বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৫ / ৩৯ · ২,৪০১২,৫০০ / ৩,৮২৯

২,৪০১.
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ অর্জনের প্রথম উৎস –
  1. পরিবার
  2. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  3. ধর্ম
  4. সমাজ ও প্রথা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা ও মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৪০২.
'Governance and Development' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এডিবি
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।

⇒ বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪০৩.
নিচের কোনটি অর্থনৈতিক অধিকার? 
  1. পরিবার গঠনের অধিকার
  2. জীবন রক্ষার অধিকার
  3. অবকাশ লাভের অধিকার
  4. সম্পত্তি লাভের অধিকার 
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক অধিকার: 
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

সামাজিক অধিকার:

- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪০৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে
  3. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে
  4. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে
ব্যাখ্যা

⇒ মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধ শিক্ষার যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ সাধন করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান ঘটায়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় সব ধরণের অবক্ষয় থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৪০৫.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels) |
- UNDP-এর মতে সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে৷
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো -
• স্বচ্ছতা, 
• আইনের শাসন,
• সকলের অংশগ্রহণ,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
• সমতা,
• ন্যায্যতা,
• জবাবদিহিতা,
 • কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

২,৪০৬.
"Modern Democracies" নামক গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কে সি হোয়ার
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক কে সি হোয়ার এর মতে “দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সকল ক্ষেত্রেই আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে”।
- লর্ড ব্রাইস তাঁর ''Modern Democracies'' শীর্ষক গ্রন্থে বিভিন্ন দেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনসভার ক্ষমতা হ্রাসের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৭.
'মুক্তমন' গ্রন্থটির কে রচনা করেছেন? 
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  2. জি. সি. দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুব্বর:
- বাংলাদেশে 'নব-নৈতিকতা'র প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- বাংলাদেশের আরেকজন দার্শনিক জি.সি দেব বস্তুবাদ ও অধ্যাত্মবাদের মিশিলে গঠিত সমন্বয়ী দর্শনের প্রচার করেছিলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

⇒ তাঁর বেশ কিছু অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি সম্প্রতি আরজ আলী মাতুববর রচনাবলি নামে প্রকাশিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২,৪০৮.
ই.বি টেইলর (Tylor) সংস্কৃতিকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
  2. মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি
  3. ধর্মীয় অনুশাসন
  4. রাজনৈতিক কাঠামো
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।

• ই.বি টেইলর (Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন, "সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানবিশ্বাস, শিল্পকলানীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।"
• সংস্কৃতির সংজ্ঞায় Jones বলেন, "মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।"
• ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন, "সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে।"

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪০৯.
শাসনবিভাগ জবাবদিহি করে-
  1. ক) আইন বিভাগের নিকট
  2. খ) প্রশাসনের নিকট
  3. গ) আদালতের নিকট
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির নিকট
ব্যাখ্যা
একটি রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ থাকে। যথা- আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বা শাসন বিভাগ। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসন বিভাগ জবাবদিহি করে আইন বিভাগের নিকট।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪১০.
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে -
  1. জনগণের অংশগ্রহণ কমে যায়
  2. প্রশাসনিক কাজের গতি কমে যায়
  3. জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

⇒ রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে, তাহলে নাগরিকরা প্রশাসনের ওপর আস্থাশীল হয়৷

♦ সুশাসন:

- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন ।
- সুশাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয় এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- যখন জনগণ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তখনই সুশাসনের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায় ।
- জনগণের মতামত, চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১১.
UNCAC কনভেনশনে নিম্নের কোনটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. দুর্নীতি
  2. যৌতুকপ্রথা
  3. বাল্যবিবাহ
  4. স্বজনপ্রিয়তা
ব্যাখ্যা
UNCAC কনভেনশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সুশাসন:

- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে। প্রত্যেক বছর সরকার প্রতিটি বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই কনভেনশনে।

- এছাড়া সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।

- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২,৪১২.
’Demos’ শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?
  1. ক্ষমতা
  2. আইন
  3. জনগণ 
  4. শাসক
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল (democracy)।
- এই শব্দটি Demos ও Kratos শব্দদ্বয় থেকে উদ্ভুত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনগণ এবং Kratos শব্দের অর্থ ক্ষমতা।
- গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে আব্রাহাম লিংকন বলেন, “গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য সরকার"। অর্থাৎ গণতন্ত্র হল জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের দ্বারা গঠিত সরকার।
- গণতান্ত্রিক সরকার দু'ধরনের- (ক) প্রজাতন্ত্র এবং (খ) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

⇒ প্রজাতন্ত্র (Republic):
- প্রজাতন্ত্র বলতে গণতান্ত্রিক সরকারকে বুঝায়।
- এটি এমন এক ধরনের সরকার যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়।
- রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যায় না। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত। কাজেই এটি প্রজাতন্ত্র। কিন্তু বৃটেন প্রজাতন্ত্র নয়। কেননা সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের পদটি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করা যায়।
- বাংলাদেশ একটি প্রজাতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪১৩.
‘প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া‘ কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. নৈতিক
  4. আইনগত
ব্যাখ্যা
• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার বলতে আমরা সে সব অধিকারকে বুঝি যা নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত।
- সমাজের নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উদ্ভব।

যেমন:-
→ দারিদ্রের সাহায্য পাবার অধিকার।
→ প্রতিবেশী দুস্থরা সাহায্য পাওয়া।
→ পিতা-মাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন ও তাদের ভরণপোষণের অধিকার ইত্যাদি।

- নৈতিক অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক প্রবর্তিত নয়। এ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে পারে না।
- Dictionary of Social Science গ্রন্থে বলা হয়েছে, “নৈতিক অধিকার মানুষের নৈতিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল এবং এগুলো কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুরক্ষিত নয় ।” (Moral rights which are dependent on the ethical feelings of man and they are not guaranteed by any legal authority.)

তথ্যসূত্র: পৌরনীত ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
২,৪১৪.
কোনটি রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান?
  1. ক) অধিকার ও সাম্য
  2. খ) জনসমষ্টি
  3. গ) জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) স্থায়িত্ব
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।
- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথা: স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- স্থায়িত্ব, জাতীয়তাবাদ, অধিকার ও সাম্য, সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি কোনো রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান।

২,৪১৫.
সংবিধানের ২১(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনটি বাংলাদেশের নাগরিকের কর্তব্য নয়?
  1. সংবিধান ও আইন মান্য করা
  2. শৃঙ্খলা রক্ষা করা
  3. জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা
  4. জনগণের সেবা করা
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ২১(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিকের কর্তব্য নয় - জনগণের সেবা করা।

বাংলাদেশের নাগরিকতা:

- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
- নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

• নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান,
- রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

• আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।"
- ২১(২) নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৪১৬.
কোন গ্রন্থে টমাস হবস সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. Leviathan
  2. The Prince
  3. Republic
  4. Elements of Ethics
ব্যাখ্যা

টমাস হবস:
- টমাস হবস একজন ইংরেজ দার্শনিক।
- যিনি তার রাজনৈতিক দর্শনের কারণে বিশ্বব্যাপী খ্যাত।
- ১৬৫১ সালে প্রকাশিত লেভিয়েথন গ্রন্থে তিনি সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক দর্শনের গোড়াপত্তন করে।

⇒ হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ: Leviathan গ্রন্থে ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী টমাস হবস সামাজিক চুক্তি মতবাদের ব্যাখ্যা দেন। হবস তাঁর ব্যাখ্যায় মানব চরিত্রের হতাশাবাদী ও স্বার্থপর চিত্র অঙ্কন করেন।

