বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৭২ / ৩৫৪ · ৭,১০১৭,২০০ / ৩৫,৭১৩

৭,১০১.
শুদ্ধ বানানের শব্দগুচ্ছ সনাক্ত করুন-
  1. ভবিষ্যত, ভৌগলিক, যক্ষ্মা
  2. যশলাভ, সদ্যোজাত, সংবর্ধনা
  3. স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক
  4. ঐক্যতান, কেবলমাত্র, উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: 
গ) স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক।

অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• ভবিষ্যৎ, ভৌগোলিক, যক্ষ্মা
যশোলাভ, সদ্যোজাত, সংবর্ধনা।
• স্বায়ত্তশাসন, আভ্যন্তর, জন্মবার্ষিক।
ঐকতান, কেবল, উপরিউক্ত

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১০২.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. লতা
  2. গােলাপ
  3. চলন্ত
  4. লাল
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১০৩.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ? 
  1. দুরবীন 
  2. উৎকলিত 
  3. উন্মিলণ
  4. সায়ত্ত্বশাসন 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'উৎকলিত'  বানানটি সঠিক। 
- অর্থ: ১) উদ্ধৃত; গৃহীত। ২) উদ্বিগ্ন। ৩) তরঙ্গিত।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: দুরবীন।
- শুদ্ধ: দুরবিন। 

- অশুদ্ধ: উন্মিলণ।
- শুদ্ধ: উন্মীলন।

- অশুদ্ধ: সায়ত্ত্বশাসন।
- শুদ্ধ: স্বায়ত্তশাসন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৭,১০৪.
কোনটি ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপকূল
  2. উপশহর
  3. আরক্তিম
  4. অনুধাবন
ব্যাখ্যা
• 'ঈষৎ (আ)' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- আনত = ঈষৎ নত,
- আরক্তিম = ঈষৎ রক্তিম।
----------------------------- 
• অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে: রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

• সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

অন্যদিকে,
• সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

• পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে: 
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১০৫.
জিজ্ঞাসিব জনে জনে। - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলো কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণে ৭মী
  2. কর্মে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. কর্তায় ৭মী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: পুলিশ ডাক।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭,১০৬.
কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়, জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অন্যদিকে,
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১০৭.
সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. উদ্ধৃতিচিহ্ন
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. ড্যাশচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবোধক যতিচিহ্ন (?): 
• বাক্যের মধ্যে সোজাসুজি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হলে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
-তোমার নাম কী?
- তুমি সেখানে যাবে?

সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে।
যেমন:
- এটা তোমার বই?
- ঠিক তো?
- তিনি একা আসেননি, সঙ্গে তাঁর স্ত্রী (?) এসেছিলেন। [বাক্যটিতে অনিশ্চয়তার ভাব। স্ত্রী না হয়ে আত্মীয়া/বান্ধবীও হতে পারেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১০৮.
‘খাতুন’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
• ‘খাতুন’ শব্দটি 'তুর্কি' ভাষা থেকে আগত।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অন্যান্য তুর্কি শব্দ: উজবুক, কাঁচি, কাবু, কুর্নিশ, কুলি, কোর্মা, খাতুন, চকমক, চাকু, তালাশ, তোপ, বন্দুক, বাবুর্চি, বারুদ, বাহাদুর, বেগম, মুচলেখা, লাশ, সওগাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১০৯.
নিজের কোনো অর্থ নেই -
  1. ক) কারক
  2. খ) বাক্য
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) বাগধারা
ব্যাখ্যা
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজনা = অ + জানা
- অভিযোগ = অভি + যোগ

- উপসর্গের নিজের কোনো অর্থ নেই।
- কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক তৈরিতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এজন্য বলা হয় - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১১০.
‘আশ্চর্য’ শব্দটি কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১১১.
কোন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধিতে গঠিত?
  1. রুপালি
  2. কুড়িক
  3. উচ্চারণ
  4. মায়ের
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ,
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ: রুপা + আলি = রুপালি, কুড়ি + এক = কুড়িক, মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৭,১১২.
আকুঞ্চন : প্রসারণ :: পাশ্চাত্য : ? 
  1. প্রত্যর্পণ
  2. প্রত্যয়ন
  3. প্রাচ্য
  4. পদার্পন
ব্যাখ্যা
'আকুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দার্থ -প্রসারণ
'পাশ্চাত্য' এর বিপরীত শব্দার্থ - প্রাচ্য 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ
৭,১১৩.
বাংলা ব্যাকরণের কোন আলোচ্য বিষয়কে বাগর্থতত্ত্ব বলে?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭,১১৪.
নিম্নের কোন শব্দ জোড়টি সমার্থক ?
  1. ক) তুরঙ্গ = পিঙ্গচক্ষু
  2. খ) মূঢ় = মুর্ছিত
  3. গ) পিঙ্গল = বৈশ্বানর
  4. ঘ) অবয়ব = অলয়
ব্যাখ্যা
পিঙ্গল, বৈশ্বানর 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- তুরঙ্গ 'ঘোড়া' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- পিঙ্গচক্ষু 'কুমির' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- মূঢ় 'অজ্ঞ' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- মুর্ছিত 'অচেতন' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- অলয় 'অক্ষয়' শব্দের সমার্থক শব্দ। 
- অবয়ব 'অঙ্গ/দেহ' শব্দের সমার্থক শব্দ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭,১১৫.
‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যে ‘মেঘে’ কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্মকারক
  3. অপাদান কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

- 'নীলু ফুল দিয়ে ঘর সাজায়।' - নীলু কী দিয়ে ঘর সাজায়? ফুল দিয়ে সুতরাং ‘ফুল’ করণ কারক।
- 'কাঠুরে কুড়াল দ্বারা গাছ কাটে।' - কাঠুরে কী দ্বারা গাছ কাটে? কুড়াল দ্বারা। কুড়াল’ করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার -
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব ‘আকাশ মেঘে ঢাকা’- বাক্যটিকে কার দ্বারা ঢাকা জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় 'মেঘে’। তাই ‘মেঘে’ করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১১৬.
নিচের কোনটি দিয়ে ‘দায়িত্ব নেওয়া’ বুঝায়?
  1. পথ ধরা
  2. মনে ধরা
  3. গোঁ ধরা
  4. ম্যাও ধরা
ব্যাখ্যা

