বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২৩ / ৩৯ · ২,২০১২,৩০০ / ৩,৮২৯

২,২০১.
সুশাসন মূল্যায়নে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করেছে কে?
  1. ইউএনডিপি
  2. এডিবি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. আইডিবি
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলোঃ
- সরকারি খাত বা প্রশাসন ব্যবস্থাপনা
- দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
- উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো
- স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।
(তথ্যসূত্রঃ বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট)
২,২০২.
নেতৃত্ব কী ধরনের গুণ?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা
- নেতৃত্ব বলতে কোন ব্যক্তি বা নেতার গুণাবলি এবং অন্যদের তার গুণাবলি দ্বারা প্রভাবিত করার ক্ষমতাকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব এক প্রকার সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
২,২০৩.
‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ এর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. স্থানীয় প্রশাসন
  3. সমাজতন্ত্র
  4. কেন্দ্রীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা
লাল ফিতার দৌরাত্ম্য:
- ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্য’ (Red Tape) শব্দটি আমলাতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- এটি এমন একটি পরিস্থিতি বোঝায় যেখানে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অতি মাত্রায় জটিল, ধীরগতির এবং আনুষ্ঠানিক নিয়ম-কানুনে জড়িত।
- লাল ফিতার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কাজ সম্পন্ন করতে অযথা বিলম্ব ঘটে।
- এটি আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
- আমলারা আনুষ্ঠানিকতা ও বিধি বিধানের আলোকে কাজ করে থাকনে।
- যার কারণে তাদের কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যের জন্যে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। মানবিক দিক উপেক্ষিত হয়।
- আমলাতন্ত্র দুর্নীতিবাজ হলে লালফিতার দৌরাত্ম্য ব্যাপক হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত কাজ হাসিলের জন্যে জনগণকে ঘুষের আশ্রয় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক।
২,২০৪.
নিচের কোনটি UNDP উল্লিখিত সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. ক) আইনি কাঠামো
  2. খ) কৌশলগত লক্ষ্য
  3. গ) ভবিষ্যৎবাণী
  4. ঘ) সিভিল সোসাইটি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
¬এগুলো হলো:

¬- স্বচ্ছতা
¬- আইনের শাসন
¬- সকলের অংশগ্রহণ
¬- সংবেদনশীলতা
¬- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
¬¬- সমতা
¬- ন্যায্যতা
¬- জবাবদিহিতা এবং
¬- কৌশলগত লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎবাণী এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান।

(তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট)
২,২০৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা?
  1. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  2. লালফিতার দৌরাত্ম
  3. শাসন বিভাগের দুর্বলতা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- লালফিতার দৌরাত্ম বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা।

• বাংলাদেশে আমলাতান্ত্রিক সমস্যা:

- বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক সংগঠনে বিভিন্ন সমস্যা ও জটিলতা রয়েছে।

• পদসোপান নীতি-
- আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাংলাদেশে পদসোপান নীতিতে বিন্যস্ত।
- তবে উচ্চ পর্যায়ের আদেশ ছাড়া নিম্ন পর্যায়ে কেউ কাজ করতে চায় না।
- এই নীতির কারণে পুরণো সনাতন নিয়ম-কানুনের প্রতি মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়ে উঠে যা আধুনিক প্রশাসনের কাম্য নয়।

• ক্ষমতা লিপ্সা-
- বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতালিপ্সা একটি মস্ত বড় সমস্যা।
- আমলারা ক্ষমতা হাতছাড়া করতে চায় না বরং ক্রমাগতভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সচেষ্ট হয়।
- ফলে তাদের অধীনস্থ অধিদপ্তর ও দপ্তরগুলো ক্ষমতাশূন্য হয়ে পড়ে।
- রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুনের কোন ধরনের পরিবর্তনকে এরা সহজে মেনে নিতে চায় না।

• লালফিতার দৌরাত্ম্য-
- বাংলাদেশে প্রচলিত সনাতন রীতি-নীতির উপর অধিক জোর দেওয়া হয়।
- এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। ফলে সমস্যা সমাধানে জটিলতা দেখা দেয়।
- নানা ধরনের আইন-কানুনের অজুহাতে অযথা বিলম্ব ঘটায় সমস্যার পরিধি বৃদ্ধি পায়।
- ফাইল বা নথি এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে গড়াতে থাকে।
- এতে করে এত বেশী সময়ের অপচয় ঘটে যে, রোগী মারা যাবার পর ডাক্তার আসার মত ঘটনা ঘটে।

উদাসীনতা-
- আমলাদের হাতে প্রচুর ক্ষমতা থাকে। তাই তারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক মনে না করে প্রভু মনে করে।
- জনগণের দাবীকে তারা মেনে নিতে পারে না।

• নীতি নির্ধারণে অতি আগ্রহ-
- আমলাগণ রাষ্ট্রের অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ করে। আইনসভার কাজের পরিধি বৃদ্ধি, জটিল প্রকৃতি এবং সদস্যদের সময়ের অভাবের সুযোগে আমলারাই নীতি নির্ধারণে এবং আইন প্রণয়নে প্রভুত্ব বিস্তার করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০৬.
নাগরিকের আত্মপরিচয়ের বাহন- 
  1.  জনসেবা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা 
  4. উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা

- সংস্কৃতি হলো নাগরিকের আত্মপরিচয়ের বাহন।
- এটি চর্চার মাধ্যমে নাগরিক তার ইচ্ছা ও অভিব্যক্তি অপরের নিকট প্রকাশ করতে পারে।
- সাংস্কৃতিক অধিকার- নিজ ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতিনীতি ও ধর্মীয় প্রথা-প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জীবন গঠন ও পরিচালনার অধিকারকে সাংস্কৃতিক অধিকার বলে।
- অবশ্য বর্তমান যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসনের ফলে কোন কোন জনগোষ্ঠীর সনাতন সংস্কৃতির পরিবর্তন ও সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।

২,২০৭.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. হেরাক্লিটাস
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium
- Apologia Socrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।

২,২০৮.
প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল-
  1. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার, ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, সততা, ন্যায়
  3.  সততা, সাহস, প্রজ্ঞা, ধৈর্য
  4. সহনশীলতা, ন্যায়, সততা, প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

- প্লেটোর উল্লেখিত প্রধান চারটি সদগুণ হল: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

অপরদিকে,
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০৯.
নিচের কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অংশগ্রহণ
  2. অনিয়ম ও দুর্নীতি
  3. আইনের শাসন
  4. সংবেদনশীলতা
ব্যাখ্যা

