বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৮৫ / ৩৫৪ · ৮,৪০১৮,৫০০ / ৩৫,৭১৩

৮,৪০১.
'অষ্টাবক্র' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. বিশৃঙ্খলা
  2. কুটিল বুদ্ধি
  3. অপক্ব
  4. কুৎসিত
ব্যাখ্যা

• 'অষ্টাবক্র' বাগ্‌ধারার অর্থ - কুৎসিত। 

অন্যদিকে, 
• 'আধা খেঁচড়া' অর্থ - বিশৃঙ্খলা। 
• 'ইস্কুপের প্যাচ' অর্থ - কুটিল বুদ্ধি। 
• 'কাঁচা হাত' অর্থ - অপক্ব।

উৎস: 'প্রবাদের উৎসসন্ধান' সমর পাল; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪০২.
'হাতে-কলমে' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. একশেষ দ্বন্দ্ব
  2. সমার্থক দ্বন্দ্ব
  3. সাধারণ দ্বন্দ্ব
  4. অলুক দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা

অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।

যেমন:
- দুধে ও ভাতে = দুধে-ভাতে,
- চোখে ও মুখে = চোখেমুখে,
- হাতে ও কলমে = হাতে-কলমে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৪০৩.
নিচের কোনটি ‘উৎপন্ন’ অর্থে ব্যবহৃত অপাদান কারকের উদাহরণ?
  1. মেঘে বৃষ্টি হয়।
  2. ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
  3. জমি থেকে ফসল পাই।
  4. তিলে তৈল হয়।
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।
দূরীভূত: দেশ থেকে বিপদ চলে গেছে।
উৎপন্ন: তিলে তৈল হয়।
ভীত: সুন্দরবনে বাঘের ভয় আছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮,৪০৪.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
  2. তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
  3. তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
  4. রিতা ঘুমাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত:
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন -
- সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা মসজিদে পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?

অন্যদিকে,
→ ঘটমান অতীত - রিতা ঘুমাচ্ছিল।
→ সাধারণ অতীত - তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।
→ নিত্যবৃত্ত অতীত - স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮,৪০৫.
সঠিক বানান কোনটি?
  1. কৃচ্ছ্বসাধন
  2. ক্রিচ্ছসাধন
  3. কৃচ্ছ্র্যসাদন
  4. কৃচ্ছ্রসাধন
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্‌ + অন। 

অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৪০৬.
"গ্রাম থেকে গেরাম" - এখানে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. অন্ত্যস্বরাগম 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বিপ্রকর্ষ, মধ্যস্বরাগম বা স্বরভক্তি:
মাঝে মাঝে উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- গ্রাম > গেরাম,
- শ্লোক > শোলোক।

-------------------
অন্যদিকে, 
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে। 
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা। 

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন -
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮,৪০৭.
‘সপ্তসপ্ততিতম’ সংখ্যার অঙ্কবাচক রূপ কোনটি?
  1. ক) ৭০
  2. খ) ৭৭
  3. গ) ৭০০
  4. ঘ) ৭৭৭
ব্যাখ্যা

৭৭ সংখ্যাকে বিশ্নেষণ করি। ৭০ + ৭ = ৭৭। সংখ্যাটির এককের ঘরে আছে ৭, ৭-এর ক্রমবাচক রূপ হলো ‘সপ্ত’। তাই প্রথমে বসবে ‘সপ্ত’। দশকের ঘরে আছে ৭। যেহেতু দশকের ঘরে ৭ আছে সেহেতু গণিতের নিয়ম অনুসারে সেটি ৭০ হয়েছে। ৭০-এর ক্রমবাচক রূপ হলো ‘সপ্ততিতম’। সুতরাং ৭৭-এর ক্রমবাচক রূপ হবে ‘সপ্তসপ্ততিতম’।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৮,৪০৮.
'তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।' - বাক্যটি কোন কালের দৃষ্টান্ত?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
  4. পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার।
১. কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতাে।
২. অসম্ভব কল্পনায়: ‘সাতাশ হতাে যদি একশ সাতাশ।
৩. সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালােই হতাে।

অন্যদিকে,
সাধারণ অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সান্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৪০৯.
জাতিবাচক বিশেষ্য নয় কোনটি?
  1. মানুষ
  2. পর্বত
  3. ইংরেজ
  4. জনতা
ব্যাখ্যা

• জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন:
মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিক,
---------------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বুঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন: মিছিল, সমাজ, সভা, জনতা, বহর, দল, সমিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৪১০.
কোনটি ব্যতিহার বহুব্রীহির উদাহরণ?
  1. ক) অজানা
  2. খ) দোতলা
  3. গ) আশীবিষ
  4. ঘ) কানাকানি
ব্যাখ্যা

যে বহুব্রীহি সমাসে দুটি একরূপ বিশেষ্য দিয়ে এক জাতীয় কাজ বোঝায়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমনঃ
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি।
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি
- কোলে কোলে যে মিলন = কোলাকুলি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৮,৪১১.
আজকে নগদ কালকে ধার’ বাক্যের নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ২য়া
  2. অপাদানে ৫মী
  3. কর্তায় ২য়া
  4. করণে ২য়া
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত '-এ', '-য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন,
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে,
- আজকে নগদ কালকে ধার, ইত্যাদি। (অধিকরণে ২য়া)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৪১২.
বাক্যের শেষে ব্যবহৃত অন্ত্যযতি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
  5. ৭টি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
৮,৪১৩.
কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনে পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হয়?
  1. ক) বিষমীভবন
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমনঃ
- সত্য > সইত্য,
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বিষমীভবন (Dissimilation) : দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
• অসমীকরণ (Dissimilation) : একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা » বাংলা রিস্কা ইত্যাদি। অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪১৪.
'বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান বর্তমান কাল
  2.  সাধারণ অতীত কাল
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল
  4. সাধারণ বর্তমান কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল: স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত
বর্তমান কাল বলে। যথা-
- সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
- আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
• স্থায়ী সত্য প্রকাশে: চার আর তিনে সাত হয়।

• ঐতিহাসিক বর্তমান: অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

• কাব্যের ভণিতায়: মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।

• অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

• যদি', 'যখন', 'যেন' প্রভৃতি শব্দের প্রয়োগে অতীত ও ভবিষ্যৎ কাল জ্ঞাপনের জন্য সাধারণ বর্তমান কালের ব্যবহার হয়। যেমন-
- বৃষ্টি যদি আসে, আমি বাড়ি চলে যাব।
- সকলেই যেন সভায় হাজির থাকে।
- বিপদ যখন আসে, তখন এমনি করেই আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৮,৪১৫.
'ব্যাকরণ জানেন যিনি' তাকে এক কথায় কী বলে?
  1. ক) ব্যাকরণবীদ
  2. খ) বৈয়াকরণ
  3. গ) ব্যাকরণীক
  4. ঘ) বৈয়াকরণীক
ব্যাখ্যা
'ব্যাকরণ জানেন যিনি' তাকে এক কথায় বলে = বৈয়াকরণ 