• 'ম্যাও ধরা' বাগ্‌ধারাটি দিয়ে ‘দায়িত্ব নেওয়া’ বুঝায়।

• ‘ধরা’ সম্পর্কিত বাগ্‌ধারার অর্থ:
- কান ধরা = কর্ণ মর্দন করা।
- দোষ ধরা = অপরাধ গণনা করা।
- পথ ধরা = উপায় দেখা।
- হাতে-পায়ে ধরা = অনুরোধ করা।
- গলা ধরা = কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া।
- মনে ধরা = পছন্দ হওয়া।
- আগুন ধরা = আগুন লাগা।
- ম্যাও ধরা = দায়িত্ব নেওয়া।
- গোঁ ধরা = একগুঁয়েমি করা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১১৭.
"স্থলচর" - শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. প্রাদি
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ। উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।

যেমন:
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,১১৮.
'বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।'- এখানে 'ফলে' কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. কর্ম কারক
  3. করণ কারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ‘করণ' শব্দের অর্থ উপায় বা সহায়।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে 'কার দ্বারা বা কী উপায়ে জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।
যেমন:
• বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা / কী উপায়ে পরিচয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ফলে। সুতরাং ‘ফলে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি]

• চেষ্টায় সব হয়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সব হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় চেষ্টায়। সুতরাং ‘চেষ্টায়’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• জাহাজে সাগর পার হওয়া যায়।
[বাক্যটিকে কার দ্বারা সাগর পার হওয়া যায়? প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘জাহাজে’। সুতরাং ‘জাহাজে’ করণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

• করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার:
করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া - বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।

• তবে অন্য বিভক্তিগুলোরও প্রয়োগ রয়েছে-
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তোমার লোক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১১৯.
নিম্নের শুদ্ধ বানান কোনটি ?
  1. ক) কল্যানিয়াষু
  2. খ) কল্যানীয়াষু
  3. গ) কল্যাণীয়াসু
  4. ঘ) কল্যানীয়াসু
ব্যাখ্যা
কল্যাণীয়াসু (কোল্‌ল্যানিআশু), বিশেষ্য
- [স. কল্যাণীয় + আসু]
- স্নেহভাজন নারীকে  লিখিত পত্রের সম্বোধন সূচক পাঠ। 

উৎস: একাডেমি অভিধান আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১২০.
'সৌন্দর্যতা' - কোন কারণে অপপ্রয়োগ?
  1. সন্ধিজনিত 
  2. বিভক্তিজনিত 
  3. প্রত্যয়জনিত 
  4. বাহুল্যজনিত
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - সৌন্দর্যতা।
- শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - সৌন্দর্য।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয় - সুন্দর + য।

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৭,১২১.
'বর্ণ চুরি করে যে' ব্যাসবাক্যটি কোন সমাস নির্দেশ করে?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. সাধারণ কর্মধারয় 
  3. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  4. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

• 'বর্ণচোরা' শব্দের বিশ্লেষণ:
"বর্ণচোরা" শব্দে প্রথম পদ "বর্ণ" হলো উপপদ, যা ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় পদ "চোরা" হলো কৃদন্ত পদ, যা "চুরি করা" ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন। এই দুটি পদ মিলে সমাসবদ্ধ হয়ে একটি নতুন অর্থ প্রকাশ করে: বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা।

কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। সুতরাং 'বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা' উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

---------------------------
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
জলে চরে যা = জলচর;
বাস্তু হারিয়েছে যে = বাস্তুহারা;
বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা;
বহুকিছু দর্শন করেছে যে = বহুদর্শী;
বিঘ্ন হনন করে যে = বিঘ্নহস্তা;
জল দেয় যে = জলদ;
পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ- গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,১২২.
শিক্ষ্‌ + অন মিলে কী হবে?
  1. ক) শিক্ষণ
  2. খ) শিক্ষক
  3. গ) শিক্ষকন
  4. ঘ) শিক্ষন
ব্যাখ্যা

শিক্ষণ (বিশেষ্য):
১ শিক্ষাগ্রহণ; অধ্যয়ন (এ ছাড়া শিক্ষণ বিভাগ আছে-মনোজ বসু)।
২ শিক্ষাদান; অধ্যাপনা; তালিম।
শিক্ষণীয় (বিশেষণ) শেখার বা শেখাবার যোগ্য।
(তৎসম বা সংস্কৃত) √শিক্ষ্‌+অন (ল্যুট্‌)

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৭,১২৩.
কোনটি ভুল বাক্য?
  1. ক) দীনতা সব সময় ভাল নয়।
  2. খ) দেশের দারিদ্র দূর করতে হবে।
  3. গ) সময় বড় সংক্ষিপ্ত।
  4. ঘ) এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
ব্যাখ্যা

অপশন খ-তে 'দারিদ্র' বানানটি ভুল৷ সঠিক রূপ হবে - 'দারিদ্র‍্য'।
সঠিক বাক্য - দেশের দারিদ্র‍্য/দরিদ্রতা দূর করতে হবে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

৭,১২৪.
'বেটাইম' শব্দটি গঠিত হয়েছে-
  1. ফারসি ও ইংরেজি শব্দে
  2. ফরাসি ও ইংরেজি শব্দে
  3. ফারসি ও ফরাসি শব্দে
  4. ফারসি ও হিন্দি শব্দে
ব্যাখ্যা
• ‘বেটাইম’ শব্দে বে ফারসি উপসর্গ এবং টাইম ইংরেজি শব্দ।
- অর্থাৎ ফারসি উপসর্গ এবং ইংরেজি শব্দের সমন্বয়ে বেটাইম শব্দটি গঠিত।
অর্থ: 
- অসময়,
- অসুবিধাজনক সময়।

- কোনাে কোনাে সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে।
যেমন:
- ‘কাঁচামাল’ (বাংলা + আরবি),
- রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি),
- হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি),
- চৌহদ্দি ( বাংলা + ফারসি),
- হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি+তৎসম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১২৫.
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশ করে সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়ামূল
  2. খ) ক্রিয়াবিভক্তি
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার দুইটি অংশ:
- প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
- দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলােকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
যেমন -
- পড়ছি (পড় + ছি) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়।
- পড়বেন (পড়ু + বেন) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। - পড়ছিল (পড়ু + ছিল) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১২৬.
”শুনানি” শব্দের সঠিক প্রকৃত-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √শুণ + আনি
  2. √শুনা + অনি
  3. √শুন্ + আনি
  4. √শুন্ + আনী
ব্যাখ্যা
• ”আনি” - কৃৎ প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন: 
যেমন-
- √জান্ + আনি  = জানানি,
- √শুন্ + আনি = শুনানি,
- √উড় + আনি = উড়ানি। 

