বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৩ / ৩৯ · ১,২০১১,৩০০ / ৩,৮২৯

১,২০১.
অমর্ত্য সেনের 'দ্যা আইডিয়া অব জাস্টিস' গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ-
  1. ক) বিচারের ধারণা
  2. খ) সুশাসনের ধারণা
  3. গ) নীতি ও ন্যায্যতা
  4. ঘ) নৈতিকতা এবং সুশাসন
ব্যাখ্যা
‘বাঙালি পাঠকরা বইটি পড়বেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করবেন, এই আশা নিয়ে বইটি প্রকাশ করতে পেরে নিজেকে খুবই ভাগ্যবান বলে মনে করছি। সে আশা ধোপে টিকবে কি না, তা নিয়েও আমার আগ্রহের ও উৎকণ্ঠার অভাব নেই।’ সদ্য প্রকাশিত নীতি ও ন্যায্যতা-র (আনন্দ) সম্পর্কে লিখেছেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন। এটি তাঁর দি আইডিয়া অব জাস্টিস গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ।

সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকার আর্কাইভ।
১,২০২.
সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির কারণ কী?
  1. উচ্চশিক্ষা
  2. গ্রাম উন্নয়ন
  3. মূল্যবোধের অভাব
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাব হলো সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।

উল্লেখ্য,
মূল্যবোধের চর্চা ও প্রসার ঘটিয়ে ইভটিজিং এবং পর্নোগ্রাফি রোধ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন:
→ শিক্ষার প্রসার: শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফির কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
→ পারিবারিক শিক্ষা: পরিবারে সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
→ নিয়ম ও আইন প্রয়োগ: কঠোর আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৩.
নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ -
  1. রাজনৈতিক শিক্ষার প্রসার
  2. জনমত গঠন
  3. পরিকল্পনা প্রণয়ন
  4. নীতি নির্ধারণ
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়। সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম।

- নীতি নির্ধারক: নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৪.
নিচের কোনটি মূল্যবােধের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) সামাজিক মাপকাঠি
  2. খ) যােগসূত্র ও সেতুবন্ধন।
  3. গ) নৈতিক প্রাধান্য
  4. ঘ) শৃঙ্খলাবােধ
ব্যাখ্যা

মূল্যবােধের বৈশিষ্ট্য – সামাজিক মাপকাঠি, যােগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা, পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
অন্যদিকে, নীতি ও ঔচিত্যবােধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবােধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি মূল্যবােধের ভিত্তি বা উপাদান।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বাের্ড বই

১,২০৫.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. স্থানীয় সরকার
  3. সরকারি কর্ম কমিশন
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দিয়ে প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- ১৮ অক্টোবর ২০১২ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৌশলপত্রটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

• শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

• অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৬. গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,২০৬.
'Political Ideals' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. প্লেটো 
  2. এরিস্টটল
  3. মেকিয়াভেলি
  4. বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন, যা ছিল তার 'মানবতার আদর্শ ও চিন্তার মুক্তি'কে ওপরে তুলে ধরা তার বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ।

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০৭.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. ক) অধ্যাপক ফাইনার
  2. খ) অধ্যাপক মাইরন উহনার
  3. গ) অ্যালমন্ড ও পাওয়েল
  4. ঘ) এলান পটার
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- (তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,২০৮.
সর্বপ্রথম 'সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করে -
  1. জাতিসংঘ
  2. বিশ্বব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো: দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন প্রত্যয়টি' ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা' পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২০৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় কোনটি?
  1. অন্যের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা ও গুরুত্ব দেয়া
  2. অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন
  3. আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা
  4. সততার সাথে কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।
→ দক্ষ জনশক্তি।
→ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
→ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
আইনসভাকে গতিশীল ও কার্যকর করা

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৮. নৈতিকতা, 
১,২১০.
মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ নিয়ে কোন শাস্ত্র আলোচনা করে?
  1. পৌরনীতি ও সুশাসন
  2. অর্থনীতি
  3. নীতিশাস্ত্র
  4. ইতিহাস
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্র: 
- নাগরিকতা ও জাতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দিক নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে পৌরনীতি ও সুশাসন বলে।
- অপরদিকে মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি এবং আচার-আচরণের ভালো-মন্দ নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে নীতিশাস্ত্র বলে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং নীতিশাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি: 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতির লক্ষ্য অনেকটা এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
- কীভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়, কীভাবে সুনাগরিক হওয়া যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ কী কী ইত্যাদি বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে।
- অপরদিকে অসীম অভাবের মাঝে সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করা যায় অর্থনীতি তারই শিক্ষা প্রদান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 
১,২১১.
একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ কোনটি?
  1. কর্মদক্ষতা
  2. জনকল্যাণ
  3. স্বাধীনতা
  4. ক্ষমতা
ব্যাখ্যা

মৌলিক মূল্যবোধ:
- একজন প্রশাসকের মৌলিক মূল্যবোধ হচ্ছে জনকল্যাণ।
- এটি নির্দেশ করে যে প্রশাসক তার সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
- জনকল্যাণের উদ্দেশ্য হলো জনগণের উন্নতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং সুষম উন্নয়ন সাধন করা।
- ক্ষমতা প্রশাসকের কাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু যদি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, তবে এটি অপ্রয়োজনীয় হতে পারে।
- স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি প্রশাসকের কাজে জনকল্যাণের সাথে সম্পর্কিত নয়। স্বাধীনতা প্রশাসকের কার্যক্রমের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করে।
- কর্মদক্ষতা একটি প্রশাসকের প্রয়োজনীয় গুণ, তবে এটি মূল মূল্যবোধ নয়; এটি জনকল্যাণ সাধনের জন্য একটি সহায়ক গুণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১২.
জেরেমি বেন্থাম কোন তত্ত্বের প্রকৃত প্রবক্তা?
  1. Virtue Ethics
  2. Deontology
  3. Utilitarianism
  4. Existentialism
ব্যাখ্যা

জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম একজন ইংরেজ দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, এবং তাত্ত্বিক আইনবিদ।
- তিনি ছিলেন উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা।
- বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়।
- বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'। 
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

⇒ Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা। এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।

অন্যদিকে,
- Deontology-এর প্রবক্তা ইমানুয়েল কান্ট।
- Virtue Ethics-এর প্রধান প্রবক্তা অ্যারিস্টটল।
- Existentialism-এর প্রধান প্রবক্তা সোরেন কিয়ের্কেগার্ড।

উৎস: i) Sitaram Mahato Memorial College.
ii) নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) Britannica.

১,২১৩.
কোন উপাদানটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করে?
  1. স্বচ্ছতা
  2. গণতন্ত্র
  3. দায়িত্বশীলতা
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছতা (Transparency):
- স্বচ্ছতার অর্থ পরিস্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। দ্বৈত অর্থবোধকতার অনুপস্থিতিই হলো স্বচ্ছতা। শাসন ব্যবস্থার আইন কানুন, নীতি বা সিদ্ধান্ত যদি স্পষ্ট, পরিস্কার বা স্বচ্ছ হয়, যদি এর একাধিক অর্থ বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ না থাকে তাহলে তা সহজেই জনগণের বোধগম্য হয়। নীতি বা সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

অন্যদিকে,
• গণতন্ত্র (Democracy):
- গণতন্ত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ। সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• দায়িত্বশীলতা (Responsibility):
- সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। এর অর্থ হলো সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কর্মকাণ্ডের দায়িত্বশীলতা। সরকারের শাসন বিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট দায়ী থাকে। এভাবে পরোক্ষভাবে শাসন কর্তৃপক্ষ জনগণের নিকটই দায়ী থাকে।

• দক্ষতা (Efficiency):
- দক্ষতার অর্থ হলো প্রাপ্ত সম্পদের ও উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা অর্জন। অবাধ তথ্য সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান, দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব, কর্তব্যবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, কাজের আগ্রহ, কাজে ফাঁকি দেয়ার অভ্যাস বা বিলম্বে যোগ দেয়ার বদ্‌অভ্যাস পরিত্যাগ, সততা ইত্যাদি বজায় থাকলে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২১৪.
United Nations Convention Against Corruption কার্যকর হয় কবে?
  1. ক) ২০০২ সালে
  2. খ) ২০০৫ সালে
  3. গ) ২০০৩ সালে
  4. ঘ) ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) হলো জাতিসংঘ গৃহিত দুর্নীতি রোধ বিষয়ক বৈশ্বিক কনভেনশন।
- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এটির অংশীদার।
(সূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,২১৫.
নীতিবিদ্যা কী ধরনের মানব আচরণ নিয়ে আলোচনা করে?
  1. আবেগজনিত আচরণ 
  2. শারীরিক আচরণ 
  3. ঐচ্ছিক আচরণ 
  4. সামাজিক আচরণ
ব্যাখ্যা