বিবাদ  করে যে = বিবাদমান 
বচনে কুশল = বাগ্মী 
বিদ্যা আছে যার = বিদ্বান 
বেদ সম্বন্ধীয় = বৈদিক 
বেশি কথা বলে যে = বাচাল 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৮,৪১৬.
আঃ, উঃ, ওঃ, বাঃ ইত্যাদি বিস্ময়াদি প্রকাশক অব্যয়ে বিসর্গ(ঃ) হল-
  1. ক) অন্তঃস্থ ধ্বনি
  2. খ) উষ্ম ঘোষধ্বনি
  3. গ) ঘোষ ‘হ’- এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি
  4. ঘ) অঘোষ ‘হ’- এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি
ব্যাখ্যা
আঃ, উঃ, ওঃ, বাঃ ইত্যাদি বিস্ময়াদি প্রকাশক অব্যয়ে বিসর্গ(ঃ) হল অঘোষ ‘হ’- এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি। হ- এর উচ্চারণ ঘোষ, কিন্তু ঃ এর উচ্চারণ অঘোষ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৮,৪১৭.
প্রকৃতি প্রত্যয়ের কোন গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. √বাজ্ + ইয়ে = বাজিয়ে
  2. √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে
  3. √গাই + ইয়ে = গাইয়ে
  4. √লিখ্ + ইয়ে = লিখিয়ে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - √গাই + ইয়ে = গাইয়ে।
• শুদ্ধ- √গা + ইয়ে = গাইয়ে। 

• 'ইয়া/ইয়ে' কৃৎ প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
- √মর্ + ইয়া = মরিয়া। 
- √বল্ + ইয়ে = বলিয়ে। 
- √নাচ্ + ইয়ে = নাচিয়ে। 
- √গা + ইয়ে = গাইয়ে। 
- √লিখ্ + ইয়ে = লিখিয়ে। 
- √বাজ্ + ইয়ে = বাজিয়ে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪১৮.
’শশব্যস্ত’ কোন সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. দ্বিগু কর্মধারয়
  3. উপমিত কর্মধারয়
  4. রূপক কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• ’শশব্যস্ত’  উপমান কর্মধারয় সমাস।

• দ্বিগু কর্মধারয় সমাস:
- যে কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
- যেমন: 
- তিন ফলের সমাহার -ত্রিফলা।
- চার রাস্তার মিলন - চৌরাস্তা।

• উপমান কর্মধারয় সমাস :
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমানের সাথে গুণবাচক শব্দের সমাস হয় সেগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- এখানে যার সাথে তুলনা করা হয় তা উপমান।
- যেমন:
- কাজলের মত কালো - কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত - শশব্যস্ত।

• উপমিত কর্মধারয় সমাস :
যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয় সেগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
- এখানে যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমিত।
- যেমন:
- পুরুষ সিংহের ন্যায় - সিংহপুরুষ।
- আখিঁ পদ্মের ন্যায় - পদ্মআখিঁ।
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় - চন্দ্রমুখ।

• রূপক কর্মধারয় সমাস :
- যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ করা হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু - বিষাদ সিন্ধু।
- মন রূপ মাঝি - মনমাঝি। 

উল্লেখ্য: যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৪১৯.
নিচের কোন শব্দে জিহ্বামূলীয় ধ্বনি রয়েছে?
  1. কাক
  2. লাখ
  3. দাগ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি:
- যেসব ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণের সময় জিহ্বার পেছনের অংশ বা মূল (back of the tongue) কোমল তালুর সাথে স্পর্শ করে, সেগুলোকে জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বা কণ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়।
- বাংলা বর্ণমালার ক-বর্গীয় ধ্বনিগুলো—ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্—মূল জিহ্বামূলীয় ধ্বনি হিসেবে বিবেচিত।
- এই ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আসা বাতাসকে জিহ্বার মূল দিয়ে বাধা দিয়ে নিঃসৃত হয়।
- কাক, লাখ, দাগ, বাঘ, রঙ ইত্যাদি শব্দ জিহ্বামূলীয় ধ্বনির উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৪২০.
নিচের কোনটি বিশেষণ পদ?
  1. বুদ্ধিমান
  2. বুদ্ধিমত্তা
  3. বুদ্ধি
  4. নির্বুদ্ধিতা
ব্যাখ্যা

• বুদ্ধিমান (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।


অন্যদিকে, 
বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধি ও নির্বুদ্ধিতা বিশেষ্য পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৪২১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. একে একে সব দর্শকেরা উপস্থিত হলো।
  2. দীনতা প্রশংসনীয় নয়।
  3. রাতের আকাশে অসংখ্য তারকাবৃন্দের সমাহার।
  4. অনুষ্ঠানে অনেক দর্শকেরা সমাগত হয়েছিল।
ব্যাখ্যা
• 'দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।' বাক্যটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ রূপ হবে- 'দীনতা/দৈন্য প্রশংসনীয় নয়।'

অন্য অপশনের অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধ বাক্য:
• একে একে সব দর্শকেরা উপস্থিত হলো। - একে একে সব দর্শক উপস্থিত হলো।
• রাতের আকাশে অসংখ্য তারকাবৃন্দের সমাহার। - রাতের আকাশে অসংখ্য তারকার সমাহার।
• অনুষ্ঠানে অনেক দর্শকেরা সমাগত হয়েছিল। - অনুষ্ঠানে অনেক দর্শক সমাগত হয়েছিল।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪২২.
"লৌকিক" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. লোক + ষ্ণক
  2. লোক + ঈক
  3. লৌক + ইক
  4. লোক + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- যে তদ্ধিত প্রত্যয় সংস্কৃত বা তৎসম শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- মনু + ষ্ণ = মানব;
- লোক + ষ্ণিক = লৌকিক ইত্যাদি।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
২. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮,৪২৩.
কোনটি চলিত ভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্য?
  1. ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়
  2. তৎসম শব্দবহুল
  3. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
  4. এই ভাষা পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের। 
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪২৪.
'মরতে মরতে' কিসের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. সর্বনাম
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মিলি গুনগুনিয়ে গান করছে।

• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
- বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৪২৫.
"কোথা থেকে এসেছ?" - এখানে 'কোথা থেকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  2. অধিকরণে সপ্তমী
  3. অপাদানে পঞ্চমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা

• অপাদান কারক :
যা থেকে কোনো কিছু উৎপত্তি, বিচ্যুত, জাত, গৃহীত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয়, তাকে বলা হয় অপাদান কারক। বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক বলে।

