভটিজিং বিরোধী ধারা হলো ৫০৯।
৩,৩২৯.
‘ওয়াশিংটন কনসেনসাস’ ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. জন মেনার্ড কেইনস
  2. জন উইলিয়ামসন
  3. মিল্টন ফ্রিডম্যান
  4. পল ক্রুগম্যান
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- এটি মুক্ত-বাজার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুচ্ছ বোঝায়।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৯ সালে জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ এই ধরণাটির প্রবর্তক।
- তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।

⇒ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
- নীতিগুলো হচ্ছে: বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.
৩,৩৩০.
'ন্যায়পরায়ণতা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৩১.
"মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক”- এ বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. জ্যাঁ-জ্যাক রুশো
  2. টমাস হবস
  3. প্লেটো
  4. কাল মার্কস
ব্যাখ্যা
• টমাস হবস (Thomas Hobbes):
- টমাস হবস ছিলেন ইংরেজ দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ।
- আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ১৫৮৮ সালের ৫ এপ্রিল ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারের ওয়েস্টপোর্টে জন্মগ্রহণ করেন।

• প্রধান গ্রন্থ:
- Leviathan (১৬৫১) হবসের বিখ্যাত রচনা। 
- যা আধুনিক রাষ্ট্রতত্ত্বের ভিত্তি স্থাপন করে।

→ সামাজিক চুক্তি:
- মানুষ তাদের স্বাধীনতা ও কিছু অধিকার ত্যাগ করে একটি সার্বভৌম ক্ষমতার অধীনে আসে।
- যা তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে।
- মানুষ স্বভাবতই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।​
 
• প্রাকৃতিক অবস্থা:
- হবসের মতে, প্রাকৃতিক অবস্থায় মানুষ ছিল একে অপরের প্রতি শত্রু।
- যার ফলে "প্রত্যেক মানুষের বিরুদ্ধে প্রত্যেক মানুষের যুদ্ধ" (bellum omnium contra omnes) পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো।​

উৎস: Britannica.
৩,৩৩২.
'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• 'Human Society in Ethics and Politics' গ্রন্থের লেখক - বার্ট্রান্ড রাসেল।

• বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা ব্রিটিশ দার্শনিক - বার্ট্রান্ড রাসেল। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

সূত্র: ব্রিটানিকা ডটকম।
৩,৩৩৩.
মূল্যবোধকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ব্যক্তিগত আবেগ
  2. আচরণের সামাজিক মাপকাঠি
  3. অর্থনৈতিক সূচক
  4. রাজনৈতিক মতাদর্শ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩৪.
প্রত্যেক রাষ্ট্রই পরিচিত হয় তার প্রদত্ত অধিকার দ্বারা - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক গেটেল
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি এর মতে "প্রত্যেক রাষ্ট্রই পরিচিত হয় তার প্রদত্ত অধিকার দ্বারা"।

অন্যদিকে,
- টমাস হবস এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- জন অস্টিন বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।
- অধ্যাপক গেটেল  বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।"
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৩৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কীসের ভিত্তিতে পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে?
  1. শ্রদ্ধাবোধ
  2. সমজাতীয় স্বার্থ
  3. রাজনৈতিক কর্মসূচি
  4. জাতীয় ঐক্য
ব্যাখ্যা
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৩৩৬.
আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ
  2. খ) মূল্যবোধের অভাব
  3. গ) অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা
  4. ঘ) অবনমিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রধান কারণ হলো অবনমিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো সেসব মনোভাব, বিশ্বাস, অনুভূতি ও মূল্যবোধ যা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও মূল্যবোধকে নিয়ন্ত্রণ করে।
আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি অবনমিতার কারণে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৩৩৭.
সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো- 
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উল্লেখ্য
- এস সি ডডের ভাষায়,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।
- এম আর উইলিয়ামস বলেছেন যে,
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৩৮.
সরকার, জনগন ও সুশীল সমাজের মধ্যে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কোনটি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন?
  1. ক) স্বাধীন গণমাধ্যম
  2. খ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
  3. গ) ই-গভর্নেন্স
  4. ঘ) তথ্য সেবাকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
▪ সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
▪ ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌছে দেয়া।
▪ ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
▪ সরকার, জনগন ও সুশীল সমাজের মধ্যে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৩৯.
'সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়' - কোন সংস্থার অভিমত?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এডিবি
  3. জাতিসংঘ
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৪০.
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে -
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ইউএনডিপি
  3. জাতিসংঘ
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন সম্পর্কিত সংজ্ঞা ও উক্তি:
→ “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”- এই অভিমত প্রকাশ করে - বিশ্বব্যাংক।
→ “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”-উক্তিটি করে → UNDP.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৪১.
মূল্যবোধ শিক্ষা বলতে কী বোঝায়?
  1. মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকাশের শিক্ষা
  2. ধর্মীয় শিক্ষা
  3. পেশাগত প্রশিক্ষণ
  4. কেবল নৈতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা বলতে বোঝায় মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকাশের শিক্ষা।

• মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ন্যায়পরায়ণতার মতো মানবিক ও নৈতিক গুণাবলি বিকশিত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি হিসেবে কাজ করে, যা ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা তৈরি করে। এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ গড়ার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৩,৩৪২.
নৈতিকতা ভঙ্গের শাস্তি কী?
  1. রাষ্ট্রীয় আইনে সাজা
  2. আন্তর্জাতিক আইনে সাজা
  3. সামাজিক আইনে সাজা
  4. কোনো শাস্তি নেই
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৪৩.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ?
  1. আইনের দৃষ্টিতে সমতা
  2. সার্বজনীন ভোটাধিকার
  3. উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে বৈষম্য হ্রাস
  4. ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক সাম্য (Political Equality):
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অধিকার ভোগের বেলায় সমান সুযোগ থাকাকেই রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ মস্তিষ্ক নাগরিক যখন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বা সাধারণ ভোটদাতা হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে তখনই কোনো দেশে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রাজনৈতিক সাম্যের উদাহরণ হচ্ছে - সার্বজনীন ভোটাধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
৩,৩৪৪.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের win win game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো:মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

৩,৩৪৫.
মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞানকে কি বলে?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) নীতিবিদ্যা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজকল্যান
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ ethics এসেছে গ্রিক শব্দ ethica ও ল্যাটিন শব্দ ethice থেকে। এ শব্দ দু’টি এসেছে গ্রিক শব্দ ethikos থেকে। অর্থাৎ ethics এর আদি উৎস হলো ethos যার অর্থ হলো ‘চরিত্র’, ‘আচার-ব্যবহার’, ‘রীতি-নীতি’ বা ‘অভ্যাস’।
কাজেই শাব্দিক অর্থে নীতিবিদ্যা বলতে বুঝায় ‘মানুষের আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান’। নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালত্ব-মন্দত্ব ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। অতএব, যে বিদ্যা মানুষের আচার-ব্যবহার রীতি-নীতি, অভ্যাস ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে নীতিবিদ্যা বলে।

নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় বা ভালো-মন্দ সম্পর্কিত আলোচনা। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ বা ইচ্ছাকৃত ক্রিয়ার মূল্যবিচার করাই হলো এর মূল আলোচ্য বিষয়। এই বিদ্যার আলোচ্য বিষয় সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ণ।
৩,৩৪৬.
'রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা' হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের -
  1. অভিলক্ষ
  2. প্রতিপাদ্য
  3. রূপকল্প
  4. স্লোগান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উল্লেখ্য,
- রূপকল্প: সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ্য:  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৩,৩৪৭.
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে, কোনটি গুরু দণ্ড?
  1. বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান
  2. বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ
  3. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ
  4. তিরস্কার
ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮:
- সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দশম অধ্যায়ের ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেবলমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লঘু ও গুরু দন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষের বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর বিভাগীয় মামলায় এই ধারায় উল্লিখিত গুরু বা লঘু দন্ড আরোপের এখতিয়ার বা ক্ষমতা নাই। এই ধারায় এই ক্ষমতা অর্পণেরও কোনো বিধান রাখা হয় নাই। যদিও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর লঘু দন্ড আরোপের ক্ষমতা রয়েছে, যা এই আইনের পরিপন্থী হওয়ায় এই আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য শৃংখলা ও আপীল বিধিমালার আইনটি অকার্যকর।

⇒ দণ্ড:
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা:

• গুরু দণ্ডসমূহ:
- নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
- চাকরি হতে অপসারণ;
- চাকরি হতে বরখাস্ত।

• লঘু দণ্ডসমূহ:
- তিরস্কার;
- নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
- বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
- কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

উৎস: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮।
৩,৩৪৮.
'সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত'- এটি কার ভাষ্য?
  1. ক্লাইড কুখোন
  2. স্টুয়াট সি. ডড
  3. এইচ. ডি. স্টেইন
  4. মিশেল ক্যামডেডাস
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামাজিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তার সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ক্লাইড কুখোন বলেন,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে স্টুয়াট সি. ডড এর ভাষ্য হলো,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে এবং সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৪৯.
“On Liberty” গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. সক্রেটিস
  3. জন লক
  4. জ্যাঁ জাক রুশো
ব্যাখ্যা

জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'On Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'

​• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- Considerations on Representative Government,
- Examination of Sir William Hamilton's Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

অন্যদিকে,
- প্লেটোর বিখ্যাত বই: The Republic.
- জন লক বিখ্যাত বই: 
- An Essay Concerning Human Understanding.
- Two Treatises of Government.

