বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৯৫ / ৩৫৪ · ৯,৪০১৯,৫০০ / ৩৫,৭১৩

৯,৪০১.
উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। - এই বাক্যে ‘ও’ কোন অব্যয়?
  1. ক) বিয়োজক অব্যয়
  2. খ) সংযোজক অব্যয়
  3. গ) সংকোচক অব্যয়
  4. ঘ) অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• সংযোজক অব্যয়: 
- উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
- তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
- তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• অন্যদিকে: 
• বিয়োজক অব্যয়: 
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
- এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়।
- কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
- তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪০২.
চলিত ভাষার রীতি সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র সাহিত্যিকদের জন্য
  2. পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত
  3. কঠিন ও ধীর
  4. অপরিবর্তনীয় ও কৃত্রিম
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৯,৪০৩.
‘বাচ্য ও উক্তি’ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে । বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য: বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪০৪.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুষ + কর = দুষ্কর
  2. গোষ্‌ + পদ = গোষ্পদ
  3. ষট্ + দশ = ষোড়শ
  4. আশ্‌ + চর্য = আশ্চর্য
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ষট্ + দশ = ষোড়শ।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪০৫.
'উজবুক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) আরবি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা

- 'উজবুক' শব্দটি 'তুর্কি ভাষা' থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে। 

অন্যদিকে, 
- তুর্কি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ: 
• বাবা, 
•  কোরমা, 
•  খাতুন, 
•  বিবি, 
•  চাকর, 
•  চাকু, 
•  তোপ, 
•  বাবুর্চী, 
•  লাশ, 
• মুচলেকা, 
•  কুলি, 
•  খোকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৯,৪০৬.
’মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে’- বাক্যে ‘বৃষ্টি’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তা কারকে সপ্তমী
  2. কর্ম কারকে শূন্য
  3. কর্তা কারকে শূন্য
  4. করণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক: 
ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তা কারক বলে। বাক্যে কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না। যেমন-
আমরা নদীর ঘাট থেকে রিকশা নিয়েছিলাম।
অনেকগুলো বন্য হাতি বাগান নষ্ট করে দিল।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।- এই বাক্যে বৃষ্টি কর্তৃকারক। কারণ পড়ার কাজ বৃষ্টি নিজে করছে।
নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করছে। সুতরাং বৃষ্টি এখানে মুখ্য কর্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪০৭.
কোনটি নিত্য সমাস?
  1. ক) কলেছাঁটা
  2. খ) ভবনদী
  3. গ) জয়ধ্বনি
  4. ঘ) জলমাত্র
ব্যাখ্যা
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
- শব্দের শেষে ‘মাত্র’ ‘অন্তর’ যুক্ত থাকলে সাধারণত নিত্য সমাস হয়।
যেমন :
- গৃহান্তর
- গ্রামান্তর
- দেশান্তর
- দর্শনমাত্র
- জলমাত্র

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০১৯)।
৯,৪০৮.
নিচের কোন উপসর্গটি তৎসম এবং খাঁটি বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই রয়েছে?
  1. অনা
  2. সম
  3. সু
  4. অধি
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪০৯.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
  2. আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
  3. একটি গোপন কথা বলি।
  4. পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
ব্যাখ্যা

 • 'পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।' - বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ বাক্য: আসছে আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।
- শুদ্ধ বাক্য: আগামীকাল স্কুল বন্ধ হবে।

- অশুদ্ধ বাক্য:আকণ্ঠ পর্যন্ত আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
- শুদ্ধ বাক্য: আকণ্ঠ আহারে স্বাস্থ্যহানি ঘটে।

- অশুদ্ধ বাক্য: একটি গোপন কথা বলি।
- শুদ্ধ বাক্য: একটি গোপনীয় কথা বলি।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪১০.
'লাফ > ফাল' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. অন্তর্হতি
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়:
- যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন-
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাসক,
- রিক্সা > রিসকা,
- লাফ > ফাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪১১.
’আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।’ বাক্যটিকে সরল বাক্যে রুপান্তর করলে কী?
  1. শিক্ষা লাভ আমার বহু কষ্ট হয়েছিলো।
  2. আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
  3. আমি শিক্ষা লাভ করায় বহু কষ্ট হয়েছিলো।
  4. বহু কষ্টে আমি শিক্ষা লাভ করেছিলাম।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর:
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়। এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়।

যেমন-
• সরল বাক্য: তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
• যৌগিক বাক্য : তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।

• সরল বাক্য: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত।
• যৌগিক বাক্য: এখন থেকেই তোমার পড়া উচিত, তবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে।

• সরল বাক্য : আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।
• যৌগিক বাক্য: আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৯,৪১২.
'হামিদ বই পড়ছে আর সীমা রান্না করছে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. খণ্ড বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তিনি আমাকে দশটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি, এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪১৩.
নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. কবাট > কপাট
  2. লাল > নাল
  3. ধোবা > ধোপা
  4. পাকা > পাক্কা
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, তাকে বাঞ্জনদ্বিত্ব বা বাঞ্জনদ্বিত্বতা বলে।
- যেমন:
- বড় > বড্ড,
- পাঞ্চা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:  
শব্দের মধ্যে যদি কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি হয় তখন তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলো।
- যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪১৪.
ভাষার মৌলিক অংশ-
  1. ক) ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
  2. খ) সন্ধি, বর্ণ, শব্দ
  3. গ) উপসর্গ, অনুসর্গ, ধ্বনি
  4. ঘ) শব্দ, সন্ধি, বর্ণ
ব্যাখ্যা

প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ ৪টি।
সেগুলো হল - ধ্বনি, শব্দ, বাক্য এবং অর্থ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী

৯,৪১৫.
'মৌতাত চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. অন্যের জমি দখল করা
  2. নেশা করা
  3. চুরি করা
  4. বিরক্ত করা
ব্যাখ্যা
• 'মৌতাত চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ নেশা করা। 

