বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ২২ / ৩৯ · ২,১০১২,২০০ / ৩,৮২৯

২,১০১.
মানব জীবনে নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি কোথায় গড়ে ওঠে?
  1. মক্তব
  2. পরিবার
  3. সমাজ
  4. সরকার
ব্যাখ্যা

– মানব জীবনে নৈতিক শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি 'পরিবারে' গড়ে ওঠে।

• নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।
- শিশু তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- সুতরাং ব্যাক্তি তার পরিবারেই সর্বপ্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,১০২.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি খুঁজে পাবে তার -
  1. সামাজিক মর্যাদা
  2. ক্ষমতা
  3. পারিবারিক মূল্যবোধ
  4. গ্রহনযোগ্যতা
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন: 
- ব্যক্তির স্বাধীনতা, সাম্য ও অধিকার রক্ষার জন্য আইনের শাসন অপরিহার্য।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তি তার সামাজিক মর্যাদা খুঁজে পাবে এবং অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হবে।
- আইনের শাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
- এ.ভি. ডাইসি (A.V. Dicey) এর মতে, আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য একই আইন, কাউকে বিনা - অপরাধে গ্রেফতার না করা এবং বিনাবিচারে আটক না রাখা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১০৩.
জাতিসংঘ ঘোষিত সর্বজনীন মানবাধিকারের ধারা কতটি?
  1. ৩০টি
  2. ৩২টি
  3. ৪৮টি
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ  মানবাধিকার:
- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মৌলিক মানবিক অধিকার সমূহ গৃহীত ও ঘোষিত হয়।
- তারপর থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ প্রতিবছর এই দিনটিকে মানবাধিকার দিবস হিসেবে উদযাপন করে থাকে।
- জাতিসংঘের মানবাধিকার ধারা ৩০ টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের সাথে একটি সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের (এইচআরসি) চালু হয়েছে।
- মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের এই দপ্তর চালু হলে এখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তা সহায়ক হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও বিবিসি বাংলা।

২,১০৪.
নিচের কোনটি ব্যক্তির নৈতিক কর্তব্য?
  1. বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করা
  2. দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা
  3. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিক কর্তব্য (Moral Duty):
- ব্যক্তি ও সমাজের নীতিবোধ থেকে যে কর্তব্য জন্ম নেয় এবং যা নাগরিক পর স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকে তাকে নৈতিক কর্তব্য বলে।

ব্যক্তির নৈতিক কর্তব্য:
- বাবা-মা ও শিক্ষককে শ্রদ্ধা করা,
- ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়া,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা,
- দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১০৫.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ক) ১৭টি
  2. খ) ২০টি
  3. গ) ২৫টি
  4. ঘ) ৩০টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (২১৭-এ রেজ্যুলেশন) কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকল রয়েছে।
প্রথম আর্টিকেলে বলা হয়েছে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সম মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন।
- ১০ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
২,১০৬.
সুশাসন নিশ্চিত করতে European Economic Community নিচের কোনটি প্রকাশ করে?
  1. Black paper
  2. White paper
  3. Red paper
  4. Yellow paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community.

উল্লেখ্য,
- শ্বেতপত্র সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি নীতিগত নথি, যেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বা সমস্যার সমাধানে প্রস্তাবিত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
- এটি সাধারণত আইন, নীতি, অর্থনীতি ও সুশাসন বিষয়ে সুপারিশমূলক দিকনির্দেশনা দেয়।
- EEC বিভিন্ন সময়ে সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবাধিকার, এবং প্রশাসনিক সংস্কারের জন্য White Paper প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র: European Economic Community ওয়েবসাইট।
২,১০৭.
UNDP- সুশাসনের কয়টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেন?
  1. ৭টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,১০৮.
সুশাসনের __________ নীতি সংগঠনের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করে।
  1. স্বচ্ছতা
  2. সাম্য ও সমতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের নীতি:
- সুশাসনের অন্যতম মূলনীতি হলো অংশগ্রহণ (Participation)।
- সুশাসনের "অংশগ্রহণ" নীতিটি জনগণ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
- এটি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বিভিন্ন সংগঠন, যেমন – শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, এনজিও, নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
- অংশগ্রহণ নীতি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে জনগণ ও সংগঠনের মতামত নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
- অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে আরও বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে।

অন্যদিকে:
- স্বচ্ছতা তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করে, কিন্তু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকা রাখে না।
- সাম্য ও সমতা নাগরিকদের সমান সুযোগ ও অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেয়, তবে সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মূল নীতি নয়।
- জবাবদিহিতা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে সরাসরি সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
২,১০৯.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নিরপেক্ষতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. যথার্থতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা প্রণয়নে জবাবদিহিতা, নিরপেক্ষতা, যথার্থতা প্রভৃতি মূল্যবোধ থাকা অত্যাবশ্যক বা গুরুত্বপূর্ণ ।
- এগুলো সুশাসনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক।
- তবে এক্ষেত্রে সৃজনশীলতা আবশ্যিক নয়। এটি ঐচ্ছিক বিষয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,১১০.
European Economic Community সুশাসন সম্পর্কিত কোনটি প্রকাশ করে?
  1. Blue paper
  2. White paper
  3. Governance paper
  4. Black paper
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি। 
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।
২,১১১.
নৈতিকতা মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধর্মীয় 
  2. মানসিক 
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:

- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ।
- জোনাথান হেইট এর মতে,"ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।"
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন,"শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে,
"নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।" 
- আইন নৈতিকতার উৎস নয়।- আইন হচ্ছে বাহ্যিক আচার আচারন নিয়ন্ত্রন করে।  
- নৈতিকতা মানসিক ব্যাপার।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,১১২.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. দায়বদ্ধতা
  3. নির্লিপ্ততা
  4. সহানুভূতি
ব্যাখ্যা

- লর্ড ব্রাইসের মত অনুসারে, দায়বদ্ধতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

• আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১১৩.
'Logic and knowledge' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) জ্যাক রুশো
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
• বার্ট্রান্ড রাসেল:
- জম্ম - ১৮ মে, ১৮৭২ সালে।
- মৃত্যু - ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ সালে।
- নোবেল পুরস্কার পায় - ১৯৫০ সালে।
▪ Power : A New Social Analysis গ্রন্থটির রচয়িতা ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল।
▪ বইটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থের মূল বিষয় হচ্ছে মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ক্ষমতা অর্জন করা।

তার অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy
- The Conquest of Happiness
- Religion and Science
- The Principles of Mathematics
- The Analysis of Mind
- Marriage and Morals
- Philosophical Essays
- Political Ideals
- Principles of Social Reconstruction
- The Analysis of Matter
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,১১৪.
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে কোনটি?
  1. শক্তিশালী সেনাবাহিনী
  2. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
  3. ই-গভর্ন্যান্স
  4. সিভিল সোসাইটির উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই নীতির ফলে সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বিভাগ অন্য বিভাগের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সমর্থ হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,১১৫.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্তের উল্লেখ করেছেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।

