বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৫ / ৩৯ · ১,৪০১১,৫০০ / ৩,৮২৯

১,৪০১.
International Development Agency (IDA) সুশাসনের কয়টি মূল উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) ছয়টি
  4. ঘ) আটটি
ব্যাখ্যা
• যে শাসন ব্যবস্থায় আইনের শাসন, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ গনতান্ত্রিক উপায়ে সুনিশ্চিত হয় তাকেই সুশাসন বলে ।

• ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি উপাদানের কথা বলেছেন।
» এগুলো হল: সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, জবাদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা।

 • ইউনেস্কো (UNESCO) সুশাসনের উপাদনের কথা বলতে গিয়ে বিশ্বব্যাংকের উপাদানগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণের কথা বলেছেন।

• ইউএনডিপি (UNDP) সুশাসনের ৫টি মূল উপদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল; বৈধতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সাম্য।

• আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। এগুলো হল: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণ।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০২.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী
  2. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী
  4. নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,৪০৩.
সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-
  1. শিক্ষার মাধ্যমে
  2. ধর্ম চর্চার মাধ্যমে
  3. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
  4. সুশাসনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
⇒ শিক্ষা ও মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড এবং নীতি।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়, কারণ শিক্ষা মানুষের মধ্যে বিভিন্ন নৈতিকতা, ন্যায়নীতি এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
অর্থাৎ সমাজে মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করা যায়-শিক্ষার মাধ্যমে।

- শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মূল্যবোধের প্রসার ঘটে, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সহায়ক হয়।

⇒ অন্যদিকে, 
ধর্ম চর্চার মাধ্যমে:
- ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহারকে সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত করতে সাহায্য করে, যা সমাজে নৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক।
গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সমতা, স্বাধীনতা, এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়, যা সমাজে মূল্যবোধের উন্নতি ঘটায়।
 সুশাসনের মাধ্যমে:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করলে সমাজে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪০৪.
OECD-এর মতে, সুশাসনের একটি নির্দেশক কী?
  1. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
  2. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  3. সরকারের বৈধতা
  4. সামাজিক সমতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- R. A. W. Rhodes তাঁর Understanding Governance: Policy Networks, Governance, Reflexivity and Accountability বই এ সুশাসনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, সুশাসনকে চিহ্নিত করা যায় স্ব-সংগঠিত এবং আন্তসংগঠনের অন্তর্ভুক্তি, সম্পদের আদান-প্রদান এবং রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒  The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। বাংলাদেশে সুশাসনের একটি পর্যালোচনা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৫.
অতীতে প্রচলিত কোন প্রথাটি আধুনিক মূল্যবোধের কারণে বিলুপ্ত হয়েছে?
  1. ডিজিটাল শিক্ষা
  2. গণতান্ত্রিক নির্বাচন
  3. স্বাধীন শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সতীদাহ প্রথা
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।
- এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না।
- গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪০৬.
নিচের কোনটি আধুনিক মূল্যবোধ? 
  1. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  2. সৎ মানুষকে পছন্দ করা
  3. নির্বাচনে জয় পরাজয় মেনে নেয়া
  4. সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।
- "বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ।

অন্যদিকে: 
- সৎ মানুষকে পছন্দ করা আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ। 
-  নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া - রাজনৈতিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪০৭.
'সংখ্যালঘিষ্ঠদের প্রতি সহিষ্ণু আচরণ' কোন ধরনের মূল্যবোধের পরিচায়ক?
  1. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক মূল্যবোধ :
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে ৷

» রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
→ রাজনৈতিক সততা,
→ শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
→ রাজনৈতিক সহনশীলতা,
→ রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
→ দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
→ পরমতসহিষ্ণুতা,
→ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
→ সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০৮.
সুশাসনের ধারণাটির উদ্ভাবক কে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. নরডিক কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।

- সুশাসন হল রাষ্ট্র, সমাজ ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক ও আপেক্ষিক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসন সকলের স্বার্থই রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকে।
- সুশাসনের নির্দিষ্ট কিছু উপাদান রয়েছে।
- সুশাসন চিহ্নিতকরণে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের উপর জোর দেয়া হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৯.
The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কোন নির্দেশকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা
  2. নবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
  3. সরকারের বৈধতা
  4. ক, খ ও গ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে জনসাধারণের বিষয়াদি এবং জনসম্পদকে পরিচালনা করবে সেই প্রক্রিয়াকে বুঝায়।
- R. A. W. Rhodes তাঁর Understanding Governance: Policy Networks, Governance, Reflexivity and Accountability বই এ সুশাসনের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, সুশাসনকে চিহ্নিত করা যায় স্ব-সংগঠিত এবং আন্তসংগঠনের অন্তর্ভুক্তি, সম্পদের আদান-প্রদান এবং রাষ্ট্রের স্বায়ত্তশাসনের মাধ্যমে।
- সুশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মাত্রা রয়েছে যার মাধ্যমে কোনও দেশের শাসনের অবস্থা নির্ণয় করা যায়।

⇒ বিভিন্ন তাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্নভাবে সুশাসনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- The Organization for Economic Cooperation and Development (OECD) সুশাসনের কিছু নির্দেশকের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:
১। সরকারের বৈধতা;
২। সরকারের রাজনৈতিক ও সরকারি উপাদানসমূহের জবাবদিহিতা;
৩। নীতিমালা তৈরি ও সেবা সরবরাহের জন্য সরকারের যোগ্যতা এবং,
৪। মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে -
  1. ক) বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে
  2. খ) আইনের শাসনের অভাব দেখা দিবে
  3. গ) রাজনৈতিক সহিংসতা দেখা দিবে
  4. ঘ) জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হবে
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।
- প্রশ্নের বাকি অপশনগুলো সুশাসনের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায়।

- সুশাসন হচ্ছে সুন্দরভাবে বা উত্তমরূপে শাসন।
- সুশাসনের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। 
- এর ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষিত হয়।
- অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক তথা জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো.মোজাম্মেল হক।
১,৪১১.
Asian Development Bank (ADB) কোন রিপোর্টে সুশাসন নিয়ে আলোচনা করে?
  1. Good Governance and Development
  2. Public Sector Reform
  3. Anti-Corruption Strategy
  4. Governance: Sound Development Management
ব্যাখ্যা

Asian Development Bank (ADB) ও সুশাসন:
- Asian Development Bank (ADB) ১৯৯৫ সালে 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসন সম্পর্কে আলোচনা করে।
- ADB-এর মতে, সুশাসন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং সরকারি সম্পদ এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করে যাতে শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়।