উৎস: ব্রিটানিকা ।

৩,৩৫০.
সাধারণত কয়টি পর্যায়ে ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সাধারনত তিনটি স্তরে বা পর্যায়ে এই ই-গর্ভনেন্স সেবা পাওয়া যায়-(১) সরকার ও সেবা গ্রহীতা (ব্যক্তি) (২) সরকার ও ব্যবসা-বাণিজ্য (৩) সরকার থেকে সরকার।
- বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে ঘোষিত ভিশন-২০২১ এর প্রধান লক্ষ্যই হল সরকারি সেবা ও শাসনব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা।
- ই- গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠিত হলে সর্বাগ্রে প্রাধান্য পাবে সাধারণ নাগরিক।
- এটি চার ধরনের কাজ করে যার কেন্দ্রে থাকে নাগরিক সেবা।
- একাজগুলো হচ্ছে ব্যক্তিকে অবগতকরণ, ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বকরণ, ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান এবং ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তকরণ।
- ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযোগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৫১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ হলো -
  1. গণতন্ত্র
  2. আইনের শাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো: গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে জবাবদিহিতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৫২.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. মিতাচার, ন্যায়, সততা, আইন
  2. সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, নির্লিপ্ততা
  3. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  4. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

সদগুন:
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য,
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৫৩.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. দ্বিমাত্রিক
  3. বহুমাত্রিক
  4. বর্ণিত সবগুলো 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,৩৫৪.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল -
  1. পরমত সহিষ্ণুতা
  2. শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন
  3. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
  4. সুগঠিত রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিম্নে আলোচনা করা হল:-
পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা।
স্বচ্ছতা: রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ।
আইনের শাসন: সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়।
ন্যায়পরায়ণতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়।
সচেতনাবোধ সৃষ্টি: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।
দায়বদ্ধতা: নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৫.
মূল্যবোধ একটি -
  1. প্রাতিষ্ঠানিক গুণাবলী
  2. রাজনৈতিক গুণাবলী
  3. সামাজিক গুণাবলী
  4. মানবিক গুণাবলী
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেকবুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৫৬.
'European Economic Community' সুশাসন নিয়ে প্রকাশ করে -
  1. Braille paper
  2. White paper
  3. Manifesto paper
  4. Black paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি। 
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট & Britanica।
৩,৩৫৭.
জোনাথন হাইট এর মতে নিচের কোনটি থেকে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটেনি?
  1. ক) সংস্কৃতি
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) ঐতিহ্য
  4. ঘ) মানব আচরণ
ব্যাখ্যা
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’ - জোনাথন হাইট
৩,৩৫৮.
আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে
  2. আইন মানুষের মনোজগত নিয়ন্ত্রণ করে, নৈতিকতা বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. উভয়ই কেবল অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণা নিয়ন্ত্রণ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য। 

• আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) প্রথম আলো।

৩,৩৫৯.
'Political Man' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. স্যামুয়েল হান্টিংটন
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. আলেক্সিস দে টকভিল
  4. সেমুর মার্টিন লিপসেট
ব্যাখ্যা

-  "পলিটিক্যাল ম্যান" গ্রন্থের লেখক সেমুর মার্টিন লিপসেট। 
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে সংশোধিত হয়।
- এটি আমেরিকান সোসিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ম্যাকআইভার পুরস্কার অর্জন করে।

লেখকের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই: 
- Political Man.

- Political Man: The Social Bases of Politics.
- The First New Nation: The United States in Historical and Comparative Perspective.
- Revolution and Counterrevolution: Change and Persistence in Social Structures. 
- American Exceptionalism: A Double-Edged Sword. 

সূত্র: ব্রিটানিকা, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট। 

৩,৩৬০.
বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
  1. চিন্তাভাবনা
  2. তৈজসপত্র
  3. নীতিবোধ
  4. বিশ্বাস
ব্যাখ্যা

• বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে বোঝায়- তৈজসপত্র।

সংস্কৃতির ধরন:

সমাজে সাধারণত দুই ধরনের সংস্কৃতি বিদ্যামান।যথা-
১. বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
২. অবস্তুগত সংস্কৃতি।

১. বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম আর এগুলোই বস্তুগত সংস্কৃতি।

২. অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। 

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৬১.
নৈতিকতা সম্পর্কে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
  2. নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
  3. নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  4. নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উল্লিখিত প্রশ্নে নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কথাটি সঠিক নয়। কারণ আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে নৈতিকতা নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৬২.
গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index) প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. Transparency International
  2. Economist Intelligence Unit
  3. UNDP
  4. World Justice Project
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র সূচক (Democracy Index):
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU)।
- এটি The Economist Group-এর একটি অঙ্গসংস্থা।
- এটি প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার মূল্যায়ন করে এই সূচক প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সাধারণত ১৬৫টি স্বাধীন দেশ ও দুটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- সূচকটি নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান মানদণ্ড ব্যবহৃত হয়—
- নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বহুদলীয় ব্যবস্থা,
- সরকারের কার্যকারিতা,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং
- নাগরিক অধিকার।
- মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়:
- পূর্ণ গণতন্ত্র,
- ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র,
- মিশ্র শাসনব্যবস্থা এবং
- কর্তৃত্ববাদী শাসন।
----------------------------
• সুশাসন সম্পর্কিত সূচক:
- সুশাসন কতটা কার্যকরভাবে একটি দেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে—তা পরিমাপ করার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নানা সূচক (Index) প্রকাশ করে।
- এসব সূচক মিলেই একটি দেশের সুশাসনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে।
- যেমন, 
• আইনের শাসন সূচক দেখায় আইন কতটা ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, এটি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক World Justice Project।

• মানুষের জীবনমান পরিমাপের জন্য UNDP ১৯৯০ সাল থেকে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রকাশ করছে।

• গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যাচাই করা হয় World Press Freedom Index দ্বারা, যা প্রকাশ করে Reporters Without Borders.

• মানুষের সামগ্রিক সুখের মাত্রা বোঝাতে World Happiness Index প্রকাশ করে Sustainable Development Solutions Network.

• এছাড়া, বিশ্বে শান্তির অবস্থা জানাতে Global Peace Index প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক Institute for Economics and Peace.

• দুর্নীতির মাত্রা নির্ণয়ে সবচেয়ে পরিচিত সূচক হলো Corruption Perceptions Index, যা প্রকাশ করে Transparency International. 

• আধুনিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল বাণিজ্যের অবস্থা বোঝাতে UNCTAD প্রকাশ করে E-commerce Index। Economist Intelligence Unit. 

উৎস: ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট সূচকের ওয়েবসাইট। 

৩,৩৬৩.
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values) এর কারণে মানুষ -
  1. সৎভাবে বাঁচতে চায়
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করে
  3. অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ (Spiritual Values):
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

৩,৩৬৪.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. শঠতা
  2. অসহিষ্ণুতা
  3. ন্যায়
  4. সার্থকতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৬৫.
নিচের কোনটি অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. অধিকার স্থিতিশীল
  2. অধিকার সার্বজনীন
  3. অধিকার অসীম
  4. অধিকার নিরঙ্কুশ
ব্যাখ্যা
• অধিকারের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Right):
→ প্রথমতঃ অধিকারের ধারণা মানুষের সামাজিক চেতনাবোধ থেকে উদ্ভূত। সমাজেই এর সৃষ্টি এবং সমাজেই এর বিকাশ ঘটে থাকে।
→ দ্বিতীয়তঃ অধিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত, স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।
→ তৃতীয়তঃ সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে অধিকারও পরিবর্তিত হয়। অধিকার গতিশীল।
→ চতুর্থতঃ অধিকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।
→ পঞ্চমতঃ অধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটায়।
→ ষষ্ঠতঃ অধিকার নাগরিক ও নৈতিক গুণাবলিকে জাগ্রত করে।
→ সপ্তমতঃ অধিকার সর্বজনীন (universal)।
→ অষ্টমতঃ অধিকার হচ্ছে কতগুলো সুযোগ-সুবিধা।
→ নবমতঃ অধিকার অসীম বা অবাধ নয়। কর্তব্য সম্পাদন ব্যতীত অধিকার ভোগ করা যায় না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,৩৬৬.
'An Introduction to Ethics' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জি. ই. ম্যুর
  4. ম্যাকরনি
ব্যাখ্যা

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics.
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যাকে মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।
- এটি নীতিশাস্ত্রের (Ethics) একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়।
- এই গ্রন্থে লিলি নৈতিকতার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন নৈতিক তত্ত্ব এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

- উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
'নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।'