⇒ জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,১১৬.
নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক কে?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  4. নিকোলাস রেসার
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় মানুষের - আচরণ।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

• উইলিয়াম লিলি- 
তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
‘‘নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।’’

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৭.
UNDP-এর মতে সুশাসন কী প্রতিষ্ঠা করে?
  1. শক্তিশালী সরকারব্যবস্থা
  2. স্থায়ী সামরিক শাসন
  3. অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ
  4. কেন্দ্রীভূত প্রশাসন
ব্যাখ্যা

UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।  এতে বলা হয়েছে- 'কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজের মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো: স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।

২,১১৮.
‘শাসন : বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক রির্পোট প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন , এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১১৯.
কোন ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা:
- নৈতিক অধিকার ও
- আইনগত অধিকার।
- নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। ফলে এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না।
- তবে নৈতিক অধিকার ব্যক্তির বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত হওয়ায় এই অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিবেকের নিকট দায়বদ্ধতা থেকে যায়।
অন্যদিকে,
- মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রভৃতি হলো আইনগত অধিকার। এসব অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১২০.
নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ নিচের কোনটি থেকে ঘটে?
  1. ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি থেকে
  2. শিক্ষাগত ডিগ্রি অর্জন থেকে
  3. উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে
  4. সামাজিক মর্যাদা থেকে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য,
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি। নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে, 'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
২,১২১.
কোন অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে?
  1. ক) মানবাধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) নৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। এরূপ অধিকারের মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক অধিকার, নৈতিক অধিকার ইত্যাদি। এদের মধ্যে নৈতিক অধিকার সমাজ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। এই অধিকার আইন দ্বারা স্বীকৃত নয়। এটি ব্যক্তির বিবেক এবং ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১২২.
শিক্ষাকে সাধারণত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২ ভাগে
  2. খ) ৩ ভাগে
  3. গ) ৪ ভাগে
  4. ঘ) ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
শিক্ষাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা,
২. অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং
৩. উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।
২,১২৩.
মূল্যবোধের ক্ষেত্রে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. আইন
  2. সুশাসন
  3. জনকল্যাণ
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ ও নৈতিকতা:
মূল্যবোধ (Values) গঠিত হয় মানুষের নৈতিকতা (Morality) ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে। নৈতিকতা মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তি যা সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নৈতিকতার গুরুত্ব:
- নৈতিকতা মানুষের মধ্যে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করার বোধ তৈরি করে।
- সৎ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ আচরণ নিশ্চিত করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলি গড়ে তোলে।
- নৈতিকতা দুর্নীতি, প্রতারণা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অর্থাৎ, মূল্যবোধের মূল ভিত্তি নৈতিকতা, কারণ এটি মানুষের আচরণ ও নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
২,১২৪.
‘সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।’-কার অভিমত?
  1. UNDP
  2. UN
  3. IMF
  4. ADB
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

⇒ UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো -
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
২,১২৫.
নিচের কোনটি সামাজিক সাম্য? 
  1. নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  2. বাক-স্বাধীনতা
  3. ভোটাধিকার
  4. সংগঠন করার স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

 সামাজিক সাম্য: 
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

অন্যদিকে,
রাজনৈতিক সাম্য: 
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৬.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার কোনটি?
  1. সম্পত্তি ভোগ
  2. সরকারি চাকুরি
  3. বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  4. দায়মুক্তি
ব্যাখ্যা

সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার। সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১২৭.
UNDP-এর মতে সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনের শাসন
  4. সমতা
ব্যাখ্যা

⇒ UNDP-এর মতে সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত নয়।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, 'একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা
প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন'|

⇒ UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। যথা :
• স্বচ্ছতা,
• আইনের শাসন,
• সকলের অংশগ্রহণ,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
• সমতা,
• ন্যায্যতা,
• জবাবদিহিতা
• কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

২,১২৮.
নৈতিক বিকাশের তিনটি স্তর হলো -
  1. প্রথা-বিবেক-আত্মচেতনা
  2. প্রথা-প্রবৃত্তি-সংযম
  3. প্রবৃত্তি-প্রথা-বিবেক
  4. সংযম-আত্মসচেতনতা-বিবেক
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার বিকাশে তিনটি স্তর নির্দেশ করা হয়।
- স্তরগুলো হলো: (১) প্রবৃত্তি বা প্রবণতার স্তর (২) প্রথার স্তর ও (৩) বিবেকের স্তর।
- আইনী নৈতিকতার প্রাচীনতম রূপ হল - হিব্রু।
- লক্ষ্যের দিক থেকে নৈতিক আলোচনা দু‘প্রকার: পরিণতিমূলক ও পরিণতিমুক্ত।

তথ্যসূত্র: দর্শন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১২৯.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের আবশ্যিক কাজ?
  1. শিক্ষার ব্যবস্থা করা
  2. কর আদায় করা
  3. স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা
  4. যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো তার অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- আইন প্রণয়ন করা
- দেশ রক্ষা করা
- নিরাপত্তা বিধান করা
- করা আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, শিক্ষার ব্যবস্থা, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
২,১৩০.
একটি দেশের মানব উন্নয়ন সূচক কীসের উপর নির্ভর করে?
  1. মাথপিছু আয়
  2. গড় আয়ু
  3. শিক্ষার মান
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব উন্নয়ন সূচক:
- মানব উন্নয়ন সূচক (Human development index) হলো এমন একটি সূচক, যার দ্বারা কোনো একটি দেশের নাগরিক কতটা ভালো জীবনযাপন করে এবং সেই দেশ কতটা উন্নত তা বোঝা যায়।
- কোনো একটি দেশ মানব উন্নয়ন সূচকে কতটা ভালো স্কোর করবে তা নির্ভর করে কয়েকটি নির্দেশকের উপর।
- এগুলো হলো:
i) মানুষের গড় আয়ু,
ii) মানুষের শিক্ষার মান,
iii) দেশের মানুষের মাথপিছু আয়।

⇒ যে দেশের মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষার হার ও মাথাপিছু আয় বেশি হয়, সেই দেশের মানব উন্নয়ন সূচক স্কোর বেশি হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) human Development Report 2021-2022 প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান: ১২৯তম।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।
২,১৩১.
'মানুষ সবকিছুর পরিমাপক'- উক্তিটি কোন মতবাদের ধারণাকে প্রকাশ করে?
  1. অভিজ্ঞতাবাদ
  2. অস্তিত্ববাদ
  3. স্বজ্ঞাবাদ
  4. ভাববাদ
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

