বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ৩১ / ৩৯ · ৩,০০১৩,১০০ / ৩,৮২৯

৩,০০১.
‘দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার‘ কোন ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. আইনগত অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ ‘দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার‘ নৈতিক অধিকার।

নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার বলতে সেইসব অধিকার বোঝায় যা মানুষের বিবেক, নৈতিকতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ থেকে উদ্ভূত হয়।
- এগুলো রাষ্ট্রের কোনো আইন বা সরকারি প্রণয়নের ওপর নির্ভর করে না, বরং মানুষের মনুষ্যত্ববোধ, সামাজিক ন্যায় এবং সাধারণ নৈতিক চেতনা থেকে আসে।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।
• দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার,
• প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া,
• পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

- নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়।
- এ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৩,০০২.
সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. আইন
  2. অর্থনীতি
  3. মূল্যবোধ
  4. শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হচ্ছে বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০০৩.
অধিকার ব্যবস্থার অবাধ বাস্তবায়ন কী নিশ্চিত করে?
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
  2. নৈতিকতা বৃদ্ধি
  3. স্বেচ্ছাচার
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 

• অধিকার:
- অধিকার প্রধানত ২ প্রকার।
- সকল অধিকারের উৎস হচ্ছে - রাষ্ট্র।
- অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ হচ্ছে - আইন।
- অধিকার অবাধ হলে স্বেচ্ছাচার প্রতিষ্ঠিত হবে। 
- মৌলিক অধিকারের রক্ষাকবচ - সংবিধান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,০০৪.
আইনের মৌলিক উৎস কোনটি?
  1. প্রথা
  2. সংবিধান
  3. আইন পরিষদ
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

আইনের উৎস:
- আইনের প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
- গ্রেট ব্রিটেনে প্রথাভিত্তিক আইন রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উৎস.. ধর্ম।
- পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন- ধর্ম থেকে নেয়া হয়।
- আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
- আইনের মৌলিক উৎস সংবিধান।
- স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক.. আইন।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০০৫.
কোন ধরনের কর্তব্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে?
  1. রাজনৈতিক কর্তব্য
  2. আইনগত কর্তব্য
  3. নৈতিক কর্তব্য
  4. সামাজিক কর্তব্য
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।
যেমন-
→ বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
→ ভিক্ষুকে ভিক্ষা দেয়া,
→ দরিদ্রকে সাহায্য করা,
→ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
→ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০০৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কোনটি?
  1. ব্যক্তিগত কল্যাণ সাধন
  2. সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
  3. সামাজিক কল্যাণ সাধান
  4. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
- সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ ও তা বাস্তবায়ন ।
- মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপের অবসান।
- জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতার নীতি প্রতিষ্ঠা ।
- স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা।
- সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি।
- দুর্নীতি প্রতিরোদ।
- সুযোগ নেতৃত্ব।
- সার্বভৌম ও কার্যকর আইনসভা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০০৭.
“A System of Logic” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকাইভার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. জ্যাক রুঁশো
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,০০৮.
সুশীল সমাজের মূল কাজ কী?
  1. সরকার গঠন করা
  2. সরকার ও জনগণের মধ্যে মধ্যস্থতা করা
  3. রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা
  4. ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করা
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উল্লেখ্য,
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

৩,০০৯.
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে কী দেখা দেয়?
  1. নৈতিকতার বিকাশ
  2. ন্যায়বিচার বৃদ্ধি
  3. স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  4. বৈষম্য ও অবিচার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা:
- যেখানে সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা বিদ্যমান, সেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। 
- কিন্তু এগুলোর অভাব থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত হয়।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবের ফলে সমাজে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
- যখন নৈতিক শিক্ষা ও সুশাসন কার্যকর থাকে না, তখন সমাজে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, বৈষম্য, অন্যায় ও অবিচার বৃদ্ধি পায়।

যেমন-
: মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে মানুষ সৎ ও ন্যায়পরায়ণ থাকার পরিবর্তে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
: সুশাসনের অভাবে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দেখা দেয়, যা সমাজের একটি বড় অংশকে অবহেলিত করে রাখে।
: নৈতিক মূল্যবোধ না থাকলে আইন ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়, ফলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
৩,০১০.
"মানুষ হও এবং মরে বাঁচ।" - এটি কার উক্তি?
  1. প্লেটো
  2. হেগেল
  3. জি. ই. ম্যূর
  4. রাসেল
ব্যাখ্যা
"মানুষ হও এবং মরে বাঁচ (Be a person, Die to live)"- এটি জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের উক্তি।

জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেল:

- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- তিনি মনে করেন যে, পরমাত্মা বা পরমসত্তাই একমাত্র স্বনির্ভর সত্তা এবং জীবাত্মাও। জড়বস্তু পরমাত্মারই খণ্ড প্রকাশ মাত্র।

• হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।
- তাঁর নীতিদর্শনও তাই জটিলতামুক্ত নয়।
- তবে কয়েকটা বিষয় বেশ স্পষ্ট আর তা হচ্ছে ⎯
১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে আত্ম-সচেতনতার (self-consciousness) সৃষ্টি যা পরম সত্তার গুণ। জগতে এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে মানুষের মধ্যে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। এ সমন্বয় মত আবার সময়মত একটি মত হিসেবে অপর একটি প্রতি-মতের সষ্টি করে এবং এভাবে চিন্তা পর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৩,০১১.
নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে কী বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সুশাসন
  4. রাষ্ট্রের উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ:
- বেশিরভাগ রাষ্ট্রে, বিশেষ করে অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও সদ্য স্বাধীন দেশগুলোতে তত্ত্বগতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও বাস্তবে জনগণের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়ে থাকে।
- জনগণ তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে না।
- সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করে।
- ফলে জনগণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবগত হতে পারে না।
- মুক্ত চিন্তা ও বিতর্ককে সরকার প্রায়শই হুমকি হিসেবে দেখে এবং তাই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে।
- এই পরিস্থিতির ফলে সুশাসন ব্যাহত হয় এবং গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

