বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কোষ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

মোট প্রশ্ন২৫৫এই পাতা৫৩প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কোষ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

PrepBank · পাতা / · ২০১২৫৩ / ২৫৫

২০১.
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত উপাদান কী?
  1. DNA
  2. RNA
  3. প্রোটিন
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, যার জিনগত উপাদান হলো একক-সুতোয় (single-stranded) RNA।

- এটি Orthomyxoviridae পরিবারভুক্ত।
- ভাইরাসটির RNA আটটি অংশে বিভক্ত থাকে, যা বিভিন্ন প্রোটিন কোড করে।
- এই RNA গঠন ভাইরাসকে দ্রুত মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম করে, ফলে নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয় (যেমন: H1N1, H3N2)।
- DNA ভাইরাসের মতো এটি DNA ব্যবহার করে না, বরং RNA থেকেই প্রোটিন তৈরি করে প্রতিলিপি (replication) সম্পন্ন করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

২০২.
'বাস্ট তন্তু' কোন টিস্যুর গঠনে অংশগ্রহণ করে?
  1. ভেসেল টিস্যু
  2. জাইলেম টিস্যু
  3. ফ্লোয়েম টিস্যু
  4. যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- ১) জাইলেম টিস্যু ও ২) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
কোন রঞ্জক পদার্থের জন্য টমেটো লাল রঙের হয়?
  1. ক) এরিথ্রিন
  2. খ) লাইকোপেন
  3. গ) জ্যান্থফিল
  4. ঘ) ফাইকোসায়ানিন
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২০৪.
প্রাথমিক ভাজক টিস্যু হতে নিচের কোন টিস্যুর সৃষ্টি হয়? 
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. প্রাথমিক অস্থায়ী টিস্যু
  4. প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু
ব্যাখ্যা
ভাজক টিস্যু: 
- যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে। 
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (যে স্থানে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে। 
- ভাজক টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ এরা লম্বা হয় এবং এদের ব্যাস বৃদ্ধি পায়। 
- ভাজক টিস্যু থেকে স্থায়ী টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- (ক) উৎপত্তি, (খ) অবস্থান, (গ) বিভাজন প্রক্রিয়া এবং (ঘ) কাজ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়। 

 
উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- উৎপত্তি অনুসারে ভাজক টিস্যু দুই প্রকার। যথা - 
১। প্রাথমিক ভাজক টিস্যু ও 
২। সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু। 

প্রাথমিক ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের ভ্রূণাবস্থায় সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক ভাজক টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে ভাজক টিস্যু থাকে। 
- এদের বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। 
- প্রাথমিক ভাজক টিস্যু থেকে 'প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু'র সৃষ্টি হয়। 

সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু: 
- সাধারণভাবে স্থায়ী টিস্যু বিভাজনক্ষম নয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য কোন কোন স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়, ফলে যে ভাজক টিস্যু সৃষ্টি করে তাকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলে। 
- যে সব কোষের বিভাজন ক্ষমতা নেই সে সব টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয় বলে এদের সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
- সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু সব সময় পার্শ্বীয়। 
- এ টিস্যুর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধি হয় অর্থাৎ উদ্ভিদ পাশে বৃদ্ধি পায় বা এর বেড় মোটা হয়। 
- ইন্টারফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম, ফেলোজেন বা কর্ক ক্যাম্বিয়াম হচ্ছে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
‘জনন কোষের উৎপত্তি’ কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. ক) কোষবিদ্যা
  2. খ) হিস্টোলজি
  3. গ) ভ্রুণবিদ্যা
  4. ঘ) বিবরতনবিদ্যা
ব্যাখ্যা
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
হিস্টোলজিঃ জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের আলোচনা এ শাখার বিষয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৬.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত?
  1. প্লাসটিড
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিওলাস
  4. ক্রোমাটিন বস্তু
ব্যাখ্যা
• আদিকোষ:
- ব্যাকটেরিয়াতে আদিকোষ থাকে।
- এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম/ক্রোমাটিন বস্তু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার কোষে রাইবোজোম উপস্থিত।
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।

• এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব ।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্রিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোক্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
ফ্লোয়েম টিস্যুর অংশ নয় কোনটি? 
  1. সীভ নল
  2. সঙ্গী কোষ
  3. ট্রাকিড
  4. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার।
যথা- ১) ফ্লোয়েম টিস্যু ও ২) জাইলেম টিস্যু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) সীভ নল, খ) সঙ্গী কোষ, গ) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ঘ) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ক) ট্রাকিড, খ) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, গ) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও ঘ) জাইলেম তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৮.
যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে কী বলে?
  1. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. রিব ভাজক টিস্যু
  4. প্লেট ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