অন্যদিকে,
- স্বজ্ঞাবাদ: স্বজ্ঞাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কীয় এমন একটি মতবাদ, যা স্বজ্ঞাকে জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে। স্বজ্ঞাবাদ অনুসারে অভিজ্ঞতা বা বুদ্ধি জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে না। একমাত্র সজ্ঞাই জগত ও জীবন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দিতে পারে।

- ভাববাদ: ভাববাদ এমন একটি দার্শনিক মতবাদ, যা ভাব বা ধারণা বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে। ভাববাদকে অধ্যাত্মবাদও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ মতবাদ অনুসারে মন বা আত্মাই প্রাথমিক ও মৌলিক সত্তা। জড়বাদ যেমন জড় থেকে সব বস্তুর উৎপত্তির কথা বলে, তেমনি ভাববাদ যাবতীয় বস্তুর সৃষ্টির মূলে মন, ধারণা, চিন্তা বা আত্মার কথা বলে। জড়, গতি, শক্তি ইত্যাদি বস্তুতান্ত্রিক কথার পরিবর্তে ভাববাদ আত্মা, চেতনা, চিন্তা, বুদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে। 

- অস্তিত্ববাদ: অস্তিত্ববাদ স্বাধীনতার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে। কোন অর্থে মানুষ স্বাধীন, কতটুকু স্বাধীন ইত্যাদির ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করাই অস্তিত্ববাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অস্তিত্ববাদের মতে, মানুষ স্বাধীনতার মধ্য দিয়েই মূল্যের মাপকাঠি তৈরি করে এবং নিজেই নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে। 

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
২,১৩২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেলে প্রশাসনে কী নিশ্চিত হয়?
  1. রাজনৈতিক আনুগত্য
  2. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
  3. দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা
  4. আদেশ পালনের প্রবণতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৩৩.
কার মতে আদর্শ রাজা হলেন একজন দার্শনিক রাজা?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) প্লেটো
  3. গ) সক্রেটিস
  4. ঘ) কনফুসিয়াস
ব্যাখ্যা
গ্রিক দার্শনিক প্লেটো প্রচিীন গ্রিসে সুশাসন বা উত্তম শাসনের জন্যে আদর্শ শাসকের উপর জোর দিয়েছেন। তার মতে আদর্শ রাজা হবেন একজন দার্শনিক রাজা যার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও পরিবার থাকবে না।
কারণ এগুলো থাকলে একজন শাসক জনগনের সাথে তার ওয়াদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন না।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,১৩৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা
  2. ব্যক্তি স্বার্থ সংরক্ষণ
  3. আমলাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
  4. ভূমিকা রাখতে পারে না
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা: 
১. সরকারি নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করা: অনেক সময় সরকারি নীতি পরিবর্তনে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে সরকারের ভূলনীতি, গণবিরোধী পদক্ষেপ পরিবর্তনেও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সক্ষম হয়। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

২. আইনসভার ওপর প্রভাব বিস্তার: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আইনসভার সদস্যগণকে প্রভাবিত করে অন্যায় বা গণবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ এবং জনকল্যাণ সাধিত হয়।

এছাড়া,
৩. ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ,
৪. আমলাদের ওপর চাপ প্রয়োগ
৫. জনমত গঠন, 
৬. জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ
প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ভূমিকা রাখে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১৩৫.
Animal Liberation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হেগেল
  2. বেস্থাম
  3. কাস্ট
  4. পিটার সিঙ্গার
ব্যাখ্যা
পিটার সিঙ্গার:
- পিটার সিঙ্গার একজন অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক দার্শনিক যিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির বায়োএথিক্সের ইমেরিটাস ইরা ডব্লিউ. ডিক্যাম্প অধ্যাপক।
- পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার বৈশিষ্ট্য হলো তথ্যগত উপাদানের ব্যবহার। 
- তথ্য যেখানে থেমে যায়, দর্শন সেখান থেকে শুরু হয়। 
- এজন্য তিনি বলেন "দার্শনিকরা তাদের স্বীয় কাজে ফিরে এসেছে"। 

উল্লেখ্য,
- Animal Liberation গ্রন্থটির রচয়িতা পিটার সিঙ্গার। 
- উপযোগবাদকে গ্রহণ না করেও এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দার্শনিক গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। 
- গোটা গ্রন্থের দুই-তৃতীয়াংশ অ-মানব প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এ সম্পর্কে ব্যবহারিক কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
 
উৎস: i) Britannica.
        ii) পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।
২,১৩৬.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে" উক্তিটি কার?
  1. এমিল ডুর্খেইম
  2. স্টুয়ার্ট সি ডড
  3. এম আর উইলিয়ামস
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ: 

• এস সি ডডের ভাষায়:  সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।

অন্যদিকে,
• এম আর উইলিয়ামস:- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৩৭.
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় কোনটি?
  1. অবাধ তথ্য প্রবাহ
  2. স্বচ্ছতা
  3. জবাবদিহিতা
  4. ভবিষ্যৎবাণী
ব্যাখ্যা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয় - অবাধ তথ্য প্রবাহ।
• সুশাসন:
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- অবাধ তথ্য প্রবাহ হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।

তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট।
২,১৩৮.
যে দার্শনিক নৈতিকতাকে সদিচ্ছার সাথে যুক্ত করেছেন-
  1. কার্ল মার্ক্স
  2. দেকার্ত
  3. জে. এস. মিল
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
২,১৩৯.
'সেই ব্যক্তিই নাগরিক যে নগর-রাষ্ট্রের আইন, শাসন ও বিচার বিষয়ক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষমতা রাখে'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. এরিস্টটল
  2. কেলসন
  3. গেটেল
  4. লাস্কি
ব্যাখ্যা
নাগরিকতা:
- সাধারণভাবে নগরের অধিবাসীকে নাগরিক বলে।   
- নাগরিকতা বলতে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে, রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক।

⇒ আধুনিক নাগরিকতার ধারণায় নাগরিকের সংজ্ঞা থেকে নাগরিকতার চারটি বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
(ক) রাষ্ট্রের সদস্য হতে হয়,
(খ) রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করতে হয়,
(গ) রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করতে হয়,
(ঘ) সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে হয়।

⇒ নাগরিকতা দুই ভাবে অর্জন করা যায়- জন্মসূত্রে ও অনুমোদন সূত্রে।
- জন্মসূত্রে নাগরিকতা আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়- জন্মনীতি ও জন্মস্থান নীতি।
- অনুমোদন সূত্রে নাগরিকতা অর্জন করতে হলে কতগুলো শর্ত পালনের মধ্যদিয়ে নাগরিকতা অর্জন করতে হয়।

