বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

মোট প্রশ্ন৩,৮২৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

PrepBank · পাতা ১০ / ৩৯ · ৯০১১,০০০ / ৩,৮২৯

৯০১.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক মূল্যবোধ?
  1. ক) শিষ্টাচার
  2. খ) সত্য কথা বলা
  3. গ) সৌজন্যবোধ
  4. ঘ) রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক মূল্যবোধ মানুষের রাজনৈতিক আচরণ ও কর্মকান্ডকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত করে।
রাজনৈতিক মূল্যবোধ সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন
- আইন মেনে চলা
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
- রাজনৈতিক শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- সত্য কথা বলা হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
- সৌজন্যবোধ ও শিষ্টাচার হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
৯০২.
'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'- উক্তিটি কার?
  1. লর্ড ডিপটন
  2. লর্ড ব্রাইস
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. লর্ড এ্যাকটন
ব্যাখ্যা

নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত:
 'নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত'-উক্তিটি করেন লর্ড অ্যাকটন।
- নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ দুর্নীতির পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড অ্যাকটনের (১৮৮৭) এই উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক।
- তার মতে, ‘পাওয়ার টেন্ড্স টু করাপ্ট, অ্যান্ড অ্যাবসলিউট পাওয়ার করাপ্ট অ্যাবসলিউটলি।’
- বর্তমানকালে বিভিন্ন দেশে দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে এ উক্তির যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য,
- দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর শ্রেণি-চরিত্র সবসময় প্রায় একই রকমের হয়ে থাকে।
- সেটা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হোক কিংবা অগণতান্ত্রিক সরকার হোক, তাতে শ্রেণিচরিত্রের খুব একটা পার্থক্য থাকে না।
- এর প্রধান কারণ জনগণের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

⇒ অনেক সময় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা শাসকশ্রেণিকে নিরঙ্কুশভাবে স্বৈরাচারী করে তোলে।
- একইভাবে তারা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বলয়ে থেকে নিরঙ্কুশ দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে ওঠে।

উৎস: i) Britannica.
ii) যুগান্তর।

৯০৩.
একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. সরলতা
  2. দক্ষতা
  3. নৈতিকতা
  4. দায়িত্বশীলতা
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হচ্ছে নৈতিকতা।
- নৈতিকতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা, সততা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তি তৈরি করে।
- এটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিশ্বাস ও প্রেরণা জাগাতে সহায়ক।
- নৈতিকতা এমন একটি গুণ যা সততা, ন্যায্যতা, এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
- নৈতিকতা ছাড়া অন্য গুণাবলিগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে,
দায়িত্বশীলতা:
দায়িত্বশীলতা একজন প্রশাসকের গুরুত্বপূর্ণ গুণ, তবে এটি নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল। যদি কোনো প্রশাসক দায়িত্বশীল হলেও নৈতিক না হন, তবে তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না। নৈতিকতা দায়িত্ব পালনের পথনির্দেশক।

দক্ষতা:
দক্ষতা প্রশাসকের কাজের ফলাফল উন্নত করে, তবে নৈতিকতা ছাড়া দক্ষতা ক্ষতিকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দক্ষ ব্যক্তি যদি অনৈতিক হয়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে (যেমন: দুর্নীতি বা অন্যায় সিদ্ধান্ত)।

সরলতা:
সরলতা একটি ব্যক্তিগত গুণ যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সরলতা সবসময় কার্যকর নয়। নৈতিকতার অভাব থাকলে সরলতা একটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯০৪.
ই-গভর্নেন্স চালু হলে -
  1. জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
  2. দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  3. স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯০৫.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) রাজনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সামাজিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলো আমরা সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে ভোগ করে থাকি।
সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মত প্রকাশের অধিকার প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯০৬.
“অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।” এটি কার উক্তি?
  1. অধ্যাপক ডাইসি 
  2. অধ্যাপক বার্কার
  3. অধ্যাপক গেটেল
  4. অধ্যাপক গার্নার
ব্যাখ্যা
অধিকারের ধারণা:
-সাধারণত অধিকার বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কোন কিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়।
- এদিক থেকে বিচার করলে আইন বিরোধী কাজ করাকেও অধিকার বলা যায়। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসনে এ ধরনের কাজকে স্বেচ্ছাচার বলা হয়।
- অধ্যাপক আনেস্ট বার্কার যথার্থই বলেন, "অধিকার তখনই প্রকৃত অধিকার হতে পারে যখন রাষ্ট্র সেগুলোকে অধিকার বলে স্বীকার করে এবং সেগুলো রক্ষার জন্য সচেষ্ট হয়।"
- অর্থাৎ রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত সুযোগ বা সুবিধাকে অধিকার বলা যায়।
- যেমন- পরিবার গঠন, শিক্ষা লাভ, নির্বাচনে ভোটদান, নির্বাচিত হওয়ার মত অধিকারের প্রতি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও অনুমোদন রয়েছে।
- অধিকার ভোগের মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। সেই সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রে কল্যাণকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
- এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি বলেন 'অধিকার বলতে আমরা সামাজিক জীবনের সেসব শর্তকে বুঝি, যা ব্যতীত সাধারণভাবে ব্যক্তির সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন অসম্ভব।"
- এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ব্যক্তির কল্যাণের জন্য অধিকার অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৭.
কোন ধরনের মূল্যবোধ দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা দ্বারা সকলের মধ্যে জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

» সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো হলো: 
- আইনের শাসন,
- ন্যায়পরায়ণতা,
- সচেতনাবোধ সৃষ্টি,
- পরমত সহিষ্ণুতা,
- স্বচ্ছতা, 
- দায়বদ্ধতা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৮.
নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণের উপজীব্য বিষয় হলো -
  1. ব্যক্তি
  2. ব্যক্তির অভিপ্রায় 
  3. ব্যক্তির প্রেষণা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
নৈতিকতা অবধারণ:
- , নৈতিকতা কতগুলো নৈতিক অবধারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
- একে অনেকে মূল্যবোধক অবধারণ, আদর্শমূলক অবধারণও বলে থাকেন।
- নৈতিক অবধারণে আমরা নৈতিক আচরণ বা আচরণকারীর ওপর কোন নৈতিক গুণ, বাধ্যবাধকতা, দায়িত্ব ইত্যাদি অথবা ইত্যাদির অভাব আরোপ করি।
- নৈতিক অবধারণের আর একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এ কিছু নীতি, আদর্শ বা সদ্গুণের সঙ্গে যুক্ত।

নৈতিক অবধারণের প্রকার:
- নৈতিক অবধারণ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে।
- নৈতিক নীতিগুলো সাধারণ নৈতিক অবধারণ হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত।
- গুরুত্বপূর্ণ যে দু'ধরনের নৈতিক অবধারণ রয়েছে তাদেরকে বলা যেতে পারে: (১) বাধ্যতামূলক নৈতিক অবধারণ ও (২) মূল্যবোধক নৈতিক অবধারণ।

⇒ বাধ্যতামূলক অবধারণ বলতে বুঝায়, ঐসব অবধারণ যাতে কোন বিশেষ কাজকে আমরা নৈতিকভাবে যথোচিত, অযথোচিত, বাধ্যতামূলক, কর্তব্য ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করি; অথবা তা করা উচিত কি অনুচিত তা বলি।
নৈতিক মূল্যবোধক অবধারণে আমরা কোন কাজ সম্পর্কে কথা বলি না, বরং কোন ব্যক্তি অথবা তার প্রেষণা, অভিপ্রায়, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে কথা বলি এবং আমরা যা বলি তাতে যে শব্দগুলি ব্যবহার করি তা হচ্ছে নৈতিকভাবে ভাল-মন্দ, সৎ বা অসৎ গুণ সম্পন্ন, দায়িত্বপূর্ণ, নিন্দাহ, সাধুসুলভ, ঘৃণ্য ইত্যাদি।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৯.
একজন ব্যক্তি নীতি ও ঔচিত্যবোধের চূড়ান্ত অনুমোদন কোথা থেকে পেয়ে থাকে?
  1. রাষ্ট্র
  2. পরিবার
  3. বিবেক
  4. বুদ্ধিমত্তা
ব্যাখ্যা
নীতি ও ঔচিত্যবোধ:
- মানুষের আচরণকে সঠিক ও ন্যায়নিষ্ঠ পথে পরিচালিত করার জন্য গৃহীত আদর্শ বা নিয়ম হচ্ছে নীতি।
- ঔচিত্যবোধ হচ্ছে কোন কাজটি উচিত আর কোনটি অনুচিত, সেই বোধ বা সচেতনতা।
- বিবেক হলো মানুষের অন্তর্নিহিত এক ধরনের নৈতিক বোধ, যা ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, নীতি-অনীতি বিচার করতে সাহায্য করে।
- ব্যক্তি নীতি ও ঔচিত্যবোধ (কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত) সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় তার বিবেকের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- ব্যক্তি সমাজে বড় হয়, শেখে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে, কিন্তু সে নীতি ও ঔচিত্যবোধের চূড়ান্ত অনুমোদন তার নিজের বিবেক থেকে পায়।
- পরিবার, রাষ্ট্র ও বুদ্ধিমত্তা নৈতিক গঠনে ভূমিকা রাখলেও চূড়ান্ত নৈতিক অনুমোদন বা বোধ আসে ব্যক্তির বিবেক থেকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১০.
নাগরিকগণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারে-
  1. মূল্যবোধ শিক্ষার মাধ্যমে
  2. নৈতিকতার প্রতিষ্ঠিত হলে
  3. সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে
  4. জবাবদিহিতার থাকলে
ব্যাখ্যা

নাগরিকগণ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ও অধিকার ভোগ করতে পারেসুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে।
- সুশাসনের অর্থ : নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা হল : বহুমাত্রিক।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা : ২২টি।
- দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের সেবা থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হয় : স্বজনপ্রীতির কারণে।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না : সরকার পক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে ব্যর্থ হলে।
-সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যাহত করে : উচ্চাভিলাষী ও ভুল সিদ্ধান্ত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন(প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক)