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৬৭.
কোন ধরনের শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে?
  1. ক) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) নৈতিক শিক্ষা
  3. গ) সাংস্কৃতিক শিক্ষা
  4. ঘ) সামাজিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত রেখে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করে।
• নৈতিক শিক্ষা ন্যায়বোধ ও বিবেককে জাগ্রত করে যা মানুষকে মন্দ পরিহার করে ভালো দিকে ধাবিত করে।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৬৮.
‘নৈতিকতা’ (Moralitas) শব্দটির উৎস কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. রুশ
  2. ফরাসি
  3. ল্যাটিন
  4. ইংরেজি
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- ‘নৈতিকতা’ শব্দটির উৎস ল্যাটিন শব্দ ‘Moralitas’ থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ দাঁড়ায় মানুষের চরিত্রগত গুণাবলি ও সঠিক আচরণের ধারণা।
- নৈতিকতা হলো মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেইসব মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের সমষ্টি, যা তাকে সুন্দর, মার্জিত ও মানবিক আচরণ করতে উৎসাহিত করে।
- সঠিক নৈতিক অনুভূতি ও বিবেকের কারণে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে না এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৬৯.
কর্তব্য কি?
  1. নীতিনিষ্ট আচরণ
  2. অপরিহার্য আচরণ
  3. আবশ্যকীয় প্রাপ্তি
  4. দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শন
ব্যাখ্যা
• কর্তব্য:
→ কর্তব্য হচ্ছে মানুষের এমন এক নীতিনিষ্ঠ আচরণ, যা সকল সময়ই সর্বপ্রকার মানুষ পালন করতে বাধ্য থাকে।
→ নৈতিক কর্তব্য নিয়মিত পালন করার মানসিক প্রবণতা বা অভ্যাস থেকেই মানুষের মধ্যে সদগুণ গড়ে উঠে এবং কর্তব্য সম্পাদনের মধ্য দিয়েই সদগুণ প্রকাশিত হয়ে থাকে।
→  কর্তব্যের স্বরূপ প্রসঙ্গে ম্যাকেনজী বলেন যে, কর্তব্য হচ্ছে এমন এক বিশেষ ধরণের কাজ- যা আমাদের করা উচিত।
কর্তব্যের কতকগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন :
→  ১. কর্তব্য হচ্ছে ন্যায় কাজ, যা অনেক লোকই পরিহার করতে প্রবৃত্ত হয় ;
→  ২. কাজটি যে করছে তার চেয়ে অন্যের উপরই কর্তব্যের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বর্তে বলেই আমাদের মধ্যে কর্তব্যকে পরিহার করার প্রবণতা দেখা দেয় ;
→ ৩. কর্তব্য এমনভাবে অনুমোদনের ভাবাবেগ উদ্রেক করে, যা নিছক ন্যায় কাজ করে না।
→  কর্তব্যকে কেউ কেউ তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেন ; যেমন-আত্মকেন্দ্রিক, পরকেন্দ্রিক ও আদর্শ কেন্দ্রিক। আবার কেউ কেউ দু’ধরনের কর্তব্যের কথা বলেছেন, যেমন- নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট।
→  নির্দিষ্ট কর্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তির জ্ঞান সুষ্পষ্ট থাকে। পক্ষান্তরে অনির্দিষ্ট কর্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সুষ্পষ্ট জ্ঞান থাকে না। 

তথ্যসূত্র: এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭০.
সুশাসন দ্বারা শাসনের কোন দিকটি বুঝায়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

সুশাসন:
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৭১.
কোন সালের প্রতিবেদনে মূল্যবোধ শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে?
  1. ক) ২০০০
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ২০০৯
  4. ঘ) ১৯৯৬
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত প্রতিবেদনে জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছে। 
- সেখানে শিক্ষার জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা তথা মূল্যবোধ শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। 
- অর্থাৎ শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাধারণধর্মী আচরণগুলো যখন সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তখনই শিক্ষণে মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে ধরা যাবে। 
 
 উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩৭২.
লালফিতার দৌরাত্ম্য কোথায় পরিলক্ষিত হয়?
  1. ক) আমলাতন্ত্র
  2. খ) রাজতন্ত্র
  3. গ) সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
- লালফিতার দৌরাত্ম্য হলো সরকারি দপ্তরে কাজের দীর্ঘসূত্রিতা।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকেন। যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,৩৭৩.
'প্রিন্সিপিয়া এথিকা' (Principia Ethica) শীর্ষক গ্রন্থটি কার?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. জি. ই. ম্যুর
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- ১৯০৩ সালে 'প্রিন্সিপিয়া এথিকা' (Principia Ethica) শীর্ষক গ্রন্ত্রটি রচনা করেন জি. ই. ম্যুর।
- জি. ই. ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ হচ্ছে নৈতিকতা।'
- ব্রিটিশ দার্শনিক জি. ই. ম্যুরকে পরানীতিবিদ্যা প্রবর্তক বলা হয়।
- আধুনিক পরানীতিবিদ্যার জনক জি. ই. ম্যুর।

পরানীতিবিদ্যা:
- বিভিন্ন নৈতিক উক্তি, পদ বা অবধারণ, নৈতিক পদের সাথে নৈতিক অবধারণের যৌক্তিকতা নিরূপণ, নৈতিক পদ বা অবধারণের অর্থ বিশ্লেষণ প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে যে নৈতিক মতবাদগুলো গড়ে উঠেছে তার সমষ্টিই হলো পরানীতিবিদ্যা।
- 'Meta Ethics' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে পরানীতিবিদ্যা।
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৭৪.
নীতিবিদ্যা মানুষের কোন ক্রিয়া আলোচনা করে?
  1. প্রারম্ভিক ক্রিয়া
  2. আবশ্যিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  4. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭৫.
গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি কী?
  1. দলীয়করণ করা 
  2. জন সচেতনা
  3. ক্ষমতার ভারসাম্য
  4. কার্যকর সংসদ
ব্যাখ্যা

