বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬৭ / ৩৫৪ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ৩৫,৭১৩

৬,৬০১.
বাগ্‌ধারা নয় কোনটি?
  1. চোখে সরষে ফুল দেখা
  2. চোখের নেশা
  3. চোখের ছাই
  4. চক্ষু চড়ক গাছ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌ধারা নয়- চোখের ছাই। 

অন্যদিক, 
• চক্ষু চড়ক গাছ - বিস্ময়।
বাক্য- ওইটুকু ছেলের কথার মারপ্যাঁচ শুনে তো আমার চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যাবার জোগাড়। 

• চোখে সরষে ফুল দেখা - বিপদে দিশেহারা হওয়া।
বাক্য- বাবার মৃত্যুতে শরীফ চোখে সরষে ফুল দেখছে।

• চোখের নেশা - মোহ।
বাক্য- চোখের নেশা দুদিনেই কেটে যাবে, তখন বুঝতে পারবে সবই ভুল ছিল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬,৬০২.
নিচের কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
  2. খ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  3. গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
  4. ঘ) সে এখন যাবে না
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়

 নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -সে এখন যাবে না

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন - কি: আমি কি যাব?

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৬,৬০৩.
যে সব শব্দের সাহায্যে মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায় তাকে কি বলে? 
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. কারক
  4. সমাস
ব্যাখ্যা

• মানুষের মনের ভাব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় বাক্য দিয়ে।

• ভাষা ও বাক্য:
গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়। বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২- সংস্করণ)।

৬,৬০৪.
'ততোধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কি?
  1. ক) তত + অধিক
  2. খ) ততঃ + অধিক
  3. গ) ততো + অধিক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'ততোধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ: 'ততঃ + অধিক'। 
- ‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম:
- পুর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্‌) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জ/ঝ, ড/ঢ, দ/ধ/ন, ব/ভ/ম) থাকে কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্‌/ল্‌) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও- ধ্বনি হয় এবং পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
- অ- ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে ( অ+ঃ +অ) এ তিনে মিলে ও কার হয়।
যেমন: ততঃ + অধিক= ততোধিক।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ম সংস্করণ)। 
৬,৬০৫.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) নরসিংহ
  2. খ) কাজল-কালো
  3. গ) নদীমাতৃক
  4. ঘ) যাচ্ছেতাই
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয় সমাস:
প্রত্যক্ষ বস্তুর সাথে পরােক্ষ বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয় বা উপমিত।
যেমন-
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ,
অনুরূপভাবে, নর সিংহের ন্যায় = নরসিংহ
- চরণ কোমলের ন্যায় = চরণকোমল,
- অধর কোমলের ন্যায় = অর্ধকোমল,
- ফুল বাবুর ন্যায় = ফুলবাবু,
- ফুল কুমারীর ন্যায় = ফুলকুমারী,
- কর কমল সদৃশ =করকমল,
- পদ পল্লবের ন্যায় = পদপল্লব ইত্যাদি।

কাজলের ন্যায় কালো = কাজলকালো = উপমান কর্মধারয় সমাস।
নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক = বহুব্রীহি সমাস।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬০৬.
'গোঁফখেজুরে' কোন প্রকাস সমাসের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত, লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনাে কখনাে ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন –
গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬০৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?  
  1. দাদী
  2. মন্ত্রীত্ব 
  3. সহযোগীতা  
  4. সাধ্বী
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- সাধ্বী। 
----------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে ঈ-কারের ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় খাঁটি সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার বসে।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জননী, নারী, স্ত্রী, সাধ্বী, গাভী, দেবী, কুমারী ইত্যাদি। 
-------------
• ব্যতিক্রম: 
- তৎসম না হওয়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার করা হয়।
- যেমন—
- মাসি, পিসি, দাদি।

- এছাড়াও, তৎসম শব্দে যদি ঈ-কারান্ত শব্দের সঙ্গে ‘-ত’, ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে ঈ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়ে লেখা হয়।
- যেমন-
- 'দায়ী' থেকে 'দায়িত্ব',
- 'সহযোগী' থেকে 'সহযোগিতা', 
- 'মন্ত্রী' থেকে 'মন্ত্রিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬,৬০৮.
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ-
  1. ক) গরু
  2. খ) বোকা
  3. গ) গবেষণাকারী
  4. ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ- জানালা 

বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান অনুসারে, 
গবাক্ষ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = গো+√অক্ষ্‌+অ 
অর্থ:
- আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেয়ালে নির্মিত পথ, ঘুলঘুলি।
- জানালা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,৬০৯.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়া?
  1. ক) আমি খাই।
  2. খ) সে ঘুমায়।
  3. গ) সে ফুটবল খেলে।
  4. ঘ) কামাল পড়ছে।
ব্যাখ্যা
সে ফুটবল খেলে- সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
এখানে ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ আছে। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। 
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া। 

অকর্মক ক্রিয়া
যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। 
যেমন: সে রোজ সেখানে যায়। 
কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬১০.
'বপন করা হয়েছে যা' তাকে এক কথায় কী বলে?
  1. উপ্ত
  2. ব্যপ্ত
  3. বপ্ত
  4. বোনাই
ব্যাখ্যা

'বপন করা হয়েছে যা' এর এক কথায় প্রকাশ= উপ্ত।

গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- বলা হয়েছে যা = উক্ত 
- বোনের বর = বোনাই
- বীজ বপনের উপযুক্ত সময় = জো 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৬১১.
নিচের কোনটি ঘটমান অতীতকালের ক্রিয়া?
  1. পৌঁছেছিলাম
  2. পড়ছিলাম
  3. জানিয়েছিলে
  4. উঠতাম
ব্যাখ্যা

সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৬,৬১২.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. ক) কাজলকালো
  2. খ) নয়নপদ্ম
  3. গ) কুসুমকোমল
  4. ঘ) মনমাঝি
ব্যাখ্যা
• উপমিত কর্মধারয়:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- নয়ন পদ্মের ন্যায় = নয়নপদ্ম;
- আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি;
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ; 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

[এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে;
- শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত;
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

[এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।]

