ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
• 'Interpreter' এর বাংলা পরিভাষা - দোভাষী।
• 'Message' এর বাংলা পরিভাষা - বার্তা।
• 'Orion' এর বাংলা পরিভাষা - কালপুরুষ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৯১ / ৩৫৪ · ৯,০০১–৯,১০০ / ৩৫,৭১৩
- অহোরাত্র, কুসংস্কার ও অর্ধাঙ্গি শব্দগুলোতে অপ-প্রয়োগ ঘটেনি।
- ইতিমধ্যে শব্দটির সঠিক প্রয়োগ হবে ইতোমধ্যে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা ও নির্মিতি, হায়াৎ মামুদ।
প্রতীক্ষা [প্রোতিক্খা] (বিশেষ্য)
১) অপেক্ষা; ইনতিজার।
২) আশা; প্রত্যাশা।
৩) যা ঘটতে পারে সে বিষয়ের জন্য অপেক্ষা।
(অধীর চিত্তে প্রতীক্ষা করিতে লাগিল-শামসুর রাহমান)।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
• অব্যয়ীভাব সমাস নয়- বেআক্কেল।
- নেই যার আক্কেল = বেআক্কেল; নঞ্ বহুব্রীহি সমাসের দৃষ্টান্ত।
------------------------
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়। তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - হরীতকী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
শব্দের অর্থ:
- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জাত এবং বসন্তকালে ফোটে এমন সাদাটে উভলিঙ্গ ফুল ও ভেষজগুণসম্পন্ন জলপাইসদৃশ হলুদাভ কষায় ফল বা তার ডিম্বাকৃতি পাতাবিশিষ্ট মাঝারি উচ্চতার পত্রমোচী বৃক্ষ (আনি. মধ্য এশিয়া)।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।
অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
• অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
------------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- স্বরসঙ্গতি বলতে বোঝায়—একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের ভেতরের অন্য স্বরধ্বনি বদলে যাওয়া।
- এতে শব্দের উচ্চারণে মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- সহজভাবে বলা যায়, স্বরসঙ্গতি হলো স্বরধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবের ফল।
- বাংলার কথ্য ভাষায় এ ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়।
- যেমন:
- দেশি → দিশি,
- বিলাতি → বিলিতি,
- মুলা → মুলো।
- স্বরসঙ্গতি ৪ প্রকারে বিভক্ত-
- প্রগত;
- পরাগত;
- মধ্যগত;
- অন্যোন্য।
------------------------------------
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
- যখন শব্দের শেষের স্বরধ্বনির কারণে শুরু বা আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- এখানে পরের স্বর আগের স্বরকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ:
- দেশি > দিশি,
- আখো > এখো,
- মিশে > মেশে।
----------------------------
অন্যদিকে,
• প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive)-
- যখন শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির প্রভাবে শেষের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- অর্থাৎ আগের স্বর পরে থাকা স্বরকে বদলে দেয়।
- উদাহরণ:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি-
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলতে এমন স্বরসঙ্গতিকে বোঝায়, যেখানে শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি বা শেষের স্বরধ্বনির প্রভাবে মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
- এর ফলে শব্দের ভেতরের স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে ধ্বনিগত মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- যেমন—
- বিলাতি থেকে বিলিতি-তে প্রথম ‘ই’ স্বরের প্রভাবে মাঝের ‘আ’ বদলে ‘ই’ হয়েছে।
- আবার জিলাপি থেকে জিলিপি -তে আদি ‘ই’ স্বরের কারণে মধ্যবর্তী ‘আ’ পরিবর্তিত হয়েছে।
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি-
- একটি শব্দে থাকা দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে বদলে গিয়ে নতুন ধ্বনিগত রূপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলে।
- এখানে কোনো একটি স্বর এককভাবে প্রভাব ফেলে না;
- বরং আগের ও পরের স্বরধ্বনি একে অপরকে প্রভাবিত করেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে;
- এজন্য একে পারস্পরিক বা অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মোজা > মুজো,
- ঝোলা > ঝুলি,
- পূজা >পুজো
- খেলা > খেলো
- মেলা > মেলো।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
• ‘প্রোষিতভর্তৃকা’ শব্দটি সেই নারীর জন্য ব্যবহৃত হয় যার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছেন।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যে নারী নিয়ন্ত্রণ করে = নিয়ন্তা;
- যে নারীর হিংসা নেই = অনসূয়া;
- যে নারীর স্বামী ও সন্তান নেই = অবীরা;
- যে নারীর স্বামী বর্তমান = সধবা;
- যা পূর্বে শোনা যায় নি=অশ্রুতপূর্ব;
- হিরণ্য (স্বর্ণ) দ্বারা নির্মিত =হিরন্ময়;
- বাতাসে চরে যে=কপোত;
- পূর্ব জন্মের কথা স্মরণ আছে যার=জাতিস্বর;
- সরোবরে জন্মায় যাহা =সরোজ;