অর্থাৎ নাগরিকদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ফলে সুশাসন বাধাগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০১২.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. রাজনীতিচর্চা
  3. সামাজিক সাম্য
  4. আইনের অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও
পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন ও অবিচ্ছেদ্য আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হল সামাজিক মূল্যবোধ।
- বস্তুত সামাজিক মূল্যবোধ হল সামাজিক শিষ্টাচার, সততা, সত্যবাদিতা, ন্যায়-বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, দানশীলতা, উদারতা প্রভৃতি মানবিক সুকুমার বৃত্তির সমষ্টি।
- সামাজিক পরিবর্তনের ফলে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান হলো:
- আইনের শাসন, নৈতিকতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০১৩.
নিচের কোনটি সাম্যের পরিপন্থী?
  1. সমতার সুযোগ সৃষ্টি
  2. আইনের সুশাসন
  3. বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য মানে হলো সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
- এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ক) সমতার সুযোগ সৃষ্টি
- এটি সাম্যের অনুকূলে, কারণ এটি সবাইকে সমানভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেয়।

খ) আইনের সুশাসন
- আইনের শাসন নিশ্চিত করলে সবাই আইনের চোখে সমান হয়, তাই এটি সাম্যের পক্ষে।

গ) বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
- এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার সুযোগ, মান বা উপকরণ শ্রেণি, অঞ্চল বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হয়।
- ফলে সমাজে অসমতা তৈরি হয়, যা সরাসরি সাম্যের পরিপন্থী।


ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচার
- সমাজে সমান অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ এটি সাম্যের সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০১৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ কোনটি? 
  1. মূল্যবোধ
  2. গণতন্ত্র
  3. সচ্ছতা 
  4. মানসিক জাগরণ
ব্যাখ্যা

- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
 
• সুশাসনের ধারণা:
- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

গণতন্ত্র:
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য প্রয়োজন আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো- গনতন্ত্র, অংশগ্রহন প্রক্রিয়া, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,০১৫.
ই.বি. টাইলরের মতে, সমাজস্থ মানুষের সমগ্র জীবনযাত্রা-প্রণালীই হলো -
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সংস্কৃতি
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) প্রথা-পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
- ব্রিটিশ নৃবিজ্ঞানী ই.বি. টাইলরের মতে, সংস্কৃতি অথবা সভ্যতা হচ্ছে এমন একটি জটিল সামগ্রিক সত্তা, যার ভেতর রয়েছে
জ্ঞান, আস্থা-বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইন, প্রথা-পদ্ধতি এবং সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষের অর্জিত অন্য সকল দক্ষতা ও অভ্যাস। 
(Culture or civilization is that complex whole which includes knowledge, belief, art, morals, law, custom and any other capabilities and habit acquired by man as a member of society) | 
টাইলর আরও মত দেন যে, সমাজস্থ মানুষের সমগ্র জীবনযাত্রা-প্রণালীই হলো সংস্কৃতি
 
উৎস: বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,০১৬.
’The Elements of Ethics’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জ্যা জ্যাক রুশো
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল : 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্যাসিফিজমের কারণে ক্যামব্রিজ থেকে পদত্যাগ;
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৩,০১৭.
কোনটি মানবীয় গুণ?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. আত্মসংযম
  3. সহমর্মিতা
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
• সহমর্মিতা:
- সহমর্মিতা একটি মানবীয় গুণ।
- সহমর্মিতার অনুভূতি একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে আপন করে এবং মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর করে।
- ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'—সহমর্মিতার এই অনুভূতিই গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০১৮.
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে-
  1. সুশীলসমাজ
  2. মূল্যবোধ
  3. স্বাধীন গণমাধ্যম
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন করে।
বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থার মতে, জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম সূচক সুশাসন।
বহির্বিশ্বে একটি দেশের ভাব মূর্তির মানদণ্ড নির্ধারিত সে দেশের শাসন ব্যবস্থা দ্বারা।
সুশাসনের প্রভাবে আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি বিনিয়োগ।
৩,০১৯.
গোবিন্দ চন্দ্র দেব রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. Idealism and Progress
  2. Nicomachean Ethics
  3. A Manual of Ethics
  4. Critique of Judgement
ব্যাখ্যা

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়। তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: Idealism and Progress.

অন্যদিকে,
- Nicomachean Ethics: অ্যারিস্টটল।
- Critique of Judgement: ইমানুয়েল কান্ট।
- A Manual of Ethics: ম্যাকেনজি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,০২০.
"সতীদাহ প্রথা রহিত করা" কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা - আধুনিক মূল্যবোধ।

• আধুনিক মূল্যবোধ:
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য,
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক।
- বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০২১.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন‘ কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২২.
সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে কী প্রতিষ্ঠা করা যায়?
  1. ক্ষমতা
  2. শৃঙ্খলা
  3. বৈষম্য
  4. কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:

- জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়।
- উৎকৃষ্ট নাগরিক জীবন গঠন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সুশাসন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- সুশাসনের প্রভাবেই নাগরিক সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটদান ও প্রার্থী বাছাই করতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় উন্নতির বুনিয়াদ হিসেবে কাজ করে।
- জাতীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারে যা রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সৃষ্টি করে।
- ফলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০২৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে কোন দিকটি উদ্ভব ঘটায়?
  1. বিবেকবোধ
  2. স্বজাতিবোধ
  3. অহংকারবোধ
  4. বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা মানব মনে বিবেকবোধের উদ্ভব ঘটায়।

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০২৪.
কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়?
  1. সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক দলীয় অঙ্গীকার
  2. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ
  3. আইনের শাসন
  4. অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ
ব্যাখ্যা

সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক দলীয় অঙ্গীকার ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি নয়।

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০২৫.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত কী?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদ
  2. বহিরাগত বিনিয়োগ
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২৬.
“Principles of Political Economy” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যাক রুঁশো
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”.
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৩,০২৭.
নীতিবিদ্যার মূল ধারা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- নীতিবিদ্যার মূল ধারা ৪টি।

যথা:
- পরানীতিবিদ্যা;
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা;
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা; এবং
- মানমূলক নীতিবিদ্যা। 

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২৮.
বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা কী ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. নৈতিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে। যেমন- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা, ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া, দরিদ্রকে সাহায্য করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০২৯.
'Existentialism Is a Humanism' গ্রন্থটি কার রচিত?
  1. জ্যাঁ পল সার্ত্রে
  2. পিটার সিঙ্গার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

'Existentialism Is a Humanism' গ্রন্থটি ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁ পল সার্ত্র রচিত। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে এবং সার্ত্রের অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল ধারণাগুলো তুলে ধরে। 

Existentialism: 
- Existentialism বা অস্তিত্ববাদ।
- এটি বিংশ শতাব্দীর একটি দার্শনিক মতবাদ।

