বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬৬ / ৩৫৪ · ৬,৫০১৬,৬০০ / ৩৫,৭১৩

৬,৫০১.
অন্যকে দিয়ে করা বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৬,৫০২.
'ইন্দ্রজাল বিদ্যায় পারদর্শী' এক কথায় প্রকাশ কী বলে?
  1. ঐন্দ্রজালিক
  2. ঐন্দ্রিয়িক
  3. ঐন্দ্রিয়
  4. ঐন্দ্রিয়ক
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দ্রজাল (জাদু) বিদ্যায় পারদর্শী' এক কথায় প্রকাশ - ঐন্দ্রজালিক।

অন্যদিকে,
• 'ঐন্দ্রিয়িক'(বিশেষণ পদ),
- অর্থ: ইন্দ্রিয় সম্বন্ধীয়; প্রত্যক্ষ।

• 'ঐন্দ্রিয়ক'/ 'ঐন্দ্রিয়' (বিশেষ্য পদ)
- অর্থ: ইন্দ্রিয় সম্বন্ধীয়; ইন্দ্রিয় পরায়ণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৫০৩.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. শোনা
  2. বহর
  3. দর্শন
  4. উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun):
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা। তদ্রুপ সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun):
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ- ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫০৪.
"ব্যাসবাক্য" কাকে ব্যাখ্যা করে?
  1. সমস্যমান পদকে
  2. সমস্তপদকে
  3. পূর্বপদকে
  4. পরপদকে
ব্যাখ্যা

সমাস:
- পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস।
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে'। 

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:

ক. সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ:
- সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
যেমন— সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়। 
- সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ‘ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।

৬,৫০৫.
নিচের কোনটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. খাসজমি
  2. গোলাপফুল
  3. গোঁফখেজুরে
  4. টাকমাথা
ব্যাখ্যা
পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমনঃ
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।
- 'গোঁফখেজুরে' কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ নয়। 

অন্যদিকে: 
• কর্মধারয় সমাস: 

- যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
 - গোলাপ নামের ফুল = গোলাপফুল,
- যা কাঁচা তাই মিঠা = কাঁচা-মিঠা। 
- খাস যে জমি = খাসজমি। 

কিছু কর্মধারয় সমাসের সমস্যমান পদে ‘যে’ যোজক থাকে,
যেমন:
– ভাজা যে বেগুন = বেগুনভাজা,
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- কনক যে চাঁপা = কনকচাঁপা,
- টাক যে মাথা = টাকমাথা,
- যে চালাক সে চতুর = চালাকচতুর,
- যে শান্ত সে শিষ্ট = শান্তশিষ্ট। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম - দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
৬,৫০৬.
'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) ধ্বনি দৃশ্যমান
  2. খ) মানুষের ভাষার মূলে আছে কতগুলো ধ্বনি
  3. গ) ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয় 
  4. ঘ) অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্‌ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- ধ্বনি বলতে সাধারণভাবে আমরা যেকোন আওয়াজকেই বুঝে থাকি।
- ভাষার ধ্বনি হলো বাগ্‌যন্থের সাহায্যে উচ্চারিত এমন কিছু ধ্বনি, যা মনের ভাব প্রকাশের জন্য মানুষ ব্যবহার করে থাকে। 
---------
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "কোনও ভাষার উচ্চারিত শব্দকে বিশ্লেষণ করলে, আমরা কতগুলি ধ্বনি পাই।"

ধ্বনিতাত্ত্বিক মুহম্মদ আবদুল হাই ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব’ গ্রন্থে লিখেছেন, "অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাগ্‌ধ্বনি।"
---------
মূল কথা হলো,
- অর্থবোধক ধ্বনি সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান।
- কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, উচ্চারণীয়শ্রবণীয়
- ধ্বনিকে দৃশ্যমান দেওয়ার জন্য বা লিখিত আকারে প্রকাশ করার জন্যে প্রয়োজন হয় এক প্রকার সংকেত বা চিহ্নের। এই সঙ্কেত বা চিহ্নকে বর্ণ বলে।
- ধ্বনি দৃশ্যমান না হলেও বর্ণ দৃশ্যমান হয়ে থাকে

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৫০৭.
'চাঁদ' কোন প্রকার শব্দ?
  1. তৎসম শব্দ 
  2. দেশী শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ 
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদ' একটি তদ্ভব শব্দ।

তদ্ভব শব্দ: 
- সংস্কৃত শব্দ থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলায় এসেছে যে শব্দ।