• হবসের মতে, মানুষ জড় পদার্থের বেশি কিছু নয়। স্বার্থপরতা দ্বারা সে পরিচালিত হয়। আকাঙ্ক্ষা ও বিতৃষ্ণা মানুষের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল। মানুষ মাত্রই লোভী এবং আত্মকেন্দ্রিক।
• প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে তার অভিমত, প্রকৃতির রাজ্যে সর্বক্ষণ যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করত। প্রকৃতির রাজ্যে মানুষের জীবন ছিল- নিঃসঙ্গ, হতভাগ্য, জঘন্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত। আদিম নৃশংসতা ছাড়া প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন ও ন্যায়বিচার ছিল না। এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য প্রকৃতি রাজ্যের মানুষেরা নিজেদের অধিকার পরিত্যাগ করে শাসক কর্তৃপক্ষের কাছে (রাজার কাছে) তা হস্তান্তর করে। চুক্তি হয় জনগণের মধ্যে। রাজা বা শাসক চুক্তির অংশ নয়। যে কারণে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ রাজার বিরুদ্ধে করা যাবে না।

⇒ এভাবে হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের জন্ম দেয়। যেখানে রাজা বা শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। কেননা চুক্তির ফলে জনগণের কোন অধিকার থাকে না রাজাকে নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি করার। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, হবসের সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনৈতিহাসিক, অযৌক্তিক এবং সর্বাত্মকবাদী রাষ্ট্রের নীল নকশা।

উল্লেখ্য, তার প্রকাশিত গ্রন্থাবলী হলো:
- The Media of Europides,
- Decorpore,
- Hoprinc,
- Decive,
- The elements of Laws,
- Leviathan.

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৪১৭.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের বৈশিষ্ট?
  1. সম্পর্কের সেতু
  2. সামাজিক মানদন্ড
  3. আপেক্ষিকতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: 
• আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়।
- একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে।
- অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।

• সামাজিক মানদন্ড:
- বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়।
- যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম,
- আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।

• সম্পর্কের সেতু:
- অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
- যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪১৮.
আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের কোন উপাদানের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. বৈধতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের বৈধতার কথা উল্লেখ করেননি।  

সুশাসন:
- যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরনের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।
- আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন

এগুলো হল:
জবাবদিহিতা,
স্বচ্ছতা,
→ আইনের শাসন ও
অংশগ্রহণ

- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
- এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।
- ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।
- ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।

সূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪১৯.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের মূল বক্তব্য কী?
  1. রাষ্ট্র ঈশ্বর প্রদত্ত
  2. রাষ্ট্র বলপ্রয়োগের ফল
  3. জনগণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি
  4. রাষ্ট্র পারিবারিক প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভূত
ব্যাখ্যা

সামাজিক চুক্তি মতবাদ:
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি বিষয়ক আলোচনাতে, সামাজিক চুক্তি মতবাদটি সম্ভবত সর্বাধিক আলোচিত। 
- এ মতবাদের মূল বক্তব্য হল, রাষ্ট্র নামক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটি জনগনের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। 
- সামাজিক চুক্তির বিষয়টি টমাস হবস, জন লক ও জাঁ জ্যাক রুশো ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

উল্লেখ্য
- টমাস হবস তার 'লেভিয়াথান' নামক গ্রন্থে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত সামাজিক চুক্তি মতবাদ ব্যাখ্যা করে।
- হবসের মতে, রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। 
- কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যে কোন আইন, সরকার ও বিচার ছিল না। যার কারণে প্রকৃতির রাজ্যের মানুষের জীবন ছিল ভয়াবহ ও বিশৃঙ্খলাপূর্ন। 
- সে সময়ে মানুষ স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, অসহায় ও কলহপ্রিয় ছিল। সবল দুর্বলকে অত্যচার করত।
- এ অবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষে মানুষ নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে রাষ্ট্রের সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪২০.
চার্বাক দর্শন হলো এক প্রকার-
  1. ক) একেশ্বরবাদী দর্শন
  2. খ) অবস্তুবাদী দর্শন
  3. গ) অনৈশ্বরিক দর্শন
  4. ঘ) অধ্যাত্মবাদী দর্শন
ব্যাখ্যা
চার্বাক দর্শন এক প্রকার অনৈশ্বরিক বা নাস্তিকবাদী দর্শন। চার্বাকপন্থিরা জগতের কর্তা হিসেবে কোনো চেতন-সর্বজ্ঞ ঈশ্বরকে স্বীকার করেন না। তাঁরা জড়বাদ ও বস্তুবাদে বিশ্বাসী।

দার্শনিক সমস্যার সমাধানে স্বাধীন যুক্তি কীভাবে সহায়তা করে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় জড়বাদে। বৃহস্পতি এ দর্শনের আদি প্রবক্তা বলে স্বীকৃত।

চারু বা বৃহস্পতি প্রবর্তিত দর্শন বলে একে চার্বাক বা বার্হস্পত্য বলে। বার্হস্পত্যসূত্র চার্বাকগণের মূল গ্রন্থ।
চার্বাকদর্শনকে লোকায়ত দর্শন ও বলা হয়, যেহেতু তা কেবল ইহলোকেরই অস্তিত্ব স্বীকার করে। চার্বাকরা প্রাকৃতজনের মতো ব্যবহার করে বলে তাদেরকে লোকায়ত বা লোকায়তিকও বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,৪২১.
কোনটি মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান?
  1. আধ্যাত্মিক চেতনা
  2. শিল্প ও সংগীত
  3. প্রথা ও ঐতিহ্য
  4. আইন ও বিধি
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- 'প্রথা ও ঐতিহ্য' হল মূল্যবোধের সামাজিক উপাদান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

মূল্যবোধের প্রধান ভিত্তি বা উপাদানগুলি নিম্নরূপ:
১. সামাজিক উপাদান:
- পারিবারিক শিক্ষা ও সংস্কার
- সামাজিক রীতিনীতি
- প্রথা ও ঐতিহ্য
- সামাজিক নিয়মকানুন
- সাংস্কৃতিক আচার-আচরণ

২. ধর্মীয় উপাদান:
- ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শ
- ধর্মীয় বিধি-নিষেধ
- নৈতিক মূল্যবোধ
- ধর্মীয় রীতিনীতি
- আধ্যাত্মিক চেতনা

৩. শিক্ষাগত উপাদান:
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
- চারিত্রিক শিক্ষা
- নৈতিক শিক্ষা
- জীবন দক্ষতা শিক্ষা
- সচেতনতামূলক শিক্ষা

৪. সাংস্কৃতিক উপাদান:
- ভাষা ও সাহিত্য
- শিল্প ও সংগীত
- লোকজ ঐতিহ্য
- জাতীয় সংস্কৃতি
- সাংস্কৃতিক উৎসব

৫. মানবিক উপাদান:
- করুণা ও সহানুভূতি
- ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা
- সহযোগিতা ও সহমর্মিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- মানবতাবোধ

৬. রাষ্ট্রীয় উপাদান:
- আইন ও বিধি
- নাগরিক অধিকার
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
- দেশপ্রেম
- সামাজিক দায়বদ্ধতা

৭. অর্থনৈতিক উপাদান:
- কর্মনৈতিকতা
- সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
- সামাজিক দায়িত্ববোধ
- সততা ও বিশ্বস্ততা

৮. পরিবেশগত উপাদান:
- প্রকৃতি সংরক্ষণ
- পরিবেশ সচেতনতা
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা
- প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার
- পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপন

৯. বৈজ্ঞানিক উপাদান:
- যুক্তিবাদী চিন্তা
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
- গবেষণা ও উদ্ভাবন
- প্রযুক্তিগত জ্ঞান
- বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ

১০. নৈতিক উপাদান:
- সত্যবাদিতা
- ন্যায়পরায়ণতা
- সততা
- শৃঙ্খলাবোধ
- দায়িত্বশীলতা

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

২,৪২২.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক 
  3. আইএমএফ
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪২৩.
“সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।” কে এই উক্তি করেন?
  1. ল্যান্ডেল মিল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ম্যাক করণী
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন আবশ্যক ‘ উক্তি করেন - মিশেল ক্যামডেসাস।
- রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি, জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক, আইনের শ্বাসন প্রতিষ্ঠা, দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

- ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪২৪.
________ সরকার ও জনগণের মধ্যে স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
  1. গণতন্ত্র
  2. মূল্যবোধ
  3. সুশাসন
  4. অর্থনৈতিক উন্নতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা  জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪২৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০১০
  2. ২০১২
  3. ২০১৩
  4. ২০১৫
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে প্রণীত কৌশলে শুদ্ধাচারকে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ এবং কোন সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, প্রথা ও নীতির প্রতি আনুগত্য হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। 

উৎস: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল [Link]।

২,৪২৬.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়?
  1. নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়া
  2. প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা
  3. জামিন পাওয়ার অধিকার
  4. মতামত প্রকাশ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক স্বাধীনতা:
- রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশ গ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার, নির্বাচিত হওয়ার, মতামত প্রকাশ, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, “রাষ্টীয় ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- অধ্যাপক লাস্কি রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও খোলাখুলি সংবাদ সরবরাহ করার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে,
- গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

২,৪২৭.
Asian Development Bank (ADB) কত সালে 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
→ ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘ, UNDP সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘সুশাসন' সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক চিন্তাভাবনা শুরু করে।
→ ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
→ ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
→ ১৯৯৭ সালে UNDP সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
২,৪২৮.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) হলো -
  1. ক) সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
  2. খ) দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  3. গ) ত্রিভুজের দুটি বাহন বূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  4. ঘ) একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
ব্যাখ্যা
• গোল্ডেন মিন (Golden Mean ) বা সুবর্ণ মধ্যক একটি দার্শনিক পরিভাষা।
- গ্রিক দার্শনিক এরস্টিটল দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থাকে বুঝাতে গোল্ডেন মিন পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।
- যেমন একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

সূত্র: Britannica
২,৪২৯.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও জাতিসংঘ (UN) অনুযায়ী সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1.  ৮ ও ৫টি
  2.  ৪ ও ৫টি
  3.  ৭  ও ৮টি
  4.  ৪ ও ৮টি
ব্যাখ্যা


সুশাসনের উপাদান:
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- সংস্থাটি ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ইউএনডিপির মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি।
- আইডিএ এর মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি।
- এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি।
- ইউএনএইচসিআর এর মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২,৪৩০.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ২০টি
  3. ২৭টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকল রয়েছে।
- প্রথম আর্টিকেলে বলা হয়েছে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সম মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন।
- ১০ ডিসেম্বর প্রতি বছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,৪৩১.
মূল্যবোধ (Values) কী?
  1. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
  2. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  3. সমাজ জীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় মনোভাব
  4. শুধুমাত্র মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাদি নির্ধারণের দিক নির্দেশনা
ব্যাখ্যা
⇒ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।

এছাড়াও,
- সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।
- আধুনিক মূল্যবোধ বলতে সমাজের পরিবর্তনশীলতা কে বুঝায়।
- সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিলো, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- প্রাচীন অনেক মূল্যবোধ এখন আর নেই। এজন্যই মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৪৩২.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রধানত কোন বিষয়ের উপর নির্ভরশীল?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সংবিধান
  3. জনমত
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জনমতের উপর নির্ভরশীল।

জনপ্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ:
- আধুনিক গণতন্ত্রে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জনমত মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
-  সরকার জনকল্যাণ সাধনের জন্য যে কর্মসূচি প্রণয়ন ও কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা মূলত জনমতের দিকে লক্ষ্য রেখেই করা হয়।
- জনমতের চাপে সরকার রক্ষণশীল মনোভাব পরিত্যাগ করে।
- সরকার যুগোপযোগী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
- জনমত যতক্ষণ পর্যন্ত কোন সরকারের অনুকূলে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সরকার দক্ষতা ও দ্রুততার সাথে যে কোন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন প্রণয়নও পরিবর্তনে জনমতের প্রভাব অপরিসীম।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪৩৩.
সমাজে মূল্যবোধ দৃঢ় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  2. সুশাসনের মাধ্যমে
  3. শিক্ষার মাধ্যমে
  4. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শিক্ষা এবং মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪৩৪.
'যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না' উক্তিটি কার?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জন লক
  3. জন অস্টিন
  4. হেনরী মেইন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
⇒ রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

• জন লক:
- আধুনিক গণতন্ত্রের জনক হলেন জন লক।
- জন লক একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক।
- তিনি ১৬৩২ সালে ব্রিস্টলের নিকটবর্তী রিংটনে জন্মগ্রহণ করেন।
- জন লক জ্ঞানতত্ত্বের আলোচনায় পদ্ধতিগত দিক থেকে নতুনভাবে অভিজ্ঞতাবাদের প্রয়োগ করেছেন এবং দার্শনিক চিন্তাধারাতে মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
- তার রাজনীতি নিয়ে লিখিত বইগুলো আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
- অসংখ্য দার্শনিক ও রাষ্ট্রচিন্তাবিদের উপর তার প্রভাব রয়েছে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,৪৩৫.
'মিথ্যাকে মিথ্যা বলা' নাগরিকের কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা

নৈতিক মূল্যবোধ:
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪৩৬.
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG):
- MDG এর পূর্ণরূপ Millennium Development Goals বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন  লক্ষ্যমাত্রা।
- ২০০০ সালের ৬-৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলন (UN Millennium Summit ) অনুষ্ঠিত হয়।
- তখন ৮টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় এবং তা অর্জনের জন্য ১৫ বছর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
- জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য বা MDG এর প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নির্মূল করা। 
- দরিদ্রতা দূর করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দারিদ্র্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় ১.২৫ ডলারের উপর করতে হেব দারিদ্র্যসীমার মধ্য থেকে বের হয়ে আসার জন্য। 
- এজন্যই MDG- এর লক্ষ্য অর্জনে সুশাসনের সামাজিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
২,৪৩৭.
কার মতে 'ধর্ম, ঐতিহ্য ও মানব আচরণ'- এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়?
  1. জি  ম্যুর
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি, যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- এর বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট মনে করেন,
'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'


- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন,
'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞায় Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour.'

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে,
'নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৩৮.
মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে কোনটির অভাবে?
  1. আইনের শাসন
  2. সহনশীলতা
  3. সুশৃঙ্খল পরিবেশ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৩৯.
‘The elements of Ethics' গন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলী
  3. গ) জন স্টুয়ার্ড মিল
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
উক্ত গন্থের রচয়িতা বার্ট্রান্ড রাসেল। তার রচিত অন্যান্য গন্থ হলো- Power: A New Social Analysis,The elements of Ethics, Human Society in Ethics and Politics, Moral and others, Introduction to Mathomatical Philosophy etc.
রেফারেন্সঃ ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
২,৪৪০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. স্বচ্ছতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়৷
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

→ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
• পরমত সহিষ্ণুতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনের শাসন,
• ন্যায়পরায়ণতা,
• সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
• দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪১.
'মূল্যবোধ হলো ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ'— উক্তিটি কার?
  1. এম. ডাব্লিউ. পামফ্রে
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. ফ্রাঙ্কেল
  4. আর. টি. শেফার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

উল্লেখ্য,
• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

এছাড়াও,
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৪২.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অপর নাম কী?
  1. সমতা রক্ষাকারী গোষ্ঠী
  2. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. সতর্ক গোষ্ঠী
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৩.
কোনটি নারীর প্রতি একটি ভয়াবহ সহিংসতা?
  1. ক) এসিড নিক্ষেপ
  2. খ) সম্পত্তির অধিকারের বঞ্ছনা
  3. গ) শিক্ষা বঞ্ছনা
  4. ঘ) অত্যাধিক কাজে বাধ্য করা
ব্যাখ্যা
এসিড নিক্ষেপ নারীর প্রতি একটি ভয়াবহ সহিংসতা। বর্তমানে বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাধারণত নারীদের উপরই এসিড নিক্ষেপের ঘটনা অধিক ঘটে থাকে। প্রেম ও অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে এসিড নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে ৷ 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় (নবম - দশম শ্রেণি)
২,৪৪৪.
“সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়” কে বলেছেন?
  1. ম্যাককরণী 
  2. ম্যাক্স ওয়েবার
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. মারটিন মিনোগ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাককরণী এ প্রসঙ্গে বলেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