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
কিছু কর্মধারয় নমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের অভেদ কল্পনা করা হয় । এগুলোকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু;
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬১৩.
বাংলায় কয় ধরনের স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
- বাংলায় দু ধরনের স্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়- মৌখিক / মৌলিক (oral) ও অনুনাসিক (nasalized) স্বরধ্বনি। মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটিরই অনুনাসিক রূপ আছে।

• অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বেরিয়ে এলে যেরকম ধ্বনি হয় তাকে বলা হয় অনুনাসিক বা সানুনাসিক স্বরধ্বনি। যেমন: আঁ, আঁ, ই, উ, এ, অ্যাঁ, ওঁ (অঁ-পঁয়ত্রিশ, আঁ- হাঁস, অ্যাঁ-স্যাঁতসেঁতে)।
- যেহেতু অনুনাসিক স্বরধ্বনিগুলো (আঁ, আঁ, ই, উ, এঁ, অ্যাঁ, ওঁ) বাংলায় তাদের মূল স্বরধ্বনির সঙ্গে শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার অনুনাসিক স্বরধ্বনিমূল (nasalized vowel phoneme) বা অনুনাসিক স্বরস্বনিম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬১৪.
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ ও প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে কোন বাক্য ব্যবহৃত হয়?
  1. আবেগসূচক 
  2. প্রশ্নবোধক 
  3. বিবৃতিমূলক 
  4. অনুজ্ঞাসূচক 
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।

যেমন:
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে, 
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম ।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য। 
যেমন: 
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড। 
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৬১৫.
"গবেষণা" শব্দটি কোন ধরণের শব্দের উদাহরণ?
  1. রূঢ়ি শব্দ 
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ 
  4. সাধিত শব্দ 
ব্যাখ্যা

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা: গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম-
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন- বাদাম তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৬,৬১৬.
'শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।' - এখানে 'শ্রদ্ধাবান' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্তা
  3. অপাদান
  4. কর্ম
ব্যাখ্যা
কর্তা কারক:
- ক্রিয়া যার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তাকে কর্তাকারক বলে। বাক্যের কর্তা বা উদ্দেশ্যই কর্তা কারক। কর্তা কারকে সাধারণত বিভক্তি যুক্ত হয় না।

যেমন:
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে।
- সপ্তপুরুষ যেথায় মানুষ।
- শ্রদ্ধাবান লভে জ্ঞান অন্যে কভু নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,৬১৭.
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) রান্না
  2. খ) সৌন্দর্য
  3. গ) পানসে
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ - রান্না = রাঁধ্‌+না। 
অনুরূপ ভাবে, কান্না = কাঁদ্‌+না। 

তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ
- সুন্দর+য = সৌন্দর্য 
- পানি+সে = পানসে 
- চতুর্‌+থ = চতুর্থ 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬১৮.
'শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।' - বাক্যে 'দিলেন' কোন ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

প্রযোজক ক্রিয়া:

- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬১৯.
"মন দিয়ে পড়ালেখা কর।" - বাক্যে 'দিয়ে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. সাধারণ অনুসর্গ
  3. বিশেষ অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি,
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬২০.
‘সমভিব্যাহারে’ অর্থ?
  1. ক) একা
  2. খ) সঙ্গে
  3. গ) সৎ ব্যবহারের সাথে
  4. ঘ) সমুচিত ব্যবহার
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সমভিব্যাহারে (ক্রিয়াবিশেষণ): একত্রে সঙ্ঘবদ্ধভাবে; সঙ্গে।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৬,৬২১.
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বায়
  2. খেচর
  3. মরুত
  4. বহ্নিসখ
ব্যাখ্যা
'পাখি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
খেচর, পক্ষী, বিহগ, বিহড়া, দ্বিজ, খগ, বিহঙ্গম, খচর, চিরিয়া।

অন্যদিকে, 
'বায়ু/বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুত, মারুত, বাত, বায়, আশুগ, পবমান, সদাগতি, বহ্নিসখ, জগতায়ু, জগৎপ্রাণ, মাতরিশ্বা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৬২২.
'সূনু' শব্দের অর্থ -
  1. রঙ্গন
  2. পুত্র
  3. পুষ্প
  4. পদ্ম
ব্যাখ্যা
• 'সূনু' শব্দের অর্থ - পুত্র

'পুত্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- ছেলে, আত্মজ, নন্দন, দুলাল, সুত, তনয়, খোকা, কুমার।

অন্যদিকে,
‘পদ্ম’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

‘ফুল’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
- পুষ্প, প্রসূন, কুসুম, মঞ্জরি, রঙ্গন, পুষ্পক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬২৩.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: তুমি সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছি।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,৬২৪.
'Autocracy' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. প্রজাতন্ত্র
  2. গণতন্ত্রের সমর্থক ব্যক্তি
  3. স্বৈরাচার
  4. স্বশাসিত
ব্যাখ্যা
• 'Autocracy' অর্থ - স্বৈরতন্ত্র; স্বৈরাচার; একনায়কতন্ত্র; স্বেচ্ছাতন্ত্র; স্বৈরশাসন।

অন্যদিকে, 
• 'Republic' অর্থ - প্রজাতন্ত্র। 
• 'Democrat' অর্থ - গণতন্ত্রের পক্ষপাতী বা সমর্থক ব্যক্তি; গণতান্ত্রিক।
• 'Autonomous' অর্থ - স্বশাসিত; স্বায়ত্তশাসিত; স্বাধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।
৬,৬২৫.
কোন বানানটি প্রমিত?
  1. পশ্চাদপদ
  2. পশ্চাৎগামী
  3. পশ্চাদ্‌ভূমি
  4. পশ্চাৎবর্তী
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বানান - পশ্চাদ্‌ভূমি।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- পেছনের স্থান,
-  পটভূমি, background।



উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬২৬.
কোনটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) বিলাতি
  2. খ) বিফল
  3. গ) বিকাল
  4. ঘ) বিরতি
ব্যাখ্যা
ই তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দঃ বিলাত + ই = বিলাতি, ইরান + ই = ইরানি, বিহার + ই = বিহারি, পাঞ্জাব + ই = পাঞ্জাবি, নেপাল + ই = নেপালি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা - ড.হায়াৎ মামুদ
৬,৬২৭.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. দ্ধ
  2. ন্ধ
  3. ষ্ট
  4. ব্ধ
ব্যাখ্যা
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - ষ্ট।