⇒ Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: i) ADB ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৪১২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
  2. দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা
  3. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  4. সততার সাথে কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ,
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন,
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার,
→ জনসম্মতি,
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ,
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা,
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি,
→ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,
→ দক্ষ জনশক্তি,
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪১৩.
নিচের কোনটি অধিকারের রক্ষাকবচ নয়?
  1. ক) আইন
  2. খ) জনমত
  3. গ) গনতন্ত্র
  4. ঘ) জনগণের সজাগ দৃষ্টি
ব্যাখ্যা
অধিকারের রক্ষাকবচ হলো আইন, গনতন্ত্র, সংবিধানে মৌলিক অধিকার ঘোষণা, আইনের অনুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনগণের সজাগ দৃষ্টি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪১৪.
কোনটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তির রুচি
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

• ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর। 
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়। 
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।
-  পরমতসহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা নৈতিক মূল্যবোধ।

তথ্যসূত্র: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪১৫.
UNHCR -এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান নয় কোনটি?
  1. দায়বদ্ধতা
  2. অংশগ্রহণ
  3. সংবেদনশীলতা
  4. ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- এগুলো হলো:
১. স্বচ্ছতা (Transparency)- শাসনপ্রক্রিয়ায় সকল কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে উন্মুক্ত রাখা এবং তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. দায়বদ্ধতা (Responsibility)- দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ কাজ যথাযথভাবে ও দায়িত্বের সঙ্গে সম্পাদন করা।
৩. জবাবদিহিতা (Accountability)- জনগণের কাছে সরকারের বা প্রশাসনের কাজের ব্যাখ্যা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
৪. অংশগ্রহণ (Participation)- জনগণকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
৫. সংবেদনশীলতা (Responsiveness)-  নাগরিকদের প্রয়োজন ও সমস্যার প্রতি দ্রুত ও কার্যকর সাড়া প্রদান করা।

 

⇒ 'ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ'- সুশাসনের মূল উপাদান নয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- World Bank এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

তথ্যসূত্র: UNHCR ওয়েবসাইট।
১,৪১৬.
পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের কয়টি দিকের কথা উল্লেখ করেছে?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

⇒ পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন: 
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪১৭.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ১৭টি
  2. ২০টি
  3. ২৫টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ:
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (২১৭-এ রেজ্যুলেশন) কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকল রয়েছে।
প্রথম আর্টিকেলে বলা হয়েছে সকল মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন এবং সম মর্যাদা ও অধিকারসম্পন্ন।
- ১০ ডিসেম্বর প্রতিবছর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,৪১৮.
কোনো শাসনব্যবস্থায় কোনটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে সুশাসন বলা যায় না?
  1. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  2. আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতা
  3. উন্নয়ন
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি ইত্যাদি।
- উপরোক্ত উপাদানসমূহ অনুপস্থিত থাকলে তাকে সুশাসন বলা যায় না। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪১৯.
মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সাংস্কৃতিক অবক্ষয় রোধ করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।

⇒ তাই মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মূল্যবোধের কার্যকর উপস্থিতি বাঞ্চনীয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২০.
'যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' কোন সাম্যের মূল কথা?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

⇒ 'যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন' অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা।

অর্থনৈতিক সাম্য (Economic Equality):
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র সকল মানুষ যখন কাজ করার, ন্যায্য মজুরি পাবার সুবিধা লাভ করে, তখন তাকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে। অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন।
- লাস্কির মতে, "ধন বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক সাম্য অসঙ্গতিপূর্ণ হবে না, যদি এই বৈষম্য দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত সামাজিক বা রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২১.
কোনটি জনমত গঠনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম?
  1. ক) চলচ্চিত্র
  2. খ) টেলিভিশন
  3. গ) সংবাদপত্র
  4. ঘ) রেডিও
ব্যাখ্যা
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত। জনমতের মাধ্যম হলো সংবাদপত্র, সভাসমিতি, রাজনৈতিক দল, টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, র্ধমীয় সংঘ ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন -প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪২২.
‘Ethos’ গ্রিক শব্দটির অর্থ হলো-
  1. ক) নৈতিক
  2. খ) ন্যায়বোধ
  3. গ) সঠিক আচরণ
  4. ঘ) ঐচ্ছিক আচরণ
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার ইংরেজি শব্দ Ethics। যা গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত। Ethos শব্দটির অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ। অর্থাৎ Ethics বা নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান। নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
[সূত্রঃ নীতিবিদ্যা : মুহম্মদ আবদুল বারী)
১,৪২৩.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য কার্যাবলী?
  1. ক) শিক্ষা বিস্তার
  2. খ) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কাজ
  3. গ) জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ
  4. ঘ) জনহিতকর কার্যাবলী
ব্যাখ্যা
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রের কাজকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন − অপরিহার্য কার্যাবলী ও ঐচ্ছিক কার্যাবলী।
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য কার্যাবলী:-
(১) দেশরক্ষা সংক্রান্ত কাজ
(২) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কাজ
(৩) অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষ
(৪) প্রশাসন পরিচালনা
(৫) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ
(৬) বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলী

ঐচ্ছিক কার্যাবলী:-
(১) শিক্ষা বিস্তার
(২) জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ
(৩) যোগাযোগ রক্ষা
৪) শিল্প ও বাণিজ
(৫) কৃষির উন্নতি
(৬) শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত কাজ
(৭) সামাজিক নিরাপত্তা
(৮) জনহিতকর কার্যাবলী

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৪.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন কে?
  1. থমাস জেফারসন
  2. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
  3. অমর্ত্য সেন
  4. এডমন্ড বার্ক
ব্যাখ্যা
স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।
- গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

⇒ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্রকে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক।
- তিনি ১৭৮৭ সালে হাইজ অব কমন্সের সংসদীয় বিতর্ক পর্বে ঋড়ঁৎঃয ঊংঃধঃব প্রত্যয়টি প্রথম ব্যবহার করেন।

উল্লেখ্য,
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

এছাড়াও,
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বাকি ৩টি স্তম্ভগু হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
১,৪২৫.
“সকল ধরণের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”− কে বলেছেন?
  1. আর জি গেটেল
  2. ল্যারি ডায়মন্ড
  3. হেনরী মেইন
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, “সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন”।
- গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা নানা ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
শর্তগুলো হল এরূপ:
- (ক) গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
- (খ) ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
- (গ) নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৬.
সামাজিক মূল্যবোধ ব্যক্তির কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. সামাজিক
  2. ব্যক্তিগত
  3. রাজনৈতিক
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৭.
সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে কী অর্জন করা সম্ভব?
  1. ক) উন্নয়ন
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) সুসংগঠিত গণতন্ত্র
  4. ঘ) কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই৷ সুশাসন প্রতিষ্ঠা এই সমস্যার সমাধান করা অতীব জরুরি।
১,৪২৮.
কোন ধরনের মূল্যবোধ সুশাসনের প্রাণস্বরূপ?
  1. ক) রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  2. খ) অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  3. গ) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. ঘ) সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এসব মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদন্ড।
এসব মূল্যবোধের আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতিনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
সুশাসন যেমন গণতন্ত্রের প্রাণ; গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও সুশাসনের প্রাণ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,৪২৯.
কে বলেছেন, "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা”?
  1. এরিস্টটল
  2. ম্যাকাইভার
  3. প্লেটো
  4. জিসবার্গ
ব্যাখ্যা
- সমাজ শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Society'।
- শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Socious' থেকে যার অর্থ-সহযোগিতা বা পারস্পরিক বন্ধুত্ব।
- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, "মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব। যে সমাজে বাস করে না, সে হয় পশু না হয় দেবতা।”
- সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, 'সমাজ মানুষের বহুবিধ সামাজিক সম্পর্কের এক সামগ্রিক পদ্ধতি'।
- সমাজবিজ্ঞানী জিসবার্গ বলেন, "সমাজ হল সামাজিক সম্পর্কের সেই জাল, যা দ্বারা প্রত্যেক মানুষ তাদের সঙ্গীদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই বলা যায়, সমাজের সাথে মানুষের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।”