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।
৭,১২৭.
কোন ধরনের ‘বাচ্যে’র ক্রিয়াপদ সর্বদা নাম পুরুষের অনুসারী হয়?
  1. ভাববাচ্য
  2. কর্মবাচ্য
  3. কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১২৮.
'নৈরাজ্যবাদ' শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. Ancestress
  2. Anarchy
  3. Anarkhos
  4. Anatomist
  5. Anarchism
ব্যাখ্যা

নৈরাজ্যবাদের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ - Anarchism.
অন্যদিকে,
নৈরাজ্য শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ - Anarchy যা গ্রিক শব্দ anarkhos থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
Anatomist = শারীরবিদ।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান। 

৭,১২৯.
‘সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।’ কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. যৌগিক বাক্য
  2. খণ্ডিত বাক্য
  3. সরল বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- সবাই জানেন যে, কালো টাকার মালিকগণ সুখী হন না।
- যে পরিশ্রম করে সেই সুখলাভ করে।
- লেখাপড়া করে যেই গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
- যখন রৌদ্রতাপ কমবে তখন পরামর্শ করা যাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাবো।
- যখন বিপদ আসে তখন দুঃখও আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৩০.
‘পর্বত’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অবনী
  2. অচল
  3. পাহাড়
  4. গিরি
ব্যাখ্যা
'পর্বত' সমার্থক শব্দ:
-পাহাড়, অদ্রি, ভূধর, গিরি, শৈল, অচল

‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অদিতি, বসুন্ধরা, অবনী, ক্ষিতি, পৃথ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৩১.
'মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞা
  2. জটিল
  3. সরল
  4. যৌগিক
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে, বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- মেঘ গর্জন করে, তবে ময়ূর নৃত্য করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৭,১৩২.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. অধঃগতি
  2. দুরদৃষ্ট
  3. যশলাভ
  4. নিরোগ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
•'দুরদৃষ্ট' (বিশেষ্য) শব্দটির বানান শুদ্ধ।

• 'দুরদৃষ্ট' শব্দের অর্থ:
- মন্দভাগ্য; পোড়াকপাল।

অন্যদিকে,
- 'অধঃগতি' এর শুদ্ধ বানান 'অধোগতি'।
- 'যশলাভ' এর শুদ্ধ বানান 'যশোলাভ'।
- 'নিরোগ'  এর শুদ্ধ বানান 'নীরোগ'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৩৩.
তুর্কি ভাষার শব্দ কোনগুলি?
  1. ক) চা, চিনি
  2. খ) হজ, ওজু
  3. গ) চাকু, তোপ
  4. ঘ) চশমা, রশদ
ব্যাখ্যা

তুর্কি কয়েকটি শব্দ হলোঃ
- উজবুক,
- কোর্মা,
- খাতুন,
- বিবি,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ,
- দারোগা,
- বাবুর্চি,
- লাশ,
- মুচলেখা,
- কুলি,
- খোকা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

৭,১৩৪.
'বকধার্মিক' এর সমার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. বর্ণচোরা
  2. ডাকাবুকো
  3. কানকাটা
  4. পায়া ভারি
ব্যাখ্যা
• 'বকধার্মিক' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড।
বাক্য গঠন: এদেশে বকধার্মিকের অভাব নেই।

• 'বর্ণচোরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড।

অন্যদিকে,
‘ডাকাবুকো’ অর্থ - নির্ভীক।
‘পায়া ভারি’ অর্থ - অহঙ্কার।
‘কানকাটা’ অর্থ - বেহায়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৩৫.
রূপতত্ত্বে কোনটি বিশেষ গুরুত্ব পায়?
  1. বাগ্‌যন্ত্রের গঠন
  2. বাক্যের বিন্যাস
  3. শব্দগঠন প্রক্রিয়া
  4. ধ্বনির উচ্চারণ
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বাগ্‌যন্ত্রের গঠন, ধ্বনির উচ্চারণ।
বাক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বাক্যের বিন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৩৬.
বাংলা তারিখ বাচক শব্দের প্রথম চারটি কোন নিয়মে হয়েছে? 
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) বাংলা
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
- বাংলা তারিখ বাচক শব্দের প্রথম চারটি হিন্দি নিয়মে হয়েছে।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তারিখবাচক শব্দগুলির মধ্যে ১ থেকে ৪ পর্যন্ত (পয়লা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৭,১৩৭.
'অপ্রতিভ' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. প্রত্যর্পণ
  2. সপ্রতিভ
  3. নিষ্প্রভ
  4. বিব্রত
ব্যাখ্যা
• 'অপ্রতিভ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সপ্রতিভ

উল্লেখ্য,
- 'অপ্রতিভ' শব্দের অর্থ - বিব্রত, লজ্জিত, হতবুদ্ধি, নিষ্প্রভ।
- 'সপ্রতিভ' শব্দের অর্থ - চটপটে, বুদ্ধিমান।

অন্যদিকে,
- 'অর্পণ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গ্রহণ / প্রত্যর্পণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৩৮.
কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
  1. ভালো করে খেয়ে নাও।
  2. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেজ কেঁদেছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- ভালো করে খেয়ে নাও।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- হারানো ঘড়িটার জন্য অনেজ কেঁদেছি।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৩৯.
কোনটি নির্ভুল?
  1. দুর্দশাগ্রন্থ
  2. দুর্দশাগ্রস্ত
  3. দূর্দশাগ্রস্ত
  4. দূরদশাগ্রস্ত
ব্যাখ্যা
• দুর্দশাগ্রস্ত (বিশেষণ পদ),
- একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- বিপন্ন,
- দুর্গত,
- দরিদ্র,
- দুরবস্থায় পতিত।
৭,১৪০.
শব্দ গঠনের উপায় কী?
  1. ক) সন্ধির মাধ্যমে
  2. খ) সমাসের মাধ্যমে
  3. গ) পদ-পরিবর্তনের মাধ্যমে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দ গঠনের কতিপয় উপায় হলো -
১)সন্ধির মাধ্যমে
২)সমাসের মাধ্যমে
৩)পদ-পরিবর্তনের মাধ্যমে
৪)বাক্য সংকোচনের মাধ্যমে
৫)উপসর্গ সহযোগে
৬)প্রত্যয় সহযোগে
৭)দ্বিরুক্তি শব্দের সহযোগে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,১৪১.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
ব্যাখ্যা

♦ অনন্বয়ী অব্যয়:
- অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন একটি অব্যয়, যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত নয়। এই ধরনের অব্যয় মূলত মনের আবেগ, সম্বোধন বা বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে এরা কোনো সংযোগ স্থাপন করে না।

- 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উদাহরণ:
• আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ:
- "বাঃ!" কী সুন্দর দৃশ্য!
- "আহা!" বেচারি খুব কষ্ট পেয়েছে।

• আফসোস প্রকাশ:
- "হায়," আমার কপালে কি এই ছিল?