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬২৮.
নধর শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) শক্তিধর
  2. খ) তাজা
  3. গ) অলস
  4. ঘ) নফর
ব্যাখ্যা
নধর - নব জলধরের মতো; কোমলতা ও লাবণ্যযুক্ত; সরস ও নবীন; কমনীয়; কোমল; তাজা; সুস্পষ্ট; গোলমাল; সুডৌল।
সোর্সঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬,৬২৯.
'সাপের খোলস' এর এককথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. কঞ্চুক
  2. করভ
  3. কল্লোল
  4. কৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'সাপের খোলস' এর এককথায় প্রকাশ - কঞ্চুক বা নির্মোক।

অন্যদিকে,
• 'হাতির শাবক (বাচ্চা)' এর এককথায় প্রকাশ - করভ।
• 'সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ' এর এককথায় প্রকাশ - কল্লোল।
• 'বাঘের চর্ম' এর এককথায় প্রকাশ - কৃত্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩০.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. তারা বাড়ি যাচ্ছে।
  4. অতিশয় দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: তারা বাড়ি যাচ্ছে।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: অতিশয় দুঃখিত হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলদে ফুল দেখছ।
শুদ্ধ বাক্য: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩১.
'আশীর্বাদ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. আশির + বাদ
  2. আশা + বাদ
  3. আশীঃ + বাদ
  4. আশী + বাদ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ;
- নিঃ + আকার = নিরাকার;
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৩২.
‘ইনী’ - প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. বিহঙ্গিনী
  2. অরণ্যানী
  3. কাঙালিনী
  4. রজকিনী
ব্যাখ্যা

• ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীলিঙ্গ করা হয়।

যেমন:
গোয়ালা - গোয়ালিনী।
বিহঙ্গ - বিহঙ্গিনী
সন্ন্যাস - সন্ন্যাসিনী।
রজক - রজকিনী
কাঙাল - কাঙালিনী

অন্যদিকে,
শব্দের শেষে '-আনি'- 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে: অরণ্য - অরণ্যানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৩৩.
কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. কোলন
  3. দাঁড়ি
  4. প্রশ্ন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন নয় - কোলন।

⇒ বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৪টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৩৪.
'গিলা > গেলা' - কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. পরাগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা,
- মিলামিশা > মেলামেশা,
- মিঠা > মিঠে,
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন –
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা তুলো।

পরাগত স্বরসঙ্গতি:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন –
- মোজা > মুজো।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৩৫.
'যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন' এক কথায় বলে -
  1. অনন্যসাধারণ
  2. অনন্যকর্মা
  3. অনন্যপূর্বা
  4. অনন্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায়না এমন' এক কথায় বলে - অনন্যসাধারণ।

অন্যদিকে, 
• 'অনন্য' অর্থ - একক, অভিন্ন, অনুপম, অদ্বিতীয়।
• 'অনন্যকর্মা' অর্থ - সকল কর্ম ত্যাগ করে কোনো বিশেষ কর্মে রত এমন, একাগ্র।
• 'অনন্যপূর্বা' অর্থ - অবিবাহিতা; কুমারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৩৬.
কোন সংখ্যাবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) দোসরা
  2. খ) তেহাই
  3. গ) দ্বিতীয়া
  4. ঘ) আড়াই
ব্যাখ্যা
সাধারণ পূরণবাচক ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি। 
বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন - প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থ (৪র্থ), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়ােদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষােড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬৩৭.
‘জিগীষা’ বলতে নিচের কোনটিকে বোঝায়?
  1. জানবার ইচ্ছা
  2. দেখবার ইচ্ছা
  3. বাস করার ইচ্ছা
  4. জয় করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা

অন্যদিকে,
- জানবার ইচ্ছা এর এক কথায় প্রকাশ - জিজ্ঞাসা।
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - 'দিদৃক্ষা'। 
- 'বাস করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবৎসা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৩৮.
'Punitive' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. প্রাণদণ্ড
  2. দণ্ডার্থ
  3. নিট লাভ
  4. পুত্তলি
ব্যাখ্যা
• 'Punitive' এর বাংলা পরিভাষা : 'দণ্ডার্থ'। 

অন্যদিকে,
• 'Punishment' এর বাংলা পরিভাষা : প্রাণদণ্ড'। 
• 'Pure profit' এর বাংলা পরিভাষা : 'নিট লাভ'। 
• 'Pupa' এর বাংলা পরিভাষা : 'পুত্তলি'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা, Accessible Dictionary.
৬,৬৩৯.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. জলধি
  2. রাজপুত
  3. পঙ্কজ
  4. প্রবীণ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৪০.
'জ্বলন' এর বিপরীত শব্দ - 
  1. শীতলতা
  2. নির্বাপণ
  3. শ্লথ
  4. প্রশমন
  5. খ ও ঘ
ব্যাখ্যা

• 'জ্বলন' এর বিপরীত শব্দ - নির্বাপণ।
- 'নির্বাপণ' শব্দের অর্থ: প্রশমন।

অন্যদিকে,
- 'উত্তাপ' এর বিপরীত শব্দ - শীতলতা।
- 'ত্বরিত' এর বিপরীত শব্দ - শ্লথ।

আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• যুক্ত - বিযুক্ত,
• গূড় - ব্যক্ত,
• স্ববাস - প্রবাস,
• চেতন- অচেতন,
• নিশ্চেষ্ট- সচেষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।

৬,৬৪১.
জটিল বাক্য কোনটি? 
  1. সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে।
  2. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।  
  3. যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
  4. সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যােজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলাে যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম
- যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে। 

যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততােধিক স্বাধীন বাক্য যখন যােজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যােজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (;), ড্যাশ ( ) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যােজকের কাজ করে।
যেমন -
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছলো, তারপর পড়তে বসল।: 
- সে কাল আসবে, তার পর আমি যাব। 
- সে ধনী বটে, কিন্তু গরিবকে ভালোবাসে। 
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১ , ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৬,৬৪২.
‘কৃত্রিম’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পার্থিব 
  2. তামসিক
  3. নৈসর্গিক
  4. সাধারণ
ব্যাখ্যা