• অধ্যাপক লাস্কির ভাষায়, "সর্বজনীন সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণের জন্য ব্যক্তির বিচার-বুদ্ধি যথাযথ প্রয়োগই হলো নাগরিকতা।"
• কেলসনের ভাষায়, "রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তির পদমর্যাদাই নাগরিকতা।"
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গেটেল (Gattell) বলেন যে, "নাগরিক হচ্ছে সেই ব্যক্তিবর্গ যারা কতিপয় দায়িত্ব ও কর্তব্যের বন্ধনে আবদ্ধ এবং আনুগত্যের মাধ্যমে তার সুযোগ-সুবিধায় সমভাবে অংশীদার।”
• যুক্তরাষ্ট্রে মিন্নিসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'জন অধ্যাপক কোগান (Kogan) ও কুবোও (Kubow) তাঁদের এক আন্তঃজাতীয় এবং আন্তঃকৃষ্টিক গবেষণা কর্মে নাগরিক ও নাগরিকতার সাধারণ সংজ্ঞা ও কার্যকর সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁদের সাধারণ সংজ্ঞানুসারে "নাগরিক হচ্ছে সমাজের একজন প্রয়োজনীয় সদস্য"। আর পক্ষান্তরে "নাগরিকতা হচ্ছে নাগরিক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কতিপয় বৈশিষ্ট্যের সমষ্টি।"
• নাগরিকতা সম্পর্কে এরিস্টটলের মতে, সেই ব্যক্তিই নাগরিক যে বিচার সংক্রান্ত কাজে এবং শাসন সংস্থার সদস্য হিসেবে আইন সংক্রান্ত কাজে এবং রাষ্ট্রীয় সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ করে।'। 

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪০.
কী অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. সহমর্মিতা
  2. শৃঙ্খলা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা

- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• মূল্যবোধের উপাদান:

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান। নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-

• ক. নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। কোন কাজ করতে গেলে নিজের বিবেক, নীতি ও যুক্তি প্রয়োগ করে তা করা উচিত। যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল। কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

• খ. শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

• গ. সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

• ঘ. সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪১.
'সমাজের সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ সুখই ভালো-মন্দ নির্ধারণের মানদণ্ড' - এটি কোন তত্ত্বের মূল বক্তব্য?
  1. ক) গোল্ডেন মিন
  2. খ) শূন্যবাদ
  3. গ) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ
  4. ঘ) উপযোগবাদ
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ
- জেরেমি বেন্থামের লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'.
- এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন।
- জেরেমি বেন্থাম প্রবর্তিত Utilitarianism বা উপযোগবাদের মূলকথা হলো সর্বাধিক সংখ্যক লোকের জন্যে সর্বাধিক সংখ্যক সুখই মানুষের নৈতিক আদর্শ।
- এটি একটি সুখবাদী মতবাদ।
- জেএস মিল উপযোগাবাদ মতবাদে সুখের পরিমাণগত পার্থক্যের পাশাপাশি এর গুণগত পার্থক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে,
- এরিস্টটল সর্বপ্রথম সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন।
- দুইটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে সুবৰ্ণ মধ্যক ব্যবহার করা হয়।
- শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না। শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
- মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
২,১৪২.
'সংগঠন করার স্বাধীনতা' হলো -
  1. আইনগত সাম্য
  2. অর্থনৈতিক সাম্য
  3. রাজনৈতিক সাম্য
  4. সামাজিক সাম্য
ব্যাখ্যা
সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা :
(ক) সামাজিক সাম্য
(খ) রাজনৈতিক সাম্য
(গ) অর্থনৈতিক সাম্য
(ঘ) আইনগত সাম্য

সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সাধারণভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে প্রত্যেকের সমান সুযোগ থাকা বোঝায়।
- পছন্দমত পেশা নির্বাচন, পেশা পরিবর্তন, যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণের মত বিষয়গুলি অর্থনৈতিক সাম্যের নির্দেশক।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মাত্রার উপরেই একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১৪৩.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনটি ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) সামরিক বাহিনী
  3. গ) বিরোধী দল
  4. ঘ) সচিবালয়
ব্যাখ্যা
নিম্নে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা আলোচনা করা হল :
১। গঠনমূলক সমালোচনা : গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।
২। অধিকার বাস্তবায়ন : জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
৩। গণতন্ত্র রক্ষা :  আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” ।
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন :  বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা। এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা : রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।
৬। জনমত গঠন : রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহ্নিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে। বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।
৭। প্রার্থী মনোনয়ন : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে। আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন। তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায় ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৪৪.
ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্সের লক্ষ্য হলো-
  1. ক) সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
  2. খ) সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. গ) সরকারের স্বার্থরক্ষা
  4. ঘ) জনগণের অংশগ্রহণ রোধ
ব্যাখ্যা
- ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : মো. মোজাম্মেল হক)
২,১৪৫.
'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-উক্তিটি কার?
  1. এফ ই মেরিল
  2. জন লক
  3. পল সাঁত্রে
  4. এইচ এম জনসন
ব্যাখ্যা

⇒ 'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'-উক্তিটি করেন এইচ এম জনসন।

মূল্যবোধ:
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে, 'সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড'।
- ক্লাইড ব্লুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, 'সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে'।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য। সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৪৬.
বিবেকের দংশনের সাথে নিচের কোনটির সম্পর্ক রয়েছে?
  1. সুখানুভূতি
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. আত্মগ্লানি
ব্যাখ্যা

- বিবেকের দংশনের সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক রয়েছে। 

নৈতিকতা: 

- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন 'Moralitas' থেকে, যার অর্থ 'সঠিক আচরণ বা চরিত্র'।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি হলো মানবমনের উচ্চ গুণাবলি।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।

এছাড়াও, 
- শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। আর, এম, ম্যাকাইভার এ জন্যই
বলেছেন যে 'Law does not and can not cover all grounds of morality'.
- নৈতিকতা বা ন্যায়নীতিবোধের ধারণা বা এর প্রতি যে দেশের জনগণের শ্রদ্ধাবোধ বেশি, যাঁরা জীবনের চলারপথে নীতিবোধ দ্বারা পরিচালিত হন, তাঁরা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে লিপ্ত হন না। আইন অপেক্ষা বিবেক দ্বারা তাঁরা পরিচালিত হন।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না। কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না। নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না। বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।

উল্লেখ্য, 
নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার। নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য। যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ। 'কেননা সেদেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৪৭.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি?
  1. আইন
  2. সামাজিক প্রথা
  3. নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ
  4. ধর্মীয় গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• নৈতিক মূল্যবোধ (Moral Values):
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
→ নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
→ সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ প্রদান করা, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বিপদ থেকে উদ্ধারে তাকে সাহায্য করা, অসহায় ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে ঋণমুক্ত হতে সাহায্য করাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলা যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৪৮.
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের কোন বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন?
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. প্রতিক্রিয়াশীলতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
⇒ জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
১. অংশগ্রহণ,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনের শাসন,
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা,
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক,
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা,
৮. জবাবদিহিতা।