• সম্বোধন প্রকাশ:
- "ওহে," এদিকে এসো।
- "মা," আমাকে আশীর্বাদ করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১৪২.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রত + ঊষ = প্রত্যুষ
  2. তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি
  3. উৎ + চ্ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
  4. নির + আকার = নিরাকার
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।

-------------
• সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম:
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি।
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত।

• নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ,
নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৭,১৪৩.
বিপ্রকর্ষের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ভ্রু > ভুরু 
  2. শ্লোক > শোলোক
  3. হর্ষ > হরষ
  4. পোখত্ > পোক্ত
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis): 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ– রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই– প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ– মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ– গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও– শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি ৷

অন্যদিকে, 
• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। 
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৭,১৪৪.
‘মোড়ক' -শব্দের সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) √মোড়+ অক
  2. খ) √মড় +অক
  3. গ) √মুড়+ণক
  4. ঘ) √মুড়+অক
ব্যাখ্যা
মোড়ক বাংলা কৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
√মুড়+অক= মোড়ক।
√ঝল্+অক = ঝলক।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৭,১৪৫.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + যোগ = উদ্যোগ
  2. বাগ্‌ + দান = বাগদান
  3. উদ্‌ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন
  4. যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ নিচে দেওয়া হলো- 

• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৪৬.
বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ কোথায় বসে?
  1. ক) শেষে
  2. খ) প্রথমে
  3. গ) কর্মের আগে
  4. ঘ) অব্যয় পদের পরে
ব্যাখ্যা

সমাপিকা ক্রিয়া:
-যে-ক্রিয়াতে বক্তব্য বা বাক্য শেষ হয়ে যায়, আর কিছু বলার বাকি থাকে না, বাক্যের অর্থগত পূর্ণতা সৃষ্টি হয়, তাকে ‘সমাপিকা ক্রিয়া' বলে।
যেমন-
-ছাত্রেরা বই পড়ছে।
-খোকা ভাত খেয়েছে।
-সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।


তাই বলা যায়, বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ মূলত শেষে বসে।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৪৭.
রিক্সা > রিসকা ধ্বনি পরিবর্তনের কোন সূত্র অনুযায়ী হয়েছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. প্রগত সমীভবন
  3. বিষমীভবন
  4. অন্তর্হতি
  5. ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন-
পিশাচ > পিচাশ,
বাক্স > বাসক,
রিক্সা > রিসকা,
লাফ > ফাল ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,১৪৮.
অলুক তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত- 
  1. মাথায় পাগড়ি 
  2. গায়ে- হলুদ 
  3. হাতে খড়ি 
  4. খবরের কাগজ
ব্যাখ্যা

• অলুক তৎপুরুষ সমাস:
- অলুক তৎপুরুষ সমাস হলো এমন সমাস যেখানে পূর্বপদের বিভক্তি ব্যাসবাক্যে লোপ পায় না।
- অর্থাৎ সমস্তপদে পূর্বপদের বিভক্তি থাকে।
- এই সমাসকে অলুক তৃতীয়া, অলুক চতুর্থী, অলুক পঞ্চমী, অলুক ষষ্ঠী এবং অলুক সপ্তমী তৎপুরুষে ভাগ করা হয়।

- উদাহরণস্বরূপ:
ঘোড়ার ডিম = ঘোড়ার ডিম,
গরুর গাড়ি = গরুর গাড়ি,
চিনির কল = চিনির কল,
কলুর বলদ = কলুর বলদ,
হাতের পাঁচ = হাতের পাঁচ,
সোনার তরী = সোনার তরী,
খবরের কাগজ = খবরের কাগজ,
চোখের বালি = চোখের বালি,
দেশের ডাক = দেশের ডাক,
মাটির মানুষ = মাটির মানুষ,
তাসের দেশ = তাসের দেশ,
টাকার কুমির = টাকার কুমির,
চাঁদের আলো = চাঁদের আলো,
গায়ের চাদর = গায়ের জন্য চাদর,
বাঘের দুধ = বাঘের দুধ,
তিলের তেল = তিল থেকে তেল,
কলের জল = কলের থেকে জল ইত্যাদি। 
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- মাথায় পাগড়ি, গায়ে- হলুদ, হাতে খড়ি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৪৯.
'অপবাদ' শব্দের 'অপ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিকৃত
  2. বিপরীত
  3. স্থানান্তর
  4. নিকৃষ্ট
ব্যাখ্যা

'অপ' উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে = অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ।
- নিকৃষ্ট অর্থে = অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে = অপসারণ, অপহরণ, অপনোধন।
- বিকৃত অর্থে = অপমৃত্যু।
 
তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ:
- তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৭,১৫০.
'অল্পতা' অর্থে 'অব' উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) অবেলা
  2. খ) অবমাননা
  3. গ) অবগাহন
  4. ঘ) অবতরণ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'অব' উপসর্গের ব্যবহার। 
- হীনতা অর্থে - অবজ্ঞা, অবমাননা
- সম্যকভাবে অর্থে - অবরােধ, অবগাহন
- নিম্নমুখী অর্থে - অবতরণ
- অল্পতা অর্থে - অবশেষ, অবসান, অবেলা

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৫১.
বাংলা বর্ণমালায় নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় কীভাবে?
  1. ঠোঁটের ফাকা কম বেশি হলে
  2. জিভ মূর্ধা স্পর্শ করলে
  3. কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
  4. কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে
ব্যাখ্যা
• কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে- নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয়।
 