– অনিয়ম ও দুর্নীতি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম Good Governance শব্দটি ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য, 
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
১. অংশগ্রহণ
২. আইনের শাসন
৩. স্বচ্ছতা, 
৪. সংবেদনশীলতা
৫. ঐকমত্য, 
৬. জবাবদিহিতা। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২১০.
সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসনের ধারণা কীসের মাধ্যমে বাস্তবরূপ লাভ করে?
  1. দেশপ্রেম
  2. দক্ষ নেতৃত্ব
  3. জনসচেতনতা
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংরক্ষণে রাজনৈতিক দল সক্রিয় এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনের ধারণাকে বাস্তবে পরিণত করে।
- রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক নেতা এবং জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা, মতৈক্য ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং সামাজিক বিরোধ দূরীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
- গণতন্ত্র কেবল সংখ্যার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না, তার জন্য প্রয়োজন নাগরিকের উন্নতমানের চেতনাবোধ ও উৎকর্ষতা।
- রাজনৈতিক দল আইনসভার অভ্যন্তরে ও বাইরে প্রচারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের উৎকর্ষতা বৃদ্ধির সহায়তা করে।
- রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও স্থায়িত্ব রক্ষা করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১১.
জাতিসংঘ সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ৭টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
-মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

• সংস্থাভিত্তিক সুশাসনের উপাদানের সংখ্যা: 
- UNDP: ৯টি
- জাতিসংঘ:৮টি
- বিশ্বব্যাংক:৬টি
- UNHCR: ৫টি
- AFDB: ৫টি
- ADB :৪টি 
- IDA : ৪টি
- কৌটিল্য: ৪টি।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২,২১২.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড’ উক্তিটি কার?
  1. ফ্রাঙ্কেল
  2. এইচ এম জনসন
  3. পল সাত্রে
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যেমন -

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২১৩.
নীতি বা ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র -
  1. ক) রাষ্ট্র
  2. খ) সমাজ
  3. গ) পরিবার
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধঃ সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নীতি ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা হয়। নৈতিকতার সাথে মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়। সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ। নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যাক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
[সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : মো. মোজাম্মেল হক]
২,২১৪.
আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকে কী বলা হয়?
  1. ধর্মীয় রাষ্ট্র
  2. একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র 
  3. জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. সামরিক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।

- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি কল্যাণ রাষ্ট্র মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারকে সমুন্নত রেখে সর্বাধিক কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সুসম্পন্ন করে থাকে।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- 'সুশাসন' একদিনে প্রতিষ্ঠা হতে পারে না।
- সুশাসনের ধারণাও একদিনে গড়ে উঠেনি।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২১৫.
নিম্নের কোনটি সুশীল সমাজের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সংগঠিত গোষ্ঠী
  2. সরকার ও জনগণের মধ্যে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে ভূমিকা পালন করে
  3. একদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
  4. ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica. 

২,২১৬.
একটি সমাজের পরিবেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তাভাবনা মূল্যায়নে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. আইন
  2. ধর্ম
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়। মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল। শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ বিষয়টি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। নীতি-নৈতিকতাহীন ব্যক্তি সাধারণত মূল্যবোধসম্পন্ন হয় না।
- নির্দিষ্টতা: যেমন, মায়ের প্রতি কারো সম্মান। আবার তা সাধারণও হতে পারে। যেমন, যে প্রতিবেশীকে ভালবাসে আসলে সে নিজেকেই ভালবাসে।
- বিভিন্নতা: সংস্কৃতি ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক থেকে শুরু করে নানা দিক থেকে পশ্চিমা সংস্কৃতির মূল্যবোধের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির মূল্যবোধের পার্থক্য আছে।
- আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ একটি আপেক্ষিক বিষয়। একই মূল্যবোধ ভিন্ন-ভিন্ন দেশে বা সংস্কৃতিতে নানারকম হতে পারে। অর্থাৎ স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের মাত্রা কম বা বেশি দেখা যায়।
- সামাজিক মানদন্ড: বিদ্যমান মূল্যবোধ দিয়ে একটি সমাজের বা রাষ্ট্রের পরিবেশ, সংস্কৃতি, চিন্তা-ভাবনার মূল্যায়ন করা যায়। যেমন, কৃষি প্রধান সমাজের মূল্যবোধ একরকম, আবার শিল্পসমৃদ্ধ সমাজের মূল্যবোধ অন্যরকম।
- পরিবর্তনশীলতা: মূল্যবোধ যেহেতু চর্চার বিষয় এবং অভ্যাসের দ্বারা গড়ে উঠে, তাই ভিন্ন সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে একজন ব্যক্তির পুরনো মূল্যবোধে পরিবর্তন আসতে পারে। যেমন, একজন বাঙালি দীর্ঘ দিন পশ্চিমা কোন সংস্কৃতিতে বসবাস করলে তার আচারণ-আচরণে চিন্তায় নানান পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- সম্পর্কের সেতু: অপরিচিত ব্যক্তিরা অনেক সময় একই মূল্যবোধের হলে, তাদের মাঝেও একটি আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। যেমন কোন বাংলাদেশি নাগরিক লন্ডনে আরেকজন অপরিচিত বাংলাদেশী নাগরিককের সাথে দেখা হলে সহজেই তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২১৭.
“কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীন কল্যানের জন্য কোন কিছু করা বা না করার অধিকার বোঝায়।” – কে বলেছেন?
  1. ক) অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি
  2. খ) অধ্যাপক এ. ভি. ডাইসি
  3. গ) অধ্যাপক আর. জি. গেটেল
  4. ঘ) অধ্যাপক জেমস গার্নার
ব্যাখ্যা
 -কর্তব্যের ধারণা রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে প্রত্যেক নাগরিক তার জীবনকে পরিপূর্ণভাবে বিকাশের জন্য কতগুলো সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক অধিকার ভোগ করে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকদের আবার রাষ্ট্রের প্রতি কিছু কর্তব্য পালন করতে হয়।

- এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি বলেন, “কর্তব্য বলতে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীন কল্যাণের জন্য কোন কিছু করা বা না করার অধিকারকে বোঝায়।”
- বস্তুত: কর্তব্য পালন ব্যতীত অধিকার ভোগের প্রত্যাশা করা যায় না। যেমন, আইন মেনে চলা নাগরিকের কর্তব্য।
এ কর্তব্য পালনের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার নিজের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার প্রত্যাশা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৮.
কোন মূল্যবোধটি সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
• সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে ‘সৃজনশীলতা’ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়পরায়ণতা গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো সুশাসন নিশ্চিত করে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখে।
- এছাড়া, বিশ্বস্ততা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ, কারণ এগুলো ন্যায়বিচার, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
- তবে সৃজনশীলতা সাধারণত নীতিনির্ধারণের জন্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- যদিও সৃজনশীলতা নতুন ধারণা ও উন্নয়নের জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতাই প্রধান ভিত্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৯.
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল কোন গ্রন্থে গোল্ডেন মিন (Golden Mean) মতবাদটি ব্যাখ্যা করেন?
  1. Politics
  2. Eudemian Ethics
  3. Nicomachean Ethics
  4. Metaphysica
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
-  দার্শনিক এরিস্টটলের "নিকোমেকিয়ান এথিকস" (Nicomachean Ethics) গ্রন্থে এই মতবাদটি ব্যাখ্যা করেন।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।
- গোল্ডেন মিনের ধারণাটি নৈতিকতা, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে

উল্লেখ্য,
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল:
- Nicomachean Ethics- গ্রন্থে নৈতিকতার মধ্যমপন্থা এবং মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন।
- Eudemian Ethics- নৈতিকতা সম্পর্কিত আরও একটি বই, যা নিকোমেকিয়ান এথিকসের সাথে সম্পর্কিত।
- Politics - গ্রন্থে আদর্শ সমাজব্যবস্থা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
- Metaphysica বা Metaphysics- গ্রন্থে বাস্তবতার মূল স্বভাব এবং সত্তার প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
২,২২০.
জন অস্টিন এর মতে আইনের উৎস কয়টি? 
  1. ৪টি
  2. ১টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিন ১টি ,সার্বভৌম আদেশ। 

• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, ৬ টি
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা।

• ওপেনহাইম এর মতে, ৭ টি।
১. প্রথা;
২. ধর্ম;
৩. বিচারকের রায়;
৪. ন্যায়বিচার;
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা;
৬. আইনসভা;
৭. জনমত;

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২১.
দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় _________ প্রতিষ্ঠার ফলে।
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. অর্থনৈতিক প্রবাহ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেশে সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয় সুষম উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার ফলে যেখানে অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সমাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। 

​সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে। বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২২২.
নৈতিকতা বা নীতিবোধ কোথা থেকে উৎসারিত?
  1. পরিবার থেকে
  2. বিদ্যালয় থেকে
  3. মানুষের হৃদয়-মন থেকে
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়। এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,২২৩.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- 
  1. গণতন্ত্র
  2. সংস্কৃতি
  3. সুশাসন
  4. উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২২৪.
নিম্নের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব নয়?
  1. নিয়মিত কর প্রদান
  2. জাতীয় সম্পদ রক্ষা
  3. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ নাগরিকের দায়িত্ব নয়, এটি সরকারের দায়িত্ব।

নাগরিকের দায়িত্ব:

- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
- সামাজিক দায়িত্ব পালন।
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
- আইন মান্য করা।
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
- নিয়মিত কর প্রদান
- রাষ্ট্রের সেবা করা।
- সন্তানদের শিক্ষাদান।
- রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সাহায্য করা।
- সচেতন ও সজাগ হওয়া।
- সংবিধান মেনে চলা।
- সুশাসনের আগ্রহ।
- উদার ও প্রগতিশীল দলের প্রতি সমর্থন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,২২৫.
''মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সর্বত্রই তাকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।'' উক্তি কার?
  1. ক) এস.পি. হান্টিংটন
  2. খ) এইচ জে লাস্কি
  3. গ) জাঁ জ্যাক রুশো
  4. ঘ) টি এইচ গ্রিন
ব্যাখ্যা
জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন যে, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে' (Man is born free but everywhere he is in chains)।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে” ।

• এস.পি. হান্টিংটন (S.P. Huntington) বলেন, “মানবাধিকার মানুষের সহজাত, সম-সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মানুষের মানবিকতা পূর্ণতা লাভ করে।” 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসসর মোঃ মোজ্জামেল হক।
২,২২৬.
সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থের সংঘাত' (conflict of interest)- এর উদ্ভব হয় যখন গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে -
  1. সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে
  2. প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ জড়িত থাকে
  3. সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে
  4. উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বার্থ জড়িত থাকে
ব্যাখ্যা
Conflict of Interest
- A conflict of interest occurs when an individual’s personal interests – family, friendships, financial, or social factors – could compromise his or her judgment, decisions, or actions in the workplace.
⇒ ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of interest)- একটি পরিস্থিতি যেখানে দুটি ভিন্ন পক্ষের উদ্বেগ বা লক্ষ্য ভিন্ন।
⇒ নির্বাচিত কর্মকর্তা বা কর্পোরেট লবিস্টদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে একজন ব্যক্তি তাদের অফিসিয়াল ক্ষমতায় গৃহীত কর্ম বা সিদ্ধান্ত থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের অবস্থানে থাকে।

তাই,
- সঠিক উত্তর হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তার নিজের বা পরিবারের সদস্যদের স্বার্থ জড়িত থাকে।

উৎস: লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,২২৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ কোনটি?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সহনশীলতা
  3. গ) নির্বাচনে অংশগ্রহন
  4. ঘ) দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা

দায়িত্বশীলতা - গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাণ। গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বশীল বলেই সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।

২,২২৮.
জোনাথান হেইট -এর মতে কয়টি উৎস থেকে নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

​⇒ জোনাথান হেইট -এর মতে, “ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ এই তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২২৯.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রদত্ত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ভবিষ্যৎবাণী
  2. স্বচ্ছতা
  3. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
- এডিবি’র মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
- কৌশলগত অংশীদারিত্ব UNDP বর্ণিত সুশাসনের উপাদান।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
২,২৩০.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনটি বিবেচনা করা হয় না?
  1. ক) সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
  2. খ) ব্যক্তি স্বাধীনতা
  3. গ) দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
  4. ঘ) স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance : The World Bank Experience’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
• সেখানে সুশাসনকে মূল্যায়নের জন্যে চারটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলো:- 
১। সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
২। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা
৩। উন্নয়নের বৈধ কাঠামো এবং
৪। স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ।