৯১১.
সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং- 
  1. পরস্পর অপরিহার্য
  2. পরস্পর বিরোধী
  3. পরস্পর নির্ভরশীল
  4. পরস্পর অসম্পর্কিত
ব্যাখ্যা

সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক: 
- সাম্য ও স্বাধীনতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দু'টি ধারণা রয়েছে।
- যথা- ১। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর সম্পূরক এবং ২। সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর বিরোধী।

পরস্পর নির্ভরশীল:
- সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পর নির্ভরশীল।
- সাম্য ছাড়া স্বাধীনতার কথা যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যের কথা ভাবা যায় না।
- সুতরাং বলা যায়, একটি রাষ্ট্র যত সাম্যভিত্তিক হবে সেখানে স্বাধীনতা তত নিশ্চিত হবে।

গণতন্ত্রের ভিত্তি:
- সাম্য ও স্বাধীনতা গণতন্ত্রের ভিত্তি রূপে কাজ করে।
- জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যেমন সাম্যের দরকার হয়, তেমনি স্বাধীনতার প্রয়োজন হয়।
- সাম্য ও স্বাধীনতা একই সঙ্গে বিরাজ না করলে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা সম্ভব হতো না।
- সাম্য উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর করে আর স্বাধীনতা সকলের সুযোগ-সুবিধাগুলো ভোগ করার অধিকার দান করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১২.
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
  1. অভাব হতে মুক্তি
  2. অধিক অর্থের মালিকানা
  3. খেয়াল খুশিমত খরচ করার সামর্থ্য
  4. বিপুল সম্পদের মালিকানা
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty):
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী জীবিকা নির্বাহের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন অভাব, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি।
- লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হচ্ছে, “প্রতিনিয়ত বেকারত্বের আশঙ্কা ও আগামীকালের অভাব থেকে মুক্ত এবং দৈনিকজী বিকার্জনের সুযোগ প্রদান।”

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে, “অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।
- " অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।
- যোগ্যতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মে নিযুক্ত হবার অধিকার, বেকার ও বৃদ্ধ বয়সে ভাতা পাবার অধিকার, রুগ্ন- অক্ষম অবস্থায় রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিপালন, উপযুক্ত মজুরি লাভ ইত্যাদি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কোন গুণটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন?
  1. অন্ধভক্তি
  2. উদাসীনতা
  3. সচেতনতা
  4. পেশিশক্তি
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের গুণ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য।
- মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় গুণটি হলো সক্রিয় অংশগ্রহণ বা সচেতনতা। এটি নাগরিককে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহিতা দাবি করতে সাহায্য করে। এছাড়া, সুনাগরিক হিসেবে আইনের শাসন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীলতাও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৪.
'মত প্রকাশের অধিকার'- নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার?
  1. সামাজিক
  2. রাজনৈতিক
  3. ব্যক্তিক
  4. ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
- তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

২.আইনগত অধিকার 
- আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- সামাজিক অধিকার সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার: 

- রাজনৈতিক অধিকার নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি বোর্ড বই। 

৯১৫.
নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত CEDAW সনদে কতটি ধারা রয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ১৫টি
  3. ২০টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা
- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত CEDAW (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination against Women) সনদ গৃহিত হয় ১৮ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে।
- এটি কার্যকর হয় ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮১।
- এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: OHCHR ওয়েবসাইট)
৯১৬.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সাংস্কৃতিক অধিকার
  2. খ) সামাজিক অধিকার
  3. গ) রাজনৈতিক অধিকার
  4. ঘ) নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের সামাজিক অধিকার।

- অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
- সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- ধর্ম চর্চার অধিকার।
- সম্পত্তি লাভের অধিকার।
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার।
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী।
৯১৭.
নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক চিন্তা' উক্তিটি কার?
  1. পি. ডব্লিউ. টেইলার
  2. উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার
  3. উইলিয়াম লিলি
  4. উইলিয়াম কে. টেইলার
ব্যাখ্যা

♦ নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা:
- উইলিয়াম কে. ফ্রাংকেনার বলেছেন নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'নৈতিকতা, নৈতিক সমস্যা এবং নৈতিক অবধারণ সম্পর্কিত দার্শনিক
চিন্তা'।

♦ উল্লেখ্য:
- উইলিয়াম লিলি এর মতে নীতিবিদ্যা হচ্ছে, 'সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা যথোচিত-অযথোচিত, ভাল-মন্দ কিংবা অনুরূপ পার্থক্যের ভিত্তিতে আচরণের বিচার করে'।
- নীতিবিদ্যাকে নীতি-দর্শনও বলা হয়।
- পি. ডব্লিউ. টেইলার নীতিবিদ্যাকে বলেছেন, 'নৈতিকতার প্রকৃতি এবং ভিত্তি সম্পর্কে দার্শনিক অনুসন্ধান'।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা,বিএ /বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৮.
নিচের কোনটি মূল্যবোধের অংশ নয়?
  1. সহনশীলতা
  2. আভিজাত্য
  3. নাগরিক চেতনা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

• মূল্যবোধের উপাদান:
→ শ্রমের মর্যাদা,
→ সামাজিক ন্যায়বিচার,
→ নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
→ শৃঙ্খলাবোধ,
→ সহনশীলতা,
→ সহমর্মিতা,
→ আইনের শাসন,
→ নাগরিক চেতনা ও
→ কর্তব্যবোধ ইত্যাদি।

অপরদিকে -
→ সাম্প্রদায়িকতা,
→ পরশ্রীকাতরতা,
→ আভিজাত্য ও
→ আত্মভরিতা মূল্যবোধের উপাদান নয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

৯১৯.
“আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” উক্তিটি কে করেন?
  1. জন অস্টিন
  2. এরিস্টটল
  3. অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. অধ্যাপক গেটেল
ব্যাখ্যা
আইন:
•    ‘আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ‘ - উক্তিটি করে → জন অস্টিন।
•    “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন” উক্তিটি করে → এরিস্টটল।
•    “Law is the passionless reason” উক্তিটি করে → এরিস্টটল।
•    “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” উক্তিটি করে? → অধ্যাপক হল্যান্ড। 
•    “রাষ্ট্র যেসব নিয়ম-কানুন সৃষ্টি বা স্বীকার করে এবং বলবৎ করে তাই শুধু আইন বলে পরিগণিত হয়।” উক্তিটি করে? → অধ্যাপক গেটেল। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২০.
প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কোনটি?
  1. ক) প্রতিযোগিতা
  2. খ) নেতৃত্ব
  3. গ) পেশাদারিত্ব
  4. ঘ) সততা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পেশাদারিত্ব। আর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে পেশাদারিত্ব। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সততা আবশ্যক।
৯২১.
ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নয় কোনটি?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  2. স্বচ্ছতা আনয়ন করা
  3. প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা
  4. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
ব্যাখ্যা
- প্রশাসনকে গতিশীল করা ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য। প্রশাসনকে স্থিতিশীল করা নয়। 

ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য: 
- ই-গভর্নেন্স-এর উদ্দেশ্য নিম্নরূপ: 
১. ই-গভর্নেন্স-এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সরকার পরিচালনা ও প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন করা।
৩. প্রশাসনকে গতিশীল করা।
৪. দ্রুত জনগণের নিকট বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ পৌছে দেওয়া।
৫. দক্ষ ও সাশ্রয়ী পন্থায় জনগণের নিকট সেবা পৌছানো।
৬. সরকারি তথ্য ও সেবা জনগণের মাঝে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।
৮. জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি।
৯. ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের নিকট তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করা।
১০. দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের বা সংশ্লিষ্টতার সুযোগ সৃষ্টি।
১১. নাগরিকদের মধ্যে সেবার মান উন্নীতকরণ।
১২ জনগণকে ঘরে বসেই সেবা ও সুযোগ লাভের সুযোগ করে দেওয়া।
১৩. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
১৪. তথ্যপ্রবাহে অবাধ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।
১৫. গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।
১৬. ই-কমার্সের উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন সাধন করা।
১৭. সুশাসন নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯২২.
সুশাসনের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা কি?
  1. ক) দারিদ্র্য
  2. খ) বেকারত্ব
  3. গ) রাজনীতি
  4. ঘ) দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সবগুলোই সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা হলেও দূর্নীতি দূরীকরণের মাধ্যমে বাকিগুলো সমাধান করা যায়। সুতরাং, এটিই অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।
৯২৩.
কবে থেকে মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয়?
  1. যৌবনকাল থেকে
  2. ছাত্রজীবন থেকে
  3. শিশুকাল থেকে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় শিশুকাল থেকে।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে।
-তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