• অপাদান কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
-  গাছ থেকে পাতা পড়ে । (কোথা থেকে পড়ে? গাছ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- নদী থেকে জল পাই। (কোথা থেকে পাই? নদী থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বিপদ থেকে বাঁচাও। (কী থেকে বাঁচাও? বিপদ থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।
- বাঘকে ভয় পায় না কে? (কী হতে ভয় বের হলো? বাঘ হতে) : অপাদান কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- মনে পড়ে সেই ছোটোবেলায় স্কুল পলায়ন। (কোথা থেকে পলায়ন? স্কুল থেকে) : অপাদান কারকে শূন্য বিভক্তি।
- তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। (কোথা থেকে এসেছেন? চট্টগ্রাম থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি
- বিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছিল। (কীসে থেকে ফেলা হয়েছিল? বিমান থেকে) : অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি।

• "কোথা থেকে এসেছ?" - এ বাক্যে "কোথা থেকে" অপাদানে (কারণ, এখানে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করছে) কারকে পঞ্চমী বিভক্তির উদাহরণ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৮,৪২৬.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ভ্যাবাচ্যাকা
  2. খ) ভেজষ
  3. গ) ভোগ্যপণ্য
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ - ভেজষ
• শুদ্ধ - ভেষজ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃত প্রত্যয় = [ভেষ+√জ+অ]
অর্থ: ওষুধ, রোগ নিরাময়ের গুণবিশিষ্ট গাছগাছড়া।

এছাড়া ভ্রষ্টাচার, ভোগ্যপণ্য, ভ্যাবাচ্যাকা শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪২৭.
'হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?' - এই বাক্যে 'হের' কোন ধাতু?
  1. বিদেশি ধাতু
  2. সংস্কৃত ধাতু
  3. বাংলা ধাতু
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অজ্ঞাতমূল ধাতু: 
- কতগুলো ক্রিয়ামূল বা ধাতু রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন।
- এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে বলা হয় অজ্ঞাতমূল ধাতু।
- যেমন: 'হের' ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে?
- উপরোক্ত বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে আগত তা জানা যায় নি।
- তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু।
------------------- 
• মৌলিক ধাতু:

- যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন:
অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
- তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। 
যেমন:
আঁট, খাট্, চেঁচ্, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪২৮.
কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়?
  1. অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  2. ঘোষ ব্যঞ্জন
  3. মহাপ্রাণ ধ্বনি
  4. অঘোষ ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪২৯.
কোন শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম?
  1. হস্তী
  2. বাবুয়ানা 
  3. বাঁশি
  4. জলধি
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু আনা অর্থ: বাবুর ভাব
- মধুর = অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।
রূঢ়ি শব্দ: হস্তী, বাঁশি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৩০.
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে, নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. বাঙালি
  2. রঙের
  3. গাঙ
  4. পালং
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
• 'গাঙ' বানানটি অশুদ্ধ।

শুদ্ধ বানান: গাং।
• শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) ব্যবহৃত হবে।
যেমন:
গাং, ঢং, পালং, রং, রাং, সং।
- তবে অনুস্বারের সঙ্গে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে।
যেমন:
- বাঙালি, ভাঙা, রঙিন, রঙের।
- বাংলা ও বাংলাদেশ শব্দে অনুস্বার থাকবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম।

৮,৪৩১.
কোন শব্দটির বানান ভুল?
  1. ঔজ্জ্বল্য
  2. বিকিরণ
  3. প্রত্যূদগমন
  4. পুনরুজ্জীবন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, প্রত্যূদগমন বানানটি ভুল।

- সঠিক বানান: প্রত্যুদ্‌গমন (বিশেষ্য)।
- অর্থ: সম্মুখে অগ্রসর হয়ে অভিবাদন।
- ব্যুৎপত্তি: প্রতি + উদ্‌ + √গম্‌ + অন।
- উৎস: সংস্কৃত।

অন্যদিকে,
ঔজ্জ্বল্য (বিশেষ্য), বিকিরণ (বিশেষ্য), পুনরুজ্জীবন (বিশেষ্য) বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৩২.
নিচের কোন শব্দটির বানান অশুদ্ধ?
  1. ক) আয়ত্ত
  2. খ) কিংবদন্তি
  3. গ) দুর্গা
  4. ঘ) সূক্ষ
ব্যাখ্যা
• সূক্ষ শব্দটির বানান অশুদ্ধ। 

• সূক্ষ্ম (বিশেষণ)
- তীব্র; ধারালো; তীক্ষ্ন (সূক্ষ্ম বুদ্ধি)।
- মিহি; সরু।
- স্থূল নয় এমন।
- চিকন (সূক্ষ্ম কন্ঠ)।
- পুঙ্খানুপুঙ্খ (সূক্ষ্ম বিচার)।
- অপ্রশস্ত। 

অন্যদিকে: 
• আয়ত্ত (বিশেষ্য)
- অধিকার; কবল। 
- সামর্থ্য।

• কিংবদন্তি (বিশেষ্য) 
অর্থ:
- জনশ্রুতি; লোকপরস্পরায় শ্রুত ও কথিত কথা। 

• দুর্গা (বিশেষ্য)
অর্থ: 
- বিপত্তারিণী।
- হিন্দু দেবতা শিবের পত্নী; ভগবতী; গৌরী।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৩৩.
কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. বীণা, স্বত্ত্ব
  2. বিপনী, ত্রিনয়ন
  3. তৃন, ভাষন
  4. ক্ষণিক, লাবণ্য
ব্যাখ্যা
উত্তর:
ঘ) ক্ষণিক, লাবণ্য।

ব্যাখ্যা:
প্রদত্ত বানানগুচ্ছগুলোর মধ্যে শুদ্ধ জোড়া হলো "ক্ষণিকা, লাবণ্য"।

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

ক) বীণা, স্বত্ত্ব: "বীণা" শুদ্ধ, কিন্তু "স্বত্ত্ব"-এর শুদ্ধ বানান "স্বত্ব"।
খ) বিপনী, ত্রিনয়ন: "বিপনী" শুদ্ধ নয় (শুদ্ধ: বিপণি), "ত্রিনয়ন"- শুদ্ধ বানান।
গ) তৃন, ভাষন: "তৃন" শুদ্ধ নয় (শুদ্ধ: তৃণ), "ভাষন" শুদ্ধ নয় (শুদ্ধ: ভাষণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৩৪.
'তুষারধবল' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।

যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে,
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত, 
- তুষারের ন্যায় ধবল = তুষারধবল,
- তুষারের ন্যায় শীতল = তুষারশীতল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৮,৪৩৫.
'ছটফটে' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি? 
  1. শান্ত
  2. গম্ভীর
  3. স্থির
  4. কৃশ
ব্যাখ্যা
• 'ছটফটে' শব্দের বিপরীত শব্দ - শান্ত।