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics শব্দটি গ্রিক শব্দ Ethos থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো ঐচ্ছিক আচরণ।
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যা হলো মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
- নীতিবিদ্যা মানুষের ঐচ্ছিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।
- ঐচ্ছিক আচরণ হলো মানুষের সেসব আচরণ, যেগুলো মানুষ স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
- Morality শব্দটির অর্থ হল নৈতিকতা বা চরিত্রবৈশিষ্ট্য। এটি মানুষের আচরণগত মূল্যবোধ এবং সত্য-মিথ্যার বিচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- Philosophy শব্দটির অর্থ হল দর্শন বা জ্ঞানতত্ত্ব। এটি জীবন এবং বিশ্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
- Prnciples শব্দটির অর্থ হল নীতি বা মূলনীতি। এটি সেই সব মৌলিক ধারণা বা নিয়মকে বোঝায় যা কোনো বিষয় বা প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করে।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।

১,২১৬.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে -
  1. শক্তিশালী সরকারের ওপর
  2. সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর
  3. রাজনৈতিক দলের ওপর
  4. বিচার বিভাগের ওপর
ব্যাখ্যা

জনমত:
- সাধারণ অর্থে কোন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতকে 'জনমত' বলা হয়।
- সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি, নাগরিক জীবন, সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে প্রভাবশালী, যুক্তিযুক্ত, সুস্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, সহজবোধ্য এবং কল্যাণকামী মতামতকে জনমত বলা হয়।
- গণতন্ত্রের বিকাশের সাথে জনমতের ধারণা ও বিকাশ লাভ করে।

⇒ জনমত হচ্ছে কল্যাণকামী, বলিষ্ঠ, যুক্তিভিত্তিক, সুস্পষ্ট মতামত, যা সরকার ও জনগণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।
- আধুনিক গণতন্ত্র হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ হল জনমত।
- সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের ওপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে। 

⇒ লর্ড ব্রাইস বলেন, "জনমত হল সম্প্রদায়ের স্বার্থ-সংশিষ্ট বিষয়ে জনগণের অভিমতের সমষ্টি।"
- জিনস্ বার্গ বলেন, "জনমত হল সমাজের বিভিন্ন মতের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফল।"
- ই.এম. সেইট বলেন, "জনমত বলতে আমরা এই বুঝি যে, এটি হল জনসমষ্টির মত, জনগণেরই মত।"
- এল. ডবিউ, ডুব বলেন, "একই সামাজিক সংগঠনের সভ্য হিসেবে জনগণের মতামতই জনমত।"
- জন স্টুয়ার্ট মিল বলেন, "কোন সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার উপর জনগণের সংগঠিত অভিমতের নাম জনমত।"

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৭.
ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত?
  1. পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি
  2. অর্থনৈতিক উন্নতি
  3. ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রাধান্য
  4. ধর্মীয় নিয়মের প্রতি আনুগত্য
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

⇒ ন্যায়পরায়ণতার নৈতিক মূলনীতি হলো:
- পুরস্কার ও শাস্তির ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রয়োগ।
- আইনের শাসন।
- অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে সমতার নিশ্চিতকরণ।

উৎস: i) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২১৮.
'সুশাসন' প্রত্যয়টি জন্ম নেয় ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক ____ সরকারগুলোর ব্যর্থতার ভিত্তিতে।
  1. ইউরোপের
  2. এশিয়ার
  3. আফ্রিকার
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
১,২১৯.
দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় কোনটি?
  1. অধিক শিল্পায়ন
  2. সুশাসন
  3. সামরিক শক্তি 
  4. বৈদেশিক সাহায্য
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন:
- সুশাসন ও জাতীয় উন্নয়ন পরস্পর সম্পূরক।
- জাতীয় উন্নয়নে সুশাসনের উপস্থিতি সার্বিক উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের রূপান্তরিত করে।
- তাই দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হলো সুশাসন।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২২০.
'The Social Contract' এর রচয়িতা -
  1. ক) বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. খ) টমাস হবস
  3. গ) জ্যা জ্যাক রুশো
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• 'The Social Contract' ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।
তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত বই - 
- A Discourse Upon the Origin and Foundation of the Inequality Among Mankind
- A Discourse on the Sciences and the Arts
- Confessions
- Emile: or, On Education

অন্যদিকে, 
• সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত ‘The Leviathan’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
• 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
১,২২১.
বিশ্বব্যাংক কত সালে প্রথম “Governance : The World Bank Experience” প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ক) ১৯৯১
  2. খ) ১৯৯৩
  3. গ) ১৯৯৪
  4. ঘ) ১৯৯২
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসন ধারণাটি সুম্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংক ''Governance : The World Bank Experience'' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
উৎসঃ বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
১,২২২.
শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে __________।
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. আত্মসংযম
  4. সহানুভূতিশীলতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Morality.
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধ একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

নৈতিকতার সংজ্ঞা:
- নীতিবিদ ম্যুর বলেছেন, 'শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।'

- নৈতিকতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Collins English Dictionary-তে বলা হয়েছে যে,
'Morality is concerned with on negating to human behaviour, esp. the distinction between good and bad and right and wrong behaviour,

- Cambridge International Dictionary of English-তে বলা হয়েছে যে, নৈতিকতা হলো-
'ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।'

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,২২৩.
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কোনটি বিদ্যমান থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়?
  1. নেতৃত্বের বৈধতা
  2. দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব
  3. নেতৃত্বের সংযমতা
  4. দুর্বল নেতৃত্ব
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব: 
- নেতৃত্ব বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- নেতৃত্ব একটি সামাজিক গুণ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রকে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিচালিত করাই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য।
- সুসংহত ও পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছাসম্পন্ন নেতৃত্ব।
- গণতান্ত্রিক নেতৃত্বই সুশাসনের নিশ্চয়তা দিতে পারে।
- সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ নেতৃত্ব চালকের আসনে থেকে কার্যকর নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
- নেতৃত্বের বৈধতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- নেতৃত্বের বৈধতা বলতে বোঝায় নেতৃত্বের প্রতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আস্থা।
- সাধারণত নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব বৈধতা অর্জন করে।
- এ জন্য বলা হয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হলো বৈধ নেতৃত্ব।

⇒ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, দূরদৃষ্টি, বুদ্ধিমত্তা, উদারতা, অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়নীতিপরায়ণতা, দায়িত্ববোধ, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, স্বার্থহীনতা, শিক্ষা, বাগ্মিতা ও উত্তম শ্রোতা, কথা ও কাজের মিল, আত্মসংযম, সত্য ও সুন্দরের পূজারী, মানসিক ও দৈহিক সুস্থতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২২৪.
জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ শিক্ষার গুরুত্ব কী?
  1. জাতীয় সম্পদ অপব্যবহার করা
  2. ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া
  3. সামাজিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা
  4. জনসাধারণকে আইন অমান্য করতে উৎসাহিত করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও জাতীয় উন্নয়ন:

- জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে মূল্যবোধ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি সমাজে শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে, যা জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- এটি জনসাধারণকে আইন মেনে চলার এবং নিজেদের কার্যক্রমে সৎ ও নৈতিক হতে উদ্বুদ্ধ করে।
- ফলে সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,২২৫.
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. শ্রমের মর্যাদা
  3. নৈর্ব্যক্তিকতা
  4. সামাজিক মানদন্ড
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- সামাজিক মাপকাঠি,
- যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন,
- নৈতিক প্রাধান্য,
- বিভিন্নতা,
- বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা,
- পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা ইত্যাদি।

মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- সহনশীলতা,
- সহমর্মিতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- আইনের শাসন ইত্যাদি

তথ্যসূত্র -  উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,২২৬.
‘Know Thyself' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1. সক্রেটিস
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. এরিস্টটল
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা
• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার ইতিহাসে গ্রীক দর্শন গোটা বিশ্বের দর্শন ও সভ্যতাকে প্রভাবিত করেছে।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা। 
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।
- সক্রেটিস এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের নিজের সীমা, জ্ঞান ও নিজস্বতা উপলব্ধির ওপর জোর দেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৭.
নিচের কোনটি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে?
  1. গণমাধ্যম
  2. সংবিধান প্রতিপালন
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
• সংবিধান মান্যতা:
- স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে - সংবিধান প্রতিপালন।
- সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনগণের অধিকারের দলিল।
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা হলে জনগণের স্বাধীনতা সহজেই নিশ্চিত হয়।
- যেমন, বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে জনগণের অনেক অধিকার ও স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৮.
জাতিসংঘের কোন প্রতিষ্ঠান সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. ক) UNESCO
  2. খ) UNDP
  3. গ) UNHCR
  4. ঘ) UNICEF
ব্যাখ্যা
UNDP:
- UNDP
১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- সংস্থাটির মতে, 'যে শাসনে আইন- শৃঙ্খলা রক্ষিত থাকে, সম্পদ ও অধিকার রক্ষার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়, বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়, মৌলিক পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়, দরিদ্রকে সেবা প্রদান করা হয় এবং সর্বোপরি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় তাকে সুশাসন বলে।'
- UNDP সুশাসনের ৯টি উপাদানের উল্লেখ করে।
- এগুলো হলো:
•স্বচ্ছতা,
• আইনের শাসন,
• সকলের অংশগ্রহণ,
• সংবেদনশীলতা,
• সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
• সমতা,
• ন্যায্যতা,
• জবাবদিহিতা এবং
• কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP এর ওয়েবসাইট।
১,২২৯.
সমাজে 'যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করে-
  1. সুশাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল। 

মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
সামাজিক মাপকাঠি:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন:
- মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
- একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

নৈতিক প্রাধান্য:
- মূল্যবোধ আইন নয়।
- এর বিরোধিতা বেআইনি নয়।
- এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
- মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

বিভিন্নতা:
- মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
- যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা:
- মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।
- আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা:
- মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা।
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল।
- আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়।
- অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন।
- যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা।
- আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।
= মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৩০.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কীরূপ?
  1. সাংঘর্ষিক
  2. নেতিবাচক
  3. ইতিবাচক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন মানে সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য প্রশাসন যা নীতি, ন্যায়বিচার, এবং জনকল্যাণের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- মূল্যবোধ হলো সমাজের নীতি ও আদর্শ যা মানুষের আচরণ ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই নৈতিকতা, সততা, এবং ন্যায়ের মূল্যবোধ মেনে চলে।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ পরস্পরকে শক্তিশালী করে।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণের বিকাশ ঘটায়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১,২৩১.
সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় যে গ্রন্থে -
  1. The Prince
  2. Leviathan
  3. The Spirit of Laws
  4. The Republic
ব্যাখ্যা

সুশাসনের ধারণা:
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় 'The Republic' গ্রন্থে।
- The Republic গ্রন্থটির লেখক প্লেটো। 

অন্যদিকে -
- 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু। তিনি এই গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- টমাস হবসের গ্রন্থের নাম Leviathan.
- পিয়েরে ল্যান্ডেল মিলস্ এবং ইসমাইল সেরাজেলডিন তাদের লিখিত ‘Governance and the Eternal Factor' নামক প্রসিদ্ধ গ্রন্থে বলেছেন যে, 'গভর্ন্যান্স বলতে বোঝায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার যা একটি রাষ্ট্রকে পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে জনগণের সুষ্ঠু চাহিদা ও তাদের বৈধ অধিকার উপভোগের বাধ্যবাধকতা'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

১,২৩২.
“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি কার?
  1. স্যার হেনরি মেইন
  2. জন অস্টিন
  3. এ্যারিস্টটল
  4. উইলসন
ব্যাখ্যা

“সার্বভৌম শক্তির আদেশই আইন”— এ সংজ্ঞাটি জন অস্টিনের। 

আইনের প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- গ্রিক দার্শনিক এ্যারিস্টটলের মতে, "আইন হল পক্ষপাতহীন যুক্তি।"
- স্যার হেনরি মেইনের মতে, "আইন হল পরিবর্তনশীল, ক্রমাউন্নতিমূলক, ক্রমবর্ধমান ও দীর্ঘকালীন সামাজিক প্রথার গতির ফল।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, "আইন হল মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণের এমন কতগুলো সাধারণ নিয়ম যা সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃত্ব দ্বারা প্রযুক্ত হয়।"
- আইনের সার্বজনীন ও উৎকৃষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন। তাঁর মতে, "আইন হল সমাজের সে সব সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও রাষ্ট্র কর্তৃক গৃহীত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যাদের পিছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।"
- অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।’

উৎস: i) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১,২৩৩.
“আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”- উক্তিটি কার?
  1. টমাস হব্স
  2. জন অস্টিন
  3. অধ্যাপক গেটেল
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।

আইনের বিভিন্ন সংজ্ঞা:
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২৩৪.
সামাজিক আচরণের দিক দিয়ে কাম্য মূল্যবোধ হলো -
  1. দেশপ্রেম
  2. সুনাগরিকতা
  3. দলগত বিশ্বস্ততা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের উৎস:
- মূল্যবোধের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ জেনেটিক্যালি নির্ধারিত হয়।
- তথাপি মূল্যবোধের বৈচিত্রতার ক্ষেত্রে পরিবেশগত উপাদান ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।
- মূল্যবোধকে একটি প্রত্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে: নীতি, মান ও বিশ্বাস।
- এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান; ভাল-মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বিচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা। এ উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ বংশগতি থেকে পেয়ে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সামাজিক আচরণের দিক দিয়ে কাম্য মূল্যবোধ হচ্ছে সুনাগরিকতা, দলগত বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা, স্বার্থত্যাগ, দেশপ্রেম ইত্যাদি।
- সামাজিক বিভিন্ন আচরণের উপর ভিত্তি করে নানা স্তরের মূল্যবোধ তৈরি হয়।
- সমাজতত্ত্ব ও শিক্ষাতত্ত্বের মধ্য দিয়েও ব্যক্তির মূল্যবোধ প্রভাবিত হয়ে থাকে।
- পরিবারের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সমাজ অনুমোদিত মূল্যবোধ আহরণ ও আয়ত্ত করতে সহায়তা করে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি,
- মূল্যবোধ গড়ে ওঠার পেছনে যেসব সহায়ক কাজ করে তা হলো- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনকানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চর্চা, সংগঠন ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সভাসমিতি, সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, সামাজিক অনুষ্ঠান, নাগরিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ইত্যাদি।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৫.
কীভাবে মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. আচরণ
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য,
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়। জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয়।
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৩৬.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" উক্তিটি করেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. লর্ড অ্যাকটন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী।
যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই” (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৭.
মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই-
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা 
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ এর নির্দিষ্ট কোন মাপকাঠি বা যৌক্তিকতা প্রমাণের সুযোগ নেই।
- কেননা একজনের কাছে যা আর্দশ, তা অন্য জনের কাছে বিরক্তির কারণও হতে পারে।
- তবে অনেকের মতে মানবিক গুনাবলী এবং সঠিক বিবেক-বুদ্ধির বহিঃপ্রকাশই মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন (H.M. Johnson) এর মতে "সামাজিক মূল্যবোধ হল একটি মানদন্ড"।
- ক্লাইড কুখোন বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত"।
- সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল (F. E. Meril) বলেন "সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৮.
Red Tapism বা 'লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এর সাথে সম্পর্কিত কোনটি?
  1. স্থানীয় প্রশাসন
  2. আমলাতন্ত্র
  3. বিচার ব্যবস্থা
  4. কেন্দ্রীয় প্রশাসন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- Red Tapism বা 'লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্র এর সাথে সম্পর্কিত
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy.
- আমলাতন্ত্র হল একটি সংস্থা, যা সরকারী বা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, বিভিন্ন নীতিনির্ধারক বিভাগ বা ইউনিট নিয়ে গঠিত।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আমলাতন্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- তাই ম্যাক্স ওয়েবারকে আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বলা হয়।

আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য:
- টাস্ক স্পেশালাইজেশন,
- নিয়ম এবং প্রয়োজনীয়তা,
- অনুক্রমিক কর্তৃপক্ষ,
- কর্মজীবন অভিযোজন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৯.
লর্ড ব্রাইসের মতে আইন মান্য করার কারণ নয় কোনটি?
  1. শাস্তির ভয়
  2. সহানুভূতি
  3. নির্লিপ্ততা
  4. যুক্তিহীনতা
ব্যাখ্যা
- লর্ড ব্রাইসের মতে যুক্তিহীনতা আইন মান্য করার কারণ নয়। 

আইন মান্য করার কারণ:

- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
৩. নির্লিপ্ততা
৪. সহানুভূতি
৫. শাস্তির ভয়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪০.
কোনটি ‘সার্বভৌম ও সর্বোচ্চ’ ক্ষমতার অধিকারী?
  1. রাষ্ট্র 
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সরকার
  4. আমলাতন্ত্র 
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান।
- প্রত্যেকটি মানুষ কোন না কোন রাষ্ট্রের সদস্য।
- রাষ্ট্রের স্থায়িত্বের জন্য জনমত ও জনগণের ইচ্ছা একান্ত প্রয়োজন।
- প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ইচ্ছার উপর।
- রাষ্ট্র হচ্ছে নাগরিক জীবনের অন্যতম একটি সংঘ।
- সভ্যতার বিকাশে মানুষ যত রকম সংঘ গঠন করছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং শক্তিশালী সংঘ হচ্ছে রাষ্ট্র।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্র সর্বোচ্চ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।
- এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
- রাষ্ট্র একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী এবং একটি বলপ্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

