ব্যাখ্যা
উল্লেখ্য,
- 'ঢ্যাঙা' শব্দের অর্থ - বেখাপ্পা ধরনের লম্বা।
অন্যদিকে,
- 'ডাগর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - ছোট।
- 'ঢোসা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - হাল্কা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৭৪ / ৩৫৪ · ৭,৩০১–৭,৪০০ / ৩৫,৭১৩
• বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।
৩. সামান্যতা বোঝাতে: উড়ু উড়ু ভাব; কালো কালো চেহারা।
উল্লেখ্য,
পদের দ্বিরুক্তি
⇒ দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে। দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল। মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।
⇒ দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২ টি।
যথা-
- কেত্তম ও
- শতম।
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগোষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত/তৎসম ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
• যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
• যথা- যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।
• এখানে আশ্রিত বাক্য 'যে পরিশ্রম করে' এবং প্রধান খণ্ডবাক্য 'সে-ই সুখ লাভ করে।'
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
- আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ বানান - মূহুর্মুহু।
- শুদ্ধ বানান - মুহুর্মুহু।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- বারবার, ঘনঘন।
অন্যদিকে,
- ভাগীরথী,
- শিরশ্ছেদ,
- প্রণয়ন।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- অশুদ্ধ শব্দ জোড়টি হলো মরুদ্যান, আয়ত্ব।
- শব্দ জোড়টির শুদ্ধরূপ হচ্ছে মরূদ্যান, আয়ত্ত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।
• অশুদ্ধ বানান - সূচগ্রমোদিনী।
এর শুদ্ধ বানান - সূচ্যগ্রমোদিনী।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- সুচের ডগায় ধরে এমন পরিমাণ ভূমি,
- সামান্য পরিমাণ জমি।
অন্যদিকে,
- অনূর্ধ্ব,
- নিক্বণ,
- মাতৃষ্বসা।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
‘গণিত খুব কঠিন’-বাক্যটি ভুল। এর শুদ্ধরূপ-‘গণিত খুব জটিল’ ।
অন্যদিকে-
‘বানান ভুল দোষণীয়’ বাক্যটি ভুল। সঠিক রূপ - বানান ভুল দূষণীয়।
‘বিধি লঙ্ঘন হয়েছে’ বাক্যটি ভুল। সঠিক রূপ - বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎসঃ ভাষা শিক্ষা-হায়াৎ মামুদ।
• গরল-বিষাক্ত সমার্থক শব্দ।
অন্যদিকে,
'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিষাদ।
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'যে নারী জীবনে একমাত্র সন্তান প্রসব করেছে'- এর বাক্য সংকোচন- কাকবন্ধ্যা।
-------------------
অন্যদিকে,
- যে পুরুষ বিয়ে করেছে— কৃতদার ।
- যে মেয়ের বিয়ে হয়নি— অনূড়া।
- যে নারীর স্বামীও নেই সন্তানও নেই— অবীরা।
-------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন-
যে রমণীর হাসি পবিত্র — শুচিস্মিতা।
যে রমণীর হাসি সুন্দর — সুহাসিনী।
যে গাছ অন্য গাছকে আঘাত করে বাঁচে— পরগাছা।
যে ভবিষ্যৎ চিন্তা করে না বা দেখে না— অপরিণামদর্শী।
যে সকল অত্যাচারই সহ্য করে— সর্বংসহা।
যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে— বীরপ্রসূ।
যে নারীর কোনো সন্তান নেই— বন্ধ্যা।
যে নারী জীবনে একমাত্র সন্তান প্রসব করেছে— কাকবন্ধ্যা।
যিনি বহুগুণ দানে পটু— বাগ্মী।
যে অঘটন ঘটাতে পটু— অঘটনঘটনপটিয়সী।
যুবতী জায়া যার— যুবজানি।
যার যশ আছে— যশস্বী।
যিনি যুদ্ধে স্থির থাকেন— যুধিষ্ঠির।
যিনি কষ্ট সহ্য করতে পারেন— কষ্টসহিষ্ণু।
যিনি প্রথমে পথ দেখান— পথিকৃৎ।
যে বুকে হেঁটে চলে— সরীসৃপ।
যে সব হারিয়েছে— সর্বহারা।
যে নারীর হিংসা নেই— অনসূয়া।
যে নারীর স্বামী বর্তমান— সধবা।
যে সম্পত্তি স্থানান্তর করা যায় না— স্থাবর।
যার সর্বস্ব খোয়া গেছে— সর্বস্বান্ত।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'প্রস্থিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রবিষ্ট।
অন্যদিকে,
'নিকৃষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রকৃষ্ট।
'সন্নিকৃষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - বিপ্রকৃষ্ট।
'সংশ্লিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - বিশ্লিষ্ট।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উষ্মধ্বনি:
"শ, ষ, স, হ " এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
• এসব ধ্বনিগুলোর মধ্যে,
- শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ,
- আর — 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
মৌলিক স্বরবর্ণ:
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি।
- এগুলো হলো : ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
- এই ৭টির মধ্যে ‘অ্যা’ বাংলা বর্ণমালায় নেই। সুতরাং বর্ণের কথা বললে ‘অ্যা’ বাদ যাবে।
অর্থাৎ মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি হলেও মৌলিক স্বরবর্ণ ৬ টি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।
অন্যদিকে,
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু ইত্যাদি।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
• 'চারুকলা' সংস্কৃত শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- চিত্রাঙ্কনাদির সুকুমার শিল্প,
- ললিতকলা, fine arts।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• স্নাতক রূঢ়ি শব্দ।