→ মারটিন মিনোগ সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

→ ল্যান্ডেল মিল মনে করেন, “সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়”।

পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
সরকার কাঠামো:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের ৩টি বিভাগ রয়েছে।
- যথা:
১. আইন বিভাগ,
২. বিচার বিভাগ,
৩. শাসন বিভাগ।
- একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না ।

শাসন বিভাগ:
- শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
- রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে; কিন্তু সকল ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদেরও প্রধান।
- মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।

আইন বিভাগ:
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিভাগ আইন প্ৰণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করার অধিকার রাখে, যা সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতি গৃহীত হওয়ার দরুণ আইনসভাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের হাতেই নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।

বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের সরকার কাঠামোতে বিচার বিভাগ সরকারের সকল প্রকার বিচারিক কার্য সম্পাদন করে থাকে।
- বিচারিক কার্যের অংশ হিসেবে এই বিভাগটি মূলত সংবিধান ও আইন অনুযায়ী অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করে থাকে ও জনগণের অধিকার রক্ষা করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৪৬.
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের কোন সংস্থা ১৯৯৮ সালে সুশাসনের ৪টি উপাদান ঘোষণা করে?
  1. ক) IFC
  2. খ) IBRD
  3. গ) IDA
  4. ঘ) ICSID
ব্যাখ্যা
১৯৯৮ সালে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আইডিএ (IDA) সুশাসনের ৪টি উপাদান ঘোষণা করে। এই চারটি উপাদান হলো-
১. জবাবদিহিতা,
২. অংশগ্রহণ,
৩. স্বচ্ছতা এবং
৪. ভবিষ্যতবাণী।
উৎসঃ বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট।
২,৪৪৭.
“On Liberty”-গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকাইভার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জ্যা জ্যাক রুঁশো
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”.
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,৪৪৮.
স্বাধীনতা ও ব্যক্তি অধিকার সম্পর্কিত "On Liberty" বইটি কে লিখেছেন?
  1. টমাস হবস্
  2. জেরেমি বেন্থাম
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল:
- জনের স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) ছিলেন ১৯শ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং রাজনীতিবিদ।
- তিনি সুশাসন এবং নৈতিক তত্ত্ব সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বই লিখেছেন।
- "On Liberty" বইটি জন স্টুয়ার্ট মিলের লেখা, এবং এটি স্বাধীনতা, ব্যক্তি অধিকার, ও সমাজের উপর সরকারি হস্তক্ষেপের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করে।
- বইটি মূলত ব্যক্তি স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে মতামত প্রকাশ করে।

⇒ তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- A System of Logic,
- Autobiography,
- Considerations on Representative Government,
- Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy,
- Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy,
- On Liberty,
- Principles of Political Economy,
- The Subjection of Women,
- Utilitarianism.

উল্লেখ্য,
- জন স্টুয়ার্ট মিল (John Stuart Mill) তার বিখ্যাত 'Eassay on Liberty' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা।'
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন, তবে কিছুটা অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন।
- তিনি আমেরিকান গৃহযুদ্ধে উত্তরপক্ষকে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন এটি দাসত্ব বিলোপের জন্য ছিল।
- ১৮৬৫ সালে তিনি নারীদের ভোটাধিকারের পক্ষে একটি Women's Suffrage Society প্রতিষ্ঠা করেন।
- তার বিখ্যাত বই "The Subjection of Women" (১৮৬৯) নারীদের ভোটাধিকারের পক্ষে ছিল।
- মিল ১৮৭৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২,৪৪৯.
বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ কোনগুলো?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
  2. খ) দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও জননিরাপত্তা
  3. গ) দায়িত্বশীলতা, মানবাধিকার, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
  4. ঘ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের স্তম্ভ
• ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল− 
(১) দায়িত্বশীলতা 
(২) স্বচ্ছতা 
(৩) আইনী কাঠামো ও 
(৪) অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫০.
‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক সিলি
  2. হার্বার্ট স্পেনসার
  3. বার্কার
  4. অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা

‘স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই’-এ উক্তিটি করেছেন বার্কার।

আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক:
- স্বাধীনতা হল এমন ধরনের সুযোগ-সুবিধা যা দ্বারা কোন ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের চরম বিকাশ সাধন করতে সক্ষম হয়। ব্যক্তি তার স্বাভাবিক সুকুমার বৃত্তিগুলোর বিকাশ সাধনে অন্যের দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়।

• সমাজবিজ্ঞানী হার্বার্ট স্পেনসার বলেন, "স্বাধীনতা বলতে খুশিমত কাজ করাকে বোঝায় যদি উক্ত কাজের দ্বারা অন্যের অনুরূপ কাজে বাধা সৃষ্টি করা না হয়।"
• টি.এইচ. গ্রিন বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য, তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে।"
• জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "মানুষের মৌলিক শক্তির বলিষ্ঠ, অব্যাহত ও বিভিন্নমুখী প্রকাশই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অর্থ মানুষ কর্তৃক নিজস্ব উপায়ে কল্যাণ অনুধাবন করা।"
• অধ্যাপক লাস্কি বলেন, "স্বাধীনতা বলতে সেই সব সামাজিক বিধিনিষেধের অপসারণকে বোঝায় যা সভ্য জগতে মানুষের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অপরিহার্য।" 
• জন লকের মতে, "যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।
• উইলোবি বলেন, "নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়।"
• রিচি বলেন, "আত্মবিকাশের জন্য যে সকল সুযোগ-সুবিধা স্বাধীনতার স্বরূপে প্রকাশিত হয়, সেগুলো আইনের দ্বারা সৃষ্ট।"
• রুশো বলেন, "সুনির্দিষ্ট আইনের প্রতি আনুগত্যই স্বাধীনতা।" 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪৫১.
'বল নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' কে বলেছেন?
  1. Aristotle
  2. Rousseau
  3. T.H. Green
  4. John Locke
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন (T.H. Green), তাই যথার্থই বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি' ("Will, not force is the basis of state").
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫২.
২০০০ সালে 'বিশ্বব্যাংক' সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. আইনি কাঠামো
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

- ২০০০ সালে 'বিশ্বব্যাংক' সুশাসনের ন্যায়পরায়ণতা স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি। 

সুশাসন (Good Governance):

- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' (Good Governance) শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৫. অংশগ্রহণ।

উল্লেখ্য: 
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে 'সুশাসন' ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,৪৫৩.
'মানুষ হও' এবং 'বাঁচার জন্য মরো'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. হেগেল
  4. জি. ই. ম্যূর
ব্যাখ্যা
হেগেলীয় পূর্ণতাবাদ:
- আধুনিক কালের পূর্ণতাবাদ বা কল্যাণবাদের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ হলেন হেগেল।
- তার ভাববাদের উপর ভিত্তি করেই তার নীতিদর্শন স্থাপিত।
- জার্মান দার্শনিক জর্জ উইলহেলম ফ্রেডরিখ হেগেলের দর্শন অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জটিল।

১. জগতের সব কিছুই এক পরম সত্তার (absolute) প্রকাশ এবং এই প্রকাশটি ঘটে বিবর্তনের ধারায় একটা ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া হিসেবে।
- হেগেলের মতে যার মধ্যে এর প্রকাশ যত বেশি সে তত বেশি আত্ম-বাস্তবায়ন সাধন করে এবং পূর্ণ মানুষে পরিণত হয়।
২. মানুষ পূর্ণ আত্ম-সচেতনতায় পৌঁছে একটি দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- এ প্রক্রিয়ার মূলকথা হচ্ছে মানুষের চিন্তা প্রথমে একটি মত গঠন করে। এরপর সে তা বাতিল করে দ্বিতীয় একটি প্রতিমত গঠন করে এবং এ দুটো মিলে এরপর সে আবার ততীয় একটি সমন্বয়-মত গঠন করে। 
৩. জগতে একটা আঙ্গিক ঐক্য রয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে জগৎ একটি সামগ্রিক সত্তা এবং এর কোন অংশকে অন্য একটি অংশের সঙ্গে কিংবা সমগ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে না দেখে উপায় নেই। অন্যভাবে বলা যায়, জগতে কোন কিছুরই আলাদা ও স্বনির্ভর অস্তিত্ব নেই।

