বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৯ / ৩৯ · ২,৮০১২,৯০০ / ৩,৮২৯

২,৮০১.
'Greatest Happiness Principle' নীতির প্রবক্তা কে?
  1. রুশো
  2. জন মিল
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:

- তিনি একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।
- তার বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে The Principles of Morals and Legislation.

নৈতিকতা ও উপযোগবাদ:
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

অন্যদিকে,
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮০২.
ই-গভরনেন্স কিভাবে সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. ক) স্বচ্ছতা আনয়ন
  2. খ) তথ্যের সহজলভ্যতা
  3. গ) আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভরনেন্স স্বচ্ছতা আনে, রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরী করে, তথ্য সহজলভ্য করে, দ্রুততম সেবা দেয়, দুর্নিতী প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস করে৷
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
২,৮০৩.
নিম্নলিখিত কোনটি গোবিন্দ চন্দ্র দেবের গ্রন্থ নয়?
  1. আমার জীবনদর্শন 
  2. Idealism and Progress
  3. Two Treatises of Government
  4. তত্ত্ববিদ্যাসার 
ব্যাখ্যা

গোবিন্দ চন্দ্র দেব:
- গোবিন্দ চন্দ্র দেব একজন দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।
- চিন্তাচেতনায় দেব ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য।
- তাঁর চিন্তাধারায় একদিকে যেমন স্থান পেয়েছে গভীর ও সূক্ষ্ম দার্শনিক তত্ত্বালোচনা, অন্যদিকে সমাজ, জীবন, সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক ভাবনা।
- অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী দার্শনিক দেব সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে।
- তাই তাঁর দর্শন সমন্বয়ী ভাববাদ বা সিনথেটিক আইডিয়ালিজম নামে সমধিক পরিচিত।

⇒ তিনি উগ্র ভাববাদ এবং উগ্র জড়বাদ উভয়কেই তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ দুটি মতবাদই একদেশদর্শী; এদের দ্বারা মানবজীবনের কল্যাণসাধন ও প্রগতি সম্ভব নয়।
- তিনি তাঁর সমন্বয়ী দর্শনে বস্ত্তবাদকে অধ্যাত্মবাদে এবং অধ্যাত্মবাদকে বস্ত্তবাদে রূপান্তরিত করে এরই ভিত্তিতে একটি সার্থক জীবনদর্শন গড়ে তুলেছেন।
- তাঁর মতে, সার্থক দর্শন মাত্রই জীবনদর্শন।
- তিনি তাঁর প্রায় সব গ্রন্থেই এই দার্শনিক তত্ত্বই প্রকাশ করেছেন।

⇔ দেবের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট নয়টি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Idealism and Progress (1952)
- Idealism: A New Defence and A New Application (1958), 
- আমার জীবনদর্শন (১৩৬৭),
- Aspiration of the Common Man (1963),
- The Philosophy of Vivekananda and the Future of Man (1963),
- তত্ত্ববিদ্যাসার (১৯৬৬),
- Buddha: the Humanist (1969), 
- Parables of the East (1984), 
- My American Experience (1993)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৮০৪.
নিচের কোনটি সামাজিক সমস্যা? 
  1. ক) নগরায়ন 
  2. খ) কিশোর অপরাধ
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা 
ব্যাখ্যা
অপ্রাপ্তবয়স্ক (৭-১৬ বছর) ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ। এটি আমাদের দেশের একটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা।
- এর প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য।
- এছাড়া খেলাধূলা ও চিত্তবিনোদনের অভাব, আদর-যত্নের অভাব, সামাজিকীরণের অনুকূল পরিবেশের অনুপস্থিতি প্রভৃতি কিশোর অপরাধ সংঘটনের জন্যে দায়ী।

অন্যদিকে,
- প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা অর্থনৈতিক সমস্যা। ছাত্র রাজনীতি কোন সমস্যা নয়। তবে অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি রাষ্ট্রের জন্যে সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। নগরায়ন ইতিবাচক সূচক।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী।
২,৮০৫.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ২০ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৩১ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“(১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।
অন্যদিকে,
- ২০ নং অনুচ্ছেদ : অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
- ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান)
২,৮০৬.
নিচের কোনটি সুশাসনের স্তম্ভ নয়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনী কাঠামো
  4. উন্নয়ন বাজেট
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের স্তম্ভ নয়- উন্নয়ন বাজেট।

• সুশাসন (Good Governance):
- সুশাসন প্রত্যয়টি পৌরনীতির সাম্প্রতিক সংযোজন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'

- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
চারটি স্তম্ভ হল- 
(i) দায়িত্বশীলতা 
(ii) স্বচ্ছতা 
(iii) আইনী কাঠামো ও 
(iv) অংশগ্রহণ।

- এক কথায়, জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো- সুশাসন।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।  

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।

২,৮০৭.
রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) সিভিল সোসাইটি
  2. খ) নির্বাচন কমিশন
  3. গ) সামাজিক সংঘ
  4. ঘ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী হিসেবে কাজ করে। জনগণকে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে উদ্ধুদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
২,৮০৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে কী ঘটে?
  1. ক) কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  2. খ) সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
  3. গ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষিত হয়
  4. ঘ) সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৮০৯.
কোন গ্রিক দার্শনিক 'সুবর্ণ মধ্যক' ধারণার প্রবক্তা?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. ডেমোক্রিটাস
  4. হেরাক্লিটাস
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):

- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবক্তা।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২,৮১০.
’দার্শনিক রাজা হলেন আদর্শ শাসক’ উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. নিকোলা ম্যাকিয়াভেলী
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রাচীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন।
- তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
- প্লেটোর মতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকলে একজন শাসক জনগণের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।

অন্যদিকে, 
• এরিস্টটলের উক্তি: 
- ’’শিক্ষার শেকড়ের স্বাদ তেঁতো হলেও এর ফল মিষ্টি ।”
-  যে ব্যক্তি সমাজের অন্তর্ভুক্ত নয় সে হয় ফেরেস্থা, নয় পশু।”