⇒ অস্তিত্ববাদ (Existentialism):
- বিংশ শতাব্দীর সমকালীন পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাসে অস্তিত্ববাদ একটি বৈপ্লবিক দার্শনিক আন্দোলন।
- প্রচলিত দার্শনিক মতবাদ ও আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্তিত্ববাদ এক বিপ্লবী মতবাদ।
- অস্তিত্ববাদ (Existentialism) একটি দার্শনিক প্রবণতা, যা মূলত মানুষের অস্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পছন্দ, এবং অর্থহীনতা নিয়ে আলোচনা করে।
- এ দর্শনের মূল কথা হল- অস্তিত্ব সারসত্তার পূর্বগামী।
- অস্তিত্ববাদীদের মতে, মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন এবং মানুষকে তার নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্য খুঁজে নিতে হবে।
- এই দর্শনটি মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি, তার জীবনধারার সংকট, এবং কীভাবে সে তার অস্তিত্বের অর্থ নির্ধারণ করে তা কেন্দ্র করে।
- অস্তিত্ববাদের জনক ডেনমার্কের দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্ড।
- ফ্রিডরিখ নিৎশে, জঁ-পল সার্ত্র্, মার্টিন হাইডেগার, আলবেয়ার কামু অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম।

উৎস: Britannica.

৩,০৩০.
সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়ে নিম্নের কোনটি সৃষ্টি হয়?
  1. ক) উন্নয়ন
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। 
- কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। 
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক বুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৩১.
সুশাসনের উপাদনের সাথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন কোন সংস্থা?
  1. ক) ইউএনডিপি
  2. খ) ইউনেস্কো
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) আইডিএ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।

• সুশাসনের উপাদান:
• বিশ্বব্যাংক: ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
• ইউনেস্কো: সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৩২.
'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে -
  1. ক) আইনগত সাম্যের মূল কথা
  2. খ) রাজনৈতিক সাম্যের মূল কথা
  3. গ) সামাজিক সাম্যের মূল কথা
  4. ঘ) নাগরিক সাম্যের মূল কথা
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা
- সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০৩৩.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায় -
  1. ক) আচার অনাচারের সমষ্টি
  2. খ) আইন
  3. গ) অর্থ উর্পাজনের মাধ্যম
  4. ঘ) সমাজের রীতিনীতি
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব আচার আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৩৪.
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।" – এই উক্তিটি কার?
  1. এফ. এল. ডানকান
  2. হ্যারল্ড লাস্কি
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৩৫.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকারের অর্ন্তভুক্ত নয়?
  1. ক) চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
  2. খ) স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
  3. গ) ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
  4. ঘ) চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার

রাজনৈতিক অধিকার সমূহ
১। সরকারি চাকুরি লাভের অধিকার  
২। নির্বাচনের অধিকার
৩। আবেদন করার অধিকার 
৪। স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার
৫। বিদেশে অবস্থানকালে নিরাপত্তা লাভের অধিকার 
৬। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার।  

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৩৬.
মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে -
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) সরকার
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) পরিবার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎসঃ উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
৩,০৩৭.
জোনাথান হেইট-এর মতে, নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে -
  1. ধর্ম
  2. ঐতিহ্য
  3. মানব আচরণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

⇒ জোনাথান হেইট-এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

⇒ প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৩৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. অধ্যাপক ফাইনার
  2. অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  3. এলান পটার
  4. অধ্যাপক মাইরন উহনার
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৩,০৩৯.
‘সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা‘ নাগরিকের কোন ধরণের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক  
ব্যাখ্যা
• সামাজিক কর্তব্য (Social Duties):
- মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করে, সমাজেই লালিত- পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে।
- এজন্যই এরিস্টটল বলেছেন যে, 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা।'
- সমাজ জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মানুষের তাই কর্তব্যও রয়েছে।

সামাজিক কর্তব্য:
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা,
→ সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং পরিচালনা করা,
→ সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অংশগ্রহণ করা,
→ সন্তান-সন্ততিকে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা,
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা ইত্যাদি হলো একজন নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০৪০.
নিচের কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতির অংশ?
  1. দর্শন
  2. পোশাক
  3. চিন্তাভাবনা
  4. রীতিনীতি
ব্যাখ্যা

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে-
- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি: 
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৪১.
কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ নয়?
  1. আইন
  2. দর্শন
  3. পোশাক
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

অন্যদিকে -
বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোশাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৪২.
‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল’- এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
  3. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ‘সুশাসন চারটি স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বব্যাংক এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৪৩.
১৯৯৪ সালের বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের কোন উপাদানের উল্লেখ নেই?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাদিহিতা
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে। ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা। ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য। আইডিএ (IDA) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম(উন্মুক্ত)]
৩,০৪৪.
সুশাসন নিয়ে  “Governance and Development”  রিপোর্টটি প্রকাশ করে সংস্থা?
  1. UNDP
  2. ADB
  3. World Bank
  4. UNO
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন সংস্থার সুশাসনের ধারনা: 
• সংস্থা: World Bank: 
- ধারণা: ১৯৮৯ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা রিপোর্টে প্রথম উল্লেখ করে।
- ১৯৯২ সালে "Governance and Development" রিপোর্টে বিস্তারিত সংজ্ঞা ও উপাদান প্রদান করে।

• সংস্থা: UNDP: 
- ধারণা: ১৯৯০ সালে  মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) প্রণয়ন করে।
-  সুশাসনের মূলনীতি প্রকাশ করে ("Governance for Sustainable Human Development" পলিসি ডকুমেন্ট ১৯৯৭-এ সুশাসনকে টেকসই মানব উন্নয়নের সাথে যুক্ত করে)।

• সংস্থা: ADB (Asian Development Bank)
- ১৯৯৫সালে এডিবি সুশাসনের ধারণা প্রদান ("Governance: Sound Development Management" পলিসি পেপারে সুশাসনকে সাউন্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজমেন্ট হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে, উপাদান: অ্যাকাউন্টেবিলিটি, পার্টিসিপেশন, প্রেডিক্টেবিলিটি, ট্রান্সপারেন্সি)।

• সংস্থা: IMF: 
- ১৯৯৬সুশাসনকে এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে ("Good Governance: The IMF's Role" গাইডেন্সে সুশাসনকে ম্যাক্রোইকোনমিক স্থিতিশীলতা ও দক্ষতার সাথে যুক্ত করে)।

• সংস্থা: UNO (United Nations Organization): 
-  ১৯৯৭জাতিসংঘ শাসক ও ক্রমবর্ধমান মানবিক উন্নয়ন শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে (UNDP-এর "Governance for Sustainable Human Development" পলিসি ডকুমেন্ট ও সম্পর্কিত রিপোর্টে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে)।