• আলজিভ: 
- মুখগহ্বরেরর কোমল তালুর পেছনে ঝুলন্ত মাংসপিন্ডের নাম আলজিভ। 
- ধনির উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। 
- এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি উচ্চারিত হয়। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৫২.
'সৌরভ' কী ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ভাববাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
৭,১৫৩.
'তিনি কথা বললেন না।'- বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা বলতে চাইলেন না।
  2. তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না।
  3. তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন।
  4. তিনি চুপ করে থাকলেন।
ব্যাখ্যা
"তিনি কথা বললেন না।"-এর অস্তিবাচক রূপ হবে: ঘ) তিনি চুপ করে থাকলেন।

মূল বাক্য: তিনি কথা বললেন না।
- এটি একটি নেতিবাচক বাক্য, যা কথা বলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

অস্তিবাচক রূপে রূপান্তর করতে হলে:
- নেতিবাচক অর্থকে ইতিবাচক আকারে প্রকাশ করতে হয়।
- কিন্তু মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকে।
- প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।

অন্য অপশনগুলো:
ক) "তিনি কথা বলতে চাইলেন না":
এখানে "চাইলেন না" নঞর্থক পদ রয়ে গেছে। এটি সম্পূর্ণ অস্তিবাচক হয়নি।

খ) "তিনি কথা না বলে থাকতে পারলেন না":
"পারলেন না" নঞর্থক পদটি অপরিবর্তিত আছে।

গ) "তিনি নীরব থাকতে চেষ্টা করলেন":
এটি মূল অর্থ ("কথা না বলা")-কে প্রচেষ্টা-তে পরিবর্তন করে, যা মূল বাক্যের সরল অর্থ নয়।

সিদ্ধান্ত:
ব্যাকরণের সূত্রানুসারে, "তিনি চুপ করে থাকলেন" হলো সঠিক ও অর্থসংগত অস্তিবাচক রূপান্তর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৫৪.
'রাশভারী' শব্দের অর্থ কী?
  1. লঘু স্বভাবযুক্ত 
  2. গম্ভীর প্রকৃতির
  3. নির্গুণ ব্যক্তি 
  4. স্বেচ্ছাচারী 
ব্যাখ্যা

• 'রাশভারী' এটি একটি বাংলা শব্দ। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ।
অর্থ: 
- গম্ভীর প্রকৃতির।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৫৫.
নিচের কোনটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. গাছপাকা
  2. পঙ্কজ
  3. জলচর
  4. তপস্বিকন্যা
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- ধানের ক্ষেত = ধানক্ষেত,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- তপস্বীর কন্যা = তপস্বিকন্যা,
- তারকার পুঞ্জ = তারকাপুঞ্জ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পায়, তাকে বলা হয় সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- গাছে পাকা = গাছপাকা,
- বাকে পটু = বাকপটু।

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৫৬.
'পশ্চিম' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. পশ্চাৎ + ইম্
  2. পশ্চৎ + ইম্
  3. পশ্চ্‌ + ইম্
  4. পশ্চাত + ইম্
ব্যাখ্যা

• ইম্ (ডিমচ্)- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়: পর্যায়ে অর্থে বিশেষণ শব্দ গঠন করে।
যেমন:
- অগ্র + ইম্ = অগ্রিম,
- অন্ত + ইম্ = অন্তিম,
- পশ্চাৎ + ইম্ = পশ্চিম,
- আদি + ইম্ আদিম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,১৫৭.
'যা বলা হয়নি'- এককথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. অবহিত
  2. অনুক্ত
  3. অব্যক্ত
  4. অনুরোধ
ব্যাখ্যা

• 'যা বলা হয়নি' এক কথায় প্রকাশ - অনুক্ত

অন্যদিকে,
'অবহিত' শব্দের অর্থ - জ্ঞাত, বিদিত, নিবিষ্ট, সতর্ক।
'অব্যক্ত' শব্দের অর্থ -  অপ্রকাশিত, গুপ্ত, অস্পষ্ট।
'অনুরোধ' শব্দের অর্থ - মিনতিপূর্ণ যাচ্ঞা; প্রার্থনা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৫৮.
উভয়লিঙ্গ কোনটি?
  1. জন
  2. জামাই
  3. জেঠা
  4. জেলে
ব্যাখ্যা
• উভয়লিঙ্গ - জন

উভয়লিঙ্গ:
যে শব্দ দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ। 
যেমন - জন, সন্তান, পাখি, শিশু, মন্ত্রী, শিক্ষিত, কবি ইত্যাদি। 

• 'জন' শব্দটি দ্বারা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় বোঝায়। তাই 'জন' শব্দটি উভয়লিঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৫৯.
নিচের কোন বিপরীতার্থক শব্দ যুগল সঠিক নয়?
  1. জনাকীর্ণ - জনবহুল
  2. উজাড় - পরিপূর্ণ
  3. খাতক - মহাজন
  4. তামসিক - রাজসিক
ব্যাখ্যা
জনাকীর্ণ - এর সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ - জনবিরল।
- জনাকীর্ণ ও জনবহুল প্রায় সমার্থক শব্দ।

প্রশ্নের অন্যান্য অপশনে প্রদত্ত শব্দজোড় বিপরীতার্থক।
৭,১৬০.
কোন সংখ্যাশব্দ সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ
  2. তারিখ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ
  3. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
  4. সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ
ব্যাখ্যা
⇒ সংখ্যাবাচক শব্দ:
যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়। সংখ্যাশব্দ দুই রকমের। যথা:
• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন।
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়।

⇒ ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:
একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো), ১২ (বারো), ১৩ (তেরো), ১৪ (চৌদ্দ), ১৫ (পনেরো), ১৬ (ষোলো), ১৭ (সতেরো), ১৮ (আঠারো), ১৯ (উনিশ), ২০ (বিশ) ইত্যাদি।

- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক  সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে। এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
• 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ ‘দ্বি’, 'দু', এবং 'দো'।
• 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং ‘তে’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭,১৬১.
‘পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে।’- বাক্যে ‘পিতামাতাকে’ কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. কর্তৃকারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্ম কারক:
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' দ্বিতীয় বিভক্তি যুক্ত হয়।
- ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

উদ্দেশ্যকর্মে ‘কে’ বিভক্তি:
যেমন: 
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।
- পিতামাতাকে সাক্ষাৎ দেবতা জানিবে। - বাক্যের ক্রিয়াকে কাকে দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘পিতামাতাকে’। 