⇒ হেগেলের পূর্ণতাবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে তেমন দুটি উক্তি খুবই প্রসিদ্ধ। এগুলো হচ্ছে:
i) Be a person ⎯ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও।
ii) Die to live ⎯ বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ।
- এই মতবাদ ও উক্তি দুটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে তার - The Phenomenology of Spirit (1807) গ্রন্থে।

i) ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হও/মানুষ হও (Be a person):
- আত্ম-সচেতনতাই যদি মানুষের লক্ষ্য হয় এ তার মধ্যে এমন একটি বোধের সষ্টি করে যাকে আমরা তার ব্যক্তিত্ববোধ বলতে পারি। এ ব্যক্তিত্ববোধ নিছক অন্যান্য প্রাণীদের স্বাতন্ত্র্যবোধের মত নয়।
- মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীরা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বুঝতে পারে এই অর্থে যে, তারা অন্যের বিরুদ্ধে ভিন্ন সত্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করে, অন্যকে তার জীবন থেকে স্বতন্ত্র করে দেখে এবং সময়ে নিজে পরিতপ্তির জন্য তাদের সংগে মারামারি করে।
- কিন্তু মানুষ এর ঊর্ধ্বেও নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে। তার স্বাতন্ত্র্যবোধ তাকে যেখানে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখে, তার ব্যক্তিত্ববোধের কল্যাণে তাদের সংগে সে নিজেকে জড়িত করে ফেলে। আর এর ফলে সময়ে সে অপরের জন্য আত্মোৎসর্গও করে।
- হেগেলের মতে ব্যক্তিত্ব বলতে তাই নৈতিক ব্যক্তিত্বকে বুঝায়। ইন্দ্রিয়বৃত্তি নির্মূল করে বৌদ্ধিক জীবন লাভ করাতেই মানুষের পূর্ণতা নিহিত।

ii) বাঁচার জন্য মরো/মরে বাঁচ (Die to live):
- মানুষ যেহেতু আত্মসচেতন জীব এবং যেহেতু তার ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সেহেতু সে অপরাপর জীব থেকে পৃথক।
- কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তাদের সংগে তার কিছু মিলও রয়েছে। যেমন তার রয়েছে কিছু ইন্দ্রিয়বত্তি। এগুলোকে দমন করতে না পারলে প্রকত আত্ম-সচেতনতা তথা বৌদ্ধিক জীবন লাভ হয় না।
- অথচ ঐ জীবনেই রয়েছে মানুষের মুক্তি তথা সমস্ত ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা ও স্বার্থপরতা থেকে মুক্তি। এ কারণে মানুষকে তার প্রবৃত্তিগুলোকে দমন করতে হবে; অন্যকথায় তার জীববত্তিমূলক জীবনকে হত্যা করতে হবে। এতে করে প্রকতপক্ষে সে বেঁচে যাবে।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,৪৫৪.
নগররাষ্ট্রের স্থলে আধুনিক যুগে কীরূপ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছে?
  1. রাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্য
  2. প্রকৃতির রাজ্য
  3. জাতিরাষ্ট্র
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
নগররাষ্ট্রের স্থলে আধুনিক যুগে জাতিরাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা:

- প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র ছিল অবিচ্ছেদ্য।
- ওই সময় গ্রিসে ছোট ছোট অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে নগর-রাষ্ট্র।
- যারা নগর রাষ্ট্রীয় কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করতো, তাদের নাগরিক বলা হতো।
- শুধু পুরুষশ্রেণি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত বিধায় তাদের নাগরিক বলা হতো।

⇒ বর্তমানে নাগরিকের ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে।
- আধুনিক রাষ্ট্রগুলো হলো 'জাতিরাষ্ট্র' এবং আয়তনে বিশাল।
- যেমন- বাংলাদেশের ক্ষেত্রফল ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা প্রায় ১৯ কোটি।
- আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।
- নাগরিক অধিকার ভোগের পাশাপাশি আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪৫৫.
জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদের উদ্দেশ্য কী?
  1. সরকারকে শক্তিশালী করা
  2. ব্যক্তিগত আনন্দ সীমাবদ্ধ করা
  3. সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা
  4. দার্শনিক নীতি প্রচার করা
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থামের উপযোগবাদ:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক ও আইনজ্ঞ। 
- তিনি ১৮শ শতকের শেষভাগে উপযোগবাদের আধুনিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- বেন্থামের মূল ধারণা হলো, মানুষের নৈতিকতা বা কর্মের সঠিকতা বিচার করার একমাত্র মানদণ্ড হলো কাজের মাধ্যমে মানুষ কতটা সুখ বা আনন্দ পায়।
- অর্থাৎ, একটি কাজ নৈতিকভাবে সঠিক হলে সেটি সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সর্বাধিক সুখ তৈরি করে।

- বেন্থামের উপযোগবাদের উদ্দেশ্য- সর্বাধিক মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করা। 
- তিনি মনে করতেন, সরকার বা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষা করা। 
- বেন্থাম সাধারণত সংস্কারমূলক বা বিপ্লবী উদ্যোগে বেশি বিশ্বাস রাখতেন না, বরং কাজের ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দিতেন।

- বেন্থাম উপযোগবাদকে সর্বজনীন ও চিরন্তন নীতি হিসেবে দেখতেন। 
- অর্থাৎ এটি সব যুগের এবং সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
- তার বিখ্যাত গ্রন্থ “Introduction to the Principles of Morals and Legislation”-এ এই তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।
- গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নৈতিকতা, আইন এবং রাষ্ট্রের কার্যক্রম মানুষের সর্বাধিক সুখ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে পারে। 

উৎস:
Britannica; 
 নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৫৬.
সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা দেয় কোন শাস্ত্র?
  1. ক) অর্থনীতি
  2. খ) লোক প্রশাসন
  3. গ) সমাজবিজ্ঞান
  4. ঘ) পৌরনীতি ও সুশাসন
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক হওয়ার শিক্ষা:
- রাষ্ট্রের একজন সাধারণ নাগরিক থেকে কিভাবে সুনাগরিক হওয়া যায় সে সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ করা যায় পৌরনীতি ও সুশাসন থেকে।
- একজন সুনাগরিক বুদ্ধিমত্তা, বিবেক ও আত্মসংযমের অধিকারী হওয়ায় রাষ্ট্রের প্রতি তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। সুনাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার জন্যও পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৫৭.
আইন ছাড়া সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. সাম্য
  2. কর্তৃত্ব
  3. নৈতিকতা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা
আইন ও সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে একটি সমাজে বৈষম্য, শোষণ ও অন্যায়ের আধিপত্য বিস্তার করে।
- অন্যদিকে, আইন হল একটি সমাজে শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।

যেমন:
• আইনই নির্ধারণ করে যে, কেউ অন্যকে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বৈষম্যের শিকার করতে পারবে না।
উদাহরণস্বরূপ, সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়, যা আইনের মাধ্যমেই কার্যকর হয়।

• আইন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে।
উদাহরণস্বরূপ, শ্রম আইনের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়, যা না থাকলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী শোষিত হতে পারে।

• আইনবিহীন সমাজে শক্তিশালী ও ক্ষমতাবানরা দুর্বলদের শোষণ করবে। কিন্তু আইনের শাসন থাকলে সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- কর্তৃত্ব বলতে বোঝায় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে শাসন করা। আইন ছাড়াও কর্তৃত্ব টিকে থাকতে পারে। তবে এটি সাম্যের নিশ্চয়তা দেয় না।

- নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দের বোধ, যা ব্যক্তিগত বা সামাজিক চর্চার ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র নৈতিকতা দিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