• ‘কৃত্রিম’ মানে মানুষের তৈরি বা প্রাকৃতিক নয়।
- এর বিপরীত হলো নৈসর্গিক বা প্রাকৃতিক। 

• কিছু বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- পার্থিব ↔ স্বর্গীয়, অলৌকিক; 
- সাধারণ ↔ অসাধারণ; 
- তামসিক ↔ আলো;
- রাজসিক ↔ সাধারণ;
- ব্যক্ত ↔ গুপ্ত;
- ভূত ↔ ভবিষ্যত;
- মনীষা ↔ নির্বোধ;
- মন্দা ↔ তেজি;
- বন্দি ↔ মুক্ত;
- সিক্ত ↔ শুষ্ক।

উৎস:
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৪৩.
'গয়ংগচ্ছ' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. ঢিলেমি
  2. ফাঁকি দেওয়া
  3. চাটুকার
  4. নিরুদ্বিগ্ন
ব্যাখ্যা
• 'গয়ংগচ্ছ' বাগ্‌ধারার অর্থ - ঢিলেমি

অন্যদিকে,
- খাতির জমা' বাগ্‌ধারার অর্থ - নিরুদ্বিগ্ন।
- 'খয়ের খাঁ' বাগ্‌ধারার অর্থ - চাটুকার।
- 'কলা দেখানো' বাগ্‌ধারার অর্থ - ফাঁকি দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।  
৬,৬৪৪.
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাকে কী বলে?
  1. ক) আসত্তি
  2. খ) যোগ্যতা
  3. গ) আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন- 'চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে'– এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা থাকে৷

বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায়: ''চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে''৷
এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৬,৬৪৫.
কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দুর্ভিক্ষ (ভিক্ষার অভাব)
  2. খ) নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার)
  3. গ) দম্পতি (জায়া ও পতি)
  4. ঘ) একাদশ (একের অধিক দশ)
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম,
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট,
- যা কাঁচা তাই পাকা= কাঁচাপাকা,
- ঋষি যে কবি = ঋষিকবি  ইত্যাদি।

• মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন, 
একের অধিক দশ= একাদশ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৬,৬৪৬.
'নির্বাপণ' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. পণ্ড
  2. জ্বলন
  3. শীতলতা
  4. পূরণ
ব্যাখ্যা
• 'নির্বাপণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - জ্বলন
- 'নির্বাপণ' শব্দের অর্থ: প্রশমন।

অন্যদিকে,
- 'হরণ' শব্দের বিপরীত শব্দ - পূরণ।
- 'উত্তাপ' শব্দের বিপরীত শব্দ - শীতলতা।
- 'পণ্ড' শব্দের বিপরীত শব্দ - সফল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৪৭.
'একচোখা' শব্দটি কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. প্রত্যয়ান্ত
  2. ব্যাধিকরণ
  3. মধ্যপদলোপী
  4. সমানাধিকরণ
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
- যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।

যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৬৪৮.
'চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. সমহ্ম
  2. প্রত্যক্ষ
  3. চাক্ষুষ
  4. পরোক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'চক্ষুর সম্মুখে সংঘটিত' এর এক কথায় প্রকাশ - চাক্ষুষ।

অন্যদিকে,
• 'অক্ষির সমীপে' এক কথায় বলে - সমক্ষ।
• 'অক্ষির অভিমুখে' এক কথায় বলে - প্রত্যক্ষ।
• 'অক্ষির অগোচরে' এক কথায় বলে - পরোক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৪৯.
'সর্বভুক' শব্দের অর্থ -
  1. ক) রাক্ষস
  2. খ) আগুন
  3. গ) বন্যা
  4. ঘ) সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

অগ্নি - অনল, আগুন, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বায়ুসখা, সর্বভুক

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৬,৬৫০.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
  2. গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
  3. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদ্বান নারী একালেও বিরল।
শুদ্ধ: বেগম রোকেয়ার মতো বিদুষী নারী একালেও বিরল।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

অশুদ্ধ: নতুন নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।
শুদ্ধ: নতুন ছেলেগুলো কলেজে বড় উৎপাত করছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৫১.
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি নিম্নের কোনটি?
  1. ক) [অ]
  2. খ) [আ
  3. গ) [ই]
  4. ঘ) [এ]
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি
২. মধ্য স্বরধ্বনি
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি

সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।
মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৫২.
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে আর্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ কোনটি?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. তদ্ভব
ব্যাখ্যা
• আর্যদের ব্যবহৃত ভাষা বৈদিক ভাষা। এই বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই হচ্ছে সংস্কৃত বা তৎসম ভাষা।

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগােষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৫৩.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা:
সরল ক্রিয়া: একটি মাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে তা সম্পন্ন করে তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন: সে লিখছে, ছেলেরা খেলছে ইত্যাদি।

প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

নাম ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ’ বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন: মেঘের বুকে বিদ্যুৎ চমকায়। 

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘করা', 'কাটা', 'হওয়া', 'দেওয়া' ইত্যাদি যোগ করে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: ভাঙন ধরা, লজ্জা পাওয়া, আছাড় খাওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, এগিয়ে আসা, বলে ফেলা, বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৫৪.
‘টেলিগ্রাফ’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. ইতালিয়ান
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

• ফরাসি শব্দ:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি শব্দ:
অ্যাপ্রন, ইউরো, কেটলি, টেলিপ্রিন্টার, টেনিস, সিল্ক ইত্যাদি।

• ইতালিয়ান শব্দ:
টেলিস্কোপ, ওলকপি, ডিসকাউন্ট, ম্যাজেন্টা, সনেট ইত্যাদি।

• তুর্কি ভাষার শব্দ:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বেগম, বাবা, বিবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৫৫.
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে- এ বাক্যে ‘টিপটিপ’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৫৬.
'হ্ম' যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. হ্‌ + ণ 
  2. ম্‌ + হ 
  3. হ্‌ + ম 
  4. হ্‌ + ষ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৬,৬৫৭.
"Polyandry" এর বাংলা পরিভাষা -
  1. বহুবিবাহ
  2. দূষণ
  3. বহুপতিত্ব
  4. দৃষ্টবাদ
ব্যাখ্যা

