বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১২ / ৩৯ · ১,১০১১,২০০ / ৩,৮২৯

১,১০১.
“জনমত হল বিভিন্ন জনের মতামতের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট এক সামাজিক ফসল” - কে বলেছেন?
  1. এইচ জে লাস্কি
  2. স্টুয়ার্ট মিল
  3. জন লক
  4. মরিস গিন্সবার্গ 
ব্যাখ্যা
• জনমত:
→ জন স্টুয়ার্ট মিল এর ভাষায় “কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় সমস্যার ওপর জনগণের সংগঠিত মতামতই হল জনমত”।
→ মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভি ও কিই বলেন- “ব্যক্তিবর্গের মতই জনমত হিসেবে গণ্য হয়। এগুলোর গুরুত্ব স্বীকার করে নেয়াটা সরকার যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে”।
→ মরিস জিন্সবার্গ বলেন “জনমত হল বিভিন্ন জনের মতামতের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট এক সামাজিক ফসল”।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০২.
'সত্যের সন্ধান' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ
  2. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  3. আরজ আলী মাতুব্বর
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• আরজ আলী মাতুব্বর:
- আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। 
- আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।

⇒ আনুষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষাবিহীন স্বশিক্ষিত একজন মননশীল লেখক ও যুক্তিবাদী দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর বাংলাদেশের সমাজে জেকে বসা ধর্মীয় গোঁড়ামি ও অন্ধ কুসংস্কারের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নৈতিক আদর্শকে কুঠারাঘাত করে, তার স্থলে বস্তুবাদী দর্শন ও বিজ্ঞানের মাধ্যমে সত্য আবিষ্কার করে সত্য, ন্যায় ও বিজ্ঞানের যথাযথ নীতি পদ্ধতিভিত্তিক নব নৈতিক আদর্শের সমাজের কথা চিন্তা করেছেন।
- তার দার্শনিক চিন্তা-চেতনা ধর্মের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ধর্মের নামে প্রচলিত ধর্মান্ধতা ও ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
- জোহাদ বরকতুল্লাহ আমাদের মুসলমানদের মধ্যে বাংলাভাষায় প্রথম যথার্থ দার্শনিক প্রবন্ধ রচনা করেন।
- তিনি তার দর্শনে আত্মপ্রতিষ্ঠার নামে একটি দার্শনিক ধারার কথা বলেন।

⇒ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান (১৯৭৩),
- সৃষ্টির রহস্য (১৯৭৭),
- অনুমান (১৯৮৩),
- মুক্তমন (১৯৮৮) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,১০৩.
সুশাসনের পথে অন্তরায় রয়েছে -
  1. জবাবদিহিতা
  2. ন্যায়পরায়ণতা
  3. আইনের শাসন
  4. স্বেচ্ছাচারিতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উল্লেখ্য,
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।

⇒ এই চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণের জন্য প্রয়োজন কার্যকর সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের (নির্বাচন কমিশন, দুদক) স্বাধীনতা ও সক্রিয়তা, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার চর্চা, তথ্য অধিকার, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি সুশাসনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,১০৪.
মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত -
  1. অভ্যাস
  2. আচরণ
  3. নৈতিকতা
  4. ধর্ম
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- আচরণ মূল্যবোধের নির্ধারক হিসেবে পরিচিত।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি ।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায় ৷
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে ৷
- তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১০৫.
কোনটি সুশাসনের পরিচয় দেয়?
  1. গণচেতনা
  2. গণসন্তুষ্টি
  3. গণআকাঙ্ক্ষা
  4. গণস্বার্থ
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ইত্যাদি সুশাসনের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- গণসন্তুষ্টি সুশাসনের পরিচয় দেয়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,১০৬.
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি? 
  1. দায়িত্বশীলতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. বাক স্বাধীনতা 
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের স্তম্ভ নয় - বাক স্বাধীনতা 

• সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল ‘Good Governance’ ।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনোইতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।

সুশাসনের স্তম্ভ:
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
i) দায়িত্বশীলতা
ii) স্বচ্ছতা
iii) আইনী কাঠামো
iv) অংশগ্রহণ

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৭.
উৎপত্তিগত অর্থে 'Transparency' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ল্যাটিন
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) হিব্রু
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা
Transparency শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে এসেছে।
ল্যাটিন 'Transparent' থেকে Transparency শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। 
 
'স্বচ্ছতা' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Transparency.
স্বচ্ছতা অর্থ পরিষ্কার, স্পষ্ট ও নির্ভুল। 

(সূত্রঃ অক্সফোর্ড ডিকশনারি; উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,১০৮.
কে সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন?
  1. ফিফনার
  2. ম্যাক্সওয়েবার
  3. ফাইনার
  4. মিল
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১০৯.
“Good Governance and Development” - বইটির লেখক কে?
  1. ক) ব্রায়ান সি. স্মিত
  2. খ) ব্রায়ান স্মিত
  3. গ) জন কার্ভার
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
উক্ত বইটি Brian C Smith ও Brian Smith যৌথভাবে লিখেন এবং ২০০৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
Brian C Smith - এর লেখা অন্যান্য বই - Understanding Third World politics, Decentralization: The Territorial Dimension of the State, Quantitative Spectroscopy ইত্যাদি।
১,১১০.
নিচের কোনটি ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব?
  1. নৈতিকতা
  2. ধর্ম
  3. মূল্যবোধ
  4. আইন
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যাতে সুখে-শান্তিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে, রাষ্ট্র সেজন্য আইন প্রণয়ন করে।
- আইন ছাড়া সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
- আইনের শাসনের মূলকথা হচ্ছে, আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১১.
কোথায় সুশাসন নেই?
  1. যেখানে দুর্নীতি আছে
  2. যেখানে শিক্ষা নেই
  3. যেখানে সচেতনতা নেই
  4. যেখানে স্বাধীন প্রচার মাধ্যম নেই
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি ⇒ দুর্নীতি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- দুর্নীতির কারণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
- জনগণের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমে যাচ্ছে।
- ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি ফায়দা লুটছে।
- বাংলাদেশ অনেকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
- শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত, ভূমি প্রশাসন, জন প্রশাসন, ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ সেক্টর, স্থানীয় সরকার- এক কথায় বাজার ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতির সংস্কৃতি লক্ষণীয়।

উল্লেখ্য,
- যেখানে শিক্ষা নেই, সেখানেও সুশাসন নেই। তবে যেহেতু উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি তাই অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে দুর্নীতি নেওয়া হয়েছে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) সিপিডি।
১,১১২.
সুশাসনের ধারণাটি কেমন?
  1. একমাত্রিক
  2. বহুমাত্রিক
  3. দ্বিমাত্রিক
  4. কোনটিই  নয়
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ : Good Governance. 
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- এর ধারণার উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- এটির ধারণা উদ্ভাবিত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।

উল্লেখ্য, 
- বর্তমান সময়ের প্রায় সব রাষ্ট্রই কল্যাণকর রাষ্ট্র।
- সুশাসন একটি দেশের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার, এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১১৩.
সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে কারা?
  1. ক) দুর্নীতি দমন কমিশন
  2. খ) স্বশস্ত্র বাহিনী
  3. গ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ঘ) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। এরা হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
• কিন্তু তা সত্ত্বেও এই গোষ্ঠী সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হলো নিজেদের অনুকূলে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।

অন্যদিকে,
• স্বশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার কাঠামোর অংশ।
• দুর্নীতি দমন কমিশন - বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
১,১১৪.
UNCAC জাতিসংঘের কোন ধরনের কনভেনশন?
  1. অবকাঠামো
  2. মানবাধিকার
  3. দুর্নীতি বিরোধী
  4. গুম প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
দূর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক এজেন্ডা:
- এজেন্ডার নাম: মেরিডা কনভেনশন (Merida Convention)
- পরিচয়: জাতিসংঘের দুর্নীতি বিরোধী সনদ
- আনুষ্ঠানিক নাম: United Nations Convention Against Corruption (UNCAC).
- সাধারণ পরিষদে অনুমোদন: ৩১ অক্টোবর, ২০০৩।
- স্বাক্ষর: ৯ থেকে ১১ ডিসেম্বর, ২০০৩।
- স্বাক্ষরস্থল : মেক্সিকোর মেরিডা।
- বর্তমান স্বাক্ষরকারী : জাতিসংঘভূক্ত ১৮৯টি দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাক্ষর করে: ২০০৭ সালে।
- ২০২৩ সালে মেক্সিকো ২০তম বর্ষপূর্তি পালন করে।

- এটি পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র কভার করে:
i) prevention;
ii) criminalization and law enforcement;
iii) international cooperation;
iv) asset recovery;
v) technical assistance and information exchange.