• সক্রেটিস এর বিখ্যাত উক্তি:
-  নিজেকে জানো" (Know thyself)
- জ্ঞানই পূণ্য" (Virtue is knowledge), 
- বিস্ময় হলো জ্ঞানের শুরু।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী , প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮১১.
নিচের কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. ক) আইন
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) ধর্ম
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সেজন্য আইন প্ৰণয়ন করে।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
- আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮১২.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের কয়টি গুণ থাকা উচিত?
  1. ২টি 
  2. ৩টি 
  3. ৪টি 
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিক:
- সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

» সুনাগরিকের গুণাবলি:
- লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- লর্ড ব্রাইস-এর মতে সুনাগরিকের গুণ ৩টি।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি-
(১) বুদ্ধি,
(২) আত্মসংযম,
(৩) বিবেক,
- এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও পত্রিকা রিপোর্ট।

২,৮১৩.
“The Idea of Justice” বইয়ের লেখক কে?
  1. ক) কার্ল মার্ক্স
  2. খ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. গ) অমর্ত্য সেন
  4. ঘ) অ্যালেন লেইন
ব্যাখ্যা
The Idea of Justice is a 2009 book by the economist Amartya Sen. In this book, Sen makes a radical break with the traditional notion of homo economicus, or 'rational economic man' as motivated mainly by self-interest. He points out that children have strong notions of 'fairness' and acute aversion to 'manifest injustice'. তার অন্যান্য বই -
Development as Freedom,
The Argumentative Indian,
Identity & Violence,
Inequality Reexamined ইত্যাদি।
২,৮১৪.
কোনটিকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়?
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) আমলাতন্ত্র
  3. গ) গণমাধ্যম
  4. ঘ) দাতাগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম তার ওয়াচডগ ভূমিকার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের নানা ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম ও অসঙ্গতি তুলে ধরার মাধ্যমে রাজনৈতিক সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ রিসার্চগেট ডটনেট)
২,৮১৫.
লর্ড ব্রাইসের মতে, কোন গুণ থাকলে নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে গণ্য হয়?
  1. জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা
  2. প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, ধৈর্য
  3. বুদ্ধি, আত্মসংযম, বিবেক
  4. সাহস, প্রজ্ঞা ও দয়া
ব্যাখ্যা

সুনাগরিক:
- 'সু' শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

⇒ লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত সুনাগরিকের উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
- কোনো নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি 'বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক' এই তিনটি গুণ তার মধ্যে থাকে।
- এই গুণগুলো নাগরিককে দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও বিচক্ষণ করে তোলে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়।

এছাড়াও,
- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৮১৬.
‘Duty for duty’s sake’ নীতির প্রবর্তক কোন দার্শনিক?
  1. জাঁ জ্যাক রুশো
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

অন্যদিকে, 
- জাঁ জ্যাক রুশো: 
- 'The Social Contract' জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।
- A Discourse Upon the Origin and Foundation of the Inequality Among Mankind.
- A Discourse on the Sciences and the Arts.
- Confessions.
- Emile: or, On Education.

• এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: ¡)পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা।

২,৮১৭.
বাংলাদেশ কত সালে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়?
  1. ২০০৭
  2. ২০১৭
  3. ২০০৩
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস:
- ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর মেক্সিকোর মেরিডা শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন।
- খসড়াকৃত দুর্নীতি বিরোধী চুক্তিতে সকল দেশ একই বছরের ৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষর করে।
- দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস ঘোষণা করে।
- দিবসটি ২০০৩ সালে প্রথম পালিত হয়।
- বাংলাদেশ ২০১৭ সালে প্রথম পালন করে।

উল্লেখ্য,
- দুদক ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে।
 - তবে সরকারিভাবে ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশে সরকারিভাবে ২০১৭ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করা হয়।

তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
২,৮১৮.
কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. পরোপকারিতা
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. সত্যবাদিতা
  4. আইন মান্য করা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
- পরমতসহিষ্ণুতা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আইন মেনে চলা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি রাজনৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্গত।
অন্যদিকে,
- শ্রমের মর্যাদা হলো সামাজিক মূল্যবোধ
- পরোপকারিতা ও সত্যবাদিতা প্রভৃতি সার্বজনীন মূল্যবোধ।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
২,৮১৯.
প্লেটোর মতে, মৌলিক সদগুণের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. জ্ঞান
  2. সাহসিকতা
  3. ক্ষমা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

২,৮২০.
সভ্য সমাজের মানদন্ড নিচের কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. সংবিধান
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সভ্য সমাজের মানদন্ড হল আইনের শাসন।

আইনের শাসন:
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- যার কারণে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
২,৮২১.
নিচের কোনটি ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সকলের জন্য সমান সুযোগ
  2. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতা
  3. সকলের জন্য সমান আইনের শাসন
  4. বিশেষ সুবিধা প্রদান
ব্যাখ্যা

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়- বিশেষ সুবিধা প্রদান।

ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮২২.
নৈতিকতার উৎপত্তি ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ থেকে এসেছে— কে এই মত দেন?
  1. সক্রেটিস
  2. জোনাথান হেইট
  3. জন রলস
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা: 
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮২৩.
Morality শব্দটি কোন শব্দ হতে এসেছে?
  1. ক) ল্যাটিন Moralita
  2. খ) গ্রীক Moralitas
  3. গ) ল্যাটিন Moralitas
  4. ঘ) গ্রীক Moralita
ব্যাখ্যা
নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Moralitas থেকে। যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র। গ্রিক দর্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরত্বারোপ করেন। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮২৪.
'মন্টেস্কু' কোন দেশি দার্শনিক ছিলেন?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা

- মন্টেস্কু ফরাসি দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি The Spirit of Laws গ্রন্থের রচয়িতা রচয়িতা।
- তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- তাঁর মতে, কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে একচেটিয়া সরকারি ক্ষমতা প্রদান করা ঠিক নয়।

২,৮২৫.
মানুষের অধিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. ক) আইনের অনুশাসন
  2. খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. গ) জনগণের সজাগ ‍দৃষ্টি
  4. ঘ) গণমাধ্যমের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যাক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
মানুষের সকল অধিকারের উৎস হলো রাষ্ট্র। মৌলিক অধিকারের রক্ষক হলো সংবিধান।

অধিকারের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হলো জনগণের সজাগ দৃষ্টি।
অধিকারের অন্যান্য রক্ষাকবচসমূহ হলো:
- আইন
- গণতন্ত্র
- সংবিধান
- আইনের অনুশাসন
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৮২৬.
'Hedonism' বলতে নিম্নের কোনটি বোঝায়?
  1. সুখবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. আকারবাদ
  4. স্বজ্ঞাবাদ 
ব্যাখ্যা

Hedonism বা সুখবাদ:
- গ্রীক 'hedone' শব্দের অর্থ 'সুখ' (pleasure)।
- কাজেই, যে মতবাদ অনুসারে সুখই জীবনের পরমার্থ, তাকে বলা হয় 'Hedonism' বা 'সুখবাদ'
- সাধারণত সেইসব প্রত্যক্ষবাদী দার্শনিক (empiricists) সুখবাদের সমর্থক যারা মনে করেন যে, মানুষ মূলত ইন্দ্রিয়াসক্ত এবং ইন্দ্রিয়সেবার মাধ্যমে সুখলাভই তার একমাত্র লক্ষ্য।
 মানুষের জীবনে সুখই কেবল স্বতঃমূল্যবান, আর সবই পরতঃমূল্যবান।
- আমরা অর্থ, বিত্ত, স্বাস্থ্য ইত্যাদি কামনা করি ঐ সবের জন্য নয়, কামনা করি সুখের আশায়।
- সুখকে কামনা করি কেবল সুখের জনাই।
- সুখবাদীরা সুখের বিচারে কর্মের নৈতিক বিচার করেন যে কাজ দুঃখের তুলনায় অধিক পরিমাণে সুখ দেয় তা 'ভাল', আর যে কাজ সুখের তুলনায় অধিক পরিমাণে দুঃখ দেয় তা 'মন্দ'।

অন্যদিকে,
- পূর্ণতাবাদ (Perfectionism): পূর্ণতাকে যে নীতি নৈতিকতার মান হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পূর্ণতাবাদ বলে। একে বুঝতে হলে পূর্ণতা শব্দটির অর্থ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।
- স্বজ্ঞাবাদ (Intuitionism): স্বজ্ঞা এমন একটি বৃত্তি যার সাহায্যে আমরা প্রত্যক্ষভাবে বুদ্ধি বা সংবেদনের সাহায্য ছাড়াই কোন কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞানলাভ করতে পারি।
- আকারবাদ (IFormalism): নৈতিকতা সামাজিক ব্যাপার হলেও এর মর্যাদার কারণেই এর ভিত্তিটি মানবিক অভিজ্ঞতার ঊর্ধ্বে বিশুদ্ধ বুদ্ধিতে প্রোথিত। ঐ উৎস থেকে নিয়ম বা আইনের আকারে এ উৎসারিত হয়।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮২৭.
'মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।' - উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. মেরিল
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে, "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।"
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৮২৮.
বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা কোনটি?
  1. ক) যৌতুক
  2. খ) কুসংস্কার
  3. গ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি 
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
 বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যা হলো :
- জনসংখ্যা বৃদ্ধি 
- বাল্যবিবাহ
- কুসংস্কার 
- দারিদ্র 
- যৌতুক
- নিরক্ষতা 

 (উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: সপ্তম শ্রেণি)।
২,৮২৯.
‘খ্যাতি লাভের অধিকার‘ নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সাংস্কৃতিক
  2. সামাজিক
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার (Civil Rights):
- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।

সামাজিক অধিকারসমূহ নিম্নরূপ:
- জীবনের অধিকার।
- ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার।
- চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার।
- খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৩০.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের জন্য কতটি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে?
  1. ক) ১৬টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ২১টি
ব্যাখ্যা

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জন্য মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে।
- তৃতীয় ভাগে ২৬-৪৭ পর্যন্ত মোট ২২টি অনুচ্ছেদ থাকলেও অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ আছে ১৭টি এবং এদের মধ্যে মৌলিক অধিকার ১৮টি [কারণ ২৮ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার ২টি। একটি ২৮(১) এবং অপরটি ২৮(২)]

২,৮৩১.
ইংরেজি Law শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি হয়েছে-
  1. ক) গ্রিক শব্দ থেকে
  2. খ) ফার্সি শব্দ থেকে
  3. গ) টিউটনিক শব্দ থেকে
  4. ঘ) ইংরেজি শব্দ থেকে
ব্যাখ্যা
- আইনের সাধারণ অর্থ হলাে নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান।
- ফার্সি ‘আইন’ শব্দটির অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law. ইংরেজি Law শব্দটির আভিধানিক উৎপত্তি টিউটনিক মূল শব্দ ‘Lag' থেকে।
- Law শব্দের অর্থ ‘স্থির’ বা ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযােজ্য।
- সমাজের  আইন কানুনও স্থির।     

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
২,৮৩২.
জনমত বলতে বুঝায়?
  1. ক) প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের মতামত
  2. খ) সিভিল সোসাইটির মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) অধিক সংখ্যক ব্যক্তির মতামত
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
২,৮৩৩.
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে-
  1. উন্নত প্রশাসন
  2. শিক্ষার প্রসার
  3. সুশাসনের অভাব
  4. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
ন্যায়বিচার ও সুশাসন:
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন (Good Governance) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- যখন সুশাসনের অভাব থাকে, তখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যায়।
- এতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমে যায়।
- এর ফলে বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
- সুতরাং, সুশাসনের অভাবই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান বাধা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩৪.
আমলাতন্ত্রে কোন ধরনের মূল্যবোধের ভারসাম্য থাকে?
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক ও পেশাগত মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