- মানবিকতা হলো মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সাহায্যের মানসিকতা, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। মানবিকতা দ্বারা সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না, যদি না আইনগত কাঠামো এটি নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৫৮.
'সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে'-এটি কার মত?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  4. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। 
- এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,৪৫৯.
বিচ্ছিন্নতাবাদের আশঙ্কা থাকে কোন সরকার ব্যবস্থাতে?
  1. এককেন্দ্রিক
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  3. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  4. স্বৈরাচারী 
ব্যাখ্যা
• বিচ্ছিন্নতাবাদের আশঙ্কা:
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সকল প্রদেশে সমানভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না।
→ অনেক প্রদেশ আবার রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে পিঁছিয়ে পড়ে। তখন তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এ ধরনের অবস্থা অনেক দিন চলতে থাকলে এবং কোন একটি প্রদেশের অনেক মানুষের মধ্যে কেন্দ্রের ব্যাপারে বঞ্চনার বোধ দেখা দিলে বিচ্ছিন্নতাবাদ জন্ম নেয়ার আশঙ্কা দানা বেধে উঠে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬০.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৪৬১.
নিচের কোনটি ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে?
  1. আইন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মুল্যবোধ মানুষের মধ্যে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ প্রভৃতির পার্থক্য নিরূপণ করে। এসবের মাধ্যমে মানবীয় উত্তম গুণাবলি স্পষ্টতা লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৪৬২.
“ সাম্য কথাটির অর্থ সুযোগ – সুবিধা বা অধিকার বন্টণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বৈষম্য সৃষ্টি না করা”- উক্তি টি কার?
  1. ক) অধ্যাপক লাস্কি
  2. খ) বার্কার
  3. গ) অধ্যাপক ডাইসি
  4. ঘ) টি. এইচ. গ্রীন
ব্যাখ্যা
উপর্যুক্ত উক্তি টি করেছেন বার্কার। অধ্যাপক লাস্কির মতে- “ সাম্যের অর্থ হলো প্রথমত সব ধরনের বিশেষ সুযোগ -সুবিধা অনুপস্থিত এবং দ্বিতীয়ত সকলের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ – সুবিধা উন্মুক্ত রাখা”। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪৬৩.
মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকলে সুশাসন কী হয়?
  1. সহজ হয়
  2. দুর্বল হয়
  3. শক্তিশালী হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড তথা মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়। মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ শিক্ষা না থাকলে সুশাসন দুর্বল হয়। সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও সততার অভাবে সুশাসন ভেঙে পড়ে। মূল্যবোধ শিক্ষা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অন্যায় হ্রাস করে যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। মূল্যবোধ মানুষকে নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৪৬৪.
লর্ড ব্রাইস -এর মতে কোনটি জনগণের আইন মান্য করার কারণ নয়?
  1. আনুগত্য
  2. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
  3. শাস্তির ভয়
  4. সহানুভূতি
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস -এর মতে জনগণের আইন মান্য করার কারণ নয় -আনুগত্য।

আইন মান্য করার কারণ:

• লর্ড ব্রাইস জনসাধারণের আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেছেন। যেমন-
(ক) নির্লিপ্ততা: নির্লিপ্ততার অর্থ হল উদাসীনতা। বিশাল ভূখণ্ডে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তি নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে। ফলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন বিচার বিশ্লেষণ না করে অন্যদের ন্যায় নিজেও অতি সহজেই আইন মান্য করে চলে।

(খ) শ্রদ্ধা: যুগ যুগ ধরে সমাজ জীবনে যেসব রীতি-নীতি প্রথা চলে আসছে; মা, বাবা, গুরুজন ও বংশধররা যে সব রীতিনীতি দীর্ঘকাল ধরে মান্য করে আসছে, সেগুলো জনসাধারণও শ্রদ্ধাভরে মান্য করে থাকে।

(গ) সহানুভূতি: সমাজের প্রায় সকলেই যখন আইন মান্য করে চলে তখন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে অন্যদের মধ্যেও আইন মান্য করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

(ঘ) শাস্তির ভয়: জনসাধারণ জানে আইন ভঙ্গ করলে আইন ভঙ্গকারীকে অভিযুক্ত করা হবে এবং তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। তাই জনসাধারণ শাস্তির ভয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং আইন মান্য করে চলে।

(ঙ) যৌক্তিকতার উপলব্ধি: জীবন, সম্পত্তি, নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা এবং ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে মানুষ আইনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং আইন মান্য করতে শেখে।

অন্যদিকে,
- জন লক বলেছেন, 'যেখানে আইন থাকে না সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।' আইন স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক, মানুষ তাই আইন মান্য করে। তবে শাস্তির ভয়, উপযোগিতা, আনুগত্য ও চেতনাবোধই আইন মেনে চলার অন্যতম কারণ।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৫.
নিচের কোনটি নাগরিকের সামাজিক অধিকার?
  1. ক) বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  2. খ) দায়মুক্তি
  3. গ) সরকারি চাকুরি
  4. ঘ) বিনা বিচারে আটক না হওয়া
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
যেমন -
 → জীবন রক্ষা,
 → মত প্রকাশ,
 → চলাফেরা,
 → বিনা বিচারে আটক না হওয়া,
 → সংঘবদ্ধ হওয়া,
 → সভা-সমিতি,
 → চুক্তি স্থাপন,
 → সম্পত্তি ভোগ,
 → আইনের চোখে সমতা লাভ,
 → শিক্ষা লাভ,
 → সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
 → পরিবার গঠন,
 → নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৬.
কৌটিল্যের মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের ৪টি উপাদানের কথা বলেছেন। যথা:-
১। Law and Order - আইনের শাসন।
২। People Learning Administration - দায়িত্বশীল প্রশাসন,
৩। Justice and Rationally as the basis of decision - সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ন্যায়বিচার ও যৌক্তিকতা এবং, 
৪। Corruption Free Government - দুর্নীতিমুক্ত শাসন। 

এছাড়াও,
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২,৪৬৭.
মানুষের বাহ্যিক ও মানসিক আচরণ সমূহ নিয়ন্ত্রণ করে-
  1. মূল্যবোধ
  2. নৈতিকতা
  3. সমাজ
  4. আইন
ব্যাখ্যা
আইন :
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মানুষের মনের অনুভূতির সাথে আইনের কোন মিল নাই।
- আইন মানুষের গোপন চিন্তা বা উদ্দেশ্যকে প্রত্যক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা মানুষের বাহ্যিক ও মানসিক আচারণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
-  নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- জোনাথান হেইট এর মতে, 'ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ- তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।'

আইন ও নৈতিকতা:
• মধ্যযুগে নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার 'দ্য প্রিন্স' গ্রন্থে নৈতিকতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন।
• সেখানে তিনিই প্রথম নৈতিকতা থেকে আইনকে পৃথক করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৬৮.
চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. সত্য ও ন্যায়
  2. সংস্কৃতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র - সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৬৯.
‘স্বার্থ একত্রীকরণকারী' হিসেবে পরিচিত কারা?
  1. ক) বিরোধী দল
  2. খ) সরকারি দল
  3. গ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ঘ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
• প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
• মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।
• তাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ‘স্বার্থ একত্রীকরণকারী' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৭০.
প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা বলেছেন?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- প্রাচীন ভারতীয় অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য (চাণক্য) তাঁর 'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থে সুশাসনের জন্য ৪টি মূল উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
- এটি মূলত জনকল্যাণ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রগঠনের ওপর জোর দেয়।

• কৌটিল্যের মতে সুশাসনের ৪টি উপাদান হলো:
১. আইনের শাসন (Law and Order),
২. জনকল্যাণমুখী প্রশাসন (People-caring Administration),
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচার ও যৌক্তিকতা (Justice and Rationality as the basis of Decision),
৪. দুর্নীতিমুক্ত শাসন (Corruption-free Governance)।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