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Mexico সরকারি ওয়েবসাইট
১,১১৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. আমলাতন্ত্র
  3. দুর্নীতি দমন
  4. স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দুর্নীতি দমনকে বিবেচনা করা হয়। 
- কারণ দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতির ফলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়।
- সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ- যেমন ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা- দুর্নীতির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- এছাড়া বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার- এই তিনটি ক্ষেত্রের কার্যকারিতাও মূলত দুর্নীতি দমনের উপর নির্ভরশীল। 
- অর্থাৎ দুর্নীতি দমন ছাড়া এসব ক্ষেত্রের কোনোটিই কার্যকরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১১৬.
বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র কোন ধাঁচের?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. উপনিবেশিক
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র:
- বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র এখনো অনেকটাই উপনিবেশিক আমলের ধাঁচে কাজ করে।
- উপনিবেশিক সংস্কৃতির কারণে আমলাতন্ত্রের মধ্যে 'জনগণের সেবক' অপেক্ষা 'জনগণের প্রভু' সংস্কৃতি বেশি দেখা যায়।
- জনপ্রতিনিধিদের অনেকের মধ্যে আবার অমনোযোগিতা অথবা অদক্ষতাজনিত কারণে আমলাদের উপরে পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়ার মনোভাব দেখা যায়।
- এর ফলে জনগণের সাথে জনগণের প্রতিনিধির দূরত্ব তৈরি হয়, যা বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি বড় অন্তরায় হিসাবে বিরাজ করছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১১৭.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানুষকে কোন গুণের শিক্ষা দেয়?
  1. কর্তৃত্ব
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. শাসন
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীলতার শিক্ষা দিয়ে থাকে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত বিশেষ করে বিরুদ্ধ মত সহ্য করা ও বিবেচনা করা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত করে।
- এহেন মূল্যবোধ সম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজ-নিজ অধিকার ভোগ ও কর্তব্য সম্পাদনে তৎপর হয়।
- সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- এ মূল্যবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার প্রতি সমান দৃষ্টি দিয়ে থাকে।
- এর ফলে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যমতে পৌঁছানো জরুরি, যা কেবল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব।
- সরকারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যসম্পাদনকারী ব্যক্তিবর্গের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়া উচিত।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৮.
”Critique of Judgement” বিখ্যাত গ্রন্থটি কার?
  1. বার্ট্রান্ড রাসেল
  2. এরিস্টটল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. রবার্ট ব্রাউন
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
-'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

অন্যদিকে, 
- বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Russell) বিখ্যাত বই: 'আ হিস্ট্রি অব ওয়েস্টার্ন ফিলোসফি' (A History of Western Philosophy).
- অ্যারিস্টটল (Aristotle) বিখ্যাত বই: 'পলিটিক্স' (Politics)
- রবার্ট ব্রাউনিং (Robert Browning) বিখ্যাত বই: 'দ্য রিং অ্যান্ড দ্য বুক' (The Ring and the Book).

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

১,১১৯.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -
  1. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
  3. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসন ব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন নিশ্চিত করে যে শাসক ও শাসিতের মধ্যে একটি দৃঢ় আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
- এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১২০.
জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার আইন কোনটি?
  1. বেসরকারী আইন
  2. সরকারী আইন
  3. দেওয়ানী আইন
  4. ফৌজদারী আইন
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তিতে আইনকে তিনভাগে ভাগ করা হয়। যথা− (১) বেসরকারী আইন, (২) সরকারী আইন এবং (৩) আন্তর্জাতিক আইন।
• (১) বেসরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন মেনে চলা হয় তাকে বেসরকারী আইন বলে। বেসরকারী আইনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে।

• (২) সরকারী আইন− ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রয়োগ করা হয় তাকে সরকারী আইন বলে। এই আইন আবার নিুলিখিতভাবে বিভক্ত হয় :
- (ক) শাসনতান্ত্রিক আইন− এগুলো মৌলিক আইন যার দ্বারা রাষ্ট্রের ধরন, সরকারের ধরন, সরকারের বিভাগগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নিরূপণ ও জনগণের সাথে সম্পর্ক নিরূপণ করা হয়।
- (খ) প্রশাসনিক আইন− প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিরূপণের জন্য যে আইন প্রণীত হয় তাকে প্রশাসনিক আইন বলে।
- (গ) ফৌজদারী আইন− চুরি, ডাকাতি ও মারামারি সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে আইনের দ্বারা মীমাংসা করা হয় তাকে ফৌজদারী আইন বলে।
- (ঘ) দেওয়ানী আইন− টাকা-পয়সা ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদের মীমাংসা যে আইনের দ্বারা করা হয় তাকে দেওয়ানী আইন বলে।

• (৩) আন্তর্জাতিক আইন: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে সমস্ত নিয়মগুলো সভ্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের পারস্পরিক চলার ক্ষেত্রে মেনে চলে তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

উৎস: পৌরনীতি (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১,১২১.
”সৃষ্টিরহস্য” গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ড. নজরুল ইসলাম
  2. আরজ আলী মাতুববর
  3. ড. আনিসুজ্জামান
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আরজ আলী মাতুববর:
- মাতুববর, আরজ আলী (১৯০০-১৯৮৫)  বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।
- ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ  বরিশাল জেলার লামচরি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গ্রামের মক্তবে মাত্র কয়েক মাস লেখাপড়া করার পর তিনি নিজের চেষ্টায় নানা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। 

- আরজ আলী মূলত বস্ত্তবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- মানবজীবন, প্রকৃতি-পরিবেশ, জড়জগৎ ও বিশ্ব-সংসার থেকে পাঠ নিয়ে তিনি নিজস্ব মতবাদ গড়ে তোলেন।
- তিনি দৃঢ় মনোবল ও বিশ্বাস নিয়ে সকল অন্ধতা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
- তাঁর বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
- সত্যের সন্ধান ,
- সৃষ্টিরহস্য ,
- অনুমান ,
- মুক্তমন ,ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২২.
জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি কোনটি?
  1. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  2. সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব:
- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অপরিসীম।
- যে সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা যত বেশি উন্নত, সে সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল।
১. জাতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হলো একটি জাতির রাজনৈতিক সম্পদ।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর একটি জাতির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গড়ে ওঠে।

২. জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি কর্মঠ ও পরিশ্রমী হয়।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ জাতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে।

৩. দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দেশাত্মবোধ জাগ্রত করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজের প্রতি, দেশের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার সৃষ্টি করে। দেশকে ভালোবাসা ও দেশের মঙ্গলের জন্য কর্তব্য পালন করার তাগিদ সৃষ্টি হয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে।

৪. সামাজিক বন্ধন ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের সৌভ্রাতৃত্ববোধ, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। এর ফলে সামাজিক বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হয়।

৫. নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে এবং পরিপূর্ণতা প্রদান করে।

৬. উদারতা ও সহনশীলতার শিক্ষা দেয়:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে রাজনৈতিক সততা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যালঘিষ্ঠের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, সংখ্যালঘিষ্ঠের মতের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠের সহিষ্ণু আচরণ, বিরোধী মতকে প্রচার ও প্রসারের সুযোগ প্রদান, নির্বাচনে জয়পরাজয়কে মেনে নেয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। এর ফলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

৭. জবাবদিহিতার মানসিকতা ও দায়িত্বশীল আচরণ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ফলে নাগরিকদের মধ্যে জবাবদিহিমূলক মানসিকতা দায়িত্বশীল আচরণের সৃষ্টি হয়। যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা তাদের কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিকট তথা জনগণের নিকট তাদের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, আইনসভায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দেন বা কৈফিয়ত প্রদান করেন। সরকার এবং বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করে।

৮. শৃঙ্খলাবোধ জাগ্রত করে:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ধাপ বা সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ। যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ একটি জাতিকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নতি ও অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।

৯. নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিবর্তন:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নির্বাচনি রায় বা জনগণের ম্যান্ডেটকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা, সরকারকে নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করতে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে বিশ্বাসী করে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১২৩.
সুশাসনের ধারণা উদ্ভব হয় কত সালে?
  1. ১৯৮২ সালে
  2. ১৯৮৯ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: রাজনৈতিক সুশাসন, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২৪.
UNDP অনুযায়ী, সুশাসন মানে কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল
  2. অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি
  3. আইনি কাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ
  4. রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

UNDP অনুযায়ী, সুশাসন হলো সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা।
----------------------------------------------
• সুশাসন:
- সুশাসন ধারণাটি মূলত বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের একটি সমীক্ষায় প্রথমবারের মতো 'Good Governance' বা সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
- একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই গভর্নেন্স।
- ২০০০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল—
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনি কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।
-----------------------
• সুশাসন ও UNDP:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসন অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত প্রশাসন নিশ্চিত করে, যা টেকসই মানব উন্নয়নে সহায়ক।

- UNDP সুশাসনের ৯ টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে- 
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহি, 
- কৌশলগত লক্ষ্য। 

উৎস:
UNDP Website; 
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১২৫.
কোনটি সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. স্বচ্ছতা
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. ন্যায়পরায়ণতা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।

অন্যদিকে,
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি প্রভৃতি সুশাসনকে ব্যাহত করে।
- সুশাসনের উপাদান নয় - স্বজনপ্রীতি