মাস ভাজক টিস্যু: 
 - যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কাণ্ডের মজ্জা। 

প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৯.
কোষ বিভাজনে সাহায্য করে কোনটি?
  1. সাইটোপ্লাজম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. সেন্ট্রিওল
  4. রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

সেন্ট্রিওল- একটি স্বচ্ছ দানাবিহীন সাইটোপ্লাজম দ্বারা নিমজ্জিত এবং নিউক্লিয়াসের কাছাকাছি অবস্থিত দুটি ফাঁপা নলাকার বা দন্ডাকার অঙ্গাণুকে বলা হয় সেন্ট্রিওল। এটি প্রাণী কোষের সেন্ট্রোসোম এলাকায় অবস্থান করে। উদ্ভিদ কোষে সাধারণত এটি থাকে না। তবে নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ কোষ যেমন ছত্রাকে থাকে।
কাজ- কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্ট্রাল-রে গঠন এবং মেরুনির্দেশ করে। কোষ বিভাজনে সাহায্য করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২১০.
উদ্ভিদে প্রধানত কোথায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে?
  1. মূল 
  2. কাণ্ড 
  3. পাতা 
  4. ফুল 
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। 
- এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়, খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১১.
বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত কত প্রকার?
  1. ৩ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ২ প্রকার
  4. ৪ এর অধিক
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু:

বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার-
১. ভাজক টিস্যু ও
২. স্থায়ী টিস্যু।

১. ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে সক্ষম অর্থাৎ যে টিস্যুর নতুন কোষ উৎপন্ন করার ক্ষমতা থাকে তাকে ভাজক টিস্যু বলে।
- ভাজক টিস্যু যে সমস্ত কোষ দ্বারা গঠিত তাদেরকে ভাজক কোষ বলে।
- গঠন ভাজক টিস্যু সাধারণত অত্যন্ত ক্ষুদ্র, আয়তাকার, ডিম্বাকার বা বহুভূজাকার।
- এদের কোষে অধিক পরিমান সাইটোপ্লাজম থাকে এবং এতে কোন গহ্বর থাকে না অথবা থাকলেও অত্যন্ত ক্ষুদ্র।
- এদের নিউক্লিয়াস বেশ বড়, কোষ প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা এবং দুটি কোষের মধ্যে আন্তকোষীয় ফাঁক থাকেনা। 

২. স্থায়ী টিস্যু (Permanent Tissue):
- যে টিস্যুর কোষগুলি বিভাজনে অক্ষম এবং আকার, আকৃতি ও বিকাশে স্থায়িত্ব লাভ করেছে তাকে স্থায়ী টিস্যু বলা হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষ বিভাজনের ফলে স্থায়ী টিস্যু তৈরী হয় বিশেষ অবস্থা ছাড়া এইসব স্থায়ী টিস্যু আর বিভাজিত হতে পারেনা।
- প্রাথমিক শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে প্রাথমিক স্থায়ী টিস্যু (primary permanent tissue) এবং সেকেন্ডারী পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু থেকে সৃষ্ট স্থায়ী টিস্যুকে সেকেন্ডারী স্থায়ী টিস্যু (secondary permanent tissue) বলা হয়।


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২১২.
মানুষের দেহে মোট কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ৪৪টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৬টি
  4. ঘ) ৪৭টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
২১৩.
আমাদের দেহের গ্রন্থিগুলো তৈরি হয় কোন ধরণের টিস্যুর সাহায্যে?
  1. ক) রিপ্রোডাক্টিভ টিস্যু
  2. খ) মাসক্যুলার টিস্যু
  3. গ) এপিথেলিয়াল টিস্যু
  4. ঘ) কানেক্টিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু দেহের খোলা অংশ ঢেকে রাখে এবং দেহের ভিতরের আবরণ তৈরি করে তাকে আবরণী টিস্যু বা এপিথিলিয়াল টিস্যু বলে৷
আমাদের ত্বকের বাইরের আবরণ মুখগহ্বরের ভিতরের আবরণ ইত্যাদি আবরণী টিস্যু নিয়ে গঠিত৷ দেহের বিভিন্ন গ্রন্থিগুলোও আবরণী টিস্যু দিয়ে গঠিত হয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি
২১৪.
কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু ৩ ধরনের। যথা:
- স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু এবং
- কলামনার আবরণী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