• সংস্থা: IDA (World Bank Group-এর অংশ): 
- ১৯৮৯ সালে আইডিএ সুশাসনের ধারণা প্রদান (World Bank-এর ১৯৮৯ রিপোর্টের সাথে যুক্ত, দরিদ্র দেশগুলোতে সুশাসনকে উন্নয়ন সহায়তার শর্ত হিসেবে গুরুত্ব দেয়)।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

৩,০৪৫.
আমলাতন্ত্রের 'লাল ফিতা' দিয়ে বোঝানো হয় -
  1. কাজের দীর্ঘসূত্রতা 
  2. পদোন্নতি
  3. দুর্বল সরকার ব্যবস্থা
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।

• আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি আমলাতন্ত্রের অহেতুক বাড়াবাড়ি, কড়াকড়ি, বিলম্ব, আনুষ্ঠানিকতা, হয়রানি ও নেতিবাচক অর্থে প্রচলিত। রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে। প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।

• অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

উল্লেখ্য,
- লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৪৬.
সুশাসনের জন্য কোনটি প্রয়োজন নয়?
  1. প্রশাসনের জবাবদিহিতা
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন (GOOD GOVERNANCE):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

মোটকথা,
- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০৪৭.
মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস কোনটি?
  1. বিদ্যালয়
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. পরিবার
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ :
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৪৮.
নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান?
  1. Smart Democracy
  2. Smart Politics
  3. Smart Society
  4. Smart Parliament
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনে 'Smart Society' হচ্ছে 'SMART Bangladesh' এর উপাদান।

স্মার্ট বাংলাদেশ:
- স্মার্ট বাংলাদেশ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিশ্রুতি ও শ্লোগান।
- এই প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তর করা।
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর, ২০২২ এ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস' উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে 'স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার ঘোষণা দেন।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চারটি ভিত্তি:
- স্মার্ট সিটিজেন,
- স্মার্ট ইকোনমি,
- স্মার্ট গভর্নমেন্ট ও,
- স্মার্ট সোসাইটি।

উৎস: smartbangladesh.gov.bd ওয়েবসাইট।
৩,০৪৯.
"On Liberty" বইয়ের লেখক কে?
  1. টমাস হবস
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
On Liberty:
- ব্রিটিশ দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল (1806-73) On Liberty, Utilitarianism (উপযোগিতাবাদ) সহ বেশ কয়েকটি প্রবন্ধের লেখক।
- On Liberty ১৮৫৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- এটি সমসাময়িক উদারনৈতিক রাজনৈতিক চিন্তাধারার উপর একটি বড় প্রভাব রয়েছে।
- বইটিতে মিল ব্যক্তির উপর সরকার ও সমাজের ক্ষমতার (গণতন্ত্রের 'সংখ্যাগরিষ্ঠের অত্যাচার') সীমাবদ্ধতার পক্ষে যুক্তি দেন এবং স্বাধীনতাকে একটি নিরঙ্কুশ ব্যক্তি অধিকার হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন।
- বইটিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস।
৩,০৫০.
‘ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি’- এই সংজ্ঞা কোন সংস্থার?
  1. ক) মানবাধিকার কমিশন
  2. খ) জাতিসংঘ
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) দুদক
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল “Corruption” এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Corruptus” থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন। 
দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।

‘ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে “সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি। জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।

বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, “ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।”
যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র; এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,০৫১.
Governance হল একটি -
  1. একমাত্রিক ধারণা
  2. দ্বিমাত্রিক ধারণা
  3. ত্রিমাত্রিক ধারণা
  4. বহুমাত্রিক ধারণা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৫২.
আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা কে?
  1. ক) এফ. এম. মার্কস
  2. খ) ম্যাক্সওয়েবার
  3. গ) রবার্ট প্রেসথাস
  4. ঘ) কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
• আমলাতন্ত্রের প্রধান প্রবক্তা ম্যাক্সওয়েবার। 

-  আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy যার অর্থ দাড়ায় Desk Government.
- প্রখ্যাত জার্মান তাত্ত্বিক ম্যাক্স ভেবার (ম্যাক্স ওয়েবার) প্রথম আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল হিসেবে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- যার কারণে তাকে আমলাতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে অভিহিত করা হয়।

(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
৩,০৫৩.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোথায়?
  1. মিশরে
  2. বৃটেনে
  3. গ্রিসে
  4. সুইডেনে
ব্যাখ্যা
- প্রায় ২,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
- গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো।
- তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
- সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,০৫৪.
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র কথা উল্লেখ করেন?
  1. লেভিথিয়ান
  2. দ্য স্পিরিট অব ল
  3. প্রিন্সিপাল অব ইথিক্স
  4. দ্য রিপাবলিক
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- প্রত্যেক রাষ্ট্রেই সরকারের তিনটি বিভাগ আছে। যেমন- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- আইন বিভাগ আইন তৈরি করে, শাসন বিভাগ আইন অনুযায়ী শাসন করে এবং বিচার বিভাগ আইন লঙ্ঘনকারীর বিচার করে শাস্তি প্রদান করে।
- ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার ক্ষমতা পৃথক ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির হাতে অর্পণ করা যাতে এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন চার্লস মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৫৫.
মৌলিক অধিকার কিসের মাধ্যমে রক্ষিত হয়?
  1. স্পীকারের মাধ্যমে
  2. সংবিধানের মাধ্যমে
  3. রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে
  4. বিচার বিভাগের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সম্পর্ক:
→ মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়।
→ একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না।
মৌলিক অধিকার সংবিধানে গৃহীত হওয়ায় তা সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। এর ফলে সরকার এসব অধিকার ভোগে বাধা দিতে পারে না।
→ অপরদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন, এমনকি রাজনৈতিক মতামত ও পদমর্যাদা নির্বিশেষে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত বা স্বীকৃত অধিকারগুলোই হচ্ছে মানবাধিকার।
→  জাতিসংঘ সনদের ৩ নম্বর ধারা থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৫৬.
নিচের কোনটি সামাজিক মূল্যবোধ নয়?  
  1. দানশীল হওয়া
  2. বড়দের সম্মান করা
  3. আতিথেয়তা 
  4. ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি
ব্যাখ্যা

- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি। 

সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

 পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ-সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৫৭.
মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির কোন বিকাশ ত্বরান্বিত করে?
  1. শারীরিক
  2. মানসিক
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৫৮.
রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে লালফিতার দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়?
  1. দক্ষতা
  2. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. শৈথিল্য
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- আমলাতন্ত্রের লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি আমলাতন্ত্রের অহেতুক বাড়াবাড়ি, কড়াকড়ি, বিলম্ব, আনুষ্ঠানিকতা, হয়রানি ও নেতিবাচক অর্থে প্রচলিত।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।