২,৪৭১.
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ২০০৩ সালে
  2. ২০০৪ সালে
  3. ২০০৫ সালে
  4. ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):
- ২১ শে নভেম্বর ২০০৪ বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ১৭ ধারা অনুসারে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রতিরোধ, গবেষণা এবং গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- এটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
- কার্যালয়: ঢাকার সেগুনবাগিচা।
- রুপকল্প: সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করা। 
-  লক্ষ্য: অব্যাহতভাবে দুর্নীতির দমন, নিয়ন্ত্রণ, প্রতিরোধ এবং উত্তম চর্চার বিকাশ সাধন করা।

⇒ দুর্নীতি দমন কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুইজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৬(১) ধারার বিধানমতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ হলেন -
(১) জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন;
(২) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী; এবং
(৩) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ। 
- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।

২,৪৭২.
কোন মূল্যবোধ সহজাত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ
  3. আধুনিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এগুলো নিম্নরূপঃ

⇒ ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- যে সব ধর্মীয় অনুশাসন, আচার-আচরণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ বলে।
- সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, অপরের ধর্মমতকে সহ্য করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মকর্ম ও ধর্ম প্রচারে বাধা না দেয়া, রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ কোনো ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা এবং সেভাবে বিশেষ কোনো সুযোগ-সুবিধা প্ৰদান না করাই হলো ধর্মীয় মূল্যবোধ।

⇒ নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

⇒ আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ:
- মানুষের কিছু আধ্যাত্মিক বা আত্মিক মূল্যবোধ রয়েছে।
- এজন্যই মানুষ ভালোভাবে, সৎভাবে বাঁচতে চায়, সৎ থাকতে চায় এবং সৎ মানুষকে পছন্দ করে, মিথ্যেবাদীকে ও অসৎ মানুষকে ঘৃণা করে, ভালো কাজ করতে পারলে মনে মনে স্বস্তি ও তৃপ্তিবোধ করে।
- অন্তর্নিহিত আত্মিক শক্তিই (Spiritual Power) মানুষকে এসবে উদ্বুদ্ধ করে।
- আত্মিক মূল্যবোধ সহজাত।

⇒ আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না।
- গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪৭৩.
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, সামাজিক মূল্যবোধ হলো- 
  1. আচরণধারা
  2. মানদণ্ড
  3. গোষ্ঠীগত কল্যাণ
  4. পারস্পরিক প্রত্যাশা
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values):
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু আচরণ, বিশ্বাস ও নীতি, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুযায়ী-
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড।"

• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।''

• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।''

•  স্টুয়ার্ট সি. ডড -এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেই সকল রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।''

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৪৭৪.
সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে -
  1. ক) জনগণের অংশগ্রহণ
  2. খ) নৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতন্ত্র
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
• জনগণের অংশগ্রহণ:
- অংশগ্রহণ অর্থ হলো রাজনৈতিক ও শাসন কাজে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ, নীতি প্রণয়নে নাগরিকের সম্পৃক্ততা, তথ্য, মত ও  পরামর্শমূলক কাজে জনগণের অংশীদারিত্ব, রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যৌথ উদ্যোগ, যৌথ পরিকল্পনা এবং জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ।
- রাষ্ট্র ব্যবস্থায় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনগণের অংশগ্রহণ সুশাসনকে গতিশীলতা দান করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৭৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কোন চর্চা জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. পরমত সহিষ্ণুতা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৭৬.
বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচক-২০২২ অনুসারে শীর্ষদেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ডেনমার্ক
  3. গ) আইসল্যান্ড
  4. ঘ) নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট প্রকাশিত বিশ্ব গণতন্ত্র সূচক-২০২২ রিপোর্ট অনুসারে
- শীর্ষদেশ : নরওয়ে
- দ্বিতীয় : নিউজিল্যান্ড
- সর্বনিম্ন দেশ (১৬৭তম) : আফগানিস্তান।
- বাংলাদেশের অবস্থান : ৭৩তম।

(তথ্যসূত্র: বিশ্ব গণতন্ত্র সূচক-২০২২)
২,৪৭৭.
আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা সৃষ্টি হয়- 
  1. আইনের শাসন থেকে
  2. মূল্যবোধ থেকে
  3. সুশাসন থেকে
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৪৭৮.
কোনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) স্থানীয় শাসন
  2. খ) শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ
  3. গ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  4. ঘ) ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এই নীতির ফলে সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বিভাগ অন্য বিভাগের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সমর্থ হয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,৪৭৯.
আধুনিক সভ্যতার জন্য গ্রীক রাষ্ট্রদর্শনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অবদান কি?
  1. ক) যুক্তিবোধের অগ্রাধিকার
  2. খ) রাষ্ট্রচিন্তায় নৈতিকতার প্রভাব
  3. গ) রাষ্ট্রের অবাধ কর্তৃত্ব
  4. ঘ) সমাজের পৃথক অস্তিত্বকে মেনে না নেওয়া
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাসে গ্রীক রাষ্ট্রদর্শন এক বিশিষ্ট ও অনন্য স্থান দখল করে আছে।
-  গ্রীক রাষ্ট্র দর্শনের উল্লেখ্যযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো যেমন, যুক্তিবোধের অগ্রাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, আইনের শাসন, নিয়মতান্ত্রিকতা প্রভৃতি পাশ্চাত্য সভ্যতা বিকাশের মূলে এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় জীবন যাত্রার চালিকা শক্তি হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে।
 
উৎস : রাষ্ট্রবিজ্ঞান - ২ : রাষ্ট্রচিন্তা, বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৪৮০.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে 
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
- সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে ‘Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.’
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে - শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন রিপোর্টে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
- এ চারটি স্তম্ভ হল− দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৪৮১.
UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান -
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
২,৪৮২.
'A System of Logic' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. টমাস হবস্
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- A System of Logic গ্রন্থটি ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল রচিত।

⇒ তার রচিত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- On Liberty
- Utilitarianism
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of religion, and Theism
- The Subjection of Women
- The Spirit of the Age প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
২,৪৮৩.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ন্যায়পাল পদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ আছে-
  1. ক) ৭৫ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ৭৬ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ৭৭ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ৭৮ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

- পার্লামেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত কমিশনার বা কর্মকর্তাকে ন্যায়পাল বলে।
- তিনি সরকার, মন্ত্রণালয়, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ- ৭৭ (১) অনুযায়ী সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।
- ৭৫ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- ৭৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদের স্থায়ী কমিটি সমূহ।
- ৭৮ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৪৮৪.
গণতন্ত্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস কী?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সরকার
  3. আইন
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত। 
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।

সংজ্ঞাসমূহ-
"গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।"- বার্কার।
"গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা" ("Democracy is a government of the people,by the people and for the people)"- আব্রাহাম লিংকন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪৮৫.
SAP (1986)-এ SAP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Structural Adjustment Program
  2. Social Assistance Project
  3. Sectoral Advancement Plan
  4. Sustainable Agriculture Policy
ব্যাখ্যা
Structural Adjustment Programs (SAP):
- Structural Adjustment Programs (SAP) ছিল IMF ও বিশ্বব্যাংক প্রণোদিত একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কাঠামো, যার মূল লক্ষ্য ছিল ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করা।