-মানুষের মূল্যবোধের বিকাশ শুরু হয় শৈশব থেকে, পরিবারের প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে।
-শিশুরা তাদের পারিবারিক পরিবেশ, অভিভাবক এবং নিকটজনদের আচরণ ও শিক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক মূল্যবোধগুলো শিখতে শুরু করে।
-শিশুরা প্রথমে পরিবারে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ প্রভৃতি ধারণা অর্জন করে।
-পরবর্তীতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধ আরও বিস্তৃত হয়।
-শিক্ষকেরা সামাজিক আচরণ, নৈতিকতা, পরোপকার, এবং দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দেন।
-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধুদের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাদের সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে ভূমিকা রাখে।
-এরপর কিশোর ও তরুণ বয়সে, সমাজ, সংস্কৃতি, এবং ধর্মের প্রভাবের মাধ্যমে মানুষের মূল্যবোধ আরও দৃঢ় হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯২৪.
অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানো কী নির্দেশ করে?
  1. নৈতিক শিক্ষা
  2. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. রাজনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: 
- সমাজে বসবাসের জন্য মূল্যবোধ অপরিহার্য।
- একে অপরের সাথে আন্ত:সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হল এই মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধহীন ব্যক্তি সমাজের জন্য বিপদস্বরূপ।
- অন্যদিকে গণতন্ত্রের মূল কাজ হল ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিতকরা।
- একজনের অধিকার ও স্বাধীনতা অন্যের উপর নির্ভরশীল,
- যা বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
- অপরের বক্তব্য ও অধিকারকে সম্মান দেখানোর অর্থই হল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯২৫.
সরকারের কর্তব্য হল____
  1. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়/কর্তব্য:
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা,
- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা,
- দক্ষ ও কার্যকর সরকার,
- অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন,
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৬.
নিচের কোনটি নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান?
  1. পৌরনীতি
  2. সুশাসন
  3. অর্থনীতি
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতি: 
- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং অর্থনীতির লক্ষ্য অনেকটা এক ও অভিন্ন।
- উভয়ের লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা।
- পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান।
- কীভাবে নাগরিকতা অর্জন করা যায়, কীভাবে সুনাগরিক হওয়া যায়, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্যসমূহ কী কী ইত্যাদি বিষয়ে পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে থাকে।
- অপরদিকে অসীম অভাবের মাঝে সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করা যায় অর্থনীতি তারই শিক্ষা প্রদান করে।
- এই শিক্ষা না পেলে নাগরিক জীবন বিষময় হয়ে ওঠে। ফলে কেউ সুনাগরিক হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯২৭.
নৈতিকতার উৎস নিচের কোনটি?
  1. বুদ্ধি
  2. চিন্তা
  3. বিবেক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- Morality শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Moralitas থেকে।
- নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে।
- নৈতিক অনুশাসনের প্রভাবে মানুষ আইন মানে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করে না এবং রাষ্ট্রের অনুশাসনকে শ্রদ্ধা করে।
- বিবেক, চিন্তা, বুদ্ধি ও ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে নৈতিকতার উৎস।
- নৈতিকতা বিকাশের লালন ক্ষেত্র সমাজ।
- নৈতিকতার মানকে আদর্শ করে উপযুক্ত শিক্ষা।
- নৈতিক শক্তির প্রধান উপাদান হলো সততা ও নিষ্ঠা।
- নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি মানুষের সদাচরণ, সচ্চরিত্র, সততা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৮.
জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ কী কী? 
  1. সম্পদ, ক্ষমতা ও সদগূন
  2. সত্য, আনন্দ ও সদগূন
  3. সত্য, সুন্দর ও সদগুন 
  4. আনন্দ, বিবেক ও সাহস
ব্যাখ্যা

● জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ হলো সত্য, সুন্দর ও সদগুন।

জীবনের শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ সততা ও সৎ হতে উৎসারিত একটি স্বর্গীয় প্রত্যয়- যা ব্যক্তিকে মানবিকবোধে উজ্জীবিত করে।
- মানুষকে ন্যায়পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

⇒ জীবনের তিনটি শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ হলো সত্য, সুন্দর ও সদগুণ।
- এগুলো মানুষের চরিত্র গঠন ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য।
- সত্য সততা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করে, সুন্দর মনের নান্দনিকতা ও ইতিবাচকতা বাড়ায় এবং সদগুণ নৈতিকতা ও মহৎ গুণাবলির বিকাশ ঘটায়। এই মূল্যবোধগুলো একে অপরের পরিপূরক, যা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে। 

• সত্য: সততা মানবচরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি গুণ। সর্বদা সত্য কথা বলা, সৎপথে চলা এবং কোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত না হওয়ার নামই সততা। সততাকে তাই মানবচরিত্রের অলংকার বলা হয়। সততার সুফল শত ধারায় বিকশিত। জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করার জন্য সৎ থাকার অভ্যাস করতে হয়। সৎগুণসম্পন্ন মানুষ কখনোই অন্যায় ও অবৈধ কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না।
• সুন্দর: সুন্দর বলতে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং মনের সৌন্দর্য, রুচিবোধ এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে বোঝায়। এটি জীবনকে আনন্দময় ও নান্দনিক করে তোলে।
• সদগুণ: সদগুণ বা ভালো গুণ হলো সততা, দায়িত্বশীলতা, দয়া ও নৈতিকতা। এটি মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং সমাজের কল্যাণ সাধনে অনুপ্রাণিত করে। 
- এই তিনটি মূল্যবোধের ভারসাম্যপূর্ণ অনুশীলন একটি আদর্শ জীবন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

অন্যদিকে,
- বিবেক ও সাহস গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের শ্রেষ্ঠ তিনটির মানদণ্ডে পড়ে না।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দৈনিক আজাদী পত্রিকা।

৯২৯.
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের বয়স সীমা কত?
  1. ৫-১০ বছর
  2. ৬-১২ বছর
  3. ৭-১৬ বছর
  4. ৯-১৮ বছর
ব্যাখ্যা
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে বা কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধই হলো কিশোর অপরাধ।
বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকায় ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধ কিশোর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চুরি, খুন, জুয়া খেলা, মাদক গ্রহণ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, পকেটমারা, পরিক্ষায় নকল করা প্রভৃতি আমাদের দেশে প্রচলিত কতগুলো কিশোর অপরাধ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
৯৩০.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের প্রধান সুফল কোনটি?
  1. শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি
  2. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি
  3. সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি হ্রাস
  4. রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের নৈতিকতা এবং আচরণগত মান উন্নত করে, যা সুশাসনের মাধ্যমে কার্যকরীভাবে সম্পন্ন হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সমাজে সামাজিক অস্থিরতা ও দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এই প্রক্রিয়া সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যা দুর্নীতি এবং অসাধু কার্যকলাপ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে,
রাজনৈতিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীকরণ: এটি সাধারণত সুশাসনের উদ্দেশ্য নয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সৃষ্টি করতে পারে।
শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নতি: যদিও এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের মূল লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নতি: এটি একটি পার্শ্বিক সুফল হতে পারে, তবে সুশাসনের প্রধান সুফল সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি হ্রাস।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩১.
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক কোন রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে?
  1. African Development Perspectives
  2. Governance and Development
  3. Governance: Sound Development Management
  4. Policy Paper on Governance
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৩২.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. পরস্পরের সম্পূরক
  2. পরস্পরের পরিপন্থী
  3. স্বতন্ত্র
  4. অপ্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা:
- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৩.
আমলাতন্ত্রে 'Red Tapism' কী বোঝায়?
  1. সরকারের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া
  2. কঠোর নিয়মকানুনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিলম্ব
  3. জনগণকে সর্বাধিক সেবা প্রদানের পদ্ধতি
  4. রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসন
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Bureaucracy'।
- আমলাতন্ত্রের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে `Desk government' বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক।

⇒ আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়। 

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৩৪.
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ গৃহীত হয় -
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  2. খ) ১৪ আগস্ট, ১৯৪৯
  3. গ) ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  4. ঘ) ১৫ আগস্ট, ১৯৫০ 
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকারের ধারণা:
- অধিকারবোধ থেকে মানবাধিকারের উৎপত্তি হয়েছে।
- মানবাধিকার বলতে সেসব আইনগত ও নৈতিক অধিকারকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত নং ২১৭ বিশ্বজনীন মানব অধিকার সমূহ গ্রহণ ও ঘোষণা করে।
- বিশ্ববাসীকে মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।  
যেমন:
১. সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
২. সকল মানুষ যেকোন প্রকার পার্থক্য, যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, মতাদর্শ, জাতীয় ও সামাজিক পরিচিতি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে ঘোষণায় উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের অধিকারী।
৩. মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের সর্বস্থানে সর্বকালের সকল মানুষের প্রাপ্য।
৪. বিশ্বের যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিককে তাঁর দেশের বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৫.
ধর্ম চর্চার অধিকার মানুষের কীরূপ অধিকার?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রাজনৈতিক
  3. গ) নৈতিক
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
ধর্ম চর্চার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকার প্রভৃতি সামাজিক অধিকার।
-সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা এসব অধিকার ভোগ করে থাকি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৯৩৬.
"অতি শাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা।"- কে বলেছেন?
  1. লাস্কি
  2. সিলি
  3. ব্রাইস
  4. স্পেনসার
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা (Liberty :
- স্বাধীনতা শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Liber", যার অর্থ "Free" বা "স্বাধীন"।
- এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে মানুষ নিজের ইচ্ছামতো চিন্তা, বক্তব্য, চলাফেরা ও জীবনযাপন করতে পারে, তবে তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত ও সমাজের কল্যাণের পরিপন্থী হওয়া উচিত নয়।

• সিলির মতে:
"অতি শাসনের বিপরীত ব্যবস্থাই হলো স্বাধীনতা।"
অর্থাৎ, যখন কোনো ব্যক্তি বা জাতি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করতে পারে, তখনই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

• স্বাধীনতা সাধারণত চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়:
১. ব্যক্তি স্বাধীনতা (Personal Liberty);
২. রাজনৈতিক স্বাধীনতা (Political Liberty);
৩. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা (Economic Liberty);
৪. জাতীয় স্বাধীনতা (National Liberty)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৭.
ব্যক্তি কী থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে?
  1. মূল্যবোধের শিক্ষা
  2. রাজনৈতিক ক্ষমতা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. সামাজিক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

সহনশীলতা:
- সহনশীলতা সুনাগরিকের অন্যতম গুণ।
- সহনশীলতা গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের জন্য সহনশীলতা একান্ত অপরিহার্য।
- অন্যের মতামত ও মনোভাবকে শ্রদ্ধা করার মতো সহিষ্ণুতা থাকতে হবে।
- সহনশীলতা উত্তেজনা প্রশমিত করে সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
- ব্যক্তি মূল্যবোধের শিক্ষা থেকে সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৩৮.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য হলো -
  1. দারিদ্র্য দূরীকরণ
  2. অধিকার ভোগ করা
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  4. রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• সুশসান:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। একজন নাগরিক যখনই কোনো অধিকার ভোগ করতে চায় তখনই এর সাথে কিছু কিছু কর্তব্য পালনের বিষয়ও চলে আসে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করত হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়। এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

 • সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন।
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন।
→ আইন মান্য করা।
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন।
→ নিয়মিত কর প্রদান।
→ রাষ্ট্রের সেবা করা।
→ সন্তানদের শিক্ষাদান।
রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৩৯.
মূল্যবোধকে মানুষের ইচ্ছায় একটি অন্যতম মানদন্ড হিসেবে দেখিয়েছেন কে?
  1. শেফার 
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. উইলিয়াম
  4. মেরিল 
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
• সমাজ বিজ্ঞানী উইলিয়াম এর মতে,
- "মূল্যবোধ মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড।"

•ফ্রাঙ্কেল মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
- "মূল্যবোধ হল আবেগিক ও আদর্শগত ঐক্যের বোধ।"

•মেরিল এর মতে,
- ''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরন, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।''

• শেফার মূল্যবোধ সম্পর্কে বলেন,
''ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক এবং আকাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কে সমাজে বিদ্যমান ধারণার নামই মূল্যবোধ।''

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৪০.
নিচের কোন মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হল সুখ?
  1. উপযোগবাদ
  2. পূর্ণতাবাদ
  3. পরার্থবাদ
  4. আত্মস্বার্থবাদ
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ:
- সুখকে নৈতিকতার মান হিসেবে যে মতবাদ গ্রহণ করে তাকেই সুখবাদ বলে।
- সুখবাদী নিজেদেরকে উপযোগবাদী বলে পরিচয় দিতে ভালবাসতেন।
- এর কারণ হচ্ছে তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, একটি কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তার উপযোগিতা দিয়ে।
- জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় উপযোগবাদ হচ্ছে "একটি বিশ্বাস যা নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে উপযোগিতা বা সর্বোচ্চ আনন্দের নীতিকে গ্রহণ করে এই মনে করে যে কার্যাবলী যথার্থ হয় আনন্দকে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাদের প্রবণতার অনুপাতে"।
- উপযোগবাদের মতে আমাদের কাজের নৈতিক মূল্য নির্ভর করে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের সর্বোচ্চ আনন্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে।
- উপযোগবাদের প্রথম প্রবক্তা হিসেবে বেনথামের আলোচনা অনেকটা স্কুল সুখবাদের ইঙ্গিত দেয়।
- তিনি যখন সর্বাধিক লোকের জন্য সর্বোচ্চ সুখের কথা বলেন তখন এ সুখ তিনি নির্দেশ পরিমাণ দ্বারা।
- অর্থাৎ দুটো কাজের মধ্যে যে কাজ আমাদেরকে সর্বোচ্চ পরিমাণের সুখ।
- উপযোগবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ যার মূল বক্তব্য হলো সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের জন্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুখ।
- এই মতবাদ অনুসারে নৈতিকতার ভিত্তি হল সুখ।
- সুখের মাধ্যমেই ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য নিরূপিত হয়।
- উপযোগবাদ সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন হাচিসন।
- তবে উপযোগবাদের প্রকৃত প্রবক্তা হলেন জেরেমি বেন্থাম এবং জে এস মিল।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৯৪১.
কে 'গণতন্ত্রকে' মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন?
  1. ম্যাকাইভার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. এরিস্টটল
  4. অধ্যাপক ফাইনার
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্রের দোষ-ত্রুটি:
- মূর্খের শাসন- প্রাচীন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ গণতন্ত্রকে মূর্খের শাসন এবং বিপজ্জনক সরকার মনে করতেন।
-কারণ দেশের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত ও মূর্খ হওয়ায় তারা এ ব্যবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উপযুক্ত সরকার নির্বাচন করতে পারে না।
- এরিস্টটল-'গণতন্ত্রকে' মূর্খের ও অযোগ্যের শাসনব্যবস্থা বলে অভিহিত করেছেন।
- গুণ অপেক্ষা সংখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া- গণতন্ত্র জ্ঞানী-গুণী ও মূর্খ সকলকেই এক ভোটের অধিকারী করে মূর্খ ও দুর্বলদের শাসনে পরিণত হয়।
-গণতন্ত্র মাথা গণনা করে, মেধার বিচার করে না।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪২.
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা কোনটি?
  1. ক) জ্ঞান
  2. খ) আত্মসংযম
  3. গ) ন্যায়পরায়ণতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মৌলিক সততা বলতে সেসব সদগুণাবলীকে বুঝায় যা বিভিন্ন শ্রেণীর সদগুণাবলির ভিত্তি।
প্লেটোর মতে মৌলিক সততা চারটি। এগুলো হলো:
- জ্ঞান
- সাহসিকতা
- আত্মসংযম
- ন্যায়পরায়ণতা।

তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪৩.
বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা কোন ধরনের নীতিবিদ্যার উদাহরণ?
  1. বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা
  2. ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা
  3. পরানীতিবিদ্যা
  4. মানমূলক নীতিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
নীতিবিদ্যার মূল ধারা:
- নীতিবিদ্যার চারটি ও ধারা বা ধরনের কথা চিন্তা করা যায়।
- এগুলো হচ্ছে বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা, মানমূলক নীতিবিদ্যা, বিশ্লেষণী বা পরানীতিবিদ্যা ও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা।

১। বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা:
- বর্ণনামূলক নীতিবিদ্যা মূলত অভিজ্ঞতানির্ভর ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত।
- এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিবর্তনবাদী নীতিবিদ্যা।
- বিবর্তনবাদ নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী থেকে উচ্চ শ্রেণীর প্রাণীর বিকাশের কথা বলে।
- এই নীতি বিভেদ শেষপর্যন্ত ভালমন্দের বিভেদে পরিণত হয়।
- আচরণের ক্ষেত্রে এই এ ভাল মন্দ ধারণা এ সম্প্রসারিত হলে নৈতিকতার উদ্ভব ঘটে।

২। মানমূলক নীতিবিদ্যা:
- মানমূলক নীতিবিদ্যায় কতগুলো মানদন্ড বা আদর্শের আলোকে আমাদের আচরণের ভালমন্দ নির্ণিত হয়।

৩। বিশ্লেষণী নীতিবিদ্যা বা পরানীতিবিদ্যা:
- পরানীতিবিদ্যা হচ্ছে নৈতিক পদ ও অবধারণ তথা নৈতিক ভাষার অর্থ ও যুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা।

৪। ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা:
- ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার লক্ষ্য হলো আমাদের বাস্তব জীবনের কিছু চলতি সমস্যাকে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া_______  স্বাধীনতা মূল্যহীন।
  1. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতা
  3. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা
  4. সামাজিক স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।

স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ: 

- অধ্যাপক লাস্কি স্বাধীনতার তিনটি শ্রেণিবিভাগ করেছেন। এগুলো হচ্ছে- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।

• ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলতে ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বুঝায়।
- ধর্মপালন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার একটি উত্তম উদাহরণ।
- তাছাড়া গৃহের গোপনীয়তা রক্ষা, চিঠির গোপনীয়তা রক্ষা, জামিন পাওয়ার অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উদাহরণ।

• রাজনৈতিক স্বাধীনতা-
- রাজনৈতিক বিষয়াদিতে অংশ গ্রহণের অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- নিজের পছন্দ অনুসারে ভোট দেওয়ার, নির্বাচিত হওয়ার, মতামত প্রকাশ, প্রতিবাদ ও সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- অধ্যাপক লাস্কির মতে, "রাষ্টীয় ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- " অধ্যাপক লাস্কি রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য যথোপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা ও খোলাখুলি সংবাদ সরবরাহ করার কথা বলেছেন।

• অর্থনৈতিক স্বাধীনতা-
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা মূল্যহীন।
- অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে অধ্যাপক লাস্কি অভাব ও বেকারত্ব থেকে মুক্তির কথা বলেছেন।
- বস্তুত অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসগৃহ ও চিকিৎসার সুযোগকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলে।
- প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের মতে "অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অর্থ অভাব থেকে মুক্তি।

উৎস: পৌরনীতি , এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৫.
'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা' কোন ধরনের সাম্য?
  1. ব্যক্তিগত
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সাম্য
- নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত থাকা, পেশা পরিবর্তনের সুযোগ, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি লাভের সমতা ইত্যাদি অর্থনৈতিক
সাম্য।
- সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য অত্যন্ত জরুরি।
- অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
- ফলে মনের সুকুমার বৃত্তির বিকাশও বাধাগ্রস্থ হয়। অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে রাষ্ট্র ও দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে। 

অন্যদিকে,
• রাজনৈতিক সাম্য: প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই সব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য। সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এর সুবিধা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে। রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছ।

• ব্যক্তিগত সাম্য: মত প্রকাশের সাম্য, গোপনীয়তা রক্ষার সাম্য, বন্ধু নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো ব্যক্তিগত সাম্য, অন্যের ক্ষতি না করে
নিজের মতো কাজ করা এক ধরনের ব্যক্তিগত সাম্য। আধুনিক সমাজে ব্যক্তিগত সাম্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

• সামাজিক সাম্য:  মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের একজন সদস্য হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। যেমন
বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এ রীতি অনুযায়ী অংশগ্রহণের সুযোগ, গ্রাম্য সালিসে ন্যায় বিচার পাওয়ার সুযোগ ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৬.
সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?
  1. UNO
  2. IMF
  3. UNDP
  4. WTO
ব্যাখ্যা
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
- সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- UNDP সুশাসনের ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে। 
- বিশ্বব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞাকে আরো সমৃদ্ধ করে UNDP বলে, ‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলী পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন’।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
৯৪৭.
সুশাসনের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক কী?
  1. ঘনিষ্ঠ
  2. বিপরীত
  3. অসংলগ্ন
  4. বিরোধপূর্ণ
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও গণতন্ত্র:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসনের সাথে গণতন্ত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক।

• গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসনের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। অবাধ নির্বাচন, বাক-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন গণতন্ত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রগতিতে সহায়তা করে। 
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: গণতন্ত্রে সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্য।
- আইনের শাসন: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি।
- অংশগ্রহণ: গণতন্ত্রে নীতিনির্ধারণে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে, যা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহিংসতার অনুপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন: কার্যকর গণতন্ত্র দুর্নীতি কমিয়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

৯৪৮.
'An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy' - উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) জে এস মিল
  2. খ) রিচার্ড ক্রসম্যান
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) উইলোবি
ব্যাখ্যা
- রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন,- An uncontrolled bureaucracy is a threat to democracy.
- এর অর্থ হচ্ছে "অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ"।
- আমলাতন্ত্র অদক্ষতা ও আমলাদের জবাবদিহিতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায়।
- সাধারণত আমলারা নিজেদেরকে জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন।
- তারা নিজেদের অভিজাত শ্রেণি বলে মনে করেন।
- জবাবদিহিতার মানসিকতা গড়ে না উঠায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা দুরূহ ব্যাপার।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো.মোজাম্মেল হক।
৯৪৯.
নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্ট এর রচিত বই নয় কোনটি?
  1. Groundwork of the Metaphysics of Morals
  2. Existentialism Is a Humanism
  3. Critique of Pure Reason
  4. Critique of Judgment
ব্যাখ্যা

- ’Existentialism Is a Humanism’ নীতিবিজ্ঞানী ইমানুয়েল কান্টের রচিত বই নয়।
- বইটি ফরাসি দার্শনিক জাঁ-পল সার্ত্রের (Jean-Paul Sartre).