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- চাঁদের হাট বাগধারাটির অর্থ - সুখের সংসার। 
- যক্ষের ধন বাগধারাটির অর্থ- কৃপণের ধন। 
- ঘুঘু চরানো বাগধারাটির অর্থ- সর্বনাশ করা।
- 'ইতর বিশেষ' বাগধারাটির অর্থ - পার্থক্য
- 'উড়নচণ্ডী' বাগধারাটির অর্থ- বেহিসেবি
- 'তালকানা ' বাগধারাটির অর্থ- কান্ডজ্ঞানহীন 
- 'কাছাঢিলা' বাগধারাটির অর্থ- অসাবধান 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪১৬.
‘জীবনস্রোত’ সমস্তপদের ব্যাসবাক্য কী?
  1. ক) জীবনের মতো স্রোত
  2. খ) জীবনের ন্যায় স্রোত
  3. গ) জীবন স্রোতের ন্যায়
  4. ঘ) জীবন রূপ স্রোত
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।



রূপক কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ:
বিষাদসিন্ধু = বিষাদ রূপ সিন্ধু
মনমাঝি = মন রূপ মাঝি
প্রাণপাখি = প্রাণ রূপ পাখি
আনন্দসাগর = আনন্দ রূপ সাগর
জীবনপ্রদীপ = জীবন রূপ প্রদীপ
জীবনস্রোত = জীবন রূপ স্রোত

উৎস : বাংলা একাডেমি প্রমিত ব্যবহারিক ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯,৪১৭.
“Walk-out” পরিভাষাটির সঠিক বাংলা অর্থ কোনটি?
  1. সভায় অনুপস্থিত থাকা
  2. সভা বর্জন
  3. সভার সিদ্ধান্ত না মেনে নেওয়া
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

Walk-out মানে হলো কোনো সভা, অধিবেশন বা আলোচনার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসা বা সভা বর্জন করা।
- এটি সাধারণত সিদ্ধান্ত, আচরণ বা বক্তব্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের জন্য করা হয়।
------------------------------ 
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা:
Advice = উপদেশ,
Adviser / Advisor = উপদেষ্টা,
Amended = সংশোধিত,
Affidavit = শপথপত্র, হলফনামা,
Agenda = আলোচ্যসূচি,
Bail = জামিন,
Census = আদমশুমারি,
Constitution = সংবিধান,
Copyright = স্বত্ব / মেধাস্বত্ব,
Carbon dioxide = অঙ্গার-অম্ল-জান,
Embargo = অবরোধ,
Feudal = সামন্তবাদী,
Galaxy = ছায়াপথ,
Grade = পর্যায়,
Immigrant = অভিবাসী,
Imperialism = সাম্রাজ্যবাদ,
Manifesto = ইশতেহার,
 Memorandum = স্বারকলিপি,
Subsidy = ভর্তুকি,
Surplus = উদ্বৃত্ত,
Tax = কর,
Telecommunication = টেলিযোগাযোগ,
Terminology = পরিভাষা. 

উৎস: অক্সফোর্ড ডিকশনারি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

৯,৪১৮.
'উভয়কূল রক্ষা' অর্থে ব্যবহৃত প্রবচন কোনটি?
  1. কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ
  2. চাল না চুলো, ঢেঁকী না কুলো
  3. সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে
  4. বোঝার উপর, শাকের আঁটি
ব্যাখ্যা
• ‘সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে’ প্রবাদটির অর্থ - উভয়কূল রক্ষা

অন্যদিকে,
• ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’ প্রবাদটির অর্থ - কারও সুদিন কারও খারাপ দিন
• ‘চাল না চুলো, ঢেঁকী না কুলো’ প্রবাদটির অর্থ - অত্যন্ত গরীব
• ‘বোঝার উপর, শাকের আঁটি’ প্রবাদটির অর্থ -অতিরিক্তের অতিরিক্ত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪১৯.
অলংকার আবেগ আছে কোন বাক্যে?
  1. ক) উহ! কি বিপদে পড়া গেল।
  2. খ) যাকগে, ওসব কথা থাক।
  3. গ) আহা! বেচারার কত কষ্ট।
  4. ঘ) বাহ, চমৎকার লিখেছ।
ব্যাখ্যা
• অলংকার আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের জন্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক।
- দূর, এ কথা কি বলতে আছে?

অন্যদিকে,
• প্রশংসা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: বাহ, চমৎকার লিখেছ।

• আতঙ্ক আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: উহ! কি বিপদে পরা গেল।

• করুণা আবেগ:
- এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন: আহা! বেচারার কত কষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪২০.
মানী পক্ষের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. আবলি
  2. বর্গ
  3. সব
  4. মালা
ব্যাখ্যা
• মানী পক্ষের বহুবচন করার সময়ে '-গণ,' '-বৃন্দ', '-মণ্ডলী', '-বর্গ' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করা হয়।
যেমন-
গণ- সদস্যগণ, সচিবগণ। 
বৃন্দ- দর্শকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ। 
মণ্ডলী- সুধীমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী। 
বর্গ- পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
সব- ভাইসব, পাখিসব। 
সমূহ- গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
আবলি- নিয়মাবলি, রচনাবলি। 
মালা- মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪২১.
ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বৃষ্টি আসে আসুক।
  2. যা হয় হোক।
  3. সে একটু হাসুক।
  4. স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।
ব্যাখ্যা
• অনুজ্ঞা ভাব:
আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমন:
ক. আদেশাত্মক-
বর্তমান কালে: চুপ কর।
ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

খ. নিষেধাত্মক-
বর্তমান কালে: অন্যায় কাজ করো না।
ভবিষ্যৎ কালে: মিথ্যা বলবে না।

গ. অনুরোধসূচক-
বর্তমান কালে: ছাতাটা দিন তো ভাই।
ভবিষ্যৎ কালে: আপনারা আসবেন।

ঘ. উপদেশাত্মক-
বর্তমানে কালে: মন দিয়ে পড়।
ভবিষ্যৎ কালে: স্বাস্থ্যের প্রতি দৃষ্টি রেখো।

অন্যদিকে, 
-----------------
• আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাব যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪২২.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. প্রাতরাশ
  2. অহরহ
  3. একাদশ
  4. পুনরায়
ব্যাখ্যা

- কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো-
• প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
• পুনঃ + আয় = পুনরায়,
• অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
• অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
• পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
• অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।
- অপরদিকে, 'একাদশ' নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
• এক্ + দশ = একাদশ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৯,৪২৩.
‘রাঙা মুলো’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ভাগ্যবান
  2.  কালো সুদর্শন
  3. প্রিয়দর্শন কিন্তু গুণহীন
  4. বাইরে পরিপাটি
  5. নতুন আগমন
ব্যাখ্যা
• ‘রাঙা মুলো’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - প্রিয়দর্শন কিন্তু গুণহীন।

অন্যদিকে,
• ‘লগন চাঁদা’ অর্থ - ভাগ্যবান।
• ‘লেফাফা দুরস্ত’ অর্থ - বাইরে পরিপাটি।
• 'লোহার কার্তিক' অর্থ - কালো সুদর্শন।
• 'ভুঁইফোঁড়' অর্থ - 'নতুন আগমন'/ অর্বাচীন'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪২৪.
'উদ্বাহ' শব্দের সমার্থক কোনটি?
  1. ক) বিবাহ
  2. খ) বায়ু
  3. গ) বিচলিত
  4. ঘ) উদ্‌গিরন
ব্যাখ্যা
উদ্বাহ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌+√বহ্‌+আ
অর্থ: বিবাহ, পরিণয়। 

'বিবাহ' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ=  পরিনয়, পাণিগ্রহণ, পাণিপীড়ন, নিকাহ্‌, শাদী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৯,৪২৫.
‘সত্যবাদী’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
  2. অলুক বহুব্রীহি
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সাথে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- সত্য বলে যে = সত্যবাদী;
- জলে চরে যা = জলচর;
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ;
- জল দেয় যে = জলদ ইত্যাদি।
এরূপ - গৃ্হস্থ, ঘরপোড়া, পাড়াবেড়ানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪২৬.
"তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।" - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. মিশ্র
  3. জটিল
  4. যৌগিক
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।

যেমন:
- নিপা স্কুলে যায়।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯,৪২৭.
'প্রত্যূষ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রত্য + উষ
  2. প্রতি + উষ
  3. প্রতি + ঊষ
  4. প্রত্য + ঊষ
ব্যাখ্যা
• ‘প্রত্যূষ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = প্রতি + ঊষ

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়।
- য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ - ২০১৯)।
৯,৪২৮.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. প্রবীণ
  3. মন্দির
  4. মিতালি
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪২৯.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত শব্দ?
  1. আষাঢ়
  2. ভূষণ
  3. কলুষ
  4. প্রতিষেদক
ব্যাখ্যা

উত্তরপত্রের অপশনে 'প্রতিষেধক' বানান ভুল আছে। 
সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
--------------------------- 

• প্রতিষেদক ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত শব্দ।

সূত্র:
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
- যেমন- সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
- যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৩০.
সামান্য অংশ বা স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত নির্দেশক কোনটি?
  1. টু
  2. টো
  3. গোটা
  4. টে
ব্যাখ্যা
• 'টুকু' নির্দেশক:
'টুকু' নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ:-টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪৩১.
'উপশম' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. স্বাভাবিক
  2. অপকর্ষ
  3. অধম
  4. বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'উপশম' এর বিপরীত শব্দ- 'বৃদ্ধি'। 

অন্য অপশনে,
'স্বাভাবিক' এর বিপরীত শব্দ - 'অস্বাভাবিক'।
'অপকর্ষ' এর বিপরীত শব্দ - 'উৎকর্ষ'।
'উত্তম' এর বিপরীত শব্দ - 'অধম'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৯,৪৩২.
নিচের কোনটি মন্ত্রী শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়?
  1. √মন্ত্র + ঈ
  2. √মন্ত্র্‌ + ইন
  3. √মন্ত্র্‌ + ইন্
  4. √মন্ত্র্‌ + ঈ
ব্যাখ্যা

√মন্ত্র্‌ + ইন্ = মন্ত্রী। এটি কৃৎ প্রত্যয়ের উদাহরণ।
এরূপ-
√কৃ + ত = কৃত,
√জন + ত = জাত,
√সৃজ্ + ত = সৃষ্ট,
√বচ্ + ত = উক্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ

৯,৪৩৩.
'বিলাতফেরত' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া,
- বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত ইত্যাদি।

সাধারণত চ্যুত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরপদের সঙ্গে যুক্ত হলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- স্কুল থেকে পালানো = স্কুলপালানো,
- জেল থেকে মুক্ত = জেলমুক্ত ইত্যাদি।

এ রকম-  জেলখালাস, বোঁটাখসা, আগাগোড়া, শাপমুক্ত, ঋণমুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৩৪.
'ড়' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘর্ষণজাত ধ্বনি
  2. তাড়নজাত ধ্বনি
  3. কম্পনজাত ধ্বনি
  4. পার্শ্বিক ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• তাড়নজাত:
জিভ উলটিয়ে এ ধ্বনি তৈরি হয়। উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের শক্ত তালুতে একটিমাত্র টোকা দেয় বলে এগুলিকে টোকাজাত ধ্বনিও বলে। এ জাতীয় বাংলা প্রতিবেষ্টিত ব্যঞ্জন দুটি: ড় ও ঢ় । যেমন- ধড়ফড়, বাড়, গাঢ়, নিগূঢ়।

----------------
• ঘর্ষণজাত:
এ ধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে; কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলা হয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ঘর্ষণজাত ধ্বনি হচ্ছে দন্তমূলীয়/স্/ বস্তু, কাস্তে, তালব্য /শ/ দাশ, রাশ, হ্রাস, কণ্ঠনালীয়: /হ/ হাট, হনহন।

• কম্পনজাত:
জিভ কম্পিত হয়ে বা দন্তমূল বারবার আঘাত করে উচ্চারিত হয় বলে এ-জাতীয় ব্যঞ্জনগুলিকে বলে কম্পনজাত। এ শ্রেণির বাংলা ব্যঞ্জন একটি /র/ যেমন- বার, ধার।