'চাঁদ' এর উৎপত্তি:
- সংস্কৃত: চন্দ্র;
- প্রাকৃত: চন্দ;
- বাংলা: চাঁদ।

আরো তদ্ভব শব্দের উদাহরণ:
- হাত (হস্ত থেকে);
- মাথা (মস্তক থেকে);
- দুধ (দুগ্ধ থেকে);
- আগুন (অগ্নি থেকে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৫০৮.
'কমজোর' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) উর্দু
ব্যাখ্যা
'কমজোর' শব্দটি ফারসি উপসর্গযোগে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি উপসর্গেরও আগমন ঘটেছে। বাংলা ভাষার সঙ্গে এসব উপসর্গ ঘনিষ্ঠভাবে মিশে গেছে। বিভিন্ন শব্দের আগে এগুলো যুক্ত হয়। যেমন :

- ইংরেজি : ফুল, হাফ, হেড, সাব। যেমন : হাফ হাতা =হাফ হাতা, হেড + পণ্ডিত হেডপণ্ডিত।
- আরবি : আম, খাস, গর, লা, খয়ের, বাজে। যেমন : খাস + জমি = খাসজমি, আম + দরবার = আমদরবার, লা + জওয়াব = লাজওয়াব, গর + হাজির = গরহাজির।
- ফারসি : কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। যেমন : নিম + রাজি = নিমরাজি, ফি+ বছর = ফিবছর, বদ + খেয়াল = বদখেয়াল, কম + জোর = কমজোর।
- উর্দু ও হিন্দি : হর, হরেক। যেমন : হর+দম = হরদম, হর + এক = হরেক, হরেক + রকম = হরেকরকম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৫০৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1.  বিধি লঙ্ঘণ হয়েছে।
  2. নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।
  3. দেশের লাঠি দশের বোঝা।
  4. কাব্যটির উৎকর্সতা প্রশংসনীয়।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- নৌকা স্রোতে ভাসিয়া চলিয়াছিল।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য-  বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য- বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।

• অশুদ্ধ বাক্য-  দেশের লাঠি দশের বোঝা।
• শুদ্ধ বাক্য- দশের লাঠি একের বোঝা।

• অশুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্সতা প্রশংসনীয়।
• শুদ্ধ বাক্য- কাব্যটির উৎকর্ষ প্রশংসনীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫১০.
"প্রশস্ত" এর বিপরীত শব্দ—
  1. সংকীর্ণ
  2. ক্ষুদ্র
  3. ছোট
  4. সীমিত
ব্যাখ্যা
• 'প্রশস্ত' শব্দের বিপরীত শব্দ - সংকীর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত,
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত,
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত,
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ -নির্দয়,
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ -বিনীত, 
- 'ঔদ্ধত্য' এর বিপরীত শব্দ - বিনয় । 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৫১১.
‘অগত্যা মধুসূদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. শেষ যাত্রা
  2. অন্তর্গত আঘাত
  3. শেষ শয্যা
  4. অনন্যোপায়
ব্যাখ্যা
• ‘অগত্যা মধুসূদন’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অনন্যোপায়

অন্যদিকে:
- 'অগস্ত যাত্রা' বাগ্‌ধারার অর্থ - শেষ যাত্রা।
- 'অঙ্কুশ-তাড়না' বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্তর্গত আঘাত।
- 'অনন্তশয্যা' বাগ্‌ধারার অর্থ - শেষ শয্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৫১২.
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতার উপর ভিত্তি করে স্বরধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে (জিভের উচ্চতা) জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
- উচ্চ স্বরধ্বনি ই, উ]
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৫১৩.
রূঢ়ি শব্দ কিসের দ্বারা গঠিত?
  1. ক) উপসর্গ দ্বারা
  2. খ) কারক দ্বারা
  3. গ) প্রত্যয় বা উপসর্গ দ্বারা
  4. ঘ) সমাস দ্বারা
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
গায়ক = গৈ + ণক ( অক) অর্থ গান করে যে
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ যা করা উচিত
বাবুয়ানা = বাবু + আনা অর্থ বাবুর ভাব
মধুর = মধু + র অর্থ মধুর মত মিষ্টি গুণ যুক্ত
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ - অর্থ কন্যার পুত্র বা নাতি। 

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন -
- হস্তী = হস্ত + ইন অর্থ - হস্ত আছে যার কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা ( গো + এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।  

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদ সমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহন করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ - পঙ্কে জন্মে যা।
শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
কিন্তু পঙ্কজ শব্দটি একমাত্র পদ্মফুল অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ -সংস্করণ]
 
৬,৫১৪.
নিচের কোনটি ভুল বানান?
  1. পুরস্কার
  2. তিরষ্কার
  3. নূপুর
  4. নিষ্প্রাণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) তিরষ্কার।

• বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে,
- 'র- ধ্বনি'র পরে যদি অ, আ স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'স' হবে।
যেমন: পুরস্কার, তিরস্কার ইত্যাদি। 