২১৫.
তরুণাস্থি কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) তরল যোজক টিস্যু
  2. খ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  3. গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
  4. ঘ) স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরুণাস্থি- এরা এক ধরনের নমনীয় কঙ্কাল যোজক টিস্যু। এদের মাতৃকা কঠিন অথচ কোমল হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে বড় ফাঁকা স্থান থাকে।
যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাকের ও কানের পিনার তরুণাস্থি, হিউমেরাস, ফিমার ইত্যাদি অস্থির দু’প্রান্তে অবস্থিত তরুণাস্থি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
জলজ উদ্ভিদের কোন টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে?
  1. কোলেনকাইমা
  2. প্যারেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. একটিভ টিস্যু
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- i. প্যারেনকাইমা, ii. কোলেনকাইমা এবং iii. স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা: 
- প্রায় সমান ব্যাসবিশিষ্ট, সাধারণত পাতলা বা পুরু প্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা এ টিস্যু গঠিত। 
- এ প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম হয়। 
- আকৃতিতে এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এ টিস্যুর কোষসমূহের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। 
- এ জাতীয় কোষে ঘন প্রোটোপ্লাজম থাকে এবং এরা জীবিত টিস্যু। 
- উদ্ভিদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকাংশ অংশ বিশেষ করে কোমল অংশ এ টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়। 
- পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে যাকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে তেল, ট্যানিন এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ জমা থাকে। 

কাজ: 
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা, ক্লোরেনকাইমা ও মেসোফিল টিস্যুর কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা। 
- জলজ উদ্ভিদের অ্যারেনকাইমা উদ্ভিদকে বা তার অংশবিশেষকে পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে, ত্বকে অবস্থিত প্যারেনকাইমা প্রতিরক্ষা ও দৃঢ়তা প্রদান করে, জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে অবস্থিত প্যারেনকাইমা খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরি খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে, অন্যান্য টিস্যুর সাথে মিলে দৃঢ়তা প্রদান করে, মুকুল উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে এবং স্ফীত ও রসালো উদ্ভিদে পানি সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৭.
রাবার কোন ধরনের টিস্যু?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) ভাজক টিস্যু
  3. গ) স্থায়ী টিস্যু
  4. ঘ) তরুক্ষীয় টিস্যু
ব্যাখ্যা
যে টিস্যু থেকে তরুক্ষীর (ষধঃবী) নিঃসৃত হয় তাদেরকে তরুক্ষীর টিস্যু বলা হয়। তরুক্ষীর দুধের মত একরকম সাদা, হলুদ অথবা বর্ণহীন আঠালো তরল পদার্থ। তরুক্ষীরে শ্বেতসার, আমিষ, চর্বি, আঠা উৎসেচক ইত্যাদি থাকে।
যেমন: রাবার, আকন্দ, ছাতিম, আফিম ইত্যাদি।
রেফারেন্সঃ জীববিজ্ঞান বই, এসএসসি লেভেল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৮.
নিচের কোনটি জাইলেম টিস্যু?
  1. সীভ নল
  2. সঙ্গী কোষ
  3. বাস্ট তন্তু
  4. ট্রাকিড
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- 
১. জাইলেম টিস্যু ও 
২. ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল,  জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
৮ টি সংখ্যার গড় ১৫। একটি সংখ্যা যুক্ত করলে গড় হয় ১৭, নতুন সংখ্যাটি কত?
  1. ২৫
  2. ২৯
  3. ৩৩
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ৮ টি সংখ্যার গড় ১৫। একটি সংখ্যা যুক্ত করলে গড় হয় ১৭, নতুন সংখ্যাটি কত?

সমাধান:
৮ টি সংখ্যার গড় ১৫
∴ ৮ টি সংখ্যার সমষ্টি = (১৫ × ৮)
= ১২০

আবার,
৯ টি সংখ্যার গড় ১৭
∴ ৯ টি সংখ্যার সমষ্টি = (১৭ × ৯)
= ১৫৩

∴ নতুন সংখ্যাটি = (১৫৩ - ১২০)
= ৩৩
২২০.
কোষকে কী বলা হয়?
  1. শুধু প্রাণকেন্দ্র
  2. জীবদেহের গঠন ও কাজের একক
  3. প্রোটোপ্লাজমের অংশ 
  4. কেবল প্রজননযোগ্য অংশ
ব্যাখ্যা

- কোষ (Cell) হলো সকল জীবিত প্রাণীর ক্ষুদ্রতম এবং মৌলিক একক যা স্বাধীনভাবে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ১৮৩৯ সালে বিজ্ঞানী স্লাইডেন এবং সোয়ান প্রদত্ত 'কোষ তত্ত্ব' (Cell Theory) অনুযায়ী, প্রতিটি জীব এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত এবং কোষই হলো জীবের গঠনগত ও কার্যগত প্রধান মাধ্যম। 

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত অর্থাৎ কোষ ই জীবদেহ গঠনের একক। কোষের ভেতরে জীবের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। 
- কোষ হচ্ছে জীবদেহের গাঠনিক ও কার্যকরী একক যা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটোপ্লাজম নিয়ে গঠিত, বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি দিয়ে আবৃত, স্বনির্ভর ও আত্ম প্রজননশীল। 