⇒ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে- (১) জনসমষ্টি (২) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (৩) সরকার ও (৪) সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না।

উৎস: i) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪১.
”আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি” উক্তিটি করেন- 
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. এরিস্টটল
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. জন অস্টিন
ব্যাখ্যা

- "আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

সুশাসন: 

- আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন।
- তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী। যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

এছাড়াও,
- "আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ" উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- "আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- "আইন হলো আবেগ বিবর্জিত যুক্তি”- উক্তিটি করেন এরিস্টটল।
- "আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান" বলেছেন অধ্যাপক ডাইসি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪২.
নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. দ্য প্রিন্স
  2. রিপাবলিক
  3. লেভিয়াথান
  4. দাস ক্যাপিটাল
ব্যাখ্যা

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:
- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ইতালির ফ্লোরেন্স নগরীতে ১৪৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন নিকোলো।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।
- ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য,
- নিকোলো মেকিয়াভেলি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, উপদেষ্টা, নাট্যকার, কবি, দার্শনিক, ঐতিহাসিক, সামরিকবিদ ও আরও অনেক কিছু।
- তাকে আধুনিক রাজনীতি ও দর্শনের জনক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেরও প্রতিষ্ঠাতা।

⇒ তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম:
- The Prince,
- Discourses on Livy,
- The Life of Castruccio Castracani of Lucca,
- Florentine Histories,
- Lettera to Francesco Vettori,
- The Portable Machiavelli,
- The Complete Art of War ইত্যাদি।

⇒ ১৫১৩ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন তার বিশ্বখ্যাত 'The Prince'। দ্য প্রিন্স-এর মূল বিষয় হলো কীভাবে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা যায় তার চিন্তাপূর্ণ বিশ্লেষণ। পুস্তকটি ছোট-বড় ২৬টি অধ্যায় নিয়ে রচিত। তা ছাড়া শুরুতে রয়েছে একটি উৎসর্গপত্র। ইতালির বিখ্যাত মেডিসি পরিবারের অন্যতম শাসক লরেঞ্জো ডে মেডিসির নামে গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৪৩.
“যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই” উক্তিটি কার?
  1. হার্বাট
  2. আর্নেস্ট বার্কার
  3. ডাইসি
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
আইন ও স্বাধীনতা:
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক সংক্রান্ত দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদ প্রচলিত রয়েছে।
- এরিস্টটল, মন্টেস্কু, উইলোবি, বার্কার, লক প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
- হার্বাট, এ ভি ডাইসি প্রমুখ মনে করেন আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।
- জন লকের মতে, “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতাও নেই।”
- আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই”।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৪.
বিশ্বব্যাংক কত সালে সুশাসন প্রত্যয়টি সর্বপ্রথম ব্যবহার করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

• সুশাসন:
- সুশাসনকে একক কোনো ধারণার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত বা বিশ্লেষণ করা যায় না।
- কেননা সুশাসনের ধারণাটি হলো বিহুমাত্রিক।
- বিভিন্ন তাত্ত্বিক, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থা সুশাসন ধারণাটির সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
- সুশাসন ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে সুশাসন ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এতে উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়ন চিহ্নিত করা হয় এবং বলা হয় যে, সুশাসনের অভাবেই এরূপ অনুন্নয়ন ঘটেছে।
- শুধু তাই নয়, সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা পূরণের শর্তে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ঋণ সাহায্য ও প্রকল্প সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তথ্যসূত্র:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক। 

১,২৪৫.
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ?
  1. খাদ্যে ভেজাল
  2. নারী নির্যাতন
  3. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৬.
কোনটি সুশাসনের অনুপস্থিতিতে সমাজ যে ‘hidden cost’ বহন করে তার উৎকৃষ্ট উদাহরন?
  1. কর আদায়ের হার বৃদ্ধি
  2. মেধা পাচার
  3. অবকাঠামো সম্প্রসারন
  4. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

● সুশাসনের অনুপস্থিতিতে সমাজ যে ‘hidden cost’ বহন করে, তার অন্যতম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো মেধা পাচার। 

সুশাসন:
- সুশাসন বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে শাসন এর স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
- বস্তুত বর্তমান সময়ে সুশাসনের বিষয়টি চিন্তাজগতে কেবল ভালো লাগা বা না লাগার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সুশাসনের বিষয়টি এমন এক কার্যকরী প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে যে, যখন সম্পূর্ণ অর্থে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়।
- শাসন তখনই ভালো বা সুশাসন হয় যখন তা নিঃস্ব ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপকার বা মঙ্গল করে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক। 

⇒ সুশাসনের অভাব বলতে  দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, মেধাবীদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না দেওয়া ইত্যাদি বোঝায়।
- সুশাসনের অনুপস্থিতিতে দক্ষ ও মেধাবী মানুষেরা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান।
- এর ফলে সমাজ বা দেশকে বহন করতে হয়: শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের অপচয় (দেশের টাকায় শিক্ষিত করে পরে অন্য দেশ লাভবান হয়), দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি (উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা, নেতৃত্বের অভাব), সমাজের উন্নয়নের গতি কমে যাওয়া।
- উল্লেখ্য, এটি একটি hidden cost কারণ এর ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান নয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি।
- বিশ্বব্যাংক, UNDP এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর গবেষণায় এটিকে সুশাসনের অভাবের অন্যতম প্রধান পরোক্ষ খরচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য,
• মেধা পাচার:
- দেশের মেধাবী মস্তিষ্কগুলো যখন উন্নতর জীবনযাপন কিংবা উচ্চতর গবেষণার জন্য উন্নত দেশে পাড়ি জমায় এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে রয়ে যায়, সেটিই ব্রেন ড্রেন বা মেধা পাচার।
- একজন মেধাবী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারে। তবে যখন এসব মেধাবী নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে যান, তখনই তাঁর দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ে।
- বাংলাদেশকে একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার আগে প্রয়োজন মেধা পাচার বন্ধ করা। 

উৎস: i) প্রথম আলো পত্রিকা।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৭.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে -
  1. আশির দশকের প্রথমার্ধে
  2. আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে
  3. নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে
  4. নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে "সুশাসন" ধারণাটি চালু করে এবং এটিকে তাদের প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।

⇒ আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

⇒ ‘সুশাসন’ হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- ‘সুশাসন’ হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।
১,২৪৮.
গণতান্ত্রিক মূল্যবােধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নয় কোনটি?
  1. নৈতিকতা
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. আত্নসংযম
  4. পরমত সহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদন্ড ও নীতি।
মূল্যবোধের শ্রেণীবিভাগ হলো-
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ,
- ধর্মীয় মূল্যবোধ,
- সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আধুনিক মূল্যবোধ,
- আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ।

- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুণাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম ও ২য় পত্র); মো. মোজাম্মেল হক এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,২৪৯.
কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য নয়?
  1. ক) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
  2. খ) দরিদ্রকে সাহায্য করা
  3. গ) সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
  4. ঘ) বাবা মাকে শ্রদ্ধা করা
ব্যাখ্যা
• নাগরিকের নৈতিক কর্তব্যঃ
- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,
- দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসা,
- দরিদ্রকে সাহায্য করা,
- বাবা মাকে শ্রদ্ধা করা ইত্যাদি।

• নাগরিকের আইনগত কর্তব্যঃ
- নিয়মিত কর দেয়া,
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা,
- সততার সাথে ভোটদান ও গ্রহণ করা ইত্যাদি।

• নাগরিকের সামাজিক কর্তব্যঃ
- সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি
- সন্তানকে শিক্ষাদান
- সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলা
- সামাজিক প্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনা ইত্যাদি।

• নাগরিকের রাজনৈতিক কর্তব্যঃ
- রাষ্ট্রপতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- সততার সাথে ভোটাধিকার প্রয়োগ
- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসা ইত্যাদি।
১,২৫০.
ই-গভর্নেন্সের ফলে-
  1. সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায়
  3. সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ই-গভর্নেন্স:
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরূপ ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌঁছানোকেই ই-গভর্নেন্স বলে।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৫১.
প্লেটোর ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সততা
  2. প্রজ্ঞা
  3. সাহস
  4. ন্যায়
ব্যাখ্যা
সদ্গুণ:
- ইংরেজিতে যাকে Virtue বলে বাংলায় তাকেই আমরা সদ্গুণ বলি।
- এই হিসেবে মানুষের চরিত্রের যে সব লক্ষণগুলো তার চরিত্রের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে তাদেরকেই সদ্গুণ বলা হয়।
- প্লেটো ৪টি প্রধান সদ্গুণের (Cardinal Virtues) কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়। সততা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। 
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
 