• "Polyandry" এর বাংলা পরিভাষা - বহুপতিত্ব

অন্যদিকে,
Polygamy - বহুবিবাহ।
Pollution - দূষণ।
Positivism - দৃষ্টবাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৫৮.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১টি
  2. ১৩টি
  3. ১৪টি
  4. ১৫টি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্ন ১৩ টি। সেগুলো হলো:

- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

তবে, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)- এ ত্রিবিন্দু (...) কে যতিচিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
- তাই এতে যতিচিহ্ন ১২ টি উল্লেখ আছে।

• কিন্তু, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

ক, অন্ত্যযতি,
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

খ. অভ্যন্তর যতি,
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি,
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।

[উল্লিখিত বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য এবং রিয়েল চাকরির পরীক্ষায় অপশনে ১৬টি থাকলে এটিই উত্তর করতে হবে ]।
৬,৬৫৯.
বাক্যে অর্ধচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন হয় না
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৬০.
‘বিদ্রোহ’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. বিদরোহ
  2.  বিদ্​দ্রোহো
  3. বিদদ্রহ
  4. বিদ্​রোহো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'বিদ্রোহ' এর সঠিক উচ্চারণ 'বিদ্​দ্রোহো'। 

- প্রচলিত ব্যবস্থার বিরোধিতা।।
- ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান।

 

উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৬১.
'আক্কেল গুড়ুম' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. নির্বুদ্ধিতার দণ্ড
  2. হতবুদ্ধি
  3. হতভাগ্য
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা
• 'আক্কেল গুড়ুম' অর্থ - হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত। 
- বাক্য: ইঁচড়ে পাকা ছেলেটার কথা শুনে আমার আক্কেল গুড়ুম।

অন্যদিকে, 
• 'আক্কেল সেলামি' অর্থ- নির্বুদ্ধিতার দণ্ড। 
• 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' অর্থ- অপদার্থ। 
• 'আটকপালে' অর্থ- হতভাগ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
৬,৬৬২.
'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ভ্রম্য + মান
  2. √ ভ্রমণ + ষ্ণ
  3. √ ভ্রাম্য + শানচ্‌
  4. √ ভ্রাম্য + মাণ
ব্যাখ্যা
• 'ভাম্যমাণ' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় - √ ভ্রাম্য + শানচ্‌।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়:
- 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √নন্দি+অন।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √দৃশ্ + অনীয়।
- 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: দাপ + অট।
- 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্‌ + ইন্‌ '।
- 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় : √দৃশ্‌ + অনীয়'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৬৩.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. মেয়েটি স্বয়ম্বর ।
  2. সব মাছগুলোর দাম কত।
  3. কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
  4. বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- বিনয়পূর্বক নিবেদন করি।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ম্বর ।
• শুদ্ধ বাক্য: মেয়েটি স্বয়ংবরা।

• অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
• শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

• অশুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষতা প্রশংসনীয়।
• শুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৬৪.
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'- কোন বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) যৌগিক বাক্য
  3. গ) জটিল
  4. ঘ) মিশ্র
ব্যাখ্যা
'লোকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়'- বাক্যটি যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

যৌগিক বাক্য
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন –
হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
অন্ধকার হয়ে এসেছে – বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল । তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি – এতে দোষের কিছু নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৬,৬৬৫.
সন্ধিঘটিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) লবণ
  2. খ) দুস্থ
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) নবীন
ব্যাখ্যা
লবণ = লো + অন হলো তৎসম স্বরসন্ধি। সম্ + কৃত = সংস্কৃত বিশেষ নিয়মে সাধিত সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি। দুঃ + থ = দুস্থ বিসর্গসন্ধি। নবীন = নব + নীন হলো সংস্কৃত নীন তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৬৬৬.
উৎসমূল অনুসারে 'কালবৈশাখি' কোন শব্দ?
  1. দেশি
  2. সংস্কৃত
  3. হিন্দি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
- 'কালবৈশাখি'- সংস্কৃত শব্দ।

• 'কালবৈশাখি'
- বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার ওপর দিয়ে চৈত্র- বৈশাখ মাসে উত্তর পশ্চিম দিক হতে প্রবাহিত প্রবল ঝড়বৃষ্টি।
- ইংরেজিতে একে nor'wester বলা হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৬৭.
'জুগুপ্সা' বলতে কী বোঝায়?
  1. ক্ষমার যোগ্য
  2. গোপন করার ইচ্ছা
  3. ক্ষমা করতে ইচ্ছুক
  4. ক্ষমা করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• 'গোপন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা

অন্যদিকে,
ক্ষমা করতে ইচ্ছুক - তিতিক্ষু।
ক্ষমা করার ইচ্ছা = তিতিক্ষা।
ক্ষমার যোগ্য = ক্ষমার্হ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৬৮.
‘Monsoon’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. অমাবস্যা
  3. পূর্ণিমা
  4. মৌসুমী বায়ু
ব্যাখ্যা
• ‘Monsoon’ এর বাংলা পরিভাষা - মৌসুমী বায়ু

অন্যদিকে, 
• ‘Moon’ এর বাংলা পরিভাষা - চাঁদ।
• ‘New moon’ এর বাংলা পরিভাষা - অমাবস্যা।
• ‘Full moon’ এর বাংলা পরিভাষা - পূর্ণিমা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৬,৬৬৯.
‘ব্যর্থ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ব্য+অর্থ
  2. বি+অর্থ
  3. ব্যা+অর্থ
  4. ব+অর্থ
ব্যাখ্যা
‘ব্যর্থ শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = বি+অর্থ। 

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য বা য ( ্য) ফলা হয়। য- ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
ই + অ = য্ + অ        অতি + অন্ত = অত্যন্ত
ই + আ = য্ + আ      ইতি + আদি = ইত্যাদি
ই + উ = য্ + উ        অতি + উক্তি = অত্যক্তি
ই + ঊ = য্ + ঊ        প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
ঈ + অ =য্ + অ       নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
৬,৬৭০.
শুদ্ধ বানানে লিখিত শব্দগুচ্ছ নিচের কোনগুলো?
  1. ক) প্রাণিবিদ্যা, মন্ত্রিপরিষদ, সহযোগীতা
  2. খ) শারীরীক, অন্তরীপ, পরীক্ষা
  3. গ) নিশীথিনী, মহীয়ান, হরীতকি
  4. ঘ) শার্দূল, মরুভূমি, ভাগীরথী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান গুচ্ছ: শার্দূল, মরুভূমি, ভাগীরথী