কোষের সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
- জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল গাঠনিক ও আণবিক উপাদান কোষে থাকে। 
- প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ভেতরে গ্রহণ করতে পারে এবং এই কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। 
- সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে বেড়ে উঠতে পারে। 
- চারপাশে যেকোনো উত্তেজনার প্রতি সাড়া দিতে পারে। 
- একটি Homeostatic অবস্থা বজায় রাখতে পারে। 
- কাল পরিক্রমায় অভিযোজিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

২২১.
কোন অঙ্গাণু কোষের শক্তির আধার হিসেবে কাজ করে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. নিউক্লিয়াস
  3. কোষগহ্বর
  4. সাইটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- একে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বলা হয়, কারণ এই অঙ্গাণুর অভ্যন্তরে শক্তি উৎপাদনের প্রায় সকল বিক্রিয়া ঘটে থাকে। 
- এরা দন্ডাকার, বৃত্তাকার বা তারকাকার হতে পারে। 
- এরা দুই স্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি দিয়ে আবৃত্ত থাকে, বাইরের স্তর মসৃণ কিন্তু ভিতরের স্তরটি ভাঁজযুক্ত। 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে শক্তি উৎপাদন করা। 
- তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তির আধার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২২২.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে -
  1. লাইসোসোম
  2. রাইবোসোম
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ- শক্তি উৎপাদন করে, শ্বসনের জন্য এনজাইম ও কো-এনজাইম ধারণ করে, স্নেহ বিপাকে সাহায্য করে, নিজস্ব ডিএনএ ও আরএনএ উৎপন্ন করে, শ্বসনের বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন সম্পন্ন করে।

লাইসোসোমের কাজ-
১। ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় আক্রমণকারী জীবাণু ভক্ষণ।
২। তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিলে কোষস্থ উপাদান ও অঙ্গাণুকে বিগলিত করে ধ্বংস করে যাকে অটোফ্যাগি বলে।
৩। পর্যাপ্ত পরিমাণ এনজাইম থাকায় এরা প্রায় সব ধরনের জৈবিক বস্তু হজম করতে পারে।
৪। এরা জীবদেহের অকেজো কোষকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে। ফলে সম্পূর্ণ কোষটিই পরিপাক হয়ে যেতে পারে।
৫। বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিঃসরণ করে
রাইবোসোমের কাজ-
১। রাইবোসোম এর প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্যকরে।
২। এছাড়া স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করে।
নিউক্লিয়াসের কাজ- 
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের কার্য কলাপের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
এটি বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে মাতাপিতার জন্মগত বৈশিষ্ট্যাবলী সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। প্রকৃতপক্ষে নিউক্লিয়াস এর ভেতরে যে ক্রোমোসোম থাকে তারাই বংশগত বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক ও বাহক।
সূত্রঃ উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

২২৩.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন প্রক্রিয়া কোন টিস্যুর মাধ্যমে ঘটে?
  1. ফ্লোয়েম
  2. কোলেনকাইমা
  3. স্ক্লেরেনকাইমা
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ:
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে, এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে।
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন।

- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়।
- এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে।
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এই কোষীয় উপাদানগুলোর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
কোষ বিভাজন সর্বপ্রথম কে প্রত্যক্ষ করেন এবং কত সালে?
  1. কার্লএরেকি, ১৯১৮ সালে
  2. মেন্ডেল, ১৯১৯ সালে
  3. ওয়াল্টার ফ্লেমিং, ১৮৮২ সালে
  4. ওয়াটসন ও ক্রিক, ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কোষ বিভাজন:
- বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি কোষের একটি স্বাভাবিক এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এককোষী জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ইষ্ট, Navicula শৈবাল প্রভৃতি বার বার বিভাজনের মাধ্যমে একটি থেকে অসংখ্য এককোষী জীবে পরিণত হয়।
- বিশালদেহী একটি বটগাছের সূচনাও কিন্তু একটি মাত্র কোষ জাইগোট হতে। 

- রুডলফ ভিরশাও (Rudolf Virchow, 1858) যথার্থই বলেছেন, গাছ থেকে যেমন গাছের সৃষ্টি হয়, প্রাণী থেকে সৃষ্টি হয় প্রাণীর তেমন কোষ থেকে কেবল কোষেরই সৃষ্টি হতে পারে।
- এককোষী নিষিক্ত ডিম্বক হতে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি পরিণত মানুষের সৃষ্টি হয়।
- কোষ বিভাজন একটি মৌলিক ও অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ও বংশ বৃদ্ধি ঘটে।