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
১,১২৬.
মূল্যবোধ সম্পর্কে নিচের কোন বিবৃতিটি সত্য?
  1. মূল্যবোধ মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা।
  2. মূল্যবোধ সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান।
  3. মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
  4. মূল্যবোধ মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ,রাষ্ট্র,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৭.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো-
  1. রাষ্ট্র
  2. সমাজ
  3. নৈতিকতা
  4. সুশাসন
ব্যাখ্যা

সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৮.
কোন আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. স্বাধীনতা
  2. মৈত্রী
  3. সাম্য
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্ৰ:
- সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার গুরুত্ব 'সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতা'-এ তিনটি আদর্শের উপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত।
- গণতন্ত্রে সকলেই সমান; সমঅধিকারের নীতিটি শুধু তত্ত্বগতভাবে নয়, বাস্তবেও গৃহীত হতে দেখা যায় ৷
- জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-গরীব, স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই আইনের চোখে সমান ৷
- গণতন্ত্রে সবাই আইন দ্বারা সমভাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পায় বলে প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
- অন্যভাবে আমরা বলতে পারি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার ভোগ করতে পারে।

তথ্যসূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৯.
স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কোন স্তম্ভ বলা হয়?
  1. প্রথম স্তম্ভ
  2. দ্বিতীয় স্তম্ভ
  3. তৃতীয় স্তম্ভ
  4. চতুর্থ স্তম্ভ 
ব্যাখ্যা

স্বাধীন সংবাদমাধ্যম:
- স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান এডমন্ড বার্ক (Edmund Burke) প্রথম সংবাদপত্রকে "ফোর্থ এস্টেট" বা চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি ১৭৮৭ সালে হাউস অফ কমন্সে বিতর্ক করার সময় এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ গণমাধ্যম যখন স্বাধীন হয়, তখনই তা প্রকৃতপক্ষে জনগণের পক্ষে কথা বলতে সক্ষম হয় এবং সত্য প্রকাশের মাধ্যমে রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভের ওপর নজরদারি রাখতে পারে।  গণমাধ্যমকে যখন কোনোভাবে দমন করা হয়, তখন সমাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হ্রাস পায়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
- থমাস জেফারসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি এই বিকল্পটি দেওয়া হয় যে তুমি কি সংবাদপত্রবিহীন সরকার চাও, না সরকারবিহীন সংবাদপত্র চাও? তখন আমি পরেরটা বেছে নেব।’
- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট সংবাদপত্র সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, চারটি আক্রমণাত্মক সংবাদপত্র হাজারটা বেয়নেটের চেয়েও ক্ষতিকর।’
- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, কোনো দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম থাকলে সে দেশে দুর্ভিক্ষ হানা দিতে পারে না।

উল্লেখ্য,
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মূলত তিনটি স্তম্ভ বা ভিত্তির উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এই মূল ভিত্তিগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়, ক্ষমতার সুষম বন্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসনকার্যকে পরিচালনা করতে সার্বিক সহায়তা করে। স্তম্ভগুলো হলো:
১. আইন বিভাগ,
২. শাসন বিভাগ,
৩. বিচার বিভাগ।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।

১,১৩০.
“সামাজিক মূল্যবোধ সেসব গুণাবলী, যা ব্যক্তি নিজের সহকর্মীদের মধ্যে দেখে খুশি হয় এবং নিজের সমাজ, জাতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশকে মূল্যবান মনে করে।”-- সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) এফ. ই মেরিল
  2. খ) এম. ডব্লিউ পামফ্রে
  3. গ) নিকোলাস রেসার
  4. ঘ) এম. আর উইলিয়াম
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,১৩১.
মানবাধিকার বলতে বোঝায়-
  1. রাষ্ট্রের সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা
  2. আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা
  3. মানুষের কতগুলো সাধারণ সুযোগ-সুবিধা
  4. ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা
- মানবাধিকার হলো ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।
- মানবাধিকার হলো মানুষের অধিকার। অর্থাৎ মানবাধিকার বলতে সেসব অধিকারকে নির্দেশ করে যেসব অধিকার নিয়ে মানুষ জন্মায় এবং যেসব অধিকার অর্জিত হলে মানুষ পূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে।
- মানবাধিকারের ধারণা আন্তর্জাতিকাবে স্বীকৃত। অর্থাৎ স্থান বা আইনের পার্থক্যের কারণে মানবাধিকারের কোন তারতম্য হয় না।
- আধুনিক সময়ে মানবাধিকার আইনগত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলোর অস্তিত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের আগে থেকেই ছিলো।
অন্যদিকে,
- মৌলিক অধিকার হলো মানুষের জীবনধারণের জন্যে অত্যাবশ্যকীয় ও অপরিহার্য অধিকারসমূহ। এসব অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধানে নির্দেশিত থাকে।
- আইনগত অধিকার আইনের দ্বারা নির্ধারিত।
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক ও ন্যায়বোধ থেকে উৎসারিত। নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।

তথ্যসূত্র- সিভিক এডুকেশন-১ , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩২.
'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক সুশাসন সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোন সংস্থা?
  1. ক) World Bank
  2. খ) UNDP
  3. গ) ADB
  4. ঘ) IMF
ব্যাখ্যা
- ১৯৯৫ সালে  Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে। 
- ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে। 
- ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
- বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন , এইচএসসি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট। 
১,১৩৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. শিক্ষা ব্যবস্থা
  2. অর্থনৈতিক ভারসাম্য 
  3. নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা
  4. গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসন। 

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
-সুশাসন মূলত একটি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

• মোটকথা সুশাসন হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, সর্বোচ্চ স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, নীতির গণতন্ত্রায়ন থাকবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, মতামত ও পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। 
- জাতিসংঘের ভাষায়- 'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন'।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৪.
ই-গভার্নেন্সের মাধ্যমে কোনটি বেশি প্রতিষ্ঠা পায় -
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) জবাবদিহিতা
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) জীবনমানের উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের সাথে জনগণের দ্রুত সংযােগ সাধন, দ্রুত গতিতে সরকারি সেবাদান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমান সময়ে যেকোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিতকরণে ই-গভর্নেন্স অনিবার্য একটি বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উৎসঃ একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,১৩৫.
নিচের কোনটি সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে 'আইনের শাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৬.
মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ-
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আইনের শাসন
  4. ঘ) মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

- মানুষের সামগ্রিক সামাজিক জীবনাচারের অপরিহার্য অংশ মূল্যবোধ।
- সমাজ কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য উপাদান হলো মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানব আচরণের অলিখিত দলিল।
- মূল্যবোধের ধারনা সহজাত নয় বরং অর্জিত।
- মূল্যবোধ মানবসত্তার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ ঘটায়।

১,১৩৭.
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানোকে কী বলা হয়?
  1. সুশাসন
  2. আমলাতন্ত্র
  3. ই-গভর্নেন্স
  4. ই-পর্চা
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স: 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া (interaction) সাধিত হলে ই-গভর্নেন্স-এর উদ্ভব ঘটে।
- এই মিথস্ক্রিয়া ঘটে সরকার ও জনগণের মধ্যে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে, সরকার ও চাকরিজীবীদের মধ্যে এবং এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের মধ্যে।
- ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা জনগণের নিকট পৌছানকেই ই-গভর্নেন্স বলে।
- জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা পৌছে দেওয়ার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অন্য ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তির ব্যবহারকে ই-গভার্নমেন্ট বা ই-গভর্নেন্স বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৩৮.
আইন মানুষের কোন ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অভ্যন্তরীণ
  2. পারিবারিক
  3. বাহ্যিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
-‘যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন’- উক্তিটি করেন - এরিস্টটল।
- অধ্যাপক হল্যান্ডের মতে আইনের উৎস - ৬ টি।
- আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
১,১৩৯.
কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থায় জনগণ বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে?
  1. সমাজতন্ত্র
  2. একনায়কতন্ত্র
  3. গণতান্ত্রিক
  4. পুঁজিবাদী
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় জনগণ বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।

সরকার ব্যবস্থা:
- অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে মালিকানার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রকে প্রধানত দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্র প্রধানত দুই প্রকার। যথা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
- এ ব্যবস্থা ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনীতি চর্চার সুযোগ থাকে।
- গণতন্ত্র নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে।
- গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ মতামত প্রকাশের অধিকার ভোগ করে।
- ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতার বিকাশ ঘটে।
- সকলে মিলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। এতে নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়।

অন্যদিকে,
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র:
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে পুঁজি সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের উপর রাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না। এক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতা থাকে এবং অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ বিদ্যমান। সাধারণত পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মুক্ত বাজার অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না বরং চাহিদা ও যোগান দ্বারা বাজার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পুঁজিপতিরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। এ ধরনের রাষ্ট্রে জনকল্যাণমূলক ব্যয় কম হয় এবং সরকার পুঁজি বিনিয়োগের যাবতীয় কাঠামোগত ও নীতিগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে। ফলে ধনী-দরিদ্র্যের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়।

সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় উৎপাদনের সকল উপাদান যেমন-ভূমি, শ্রম, মূলধন এবং ব্যবস্থাপনা সবকিছুর মালিকানা থাকে রাষ্ট্রের হাতে। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতা নেই। বরং ব্যক্তির জীবনে প্রত্যেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বীয় হস্তক্ষেপ বিদ্যমান। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থা রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আয়ের উপর করারোপ করে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য রাষ্ট্র সর্বদা সচেষ্ট থাকে। রাষ্ট্র শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করে দেয় এবং রাষ্ট্র তার রাজস্ব আয় জনকল্যাণে ব্যয় করে। বিলুপ্ত হওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর অন্তর্ভূক্ত ছিল।

একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এক ব্যক্তির শাসন বহাল থাকে। ফলে সেই একনায়কের আদেশ-নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজস্ব মত প্রকাশের মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। জনগণ স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চা করতে পাওে না, তাছাড়া এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বাধীনতার কোন অবকাশও নেই।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪০.
সুশাসনের জন্যে আবশ্যক-
  1. একক জাতিসত্ত্বা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. কাম্য জনসংখ্যা
  4. ধর্মীয় মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, সুশীল সমাজ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি আবশ্যক।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে একক জাতিসত্ত্বা, কাম্য জনসংখ্যা কিংবা ধর্মীয় মূল্যবোধ আবশ্যক নয়।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,১৪১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কীসের ভিত্তিতে পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে?
  1. কর্তব্যবোধ
  2. রাজনৈতিক কর্মসূচি
  3. সমজাতীয় স্বার্থ
  4. জাতীয় স্বার্থ
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক।

১,১৪২.
মূল্যবোধ শিক্ষা দূর করে -
  1. ক) মাদকাসক্ততা
  2. খ) রাহাজানি
  3. গ) ইভটিজিং
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
- মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়।
- সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৪৩.
নৈতিকতা মূলত _____ ব্যাপার।
  1. ব্যক্তিগত
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।
- নৈতিকতাকে বলা হয় মানবজীবনের নৈতিক আদর্শ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৪৪.
‘Governance’ শব্দটির মূল উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ল্যাটিন
  2. ফরাসি
  3. গ্রিক
  4. জার্মান
ব্যাখ্যা

Governance:
- Governance শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এর অর্থ শাসন বা পরিচালনা প্রক্রিয়া/নিয়ন্ত্রণ।
- মূল উৎপত্তি গ্রিক শব্দ 'kubernan' থেকে।

উল্লেখ্য,
- উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র বইয়ে শব্দটি ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে, যা ভুল।  ল্যাটিন ভাষায় গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে।

⇒ Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন। 
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
- সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১৪৫.
“The Problems of Philosophy” - বইটি কার লেখা?
  1. ক) জ্যাঁ পল রুশো
  2. খ) বার্টান্ড রাসেল
  3. গ) কার্ল মার্ক্স
  4. ঘ) নিকোলা ম্যাকিয়াভ্যালী
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ দার্শনিক বার্টান্ড রাসেলের লেখা The Problems of Philosophy - বইটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা অন্যান্য বই -
A History of Western Philosophy,
The Principles of Mathematics,
Unpopular Essays,
The Conquest of Happiness ইত্যাদি।
১,১৪৬.
নিম্নের কোন মতবাদ অনুসারে, সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি?
  1. Realism
  2. Idealism
  3. Nihilism
  4. Liberalism
ব্যাখ্যা
শূন্যবাদ:
- 'Nihilism' শব্দটির প্রতিশব্দ শূন্যবাদ।
- যার অর্থ হলো সবই মিথ্যা।
- এই শব্দটি ল্যাটিন Nihil থেকে এসেছে।
- যার অর্থ কিছুই না (Nothing)।
- শূন্যবাদের মূলকথা হলো সবকিছুই শূন্য বা শূন্য থেকেই সব কিছুর সৃষ্টি।

⇒ শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ।
- পশ্চিমা সমাজে প্রথাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবমূল্যায়ন প্রসঙ্গে ফ্রেডেরিখ নীটশে উনিশ শতকে এই প্রত্যয়টি ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে,
• বাস্তববাদ (Realism):
- যে মতবাদে বস্তুর জ্ঞান-নিরপেক্ষ বা মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় তাকে বস্তুবাদ বলে।

• ভাববাদ (Idealism):
- যে দার্শনিক মতবাদ ভাব, চৈতন্য বা আত্মাকে একমাত্র প্রকৃত সত্তা বলে মনে করে তাকে ভাববাদ বলে।
- এ মতানুসারে, বাইরের বস্তু প্রকৃত সত্তা নয়, ভাবের প্রতিচ্ছবিমাত্র।

• উদারতাবাদ (Liberalism):
- উদারতাবাদ হচ্ছে মানুষের প্রগতি ও মুক্তির পথে সৃষ্ট বাঁধাবিপত্তি দূর করার দাবি সম্বলিত আন্দোলন।
- এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে নিহিত তার বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনার সার্থক বিকাশ সাধন করে তাকে তার নিজ সত্ত্বায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস।

উৎস: Britannica.
১,১৪৭.
মূল্যবোধ _____ হতে উৎসারিত হয়
  1. ক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  2. খ) ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  3. গ) সমাজ ও রাষ্ট্র
  4. ঘ) খেলার মাঠ ও বাজার
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে সত্য, ন্যায়, ও সুন্দরের ধারনা জাগ্রত করে।
• মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
• মূল্যবোধ ন্যায়বোধ, নীতি ও ঔচিত্যবোধ হতে উৎসারিত।
• মূল্যবোধের শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।
• মূল্যবোধ আইনের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। এটি মানুষের বিবেক বোধের সাথে সম্পৃক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৪৮.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি কী?
  1. রাষ্ট্র
  2. সুশাসন
  3. সমাজ
  4. নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৯.
গোল্ডেন মিন (Golden Mean) কী?
  1. একটি প্রাচীন দার্শনিক ধারার নাম
  2. ত্রিভুজের দুটি বাহন বূ-কেন্দ্রিক সম্পর্ক
  3. দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা
  4. সমস্ত সম্ভাব্য কর্মের গড়
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব। এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো গোল্ডেন মিন।

সূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,১৫০.
কোন ধরণের মানব আচরণ নৈতিকতার নিয়ন্ত্রণে থাকে?
  1. সামাজিক আচরণ
  2. রাজনৈতিক আচরণ
  3. মানসিক আচরণ
  4. ইতিবাচক আচরণ
ব্যাখ্যা
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নৈতিকতা:

- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- এটি একান্তভাবেই মানুষের হৃদয়-মন থেকে উৎসারিত।
- নৈতিকতা বা নীতিবোধের বিকাশ ঘটে মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি থেকে।
- নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।

এছাড়াও,
- নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম রাষ্ট্র কর্তৃত্বের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না।
- কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- রাষ্ট্র নৈতিকবিধি প্রয়োগ করে না।
- নৈতিকতা বিরোধী ব্যক্তিকে রাষ্ট্র কোনো প্রকার দৈহিক শাস্তি প্রদান করে না।
- বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত এবং সামাজিক ব্যাপার।

উল্লেখ্য,
- আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের কল্যাণ সাধনই নৈতিকতার লক্ষ্য।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- যে রাষ্ট্রের মানুষের নৈতিক মান সুউচ্চ, সেদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সহজ।
- 'কেননা সে দেশের নাগরিকগণ নিজেরাই অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকেন, ঘুষ দুর্নীতিকে ঘৃণা করেন।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৫১.
আইনের উৎস কোনটি?
  1. ক) প্রথা
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) ন্যায়বোধ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং জনগণের সামাজিক কল্যাণের জন্যে গৃহিত সুনির্দিষ্ট নিয়মের সমষ্টিই হলে আইন। ধর্ম, প্রথা, ন্যায়বোধ, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, বিচার সংক্রান্ত রায়, আইনসভা প্রভৃতি আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৫২.
কোন মূল্যবোধ রাষ্ট্র, সরকারও গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ইতিবাচক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি রাষ্ট্র, সরকার এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত এবং সমর্থিত।
- এই মূল্যবোধগুলি সাধারণত মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলি রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিকদের মধ্যে একটি সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৫৩.
সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে কোন সংস্থা? 
  1. African Union
  2. European Economic Community 
  3. UNO
  4. World Bank
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।
- সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

উল্লেখ্য,
শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ
চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উৎস: European Economic Community ওয়েবসাইট।

১,১৫৪.
মূল্যবোধ শিক্ষা কী নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে?
  1. মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ
  2. আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ
  4. সামাজিক অসমতা নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিতকে মজবুত করে।