• পার্শ্বিক:
বাতাস জিভের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে এসব ব্যঞ্জনকে বলে পার্শ্বিক। বাংলায় এ শ্রেণির ধ্বনি একটি: ল। যেমন- তাল, শাল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৩৫.
‘Semantic’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• Semantic = অর্থতত্ত্ব।
• Phonology = ধ্বনিতত্ত্ব।
• Morphology = শব্দতত্ত্ব।
• Syntax = বাক্যতত্ত্ব।
• Lexicography = অভিধান্তত্ত্ব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াত মাহমুদ।
৯,৪৩৬.
'কোলন ড্যাস' এর বিরতিকাল কোনটি?
  1. কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই
  2. এক বলতে যে সময় লাগে
  3. এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়কাল
ব্যাখ্যা
• 'কোলন ড্যাস' এর বিরতিকাল - এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ। 

কোলন ড্যাস (:-)

- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- সেমিকোলন বিরতিকাল - ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়কাল।
- কমা বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় লাগে।
- হাইফেন বিরতিকাল - কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৯,৪৩৭.
ভারতের কোন প্রদেশের দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ?
  1. ক) বিহার 
  2. খ) আসাম 
  3. গ) ত্রিপুরা
  4. ঘ) ওড়িশা 
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ। এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস। 
এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে।
বাংলাদেশের জীবন যাত্রার প্রায় সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক ।
এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
৯,৪৩৮.
'চলমান' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. √চল্ + শানচ্
  2. √চল্ + ষ্ণ্য
  3. √চল্ + মতুপ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- শানচ্ - প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- √দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান। 
- √চল্ + শানচ্ = চলমান। 
- √বৃধ্ + শানচ্ = বর্ধমান। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৩৯.
'মৃদু' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. বর্জন
  2. শুষ্ক
  3. সিক্ত
  4. শবল
ব্যাখ্যা
- 'মৃদু' শব্দের বিপরীত শব্দ - উগ্র/তীব্র/শবল

অন্যদিকে,
- 'গ্রহণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - বর্জন
- 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ - শুষ্ক

আরো কিছু গুরুরত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
- 'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান। 
- 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পারত্রিক।
- 'ইচ্ছুক' শব্দের বিপরীত শব্দ - অনিচ্ছুক।
- 'প্রত্যয়' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংশয়। 
- 'ভদ্র' শব্দের বিপরীত শব্দ - অভদ্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৪০.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা বলা হয় কাকে?
  1. ক) মন্টেস্কু
  2. খ) ম্যাকিয়াভেলি
  3. গ) ইমানুয়েল কান্ট
  4. ঘ) ই এম হোয়াইট
ব্যাখ্যা
• ১৭৪৮ সালে ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু সর্বপ্রথম তার 'The Spirit of Laws' গ্রন্থে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। যার কারণে মন্টেস্কু কে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা বলা হয়।
• জাতি রাষ্ট্রের প্রবক্তা ম্যাকিয়াভেলি।
• ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রিবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৪১.
'পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ' এটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বিগু
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনাে পদকে বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ইত্যাদি।

• বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদে 'অক্ষি' শব্দের স্থলে 'অক্ষ' এবং 'নাভি' শব্দ বলে 'নাভ হয়।
যেমন:
- কমলের ন্যায় অক্ষি যার- কমলাক্ষ,
- পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৪২.
কোনটির লিঙ্গান্তর হয় না?
  1. ক) বৌদি
  2. খ) শিক্ষয়িত্রী
  3. গ) শাকচুন্নী
  4. ঘ) বান্ধবী
ব্যাখ্যা
'শাকচুন্নী' শব্দের  লিঙ্গান্তর হয় না কারণ এটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ :
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পােয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪৪৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) উপরেউক্ত
  2. খ) উপরোক্ত
  3. গ) উপরুক্ত
  4. ঘ) উপর্যুক্ত
ব্যাখ্যা
উপর্যুক্ত সঠিক বানান হলো

উপর্যুক্ত

উচ্চারণ: উপোরজুতো
সন্ধি বিচ্ছেদ: উপরি+উক্ত 
এর অর্থ: পূর্বে কথিত বা উল্লেখ করা হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৯,৪৪৪.
সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। - বাক্যটির জটিল রূপ কী হবে?
  1. সূর্যোদয়ের সময় পদ্মফুল ফোটে।
  2. সূর্য ওঠে এবং পদ্মফুল ফোটে।
  3. পদ্মফুল ফোটে কারণ সূর্য ওঠে।
  4. যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে।
জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয়, তখন পদ্মফুল ফোটে।

সরল বাক্য: ধার্মিকেরা সুখী।
জটিল বাক্য: যারা ধার্মিক, তারা সুখী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৪৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. প্রাতরাশ
  2. চক্ষুঃরাগ
  3. চূষ্য
  4. বিশিষ্টতা
ব্যাখ্যা
• প্রাতরাশ, চূষ্য, বিশিষ্টতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
চক্ষুঃরাগ - সন্ধিঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - 'চক্ষুরাগ'।

• 'চক্ষুরাগ' অর্থ - চোখের রক্তিম আভা।

উল্লেখ্য,
বিশিষ্ট (বিশেষণ) এর বিশেষ্য শব্দ বিশিষ্টতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৪৬.
‘পিয়াসা’ শব্দের সমার্থক নিচের কোনটি? 
  1. কন্যা 
  2. তুষার 
  3. তৃষ্ণা
  4. পুলিন
ব্যাখ্যা
সমার্থক শব্দ: 
তৃষ্ণা = পিপাসা, তেষ্টা, তিয়াসা, পিয়াসা, আকাঙ্ক্ষা, তৃষা, পিয়াস।

• তুষার = বরফ, হিম, তুহিন।
• কন্যা = তনয়া, দুহিতা, নন্দিনী, আত্মজা, সুতা।  
• পুলিন = তীর, তট, কূল, কিনার, শর, পাড়।   

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।   
 
৯,৪৪৭.
ধাতুর পর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠিত হয় -
  1. আই
  2. আও
  3. অন্ত
  4. অন
ব্যাখ্যা
• ধাতুর পর যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠিত হয় - অন

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন-প্রত্যয়:
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয়ের ব্যবহার হয়।
যেমন -
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন (কান্নার ভাব)।
এরূপ - নাচন, বাড়ন, ঝুলন, দোলন।

