ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড ও এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
সূত্র - জীব বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ২ / ৩ · ১০১–২০০ / ২৫৫
- কোষ বিভাজনের প্রকার নয়- অটোসিস।
কোষ বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়।
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়।
যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন।
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- উদ্ভিদ টিস্যু তন্ত্রের প্রকারভেদ নয়- অঙ্গীয় টিস্যু তন্ত্র।
টিস্যু তন্ত্র:
- একই ধরনের কাজ সম্পাদন করে এ রকম কতগুলো টিস্যু মিলিতভাবে গঠন করে টিস্যু তন্ত্র।
- উদ্ভিদের টিস্যু তন্ত্র তিন প্রকারের।
যথা- ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র, ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র এবং পরিবহন টিস্যু তন্ত্র।
১। ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র:
- মূল, কান্ড, শাখা প্রশাখা, পাতা, ফল এ সব উদ্ভিদ অঙ্গের ত্বক (বহিরাবরণ) ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র দ্বারা গঠিত।
- সাধারণত একসারি ঘন সন্নিবেশিত প্যারেনকাইমা কোষ ত্বকীয় টিস্যু তন্ত্র গঠন করে।
২। ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র:
- ভিত্তি টিস্যু তন্ত্র মূল বা কান্ডের প্রধান টিস্যু।
- একে বহির্মজ্জা বা কর্টেক্স এবং অন্তঃমজ্জা এ দুইটি অংশে ভাগ করা যায়।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কান্ডের কর্টেক্স অধঃত্বক, সাধারণ বহির্মজ্জা এবং অন্তঃত্বক দ্বারা গঠিত।
- অন্তঃত্বক দ্বারা পরিবেষ্টিত এক বা একাধিক কোষের স্তরকে বলা হয় পরিচক্র।
- পরিচক্র দ্বারা পরিবেষ্টিত অবস্থায় মজ্জা এবং মজ্জারশ্মি থাকে।
৩। পরিবহন টিস্যু তন্ত্র:
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যুর সমন্বয়ে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র গঠিত হয়।
- ভিত্তি টিস্যুর মাঝখানে এর অবস্থান।
- দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু পাশাপাশি অবস্থান করে এবং এদের মাঝখানে ক্যাম্বিয়াম নামক ভাজক টিস্যু থাকে।
- ফ্লোয়েম টিস্যু কান্ডের পরিধির দিকে এবং জাইলেম টিস্যু কান্ডের কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত।
- একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডে ক্যাম্বিয়াম থাকে না।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মানব দেহকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। এর মধ্যে ২২জোড়া বা ৪৪টি হলো অটোসোম। আর ১ জোড়া বা ২টি হলো সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
সেক্স ক্রোমোসোম XX হলে তা হবে নারী এবং XY হলে তা হবে পুরুষ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
• কোষকে নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি) অনুযায়ী দুটি প্রকারে ভাগ করা হয়:
• ইউক্যারিয়টিক কোষ (Eukaryotic Cell):
- নিউক্লিয়াস উপস্থিত থাকে।
- উদাহরণ: মানব কোষ, উদ্ভিদ কোষ।
• প্রোক্যারিয়টিক কোষ (Prokaryotic Cell):
- নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত, DNA সেল-এর নিউক্লিয়াস অঞ্চলের বাইরে থাকে।
- উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, আরকিয়া।
তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]
- কিউবয়ডাল (Cuboidal) বা ঘনক্ষেত্রাকার আবরণী টিস্যুর কোষগুলো দেখতে ঘনকের মতো এবং এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় সমান। এই টিস্যুর প্রধান কাজগুলো হলো শোষণ ও পরিশোষণ এবং ক্ষরণ (Secretion)।
আবরণী টিস্যু:
- এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। তবে অঙ্গকে আবৃত রাখাই আবরণী টিস্যুর একমাত্র কাজ নয়।
- এই টিস্যুর কাজ হলো অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পদার্থ ক্ষরণ বা নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তর পেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহণ করা।
- আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিপর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে।
- কোষের আকৃতি, প্রাণিদেহে তার অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতিভেদে এ টিস্যু তিন ধরনের হয়।
যেমন-
(১) স্কোয়ামাস আবরণী টিস্যু:
- এই টিস্যুর কোষগুলো মাছের আঁশের মতো চ্যাপটা এবং এদের নিউক্লিয়াস বড় আকারের হয়।
উদাহরণ: বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
- এই টিস্যু প্রধানত আবরণ ছাড়াও ছাঁকনির কাজ করে থাকে।
(২) কিউবয়ডাল আবরণী টিস্যু:
- এই টিস্যুর কোষগুলো ঘনাকার বা কিউব আকৃতির অর্থাৎ কোষগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা প্রায় সমান।
উদাহরণ: বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
- এই টিস্যু প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ কাজে লিপ্ত থাকে।
(৩) কলামনার আবরণী টিস্যু:
- এই টিস্যুর কোষসমূহ স্তম্ভের মতো সরু এবং লম্বা।
উদাহরণ: প্রাণীর অস্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরের কোষগুলো প্রাধনত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণের কাজ করে থাকে।
- প্রাণিদেহে ভিত্তিপর্দার উপর সজ্জিত কোষগুলোর সংখ্যার ভিত্তিতে এপিথেলিয়াল বা আবরণী টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- ১। সাধারণ আবরণী টিস্যু, ২। স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু এবং ৩। সিউডো-স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- ভাইরাস অকোষীয়। ভাইরাসের দেহে কেবল নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন আবরণ উপস্থিত থাকে।
- ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল (নস্টক) ইত্যাদি ক্ষেত্রে আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, তবে রাইবোজোম থাকে।
- অধিকাংশ জীবকোষই প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ ধরনের। ছত্রাক, বিরুৎ, গুল্ম, বৃক্ষ, মানুষ, গরু ইত্যাদি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সুকেন্দ্রিক কোষ দেখা যায়। এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত এবং রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
• একটি নিউরনের অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত এবং পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ফাঁক বা সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলা হয়।