সুতরাং ‘পিতামাতাকে’ কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তির উদাহরণ।
 
অন্যদিকে,
• অপাদান কারক:
যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন:
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
 
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- হামিদ বই পড়ে। 
 
• সম্বন্ধ কারক: 
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।
- এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে - র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 
যেমন:
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না ৷
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৭,১৬২.
‘ফলাহার > ফলার' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
অভিশ্রতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৬৩.
'প্রমথ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) হত্যা
  3. গ) অগ্রণী
  4. ঘ) শিবানুচর
ব্যাখ্যা
প্রমথ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্র+মথ্‌+অ 
অর্থ: নৃত্যগীতে পারদর্শী শিবের অনুচর। 

'প্রমাথ' শব্দের অর্থ: হত্যা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,১৬৪.
'নির্বুদ্ধিতার দণ্ড' - অর্থে বাগ্‌ধারার ব্যবহার কোনটি?
  1. আক্কেল সেলামি
  2. অরণ্যে রোদন
  3. কড়ায় গণ্ডায়
  4. আক্কেল গুড়ুম
ব্যাখ্যা
• ‘আক্কেল সেলামি’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নির্বুদ্ধিতার দণ্ড

অন্যদিকে,
- ‘অরণ্যে রোদন‘ বাগ্‌ধারার অর্থ - নিষ্ফল আবেদন।
- 'কড়ায় গণ্ডায়' বাগ্‌ধারার অর্থ - সম্পূর্ণ বা পুরোপুরি।
- 'আক্কেল গুড়ুম' বাগ্‌ধারার অর্থ - হতবুদ্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬৫.
'অপদেবতা' শব্দে 'অপ' উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) মন্দ অর্থে
  2. খ) বিপরীত অর্থে
  3. গ) বৃথা অর্থে
  4. ঘ) অস্বাভাবিক অর্থে
ব্যাখ্যা

অপদেবতা অর্থ খারাপ দেবতা।
তাই এখানে মন্দ অর্থে 'অপ' ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস-  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সৌমিত্র শেখর।

৭,১৬৬.
'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. উগ্র
  2. শুষ্ক
  3. নির্ভীক
  4. বিনীত
ব্যাখ্যা

 • ’সিক্ত’ শব্দের অর্থ- ভেজা।
• ’শুষ্ক’ শব্দের অর্থ- নীরস, রসশূন্য।

⇒ 'সিক্ত' এর বিপরীত শব্দ- শুষ্ক।

অন্যদিকে,
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ- 'বিনীত'। 
- 'সৌম্য' এর বিপরীত শব্দ-'উগ্র'।
- 'ভীরু' এর বিপরীত শব্দ- 'নির্ভীক'। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,১৬৭.
'চপলা' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পদ্ম
  2. বিদ্যুৎ
  3. বৃক্ষ
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা

'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা

অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।

'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭,১৬৮.
নিম্নের কোনটি তুর্কি শব্দ নয়?
  1. ক) বেগম
  2. খ) খাতুন
  3. গ) বিবি
  4. ঘ) বাবা
ব্যাখ্যা
বিবি (বিশেষ্য) 
- ফারসি শব্দ। 
অর্থ: 
- পত্নী, স্ত্রী। 
- ইউরোপীয় মহিলা 
- তাসের রানি। 

অন্যদিকে,
বেগম, বাবা, খাতুন = তুর্কি শব্দ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,১৬৯.
কোনটি অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
  2. হ্ + ম = হ্ম
  3. জ + ঞ = ঞ্জ
  4. ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - জ + ঞ = ঞ্জ। এর শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ঞ্ + জ = ঞ্জ।

অন্যদিকে,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,  
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

৭,১৭০.
কোনটি কণ্ঠধ্বনি নয়?
  1. ক) ক
  2. খ) খ
  3. গ) গ
  4. ঘ) প
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠধ্বনি। অন্যদিকে প ফ ব ভ ম ওষ্ঠ্যধ্বনি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১৭১.
'কুণ্ডলাকৃতি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
  2. কুণ্‌ডলাক্‌কৃতি
  3. কুন্‌ডোলাক্‌কৃতি
  4. কুণ্‌ডোক্‌কৃতি
ব্যাখ্যা
• বানান: কুণ্ডলাকৃতি।
- সঠিক উচ্চারণ: কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: কুণ্ডল + আ + √কৃ + তি।
- অর্থ: কুণ্ডলের আকৃতিবিশিষ্ট।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৭২.
‘ক্রোধানল’ - কোন সমাস?
  1. রূপক কর্মধারয়
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. ষষ্ঠী তৎপুরুষ
  4. উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
রূপক কর্মধারয়:
- উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়।
- এ সমাসে উপমেয় পদ পূর্বে বসে এবং উপমান পদ পরে বসে এবং সমস্যমান পদে 'রূপ' অথবা ‘ই’ যোগ করে ব্যাসবাক্য গঠন করা হয়।

যেমন:
- ক্রোধ রূপ অনল =ক্রোধানল,
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু,
- মন রূপ মাঝি= মনমাঝি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,১৭৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) অতিশয্য
  2. খ) অপকর্ষ
  3. গ) উর্ধ্বতল
  4. ঘ) অধিপত্য
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = অপকর্ষ

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ:
• ঊর্ধ্বতল (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ঊর্ধ্ব+তল
অর্থ: উপরি তল। 

• আতিশয্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অতিশয়+য
অর্থ: আধিক্য, প্রাচুর্য

• আধিপত্য (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = অধিপতি+য
অর্থ: 
- কর্তৃত্ব, প্রভুত্ব
- প্রাধান্য
- রাজত্ব 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,১৭৪.
নিচের কোন শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে?
  1. ক) অপমান
  2. খ) নিবৃত্তি
  3. গ) আগাছা
  4. ঘ) প্রতাপ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আগাছা শব্দে বাংলা উপসর্গ আছে। অ, আ, আড় অনা, অজ, অঘা এগুলো খাটি বাংলা উপসর্গ৷ প্র, পরা, অপ, সম্‌, নি ইত্যাদি সংস্কৃত উপসর্গ। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
৭,১৭৫.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ পদ?
  1. নিপুণ
  2. নৈপুণ্য
  3. নিপুণতা
  4. দাক্ষিণ্য
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - নিপুণ
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- "নিপুণ" শব্দের বিশেষ্য পদ - নিপুণতা। 