- যে প্রক্রিয়ায় একটি কোষ বিভাজিত হয়ে একাধিক কোষের সৃষ্টি করে তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়।
- যে কোষটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোষ এবং বিভাজনের ফলে যে নতুন কোষ উৎপন্ন হয়, তাকে অপত্য কোষ বলা হয়।
- Walter Flemming (১৮৮২) খ্রিস্টাব্দে সামুদ্রিক সালামান্ডার কোষে প্রথম কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষ করেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৫.
বংশধারা বহনকারী জিন অবস্থান করে-
  1. ক) ক্রোমোজোমে
  2. খ) লাইসোজোমে
  3. গ) রাইবোজোমে
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমে
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের কাজ হলো বংশপরম্পরায় বৈশিষ্ট্য বহন করা যা ক্রোমোজোমের মধ্যে অবস্থিত জিনের কারণে হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২২৬.
আকৃতি, অবস্থান ও কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু কত ধরনের?
ব্যাখ্যা
- কোষের আকৃতি, প্রাণীদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে আবরণী টিস্যু (Epithelium tissue) তিন প্রকার। 
যথা- 
১. স্কোয়ামাস (আইশাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 

২. কিউবয়ডাল (ঘনাকার ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 

৩. কলামনার (স্তম্ভাকৃতি ) আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ কাজ করে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৭.
RNA -তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ কোন ক্ষারক অনুপস্থিত থাকে?
  1. অ্যাডিনিন
  2. থায়ামিন
  3. গুয়ানিন
  4. সাইটোসিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত। 
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 

ডিএনএ (DNA): 
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। 
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে। 
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে-
  1. ক) জীবের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন আনা সম্ভব
  2. খ) জীবের ডিএনএতে গাঠনিক পরিবর্তন আনা সম্ভব
  3. গ) জিন ক্লোনিং করা সম্ভব
  4. ঘ) সবগুলো সঠিক
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি : অধিকাংশ জীবের জেনেটিক উপাদান হলো DNA। বিভিন্ন ধরনের এনজাইম, প্রোটিন এবং RNA অণুর সংম্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকরী তথ্য DNA অণুতেই সন্নিবেশিত থাকে।
মানব কল্যাণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন জীবের DNA এর পরিবর্তন করে নতুন প্রকৃতির DNA সমন্বয় করার কৌশল ইতিমধ্যে সফলতার সাথে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতির দ্বারা জীবের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
যে টেকনোলজির মাধ্যমে কোন জীবের DNA তে প্রত্যাশিত গাঠনিক পরিবর্তন আনা যায় (রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরির মাধ্যমে) সে টেকনোলজি বা পদ্ধতিকে রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি বলে। একই জিনের (DNA অণু) অসংখ্য কপি তৈরি হওয়াকে জিন ক্লোনিং বলা হয়।
জিন ক্লোনিং রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৯.
রাইবোজোমের কাজ কী?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জীবাণু ধ্বংস করা
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম।
প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে।

কাজ- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং স্নেহজাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন।
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩০.
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের “পাওয়ার হাউস” বলা হয় কেন? 
  1. এটি ক্লোরোফিল সংরক্ষণ করে
  2. এটি প্রোটিন সংশ্লেষণ করে
  3. এটি শক্তি উৎপাদন করে
  4. এটি পানি তৈরি করে
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
কোনটি সরল টিস্যুর উদাহরণ ?
  1. প্যারেনকাইমা
  2. ট্রাকিড
  3. ভেসেল
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়।
আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।যথা-
১) প্যারেনকাইমা,
২) কোলেনকাইমা এবং
৩) স্ক্লেরেনকাইমা।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩২.
নিম্নের কোনটি বহুকোষী জীব নয়?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) প্লাজমোডিয়াম
  4. ঘ) খ‌ ও গ
ব্যাখ্যা
কোন কোন জীবের দেহ একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত, এদেরকে বলা হয় এককোষী জীব।
যেমনঃ ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, প্লাজমোডিয়াম ইত্যাদি।
২৩৩.
কোন কোষে কোনো ধরনের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না?
  1. জনন কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. সুকেন্দ্রিক কোষ
  4. প্রাককেন্দ্রিক কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell): 
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না, এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়। 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। 
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়। 

২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell): 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ (Somatic cell): 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ (Gametic cell): 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৪.
মানুষের মধ্যে আকার, গায়ের রং, চুলের রং ইত্যাদি ভিন্নতা দেখা যায় কোন বৈচিত্রতার কারণে?
  1. ক) ভৌগোলিক
  2. খ) জিনগত
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক
  4. ঘ) প্রজাতিগত
ব্যাখ্যা


