বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ১০১২০০ / ৩,৮২৯

১০১.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. রাজনৈতিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অনুপস্থিতি হলো সামাজিক অবক্ষয় বা মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

উল্লেখ্য:
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০২.
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে কোনটি বৃদ্ধি পায়?
  1. জঙ্গীবাদ
  2. উগ্রতা
  3. হিংস্রতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব (Lack of Communal Harmony):
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা বা সফল করা সম্ভব নয়।
- কেননা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে জঙ্গীবাদ, উগ্রতা, হিংস্রতা বৃদ্ধি পায়
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাবে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানবাধিকার ভুলুষ্ঠিত হয়।
- এর ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায় সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
১০৩.
সুশাসন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রে কী প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. আইনের শাসন 
  2. জবাবদিহিতা
  3. স্বচ্ছতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক। এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।
- সুশাসন নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ,
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- নারীর ক্ষমতায়ন,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১০৪.
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলি
  3. গ) মন্টেস্কু
  4. ঘ) জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
• মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]-এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
• জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা। আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।
• মিলের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী বক্তব্য ব্যক্ত হয়েছে তাঁর দু'টি কালজয়ী গ্রন্থের মাধ্যমে। এই দু'টি গ্রন্থ হল On Liberty এবং Representative Government।
• ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলতে রাষ্ট্রের কার্যসংক্রান্ত সেই মতবাদকে বুঝায় যা রাষ্ট্রের কার্যক্ষেত্রকে সংকুচিত করে এবং ব্যক্তিকে অধিক মাত্রায় স্বাধীনতা দান করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদীরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিকর অথচ প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান মনে করে। 

অন্যদিকে, 
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।
• ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু সর্বপ্রথম তার 'The Spirit of Laws' গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যার কারণে মন্টেস্কু কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা বলা হয়।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রিবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার অন্যতম সহায়ক উপাদান হলো-
  1. ক) মূল্যবোধ শিক্ষা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন বলা হয়।
আর জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার অন্যতম সহায়ক উপাদান হলো সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষা।
ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনাদর্শের সংঘাত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব, কলহ বিবাদ ইত্যাদি প্রশমিত করে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে মূল্যবোধ শিক্ষা।
জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নে রূপান্তরিত করে। সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পরের সম্পূরক।
১০৬.
'সুবর্ণ মধ্যক' নামক দার্শনিক ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. এরিস্টটল
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা
- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা।
যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত একটি বিষয়।

অন্যদিকে: 
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'নব নৈতিকতার' প্রবর্তক হলেন আরজ আলী মাতুব্বর।
- জেরেমি বেন্থাম হলেন উপযোগবাদের জনক।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১০৭.
নিম্নের কোন ক্ষেত্রে সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ব্যক্তিস্বার্থের উন্নয়নের জন্য
  2. জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য
  3. অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের জন্য
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণের জন্য
ব্যাখ্যা
সুশাসন:

- সুশাসন একটি আধুনিক ধারণা।
- জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠিত আইনের শাসন ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের সাথে সাথে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার হলো সুশাসন।
- আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শোষণ, স্বৈরশাসন, সামরিক শাসন প্রভৃতি হতে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে সুশাসনের বিকল্প নেই।
- সুশাসন এমন এক আদর্শ ও ব্যবস্থা যে, তার প্রভাব রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করে।
- জনগণকে ন্যায্য অধিকার প্রদান, সমাজে সাম্য, ন্যায়বিচার, জীবনঘনিষ্ঠ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুশাসন অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১০৮.
ব্যক্তির আচার-আচরণের মাধ্যমে কী প্রকাশ পায়?
  1. রাজনৈতিক মত
  2. মূল্যবোধ
  3. শারীরিক শক্তি
  4. অর্থনৈতিক অবস্থা
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে

• মূল্যবোধের উপাদান: 

- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- নিম্নে এরকম কয়েকটি উপাদান আলোচনা করা হল-
ক. নীতিবোধ:
- নৈতিকতা মূল্যবোধের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য যা নীতিবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- যৌক্তিকতা সাধারণত নীতিবোধের উপর নির্ভরশীল।
- কেননা নৈতিক কাজ যুক্তি বিরুদ্ধ হতে পারে না। তাই যে যত বেশি নীতিবান হবে তার মূল্যবোধ তত পরিশীলিত হবে।

খ. শৃঙ্খলা:
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

গ. সহমর্মিতা:
- মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।

ঘ. সৌজন্যবোধ:
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৯.
অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ কোনটি?
  1. গণতন্ত্র
  2. আইন
  3. সুশাসন
  4. জনমত
ব্যাখ্যা
অধিকারের রক্ষাকবচ:
- বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং সুসভ্য সমাজ জীবনের জন্য অধিকার অত্যাবশ্যক।
- রাষ্ট্রই নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রবর্তন ও তা সংরক্ষণ করে থাকে।
- গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণের শর্তগুলোকে “অধিকারের রক্ষাকবচ" বলে।
এগুলো হল:
-আইন(প্রধান)
- গণতন্ত্র
- সংবিধানে মৌলিক অধিকারের ঘোষণা
- আইনের অনুশাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
- জনগণের সজাগ দৃষ্টি

- আইন (Law):
→ আইন হচ্ছে অধিকারের প্রধান রক্ষাকবচ।
→ আইনের সুষ্ঠু ও যথাযথ প্রয়োগের ফলে অধিকার নিশ্চিত হয়।
→ আইন হচ্ছে অধিকার ভোগের আবশ্যকীয় শর্ত বা রক্ষাকবচ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১১০.
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি -
  1. পারিবারিক
  2. সামাজিক
  3. রাষ্ট্রিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক।

নৈতিকতা অবধারণ:

- নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

⇒ নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য। 

• নৈতিক অবধারণের প্রকার:
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
⇒ নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত অধিকার কোনটি?
  1. শিক্ষার অধিকার
  2. ভোটদানের অধিকার
  3. জীবন ধারণের অধিকার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• আইনগত অধিকার:
→ যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
যেমন:
জীবন ধারণের অধিকার,
→ ভোটদানের অধিকার,
→ শিক্ষার অধিকার।
→ এসব অধিকার ভঙ্গ করলে বা হরণ করলে রাষ্ট্র শাস্তি প্রদান করে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১২.
মূল্যবোধ সমাজের সদস্যদের সাধারণ আচরণ যার সাথে জড়িত ব্যক্তির-
  1. অভ্যন্তরীণ দিক
  2. মনস্তাত্ত্বিক দিক
  3. বাহ্যিক দিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:

- মূল্যবোধ হলো একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ নীতি বা বিশ্বাস, যা তার আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে।
- এটি মানুষের অন্তর্নিহিত দৃষ্টিভঙ্গি, নৈতিকতা, এবং মানসিকতার অংশ, যা সমাজের সদস্যদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- মূল্যবোধ হলো একজন ব্যক্তির মনের গভীরে গেঁথে থাকা বিশ্বাস বা নীতি যা তার চিন্তা, আচরণ, এবং সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
- এটি ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ দিকের সাথে সরাসরি যুক্ত, কারণ একজন ব্যক্তির মূল্যবোধই তার নৈতিক মানদণ্ড, ন্যায়-অন্যায়ের বোধ, এবং সমাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধের এই অভ্যন্তরীণ দিকটাই ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা শেখায় এবং তার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও ব্যক্তিত্বের উপর প্রভাব ফেলে।
- তাই, মূল্যবোধ ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ দিকের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
সার্বজনীন মানবাধিকার গৃহীত হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  2. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  3. ১৪ মে, ১৯৪৮
  4. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকারের ধারণা:
- অধিকারবোধ থেকে মানবাধিকারের উৎপত্তি হয়েছে।
- মানবাধিকার বলতে সেসব আইনগত ও নৈতিক অধিকারকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ঘোষণাপত্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত কতগুলো সাধারণ নীতি রয়েছে। যেমন:
১. সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
২. সকল মানুষ যেকোন প্রকার পার্থক্য, যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, মতাদর্শ, জাতীয় ও সামাজিক পরিচিতি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে ঘোষণায় উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের অধিকারী।
৩. মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের সর্বস্থানে সর্বকালের সকল মানুষের প্রাপ্য।
৪. বিশ্বের যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিককে তাঁর দেশের বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন, কারন- 
  1. আইন অমান্য করার সুযোগ পাওয়া
  2. অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা
  3. ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভা ও গুণের প্রকাশ ঘটানো
  4. কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করা
ব্যাখ্যা

- ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন, কারন- ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভা ও গুণের প্রকাশ ঘটানো যায়।
- স্বাধীনতা ব্যক্তিকে তার নিজস্ব পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ দেয়, যা ব্যক্তিত্ব গঠনে অপরিহার্য।

স্বাধীনতা: 
- সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়।
- কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না।
- কারণ, সীমাহীন স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণস্বরূপ, কাউকে ইচ্ছামত সবকিছু করার স্বাধীনতা দিলে সমাজে অন্যদের ক্ষতি হতে পারে যা এক অশান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
- তাই পৌরনীতিতে স্বাধীনতা ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা।
- অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে সকলেই নিজের অধিকার ভোগ করে।
- স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা অপসারণ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৫.
কোনটি ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না?
  1. অর্থনৈতিক সাম্য
  2. সচেতনতা
  3. আইনের শাসন
  4. কুসংস্কার
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ। 
- গণতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল democracy।
- সুতরাং গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা। 
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

⇒ প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- ডাইসির (Dicey) মতে, ‘‘গণতন্ত্র হল সরকারের একটি রূপ যেখানে পরিচালনা পরিষদে সমগ্র জাতির একটি বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত।’’
- অধ্যাপক সিলির (Prof. Selley) মতে, “গণতন্ত্র হলাে এমন এক শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকেরই অংশগ্রহণ রয়েছে।”

⇒ আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত গণতন্ত্র সফল হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১১৬.
IDA (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছে সেগুলো হলো -
  1. ক) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও দুর্নীতি দমন 
  2. খ) স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, অংশগ্রহণ ও সংবেদনশীলতা
  3. গ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও দায়বদ্ধতা
  4. ঘ) জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এ এগুলো হল:-
১। Accountability - জবাবদিহিতা
২। Transparency - স্বচ্ছতা
৩। Rule of law - আইনের শাসন ও
৪। Participation - অংশগ্রহণ। 

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB সুশাসন এর ৫টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। যথা:- 
১। Accountability - জবাবদিহিতা 
২। Transparency - স্বচ্ছতা 
৩। Combating  Corruption - দুর্নীতি দমন 
৪। Stakeholder  Participation - জনঅংশগ্রহণ 
৫। Legal  and  Judicial  Framework - আইন ও বিচার বিভাগীয় সংস্করণ।   

তথ্যসূত্র:- সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১১৭.
সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে -
  1. প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি করা
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
  4. ক্ষমতার অপব্যবহার উৎসাহিত করা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১১৮.
সুশাসন কোনটির উপর অধিক গুরুত্ব দেয়?
  1. ক) শিক্ষার অধিকার
  2. খ) পছন্দের অধিকার
  3. গ) নাগরিক অধিকার
  4. ঘ) ধর্মীয় অধিকার
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তম বা যথার্থ শাসন। এর মাধ্যমে সুশাসন নাগরিক অধিকার ও নাগরিক সুবিধার উপর গুরুত্ব দেয়। সুশাসনের মূল উদ্দেশ্যই হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সাধন।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি : প্রথমপত্র-মো. মোজাম্মেল হক)
১১৯.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- Governance শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ থেকে, যার অর্থ পরিচালনা করা।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

⇒ বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে। এ চারটি স্তম্ভ হল- (i) দায়িত্বশীলতা (ii) স্বচ্ছতা (iii) আইনী কাঠামো ও (iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২০.
‘জ্ঞান হয় পুণ্য’- এই উক্তিটি কার?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. সক্রেটিস
  3. প্লেটো
  4. থেলিস
ব্যাখ্যা
জ্ঞান:
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মতে নৈতিক ক্রিয়া বা ন্যায়ের ভিত্তি হলো জ্ঞান।
- তার মতে যার মধ্যে ন্যায়বোধ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তার পক্ষে ন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়।
- এজন্যই সক্রেটিস সদগুণ ও জ্ঞানকে একত্রে করে বলেছেন, ''জ্ঞানই পূণ্য''।
- তার মতে ন্যায়ের ভিত্তি হলো প্রকৃত জ্ঞান এবং অন্যায়ের ভিত্তি হলো অজ্ঞতা।

⇒ মূলত: বাক্যটি ছিল এরকম, “Virtue is knowledge’’ বা পূণ্যই জ্ঞান।
- এই বাক্যটিকেই কিছুটা ঘুরিয়ে বলা হয়েছে, “জ্ঞান হয় পূন্য”।
- এই উক্তিটি পাওয়া যায় প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক Socrates এবং Meno নামক একজন গ্রীক উদীয়মান অভিজাত তরুণের একটি কথোপকথন থেকে।
- এই কথোপকথনটি পাওয়া যায় সক্রেটিস - এর শিষ্য প্লেটোর রচিত গ্রন্থ - Dialogues -এ।

- যেহেতু সক্রেটিসের লিখিত কোন বই এর সন্ধান পাওয়া যায় না; তাই সক্রেটিসকে জানার জন্য তারই ছাত্র প্লেটোর উপর নির্ভর করতে হয়।
- প্লেটো তার রচিত জগদ্বিখ্যাত ‘Dialogues’ গ্রন্থে সক্রেটিসের সাথে অন্যান্যদের জ্ঞানমূলক কথোপকথনগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছেন। অর্থ্যাৎ, Plato এর Dialogue বইয়ের উক্তিগুলো মূলত সক্রেটিসের; প্লেটোর নিজের উক্তি নয়।
- Dialogue বইটি প্লেটোর রচিত বলে সক্রেটিসের উক্তিগুলো অনেকে প্লেটোর উক্তি বলে মনে করেন। এজন্যই অনেক ক্ষেত্রে এবং বিশেষ করে আলোচ্য প্রশ্নের ক্ষেত্রেও কনফিউশন তৈরী হয়েছে।
সুতরাং, আলোচ্য উক্তিটি নি:সন্দেহে সক্রেটিসের এবং তার ছাত্র, প্লেটো গুরু সক্রেটিসের কথোপথনগুলো সংরক্ষণ করেন এবং তার মাধ্যমেই পরবর্তীতে এটা প্রকাশিত হয়।

