বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

কোষ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

মোট প্রশ্ন২৫৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

কোষ, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৫৫

১০১.
প্রাককেন্দ্রিক কোষের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে
  2. রাইবোজোম থাকে
  3. কেবল RNA থাকে
  4. প্লাস্টিড থাকে
ব্যাখ্যা
এ ধরনের কোষে কোন সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকেনা।
মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে। 
ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। 

সূত্র - জীব বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
১০২.
কোনটি ফ্লোয়েম টিস্যু নয়?
  1. বাস্ট তন্তু
  2. সীভ নল
  3. ট্রাকিয়া
  4. সঙ্গী কোষ
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। 
যথা- 
১। ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

২। জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
কোনটি কোষ বিভাজনের প্রকার নয়? 
  1. অটোসিস
  2. মাইটোসিস 
  3. মায়োসিস
  4. অ্যামাইটোসিস 
ব্যাখ্যা

- কোষ বিভাজনের প্রকার নয়- অটোসিস। 

কোষ বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন। 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৪.
নিচের কোনটি উদ্ভিদ টিস্যু তন্ত্রের প্রকারভেদ নয়? 
  1. অঙ্গীয় টিস্যু তন্ত্র 
  2. ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র 
  3. ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র 
  4. পরিবহন টিস্যু তন্ত্র 
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদ টিস্যু তন্ত্রের প্রকারভেদ নয়- অঙ্গীয় টিস্যু তন্ত্র। 

টিস্যু তন্ত্র: 
- একই ধরনের কাজ সম্পাদন করে এ রকম কতগুলো টিস্যু মিলিতভাবে গঠন করে টিস্যু তন্ত্র। 
- উদ্ভিদের টিস্যু তন্ত্র তিন প্রকারের। 
যথা- ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র, ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র এবং পরিবহন টিস্যু তন্ত্র। 

১। ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র: 
- মূল, কান্ড, শাখা প্রশাখা, পাতা, ফল এ সব উদ্ভিদ অঙ্গের ত্বক (বহিরাবরণ) ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র দ্বারা গঠিত। 
- সাধারণত একসারি ঘন সন্নিবেশিত প্যারেনকাইমা কোষ ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র গঠন করে। 

২। ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র: 
- ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র মূল বা কান্ডের প্রধান টিস্যু। 
- একে বহির্মজ্জা বা কর্টেক্স এবং অন্তঃমজ্জা এ দুইটি অংশে ভাগ করা যায়। 
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কান্ডের কর্টেক্স অধঃত্বক, সাধারণ বহির্মজ্জা এবং অন্তঃত্বক দ্বারা গঠিত। 
- অন্তঃত্বক দ্বারা পরিবেষ্টিত এক বা একাধিক কোষের স্তরকে বলা হয় পরিচক্র। 
- পরিচক্র দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় মজ্জা এবং মজ্জারশ্মি থাকে। 

৩। পরিবহন টিস্যু তন্ত্র: 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র গঠিত হয়। 
- ভিত্তি টিস্যুর মাঝখানে এর অবস্থান। 
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু পাশাপাশি অবস্থান করে এবং এদের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকে। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু কান্ডের পরিধির দিকে এবং জাইলেম টিস্যু কান্ডের কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত। 
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে ক্যাম্বিয়াম থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
জেনেটিক ডিসঅর্ডারের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) পয়েন্ট মিউটেশন
  2. খ) ক্রোমোজোমের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি
  3. গ) ট্রানসলোকেশন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডারের কারণ : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কীভাবে মাতা-পিতা থেকে সন্তানদের মধ্যে উপরিউক্ত রোগগুলো সঞ্চালিত হয় এবং কী ধরনের অনিয়মের কারণে রোগগুলো ঘটে। যে সকল অনিয়মের কারণে
মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয় তা হলো-
(ক) পয়েন্ট মিউটেশন (জিনের পরিব্যপ্তি, এমনকি একটি নিউক্লিয়োটাইডের পরিব্যপ্তি),
(খ) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি,
(গ) মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ না ঘটা (Non-disjunction) অ্যানাফেজ দশায় দু’মেরুতে সম-সংখ্যক ক্রোমোসোম বিতরণ না হওয়া) এবং
(ঘ) অসমসত্ত্ব ক্রোমোসোমের মধ্যে অংশের বিনিময় (Translocation) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
মানুষের দেহকোষে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৬টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

মানব দেহকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। এর মধ্যে ২২জোড়া বা ৪৪টি হলো অটোসোম। আর ১ জোড়া বা ২টি হলো সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
সেক্স ক্রোমোসোম XX হলে তা হবে নারী এবং XY হলে তা হবে পুরুষ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১০৭.
কোন আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির হয়?
  1. স্কোয়ামাস
  2. কলামনার
  3. কিউবয়ডাল
  4. স্ট্র্যাটিফাইড
ব্যাখ্যা
আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। 
- তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। 
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা। 
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন- 
(i) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে। 

(ii) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে। 

(iii) কলামনার আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে। 

- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১০৮.
নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ কত প্রকার?
ব্যাখ্যা

• কোষকে নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি) অনুযায়ী দুটি প্রকারে ভাগ করা হয়:

• ইউক্যারিয়টিক কোষ (Eukaryotic Cell):

- নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে।
- উদাহরণ: মানব কোষ, উদ্ভিদ কোষ।

• প্রোক্যারিয়টিক কোষ (Prokaryotic Cell):

- নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত, DNA সেল-এর নিউক্লিয়াস অঞ্চলের বাইরে থাকে।
- উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, আরকিয়া।

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

১০৯.
কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. সংকোচন
  2. ছাঁকনি কাজ
  3. শোষণ ও পরিশোষণ
  4. রক্ষা ও আবরণ
ব্যাখ্যা

- কিউবয়ডাল (Cuboidal) বা ঘনক্ষেত্রাকার আবরণী টিস্যুর কোষগুলো দেখতে ঘনকের মতো এবং এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় সমান। এই টিস্যুর প্রধান কাজগুলো হলো শোষণ ও পরিশোষণ এবং ক্ষরণ (Secretion)। 

আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়। 
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা। 
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন- 
(১) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়। 
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর। 
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে। 

(২) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান। 
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা। 
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে। 

(৩) কলামনার আবরণী টিস্যু: 
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা। 
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে। 

- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১০.
ক্রিস্টি পাওয়া যায়-
  1. ক) সাইটোপ্লাজমে
  2. খ) কোষগহ্বরে
  3. গ) নিউক্লিয়াসে
  4. ঘ) মাইটোকনড্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের দিকের স্তর ভেতরের দিকে ভাজ হয়ে থাকে যাকে ক্রিস্টি বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১১১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে প্রকৃত কোষ দেখা যায়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) নস্টক
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস অকোষীয়। ভাইরাসের দেহে কেবল নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন আবরণ উপস্থিত থাকে।
- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (নস্টক) ইত্যাদি ক্ষেত্রে আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, তবে রাইবোজোম থাকে।
- অধিকাংশ জীবকোষই প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ ধরনের। ছত্রাক, বিরুৎ, গুল্ম, বৃক্ষ, মানুষ, গরু ইত্যাদি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সুকেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত এবং রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১১২.
কোন জীবে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না? 
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. শৈবাল
  4. ব্রায়োফাইটস
ব্যাখ্যা
- 'ব্যাকটেরিয়া' জীবে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। 

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell । 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৩.
পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল কোনটি?
  1. অ্যাক্সন
  2. মাইলিন শিথ
  3. ডেনড্রাইট
  4. সিন্যাপস
ব্যাখ্যা

• একটি নিউরনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত এবং পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ফাঁক বা সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলা হয়।
- যদিও দুটি নিউরন এখানে একে অপরের খুব কাছে থাকে, তবে তারা সরাসরি যুক্ত থাকে না। এদের মধ্যবর্তী এই ফাঁকা স্থান বা স্নায়ুসন্ধির মাধ্যমেই রাসায়নিক পদার্থ (নিউরোট্রান্সমিটার) ব্যবহার করে তড়িৎ বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।

• নিউরন:
- নিউরনই প্রকৃতপক্ষে স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক।
- একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে। 
যথা: 
(ক) কোষ দেহ, 
(খ) প্রলম্বিত অংশ।

• কোষদেহ:
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষ দেহ নামে পরিচিত।

• প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে।
- প্রলম্বিত অংশ দু'ধরনের। 
যথা: 

১. ডেনড্রাইট:
- কোষ দেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইট এর সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি হতে পারে।

