● টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায়ের ভারসাম্য রক্ষা করে।
সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা যা জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে।
• বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।
উল্লেখ্য,
- টেকসই উন্নয়ন বলতে এমন একটি জীবনযাপনকে বোঝায় যা বর্তমানের প্রয়োজন মেটায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করে না এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে। একটি সমাজের কল্যাণ এবং আমাদের সুস্থতা টেকসই উন্নয়নকে লালন করার উপর নির্ভর করে।
- টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে একসাথে তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রয়োজন: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।
- সু-শাসন এই ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য কারণ: এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত ও টেকসই হয়। একই সাথে সামাজিক ন্যায় রক্ষা করে অর্থাৎ সম্পদের সুষম বণ্টন, দারিদ্র্য হ্রাস, লিঙ্গ সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ইত্যাদি নিশ্চিত করে। ফলে অর্থনৈতিক লাভ যাতে সামাজিক অসমতা বাড়িয়ে না দেয় বা পরিবেশ ধ্বংস না করে, সেটা সু-শাসনের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা পায়।
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) Bangladesh Labour Foundation - BLF ওয়েবসাইট।