উৎস: i) The Dialogues of Plato.
ii) Britannica.
iii) নীতিবিদ্যা, মুহাম্মদ আবদুল বারী।
১২১.
সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি কোনটি?
  1. আইনের অপপ্রয়োগ
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. সামাজিক সাম্য
  4. রাজনীতিচর্চা
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করা কোন মূল্যবোধের অংশ?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়। গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’ শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে। অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে। সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে। আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে। হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২৩.
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন -
  1. সুপ্রিম কোর্টের রায়
  2. দেওয়ান বিধি
  3. সংবিধান
  4. প্রশাসনিক প্রবিধান
ব্যাখ্যা
আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়:
(১) সরকারি আইন,
(২) বেসরকারি আইন,
(৩) আন্তর্জাতিক আইন।

সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
- সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে।
- পার্লামেন্টে আইন প্রণীত হবার কয়েকটি পর্যায় থাকে।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।

সরকারি আইন ২ প্রকার:
ফৌজদারি আইন:
- ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্র মূলত এ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে থাকে।
- সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি বজায় রাখা এবং ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীকে দন্ড দেয়ার জন্য ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা হয়।
- প্রশাসনিক আইন: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আইন প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের মানের উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।

সাংবিধানিক আইন:
- রাষ্ট্রের ভিত্তি হল সংবিধান।
- এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- অন্য যেকোন আইন এ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল হয়ে যায়।
- এ আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা, বন্টন ও প্রয়োগকারী নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. ক) ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৩০ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৩২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৩৪ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হযেছে,
‘আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।’
অন্যদিকে,
২৭ নং অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা
৩০ নং অনুচ্ছেদে বিদেশী খেতাবগ্রহণ নিষিদ্ধগ্রহণ
৩৪ নং অনুচ্ছেদে জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণের কথা বলা হয়েছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান)
১২৫.
সমাজে মানুষের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, আচার-ব্যবহার ও ধ্যান-ধারণার ভিন্নতা কী নির্দেশ করে?
  1. নৈতিক অবক্ষয়
  2. রাজনৈতিক বিভাজন
  3. সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বৈচিত্র্য
  4. সাংস্কৃতিক একরূপতা
ব্যাখ্যা

সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ (Cultural Values):
- যে সব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সাংস্কৃতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বলে। সমাজে বসবাসকারী মানুষের ভিন্ন ভিন্ন সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-ব্যবহার, কর্মকাণ্ড ও সংগঠন থাকতে পারে। সেগুলোর প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ প্রদান করতে হবে। সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংস্কৃতি চর্চায়, বাধানিষেধ আরোপ করা উচিত নয়। তবে সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি চর্চা, পশ্চিমা সংস্কৃতির রুচিহীন চর্চা, আকাশ-সংস্কৃতির মন্দ দিকগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২৬.
প্লেটোর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে সুশাসনের ধারণাকে কীরূপ প্রত্যয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. একমুখী প্রত্যয়
  2. দ্বিমুখী প্রত্যয়
  3. সরল প্রত্যয়
  4. জটিল প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

- প্লেটো সুশাসনকে সরকার ও জনগণ - এই দুই পক্ষের মধ্যে একটি সম্পর্কযুক্ত দ্বিমুখী প্রত্যয় হিসেবে দেখেছেন, যেখানে উভয়েরই দায়িত্ব ও অধিকার রয়েছে। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে প্রথম সুশাসনের ধারণা পাওয়া যায়। তিনি একে একটি দ্বিমুখী প্রত্যয় বলে অবহিত করেন, এক পক্ষ জনগণ ও অন্য পক্ষ সরকার। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও পত্রিকা রিপোর্ট।

১২৭.
নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে কোন ধরনের শিক্ষা?
  1. সামাজিক আত্মম্ভরিতা
  2. রাজনৈতিক শিক্ষা
  3. প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  4. মূল্যবোধের শিক্ষা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- পরিবার, সমাজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করে।
- মূল্যবোধের শিক্ষা অন্যান্য মানবীয় গুণাবলির মতো দেশপ্রেম জাগ্রত করে।
- জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণের জন্যে নাগরিকদের মধ্য উৎসাহ বা আগ্রহ সৃষ্টি করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১২৮.
UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান কোনটি?
  1. সমতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. ন্যায্যতা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে,
"একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন।"
(Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

⇒ UNDP এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৯টি-
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - UNDP ওয়েবসাইট।

১২৯.
'বিপরীত বৈষম্য' এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়-
  1. ক) নারীদের ক্ষেত্রে
  2. খ) সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে
  3. গ) প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে
  4. ঘ) পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

উৎসঃ নীতিবিদ্যা বই (SSHL); উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩০.
আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী নয় কোনটি?
  1. সার্থকতা
  2. শঠতা
  3. সততা
  4. অসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value.
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- আমাদের চিরন্তন মূল্যবোধ হলো সত্য ও ন্যায়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩১.
সুশাসনে বিকেন্দ্রীকরণের মূল অর্থ কী?
  1. ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা
  2. ক্ষমতা ও দায়িত্ব বন্টন করা
  3. প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি করা
  4. আমলাতন্ত্র শক্তিশালী করা 
ব্যাখ্যা

সুশাসনে বিকেন্দ্রীকরণের মূল অর্থ ক্ষমতা ও দায়িত্ব বন্টন করা।

বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমেই সকল বিভাগ সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
- এটি প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা কমিয়ে দেয় এবং প্রশাসনকে জনগণের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়।
- তাই একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতিটি বিভাগে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৩২.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নিচের কোনটি ?
  1. গ্রহণযোগ্যতা
  2. জবাবদিহিতা
  3. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• সুশাসনের পূর্বশর্ত:
যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:- 
- আইনের শাসন, 
- স্বচ্ছতা, 
- জবাবদিহিতা, 
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা, 
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা, 
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা, 
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা,  
- বাকস্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, 
- বৈধতা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

১৩৩.
"আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ" - কথাটি কে বলেছেন?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
মূল্যবোধ কী ধরনের পরীক্ষা করে?
  1. ভালো ও মন্দ
  2. নৈতিকতা ও অনৈতিকতা
  3. ন্যায় ও অন্যায়
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- যা সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও পরিমন্ডলে বসবাসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধ পরীক্ষা করে ভালো ও মন্দের, ন্যায় ও অন্যায়ের, নৈতিকতা ও অনৈতিকতার ইত্যাদি।
- মূল্যবোধ বিষয়টি আপেক্ষিক।
- এটি সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত, পরিবর্তিত ও নির্দিষ্ট হয়ে থাকে।
- নীতিবোধ, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, সৌজন্যবোধ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাসহ এর অনেকগুলো উপাদান রয়েছে।
- সুন্দর ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক অপরিহার্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
কোন সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন?
  1. অর্থনৈতিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
'Perpetual Peace' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. টমাস হবস
  2. জন অস্টিন
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব সম্পর্কে রচিত ‘Perpetual Peace’ গ্রন্থটি ইমানুয়েল কান্ট-এর লেখা।
- ‘আ পাপেচুয়াল পিস (১৭৯৫)’ রাজনৈতিক দর্শনের ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ, যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে।
- এই বইয়ে কান্ট যুদ্ধ এড়ানোর ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও নৈতিক নির্দেশনা উপস্থাপন করেছেন।

⇒ নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- Perpetual Peace.