• জন সচেতনা: 
- জনগনের সচেতনতাই গণতন্ত্র সফলতার মূল শক্তি।
- জনগনের সজাগ দৃষ্টি নাগরিক অধিকার সর্বশ্রেষ্ট রক্ষাকবচ।
- জনসচেতনা সুশাসনের ও চাবিকাঠি।

উল্লেখ্য, 
- জনঅংশগ্রহন:  প্রশাসনে জনগনের অংশগ্রহণ ব্যাপক অভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে।
- ক্ষমতার ভারসাম্য: সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
- কার্যকর সংসদ:  জনগণের আশা আকাঙ্খা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৩৭৬.
আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস কোনটি?
  1. বিচারকের রায়
  2. যুক্তিসিদ্ধ জ্ঞান
  3. ধর্ম
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা
প্রথা:
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৭৭.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য কি?
  1. ক্ষমতা দখল
  2. গোষ্ঠীগত স্বার্থ
  3. জাতীয় স্বার্থ
  4. সামাজিক স্বার্থ
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য:
- মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রম বাদ দিলে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সামনে বৃহত্তম জাতীয় কল্যাণ সাধনের কোন মহান উদ্দেশ্য থাকে না।
- সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উৎপত্তি।

রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,৩৭৮.
সাম্যের অর্থ কী?
  1. বিশেষ সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতি
  2. অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা
  3. শ্রেণি বিশেষের অধিকার প্রতিষ্ঠা
  4. সমান সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা
সাম্য:
→ সাম্যের অর্থ  - সমান সুযোগ-সুবিধা।
→ সাম্যের অর্থ সমান। সাধারণ অর্থ্য সাম্য বলতে বোঝায় সব মানুষ সমান।
→ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে স্বীকার করা হয় যে, সকল মানুষ সমান। কিন্তু বাস্তবে দেখায়া যায়, সব মানুষ এক সমান নয়। শারীরিক ও মানসিক গঠন এবং ক্ষমতা ও যোগ্যতার দকে থেকে একজনের সাথে অন্যজনের পার্থক্য রেয়েছে। এজ্যই রাষ্ট্রের কাছ থেকে সকলেই সমান ব্যবহার দাবি করতে পারে না। 
→ বার্কার-এর মতে, সম্য কথাটির অর্থ সুযোগ-সুবিধা বা অধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার পার্থক্য সৃষ্টি না করা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৭৯.
মূল্যবোধ শিক্ষা জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে কীভাবে?
  1. ক) সামাজিক বিবাদ প্রবর্তনের মাধ্যমে
  2. খ) পারিবারিক বিবাদ দূর করার মাধ্যমে
  3. গ) ব্যাক্তিগত জীবনাদর্শের সংঘাত প্রশমিত করে
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ব্যাক্তিগত জীবনাদর্শের সংঘাত, পারিবারিক কলহ, সামাজিক বিবাদ ইত্যাদি প্রশমিত করে জাতীয় উন্নয়নকে তরান্বিত করে মূল্যবোধের শিক্ষা৷
৩,৩৮০.
গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ হচ্ছে -
  1. সামাজিক ন্যায়বিচার
  2. সহনশীলতা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. সহমর্মিতা
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজানা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৩৮১.
“জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।" - উক্তিটি কার প্রদত্ত?
  1. ক) জন অস্টিন
  2. খ) অধ্যাপক গেটেল
  3. গ) টমাস হবস
  4. ঘ) অধ্যাপক স্যালমন্ড
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।" (A Law is a general rule of external action enforced by the sovereign political authority.)
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" (Law is the command of the political superior i. e. sovereign to the political inferior.) 
- অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, "ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" (Only those rules which the state creates or which as recognises, enforces become law.)

- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)।
তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।” (Law is that portion of the established thought and habit which has gained distinct and formal recognition in the shape of uniform rules backed by the authority and power of the government.)
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৮২.
সভ্যতা কী?
  1. লোক-রীতি
  2. নৈতিক ক্ষমতার বিকাশ
  3. উন্নত জীবনধারা
  4. মানুষের আচরণবিধি
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৩.
সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক কিরূপ?
  1. পরস্পর সম্পূরক
  2. পরস্পর সহায়ক
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সাম্য ও স্বাধীনতা:
- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- প্রকৃতপক্ষে জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও সাম্য পাশাপাশি অবস্থান গ্রহণ করে।