⇒ মূল্যবোধের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির মধ্যে নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, দেশের প্রতি, সকল ধর্মের প্রতি সঠিক ও যথার্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তিকে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।
- মূল্যবোধ ও সুশাসন জাতীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সাংবিধানিক অধিকার, জাতীয় সংহতি, সমাজের উন্নতি ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৫৫.
“গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন “– উক্তিটি কার?
  1. ক) অধ্যাপক ফাইনার
  2. খ) এডমন্ড বার্ক
  3. গ) অধ্যাপক ম্যাকাইভার
  4. ঘ) অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
উর্পযুক্ত উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ফাইনার। “রাজনৈতিক দল হচ্ছে কোন নীতির সমর্থনে সংগঠিত সংঘ বিশেষ, যা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার পরিচালনায় প্রয়াসী হয়” – অধ্যাপক ম্যাকাইভার। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৫৬.
'মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. প্রোটাগোরাস
  2. প্লেটো
  3. হিউম
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতাবাদ:
- অভিজ্ঞতাবাদ জ্ঞানের উৎপত্তি সম্পর্কে এমন একটি মতবাদ, যা অভিজ্ঞতাকেই জ্ঞানের একমাত্র উৎস বলে মনে করে।
- অভিজ্ঞতাবাদের ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিসের পরমাণুবাদীরা এবং সোফিস্টরা সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতাবাদের কথা প্রচার করেন।
- সোফিস্টদের মতে, ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণই জ্ঞান লাভের একমাত্র উপায়।
- প্রোটাগোরাস-এর মতে, ‘মানুষই সবকিছুর পরিমাপক বা নির্ধারক।’

উৎস: i) জ্ঞানতত্ত্ব, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১,১৫৭.
আইন সম্পর্কে নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. আইনের চোখে সবাই সমান
  2. আইন অভ্যন্তরীণ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে
  3. ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষক
  4. আইন সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত বিধি
ব্যাখ্যা
আইনের বৈশিষ্ট্য:
- আইনের সংজ্ঞাগুলো বিশ্লেষণ করলে আইনের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো পাওয়া যায়:
১। সার্বজনীনতা- আইন সার্বজনীন ও সমভাবে প্রযোজ্য। সমস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আইনের কর্তৃত্ব সমভাবে প্রতিষ্ঠিত।
২। আচরণ নিয়ন্ত্রক- আইন বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ কোন অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীকে আইনের আওতাভুক্ত হতে হয়। আইন মোতাবেক বিচার করা হয় এবং শাস্তি দেওয়া হয়।
৩। অনুমোদিত ও স্বীকৃত- আইন সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত বিধি। কেবলমাত্র সমাজ ও রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত হলেই আইনের পেছনে শক্তিশালী মঞ্জুরী রচিত হয় এবং স্বভাবজাতভাবে বা কোন কোন সময়ে ভয়ে আইন আনুগত্য লাভ করে।
৪। অবশ্য পালনীয়- আইন অবশ্যই পালনীয়। সকলকেই আইন মেনে চলতে হয়। আইন আছে বলেই মানুষ অধিকার ভোগ করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আইন কর্তৃপক্ষকে বা বিচারককে যে নিরপেক্ষতা দান করে তাই ন্যায় বিচারের ভিত্তি।

এছাড়াও,
- আইন স্বাধীনতার শর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৮.
মূল্যবোধের পরিবর্তনশীলতার ফলে কোনটি অর্থহীন হয়ে গেছে?
  1. রাজনৈতিক নীতি
  2. সামাজিক সংস্কার
  3. বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা
  4. আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- স্থান, কাল পাত্রভেদে মূল্যবোধ বিভিন্ন রূপ হয়।
- মূল্যবোধ পরিবর্তনশীল।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
• পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা: মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা। সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজ অনুসৃত মূল্যবোধগুলোরও পরিবর্তন সাধিত হয়। অতীতের অনেক মূল্যবোধ বর্তমানে আমাদের কাছে অর্থহীন। যেমন- বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা। আবার বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে। মূল্যবোধ নৈর্ব্যক্তিক।

• সামাজিক মাপকাঠি: মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ। মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারণা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করার মাপকাঠি স্বরূপ।

• যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন: মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। একই রীতি-নীতি, আচার- অনুষ্ঠান ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজের সকলে পরস্পর মিলিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে জীবনযাপন করে।

• নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা। মূল্যবোধের প্রতি সমাজে বসবাসকারী মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আছে বলে মানুষ এটা মনে করে।

• বিভিন্নতা: মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, দেশ জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। যেমন- পাশ্চাত্য দেশে মেয়েরা যে পোশাক পরে আমাদের দেশে মেয়েদের জন্য সে পোশাক সমাজ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য নয়।

• বৈচিত্রময়তা ও আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ বৈচিত্রময় ও আপেক্ষিক।আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত, কাল তা সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।

• সুতরাং, মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা দূরীভূত করে ও সুশাসন নিশ্চিত করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৫৯.
কোন ধরনের অধিকার ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোন শাস্তি দেওয়া হয় না?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার:
- অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে।
- অধিকার দুই প্রকার।
যথা:
- নৈতিক অধিকার
- আইনি অধিকার।
- নৈতিক অধিকার ভঙ্গকারীকে কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। মানুষের বিবেক বোধ থেকে নৈতিক অধিকারের উৎপত্তি।

অন্যদিকে,
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রভৃতি আইনি অধিকার ভঙ্গকারীকে বিচারের মুখোমুখি বা শাস্তি পেতে হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬০.
______________ মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
  1. দুর্নীতি রোধ করা
  2. সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
  3. ব্যক্তি স্বার্থের উন্নয়ন ঘটানো
  4. রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজ নৈতিকতা, ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে সচেতন হয়।
- এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা, যাতে সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় থাকে।

মূল্যবোধ শিক্ষার গুরুত্ব:
- নৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা;
- নৈতিক চরিত্র গঠন ও সদাচরণ শেখানো;
- সত্যবাদিতা, সততা ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া;
- সামাজিক সমস্যা ও অপরাধ কমানো;
- নতুন প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬১.
আইন কী?
  1. ক) নিয়ম
  2. খ) বিধি-বিধান
  3. গ) সুপ্রতিষ্ঠিত ধ্যান-ধারণা
  4. ঘ) স্বীকৃত বিধি-বিধান
ব্যাখ্যা
আইন ফারসি শব্দ৷ আইনের সাধারণ অর্থ নিয়ম। ইংরেজি Law শব্দ টিউটনিক মূল Lag শব্দ হতে উৎপত্তি হয়েছে। এর অর্থ স্থীর বা অপরিবর্তনীয়। উড্রো উইলসন বলেন- “ আইন হলো মানুষের চিন্তাধারা ও অভ্যাসের সেই অংশ যা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বিধিতে পরিণত হয়েছে এবং যার পেছনে সরকারের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সমর্থন রয়েছে”। রেফারেন্সঃ পৌরনীতি ও সুশাসন – প্রফেসর মোঃ ইউনুস আলী দেওয়ান।
১,১৬২.
 ইউএনডিপি ও এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ৯টি ও ৮টি
  2. ৯টি ও ৪টি
  3. ৭টি ও ৬টি
  4. ৮টি ও ৭টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- ইউএনডিপির মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি,
- জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান ৮টি,
- বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনের উপাদান ৬টি,
- আইডিএ এর মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি,
- এডিবির মতে সুশাসনের উপাদান ৪টি,
- ইউএনএইচসিআর এর মতে সুশাসনের উপাদান ৫টি।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,১৬৩.
নৈতিক অবধারণের ভিত্তি মূলত কী?
  1. ব্যক্তি
  2. রাষ্ট্র
  3. সমাজ
  4. আইন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা অবধারণ:
- নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

⇒ নৈতিক অবধারণের ভিত্তি সামাজিক হলেও এর ব্যক্তিবাদী দিকটি কিন্তু গুরুত্বহীন নয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা তথা স্বাধীনতাকে অন্যতম শর্ত হিসেবে নেয়ায় নৈতিকতা ব্যক্তির আত্ম-নিয়ন্তণ তথা আত্ম-নির্দেশনাকে তার এক মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য।
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
⇒ নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৪.
"নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ" কোন ধরনের মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. সামাজিক মূল্যবোধ
  2. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  3. নৈতিক মূল্যবোধ
  4. আধুনিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
আধুনিক মূল্যবোধ (Modern Values):
- সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল, আর এ পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেরও পরিবর্তন ঘটে।
- এজন্যই অতীতের অনেক মূল্যবোধই এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, 
- অতীতে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল, এখন মানুষ বাল্যবিবাহকে অপছন্দ করে।
- রাষ্ট্র আইন করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
- অতীতে হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা, সহমরণ প্রথা প্রচলিত ছিল, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। এগুলো আজ আর নেই।
- মূল্যবোধ এজন্যই নৈর্ব্যক্তিক। বর্তমানের অনেক মূল্যবোধ একদিন ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না। গড়ে ওঠবে নতুন মূল্যবোধ।
- "বিধবা বিবাহ প্রথা চালু, নারী-পুরুষ ও তৃতীয় লিঙ্গের সমান সুযোগ, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করা" আধুনিক মূল্যবোধ। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৬৫.
'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন'- উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. বেনথাম
  3. সক্রেটিস
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
- কারণ প্লেটো মনে করতেন 'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে আইন অকার্যকর।'
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৬.
Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয় ভাগে ভাগ করেছেন?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
- যে গোষ্ঠীর সদস্যগণ একই মনোভাব ও স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হয় তাকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে।
-  Almond ও Powel চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন
যথা:
১. Institutional Interest Groups,
২. Associational Interest Groups,
৩. Anomic Interest Groups,
৪. Non-Associational Interest Groups।