তথ্যসূত্র - UNESCAP ওয়েবসাইট।

২,১৪৯.
বিকেন্দ্রীকরণের ফলে-
  1. ক) প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়
  2. খ) আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা হ্রাস পায়
  3. গ) প্রশাসনে গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়
  4. ঘ) সরকারি কাজে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
প্রশাসন ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ হলো ক্ষমতা কেন্দ্রে বা এক জায়গায় কুক্ষিগত না করে স্থানীয় পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে প্রশাসন ব্যবস্থায় গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
২,১৫০.
"কোন ব্যক্তিকে অনুপার্জিত আয় ভোগ থেকে অসমর্থকরণ" - সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ১৯
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ১১
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ২০
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ -১০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ২০ :
- কোন ব্যক্তিকে অনুপার্জিত আয় ভোগ থেকে অসমর্থকরণ;
- প্রত্যেকের যোগ্যতা বিবেচনা করে কর্মানুযায়ী পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ - ১৯ :
- সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ;
- নাগরিকের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন ও সুষম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ;
- জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ - ১১ :
- মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ;
- মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিতকরণ;
 
অনুচ্ছেদ -১০ :
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিতকরণ;

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান। 
২,১৫১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাবের মাত্রা অধিক থাকে-
  1. ক) সামরিক বাহিনীতে
  2. খ) আইন বিভাগে
  3. গ) বিচার বিভাগে
  4. ঘ) শাসন বিভাগে
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এক প্রকার সুসংবদ্ধ স্বার্থকামী গোষ্ঠী। এদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
সরকারের সকল বিভাগের উপর চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। তবে শাসন বিভাগে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।
নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে এরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকেও প্রভাবিত করে থাকে।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২,১৫২.
'গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ' ব্যক্তির কোন ধরণের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা

সাম্য:
- সাম্য এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Liberty. এর অর্থ সমান।
- সমান বলতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা লাভ করাকে বুঝায়। কোন বিশেষ জনগোষ্ঠীকে পৃথকভাবে সুযোগ-সুবিধা না দেয়া।
-  অর্থাৎ সাম্য বলতে এমন একটি অবস্থা বা পরিবেশ বুঝায় যেন সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে যথার্থভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে হয়।
- অধ্যাপক লাস্কি বলেন, সকলের সম্মুখে যথার্থ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখার অর্থ হল সাম্য।

• সামাজিক সাম্য
- সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক সাম্য 
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

• আইনগত সাম্য 
- কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত। যেমন- চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাম্যের বিষয়টি বাংলাদেশ সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত। 

• ব্যক্তিগত সাম্য
 - মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সামা, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে নিজের করা বয়নের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। অর্থাৎ সাম্য বিভিন্ন ধরনের দর্শ নাগরিক হিসেবে জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের সাম্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। ব্যক্তি পর্যায়ে যেন একজন অন্যজনের নষ্ট না করে তা খেয়াল রাখা নাগরিকের কর্তব্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৩.
বিশ্বব্যাংক 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে -
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। 
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,১৫৪.
আইন মানুষের কী নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অন্তর্গত চিন্তা
  2. নৈতিক বিশ্বাস
  3. বাহ্যিক আচরণ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৫৫.
‘‘ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।’’ - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
  2. খ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. গ) বিশ্বব্যাংক
  4. ঘ) ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল “Corruption”। এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ “Corruptus” থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন। দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
- ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ মনে করে ‘‘সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি। জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
- বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, ‘‘ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।’’
যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।
এক কথায় স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২,১৫৬.
কোনটি সর্বজনীন?
  1. আইন
  2. প্রথা
  3. মূল্যবোধ
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

⇒ আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

⇒ সার্বজনীনতা:
- আইন সার্বজনীন।
- সকল মানুষই আইনের দৃষ্টিতে সমান।
- জাতি-ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা নির্বিশেষে সকল মানুষের উপর আইন সমভাবে প্রযোজ্য।

অন্যদিকে,
- প্রথা, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি সার্বজনীন নয়। এটি সমাজ ও অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৫৭.
SDG-এর কোন লক্ষ্যটিতে ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ০৯
  2. ১১
  3. ১৪
  4. ১৬
ব্যাখ্যা

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG):
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আদলে ২০১৫ সালের ২৫-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সম্মেলনে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টস গোল (এসডিজি) গ্রহণ করে।
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (SDG) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭টি এবং টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৯টি।
- বাস্তবায়নের জন্যে লক্ষ্যস্থির করা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে।
- মেয়াদকাল: ২০১৬-২০৩০ সাল।
- বাস্তবায়ন শুরু: ১ জানুয়ারি, ২০১৬ সাল।
- মেয়াদ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর, ২০৩০ সাল।

⇒ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ হলো:
১) দারিদ্র্য নির্মূল।
২) ক্ষুধামুক্তি।
৩) সুস্বাস্থ্য।
৪) মানসম্মত শিক্ষা।
৫) লিঙ্গ সমতা।
৬) বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন।
৭) সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
৮) উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
৯) শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো।
১০) বৈষম্য হ্রাস।
১১) টেকসই শহর ও জনগণ।
১২) পরিমিত ভোগ ও উৎপান।
১৩) জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ।
১৪) সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান।
১৫) স্থলভাগের জীবন।
১৬) শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।
১৭) অভিষ্টের জন্যে অংশীদারিত্ব।

তথ্যসূত্র - SDG অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

২,১৫৮.
অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক শর্ত কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
​- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

​- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
​- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৫৯.
‘আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা’- উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. আইনবিদ স্যামন্ড
ব্যাখ্যা

• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। 
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। 
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন:

• এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।”
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
• আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২,১৬০.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের জন্য কোন শর্তটি নির্ধারণ করেনি?
  1. বাক স্বাধীনতা
  2. আইনী কাঠামো
  3. স্বচ্ছতা
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন: 
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক প্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- রাজনৈতিক স্বাধীনতা;
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা;
- আইনের শাসন;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- অংশগ্রহণ;
- বাক স্বাধীনতা;

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের জন্য চারটি শর্ত নির্ধারণ করে:
- দায়িত্বশীলতা;
- স্বচ্ছতা;
- আইনী কাঠামো;
- অংশগ্রহণ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
২,১৬১.
নিচের কোনটি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদানের নয়?
  1. কৌশলগত অংশীদারিত্ব
  2. জবাবদিহিতা
  3. অংশগ্রহণ
  4. ভবিষ্যৎবাণী
ব্যাখ্যা
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।