উৎস: প্রাণি বিজ্ঞান, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
প্রাণী টিসুকে প্রধানত কত ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ৩ ভাগে
  2. ৬ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
ব্যাখ্যা
টিস্যু:
- একই ভ্রূণীয় কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে এক বা একাধিক ধরনের কিছুসংখ্যক কোষ জীবদেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সমষ্টিগতভাবে একটা কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষগুলো সমষ্টিগতভাবে টিস্যু (Tissue) বা তন্ত্র তৈরি করে।
- একটি টিস্যুর কোষগুলোর উৎপত্তি, কাজ এবং গঠন একই ধরনের হয়।
- টিস্যু নিয়ে আলোচনাকে টিস্যুতত্ত্ব (Histology) বলে। 

প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ: 

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে  প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
(ক) আবরণী টিস্যু, 
(খ) যোজক টিস্যু, 
(গ) পেশি টিস্যু এবং 
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু। 

ছবির উৎস: ৯ম-১০ম শ্রেণি জীববিজ্ঞান বই

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ও ৯ম-১০ম শ্রেণি জীববিজ্ঞান বই। 
২৩৬.
কোনটি স্থায়ী টিস্যুর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কোলেনকাইমা টিস্যু
  2. ভাজক টিস্যু
  3. প্যারেনকাইমা টিস্যু
  4. স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু
ব্যাখ্যা
টিস্যু: 
- একই উৎস থেকে উৎপন্ন নিরবিচ্ছিন্নভাবে একই কাজ সম্পন্নকারী একগুচ্ছ কোষকে টিস্যু বলে। 

উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- ক) ভাজক টিস্যু ও খ) স্থায়ী টিস্যু। 

স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৩৭.
আদিকোষে পাওয়া যায়-
  1. রাইবোজোম
  2. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  3. প্লাস্টিড
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
• আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell) :
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না।
- এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না।
- তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৮.
মাইটোসিস কোষ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোমের সংখ্যা মাতৃকোষের -
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দ্বিগুণ
  4. ঘ) চারগুণ
ব্যাখ্যা

মাইটোসিস: উন্নত শ্রেণির প্রাণীর ও উদ্ভিদের দেহকোষ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়।
এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণ সম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমােজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে প্রাণী এবং উদ্ভিদ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের বিভাজনের দ্বারা উদ্ভিদের ভাজক টিস্যুর কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।

মাইটোসিসের বৈশিষ্ট্য:
- মাইটোসিস কোষ বিভাজন দেহকোষের এক ধরনের বিভাজন পদ্ধতি।
- এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার মাত্র বিভাজিত হয়।
- মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণ সম্পন্ন দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
- এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমােজোম সংখ্যা সমান থাকে অর্থাৎ ক্রোমােজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
- এ ধরনের বিভাজনে প্রতিটি ক্রোমােজোম লম্বালম্বিভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়। ফলে সৃষ্ট নতুন কোষ দুটিতে ক্রোমােজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমােজোম সংখ্যার সমান থাকে। তাই মাইটোসিসকে ইকুয়েশনাল বা সমীকরণিক বিভাজনও বলা হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।

২৩৯.
কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়-
  1. প্লাস্টিডকে
  2. নিউক্লিয়াসকে
  3. মাইটোকন্ড্রিয়াকে
  4. রাইবোসোমকে
ব্যাখ্যা
• মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে থাকে মাইটোকন্ড্রিয়া।
- তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্র্যাবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেক্ট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ৭৩% প্রোটিন ও ২৫%-৩০% লিপিড এবং সামান্য পরিমাণে RNA, DNA, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।
- আদি কোষ বা প্রাক কেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া একটি আদিকোষী জীব।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪০.
কোষের শক্তিঘর মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তি (ATP) উৎপন্ন হয় কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. কোষ শ্বাসক্রিয়া
  3. প্রোটিন সংশ্লেষণ
  4. ডিএনএ প্রতিলিপি
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়ায় সেলুলার রেসপিরেশন (কোষ শ্বাসক্রিয়া) নামক প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ (C6H12O6) ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি থেকেই ATP (Adenosine Triphosphate) গঠিত হয়।
- ATP হলো একধরনের শক্তিবাহী যৌগ। যখন কোষ কোনো কাজ করে (যেমনঃ পেশি সঙ্কোচন, স্নায়ুতন্ত্রের কাজ, কোষ বিভাজন ইত্যাদি), তখন ATP ভেঙে শক্তি প্রদান করে।
প্রতিক্রিয়া (সহজভাবে):
Glucose + Oxygen → Carbon dioxide + Water + Energy (ATP) 