অপশন ক) -তে সহযোগীতা।
অপশন খ) -তে  শারীরীক।
অপশন গ) -তে হরীতকি বানানগুলো অশুদ্ধ।

•  ভুল বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:  সহযোগিতা, শারীরিক, হরীতকী, হরিতকী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
 
 
৬,৬৭১.
'শিল্পী' শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'শিল্পী' দ্বারা নারী বা পুরুষ উভয়ই বোঝায় তাই শিল্পী উভয়লিঙ্গ।

- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
- উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলো: শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

• বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. পুংলিঙ্গ,
২. স্ত্রীলিঙ্গ,
৩. ক্লীবলিঙ্গ ও
৪. উভয়লিঙ্গ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭২.
’ফরমান’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. উর্দু
  3. হিন্দি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’ফরমান’ ফারসি ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ।
অর্থ- আদেশ, হুকুম; আদেশপত্র, হুকুমনামা, সংবাদ, খবর; বাণী।

• আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ ফারসি শব্দ : দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৭৩.
ভাববাচ্যের উদাহরণ রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. এ পথে চলা যায় না।
  2. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
  5. রোগী পথ্য সেবন করে।
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


অন্যদিকে,
--------------------
• কর্মবাচ্য:

যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

• কর্তৃবাচ্য:
যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

• কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।
যথা -
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৬৭৪.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অনাবাদী
  2. অপদস্ত
  3. অব্যার্থ
  4. অভাগিনি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ শব্দ:  অভাগিনি।
অর্থ: ভাগ্যহীন, হতভাগ্য।

অন্যদিকে, 
• অশুদ্ধ: অনাবাদী,
শুদ্ধ: অনাবাদি।
অর্থ: অকর্ষিত; চাষাবাদের অযোগ্য।

• অশুদ্ধ: অপদস্ত।
শুদ্ধ: অপদস্থ।
অর্থ: লাঞ্ছিত, অসম্মানিত।

• অশুদ্ধ: অব্যার্থ।
শুদ্ধ: অব্যর্থ।
অর্থ: কখনো বিফল হয় না এমন, অমোঘ, সার্থক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৭৫.
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) চার ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) পাঁচ ভাগে
  4. ঘ) ছয় ভাগে
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্ প্রতঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পথ, তল টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
- উচ্চারণ স্থান এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা-
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:           প ফ ব ভ
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:           ত থ দ ধ
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:           ট ঠ ড ঢ
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:          চ ছ জ ঝ
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:           কখ গ ঘ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
 
৬,৬৭৬.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড় কোনটি?
  1. ক) প্রসাদ-রোজ
  2. খ) বিপন্নতা-নিরাপত্তা
  3. গ) ফাঁপা-ভরা
  4. ঘ) বিকাশ-নিকাশ
ব্যাখ্যা
• বিপন্নতা-নিরাপত্তা সঠিক বিপরীতার্থক শব্দজোড় ।

অন্যদিকে,
মূল শব্দ - বিপরীতার্থক শব্দ
ফাঁপা - নিরেট।
প্রসাদ - রোষ।
বিকাশ - বিলয়, বিনাশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৬৭৭.
'সরকার' শব্দের 'স' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'সরকার' শব্দের 'স' দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

--------------
• ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাক্প্র‌ত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• তালব্য ব্যঞ্জন - চ, ছ, জ, ঝ, শ।
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন - ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়।
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন - ক, খ, গ; ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৬৭৮.
'হাতে খড়ি' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. উপার্জন শুরু
  2. বিদ্যারম্ভ
  3. কারিগরি কাজ
  4. খাতা-কলম দেওয়া
ব্যাখ্যা
• 'হাতে খড়ি' বাগ্‌ধারার অর্থ - বিদ্যারম্ভ।

'হাত' শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ-

• হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল): এ টাকা কটিই ছিল আমার হাতের পাঁচ।
• হাতে হাতে (অবিলম্বে): হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন।
• হাতে খড়ি (বিদ্যারম্ভ): এ মাসেই খোকার হাতে খড়ি হবে।
• হাতে কলমে (স্বহস্তে, কার্যকর ভাবে): হাতে-কলমে শিক্ষা কেতাবি শিক্ষার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬৭৯.
শব্দদ্বিত্ব কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. ছয় প্রকার
ব্যাখ্যা
• শব্দদ্বিত্ব:
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে দুইবার ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে শব্দদ্বিত্ব বলে।

• শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার।
যথা:

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন: টুং টুং, ঠুক ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম, হিস হিস, শোঁ শোঁ, ফুসুর ফুসুর।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৬৮০.
সন্ধির অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) অদ্যবধি
  2. খ) চলচ্ছক্তি
  3. গ) দুরদৃষ্ট
  4. ঘ) পশ্বধম
ব্যাখ্যা
অদ্যাবধি = অদ্য +অবধি, চলচ্ছক্তি = চলৎ+শক্তি, দুরদৃষ্ট = দুঃ+অদৃষ্ট, পশ্বধম = পশু+অধম৷
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৬৮১.
নিচের কোনটি পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়?
  1. উনিশতম
  2. আড়াই
  3. একানব্বই
  4. তেহাই
ব্যাখ্যা
• 'একানব্বই' পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ নয়।
- এটি ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।

• ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ:

- একের পর এক যে সংখ্যাগুলো আসে, সেগুলো ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ।
- যেমন: ১ (এক), ২ (দুই), ৩ (তিন), ৪ (চার), ৫ (পাঁচ), ৬ (ছয়), ৭ (সাত), ৮ (আট), ৯ (নয়), ১০ (দশ), ১১ (এগারো)।
- ক্রমবাচক সংখ্যাবর্ণের সুবিধা হলো এতে ১ থেকে ৯ এবং ০ দিয়ে অসীম সংখ্যার পূর্ব পর্যন্ত ক্রম তৈরি করা যায়।
- ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দের এক বা একাধিক প্রতিশব্দ রয়েছে।
- এগুলো কখনো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়, কখনো সমাসবদ্ধ শব্দের পূর্বপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যেমন 'দুই' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'দ্বি', 'দু', এবং 'দো'। 'তিন' সংখ্যাশব্দের প্রতিশব্দ 'ত্রি' এবং 'তে'।