⇒ আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।

উল্লেখ্য,
- 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়। এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে। জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮৩৫.
চার্লস মন্টেস্কু কোন গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ব্যাখ্যা করেন
  1. Human Society in Ethics and Politics
  2. The Spirit of Laws
  3. Power: A New Social Analysis
  4. Leviathan
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ - সরকারের সমগ্র কাজকে তিনভাবে বিভক্ত করা।
- প্রতিটি বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্য পরিচালনার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত।
- এ নীতি অনুসারে, আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে, শাসন বিভাগ আইনকে কার্যকর করবে এবং বিচার বিভাগ উক্ত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।
- কোন বিভাগ অন্য কোন বিভাগের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করবে না।
- প্রত্যেক বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।

• ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৩৬.
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) সৃজনশীল শাসন
  2. খ) দক্ষ ও নির্ভুল শাসন
  3. গ) কর্তৃত্ববাদী শাসন
  4. ঘ) নৈতিক শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসন বলতে বোঝায় দক্ষ ও নির্ভুল শাসন বা উত্তমরূপে শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা কিংবা সৃজনশীলতা আবশ্যিক বিষয় নয়। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতিত্ব সুশাসনের অন্তরায়। (সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,৮৩৭.
উদারতাবাদ মূলত কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেয়?
  1. ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশ
  2. রাষ্ট্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. ঐতিহ্য ও প্রথা বজায় রাখা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

উদারতাবাদ:
- উদারতাবাদ বা Liberalism শব্দটি ল্যাটিন Liber শব্দ হতে উদ্ধৃত।
- Liber শব্দের অর্থ স্বাধীন।
- শব্দগত অর্থে তাই উদারতাবাদ হচ্ছে স্বাধীনতার মতবাদ।
- সাধারণভাবে উদারতাবাদ বলতে সেই মতবাদকে বুঝায়, যা' ব্যক্তির স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপায় বলে মনে করে এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলীকে সীমিত করতে চায়। 

⇒ আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনে উদারতাবাদ গণতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন নামেও সমধিক প্রচলিত।
- চিন্তার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংঘ বা সমিতি গঠনের স্বাধীনতার সমন্বয়ে ব্যক্তি নাগরিকের অধিকারের যে সৌধ বা ইমারত গড়ে ওঠে, উদারতাবাদ তারই ফল।

⇒ উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।
- উদারতাবাদ মানুষের রাজনৈতিক জীবনেই সীমিত নয় বরং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করে মানবতার সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত।
- সে হিসেবে অধ্যাপক হ্যালোয়েলের (Hallowell) ভাষায়, "উদারতাবাদ শুধুমাত্র একটি চিন্তাধারা নয়, এটি একটি জীবনদর্শনও বটে। জীবনদর্শন হিসেবে এটি মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষাগুলোকে প্রতিফলিত করে থাকে।"
- অনেকে একে অবাধ পুঁজি ও ধনতান্ত্রিক বিকাশের মতাদর্শিক আন্দোলন বলেও মনে করে থাকেন।

উৎস: i)রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৮৩৮.
জাতিসংঘ কতটি সুশাসনের উপাদান চিহ্নিত করেছে?
  1. ৯টি
  2. ৮টি
  3. ৬টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
-মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

তথ্যসূত্র:  জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। 

২,৮৩৯.
সুশাসন সম্পর্কে নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. রাজনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত
  2. বহুমাত্রিক ধারণা
  3. বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ছয়টি স্তম্ভ ঘোষণা করে
  4. রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।

সুশাসনের ধারণা:

- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে
- এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪০.
“মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ”—উক্তিটি কার?
  1. এইচ এম জনসন
  2. এফ ই মেরিল
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. ক্লাইড ব্লুখোন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৪১.
ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. জন উইলিয়ামসন
  3. অ্যাডাম স্মিথ
  4. জেফ্রি স্যাকস
ব্যাখ্যা

ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নামক ধারণার প্রথম প্রবর্তক হলেন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসন (John Williamson)।
- তিনি ১৯৮৯ সালে এই ধারণাটি ব্যবহার করেন।
- তিনি ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকনমিকস এর একজন অর্থনীতিবিদ।
- প্রেক্ষাপট: ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য এই নীতির সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল রাজস্ব শৃঙ্খলা, বাণিজ্য উদারীকরণ, বেসরকারীকরণ, এবং সরকারি ব্যয় পুনর্বিন্যাস। 

উল্লেখ্য,
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- এটি মুক্ত-বাজার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুচ্ছ বোঝায়।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।

⇒ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে এই ধারণাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
- নীতিগুলো হচ্ছে: বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.