• ইমানুয়েল কান্ট:

- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি যথা: সৎ ইচ্ছা, কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং শর্তহীন আদেশ।
- সততার জন্য সদিচ্ছা'র কথা বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য'-ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।

• ইমানুয়েল কান্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই: 
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.


উৎস: ¡) পৌরনীতি ও সুশাসন এইচ এসসি প্রথম পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ¡¡) ব্রিটানিকা। 

৯৫০.
"শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার"—উক্তিটি কার?
  1. প্লেটো
  2. এরিস্টটল
  3. সক্রেটিস
  4. রুশো
ব্যাখ্যা

শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষাবিদের মতামত:
- শিক্ষা শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক ও জটিল।
- বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন দেশে শিক্ষাবিদ ও দার্শনিকরা আপন আপন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী শিক্ষার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

• সক্রেটিসের মতে, "শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার।"

অন্যদিকে,
• দার্শনিক প্লেটোর (Plato) মতে, শিক্ষা হচ্ছে সেই শক্তি, যার দ্বারা সঠিক সময়ে আনন্দ ও বেদনা অনুভূতিবোধ জন্মায়। এটি শিক্ষার্থীর দেহে-মনে সকল সুন্দর ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে বিকশিত করে তোলে।
• দার্শনিক এরিস্টটলের (Aristotle) মতে, সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষা দেহ-মনের সুষম এবং পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে ব্যক্তির জীবনের প্রকৃত মাধুর্য ও পরম সত্য উপলব্ধিতে সহায়তা করে।
• রুশো মন্তব্য করেন, "আমরা অভাবের মধ্যে অসহায় অবস্থায় জন্মগ্রহণ করি। শিক্ষা দ্বারা আমাদের অভাব পূরণ হয়। প্রকৃতি, বস্তু ও মানুষের নিকট হতে আমরা শিক্ষা লাভ করি।"

উৎস: মাধ্যমিক শিক্ষা, ব্যাচেলর অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫১.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা কোনটি?
  1. ক) নিরপেক্ষ ন্যায়পাল
  2. খ) স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন
  3. গ) সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা হচ্ছে -
- আমলাতন্ত্রের অদক্ষতা।
- আইনের শাসনের অভাব।
- সরকারের জবাবদিহিতার অভাব
- বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
- দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।
- স্বজনপ্রীতি।
- দারিদ্র্য।
- জনসচেতনতার অভাব।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
মানুষের কোন গুণের অভাব সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে?
  1. নেতৃত্ব
  2. সহনশীলতা
  3. সৃজনশীলতা
  4. উদারতা
ব্যাখ্যা

সামাজিক অবক্ষয়:
- সামাজিক অবক্ষয় হলো মূল্যবোধের অনুপস্থিতি।
- যে কোনো সমাজের রীতিনীতি, মনোভাব এবং সমাজের অন্যান্য অনুমোদিত আচার-আচরণের সমন্বয়ে সামাজিক মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
- এসব মূল্যবোধের অবনতিই সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়।
- সমাজে আইনের শাসনের দুর্বলতা ও অভাব, মানুষের সহনশীলতার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণেও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে।
- ধর্মীয় অপব্যাখ্যাও মানুষকে মূল্যবোধহীন পথে পরিচালিত করতে পারে, যেমন- কোনো বিষয়ে মনগড়া ফতোয়াজারির মাধ্যমে দোররা মারা মূল্যবোধ পরিপন্থি কাজ।
- সুতরাং আইনের শাসন সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে।

⇒ মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য: সামাজিক মাপকাঠি, যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন, নৈতিক প্রাধান্য, বিভিন্নতা, আপেক্ষিকতা পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।
- মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান: নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, শৃঙ্খলাবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৩.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
  1. নারীদের উন্নয়ন
  2. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  3. অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
  4. টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।
- কারণ মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়। অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৯৫৪.
উপযোগবাদর মূল বক্তব্য কী?
  1. ক) নৈতিকতা ও সুখের অবস্থান বিপরীত
  2. খ) সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
  3. গ) সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য খাদ্যের যোগান
  4. ঘ) সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ
ব্যাখ্যা
▪ সর্বজনীন সুখবাদ হলো - উপযোগবাদ।
▪ উপযোগবাদর মূল বক্তব্য হলো - সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের জন্য সর্বোচ্চ আনন্দ।
▪ মিলের উপযোগবাদের ভিত্তি হলো মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ।
▪ সর্বজনীন সুখবাদ আর উপযোগবাদ এই দুই-ই হলো এক।

তথ্যসূত্র:- নীতিবিদ্যা, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৫.
আমলাতন্ত্রের মধ্যে কোন ধরনের মূল্যবোধের ভারসাম্য লক্ষ্য করা যায়?
  1. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
  2. নৈতিক ও পেশাগত মূল্যবোধ
  3. ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ
  4. ব্যক্তিগত ও নৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদারী সংগঠন যার দ্বারা সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়।
- আমলাতান্ত্রিক সংগঠন বহুমুখী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- সরকারের নীতি ও কর্মসূচি দল নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই আমলাদের মূল দায়িত্ব।
- প্রশাসনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আমলারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে থাকেন।
- আমলাগণ পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একজন আমলার সিদ্ধান্ত যেমন ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ধারা প্রভাবিত হয় তেমনি পেশাগত মূল্যবোধ দ্বারা ও প্রভাবিত হয়।
- এই উভয় প্রকার মূল্যবোধের ভারসাম্য কেবলমাত্র আমলাতন্ত্রের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

⇒ "লালফিতার দৌরাত্ম্য" (Red tapism) সাধারণত আমলাতন্ত্রে বেশি দেখা যায়।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য আমলাতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য।
- লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কঠোর নিয়মনীতির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা বোঝায়।
- এতে ফাইল বা নথি দীর্ঘসময় বন্দী হয়ে পড়ে।
- জনগণ স্বাভাবিক সময়ে সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয় এবং কাজের গতিশীলতা কমে যায়।
- এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মুহুর্তেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। 
- সুতরাং আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য, আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি, অহেতুক বিলম্ব- এসব বোঝাতেই মন্দ অর্থেই 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৫৬.
কার মতে "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"?
  1. অধ্যাপক হল্যান্ড
  2. জন অস্টিন
  3. জন লক
  4. অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
আইন:
- আইন হল ফার্সি শব্দ যার অর্থ সুনির্দিষ্ট নীতি বা নিয়ম।
- আইন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ "Law"। Law শব্দের অর্থ স্থির বা অপরিবর্তনীয় এবং সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- অ্যারিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন"।
- The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, "আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম"।
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।"
- জন অস্টিন বলেন, "আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ"।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন হল মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধিনিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৭.
জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. শ্রমের মর্যাদা
  2. সামাজিক ন্যায়বিচার
  3. শৃঙ্খলা
  4. কর্তব্যবোধ
ব্যাখ্যা
শৃঙ্খলাবোধ:
- সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অগ্রগতির প্রধান সোপান হলো শৃঙ্খলাবোধ।
- বিশ্বে যে জাতি যত বেশি সুশৃঙ্খল সে জাতি তত বেশি উন্নত।
- সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে ব্যক্তির নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয় এবং সামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।
- তাই পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কলকারখানা, সর্বত্র শৃঙ্খলার প্রয়োজন।
- শৃঙ্খলা মানুষের মানবিক মূল্যবোধগুলোকে সুদৃঢ় করে সমাজজীবনকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৫৮.
বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয় কোনটি?
  1. আইনি কাঠামো
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. আইনের শাসন
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন বিশ্বব্যাংক ঘোষিত সুশাসনের স্তম্ভ নয়। 

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন: 

- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৫৯.
'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) চার্লস ডিকেন্স
  2. খ) রবার্টসন
  3. গ) রিচার্ড ভেসেল
  4. ঘ) অগবার্ন
ব্যাখ্যা

• মূল্যবোধ নিয়ে বিখ্যাত কিছু বইয়ের নাম হলো:
- 'Social Change' গ্রন্থের রচয়িতা উইলিয়াম এফ অগবার্ন। তাঁর মতে, সংস্কৃতির ধরন দুটি। যথা- বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি।
- 'A Christmas Carol' গ্রন্থের রচয়িতা চার্লস ডিকেন্স,
- 'Stoicism and the Art of Happiness' গ্রন্থের রচয়িতা ডোনাল্ড জে রবার্টসন,
- 'Nazism and War' গ্রন্থের রচয়িতা রিচার্ড ভেসেল।