অন্যদিকে, 
- 'গম্ভীর' শব্দের বিপরীত শব্দ - চপল / সহাস্য।
- 'স্থির' শব্দের বিপরীত শব্দ - চঞ্চল।
- 'স্থূল' শব্দের বিপরীত শব্দ - কৃশ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৩৬.
কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ?
  1. ক) ইতি + আদি = ইত্যাদি
  2. খ) উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
  3. গ) গাে + পদ = গােষ্পদ
  4. ঘ) সম + সার = সংসার
ব্যাখ্যা

কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। যেমন:
-পর্ + পর = পরস্পর,
-আ + চর্য = আশ্চর্য,
-গাে + পদ = গােষ্পদ,
-বন্ + পতি = বনস্পতি,
-ষট্ + দশ = ষােড়শ,
-বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
-মনস্ + ঈষা = মনীষা,
-এক + দশ = একাদশ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৪৩৭.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. দুঃ + কর = দুষ্কর
  2. গোঃ + পদ = গোষ্পদ
  3. নিঃ + কর = নিষ্কর
  4. ভাঃ + কর = ভাস্কর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: গোঃ + পদ = গোষ্পদ।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: গো + পদ = গোষ্পদ।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।
- 'নিষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + কর।
- 'ভাস্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ভাঃ + কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৩৮.
'তুহিন' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী?
  1. হিম
  2. তৃপ্ত
  3. বরফ
  4. তপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'তুহিন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - তপ্ত

উল্লেখ্য,
'তুহিন' শব্দের অর্থ - বরফ, তুষার, হিম
'উষ্ণ' শব্দের অর্থ - তপ্ত, গরম, ক্রুদ্ধ, প্রখর।

অন্যদিকে,
তৃপ্ত - অতৃপ্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৪৩৯.
'মালী' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মালা
  2. খ) মালিকা
  3. গ) মালিনী
  4. ঘ) মালিনি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মালী (-লিন্‌) [মালি] (বিশেষ্য)
১) মাল্যরচনাকারী; মালাকর।
২) বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি; উদ্যানরক্ষক; উদ্যানপালক।
৩) একটি হিন্দু জাতি।
(বিশেষণ) মালাধারী; মাল্যবিশিষ্ট।
মালিনী (২) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মাল্য+ইন্‌(ইন)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৮,৪৪০.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. আকাশস্থ
  2. আক্রোশ
  3. আকষ্মিক
  4. আকাদেমি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান: আকষ্মিক।

• শুদ্ধ বানান: আকস্মিক (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- হঠাৎ ঘটেছে বা ঘটে এমন;
- আতর্কিত;
- অপ্রত্যাশিত।

• আকাশস্থ, আক্রোশ ও আকাদেমি শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৪১.
নিচের কোনটি সমুদ্রের সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) রত্নাকর
  2. খ) সাগর
  3. গ) জলধি
  4. ঘ) সমুদ্রকান্তা
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রকান্তা শব্দটি সমুদ্রের সমার্থক শব্দ নয়। 

• সমুদ্রের সমার্থক শব্দ: 
- অর্ণব,
- জলধি,
- উদধি,
- পয়োধি,
-পয়োনিধি,
- তোয়ধি,
- পারাবার,
- সাগর,
- সিন্ধু,
- বারিধি,
- বারীশ,
- রত্নাকর,
- ইরাবান, 

• অন্যদিকে, সমুদ্রকান্তার অর্থ নদী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৪২.
বাগ্‌ধারার অর্থ নির্ণয় করুন: 'ধোপদুরস্ত'
  1. তুচ্ছ জ্ঞান করা
  2. বাবুয়ানি
  3. তোষামুদে
  4. সুফল দেওয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ধোপদুরস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ - বাবুয়ানি

অন্যদিকে,
- 'ধামাধরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তোষামুদে।
- 'ধোপে টেকা' বাগ্‌ধারার অর্থ - সুফল দেওয়া।
- 'নকড়া ছকড়া করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - তুচ্ছ জ্ঞান করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৪৩.
নিচের কোনটি অব্যয়বাচক দ্বিরুক্তি?
  1. ডেকে ডেকে
  2. ছম ছম
  3. দিন দিন
  4. গরম গরম
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: হায় হায় করে লাভ কী?
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ধ্বনি ব্যঞ্জনা বোঝাতে: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি - পৌণপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি - পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
• বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি - গরম গরম জিলাপি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও  মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৪৪.
‘বেঁচে থাকার ইচ্ছা’ এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. জিগীষা
  2. জিজীবিষা
  3. বিজিগীষা
  4. জিগমিষা
ব্যাখ্যা

• ‘বেঁচে থাকার ইচ্ছা’ এর এক কথায় প্রকাশ - জিজীবিষা।

অন্যদিকে,
- 'গমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগমিষা।
- 'বিজয় লাভের ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিজিগীষা।
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।

এরূপ আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ-
- 'হনন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিঘাংসা।
- 'নিন্দা করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা ।
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা।
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৪৪৫.
'বস্তা বস্তা সার' শব্দের দ্বিরুক্তিতে কোন অর্থ প্রকাশ পায়?
  1. তীব্রতা
  2. আধিক্য
  3. অনুরূপ
  4. সামান্য
ব্যাখ্যা
• 'বস্তা' শব্দের দ্বিরুক্তিতে 'আধিক্য' অর্থ প্রকাশ পায়।

• দ্বিরুক্ত শব্দ: 
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে,
সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে-

- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, থোকা থোকা জাম; বস্তা বস্তা (সার)। 
- সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে : তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়।
- অনুরূপ বোঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 
- আগ্রহ বোঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৪৬.
ফারসি উপসর্গ নিচের কোনটি?
  1. খাস
  2. লা
  3. সাব
  4. নিম
ব্যাখ্যা

বিদেশি উপসর্গ:
- বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।

অন্যদিকে,
- আরবি উপসর্গ: আম্‌, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
         ২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৪৪৭.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাস?
  1. প্রাণপাখি
  2. শশব্যস্ত
  3. মনমাঝি
  4. সোনামুখ
ব্যাখ্যা
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে একটা বিশেষণ পদ থাকে। যেমন:
- মিশির মতো কালো = মিশকালো।
- শশকের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।
[এ সমাসে উপমেয় পদের উল্লেখ থাকে না।]

অথবা, প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সঙ্গে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান। উপমান ও উপমেয়র একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
যেমন:
- ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ।
[এখানে ভ্রমর উপমান এবং কেশ উপমেয়। কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।]
---------------------------
অন্যদিকে,
• উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয় পদের সমাস হয় তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে দুটো পদই বিশেষ্য হয়। যেমন:
- সোনার মতো মুখ = সোনামুখ
- বাহু লতার ন্যায় = বাহুলতা।