২,৮৪২.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের Win Win Game বলা হয়?
  1. নৈতিকতা
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
২,৮৪৩.
'সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়' - সুশাসন সম্পর্কে সজ্ঞাটি প্রদান করেছে -
  1. ক) বিশ্বব্যাংক
  2. খ) ম্যাককরনী
  3. গ) মারটিন মিনোগ
  4. ঘ) ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের সংজ্ঞা
▪ বিশ্বব্যাংকের মতে, 'সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়'। সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, ''Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.''
▪ UNDP - এর মতে, ''সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।''
▪ ম্যাককরনীর মতে, ''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।''
▪ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, ''ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।'' 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৪৪.
নিচের কোনটি আইনের উৎস নয়?
  1. সংবাদ মাধ্যম
  2. ন্যায়বিচার
  3. ধর্ম
  4. প্ৰথা
ব্যাখ্যা
আইন:
- ফার্সি ভাষায় আইন শব্দের অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- সমাজ জীবনে প্রচলিত বিধি-বিধানের নামই আইন।
- আইন হলো মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

আইনের উৎস:
- আইন বিভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
- আইনের উৎসসমূহ নিম্নরূপ:
১। প্রথা বা রীতিনীতি,
২। ধর্ম,
৩। বিচারকের রায়,
৪ । ন্যায়বিচার,
৫। বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬ । আইনসভা।

উল্লেখ্য,
- সংবাদ মাধ্যম আইনের উৎস নয়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৪৫.
কার মতে আদর্শ শাসক হবেন একজন দার্শনিক রাজা?
  1. ক) থমাস হবস
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রীসে প্লেটো সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,৮৪৬.
সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. জনগণ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন
  2. সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য জনগণ ও রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন।
- সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৪৭.
নৈতিকতা কী?
  1. ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী
  2. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের মানদণ্ড
  3. আইনসিদ্ধ সামাজিক দায়বদ্ধতা
  4. মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- Morality হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ। এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- এটি একটি মানসিক বিষয় যা মানুষের মন থেকে উৎসারিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২,৮৪৮.
"গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার" উক্তিটি কার?
  1. ম্যাকাইভার
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. স্যার জন সীলি
  4. কার্ল জি ফ্রেডরিখ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- গণতন্ত্র বলতে জনগণের হাতে ক্ষমতা রয়েছে এমন সরকারকে বোঝায়।
- গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা দিয়েছেন লিংকন।
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।"
- (Democracy is a government of the people, for the people and by the people) জনগণের সরকার বলতে জনগণের প্রতি অনুগত সরকারকে বুঝায়।


উল্লেখ্য,
- আব্রাহাম লিংকন ছিলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী।
- ১৮৬১ সালে আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি দায়িত্ব নেন।
- তিনি আমেরিকার অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) Britannica.
২,৮৪৯.
সামাজিক মূল্যবোধ একটি ব্যক্তির কোন আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৫০.
নিচের কোনটি আরজ আলী মাতুব্বরের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. আমার জীবনদর্শন
  2. সৃষ্টির রহস্য
  3. অনুমান
  4. সত্যের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

⇒ তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৮৫১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোন জিনিসের অভাবে বিকশিত হয় না?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) জনকল্যাণমুখীতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের সাথে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হলে গণতন্ত্র সফল বা অর্থবহ হয়ে উঠে না৷ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো বিকশিত হয় না।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
২,৮৫২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম 'E- Governance' এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Elected Governance
  2. Ethical Governance
  3. Electronic Governance
  4. Elite Governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E- Governance):

- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স (Electronic Governance).
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৫৩.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কোনটি ঘটে?
  1. জনসচেতনতা বৃদ্ধি
  2. অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
  3. মনোবল বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।

উল্লেখ্য,
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮৫৪.
'আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা' কে বলেছেন?
  1. হল্যান্ড
  2. স্যামন্ড
  3. এরিস্টটল
  4. লাস্কি
ব্যাখ্যা
আইন:
আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।”
আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

উল্লেখ্য,
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
-আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
-আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
-সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
-আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৮৫৫.
যেসব মনোভাব এবং আচরণ মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে তা হচ্ছে -
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. পারিবারিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ (Moral values):
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৫৬.
কোন মূল্যবোধের জন্য মানুষ সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদী ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  4. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
২,৮৫৭.
জোনাথান হেইট-এর মতে নৈতিকতার উদ্ভব কোথা থেকে হয়েছে?
  1. আইন ও সরকার
  2. ব্যক্তিগত লাভ ও ক্ষতি
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৮৫৮.
সুশাসনের পথে অন্তরায় শাসন ক্ষমতার -
  1. গণতন্ত্রায়ন
  2. কেন্দ্রীকরণ
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. কোনটিই না
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসনের পথে অন্তরায় শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ।

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- দুর্নীতিই সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতি ছাড়াও আমলাতন্ত্রের প্রকোপ ও আইনের শাসন চর্চায় নানাবিধ দুর্বলতা সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।দুর্নীতির ব্যাধি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থা ও প্রশাসনকেও আক্রান্ত করেছে।
- এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশের মধ্যেও দুর্নীতির সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন অনেক গবেষক ও বিশ্লেষক।
- দুর্নীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানবাধিকার সংরক্ষণ, ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা, অসাম্যের মাত্রা কমানোর চ্যালেঞ্জগুলো প্রকট হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৫৯.
‘বার্ট্রান্ড রাসেল’ কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) কানাডা
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২-১৯৭০) যুক্তরাজ্যের একজন বিখ্যাত দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
তিনি ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তার রচনার মধ্যে Principia Mathematica, Power : A New Social Analysis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২,৮৬০.
নৈতিকতা মানুষের কোন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. রাজনৈতিক আচরণ
  2. সামাজিক আচরণ
  3. পারিবারিক আচরণ
  4. মানসিক আচরণ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা: 
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে,
- যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।

এছাড়াও, 
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না।
- কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না।
- নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না।
-  বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার।

উল্লেখ্য, 
- আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ।
- 'কেননা সে দেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৬১.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. দায়িত্বশীল প্রশাসন
  2. দুর্নীতিমুক্ত শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের যে উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি - জবাবদিহিতা।

সুশাসনের উপাদান:

- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

⇒ প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং,
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২,৮৬২.
সুশাসনের জন্য 'উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো' এর কথা বলেছে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) জাতিসংঘ
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) ইউ.এন.ডি.পি
  4. ঘ) আই.এম.এফ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
২,৮৬৩.
জনগণ, রাষ্ট্র ও ____________ সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
  1. নৈতিকতার
  2. প্রশাসনের
  3. রাজনীতির
  4. মানবাধিকারের
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৪.
আইনগত সাম্যের মূল কথা হচ্ছে -
  1. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
  2. সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা
  3. আইনের চোখে সকলেই সমান
  4. সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা।
- সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৬৫.
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে'' - উক্তিটি কে করেছেন?  
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. স্টুয়ার্ট সি. ডড
  3. এফ. ই. মেরিল
  4. এইচ. ডি. ষ্টেইন
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সৌজ্যবোধ প্রভৃতি গুলাবলির সমষ্টি।