অন্যদিকে,
• ভাববাচক বিশেষ্য গঠনে ব্যবহৃত হয় = আই, আও-প্রত্যয়।
• বিশেষণ গঠনে ব্যবহৃত হয় = অন্ত-প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৪৮.
'বাড়ি হলো একজন শিশুর প্রথম পাঠগ্রহণের প্রথম বিদ্যালয়' - এর ইংরেজি অনুবাদ কোনটি?
  1. Home is a first school where the child learns their first lesson.
  2. Home is the first school where children learn his first lesson.
  3. Home is the first school where the child learns his first lessons.
  4. Home is the first school where child learns his first lessons.
ব্যাখ্যা
বাড়ি হলো একজন শিশুর প্রথম পাঠগ্রহণের প্রথম বিদ্যালয় -  Home is the first school where the child learns his first lessons.
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৪৯.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঝিলমিল
  2. এলোমেলো
  3. চকচক
  4. কচর-মচর
ব্যাখ্যা

⇒ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ-  চকচক।

ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।

- ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
 -যেমন- সাঁকরে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে,সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।
- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়। 
- যেমন ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক,

অন্যদিকে,
- অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ- ঝিলমিল,  এলোমেলো, কচর-মচর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২১- সালের সংস্করণ)

৯,৪৫০.
অশুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. চোখে সরষেফুল দেখছি।
  2. এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
  3. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  4. আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বাক্য: আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।
• শুদ্ধ বাক্য: আমরা তার বিদেহ আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ: চোখে সরষেফুল দেখছি।
শুদ্ধ: এখানে গরুর খাঁটি দুধ পাওয়া যায়।
শুদ্ধ: শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৫১.
উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয় কত বছর আগে?
  1. ক) প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে
  2. খ) প্রায় এক হাজার বছর আগে
  3. গ) প্রায় দুই হাজার বছর আগে
  4. ঘ) প্রায় দেড় হাজার বছর আগে
ব্যাখ্যা
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯,৪৫২.
প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
  2. খ) বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য ষ লেখার প্রয়োজন হয়না।
  3. গ) ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  4. ঘ) সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয়।
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।

• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।  
যেমন- পোশাক, মাস্টার। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। 
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৫৩.
জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি কয় শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভের যে অংশ সক্রিয় থাকে, সেই অংশের ভূমিকা অনুযায়ী স্বরধ্বনি বিচার করা হয়। সে-অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলো তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
১. সম্মুখ (front),
2. মধ্য (central) ও
3. পশ্চাৎ (back) ধ্বনি হিসেবে গণ্য হয়।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: জিভের সামনের অংশটি এগিয়ে আসায় যে স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়, সেগুলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। বাংলা 'ই, এ, অ্যা' এ-জাতীয় স্বরধ্বনি।

• মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি: জিভ সামনে বা পেছনে না সরে অর্থাৎ.. মধ্যবর্তী বা স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি। বাংলা 'আ' ধ্বনি এ শ্রেণির।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ পিছিয়ে যায় অর্থাৎ পশ্চাৎ অংশ সক্রিয় হয়। এ জাতীয় স্বরধ্বনিগুলো হলো- অ, ও, উ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৫৪.
সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. শুনিয়া > শুনে
  2. কর্ম > কম্ম
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. চাল > চাউল
ব্যাখ্যা
সমীভবনের উদাহরণ- কর্ম > কম্ম।

অন্যদিকে,
’শুনিয়া > শুনে’ অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
’ফাল্গুন > ফাগুন’ অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উল্লেখ্য
 চাউল > চাল’ মধ্যস্বরলোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৯,৪৫৫.
নিচের কোন অনুজ্ঞাবাচক বাক্যটিতে 'অনুরোধ' প্রকাশ পায়?
  1. ক) অন্যায় কাজ করো না।
  2. খ) আপনারা আসবেন।
  3. গ) মন দিয়ে পড়।
  4. ঘ) তুমি কাল যেও।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা ভাবঃ আদেশ নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব হয়।
যেমনঃ
নিষেধাত্মক - অন্যায় কাজ করো না।
অনুরোধসূচক - আপনারা আসবেন।
উপদেশাত্মক - মন দিয়ে পড়।
আদেশাত্মক - তুমি কাল যেও।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণঃ নবম-দশম শ্রেণী

৯,৪৫৬.
’পায়া ভারী’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অহঙ্কার
  2. ভণ্ড
  3. প্রতিবন্ধক
  4. ব্যয়কুণ্ঠ
ব্যাখ্যা

• ’পায়া ভারী’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অহঙ্কার।

অন্যদিকে,
• ’বক ধার্মিক’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- ভণ্ড।
• ’পথের কাঁটা’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- প্রতিবন্ধক।
• ’হাতভারী’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ- ব্যয়কুণ্ঠ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৫৭.
'উক্তি' কত প্রকারের হয়?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
ব্যাখ্যা
• উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

• উক্তি দুই প্রকার:
- প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

• যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
• আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
→ প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
→ পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

→ রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
→ কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪৫৮.
‘পুষ্কর’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ময়ূর
  2. জল
  3. পদ্ম
  4. পুকুর
ব্যাখ্যা
‘পুষ্কর’ শব্দের সমার্থক শব্দ- পদ্ম, কমল, শতদল, উৎপল, নলিনী, পঙ্কজ, সরোজ, কুমুদ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং অভিগম্য অভিধান]
৯,৪৫৯.
'রাজ্ঞী' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. রাগ্‌ + নী
  2. রাজ্‌ + নী
  3. রাজ্‌ + নি
  4. রাগ্‌ + নি
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
- ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্‌ ও জ্‌ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। 
যেমন:
যাচ্‌+না = যাচ্ঞা, 
রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সন্ধি বিচ্ছেদ:
• তদ্‌ + কাল = তৎকাল,
• ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা,
• ষষ্‌ + থ্‌ = ষষ্ঠ,
• সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
• উৎ + ডীন = উড্‌ডীন,
• উৎ + লাস = উল্লাস ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৬০.
'সকাল > সক্কাল' — এটি কীসের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু  ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৬১.
‘পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. পয়লা পয়লা কাজে নেমেই সবাই ভিমরি খায়।
  2. পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।
  3. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে এবং ভিমরি খায়।
  4. সবাই পয়লা পয়লা কাজে নামে কিন্তু ভিমরি খায়।
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন:
• সরল বাক্য: পয়লা পয়লা কাজে নেমে সবাই ভিমরি খায়।
• জটিল বাক্য: পয়লা পয়লা যারা কাজে নামে তারা সবাই ভিমরি খায়।

• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
• জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৯,৪৬২.
'নৃপতি' শব্দের অর্থ কী?
  1. রাজা
  2. স্বামী
  3. নাপিত
  4. মাতবর
ব্যাখ্যা
• নৃপতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ভূপতি,
- নরপতি,
- নরেশ,
- রাজা।
 
• রাজা শব্দের সমার্থক শব্দ হলো:
নরেন্দ্র, নৃপেন্দ্র, শাসক, বাদশাহ, নরপতি, ভূপতি, নৃপতি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৬৩.
’ব্যাকরণ’ শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. বি+ আ + কৃ + অণ
  2. বি + অ + কৃ + অণ
  3. বি + আ + কৃ +অন
  4. বি + আ +ক+অণ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ (বিশেষ্য)
১ কোনো ভাষার শব্দ ও পদবিন্যাসের স্বরূপ, কাঠামো, রীতি ও বিশ্লেষণ সম্পর্কিত বিদ্যা বা গ্রন্থ।

২ শব্দের ব্যুৎপত্তিবিষয়ক শাস্ত্র।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) বি+আ+√কৃ+অন(ল্যুট্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৯,৪৬৪.
'প্রতিকার করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. অনুচিকীর্ষা
  2. প্রতিচিকীর্ষা
  3. অপচিকীর্ষা
  4. অনুসন্ধিৎসা
ব্যাখ্যা
• 'প্রতিকার করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - প্রতিচিকীর্ষা।

অন্যদিকে:
- 'অপকার করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - অপচিকীর্ষা।
- 'অনুকরণ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - অনুচিকীর্ষা।
- 'অনুসন্ধান করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - অনুসন্ধিৎসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৬৫.
"মাননীয়া" - শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. '-অ'
  2. '-আ'
  3. '-ই'
  4. '-ঈ'
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
মাননীয়-মাননীয়া,
→ শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৯,৪৬৬.
'শূদ্রানী' কোন প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. ক) নী-প্রত্যয়
  2. খ) আনী-প্রত্যয়
  3. গ) ঈ-প্রত্যয়
  4. ঘ) ঈনী-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র - ইন্দ্রানী,
- মাতুল - মাতুলানী,
- শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

• 'ঈ-প্রত্যয়' যোগে গঠিত বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ হলো
- ভাগনে-ভাগনী,
- বেঙ্গমা-বেঙ্গমী ইত্যাদি।

• ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী - মায়াবিনী,
- কুহক - কুহকিনী,
- যোগী - যোগিনী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৬৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. পাষাণ
  2. কর্মজীবী
  3. দুর্নাম
  4. রুক্মিনী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী কতিপয় শুদ্ধ বানান হলো-
• রুক্মিণী
• নিশীথিনী,
• তিতিক্ষা,
• সংশপ্তক,
• সমীচীন (সংগত, উপযুক্ত, উত্তম),
• মুহুর্মুহু,
• মনীষী,
• শুশ্রূষা,
• ত্রিভুজ,
• পাষাণ,
• মরীচিকা,
• মুমূর্ষু,
• কৃষিজীবী,
• বিকিরণ,
• দধীচি,
• মন্ত্রিসভা,
• মন্ত্রিপরিষদ,
• শিরশ্ছেদ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৯,৪৬৮.
'চালাকচতুর' কোন ধরণের সমাস?
  1. কর্মধারয় সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: 
- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন: 
• গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
• যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা। 

♠ কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে 'যে' যোজক থাকে, যেমন- 
• খাস যে জমি = খাসজমি;
• চিত যে সাঁতার = চিতসাঁতার;
• ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা;
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ;
• কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা;
• টাক যে মাথা = টাকমাথা; 
• যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর; 
• যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

♠ মধ্যপদলোপী কর্মধারয় : 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যথা-
• ঘি মাখানো ভাত = ঘিভাত;
• হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি; 
• বিজয় নির্দেশক পতাকা = বিজয়-পতাকা; 
• সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; 
• সাহিত্য বিষয়ক সভা =  সাহিত্যসভা; 
• স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ= স্মৃতিসৌধ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।  
৯,৪৬৯.
বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার -
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. চার্লস উইলকিন্স
  3. পঞ্চানন কর্মকার
  4. রেভারেণ্ড জেমস্‌ কিথ
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির আধুনিকতার রূপকার - পঞ্চানন কর্মকার

বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- চার্লস উইলকিন্স বাংলা লিপির প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিন্স হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৭০.
'আমি ব্যাংকে সেদিন পাঁচ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলাম।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  2. সাধারণ অতীত কাল
  3. পুরাঘটিত অতীত কাল
  4. ঘটমান অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• 'আমি ব্যাংকে সেদিন পাঁচ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলাম।' বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের।

• পুরাঘটিত অতীত কাল:

যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম। কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায় :পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৯,৪৭১.
কোনটি স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বিজয়ী
  2. বিজয়নী
  3. বিজয়িনা
  4. বিজয়িনী
ব্যাখ্যা
• পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে 'ইনী' প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।

যেমন:
- তেজস্বী - তেজস্বিনী,
- যশস্বী - যশস্বিনী,
- পয়স্বী - পয়স্বিনী,
- বিজয়ী - বিজয়িনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৯,৪৭২.
'ধোপদুরস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. অন্তরঙ্গতা
  2. বাবুয়ানি
  3. বেহায়া
  4. তোষামুদে
ব্যাখ্যা
• 'ধোপদুরস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ - বাবুয়ানি/পরিপাটি
বাক্য - ছেলেটি সবসময় ধোপদুরস্ত জামাকাপড় পরে থাকে।
- আজকের অনুষ্ঠানে সবাই ধোপদুরস্ত হয়ে এসেছে।