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৩০.
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. অধ্যাপক লাস্কি
  4. অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
‘আইনের অনুশাসন’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন অধ্যাপক ডাইসি।

আইনের অনুশাসন (Rule of Law):

- আধুনিক যুগের লক্ষ্য হল একটি রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল নাগরিকের ওপর একই ভাবে আইন প্রয়োগ করা।
- অধ্যাপক ডাইসির মতে- "আইনের চোখে সকল নাগরিকই সমান।"
- আইনের অনুশাসন বলতে মধ্যযুগীয় ধারণায় বলা হয়- "আইনের ক্ষমতা সর্বোচ্চ।"
- এর দ্বারা সরকার, আইন প্রণেতা ও সাধারণ নাগরিক সকলেই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- অধ্যাপক ডাইসি (A. V. Dicey) ছিলেন আইনের অনুশাসনের অন্যতম প্রবক্তা।
- অধ্যাপক ডাইসি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর সাংবিধানিক আইনের ভূমিকা (An Introduction to the Law of the Constitution) শীর্ষক গ্রন্থে বলেছেন আইনের অনুশাসন তিনটি নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত ।

⇒ আইনের অনুশাসন বিষয়ে ডাইসির তত্ত্ব:
১। বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারের বিলুপ্তি:
- এতে সরকার ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের বিশেষ অধিকারের ক্ষমতা লোপ করে প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার কথা বলা হয়েছে। এই অনুশাসন অনুসারে যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি আইনের চোখে দোষী প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না। আইনের অনুশাসনের অর্থ হল আইন দ্বারা সমানভাবে সংরক্ষিত হওয়া।
২। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকারের তত্ত্ব:
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
৩। কোন দেশের সংবিধান মূলত তার নিজস্ব আইনি কার্যাবলী নির্ধারণ করে:
- কোন দেশের সংবিধান বিদেশি কোন আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং কর্তব্য নির্ণয় করাই হল সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য এবং তা করা হয়ে থাকে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারালয়ের পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেই। সংবিধান সম্বন্ধে মানুষের ধারণা মূলত আইনের অনুশাসন সম্বন্ধে জ্ঞান থেকেই উপলব্ধি হয়। গ্রীক দার্শনিক অ্যরিস্টটলের মতে শাসন ও শাসিত সকলেরই সমভাবে আইনের অধীন হওয়া কাম্য-সেটাই আদর্শ আইনের শাসন।

উৎস: Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩১.
সুশাসনের ধারণার উত্থানের মূল কারণ হিসেবে নিচের কোনটি বিবেচিত হয়?
  1. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা
  2. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতা
  3. বিশ্বব্যাপী মন্দা দূরীকরণে ব্যর্থতা
  4. আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশেষত আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বারবার ব্যর্থ হয়েছিল।
- কারণ ছিল শুধু অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দুর্নীতি, অদক্ষতা, জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক এবং crisis of governance।[লিংক]

১,৪৩২.
সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার কী?
  1. সরকার
  2. জনগণ
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও ই-গভর্নেন্স:
- সুশাসন বাস্তবায়নের অন্যতম হাতিয়ার হলো ই-গভর্নেন্স (Electronic Governance বা ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা)।
- বর্তমানে সুশাসন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ই-গভর্নেন্সকে।
- এটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার, জনগণ এবং অন্যান্য সংস্থার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করে।
- সরকারি সেবা ও তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত থাকায় দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকরা সহজেই মতামত প্রদান ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন।
- ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ ও অনিয়ম কমানো যায়।

উল্লেখ্য:
সরকার (ক) – সুশাসন বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র হাতিয়ার নয়।
জনগণ (খ) – জনগণ সুশাসনের অন্যতম অংশীদার, তবে প্রযুক্তির সহযোগিতা ছাড়া তাদের ক্ষমতায়ন সীমিত হতে পারে।
রাজনৈতিক দল (ঘ) – রাজনৈতিক দল সুশাসনের নীতি নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সরাসরি বাস্তবায়নের মূল হাতিয়ার নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩৩.
আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য কী?
  1. জনকল্যাণ
  2. অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি
  3. ভূখণ্ড সম্প্রসারণ
  4. সামরিক শক্তি অর্জন
ব্যাখ্যা

কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- আধুনিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ।
- এজন্য আধুনিক অধিকাংশ রাষ্ট্রকেই 'জনকল্যাণমূকর রাষ্ট্র' বলা হয়।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়। যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- বর্তমান বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কম-বেশী কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অপরিহার্য শর্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- রাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন করাই এই রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
 
⇒ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
 - মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এই রাষ্ট্র অধিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বেকারভাতা প্রদান, বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
- মূলত সামজতন্ত্রকে প্রতিরোধ করার জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্ম পন্থা গ্রহণ করে। এই ভাবে চরম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাঝামাঝি একটি মধ্যম ব্যবস্থা হিসেবে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। 
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। ব্যক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানার মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে মানুষের দুঃখ কষ্টের লাঘব করে থাকে। পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে সুফল লাভের ব্যবস্থা করে।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নাগরিকদের মধ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। সমাজের ধনী দরিদ্রের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
iii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৩৪.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ নয়?
  1. সহনশীলতা
  2. দানশীলতা
  3. সৌজন্যবোধ
  4. জবাবদিহিতার মানসিকতা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক মূল্যবোধ (Political Values):
- যে চিন্তাভাবনা লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের রাজনৈতিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত করে তার সমষ্টিকে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বলে।

⇒ রাজনৈতিক মূল্যবোধ হলো:
- রাজনৈতিক সততা,
- শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ,
- রাজনৈতিক সহনশীলতা,
- রাজনৈতিক জবাবদিহিতার মানসিকতা,
- দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর করা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান,
- সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ,
- বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান,
- বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান না করা,
- নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে মেনে নেয়া,
- আইনসভাকে কার্যকর হতে সাহায্য করা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৪৩৫.
জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে কতটি আর্টিকেল রয়েছে?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ২৪টি
  3. গ) ৩০টি
  4. ঘ) ৪৫টি
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ফ্রান্সের প্যারিসে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
এই ঘোষণাপত্রে মোট ৩০টি ধারা বা আর্টিকেল রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,৪৩৬.
'Power: A New Social Analysis' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. কার্ল মার্কস
  3. ম্যাক্স ওয়েবার
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা গ্রন্থ:
- Human Society in Ethics and Politics,
- Power: A New Social Analysis,
- The Problem of Philosophy,
- Religion and Science,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Political Ideals,
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - Britannica.com