অন্যদিকে,
- উনিশতম - সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- আড়াই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।
- তেহাই - ভগ্নাংশ পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৬৮২.
নিচের কোনটি ব্যাকরণের রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. প্রতিশব্দ
  2. বাগ্‌ধারা
  3. শব্দজোড়
  4. শব্দগঠন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় 'শব্দগঠন প্রক্রিয়া'।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৬৮৩.
‘যা আঘাত পায়নি।’ — একে এক কথায় কী বলে?
  1. অনাহুত
  2. অক্ষত
  3. অনাহত
  4. অনায়াস
ব্যাখ্যা

• ‘যা আঘাত পায় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহত

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ: 
• ‘যা আহুত (ডাকা) হয় নি’ এর এক কথায় প্রকাশ - অনাহুত।
• ‘যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে’ এক কথায বলে - প্রত্যুৎপন্নমতি ৷
• ‘যার কোন কিছু থেকেই ভয় নেই’ এক কথায বলে - অকুতোভয় ৷
• ‘কথায় প্রকাশ করার অযোগ্য’ এক কথায় প্রকাশ - অবক্তব্য।
• ’যা পূর্বে শোনা যায় নি এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অশ্রুতপূর্ব।
• ‘যা কখনো নষ্ট হয় না এমন’ এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৬৮৪.
ব্যাকরণ ও ভাষার মধ্যে কোনটি আগে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ক) ব্যাকরণ
  2. খ) ভাষা
  3. গ) ব্যাকরণ ও ভাষা উভয় একসাথে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মনের ভাব প্রকাশের জন্যে মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টি ভাষা বলে। ভাষার মূল উপাদান হলো ধ্বনি। ধ্বনির সাহায্যেই ভাষার সৃষ্টি। ধ্বনির লিখিত রূপকে বর্ণ বলে। বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয় শব্দ এবং শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয় বাক্য। এই বাক্য হলো ভাষার মূল উপকরণ।
ব্যাকরণ একটি সংস্কৃত শব্দ যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো বিশেষভাবে বিশ্লেষণ করা। কোন ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে সেই ভাষার উপকরণ এবং উপাদানগুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করে ভাষার অভ্যন্তরীন শৃঙ্খলা সম্পর্কে জানা যায়। ব্যাকরণ ভাষার শৃঙ্খলা রক্ষা করে নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করে এবং তা প্রয়োগের রীতি সুত্রবদ্ধ করে। সুতরাং, ব্যাকরণকে ভাষার আইন বলা যায়।
সুতরাং ভাষা আগে সৃষ্টি হয় এবং এই ভাষাকে শৃঙ্খলিত করতে ব্যাকরণের সৃষ্টি।
৬,৬৮৫.
'অরুণরাঙা' - শব্দটি কোন সমাসসাধিত?
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. রূপক কর্মধারয়
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. সাধারণ কর্মধারয়
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয়:
- উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
- প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়, আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
- উপমান ও উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
- যেমন: ভ্রমরের ন্যায় কৃষ্ণ কেশ = ভ্রমরকৃষ্ণকেশ।এখানে 'ভ্রমর' উপমান এবং 'কেশ' উপমেয়।
- কৃষ্ণত্ব হলো সাধারণ ধর্ম।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমানবাচক পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।

যথা:
তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র,
অরুণের ন্যায় রাঙা = অরুণরাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৬৮৬.
'খিড়কি' শব্দটি যে ভাষা থেকে আগত -
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. দেশি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'খিড়কি' শব্দটি দেশি শব্দ।



• দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
যথা: ওড়না, পেট, ডাব, টোপর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৮৭.
”তুর্কি-নাচন” বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. তুমুল কাণ্ড
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. অনুসন্ধান
  4. তোষামোদ
ব্যাখ্যা

”তুর্কি-নাচন” বাগ্‌ধারাটির অর্থ = তুমুল কাণ্ড।

অন্যদিকে,
”তাসের ঘর” বাগ্‌ধারাটির অর্থ = ক্ষণস্থায়ী।
”টুঁ - মারা” বাগ্‌ধারাটির অর্থ = অনুসন্ধান।
”তেল মাখানো” বাগ্‌ধারাটির অর্থ = তোষামোদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৮৮.
বর্গের কোন বর্ণসমূহ অল্পপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) ১ম ও ২য় বর্ণ
  2. খ) ২য় ও ৩য় বর্ণ
  3. গ) ২য় ও ৪র্থ বর্ণ
  4. ঘ) ১ম ও ৩য় বর্ণ
ব্যাখ্যা

• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণধ্বনি,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণধ্বনি,
• পঞ্চম বর্গ নাসিক্যধ্বনি।
• আবার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ,
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ।
উৎসঃ উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৮৯.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. আমির
  2. আমানত
  3. দারোগা
  4. কুপন
ব্যাখ্যা
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৬৯০.
'ভাস্কর' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাঃ + কর
  2. ভাস্ব + কর
  3. ভাস + কর
  4. ভাঃ + স্কর
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃৃত থাকে অথবা লোপ পায়।
যেমন:
- নিঃ + স্তদ্ধ = নিস্তব্ধ।
- দুঃ + স্থ = দুস্থ।
- নিঃ + স্পন্দ = নিস্পন্দ।

কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ:
- বাচঃ + পতি = বাচস্পতি।
- অহঃ + অহ = অহরহ।
- অহঃ + নিশ = অহর্নিশ।
- ভাঃ + কর = ভাস্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৬৯১.
'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য
  2. অপূর্ণ
  3. না
  4. আধা
ব্যাখ্যা

• 'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' উপসর্গটি অর্ধেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি একটি ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ নিনম্নরূপ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে: ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে: নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে: বনাম, বকলম, বমাল।
- কম: অল্প অর্থে: কমবখ্ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে: বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে: বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে: নিমরাজি, নিমমোল্লা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৯২.
'চোখের নিমেষ না ফেলিয়া'-এর বাক্য সংকোচন-
  1. অনিমেষ
  2. তাৎক্ষণিক
  3. নিমেষে
  4. প্রত্যক্ষী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'চোখের নিমেষ না ফেলিয়া' এর বাক্য সংকোচন - অনিমেষ।