উৎস: Optimize IAS. [link]
১,১৬৭.
কোন অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই?
  1. অর্থনৈতিক
  2. রাজনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা
নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত। ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন-ভিখারীর ভিক্ষা পাবার অধিকার। ভিক্ষারীকে ভিক্ষা না দিলেও সে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না।
- তবে নৈতিক অধিকার সমাজ স্বীকৃত। নৈতিক অধিকার সমাজের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে নাগরিকের সুকুমার মনোবৃত্তির বিকাশ ঘটে।
- এই নৈতিক অধিকার সমাজ ও সময়ভেদে পরিবর্তন হতে পারে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৮.
একজন প্রশাসকের শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. ক) সরলতা
  2. খ) কপটতা
  3. গ) দক্ষতা
  4. ঘ) নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
একজন যোগ্য প্রশাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হলো নৈতিকতা। দায়িত্বশীলতা. সরলতা, দক্ষতা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত অন্যতম মৌলিক গুণাবলি।
১,১৬৯.
সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়। - সুশাসন সম্পর্কে এই অভিমত প্রকাশ করেন - 
  1. মারটিন মিনোগ
  2. মিশেল ক্যামডেসাস
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. উপরের কেউ নন 
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৭০.
ই-গভর্নেন্স এর মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
  3. দুর্নীতি রোধ করা
  4. মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।
- ই-গভর্নেন্স সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষ আন্ত:সম্পর্ক সৃষ্টি করে।
- ই-গর্ভনেন্স অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে এবং ব্যয় সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের জনকল্যাণের প্রতিফলন ঘটায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭১.
কোন ভাষা থেকে 'Bureaucracy’ শব্দটি উদ্ভব হয়েছে?
  1. গ্রিক
  2. ল্যাটিন
  3. ফরাসি
  4. রোমান
ব্যাখ্যা
আমলাতন্ত্র (Bureaucracy):
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'। ইংরেজি 'Bureaucrary' শব্দটি এসেছে ফরাসি থেকে।
- ফরাসিতে শব্দটি এসেছে ফরাসি 'Bureau' এবং গ্রিক 'Kratos' শব্দের সমন্বয়ে। 'Bureau' শব্দের অর্থ ডেস্ক বা অফিস এবং 'Kratos' শব্দের অর্থ শাসন বা রাজনৈতিক ক্ষমতা।
-সুতরাং আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'। আক্ষরিক অর্থে আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
-বাস্তবে আমলারা পরস্পর  সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।
- ম্যাক্স ওয়েবার ছাড়াও অনেক পন্ডিত আমলাতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
- জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"
-অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭২.
এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্ট প্রকাশ করে -
  1. ক) ১৯৯৪ সালে
  2. খ) ১৯৯৫ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
• ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance : Sound Development Management' শীর্ষক রিপাের্টে ‘সুশাসন সম্পর্কে আলােচনা করে।
• ১৯৯৭ সালে UNDP  'Governance for Sustainable Human Development' এই নামে তাদের একটি পলিসিতে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান ও এর বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে।
• বিশ্বব্যাংক (১৯৯৪) ''Governance : The World Bank Experience'' বা ‘শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনকে সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা, উন্নয়নের জন্য আইনী কাঠামো, স্বচ্ছতা ও তথ্য এ চারটি কার্যক্রম দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়।  
• ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক ‘Governance and Development' শীর্ষক রিপাের্টে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,১৭৩.
'গোল্ডেন মিন' ধারণার প্রবক্তা কে?
  1. জন লক
  2. হবস
  3. প্লেটো
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গোল্ডেন মিন (Golden Mean):
- গোল্ডেন মিন বা সুবর্ণ মধ্যক হলো একটি দার্শনিক মতবাদ।
- গ্রিক দার্শনিক এরিষ্টটল এই ধারণার প্রবর্তক।
- দুটি চরম পন্থার মধ্যবর্তী কোন পন্থাকে সুবর্ণ মধ্যক বলে।
- যেমন: একদিকে খুবই প্রাচুর্য এবং অন্যদিকে খুবই অভাব।

উৎস: Britannica.
১,১৭৪.
 মানুষের ’ভুল’ ও ’শুদ্ধ’ -এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে-
  1. কর্তব্যবোধ
  2. মূল্যবোধ
  3. সদাচার
  4. মানবিকতা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
- এটি এমন একটি গুণ যা মানুষের ভুল ও শুদ্ধ, ভালো-মন্দ, দোষ-গুণের পার্থক্য নির্ধারণ করে।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো শিক্ষালয়।
- মূল্যবোধ হলো ঐসব চিন্তাভাবনা, আশা-আকাঙ্খা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যা মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কার্যাবলীকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৭৫.
নেতৃত্ব কোন ধরনের গুণ?
  1. সামাজিক
  2. আদর্শিক
  3. রাজনৈতিক
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা
নেতৃত্ব হলো সামাজিক ও নৈতিক গুণ-বিশিষ্ট। দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল এর মতে, ‘নেতৃত্বের অপরিহার্য গুণ হলো আত্মবিশ্বাস এবং দ্রুত ও সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা'।
নেতৃত্বের আবশ্যকীয় গুনাবলি:
- ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিমত্তা, মানসিক ও দৈহিক সুস্থাতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, দূরদৃষ্টি, চারিত্রিক কঠোরতা ও কোমলতা, নিরপেক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মসংযম।

তথ্যসুত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৭৬.
আইনের শাসনের মূলকথা কোনটি?
  1. বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা
  2. অনাচার রোধ করা
  3. ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষা করা
  4. সবাইকে সমান চোখে দেখা
ব্যাখ্যা
আইন:
- অর্থাৎ মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তি বিরাজ করে।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ‘আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান’-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) কালের কন্ঠ।
১,১৭৭.
নৈতিকতা সম্পর্কিত কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) নৈতিকতা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট
  2. খ) নৈতিকতা সামাজিক বিবেক দ্বারা পরিচালিত
  3. গ) নৈতিকতা অঞ্চলভেদে এবং ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন হতে পারে
  4. ঘ) নৈতিকতার সাথে মানুষের বুদ্ধি, বিবেক ও ন্যায়পরায়ণতা যুক্ত
ব্যাখ্যা
নৈতিক আইন মানুষের অন্তর্জীবনের সাথে সম্পর্কিত। নৈতিকতার সাথে মানুষের বুদ্ধি, বিবেক ও ন্যায়পরায়ণতা যুক্ত থাকে। আইন সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট, কিন্তু নৈতিকতা অনির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট। আইন সর্বক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য কিন্তু নৈতিকতা অঞ্চলভেদে এবং ব্যক্তি বিশেষে আলাদা হতে পারে। নৈতিকতা সামাজিক বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়।
সূত্র- এসএসসি পৌরনীতি (উন্মুক্ত)।
১,১৭৮.
ই-গভর্নেন্স (E- Governance) এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Efficient Governance
  2. Electrical Governance
  3. Electronic Governance
  4. Effective Governance
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স (E-Governance):
- ই-গভর্নেন্সের পূর্ণরূপ: Electronic Governance (ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স)।
- ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা ও তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতিই ই-গভর্নেন্স।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা।
- বর্তমান বিশ্বে সুশাসন বাস্তবায়নের জন্য ই-গভর্নেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ই-গভর্নেন্সের প্রধান লক্ষ্য:
- স্বচ্ছতা (Transparency) – সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া।
- দ্রুততা (Efficiency) – প্রশাসনিক কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা।
- সহজীকরণ (Simplification) – জনগণের জন্য সরকারি সেবাগ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ করা।
- জবাবদিহিতা (Accountability) – সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ করা।