- যদিও দুটি নিউরন এখানে একে অপরের খুব কাছে থাকে, তবে তারা সরাসরি যুক্ত থাকে না। এদের মধ্যবর্তী এই ফাঁকা স্থান বা স্নায়ুসন্ধির মাধ্যমেই রাসায়নিক পদার্থ (নিউরোট্রান্সমিটার) ব্যবহার করে তড়িৎ বার্তা আদান-প্রদান করা হয়।
• নিউরন:
- নিউরনই প্রকৃতপক্ষে স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক।
- একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে।
যথা:
(ক) কোষ দেহ,
(খ) প্রলম্বিত অংশ।
• কোষদেহ:
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষ দেহ নামে পরিচিত।
• প্রলম্বিত অংশ:
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে।
- প্রলম্বিত অংশ দু'ধরনের।
যথা:
১. ডেনড্রাইট:
- কোষ দেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইট এর সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি হতে পারে।
২. অ্যাক্সন:
- কোষ দেহ হতে সৃষ্ট বেশ লম্বা শাখাহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন।
- এর চারদিকে পাতলা আবরণকে নিউরিলেমা বলে।
- নিউরিলেমা পরিবেষ্টিত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- নিউরিলেমা ও অ্যাক্সন এর মধ্যবর্তী অংশে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়োলিন সিথ বলে।
- একটি নিউরনের অ্যাক্সনের সাথে দ্বিতীয় একটি নিউরনের ডেনড্রাইট যুক্ত থাকে।
- এ সংযুক্ত বিন্যাসকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
- পরপর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল হলো সিন্যাপস।
- সিন্যাপস এর মধ্যদিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ:
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে।
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন।
- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। এই খাদ্য তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়।
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে।
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু।
- এদের মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। এই তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল কাজ হচ্ছে কোষে শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করা।
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন।
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন।
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন।
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
জটিল টিস্যু (Complex tissues):
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে।
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়।
- এই টিস্যু দুই ধরনের।
যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম।
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ (vascular bundle) গঠন করে।
জাইলেম (Xylem) টিস্যু:
- জাইলেম দুই ধরনের।
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম।
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে।
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়।
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের।
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে।
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে।
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে।
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
প্লাস্টিড (Plastid):
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা-
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast):
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়।
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে।
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়, এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।
২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast):
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়।
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।
৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast):
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে।
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়।
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা।
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• ডিএনএ (DNA) - জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।
• ডিএনএ (Deoxyribonucleic Acid):
- DNA - হলো একটি জৈব অণু যা জীবের প্রতিটি কোষে জিনগত তথ্য সংরক্ষণ করে এবং বংশগতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ডিএনএকে কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত একটি দ্বি-হেলিক্স কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা চারটি নিউক্লিওটাইড (অ্যাডেনিন-A, গুয়ানিন-G, সাইটোসিন-C, থাইমিন-T) দিয়ে গঠিত।
- এটি জিন (Gene) এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, উচ্চতা) নির্ধারণ করে।
- প্রতিলিপি (replication) ও ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণের নির্দেশনা দেয়।
- জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডিএনএ-এর দ্বি-হেলিক্স কাঠামোর বর্ণনা করেন।
উল্লেখ্য,
- শক্তি উৎপাদন কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ।
- কোষের আবরণী গঠন করে ফসফোলিপিড বাইলেয়ার।
উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।
• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।
• ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।
• ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube),
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell),
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber),
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma),
অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।
কোষ:
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত।
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব।
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান যে প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন Cell ।
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।
কোষের প্রকারভেদ:
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ।
১। আদি কোষ:
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ।
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে।
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে।
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব।