২. অ্যাক্সন:
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট বেশ লম্বা শাখাহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন।
- এর চারদিকে পাতলা আবরণকে নিউরিলেমা বলে।
- নিউরিলেমা পরিবেষ্টিত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- নিউরিলেমা ও অ্যাক্সন এর মধ্যবর্তী অংশে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়োলিন সিথ বলে।

- একটি নিউরনের অ্যাক্সনের সাথে দ্বিতীয় একটি নিউরনের ডেনড্রাইট যুক্ত থাকে।
- এ সংযুক্ত বিন্যাসকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
- পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল হলো সিন্যাপস।
- সিন্যাপস এর মধ্যদিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৪.
ঐচ্ছিক পেশি পাওয়া যায়-
  1. শ্বসননালী
  2. জনননালী
  3. মধ্যচ্ছদা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মধ্যচ্ছদ (Diaphragm):
- এটি একটি বড় গম্বুজাকৃতির পেশি, যা ফুসফুসের নিচে থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ওঠা-নামা করে।
- যদিও এটি অনৈচ্ছিক পেশি (involuntary) হিসেবে কাজ করে, তবে আমরা চাইলে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি (যেমন: গভীর নিঃশ্বাস নেওয়া বা দম ধরে রাখা)।
- তাই এটিকে ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক – দুই রকম বৈশিষ্ট্যই আছে, তবে ঐচ্ছিক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব তাই এটিকে ঐচ্ছিক পেশিও বলা যায়।

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি টিস্যু তিন ধরনের, ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃৎপেশি।

• ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary) বা ডোরাকাটা পেশি (Striated muscle):
- এই পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। ঐচ্ছিক পেশিটিস্যুর কোষগুলো নলাকার, শাখাবিহীন ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত হয়।
- এদের সাধারণত একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
- এই পেশি দ্রুত সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে।
- ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রের সংলগ্ন থাকায় একে কঙ্কালপেশিও বলে।
- উদাহরণ: মানুষের হাত এবং পায়ের পেশি।

• অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary muscle) বা মসৃণ পেশি (Smooth muscle):
- এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
- এ পেশি কোষগুলো মাকু আকৃতির।
- এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। এ
- জন্য এ পেশিকে মসৃণ পেশি বলে।
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তনালি, জনননালী, শ্বসননালী, পৌষ্টিকনালি ইত্যাদির প্রাচীরে অনৈচ্ছিক পেশি থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও National Institutes of Health (NIH)
১১৫.
একাধিক অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত হয়-
  1. ক) টিস্যু
  2. খ) তন্ত্র
  3. গ) টিস্যু ও তন্ত্র
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
তন্ত্র- একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তন্ত্র বলা হয়।
যেমন- শ্বসন কাজ পরিচালনার জন্য শ্বাসনালী, ফুসফুস ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রাণীর শ্বসন তন্ত্র।
এ রকম আরও কিছু তন্ত্র হলো পরিপাক তন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, রেচন তন্ত্র, প্রজনন তন্ত্র ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
গঠন এবং কাজের উপর নির্ভর করে আরএনএ কে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. দুই ভাগে
  2. তিন ভাগে
  3. পাঁচ ভাগে
  4. চার ভাগে
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA): 
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid. 
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%। 
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট। 
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে। 
- গঠন এবং কাজের উপর নির্ভর করে আরএনএ কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ট্রান্সফার আরএনএ, 
(খ) রাইবোসোমাল আরএনএ, 
(গ) মেসেঞ্জার আরএনএ, 
(ঘ) জেনেটিক আরএনএ এবং 
(ঙ) মাইনর আরএনএ। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৭.
কোনটি ফ্লোয়েমের প্রধান কোষ যা খাদ্য পরিবহনে মূল ভূমিকা রাখে?
  1. ফ্লোয়েম তন্তু
  2. সীভনল
  3. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা 
  4. সঙ্গীকোষ
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। 
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এদের মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
উদ্ভিদের জটিল টিস্যু কী নামে পরিচিত? 
  1. প্রাথমিক টিস্যু
  2. সরল টিস্যু
  3. পরিবহন টিস্যু
  4. সাধারণ টিস্যু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু (Complex tissues): 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে। 

জাইলেম (Xylem): 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৯.
স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়-
  1. ক) জটিল টিস্যু থেকে
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু থেকে
  3. গ) ভাজক টিস্যু থেকে
  4. ঘ) ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে
ব্যাখ্যা
স্থায়ী টিস্যু- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন যে টিস্যুগুলো বিভাজনে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুগুলো বিভাজন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিণত হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন, পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২০.
জেনেটিক ডিজঅর্ডার- এর ফলে মানব দেহে কোন ধরনের রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) বর্ণান্ধতা
  2. খ) থ্যালাসেমিয়া
  3. গ) ডাউন সিনড্রোম
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডার : বংশগতির অনিয়মের কারণে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটে যা উদ্বেগের বিষয়। বংশগতির এ অনিয়মকে বলা হয় জেনেটিক ডিসওর্ডার।
ইহা এক প্রকার অস্বাভাবিকতা। এর ফলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়।
যেমন- বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া, ডাউন সিন্ড্রোম, পাটাও সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম, ক্লাইনফেল্টার ও ডাবল ওয়াই সিন্ড্রোম, ট্রিপলো-এক্স সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম, হানটিংটন’স সিন্ড্রোম, সিকিল সেল (রক্তশূন্যতা) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২১.
DNA নেই কোনটিতে?
  1. ক) TMV
  2. খ) E. Coli
  3. গ) T2 - ব্যকটেরিও ফাজ
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
কিছুসংখ্যক ভাইরাস ছাড়া (যেমন, TMV বা Tobacco Mosaic Virus) প্রায় সব জীব কোষেই DNA বিদ্যমান। টোবাকো মোজাইক ভাইরাসে RNA থাকে।
১২২.
ভাজক টিস্যুর কোষগুলো কী ধরনের হয়? 
  1. ছোট এবং পাতলা
  2. বড় এবং ডিম্বাকার
  3. গোলাকার এবং স্বচ্ছ
  4. ছোট এবং সেলুলোজহীন
ব্যাখ্যা
টিস্যু: 
- অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত একগুচ্ছ কোষ যাদের উৎপত্তি এবং প্রধান প্রধান কাজ একই প্রকার সে কোষগুচ্ছকে টিস্যু বলা হয়। 
- কাজেই টিস্যু বলতে এমন একগুচ্ছ কোষকে বুঝায় যে কোষগুলো একই স্থান থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে এবং সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান করে একই কাজ সম্পন্ন করে। 
- উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দু'প্রকার। যথা- (ক) ভাজক টিস্যু এবং (খ) স্থায়ী টিস্যু। 

ভাজক টিস্যু: 
- বিভাজনে সক্ষম কোষ দ্বারা গঠিত টিস্যুকেই ভাজক টিস্যু বলা হয় এবং ভাজক টিস্যুর কোষগুলোকে ভাজক কোষ বলা হয়। 
- ভাজক কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং ভাজক টিস্যু থেকেই অন্যান্য স্থায়ী টিস্যুর উৎপত্তি হয়। 
- ভাজক কোষগুলো ডিম্বাকার বা আয়তাকার, বড় নিউক্লিয়াস এবং ঘন সাইটোপ্লাজমবিশিষ্ট হয়। 
- এদের কোষ প্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত এবং পাতলা, এতে সাধারণত কোষ গহ্বর থাকে না। 
- এদের কোষগুলোর মাঝে সাধারণত কোন আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।
- উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগে এবং কান্ড শীর্ষে সাধারণত ভাজক টিস্যু থাকে।
- অবস্থান অনুযায়ী এরা শীর্ষস্থ ভাজক টিস্যু। আবার উৎপত্তি অনুসারে এরা প্রাথমিক ভাজক টিস্যু নামে পরিচিত, কারণ ভ্রূণ থাকাকালীন এদের উৎপত্তি হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষগুলোর বিভাজনের ফলে উদ্ভিদের মূল এবং কান্ডের দৈর্ঘ্যে বাড়ে।
- নগ্নবীজী এবং দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের পরিণত মূল ও কান্ডের অভ্যন্তরে নতুন করে টিস্যুর সৃষ্টি হয়।
- স্থায়ী টিস্যু হতে এদের উৎপত্তি হয় বলে এদেরকে সেকেন্ডারি ভাজক টিস্যু বলা হয়।
- অবস্থান অনুযায়ী এরা পার্শ্বীয় ভাজক টিস্যু, এ টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনের ফলে মূল ও কান্ডের বেড় বাড়তে থাকে অর্থাৎ মূল ও কান্ড ক্রমান্বয়ে মোটা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
ডিপ্লয়েড কোষকে কোন ধরনের কোষ বলা হয়?
  1. জনন কোষ
  2. দেহ কোষ
  3. শুষ্ক কোষ
  4. প্রকৃত কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell । 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 
১। দেহ কোষ: 
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। 
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি। 
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে, তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়। 