ই-গভর্নেন্স ও সুশাসন:
- ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে জনগণ সহজেই সরকারি তথ্য ও সেবা পেতে পারে।
- এটি দুর্নীতি হ্রাস করে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করে।
- সরকারি সেবাগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৭৯.
“আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. ওপেন হাইম
  3. এরিস্টটল
  4. জন লক
ব্যাখ্যা
আইন:
• “আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্তি।” উক্তিটি করে - এরিস্টটল।
• আইনের অনুশাসন কথাটি প্রথম কে ব্যবহার করে - অধ্যাপক ডাইসি।
• “আইন সার্বভৌম শাসকের আদেশ” - উক্তিটি করে - জন অস্টিন।
• “জনমত আইনের অন্যতম উৎস”-উক্তিটি কারে - ওপেন হাইম।
• “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” - বলেছেন - অধ্যাপক ডাইসি।
• “যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা”- উক্তিটি করে - জন লক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,১৮০.
ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্সের লক্ষ্য নিচের কোনটি?
  1. ক) সরকারের স্বার্থরক্ষা
  2. খ) জনগণের অংশগ্রহণ রোধ
  3. গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
ই-গভর্ন্যান্স:
- ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেক্ট্রনিক গভর্ন্যান্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি প্রত্যয় হচ্ছে ই-গর্ভনেন্স।
- বর্তমান পৃথিবীর উন্নত-অনুন্নতসহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই ইগর্ভনেন্স এর বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রেই এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দ্রুততা, প্রতিযোগিতা, সহজীকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণী, মো. মোজাম্মেল হক)
১,১৮১.
মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার
  2. প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন
  3. সামাজিক অনুশাসন ও আদর্শ স্থাপন
  4. ব্যবসায়িক দক্ষতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার বিকাশ ঘটায়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্য হল সামাজিক অনুশাসন এবং আদর্শ স্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা নৈতিক এবং সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারে।
- এই শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করে, যা সমাজে শৃঙ্খলা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের আচরণে নিয়ম ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।
- এটি মানুষকে ন্যায় এবং ন্যায়বিচার মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, যা সমাজে সাম্য এবং অধিকার নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, মূল্যবোধ শিক্ষার উদ্দেশ্যের বিপরীত হচ্ছে-
- ব্যক্তিগত স্বার্থের অগ্রাধিকার,
- আইন অমান্য করার প্রবণতা, এবং
- সমাজে বিশৃঙ্খলা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,১৮২.
নিচের কোনটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য?
  1. স্বচ্ছতা
  2. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  3. আইনের শাসন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশাসনের উপাদান ও বৈশিষ্ট্য: 
- জি. বিলনে (G. Bilney), OCED এবংUNDP সুশাসনের বেশ কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লে করেছে, এগুলো নিম্নরূপ: 

১. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
২. নৈতিক মূল্যবোধ 
৩. স্বচ্ছতা
৪. বৈধতা
৫. দায়িত্বশীলতা
৬. আইনের শাসন
৭. দায়বদ্ধতা বা জবাবদিহিতা 
৮. দক্ষতা
৯. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব
১০. স্বাধীন বিচার বিভাগ
১১: সততা
১২. লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি
১৩. বিকেন্দ্রীকরণ 
১৪. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা
১৫. সুশীল সমাজ
১৬. জন গ্রহণযোগ্যতা 
১৭. পেশাদারিত্ব
১৮. মর্যাদা ও বিশ্বাস অর্জন
১৯. প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা 
২০. মুক্ত এবং বহুত্বভিত্তিক সমাজ
২১. গণতন্ত্র
২২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৮৩.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. সুশীলসমাজ
  2. এনজিও
  3. বিচার বিভাগ
  4. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ বোঝায়। এর দ্বারা একটি সমাজের কালোত্তীর্ণ মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও বোঝানো হয়। ব্যক্তি-পর্যায়ে এর অর্থ হল কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা, তথা চরিত্রনিষ্ঠা। এই দলিলটিতে শুদ্ধাচারের এই অর্থই গ্রহণ করা হয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এ কৌশলের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- এ কৌশলে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত স্থায়ী দায়িত্ব; সুতরাং সরকারকে অব্যাহতভাবে এই লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে মর্মে উল্লেখ আছে।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮.
ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

⇒ শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. রাজনৈতিক দল, ২. বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ৩. এনজিও ও সুশীলসমাজ, ৪. পরিবার, ৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৬ গণমাধ্যম।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট ও তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,১৮৪.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) মূল্যবোধ মানুষের আচরণ পরিমাপের মাপকাঠি
  2. খ) মূল্যবোধ সামাজিক রীতি-নীতির সমষ্টি
  3. গ) মূল্যবোধ শিক্ষা সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও রীতিনীতির সমষ্টি। মূল্যবোধ মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ এবং ন্যায়-অন্যাযের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে।
মূল্যবোধের অনুপস্থিতির ফলে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়। যার কারণে সামাজিক অবক্ষয় রোধের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,১৮৫.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য-এর বিষয়টি আলোচিত হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১৮
  3. অনুচ্ছেদ ২১
  4. অনুচ্ছেদ ২৫
ব্যাখ্যা

নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদে নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ২১(১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয় "সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।”
- ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়, "সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।”

অন্যদিকে,
- ১৭ নং অনুচ্ছেদ: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- ১৮ নং অনুচ্ছেদ: জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা:
- ২৫ নং অনুচ্ছেদ: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১,১৮৬.
কোনটি প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার-এর নীতি কখনো বাস্তবায়িত হতে পারে না?
  1. সুশাসন
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে সুশাসন:
- জাতিসংঘ কর্তৃক মৌলিক মানবাধিকারের ঘোষণা মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
- মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার-এর নীতির প্রতি রাষ্ট্র বা সরকার কতটা আন্তরিক এবং কীভাবে তা বাস্তবায়িত করছে সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে মানবাধিকার বা মৌলিক অধিকার-এর নীতি কখনো বাস্তবায়িত হতে পারে না।
- আবার মানবাধিকার-এর নীতিসমূহ কোনো রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত বা প্রয়োগ করা না হলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠাও সম্ভব নয়।
- কেননা সুশাসন ও মানবাধিকারের বিষয়টি একে অপরের সহায়ক ও পরিপূরক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৮৭.
ই-গভরনেন্স এর মাধ্যমে কোন ধরনের সরকারকে বুঝানো হয়েছে?
  1. ক) গণতান্ত্রিক
  2. খ) এককেন্দ্রিক
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্রীয়
  4. ঘ) ডিজিটাল
ব্যাখ্যা
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে, দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে উন্নত সেবা পৌছে দেয়া কে ই-গভরনেন্স বলে।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
১,১৮৮.
নৈতিকতা কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়?
  1. অর্থনীতি
  2. সমাজব্যবস্থা
  3. বিবেক ও মূল্যবোধ
  4. আইন
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি।
- নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ মানসিক বিষয়।
- নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।
- নৈতিকতা মানুষের মানসিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- নৈতিকতা মূলত ব্যক্তিগত ও সামাজিক ব্যাপার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১৮৯.
সুনাগরিকের গুণাবলি নয় কোনটি?
  1. ক) বুদ্ধি
  2. খ) সহিষ্ণুতা
  3. গ) বিবেক
  4. ঘ) আত্মসংযম
ব্যাখ্যা
লর্ড ব্রাইস সুনাগরিকের ৩ টি গুণাবলির উল্লেখ করেছেন। তার মতে যার মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক এবং আত্মসংযম থাকবে এবং এসবের প্রয়োগ থাকবে সেই সুনাগরিক। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৯০.
মানবাধিকারে নিম্নের কোন অধিকারের বিষয়টি স্থান পেয়েছে?
  1. ক) আইনগত অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) রাজনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- মানবাধিকারে যে অধিকারের কথা বলা হয়েছে সেটি শুধু আইনগত অধিকার। 
- যে অধিকারের ভিত্তি আইন তাকেই আইনগত অধিকার বলা যায়। 
- যেখানে আইন নেই সেখানে আইনগত অধিকারের কোন প্রশ্নই আসে না। আবার যে সকল দেশে আইন আছে সেসকল দেশেও আইনগত অধিকার যে একই রকম তা কিন্তু নয়। দেশে দেশে আইনের যেমন পার্থক্য আছে তেমনি পার্থক্য আছে আইনগত অধিকারেরও। 
- আইনের পার্থক্য আইনগত অধিকারের পার্থক্যকেও চিহ্নিত করে। 
- কোন কোন ক্ষেত্রে অধিকারের প্রকৃতি যদিও বিভিন্ন রকম হতে পারে তথাপি কিছু কিছু অধিকার সকল দেশে সকল রকম মানুষের ক্ষেত্র বিশেষে অভিন্ন।
 
উৎস: বিএ/বিএসএসএস প্রোগ্রাম, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৯১.
"Red-tapism" বা লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি মূলত কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি
  3. রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম
  4. আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

লালফিতার দৌরাত্ম্য (Red tapism):
- "Red-tapism" বা লালফিতার দৌরাত্ম্য শব্দটি মূলত আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।

• লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উল্লেখ্য,
- যে কোন সমস্যা বিধি-মোতাবেক সমাধান করতে গিয়ে প্রায়শ সময় নষ্ট হয়ে যায়। যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পূর্ববর্তী নজিরের উপর বেশি গুরুত্বরোপ করেন। অফিসের দৈনন্দিন কর্ম পরিকল্পনা করেন সনাতন রীতি ও কর্মপদ্ধতির উপর ভিত্তি করে। এর ফলে আমলাতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ জনগণের সেবা প্রদান ব্যাহত হয়।
- অতিবেশি নিয়ম কানুনের কারণে জনগণ সরকারি অফিসে এসে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ছোটাছুটিতে বাধ্য হন। আবার আইন কানুনের জটিলতার জন্য আমলারা সময়মত কাজ সম্পন্ন করতে পারেন না।
- লালফিতার সুযোগে অনেক সময় আমলারা দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠতে পারেন। পদসোপান নীতির কারণেও আমলাতন্ত্রে কাজের বিলম্ব হয়ে থাকে। লালফিতার দৌরাত্ম্যে আমলাতন্ত্র জনবিচ্ছিন্ন ও অপ্রিয় হয়ে ওঠে। নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমলাতন্ত্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হলে, তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়, এমনকি এ কারণে সরকারের পতন পর্যন্ত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,১৯২.
'গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র' এ উক্তিটি কার?
  1. অধ্যাপক সিলি
  2. ম্যাকাইভার
  3. সি.এফ. স্ট্রং
  4. লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা:
- গনতন্ত্রের ইংরেজী প্রতি শব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগন এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র হচ্ছে এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে।
- চিন্তাবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে গণতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার ব্যবস্থাই নয় বরং এক ধরনের জীবন দর্শন বা জীবনপদ্ধতি।

⇒ প্রফেসর সিলী বলেন, "এটি এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেকের অংশ আছে।”
- লর্ড ব্রাইস, 'Modern Democracy' নামক গ্রন্থে বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে সেই ধরনের শাসন ব্যবস্থা যাতে রাষ্ট্রশাসন আইনত কোন বিশেষ শ্রেণী বা শ্রেণীগুলোর হাতে না থেকে সমাজের নাগরিকদের হাতে থাকে।
- সি. এফ. স্ট্রং সুন্দরভাবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন, "শাসিতগণের সক্রিয় সম্মতির উপর যে সরকার প্রতিষ্ঠিত তাকে গণতন্ত্র বলে।" 
- অধ্যাপক লিন্ডসে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র সরকারের ন্যায় সমাজেরও একটি তত্ত্ব বটে.
- কার্ল জি ফ্রেডরিখ বলেন, “গণতন্ত্র হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন সংঘটনের জন্য স্বীকৃত একটি প্রধান উপায়।”
- ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতান্ত্রিক সরকারের স্বরূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র হল জনগণের, জনগণের জন্য এবং জনগণের দ্বারা সরকার।" 
- অধ্যাপক ডাইসি বলেন, "গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকগণ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।"
- গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোডাস এর মতে, "গনতন্ত্র এমন এক প্রকার শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা আইনত কোনো শ্রেণি বা শ্রেণিসমূহের ওপর ন্যস্ত না থেকে সমাজের সকল সদস্যদের ওপর ন্যস্ত থাকে।"
- স্যার ক্রিপসের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সকল বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকদের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে।"
- ম্যাকাইভারের মতে, "গণতান্ত্রিক শাসনে সরকার জনগণের এজেন্ট মাত্র এবং তারা সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করে।"

⇒ গণতন্ত্র দুই প্রকার।
১. প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র
২. পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাজনৈতিক সংগঠন, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৩.
Asian Development Bank (ADB) নিম্নের কোন রিপাের্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. Governance and Development
  2. Policy Paper
  3. Governance: Sound Development Management
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ADB ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎবাণী।

অন্যদিকে,
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৯৪.
‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা’ কোন বিভাগের কাজ?
  1. আইন বিভাগ
  2. সুশীল সমাজ
  3. শাসন বিভাগ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
• একটি  রাষ্ট্রকে সামগ্রিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের ৩টি বিভাগ থাকে।
যথা: 
১. আইন বিভাগ, 
২. শাসন বিভাগ ও 
৩. বিচার বিভাগ।

• সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ হচ্ছে - প্রশাসন পরিচালনা করা, আইন প্রণয়ন করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। 
• বিচার বিভাগের অন্যতম কাজ হচ্ছে - দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৫.
‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’ নীতিটির প্রবর্তক কোন দার্শনিক? 
  1. জাঁ জ্যাক রুশো
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জন লক
  4. এরিস্টটল 
ব্যাখ্যা

• নৈতিকতা:
- ‘কর্তব্যের জন্য কর্তব্য’-ধারণাটির প্রবর্তক - ইমানুয়েল কান্ট
- ইমানুয়েল কান্ট জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা:- সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।

- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বইঃ
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, HSC Programme, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৯৬.
সুশাসনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় কোনটি?
  1. ক) জনসাধারণের কার্যকর অংশগ্রহণ
  2. খ) দক্ষ আমলাতন্ত্র
  3. গ) ধর্মীয় জ্ঞান
  4. ঘ) ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা
- সুশাসন নিশ্চিতের জন্যে জনসাধারণের কার্যকর অংশগ্রহণ,  এবং ই-গভর্ন্যান্স অন্যতম সহায়ক।
অন্যদিকে,
ধর্মীয় জ্ঞান সুশানের ক্ষেত্রে আব্যশক নয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা , এস এস সি প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৭.
সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে কোনটি?
  1. ক) গণতন্ত্র
  2. খ) রাজনৈতিক দল
  3. গ) মিডিয়া
  4. ঘ) আইনজীবী
ব্যাখ্যা
- সরকার ও জনগণের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করে মিডিয়া।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হচ্ছে মিডিয়া তথা স্বাধীন সংবাদমাধ্যম।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের সকল কার্যক্রম প্রচার করে থাকে মিডিয়া‌।

সংবাদপত্র - সমাজের দর্পণ স্বরুপ। সংবাদপত্রের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক খবর সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে। সরকারি কোন সিদ্ধান্তের ভালো মন্দ জেনে জনগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে পারে।
- সরকার ভালো কাজ করলে সংবাদপত্র জনগণের হয়ে সরকারের প্রশংসা করে, আর জনবিরোধী কার্যক্রম করলে তার প্রতিবাদ করে।
- এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে উঠে। এভাবে সংবাদপত্র জনমত গঠন করে জনগণের অধিকার রক্ষা করে থাকে।

উৎস: একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
১,১৯৮.
আইন মূলত কোনটি নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. চিন্তা
  2. মনোভাব
  3. ধর্মীয় বিশ্বাস
  4. মানুষের বাহ্যিক আচরণ
ব্যাখ্যা

আইন ও নৈতিক বিধির সম্পর্ক ও পার্থক্য: 
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- আইন ও নৈতিক বিধি উভয়ের বিষয়বস্তু মানুষ এবং উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণসাধন। জনগণের সম্মতি ছাড়া আইন কার্যকর করা দুরূহ। নৈতিকতা বিরুদ্ধ আইন অনেক ক্ষেত্রে জনসম্মতি হারায় বরং জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে। আবার নৈতিক বিধি মানুষের আইনগত অধিকার লঙ্ঘনের কারণ হলে রাষ্ট্র সে ক্ষেত্রে আইনের সাহায্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
- আইন ও নৈতিক বিধির মধ্যে সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতা থাকা সত্ত্বেও দুটোর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
- আইন মানবসমাজের দর্পণস্বরূপ।
- মানুষের দেহ, সম্পত্তি, সুনাম ও মর্যাদা সুরক্ষার উদ্দেশ্যে আইন প্রণীত হয়ে থাকে, যা মেনে চলা রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, অনুমোদন এবং আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আইনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, যার উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিধিনিষেধ আইনে পরিণত হয় না।
- নৈতিক বিধি হলো ধর্ম বা সমাজ আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ, যা মানুষের বিবেকবোধ, নীতিবোধ, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিতের ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
- আইন মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু নৈতিক বিধি মানুষের চিন্তা ও মনোভাব নিয়ে যে অন্তর্জগৎ, সেটির নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

১,১৯৯.
আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা

আইনের প্রকারভেদ:
- আইনের প্রয়োগ ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের উপর ভিত্তি করে আইনকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• সরকারি আইন,
• বেসরকারি আইন,
• আন্তর্জাতিক আইন ৷

⇒ সরকারি আইন:
- সরকার কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত নিয়মকানুনই হল সরকারি আইন।
- রাষ্ট্র পরিচালনা করতে নানা ধরনের আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হয়।
• সরকারি আইন সাধারণত জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্টে প্রণীত হয়ে থাকে ।
- সকল পর্যায়েই সাধারণত সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যগণের সম্মতির প্রয়োজন পড়ে।
- সরকারি আইনের মধ্যে রয়েছে-
• ফৌজদারি আইন,
• প্রশাসনিক আইন,
• সাংবিধানিক আইন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০০.
কোনটির অভাবে সমাজে অবক্ষয় দেখা যায়?
  1. ক) মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. খ) পারিবারিক শিক্ষা
  3. গ) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ শিক্ষা হলো শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সম্পর্কিত শিক্ষা।
মূল্যবোধের শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেয়
• সেজন্যে ব্যভিচার, রাহাজানি, মাদকাসক্ততা, ইভটিজিং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়জনিত কর্মকাণ্ড রোধ করতে মূল্যবোধ শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।