⇒ 'স্বাধীনতা ও সাম্য পরস্পর সম্পূরক।
- সাম্য ও স্বধীনতা পরস্পর বিরোধী নয়।
- একটি অপরটির পথে অন্তরায় তো নয়ই বরং উভয়ে পরস্পর সহায়ক ও সম্পূরক।
- স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করলে দেখা যায় যে, অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছানুসারে সবকিছু করার যে ক্ষমতা সেটিই স্বাধীনতা।
- কাজেই এটি স্পষ্ট যে, সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না।
- অসাম্য স্বাধীনতার অন্তরায় এবং এর বিনষ্টকারী।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে নাগরিক স্বাধীনতা বিনষ্ট হতে বাধ্য।
- "স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের বিরোধী নয়, এমনকি এ দুটো পরস্পর বিচ্ছিন্নও নয় বরং একই আদর্শের ভিন্ন বিষয় মাত্র।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৪.
সুশাসনের অভাবে নিম্নের কোনটি পরিলক্ষিত হয়?
  1. দুর্নীতি হ্রাস পায়
  2. সামাজিক সন্তোষ বৃদ্ধি
  3. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
  4. সার্বিক উন্নয়ন ঘটে
ব্যাখ্যা

সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

 অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
• সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক অব্যবহার হয় না।

• সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার বা তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৮৫.
'সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।' - সুশাসন সম্পর্কে উক্তিতি করেছেন -  
  1. ক) ল্যান্ডেল মিল
  2. খ) কফি আনান
  3. গ) ইব্রাহিম গানবারি
  4. ঘ) ম্যাক করণী
ব্যাখ্যা
• ল্যান্ডেল মিল  (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। 
ম্যাক করণী  (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।           
• জাতিসংঘের অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি বলেন, ‘যে সমস্ত দেশে সুশাসন আছে কেবল সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে’।
• জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান বলেছেন, ‘সুশাসন মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে প্রবর্তন করে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৩৮৬.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়
  2. এটি সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে
  4. এটি স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত প্রশ্নে "এটি স্থির ও অপরিবর্তনীয়" মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ মূল্যবোধ স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়।
অর্থাৎ সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব, স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হওয়া মূল্যবোধের সাধারণ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। 

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
১. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ মানুষের আচরণের নৈতিক দিক নির্ধারণ করে।
২. নির্দিষ্টতা: সমাজে মূল্যবোধের নির্দিষ্ট কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা থাকে।
৩. বিভিন্নতা: সমাজ, সংস্কৃতি এবং অঞ্চলের পার্থক্য অনুসারে মূল্যবোধের বৈচিত্র্য দেখা যায়।
৪. আপেক্ষিকতা: সময়, স্থান এবং প্রেক্ষাপট অনুসারে মূল্যবোধের ধারণা পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. সামাজিক মানদণ্ড: মূল্যবোধ সমাজে ভালো-মন্দ বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে।
৬. পরিবর্তনশীলতা: সমাজের পরিবর্তনের সাথে মূল্যবোধের ধারা ও ধারণা পরিবর্তিত হয়।
৭. সম্পর্কের সেতু: মূল্যবোধ মানুষকে একত্রিত করতে সাহায্য করে এবং সমাজে সম্পর্ক স্থাপন করে।

মূল্যবোধের উপাদান:
১. নীতিবোধ: সমাজে ভালো-মন্দ, সঠিক-ভুল বিচার করার ভিত্তি।
২. শৃঙ্খলা: সমাজের নিয়ম-নীতি ও আচরণের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল্যবোধ।
৩. সহমর্মিতা: অন্যের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতি এবং সাহায্যের ইচ্ছা।
৪. সৌজন্যবোধ: মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভদ্রতা প্রদর্শন।
৫. মানবিকতা: মানুষের মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মঙ্গলার্থে সহানুভূতির মূল্যবোধ।
৬. শ্রমের মর্যাদা: কাজের প্রতি সম্মান এবং শ্রমের উপযুক্ত মূল্যায়ন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৩,৩৮৭.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- 
  1. রাজনীতি
  2. সংস্কৃতি
  3. সুশাসন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,৩৮৮.
কোনটি সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) পরশ্রীকাতরতা
  4. ঘ) আত্মভরিতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো সাধারণ সাংস্কৃতিক আদর্শ যা সমাজের নাগরিকদের মধ্যে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম প্রভৃতি গুণাবলি স্পষ্ট করে তোলে। মূল্যবোধের শিক্ষা ব্যক্তি সমাজ থেকে লাভ করে এবং সমাজ তা ব্যক্তির নিকট থেকে প্রত্যাশা করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,৩৮৯.
সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি কী? 
  1. আইন
  2. নৈতিকতা
  3. প্রশাসন
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন: 
- সুশাসনের লক্ষ্য: জনকল্যাণ, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি: নৈতিকতা,
- সুশাসনের মূলভিত্তি: আইনের শাসন,
- সুশাসনের চালিকাশক্তি: স্বচ্ছতা,
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি: জবাবদিহিতা,
- সুশাসনের মানদণ্ড: জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি,
- সুশাসনের অন্তরায়: দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি।