২। প্রকৃত কোষ:
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ।
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত।
- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র। এটি খাদ্য থেকে শক্তি উত্তোলন করে তা এমন এক আকারে সংরক্ষণ করে, যা কোষ সহজে ব্যবহার করতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী জৈবিক অণু হলো ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট)। ATP-এ থাকা রাসায়নিক শক্তি কোষের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়, যেমন প্রোটিন সংশ্লেষণ, সংকোচন, এবং সক্রিয় পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ায় খাদ্য অণুগুলো অক্সিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ATP-তে রূপান্তরিত হয়। অন্য বিকল্পগুলোর মধ্যে NADPH প্রধানত ক্লোরোপ্লাস্টে শক্তি পরিবহনের কাজে লাগে, GTP কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংকেত বা প্রোটিন সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, আর ADP হলো ATP-এর পূর্বাবস্থা। তাই ATP হলো মাইটোকন্ড্রিয়ার মূল শক্তি সঞ্চয়কারী।
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন।
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন।
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন।
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• অবস্থান, গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে পেশী টিস্যু ৩ ধরনের। যথাঃ
- ঐচ্ছিক পেশি,
- অনৈচ্ছিক পেশি এবং
- হৃদপেশি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ক্রোমোজোম:
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের- জাইলেম ও ফ্লোয়েম। এরা একত্রে টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: প্রথম আলো ও banglanews24.com
- নিউক্লিক এসিড ২ ধরনের। যথা - DNA এবং RNA।
- ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA।
- DNA হলো ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের রাসায়নিক রূপ।
- DNA এর পূর্ণনাম- Deoxyribonucleic acid.
- ইংরেজ বিজ্ঞানী ক্রিক ১৯৫৩ সালে DNA অণুর ডাবল হেলিক্সের বর্ণনা দেন।
উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
• আদিকোষে নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং প্লাস্টিড সবই অনুপস্থিত।
• কোষের প্রকারভেদ:
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য।
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের।
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ।
• ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell):
- এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না, এজন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
- ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।
- নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।
• ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell):
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে।
- অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
কোষ:
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত।
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব।
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"।
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।
কোষের প্রকারভেদ:
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ।
(i) দেহ কোষ:
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ।
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি।
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়।
(ii) জনন কোষ:
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ।
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়।
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি।
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়।
(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য (গ্লুকোজ) নিজেই তৈরি করে, তবে এই তৈরি করা অতিরিক্ত গ্লুকোজ উদ্ভিদ সরাসরি নিজের দেহে জমিয়ে রাখতে পারে না, কারণ এটি পানিতে দ্রবণীয় এবং কোষের অসমোটিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই উদ্ভিদ এই গ্লুকোজকে অদ্রবণীয় জটিল শর্করা বা পলিস্যাকারাইড স্টার্চ (শ্বেতসার) হিসেবে পাতা, মূল, কাণ্ড এবং বীজে সঞ্চয় করে রাখে।
উদ্ভিদ কোষের বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষপ্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার বা স্টার্চ।
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না। ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান ডিএনএ।
- ডি-অক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিডের সংক্ষিপ্ত রূপ ডিএনএ।
- নিউক্লিক এসিড দুই ধরনের। যথাঃ ডিএনএ ও আরএনএ।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
যথাঃ
১. অ্যাডেনিন,
২. গুয়ানিন,
৩. সাইটোসিন ও
৪. থাইমিন।
রাইবোজোম (Ribosome):
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের কোষেই রাইবোজোম পাওয়া যায়।
- রাইবোজোম নামক ঝিল্লিবিহীন বা পর্দাবিহীন অঙ্গাণুটি প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।
- প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজন এই রাইবোজোমে হয়ে থাকে।
- এছাড়া রাইবোজোম এ কাজে প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করে থাকে।
- উৎসেচক বা এনজাইমের কাজ হলো প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেওয়া।
উল্লেখ্য,
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্স এবং প্লাস্টিডের স্ট্রোমাতেও রাইবোজোম থাকে, যেগুলো ঐ অঙ্গাণুসমূহের নিজস্ব ডিএনএ-এর সংকেত অনুযায়ী প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়, ঠিক যেমন একটি ব্যাকটেরিয়া কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত রাইবোজোম সেই কোষের জন্য প্রোটিন সংশ্লেষণ করে। জৈব অভিব্যক্তির ধারায় অন্য কোষের অংশ হয়ে ওঠার আগে এই দুটি অঙ্গানু যে একসময় স্বাধীনভাবে বসবাস করতো, তার সপক্ষে এটিও একটি প্রমাণ।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
◉ DNA-তে প্রতিটি নিউক্লিওটাইড শর্করা (deoxyribose) + ফসফেট এর মাধ্যমে সমযোজী বন্ধন (covalent bond) দ্বারা যুক্ত থাকে। কিন্তু দুটি বিপরীতমুখী স্ট্র্যান্ডকে একসাথে ধরে রাখে নাইট্রোজেন বেসের মধ্যে গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধন।
DNA:
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA.