তথ্যসূত্র: বিশ্বব্যাংক। 
২,২৩১.
কিসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. পেশার মাধ্যমে
  2. নীতিবোধের মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ
  4. মানবিকতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,২৩২.
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস কোনটি?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) ধর্মগ্রন্থ
  3. গ) বিচারকের রায়
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতির আদেশ
ব্যাখ্যা
পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনের উৎস ধর্মগ্রন্থ। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
২,২৩৩.
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত কোনটি?
  1. নগররাষ্ট্র গঠন
  2. জেন্ডার সমতা আনয়ন
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে জনকল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত করা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করে।
- কিন্তু কল্যাণমূলক রাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়।
- কারণ এই রাষ্ট্র ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে কল্যাণমূলক সমাজতান্ত্রিক কার্যাবলী সম্পাদন করে।
- মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: i) পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩৪.
শিক্ষার সাথে মূল্যবোধের সম্পর্ক কী?
  1. সম্পূর্ণ আলাদা
  2. কেবল ব্যবসায়িক জ্ঞান দেয়
  3. মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে সুদৃঢ় হয়
  4. প্রযুক্তি নির্ভর করে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে এবং তা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,২৩৫.
সুশাসনের একপক্ষ সরকার, অন্যপক্ষ কে?
  1. বিরোধী দল
  2. জনগণ
  3. আমলা
  4. সংবাদমাধ্যম
ব্যাখ্যা

সুশাসনের একপক্ষ সরকার হলে এর অন্যপক্ষ হলো জনগণ।
- যারা সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে অর্থাৎ, সুশাসন একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া যেখানে সরকার ও জনগণ উভয়েই অংশীদার এবং দায়িত্বশীল থাকে। 

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

⇒ মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

২,২৩৬.
"যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না"-কে বলেছেন?
  1. জন লক
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হেনরী মেইন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

⇒ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- রাষ্ট্রদার্শনিক জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"
- এরিস্টটলের মতে, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হল আইন।" 
- জন অস্টিনের মতে, "আইন হল নিম্নতনের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের আদেশ।"
- অধ্যাপক হেনরী মেইনের মতে, পরিবর্তনশীল, ক্রমোন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফলকে আইন বলা হয়।" -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতকগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম শক্তি কর্তৃক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।"
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এর মতে, "আইন হল মানুষের স্থায়ী আচার-আচরণ ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা' রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,২৩৭.
সুশাসনের পূর্বশর্ত কোনটি?
  1. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ
  2. দক্ষ জনশক্তি
  3. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- এর অর্থ হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে - 'Good Governance'.
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

• সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। শর্ত গুলো হচ্ছে:
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৩৮.
রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা -
  1. অর্থ সম্পদের অভাব
  2. স্থানীয় সরকার কাঠামো দুর্বলতা
  3. দুর্নীতি
  4. নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি হ্রাস:
- রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা দুর্নীতি
- প্রশাসনিক জবাবদিহিতা সরকারি আমলাদের দুর্নীতি হ্রাস করতে পারে।
- দুর্নীতি হ্রাস পেলে কাজের স্থবিরতা দূর হবে এবং সুশাসন নিশ্চিত হবে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২৩৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় হচ্ছে -
  1. মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  2. রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা
  3. সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেতে সরকারের করণীয় হলো:
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের করণীয় হলো:
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা।
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন করা।
→ রাষ্ট্রের আনুগত্য প্রদর্শন করা।
→ নিয়মিত কর প্রদান করা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।
২,২৪০.
“সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড”-উক্তিটি কার?
  1. জন লকে
  2. এফ ই মেরিল
  3. ক্লাইড ক্লুখোন
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।

বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছে-
সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদণ্ড"।

ক্লাইড ক্লুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন-
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।

সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন-
"সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪১.
মূল্যবোধ হলো ভাল-মন্দ সম্পর্কে -
  1. সামগ্রিক ধারণা
  2. সামাজিক ধারণা
  3. রাজনৈতিক ধারণা
  4. নৈতিক ধারণা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল-মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
         ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪২.
'সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে'-এ উক্তিটি কার?
  1. UN
  2. UNDP
  3. World Bank
  4. IDA
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- উন্নয়নের জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যে পদ্ধতিতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় তাকে সুশাসন বলে।

"সুশাসনের ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদগুলোর টেকসই উন্নয়ন ঘটে" - এই উক্তিটি বিশ্বব্যাংকের। বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক তাদের একটি প্রতিবেদনে এই ধারণাটি তুলে ধরে, যেখানে সুশাসনকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 
• মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'
• UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,২৪৩.
মূল্যবোধ শিক্ষার অভাবে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
  2. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষিত হয়
  3. কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  4. সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক অবক্ষয় হিসেবে পরিগণিত।
- তাই মূল্যবোধ ‍শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী।
২,২৪৪.
সরকারের বাহিরে থেকে সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে-
  1. ক) উপদল
  2. খ) শ্রমিক সংঘ
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) কর্মচারী ঐক্যজোট
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ‍সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশীল সমাজ সরকারের বাহিরে থেকে সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। UNDP সুশাসনের বিষয়ে সুশীল সমাজের উপস্থিতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে। সংস্থাটির মতে টেকসই মানব উন্নয়নের জন্যে সরকারিখাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং সুশীল সমাজ গুরুত্বপূর্ণ।
[সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন এবং UNDP]
২,২৪৫.
মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় -
  1. নৈতিকতার মাধ্যমে
  2. ধর্মের মাধ্যমে
  3. অভ্যাসের মাধ্যমে
  4. আচরণের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।

উল্লেখ্য,
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২৪৬.
নৈতিকতার ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Equity
  3. Morality
  4. Moral
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি শব্দ Morality। ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
- সক্রেটিস বলেছেন "সৎ গুণই জ্ঞান" (Virtue is knowledge) তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে জ্ঞান এবং অন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা'।

নৈতিকতার প্রামান্য সংজ্ঞা:
- জোনাথান হেইট (Jonathan Haidt) মনে করেন, "ধর্ম, ঐতিহ্য, ও মানব আচরণ তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৪৭.
মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. স্থির ও অপরিবর্তনীয়
  2. পরিবর্তনশীল ও নৈর্ব্যক্তিক
  3. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রিত
  4. আইনগত বাধ্যবাধক
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল। 

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
- মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৪৮.
নিচের কোনটি এডিবি বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) অবাধ তথ্য প্রবাহ
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাণী
ব্যাখ্যা
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
-, স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)
২,২৪৯.
ই-গভর্নেন্সকে ’স্মার্ট সরকার’ ব্যবস্থা বলে আখ্যায়িত করেছেন কে? 
  1. ই. এম. হোয়াইট
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।

• E-Governance:
 
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent.
- অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