এডিবির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।

(তথ্যসূত্র: ADB ওয়েবসাইট)
২,১৬২.
সুশাসনের কোন উপাদানটি প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জনে সহায়তা করে?
  1. দক্ষতা
  2. দায়বদ্ধতা
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন।
- অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,১৬৩.
‘সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেইসব রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।’—উক্তিটি কার?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. এফ আই গ্লাউড
  4. স্টুয়ার্ট সি ডড
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

​• স্টুয়ার্ড সি. ডড বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেইসব রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছ থেকে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।

​• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৬৪.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. ধনী-গরিব ব্যবধান বৃদ্ধি পায়
  2. দুর্নীতি দূর হয়
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- ১৯৯০-এর দশক থেকেই শাসন প্রত্যয়টি বিশ্বব্যাপী নতুন করে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
- বৃহত্তর অর্থে নাগরিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্য ভালোভাবে শাসন পরিচালনার নামই সুশাসন।
- জনগণকে দেয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তবায়নকেই সুশাসনের আওতায় ভাবা যায়।

⇒ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
২,১৬৫.
"গণতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে”- কার উক্তি?
  1. লর্ড ব্রাইস
  2. সি. এফ. স্ট্রং
  3. প্রফেসর সিলী
  4. কার্ল জি ফ্রেডরিখ 
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬৬.
নিচের কোনটি শিক্ষার শ্রেণি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা
  3. গ) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. ঘ) উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
শিক্ষাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।
২,১৬৭.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

২,১৬৮.
ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. সামাজিক রীতি
  2. ধর্মীয় বিধান
  3. আইন
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

• আইনের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি:
১. সার্বভৌম ক্ষমতা কর্তৃক অনুমোদিত,
২. সর্বজনীন,
৩. বিধিবদ্ধ নিয়মাবলি,
৪. বাহ্যিক আচরণের নিয়ন্ত্রক,
৫. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষক,
৬. সুস্পষ্টতা,
৭. আইন গতিশীল,
৮. দেশকাল ভেদে পরিবর্তনশীল।

উল্লেখ্য,
- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৬৯.
দণ্ডবিধির কত নং ধারাতে ইভটিজিং নিয়ে বলা হয়েছে?
  1. ক) ২০৯
  2. খ) ৩০৯
  3. গ) ৪০৯
  4. ঘ) ৫০৯
ব্যাখ্যা
- ইভ মানে রমণী বা নারী এবং টিজিং মানে উত্ত্যক্ত করা বা বিরক্ত করা। 
- ইভটিজিং মানে হচ্ছে পুরুষ সমাজ কর্তৃক নারীর উত্ত্যক্ত বা বিরক্তির শিকার।
- দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায় এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান আছে।

- এ ধারায় বলা আছে, যদি কেউ কোনো নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে কথা, অঙ্গভঙ্গি বা কোনো কাজ করে, তাহলে দায়ী ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সাজা বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
২,১৭০.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন -
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. রুশো
  3. মন্টেস্কু
  4. লেনিন
ব্যাখ্যা
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগের (শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু কে।
- তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
২,১৭১.
মধ্যযুগে নীতিবিদ্যা কি দ্বারা প্রভাবিত ছিল?
  1. ক) সোফিস্ট
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) সংশয়বাদী
  4. ঘ) স্বজ্ঞাবাদী
ব্যাখ্যা
অন্যান্য বিষয়ের মতো মধ্যযুগের নীতিবিদ্যাও ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত ছিলো। ভালো-মন্দ কিংবা ন্যায়-অন্যায় নির্ধারণে তখন ধর্মীয় বিধি-বিধান এবং ধর্মগুরুদের বক্তব্যই মুখ্য ভূমিকা পালন করতো। সেন্ট অগাস্টিন, ইবনে খালদুন, থমাস একুইনাস প্রমুখ দার্শনিক মধ্যযুগের ধর্মপ্রভাবিত নীতিবিদ্যার প্রতিনিধিত্ব করেন।(সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহাম্মদ আবদুল বারী)
২,১৭২.
বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দণ্ডনীয় ঘোষণা করা হয়েছে যে বিধানে -
  1. ১৮৬০ সালে প্রণীত দণ্ডবিধিতে
  2. ২০০৪ সালে প্রণীত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে
  3. ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে
  4. উপরের সবগুলােতে
ব্যাখ্যা
⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ আইনটি বাংলাদেশে ফৌজদারী অপরাধ সংক্রান্তীয় দণ্ড দান করার জন্য প্রধান আইন।

⇒ ২০০৪ সালে দুর্নীতিমূলক কার্য প্রতিরােধের লক্ষ্যে এবং অন্যান্য সুনির্দিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও পরিচালনার জন্য স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠাকরণ এবং এর আইন মােতাবেক দুর্নীতিকে সর্বস্তরে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

⇒ ২০১৮ সালে প্রণীত সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালাতে অসদাচরণ, দুর্নীতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ‘গুরুদণ্ড’ ও ‘লঘুদণ্ড’ নামক দুই ধরনের দণ্ড আরােপের বিধান রয়েছে।

তাই আমরা বলতে পারি,
- উক্ত তিনটি বিধিমালাই দুর্নীতিকে সর্বস্তরে প্রতিরােধকল্পে গঠিত।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
২,১৭৩.
কোন সংস্থাটি 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ক) আইএমএফ
  2. খ) জাতিসংঘ
  3. গ) ইউএনডিপি
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- এখানে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন। কেননা মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।
২,১৭৪.
সুশাসন বলতে শাসনের কোন দিককে বুঝানো হয়?
  1. বিপরীত দিক
  2. পরিমানগত দিক
  3. গুণগত দিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- সুশাসন দ্বারা শাসনের গুণগত দিক বুঝায়।

• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৭৫.
রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা হলো -
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. জনসমষ্টি
  3. সরকার
  4. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী এবং বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।
- রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ চালু আছে, তার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বল প্রয়োগ মতবাদ, পিতৃতান্ত্রিক মতবাদ, সামাজিক চুক্তি মতবাদ, ঐতিহাসিক মতবাদ প্রভৃতি প্রধান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