- এটি একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid.
DNA-এর ভৌত গঠন:
১। DNA দ্বিসূত্রক, বিন্যাস ঘুরানো সিড়ির ন্যায়।
২। সিড়ির দু'দিকের ফ্রেম তৈরি হয় স্যুগার ও ফসফেটের পর্যায়ক্রমিক (Alternate) সংযুক্তির মাধ্যমে।
৩। দু'দিকের ফ্রেমের মাঝখানের প্রতিটি ফ্রেম তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজিনাস বেস দিয়ে (A=T, G≡C)।
৪। দুটি বেস হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয়। কাজেই সিড়ির বাইরের দিকে থাকে ফসফেট এবং ভেতরের দিকে থাকে নাইট্রোজিনাস বেস।
৫। সিড়ির দু'পাশের ফ্রেম পরস্পর উল্টোভাবে অবস্থান করে। এ ধরনের বিন্যাসকে অ্যান্টিপ্যারালেল (Antiparallel) বিন্যাস বলে।
৬। এক ফ্রেমের গুয়ানিন অপর পাশের ফ্রেমের সাইটোসিনের সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে যুক্ত হয় (G≡C)। এক ফ্রেমের অ্যাডিনিন অপর পাশের ফ্রেমের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড দিয়ে সংযুক্ত থাকে (A=T)।
৭। সিড়ির (প্রকৃত পক্ষে ডবল হেলিক্স-এর) প্রতিটি ঘূর্ণন ৩৪৪ দূরত্ব বিশিষ্ট এবং এ দূরত্ব ১০টি মনোনিউক্লিয়োটাইড দিয়ে তৈরি হয়। কাজেই প্রতিটি মনোনিউক্লিয়োটাইডের দৈর্ঘ্য ৩.৪৪।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
কোষ:
- জীবকোষ হচ্ছে জীবদেহের একক।
- বিজ্ঞানী লোয়ি (Loewy) এবং সিকেভিজ (Siekevitz) 1969 সালে বৈষম্য ভেদ্য (selectively permeable) পর্দা দিয়ে আবৃত এবং জীবজ ক্রিয়াকলাপের একক যা অন্য সজীব মাধ্যম ছাড়াই নিজের প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে, এমন সত্তাকে কোষ বলেছেন।
কোষের প্রকারভেদ:
- সকল জীবকোষ এক রকম নয়। এদের মধ্যে গঠনগত পার্থক্য যেমন আছে, তেমনই আছে আকৃতি ও কাজের পার্থক্য।
- নিউক্লিয়াসের গঠনের ভিত্তিতে কোষ দুই ধরনের।
যথা- ১। আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ এবং ২। প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ।
প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ:
- এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
- এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।
- কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের।
যথা-
ক) দেহকোষ:
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে।
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।
খ) জননকোষ:
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়।
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়।
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে।
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• উদ্ভিদ কোষ বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার।
- উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না, ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।
অন্যদিকে,
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য- গ্লাইকোজেন।
তথ্যসূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জকটি থাকে না।
প্লাস্টিড (Plastid):
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast):
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে।
- পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়।
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে।
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।
২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast):
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়।
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।
৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast):
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে।
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়।
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা।
- আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া।
- এরমধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম।
- ১ জোড়া বা ২টি সেক্স ক্রোমোজোম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
অ্যানজিওস্পার্ম বা সপুষ্পক উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল (vessel) উপাদান প্রধান জল পরিবাহী কোষ হিসেবে কাজ করে। ভেসেলগুলো হলো লম্বা নল যা অনেকগুলি মৃত কোষের শেষ প্রান্তের সংযোগে গঠিত হয়, যা জল পরিবহনে অত্যন্ত কার্যকর।
ট্রাকিয়া বা ভেসেল:
- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান।
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো।
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে।
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ।
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়।
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে।
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম।
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম।
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়।
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে।
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়।
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়।
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন।
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন।
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন।
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে।
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• হৃৎপিণ্ডের পেশি অনৈচ্ছিক পেশির একটি প্রধান উদাহরণ।
• অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary Muscle):
- অনৈচ্ছিক পেশি হলো সেই পেশি, যার সংকোচন ও প্রসারণ আমাদের ইচ্ছা বা সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এই পেশিগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- এর বিপরীতে, ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary Muscle) হলো সেই পেশি যা প্রাণীর ইচ্ছানুসারে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় (যেমন- হাত ও পায়ের পেশি)।
• কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle):
- এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি।
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত।
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে।
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
- অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে।