২। জনন কোষ: 
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। 
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। 
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি। 
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক, তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়। 

- আবার, নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৪.
কোন পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষ এর বিভাজন ঘটে?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) অ্যামাইটোসিস
  3. গ) মিয়োসিস
  4. ঘ) ক্লিভেজ
ব্যাখ্যা
যৌন প্রজনন ও জনঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। মিয়ােসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। অপত্য জননকোষে ক্রোমােজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমােজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৫.
মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল কাজ কোনটি?
  1. কোষে অনুজীব সংরক্ষণ
  2. কোষে জলীয় ভারসাম্য রক্ষা
  3. কোষে শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ
  4. কোষ বিভাজন
ব্যাখ্যা

- মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল কাজ হচ্ছে কোষে শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করা 

মাইটোকন্ড্রিয়া: 

- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৬.
জটিল টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. খাদ্য পরিবহন 
  2. প্রোটিন সংরক্ষণ 
  3. কোষকে সমর্থন
  4. কোষ বিভাজন 
ব্যাখ্যা

জটিল টিস্যু (Complex tissues): 
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এই টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে। 

জাইলেম (Xylem) টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৭.
ক্রোমোসোমে কী থাকে যা জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে? 
  1. RNA
  2. রাইবোজোম
  3. লিপিড
  4. জিন
ব্যাখ্যা
ক্রোমোসোম: 
- ক্রোমোসোম নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রধান বস্তু। 
- প্রত্যেক নিউক্লিয়াসে প্রজাতির বৈশিষ্ট্যানুসারে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম থাকে। 
- আদি কোষে কোন সুগঠিত নিউক্লিয়াস না থাকাতে তাতে কোন সুগঠিত ক্রোমোসোম থাকে না। 
- তবে এদের কোষে বিশেষ ধরনের নিউক্লিয়ো দ্রব্য প্রো-ক্রোমোসোম বা আদি ক্রোমোসোম মুক্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। 
- বিশেষ রঞ্জক ব্যবহার করে আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে বিভাজনরত কোষে ক্রোমোসোম দেখা যায়। 

ক্রোমোসোমের কাজ: 
১। ক্রোমোসোম বংশগতির বৈশিষ্ট্যসমূহের ধারক ও বাহক। এ কারণে এরা বংশ পরম্পরায় জীবের বৈশিষ্ট্য ধারণ, বহন ও স্থানান্তর করে। 
২। বিভক্তির মাধ্যমে কোষ বিভাজনে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে। 
৩। সেক্স ক্রোমোসোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 
৪। ক্রোমোসোমে অবস্থিত বংশগতির বাহক জিন, জীবের ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে কী বলে?
  1. ক) প্লাজমিড কালচার
  2. খ) টিস্যু কালচার
  3. গ) জিন প্রকৌশল
  4. ঘ) ভিরুলেন্স প্রকৌশল
ব্যাখ্যা
কাঙ্খিত নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টির জন্য কোন জীবের DNA-এর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। জীন প্রকৌশলকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিও বলা হয়।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞান, গাজী আজমল
১২৯.
ক্লোরোপ্লাস্টের রঙ কেন সবুজ দেখায়?
  1. জ্যান্থফিলের কারণে 
  2. ক্যারোটিনের কারণে 
  3. ক্লোরোফিলের কারণে 
  4. ফাইকোএরিথ্রিনের কারণে 
ব্যাখ্যা

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়, এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩০.
কোনটি ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) বৃক্কের বোম্যানস ক্যাপসুল প্রাচীর
  2. খ) বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  3. গ) প্রাণীদের অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীর
  4. ঘ) হৃদপিন্ডের প্রাচীর
ব্যাখ্যা
ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
নিচে কোনটি ডিএনএ (DNA) এর কাজ?
  1. শক্তি উৎপাদন
  2. জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ
  3. কম্পিউটার মেমোরি সংরক্ষণ
  4. কোষের আবরণী গঠন
ব্যাখ্যা

• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।

• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।

উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

১৩২.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে ___।
  1. জাইলেম 
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. কর্টেক্স
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।

ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।

ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube), 
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell), 
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber), 
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma), 

অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১৩৩.
বাস্ট ফাইবারের উৎস কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) আঠা
  3. গ) রবার
  4. ঘ) ছাতিম
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্তু বলা হয়। কোষগুলো মৃত এবং স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট। ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে। পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার। উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য এসব ফাইবার তৈরি হয়। এরা অনেক লম্বা ও পুরুপ্রাচীরবিশিষ্ট বলে এদের বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
নিম্নের কোনটি অকোষীয় অণুজীব?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৫.
ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগতকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর-ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

ক. একস্তরী- এরা সরল ধরনের প্রাাণী। এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)

খ. দ্বিস্তরী- যে সকল প্রাণীর ভ্রƒণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)।

গ. ত্রিস্তরী- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (গবংড়ফবৎস) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। যেমন- মানুষ (Homo sapiens)।

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৬.
ব্যাকটেরিয়া কোন ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত? 
  1. জনন কোষ 
  2. দেহ কোষ 
  3. প্রকৃত কোষ 
  4. আদি কোষ
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell । 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত।

- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৭.
প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে-
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. প্লাস্টিড
  3. সেন্ট্রোসোম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাণী কোষে সর্বদা বিদ্যমান থাকে "সেন্ট্রোসোম"।

• কোষ:
- জীব দেহের গঠন এবং কাজের একককে কোষ বলে।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।

• প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য:
- প্রাণী কোষে কোনো কোষ প্রাচীর থাকে না, পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না।
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না, থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম সর্বদা বিদ্যমান থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৮.
কোন অঙ্গাণুটি প্রাককেন্দ্রিক এবং সুকেন্দ্রিক উভয়ধরনের কোষে থাকে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) প্লাস্টিড
  4. ঘ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
ব্যাখ্যা
প্রাককেন্দ্রিক কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে৷
সুকেন্দ্রিক কোষে রাইবোজোম সহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৯.
মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে কোন প্রকার জৈবিক শক্তি সঞ্চিত থাকে?
  1. NADPH
  2. GTP
  3. ADP
  4. ATP
ব্যাখ্যা

• মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র। এটি খাদ্য থেকে শক্তি উত্তোলন করে তা এমন এক আকারে সংরক্ষণ করে, যা কোষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী জৈবিক অণু হলো ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)। ATP-এ থাকা রাসায়নিক শক্তি কোষের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়, যেমন প্রোটিন সংশ্লেষণ, সংকোচন, এবং সক্রিয় পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ায় খাদ্য অণুগুলো অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ATP-তে রূপান্তরিত হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে NADPH প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্টে শক্তি পরিবহনের কাজে লাগে, GTP কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংকেত বা প্রোটিন সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, আর ADP হলো ATP-এর পূর্বাবস্থা। তাই ATP হলো মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী।
 