•E-Governance-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। -
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৫০.
’সরকারি চাকরি লাভ’ কোন ধরনের অধিকার? 
  1. সামাজিক অধিকার
  2. রাজনৈতিক অধিকার
  3. অর্থনৈতিক অধিকার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।যেমন-
- ভোটদান,
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ,
- সরকারি চাকরি লাভ,
- সরকারি কাজের সমালোচনা,
- আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া,সংঘবদ্ধ হওয়া,
- সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা,
- পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

অর্থনৈতিক অধিকার:

- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার। 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫১.
“Law is passionless reason” - কার উক্তি?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) জ্যোঁ বোঁদা
  4. ঘ) জন অস্টিন
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আইনের সংজ্ঞায় এরিস্টটল বলেন - “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যাক্তিই হচ্ছে আইন।” (Law is passionless reason)। উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২,২৫২.
নীতিবিদ ম্যুর নৈতিকতাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দমন
  2. জ্ঞানের চর্চাই নৈতিকতার মূল ভিত্তি
  3. শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগ
  4. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই নৈতিকতার সারমর্ম
ব্যাখ্যা

◉ নীতিবিদ জি. ই. ম্যুর নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে: “শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা”। তাঁর মতে, নৈতিকতা মানে হলো ভালো ও মন্দের প্রতি মানুষের অন্তর্নিহিত অনুভূতির প্রকাশ।

নৈতিকতা:

- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- সক্রেটিস বলেছেন, 'সৎ গুণই জ্ঞান' (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বোধের উৎস হচ্ছে 'জ্ঞান' (knowledge) এবং অন্যায়বোধের উৎস হচ্ছে 'অজ্ঞতা' (ignorance)।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'
- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো 'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,২৫৩.
'সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে' এটি কার বক্তব্য?
  1. UNDP
  2. UN
  3. IMF
  4. World Bank
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।
- UNDP) ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
২,২৫৪.
'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. টি. এইচ. গ্রিন
  2. জন লক
  3. জাঁ জ্যাক রুশো
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

ইংরেজ দার্শনিক টি. এইচ. গ্রিন বলেছেন, 'বল নয়, জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি'।

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে বলপ্রয়োগ মতবাদ সমর্থন যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও এ মতবাদের যে কোনরূপ গুরুত্ব ও প্রভাব যে নেই তা নয়।
- একথা সর্বজনস্বীকৃত যে, বল বা শক্তির সমর্থন ব্যতীত রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।
- রাষ্ট্রাভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্যও শক্তির প্রয়োজন।
- একারণেই বলা হয় যে, 'রাষ্ট্র একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান” ('The state is a coercive institution)'.
- এটি সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- সরকার রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৫৫.
ই-গভর্ন্যান্সকে 'স্মার্ট গভর্নমেন্ট' বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ইএম হোয়াইট
  2. লরি পেইজ
  3. নিখিলেস যাদব
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উল্লেখ্য:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৫৬.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-
  1. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- পরমত সহিষ্ণুতা।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা: 

- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।
- মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।"

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৫৭.
CEDAW সনদ গৃহিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৯ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
- CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ হলো নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক দলিল।
- এটি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গৃহিত হয় এবং কার্যকর হয় ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
২,২৫৮.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. ই- গভর্ন্যান্স
  2. দক্ষ জনশক্তি
  3. কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থা
  4. কর্তৃত্ববাদী শাসন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্স হলো শাসন ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সেবা প্রাপ্তিকে সহজতর করা।
- ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহায়ক উপাদান।
- ই-গভর্ন্যান্স স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,  প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
২,২৫৯.
নিচের কোনটি শিক্ষার শ্রেণি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) কারিগরি শিক্ষা
  4. ঘ) উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
শিক্ষাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।
২,২৬০.
"The Fundamentals of Ethics" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ডেভিড হিউম
  2. অ্যারিস্টটল
  3. রাস শেফার-ল্যান্ডাউ
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

- "The Fundamentals of Ethics" গ্রন্থটির রচয়িতা - রাস শেফার-ল্যান্ডাউ।

• রাস শেফার-ল্যান্ডাউ/ Russ Shafer-Landau: 
- জন্ম: ১৯৬৩ সালে।
- তিনি একজন বিখ্যাত আমেরিকান দার্শনিক। 
- তিনি নৈতিকতা (ethics), বিশেষ করে নৈতিকতার মৌলিক অবস্থান (metaethics), নৈতিকতার অস্তিত্ব, জ্ঞানতত্ত্ব, এবং বাস্তবতা নিয়ে গভীর গবেষণা করেন। 
- তিনি অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।
- বর্তমানে তিনি উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ অধ্যাপক। 

• তার উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা:
- Moral Realism: A Defence
- Whatever Happened to Good and Evil?
- The Fundamentals of Ethics
- Living Ethics: An Introduction with Readings

তথ্যসূত্র: 
i) Oxford University Press
ii) University of Wisconsin-Madison

২,২৬১.
‘আইনের শাসন সূচক’ প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. UNCTAD
  2. World Justice Project
  3. Reporters Without Borders
  4. EIU
ব্যাখ্যা

সুশাসন সম্পর্কিত সূচক: 
- আইনের শাসন সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: The World Justice Project (USA)

এছাড়াও, 
- গণতন্ত্র সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (EIU)
- মানব উন্নয়ন সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: UNDP 
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Reporters Without Borders
- সুখ সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Sustainable Development Solution Network
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Institute of Economic and Peace (Australia)
- দুর্নীতি সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: Transparency International
- ই-কমার্স সূচক – প্রকাশকারী সংস্থা: UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development)