- যা পুনঃ পুনঃ জ্বলিতেছে =জাজ্বল্যমান;
- সকলের জন্য প্রযোজ্য =সর্বজনীন;
- সকলের জন্য অনুষ্ঠিত = সার্বজনীন;
- রাত্রির মধ্যভাগ = মহানিশা;
- স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি = শাস্ত্রজ্ঞ;
- স্মৃতি শাস্ত্র রচনা করেন যিনি = শাস্ত্রকার;
- এখনও শত্রু জন্মায় নাই যার = অজাতশত্রু;
- এখনও গোঁফ-দাড়ি গজায় নাই যাহার = অজাতশ্মশ্রু;
- যে বিষয়ে কোন বিতর্ক নেই = অবিসংবাদী;
- স্ত্রীর বশীভূত = স্ত্রৈণ;
- যে নারীর হাসি সুন্দর = সুহাসিনী;
- যে নারীর হাসি পবিত্র = শুচিস্মিতা;
- যে নারীর স্বামী বর্তমান = সধবা।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
অন্যদিকে,
-------------------
• বস্তুবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
• 'উজানের কৈ’ বাগ্ধারাটির অর্থ - সহজলভ্য।
অন্যদিকে,
- 'খয়ের খাঁ' বাগ্ধারাটির অর্থ - তোষামোদকারী।
- ঢেঁকি অবতার বাগ্ধারাটির অর্থ - নিষ্কর্মা ও নির্বোধ লোক।
- ‘ডাকাবুকো’ বাগ্ধারাটির অর্থ - নির্ভীক।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• আবেগ:
- মনের নানা ভাব বা আবেগকে প্রকাশ করা হয় যেসব শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ শব্দ বলা হয়।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
• উপাচার - বানানটি অশুদ্ধ।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
সঠিক বানানটি হবে - 'উপচার' ।
'উপচার' শব্দের অর্থ:
- উপকরণ।
অন্যদিকে,
অগ্রগণ্য, স্নেহাস্পদ, স্বত্ব - বানানগুলো শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'মধু' সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অন্যদিকে,
- 'মাঠ' ও 'চাটাই' দেশি শব্দ। ,
- 'সবজি' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• কিছু সংস্কৃত শব্দ:
মধু, সূর্য, চন্দ্র, জল, গৃহ, মৃত্তিকা, রাম, রাবণ, পুত্র, মাতা, পিতা, জননী, দেব, দেবী, দর্শন, বয়ন, গমন, রাত্রি, দিবা, সৌর্য, বীর্য, কৃতিত্ব, আদিত্য, নারায়ণ, বৃক্ষ, পশু, লতা, নর, নারী, বেদ, বেদান্ত, উপনিষদ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি;
- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়,তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:
ইষ্ণু-প্রত্যয়:
• √ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু।
• √ সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু।
• √ ক্ষয়্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু।
বর-প্রত্যয়:
• √ ঈশ্ + বর = ঈশ্বর।
• √ ভাস্ + বর = ভাস্বর।
র-প্রত্যয়:
• √ নম্ + র = নম্র।
অন্যদিকে,
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত কিছু শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী;
- পঙ্ক + ইল্ = পঙ্কিল;
- পল্লব + ইত = পল্লবিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
'আদিত্য' যোগরূঢ় শব্দ।
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ,
- রাজপুত,
- মহাযাত্রা,
- জলধি,
- আদিত্য।
উল্লেখ্য,
- শব্দকে অর্থগতভাবে তিন ভাগে ভাগ করা হয় -
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।
• যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।
• রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- মানবসমাজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জীবনসত্যের স্মারক কোনো জনপ্রিয় বিদ্রুপাত্মক সংক্ষিপ্ত উক্তিকে প্রবাদ বলে।
প্রবাদের শ্রেণিবিভাগঃ
- সমালোচনামূলক: উচিত কথায় মামা বেজার।
- সাধারণ অভিজ্ঞতামূলক: কান টানলে মাথা আসে, অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী।
- নীতিমূলক: চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী, অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
- সামাজিক রীতিবিষয়ক: মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত, অতি লোভে তাঁতি নষ্ট ইত্যাদি।
- ব্যঙ্গাত্মক: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই, ঠেলার নাম বাবাজি।
• স্বরে+ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জন সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছ্ হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ্-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া,
মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ,
এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
পরি + ছন্ন = পরিচ্ছন্ন।
অন্যদিকে,
-------------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/খ, জ/ঝ, ড/ঢ, দ/ধ/ন, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য্/র্/ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় | এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।
অঃ (স)।
যেমন:
অধঃ + গতি = অধোগতি,
বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,
মনঃ + গত = মনোগত,
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ,
মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন,
সরঃ + বর = সরোবর,
অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়,
ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
শমন - যম
সমন - আদালতের আদেশ
উৎসঃ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি।• পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
• অতীত কাল চার প্রকার:
- সাধারণ অতীত,
- ঘটমান অতীত,
- পুরাঘটিত অতীত
- নিত্য অতীত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- যেসব ব্যঞ্জনসন্ধি প্রচলিত কোনো নিয়মের অধীনে নয় বা সাধারণ ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না, কিন্তু সচল ও সুসিদ্ধভাবে বাংলা ভাষায় দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত হয়েছে, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলা হয়।
- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি সাধারণত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে বেশি দেখা যায়।
- উদাহরণসমূহ:
পরস্পর = পর + পর,
বনস্পতি = বন + পতি,
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
তস্কর = তৎ + কর,
একাদশ = এক + দশ,
ষোড়শ = ষট্ + দশ,
আশ্চর্য = আ + চর্য,
হরিশ্চন্দ্র = হরি + চন্দ্র,
পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
গোষ্পদ = গো + পদ,
গবাক্ষ = গো + অক্ষ,
কুলটণ্ড = কুল + অণ্ড,
মার্তণ্ড = মার্ত + অণ্ড।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
• বাংলা একাডেমির অভিগম্য অভিধান অনুসারে,
"আয়না" শব্দটি - ফারসি 'আইনাহ্' থেকে এসেছে।
• "আয়না" অর্থ:
- কাচ বা অতি মসৃণ উজ্জ্বল ধাতুপৃষ্ঠ যা থেকে আলো প্রতিফলিত হওয়ার ফলে কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বন্তুর প্রতিবিম্ব দৃষ্ট হয়।
- দর্পণ।
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ:
- খরগোশ, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সম্পাদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।
এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', '-য়ে', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যটি-
• 'রাকিব অঙ্কে কাঁচা, কিন্তু ব্যাকরণে ভালো।'- বাক্যকে 'কোন বিষয়ে ভালো?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘ব্যাকরণে’। এখানে ‘ব্যাকরণে’ রাকিবের ভালো হওয়ার বিষয় বা ক্ষেত্র নির্দেশ করছে, তাই এটি অধিকরণ কারকে ৭মী বিভক্তি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান- চিকীর্ষিত।
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- অভিপ্রায়যুক্ত, অভিপ্রেত, অভিলষিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• প্রচুর + ষ্ণ্য = প্রাচুর্য; সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
• ষ্ণ্য (ষ)সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) অপত্যার্থে : মনুঃ + ষ্ণ্য = মনুষ্য, জমদগ্নি+ ষ্ণ্য = জামদগ্ন্য।
(খ) ভাবার্থে : সুন্দর+ ষ্ণ্য = সৌন্দর্য, শূর+ ষ্ণ্য = শৌর্য। ধীর+ ষ্ণ্য= ধৈর্য।
(গ) বিশেষণ গঠনে: পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য, বেদ+ ষ্ণ্য = বৈদ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
’ঈষৎ কম্পিত’-এর এককথায় প্রকাশ = আধুত।
এছাড়াও,
- ’ঈষৎ কৃষ্ণ’-এর এককথায় প্রকাশ = কালচে।
- ’ঈষৎ পণ্ডুবর্ণ’-এর এককথায় প্রকাশ = ধূসর।
- ’ঈষৎ নীলবর্ণ’-এর এককথায় প্রকাশ = নীলাভ।
- ’ঈষৎ হাস্য’-এর এককথায় প্রকাশ = স্মিত।
- ’ঈশ্বর বিষয়ক’-এর এককথায় প্রকাশ = ঐশ্বরিক।
- ’ঈষৎ মধুর’-এর এককথায় প্রকাশ = আমধুর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
প্রশ্নের অংশটি অপাদানে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যেমনঃ
বাবাকে বড্ড ভয় পাই,
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে,
গাছ হতে ফলটি পড়ল।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই
'সংস্রব' বানানটি শুদ্ধ।
অর্থঃ সম্পর্ক; সম্বন্ধ; ছোঁয়াচ (নেতাদের সংস্রব)।
প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
শিল্পোদ্যোক্তা
মূর্ছনা
মনঃকষ্ট
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষ্যা, ড. হায়াৎ মামুদ।
সন্ধি:
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ - মিলন।
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।
- সন্ধির মাধ্যমে শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয় না।
• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অনুসর্গ-
- অনুসর্গ হচ্ছে এক ধরনের — শব্দ। যার নিজস্ব অর্থ আছে।
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য - সঞ্চিতা, পদ্মা।
জাতি-বিশেষ্য- গরু।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
আত্মবাচক সর্বনাম - নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি। নির্দেশক সর্বনাম - নিকট, নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।