⇒ যে কোন সমস্যা বিধি-মোতাবেক সমাধান করতে গিয়ে প্রায়শ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পূর্ববর্তী নজিরের উপর বেশি গুরুত্বরোপ করেন। অফিসের দৈনন্দিন কর্ম পরিকল্পনা করেন সনাতন রীতি ও কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। এর ফলে আমলাতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ জনগণের সেবা প্রদান ব্যাহত হয়।

 ⇒ অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।

⇒ লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেস উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৫৯.
মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে? 
  1. ক) ১০ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ১১ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১২ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ২৫ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।”

অন্যদিকে,
- ১০ নং অনুচ্ছেদ : সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
- ১২ নং অনুচ্ছেদ : ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ : আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান
৩,০৬০.
সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে কে?
  1. সচেতন ব্যক্তিরা
  2. অসচেতন ব্যক্তিরা
  3. পরমত সহিষ্ণু ব্যক্তি
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সচেতনাবোধ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে।
- ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
- কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সবসময় নিজস্ব সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
- ফলে এ ধরনের নাগরিকদের মাঝে সহজেই দেশ প্রেমের সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬১.
'The Ethics of Ambiguity' বইটি কে লিখেছেন? 
  1. বাট্রান্ড রাসেল
  2. এরিস্টটল
  3. সিমোন ডি বোভোয়ার
  4. ইমানুয়েক কান্ট
ব্যাখ্যা

সিমোন ডি বোভোয়ার:
- ঔপন্যাসিক, নাট্যকার এবং দার্শনিক সিমোন ডি বোভোয়ার ছিলেন আধুনিক ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশিষ্ট নারী লেখিকা।
- ফরাসি অস্তিত্ববাদের একজন শীর্ষস্থানীয় প্রবক্তা
- তিনি  লিখেছেন -  The Ethics of Ambiguity, The Coming of Age।

এছাড়াও,
বাট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ -
• The Elements of Ethics,
• Human Society in Ethics and Politics,
• Moral and others,
• Power: A New Social Analysis,
• Political Ideals,
• Introduction to Mathematical Philosophy etc.

এরিস্টটল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থসমূহ-
- Eudemian Ethics- নৈতিকতা সম্পর্কিত আরও একটি বই, যা নিকোমেকিয়ান এথিকসের সাথে সম্পর্কিত।
- Politics - গ্রন্থে আদর্শ সমাজব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
- Metaphysica বা Metaphysics- গ্রন্থে বাস্তবতার মূল স্বভাব এবং সত্তার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন।

সূত্র - শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,০৬২.
কোনটি সঠিক প্রাচ্য দর্শন-
  1. তর্কবাদে বিশ্বাসী
  2. আত্মসংযমে বিশ্বাসী
  3. যুক্তিবাদে বিশ্বাসী 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রাচ্য দর্শন: 
- প্রাচ্য দর্শন বলতে এশিয়া, বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায় উদ্ভূত দার্শনিক চিন্তাধারাকে বোঝায়।
- এর মধ্যে ভারতীয় দর্শন (যেমন হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ), চীনা দর্শন, জাপানি এবং কোরিয়ান দর্শন অন্তর্ভুক্ত।
- এই দর্শনগুলি প্রায়শই সম্প্রীতি, ভারসাম্য, সমষ্টি এবং আধ্যাত্মিক উপলব্ধির উপর জোর দেয়,
- যা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য এবং যুক্তিবাদের উপর জোর দেওয়া পাশ্চাত্য দর্শনের থেকে ভিন্ন। 
- আত্মসংযমে বিশ্বাসী প্রাচ্য দর্শন (যেমন ভারতীয় বা চীনা দর্শন) মূলত আত্মসংযম,
- ধ্যান, অস্তিত্বের অন্তর্নিহিত সত্য অন্বেষণ এবং বাহ্যিক ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়।
- উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় দর্শনে (যেমন উপনিষদ বা যোগশাস্ত্রে) সত্য লাভের জন্য ইন্দ্রিয় যোগ ছিন্ন করে মনকে অন্তর্মুখী করা এবং আত্মসংযম প্রয়োগ করা অপরিহার্য বলে বর্ণিত।
- এটি পশ্চিমা দর্শনের যুক্তিবাদ বা তর্কবাদ থেকে পৃথক।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩,০৬৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ নিচের কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. জবাবদিহিতা
  3. রাজনীতি
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
- মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক রয়েছে, যথা-সামাজিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রভৃতি।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলা হয়।

সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 

- সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ গণতন্ত্র।  
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুশাসনের প্রাণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৬৪.
সুশাসন বিষয়ক ধারণাটি প্রথম কোন খ্রিষ্টাব্দে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে-
  1. ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা

◉ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে।

→  ১৯৯৭ সালে UNDP 'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

→ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে।

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

৩,০৬৫.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
– সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
– সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
– ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬৬.
নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের -
  1. নৈতিক শক্তি
  2. নৈতিক বিধি
  3. নৈতিক আদর্শ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৩,০৬৭.
নিচের কোনটি সামাজিক অধিকার?
  1. ভোটাধিকার
  2. সম্পত্তি লাভের অধিকার
  3. শ্রমিক সংঘ গঠনের অধিকার
  4. ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার
ব্যাখ্যা

আইনগত অধিকার:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩,০৬৮.
জোনাথান হেইট এর মতে, কোনটি থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ঐতিহ্য
  2. মানব আচরণ
  3. ধর্ম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- প্রাচীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং দর্শনে আইন ও নৈতিকতাকে অভিন্ন বিবেচনা করা হতো।
- এদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হতো না।
- মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
- সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় কিন্তু নৈতিকতা ভঙ্গের কোনো শাস্তি নেই।