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১৩৭.
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনয়নে কোনটি গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ক) E-TP
  2. খ) E-GP
  3. গ) E-T
  4. ঘ) E-G
ব্যাখ্যা
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউমেন্ট ইউনিট এর অধীনে e-gp চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের যাবতীয় ক্রয় কর্মকাণ্ড অনলাইনে পরিচালিত হয়। (সূত্রঃ eprocure.gov.bd)
১৩৮.
বাংলাদেশে ন্যায়পাল আইন প্রণীত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৭৮ সালে
  4. ঘ) ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
ন্যায়পাল হলো রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মকর্তা বা কমিশনার যিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কর্মকর্তা-কর্মচারির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারে ১৯৮০ সালের ন্যায়পাল আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এ যাবৎ কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। (সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১৩৯.
মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. বিভিন্নতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: আপেক্ষিকতা, বিভিন্নতা, পরিবর্তনশীলতাG

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

সামাজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:
১. সামাজিক মাপকাঠি: মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন: মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
৩. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
৪. বিভিন্নতা: মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। দেশ, জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত,
কাল-সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা: মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৪০.
কীসের মাধ্যমে মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?
  1. বিচারলয়ের মাধ্যমে
  2. মানবিকতার মাধ্যমে
  3. আচার-আচরণ
  4. সহমর্মিতার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধের উপাদান: 
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে।
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৪১.
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ (UNCAC) কত সালে অনুমোদিত হয়?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০৩ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ:
- দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা; পৃথিবীর কোনো দেশই পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়।
- আর তাই জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর 'আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সনদ' United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) অনুমোদিত হয়।
- একই বছর ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর মেক্সিকোর মেরিডায় উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সনদটি উন্মুক্ত করা হয়।
- স্বাক্ষর প্রদানের গুরুত্বকে স্মরণীয় রাখতে প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০০৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে এবং ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি সরকারিভাবে পালন ও স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলো।
- যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে।
- দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক, রাষ্ট্রীয়, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট দেশের সকল নাগরিকসহ সকল অংশীজনের- এই মর্মে প্রচারণা ও অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রম পালন করা এই দিবসটি উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য।

উৎস: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 

১৪২.
সুশাসনের ধারণার উপর জোর দিতে কত সালে Commission on Global Governance গঠিত হয়?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

Commission on Global Governance:
- সুশাসনের ধারণার উপর জোর দিতে ১৯৯২ সালে 'কমিশন অন গ্লোবাল গভর্নেন্স' (Commission on Global Governance) গঠিত হয়েছিল।
- এর লক্ষ্য ছিল বৈশ্বিক আন্তঃনির্ভরতার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যবস্থার সংস্কার করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা অন্বেষণ করা। 
- এর ফলাফল ১৯৯৫ সালে "Our Global Neighbourhood" নামে প্রকাশিত হয়, যা সুশাসনের ধারণা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- উদ্দেশ্য: স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। 

উৎস: Britannica.

১৪৩.
ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ কোনটি?
  1. তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা
  2. তথ্য প্রবাহকে বাঁধা দেয়া
  3. তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- ই-গভর্নেন্সের মূল কাজ হচ্ছে - তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।

• ই-গভর্নেন্স:
- বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রত্যয় হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স। বর্তমান পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নতসহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই ই- গর্ভনেন্স এর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- এখন ইচ্ছে করলে এক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যোগাযোগ ও তথ্য প্রেরণ করা যায়।
- ই-গর্ভনেন্স এর শাব্দিক অর্থ হল ইলেকট্রনিক গর্ভনেন্স বা ইন্টারনেট ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা; অর্থাৎ সরকারি সেবা ও সুযোগ-সুবিধা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া। এর ফলে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
আইনের মূল কথা কোনটি?
  1. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  2. আইনের চোখে সবাই সমান
  3. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  4. মানুষের বিবেক জাগ্রত করে
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'। সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।”
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।”

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অর্থাৎ উল্লিখিত প্রশ্ন অনুসারে আইনের মূল কথা হল আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়।
- আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
- সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে।
- আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উল্লেখ্য, 
- আইনের শাসনের মূল কথা 'আইনের চোখে সবাই সমান' কিন্তু আইনের মূল কথা আইন মানুষের "বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে"।
- বিষয়টা খেয়াল করুন আইন আর আইনের শাসন এক নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৫.
কার মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”?
  1. আর্নেস্ট বার্কার
  2. জন লক
  3. হার্বাট
  4. এ ভি ডাইসি
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা:
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- হার্বাট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- জন লকের মতে, “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই।”
- আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
“Economic and Philosophic Manuscripts of 1844” - কার লেখা বই?
  1. ক) Vladimir Lenin
  2. খ) Karl Marx
  3. গ) Jean-Jacques Rousseau
  4. ঘ) Robert Morrison MacIver
ব্যাখ্যা
কার্ল মার্ক্স এর লেখা অন্যান্য বই - Das Kapital, The Communist Manifesto, A Contribution to the Critique of Political Economy ইত্যাদি।
১৪৭.
'আমলাতন্ত্র' প্রথম উপস্থাপন করেন কে?
  1. ম্যাক্স ওয়েবার
  2. এমিল ডুর্খেইম
  3. কার্ল মার্ক্স
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

• আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হল একটি সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা যা বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে জটিলতা, শ্রম বিভাজন, স্থায়িত্ব, পেশাদার ব্যবস্থাপনা, শ্রেণিবিন্যাস সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, কঠোর চেইন অফ কমান্ড এবং আইনি কর্তৃত্ব দ্বারা সংজ্ঞায়িত সংগঠনের নির্দিষ্ট রূপ।
- 'আমলাতন্ত্র' তত্ত্ব প্রথম উপস্থাপন করেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী 'ম্যাক্স ওয়েবার' (১৮৬৪-১৯২০)।
- তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক উত্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৪৮.
অধ্যাপক ডাইসির 'আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান'-উক্তিটির মধ্যে কী প্রকাশ পেয়েছে?
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. তথ্যপ্রবাহ
  3. অর্থায়ন
  4. মানবাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ অধ্যাপক ডাইসির 'আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান'-উক্তিটির মধ্যে মানবাধিকার পেয়েছে।

আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উল্লেখ্য:
- 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৯.
Laissez-Faire কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. একনায়কতন্ত্র
  2. অর্থনীতি
  3. সমাজতন্ত্র
  4. পরিবেশ
ব্যাখ্যা
Laissez-Faire বা লেইসে ফেয়ার:
- লেইসে ফেয়ার হলো অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সরকারের ন্যূনতম হস্তক্ষেপের নীতিমালা।
- এই নীতিটি মূলত ফ্রান্সের ফিজিওক্র্যাটদের সঙ্গে যুক্ত, যারা ১৭৫৬ থেকে ১৭৭৮ সালের মধ্যে সক্রিয় ছিল।
- ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের The Wealth of Nations বইয়ের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ক্লাসিক্যাল অর্থনীতিতে লেইসে ফেয়ার শক্তিশালী সমর্থন পায়।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তার Principles of Political Economy (১৮৪৮) বইতে এই নীতির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- লেইসে ফেয়ার শুধু অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক মতবাদও ছিল।
- এর মূল তত্ত্ব ছিল যে ব্যক্তি তাদের নিজস্ব লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে সমাজের সেরা ফলাফল নিশ্চিত করবে।
- রাষ্ট্রের কাজ ছিল কেবল শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে হস্তক্ষেপ না করা।
- ২০শ শতকের শেষের দিকে লেসে ফেয়ার পুনরুজ্জীবিত হয় মনেটারিজমের মাধ্যমে।
- এর প্রধান প্রবক্তা মিল্টন ফ্রিডম্যান অর্থ সরবরাহের বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পক্ষে যুক্তি দেন।

উৎস: Britannica.
১৫০.
নিম্নের কোনটি নৈতিকতার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সার্বজনীন
  2. ধর্ম নিরপেক্ষ
  3. বিবেকবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত
  4. শুধুমাত্র বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- 'Morality' হলো নৈতিকতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ।
- এটি ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে উদ্ভূত যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

বৈশিষ্ট্য:

- নৈতিকতা ব্যক্তির সদ গুণ বিশেষ।
- এটি সার্বজনীন।
- নৈতিকতা ধর্ম নিরপেক্ষ।
- এটি এক ধরনের শক্তি ও আদর্শ, যা ব্যক্তির বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

⇒ নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়:
• লক্ষ্য: নৈতিকতার মৌলিক লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ সাধন।
• নিয়ন্ত্রক: নৈতিকতার নিয়ন্ত্রক হলো বিবেক ও মূল্যবোধ।
• শুরু: নৈতিক শিক্ষা প্রাথমিক ভাবে পরিবারে শুরু হয়।
• রক্ষাকবচ: নৈতিকতার রক্ষাকবচ বিবেকের দংশন।
• উপাদান: নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৫১.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে -
  1. সরকার
  2. বিরোধীদল
  3. মামলা
  4. সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদপত্র:
- সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে।
- সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে।
- এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।
- তাই সরকার ও জনগণের মধ্যে সংবাদপত্র আয়নার মতো কাজ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৫২.
সর্বপ্রথম ‘সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. আইএমএফ
  4. বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা' পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৫৩.
নৈতিকতার প্রধান উৎস কোনটি?
  1. আনুষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. বিবেকবোধ
  3. সামাজিক প্রথা
  4. ধর্মগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার প্রধান উৎস হলো মানুষের বিবেক বা বিবেকবোধ এবং ঔচিত্যবোধ।
- এছাড়া, ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ, সামাজিক প্রথা, শিক্ষা প্রভৃতি নৈতিকতার অন্যান্য উৎস।
- নৈতিক আচরণ বা মূল্যবোধ হলো সেসব মনোভাব ও আচরণ যা মানুষ সব সময় ভালো, কল্যাণকর এবং অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তি অনুভব করে।
নৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা
- সত্যকে সত্য বলা
- মিথ্যাকে মিথ্যা বলা
- দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক এবং ব্রিটানিকা)
১৫৪.
“রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) অস্টিন
  2. খ) স্যালমন্ড
  3. গ) হবস
  4. ঘ) গেটেল
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।" (A Law is a general rule of external action enforced by the sovereign political authority.)
- জন অস্টিন (John Austin) বলেন, “আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ।" (Law is the command of the political superior i. e. sovereign to the political inferior.) 
- অধ্যাপক স্যালমন্ড (Prof. Salmond)-এর মতে, "ন্যায় সংরক্ষণের তাগিদে রাষ্ট্র যেসব নীতি স্বীকার করে এবং প্রয়োগ করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক গেটেল (Prof. Gettel) বলেন, “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।" (Only those rules which the state creates or which as recognises, enforces become law.)

- আইনের একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও চমৎকার সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন (Woodrow Wilson)।
তাঁর মতে, “আইন হলো মানুষের স্থায়ী আচার-ব্যবহার ও চিন্তাধারার সেই অংশ যা রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পশ্চাতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন আছে।” (Law is that portion of the established thought and habit which has gained distinct and formal recognition in the shape of uniform rules backed by the authority and power of the government.)
 
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫৫.
টেকসই উন্নয়নের জন্য সু-শাসন অপরিহার্য কারন এটি-
  1. দ্রুত শিল্পায়ন নিশ্চিত করে
  2. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করে
  3. জনসংখ্যা হ্রাস করে
  4. রাজনৈতিক দ্বন্দ দূর করে
ব্যাখ্যা

● টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।

সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা যা জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে। 

• বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।

উল্লেখ্য,
- টেকসই উন্নয়ন বলতে এমন একটি জীবনযাপনকে বোঝায় যা বর্তমানের প্রয়োজন মেটায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। একটি সমাজের কল্যাণ এবং আমাদের সুস্থতা টেকসই উন্নয়নকে লালন করার উপর নির্ভর করে। 
- টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে একসাথে তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রয়োজন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।
- সু-শাসন এই ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য কারণ: এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত ও টেকসই হয়। একই সাথে সামাজিক ন্যায় রক্ষা করে অর্থাৎ সম্পদের সুষম বণ্টন, দারিদ্র্য হ্রাস, লিঙ্গ সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ইত্যাদি নিশ্চিত করে। ফলে অর্থনৈতিক লাভ যাতে সামাজিক অসমতা বাড়িয়ে না দেয় বা পরিবেশ ধ্বংস না করে, সেটা সু-শাসনের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা পায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) Bangladesh Labour Foundation - BLF ওয়েবসাইট।

১৫৬.
গণতন্ত্রের অর্থ হল - 
  1. জনগণের শাসন
  2. জনপ্রতিনিধির শাসন
  3. বিচারকের শাসন
  4. শোষিতের শাসন
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের অর্থ হল জনগণের শাসন।
- গ্রীক Demos ও Kratia শব্দদ্বয় হতে Democracy শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
- Demos শব্দের অর্থ জনসাধারণ এবং Kratia শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা।
- সুতরাং শব্দগত বা উৎপত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণ পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫৭.
শ্রমিক সংঘ করার অধিকার- তা কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) জাতীয় অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) অর্থনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
কর্মের অধিকার, ন্যা্য্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিক সংঘ বা ইউনিয়ন করার অধিকার, বৃদ্ধ ও অক্ষম অবস্থায় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো অর্থনৈতিক অধিকার।
রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫৮.
প্লেটো কোন সদগুণের কথা উল্লেখ করেন?
  1. মানবিকতা
  2. সততা
  3. বুদ্ধি
  4. সাহস
ব্যাখ্যা

- প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- ​এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ বা মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদগুণরূপে অভিহিত করেন।
-  তবে ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের মধ্যে যখন অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদগুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- এই নীতি গ্রহণ করলে মানুষের মধ্যে যে সদ্গুণের সৃষ্টি হয় তা মানুষ ছাড়াও অন্যান্য সকল কিছুর বেলায়ই সকল কাজকর্মে একজন ব্যক্তিকে - একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- ​ আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

​উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৯.
অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের কোন উৎসের কথা উল্লেখ করেননি?
  1. প্ৰথা
  2. সার্বভৌমের আদেশ
  3. ধর্ম
  4. বিচারকের রায়
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস নয় সার্বভৌমের আদেশ।

আইন:

- আইন বলতে কতিপয় নির্দিষ্ট অপরিবর্তনীয় নিয়মাবলীর সমষ্টিকে বুঝায়।
- যে সকল বিধিনিষেধ রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত ও যেগুলো ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞানুযায়ী সেগুলোকেই আইন বলে।
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও রক্ষক।
- আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা সম্ভব হয়।
- আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি।
- যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
- যথা: প্ৰথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬০.
সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো -
  1. নৈরাজ্য
  2. মূল্যবোধ
  3. অশান্তি
  4. বিশৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Value। 
- যেসকল চিন্তা ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সংকল্প ও আদর্শ মানুষের সামগ্রিক আচার-আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে, তাদের সমষ্টিকেই মূল্যবোধ বলে।
- মূল্যবোধ দ্বারা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নৈতিকতা- অনৈতিকতা,সততা, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যায়িত হয়।
- সার্থকতা, শঠতা, অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি হলো চিরন্তন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক কাঠামো হচ্ছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ, স্থায়ী এবং অনিবার্য উপাদান যা ব্যতীত সমাজের অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায় না।
- সামাজিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সত্যবাদিতা, ন্যায়নীতি, শিষ্টাচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, কর্তব্যপরায়ণতা, সদাচরণ প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি বা মানবীয় গুণাবলির সমষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬১.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়?
  1. ক) ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব
  2. খ) রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ
  3. গ) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
  4. ঘ) জনসচেতনতার অভাব
ব্যাখ্যা

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় নয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান সমস্যা/অন্তরায়গুলো হলো-
১. বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ,
২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সহিংসতা,
৩. সরকারের জবাবদিহিতার অভাব,
৪. আমলাদের জবাবদিহিতার অভাব,
৫. আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা,
৬. আইনের শাসনের অভাব,
৭. সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা,
৮. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা,
৯. রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ,
১০. স্বজনপ্রীতি,
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকা,
১২. জনঅংশগ্রহণের অভাব,
১৩. জনসচেতনতার অভাব
১৪. ক্ষমতার ভারসাম্যের অভাব,
১৫. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অভাব,
১৬. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব ইত্যাদি।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।

১৬২.
উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে -
  1. বস্তুনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  2. আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান
  3. আদর্শনিষ্ঠ কলা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যা: 
- নৈতিকতা সম্পর্কে দার্শনিকদের চিন্তা ভাবনাই নীতিবিদ্যা হিসোবে পরিচিত।
- উইলিয়াম লিলির মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। 
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, "সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে"।
- উইলিয়াম লিলি নীতিবিদ্যাকে "আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান" বলে এর পরিসরকে সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন।

উৎস: দর্শন-৪ নীতিবিদ্যা, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. আমলাতন্ত্র
  3. দুর্নীতি দমন
  4. স্থানীয় সরকার 
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দুর্নীতি দমনকে বিবেচনা করা হয়। 
- কারণ দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতির ফলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়।
- সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ- যেমন ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা- দুর্নীতির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- এছাড়া বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার- এই তিনটি ক্ষেত্রের কার্যকারিতাও মূলত দুর্নীতি দমনের উপর নির্ভরশীল। 
- অর্থাৎ দুর্নীতি দমন ছাড়া এসব ক্ষেত্রের কোনোটিই কার্যকরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬৪.
একজন মানুষের প্রাথমিক মূল্যবোধের বিকাশ কোথায় ঘটে?
  1. সমাজে
  2. পরিবারে
  3. বিদ্যালয়ে
  4. রাষ্ট্রে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধের প্রধান ও প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- মানুষের পরিবার থেকেই প্রাথমিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১৬৫.
রাজনৈতিক গ্রন্থ 'The Prince'-এর লেখক কে?
  1. থমাস হবস
  2. জন লক
  3. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।
⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৬৬.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. হার্বার্ট স্পেন্সার
  4. ইমানুয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

• ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।
যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৭.
"আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা” - উক্তিটি কার? 
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. আইনবিদ স্যামন্ড
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা

আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।

- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" 
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।" 
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"

- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৬৮.
বিশ্বব্যাংক কবে প্রথম ‘সুশাসন’ শব্দটি ব্যবহার করে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় ‘সুশাসন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়।

সুশাসন:
- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে 'সুশাসন' ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৫. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৬৯.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল অনুসারে ‘শুদ্ধাচার’ হচ্ছে-
  1. শুদ্ধভাবে কার্যসম্পাদনের কৌশল
  2. সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণের মানদণ্ড
  3. সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ
  4. দৈনন্দিন কার্যক্রমে অনুসৃতব্য মানদণ্ড
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

⇒ শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১৭০.
'A Treatise of Human Nature' গ্রন্থের রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. ডেভিড হিউম
  2. ইমানুয়েল কান্ট 
  3. ডেভিড ভিউম
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল 
ব্যাখ্যা

ডেভিড হিউম:
- তিনি জন্ম গ্রহন করেন  ১৭১১ সালে। 
- তিনি স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ, অর্থনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি মানব প্রকৃতির প্রবর্তক ছিলেন।
- মৃত্যুবরন করেন ১৭৭৬ সালে।

ডেভিড হিউমের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:-
- A Treatise of Human Nature;
- An Enquiry Concerning Human Understanding;
- Human Understanding;
- Enquiry Concerning the Principles of Morals;
-  Moral and Political;
- History of England।

অন্যদিকে, 
বার্ট্রান্ড রাসেলের গ্রন্থ:-
- The Elements of Ethics,
- Political Ideals
- Human Society in Ethics and Politics

কার্ল মার্কসের গ্রন্থে:-
- The Communist Manifesto 
- Das Kapital
- The Poverty of Philosophy

ইমানুয়েল কান্টের গ্রন্থে:-
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.
- The Metaphysics of Morals

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় &  ব্রিটানিকা।

১৭১.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ -
  1. কর্তব্য সচেতন হবে
  2. দেশাত্মবোধ জাগ্রত হবে
  3. অধিকার সচেতন হবে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। 
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ  প্রভাবে জনগণের দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয়
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পেলে জনগণ অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭২.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য?
  1. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা
  2. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন
  3. সামাজিক মাপকাঠি
  4. উপরোক্ত সবগুলা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের বৈশিষ্ঠ্য -
- সামাজিক মাপকাঠি,
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
- নৈতিক প্রাধান্য,
- বিভিন্নতা,
- বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
- পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা ইত্যাদি।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান -
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন ইত্যাদি