এ সমাসে সাধারণ ধর্মবাচক পদের উল্লেখ থাকে না। অথবা, সাধারণ গুণের উল্লেখ না করে উপমেয় পদের সঙ্গে উপমানের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে (এক্ষেত্রে সাধারণ গুণটিকে অনুমান করে নেওয়া হয়)। এ সমাসে উপমেয় পদটি সাধারণত পূর্বে বসে।
যেমন- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র।
----------------------
• রূপক কর্মধারয় সমাস:
উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপমেয় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- প্রাণরূপ পাখি = প্রাণপাখি।
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।
[এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।]

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৪৮.
গুরুচণ্ডালী দোষে বাক্যের কোন গুণ লোপ পায়?
  1. আসত্তি
  2. যোগ্যতা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. প্রসাদগুণ
ব্যাখ্যা

• গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে। এদোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ ইত্যাদি হলো তৎসম শব্দ। কিন্তু যদি বলা হয় গরুর শকট, মড়াদাহ তাহলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৪৪৯.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) ধরণ
  2. খ) ঠান্ডা
  3. গ) লণ্ঠন
  4. ঘ) ঝরণা
ব্যাখ্যা
ধরন, ঠান্ডা, ঝরনা লন্ঠন অতৎসম শব্দে বলে ন হবে।
 
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
৮,৪৫০.
ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় -
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পাশাপাশি ধ্বনির মিলন কে সন্ধি বলে ।
সন্ধি তিন প্রকার । যথা -
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জনসন্ধি
- বিসর্গসর্গন্ধি

স্বরসন্ধি 
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলন কে স্বরসন্ধি বলে ।
যেমন -
অ / আ + অ / আ = আ ; যেমন - আশা + অতীত = আশাতীত
ই / ঈ+ ই / ঈ = ঈ । যেমন - পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা

ব্যঞ্জনসন্ধি 
স্বরে - ব্যঞ্জনে , ব্যঞ্জনে - স্বরে ও ব্যঞ্জনে - ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে ।
স্বর - ব্যঞ্জন : পরি + চ্ছেদ = পরিচ্ছেদ
ব্যঞ্জন - স্বর : দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
ব্যঞ্জন - ব্যঞ্জন : চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম - দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)
৮,৪৫১.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. দুর্বিষহ বনানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল লেখে।
  3. দরিদ্রকে দয়া কর।
  4. শশিভূষণ কি আসে নাই?
ব্যাখ্যা

 অশুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বনানটি অধিকাংশ ব্যাক্তি ভুল লেখে।
শুদ্ধ বাক্য: দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লেখে।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ বাক্য: ইহার আবশ্যকতা নাই।
শুদ্ধ বাক্য: দরিদ্রকে দয়া কর।
শুদ্ধ বাক্য: শশিভূষণ কি আসে নাই?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৪৫২.
'তোমার দ্বারা কিছু হবে না' বাক্যটিতে কোন কারকের প্রয়োগ লক্ষণীয়?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) অপাদান কারক
  3. গ) অধিকরণ কারক
  4. ঘ) সম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
‘তোমার দ্বারা কিছু হবে না' বাক্যটিতে করণ কারকের প্রয়োগ ঘটেছে।
করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।
অন্যদিকে,
অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই ।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল ।
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- বাবা বাড়িতে আছেন ।
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
৮,৪৫৩.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বইটির রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) রামমোহন রায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। 
- তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)। 
৮,৪৫৪.
'দিব তোমা শ্রদ্ধাভক্তি।' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. সম্প্রদান কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা

- তোমা' (তোমাকে) পদটি এখানে যাকে কিছু দান করা হচ্ছে তাকে বোঝাচ্ছে।
- বাক্যে যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান, অর্চনা, বা সাহায্য করা হয়, সেই পদটি সম্প্রদান কারক হয়।
- এখানে 'শ্রদ্ধাভক্তি' স্বত্ব ত্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি সম্প্রদান কারক।

সম্প্রদান কারক: 

- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলা হয়।
- লক্ষ্যণীয়: বস্তু নয়—ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
- (অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদানকারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:
(ক) চতুর্থী বা "কে" বিভক্তি:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে দিলে সম্প্রদান কারক।)

(খ) সপ্তমী বা "এ" বিভক্তি:
- সৎপাত্রে কন্যা দান কর।
- সমিতিতে চাঁদা দাও।
- "অন্ধজনে দেহ আলো।"

জ্ঞাতব্য:
- নিমিত্তার্থে "কে" বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী (কে) বিভক্তি ধরা হয়।
- উদাহরণ: "বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৮,৪৫৫.
'কুকর্মে বিরত হও।' - বাক্যে 'কুকর্মে' কোন কারক?
  1. অধিকরণ
  2. অপাদান
  3. করণ
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দেরে পরে বসে।

যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।
- কুকর্মে বিরত হও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৪৫৬.
'বারিদ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অনিল
  2. খ) সমীর
  3. গ) মরুৎ
  4. ঘ) ঘন
ব্যাখ্যা
'বারিদ' শব্দের সমার্থক শব্দ: জলদ, মেঘ, নীরদ, ঘন, অভ্র, পয়োদ, পয়োধর ইত্যাদি।

'বায়ু' শব্দের সমার্থক শব্দ: মরুৎ, সমীর, অনিল, বায়, পবন, হাওয়া, বাতাস ইত্যাদি। 

সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন 
৮,৪৫৭.
'প্রভাত' কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• প্রাদি সমাস:
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যথা:
- প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
- পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ,
- অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত,
- প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৪৫৮.
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকে কী বলে?
  1. ক) পারিভাষিক শব্দ
  2. খ) তৎসম শব্দ
  3. গ) তদ্ভব শব্দ
  4. ঘ) বিদেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৪৫৯.
পুরস্কার- শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) পুরঃ + কার
  2. খ) পুরস + কার
  3. গ) পুর্‌ + কার
  4. ঘ) পুর + কার
ব্যাখ্যা

বিসর্গযুক্ত অ কিংবা আ ধ্বনির পরে ক্‌, খ্‌, প্‌, ফ্‌ এর যেকোন একটি থাকলে অ-কার কিংবা আ-কারের পরস্থিত বিসর্গের স্থানে স্‌ হয়। কিন্ত অ-আ ভিন্ন স্বরের পরস্থিত বিসর্গের স্থানে ষ্‌ হয়।
যেমনঃ
- পুরঃ + কার = পুরস্কার,
- তিরঃ + কার = তিরস্কার,
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পরিঃ + কার = পরিষ্কার,
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷

৮,৪৬০.
চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'- বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ অতীত কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. সাধারণ বর্তমান কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কাল:
যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ-
(১) অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি।
(২) প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
(৩) বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।
(৪) 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায় তিনি গতকাল হাটে যাননি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৮,৪৬১.
'স্বাধীন' এর সন্ধি বিচ্ছেদ –
  1. স্ব + অধীন
  2. স্বা + অধীন
  3. স্বা+ ধীন
  4. স্ব + ধীন
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অনু + এষণ = অন্বেষণ,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- স্ব + অধীন = স্বাধীন,
- স্ব+ ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৪৬২.
জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে জেলে কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে প্রথমা
  2. কর্মকারকে প্রথমা
  3. কর্মকারকে সপ্তমী
  4. কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়- চরণটিতে 'জেলে' কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তির উদাহরণ। 

• কর্তৃকারক: 

- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
- (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

 • বিভক্তি:  
- যে সব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি বা চিহ্ন দ্বারা বাক্যের এক পদের সঙ্গে অন্য পদের সম্বন্ধ নির্ধারিত হয়, তাকে বলা বিভক্তি।
- বাংলা শব্দ বিভক্তি ৭ প্রকার-
• বিভক্তির নাম ও বিভক্তি: 
- প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তি: শূণ্য, অ। 
- দ্বিতীয়া বিভক্ত:  কে, রে। 
- তৃতীয়া বিভক্শূ:  দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক। 
- চতুর্থী বিভক্তি: কে, রে। 
- পঞ্চমী বিভক্তি:  হইতে (হতে), থেকে, চেয়ে। 
- ষষ্ঠী বিভক্তি:  র, এর। 
- সপ্তমী বিভক্তি:  এ, য়, তে। 
------------------------
• উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, 
- 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়' বাক্যটিতে কে মাছ ধরে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জেলে'।
- তাই, 'জেলে' কর্তৃকারক। 
- এবং এখানে প্রথমা বা শূণ্য বিভক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  
তা বলা যায়, 'জেলে ভাই ধরে মাছ মেঘের ছায়ায়' বাকে 'জেলে' কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তির উদাহরণ।    

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৬৩.
কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নষ্ট
  2. কৃষক
  3. ঊষা
  4. কষ্ট
ব্যাখ্যা

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮,৪৬৪.
সম্ভাবনা ও কল্পনা প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অতীতকাল ব্যবহৃত হয়?
  1. সাধারণ অতীতকাল
  2. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল
  3. ঘটমান অতীতকাল
  4. পুরাঘটিত অতীতকাল
ব্যাখ্যা

১. সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি বাড়ি গেলেন,
- রফি এসেছিল ইত্যাদি।

২. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে।
যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
কল্পনায়: "সাতাশ হতো যদি এক সাতাশ'।
সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না ।
ইচ্ছার অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

৩. ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

৪. পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাধটিত অতীত কাল বলে। যেমন:
- সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৮,৪৬৫.
Facsimile শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) অনুরূপ
  2. খ) প্রতিরূপ
  3. গ) তুল্য
  4. ঘ) সাম্য
ব্যাখ্যা
সঠিক পারিভাষিক শব্দ- 

Facsimile = প্রতিরূপ 
Similar = অনুরূপ 
Equivalent = তুল্য
Equilibrium = সাম্য 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৮,৪৬৬.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. শশব্যস্ত
  2. কালচক্র
  3. পরাণপাখি
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
- এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে।
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

অন্যদিকে,
• রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করে উপমান ও উপেময় পদের যে সমাস হয় তাকে রূপল কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
-মন রূপ মাঝি= মনমাঝি;
- প্রাণ রূপ পাখি = প্রাণপাখি;
- কাল রূপ চক্র = কালচক্র।
এরূপ, পরাণপাখি রূপক কর্মধারয় সমাসের দৃষ্টান্ত।

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- যেমন: বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি। এখানের 'বহু' কিংবা 'ধান' কোনোটিরই অর্থের প্রাধান্য নেই, যার বহু ধান আছে এমন লোককে বোঝাচ্ছে।
- বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি।

৮,৪৬৭.
শুদ্ধ বানান -
  1. কিংকর্তব্যবীমূঢ়
  2. কিংকর্তব্যবিমুঢ়
  3. কিংকর্তব্যবিমূঢ়
  4. কিংকর্তব্যবিমূড়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এটি বিশেষণ পদ।

শব্দের অর্থ:
- কর্তব্য নিরূপণে অক্ষম।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৮,৪৬৮.
'প্রতীতি' শব্দের অর্থ- 
  1. আগ্রহ 
  2. বিশ্বাস
  3. প্রতীক
  4. সহজাত
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

 • বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রতীতি (বিশেষ্য):
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- উপলব্ধ, জ্ঞান
- বিশ্বাস, প্রত্যয়।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৮,৪৬৯.
‘আমার এ দরখাস্তটা পড়ুন’- এ বাক্যে অনুজ্ঞার কোন ভাব প্রকাশিত হয়?
  1. অনুরোধ
  2. প্রার্থনা
  3. উপদেশ
  4. আদেশ
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- আদেশ : কাজটি করে ফেল। তোমরা এখন যাও।
- উপদেশ : সত্য গোপন করো না।
- অনুরোধ : অঙ্কটা বুঝিয়ে দাও না।
- প্রার্থনা : আমার এ দরখাস্তটা পড়ুন।

• ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:

- আদেশ : সদা সত্য বলবে।
- সম্ভাবনায় : চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
- বিধান অর্থে : রোগ হলে ওষুধ খাবে।
- অনুরোধে : কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৭০.
অর্থমূলকভাবে শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণীবিভাগ সম্ভব। যেমন : শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণীবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি।
যেমন :
. উৎসমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) তদ্ভব, (খ) তৎসম, (গ) দেশি ও (ঘ বিদেশি।

. গঠনমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) মৌলিক ও (খ) সাধিত।

. অর্থমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) যৌগিক, (খ) রূঢ় বা রূঢ়ি এবং (গ) যােগরূঢ়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮,৪৭১.
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তায় কোন বিভক্তি হয়?
  1. কর্তায় প্রথমা
  2. কর্তায় তৃতীয়া
  3. কর্তায় পঞ্চমী
  4. কর্তায় সপ্তমী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে রূপান্তরের নিয়ম:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে- কর্তায় তৃতীয়া, কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

- জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

উদাহরণ:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

• কর্তৃবাচ্য: মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

[লক্ষণীয়: কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৭২.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) সুকুমার সেন
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৪৭৩.
পরাগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1.  পক্ব > পক্ক
  2.  সত্য > সচ্চ
  3. তৎ + হিত  > তদ্ধিত
  4. মারি > মাইর
ব্যাখ্যা

• পরাগত সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
তৎ + হিত  > তদ্ধিত।

অন্যদিকে:
------------------
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
-  পক্ব > পক্ক।