⇒ নৈতিকতার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।
- Collins English Dictionary- তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour-.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৬৯.
বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক চাহিদা সম্পর্কে বলা হয়েছে-
  1. ক) ১৫ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ২৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ২৮ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৩৯ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ
- ১৫(ক) অনুযায়ী, মৌলিক চাহিদা পাঁচটি।
যথা-
১. অন্ন,
২. বস্ত্র,
৩. বাসস্থান,
৪. শিক্ষা ও
৫. চিকিৎসা।
• ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল।
• ২৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্যের কথা।
• ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতার কথা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৩,০৭০.
নিচের কোনটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলাফল?
  1. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়া
  2. বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়া
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়া
  4. কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া
ব্যাখ্যা
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসনের অনুপস্থিতির ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিঘ্নিত হয়। এর ফলে বিনিয়োগ হ্রাস পায়। এতে করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না। যার কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৩,০৭১.
নিচের কোনটি সুশাসনকে শক্তিশালী করে?
  1. ক) সততা
  2. খ) সহমর্মিতা
  3. গ) পরমতসহিষ্ণুতা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী এবং শাসকগোষ্ঠীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের সততার শক্তিতে গড়ে উঠে। সততার অভাব ঘটলে সুশাসন পরাহত হয়। সততাই সুশাসনকে শক্তিশালী করে। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
৩,০৭২.
নিম্নের কোনটি 'ভদ্রবেশী অপরাধ'?
  1. সম্পত্তি আত্মসাৎ
  2. দুর্নীতি
  3. মাদকাসক্তি
  4. নারী নির্যাতন
ব্যাখ্যা
অপরাধ:
- অপরাধ বলতে বুঝায় গোষ্ঠীগত রীতিনীতির পরিপন্থী কোনো আচার-আচরণ।
- এসব আচরণ প্রতিষ্ঠিত কোনো গোষ্ঠী কিংবা তাদের আইন কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
- সাধারণত অপরাধের দু'টি দিক রয়েছে -
(ক) সামাজিক: সমাজের বিধিবহির্ভূত কাজকে অপরাধ বলা হয়,
(খ) আইনগত: এটি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী আচরণ। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা আইন কর্তৃক অননুমোদিত কাজ হচ্ছে অপরাধ।

⇒ ভদ্রবেশী অপরাধ:
- সাধারণত 'ভদ্রলোকেরা' যে অপরাধ করে তাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে।
- শিক্ষিত, পেশাজীবী এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গই এ ধরনের অপরাধের সাথে বেশি যুক্ত থাকেন।
- দায়িত্বে অবহেলা, কাজে ফাঁকি, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, আয়কর ফাঁকি, জালিয়াতি, প্রতারণা, তহবিল তছরূপ, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, ট্রেডমার্ক বা বইয়ের পাণ্ডুলিপি চুরি বা নকল করা ইত্যাদি ভদ্রবেশী অপরাধ বলে পরিগণিত।

⇒ কিশোর অপরাধ:
- কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধ হচ্ছে কিশোর অপরাধ।
- ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ছেলে কিংবা মেয়ে দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলে অভিহিত করা হয়।

⇒ আত্মবিনাশ অপরাধ:
- কিছু অপরাধ আছে যা অন্যের নয়, অপরাধীরই ক্ষতিসাধন করে।
- অর্থাৎ এ ধরনের অপরাধে ব্যক্তি নিজেই নিজের বিনাশ ত্বরান্বিত করে।
- মাদকাসক্তি, ধূমপান, জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি, ইত্যাদি আত্মবিনাশ অপরাধ।

⇒ সংগঠিত অপরাধ:
- সংগঠিত অপরাধ হচ্ছে দলগত অপরাধ।
- 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ করে 'সিন্ডিকেট' পদ্ধতিতে বেশকিছু মানুষ সমন্বিতভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটন করে।
- জাতীয় বা আন্তর্জাতিক মাফিয়াচক্র, সন্ত্রাসীগোষ্ঠী সংগঠিত অপরাধে যুক্ত থাকে।
- চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, নারী ও মানব পাচার, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড, পতিতাবৃত্তি ইত্যাদি অপরাধ দলগতভাবে সংঘটিত অপরাধ।
- বিভিন্ন সরকারী সেবা যেমন ভিসা-পাসপোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ভূমি অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রেও 'সিন্ডিকেট'ভিত্তিক অপরাধ পরিলক্ষিত হয়।

⇒ ফৌজদারি অপরাধ:
- ফোজদারী অপরাধ সরাসরি আইনের লংঘন এবং শাস্তিযোগ্য।
- এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রতিপক্ষ বা অন্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- সম্পত্তি হরণ কিংবা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
- সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, রাহাজানি ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৭৩.
'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি'র মূল প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. চার্লস মন্টেস্কু
  3. আনেস্ট বার্কার
  4. লাস্কি
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। 
- চার্লস মন্টেস্কু ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৭৪.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কী?
  1. সামাজিক প্রথা
  2. ধর্মীয় আচার
  3. রাষ্ট্রীয় আইন
  4. নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৭৫.
"On Liberty” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. টমাস হবস
  4. জেরেমি বেন্থাম  
ব্যাখ্যা

"On Liberty” গ্রন্থের লেখক- জন স্টুয়ার্ট মিল। 
--------------------
• জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill):
- জন স্টুয়ার্ট মিল একজন প্রখ্যাত ইংরেজ দার্শনিক, রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ।
- তাঁর বিখ্যাত উপযোগবাদী নীতিশাস্ত্র ১৮৬১ সালে প্রকাশিত “Utilitarianism” (উপযোগিতাবাদ) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
- এর আগে ১৮৫৯ সালে তিনি প্রকাশ করেন “On Liberty” (অন লিবার্টি)। 
- এই গ্রন্থে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সমাজের মধ্যে তার সীমা ও সম্পর্ক বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- গ্রন্থটিতে মিল ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপ সীমিত করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
- বিশেষ করে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের কর্তৃত্ব (tyranny of the majority) থেকে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
- 'On Liberty' মূলত উপযোগিতাবাদী দর্শনের (Utilitarianism) ভিত্তিতে লেখা।

উল্লেখ্য, 
- মিল জনগণের ইচ্ছার ওপর সরকারের দায়িত্ব স্বীকার করেন।
- এবং মহিলাসহ শিক্ষিত নাগরিকদের ভোটাধিকারের পক্ষে ছিলেন।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৩,০৭৬.
জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম -
  1. CEDAW
  2. UNCAC
  3. UNCTAD
  4. UNCLOS
ব্যাখ্যা
• দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন:
- জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের নাম - UNCAC. 