১,৪৩৭.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো-
  1. ক) এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা
  2. খ) সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক দল
  3. গ) সুশীল সমাজের উপস্থিতি
  4. ঘ) বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ। এটি সরকার কাঠামোর অংশ না হয়েও সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রভাব রেখে থাকে।
- সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন বা এনজিও প্রভৃতির সমন্বয়ে সিভিল সোসাইটি গঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
১,৪৩৮.
সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান 'বিকেন্দ্রীকরণ' হলো -
  1. ক্ষমতার আন্তর্জাতিকীকরণ
  2. ক্ষমতা ও দায়িত্ব স্থানীয় পর্যায়ে বণ্টন করা
  3. কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করা
  4. সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন।

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

• বিকেন্দ্রীকরণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিকেন্দ্রীকরণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- বিকেন্দ্রীকরণ হচ্ছে ক্ষমতার বন্টনো বিভক্তিকরণের নীতি।
- এর অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে প্রশাসনের উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ছড়িয়ে দেয়া।
- বিকেন্দ্রীকরণের ফলে জনগণের অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পায়, প্রশাসনের মূল্যবান সময় বেঁচে যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল ও আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৩৯.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে-
  1. ক) বিনিয়োগ হ্রাস পায়
  2. খ) বেকারত্ব হ্রাস পায়
  3. গ) কর্মসংস্থান হ্রাস পায়
  4. ঘ) উৎপাদন হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়। এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৪৪০.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোকে কী বলা হয়?
  1. নাগরিকের কর্তব্য
  2. সামাজিক শৃঙ্খলা
  3. রাজনৈতিক সহনশীলতা
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল, যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- একটি সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তির অধিকার, মর্যাদা, সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত হয়।
- ব্যক্তি অন্যের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ, সহমর্মী ও সংযত হয়।
- জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক সমাজের সৃষ্টি হয়।
- বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে হানাহানি, প্রতিহিংসা ও সংঘাত লেগেই থাকে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
- দীর্ঘ সময়ের সামষ্টিক উদ্যোগের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪১.
মূল্যবোধ সম্পর্কে কোনটি সত্য?
  1. ক) মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
  2. খ) মূল্যবোধ বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
  3. গ) মূল্যবোধ অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী। 
- এটি একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল। 
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়। 
- এটি অর্জনের বিষয়, আরোপিত নয়। 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই। 
- কেননা একজনের কাছে যা আদর্শ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে। 
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক বুদ্ধির বহি:প্রকাশই মূল্যবোধ। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৪৪২.
নিচের কোনটি ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্যে অপরিহার্য?
  1. ক) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
  2. খ) অধিকার ভোগ
  3. গ) কর্তব্য পালন
  4. ঘ) ধর্মীয় শিক্ষা
ব্যাখ্যা
- রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্যে অধিকার অপরিহার্য।
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা। এগুলো ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪৪৩.
Nihilism ধারণাটি কার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করে?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. লুডভিক ভিডগেনস্টাইন
  3. ফ্রেডারিখ নীটশে
  4. আরউইন শ
ব্যাখ্যা

- Nihilism অর্থ হলো শূন্যবাদ। এটি ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে উদ্ভূত যার অর্থ কিছুই না।
- এটি একপ্রকার সংশয়বাদী দার্শনিক ধারণা। Nihilism ধারণাটি জার্মান দার্শনিক ফ্রেডারিখ নীটশে এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করে। নীটশে উনিশ শতকের পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবনমন প্রসঙ্গে এই প্রত্যয়টির ব্যবহার করেন।
(তথ্যসূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)

১,৪৪৪.
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে কোন দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক 
  2. রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র
  3. গণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক
  4. সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত 
ব্যাখ্যা
অর্থনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র:
- সম্পত্তি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা না-থাকার ভিত্তিতে রাষ্ট্র দুই ধরনের হয়, যেমন- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

• পুঁজিবাদী রাষ্ট্র:
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বোঝায়, যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়।
- এ সরকার ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে।
- এর উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন।
- বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী।

• সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলতে সেই ধরনের রাষ্ট্রকে বোঝায়, যা ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে না।
- এতে উৎপাদনের উপকরণগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় থাকে।
- রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- এটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীত।
- সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করা হয় না।
- এ ধরনের রাষ্ট্রে একটিমাত্র রাজনৈতিক দল থাকে।
- গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- বিরোধী মত প্রচারের সুযোগ থাকে না। যেমন- চীন ও কিউবা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৪৫.
আতিথেয়তা কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. রাজনৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. নৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল (Francises E. Meril) এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪৬.
’শিক্ষার অধিকার’ নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. নৈতিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা
সামাজিক অধিকারসমূহ:
- জীবনের অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চিন্তা ও মত প্রকাশের অধিকার, সভা-সমিতির অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চুক্তি সম্পাদনের অধিকার, আইনের চোখে সমানাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, ধর্মের অধিকার, পরিবার গঠনের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার, খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৪৭.
'The Subjection of Women' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকাইভার
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা

John Stuart Mill:
- জন স্টুয়ার্ট মিল (১৮০৬-১৮৭৩)।
- ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ এবং উপযোগবাদের প্রবক্তা।
- তার রচিত গ্রন্থসমূহ:
• "A System of Logic"
• "Autobiography"
• "Considerations on Representative Government"
• "Essays on Some Unsettled Questions of Political Economy"
• "Examination of Sir William Hamilton's Philosophy"
• "On Liberty"
• "Principles of Political Economy"
• "The Subjection of Women"
• "Utilitarianism".