উল্লেখ্য,
- অ্যারিস্টটলের মতে এই সদ্গুণগুলো অভ্যাসের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং কম বেশি স্থায়ী মেজাজের রূপ নেয়।
- তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সদ্গুণ এবং নৈতিক সদগুণের মধ্যে পার্থক্য করেছিলেন।
- নৈতিক সদ্গুণের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, সময় এবং সমাজভেদে এগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।
- অ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত পুস্তক 'নিকোমেকীয়ান এথিক্স' এ সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।

সূত্র: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫২.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. লাস্কি 
  2. রুশো 
  3. জন লক
  4. লক ম্যাকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা

• স্বাধীনতা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকগণ নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম সংক্রান্ত স্বাধীনতা।
- সাধারণত স্বাধীনতার আন্দোলন বা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতি স্বাধীনতা লাভ করে। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি,  বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৩.
বার্ট্রান্ড রাসেল কোন দেশের অধিবাসী?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) অস্ট্রিয়া
ব্যাখ্যা
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২-১৯৭০) যুক্তরাজ্যের একজন বিখ্যাত দার্শনিক, যুক্তিবিদ ও সমাজ সংস্কারক।
- তিনি ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- তার রচনার মধ্যে Principia Mathematica, Power : A New Social Analysis ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,২৫৪.
আইনগত সাম্যের মূল কথা হচ্ছে -
  1. সকল মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে
  2. আইনের চোখে সকলেই সমান
  3. যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন
  4. সকল নাগরিকের সমান অধিকার থাকা
ব্যাখ্যা
• আইনগত সাম্য (Legal Equality):
- 'আইনের চোখে সকলেই সমান' এটিই হচ্ছে আইনগত সাম্যের মূল কথা। সমাজে যখন বৈষম্যমূলক আইন থাকে না, সকল মানুষের আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ থাকে তখনই আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় । আইনের অনুশাসন অর্থাৎ বিনা অপরাধে গ্রেফতার এবং বিনাবিচারে আটক না রাখার বিধান কার্যকর হলে আইনগত সাম্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৫.
বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কোন সংস্থা?
  1. ক) এডিবি
  2. খ) ইউএনডিপি
  3. গ) আইডিএ
  4. ঘ) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
• দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে। ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
• বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
• শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন  ্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার - এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধমীর্য় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।   

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৬.
শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কোনটি?
  1. ঘন ঘন আইনের সংস্কার
  2. নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি
  3. নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়
  4. আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

● শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল - নৈতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্নয়।

শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি এবং আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড।
- শিষ্টাচার, সততা, আইনের শাসন, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ, সরকার ও রাষ্ট্রের কল্যাণমুখিতা, নাগরিক সচেতনতা ও কর্তব্যবোধ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।

⇒ শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিক করার অর্থ হলো সেগুলোকে শুধু বাহ্যিক নিয়ম বা শাস্তির ভয়ে নয়, বরং অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী করে তোলা।
- এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নৈতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়।

⇒ মানুষের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার নামই নৈতিক শিক্ষা। সেই সঙ্গে অপরাধ না করা এবং পাপ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার নামই নৈতিকতা। আত্মসংযম ও অন্যের মঙ্গল ভাবনাই নৈতিক শিক্ষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হলো একটি সুশৃঙ্খল, কাঠামোগত এবং পর্যায়ক্রমিক জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া যা নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- নৈতিক শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমেই শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করা যায়।

এছাড়াও,
- শাসন ব্যবস্থায় মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক করার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন ও তার কঠোর বাস্তবায়ন। এটি সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে। 

উৎস: i) Transparency International Bangladesh ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
iii) যুগান্তর পত্রিকা।

১,২৫৭.
জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে কয়টি উপাদানের কথা বলেছে?
  1. ৯ টি
  2. ১১ টি 
  3. ৮ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
• জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে।
- উপাদানগুলো হলো:
- অংশগ্রহণ;
-মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
- জবাবদিহিতা;
- স্বচ্ছতা;
- দায়বদ্ধতা;
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
- ন্যাযতা; এবং
- আইনের শাসন।

উল্লেখ্য,
- বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪ টি উপাদানের কথা বলেছে।
- UNDP সুশাসনের ৯টি উপাদানের কথা বলেছে।


উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,২৫৮.
নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস কোনটি? 
  1. পারিবারিক শিক্ষা
  2. সমাজের সংস্কৃতি
  3. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
  4. রাষ্ট্রীয় আইন
ব্যাখ্যা
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পারিবারিক শিক্ষা।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য,
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২৫৯.
রাষ্ট্র ও সরকারের জনকল্যাণমুখীতার অনুপস্থিতি কী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. ক) ন্যায়বিচারের অভাব
  2. খ) সামাজিক অসমতা
  3. গ) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  4. ঘ) দায়িত্ববোধের অভাব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্র ও সরকারের জনকল্যাণমুখীতার অনুপস্থিতি মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূল্যবোধের অনুপস্থিতি বা নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো মূল্যবোধের অবক্ষয়। মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকে এই মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করা।
[সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক]]
১,২৬০.
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত কোন স্বাধীনতা অর্থহীন?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. আইনগত
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

সাম্যের প্রকারভেদ:
- সাম্য বিভিন্ন রকমের হতে পারে।
- যথা: (ক) সামাজিক সাম্য, (খ) রাজনৈতিক সাম্য, (গ) অর্থনৈতিক সাম্য, (ঘ) আইনগত সাম্য। 

⇒ সামাজিক সাম্য:
- সামাজিক সাম্য হচ্ছে এমন একটি পরিস্থিতি যখন কোন একটি সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি বিশেষ কতগুলো ক্ষেত্রে সমান সুযোগ ভোগ করে।
- বাক-স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ভোগ কিংবা নাগরিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভ করতে পারাটা সামাজিক সাম্যের নির্দেশক।

⇒ রাজনৈতিক সাম্য:
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা, ভোটাধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

⇒ অর্থনৈতিক সাম্য:
- অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সকল সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেয়া নয়।
- অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়- জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ্যতা অনুযায়ী সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
-  যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।
- কোল এজন্যই বলেছেন, 'অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন'

⇒ স্বাভাবিক সাম্য:
- স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক সাম্যের অর্থ হলো জন্মগতভাবে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীন এবং সমান'।
- জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোন পার্থ্যক্য নেই।
- আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণায় স্বাভাবিক সাম্যের তত্ত্ব প্রচারিত হয়।
- কিন্তু জংতভাবে সব মানুষ দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে সমান হতে পারেনা।
- এজন্য স্বাভাবিক সাম্যের ধারণা বর্তমানে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

⇒ আইনগত সাম্য:
- ইতোপূর্বে আলোচিত সাম্যের কিছু কিছু আবার আইনের দ্বারা স্বীকৃত।
- যেমন, চাকুরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার, সংগঠন ও সমাবেশ করার অধিকার।
- বাংলাদেশের মত দেশে আইনগত সাম্য সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
- সংবিধান ছাড়াও দেশের বিদ্যমান অন্যান্য আইন দ্বারাও সাম্য স্বীকৃত হতে পারে।
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইনের সাম্য থাকা উচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৬১.
যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের পেশা গ্রহণ ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে কী বলে?
  1. সামাজিক স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. আইনগত স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

⇒ আইনগত স্বাধীনতা:
- রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত, সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতাকে আইনগত স্বাধীনতা বলা হয়।
- স্বাধীনতা নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট এক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৬২.
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে নিচের কোনটি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. গণমাধ্যম
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা

• জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল
- স্লোগান : সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- গ্রহণ : ২০১২।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী)।
- রূপকল্প (Vision): সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা।
- অভিলক্ষ (Mission): রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ:
(ক) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও (খ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান

(অ) রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন;
২. জাতীয় সংসদ;
৩. বিচার বিভাগ;
৪. নির্বাচন কমিশন;
৫. অ্যাটর্নি জেনারেল;
৬. সরকারি কর্ম কমিশন;
৭. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়;
৮. ন্যায়পাল;
৯. দুর্নীতি দমন কমিশন;
১০. স্থানীয় সরকার;

(আ) অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
১. রাজনৈতিক দল;
২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান;
৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ;
৪. পরিবার;
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান;
৬. গণমাধ্যম;