- এর পূর্ণরূপ United Nations Convention against Corruption. 
- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- ইউএনসিএসি (UNCAC) এর লক্ষ্য হল বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি হ্রাস করা যা দেশের সীমানা জুড়ে ঘটতে পারে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,০৭৭.
লর্ড ব্রাইসের মতে সুনাগরিকের প্রধান তিনটি গুণ কী কী? 
  1. শিক্ষা, দেশপ্রেম ও আনুগত্য
  2. সাহস, নেতৃত্ব ও কর্তব্যবোধ
  3. সততা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা
  4. বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিকের গুণ:
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লর্ড ব্রাইসের মতে, একজন সুনাগরিকের তিনটি প্রধান ও অপরিহার্য গুণ রয়েছে—
- বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম।
- এই তিনটি গুণ অর্জনের মাধ্যমেই একজন সাধারণ মানুষ নিজেকে প্রকৃত অর্থে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

• সুনাগরিকের প্রথম গুণ হলো বুদ্ধি।
- এর মাধ্যমে সে শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে রাষ্ট্রের আইন, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করে। 
- এবং সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।

• দ্বিতীয় গুণ বিবেক।
- বিবেক একজন নাগরিককে ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়।

• তৃতীয় গুণ আত্মসংযম। 
- এটি দ্বারা নাগরিক নিজের আবেগ, অসৎ প্রবৃত্তি ও স্বার্থপরতা নিয়ন্ত্রণে রেখে সমাজের মঙ্গল ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৭৮.
মূল্যবোধ না থাকলে কোনটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. শৃঙ্খলাবোধ
  2. সামাজিক ঐক্য
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।
- মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকলে সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মূল্যবোধের উপস্থিতি ব্যতীত সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উৎস: i) ndicia24.com
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৭৯.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. সততাকে
  2. মূল্যবোধকে
  3. সুশাসনকে
  4. নৈতিকতাকে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।

⇒ 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও  সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

৩,০৮০.
সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে কোন উপাদানটি প্রভাব বিস্তার করে? 
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. স্থানীয় কৃষ্টি
  3. জলবায়ু
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

⇒ সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বিভিন্ন উপাদান যেমন- ভৌগোলিক পরিবেশ, জলবায়ু, স্থানীয় কৃষ্টি, ধর্মীয় বিশ্বাস, যুদ্ধ, সমস্যা, চাহিদা ও সম্পদ প্রভাব বিস্তার করে।
- আমাদের সমাজের মূলবোধের সাথে যেমন সৌদি আরবের মূল্যবোধের মিল পাওয়া যাবে না, তেমনি করে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সমাজের সামাজিক মূল্যবোধের পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বাংলাদেশের সমাজে কারো সাথে কুশল বিনিময়ে সালাম, নমস্কার অথবা আদাব দেয়া হয়।
- অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে good morning, good afternoon অথবা good evening বলা হয়ে থাকে।
- অর্থাৎ একটি সমাজের মূল্যবোধগত রীতি আরেকটি সমাজ হতে আলাদা করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৮১.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. জনকল্যাণমুখিতা
  2. সহমর্মিতা
  3. আপেক্ষিকতা
  4. সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

» মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। সামাজিক মাপকাঠি
২। যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
৩। নৈতিক প্রাধান্য
৪। বিভিন্নতা
৫। বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা
৬। পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৮২.
নিচের কোনটি ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য নয়?
  1. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. নাগরিক অধিকার সীমিত করা
  3. প্রশাসনকে গতিশীল করা
  4. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

- ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য নয়- নাগরিক অধিকার সীমিত করা। 

ই-গভর্নেন্স:

- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ ত্বরান্বিত হয়।
- ই-গভর্নেন্সের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে সহজ ও উন্নত করা।

• ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
- প্রশাসনকে গতিশীল করা।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
- তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
- নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
- জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
- ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
- ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩,০৮৩.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।

আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- আইন হলো সেই সাধারণ নিয়ম; যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়

- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, আইন এর ৬টি উৎস রয়েছে:
১. প্ৰথা, 
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 

এছাড়াও ওপেনহাইমের মতে আইন এর ৭টি উৎস রয়েছে:
১. প্ৰথা, 
২. ধর্ম, 
৩. বিচারকের রায়, 
৪. ন্যায়বিচার, 
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, 
৬. আইনসভা, 
৭. জনমত, 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০৮৪.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটল-এর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে?
  1. A Grammar of Politics
  2. The Politics
  3. Wealth of the Nations
  4. On Liberty
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য -
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

অন্যদিকে -
- Wealth of the Nations গ্রন্থটির লেখক এ্যাডাম স্মিথ।
- On Liberty গ্রন্থটির লেখক জন স্টুয়ার্ট মিল।
- প্রফেসর লাঙ্কি ‘A Grammar of Politics’ গ্রন্থে। অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৮৫.
'Animal Liberation' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. পিটার সিঙ্গার
  2. জি.ই.ম্যূর
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জে.এস.মিল
ব্যাখ্যা

পিটার সিঙ্গার:
- পিটার সিঙ্গার একজন অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক দার্শনিক।
- তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিক্সের ইমেরিটাস ইরা ডব্লিউ. ডিক্যাম্প অধ্যাপক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার।
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"।

উল্লেখ্য,
- পিটার সিঙ্গারের বিখ্যাত বই 'Animal Liberation'।
- উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

৩,০৮৬.
শৈশবে নারীর প্রতি বঞ্ছনার অভিজ্ঞতা একজন পুরুষকে সহিংস করে তোলে। এর মূল কারণ হলো-
  1. ক) ত্রুটিপুর্ণ সামাজিকীকরন
  2. খ) আধিপত্য
  3. গ) গোঁড়ামি
  4. ঘ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
শৈশবে নারীর প্রতি বঞ্ছনার অভিজ্ঞতা একজন পুরুষকে সহিংস করে তোলে। এর মূল কারণ হলো -  আধিপত্য
⇒ আমাদের সমাজে অনেক পুরুষ নারীকে দুর্বল ও অবলা হিসেবে মনে করে ।গ্রামীন ও শহুরে সমাজের কতিপয় পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি হলো গৃহে রান্না-বান্না, সন্তান জন্মদান, লালন-পালন সবজি বাগান করা, গবাদিপশু পালন, শিশুকে পাঠদান, শারীরিক শুশ্রুষা করা প্রভৃতি। 
⇒ পুরুষতান্ত্রিক অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি, যেমন- পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, নারীরা স্বামীর সেবাদাসী, স্বামীর পদতলে স্ত্রীর বেহেস্ত প্রভৃতি মনোভাব থেকেই নারীর প্রতি সহিংসতার সৃষ্টি হয়।
⇒ আবার শৈশবে নিজ পরিবারে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে একজন পুরুষকে সহিংস করে তুলতে পারে।
⇒ কন্যা সন্তানকে শিক্ষা দানের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, কন্যা সন্তানের প্রতি মা-বাবার উদাসীনতা, পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেওয়া, বিবাহে কন্যার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে উপেক্ষা করার মনোভাব প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতাকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দেয় ৷