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বোর্ড বই।

১৭৩.
“The Quest for Good Governance” - কার লেখা বই?
  1. ক) Amartya Sen
  2. খ) Philip Cotler
  3. গ) Alina Mungiu-Pippidi
  4. ঘ) Sam Agere
ব্যাখ্যা
বইটির পূর্ণ নাম - “The Quest for Good Governance: How Societies Develop Control of Corruption”। বইটি ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।
১৭৪.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?
  1. সিসেরো
  2. মন্টেস্কু
  3. এরিস্টটল
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
• মন্টেস্কু:
→ ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা - মন্টেস্কু।
→ ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু তাঁর “The Spirit of Laws” নামক সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
→ মন্টেস্কুর মতে, কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে একচেটিয়া সরকারি ক্ষমতা প্রদান ঠিক নয়।
→ তাঁর মতে, এক বিভাগের ক্ষমতা দিয়ে অন্য বিভাগের ক্ষমতা সংযত ও সীমিত করতে হবে।
→ কোনো বিভাগ তার নিজস্ব এখতিয়ারের বাইরে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলে অন্য বিভাগ তা প্রতিরোধ করবে।
→ মন্টেস্কু বলেন, “সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা অবশ্যই পৃথক হবে এবং বিভিন্ন ব্যক্তিদের দ্বারা এমনভাবে ব্যবহৃত হবে যেন একটি অপরটির সাথে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষা করে।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথমপত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, মো. মোজাম্মেল হক।
১৭৫.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে নাগরিকদের কী বিসর্জন দিতে হবে?
  1. দেশের শৃঙ্খলাবোধ
  2. জাতীয় স্বার্থ
  3. গোষ্ঠী ও দলীয় স্বার্থ
  4. নির্বাচনের ফলাফল
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ (Democratic Values):
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা জানাতে হয়।
- কেননা সহনশীলতা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকদের অন্যতম গুণ।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিককে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিতে হয়।
- গঠনমূলক সমালোচনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা ও সংযম গড়ে তুলতে হবে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মানুষকে পারস্পরিক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবসময় ভাবতে হবে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।’
- শৃঙ্খলাবোধে বিশ্বাসী হতে হবে।
- অধিকার ও কর্তব্য সচেতন হতে হবে।
- সরকারকে তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক আচরণ বা মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
- নির্বাচনে জয়- পরাজয়কে মেনে নিতে হবে।
- আইনসভাকে কার্যকর করতে হবে।
- হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও নয়, বরং আইনসভায় বসে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন কতটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল?
  1. চারটি
  2. ছয়টি
  3. আটটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন :
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১৭৭.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. অধ্যাপক ফাইনার
  2. অধ্যাপক অ্যালমন্ড
  3. অধ্যাপক মাইরন উহনার
  4. অধ্যাপক এলান পটার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও নামকরণ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

⇒ অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি (Lobby) এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

⇒ অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছেন।
- তিনি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে দুভাগে ভাগ করেছেন যেমন স্বার্থকারী (Interest Group) গোষ্ঠী এবং সমদৃষ্টিসম্পন্ন (Attitude Group) গোষ্ঠী।

⇒ অধ্যাপক মাইরন উহনারের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য, তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

⇒ অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন।
- তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:
→ স্বতঃস্ফূর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী,
→ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

উৎস: রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও ____ ধারণা জাগ্রত করে।
  1. শিক্ষার
  2. সুশাসনের
  3. সুন্দরের
  4. বিভাজনের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের ধারণা জাগ্রত করে।
- এটি ব্যক্তি ও সমাজকে নৈতিকতা, সততা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষকে সত্যবাদী হতে শেখায়, যা সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা সমাজে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শুধু নৈতিকতা নয়, বরং সুন্দর চিন্তা, সুন্দর ব্যবহার এবং সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
১৭৯.
আইন প্রণয়ন কোন বিভাগের কাজ?
  1. সুপ্রীম কোর্ট
  2. বিচার বিভাগ
  3. শাসন বিভাগ
  4. আইন বিভাগ
ব্যাখ্যা
• আইন প্রণয়ন: 
- আইন বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন।
- রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোকে সমুন্নত রেখে আইনসভা প্রচলিত আইনের কিংবা প্রথাগত বিধানের সংশোধন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে থাকে। - আইনসভা শাসন প্ররিচালনার নীতি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৮০.
বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে কোন ধরনের অধিকারের উৎপত্তি?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও জীবনের পূর্ণতা সাধিত হয়।
অধিকার ২ প্রকার যথা: নৈতিক অধিকার এবং আইনগত অধিকার।
এর মধ্যে নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক ন্যায়বোধ থেকে উদ্ভূত। এর কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার, ভিক্ষুকের ভিক্ষা লাভের অধিকার প্রভৃতি নৈতিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
১৮১.
সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার-
  1. জনগণ
  2. ই-সার্ভিস
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. ই-প্রশাসন
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম একটি হাতিয়ার হলো ই-গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি অন্যতম পদক্ষেপ হতে পারে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
- সুশাসনের উপাদানসমূহ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব সরকারের।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে গণতন্ত্র।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮২.
UNDP- এর দৃষ্টিতে গভর্ন্যান্স মূলত - 
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. কর্তৃত্বের চর্চা
  3. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা
  4. ক্ষমতার ব্যবহার
ব্যাখ্যা

- ইউএনডিপি এর মতে একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতি হলো সুশাসন।

এছাড়াও,
- ই-গভর্ন্যান্স হলো ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্স। এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
- ই-গভর্ন্যান্স স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি,  প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১৮৩.
অন্যায়বােধের উৎস হলো -
  1. ক) জ্ঞান
  2. খ) অহংবোধ
  3. গ) মিথ্যা
  4. ঘ) অজ্ঞতা
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরােপ করেন।

- সক্রেটিস বলেছেন, সৎ গুণই জ্ঞান’ (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায় বােধের উৎস হচ্ছে ‘জ্ঞান’ (knowledge) এবং অন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘অজ্ঞতা’ (ignorance)।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৮৪.
সংস্কৃতি বলতে কী বোঝায়?
  1. মানবিক আচরণের সমষ্টি
  2. অবস্তুগত মানব সভ্যতা
  3. মানুষের জীবন প্রণালি
  4. মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতি হলো মানুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তথা জীবন প্রণালি।
- মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান ধারণা, বিশ্বাস, ধর্ম, নীতিবোধ প্রভৃতি সংস্কৃতির উপাদান হিসেবে চিহ্নিত।
- সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হয়।
(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৮৫.
'A System of Logic' - গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill (1806-1878)]:
- মূলত জন স্টুয়ার্ট মিল [John Stuart Mill] এর হাতে ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বলিষ্ঠ রূপ ধারণ করে।
- জে. এস. মিল ছিলেন ধ্রুপদী ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদের এক একনিষ্ঠ প্রবক্তা।
- আবার অনেকের মতে তিনিই হলেন আলোচ্য মতবাদের শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Utilitarianism,
- A System of Logic,
- On Liberty,
- Three Essays on Religion: Nature, the Utility of Religion, and Theism
- The Subjection of Women,
- The Spirit of the Age প্রভৃতি।