• অন্যোন্য সমীভবন:
যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরে উচ্চারিত হওয়া 'ই/উ' আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
চারি > চাইর,
মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮,৪৭৪.
'ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য' কোন প্রকার তৎপুরুষ সমাস?
  1. ক) দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) উপপদ তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য; তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

• তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, তে ইত্যাদি) লােপ পায়, তাকে বলা হয় তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস।
যেমন-
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
- শ্রম দ্বারা লব্ধ = শ্রমলব্ধ,
- বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত = বস্ত্রাচ্ছাদিত,
- লাঠি দ্বারা খেলা = লাঠিখেলা,
- ইন্দ্রিয় দ্বারা গ্রাহ্য = ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য,
- দৃষ্টি দ্বারা হীন = দৃষ্টিহীন,
- বিনয় দ্বারা অবনত = বিনয়াবনত,
- বাগ দ্বারা দত্তা = বাগদত্তা,
- মন দ্বারা গড়া = মনগড়া,
- শােক দ্বারা আর্ত = শােকার্ত, প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮,৪৭৫.
'প্রত্যেক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি
  1. প্র+এক
  2. প্রতা+এক
  3. প্রতি+এক
  4. প্রতি+ক
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• সন্ধি তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি ৷

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
মহা+ঋষি = মহর্ষি।
শীত+ঋত = শীতার্ত।
জন+এক = জনৈক।
বন+ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৮,৪৭৬.
'কলেবর' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. অধিপতি
  2. দেবতা
  3. দেহ
  4. দাস
ব্যাখ্যা
'দেহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অঙ্গ, কায়া, কলেবর, গা, গাত্র, বন্ধু, গতর, কন্ধ, অঙ্গক, দেহযষ্টি, দেহপিঞ্জর, তনু, শাঁর।

অন্যদিকে,
- 'দেবতা' শব্দের সমার্থক শব্দ - সুর, দেব, ত্রিদশ, অমর, অজর, ঈশ্বর, অধিপতি
- 'দাস' শব্দের সমার্থক শব্দ - ভৃত্য, চাকর, ক্রীতদাস, অনুগত, আজ্ঞাবহ, অধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৭৭.
”জলচর” কোন প্রকার সমাস?
  1. উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. উপমান কর্মধারয় সমাস
  4. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন
- জলে চরে যা = জলচর, 
- জল দেয় যে = জলদ, 
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।
- এরূপ-গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালে সংস্করণ)।

৮,৪৭৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. প্রেষণ
  2. কটূক্তি
  3. মহেন্দ্র
  4. আশাতীত
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর অন্যান্য।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধি যোগে গঠিত শব্দ গলো:
- কটু + উক্তি = কটূক্তি;
- মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র;
- আশা + অতীত = আশাতীত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৭৯.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎ-প্রত্যয়?
  1. √শ্রম্‌ + ক্তি = শ্রান্তি
  2. √বুধ্‌ + ক্তি = বুদ্ধি
  3. √বচ্‌ + ক্তি = উক্তি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দঃ 
ক) ক্তি - প্রত্যয় যোগ করলে কোন কোন ধাতুর অন্ত ব্যঞ্জনের লোপ হয়।
যেমন - √মন্‌ + ক্তি = মতি; √রম্‌ + ক্তি = রতি।

খ) কোনো কোনো ধাতুর উপধা অ-কারের বৃদ্ধি হয়, অর্থ্যাৎ অ-কার হয় না।
যেমন - √শ্রম্‌ + ক্তি = শ্রান্তি; √শম্‌ + ক্তি = শান্তি।

গ) 'চ' এবং 'জ' এর স্থলে 'ক' হয়।
যেমন - √বচ্‌ + ক্তি = উক্তি; √মুচ্‌ + ক্তি = মুক্তি

ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ - 
উদাহরণঃ √গৈ + ক্তি = গীতি; √সিধ্‌ + ক্তি = সিদ্ধি
√বুধ্‌ + ক্তি = বুদ্ধি; √শক্‌ + ক্তি = শক্তি

উৎসঃ নবম - দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই।
৮,৪৮০.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. চাবি 
  2. চশমা
  3. চাহিদা 
  4. চাকু 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চশমা' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।


• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায, রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ, বান্দা, শাদি আমদানি, সবজি, রসিদ।

অন্যদিকে, 
• 'চাবি' 'চাকু' পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।   
• 'চাহিদা' বাংলা ভাষার শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৮,৪৮১.
‘বাচ্য’ বিষয়টি আলোচিত হয়—
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. অর্থতত্ত্বে
  4. রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮,৪৮২.
নিচের কোনটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ?
  1. ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
  2. মাথার উপরে নীল আকাশ।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
ব্যাখ্যা

• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৮,৪৮৩.
'খাসখবর' শব্দে ব্যবহৃত 'খাস' -
  1. দেশি উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. বাংলা উপসর্গ
  4. সংস্কৃত উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'খাসখবর' শব্দে ব্যবহৃত 'খাস' - বিদেশি উপসর্গ
- এটি আরবি উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি – এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত রয়েছে।
- এর কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়।
- এ সঙ্গে কতগুলো বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে।
- দীর্ঘকাল ব্যবহারে এগুলো বাংলা ভাষায় বেমালুম মিশে গিয়েছে।
- বেমালুম শব্দটিতে 'মালুম' আরবি শব্দ আর 'বে' ফারসি উপসর্গ।

• আরবি উপসর্গ ৪টি। যথা:
- আম্‌: সাধারণ অর্থে - আমদরবার, আমমোক্তার।
- খাস: বিশেষ অর্থে - খাসমহল, খাসখবর
- লা: না অর্থে - লাজওয়াব, লাখেরাজ।
- গর্‌: অভাব অর্থে - গরমিল, গররাজি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৮৪.
যে ধাতু বা শব্দের শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয় তার নাম কি?
  1. কারক
  2. প্রকৃতি
  3. বিভক্তি
  4. যতি
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতি:
কোনো মৌলিক শব্দের যে অংশকে আর কোনোভাবেই বিভক্ত বা বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে প্রকৃতি বলে।
কোনো পদ বা শব্দ থেকে যদি প্রত্যয় ও বিভক্তি সরিয়ে নেয়া যায়, তাহলে যে অংশ পাওয়া যায়, তাকেও প্রকৃতি বলে।
প্রকৃতি দুধরনের। যথা:
১. সংজ্ঞার্থ প্রকৃতি বা নামপ্রকৃতি বা প্রাতিপদিক। উদাহরণ: জল, মুখ, পা ইত্যাদি।
২. ধাতু বা ধাতুপ্রকৃতি। উদাহরণ: ✓ কর্, ধর্, খা ইত্যাদি।