অন্যদিকে, 
- সালোকসংশ্লেষণ: এটি ঘটে ক্লোরোপ্লাস্টে, যেখানে সূর্যালোক থেকে খাদ্য (গ্লুকোজ) তৈরি হয়।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ: এটি ঘটে রাইবোসোমে। এটি প্রোটিন গঠন প্রক্রিয়া।
- ডিএনএ প্রতিলিপি: এটি ঘটে নিউক্লিয়াসে। এর ফলে নতুন কোষে একই DNA তৈরী হয়। 

তথ্যসূত্র: NCTB, উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান।

২৪১.
রক্তের তরল অংশ কোন ধরনের কলা?
  1. মৃত কলা
  2. সজীব কলা
  3. যোজক কলা
  4. পরিবাহী কলা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
একটি কোষে রাইবোসোম কোথায় পাওয়া যায় এবং তাদের প্রধান কাজ কী?
  1. নিউক্লিয়াসে, RNA তৈরি করার জন্য
  2. মাইটোকন্ড্রিয়াতে, শক্তি তৈরি করার জন্য
  3. সাইটোপ্লাজমে, প্রোটিন সংশ্লেষণ করার জন্য
  4. সেল মেমব্রেনে, পুষ্টি শোষণের জন্য
ব্যাখ্যা
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাকে বলা হয় রাইবোসোম। 
- প্যালাডে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে রাইবোসোম আবিষ্কার করেন। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- এটি উদ্ভিদ এবং প্রাণী উভয় কোষেই উপস্থিত থাকে। 
- সাধারণত অমসৃণ অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার উভয় দিকে এরা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। 
- রাইবোসোম এর প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থের বিপাক সাধন করা। 
- এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। 
- এটি আমিষ সংশ্লেষণের স্থান নির্ধারণ করে, প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন করে এবং এ সকল কাজে প্রয়োজনীয় এনজাইম সরবরাহ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৩.
কোন কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়? 
  1. মায়োসিস 
  2. মাইটোসিস 
  3. অ্যামাইটোসিস 
  4. অ্যাপোপটোসিস 
ব্যাখ্যা

কোষ বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৪.
উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য কোনটি?
  1. শ্বেতসার
  2. লিপিড
  3. গ্লাইকোজেন
  4. কাইটিন
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।

অন্যদিকে,
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৫.
উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু কোনটি?
  1. লিগনিন
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদে পানি পরিবহনকারী টিস্যু হলো জাইলেম। 

• পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (Vascular bundle):
- উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলে।

• জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকেই একত্রে পরিবহন টিস্যু (Vascular bundle) বলে।
- সাধারণত কাণ্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু একই ব্যাসার্ধে অবস্থিত থেকে মিলিতভাবে একটি বান্ডল সৃষ্টি করে।
- মূলে জাইলেম এবং ফ্লোয়েম পৃথক ব্যাসার্ধে থাকে এবং পৃথক পৃথক বান্ডল সৃষ্টি করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর এই বান্ডলই খাদ্যদ্রব্য (কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত খাদ্য) পরিবহন করে।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর গুচ্ছকে ভাস্কুলার বান্ডল বলে।

• জাইলেম টিস্যুর কাজ:
- উদ্ভিদের মূল হতে পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করা।
• ফ্লোয়েম টিস্যুর কাজ:
- পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে প্রস্তুতকৃত খাদ্যদ্রব্য (গ্লুকোজ) উদ্ভিদদেহের অন্যান্য সজীব অংশে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২৪৬.
কোন কোষের সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়? 
  1. ক্লোরেনকাইমা
  2. স্ক্লেরেনকাইমা
  3. অ্যারেনকাইমা
  4. প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম ফাইবার বা তন্তু: 
স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। 
- এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে। 
- পাটের আঁশ এক ধরনের বাস্ট ফাইবার। 
- উদ্ভিদ অঙ্গের গৌণবৃদ্ধির সময় এ ফাইবার উৎপন্ন হয়। 
- এসব কোষের প্রাচীরে কূপ দেখা যায়। 
- ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে পাতা উৎপাদিত শর্করা এবং মূলে সঞ্চিত খাদ্য একই সাথে উপরে নিচে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৭.
অস্থি এক ধরনের-
  1. ফাইব্রাস যোজক টিস্যু
  2. কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু
  3. স্কেলিটাল যোজক টিস্যু
  4. স্কেলিটাল আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
• অস্থি এক ধরনের  স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।

• স্কেলিটাল যোজক টিস্যু (Skeletal Connective Tissue):
- দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে।
- এই টিস্যু দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠন করে। দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়।
- অঙ্গ সঞ্চালন এবং চলনে সহায়তা করে।
- মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড-এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে।
- বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে।