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১,৪৪৮.
সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার দিকটি কোন সংস্থা উল্লেখ করেছে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. ন্যায়বিচার আদালত
  3. ইউএনডিপি
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) 'শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৪৯.
নিম্নের কোনটি সংস্কৃতির উপাদান নয়?
  1. আইন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. প্রতীক
ব্যাখ্যা
আইন সংস্কৃতির উপাদান নয়।

সংস্কৃতি:

- সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture যার উৎপত্তিগত অর্থ চাষ করা বা কর্ষণ করা।
- মানুষ তার জীবন চলার পথে বা জীবন মান বৃদ্ধির জন্য তার চার পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যে সমস্ত কার্যাবলি করে থাকে তাকে সংস্কৃতি বলে।
- কোনো কোনো সমাজে যেটা সংস্কৃতি অন্য সমাজে সেটা অপসংস্কৃতি বলে গণ্য হতে পারে।
- পৃথিবীতে রাষ্ট্রভেদে সংস্কৃতি আলাদা।
- সংস্কৃতিতে সর্বজনীন বলে কিছু নেই।

⇒ সংস্কৃতির উপাদান হলো:
- ভাষা, প্রতীক, আচরণবিধি, হস্তশিল্প, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, পরিবর্তিত আচরণবিধি ও বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫০.
'সকল ধরণের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন'−উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. হেনরী মেইন
  4. জন স্টুয়ার্ট মিল
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- হেনরী মেইন (Henry Maine) এ প্রসঙ্গে বলেন, 'সকল ধরনের সরকারের মধ্যে গণতন্ত্র সবচেয়ে কঠিন'।

অন্যদিকে -
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদাসতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৫১.
তথ্য অধিকার আইন প্রথম চালু হয় কোন দেশে?
  1. জার্মানি
  2. ফ্রান্স
  3. স্কটল্যান্ড
  4. সুইডেন
ব্যাখ্যা
তথ্য অধিকার:
- খ্রিস্টপূর্ব ৬০-২৭ সময়কালে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের আমলে তথ্য অধিকার-এর ধারণার উদ্ভব ঘটে।
- ১৭৬৫-৬৬ সালে ফিনিশীয় রজনীতিবিদ ও দার্শনিক এল্ডর্স সাইডিনিয়াস তথ্য অধিকারের ধরণা সম্পর্কে আলোক পাত করেন।
- তবে তথ্য অধিকার বিষয়টি আইনে পরিণত হয় সর্বপ্রথম সুইডিশ পার্লামেন্টে।
- ১৭৬৬ সালে সুইডিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম ‘Ordinance on Freedom of Writing and of the Press’ নামে আইনটি পাস করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৫২.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় নিচের কোনটিকে?
  1. বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়
  2. সংবাদ মাধ্যম
  3. যুবশক্তি
  4. রাজনীতি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের স্তম্ভ:

- সংবাদমাধ্যম তথা গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ বা কলাম বা বিভাগ বলা হয়।
- গণমাধ্যম রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ তথা শাসন, আইন ও বিচার বিভাগকে নজরদারির মাধ্যম এবং জনগণের সাথে সরকারের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - গণযোগাযোগ তত্ত্ব ও প্রয়োগ, শায়ন্তী হায়দার ও সাইফুল সামিন।
১,৪৫৩.
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. নৈতিক চরিত্র
  2. আইনের প্রয়োগ
  3. একনায়কতন্ত্র
  4. জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা যেখানে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের জন্য জনগণ তথা আইনের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। 

জবাবদিহিতা:
- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৪.
সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে-
  1. ক) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
  2. খ) সমাজে
  3. গ) পরিবারে
  4. ঘ) গণমাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সামাজিকীকরণ হলো শিশুর সামাজিক হয়ে উঠার প্রক্রিয়া। এটি একটি শিখন প্রক্রিয়া যা মৃত্যু পর্যন্ত চলমান থাকে। শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত ঘটে পরিবারে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়, সমাজ, সঙ্গী-সাথী, গণমাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪৫৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কোন সংস্থা আলোচনা করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নি:স্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।
- সুশাসনের জন্য সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে - বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৬.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

অন্যদিকে -
⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৫৭.
মূল্যবোধ শিক্ষার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক কোনটিকে প্রভাবিত করে?
  1. ক) রাজনৈতিক উন্নয়ন
  2. খ) নৈতিক উন্নয়ন
  3. গ) রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৪৫৮.
রুশো লিখিত বইয়ের নাম কি?
  1. General Will
  2. Leviathan
  3. The Social Contract
  4. The prince
ব্যাখ্যা
→ টি এইচ গ্রীন বলেন, “পাশবিক শক্তি নয়, ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ভিত্তি”।
→ ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জাঁ জাঁক রুশো তার বিখ্যাত গ্রন্থ, The Social Contract গ্রন্থে জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করেন।
→ একে তিনি সাধারণ ইচ্ছা হিসেবে অভিহিত করেন।
→ এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণের ইচ্ছা বা মতামতের প্রকাশ।
→ রুশোর আগে ইংরেজ দার্শনিক জন লক, পরবর্তীতে জন স্টুয়ার্ট মিল, লর্ড ব্রাইস, আর জে গেটেল, ইয়ুর্গেন হেবারমাসের
→ মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জনমত শব্দটির রাজনৈতিক উৎপত্তি ও প্রয়োগ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫৯.
কোনটি অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. কর্তব্যপরায়ণতা
  2. সৌজন্যবোধ
  3. শৃঙ্খলা
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান।
- শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হতে পারে না।

• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬০.
সংস্কৃতি হলো-
  1. বস্তুগত উপাদান
  2. জীবন প্রণালি
  3. অবস্তুগত উপাদান
  4. পারলৌকিক ধারণা
ব্যাখ্যা
- সংস্কৃতি হলো একটি সম্প্রদায় বা গোত্রের সাধারণ বিশ্বাস, আচরণ, প্রথা, বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান তথা পুরো জীবন প্রণালি।
- সংস্কৃতির সাধারণ উপাদান সমূহ হলো প্রতীক, ভাষা, মূল্যবোধ, প্রথা বা সাধারণ আদর্শ প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : সপ্তম শ্রেণী)
১,৪৬১.
সুশাসনের মানদন্ড কোনটি?
  1. সামাজিক ন্যায় বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উপস্থিতি
  2. সামাজিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা
  3. স্বাধীন বিচার বিভাগ
  4. জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) ক্রাইম নিউজ নেটওয়ার্ক।
১,৪৬২.
কোন গ্রন্থে এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে?
  1. রিপাবলিক
  2. দি প্রিন্স
  3. দি পলিটিক্স
  4. নিকোম্যাসিয়ান নীতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রবিজ্ঞান:
- রাষ্ট্রের কার্যক্রম, রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগঠনের সুসংবদ্ধ অধ্যয়নকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান সরকারের মূলনীতি ও রাষ্ট্রের মূলভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্টীয় সংগঠন, শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ, আন্ত:রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটল নীতিশাস্ত্র ও রাষ্ট্রনীতির মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
- এরিস্টটল বিশ্বাস করতেন, একমাত্র রাষ্ট্রের মাধ্যমেই মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট নৈতিক জীবন যাপন করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য -
- এরিস্টটলকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- 'দি পলিটিক্স' গ্রন্থে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৩.
"Good governance is important for countries at all stages of development."- প্রদত্ত উক্তিটি প্রদান করে -
  1. ক) UNDP
  2. খ) World Bank
  3. গ) IMF
  4. ঘ) Martin Minogue
ব্যাখ্যা
- IMF প্রদত্ত উক্তি - "Good governance is important for countries at all stages of development."

• সুশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন সংজ্ঞা:


- বিশ্বব্যাংকের মতে, “সুশাসন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়”। ("Governance is the manner in which power is exercised in the management of a country's economic and social resources for development.")