অন্যদিকে,
ধামাধরা - তোষামুদে। 
দুকান কাটা - বেহায়া। 
দহরম মহরম - অন্তরঙ্গতা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৭৩.
নিচের কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জন?
  1. ছ, শ
  2. ঝ, গ
  3. ঠ, চ
  4. থ, স
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৯,৪৭৪.
অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. কবাট > কপাট
  2. ফাল্গুন > ফাগুন
  3. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  4. বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
• স্বরসঙ্গতি: একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে
যেমন:
- শাক > শাগ;
- ধোবা > ধোপা;
- কবাট > কপাট;
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৭৫.
পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় কয়টি রীতি লক্ষ করা যায়?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৯,৪৭৬.
'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ভ্রাম্য + মাণ
  2. √ ভ্রম্য + মান
  3. √ ভ্রমণ + ষ্ণ
  4. √ ভ্রাম্য + শানচ্‌
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্‌।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √ দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪৭৭.
'ভাত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. খাঁটি বাংলা
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'ভাত' তদ্ভব শব্দ। 
- 'ভাত' শব্দটি তৎসম 'ভক্ত থেকে আগত; যার অর্থ - রাঁধা চাল; খাওয়ার যোগ্য সিদ্ধ করা চাল; অন্ন।

আবার,
'ভাত' অর্থ -  আলোকিত; দীপ্ত; উদ্ভাসিত; যা তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।

উল্লেখ্য, তদ্ভব শব্দগুলােকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলা হয়।
প্রশ্নের অপশনে একইসাথে "তদ্ভব এবং খাঁটি বাংলা" থাকায় আমরা - উত্তর হিসেবে 'ভাত' শব্দটি তৎসম গ্রহণ করছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৯,৪৭৮.
'উপল' শব্দের সমার্থক শব্দ কী?
  1. ঘোড়া
  2. ভুজগ
  3. হাতি
  4. পাথর
ব্যাখ্যা
'পাথর' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পাষাণ, প্রস্তর, শিলা, উপল, অশ্ম, কঙ্কর।

অন্যদিকে,
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ।

'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল।

‘ঘোড়া’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অশ্ব, ঘোটক, হয়, বাজী, তুরঙ্গ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৭৯.
'ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।' এই বাক্যে 'তালগাছ' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্ম কারকে শূন্য
  2. করণ কারকে শূন্য
  3. অপাদান কারকে শূন্য
  4. অধিকরণ কারকে শূন্য
ব্যাখ্যা

• 'ঐ দেখা যায় তালগাছ ঐ আমাদের গাঁ।' এই বাক্যে 'তালগাছ' কর্ম কারকে শূন্য বিভক্তি।

• কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
উল্লেখ্য,
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৮০.
‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে কি বসে?
  1. ন 
ব্যাখ্যা

ণ-ত্ব-বিধান অনুযায়ী ‘ঋ’ ‘র’ ‘ষ’-এর পরে 'ণ' বসে। 
------------------------
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুসারে, শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃতমূল) শব্দে ঋ (ঋ), র (র/র-ফলা/রেফ) এবং ষ (ষ)–এর পরবর্তী দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - এই নিয়ম খাঁটি বাংলা বা বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- যেমন- 
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

- নিয়মের প্রয়োগে দেখা যায়—
 • ঋ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ঋণ, তৃণ, ঘৃণা ইত্যাদি। 

• র (র, র-ফলা বা রেফ থাকলে) –এর পরে দন্ত্য ন (ন) মূর্ধন্য ণ (ণ)–এ রূপান্তরিত হয়।
 - যেমন- বারণ, বর্ণ, কারণ, মরণ, বরণ, বিকিরণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

 • ষ–এর পরে ন থেকে ণ রূপান্তর ঘটে।
 - যেমন- ভাষণ, উষ্ণ, বিষ্ণু, ভূষণ প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৮১.
'উপদেশ' শব্দটিতে 'উপ' পূর্বপদটি কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সম্যক
  2. খ) ক্ষুদ্র
  3. গ) সামীপ্য
  4. ঘ) সদৃশ
ব্যাখ্যা
'উপদেশ' শব্দটিতে 'উপ' পূর্বপদটি 'সম্যক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার- 
সম্যক অর্থে - উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার।
ক্ষুদ্র অর্থে - উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
সামীপ্য অর্থে - উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর।
সদৃশ অর্থে - উপদ্বীপ, উপবন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৪৮২.
‘বিদ্যুৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নীরদ
  2. অভ্র
  3. চপলা
  4. বিপিন
ব্যাখ্যা
‘বিদ্যুৎ’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

অন্যদিকে,
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৮৩.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধান–এর নিয়মানুসারে গঠিত শব্দ?
  1. স্পষ্ট
  2. ষড়ঋতু
  3. ভাষণ
  4. ঊষা
ব্যাখ্যা
ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷ যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷ যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, ঊষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৯,৪৮৪.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. অভিষেক
  3. অনুসঙ্গ
  4. প্রতিষেধক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - অনুসঙ্গ

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন:
- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

• 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৮৫.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অসূর্যম্পশ্যা
  2. অর্ধাঙ্গিনী
  3. অরক্ষণীয়া
  4. মায়াবিনী
ব্যাখ্যা

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- মায়াবিনী। 

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই। যেমন- সতীন, সৎমা, এয়ো, দাই, সধবা ইত্যাদি।
নিত্য স্ত্রীবাচক তৎসম শব্দ- সতীন, অর্ধাঙ্গিনী, কুলটা, বিধবা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
 • ঈনী, নী প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ-  মায়াবী-মায়াবিনী, কুহক-কুহকিনী, যোগী-যোগিনী, মেধাবী-মেধাবিনী, দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৮৬.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ব্যুৎপত্তি
  2. মন্ত্রিসভা
  3. পুনরুজ্জ্বীবন
  4. কল্যাণীয়েষু
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - পুনরুজ্জ্বীবন।
এর শুদ্ধরূপ - পুনরুজ্জীবন।