সূত্র: স্ব স্ব সংস্থার ওয়েবসাইট। 

২,২৬২.
কোন সংস্থাটি দেশের উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্বারোপ করেছে?
  1. ক) UNO
  2. খ) IMF
  3. গ) WBG
  4. ঘ) ADB
ব্যাখ্যা
- IMF বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ১৯৯৬ সাল থেকে সুশাসনের উপর গুরুত্ব প্রদান করে আসছে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ IMF ওয়েবসাইট)
২,২৬৩.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) বিদেশি সংস্কৃতি
  2. খ) রাজনীতি
  3. গ) মাদকাসক্তি
  4. ঘ) তথ্য-প্রযুক্তি
ব্যাখ্যা
• যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্ততা
•  মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।
• মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়।
• এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
• হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকাসক্ততার প্রতি ঝোকে পড়ছে।
অন্যদিকে,
অপরাজনীতি, তথ্য-প্রযুক্তি অপব্যবহার, অপসংস্কৃতি প্রভৃতি যুব সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
২,২৬৪.
সক্রেটিসের মতে জ্ঞান কয় প্রকার?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৩
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 
- তাঁর অন্যতম বাণী ছিল ‘সদগুণই জ্ঞান'। 
- তাঁর মতে, জ্ঞান দু'প্রকার : একটি হলো আপাত জ্ঞান এবং অপরটি প্রকৃত জ্ঞান। 
- তিনি বলেন, সব মানুষের কর্তব্য হলো সত্য জ্ঞানের সন্ধান করা এবং তা তারা তখনই আয়ত্ব করতে পারবে যখন তারা নিজেদেরকে জানতে পারবে। 
- জ্ঞানের মতো সদগুণও দু'প্রকার। এক ধরনের সদগুণ মতামত নির্ভর; অন্যটি সত্য নির্ভর। প্রথমটি ক্ষণস্থায়ী এবং দ্বিতীয়টি চিরস্থায়ী।
- সমকালীন সফিস্টদের তুলনায় সক্রেটিস তাঁর জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। 
- তিনি বলতেন, ‘আমি একটি বিষয় জানি এবং তা হল আমি কিছুই জানি না।' 
- প্রশ্নের পর প্রশ্নোত্থাপনের মাধ্যমে তিনি শিষ্যদের বুঝিয়ে দিতেন একটি বিষয় সম্পর্কে তারা কতটা অজ্ঞ। 
- তাঁর মতে, দর্শনের শুরু হয় আত্মজিজ্ঞাসা দিয়ে (Know thyself)। 
- তিনি মনে করতেন ‘পৃথিবীতে মানুষের চাইতে বড় কিছু নেই; আর মানুষের মাঝে আত্মার চাইতে বড় কিছু হয় না।' 
- মানুষের কি হওয়া উচিৎ আর কোন গুণের পেছনে ধাবিত হওয়া কর্তব্য এ সব বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনায় অবতীর্ণ হতেন। 
 
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৫.
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. ক) যথার্থতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক।
- তবে এক্ষেত্রে নৈতিকতা বা সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
২,২৬৬.
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী?
  1. ক) লাস্কি
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) লর্ড একটন 
ব্যাখ্যা
• সুনাগরিক:
- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,
- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৭.
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. মারটিন মিনোগ
  2. মিশেল ক্যামডেসাস
  3. ম্যাককরনি
  4. কফি আনান
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
→ কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
→ অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
→ সুশাসন না থাকলে সমাজে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না। 

• প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
→ কফি আনান সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"
→ মিশেল ক্যামডেসাস: "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"
→ ম্যাককরনি সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।
→ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,২৬৮.
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে-
  1. World Bank
  2. International Monetary Fund
  3. Islamic Development Bank
  4. European Economic Community
ব্যাখ্যা

শ্বেতপত্র (White paper):
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

​সুশাসন ও শ্বেতপত্র:
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community.

২,২৬৯.
“An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy” - কে বলেছেন?
  1. ক) জি. বিলনে
  2. খ) বিশ্বব্যাংক
  3. গ) রিচার্ড ক্রসম্যান
  4. ঘ) অধ্যাপক ডাইসি
ব্যাখ্যা
সাধারণত আমলারা নিজেদের জনগণের সেবক মনে না করে প্রভু মনে করে এবং নিজেদেরকে অভিজাত শ্রেণী বলে মনে করে। তাদের জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না উঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সুদুর পরাহত হয়ে উঠে। এই জন্য রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন - অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকীস্বরূপ।”
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
২,২৭০.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোনটি ঐচ্ছিক বিষয়?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) সৃজনশীলতা
ব্যাখ্যা
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক বিষয়।
[সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]
২,২৭১.
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে, সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. স্বচ্ছতা
  2. ন্যায্যতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি অনুসারে, 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি' সুশাসনের উপাদান নয়।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
“একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন।”
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)

• UNDP এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৯টি-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: UNDP ওয়েবসাইট।
২,২৭২.
“অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।” এটি কার উক্তি?
  1. অধ্যাপক গেটেল
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. অধ্যাপক বার্কার
  4. অধ্যাপক ডাইসি 
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, “অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।”
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়। যেমন: পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৩.
'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক কে?
  1. জন লক
  2. রেনে ডেকার্ত
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. বারুখ স্পিনোজা
ব্যাখ্যা

⇒ 'Critique of Pure Reason' বইটির লেখক ইমানুয়েল কান্ট।

নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ ধারণাটির প্রবর্তক জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট এর নীতিবিদ্যার মূলকথা ৩টি। যথা-
• সৎ ইচ্ছা,
• কর্তব্যের জন্য কর্তব্য,
• শর্তহীন আদেশ।

- তাঁকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়৷

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইসমূহ:
• Critique of Pure Reason.
• Critique of Practical Reason.
• Critique of Judgement.
• Groundwork for Metaphysics of Morals.

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৭৪.
দুর্নীতি ও অনিয়ম বাংলাদেশের কোন ধরনের সমস্যা?
  1. স্থানীয় সমস্যা
  2. আঞ্চলিক সমস্যা
  3. জাতীয় সমস্যা
  4. আন্তর্জাতিক সমস্যা 
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসনের ধারণা সর্বপ্রথম দেয় - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। যথা:- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো, অংশগ্রহণ।
- দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার ও কুশাসন হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,২৭৫.
আইনের চোখে সবাই সমান এটি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ১৯ নং
  2. খ) ২৭ নং
  3. গ) ২৮ নং
  4. ঘ) ৩১ নং
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতার কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়,
“সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী”।
অন্যদিকে,
- ১৯ নং অনুচ্ছেদ : সুযোগের সমতা
- ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
- ৩১ নং অনুচ্ছেদ : আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান)
২,২৭৬.
নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করে কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় আইন
  2. ধর্মীয় সংগঠন
  3. সামাজিক রীতি-নীতি
  4. নীতি এবং ঔচিত্যবোধ
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
নীতি এবং ঔচিত্যবোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের প্রধান উৎস। যা নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
→ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সে সব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
→ নৈতিক মূল্যবোধের অন্যান্য উৎসের মধ্যে পরিবার, ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থ অন্যতম।
→ অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।   

এছাড়াও, নৈতিক মূল্যবোধের অন্য উৎস:
- পরিবার: শিশুদের মানবিক গুণাবলি ও নৈতিক শিক্ষার প্রথম স্থান।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক আচরণ উন্নত করে।
- ধর্ম: ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে।
- সমাজ: সামাজিক মূল্যবোধ ও আচরণ গড়ে তোলে।
- ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: জীবনের অভিজ্ঞতায় নৈতিকতা আরও গভীর হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,২৭৭.
'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. প্রশাসনিক গতিশীলতা
  3. যানজট নিরসন
  4. গনতন্ত্র পুন্রুদ্ধার
ব্যাখ্যা
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