- UNDP- এর মতে , ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”। ("Good Governance is the exercise of economic,political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels.”) 

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও আইএমএফ ওয়েবসাইট।[link]
১,৪৬৪.
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক 'সুশাসন' সম্পর্কে কী সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা
  2. শাসকের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. রাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ব্যবহার
  4. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৬৫.
কাদের ক্ষেত্রে ‘বিপরীত বৈষম্য’ নীতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. নারী
  2. সংখ্যালঘু
  3. প্রতিবন্ধী
  4. পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে 'বিপরীত বৈষম্য'-এর নীতিটি প্রয়োগ করা হয়।

'বিপরীত বৈষম্য' (Reverse Discrimination):
- সমতার প্রশ্নে "বিপরীত-বৈষম্যের" (reverse discrimination) ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
- অনেক সময় বহু সমাজে এমন কিছু লোক থাকে যারা অন্যান্যদের চেয়ে কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
- অন্যান্যদের সমান করার জন্য তাদেরকে তখন ঐসব দিকগুলোতে কিছু অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে হয়।
- বাইরের দিক থেকে একে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মনে হলেও, তা সমতা-নীতিরই একটি প্রতিফলন।
- বিপরীত বৈষম্য নীতি অনুসারে, সমাজে যেসব জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছে বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ সুবিধা বা কোটা প্রদান করা হয়।
- এটি সংরক্ষণ নীতি বা Affirmative Action হিসেবেও পরিচিত, যা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োগ করা হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৬.
আইনের শাসনের কয়টি মৌলিক শর্ত রয়েছে?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
আইনের শাসনের অভাব:
- আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে।
ক. আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান,
খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা,
গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
- এই শর্ত তিনটি মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর রয়েছে।
- কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রেই আইনের শাসন কার্যকর থাকে না।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।
- কিন্তু অনেক রাষ্ট্রই এরূপ অবস্থা বিদ্যমান নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৬৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক অধিকারভুক্ত?
  1. মত প্রকাশ
  2. সম্পত্তি ভোগ
  3. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
  4. সরকারি চাকরি লাভ
ব্যাখ্যা
আইনগত অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- যেমন-জীবন ধারণের অধিকার, ভোটদানের অধিকার, শিক্ষার অধিকার।
- আইনগত অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

(ক) সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে।
- যেমন- জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।

(খ) রাজনৈতিক অধিকার:
- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিকরা যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- ভোটদান, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সরকারি চাকরি লাভ, সরকারি কাজের সমালোচনা, আবেদন করা রাজনৈতিক অধিকার।

(গ) অর্থনৈতিক অধিকার:
- ক্ষুধা, দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করেন, সেগুলোকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিক, অবকাশ যাপন প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৬৮.
ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস কয়টি?
  1. ১টি
  2. ৬টি
  3. ৪টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
আইন ও আইনের উৎস:
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
⇒ জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা:
১. সার্বভৌমের আদেশ।

⇒ অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
১. প্ৰথা,
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা।

⇒ ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
১. প্রথা
২. ধর্ম,
৩. বিচারকের রায়,
৪. ন্যায়বিচার,
৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
৬. আইনসভা,
৭. জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৬৯.
'জেরেমি বেন্থাম' নিম্নের কোন মতবাদের প্রবক্তা?
  1. ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ
  2. সামাজিক চুক্তি
  3. উপযোগবাদ
  4. সাম্যবাদ নীতি
ব্যাখ্যা
জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন।
- যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির (১৭৮৯) প্রবক্তা।
- এই নীতির অর্থ হলো কোন কিছু বা কোন কাজকে উদ্দেশ্য নয়, বরং ফলাফল দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে।
- তাঁর লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ 'The Principles of Morals and Legislation.

উল্লেখ্য:
- ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ তত্ত্বের প্রবক্তা জন মিল।
- সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা রুশো।
- সাম্যবাদ নীতি তত্ত্বের প্রবক্তা কার্ল মার্কস।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭০.
নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Ethics
  2. Principles
  3. Morality
  4. Philosophy
ব্যাখ্যা
• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।

উল্লেখ্য:
→ Morality শব্দটির অর্থ হল নৈতিকতা বা চরিত্রবৈশিষ্ট্য। এটি মানুষের আচরণগত মূল্যবোধ এবং সত্য-মিথ্যার বিচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
→ Philosophy শব্দটির অর্থ হল দর্শন বা জ্ঞানতত্ত্ব। এটি জীবন এবং বিশ্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
→ Principles শব্দটির অর্থ হল নীতি বা মূলনীতি। এটি সেই সব মৌলিক ধারণা বা নিয়মকে বোঝায় যা কোনো বিষয় বা প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
১,৪৭১.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. স্বচ্ছতা
  3. আইনের শাসন
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়। 

সুশাসনের বৈশিষ্ট্য: 

- গণতন্ত্র
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া 
- নৈতিক মূল্যবোধ 
- স্বচ্ছতা
- বৈধতা
- দায়িত্বশীলতা
- আইনের শাসন
- দায়বদ্ধতা 
- দক্ষতা
- স্বাধীন বিচার বিভাগ
- শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রভৃতি। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৭২.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. সরলতা
  3. দক্ষতা
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা।
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
- দায়িত্বশীলতা: দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।
- সরলতা: সরলতা একটি ব্যক্তিগত গুণ যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সরলতা সবসময় কার্যকর নয়। নৈতিকতার অভাব থাকলে সরলতা একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে।
- দক্ষতা: দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,৪৭৩.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের অপরিহার্য কার্যাবলী?
  1. ক) শিক্ষা বিস্তার
  2. খ) প্রশাসন পরিচালনা
  3. গ) সামাজিক নিরাপত্তা
  4. ঘ) জনহিতকর কার্যাবলী
ব্যাখ্যা
- আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রের কাজকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন − অপরিহার্য কার্যাবলী ও ঐচ্ছিক কার্যাবলী।
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য কার্যাবলী:-
(১) দেশরক্ষা সংক্রান্ত কাজ
(২) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কাজ
(৩) অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষ
(৪) প্রশাসন পরিচালনা
(৫) আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ
(৬) বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলী

ঐচ্ছিক কার্যাবলী:-
(১) শিক্ষা বিস্তার
(২) জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ
(৩) যোগাযোগ রক্ষা
৪) শিল্প ও বাণিজ
(৫) কৃষির উন্নতি
(৬) শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত কাজ
(৭) সামাজিক নিরাপত্তা
(৮) জনহিতকর কার্যাবলী