অন্যভাবে,
• ধাতু সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
৮,৪৮৫.
'মানুষ' - এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লগ্নক কোনটি?
  1. তা
  2. টুকু
  3. খানা
  4. জন
ব্যাখ্যা
- জন:
• শুধু মানুষের বেলায় - 'জন' নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন ৷

• সংখ্যার সঙ্গেও -জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন:
একজন রাজা, দুজন ডাক্তার ইত্যাদি।

• অধিক সংখ্যার বেলায় ‘জন' নির্দেশকটি সংখ্যা পরে আলাদা শব্দের মতো বসে।
যেমন:
পাঁচ জন, পঁচিশ জন, ৪৫ জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৮,৪৮৬.
'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ণ
  2. ক্ + ষ্‌ + ন = ক্ষ্ণ
  3. ক্ + ষ্‌ + ণ = ক্ষ্ণ
  4. হ্‌ + ম্‌ + ন = ক্ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'তীক্ষ্ণ' শব্দের 'ক্ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি 'ক্ + ষ্‌ + ন'  বর্ণ যোগে গঠিত। 

-----------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৮,৪৮৭.
দ্বিতীয় লোকটিকে ডেকে আনো। নিম্নরেখ শব্দটি হলো-
  1. ক) ক্রমবাচক সংখ্যা
  2. খ) অঙ্ক বা সংখ্যা বাচক
  3. গ) পূরণবাচক
  4. ঘ) তারিখবাচক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় লোকটিকে ডেকে আনো। এখানে 'দ্বিতীয়' হলো 'পূরণবাচক সংখ্যা'

যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বুঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
সংখ্যাশব্দ দুই রকমের। যথা:
১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ, ও
২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

১. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলোকে ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ বলে। যেমন- ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট) ইত্যাদি।

২. পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ দিয়ে কোন সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। যেমন- ‘এক’ সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ‘প্রথম’, ‘প্রথমা’, ‘পহেলা’ ইত্যাদি। পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন - আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১- সংস্করণ। 
৮,৪৮৮.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. লে + অন = লবণ
  2. শে + অন = শয়ন
  3. ভো + উক = ভাবুক
  4. গোঃ + এষণা = গবেষণা
ব্যাখ্যা
• শে + অন = শয়ন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

সূত্র:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- ভৌ + উক = ভাবুক
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৮,৪৮৯.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. খাস
  2. পরি
  3. সহ
  4. অনু
ব্যাখ্যা

- প্রদত্ত অপশনগুলোতে অনু ও পরি সংস্কৃত উপসর্গ।
- খাস একটি আরবি উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি। অপরদিকে খাস আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮,৪৯০.
‘আসিয়া’ - এই ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ কী হবে?
  1. আসতে
  2. আসুক
  3. এসে
  4. আসলো
ব্যাখ্যা

• ‘আসিয়া’  ক্রিয়াপদটির চলিত রূপ - এসে।

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮,৪৯১.
'জুডো' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) চীনা ভাষা
  2. খ) ফরাসি ভাষা
  3. গ) তামিল ভাষা
  4. ঘ) জাপানি ভাষা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে -
• 'জুডো'- জাপানি শব্দ।

'জুডো' শব্দের অর্থ- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।

তাছাড়া, 
'জুজুতসু' জাপানি ভাষার শব্দ; যার অর্থ:
⇒ খালি হাতে আকষ্মিক আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রতিপক্ষের শক্তি ও ওজন ব্যবহার করার জাপানি কসরত বা জুডো।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৯২.
ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. নির্ধারণ
  2. বিজ্ঞান
  3. বেকার
  4. দুর্গম
ব্যাখ্যা
• ফারসি ‘বে’ উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ-  বেকার।

অন্যদিকে,
‘নির’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - নির্ধারণ।
‘বি’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - বিজ্ঞান।
‘দুর’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - দুর্গম।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 
 
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
 
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
 
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮,৪৯৩.
“আনন্দাশ্রু” যে সমাসের উদাহরণ –
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) দ্বিগু
  3. গ) নিত্য
  4. ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম,
- কাঁচা অথচ মিঠা= কাঁচামিঠা।
তেমনিভাবে,
- আনন্দের যে অশ্রু = আনন্দাশ্রু।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৮,৪৯৪.
‘খাতুন’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
‘খাতুন’ শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা থেকে আগত।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তুর্কি শব্দ: উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি, কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তোপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, মুচলেখা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮,৪৯৫.
নিচের কোনটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক্ষণস্থায়ী
  2. হাতেখড়ি
  3. নরসিংহ
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ,
- গণ নিয়ন্ত্রিত তন্ত্র = গণতন্ত্র ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে:
- ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী, এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি, মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস।
- নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ, উপমিত কর্মধারয় সমাস।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৪৯৬.
‘মাটি খাওয়া’ বাগধারা অর্থ কী?
  1. বিস্বাদ কোনো কিছু খাওয়া
  2. অপমানিত হওয়া
  3. বোকার মতো কাজ করা
  4. জিহ্বায় কোন স্বাদ না থাকা
ব্যাখ্যা
বোকার মতো কাজ করা অর্থে ‘মাটি খাওয়া’ বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর/ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৮,৪৯৭.
'গম্ভীর' এর বিপরীত শব্দ -
  1. বিমর্ষ
  2. চঞ্চল
  3. নিবিড়
  4. জড়
ব্যাখ্যা

• 'গম্ভীর' এর বিপরীত শব্দ - চঞ্চল।

• 'গম্ভীর' শব্দের অর্থ- গভীর, নিবিড়; গুরুতর; নিরানন্দ; বিমর্ষ।
• 'চপল' শব্দের অর্থ- চঞ্চল; প্রগল্ভ‌। ক্ষণস্থায়ী।

অন্যদিকে,
- চেতন - জড়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

৮,৪৯৮.
'অ' - ধ্বনির বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ হয় কোন শব্দটিতে?
  1. অতুল
  2. অতি
  3. অধীর
  4. অটল
ব্যাখ্যা

• শব্দের অ-ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ পাওয়া যায়৷
১. সংবৃত বা ও-ধ্বনির উচ্চারণ৷
যেমন: 
- অধীর (ওধীর), অতুল (ওতুল), অতি ওত),  মন (মোন) ইত্যাদি৷

২. বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ৷
যেমন:
- অটল, অমল, অমানিশা, অনেক, কত ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)৷

৮,৪৯৯.
'এক' সেকেন্ড থামতে হয় কোন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে?
  1. কমা চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. সেমিকোলন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
•  কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
•  হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮,৫০০.
'অত্যুক্তি' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অতি + উক্তি
  2. অতি + ঊক্তি
  3. অতি + উক্ত
  4. অত্যন্ত + উক্তি
ব্যাখ্যা
• ই-কার বা ঈ-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য কোনো স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়, য-ফলা পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন: 
- ইতি + অন্ত = অত্যন্ত ,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি,
- যদি + অপি = যদ্যপি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।