সূত্র:- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
২,২৭৮.
অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন কত প্রকার?
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
আইন কত প্রকার তা নির্দিষ্ট নয়। এ সম্পর্কে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন।
-অধ্যাপক হল্যান্ড আইনকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করেছেন-
১. ব্যক্তিগত আইন ২. সরকারি আইন ।
-মার্কিন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক আর. এম. ম্যাকাইভারের মতে আইন দুই প্রকার।
১. জাতীয় আইন ২. আন্তর্জাতিক আইন।

-জাতীয় আইনকে তিনি আবার দুইভাগে ভাগ করেছেন- ক. সাংবিধানিক আইন খ. সাধারণ আইন।

উল্লেখ্য, 
আইন সাধারণত তিন প্রকার-
১. রাষ্ট্র সম্পর্কিত আইন (Public Law)
২. ব্যক্তি সম্পর্কিত আইন (Private Law)
৩. আন্তর্জাতিক আইন (International Law)

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭৯.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের উপাদান?
  1. সাম্প্রদায়িকতা
  2. নাগরিক চেতনা
  3. জাতিগত আত্মভরিতা
  4. সামাজিক নৈরাজ্য
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
সামাজিক ন্যায়বিচার, নীতি ও ঔচিত্যবোধ, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,২৮০.
শৃঙ্খলা সমাজে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হ্রাস করে
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করে
  3. সমাজকে অগণতান্ত্রিক করে
  4. মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করে 
ব্যাখ্যা

শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৮১.
'ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি'- কোন সংস্থা নিম্নোক্ত সংজ্ঞা প্রদান করেন?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি।
-  সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।

- দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল "Corruption" এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Corruptus" থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন।
- দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।

উল্লেখ্য,
- ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি"। 
- জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
- বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।
- এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২৮২.
নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি পেয়ে থাকে- 
  1. বিদ্যালয় থেকে
  2. রাষ্ট্রের কাছ থেকে
  3. পরিবার কাছ থেকে
  4. ব্যক্তি নিজের থেকে
ব্যাখ্যা

নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- সমাজ হচ্ছে স্বাভাবিক পরিবেশ, যাকে নৈতিকতা ও ঔচিত্যবোধের বিকাশ ভূমি বা শিক্ষাক্ষেত্র বলা যেতে পারে।
- নৈতিকতার সাথে তাই মূল্যবোধের সম্বন্ধ অত্যন্ত নিবিড়।
- সমাজে কারও ক্ষতি না করা, কারো মনে কষ্ট না দেয়া, কটুক্তি না করা প্রভৃতি হচ্ছে নীতি ও ঔচিত্যবোধ।
- নীতি ও ঔচিত্যবোধের অনুমোদন ব্যক্তি তার নিজের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে।
- এর ফলে সে ন্যায়, অন্যায়, ভালো, মন্দ, উচিত, অনুচিতের পার্থক্য করে তার নিজের ভালো বা মঙ্গলের চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৮৩.
‘আইন মেনে চলা’ কোন ধরনের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. সার্বজনীন মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে। রাজনেতিক মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে:
- আইন মেনে চলা,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন,
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ,
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ শ্রমের মর্যাদা : সামাজিক মূল্যবোধ,
▪ পরোপকারিতা : নৈতিক মূল্যবোধ,
▪ ন্যায়পরায়ণতা : সার্বজনীন মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২,২৮৪.
ব্যক্তির বিশ্বাস ও নীতি-নৈতিকতা থেকে কোন ধরনের মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়?
  1. পেশাগত মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধের ধরণ:
- সামাজিক জীব হিসেবে সাধারণভাবে সমাজ জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মুখোমুখি হয়।
- যথা: ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পেশাগত মূল্যবোধ।

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার- আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অপরদিকে,
• সামাজিক মূল্যবোধ:
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ ।

• ধর্মীয় মূল্যবোধ:
- ধর্মীয় অনুশীলন এবং নির্দেশনায় গড়ে ওঠা সামগ্রিক বিশ্বাস, আদর্শ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, রীতি-নীতি ইত্যাদি মিলিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হয়।

• পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ হলো, ব্যক্তির মূল্য ও মর্যাদার স্বীকৃতি।
- ব্যক্তিত্বের ধরন, আগ্রহ ও কাজ- সম্পর্কিত মূল্যবোধ প্রভৃতি একজন ব্যক্তির পেশাগত মূল্যবোধে প্রভাব বিস্তার করে।
- পেশা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এ মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৮৫.
নিচের কোন দুটির লক্ষ্য ও আলোচ্য বিষয় একই?
  1. নৈতিকতা ও সমাজবিজ্ঞান
  2. আইন ও সমাজ
  3. নৈতিকতা ও রাজনীতি
  4. আইন ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিকতা:
- আইন ও নৈতিকতার লক্ষ্য এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের আলোচ্য বিষয় মানুষের আচরণ।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নৈতিকতা মানুষের মনোজগতকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধন করাই উভয়ের লক্ষ্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৮৬.
জাতীয় সংহতির জন্যে কী প্রয়োজন?
  1. পেশাদার আমলাতন্ত্র
  2. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  3. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ
  4. বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- জাতীয় সংহতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী পৃথক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জাতীয় একাগ্রতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : বিএসএস : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,২৮৭.
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

উল্লেখ্য,
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

২,২৮৮.
সমাজের সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখই ভালো-মন্দ নির্ধারণের মানদণ্ড -এটি কোন তত্ত্বের মূল বিষয়?
  1. ক) Formalism
  2. খ) Nihilism
  3. গ) Utilitarianism
  4. ঘ) Intuitionism
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম প্রবর্তিত Utilitarianism বা উপযোগবাদের মূলকথা হলো সর্বাধিক সংখ্যক লোকের জন্যে সর্বাধিক সংখ্যক সুখই মানুষের নৈতিক আদর্শ। এটি একটি সুখবাদী মতবাদ।
- জেএস মিল উপযোগাবাদ মতবাদে সুখের পরিমাণগত পার্থক্যের পাশাপাশি এর গুণগত পার্থক্যের উপর গুরত্বারোপ করেন।

(তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
২,২৮৯.
সুশাসনের প্রধান অন্তরায়- 
  1. সুশৃঙ্খল প্রশাসন
  2. দুর্নীতি 
  3. ন্যায়বিচার
  4. সচেতনতার অভাব
ব্যাখ্যা

দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়।
- যেমন প্রকল্পে দূর্নীতি, সরকারি রাজস্ব আদায়ে দুর্নীতি, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি, ভূমি জরিপে দুর্নীতি প্রভৃতি। 

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রেই বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- মানুষের বাকস্বাধীনতা ও জনগণের সচেতনতার জন্য গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠাকল্পে অবশ্যই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়। 

২,২৯০.
শাসন ব্যবস্থায় ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগকে কি বলা হয়?
  1. ক) ই-সার্ভিস
  2. খ) ই-লার্নিং
  3. গ) ই-কমার্স
  4. ঘ) ই-গভর্নেন্স
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E-governance) এর পূর্ণরূপ হলো- ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স (Electronic Governance)। এটা এমন একটি পদ্ধতি বা ব্যবস্থা যা সরকারের কর্মকান্ড ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাইজড আকারে রূপান্তরিত করে এবং জনগণের সাথে সরকারের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপন করে। ডিজিটাইজড ইনফরমেশন তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শেয়ার করতে পারে।
সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণীর কম্পিউটার শিক্ষা বই (উন্মুক্ত)।
২,২৯১.
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।' সংজ্ঞাটি কার?
  1. কউফম্যান
  2. মার্টিন মিনোগ
  3. সক্রেটিস
  4. ম্যাককরনী
ব্যাখ্যা

- সুশাসন সম্পর্কে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন ম্যাককরনী।
- তাঁর মতে, ''সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়''।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,২৯২.
'Golden Mean' ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. সক্রেটিস
  4. জন লক
ব্যাখ্যা

গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব

তথ্যসূত্র - Britannica.com

২,২৯৩.
কোনটি উইলিয়াম এফ অগবার্নের বিখ্যাত গ্রন্থ?
  1. ক) A Christmas Carol
  2. খ) Social Change
  3. গ) Critique of Judgement
  4. ঘ) Nazism and War
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ নিয়ে বিখ্যাত কিছু বইয়ের নাম হলোঃ
- 'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম এফ অগবার্ন। তাঁর মতে, সংস্কৃতির ধরন দুটি। যথা- বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- 'A Christmas Carol' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস ডিকেন্স,
- 'Critique of Judgement' গ্রন্থের রচয়িতা ইমানুয়েল কান্ট।
- 'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা রিচার্ড ভেসেল।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
২,২৯৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়?
  1. বেসরকারি সংগঠন
  2. সমজাতীয় মনোভাব
  3. দলীয় সংগঠনবিহীন
  4. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
ব্যাখ্যা
নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৯৫.
কেউ অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললে তার বিরুদ্ধে মামালা করে-
  1. ক) সুশীল সমাজ
  2. খ) সরকারি কর্মকমিশন
  3. গ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) পুলিশ প্রশাসন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
২,২৯৬.
নিচের কোনটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সংক্রান্ত হটলাইন?
  1. ক) ১০৬
  2. খ) ১০৯
  3. গ) ৩৩৩
  4. ঘ) ৯৯৯
ব্যাখ্যা
- নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হটলাইন : ১০৯
- জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন : ৯৯৯
- দুদক হটলাইন : ১০৬
- সরকারি তথ্য ও সেবা হটলাইন : ৩৩৩।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
২,২৯৭.
নিম্নের কোনটি সামাজিক স্বাধীনতা?
  1. ভোটদান
  2. জীবন রক্ষা
  3. ধর্মচর্চা করা 
  4. নির্বাচিত হওয়া
ব্যাখ্যা

• সামাজিক স্বাধীনতা: 
- জীবন রক্ষা, সম্পত্তি ভোগ ও বৈধ পেশা গ্রহণ করা সামাজিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।
- এ ধরনের স্বাধীনতা ভোগের মাধ্যমে নাগরিক জীবন বিকশিত হয়।
- সমাজে বসবাসকারী মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যই সামাজিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।
- এই স্বাধীনতা এমনভাবে ভোগ করতে হয় যেন অন্যের অনুরূপ স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়।

• ব্যক্তি স্বাধীনতা:
- ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে এমন স্বাধীনতাকে বোঝার, যে স্বাধীনতা ভোগ করলে অন্যের কোনো ক্ষতি হয় না।
- যেমন- ধর্মচর্চা করা ও পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা। এ ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব বিষয়। 

 • রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া, বিদেশে অবস্থানকালীন নিরাপত্তা লাভ ইত্যাদি নাগরিকের রাজনৈতিক স্বাধীনতা।
- এসব স্বাধীনতার মাধ্যমে ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ করাকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়।
- মূলত আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য নাগরিকরা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে।
- এই স্বাধীনতা না থাকলে অন্যান্য স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না।
- সমাজের অন্য শ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত থাকার জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রয়োজন।

জাতীয় স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত।
- বাংলাদেশের এই অবস্থানকে জাতীয় স্বাধীনতা বা রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা বলে।
- এই স্বাধীনতার ফলে একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্বমুক্ত থাকে। প্রত্যেক স্বাধীন রাষ্ট্র জাতীয় স্বাধীনতা ভোগ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,২৯৮.
মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. বিভিন্নতা
  3. নৈতিক প্রাধান্য
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
♦ মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ, উদ্দেশ্য ও সংকল্প, মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকেই আমরা সাধারনত মূল্যবোধ বলে থাকি।

♦ মূল্যবোধের  বৈশিষ্ট্য হলো- 

- সমাজিক মাপকাঠি;
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন;
- নৈতিক প্রাধান্য;
- বিভিন্নতা;
- পরিবর্তনশীলতা;
- আপেক্ষিকতা;

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,২৯৯.
সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব কার?
  1. বিদেশীদের
  2. সামরিক বাহিনীর
  3. আমলাদের
  4. নাগরিকের
ব্যাখ্যা

→ সুনীতি গ্রহণে সরকারকে বাধ্য করার দায়িত্ব নাগরিকের।

সুশাসন:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের প্রধান করণীয় হচ্ছে ব্যক্তিগত অথবা সংগঠিতভাবে সরকারকে জনকল্যাণে সুনীতি গ্রহণে বাধ্য করা।
- এক্ষেত্রে তারা আলোকিত মতামত দিয়ে সরকারকে সাহায্য করতে পারে বা সরকারের অন্যায় বা ভুল নীতির সমালোচনা বা প্রতিবাদের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩০০.
বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের চতুর্থ স্তম্ভ কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।