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,২৬৩.
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে নিচের কোনটি জরুরি?
  1. ক) স্বীকৃতি
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) সাফল্য
  4. ঘ) উল্লেখিত সবকটি
ব্যাখ্যা
শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণে স্বীকৃতি, স্নেহ, সাফল্য সবগুলোই জরুরি।
শিশুর সাফল্যকে অভিনন্দন জানিয়ে, শিশুকে আদর ও স্নেহ করে এবং শিশুর চাওয়া-পাওয়া কে স্বীকৃতি দিয়ে শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা যায়।
১,২৬৪.
সক্রেটিসের মতে ন্যায়বোধের উৎস কোনটি?
  1. ক) সততা
  2. খ) মূল্যবোধ
  3. গ) জ্ঞান
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Morality'।
- ইংরেজি Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘Moralitas’ থেকে, যার অর্থ সঠিক আচরণ বা চরিত্র।
- গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস, প্লেটো এবং এরিস্টটল সর্বপ্রথম নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব আরােপ করেন।

- সক্রেটিস বলেছেন, সৎগুণই জ্ঞান’ (Virtue is knowledge)।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা অন্যায় করতে পারেন না এবং ন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘জ্ঞান’ (knowledge) এবং অন্যায়বােধের উৎস হচ্ছে ‘অজ্ঞতা’ (ignorance)।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,২৬৫.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা কে?
  1. মন্টেস্কু
  2. জন লক
  3. টমাস হবস
  4. অ্যালান বল
ব্যাখ্যা

ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল অর্থ সরকারের সমগ্র কাজকে তিন ভাগে বিভক্ত করা এবং তিনটি স্বতন্ত্র বিভাগের সহায়তায় তা পরিচালনা করা।
- বিভাগগুলো হচ্ছে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
- এ নীতি অনুযায়ী আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করবে। শাসন বিভাগ আইনগুলোকে বাস্তবায়ন করবে এবং বিচার বিভাগ বিচারিক কার্য সম্পাদন করবে ও আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করবে।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত "The Spirit of Laws" গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
- তিনিই ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা।
- তিনি বলেন, "যখন একই ব্যক্তি বা একই শাসক বর্গের হাতে আইন রচনা এবং শাসন করার ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় তখন জনগনের স্বাধীনতা থাকতে পারে না, অথবা আইন ও শাসন ক্ষমতা যদি বিচার বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র না হয় তাহলেও স্বাধীনতা থাকতে পারে না।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৬.
কোনটি মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে?
  1. ক) নৈতিক প্রগতি
  2. খ) নৈতিক চেতনা
  3. গ) নৈতিক আদর্শ
  4. ঘ) নৈতিক ভাবাবেগ
ব্যাখ্যা
- নৈতিক চেতনা একটি মানসিক ক্রিয়া। 
- মানুষ যখন তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীর ন্যায়-অন্যায় বোধ উচিত অনুচিত বোধ সম্পর্কে সচেতন হয় তখন ধরে নিতে হবে মানুষ নৈতিক চেতনার পরিসরে তার ইচ্ছাপ্রসূত কার্যাবলীকে বিবেচনা করছে। 
- নৈতিক চেতনা মানুষকে ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝাতে সহায়তা করে যা মূলত চিন্তাপ্রসূত, সামাজিক, সক্রিয় এবং অনেকাংশে বাধ্যবাধকতামূলক, ভাবাবেগমূলক ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
 
উৎস: বিএ/বিএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৬৭.
UNCAC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. United Nations Convention Against Crime
  2. United Nations Council Against Corruption
  3. United Nations Convention Against Corruption
  4. United Nations Committee Against Crime
ব্যাখ্যা
⇒ জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী কনভেনশন (UNCAC):
- UNCAC এর পূর্ণরূপ: United Nations Convention Against Corruption.
- জাতিসংঘের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কনভেনশন হলো আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী বহুপাক্ষিক চুক্তি।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয়: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- কার্যকর হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ২০০৫।
- স্বাক্ষরস্থল: মেরিডা, মেক্সিকো।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।

উৎস: UN ওয়েরবসাইট।
১,২৬৮.
গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয় কোনটি?
  1. সাম্য
  2. ভ্রাতৃত্ব
  3. স্বাধীনতা
  4. আইন
ব্যাখ্যা

⇒ আইন গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র নয়।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- বর্তমান বিশ্বে এটি একটি জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা।
- যে শাসনব্যবস্থায় জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকে তাকেই গণতন্ত্র বলে।
- প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাস বলেছেন, 'গণতন্ত্র এক প্রকার শাসনব্যবস্থা, যেখানে শাসনক্ষমতা কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না; বরং সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে।'
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, 'Democracy is a government of the people, by the people, and for the people.' অর্থাৎ, 'গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য পরিচালিত সরকারব্যবস্থা।'
- গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র হলো সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৬৯.
প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয় কোথা থেকে?
  1. ক) ম্যাগনা কার্টা থেকে
  2. খ) গ্রিক, খ্রিস্টাটন ও মধ্যযগীয় ধর্মতত্ত্ব থেকে
  3. গ) কনফুসিয়ানিজম থেকে
  4. ঘ) থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব হয় থমাস হবসন, হুগো ও জন লক-এর লেখনী থেকে। 

- ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আধুনিক গণতন্ত্রের জনক জন লক ‘টু ট্রিটিজেস অন সিভিল গভর্নমেন্ট’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিশ্লেষণ করেছেন।
- হবসের মতো লকও প্রকৃতির রাজ্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

- তবে জন লকের মতে, প্রকৃতির রাজ্যে প্রাকৃতিক আইন ছিল। মানুষ প্রাকৃতিক আইন মেনে চলত, তার মতে প্রকৃতির রাজ্য ছিল শান্তিময় ও সম্পদে পরিপূর্ণ।
- কিন্তু কালক্রমে প্রকৃতির রাজ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মানুষেরা নিজের ইচ্ছামত প্রকৃতির আইন ব্যাখ্যা করতে থাকে।
- কেননা আইনের ব্যাখ্যা কিংবা প্রয়োগের জন্য কোন সাধারণ কর্তৃপক্ষ ছিল না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রকৃতির রাজ্যের অধিবাসীরা দুটি চুক্তি করে।

- প্রথম চুক্তি সম্পাদিত হয় আদিবাসীদের মধ্যে। তারা একটি সাধারণ কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা ও অধিকার পরিত্যাগে সম্মত হয়।
- দ্বিতীয় চুক্তি করা হয় সমাজ পরিচালনার নিমিত্তে। সমাজ বা সম্প্রদায় শর্তসাপেক্ষে সরকারকে কিছু ক্ষমতা দান করে।

- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার জনগণের জীবন, সম্পদ ও স্বাধীনতা রক্ষা করবে। এসব শর্ত পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণের অধিকার আছে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার। এভাবে লক সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, হবসন, ভিক্টর হুগো, জন লক প্রমুখ মনিষীগণই তাদের লেখনীর মাধ্যমে প্রাকৃতিক আইনের উদ্ভব ঘটান।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর পৌরনীতি বই (উন্মুক্ত)। 
১,২৭০.
অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস নয় কোনটি? 
  1. প্রথা
  2. ন্যায়বিচার
  3. জনমত
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

- জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ। 
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস ৬টি। যথা:
- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা।
- ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি। যথা:
- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, ন্যায়বিচার, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা, জনমত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ - মোজাম্মেল হক।

১,২৭১.
‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ - তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’ - এটি কার উক্তি?
  1. ক) জন লক
  2. খ) টি এইচ গ্রিন
  3. গ) জোনাথন সুইফট
  4. ঘ) জোনাথান হেইট
ব্যাখ্যা
• নৈতিকতা:
- জোনাথান হেইট এর মতে, ‘ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মানব আচরণ-তিনটি থেকেই নৈতিকতার উদ্ভব হয়েছে।’
- নীতিবিদ জি. ম্যুর বলেন, "শুভর প্রতি অনুরাগ ও অশুভর প্রতি বিরাগই হচ্ছে নৈতিকতা।"
- Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, "নৈতিকতা হলো ভালো-মন্দ আচরণ, স্বচ্ছতা, সততা ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি গুণ যা প্রত্যক ব্যক্তিই আইন কিংবা অন্য কোন বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।"   

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৭২.
যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে দায়ী কোনটি?
  1. ক) ছাত্র রাজনীতি
  2. খ) দেশীয় সংস্কৃতি
  3. গ) মাদকাসক্তি
  4. ঘ) ইন্টারনেট
ব্যাখ্যা
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি
- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১,২৭৩.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে -
  1. দায়বদ্ধতা
  2. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  3. ন্যায়পরায়ণতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
→ সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
→ সুশাসন হল আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোকে রাষ্ট্রীয় পরিসরে একটি সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া।
→ এটি প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অপরিহার্য। কেননা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরমত সহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, দায়বদ্ধতা, ন্যায়পরায়ণতা ও সচেতনতা জাগিয়ে তোলে। এভাবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় ও স্থায়ী হয়। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৪.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. বেকারত্ব হ্রাস
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
  3. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