সূত্র: ব্রিটানিকা.কম।
১৮৬.
একজন নাগরিকের জীবনে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের গুরুত্ব কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটায়
  2. প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে
  3. নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে
  4. এটি শুধুমাত্র সরকারি প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তির দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন একজন নাগরিকের জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
- একজন নাগরিকের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে।
- যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
→ সুশাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হলেও, এটি মূল্যবোধ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়।
→ প্রযুক্তিগত শিক্ষা মূল্যবান, কিন্তু এটি মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য নয়।
→ মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন শুধু প্রশাসনের জন্য নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
গণতন্ত্রের সফলতার জন্যে জনগণের মাঝে কী প্রয়োজন?
  1. একনায়কতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য
  2. ভ্রাতৃত্ববোধ
  3. সজাগ দৃষ্টি
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা

• ভ্রাতৃত্ববোধ:
- ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’ গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম একটি শর্ত।
- গণতন্ত্রের সফলতার জন্যে জনগণের মাঝে প্রয়োজন ভ্রাতৃত্ববোধ।
- জনগণের মধ্যেকার ভ্রাতৃত্ববোধ থাকলে তারা এক অপরের দুঃখ্য কষ্ট বুঝতে পারবে।

এছাড়া ও ,
• গণতন্ত্রের সফলতার অন্যতম আরো কয়েকটি শর্ত হলো:
- অর্থনৈতিক সাম্য।
- সামাজিক সাম্য।
- সহনশীলতা।
- গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য।
- যথার্থ আইনের শাসন।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
- দক্ষ ও সৎ নেতৃত্ব।
- সুষ্ঠ জনমত।
- সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮৮.
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে Aspire to Innovate (a2i) প্রকল্পটি শুরু হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা
Aspire to Innovate (a2i):
- ২০০৫ সালে তিউনিসিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ-আইটিইউ-এর ঘোষণাপত্রে সরকারি পরিষেবার ডিজিটাল রূপান্তরকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরা হয়; পরিষেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবাগুলিকে ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করার কথা বলা হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায়, পরের বছর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সম্পূর্ণরূপে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কর্তৃক অর্থায়নে, 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (a2i) প্রোগ্রাম' নামে একটি প্রকল্প শুরু করে।
- প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৬ সালের অক্টোবরে শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাস্তবায়নকারী সংস্থা হয়ে ওঠে।

⇒ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৈষম্যমুক্ত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে, a2i UNDP বাংলাদেশের সহায়তায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে, যাতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দ্রুত, স্বচ্ছ, ঝামেলামুক্ত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পরিষেবা প্রদান করা যায়। a2i জনসেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং একটি জনবান্ধব উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তুলে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরে সহায়তা করছে যা পরিষেবাগুলিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী মূল্যের, নির্ভরযোগ্য এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলে। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হল নাগরিকদের ঐতিহ্যগতভাবে এই ধরনের পরিষেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, খরচ এবং পরিদর্শন হ্রাস করে আরও গুণগত এবং সন্তোষজনক পরিষেবা প্রদান করা, যার ফলে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা।

⇒ 'কাউকে পিছনে ফেলে রাখবেন না' এই নীতিবাক্য নিয়ে, a2i ধীরে ধীরে তার কার্যক্রম এবং অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলি প্রসারিত করেছে। ২০২০ সালে, প্রকল্পের নাম 'অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন' থেকে 'অ্যাস্পায়ার টু ইনোভেট' করা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ওয়েবসাইট।
১৮৯.
সক্রেটিসের মতে ন্যায়বোধের উৎস কোনটি?
  1. ক) মূল্যবোধ
  2. খ) জ্ঞান
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরােপ করেন।

- সক্রেটিস বলেছেন, সৎগুণই জ্ঞান’ (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘জ্ঞান’ (knowledge) এবং অন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘অজ্ঞতা’ (ignorance)।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯০.
“A System of Logic” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ম্যাকাইভার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. জন স্টুয়ার্ট মিল
  4. জ্যা জ্যাক রুঁশো
ব্যাখ্যা
• John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।

• তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
- “A System of Logic”
- “Autobiography”
- “Considerations on Representative Government”
- “Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy”
- “Examination of Sir William Hamilton’s Philosophy”
- “On Liberty”
- “Principles of Political Economy”
- “The Subjection of Women”
- “Utilitarianism”

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১৯১.
সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ কোন ধরনের সাম্য?
  1. সামাজিক
  2. আইনগত
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
• সামাজিক সাম্য (Social Equality):
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও পেশাগত কারণে যখন মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা হয় না তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- সামাজিক সাম্যের মূল কথা হলো সমাজে বসবাসরত সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ?
  1. জবাবদিহিতা
  2. আইনের শাসন
  3. নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা
  4. ভোটদান
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ সুশাসনের অন্যতম একটি উপাদান।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি নারী এবং পুরুষ উভয়রেই অংশগ্রহণ।
- বিশ্বব্যাংক মনে করে, সকলের অংশগ্রণের মাধ্যমেই কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভব।
- অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে অধিক ক্ষমতাশীল করা।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে ভোটদান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  2. খ) সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
▪ সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সমূহের মধ্যে রয়েছে - 
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
▪ সুশাসন হলো দক্ষ ও কার্যকরি শাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও অনেক করণীয় রয়েছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের করণীয়সমূহ হলো - 
- নিয়মিত কর প্রদান করা 
- সামাজিক দায়িত্ব পালন করা
- আইন মান্য করা
- আনুগত্য প্রদর্শন
- সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৯৪.
সুশাসন চারটি স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল - এই অভিমত কোন সংস্থা প্রকাশ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
– সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
– সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
– ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের সংজ্ঞা:
ম্যাক করণী বলেছেন, “সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়”।

সুশাসনের স্তম্ভ:
২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা,
ii) স্বচ্ছতা,
iii) আইনী কাঠামো,
iv) অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
জাতিসংঘ প্রদত্ত সুশাসনের ৮টি উপাদানের সাথে ইউএনডিপি কোনটি যোগ করেছে?
  1. ক) দায়বদ্ধতা
  2. খ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য
  3. গ) কৌশলগত লক্ষ্য
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদান চিহ্নিত করেছে।
যথা-
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

ইউএনডিপি এই ৮টি উপাদানের সাথে আরও একটি উপাদান যোগ করে সেটি হচ্ছে - কৌশলগত লক্ষ্য


উৎস: জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির ওয়েবসাইট।
১৯৬.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো -
  1. অলিগার্কির সূচনা করা
  2. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি মূলনীতি উল্লেখ করেছে।
- অংশগ্রহণ
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- দায়িত্বশীলতা
- ন্যায্যতা
- কার্যকারিতা
- আইনের শাসন এবং
- ঐক্যমত্যের শাসন।

উৎস: UN chronicle.
১৯৭.
'সহমরণ প্রথা বন্ধ করা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. আধুনিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৯৮.
মূল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর –
  1. ক) সম্পর্কযুক্ত
  2. খ) বিরোধী
  3. গ) একে অপরের সহায়ক
  4. ঘ) ক+গ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সহায়ক। মূল্যবোধের নীতিমালা সুশাসনের নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক নয় বরং সহযাত্রী। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
১৯৯.
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ''-উক্তিটি কার?
  1. শেফার
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. মেরিল
  4. উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
⇒ শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- ''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

অন্যদিকে,
⇒ সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

⇒ ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

⇒ মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২০০.
‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স'- কত সালে বিশ্বব্যাংক এই সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এছাড়াও,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" বা 'শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।