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪০.
উদ্ভিদের ভেসেল টিস্যুর প্রধান কাজ কী? 
  1. শর্করা সঞ্চয়ন
  2. খাদ্য পরিবহন
  3. জলীয় বাষ্প পরিবহন
  4. পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন
ব্যাখ্যা
ভেসেল (Vessels): 
- ভেসেল কোষগুলো খাটো চোঙের মতো। 
- কোষগুলো একটির মাথায় আরেকটি সজ্জিত হয় এবং প্রান্তীয় প্রাচীরটি গলে গিয়ে একটি দীর্ঘ নলের মতো অঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এর ফলে কোষরসের উপরে ওঠার জন্য একটি সরু পথ সৃষ্টি হয়ে যায়। 
- প্রাথমিক অবস্থায় এ কোষগুলো প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ থাকলেও পরিণত বয়সে এরা মৃত এবং প্রোটোপ্লাজমবিহীন হয়। 
- ভেসেলের প্রাচীর ট্রাকিডের মতো বিভিন্নরূপে পুরু হয়, যেমন- সোপানাকার, সর্পিলাকার, বলয়াকার, কৃপাঙ্কিত ইত্যাদি। 
- ভেসেল সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার লম্বা হয়। তবে বৃক্ষ বা আরোহী উদ্ভিদে আরও অনেক লম্বা হতে পারে। 
- এদের প্রধানত গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সব অঙ্গে দেখা যায়। 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের মধ্যে উন্নত উদ্ভিদ, যেমন নিটামে (Gnetum) প্রাথমিক পর্যায়ের ভেসেল থাকে। 
- পানি এবং খনিজ লবণ পরিবহন এবং অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা এর প্রধান কাজ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪১.
কার্ডিয়াক পেশির কাজের ধরণ কোন পেশির মতো? 
  1. ত্বকীয় পেশি
  2. কঙ্কাল পেশি
  3. ঐচ্ছিক পেশি
  4. অনৈচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা
কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle): 
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। 
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। 
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে। 
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে। 
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪২.
কোন উদ্ভিদ অংশ প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত? 
  1. কাণ্ডের মজ্জা
  2. মূলের ত্বক
  3. পাতার মেসোফিল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু: 
- যে স্থায়ী টিস্যু একই প্রকার কোষ দ্বারা গঠিত, একই উৎসস্থল থেকে উৎপন্ন হয় এবং একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করে তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। 
- আকৃতি ও প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- ক) প্যারেনকাইমা, খ) কোলেনকাইমা এবং গ) স্ক্লেরেনকাইমা। 

প্যারেনকাইমা: 
- এ টিস্যু প্রায় সমান ব্যাসবিশিষ্ট, সাধারণত পাতলা বা পুরুপ্রাচীর যুক্ত কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এ প্রকার টিস্যুর কোষের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতা প্রায় একই রকম হয়। 
- আকৃতিতে এরা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাটে বা বহুভূজাকৃতির হয়। 
- এ টিস্যুর কোষসমূহের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকতে পারে কিংবা নাও থাকতে পারে। 
- এ জাতীয় কোষে ঘন প্রোটোপ্লাজম থাকে এবং এরা জীবিত টিস্যু। 
- উদ্ভিদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকাংশ অংশ বিশেষ করে কোমল অংশ এ টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়। 
- পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে। 
- জলজ উদ্ভিদের প্যারেনকাইমা টিস্যুতে বড় বড় বায়ুকুঠুরী থাকে যাকে অ্যারেনকাইমা বলা হয়। 
- কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে তেল, ট্যানিন এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ জমা থাকে। 

কাজ:
- প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা, ক্লোরেনকাইমা ও মেসোফিল টিস্যুর কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা। 
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুতে অবস্থিত প্যারেনকাইমা খাদ্যের কাঁচামাল ও তৈরি খাদ্য পরিবহনে সাহায্য করে। 
- অন্যান্য টিস্যুর সাথে মিলে দৃঢ়তা প্রদান করে, মুকুল উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে এবং স্ফীত ও রসালো উদ্ভিদে পানি সঞ্চয় করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৩.
বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক হলো-
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) ক্রোমোসোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে।
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিন এর সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম।
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়।
- অর্থাৎ ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক।
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়।

উৎস:  জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১৪৪.
অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু-
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু কোথায় দেখা যায়?
  1. হাড়ের ম্যাট্রিক্স
  2. বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল
  3. বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  4. অন্ত্রের প্রাচীর
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুলে আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু দেখা যায়।

• প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:
- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

• আবরণী টিস্যু:
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।

• কাজ
- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে।
- ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়।
- এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ:
কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়।
- যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।

• কাজ
- প্রধানত ছাকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
- যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।

• কাজ-
- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু-
- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা।
- যেমন- প্রাণীদের অস্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।

• কাজ-
- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।

উৎস: ১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৬.
নিচের কোনটি টমেটোর রং লাল হবার জন্য দায়ী?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) ক্রোমোপ্লাস্ট
  3. গ) লিউকোপ্লাস্টিড
  4. ঘ) লাইসোজোম
ব্যাখ্যা
ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র সৃষ্টি করে৷ ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে৷ টমেটোর যে লাল রঙ তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়ে থাকে৷
ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারন করে৷
উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৪৭.
মানুষের ক্রোমোজোমের মধ্যে কত জোড়া অটোসোম থাকে?
  1. ২২
  2. ২৪ 
  3. ২০ 
  4. ২৩ 
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৮.
উদ্ভিদে উপস্থিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম কী ধরনের কোষকলা?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) নিঃস্রাবী টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। এরা একত্রে টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৪৯.
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথম কোন প্রাণীর জিন নকশা উন্মোচন করেন?
  1. ক) ছাগল
  2. খ) মহিষ
  3. গ) ভেড়া
  4. ঘ) হাঁস
ব্যাখ্যা

প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: প্রথম আলো ও banglanews24.com

১৫০.
মাইটোসিস ঘটে কোনটিতে?
  1. ক) স্নায়ুকোষ
  2. খ) লোহিত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) দেহকোষ
ব্যাখ্যা
মাইটোসিস ঘটে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশের ভাজক টিস্যু এবং প্রাণীর দেহকোষে৷ প্রাণীর স্নায়ুকোষ, পরিণত স্তন্যপায়ীদের লোহিত রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা এবং উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে না৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৫১.
কোনটিকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়?
  1. ক্রোমোসোম
  2. DNA
  3. RNA
  4. জিন
ব্যাখ্যা
• বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোসোম। 
• কোনটিকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

• ক্রোমোসোমের কাজ হচ্ছে মাতা পিতা হতে সন্তানের মধ্যে জিনকে বহন করা। 
• একটি ক্রোমোসোমের সাধারণত দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে ৩.৫ থেকে ৩০ মাইক্রন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫২.
ক্রোমােজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ-
  1. ক) DNA
  2. খ) RNA
  3. গ) নিউক্লিক এসিড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

- নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- DNA এর পূর্ণনাম- Deoxyribonucleic acid.
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর ডাবল হেলিক্সের বর্ণনা দেন।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

১৫৩.
আদিকোষে কোনটি অনুপস্থিত থাকে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. প্লাস্টিড
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

আদিকোষে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং প্লাস্টিড সবই অনুপস্থিত।

কোষের প্রকারভেদ:
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য।
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের।
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ।

১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell):
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না, এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell):
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে।
- অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৪.
জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. দেহ কোষের দ্বিগুণ 
  2. দেহ কোষের সমান 
  3. দেহ কোষের অর্ধেক 
  4. নির্দিষ্ট নয় 
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

কোষের প্রকারভেদ: 
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ। 
(i) দেহ কোষ: 
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। 
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি। 
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়। 

(ii) জনন কোষ: 
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। 
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। 
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি। 
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়। 

(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম থাকে- 
  1. ০২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৬টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে অটোজোমের কোনো ভূমিকা নেই। 
- অন্য এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৬.
নিচের কোনটি স্থায়ী টিস্যু নয়?
  1. ক) জটিল টিস্যু
  2. খ) সরল টিস্যু
  3. গ) ভাজক টিস্যু
  4. ঘ) ক্ষরণকারী টিস্যু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে। ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে৷
ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে৷
স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। যথা- সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু এবং নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৭.
স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে -
  1. ডেনড্রন
  2. অ্যাক্সন
  3. কোষদেহ
  4. স্নায়ুকোষ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে টিস্যু উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 
- প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- 
(ক) কোষদেহ, 
(খ) ডেনড্রন এবং 
(গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
- দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
- দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 
- উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
- দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৫৮.
কোন ধরণের কোষ বিভাজনে অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয় ?
  1. অ্যামাইটোসিস
  2. মাইটোসিস
  3. মায়োসিস
  4. মেটাফেজ
ব্যাখ্যা
• জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা- 
ক) অ্যামাইটোসিস বা প্ৰত্যক্ষ কোষ বিভাজন,
(খ) মাইটোসিস বা সমীকরণিক কোষ বিভাজন 
(গ) মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন ।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসটি সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয়। 

মাইটোসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয় ।

মায়োসিস কোষ বিভাজন : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র একবার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত
হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১৫৯.
উদ্ভিদের দৃঢ়তা প্রদান করে কোন টিস্যু?
  1. প্যারেনকাইমা
  2. স্ক্লেরেনকাইমা
  3. কোলেনকাইমা
  4. জাইলেম
ব্যাখ্যা
সরল টিস্যু:
- যে স্থায়ী টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন, তাকে সরল টিস্যু বলে।

• কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা: প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা এবং স্ক্লেরেনকাইমা।

স্ক্লেরেনকাইমা (Sclerenchyma):
- এ টিস্যুর কোষগুলো শক্ত, অনেক লম্বা এবং পুরু প্রাচীরবিশিষ্ট হয়।
- প্রোটোপ্লাজমবিহীন, লিগনিনযুক্ত এবং যান্ত্রিক কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোষ দিয়ে গঠিত টিস্যুকে স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু বলে।
- প্রাথমিক অবস্থায় কোষগুলোতে প্রোটোপ্লাজম উপস্থিত থাকলেও খুব তাড়াতাড়ি তা নষ্ট হয়ে মৃত কোষে পরিণত হয়।
- কোষগুলো প্রধানত দুই ধরনের, ফাইবার এবং স্ক্লেরাইড।
- উদ্ভিদদেহে দৃঢ়তা প্রদান এবং পানি এবং খনিজ লবণ পরিবহন করা এর মূল কাজ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১৬০.
কোন টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম?
  1. স্থায়ী টিস্যু
  2. সরল টিস্যু
  3. জটিল টিস্যু
  4. ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু (Plant tissue): 
- একই বা বিভিন্ন প্রকারের একগুচ্ছ কোষ একত্রিত হয়ে যদি একই কাজ করে এবং তাদের উৎপত্তিও যদি অভিন্ন হয়, তখন তাদের টিস্যু বা কলা বলে। 
- টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু। 

- ভাজক টিস্যুর কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম কিন্তু স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজিত হতে পারে না। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন ধরনের। 
যথা- 
১। সরল টিস্যু, 
২। জটিল টিস্যু এবং 
৩। নিঃস্রাবী (ক্ষরণকারী) টিস্যু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
পাটের সোনালী আঁশ পাওয়া যায়-
  1. জাইলেম প্যারেনকাইমা থেকে
  2. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা থেকে
  3. ফ্লোয়েম ফাইবার থেকে
  4. জাইলেম ফাইবার থেকে
ব্যাখ্যা
• ফ্লোয়েম তন্ত্র/ফাইবার:
- ফ্লোয়েমে অবস্থিত ক্লেরেনকাইমা কোষগুলোই হলো ফ্লোয়েম তন্তু। এদের বাস্ট ফাইবারও বলে।
- পাটের আঁশ বাস্ট ফাইবার।
- সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় এ ফাইবার তৈরি হয়।
- সকল উদ্ভিদে ফ্লোয়েম তন্তু নেই।
- পাট, শন, তিসি প্রভৃতি উদ্ভিদের ফ্লোয়েম তন্তুগুলো অত্যন্ত লম্বাটে।

• ফ্লোয়েমের কাজ:
• পরিবহন: ফ্লোয়েম পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের সঞ্চয়ী ও বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে পরিবহন করে।
• খাদ্য সঞ্চয়: ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা প্রয়োজনে খাদ্য সঞ্চয় করে।
• দৃঢ়তা প্রদান: ফ্লোয়েম ফাইবার ফ্লোয়েম টিস্যুকে তথা উদ্ভিদ অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৬২.
কোন পেশি টিস্যু প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়?
  1. ডোরাকাটা পেশি টিস্যু
  2. মসৃণ পেশি টিস্যু
  3. হৃৎপেশি টিস্যু
  4. কার্ডিয়াক পেশি টিস্যু
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু: 
- ভ্রূণের মেসোডার্ম থেকে তৈরি সংকোচন ও প্রসারণক্ষম বিশেষ ধরনের টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে। 
- এদের মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত। 
- পেশিকোষগুলো সরু, লম্বা এবং তন্তুময়। 
- যেসব তন্তুতে আড়াআড়ি ডোরাকাটা থাকে, তাদের ডোরাকাটা পেশি (Striated muscle) এবং ডোরাবিহীন তন্তুকে মসৃণ পেশি (Smooth muscle) বলে।
- পেশিকোষ সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটায়।
- অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশি টিস্যু তিন ধরনের। 
যথা- ঐচ্ছিক পেশি, অনৈচ্ছিক পেশি এবং হৃৎপেশি। 

১। ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary) বা ডোরাকাটা পেশি: 
- এই ঐচ্ছিক পেশি বা ডোরাকাটা পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়। 
- ঐচ্ছিক পেশিটিস্যুর কোষগুলো নলাকার, শাখাবিহীন ও আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত হয়। 
- এদের সাধারণত একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে। 
- এই পেশি দ্রুত সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে পারে। 
- ঐচ্ছিক পেশি অস্থিতন্ত্রের সংলগ্ন থাকায় একে কঙ্কালপেশিও বলে। 
উদাহরণ: মানুষের হাত এবং পায়ের পেশি। 

২। অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary muscle) বা মসৃণ পেশি: 
- এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
- এ পেশি কোষগুলো মাকু আকৃতির। 
- এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না, এজন্য এ পেশিকে মসৃণ পেশি বলে। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তনালি, পৌষ্টিকনালি ইত্যাদির প্রাচীরে অনৈচ্ছিক পেশি থাকে। 
-অনৈচ্ছিক পেশি প্রধানত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সঞ্চালনে অংশ নেয়। 
যেমন: খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অন্ত্রের ক্রমসংকোচন। 

৩। কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle): 
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। 
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। 
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে। 
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। 
অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে। 
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। 
- মানব ভ্রুণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৩.
কোনটি তরল যোজক টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) রক্ত
  2. খ) হরমোন
  3. গ) রেজিন
  4. ঘ) মিউসিলেজ
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু : তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

কাজ : তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা।

প্রকারভেদ- এরা দু’প্রকারের হয়। যথা- ১. রক্ত এবং ২. লসিকা।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৬৪.
উদ্ভিদ কোষে খাদ্য সাধারণত কোন আকারে সংরক্ষিত থাকে?
  1. গ্লুকোজ
  2. স্টার্চ
  3. স্নেহ 
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য (গ্লুকোজ) নিজেই তৈরি করে, তবে এই তৈরি করা অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদ সরাসরি নিজের দেহে জমিয়ে রাখতে পারে না, কারণ এটি পানিতে দ্রবণীয় এবং কোষের অসমোটিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই উদ্ভিদ এই গ্লুকোজকে অদ্রবণীয় জটিল শর্করা বা পলিস্যাকারাইড স্টার্চ (শ্বেতসার) হিসেবে পাতা, মূল, কাণ্ড এবং বীজে সঞ্চয় করে রাখে। 

উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষপ্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার বা স্টার্চ। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না। ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৫.
ডিএনএ (DNA) কী?
  1. ক) নিওক্লিওপ্লাজম
  2. খ) ক্রোমোজোম
  3. গ) নিউক্লিক এসিড
  4. ঘ) এনজাইম
ব্যাখ্যা

- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান ডিএনএ।
- ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের সংক্ষিপ্ত রূপ ডিএনএ।
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথাঃ ডিএনএ ও আরএনএ।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথাঃ
১. অ্যাডেনিন,
২. গুয়ানিন,
৩. সাইটোসিন ও
৪. থাইমিন।

১৬৬.
নিচের কোনটি উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কাজ নয়? 
  1. কোষ বিভাজন
  2. খাদ্য পরিবহন
  3. দেহ গঠন
  4. দৃঢ়তা প্রদান
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ টিস্যু: 
- উদ্ভিদ দেহ বিভিন্ন প্রকার টিস্যু দ্বারা গঠিত। 
- একেক ধরনের টিস্যু একেক ধরনের কাজ সম্পন্ন করে। 
- বিভাজন ক্ষমতা অনুসারে টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) ভাজক টিস্যু: 
- উদ্ভিদের দেহে যেসব টিস্যুর কোষের বিভাজন ক্ষমতা রয়েছে সেগুলোকে ভাজক টিস্যু বলে। 
- ভাজক টিস্যু উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে অবস্থান করে, বিশেষত কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগে অবস্থান করে। 
- ভাজক টিস্যুর কাজ হলো- ক্রমাগত বিভাজনের ফলে ভাজক টিস্যু নতুন নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করে; এটি উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বৃদ্ধি ঘটায় এবং ভাজক টিস্যু টিস্যুর উৎপত্তি ঘটায়। 