⇒ সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান উপাদান হল সার্বভৌমত্ব।
- রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতাই হলো সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্বের কারণেই একটি জনসমাজ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- সার্বভৌম ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র এর অধীনস্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আদেশ নির্দেশ প্রদান করতে পারে।
- সার্বভৌম ক্ষমতার দুটি দিক আছে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক।
- অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের বলে রাষ্ট্র সমস্ত জনগোষ্ঠী ও সংঘের আনুগত্য লাভ করে।
- বাহ্যিক সার্ভভৌমত্বের বলে রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ঘোষণা ও নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত।
- সার্বভৌম ক্ষমতার অভাবে রাষ্ট্র জনপদ, উপনিবেশ বা অধীন রাষ্ট্র বলে গণ্য হবে।
- ১৯৪৭ সালের পুর্বে ভারতবর্ষের অবস্থা এরকমই ছিল।
- ১৯৭১ সালে সার্বভৌম ক্ষমতা অর্জন করে বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্র, পৌরনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২,১৭৬.
ইভটিজিং এর জন্য প্রধানত দায়ী-
  1. ক) অশিক্ষা
  2. খ) ধর্মীয় শিক্ষার অভাব
  3. গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. ঘ) আইনি সীমাবদ্ধতা
ব্যাখ্যা
ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি। পুরুষ কর্তৃক নারীদের উত্ত্যক্ত বা বিরক্ত করাই হলো ইভটিজিং।
ইভটিজিং এর জন্যে মূল্যবোধের অবক্ষয়-ই প্রধানত দায়ী।
এছাড়া সুশাসনের অভাব, অশিক্ষা, অপসংস্কৃতি প্রভৃতিও এর জন্যে দায়ী।
২,১৭৭.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশের সুশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ -
  1. স্থানীয় সরকার
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ দুর্নীতি:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।

২,১৭৮.
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ কোন ধরনের সাম্য রক্ষা করে?
  1. স্বাভাবিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. ব্যক্তিগত
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ আইনগত সাম্য রক্ষা করে।

• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৭৯.
কোন স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  2. সামাজিক স্বাধীনতা
  3. জাতীয় স্বাধীনতা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১৮০.
‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' নিচের কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. আইনগত সাম্য
  2. ধর্মীয় সাম্য
  3. অর্থনৈতিক সাম্য
  4. রাজনৈতিক সাম্য
ব্যাখ্যা

⇒ ‘যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা।

অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয় ।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হল যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৮১.
মূল্যবোধের উপাদান নয় কোনটি?
  1. নীতিবোধ
  2. শৃঙ্খলা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. অমানবিকতা
ব্যাখ্যা
- অমানবিকতা মূল্যবোধের উপাদান নয়। 

মূল্যবোধের উপাদান: 

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- নিম্নে মূল্যবোধের কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-
ক. নীতিবোধ: নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়। 
খ. শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। 
গ. সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। 
ঘ. সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। 
চ. মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
ছ. শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,১৮২.
কোনটি নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সরকারি চাকরি লাভের অধিকার
  2. সম্পত্তির অধিকার
  3. বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার
  4. ভরণপোষণের অধিকার
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক অধিকার (Economic Rights):
→ যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিধান করে তাকেই অর্থনৈতিক অধিকার বলে। 
অর্থনৈতিক অধিকারসমূহ:
কর্মের অধিকার,
→ ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার,
→ শ্রমিক সংঘ বা ইউনিয়ন করার অধিকার।
----------------
অপরদিকে. 
- ভরণপোষণের অধিকার হচ্ছে - নৈতিক অধিকার।
- সম্পত্তির অধিকার হচ্ছে - সামাজিক অধিকার।
- সরকারি চাকরি লাভের অধিকার - রাজনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,১৮৩.
যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে কী বলে?
  1. প্রথা
  2. সংস্কৃতি
  3. নৈতিকতা
  4. মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ বিষায়ক কয়েকটি সংজ্ঞা:

- রীতিনীতি: সমাজবদ্ধ মানুষের ব্যবহার ও অনুশীলনের উপর যে অলিখিত সাধারণ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে রীতিনীতি বলে। 
- প্রথা: যে সকল সামাজিক রীতিনীতি শতশত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় পালিত হয়ে থাকে, সে সকল রীতিনীতিকে প্রথা বা Custom বলে। 
- সংস্কৃতি: একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি জাতিগোষ্ঠীর মুল্যবোধ, আদর্শ, রীতিনীতি, প্রথা, শিল্প, নৈপুন্য ইত্যাদিকে এক কথায় সংস্কৃতি বলা হয়।
- নৈতিকতা হচ্ছে ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি বিশেষগুণ। তাই নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।
- সমাজবিজ্ঞানী আর টি শেফার মতে, "ভালো বা মন্দ, ঠিক বা বেঠিক এবং কাঙ্খিত বা অনাকাঙ্খিত বিষয় সম্পর্কে সমাজের বিদ্যমান ধারণার নাম হলো মূল্যবোধ।"
- ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"
- মেরিল এর মতে, ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''
- শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন, ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,১৮৪.
আত্মসংযম ব্যক্তির কোন ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে?
  1. নৈতিক ভাবাবেগে
  2. বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলনে
  3. নৈতিক অবদানে
  4. নৈতিক প্রগতিতে
ব্যাখ্যা
আত্মসংযম:
- আত্মসংযম ব্যক্তির নৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোন ব্যক্তি যদি আত্মসংযমের মাধ্যমে ষড়রিপুকে দমন করতে না পারে, তাহলে তার নৈতিক প্রগতি ব্যাহত হয়। তাই নৈতিক প্রগতির জন্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সংযমী হতে হবে।

তথ্যসূত্র: এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৫.
চাকুরীর ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা প্রথা বহাল রাখার সাথে নিম্নের কোন নীতিটি জড়িত?
  1. ক) লিঙ্গ বৈষম্য
  2. খ) সমান বৈষম্য
  3. গ) বিপরীত বৈষম্য
  4. ঘ) সামাজিক বৈষম্য
ব্যাখ্যা
স্বার্থের সম-বিবেচনার মতবাদ:
নিশ্চয়তা না দিয়েও সমতা-নীতি বাস্তবায়নে কথা বলে। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা তার নিজস্ব ছাঁচে ফেলে বিচার-বিবেচনা করে এসব তত্ত্বের আলোকে সমানাধিকারের প্রশ্নগুলো আলোচনা করতে পারে।
পিছিয়ে পড়াদেরকে এক সারিতে আনার জন্য ‘বিপরীত বৈষম্যের' প্রবর্তন সমতা-নীতির বিরোধী নয়।
সমতার প্রশ্নে “বিপরীত-বৈষম্যের” (reverse discrimination) ধারণাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে। অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়। বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন। আর একেই বলে ‘বিপরীত-বৈষম্যের' নীতি।
 
 একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আমাদের সমাজে মেয়েরা শিক্ষা-দীক্ষায়, চাকুরীতে পুরুষদের চেয়ে পেছনে পড়ে আছে। এমতাবস্হায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদেরকে বিশেষ বৃত্তি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং চাকুরীর ক্ষেত্রে তাদের জন্য কোটা প্রথা রয়েছে। এটা সমতা-নীতির স্বার্থেই। অবশ্য অনেকে একে এ নীতির পরিপন্থী বলেও মনে করেন।
ন্যায়ের আলোচনা খুবই প্রাচীন এবং অধিকার, স্বাধীনতা, সমতা সবগুলো ধারণাই এর সঙ্গে জড়িত।
 