৯৬০.
"Law is the passionless reason" উক্তিটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. হবস
  3. রুশো
  4. লক
ব্যাখ্যা

• আইন:
- সভ্য সমাজের মানদণ্ড হলো আইনের শাসন।
- আইন শব্দটি ফার্সি শব্দ।
- সাংবিধানিক আইন বা বিধি-বিধানে সরকার পরিচালিত হয়।
- যুক্তিসিদ্ধ আচ্ছার অভিব্যক্তিই আইন উক্তিটি করেন এরিস্টটল। -
- আইন হচ্ছে নিম্নতমের প্রতি ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশ উক্তিটি করেন জন অস্টিন।
- আইনের সর্বজনগ্রাহ্য বা সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত সংজ্ঞা প্রদান করেছেন উড্রো উইলসন।
- আইন হচ্ছে আবেগহীন যুক্ত উক্তিটি করেন- এরিস্টটল।
- "Law is the passionless reason" উক্তিটি করেন এরিস্টটল।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৯৬১.
________ মাধ্যমে মূল্যবোধ নির্ধারিত হয়।
  1. নেতৃত্বের
  2. শিক্ষার
  3. ধর্মের
  4. আচরণের
ব্যাখ্যা
• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিকতা, নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
- এটি ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করে।
- একজন ব্যক্তির নৈতিকতা যত দৃঢ় হবে, তার মূল্যবোধ ততই উন্নত হবে।
- যদিও শিক্ষা ও আচরণ মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবুও মূল ভিত্তি হলো নৈতিকতা, কারণ এটি মানুষের স্বভাব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল চালিকাশক্তি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৬২.
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. UNCTAD
  2. Reporters without Borders
  3. Institute of Economic and Peace
  4. The World Justice Project
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সূচক প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান:
- বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে: Reporters without Borders.
- ই-কমার্স সূচক প্রকাশ করে: UNCTAD.
- গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করে: The Economist Intelligence Unit.
- আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করে: The World Justice Project (USA).
- মানব উন্নয়ন সূচক প্রকাশ করে: UNDP.
- সুখ সূচক প্রকাশ করে: Sustainable Development Solution Network (SDSN).
- বৈশ্বিক শান্তি সূচক প্রকাশ করে: Institute of Economic and Peace (IEP).
- দূর্নীতি সূচক প্রকাশ করে: Transparency International.

উৎস: World Justice Project ওয়েবসাইট।
৯৬৩.
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের কোন বৈশিষ্ট্যটির উল্লেখ করেননি?
  1. স্বাধীন প্রচার মাধ্যম
  2. প্রতিক্রিয়াশীলতা
  3. দক্ষতা
  4. অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের যে বৈশিষ্ট্যটির উল্লেখ করেননি - স্বাধীন প্রচার মাধ্যম। 

ESCAP-এর মতে সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:

- জাতিসংঘের ESCAP সুশাসনের প্রধান ৮টি বৈশিষ্ট্যর কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হলো -
১. অংশগ্রহণ,
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনের শাসন,
৪. প্রতিক্রিয়াশীলতা,
৫. ঐক্যমত্য ভিত্তিক,
৬. সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক,
৭. কার্যকারিতা এবং দক্ষতা,
৮. জবাবদিহিতা।

উৎস: UNESCAP ওয়েবসাইট।
৯৬৪.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা?
  1. দারিদ্র্য
  2. অধিক জনসংখ্যা
  3. জনসচেতনতার অভাব
  4. একাধিক রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
দারিদ্র্য ও সুশাসন:
- দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
- আর্থিক কারণে দরিদ্র জনগণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। দরিদ্র ও অশিক্ষিত জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
- দরিদ্র ও অসচেতন জনগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায় সম্পর্কে অজ্ঞ ও উদাসীন থাকে।
- সুতরাং দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা ৷

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
'The Social Contract' বইটির লেখক কে?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. জ্যা জাক রুঁশো
  3. প্লেটো
  4. এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
→ ফরাসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জ্যা জাক রুঁশো তার বিখ্যাত গ্রন্থ, The Social Contract গ্রন্থে জনমত শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার করেন।
→ একে তিনি সাধারণ ইচ্ছা হিসেবে অভিহিত করেন।
→ এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কল্যাণের ইচ্ছা বা মতামতের প্রকাশ।
→ রুশোর আগে ইংরেজ দার্শনিক জন লক, পরবর্তীতে জন স্টুয়ার্ট মিল, লর্ড ব্রাইস, আর জে গেটেল, ইয়ুর্গেন হেবারমাসের মতো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা জনমত শব্দটির রাজনৈতিক উৎপত্তি ও প্রয়োগ বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। জনমত সৃষ্টির জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশ পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়।
→ জনমত প্রকাশের ধরণও রাষ্ট্র ও সমাজভেদে ভিন্ন হতে পারে। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৬.
বাংলাদেশ সংবিধানের কোন ভাগে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার বিষয়টি সন্নিবেশিত করা হয়েছে?
  1. ২য়
  2. ১ম
  3. ৩য়
  4. ৪র্থ
ব্যাখ্যা
• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২য় ভাগে (৮-২৫ অনুচ্ছেদে) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- ২য় ভাগের ১৮ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র পরিচালনার ‍মূলনীতি হিসেবে 'জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতাকে' সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

• অনুচ্ছেদ ১৮ :
(১) জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন এবং বিশেষতঃ আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

(২) গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৯৬৭.
’Human Society in Ethics and Politics’ বিখ্যাত গ্রন্থটি লিখেছেন- 
  1. এরিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. টমাস হবস
ব্যাখ্যা

• বার্ট্রান্ড রাসেল: 
- ১৯৫০ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে Nobel Prize লাভ করেন।
- ১৯১৮ সালে কারাগারে লেখেন Introduction to Mathematical Philosophy.

• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো-
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৯৬৮.
ম্যাক্স ওয়েবারকে কোন বিষয়ের জনক বলা হয়?
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাতন্ত্র
  3. সমাজতন্ত্র
  4. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্র:
- আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারিদের সংগঠন।
- আমলাতন্ত্র সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
- আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Bureaucracy।
- তাই Bureaucracy এর উৎপত্তিগত অর্থ হলো Desk Government বা 'দাপ্তরিক সরকার'।
- আমলাতন্ত্র বলতে বুঝায় আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন।
- বাস্তবে আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত এবং রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন।
- জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার সর্বপ্রথম 'Legal and rational Model' এর মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে উপস্থাপন করেন।
- ম্যাক্স ওয়েবারকে বলা হয় আদর্শ আমলাতন্ত্রের উদ্ভাবক বা জনক।

⇒ জন ফিফনার ও রবার্ট প্রেসথাস বলেন, "আমলাতন্ত্র হচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও তাদের কর্মকান্ডকে এমন এক পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অর্জনে সক্ষম হয়।"
- অধ্যাপক এস ই ফাইনার বলেন, "আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি।"
- গ্যাব্রিয়েল অ্যালমন্ড ও জি পাওয়েল এর মতে, "আমলাতন্ত্র বলতে একটি ব্যাপক সংগঠনকে বুঝায়, যার মাধ্যমে শাসকবর্গ নিজেদের সিদ্ধান্তকে কার্যকর করার চেষ্টা করেন।"  

অন্যদিকে,
- ’গণতন্ত্র’-এর জনক- জনলক।
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা হলেন মন্টেস্কু ।
- রবার্ট আওয়েনকে ব্রিটিশ সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয় তবে কার্ল মার্কসকে আধুনিক সমাজতন্ত্রের জনক বলা হয়। 

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) ব্রিটানিকা।

৯৬৯.
স্বাধীনতা কীসের —  ফলাফল?
  1. কর্তব্যর 
  2. অধিকারের
  3. আইনের 
  4. নৈতিক
ব্যাখ্যা

 স্বাধীনতার বিভিন্ন রূপ:
- রাষ্ট্রে একজন নাগরিকের অস্তিত্ব বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতা থেকেই প্রকাশ পায়।
- স্বাধীনতা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Liberty'।
- স্বাধীনতাকে শাব্দিক অর্থে বলা যায় নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা।
- স্বাধীনতা মানে যৌক্তিক ও আইনসিদ্ধভাবে কোন কিছু করাকেই বুঝায়।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন "স্বাধীনতা হল অধিকারের ফলাফল"।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, "যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন
করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭০.
কোনটি ব্যক্তিগত মূল্যবোধের উদাহরণ?
  1. ব্যক্তির রুচি
  2. পরমতসহিষ্ণুতা
  3. অন্যায় থেকে বিরত থাকা
  4. গোপনীয়তা বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'গোপনীয়তা বজায় রাখা' সমাজকর্ম পেশার একটি মূল্যবোধ।
-  পরমতসহিষ্ণুতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে
  2. রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে
  3. উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে
  4. নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনা বিকাশের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন:
- মূল্যবোধ শিক্ষা সমাজে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপাদান, কারণ এর মাধ্যমে মানুষ সততা, দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা লাভ করে।
- সুশাসন নিশ্চিত করতে শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন—এই তিনটি বিষয় অপরিহার্য।
- শ্রমের মর্যাদা মানুষকে পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায় এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে সমাজে বৈষম্য কমে যায় এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও নিরাপত্তা লাভ করে।
- তাই মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনা বিকাশের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক কেমন?
  1. নিবিড় 
  2. পরোক্ষ
  3. বিপরীতমুখী
  4. কোনো সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় ও পরস্পর নির্ভরশীল।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:
- আইনের শাসন: সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

- পরমত সহিষ্ণুতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

- স্বচ্ছতা: রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

- ন্যায়পরায়ণতা: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

- সচেতনাবোধ সৃষ্টি: সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

- দায়বদ্ধতা: নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৩.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপস্থিতি জাতীয় উন্নয়নের কোন্ দিকটিকে বেশি টেকসই করে তোলে?
  1. স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধি
  2. অবকাঠামো নির্মান
  3. মানব সম্পদ উন্নয়ন
  4. আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা

● মূল্যবোধ ও সুশাসনের উপস্থিতি জাতীয় উন্নয়নের মানব সম্পদ উন্নয়নের দিকটিকে সবচেয়ে বেশি টেকসই করে তোলে।

জাতীয় উন্নয়ন:

- দেশের সার্বিক উন্নয়ন বা জাতীয় উন্নয়নের জন্যে মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের ধারণা পরস্পরের সম্পূরক।
- সুশাসন ও মূল্যবোধ শিক্ষার ধারণা উভয়ই মানবজাতির জন্য ইতিবাচক।

⇒ মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে:
- সমাজজীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার ব্যবহার ও কর্মকান্ড যে সব নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাদের সমষ্টিকে মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ না থাকলে সুশাসনের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠা ও বিকশিত করা সম্ভব নয়।
- আইনের শাসন মূল্যবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান; তাই মূল্যবোধ না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
- মূল্যবোধের অভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলাবোধের উন্মেষ ঘটে না।

⇒ জাতীয় উন্নয়ন ও মূল্যবোধ-সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ মানুষের নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলে। এর ফলে মানুষের চরিত্র, দক্ষতা ও আচরণ দীর্ঘমেয়াদে উন্নত হয়।
- সুশাসন দুর্নীতি কমায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করে।
- এর ফলে মানব সম্পদ অর্থাৎ জনগণের দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নৈতিকতা  দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সার্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।

অন্যদিকে,
- স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধি: এটি অস্থায়ী, মূল্যবোধ-সুশাসন ছাড়াও হতে পারে কিন্তু টেকসই নয়।
- অবকাঠামো নির্মাণ: ভৌতিক অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সুশাসন ছাড়া রক্ষণাবেক্ষণ বা সঠিক ব্যবহার হয় না—টেকসইতা কম।
- আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ: এটি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ মাত্র, মূল্যবোধ-সুশাসনের সাথে সরাসরি টেকসই উন্নয়নের মূল দিক নয়।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) GGI Development and Research LLP for the Good Governance Institute. [link]
iii) Governance for Sustainable Development. UNDP [Link]
iv) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৪.
“আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ” উক্তি কার?
  1. ক) জন অস্টিন
  2. খ) এরিস্টটল
  3. গ) অধ্যাপক হল্যান্ড
  4. ঘ) লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
আইনের সংজ্ঞা 
• জন অস্টিন
বলেন, “আইন হল সার্বভৌম শাসকের আদেশ”। 
 • এরিস্টটল বলেন, “সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন”।
• The Dictionary of the History of Ideas (1973) এ আইনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “আইন হচ্ছে মানুষের আচরণকে পরিচালিত করার সবচেয়ে স্পষ্ট, প্রাতিষ্ঠানিক এবং জটিল মাধ্যম”।
• অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে আইন হচ্ছে, “সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৫.
নৈতিক মূল্যবোধের উৎস কোনটি? 
  1. সমাজ
  2. শাসনব্যবস্থা
  3. নীতিবোধ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- নীতিবোধ নৈতিক মূল্যবোধের উৎস। 

নৈতিক মূল্যবোধ:

- নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ হলো নৈতিক মূল্যবোধের উৎস।
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে মানসিকভাবে তৃপ্তিবোধ করে।
- নৈতিক মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- শিশু প্রথম নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা পায় পরিবার থেকে।
- অন্যায় থেকে বিরত থাকা, সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, দুঃস্থকে সহায়তা করা প্রভৃতি নৈতিক মূল্যবোধ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৭৬.
কত সালে Asian Development Bank (ADB) সুশাসনের ধারণা প্রদান করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও সুশাসন:
- ১৯৯৫ সালে Asian Development Bank (ADB) 'Governance: Sound Development Management' শীর্ষক রিপোর্টে 'সুশাসন' সম্পর্কে আলোচনা করে।
- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি। এগুলো হলো:
• জবাবদিহিতা (Accountability),
• স্বচ্ছতা (Transparency),
• অংশগ্রহণ (Participation),
• ভবিষ্যৎবাণী (Predictability)।

অন্যদিকে,
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে।
- ১৯৯৬ সালে IMF সুশাসনকে এজেন্ডা হিসেবে গ্রহণ করে।
- ১৯৯৯ সালে ''আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক' তাদের 'Policy Paper'-এ সুশাসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৭৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সংগঠন করার স্বাধীনতা
  2. নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুবিধা
  3. বৈধ জীবিকার অর্জনের সুবিধা
  4. ভোটাধিকার প্রয়োগ করা
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এইসব সুযোগ-সুবিধা লাভ করাই রাজনৈতিক সাম্য।
- সংগঠন করার স্বাধীনতা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচিত হওয়ার সুবিধা, ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করা ইত্যাদি রাজনৈতিক সাম্যের পর্যায়ে পড়ে।
- রাজনৈতিক সাম্য না থাকলে রাষ্ট্রে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।
- উল্লিখিত প্রশ্নে 'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' রাজনৈতিক সাম্য নয়। 
-'যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুবিধা' অর্থনৈতিক সাম্য। 

উল্লেখ্য,
অর্থনৈতিক সাম্য: যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
-বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ জীবিকার অর্জনের সুবিধা ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৮.
নিচের কোন গুনাবলি মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়?
  1. ক) নৈতিকতা
  2. খ) সহমর্মিতা
  3. গ) পরমত সহিষ্ণুতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা:
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্নসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ। মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।”

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৯.
‘Nihilism' শব্দটি কোন শব্দহতে এসেছে?
  1. ক) গ্রীক
  2. খ) ল্যাটিন
  3. গ) স্প্যানিশ
  4. ঘ) ইতালীয়
ব্যাখ্যা
কিছু শূন্যবাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ Nihilism যা ল্যাটিন শব্দ Nihil থেকে এসেছে, যার অর্থ কিছুই না। শূন্যবাদ মূলত একটি সংশয়বাদী দার্শনিক মতবাদ। রেফারেন্সঃ ব্রিটানিকা।
৯৮০.
ই-গভর্নেন্সকে 'SMART সরকার ব্যবস্থা' বলে অভিহিত করেন কে?
  1. এ পি জে আব্দুল কালাম
  2. ই. এম. হোয়াইট
  3. চন্দ্রবাবু নাইডু
  4. উইড্রো উইলসন
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে। এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়। এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে “SMART” শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯৮১.
অবাধ তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে  নিশ্চিত হয় -
  1. শৃঙ্খলা
  2. জবাবদিহিতা
  3. আইনের শাসন
  4. দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ভূমিকা:
- জবাবদিহিতা বলতে নিজের কাজের জন্য অন্যের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করা বুঝায়।
- বাংলাদেশে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
- স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে কর্মকর্তারা জবাবদিহিতা করতে হয় না।
- সুশাসনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- অবাধ তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮২.
সুশাসন কোন্ বিষয়টির প্রতিশ্রুতি দেয়? 
  1. শুধুমাত্র কঠোর আইন প্রয়োগের
  2. রাজনৈতিক প্রাধান্য ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনের
  3. সংস্কার ছাড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের
  4. স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের
ব্যাখ্যা

● সুশাসন যে বিষয়টির প্রতিশ্রুতি দেয় - স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক নেতৃত্বের।

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
-সুশাসন মূলত একটি শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক চর্চা, মূল্যবোধের বিকাশ, উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

• মোটকথা সুশাসন হচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিফলন যেখানে শাসক ও শাসিতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, সর্বোচ্চ স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকবে, আইনের শাসন থাকবে, নীতির গণতন্ত্রায়ন থাকবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে, মতামত ও পছন্দের স্বাধীনতা থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকবে। 
- জাতিসংঘের ভাষায়- 'সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন'।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের উপর নির্ভরশীল। আর এ চারটি স্তম্ভ দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ। বিশ্ব ব্যাংক ১৯৯২ সালে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে 'শাসন প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন' (Governance and Development) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৩.
''An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) মার্টিন হেইডগার
  3. গ) মিখাইল বাখতিন
  4. ঘ) জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা
উপযোগবাদ তত্ত্বের জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ দার্শনিক জেরেমি বেন্থাম। তিনি ছিলেন একজন আইনতত্ত্ববিদ ও সমাজ সংস্কারক।
তিনি যুক্তরাজ্যের অধিবাসী ছিলেন।
তার লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ- 'An Introduction to the Principles of Morals and Legislation'. এই গ্রন্থে তিনি উপযোগবাদ তত্ত্বটি প্রথম ব্যাখ্যা করেন। এই মতবাদ অনুযায়ী, 'যা কিছু আনন্দদায়ক তাই ভালো।'
৯৮৪.
'সংবাদপত্রের স্বাধীনতা' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) সাংস্কৃতিক
  3. গ) অর্থনৈতিক
  4. ঘ) সামাজিক
ব্যাখ্যা

- যে সকল অধিকার নাগরিকের সভ্য জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য তাকেই সামাজিক অধিকার বলে। সভ্য জীবনযাপনের জন্য সামাজিক অধিকার অপরিহার্য। কেননা সামাজিক অধিকার সমাজজীবনকে বিকশিত করে।
• সামাজিক অধিকারসমূহ হলো:
১. জীবনের অধিকার
২. ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার
৩. চিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার
৪. সভা-সমিতির অধিকার
৫. চলাফেরার অধিকার
৬. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
৭. চুক্তি সম্পাদনের অধিকার
৮. আইনের চোখে সমানাধিকার
৯. সম্পত্তির অধিকার
১০. ধর্মের অধিকার
১১. পরিবার গঠনের অধিকার
১২. খ্যাতি বা সম্মান লাভের অধিকার
১৩. শিক্ষার অধিকার
১৪. নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার অধিকার ও
১৫. অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার লাভের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৯৮৫.
স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ২০০২ সালে
  2. খ) ২০০৪ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

- দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ৯ মে দুদক আইন কার্যকরের মাধ্যমে পূর্বেকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর স্থলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত।
- দুদকের হটলাইন হলো ১০৬।
(তথ্যসূত্রঃ দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট)

৯৮৬.
কোনটি মানবাধিকারের উৎস?
  1. ক) ন্যায়পাল 
  2. খ) সংবিধান
  3. গ) সরকার 
  4. ঘ) জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা
- মানবাধিকারের উৎস ও রক্ষক জাতিসংঘ।
- মৌলিক অধিকারের উৎস রাষ্ট্রের সংবিধান এবং রক্ষক রাষ্ট্র ও সংবিধান।
- মানবাধিকার একটি আন্তর্জাতিক অধিকার। এর পরিধি ব্যাপক ও বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৮৭.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
- অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৯৮৮.
নীতিবিদ্যা মানুষের কোন ক্রিয়া আলোচনা করে?
  1. প্রারম্ভিক ক্রিয়া
  2. আবশ্যিক ক্রিয়া
  3. ঐচ্ছিক ক্রিয়া
  4. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নীতিবিদ্যা:
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বলতে মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়াকে বুঝানো হয়।
- নীতিবিদ্যা শুধু মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
- ঐচ্ছিক ক্রিয়ার স্বরূপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সাথে অনৈচ্ছিক ক্রিয়ার পার্থক্য, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার ধাপ, ঐচ্ছিক ক্রিয়ার উৎস, উদ্দেশ্য, অভিপ্রায় প্রভৃতি নীতিবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র - নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৯.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ক) ২১ নং অনুচ্ছেদ
  2. খ) ১৯ নং অনুচ্ছেদ
  3. গ) ২৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ২৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের জন্যে সুযোগের সমতা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
• ১৯(৩) নং দফায় জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে,
• ২১ নং অনুচ্ছেদ : নাগরিক ও সরকারি কর্মচারিদের কর্তব্য।
• ২৭ নং অনুচ্ছেদ : আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
• ২৮ নং অনুচ্ছেদ : ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ সংবিধান।
৯৯০.
অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য কোন আইনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ফৌজদারি আইন
  2. দেওয়ানি আইন 
  3. আন্তর্জাতিক আইন 
  4. সাংবিধানিক আইন 
ব্যাখ্যা
• আইন:
- ফৌজদারি আইন:
সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নাগরিক জীবনে নিরাপত্তা বিধান এবং অপরাধীকে দণ্ড দেয়ার জন্য প্রণীত আইনকে ফৌজদারি আইন বলে।
এছাড়াও - 
- প্রশাসনিক আইন: ব্যক্তি এবং শাসন কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক নির্ধারণকারী আইনই হচ্ছে শাসন সংক্রান্ত আইন। এই আইন রাষ্ট্রের ভিত্তিস্বরুপ। শাসন সংক্রান্ত আইন শাসন বিভাগের গঠন ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করে এবং ব্যক্তিগত অধিকার ভঙ্গের বেলায় প্রতিকার নির্দেশ করে।
- আন্তর্জাতিক আইন: যে আইনের দ্বারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৯১.
তথ্য অধিকার আইনের কত নম্বর ধারা অনুযায়ী, নগরিকের তথ্য লাভের অধিকার রয়েছে?
  1. ধারা-১
  2. ধারা-২
  3. ধারা-৩
  4. ধারা-৪
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইনের প্রাধান্য:
→ তথ্য অধিাকার আইনের ৪র্থ ধারায় বলা হয়েছে যে, এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার থাকবে এবং কোনো নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কতৃৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ রতে বাধ্য থাকবে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
৯৯২.
“শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”-প্লেটো তাঁর কোন গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছেন?
  1. Symposium
  2. Apologia Socrates
  3. The Republic
  4. Allegory of the Cave
ব্যাখ্যা

দার্শনিক প্লেটো:
​→ প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
​→ সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
​→ প্লেটো তাঁর ‘রিপাবলিক’ গ্রন্থে বলেছেন, “শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিস্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।”
​→ তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic যা Plato’s Republic নামে পরিচিত।

​তাঁর লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
​- Symposium
​- Apologia Socrates
​- Allegory of the Cave
​- The Laws (348 BCE)
​- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

​উল্লেখ্য,- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

​উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৯৯৩.
জাতিসংঘ কত সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৯৯৪.
সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে কী বলা হয়?
  1. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. সামাজিক মূল্যবোধ
  4. গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি। এটি বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
অর্থাৎ সমাজে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য যে নীতিমালার ভিত্তি প্রয়োজন, তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে।
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যত বেশি উন্নত হয়, সেই সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও প্রগতিশীল হয়ে ওঠে।
- সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

সামাজিক মূল্যবোধের সংজ্ঞা:
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সর্বসম্মত বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি, যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
-এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভাল-মন্দ বিচারের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
-এস.সি. ডডের ভাষায়, "সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেইসব রীতি-নীতি, যা ব্যক্তি সমাজের কাছে আশা করে এবং সমাজ ব্যক্তির কাছ থেকে লাভ করে।"
- এম.আর. উইলিয়ামস বলেছেন, "মূল্যবোধ হলো মানুষের ইচ্ছার একটি মানদণ্ড, যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণ ও আইনকানুন নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজে মানুষের কাজের ভাল-মন্দ বিচার করা হয়।"

সামাজিক মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:
সামাজিক মূল্যবোধের বিভিন্ন সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করে এর প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা যায়।
- বিশ্বাস ও আদর্শের সমষ্টি
- মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী
- মানব আচরণ বিচারের মানদণ্ড
- বিমূর্ত, অলিখিত ও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থিত আচরণবিধি
- স্থান-কাল-পাত্র ভেদে পরিবর্তনশীল
- প্রত্যেক সমাজেই বিদ্যমান

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৫.
অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিকে সুশাসনের মূল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কোন সংস্থাটি?
  1. ক) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক
  2. খ) ওআইসি
  3. গ) জাতিসংঘ
  4. ঘ) এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিকে সুশাসনের মূল রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এছাড়াও তারা আইনকানুনের সংশোধনী এবং দুর্নীতিবিরোধীতাকেও অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে।
Source:adb.org
৯৯৬.
UNDP সুশাসনের কয়টি উপাদান নির্ধারণ করেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ৬ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা

- UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।

• UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে  সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে। UNDP-এর মতে, "একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন" (Good Governance is the exercise of economic, political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP এর মতে, সুশাসনের ৯টি উপাদান রয়েছে:
- এগুলো হলো
১। স্বচ্ছতা,
২। আইনের শাসন,
৩। সকলের অংশগ্রহণ,
৪। সংবেদনশীলতা,
৫। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
৬। সমতা,
৭। ন্যায্যতা,
৮। জবাবদিহিতা এবং
৯। কৌশলগত লক্ষ্য।

• বিভিন্ন সংস্থার মত অনুযায়ী সুশাসনের মূল উপাদান ভিন্ন ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়েছে:
• Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
• জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
• বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
• প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্যও সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি উল্লেখ করেছেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও UNDP ওয়েবসাইট।

৯৯৭.
মিশেল ক্যামডেসাস এর অভিমত অনুসারে,
'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য __________ অত্যাবশ্যক।'
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. স্বাধীনতা
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মিশেল ক্যামডেসাস বলেছেন- 'রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।'

• সুশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন উক্তি:
- কফি আনান:
'সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।'

- ম্যাককরনি সুশাসনের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রদান করেছেন,
'সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'

- UNDP- এর মতে,
''সুশাসন হল অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিধিবদ্ধ চর্চা যার মাধ্যমে একটি দেশের উন্নয়ন কার্যাবলি পরিচালনা করা হয়।''

- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
''ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।''

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
৯৯৮.
‘সরকারের উৎকর্ষতা পরিমাপের জন্য বিচার ব্যবস্থার দক্ষতার চেয়ে উৎকৃষ্টতর কোন মাপকাঠি নেই।”- কার উক্তি?
  1. সিজউইক
  2. আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন
  3. জেমস কেন্ট
  4. লর্ড ব্রাইস 
ব্যাখ্যা
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা:
→ নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অসম্ভব।
→ আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশত হিসেবে বিচার ব্যবস্থা ও বিচারপতিদের নির্ভীকতা ও নিরপেক্ষতার কথা বলা হয়।
→ নিরপেক্ষ ও নির্ভীক বিচার ব্যবস্থা, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসন তথা গণতন্ত্রের স্বার্থে অপরিহার্য বিবেচিত হয়।
→ এ প্রসঙ্গে লর্ড ব্রাইস বলেন, “সরকারের উৎকর্ষতা পরিমাপের জন্য বিচার ব্যবস্থার দক্ষতার চেয়ে উৎকৃষ্টতর কোন মাপকাঠি নেই।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৯৯.
প্লেটো এবং এরিস্টটল তাদের আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কীসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন?
  1. মূল্যবোধ
  2. রাজনৈতিক আদর্শ
  3. নৈতিক আদর্শ
  4. সামাজিক সুরক্ষা
ব্যাখ্যা
- অতীতে নীতিবিজ্ঞান ছিল পৌরনীতিরই অংশবিশেষ।
- নৈতিকতার কষ্টিপাথরে রাজনৈতিক কার্যকলাপ ও আচারআচরণকে তখন বিচার করা হতো।
- প্লেটো এবং এরিস্টটল তাদের আদর্শ রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় নৈতিক আদর্শের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন
- ইতালির প্রখ্যাত রাষ্ট্র দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি সর্বপ্রথম আইন ও নৈতিকতার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,০০০.
একজন যোগ্য শাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলি কোনটি?
  1. ক) দায়িত্বশীলতা
  2. খ) নৈতিকতা
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা
- একজন যোগ্য প্রশাসকের বা শাসকের অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ হলো নৈতিকতা।
- দায়িত্বশীলতা, যোগ্যতা, জবাবদিহিতা প্রভৃতি নৈতিকতা থেকে উদ্ভূত অন্যতম মৌলিক গুণাবলি।