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি , এইচ এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৪.
একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে -
  1. শিক্ষা
  2. সঠিক নেতৃত্ব
  3. অবাধ প্রচার মাধ্যম
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল লক্ষ্য মানব উন্নয়ন।
- এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘ প্রত্যেক রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি জোর দিচ্ছে।
- একটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনী কাঠামো ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে, যা দারিদ্র বিমোচন, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গগত বৈষম্য রোধ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৭৫.
কোনটি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়?
  1. ক) সৌজন্যবোধ
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) কর্তব্যপরায়ণতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের পরিপূরক।
- মূল্যবোধের যথার্থ উপস্থিতি ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৭৬.
নাগরিকের সামাজিক অধিকার -
  1. ক) দায়মুক্তি
  2. খ) বিদেশে নিরাপত্তা লাভ
  3. গ) সরকারি চাকুরি
  4. ঘ) আইনের চোখে সমতা লাভ
ব্যাখ্যা
• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুন্দরভাবে সুখ-শান্তিতে বসবাসের জন্য নাগরিকগণ যেসব অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে সামাজিক অধিকার ভোগ বলে। যেমন - জীবন রক্ষা, মত প্রকাশ, চলাফেরা, বিনা বিচারে আটক না হওয়া, সংঘবদ্ধ হওয়া, সভা-সমিতি, চুক্তি স্থাপন, সম্পত্তি ভোগ, আইনের চোখে সমতা লাভ, শিক্ষা লাভ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, পরিবার গঠন, নিজ-নিজ সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অধিকার।
- সভ্য জীবন-যাপনের জন্য এসব অধিকার নাগরিকের জন্য অপরিহার্য। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৭.
'Good Governance' ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট?
  1. লুইস টি. প্রেস্টন
  2. বারবার কোনাবল
  3. ইউজিন মেয়ার
  4. জিম ইয়ং কিম
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance ।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,৪৭৮.
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. দুর্নীতি
  4. জবাবদিহিতার অভাব 
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৯.
আইনগত কর্তব্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় ক্রাণ তহবিলে অর্থ দান
  2. ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া
  3. নিয়মিত কর প্রদান
  4. সন্তান সন্ততিকে শিক্ষা দেয়া
ব্যাখ্যা
• আইনগত কর্তব্য (Legal Duty):
- যে কর্তব্য রাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত এবং রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা কার্যকরী করা হয় তাকে আইনগত কর্তব্য বলে।
- আইনগত কর্তব্য রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য এবং নাগরিকের কল্যাণের জন্য অত্যাবশ্যক।

আইনগত কর্তব্য:
→ নিয়মিত কর দেওয়া,
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
→ সততার সাথে ভোট প্রদান করা ইত্যাদি হলো আইনগত কর্তব্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক
১,৪৮০.
বাল্যবিবাহ নিরোধ ও শিশু সুরক্ষার হেল্প লাইন-
  1. ক) ৯৯৯
  2. খ) ৩৩৩
  3. গ) ১০৯
  4. ঘ) ১০৭
ব্যাখ্যা

- বাল্যবিবাহ নিরোধে ও শিশু সুরক্ষার মোবাইল হেল্প লাইন হচ্ছে ১০৯ বা ১০৯৮।
- বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি।
- বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী, ২১ বছরের নিচের ছেলে এবং ১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হবে।

১,৪৮১.
কোনটিকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়?
  1. সহনশীলতা
  2. গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য
  3. যথার্থ আইনের শাসন
  4. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা: 
- সহনশীলতা বা পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্রের প্রাণ।
অপরের বা অন্য দলের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
- অন্য ব্যক্তি ও দলকে মত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করতে হবে। সহনশীল মনোভাব না থাকলে গণতন্ত্র সফল হতে পারেনা।
- যে সমাজের জনগণ যত বেশি সহনশীল সে সমাজে তত বেশি গণতান্ত্রিক। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৮২.
“সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।" এটি কার অভিমত?
  1. এম. ডব্লিউ. পামফ্রে
  2. এম. আর. উইলিয়াম
  3. এইচ. ডি. স্টেইন
  4. স্টুয়ার্ট সি. ডড
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
→ যে চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকেই আমরা সাধারণত মূল্যবোধ বলে থাকি।
→ সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড যে সকল নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।

মূল্যবোধের ধারণা ও সংজ্ঞা:
- বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে মূল্যবোধের বিশেষ করে সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

স্টুয়ার্ট সি. ডড (Stuart C. Dodd) বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হলো সে সব রীতিনীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।"

→ এইচ. ডি. স্টেইন (H.D. Stain)-এর মতে, “জনসাধারণ যার সম্বন্ধে আগ্রহী, যা তারা কামনা করে, যাকে তারা অত্যাবশ্যক বলে মনে করে, যার প্রতি তাদের অগাধ শ্রদ্ধা বর্তমান এবং যা সম্পাদনের মাধ্যমে তারা আনন্দ উপভোগ করে তাকেই মূল্যবোধ বলে।”
→ এম. আর. উইলিয়াম (M.R. William)-এর মতে, “মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি প্রধান মানদণ্ড। এর আদর্শে মানুষের আচার-ব্যবহার ও রীতি-নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই মানদণ্ডে সমাজে মানুষের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করা হয়।”
→ এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৪৮৩.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) স্টুয়ার্ট মিল
  2. খ) মন্টেস্কু
  3. গ) মিশেল ক্যামডেসাস
  4. ঘ) ম‌্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি হলো সরকারের তিনটি বিভাগের (শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ) মধ্যে ক্ষমতা ও কাজকে পৃথক বা স্বতন্ত্র করে দেওয়া।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা বলা হয় ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু কে। তিনি ১৭৪৮ সালে সর্বপ্রথম তার The Spirit of Laws বইয়ে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,৪৮৪.
সুশাসন নিশ্চিতকরণে কোনটি জরুরি?
  1. ক) গণতান্ত্রিক পরিবেশ
  2. খ) সহাবস্থান
  3. গ) স্বৈরতন্ত্র
  4. ঘ) অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
১,৪৮৫.
মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে -
  1. মানবিকতার মাধ্যমে
  2. আচার-আচরণের মাধ্যমে
  3. সহমর্মিতার মাধ্যমে
  4. শ্রমের মর্যাদার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।

মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
• শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে
পারে না।

• সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি
অংশ। আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
• মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।

• শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে
পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।  

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৬.
বাংলাদেশে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয় কত সালে?
  1. ক) ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর।
  2. খ) ২০০৭ সালের ১ অক্টবর।
  3. গ) ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
  4. ঘ) ২০০৭ সালের ১ ডিসেম্বর।
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদটি বাহাত্তরের মূল সংবিধানের অংশ হলেও তা কার্যকর হয় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৪৮৭.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠে?
  1. স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র
  3. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ, চিন্তা ও সমাজ গঠনের নৈতিক মানদণ্ড।
- আর এই মূল্যবোধই একটি রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ মানুষকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।
- মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাষ্ট্র দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে।
- মূল্যবোধ মানুষ ও রাষ্ট্রকে মানবিক করে তোলে।
- তাই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে গড়ে উঠে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, যেখানে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা-
- যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে,
- যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ইত্যাদির দায়িত্ব নেয়,
- যেখানে ন্যায্যতা ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,৪৮৮.
মূল্যবোধ বলতে বুঝায়-
  1. সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিকতা
  2. মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক
  3. মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড
  4. প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলী গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- সার্বিকভঅবে, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাস। 
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৮৯.
এইচ জিগলার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেছেন?
  1. Organised Group
  2. Influence Group
  3. Pressure Group
  4. Interest Group
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন এক সংস্থাকে বুঝায়, যা কিছুসংখ্যক সাধারণ স্বার্থে আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী না বলে একে স্বার্থকামী গোষ্ঠী নামে অভিহিত করেছেন।
- অনেকে আবার এরূপ গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক গোষ্ঠী, মনোভাবকেন্দ্রিক গোষ্ঠী বলেও উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য,
⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এইচ জিগলার Interest group বলে আখ্যায়িত করেছেন।