• স্টুয়ার্ট সি.ডড-এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।
- ক্লাইড ক্লখোন- এর মতে,
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮৬৬.
সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম কে প্রবর্তন করেন?
  1. UNESCO
  2. IMF
  3. World Bank
  4. UNDP
ব্যাখ্যা
• সুশাসন (Good Governance.):
- সুশাসন  অর্থ নির্ভুল, দক্ষ, কার্যকারী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় বিশ্বব্যাংক।
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ”সুশাসন” প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৬৭.
আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNDP
  2. Institute of Economic and Peace
  3. The Economist Intelligence Unit
  4. World Justice Project
ব্যাখ্যা

World Justice Project (WJP):
- আইনের শাসনের সূচক প্রকাশ করে World Justice Project (WJP)।
- ৮টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক তৈরি করা হয়।
- এগুলো হলো: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগ, জননিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, দুর্নীতি, সরকারি তথ্য প্রকাশ, দেওয়ানি বিচার ও ফৌজদারি বিচার।
- ‘WJP Rule of Law Index' শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
- সংস্থাটি ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসনের অবস্থা পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে বাষির্ক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

উল্লেখ্য,
- World Justice Project একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
- এটি বিশ্বব্যাপী আইন ব্যবস্থা এবং সুশাসন নিয়ে কাজ করে থাকে।

এছাড়াও, বিভিন্ন সূচক:
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।

২,৮৬৮.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে-
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) গণমাধ্যম
  3. গ) প্রশাসক
  4. ঘ) বিরোধীদল
ব্যাখ্যা
- সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে গণমাধ্যম।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে মিডিয়া তথা স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যম।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সকল কার্যক্রম প্রচার করে থাকে মিডিয়া‌।

- সংবাদপত্র - সমাজের দর্পণ স্বরুপ।
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২,৮৬৯.
ইমানুয়েল কান্ট কোন দেশের নীতিবিজ্ঞানী? 
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. সুইডেন
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই: 
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা। 

২,৮৭০.
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয় -
  1. যোগ্যতা
  2. মূল্যবোধ
  3. ন্যায়বিচার
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টিকে বলা হয় - মূল্যবোধ।

মূল্যবোধ:
→ মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের সমষ্টি, যা সমাজজীবনকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত কর এবং সমাজজীবনে ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠ করে।
→ সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতাবোধ, সৌজন্যবোধ প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৭১.
কিসের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'-এর পার্থক্য নির্ধারণ করা যায়?
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. সততা
  4. কর্তব্যবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।  সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৮৭২.
সোফিস্টদের মতে জ্ঞান লাভের প্রধান মাধ্যম কী?
  1. ধর্মীয় গ্রন্থ
  2. ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ
  3. জন্মগত জ্ঞান
  4. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নীতি বিদ্যা ও অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- সোফিস্টরা নীতি বিদ্যাকে সর্বপ্রথম জনসম্মুখে আনেন। সোফিস্টদের মূলমন্ত্র: মানুষ সব কিছুর পরিমাপক।

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৮৭৩.
'সম্পত্তির অধিকার' কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৭৪.
মূল্যবোধের চালিকাশক্তি কোনটি? 
  1. সুশাসন
  2. সংস্কৃতি
  3. উন্নয়ন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮৭৫.
সংস্কৃতিকে বলা হয় মূল্যবোধের -
  1. প্রাণ
  2. সোপান
  3. চালিকাশক্তি
  4. মৌলিক গুণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
-আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৭৬.
একটি জাতির জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কী?
  1. জাতীয় সম্পদ
  2. অর্থনৈতিক সম্পদ
  3. রাজনৈতিক সম্পদ
  4. সামাজিক সম্পদ
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। 

⇒ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।

→ জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি: 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

→ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

→ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে।

→ সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে।
- এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

→ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৭৭.
'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. রিচার্ড ক্রসম্যান
  3. গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড
  4. জন ফিফনার
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government.
- জার্মান দার্শনিক ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।

⇒ আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব (Lack of Accountability of the Bureaucrats):
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন। 
- তাদের মধ্যে জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না ওঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদূর পরাহত হয়ে ওঠে।
- এজন্যই রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, 'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ' (An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy')।

অন্যদিকে,
⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৭৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা?
  1. অন্য দলকে কথা বলতে না দেওয়া
  2. নিজ ধর্ম পালনের অধিকার
  3. নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার 
  4. চলাফেরার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝয়।

→ ভোটদানের অধিকার,
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বতিার অধিকার,
→ নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার,
→ সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৭৯.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি।

আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৮০.
নিচের কোনটি আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য -
  1. ক) সার্বজনীনতা
  2. খ) সুস্পষ্টতা
  3. গ) রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ও স্বীকৃতি
  4. ঘ) প্রথা রীতিনীতি ও নিয়মকানুন
ব্যাখ্যা
আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ
আইন সম্পর্কে প্রদত্ত সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে আইনের নিম্নোক্ত মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো ধরা পড়ে । বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১ । বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি : আইনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রথা, রীতি-নীতি ও নিয়ম-কানুনের সমষ্টি
২। রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ও স্বীকৃতি : আইনের আর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বিধি-বিধান প্রচলিত নিয়ম-কানুন বা প্রথাসমূহ যা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন ও স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় । আইন হতে হলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রচিত, অনুমোদিত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হতে হবে ।
৩। সার্বজনীনতা : আইন সার্বজনীন। সকল মানুষই আইনের দৃষ্টিতে সমান । জাতি-ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী পুরুষ, ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সকল মানুষের উপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য ।
৪ । সুস্পষ্ট : আইনের বিধানগুলো সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট । সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইন বলবৎ হয় । এ জন্যই আইনের ক্ষেত্রে কোন অস্পষ্টতা থাকে না ।
৫ । শাস্তিযোগ্য : কেউ আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয় । আইনের ব্যতিক্রম সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিধায় আইন অবশ্যই পালনীয় । তাই আইন ভঙ্গ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ ।
৬। আইনের স্থান সবার ঊর্ধ্বে : আইন হচ্ছে সার্বভৌম শক্তির আদেশ । তাই সকলেই আইন মেনে চলতে বাধ্য । সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক সমর্থিত বিধায় আইনের স্থান সবার ঊর্ধ্বে ।
৭। বাহ্যিক আচার আচরণের সাথে যুক্ত : আইন প্রধানত মানুষের বাহ্যিক আচার-আচরণ ও ক্রিয়াকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে । মানুষের চিন্তা ভাবনার সাথে আইনের প্রত্যক্ষ কোন সম্পর্ক নেই ।
 
উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৮৮১.
রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য কোনটি দরকার?
  1. শিক্ষিত জনশক্তি
  2. ধর্মীয় অনুশাসন
  3. সুশাসন
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

সুশাসনের ধারণা:

- গভর্নেন্স' (Governance) একটি বহুমাত্রিক ধারণা।
- বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে 'গভর্নেন্স' শব্দটিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- গভর্নেন্সকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'শাসনের ব্যবস্থা' হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, 
- 'গভর্নেন্স' বা 'শাসন ব্যবস্থা'-এর সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' (Good Governance) শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। তবে সুশাসনকে একক কোনো ধারণার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বা ব্যাখ্যা করা যায় না। কেননা 'সুশাসন' ধারণাটি হলো বহুমাত্রিক। বিভিন্ন তাত্ত্বিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থা 'সুশাসন' ধারণাটির (Concept) সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন'।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৮২.
বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ করার আইন পাস হয়-
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ১৯৮৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে যৌতুক নিষিদ্ধ আইন পাস হয় ১৯৮০ সালে (অনধিক ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে)।
- যৌতুক নিরোধ আইন পাস হয় ২০১৮ সালে।
- এই আইনের ধারা ১১টি।
- যৌতুকের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ১ বছরের কারাদণ্ড।

২,৮৮৩.
আইনের সর্ব প্রাচীনতম উৎস কী?
  1. সংবিধান
  2. প্রশাসন
  3. প্রথা
  4. আদালত
ব্যাখ্যা

প্রথা: 
- আইনের অন্যতম উৎস হল প্রথা।
- প্রাচীনকাল থেকে যেসব আচার ব্যবহার রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত, সমর্থিত ও পালিত হচ্ছে তাই প্রথা।
- সমাজে অনেক ধরনের প্রথাই প্রচলিত থাকে।
- তার মধ্যে যেসব প্রথা যুক্তিসিদ্ধ ও জনহিতকর তা আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- আবার যেসব প্রথা সমাজ ও জনগণের জন্য অকল্যাণকর তা আইন করে বন্ধ করা হয়।
- গ্রেট ব্রিটেনে অনেক প্রথা সাংবিধানিক আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- অন্যদিকে যৌতুক প্রথা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় তা আইন করে বন্ধ করা হয়েছে।

⇒ আইনের সর্বপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস হচ্ছে প্রথা।
- প্রাচীনকালে বিভিন্ন ধরনের প্রথার মাধ্যমেই দ্বন্দ্ব-বিরোধের মীমাংসা করা হত।
- আধুনিককালেও প্রচলিত প্রথাগুলো আইনের ভাঙা-গড়ার কাজে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে আইন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
- ইংল্যান্ডের শাসন ব্যবস্থায় প্রথাগত বিধান এক বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- সেখানকার সাধারণ আইন (Common Law) মূলত প্রথা থেকে উৎসারিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৮৮৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. আইন তৈরি করা
  2. নিজের অধিকার ভোগ করা
  3. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিভিন্ন অধিকার উপভোগ করে, কিন্তু একই সাথে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- অধিকার ভোগের সাথে সাথে নাগরিকেরা এসব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য।
- একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে নাগরিকদের কর্তব্যপরায়ণতা অপরিহার্য।
- কর্তব্যবিমুখ একটি জাতি কখনোই উন্নতি অর্জন করতে বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন;
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন;
→ আইন মান্য করা;
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন;
→ নিয়মিত কর প্রদান;
→ রাষ্ট্রের সেবা করা;
→ সন্তানদের শিক্ষাদান;
→ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৮৮৫.
"ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার" কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৮৬.
আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) আইন কার্যকর করা
  2. খ) সরকারি নীতি নির্ধারণে সাহায্য করা
  3. গ) পদ সোপানভিত্তিক
  4. ঘ) তথ্য পরিবেশন
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য হলোঃ দক্ষতা, সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র, পদ সোপানবিত্তিক, পেশাদারি ও বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষতা, স্থায়িত্ব, আনুষ্ঠানিকতা ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৮৮৭.
ইমানুয়েল কান্ট কোন নৈতিক মানদণ্ডের প্রবক্তা?
  1. উপযোগবাদ
  2. প্রকৃতিবাদ
  3. কর্তব্যবাদ
  4. অস্তিত্ববাদ
ব্যাখ্যা

কর্তব্যমুখী নৈতিকতা:
- জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট ডিওন্টোলজিকাল নীতিশাস্ত্র (Deontological Ethics) এবং কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবক্তা।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান দার্শনিক, যিনি নৈতিকতা ও কর্তব্যবাদের উপর গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নীতি কর্তব্যবাদ (Deontological Ethics) মূলত নৈতিকতা নির্ধারণ করে কাজের স্বভাব ও কর্তব্যের উপর ভিত্তি করে, ফলাফলের উপর নয়।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

অন্যদিকে -
- উপযোগবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। 
- অস্তিত্ববাদ তত্ত্বের প্রবক্তা ডেনিশ দার্শনিক সোরেন কিয়ের্কেগার্ড। 
- প্রকৃতিবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।

উৎস: Britannica.