১,২৭৫.
কে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন?
  1. জেরেমি বেন্থাম
  2. নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
- নিকোলা ম্যাকিয়াভেলি তার ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি:

- নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৪৫৯ সালের ৩ মে ইতালির ফ্লোরেন্সে এক অ্যাটর্নির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫২৭ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে তিনি মারা যান।
- ইতালীয় রাষ্ট্রদার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলিকে 'জাতীয় রাষ্ট্রের' প্রবক্তা বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা হয়।
- আইন ও নৈতিকতার মধ্যে সর্বপ্রথম পার্থক্য নির্ণয় করেন।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৭৬.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ?
  1. নৈতিক মূল্যবোধ
  2. জনসচেতনতা
  3. বৈধতা
  4. গনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

• সুশাসনের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য হলো-
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- আইনের শাসন,
- বৈধতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়িত্বশীলতা, 
- নৈতিক মূল্যবোধ। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৭৭.
কোনটি সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় নিয়ে আসে?
  1. ক) অপসংস্কৃতি
  2. খ) মাদকাসক্ততা
  3. গ) ছাত্র রাজনীতি
  4. ঘ) অশিক্ষা
ব্যাখ্যা

- মাদকাসক্ততার প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। মাদকাসক্তরা অর্থের জন্যে নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
হতাশা, বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি, মূল্যবোধ শিক্ষার অভাব প্রভৃতি কারণে যুব সমাজ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
- যুব সমাজের অবক্ষয়ের জন্যে অন্যতম দায়ী হলো মাদকাসক্তি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)

১,২৭৮.
প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে কোনটি নিস্প্রয়োজন?
  1. আইন
  2. শাসন
  3. দণ্ড
  4. বিচার
ব্যাখ্যা

প্লেটোর মতে, শাসক ন্যায়বান হলে আইন নিস্প্রয়োজন।

প্লেটো:

- প্লেটো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Republic-এ আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা উপস্থাপন করেছেন।
- তাঁর মতে, যদি শাসক (দার্শনিক রাজা বা Philosopher-King) সত্যিকারের ন্যায়বান, জ্ঞানী এবং নৈতিকভাবে উন্নত হন তাহলে আইনের কোনো প্রয়োজন পড়ে না কারণ এমন শাসক নিজেই ন্যায়ের প্রতীক এবং স্বাভাবিকভাবে ন্যায়সঙ্গত শাসন করবেন, কোনো বাহ্যিক আইনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই।

• প্লেটোর একটি বিখ্যাত উক্তি হলো: "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

⇒ তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium,
- Apologia Socrates,
- Allegory of the Cave,
- The Laws (348 BCE),
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি। এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
iii) নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৯.
রাষ্ট্রের উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সরকার
  2. খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান পাওয়া যায়। যথাঃ
(ক) জনসমষ্টি
(খ) নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
(গ) সরকার
(ঘ) সার্বভৌমত্ব।
- সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বোর্ড বই ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮০.
মৌলিক অধিকার কিসের মাধ্যমে রক্ষিত হয়?
  1. বিচার বিভাগের মাধ্যমে
  2. রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে
  3. সংবিধানের মাধ্যমে
  4. স্পীকারের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
• মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের সম্পর্ক:
→ মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য সে সমস্ত অপরিহার্য শর্তাবলি যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান হতে প্রাপ্ত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়।
→ একমাত্র রাষ্ট্র ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না।
মৌলিক অধিকার সংবিধানে গৃহীত হওয়ায় তা সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। এর ফলে সরকার এসব অধিকার ভোগে বাধা দিতে পারে না।
→ অপরদিকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-নির্ধন, এমনকি রাজনৈতিক মতামত ও পদমর্যাদা নির্বিশেষে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত বা স্বীকৃত অধিকারগুলোই হচ্ছে মানবাধিকার।
→  জাতিসংঘ সনদের ৩ নম্বর ধারা থেকে ৩০ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৮১.
মূল্যবোধ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় কোনটি?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. বিশ্ববিদ্যালয়
  3. পরিবার
  4. বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ মূল্যবোধ শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা:

- যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মূল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো রীতিনীতি ও আদর্শের মাপকাঠি; যা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা।
- মূল্যবোধ শিক্ষা শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতির মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় তথা ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি রোধ করে থাকে।

⇒ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৮২.
রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোনটি?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. জনমত
  3. সুশীল সমাজ
  4. নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• জনমত:
→ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার জন্য জনমত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
→ আধুনিককালে জনমতের উপর ভিত্তি করেই সরকার গঠিত হয় এবং টিকে থাকে।
→ জনমত হচ্ছে সরকার বা একটি রাজনৈতিক দলের গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
→ জনমত উপেক্ষা করে আজকের দিনে কোন সরকারের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়।
→ রাষ্ট্রে সামরিক শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জনমত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৩.
'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি কার?
  1. ম্যাককরনী
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. লর্ড অ্যাক্টন
  4. মেকিয়াভেলি
ব্যাখ্যা
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত:
- দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর শ্রেণি-চরিত্র সবসময় প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে।
- সেটা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হোক কিংবা অগণতান্ত্রিক সরকার হোক, তাতে শ্রেণিচরিত্রের খুব একটা পার্থক্য থাকে না।
- এর প্রধান কারণ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

⇒ অনেক সময় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা শাসকশ্রেণিকে নিরঙ্কুশভাবে স্বৈরাচারী করে তোলে।
- একইভাবে তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিরঙ্কুশ দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে ওঠে।

⇒ 'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি করেন লর্ড অ্যাক্টন।
- নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড অ্যাকটনের (১৮৮৭) এই উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক।
- তার মতে, ‘পাওয়ার টেন্ড্স টু করাপ্ট, অ্যান্ড অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্ট্স অ্যাবসলিউটলি।’
- বর্তমানকালে বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে এ উক্তির যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।
১,২৮৪.
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিম্নের কোনটি গুরুদণ্ড?
  1. নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ
  2. চাকরি হতে অপসারণ
  3. তিরস্কার
  4. ক্ষতিপূরণ আদায়
ব্যাখ্যা
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮:
- সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর দশম অধ্যায়ের ৩২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেবলমাত্র নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে লঘু ও গুরু দন্ড আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষের বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর বিভাগীয় মামলায় এই ধারায় উল্লিখিত গুরু বা লঘু দন্ড আরোপের এখতিয়ার বা ক্ষমতা নাই। এই ধারায় এই ক্ষমতা অর্পণেরও কোনো বিধান রাখা হয় নাই। যদিও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের বা কর্মচারীর লঘু দন্ড আরোপের ক্ষমতা রয়েছে, যা এই আইনের পরিপন্থী হওয়ায় এই আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের জন্য শৃংখলা ও আপীল বিধিমালার আইনটি অকার্যকর।

দণ্ড:
- নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় কার্যধারায় দোষী সাব্যস্ত কোনো কর্মচারীকে এতৎসংক্রান্ত বিধির বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক লঘু বা গুরুদণ্ড আরোপ করতে পারবে, যথা:

• লঘু দণ্ডসমূহ:
- তিরস্কার;
- নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;
- বেতন স্কেলের নিম্নধাপে অবনমিতকরণ;
- কোনো আইন বা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ অথবা কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হইলে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়।

• গুরু দণ্ডসমূহ:
- নিম্ন পদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ;
- বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;
- চাকরি হতে অপসারণ;
- চাকরি হতে বরখাস্ত।

উৎস: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮।
১,২৮৫.
'অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি'- মার্কিন কোন প্রেসিডেন্ট উক্ত উক্তিটি করেছেন?
  1. উড্রো উইলসন
  2. রুজভেল্ট
  3. জন এফ কেনেডি
  4. জিমি কার্টার
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিক জীবিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।”
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও,
⇒ সামাজিক স্বাধীনতা (Social Liberty):
- সমাজে সভ্য- সুন্দর জীবনযাপন করতে গেলে যে অনুকূল পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য প্রয়োজন তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে।
- যেমন- চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবনযাত্রার স্বাধীনতা ইত্যাদি।
- মানুষের অধিকার বোধের ধারণা থেকে সামাজিক স্বাধীনতার জন্ম।

⇒ রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty):
- হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে, “রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালনের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।”
- (Political liberty means the power to be able in the affairs of state.) রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলতে প্ৰত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকার গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার বোঝায়।
- ভোটদানের অধিকার, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার, নিরপেক্ষভাবে রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার, সরকারি চাকরি লাভের অধিকার ইত্যাদি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা।