- গঠনের ভিত্তিতে স্কেলিটাল যোজক টিস্যু দুধরনের হয়।
- যেমন: কোমলাস্থি এবং অস্থি।
- কোমলাস্থি (Cartilage): কোমলাস্থি এক ধরনের নমনীয় স্কেলিটাল যোজক টিস্যু। মানুষের নাক ও কানের পিনা কোমলাস্থি দিয়ে তৈরি।
- অস্থি: অস্থি বিশেষ ধরনের দৃঢ়, ভঙ্গুর এবং অনমনীয় স্কেলিটাল কানেকটিভ টিস্যু। এদের মাতৃকায় ক্যালসিয়াম-জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে অস্থির দৃঢ়তা প্রদান করে।

অন্যদিকে,
- কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু (Cuboidal Epithelial Tissue):
এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
- ফাইব্রাস যোজক টিস্যু (Fibrous Connective Tissue):
এই ধরনের যোজক টিস্যু দেহত্বকের নিচে পেশির মধ্যে থাকে। এদের মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের তনুর আধিক্য দেখা যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৮.
প্রাথমিক জাইলেম কোথা থেকে সৃষ্ট হয়? 
  1. শিকড় থেকে
  2. পাতার কোষ থেকে
  3. প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে
  4. মেটাজাইলেম থেকে
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর কী দিয়ে গঠিত? 
  1. সেলুলোজ
  2. লিগনিন
  3. কাইটিন
  4. পেকটিন
ব্যাখ্যা
সেলুলোজ: 
- উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। 
- অসংখ্য β-D গ্লুকোজ অণু পরস্পর β-১-৪ কার্বন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সেলুলোজ গঠন করে। 
- উদ্ভিদের অবকাঠামো নির্মাণে সেলুলোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- উদ্ভিদদেহে যেহেতু কোন কঙ্কাল নেই সেহেতু উদ্ভিদের ভার বহনের দায়িত্ব পালন করে সেলুলোজ। 
- সেলুলোজের পরিমাণ তুলায় ৯৪%, লিনেনে ৯০% এবং কাঠে ৬০%। 
- সেলুলোজকে ঘন H2SO4 বা HCI বা NaOH দ্বারা হাইড্রোলাইসিস করে গ্লুকোজে পরিণত করা যায়। 
- মানুষের পাকস্থলি বা অন্ত্রে সেলুলেজ এনজাইম না থাকায় সেলুলোজ জাতীয় পদার্থ হজম হয় না অর্থাৎ পুষ্টিতে কোন কাজে আসে না। তবে সেলুলোজ গরু-ছাগলে পুষ্টি হিসেবেও কাজ করতে পারে। 
- বস্ত্র ও বন শিল্পে প্রধান উপাদান সেলুলোজ, তাই মানব সভ্যতায় এর অবদান অপরিসীম। 
- সেলুলোজের কাজ- উদ্ভিদের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে । 

সেলুলোজের ব্যবহার: 
- সেলুলোজ কাগজ ও বস্ত্র শিল্পের প্রধান উপাদান,
- একে অ্যাসিটেট ফটোগ্রাফিক ফিল্মে ব্যবহৃত হয়,
- একে নাইট্রেট বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়,
- আসবাবপত্র ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে যান্ত্রিক সাহায্য প্রদানকারী প্রধান উপাদান সেলুলোজ, কাঠখেকো কীটপতঙ্গের পুষ্টিনালিতে বসবাসকারী এক ধরনের পরজীবী সেলুলোজ নামক উৎসেচক নিঃসৃত করে কাঠ হজমে সাহায্য করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়
  2. খ) কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম
  3. গ) কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ দেহে দুই ধরনের কলা বা টিস্যু দেখা যায়।
যথা- ভাজক টিস্যু ও স্থায়ী টিস্যু।
ভাজক টিস্যু গুলো বিভাজনের সক্ষম, এদের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড়, কোষে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না‌ এবং এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাক দেখা যায়।
যে কলা বা টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে অক্ষম তাকে স্থায়ী টিস্যু বলে।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৫১.
নিচের কোন প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত? 
  1. হাইড্রা 
  2. অ্যান্টামিবা 
  3. মানুষ 
  4. ব্যাঙ 
ব্যাখ্যা

কোষের ভিত্তিতে: 
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এককোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)। 

২। বহুকোষী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে। 
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)। 

অন্যদিকে, 
- মানুষ ও ব্যাঙ বহুকোষী প্রাণী, এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫২.
কোনটিকে কোষের মস্তিষ্ক বলা হয়?
  1. ক) রাইবোজোম
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫৩.
কোন অঙ্গাণুতে ক্রেবস চক্র সম্পন্ন হয়? 
  1. লাইসোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোসোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।