উৎসঃ নীতিবিদ্যা বই (SSHL); উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৬.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়?
  1. শ্রম
  2. অভিজ্ঞতা
  3. ঐতিহ্য
  4. শিক্ষা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
​- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরনের মাধ্যমে। অর্থাৎ মূল্যবোধের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে।
​- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
​- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
​- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-​ তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

​উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৮৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কোন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধটি অপরিহার্য নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. স্বচ্ছতা
  4. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য নয় - অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

⇒ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- দায়বদ্ধতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৮৮.
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের কোন স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি?
  1. অংশগ্রহণ
  2. ন্যায়বোধ
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- ন্যায়বোধ ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের স্তম্ভটি ঘোষণা করেনি।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
২,১৮৯.
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্ত রীতিনীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে" উক্তিটি কার?
  1. এম আর উইলিয়ামস
  2. স্টুয়ার্ট সি ডড
  3. ম্যাক্স ওয়েবার
  4. এমিল ডুর্খেইম
ব্যাখ্যা
• সামাজিক মূল্যবোধ: 
• এস সি ডডের ভাষায়: 
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো ঐ সমস্তরীতি নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।

উল্লেখ্য
• এম আর উইলিয়ামস:
- "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদন্ড যার আদর্শে মানুষের আচরণ ও আইন কানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল মন্দ বিচার করা হয়"।
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে মূল্যবোধ ভিন্ন হতে পারে।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: সমাজকল্যান ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,১৯০.
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে কোন মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সৃজনশীলতা
  3. নিরপেক্ষতা
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

• সৃজনশীলতা সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে মূল্যবোধটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

• সুশাসন:

- সু-শাসন হচ্ছে এক ধরণের শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ক্ষমতা সুষ্ঠুভাবে চর্চা করা হয়।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণ স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারের নীতি ও কর্মকান্ড সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নারী-পুরুষ স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।
- এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করে।

সুশাসনের প্রধান উপদান -
১. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা,
২. অংশগ্রহণ,
৩. আইনের শাসন,
8. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা,
৫. জনপ্রশাসনের উৎকর্ষতা ও বিকেন্দ্রীকরণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৯১.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি
  2. অর্থনৈতিক লাভ
  3. নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া
  4. ব্যক্তিগত ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে
রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

•রাজনৈতিক মূল্যবোধ সমূহ:
• নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
• রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
• রাজনৈতিক সহনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
• সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
• বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
• বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
• আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক মূল্যবোধ ।

উৎস :পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯২.
নিচের কোন দার্শনিক আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন?
  1. জ্যাক রুশো
  2. সক্রেটিস
  3. ওপেনহাইম
  4. টি এইচ গ্রিন
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে -
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,১৯৩.
মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে -
  1. অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে
  2. উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে
  3. সামাজিকীকরণের মাধ্যমে
  4. আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

⇒ মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই. মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য:
- আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে না।
- অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে।
- উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২,১৯৪.
সুশাসনের সাথে কোন ধরনের মূল্যবোধের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ-এর সাথে সুশাসনের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো:
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা,
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯৫.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বার্কলে
  2. জন লক
  3. ডেকার্ট
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
 'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা প্লেটো।

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
- তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: i) উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
২,১৯৬.
ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) এর ‘Rule of Law Index 2022’ অনুসারে আইনের শাসনে শীর্ষ দেশ কোনটি?
  1. ক) নরওয়ে
  2. খ) ফিনল্যান্ড
  3. গ) ডেনমার্ক
  4. ঘ) সুইডেন
ব্যাখ্যা
• ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ‘Rule of Law Index 2022’ বা আইনের শাসন সূচক-২০২২ প্রকাশ করেছে।
- সূচকে সর্বোচ্চ স্কোর ১ এবং সর্বোচ্চ স্কোরকারী দেশ আইনের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শনকারী হিসাবে বিবেচিত।
- কোনো দেশের স্কোর কমে যাওয়ার অর্থ হলো সে দেশের আইনের শাসনের অবনতি।

• শীর্ষ পাঁচটি দেশ: 
১. ডেনমার্ক (০.৯০ স্কোর)
২. নরওয়ে (০.৮৯ স্কোর)
৩. ফিনল্যান্ড (০.৮৭ স্কোর)
৪. সুইডেন (০.৮৬ স্কোর)
৫. নেদারল্যান্ডস (০.৮৩ স্কোর) 

সূত্র: ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডব্লিউজেপি) ও যুগান্তর।
২,১৯৭.
প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমায়-
  1. ক) বিকেন্দ্রীকরণ
  2. খ) মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'বিকেন্দ্রীকরণ' প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমায়।

• বিকেন্দ্রীকরণ: 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সকল বিভাগ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
- এটি প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
- প্রশাসনকে জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়।
- তাই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিটি বিভাগে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য। 
২,১৯৮.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল”— উক্তিটি কার?
  1. জাঁ জ্যাক রুশো 
  2. টি এইচ গ্রিন
  3. স্টুয়ার্ট মিল
  4. এইচ. জে. লাস্কি
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,১৯৯.
সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনে কী নির্ধারণে সাহায্য করে?
  1. সামাজিক স্তর
  2. সামাজিক দ্বন্দ্ব
  3. জীবনের লক্ষ্য ও প্রাপ্তি
  4. সামাজিক শ্রেণি
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন (Clyde Kluokhon) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সামাজিক মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,২০০.
মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI) মৌলিক নির্দেশক নয় কোনটি?
  1. গড় আয়ু
  2. মাথাপিছু জাতীয় আয়
  3. শিক্ষা
  4. জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
ব্যাখ্যা

মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI) মৌলিক নির্দেশক নয় - জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার।

মানব উন্নয়ন সূচকের (HDI):
- মানব উন্নয়ন সূচকের (Human Development Intex) মূলত তিনটি প্রধান উপাদানের উপর ভিত্তি করে গঠিত। এগুলো হলো:
• আয়: এটি মাথাপিছু আয় (GNI per capita) এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
• শিক্ষা: মানুষের শিক্ষা গ্রহণের হার, যার মধ্যে গড় বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের বছর এবং শিক্ষার প্রসারের হার অন্তর্ভুক্ত।
• আয়ু: গড় আয়ু, যা মানুষের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কোনো দেশের মানব উন্নয়ন সূচক বা HDI টি যদি ০.৫৫০ এর নিচে হয় সে দেশটিকে অনুন্নত দেশ বলা হয়।
- কোন দেশে HDI যদি ০.৫৫০ - ০.৭৯৯ হয় সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়।
- যদি ০.৮০ থেকে বেশি হয় সেসব দেশকে আমরা উন্নত দেশ বলি।

⇒ ২০২৫ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।