উৎস: পৌরনীতি, ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৯০.
'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হেগেল
  2. কান্ট
  3. বেন্থাম
  4. পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা
'Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা পিটার সিঙ্গার।

পিটার সিঙ্গার:
- Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।
- তিনি জৈব-নৈতিকতা নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত এবং আধুনিক Animal Rights আন্দোলনের প্রবর্তক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।
- যেমন, তাঁর Animal Liberation গ্রন্থটির কথা বলা যাক। উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
- The Life You Can Save,
- The Most Good You Can Do,
- Animal Liberation,
- Ethics in the Real World.

উৎস: i) Britannica.
ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
৩,৩৯১.
কোনটির ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) বিশ্বাস
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) ভাবাবেগ
ব্যাখ্যা
- বিশ্বাসের ভিত্তির উপর গড়ে ওঠে মূল্যবোধের কাঠামো। 
- মানুষ তার বিশ্বাসের ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করে। 
- জীবনের প্রতিটি স্তরে বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে মূল্যবোধকে প্ৰয়োগ করে।
 
যেমন:
একজন ব্যক্তি মানবিকতায় বিশ্বাসী। তিনি জীবজগতের প্রতি সব সময়ই সহানুভূতিশীল। এখানে তার বিশ্বাস তাকে এই মানবিক আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, সে কারণে তিনি মানবিক আচরণকে গুরুত্ব দেন বা মূল্য দেন । এটাই তার মূল্যবোধ ।
 
উৎস: স্কুল অব এডুকেশন; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৩,৩৯২.
‘The Elements of Ethics’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ডেভিড ইস্টন
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্য ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৩৯৩.
নিম্নের কোনটি আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ?
  1. ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করা
  3. অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ: 
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- সৎভাবে বাচঁতে চাওয়া,
- সৎ থাকতে চাওয়া,
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা,
- মিথ্যাবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃৃনা করা।

উল্লেখ্য,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ: 
- আর্থিক লেনদেন,
- ক্রয় বিক্রয়,
-  ব্যবাসা বানিজ্য।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ: 
- ধর্ম প্রচারে বাধা না দেওয়া।
- অপরের ধর্ম মতকে সহ্য করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 

৩,৩৯৪.
IDA আইডির মতে নিচের কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) ভবিষ্যৎবাণী
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন
ব্যাখ্যা
IDA সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন। যথাঃ জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, ভবিষ্যৎবাণী, স্বচ্ছতা। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,৩৯৫.
জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ কোনটি?
  1. CEDAW
  2. UNCAC
  3. UNCLOS
  4. CBD
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- UNCAC জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ।
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
৩,৩৯৬.
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র হচ্ছে-
  1. মনের এক নিষ্ক্রিয় সংগঠন।
  2. মনের এক অপ্রকাশিত সংগঠন।
  3. মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
  4. মনের এক সাময়িক সংগঠন।
ব্যাখ্যা
নৈতিক অবধারণের বিষয়বস্তু হিসেবে চরিত্র:
-মানুষের মানসিক জীবনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে তার চরিত্র।
-চরিত্র হচ্ছে মনের এক স্থায়ী সংগঠন।
-অনেকে একেই নৈতিক অবধারণের প্রকৃত বিষয়বস্তু বলে মনে করেন এবং প্রেষণা ও অভিপ্রায়কে এর অন্তর্ভুক্ত করে দেখেন।

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিঙ্ক]
৩,৩৯৭.
European Economic Community প্রকাশ করে -
  1. Blue paper
  2. White paper
  3. Black paper
  4. Red paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট। 
৩,৩৯৮.
নিচের কোনটি সদগুণ?
  1. কাম
  2. ক্রোধ
  3. ভয়
  4. ক্ষমা
ব্যাখ্যা
- সদগুণাবলী হলো উত্তম গুণাবলী। এসব গুণাবলী মানুষের মানবিক উৎকর্ষতা সাধন করে থাকে।
বিভিন্ন প্রকার সদগুণাবলীর মধ্যে রয়েছে:
- ক্ষমা, নম্রতা, সাহসিকতা, মিতাচার, উদারতা, শালীনতা, নিষ্ঠা, বন্ধুত্ব প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,৩৯৯.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' এর প্রবর্তক বলা হয়- 
  1. ই .বি. টেইলর 
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল 
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. ফ্রান্জ বোয়াস
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪০০.
CEDAW সনদ গৃহীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ গৃহীত হয় ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে।
- এটি কার্যকর হয় ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ সালে।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)