ব্যাখ্যা
কোনো জিনিস সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ বোঝাতে "কানাসোঁআ" ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং, কানাসোঁআ = কানায় কানায় পরিপূর্ণ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৯০ / ৩৫৪ · ৮,৯০১–৯,০০০ / ৩৫,৭১৩
কোনো জিনিস সম্পূর্ণরূপে পূর্ণ বোঝাতে "কানাসোঁআ" ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং, কানাসোঁআ = কানায় কানায় পরিপূর্ণ।
• দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন:
- ক্ষুধা ও পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা;
- জন ও মানব = জনমানব;
- কালি ও কলম = কালিকলম;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- টীকা ও ভাষ্য = টীকাভাষ্য ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'কাছাঢিলা' বাগ্ধারাটির অর্থ- অসাবধান।
বাক্য গঠন: এমন কাছাঢিলা লোক দিয়ে দারোয়ানের কাজ হবে না।
• অন্যদিকে:
- 'কানকাটা' বাগ্ধারার অর্থ - 'নির্লজ্জ'।
- 'বকধার্মিক' বাগ্ধারার অর্থ - ভণ্ড।
- 'তালকানা' বাগ্ধারার অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
(ক) প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
(খ) দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
(গ) ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।
(ঘ) সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
→ তিলে তৈল হয়।
→ বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
• ঘোষ ব্যঞ্জনগুচ্ছ- জ, ঘ, হ।
------------------
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।
ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
পৃথিবী শব্দের সঠিক প্রতিশব্দ - বসুধা।
এর আরো কয়েকটি প্রতিশব্দ - ধরা, ধরণী, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, অবনি, ক্ষিতি, মহী, অখিল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
• ‘যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন’ এক কথায় বলে - অধিবিন্না।
অন্যদিকে,
- ‘যে নারী দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না’ এক কথায় বলে - অঙ্গনা।
- ‘যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিল’ এক কথায় বলে - অন্যপূর্বা।
- 'যে নারীর হিংসা নেই' এক কথায় প্রকাশ - অনসূয়া।
• নারী সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- ‘যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে’ এক কথায় বলে - বীরপ্রসূ।
- ‘যে নারী বীর’ এক কথায় বলে - বীরাঙ্গনা।
- ‘যে নারী কখনো সূর্যকে দেখে নাই’ এক কথায় বলে - অসূর্যম্পশ্যা ।
- 'যে নারীর হাসি পবিত্র' এক কথায় প্রকাশ - শুচিস্মিতা।
- ‘যে নারীর হাসি সুন্দর’ এর এক কথায় প্রকাশ - সুস্মিতা/ সুহাসিনী।
- ‘যে নারী প্রিয় বাক্য বলে’ এক কথায় বলে - প্রিয়ংবদা।
- ‘যে নারীর নতুন বিয়ে হয়েছে’ এক কথায় বলে - নবোঢ়া।
- ‘যে মেয়ের বিয়ে হয়নি’ এক কথায় বলে - অনূঢ়া।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
ক্রিকেট কোনো উপকরণ বা যন্ত্রের নাম নয়, একটি খেলার নাম। তাই এটি কর্ম কারক।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
ই-কার বা ঈ-কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য-ফলা লেখা হয়।
যেমন- অতি + অন্ত = অত্যন্ত, প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ, ইতি + আদি = ইত্যাদি, মসী + আধার = মস্যাধার, নদী + অম্বু = নদ্যম্বু৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
কনিষ্ঠা নিত্য নারীবাচক শব্দ নয়।
- কনিষ্ঠা হচ্ছে আ প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ।
• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নারীবাচক।
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ যেমন:
- অসতী,
- কুলটা,
- গর্ভবতী,
- সতীন,
- বিধবা,
- বারবানিয়া (অন্যান্য প্রতিশব্দ),
- রজঃস্বলা, ইত্যাদি।
উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাের কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে কোন নতুন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমনঃ
- অপ্রমেয় - পরিমাণ মাপা যায় না যার
- অল্পপ্রাণ - অল্প (হাল্কা) প্রাণ যার
- বান্ধবসহ বর্তমান; বান্ধবদের সঙ্গে = সবান্ধব,
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা ,
- ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
- সমান কর্মী যে = সহকর্মী,
- নীল অম্বর যার = নীলাম্বর।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি অভিধান
বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
অন্যদিকে,
তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ - অতি, অপি, প্রতি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ বাক্য: আলস্যতা তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।
- বাক্যটিতে ‘তা’ প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: আলস্য তাকে পড়াশোনায় পিছিয়ে দিয়েছে।
----------------------------
• ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় ব্যবহারের নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।
এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'তিনটি নদীর মিলন যেখানে' = তেমোহনা।
উল্লেখ্য,
- তেমাথা - তিনটি পথের সংযোগ-স্থল।
- তেমেটে- তিনবার মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে এমন।
- তেফলা- (যে জমিতে) বছরে তিনবার ফসল উৎপন্ন হয় এমন।
- তেভাগা - (উৎপাদিত ফসলের)তিন ভাগের এক ভাগ।
- তেরাত্রি - ১) দুই দিন ও তিন রাত, পরপর তিন রাত। ২) দুইদিন ও তিনরাতব্যাপী উপবাস।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
বিভাবরী, নিশিথিনী শব্দ দুইটি 'রাত্রি/রাত' শব্দের সমার্থক শব্দ।
রাত - রাত্রি, রজনী, নিশি, যামিনী, শর্বরী, বিভাবরী, নিশা, নিশিথিনী, ক্ষণদা, ত্রিযামা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।
৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।
অন্যদিকে,
- জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল চলিতরীতির বৈশিষ্ট্য।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবেনা।
যেমনঃ অর্জ্জন, কর্ম্ম, কার্য্য, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা ইত্যাদি হবে।
• বিদেশি শব্দের বানানে মুর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয়না।
যেমন- পোশাক, মাস্টার।
• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রতয়যুক্ত পদে ষ হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
বহুব্রীহি সমাস নয় - স্বপ্ন।
অন্যদিকে, জলের সঙ্গে বর্তমান = সজল (বহুব্রীহি সমাস)
সুন্দর শ্রী যার = সুশ্রী (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি)
একদিকে গোঁ থাকে যার এমন স্বভাব যার = একগুঁয়ে (প্রত্যায়ান্ত বহুব্রীহি সমাস)
সুত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)।
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ (অ) প্রত্যয় যুক্ত হয়, তার প্রাতিপদিকের অন্ত্যস্বরের উ-কারও ও-কারে পরিণত হয়। ও অ সন্ধিতে 'অব' হয়।
যথা:
- গুরু + ষ্ণ (অ) = গৌরব,
- লঘু + ষ্ণ = লাঘব,
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- মধু + ষ্ণ = মাধব,
- মনু + ষ্ণ = মানব।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা ভাষা ও ভাষা পরিবার:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
- সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয়- ভারতীয় আর্য- প্ৰাকৃত- বাংলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – “খুব ভালাে খবর' ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে’ – এসব বাক্যে খুব এবং বেশ ভাববাচক বিশেষণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
• মধ্য স্বরাগমের অপর নাম - বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• শত্রুঘ্ন = শত্রুকে হত্যা করে যে।- উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
উপপদ তৎপুরুষ সমাস: :
- কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন: অগ্রে গমন করে যে = অগ্রগামী
- এখানে 'গামী'র স্বতন্ত্র প্রয়োগ নেই। অগ্রে গামী বললে চলবে না, ব্যাসবাক্য হবে 'অগ্রে গমন করে যে'।
- এরূপ ধামা ধরে যে = ধামাধরা; ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা ইত্যাদি।
- কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের আগে উপসর্গ ছাড়া অন্য পদ থাকলে তাকে উপপদ বলে।
অথবা, যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে।
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ:
অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা, ইঁদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার, জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর; স্বর্ণকার, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, গণিতজ্ঞ, শাস্ত্রজ্ঞ; গাঁটকাটা, পকেটকাটা; পদস্থ, তটস্থ, গৃহস্থ, দ্বারস্থ, মুখস্থ, প্রকৃতিস্ব, পাত্রস্থ, ছন্নছাড়া, জলদ [জল দেয় যে), দলছাড়া, ঘরছাড়া; পরজীবী, চিরজীবী, বুদ্ধিজীবী, শত্রুঘ্ন [শত্রুকে হত্যা করে যো, শ্রমজীবী; পথহারা, গৃহহারা, বাস্তুহারা, দিশাহারা; চিত্রকর, মধুকর, বাজিকর, জাদুকর, আকাশচারী; সুবিধাভোগী, বেতনভোগী, ভুক্তভোগী, অস্ত্রধারী, ভেকধারী, জটাধারী; পারদর্শী, দুস্থ [দুঃখে থাকে যে), দূরদর্শী; অস্তগামী, ধীরগামী, দ্রুতগামী।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তাকারক।
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তাকারক।
যেমন-
মেয়েরা ফুল তোলে। (কারা তোলে? মেয়েরা- কর্তাকারক)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরন, নবম-দশম শ্রেণি।
Xanthic শব্দের অর্থ হলদেটে বা পীতবর্ণ(বিশেষণ)।
- Warship শব্দের অর্থ রণতরী।
- Virile শব্দের অর্থ কাপুরুষোচিত।
- Monogram শব্দের অর্থ অভিজ্ঞান।
উৎস: বাংলা একাডেমী প্রশাসনিক পরিভাষা।
• 'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সংখ্যাশব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক ও
২. পূরণবাচক।
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক
তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই),
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।
সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন - আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।