২,৮৮৮.
মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয় কোথায়?
  1. পরিবার
  2. বিদ্যালয়
  3. রাষ্ট্র
  4. কর্মক্ষেত্র
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২,৮৮৯.
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সুশাসনের মূলসূত্র হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. সহনশীলতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. শৃঙ্খলা
  4. সাম্য
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
- 'জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ' সুশাসনের একটি মৌলিক উপাদান।
- সুশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
- জবাবদিহিতা সুশাসনের মূলসূত্র, কারণ এটি সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হয় এবং জনগণের কাছে তাদের কার্যক্রমের ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়।
- জনগণ জানতে পারে যে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের উদ্দেশ্য এবং ফলাফল কী।
- জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি এবং অপব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে।
- এটি সুশাসনের অন্যান্য উপাদানগুলোর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৮৯০.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) কি?
  1. ক) সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. খ) একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
  3. গ) ত্রিভুজের দুটি বাহন ভূকেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. ঘ) দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) বা সুবর্ণ মধ্যক একটি দার্শনিক প্রতিশব্দ, যার মাধ্যমে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝিয়েছেন।
২,৮৯১.
সমাজের প্রতিটি ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে সমান-এ থেকে কী প্রমাণিত হয়?
  1. আইন নিয়মকানুনের সমষ্টি
  2. আইন ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  3. আইন সর্বজনীন
  4. আইন বাহ্যিক আচরণের সাথে যুক্ত
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৯২.
নিচের কোনটি 'SMART Bangladesh' এর উপাদান?
  1. Smart Democracy
  2. Smart Politics
  3. Smart Society
  4. Smart Parliament
ব্যাখ্যা
◉ উল্লিখিত অপশনে 'Smart Society' হচ্ছে 'SMART Bangladesh' এর উপাদান।

• স্মার্ট বাংলাদেশ:
- ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’
- ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বলতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সরকার গড়ে তোলাকে বুঝানো হয়েছে। যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তর, সরকারি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নে দক্ষ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন করা হবে।
- স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি - ৪ টি।
- স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে ২০৪১ সালের মধ্যে।

• স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার চারটি ভিত্তি হলো –
১. স্মার্ট সিটিজেন, 
২. স্মার্ট ইকোনোমি, 
৩. স্মার্টগভর্নমেন্ট, 
৪. স্মার্ট সোসাইটি।

সূত্র: এটুআই প্রোগ্রাম, মন্ত্রিপরিষদ ও আইসিটি বিভাগ।
২,৮৯৩.
আইডিএ (IDA) এর মতে কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) দক্ষ প্রশাসন
ব্যাখ্যা

১৯৯৮ সালে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সংস্থা IDA সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।‌
যথাঃ জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি ও নাগরিকতা বই (উন্মুক্ত)

২,৮৯৪.
সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে -
  1. ক) স্বাভাবিক অবস্থায়
  2. খ) জরুরি অবস্থায়
  3. গ) সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অবস্থায়
  4. ঘ) নির্বাচনকালীন অবস্থায়
ব্যাখ্যা
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সম্পর্ক:
» মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়।
» একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না।
» মৌলিক অধিকার সংবিধানে গৃহীত হওয়ায় তা সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে।
»  এর ফলে সরকার এসব অধিকার ভোগে বাধা দিতে পারে না।

• অপরদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন, এমনকি রাজনৈতিক মতামত ও পদমর্যাদা নির্বিশেষে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত বা স্বীকৃত অধিকারগুলোই হচ্ছে মানবাধিকার ।
• জাতিসংঘ সনদের ৩ নম্বর ধারা থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
২,৮৯৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ কোনটি?
  1. ক) আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি
  2. খ) সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) ই-গর্ভনেন্স
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
• ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌছে দেয়া।
• ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৮৯৬.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. ক) বিদেশীদের
  2. খ) নাগরিকের
  3. গ) আমলাদের
  4. ঘ) সামরিকবাহিনীর
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা। এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।
সূত্র- এইচএসসি পৌরনীতি ও সুশাসন (উন্মুক্ত)।
২,৮৯৭.
সুশাসন একটি দেশের কোন ধরণের উন্নয়ন ঘটায়?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সামাজিক
  3. গ) সাংস্কৃতিক
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

সাধারণভাবে সুশাসন বলতে এমন এক আদর্শ শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায় যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটায়।
অন্যভাবে, সুশাসন বলতে এমন এক ধরণের শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আইনের অনুশাসন, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়।
সুশাসন আইনের শাসনেরই আরেক নাম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি ও নাগরিকতা বই (উন্মুক্ত)।

২,৮৯৮.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচেনা করা হয় কোনটি? 
  1. বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রাজনৈতিক দল
  3. গণমাধ্যম
  4. আইন
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
-গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা  গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৮৯৯.
“শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ”। উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) রুশো
  2. খ) হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. গ) সক্রেটিস
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
উক্তিটি করেছেন সক্রেটিস। রুশো এর মতে “সু-অভ্যাস গঠনের নামই শিক্ষা”। হার্বাট স্পেনসার বলেছেন –“পরিপূর্ণ জীবন বিকাশই হলো শিক্ষা”। প্লেটো বলেছেন – “শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহ মনের পরিপূর্ণ ও সার্বিক বিকাশ সাধনই হলো শিক্ষা”।
২,৯০০.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. পরমতসহিষ্ণুতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।