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (নবম - দশম শ্রেণি)
৩,০৮৭.
’Groundwork for Metaphysics of Morals’ গ্রন্থটি কার রচিত? 
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল 
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. স্টুয়ার্ট মিল
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে,
• বার্ট্রান্ড রাসেল উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
- The Conquest of Happiness,
- The Principles of Mathematics,

• স্টুয়ার্ট মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে।
- On Liberty
- Representative Government.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৩,০৮৮.
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কোনটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত?
  1. অংশগ্রহণ
  2. সুশাসন
  3. জবাবদিহিতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- ইংরেজিতে সুশাসনকে 'Good Governance' বলা হয়।
- সুশাসন বুঝতে হলে প্রথমে শাসনের মূল ধারণা জানা জরুরি।
- Governance একটি বহুমাত্রিক ধারণা, যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়।
- Government শব্দটি 'kubernao' ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ পরিচালনা বা শাসন করা।
- সুশাসন বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হিসেবে পরিচিত।
- সুশাসন হলো সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম পূর্বশর্ত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম সুশাসন ধারণাটি প্রবর্তন করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি মূল স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এই চারটি স্তম্ভ হলো: (i) দায়িত্বশীলতা, (ii) স্বচ্ছতা, (iii) আইনী কাঠামো, এবং (iv) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৮৯.
'সুশাসন' শব্দটি সর্বপ্রথম কোন সংস্থা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. আই.এম.এফ
  3. এডিবি
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩,০৯০.
একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা পালন করে -
  1. বিচার বিভাগ
  2. সরকার
  3. গণমাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

সরকার ও সুশাসন:
- সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
- এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
- যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
- সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।

উল্লেখ্য:
- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৩,০৯১.
মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ কী বিচার করতে পারে? 
  1. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  2. ভালো ও মন্দ
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো একটি মানবিক গুণ, যা একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ওপর নির্ভরশীল। এটি সমাজে বসবাস, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিক আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- এটি ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় ও নৈতিকতা-অনৈতিকতার পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধ আপেক্ষিক, অর্থাৎ সময়, সমাজ ও সম্পর্কের ভিত্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে।
- এটি শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার মতো বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানুষ ন্যায় ও অন্যায়, ভালো ও মন্দ, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা বিচার করতে পারে।

⇒ মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সুন্দর ও আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এটি মানুষের আচরণ ও চিন্তাধারাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- সুতরাং, একটি নৈতিক ও সুসংগঠিত সমাজ গঠনে মূল্যবোধ অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৯২.
‘স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা‘ কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. নৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক কর্তব্য (Political Duties):
- মানুষ শুধু সামাজিক জীবই নয়, সে রাজনৈতিক জীবও।
- রাজনৈতিক জীব হিসেবে মানুষের রয়েছে বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্তব্য।

এগুলো হলো—
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা,
→ রাষ্ট্রপ্রণীত আইন মেনে চলা,
→ সততা ও সতর্কতার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা,
স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা,
→ প্রয়োজনে রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,০৯৩.
ধূমপান করা - এটা কোন ধরনের সমস্যা?
  1. ক) রাষ্ট্রীয় সমস্যা
  2. খ) সামাজিক সমস্যা
  3. গ) ধর্মীয় সমস্যা
  4. ঘ) নৈতিক সমস্যা
ব্যাখ্যা
- ধূমপান একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা।
- এর ফলে জনগণের বিরাট অংশের স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য খাতে খরচ বাড়ছে।
- সিগারেট উৎপাদকেরা এটা বন্ধ করতে চান না। এ প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আমাদের সিগারেট উৎপাদন ও আমদানি বন্ধ করতে হবে। 
- এটা বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩,০৯৪.
CEDAW সনদ কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) শিশু অধিকার
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক শিষ্টাচার
  3. গ) নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ
  4. ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহীত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট।
৩,০৯৫.
নিচের কোন বিষয়টিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দরিদ্র‍তা দূরীকরণের তিনটি স্তম্ভের অন্যতম বলা হয়েছে?
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) নৈতিক শিক্ষা
  3. গ) মূল্যবোধ
  4. ঘ) এন্টি-করাপশন
ব্যাখ্যা

Good governance has since also been established as one of the three pillars of ADB’s Poverty Reduction Strategy.
The strategy is made up of three pillars:
1. Pro-poor sustainable economic growth.
2. Inclusive social development.
3. Good governance, which also includes the cross-cutting priorities of environmental sustainability, gender equity, private sector development, and regional cooperation.
Source:adb.org

৩,০৯৬.
কার মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"?
  1. মারটিন মিনোগ
  2. ম্যাককরনী
  3. জি. বিলনে
  4. কার্ল মার্ক্স
ব্যাখ্যা
সুশাসন এর সংজ্ঞা: 
- মারটিন মিনোগের মতে, "বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরো বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে"। 

- The Social Encyclopaedia তে সুশাসন সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “এটি সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।” 

- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী (MacCorney)। তার মতে সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।" 

- প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legitimacy), ool (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাক স্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন, আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা থাকে তাহলে সে শাসনকে সুশাসন বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,০৯৭.
মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো মূল্যবোধভিত্তিক প্রশাসন।
- সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ইত্যাদি মূল্যবোধ না থাকলে দুর্নীতি, অসাম্য ও অস্থিরতা বাড়ে।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি ব্যক্তিকে সুনাগরিক করে তোলে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।
- মূল্যবোধের অভাবে সমাজ অবক্ষয়ের দিকে যায়।

⇒ মূল্যবোধের শ্রেণিবিভাগ:
• ধর্মীয় মূল্যবোধ,
• সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
• নৈতিক মূল্যবোধ,
• অর্থনৈতিক মূল্যবোধ,
• আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ ও
• আধুনিক মূল্যবোধ,
• সামাজিক মূল্যবোধ,
• রাজনৈতিক মূল্যবোধ,
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৩,০৯৮.
নীতিবিদ্যাকে "মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান" হিসেবে কে আখ্যায়িত করেন?
  1. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  2. উইলিয়াম লিলি
  3. নিকোলাস রেসার
  4. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
ব্যাখ্যা
⇒ নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

⇒ উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

তথ্যসূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৯৯.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. ব্যক্তিগত
  2. অর্থনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. আইনগত
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।
- লাস্কির মতে, “ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৩,১০০.
সুশাসনের মানদণ্ড কোনটি?
  1. জনস্বার্থ
  2. সম্মতি
  3. তুষ্টি
  4. জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।