শব্দের অর্থ:
- নতুন জীবনলাভ।

অন্যদিকে,
- কল্যাণীয়েষু, মন্ত্রিসভা এবং, ব্যুৎপত্তি - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯,৪৮৭.
'লাল > নাল' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অতিশ্রুতি
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অসমীকরণ 
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে, কুটুম্ব ˃ কুটুম, জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
- একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ ধপাধপ;
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে, দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে, গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯,৪৮৮.
‘তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধি’- বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. ক) তপুর বয়স অল্প হলেও বুদ্ধিমান
  2. খ) যদিও তপুর বয়স অল্প তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান
  3. গ) তপুর বয়স অল্প কিন্তু সে বুদ্ধিমান
  4. ঘ) তপুর বয়স অল্প এবং যে বুদ্ধিমানি
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য: তপুর বয়স অল্প কিন্তু বেশ বুদ্ধিমান।
- জটিল বাক্য: যদিও তপুর বয়স অল্প তথাপি সে বেশ বুদ্ধিমান।

• জটিল বা মিশ্রবাক্য:
- যে বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যর সমন্বয়ে বা দুটো খণ্ডবাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হয় বা যে বাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে।
- এখানে প্রধান খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন এবং অপ্রধান খণ্ডবাক্যটি তার অধীন বা আশ্রিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯,৪৮৯.
হিল্লোল শব্দের অর্থ-
  1. ক) সাহস
  2. খ) কম্পন
  3. গ) তরঙ্গ
  4. ঘ) হাসি ঠাট্টা
ব্যাখ্যা
হিল্লোল শব্দের অর্থ- 'তরঙ্গ' 

হিল্লোল এর কয়েকটি সমার্থক শব্দ -
- ঊর্মি,
- তরঙ্গ,
- কল্লোল,
- লহর,
- বীচি ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৯,৪৯০.
জাত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কী?
  1. ক) √জন্ + ত/ক্ত
  2. খ) √জিন্ + ত/ক্ত
  3. গ) √জান্ + ত/ক্ত
  4. ঘ) √জনি + ত/ক্ত
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে ত/ক্ত/ত্ত/ন্ত/দ্ধ/গ্ন/গ্ধ/প্ত/ন্ন/ব্ধ/ষ্ট থাকলে ত/ক্ত হবে এবং প্রত্যয় সাধিত শব্দটি বিশেষ্য/বিশেষণ হবে। 

প্রদত্ত শব্দ - প্রকৃতি ও প্রত্যয়
জাত = √জন্ + ত/ক্ত
হত = √হন্ + ত/ক্ত
কৃত = √কৃ + ত/ক্ত
ধৃত = √ধৃ + ত/ক্ত

উৎস: ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৯,৪৯১.
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে, তাকে কী বলে?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. স্বরভক্তি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরলোপ
ব্যাখ্যা
স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলাে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন: রত্ন > রতন।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমন: আটমেসে ˃ আটাসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯,৪৯২.
'Memorandum' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. স্মারকলিপি
  2. সারগ্রন্থ
  3. ইশতেহার
  4. পাণ্ডুলিপি
ব্যাখ্যা

• 'Memorandum' এর বাংলা পরিভাষা - স্মারকলিপি

অন্যদিকে,
Manual - সারগ্রন্থ। 
Manifesto - ইশতেহার। 
Manuscript - পাণ্ডুলিপি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৯,৪৯৩.
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
  1. অক্ষর
  2. মাত্রা
  3. কার
  4. ফলা
ব্যাখ্যা
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় - কারবর্ণ।

কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
- এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৯,৪৯৪.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) হাতে ব্যথা পেয়েছি
  2. খ) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর
  3. গ) রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য
  4. ঘ) তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যটির শুদ্ধরূপঃ বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৪৯৫.
"Placard" - এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রাচীরপত্র
  2. ঘোষণাপত্র
  3. পোস্টার
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• "Placard" - এর বাংলা পরিভাষা:
- প্রকাশ্যে প্রদর্শনের জন্য লিখিত বা মুদ্রিত বিজ্ঞাপন;
- প্রাচীরপত্র;
- ঘোষণাপত্র;
- পোস্টার।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা:
'Circular' অর্থ- পরিপত্র।
'Manifesto' অর্থ- ইশতেহার।
'Manuscript' অর্থ- পাণ্ডুলিপি।
'Manager' অর্থ- ব্যবস্থাপক।
'Assailant' অর্থ- 'আক্রমণকারী', 
'Evaluation' অর্থ- 'মূল্যায়ন', 
'Arsenal' অর্থ- 'অস্ত্রাগার'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

৯,৪৯৬.
অতৎসম ও বিদেশি শব্দে কোন চিহ্নটি ব্যবহৃত হবে না?
  1. ই-কার
  2. ঊ-কার
  3. এ-কার
  4. উ-কার
ব্যাখ্যা

• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: 
- অতৎসম অর্থাৎ নিজস্ব (অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি ইত্যাদি) ও বিদেশি শব্দে সর্বদা ঈ-কার এবং ঊ-কার বর্জিত হবে।
যেমন: তরকারি, মুলা, দিঘি, সরকারি, শাড়ি, পশমি, ইমান, কুরান, নিচু, ভুখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৯,৪৯৭.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।' - এখানে 'টাপুর টুপুর' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা 
  2. অনুভূতি 
  3. বিশেষণ
  4. ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছমছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৯,৪৯৮.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. বাবরি
  2. খাতা
  3. বাবা
  4. চাহিদা 
ব্যাখ্যা

"বাবরি" ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।



অন্যদিকে,
খাতা - আরবি।
বাবা - তুর্কি।
চাহিদা- বাংলা শব্দ।

• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি আমদানি ,সবজি , রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৯,৪৯৯.
'ভয়' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) নির্ভীক
  2. খ) দুর্বল
  3. গ) সাহস
  4. ঘ) সাহসী
ব্যাখ্যা
• ভয় - শব্দের বিপরীত শব্দ - সাহস।

গুরত্বপুর্ণ বিপরীতশব্দ সমূহ :
• ভিতু - সাহসী
• ভীরু - নির্ভীক,
• প্রবল - দুর্বল,
• দুর্মতি - সুমতি,
• স্বমত - পরমত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নমব-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৯,৫০০.
"ছোটদাদা > ছোটদা" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি ।

যেমন:
- বউদিদি > বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা,
- ছোটদাদা > ছোটদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।