শব্দের অর্থ:
- দক্ষ, পটু, বিচক্ষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - নৈপুণ্য, দাক্ষিণ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭,১৭৬.
'সম্মান' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) ব্যঞ্জন + স্বর
  2. খ) স্বর + ব্যঞ্জন
  3. গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ঘ) স্বর + বিসর্গ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
- ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, স্বর+ব্যঞ্জন, ব্যঞ্জন + স্বর, ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন:
সম্‌ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত হয়েছে)।

এছাড়াও 'ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন' ধ্বনির কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে -
বাক্‌ + দান = বাগ্‌দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
শম্‌ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৭৭.
নিচে কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  4. উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: 'অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা'।
শুদ্ধ - 'অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।'

অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

অশুদ্ধ বাক্য: উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।
শুদ্ধ: উপর্যুক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭,১৭৮.
শুদ্ধ বানান নয় কোনটি?
  1. ক) জ্যৈষ্ঠ
  2. খ) উচ্ছ্বাস
  3. গ) ন্যুজ
  4. ঘ) প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা
'ন্যুজ' এর শুদ্ধ রূপ = 'ন্যুব্জ' 

ন্যুব্জ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নি+√উব্‌জ্‌+অ
অর্থ: কুব্জ, কুঁজো, বক্রপৃষ্ঠ, অধোমুখ। 

অন্যান্য অপশনে প্রদত্ত বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৭,১৭৯.
'হাতে হাতে' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. অনুসর্গ দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন,
– জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৮০.
নিচের কোন শব্দ দুটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) চন্দ্র, সূর্য
  2. খ) ধর্ম, বৃক্ষ
  3. গ) মানব, জলধি
  4. ঘ) গিন্নি, কেষ্ট
ব্যাখ্যা
গিন্নি, কেষ্ট শব্দ দুটি অর্ধতৎসম শব্দ। যাদের তৎসম রূপ যথাক্রমে- গৃহিণী, কৃষ্ণ। 

• তৎসম শব্দ:
- তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ [তত্ = তার, সম = সমান] তার সমান।
- এখানে 'তার' বলতে ‘সংস্কৃত’র সমান বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার যেসব শব্দ সরাসরি এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ।
- উদাহরণ- চন্দ্র, সূর্য, ধর্ম, বৃক্ষ, মানব, পুত্র, রাত্রি, পর্বত, ভূমি, সিংহ, তাপসী, প্রশ্ন, পাত্র, জলধি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৭,১৮১.
নিম্নের কোন বাগ্‌ধারাটি অপরগুলো থেকে ভিন্ন?
  1. ক) ভিজে বেড়াল
  2. খ) বক ধার্মিক
  3. গ) ডাকাবুকো
  4. ঘ) বর্ণচোরা
ব্যাখ্যা
ভিজে বেড়াল = সাধু বেশে অসৎ লোক 
বক ধার্মিক = ভণ্ড 
বর্ণচোরা = ভণ্ড 

অপরদিকে, ডাকাবুকো = নির্ভীক 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৭,১৮২.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি -
  1. ক) সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
  2. খ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
  3. গ) উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
  4. ঘ) বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
উপরের তিনটি অপশনই ব্যঞ্জনধবনি + ব্যঞ্জনধ্বনি হিসেবে গঠিত হয়েছে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭,১৮৩.
কোন সমাসে পরপদের অর্থই প্রধান থাকে?
  1. কর্মধারয়
  2. দ্বন্দ্ব
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
গোলাপ নামের ফুল= গোলাপফুল।

অন্যদিকে,
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে
যেমন
'সোনা- রূপা' সমস্ত পদের ব্যাসবাক্য সোনা ও রূপা। 

• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন,
- বহুব্রীহি = বহু ব্রীহি আছে যার।

• অব্যয়ীভাব সমাস:  ‍
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন:
- কূলের সমীপে = উপকূল,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৭,১৮৪.
'গাছা' 'গাছি' ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক কোন বচনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) একবচন
  2. খ) দ্বিবচন
  3. গ) ত্রিবচন
  4. ঘ) বহুবচন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অব্যয় বা প্রত্যয় কোনো না কোনো পদের আশ্রয়ে বা সংযুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা জ্ঞাপন করে, এগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। 
- বাংলা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক প্রত্যয় ইংরেজি Definite Article 'The' এর স্থানীয়। 
- বচন ভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক ভিন্ন হয়। 

• টা, টি, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক যা একবচনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৮৫.
‘উচ্ছিষ্ট’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উৎ + চিষ্ট
  2. খ) উৎ + শিষ্ট
  3. গ) উচ + চিষ্ট
  4. ঘ) উচ + চ্ছিষ্ট
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্ছিষ্ট’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ = উৎ + শিষ্ট।

• সন্ধির নিয়মানুসারে শব্দের দ্বিতীয় স্থানে চ, ছ, জ ও শ থাকলে ত ও দ এর তালব্যীভবন ঘটে।
যেমন:
বিদ্বজ্জন =  বিদ্বৎ + জন,
উচ্ছেদ = উদ্‌ + ছেদ,
উচ্ছিষ্ট = উৎ + শিষ্ট।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৮৬.
'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. তৎ + কর
  2. তস্‌ + কর
  3. তঃ + কর
  4. তদ্‌ + কর
ব্যাখ্যা
• 'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ তৎ + কর।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:

- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭,১৮৭.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. বিবাক্ষী 
  2. উদীচী
  3. সমীরন 
  4. সুক্ষ্ম
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - উদীচী (বিশেষ্য):
- অর্থ: দিক; উত্তর দিক।

অন্য অপশনের বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
বিবাক্ষী - বিবাক্ষি।
সমীরন - সমীরণ।
সুক্ষ্ম - সূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

৭,১৮৮.
'চপল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. জড়
  2. গম্ভীর
  3. নির্বোধ
  4. সাধু
ব্যাখ্যা
• 'চপল' এর বিপরীতার্থক শব্দ- গম্ভীর।

• 'চপল' শব্দের অর্থ- চঞ্চল; প্রগল্ভ; ক্ষণস্থায়ী।
• 'গম্ভীর' শব্দের অর্থ- গভীর, নিবিড়; গুরুতর; নিরানন্দ; বিমর্ষ।