• নিমেষ, নিমিষ (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- পলক;
- চোখের পাতার স্পন্দন (অতলের পানে চাহি নয়নে নিমেষ নহি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।


• অনিমিষ, অনিমেষ (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
১. অপলক; বদ্ধদৃষ্টি (আঁখি অনিমিষ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। 
২. স্থির; নিস্পন্দ; অচল (তুমি অনিমেষ মুরতি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। 
৩. অনিমেষনেত্রে, অনিমেষলোচনে (ক্রিয়াবিশেষণ) স্থির দৃষ্টিতে; অপলক দৃষ্টিতে। 

অন্যদিকে,
• ‘প্রত্যক্ষ করে এমন’ এর বাক্য সংকোচন - প্রত্যক্ষী।
• ‘তৎকালীন এমন’ এর বাক্য সংকোচন - তাৎক্ষণিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা একাডেমি, আধুনি বাংলা অভিধান।
৬,৬৯৩.
'করাতে কাটে কাঠ'- বাক্যে ব্যবহৃত ‘করাতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' জিজ্ঞাসা করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তা-ই করণ কারক।

করণ কারকে বিভক্তির ব্যবহার-
- করণ কারকে সাধারণত দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি তৃতীয়া বিভক্তির (অনুসর্গের) ব্যবহার হয়।
-তবে অন্য বিভক্তিগুলােরও প্রয়ােগ রয়েছে।
- করণ কারকে ‘দ্বারা বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমাদের দ্বারা দেশের ক্ষতি হবে।
- করণ কারকে ‘দিয়া বিভক্তি (অনুসর্গ) - তােমার লােক দিয়ে কাজটা করাবে।
- করণ কারকে শূন্য (০) বা অ-বিভক্তি - রফিক তাস খেলে।
- করণ কারকে এ-বিভক্তি - গ্যাসে গাড়ি চলে।
- করণ কারকে য়-বিভক্তি - টাকায় টাকা হয়।
- করণ কারকে তে-বিভক্তি - তার কথা যেন মধুতে মাখা
- আবার, এ, য়, তে সপ্তমী বিভক্তির উদাহরণ।

অতএব 'করাতে কাটে কাঠ' বাক্যটিকে কার দ্বারা গাছ কাটে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যায় কড়াতে। তাই ‘করাতে’ করণে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যোতিভূষণ চাকী।
৬,৬৯৪.
কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"- উক্তিটির পরোক্ষরূপ কোনটি?
  1. কামাল বললেন যে, সে আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  2. কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
  3. কামাল বললেন যে, তিনি আগামীকাল সেখানে আবার যাবেন।
  4. কামাল বললেন, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।
ব্যাখ্যা

• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: কামাল বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"
পরোক্ষ উক্তি: কামাল বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,৬৯৫.
'কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো' এর ইংরেজি অনুবাদ কী?
  1. The authorities criticised him.
  2. The authorities took him to book.
  3. The authorities take him to task.
  4. The authorities took him to task.
ব্যাখ্যা
'কর্তৃপক্ষ তাকে তিরস্কার করলো' এর ইংরেজি অনুবাদ: The authorities took him to task.

উল্লেখ্য,
- কাউকে তিরস্কার করা অর্থে - Take someone to task এই phrase টি ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৬৯৬.
"হৃদয়" শব্দের যুক্তবর্ণে কী কী বর্ণ আছে?
  1. হ্ + ন
  2. হ্ + ঋ
  3. হ্ + ণ
  4. ণ্‌ + হ
ব্যাখ্যা
"হৃদয়" শব্দের যুক্তবর্ণটি - হ্ + ঋ = হৃ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- ষ্ণ = ষ + ণ।
- ঞ্চ = ঞ্ + চ 
- ঞ্ছ =  ঞ্ + ছ
- ঞ্জ = ঞ্ + জ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৬,৬৯৭.
'আইনজীবী' - শব্দটি কোন দুটি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে?
  1. আরবি ও ফারসি
  2. ফারসি ও তৎসম
  3. ফারসি ও আরবি
  4. তৎসম ও ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'আইনজীবী' শব্দটি "ফারসি ও তৎসম/সংস্কৃত" দুটি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে।
- এটি একটি বিশেষ্য।

শব্দের অর্থ:
- উকিল মোক্তার ব্যারিস্টার প্রমুখ ব্যবহারজীবী।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দ:
ধনদৌলত (সংস্কৃত+আরবি),
ঝড়তুফান (দেশি+আরবি),
পকেটমার (ইংরেজি+বাংলা)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৬৯৮.
’যে সহ্য করতে পারে’- বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. সুহৃদ
  2. সরোজ
  3. সর্বাজ্ঞা
  4. সহিষ্ণু
ব্যাখ্যা

’যে সহ্য করতে পারে’- বাগ্‌ধারার অর্থ- সহিষ্ণু।

অন্যদিকে,
’সু হৃদয় যাঁর’- বাগ্‌ধারার অর্থ- সুহৃদ।
’যা সরোবরে জন্মে’- বাগ্‌ধারার অর্থ- সরোজ।
’যে সব জানে’- বাগ্‌ধারার অর্থ- সর্বাজ্ঞা।

উৎস: ভাষা শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৬৯৯.
অশুদ্ধ বানান -
  1. কূপমণ্ডূক
  2. কৃচ্ছ্বসাধন
  3. বিভূতিভূষণ
  4. নিরুপম
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - কৃচ্ছ্বসাধন
- শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

অন্যদিকে,
- কূপমণ্ডূক, বিভূতিভূষণ এবং নিরুপম - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৭০০.
'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. বরুণ
  2. অর্ণব
  3. মহিধর
  4. পয়োধি
ব্যাখ্যা
• 'সমুদ্র' এর প্রতিশব্দ নয়- মহিধর। 

'সমুদ্র' এর কিছু প্রতিশব্দ:
বরুণ, পাথার, রত্নাকর, অর্ণব, দরিয়া, পারাবার, পয়োধি, সিন্ধু, সাগর ইত্যাদি।

------------
• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
মহিধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, ভূভৃৎ, নগ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।