- মূল অর্থ: “যিনি স্নান করেছেন।”
- রূঢ়ি অর্থ (প্রচলিত অর্থ): “যিনি নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যায় অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন” অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
-------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।। উদাহরণ-
- প্রভাত = প্রকৃষ্টভাবে আলোকিত (মূল অর্থ) সকালবেলা (পরিবর্তিত অর্থ)।
- সন্দেশ = সংবাদ (মূল অর্থ) মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন = চকচকে (মূল অর্থ) সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি = জেঠার ভাব (মূল অর্থ) চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
এরূপ আরও শব্দ হলো- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ),
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ),
- অর্পণ (র্ + প্ + অ+ ণ),
- লক্ষণ (ক্+অ+ণ)।
এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• 'ঘাত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রত্যাঘাত।
উল্লেখ্য,
'ঘাত' শব্দের অর্থ - চোট, আঘাত, হত্যা, কোপ, ঘা, ক্ষত।
'প্রতিঘাত' শব্দের অর্থ - আঘাতের বদলে আঘাত, প্রত্যাঘাত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সংস্কৃত উপসর্গ ২০ টি।
যথা-
প্র, প্ররা, অপ, সম্, নি, অব, অনু, নির্, দুর্, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি।
যথা-
অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
• সংস্কৃত ও বাংলা উপসর্গের মিল আছে ৪ টি। সেগুলো হলো- বি, নি, সু, আ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
প্রমিত বানান- ইতঃপূর্বে।
অর্থ- এর আগে।
অন্যদিকে,
• 'উন্মোচণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'উন্মোচন'।
• 'ভাগীরথি' এর শুদ্ধ রূপ- 'ভাগীরথী '।
• 'বিভূতী' এর শুদ্ধ রূপ- 'বিভূতি'।
• 'ইতিমধ্য' এর শুদ্ধ রূপ- 'ইতিমধ্যে/ইতোমধ্যে'।
• 'প্রনয়ণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'প্রণয়ন'।
• 'সংষ্করণ' এর শুদ্ধ রূপ- 'সংস্করণ'।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চারণস্থান অনুসারে স্পর্শধ্বনির পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। মূলত কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত ও ঠোঁট - এই পাঁচটি উচ্চারণস্থানের জন্য স্পর্শধ্বনি গুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এই বিভাগগুলোকে বর্গ বলে। প্রথম ধ্বনির নাম অনুসারে বর্গের নাম নির্দেশ করা হয়।
মূর্ধন্যধ্বনি:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।
জিহ্বামূলীয় ধ্বনি:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
তালব্যধ্বনি:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ।
দন্ত্যধ্বনি:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
ওষ্ঠ্যধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• 'বাগিচা' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- ছোটো বাগান;
- উপবন।
কিছু ফারসি শব্দ:
- আসমান,
- কশিদা,
- কয়েদি,
- কাগজ,
- কাজি,
- কারিগর,
- খোয়াব,
- চশমা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- "সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে।
শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।
বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সাধারণত ক্রিয়ার স্থান, কাল ,ভাব বোঝাতে -এ, -তে, -য়, -য়ে, ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
কখনো কখনো বাক্যের সঙ্গেও এসব বিভক্তি বসে।
যেসব শব্দের শেষে কারচিহ্ন নেই, সেসব শব্দের সঙ্গে -'এ' বা 'এর' বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন -
- এ বিভক্তি: সকালে, দিনাজপুরে, ই-মেইলে, তিলে ইত্যাদি।
- এর বিভক্তি: বলের, শব্দের, নজরুলের, সাতাশের ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
অরবিন্দ অর্থ পঙ্কজ, রাজিব, উৎপল, কমল, কুমুদ, শতদল, সরোজ ইত্যাদি।
নীপ- কদম, সিতকর- সূর্য, গুবাক – সুপারিগাছ।
রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন পাঠ- মোহসীনা নাজিলা।
• 'যা আহুত হয় নি' - এর এক কথায় প্রকাশ = অনাহুত।
------------------------
অন্যদিকে,
- যা আঘাত পায়নি - অনাহত।
- যা বলা হয়নি - অনুক্ত।
---------------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- যা পূর্বে শোনা যায় নি — অশ্রুতপূর্ব।
- যা পূর্বে দেখা যায় নি — অদৃষ্টপূর্ব।
- যা বলা হয় নি — অনুক্ত।
- যা বলার যোগ্য নয় — অকথ্য।
- যার অন্য উপায় নেই — অনন্যোপায়।
- যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে — প্রত্যুৎপন্নমতি।
- যার বংশ পরিচয় এবং স্বভাব কেউই জানে না — অজ্ঞাতকুলশীল।
- যার সর্বস্ব হারিয়ে গেছে — সর্বহারা, হতসর্বস্ব।
- যিনি বহুভূতা দানে পটু — বাগ্মী।
- যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে — বীরপ্রসূ
- যে নারীর সন্তান বাঁচে না — মৃতবৎসা।
- যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ — শাপদসংকুল
- যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক (বা বিরোধবাদ) নেই — অবিসংবাদিত।
- যা পূর্বে চিন্তা করা যায় নি — অচিন্তিতপূর্ব।
- যা গমন করে না — নগ।
- যার স্পৃহা দূর হয়েছে — বীতস্পৃহ।
- যে রমণীর হাসি পবিত্র — শুচিস্মিতা।
- যে রমণীর হাসি সুন্দর — সুহাসিনী।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।