অন্যদিকে, 
চেতন - জড়। 
চোর - সাধু। 
চতুর - নির্বোধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৮৯.
'বালিশ' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. গুজরাটি
  4. পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
বালিশ (বিশেষ্য)
অর্থ : উপাধান; শয়নকালে যে আধারে মাথা রাখা হয়।
'বালিশ' শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। 
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৭,১৯০.
নিচের কোনটি দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ নয়?
  1.  তালতমাল
  2. দোয়াত-কলম
  3. চালাকচতুর
  4. জমাখরচ
ব্যাখ্যা

যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর।- কর্মধারয় সমাস।

• কর্মধারয় সমাস:
- মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধরা সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা,
- দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন,
- দুঃ যে অবস্থা =  দুরবস্থা,
- যে চালাক সেই চতুর = চালাকচতুর,
- যিনি সুস্থ তিনিই সবল = সুস্থসবল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দোয়াত-কলম, তালতমাল ও জমাখরচ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,১৯১.
'নিভাঁজ' শব্দে 'নি' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বক্র
  2. নাই
  3. নিন্দিত
  4. ক্ষুদ্র
ব্যাখ্যা
• 'নিভাঁজ' শব্দে 'নি' উপসর্গটি 'নাই' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এখানে 'নি' একটি বাংলা উপসর্গ। 

'নি' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
- নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৭,১৯২.
"পাকা ইটের বাড়ি খুব শক্ত মজবুত।" এখানে 'পাকা' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অভিজ্ঞ
  2. খাঁটি
  3. স্থায়ী
  4. পোড়ানো
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• 'পাকা' শব্দের আভিধানিক বা সাধারণ অর্থ: পক্ব, পরিণত। 

বিশেষ অর্থ:
১. পাকা ইট (পোড়ানো)- পাকা ইটের বাড়ি খুব শক্ত মজবুত।
২. পাকা (অভিজ্ঞ) - রহমান সাহেব পাকা ডাক্তার।
৩. পাকা সোনা (খাঁটি) - পাকা সোনার অলংকার টিকে বেশি।
৪. পাকারং (স্থায়ী) - পাকারঙের শাড়ি দামে সস্তা নয়।
৫. পাকা চুল (সাদা) - সে পাকা চুলে রঙ দিয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৯৩.
কোন চলিত রূপ?
  1. আসিয়া
  2. চলল
  3. গিয়াছিল
  4. চলিল
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• চলিত রূপ - চলল
- এর সাধু রূপ - চলিল।

ক্রিয়াপদের রূপের পার্থক্য:

→ সাধু - চলিত,
আসিয়া - এসে, 
→ করিয়া - করে, 
→ করিয়াছে - করেছে, 
→ খাইতেছিল - খাচ্ছিল, 
গিয়াছিল - গেছিল, 
→ ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে, 
→ চাহিয়া - চেয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭,১৯৪.
'Biography'- শব্দটির অর্থ কী?
  1. ক) গ্রন্থনির্দেশিকা
  2. খ) কড়চা
  3. গ) বিবরণ
  4. ঘ) আলোচনা
ব্যাখ্যা
'Biography' শব্দটির অর্থ - জীবনী, জীবনচরিত। 

অপশনগুলোর মধ্যে কড়চা শব্দটি কাছাকাছি অর্থ প্রদান করে, তাই এটিই সঠিক উত্তর হিসেবে নেয়া হয়েছে।

অপশনগুলোর মধ্যে -
কড়চা - 
১. পদ্যে লিখিত বিবরণী (কড়চা করিয়া কিছু লাগিলা লিখিতে-বৃন্দাবন দাস)।
২. খাজনা সম্পর্কিত হিসাব খাতা।
৩. খণ্ড খণ্ড পদ্য রচনা।
৪. সংক্ষিপ্ত দিনপঞ্জি (গোবিন্দদাসের কড়চা)।

• বিবরণ -
১ ব্যাখ্যান।
২ বৃত্তান্ত।

সূত্র: প্রশাসনিক পরিভাষা ও অভিগম্য অভিধান।
৭,১৯৫.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) তরল পদার্থ
  2. খ) ঠান্ডা পানি
  3. গ) চলন্ত ট্রেন
  4. ঘ) এক টাকা
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষণ হচ্ছে ঠান্ডা পানি

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- ঠান্ডা পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যান্য অপশন:
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে- ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
যেমন- এক টাকা, আট দিন। এখানে- ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৭,১৯৬.
'পিক' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কোকিল
  2. কাক
  3. সাপ
  4. ময়ূর
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'পিক' শব্দের সমার্থক শব্দ হচ্ছে কোকিল।

• কোকিল এর কিছু সমার্থক শব্দ:
পিক, পরভৃত, পরপুষ্ট, অন্যভৃত,কাকপুচ্ছ, বসন্তসখা, বসন্তী, বসন্তদূত, মধুসখা, কুহুমুখ,কলকণ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭,১৯৭.
কোন বর্গের আগে কখনও 'ণ' হয় না?
  1. ট-বর্গ 
  2. প-বর্গ  
  3. ত-বর্গ 
  4. চ-বর্গ  
ব্যাখ্যা

ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ‘ণ’ প্রযোজ্য নয়। 
------------------ 
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- যেসব ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না, সেখানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনও ‘ণ’ হয় না।
- যেমন: অন্ত, গ্রন্থ।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- যেমন:
- দেশি শব্দ: কোণ, গণ্ড, ছাগল।
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭,১৯৮.
কোনটি নদীর সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ক) সরিৎ
  2. খ) তটিনী
  3. গ) গাং
  4. ঘ) পতিত পাবন
ব্যাখ্যা

নদী - তটিনী; স্রোতস্বতী; তরঙ্গিণী; প্রবাহিণী; সরিৎ; গাং।
অপরদিকে,
পতিতপাবন - পাপীদের ত্রাণ করেন এমন; ত্রাণকর্তা; উদ্ধারকারী।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৭,১৯৯.
'কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।' বাক্যটিতে কোন গুণের অভাব রয়েছে?
  1. আসত্তি
  2. আসক্তি
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭,২০০.
বাগ্‌ধারা নির্ণয় করুন: 'উনপাঁজুরে'
  1. একমাত্র সম্বল
  2. কিছু না জানা
  3. ন্যাকামি
  4. দুর্বল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।

অন্যদিকে,
আদিখ্যেতা - ন্যাকামি।
অন্ধকারে থাকা - কিছু না জানা।
অন্ধের যষ্টি - একমাত্র সম্বল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।