⇒ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
• সমজাতীয় মনোভাব: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত সমজাতীয় মনোভাব সম্পন্ন হয়ে থাকে।
• বেসরকারি সংগঠন: চাপসৃষ্টিকারী দলের সদস্যগণ বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি বিশেষ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাষ্টবিজ্ঞান-৩: স্নাতক শ্রেণি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯০.
'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'- উক্তিটি কার?
  1. জেরি
  2. বটোমোর
  3. স্কট
  4. ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।

• ম্যাকাইভার এবং পেজের মতে 'আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা'
• স্কটের মতে 'সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
• বটোমোরের মতে 'সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়'।
• জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

⇒ সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯১.
'গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ' - উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক গার্নার
  3. এরিস্টটল
  4. মিলার
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থহচ্ছে জনগনের শাসন ক্ষমতা।

⇒ আব্রাহাম লিঙ্কনের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণে দ্বারা পরিচালিত,জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা।"
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯২.
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের জন্য কতটি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে?
  1. ক) ১৬টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৮টি
  4. ঘ) ২১টি
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭ নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জন্য মোট ১৮টি মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে।
তৃতীয় ভাগে ২৬-৪৭ পর্যন্ত মোট ২২টি অনুচ্ছেদ থাকলেও অধিকার সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ আছে ১৭টি এবং এদের মধ্যে মৌলিক অধিকার ১৮টি [কারণ ২৮ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার ২টি। একটি ২৮(১) এবং অপরটি ২৮(২)।
১,৪৯৩.
‘Leviathan’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. Hobes Rhly
  2. Timothy Snyder 
  3. Thomas Hobbes
  4. T.S. Eliot
ব্যাখ্যা

Leviathan:
- Leviathan গ্রন্থটির লেখক Thomas Hobbes.
- ১৬৫১ সালে প্রথম প্রকাশিত।
- বইটি 'Social Contract' বা সামাজিক চুক্তি নিয়ে লেখা।

- T.S Eliot belongs to - The Modern Period.
- ‘On Tyranny’ গ্রন্থটির লেখক Timothy Snyder।

উৎস: Britannica.

১,৪৯৪.
জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো -
  1. জনগণের উন্নতি
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. সুষম উন্নয়ন সাধন করা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের প্রধান মূল্যবোধ জনকল্যাণ ৷
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।

⇒ জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো:
• জনগণের উন্নতি,
• সামাজিক ন্যায়বিচার,
• সুষম উন্নয়ন সাধন করা।

⇒ উল্লেখ্য:
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯৫.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী কোনটি?
  1. ক) বিদেশী সংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) নগরায়ন
  4. ঘ) ছাত্র রাজনীতি
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অপসংস্কৃতি, অসুস্থ ছাত্ররাজনীতি প্রভৃতিও যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১,৪৯৬.
'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক কে?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. হার্বার্ট স্পেন্সার
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত | বিশ্ববিদ্যালয় ও Britannica.

১,৪৯৭.
জনমত বলতে নিম্নের কোনটিকে বোঝায়?
  1. সংগঠিত মতামতকে
  2. কল্যাণকামী ও যুক্তিসিদ্ধ মতামতকে
  3. প্রভাবশালী ব্যক্তির মতামতকে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- কিম্বল ইয়াং বলেন, "একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনগণ যে মতামত পোষণ করে, তাই জনমত।"
- লোয়েল বলেন, "জনমত বলে অভিহিত হওয়ার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত হওয়াই যথেষ্ট নয়, আবার সকলের ঐকমত্যেরও প্রয়োজন নেই।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"
- অস্টিন রেনি বলেন, "জনমত হল সে সকল মতের সমষ্টি যার প্রতি সরকারি কর্মচারীবৃন্দ বা আমলারা খানিকটা সজাগ এবং সরকারি কার্যাবলি নির্ধারণের সময় তারা এর গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে।"

⇒ জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৮.
সামাজিক মূল্যবোধকে ‘একটি মানদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. স্টুয়ার্ড সি. ডড
  2. নিকোলাস রেসার
  3. এইচ এম জনসন
  4. জেন লেন্নন
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব ধারণার চূড়ান্ত ব্যাপ্তি যা মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তির জীবনে একান্ত কাম্য।
- সমাজের এসব মূল্যবোধ মানুষের জীবনের জন্য লক্ষ্য ও প্রাপ্তি স্থির করতে সাহায্য করে।
- বিভিন্ন পন্ডিত মূল্যবোধকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যেমন  -

• এম. ডব্লিউ. পামফ্রে-এর মতে, “মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তি বা সামাজিক দলের অভিপ্রেত ব্যবহারের সুবিন্যস্ত প্রকাশ।”
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড”।
• ক্লাইড ব্লুখোন বলেন “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত”।
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন, “সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
• জেন লেন্নন-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ বলতে কোনো স্থান বা এলাকার ধর্মীয়, ঐতিহ্যপূর্ণ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা জাতীয় গুণাবলিকে বোঝায়, যা ঐ স্থানের অধিকাংশ বা স্বল্পসংখ্যক লোক পালন করেন।”
• নিকোলাস রেসার-এর মতে, “সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলি, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে খুশি হয়।”
• স্টুয়ার্ড সি. ডড এর মতে, “যে সব মূল্যবোধ ব্যক্তি সমাজের নিকট থেকে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট থেকে লাভ করে খুশি হয়, সেসব মূল্যবোধই সামাজিক মূল্যবোধ।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৯৯.
“জনগনের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।” - কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. ক) অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. খ) থমাস হবস্‌
  3. গ) অধ্যাপক গেটেল
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৫০০.
সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই হচ্ছে -
  1. অংশগ্রহণ
  2. স্বচ্ছতা
  3. সংবেদনশীলতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
• সংবেদনশীলতা:
→ সংবেদনশীলতা হচ্ছে শাসনযন্ত্রের এমন দক্ষতা, যোগ্যতা ও সামর্থ্য যার মাধ্যমে জনসাধারণের বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের জন্য সকল বৈধ প্রয়োজন ও দাবী-দাওয়া যথাসময়ে পূরণ করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে যথাসময়ে সাড়াদানে প্রস্তুত থাকাটাই
সংবেদনশীলতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।