খ) স্থায়ী টিস্যু: 
- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন বিভাজন ক্ষমতাহীন নির্দিষ্ট আকৃতিযুক্ত পরিণত টিস্যুকে স্থায়ী টিস্যু বলে। 
- উদ্ভিদের প্রায় সর্বত্র স্থায়ী টিস্যু দেখা যায়। 
- স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। 
যথা- সরল টিস্যু (যেমন: প্যারাকাইমা, কোলেনকাইমা, স্ক্লেরেনকাইমা), জটিল টিস্যু (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) এবং ক্ষরণকারী টিস্যু। 
- স্থায়ী টিস্যুর কাজ হচ্ছে- খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবহন করা এবং দেহ গঠন ও উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৬৭.
রাইবোজোম প্রধানত কোন কাজটি করে থাকে?
  1. পানি পরিবহনে
  2. শক্তি উৎপাদনে 
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড ভাঙনে 
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণে
ব্যাখ্যা

রাইবোজোম (Ribosome): 
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের কোষেই রাইবোজোম পাওয়া যায়।
- রাইবোজোম নামক ঝিল্লিবিহীন বা পর্দাবিহীন অঙ্গাণুটি প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে। 
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন এই রাইবোজোমে হয়ে থাকে। 
- এছাড়া রাইবোজোম এ কাজে প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করে থাকে। 
- উৎসেচক বা এনজাইমের কাজ হলো প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেওয়া। 

উল্লেখ্য, 
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স এবং প্লাস্টিডের স্ট্রোমাতেও রাইবোজোম থাকে, যেগুলো ঐ অঙ্গাণুসমূহের নিজস্ব ডিএনএ-এর সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়, ঠিক যেমন একটি ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত রাইবোজোম সেই কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। জৈব অভিব্যক্তির ধারায় অন্য কোষের অংশ হয়ে ওঠার আগে এই দুটি অঙ্গানু যে একসময় স্বাধীনভাবে বসবাস করতো, তার সপক্ষে এটিও একটি প্রমাণ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৮.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে বলে-
  1. ক) সাইটোকাইনেসিস
  2. খ) ক্যারিওকাইনেসিস
  3. গ) সেন্ট্রোকাইনেসিস
  4. ঘ) নিউক্লিয়কাইনেসিস
ব্যাখ্যা
সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস এবং নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৬৯.
কোন কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না?
  1. শুক্রাণু
  2. ডিম্বাণু
  3. লোহিত রক্তকণিকা
  4. হৃদকোষ
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিয়াস: 
- নিউক্লিয়াস (Nucleus) হল কোষের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা ডিএনএ ধারণ করে এবং কোষীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
- তবে কিছু বিশেষ কোষে নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে।
- লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell - RBC) – মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- জন্মের সময় নিউক্লিয়াস থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সময় এটি হারিয়ে যায়, যাতে রক্তে বেশি হিমোগ্লোবিন ধরে রাখতে পারে এবং অক্সিজেন পরিবহন আরও কার্যকর হয়।
- এর ফলে RBC নমনীয় হয়ে ছোট রক্তনালীগুলোর মধ্য দিয়ে সহজে প্রবাহিত হতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৭০.
জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্র কোনটি?
  1. ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র
  2. ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র
  3. পরিবহন টিস্যু তন্ত্র
  4. এপিডার্মাল টিস্যুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র গঠিত হয়।

• টিস্যু তন্ত্র:
- একই ধরনের কাজ সম্পাদন করে এ রকম কতগুলো টিস্যু মিলিতভাবে গঠন করে টিস্যু তন্ত্র।
• উদ্ভিদের টিস্যু তন্ত্র তিন প্রকারের। যথা: ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র, ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র এবং পরিবহন টিস্যু তন্ত্র।

১. পরিবহন টিস্যু তন্ত্র:
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র গঠিত হয়।
- ভিত্তি টিস্যুর মাঝখানে এর অবস্থান।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু পাশাপাশি অবস্থান করে এবং এদের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকে।
- ফ্লোয়েম টিস্যু কান্ডের পরিধির দিকে এবং জাইলেম টিস্যু কান্ডের কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে ক্যাম্বিয়াম থাকে না।

২. ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র:
- মূল, কান্ড, শাখা প্রশাখা, পাতা, ফল এ সব উদ্ভিদ অঙ্গের ত্বক (বহিরাবরণ) ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র দ্বারা গঠিত।
- সাধারণত একসারি ঘন সন্নিবেশিত প্যারেনকাইমা কোষ ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র গঠন করে।

৩. ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র:
- ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র মূল বা কান্ডের প্রধান টিস্যু।
- একে বহির্মজ্জা বা কর্টেক্স এবং অন্তঃমজ্জা এ দুইটি অংশে ভাগ করা যায়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কান্ডের কর্টেক্স অধঃত্বক, সাধারণ বহির্মজ্জা এবং অন্তঃত্বক দ্বারা গঠিত।
- অন্তঃত্বক দ্বারা পরিবেষ্টিত এক বা একাধিক কোষের স্তরকে বলা হয় পরিচক্র।
- পরিচক্র দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় মজ্জা এবং মজ্জারশ্মি থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
মানুষের চোখের রং ও চুলের প্রকৃতি কী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? 
  1. প্লাজমা
  2. আরএনএ
  3. ডিএনএ
  4. এটিপি
ব্যাখ্যা
নিউক্লিক এসিড: 
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) এবং RNA (রাইবো নিউক্লিক এসিড)। 
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA। 
- বংশগতি ধারা পরিবহনে ক্রোমোজোমের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA ও RNA এর গুরুত্ব অপরিসীম। 
- সাধারণত ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো বহুন করে। 
- তাই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী DNA এর অংশকে জিন নামে অভিহিত করা হয়। 
সুতরাং, DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ। 

- যেসব জীবে DNA থাকে না কেবল RNA থাকে সে ক্ষেত্রে RNA জিন হিসেবে কাজ করে। 
যেমন- তামাক গাছের মোজাইক ভাইরাস (TMV)। 
- জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটিমাত্র জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই DNA বা জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোও তাদের ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- ক্রোমোজোম জিনকে এক বংশ থেকে পরবর্তী বংশে বহন করার জন্য বাহক হিসাবে কাজ করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। 
- মিয়োসিস কোষ বিভাজনের দ্বারা বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে। 
- ক্রোমোজোম বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য কোষ বিভাজনের সময় জিনকে সরাসরি মাতাপিতা থেকে বহন করে পরবর্তী বংশধরে নিয়ে যায়। এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৭২.
জাইলেমে কোন কোষটি থাকে না? 
  1. ভেসেল
  2. সীভনল
  3. ট্রাকিড
  4. জাইলেম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা
- জাইলেমে থাকে না- সীভনল কোষটি। 

জটিল টিস্যু: 

- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। 
যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৩.
দুটি নিউরনের সংযোগ স্থলকে কী বলে?
  1. অ্যাক্সন
  2. ডেনড্রাইট
  3. সিন্যাপস
  4. সোমা
ব্যাখ্যা
• দুটি নিউরনের সংযোগ স্থলকে সিন্যাপস বলে।
• সিন্যাপস:
- দুটি নিউরনের সংযোগস্থলকে অথবা একটি নিউরন ও একটি ইফেন্টরের (যেমন- পেশি অথবা গ্রন্থি) সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলে।
- সিন্যাপস এর মাধ্যমে উত্তেজনা বা তথ্য এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে প্রেরিত হয়।
- এগুলোর মাধ্যমেই প্রান্তীয় স্নায়ু দ্বারা গৃহীত উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রেরিত হয় এবং কেন্দ্রের নির্দেশাবলি প্রান্তের সুনির্দিষ্ট অঙ্গে পৌছায়। 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল উচ্চতর কার্যাবলি, যেমন- সমন্বয়, শিক্ষণ, স্মৃতি ইত্যাদি সব কিছুই সম্ভব হয় কেবল সিন্যাপসের জন্য।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
তুলা ও শন গাছের তন্তুগুলো হলো-
  1. ক) বাস্ট ফাইবার
  2. খ) ফ্লোয়েম তন্তু
  3. গ) তরুক্ষীর টিস্যু
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েম তন্তু
- ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্ত্র বলা হয়।
- কোষগুলো মৃত এবং স্থুল প্রাচীরবিশিষ্ট।
- ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে।
- পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার।

কাজ- উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করে এবং কখনও কখনও খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে।


উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৫.
DNA এর দুটি স্ট্র্যান্ড কোন রাসায়নিক বন্ধন দ্বারা যুক্ত?
  1. আয়নিক বন্ধন
  2. সমযোজী বন্ধন
  3. হাইড্রোজেন বন্ধন
  4. ভ্যান ডার ওয়ালস বল
ব্যাখ্যা

◉ DNA-তে প্রতিটি নিউক্লিওটাইড শর্করা (deoxyribose) + ফসফেট এর মাধ্যমে সমযোজী বন্ধন (covalent bond) দ্বারা যুক্ত থাকে। কিন্তু দুটি বিপরীতমুখী স্ট্র্যান্ডকে একসাথে ধরে রাখে নাইট্রোজেন বেসের মধ্যে গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধন।

DNA: 
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA. 
- এটি একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। 
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid. 