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• জনন কোষে (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) বলা হয়। হ্যাপ্লয়েড বলতে বোঝায় দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক।
- জীবের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা সাধারণত ডিপ্লয়েড বা 2n থাকে। কিন্তু জনন কোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরির সময় মিয়োসিস (Meiosis) নামক বিশেষ কোষ বিভাজন ঘটে। এই বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে অর্ধেক হয়ে যায়। একে হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থা বলে। এর ফলে নিষেকের পর যখন দুটি জনন কোষ মিলিত হয়, তখন জাইগোটে ক্রোমোসোম সংখ্যা পুনরায় নির্দিষ্ট (n + n = 2n) থাকে।
• কোষ:
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত।
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব।
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক।
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"।
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ।
• কোষের প্রকারভেদ:
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ।
(i) দেহ কোষ:
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ।
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি।
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়।
(ii) জনন কোষ:
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ।
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়।
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি।
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়।
(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হচ্ছে ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশকে ক্লোরোফিল (সবুজ রঙ) ব্যতীত অন্যান্য উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, কমলা, লাল) প্রদান করা। এই রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রাণী ও পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে, যা পরাগায়ন এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করে।
প্লাস্টিড (Plastid):
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
যথা-
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast):
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়।
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে।
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে।
২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast):
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়।
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।
৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast):
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে।
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়।
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
কোষ বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একটি থেকে একাধিক কোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলা হয়।
- জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়।
যথা- অ্যামাইটোসিস, মাইটোসিস এবং মায়োসিস কোষ বিভাজন।
১। অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
২। মাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
৩। মায়োসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র এক বার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম
সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
◉ রাইবোসোম হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্র, যা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ছোট দানাদার কাঠামো। এগুলোর কোনো ঝিল্লি থাকে না।
রাইবোসোম:
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম।
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার।
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই।
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে।
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়।
• ক্লোরোপ্লাস্ট:
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত।
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের।
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট।
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে।
• মাইটোকন্ড্রিয়া:
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু।
• পারঅক্সিসোম:
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়।
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার।
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে।
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়।
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন।
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুতন্ত্র প্রধানত দুটি জটিল টিস্যু (যেমন- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম) নিয়ে গঠিত। এই দুটি টিস্যুকে একত্রে ভাস্কুলার বান্ডল বা পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ বলা হয়।
জটিল টিস্যু:
- বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে।
- এরা উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করে, তাই এদের পরিবহন টিস্যুও বলা হয়।
- এ টিস্যু দুই ধরনের। যথা- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম।
- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম একত্রে উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ গঠন করে।
জাইলেম টিস্যু:
- জাইলেম দুই ধরনের।
যেমন- প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম।
- প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে সৃষ্ট জাইলেমকে প্রাথমিক জাইলেম বলে।
- প্রাথমিক বৃদ্ধি শেষে যেসব ক্ষেত্রে গৌণবৃদ্ধি ঘটে, সেখানে গৌণ জাইলেম সৃষ্টি হয়।
- প্রাথমিক জাইলেম আবার দুই ধরনের।
- প্রাথমিক অবস্থায় একে প্রোটোজাইলেম এবং পরিণত অবস্থায় মেটাজাইলেম বলে।
- মেটাজাইলেমে অভ্যন্তরীণ ফাঁকা গহ্বরটি বড় থাকে।
- জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে।
যেমন: ট্রাকিড, ভেসেল জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইয়েস্ট এবং অন্যান্য ফাঙ্গাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।
• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়।
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।