⇒ জাতীয় স্বাধীনতা (National liberty):
- 'বৈদেশিক শাসনের নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করে যখন একটি জাতি পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জন করে তখন তাকে ‘জাতীয় স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব' বলে।
- জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনসমষ্টি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন ও রাষ্ট্র গড়ে তুলে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন করে।
- জাতীয় স্বাধীনতা ব্যতীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৮৬.
মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে কোনটির মাধ্যমে?
  1. উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণ
  2. অর্থনৈতিক প্রণোদনা
  3. সামাজিকীকরণ
  4. আইনের বাধ্যবাধকতা
ব্যাখ্যা

→ মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।
- বড়দের সম্মান করা, সহনশীলতা, দানশীল হওয়া, আতিথেয়তা ইত্যাদি হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
- সুতরাং মানুষের মধ্যে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে।

উল্লেখ্য:
- আইনের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে সামাজিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে না।
- অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মূল্যেবোধ গড়ে উঠে।
- উচ্চমানের প্রযুক্তি অনুসরণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৮৭.
নিচের কোনটি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ?
  1. ক) আইন প্রণয়ন করা
  2. খ) রাজস্ব আদায় করা
  3. গ) নিরাপত্তা বিধান করা
  4. ঘ) যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্যে রাষ্ট্র যেসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে সেগুলো হলো রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা আবশ্যিক কার্যাবলি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে আইন প্রণয়ন করা, দেশ রক্ষা করা বা নিরাপত্তা বিধান করা, রাজস্ব আদায় করা প্রভৃতি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রের যাবতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ হলো ঐচ্ছিক কাজ। যেমনঃ নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৮৮.
মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়-
  1. ক) পরিবারকে
  2. খ) রাষ্ট্রকে
  3. গ) সমাজকে
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ তৈরি মূলত পারিবারিক পরিমণ্ডলেই শুরু হয়। কারণ পরিবার এমন একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান যা শিশুর জীবনের সূচনালগ্নেই তার চেতনায় এমন বোধ বপন করে দিতে পারে যা দীর্ঘস্থায়ী হয়; এমন নজির রয়েছে প্রচুর। তাই পরিবারই মূল্যবোধ তৈরির সূতিকাগার বলা হয়। সূত্র- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই।
১,২৮৯.
সুশাসনের ইস্যু বলতে বুঝায় -
  1. সুবিধা
  2. অপ্রযোজ্যতা
  3. প্রতিকূলতা
  4. অপরিহার্যতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'।
- সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

⇒ সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়।
- সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে।
- যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ।
- তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯০.
ই-গভর্নেন্সকে ‘SMART’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন -
  1. ক) অমর্ত্য সেন
  2. খ) চন্দ্রবাবু নাইডু
  3. গ) এ পি জে কালাম
  4. ঘ) সরোজিনী নাইডু
ব্যাখ্যা

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ই-গভর্নেন্সকে ‘SMART’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
Smart শব্দটির পূর্ণরূপ হলোঃ
S= Simple,
M = Moral,
A = Accountable,
R = Responsive,
T= Transparent.
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন –প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৯১.
মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস- 
  1. বিদ্যালয়
  2. পরিবার
  3. ধর্মীয় গ্রন্থ
  4. সমাজ
ব্যাখ্যা

 • মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই শিশুর মূল্যবোধ শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
- মূল্যবোধের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় বা শিক্ষালয়।
- এছাড়া সামাজিক রীতিনীতি, প্রথা, ধর্ম, আদর্শ ইত্যাদি মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১,২৯২.
কেন সুশাসনকে ‘Win Win Game’ বলা হয়?
  1. কেবল সরকার উপকৃত হয়
  2. কেবল জনগণ উপকৃত হয়
  3. এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়
  4. সরকার ও জনগণ উভয়ই লাভবান হয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন হলো এমন একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে সরকার ও জনগন উভয়েই লাভবান হয়।
- এতে নাগরিকরা নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখার সুযোগ পায় এবং সরকার জনমুখী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।
- এই পারস্পরিক বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের ফলে উন্নয়ন টেকসই হয়।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game’ বলা হয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com।

১,২৯৩.
সমাজে ইভটিজিং বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ-
  1. ক) মূল্যবোধের অবক্ষয়
  2. খ) অপসংস্কৃতি
  3. গ) নৈতিকতার অবক্ষয়
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

- পুরুষ কর্তৃক নারী বা রমণীকে উত্যক্ত, বিরক্ত, জ্বালাতন বা পরিহাস করাকে ইভটিজিং বলে।
- নারীকে ইঙ্গিত করে অপ্রীতিকর অঙ্গভঙ্গি করা, শিস দেওয়া প্রভৃতি ইভটিজিং।
- ইভটিজিং এর অপর নাম যৌন হয়রানি।
- নারী নির্যাতন কেও বর্তমানে ইভটিজিং হিসেবে বিবেচনা করা।
- সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধের অভাবের ফল হচ্ছে ইভটিজিং।
- ইভটিজিং এর প্রধান কারণ হচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতার অবক্ষয়, অপসংস্কৃতি ইত্যাদি।

১,২৯৪.
Political Ideals বইটি কে লিখেছেন?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. নিকোলো মেকিয়াভেলি
  3. জেরেমি বেন্থাম
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে রাসেল সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
- তিনি Political Ideals গ্রন্থটি লিখেছেন।
- Political Ideals গ্রন্থে তিনি বলেছেন: রাজনৈতিক আদর্শ ব্যক্তিজীবনের আদর্শের উপর ভিত্তি করে হতে হবে।

উৎস: i) শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,২৯৫.
ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য নিচের কোনটি?
  1. সমাজে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা
  2. দুর্নীতি রোধ করা
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- শাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে- Governance.
- সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Good Governance.
- ই-গভর্নেন্স এর পূর্ণরুপ ইলেক্ট্রনিক গভর্নেন্স।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল উপাদান কম্পিউটার।
- ই-গভর্নেন্স এর মূল বাহন - ইন্টারনেট।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।
- ই-গভর্নেন্স সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষ আন্ত:সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
- ই-গর্ভনেন্স অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের জনকল্যাণের প্রতিফলন ঘটায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৬.
'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' কোন নীতির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. নয়া উদারতাবাদী অর্থনীতি
  2. কেইনসীয় অর্থনীতি
  3. মার্কসবাদী অর্থনীতি
  4. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি
ব্যাখ্যা
ওয়াশিংটন কনসেনসাস:
- ওয়াশিংটন কনসেনসাস নয়া উদারতাবাদী অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত।
- মূলত আই এম এফ, বিশ্বব্যাংক, আর যুক্তরাষ্টের ট্রেজারী বিভাগকে পরোক্ষভাবে 'ওয়াশিংটন কনসেনসাস' বলে।
- এই তিনটি প্রতিষ্ঠান কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে থাকে যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রয়োগ করা হয়।
- ধারণাটি সর্বপ্রথম ১৯৮৯ জনসম্মুখে নিয়ে আসেন জন উইলিয়ামসন নামের একজন অর্থনীতিবিদ যিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক একজন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ ছিলেন। 

⇒ নীতিগুলো হচ্ছে:
- বাণিজ্য উদার করা, অন্তর্মুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক-শৃঙ্খলা, দক্ষ সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার, কর সংস্কার, ফিন্যানশিয়াল উদারীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, বেসরকারি খাতে হস্তান্তরকরণ নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা।

উৎস: Britannica.
১,২৯৭.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ -
  1. ক) দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) ই-গর্ভনেন্স
  3. গ) মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
• ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌছে দেয়া।
• ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৮.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Corruption' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ল্যাটিন
  2. গ্রিক
  3. ইংরেজি
  4. আরবি
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল "Corruption". এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Corruptus" থেকে। এর অর্থ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন।
দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হল নীতির বিরুদ্ধে আচরণ।
১,২৯৯.
মিশেল ক্যামডেসাসের মতে, "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য _____ অত্যাবশ্যক।"
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. শৃঙ্খলা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বিভিন্ন সংজ্ঞা:
⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,৩০০.
'গোপনীয়তা বজায় রাখা' কোন ধরনের মূল্যবোধ?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. পেশাগত মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
পেশাগত মূল্যবোধ:
- পেশাগত মূল্যবোধ প্রতিটি পেশার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
- পেশার উদ্দেশ্য ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে মূল্যবোধ পেশাগত কার্যক্রমকে স্বক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে পেশাগত মূল্যবোধ।
- পেশাগত মূল্যবোধ এক পেশাকে অন্য পেশা থেকে পৃথক সত্ত্বা দান করে।
- যেমন: 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকর্ম ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।