⇒ ১৯৮৬ সালে  নাইজেরিয়া এসএপি গ্রহণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সংস্কার করা।
- বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন করা।
- ব্যবসায়িক এবং কৃষি খাতের নিয়ন্ত্রণ পুনর্বিন্যাস করা।
- অর্থনীতির উৎপাদনশীল ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্য আনা।
- তেল খাতের উপর নির্ভরতা কমানো।
- সরকারের বাজেট ঘাটতি কমানো।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
২,৪৮৬.
প্রজাতন্ত্র কোন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করে?
  1. আমলাতান্ত্রিক শাসন
  2. জনগণের সার্বভৌমত্ব
  3. ব্যক্তির একক ক্ষমতা
  4. রাজপরিবারের কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,৪৮৭.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক
  2. মানুষের আচরণের মানদণ্ড
  3. কর্মের পরিসেবা
  4. সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের মানদণ্ড।
- সার্বিকভাবে, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস। 
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৪৮৮.
শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে ____ ও ______ দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
  1. নৈতিকতা
  2. সততা
  3. জবাবদিহিতা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
২,৪৮৯.
সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে-
  1. নৈতিকতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. বেশি আইন প্রণয়ন
  4. আমলাতন্ত্রের দক্ষতা
ব্যাখ্যা
জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯০.
নিচের কোনটি নৈতিকতার উৎস নয়?
  1. বিবেক
  2. বুদ্ধি
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা (Morality):
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
       ii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯১.
'লালফিতা' প্রত্যয়টি প্রথম কোন দেশে প্রচলন হয়?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ব্রিটেন
  3. মিশর
  4. গ্রিস
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য:
- 'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা ও সাবেকী আমলের নিয়ম-কানুনকে অন্ধভাবে অনুকরণ ও অনুসরণ করাকে বোঝায়।
- 'লালফিতা' প্রত্যয়টি সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রিটেনে প্রচলিত হয়।
- সে সময় দেশটিতে সরকারি অফিস- আদালতের সকল ফাইলপত্র লাল রঙের ফিতা দ্বারা বেঁধে রাখা হত।
- পরবর্তীকালে আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রিতা বোঝানোর জন্য লাল ফিতা রূপকটির ব্যবহার শুরু হয়।
- এক পর্যায়ে এসে আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ম-কানুনের বাড়াবাড়ি, বিলম্ব, হয়রানি ও বাড়াবাড়ি বুঝাতেও 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' কথাটির প্রচলন শুরু হয়।
- উত্তর উপনিবেশিক দেশগুলোর আমলাতন্ত্রে 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' খুব বেশি দেখা যায়।
- রাজনৈতিক নেতৃত্বের শৈথিল্যের সুযোগে আমলারা এসব দেশে বিশেষভাবে লালফিতা নির্ভর হয়ে উঠে।
- প্রশাসনের প্রচলিত নিয়ম নীতি ও বিধি-বিধানের অজুহাতে আমলারা প্রায়শ জনগণকে সেবাদানে বিলম্ব ঘটান।
- অনেক সময় মানবিক দিকটি উপেক্ষিত রেখে নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে প্রশাসন। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৪৯২.
“জাতি, গোত্র, বর্ণ,নারী-পুরুষ, ভাষা,ধর্ম, জন্ম, নির্বিশেষে সকলেই জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত সকল অধিকারের অংশীদার”- জাতিসংঘ মানবাধিকারের কত নং ধারায় রয়েছে?
  1. ক) ধারা-১
  2. খ) ধারা-২
  3. গ) ধারা-৩
  4. ঘ) ধারা-৪
ব্যাখ্যা
উক্ত ধারাটি ২ নং ধারায় রয়েছে। ১ নং ধারায় রয়েছে – সকল মানুষই সম-মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।অতএব সকলের প্রতি ভ্রাতমসুলভ আচরণ করতে হব। ধারা-২- জাতি,গোত্র, বর্ণ,নারী-পুরুষ, ভাষা,ধর্ম, জন্ম,নির্বিশেষে সকলেই জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত সকল অধিকারের অংশীদার। ধারা-৩- “প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার থাকবে”। ধারা ৪- কাউকে দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ রাখা চলবে না।সকল প্রকার দাস প্রথা ও দাস ব্যবসা নিষিদ্ধ। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৪৯৩.
মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে কোনটি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. রাজনীতিক দুর্বৃত্তায়ন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ এবং সুশাসনের সম্পর্ক:
- মুল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সহায়ক।
- রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিকল্প নেই।
- মূল্যবোধ সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটায়।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধের এই উপাদান অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
- অর্থাৎ মূল্যবোধের অভাব হলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- সামাজিক ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মূল্যবোধের শিক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গতি সঞ্চার করে।
- সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও মূল্যবোধ রক্ষা পায়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৯৪.
শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিত থাকলে নিচের কোনটি বাধাগ্রস্ত হয়?
  1. মূল্যবোধ অবক্ষয়
  2. সুশাসন
  3. সামাজিক অবক্ষয়
  4. শিক্ষার গুণগতমান
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সংবাদপত্রের স্বাধীনতা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় অথবা সংবাদমাধ্যম যদি কোনো দুরভিসন্ধি নিয়ে অসত্য বা অর্ধসত্য সংবাদ প্রচার করে, তা দেশ, জাতি ও সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

⇒ সুশাসন:
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- বর্তমানে 'সুশাসন' ও 'গণমাধ্যম' এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৪৯৫.
উপযোগবাদের মূল ভিত্তি কী হিসেবে বিবেচিত হয়? 
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. সুখ
  3. কর্তব্য
  4. সততা 
ব্যাখ্যা

উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।

⇒ উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হলো সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২,৪৯৬.
‘সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা‘ নাগরিকের কোন ধরনের কর্তব্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক কর্তব্য (Social Duties):
- মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজেই জন্মগ্রহণ করে, সমাজেই লালিত- পালিত হয় এবং সমাজেই মৃত্যুবরণ করে।
- এজন্যই এরিস্টটল বলেছেন যে, 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব এবং যে সমাজে বাস করে না সে হয় পশু না হয় দেবতা।'
- সমাজ জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য মানুষের তাই কর্তব্যও রয়েছে।

সামাজিক কর্তব্য:
সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা এবং তা বজায় রাখা,
→ সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং পরিচালনা করা,
→ সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অংশগ্রহণ করা,
→ সন্তান-সন্ততিকে শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান করে গড়ে তোলা,
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা ইত্যাদি হলো একজন নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,৪৯৭.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো -
  1. সাম্য ,স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
  2. সাম্য ,স্বাধীনতা ও অধিকার
  3. সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব
  4. সাম্য ,স্বাধীনতা ও আইন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'

⇒ গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৪৯৮.
নিচের কোনটি পেশাগত মূল্যবোধের একটি উপাদান?
  1. ধর্মীয় বিশ্বাস
  2. পারিবারিক ঐতিহ্য
  3. ব্যক্তিগত চিন্তাধারা
  4. শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের প্রকারভেদ:
- সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ চার ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়:
১. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ: ব্যক্তির নিজস্ব বিশ্বাস, রুচি, নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্ট মূল্যবোধ। এটি ব্যক্তির আচরণ ও জীবনকে প্রভাবিত করে। পরিবার থেকে এর শিক্ষা শুরু হয়।
২. সামাজিক মূল্যবোধ: সমাজের কল্যাণে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ন্যায়পরায়ণতা, সততা, শিষ্টাচার, বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা ইত্যাদি এর উদাহরণ।
৩. ধর্মীয় মূল্যবোধ: ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও নির্দেশনা থেকে গড়ে ওঠা মূল্যবোধ। এটি ব্যক্তির আদর্শ ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে।
৪. পেশাগত মূল্যবোধ: পেশায় নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেয়। এটি ব্যক্তির পেশা বাছাই ও কাজের মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, 
- পেশাগত মূল্যবোধ বলতে পেশায় সঠিক ও নৈতিক আচরণ, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বকে বোঝায়। এর মধ্যে শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এটি একজন পেশাদার ব্যক্তির কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলার মানসিকতাকে প্রতিফলিত করে।

অন্যদিকে,
ক) ধর্মীয় বিশ্বাস: এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ, যা পেশাগত মূল্যবোধের সরাসরি উপাদান নয়।
খ) পারিবারিক ঐতিহ্য: এটি ব্যক্তির পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের অংশ, পেশাগত নয়।
গ) ব্যক্তিগত চিন্তাধারা: এটি ব্যক্তির নিজস্ব মতামত বা দর্শন, যা পেশাগত মূল্যবোধের অংশ নয়।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা পেশাগত মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

তথ্যসূত্র: মূল্যবোধ, মনোভাব,কর্মসন্তষ্টি, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

২,৪৯৯.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অধীনে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. এনজিও
  2. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান
  3. জাতীয় সংসদ
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,৫০০.
নিচের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা
  2. আইন মেনে চলা
  3. বাল্যবিবাহ বন্ধ করা
  4. বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো
ব্যাখ্যা

• আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা আধুনিক মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।