DNA-এর ভৌত গঠন: 
১। DNA দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ঘুরানো সিড়ির ন্যায়।
২। সিড়ির দু'দিকের ফ্রেম তৈরি হয় স্যুগার ও ফসফেটের পর্যায়ক্রমিক (Alternate) সংযুক্তির মাধ্যমে।
৩। দু'দিকের ফ্রেমের মাঝখানের প্রতিটি ফ্রেম তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজিনাস বেস দিয়ে (A=T, G≡C)।
৪। দুটি বেস হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে থাকে নাইট্রোজিনাস বেস।
৫। সিড়ির দু'পাশের ফ্রেম পরস্পর উল্টোভাবে অবস্থান করে। এ ধরনের বিন্যাসকে অ্যান্টিপ্যারালেল (Antiparallel) বিন্যাস বলে।
৬। এক ফ্রেমের গুয়ানিন অপর পাশের ফ্রেমের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় (G≡C)। এক ফ্রেমের অ্যাডিনিন অপর পাশের ফ্রেমের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে (A=T)।
৭। সিড়ির (প্রকৃত পক্ষে ডবল হেলিক্স-এর) প্রতিটি ঘূর্ণন ৩৪৪ দূরত্ব বিশিষ্ট এবং এ দূরত্ব ১০টি মনোনিউক্লিয়োটাইড দিয়ে তৈরি হয়। কাজেই প্রতিটি মনোনিউক্লিয়োটাইডের দৈর্ঘ্য ৩.৪৪।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭৬.
কোন কোষের নিউক্লিয়াস কোনো আবরণী দ্বারা আবদ্ধ নয়?
  1. আদি কোষ
  2. প্রকৃত কোষ
  3. দেহ কোষ
  4. জনন কোষ
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবজগতের অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে কোষগুলো যুক্ত থাকে। 
- কাজের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী জীবে কোষের আকৃতি নানা রকমের হয়ে থাকে। 
- বহুকোষী একটি জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সব ধরনের কোষেরই সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। 
- কোষ আণুবীক্ষণীক বস্তু। অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া কোষ দেখা যায় না। 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন। 

জীবকোষের প্রকারভেদ: 
- নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে কোষকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- আদি কোষ ও প্রকৃত কোষ। 
- আদি কোষের নিউক্লিয়াস কোনো আবরণী দ্বারা আবদ্ধ নয়। 
যেমন- ব্যাকটেরিয়া। 
- প্রকৃত কোষের নিউক্লিয়াসে আবরণ থাকে। 
- প্রকৃত কোষকে তাদের কাজের ভিত্তিতে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- দেহকোষ ও জননকোষ। 
- দেহকোষ দেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করে। এসব কোষ বিভাজনের কারণে জীবদেহ বৃদ্ধি পায়। 
- জননকোষের কাজ হলো জীবের প্রজননে অংশ নেওয়া। 
- জীবের দেহে বিভিন্ন আকার আকৃতির কোষ দেখা যায়। 
যেমন- গোলাকার, ডিম্বাকার, আয়তাকার ইত্যাদি। 
- সাধারণত কোষ এতই ক্ষুদ্র যে খালি চোখে দেখা যায় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৭৭.
নিচের কোনটি প্রকৃত কোষের মধ্যে পড়ে? 
  1. ছত্রাক
  2. Mycoplasma
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
জাইগোট কী? 
  1. দেহকোষ 
  2. ব্যাকটেরিয়ার কোষ 
  3. একটি কোষের বিভাজন 
  4. নতুন জীবের প্রথম কোষ 
ব্যাখ্যা

কোষ: 
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক। 
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন। 

কোষের প্রকারভেদ: 
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য। 
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের। 
যথা- ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ। 

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ: 
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। 
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। 
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। 
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের। 
যথা- 
ক) দেহকোষ: 
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে। 
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়। 

খ) জননকোষ: 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৯.
উদ্ভিদ কোষে খাদ্যের সঞ্চিত রূপ কোনটি?
  1. প্রোটিন
  2. শ্বেতসার
  3. লিপিড
  4. গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য: 
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে। 
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না। 
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে। 
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে। 

অন্যদিকে, 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন। 

তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়-
  1.  মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  2. পাতায়
  3. মূলের অগ্রভাগে
  4. কাণ্ডের অগ্রভাগে
ব্যাখ্যা
• ভাজক টিস্যু:
- বিভাজনে সক্ষম কোষ দ্বারা গঠিত টিস্যুকে ভাজক টিস্যু বলা হয়।
- ভাজক টিস্যুর কোষগুলোকে ভাজক কোষ বলা হয়।
- ভাজক কোষের বিভাজনের মাধ্যমেই উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এবং ভাজক টিস্যু থেকেই অন্যান্য স্থায়ী টিস্যুর উৎপত্তি হয়।
- সাধারণত উদ্ভিদ দেহের মূল, কান্ড ও পাতার অগ্রভাগে থাকে বৃদ্ধি পায়।

গঠন এবং কাজের উপর নির্ভর করে স্থায়ী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। সরল টিস্যু,
২। জটিল টিস্যু এবং
৩। ক্ষরণকারী টিস্যু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
ক্রোমোপ্লাস্টে নিচের কোন রঞ্জকটি থাকে না? 
  1. জ্যান্থফিল 
  2. ক্যারোটিন 
  3. ক্লোরোফিল 
  4. ফাইকোএরিথ্রিন 
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জকটি থাকে না। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। 
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। 
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮২.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে মোট কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ৪৬
  4. ৪৪
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ১টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া।
- এরমধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম।
- ১ জোড়া বা ২টি সেক্স ক্রোমোজোম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৪.
একাধিক কোষ বিভিন্ন কাজের জন্য মিলিতভাবে তৈরি করে- 
  1. অঙ্গ 
  2. কলা
  3. জীব 
  4. অণু
ব্যাখ্যা
• টিস্যু বা কলা:
- বহুকোষী প্রাণিদেহে অনেক কোষ একত্রে কোনো বিশেষ কাজে নিয়োজিত থাকে।
- একই ভ্রূণীয় কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে এক বা একাধিক ধরনের কিছুসংখ্যক কোষ জীবদেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সমষ্টিগতভাবে একটা কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষগুলো সমষ্টিগতভাবে টিস্যু (Tissue) বা তন্ত্র তৈরি করে।
- একটি টিস্যুর কোষগুলোর উৎপত্তি, কাজ এবং গঠন একই ধরনের হয়। টিস্যু নিয়ে আলোচনাকে টিস্যুতত্ত্ব (Histology) বলে।
- কোষ এবং টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য খুবই নির্দিষ্ট। কোষ হচ্ছে টিস্যুর গঠনগত ও কার্যকরী একক, যেমন লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ।
- আবার এরা একত্রে তরল যোজক টিস্যু নামে এক ধরনের টিস্যু হিসেবে পরিচিত।
- তরল যোজক টিস্যু রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
১৮৫.
নিচের কোন উদ্ভিদ গ্রুপে জাইলেমে ভেসেল (Vessel) উপাদান প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. জিমনোস্পার্ম
  2. ব্রায়োফাইট
  3. টেরিডোফাইট
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
ব্যাখ্যা

অ্যানজিওস্পার্ম বা সপুষ্পক উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল (vessel) উপাদান প্রধান জল পরিবাহী কোষ হিসেবে কাজ করে। ভেসেলগুলো হলো লম্বা নল যা অনেকগুলি মৃত কোষের শেষ প্রান্তের সংযোগে গঠিত হয়, যা জল পরিবহনে অত্যন্ত কার্যকর।

ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 

- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোন ধরনের জৈবিক শক্তি সঞ্চিত থাকে? 
  1. ATP
  2. ADP
  3. GTP
  4. NADPH
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭.
নিম্নোক্ত কোনটি অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ?
  1. হৃৎপিণ্ডের পেশি (Cardiac Muscle)
  2. বাহুর পেশি (Biceps)
  3. পায়ের পেশি (Quadriceps)
  4. জিহ্বার পেশি
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের পেশি অনৈচ্ছিক পেশির একটি প্রধান উদাহরণ।

অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary Muscle):
- অনৈচ্ছিক পেশি হলো সেই পেশি, যার সংকোচন ও প্রসারণ আমাদের ইচ্ছা বা সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এই পেশিগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- এর বিপরীতে, ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary Muscle) হলো সেই পেশি যা প্রাণীর ইচ্ছানুসারে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় (যেমন- হাত ও পায়ের পেশি)।

কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle):
-  এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি।
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত।
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে।
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
- অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে।
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৮.
জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. দেহ কোষের অর্ধেক (n)
  2. দেহ কোষের দ্বিগুণ (2n)
  3. দেহ কোষের তিনগুণ (3n)
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা

জনন কোষে (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) বলা হয়। হ্যাপ্লয়েড বলতে বোঝায় দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক।
- জীবের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা সাধারণত ডিপ্লয়েড বা 2n থাকে। কিন্তু জনন কোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরির সময় মিয়োসিস (Meiosis) নামক বিশেষ কোষ বিভাজন ঘটে। এই বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে অর্ধেক হয়ে যায়। একে হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থা বলে। এর ফলে নিষেকের পর যখন দুটি জনন কোষ মিলিত হয়, তখন জাইগোটে ক্রোমোসোম সংখ্যা পুনরায় নির্দিষ্ট (n + n = 2n) থাকে।

• কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

• কোষের প্রকারভেদ: 
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ। 
(i) দেহ কোষ: 
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। 
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি। 
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়। 

(ii) জনন কোষ: 
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। 
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। 
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি। 
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়। 

(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৯.
ছত্রাকে কোন প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজন হয়ে থাকে?
  1. ক্যারিওকাইনেসিস
  2. মায়োসিস
  3. মাইটোসিস
  4. অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা
জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা- 
ক) অ্যামাইটোসিস বা প্ৰত্যক্ষ কোষ বিভাজন,
(খ) মাইটোসিস বা সমীকরণিক কোষ বিভাজন 
(গ) মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন ।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসটি সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয়।
- এ ধরনের কোষ বিভাজন ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এককোষী জীবে হয়ে থাকে। 

মাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- দেহকোষে মাইটোসিসি বিভাজন হয়ে থাকে।

মায়োসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র একবার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- জনন কোষে মিয়োসিসি বিভাজন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯০.
জাইলেম টিস্যু নয় কোনটি?
  1. ট্রাকিড
  2. ভেসেল
  3. বাস্ট তন্তু
  4. জাইলেম তন্তু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- (i) জাইলেম টিস্যু ও (ii) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) ট্রাকিড, (B) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, (C) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও (D) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) সীভ নল, (B) সঙ্গী কোষ, (C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং (D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
  4. ক্লোরোফিল উৎপাদন করা
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হচ্ছে ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশকে ক্লোরোফিল (সবুজ রঙ) ব্যতীত অন্যান্য উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, কমলা, লাল) প্রদান করা। এই রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রাণী ও পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে, যা পরাগায়ন এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করে। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯২.
জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে কী বলে?
  1. ক) অ্যালিল
  2. খ) জিনোটাইপ
  3. গ) ফিনোটাইপ
  4. ঘ) লোকাস
ব্যাখ্যা
লোকাস- ক্রোমোসোমে একটি জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে।

অ্যালিল, অ্যালিলোমর্ফ : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। মনে করি, মানুষে বাদামী চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন B ও নীল চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন b পরস্পরের অ্যালিল।

জিনোটাইপ : জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে।
মনেকরি, মটরশুঁটি গাছের লম্বা কান্ডের জন্য T জিন এবং বামন কান্ডের জন্য t জিন দায়ী।
অতএব TT, tt, Tt যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা, বিশুদ্ধ বামন ও সঙ্কর লম্বা মটরশুঁটি গাছের জিনোটাইপ।

ফিনোটাইপ - জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৩.
কোন কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দুইবার বিভক্ত হয় এবং চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয়? 
  1. সাইটোকাইনেসিস
  2. মায়োসিস
  3. মাইটোসিস 
  4. অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা

কোষ বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়। 
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। 
যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন। 
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন: 
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৪.
নিচের কোন অঙ্গাণুটি (organelle) ঝিল্লি বা পর্দা দ্বারা আবৃত নয়?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারঅক্সিসোম
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্র, যা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ছোট দানাদার কাঠামো। এগুলোর কোনো ঝিল্লি থাকে না।

রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। 
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। 
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। 
 
• ক্লোরোপ্লাস্ট:  
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 

• মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 

• পারঅক্সিসোম: 
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। 
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। 
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। 
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। 
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৫.
উদ্ভিদে কাণ্ডের মাধ্যমে কোনটি পরিবাহিত হয় না?
  1. পানি
  2. খাদ্য
  3. অক্সিজেন
  4. খনিজ লবণ
ব্যাখ্যা
• কাণ্ডের মাধ্যমে অক্সিজেন পরিবাহিত হয় না। 

• উদ্ভিদের পরিবহন:
- উদ্ভিদের পরিবহন বলতে মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ এবং পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্যের সারা দেহে চলাচলকে বোঝায়।

• উদ্ভিদের কাণ্ডের মাধ্যমে পরিবাহিত পদার্থগুলো হলো - পানি, খনিজ লবণ, পাতায় উৎপন্ন খাদ্য। 

•  এই পরিবহন প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
যথা: 
→ জাইলেমের মাধ্যমে পরিবহন:
- মূলরোম দিয়ে পানি ও খনিজ লবণ শোষিত হয় এবং অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কর্টেক্সের মধ্য দিয়ে জাইলেম বাহিকায় প্রবেশ করে।  
- এরপর প্রস্বেদন টান, কৈশিক শক্তি এবং মূলজ চাপের প্রভাবে জাইলেম বাহিকা দিয়ে রস উপরের দিকে পাতায় পৌঁছে যায়।  

→ ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহন:
- পাতায় প্রস্তুত হওয়া খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে ফ্লোয়েম টিস্যু দ্বারা পরিবাহিত হয়।
- ফ্লোয়েম টিস্যু দিয়ে খাদ্যরস উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে, যেমন- কাণ্ড, মূল এবং অন্যান্য অংশে সরবরাহ করা হয়।
- এটি একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে খাদ্যরস প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ভিদের উপরে বা নীচে পরিবাহিত হতে পারে। 

অন্যদিকে,
- অক্সিজেন গ্যাসীয় বিনিময়ের মাধ্যমে নিঃসৃত হয় কিন্তু কাণ্ডের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে পরিবাহিত হয় না। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- ব্রিটানিকা।
১৯৬.
উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ কোন দুটি টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত?
  1. জাইলেম এবং ফ্লোয়েম
  2. প্যারেনকাইমা এবং ট্রাকিড 
  3. জাইলেম এবং মেরিস্টেম
  4. ফ্লোয়েম এবং স্ক্লেরেনকাইমা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুতন্ত্র প্রধানত দুটি জটিল টিস্যু (যেমন- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম) নিয়ে গঠিত। এই দুটি টিস্যুকে একত্রে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলা হয়। 

জটিল টিস্যু: 

- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। 
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। 
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে। 

জাইলেম টিস্যু: 
- জাইলেম দুই ধরনের। 
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম। 
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে। 
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়। 
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের। 
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে। 
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে। 
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে। 
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৭.
'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলা হয়-
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়াকে
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্টকে
  3. গ) রাইবোজোমকে
  4. ঘ) নিউক্লিয়াসকে
ব্যাখ্যা
সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।
রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করার তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯৮.
বর্ণহীন প্লাস্টিড কোনটি?
  1. ক) ক্রোমোপ্লাস্ট
  2. খ) লিউকোপ্লাস্ট
  3. গ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. ঘ) ক্রোমাটোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষনীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
লিউকোপ্লাস্ট বর্ণহীন অর্থাৎ এদের কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ক্রোমোপ্লাস্ট সবুজ বর্ণ ছাড়া অন্যান্য বর্ণ ধারণ করে এবং সবুজ প্লাস্টিডের নাম ক্লোরোপ্লাস্ট।
ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতর সবুজ বর্ণ কণিকা ক্লোরোফিল থাকে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করা এর কাজ।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৯.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইয়েস্ট এবং অন্যান্য ফাঙ্গাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

২০০.
বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. প্লেট ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. সীভ ভাজক টিস্যু
  4. রিব ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ:
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা - 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

১। মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয়, তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

২। রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয়, তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা। 

৩। প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয়, তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।