অন্য অপশনগুলির "পুরস্কার; নূপুর; নিষ্প্রাণ" বানান সঠিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৫১৫.
আমূল শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. নয় মূল 
  2. মূল থেকে
  3. মূল পর্যন্ত
  4. ন মূল
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদ অব্যয়ের সঙ্গে পরপদ বিশেষ্যের সমাস হয় এবং অব্যয় পদের অর্থই প্রধানরুপে প্রতীয়মান হয় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন:
- জীবন পর্যন্ত = আজীবন;
- সমুদ্র পর্যন্ত = আসমুদ্র;
- মূল পর্যন্ত = আমূল;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- পাদ (পা) থেকে মস্তক পর্যন্ত = আপাদমস্তক;
- আদি থেকে অস্ত পর্যন্ত = আদ্যন্ত;
- কণ্ঠ পর্যন্ত = আকণ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)। 

৬,৫১৬.
'ঘোলাটে' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  2. প্রাদি সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. অলুক বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সর্বদা সমাসবদ্ধ থাকে এবং ব্যাসবাক্যের প্রয়োজন হয় না, সে সমাসকে নিত্য সমাস বলা হয়। এ সমাসের ব্যাসবাক্যের প্রারম্ভে 'অন্য' বা 'কেবল' প্রভৃতি শব্দ বসে।
যেমন:
- অন্য গ্রাম - গ্রামান্তর;
- অন্য দেশ - দেশান্তর;
- কেবল দর্শন - দর্শনমাত্র;
- কেবল যাওয়া - যাওয়ামাত্র;
- এক জন - জনৈক;
- প্রতিমাথা - মাথাপিছু;
- ঈষৎ ঘোলা - ঘোলাটে;
- কেবল বলা - বলামাত্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫১৭.
‘দুঃখকে প্রাপ্ত’ কোন সমাস?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) বহুব্রীহি সমাস
  3. গ) কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া,
বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুস, যেমন-
গরুর গাড়ি= গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা - তেলেভাজা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৫১৮.
'অত্যন্ত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অদ্য + অন্ত
  2. অতি + অন্ত
  3. অত্য + অন্ত
  4. অতি + আন্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের ই-ধ্বনি বা ঈ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথমে অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে ই/ঈ-র জায়গায় য-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- বি + অবস্থা = ব্যবস্থা,
- অধি + অক্ষ = অধ্যক্ষ,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫১৯.
'পয়োধি' শব্দের অর্থ কি? 
  1. শৈল
  2. সৈকত
  3. আকাশ
  4. সমুদ্র
ব্যাখ্যা

• 'পয়োধি' শব্দের অর্থ - বারীন্দ্র, সমুদ্র

উল্লেখ্য,
'সমুদ্র' সমার্থক শব্দগুলো হলো: সাগর, রত্না কর, বারিধি, পয়োধি, পারাবার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
‘পর্বত’ এর সমার্থক শব্দ:
- পাহাড়, অদ্রি,  ভূধর, গিরি, শৈল, অচল ইত্যাদি।

পুলিন’ শব্দের প্রতিশব্দ:
- তীর, তট, বেলাভূমি, সৈকত, ধার, বালুকাবেলা, কিনারা, পাড়।

‘আকাশ’ শব্দের প্রতিশব্দ:
গগন, অম্বর, নভ, আসমান, অন্তরীক্ষ, অভ্র, খগোল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫২০.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. করপল্লব
  3. বকধার্মিক
  4. তুষারশুভ্র
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিন্তু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

অন্যদিকে,
• উপমান কর্মধারয় - তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, বকের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক, কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,৫২১.
"এ" - এই ধ্বনির সঠিক উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. মূর্ধা
  2. কণ্ঠ ও তালু
  3. জিহ্বা মূল
  4. তালু
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'এ এবং ঐ' ধ্বনিরগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান 'কণ্ঠ ও তালু'।
- এবং এই দুইটি বর্ণকে কণ্ঠতালব্য বর্ণ বলা হয়।

অন্যদিকে,
→ "ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - মূর্ধা।
→ "অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - কণ্ঠ বা জিহ্বামূল।
→ "ই, ঈ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য, য়, শ" ধ্বনিগুলোর সঠিক উচ্চারণস্থান - তালু।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৫২২.
'Quorum' এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. মূল্যজ্ঞাপন
  2. অপেক্ষসংখ্যা
  3. উদ্ধৃত করা
  4. যথাংশ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'Quorum' এর বাংলা পরিভাষা - গণপূর্তি / অপেক্ষসংখ্যা

অন্যদিকে,
- 'Quota' এর বাংলা পরিভাষা - যথাংশ / কোটা।
- 'Quote' এর বাংলা পরিভাষা - উদ্ধৃত করা।
- 'Quotation' এর বাংলা পরিভাষা - মূল্যজ্ঞাপন / দরপত্র / উদ্ধৃতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫২৩.
"রাষ্ট্রীয়" শব্দের সঠিক প্রত্যয় কোনটি?
  1. রাষ্ট্র + ই
  2. রাষ্ট্র + ঈয়
  3. রাষ্ট্র + ষ্ণিক
  4. রাষ্ট্র + ইক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।

যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত,
- ফেন + ইল্ = ফেনিল,
- সুখ + ইন্ = সুখিন,
- নীল + ইমন = নীলিমা,
- রাষ্ট্র + ঈয় = রাষ্ট্রীয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৫২৪.
None but a fool is always right.-এর বাংলা অনুবাদ হল-
  1. মানুষ মাত্রেই ভুল হয়।
  2. কারণ বিনা কার্য হয় না।
  3. কোনো খবর না-থাকাটাই সুখবর।
  4. মিষ্টি কথায় চিড়ে ভিজে না।
ব্যাখ্যা

•None but a fool is always right.-এর বাংলা অনুবাদ হল- "মানুষ মাত্রেই ভুল হয়।"

- No news is good news.
- কোনো খবর না-থাকাটাই সুখবর।

- No smoke without fire.
- কারণ বিনা কার্য হয় না।

- Fair words butter no parsnips.
- মিষ্টি কথায় চিড়ে ভিজে না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৫২৫.
'নঞ তৎপুরুষ' সমাসের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অনাচার
  2. অকাতর
  3. অনৈক্য
  4. অনুক্ষণ 
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নঞ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর,
- নয় এক = অনেক,
- অন্ (নঞ্) + ঐক্য = অনৈক্য,
- অন্ (নঞ্) + ইষ্ট = অনিষ্ট।

অন্যদিকে,

অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং অভিগম্য অভিধান।

৬,৫২৬.
'চিন্তা করো না, কালই আসছি' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কাল: 
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- হাসান বই পড়ছে। 
- নীরা গান গাইছে। 

ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। 
যথা-
- বক্তা বললেন, "শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।” 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে: 
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,৫২৭.
'বার্ষিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. বর্ষ + ষ্ণিক
  2. বর্ষা + ষ্ণিক
  3. বরষ + ইক
  4. ব + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা

বর্ষ + ষ্ণিক (ইক) = বার্ষিক।

ব্যতিক্রম: 'বর্ষ' শব্দ পরপদ হলে পূর্বপদের সংখ্যাবাচক শব্দের মূল স্বরের বৃদ্ধি হয় না। যথা- দ্বিবর্ষ + ষ্ণিক = দ্বিবার্ষিক। সংখ্যাবাচক শব্দ না থাকলেও নিয়মমতো মূল স্বরের বৃদ্ধি হয়। যেমন- বর্ষ + ষ্ণিক = বার্ষিক।

উল্লেখ্য, 
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
 বর্ষা +  ইক = বার্ষিক; শব্দের প্রত্যয় দেয়া আছে। 

[তবে, অপশনে সরাসরি নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই অনুসারে সঠিক উত্তর থাকায়, অপশন (ক) সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর।]

--------------------
• ষ্ণিক (ইক) সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
(ক) দক্ষ বা বেত্তা অর্থে: সাহিত্য + ষ্ণিক (ইক) = সাহিত্যিক, বেদ + ষ্ণিক = বৈদিক, বিজ্ঞান + ষ্ণিক = বৈজ্ঞানিক।

(খ) বিষয়ক অর্থে: সমুদ্র + ষ্ণিক = সামুদ্রিক, নগর + ষ্ণিক = নাগরিক, মাস + ষ্ণিক =  মাসিক, ধর্ম + ষ্ণিক =  ধার্মিক, সমর + ষ্ণিক =  সামরিক, সমাজ + ষ্ণিক = সামাজিক। 

(গ) বিশেষণ গঠনে: হেমন্ত + ষ্ণিক = হৈমন্তিক, অকস্মাৎ + ষ্ণিক = আকস্মিক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৫২৮.
কোন ভাষাকে বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় বলা হয়?
  1. ক) অহমিয়া
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) ওড়িয়া
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

• পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলাভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৫২৯.
'Auditory' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রুতিগত
  2. নিরীক্ষামূলক
  3. স্নায়ুবিক
  4. সাহসী
ব্যাখ্যা

• 'Auditory' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতিগত।

অন্যদিকে,
• 'Euphony' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্ৰুতিমাধুর্য। 
• 'Cacophony' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতিকটুতা। 
• ‘Ear-cluster' এর পারিভাষিক শব্দ - শ্রুতি-যুক্তব্যঞ্জন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রসাশনিক পরিভাষা।

৬,৫৩০.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অতলষ্পর্শ
  2. অতলষ্পর্সী
  3. অতলস্পর্শ
  4. অতলস্পর্সী
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - 'অতলস্পর্শ'
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।
- এর প্রকৃতি-প্রত্যয়: অতল + স্পৃশ্‌ + অ।
এর অর্থ:
- তলদেশ ছোঁয়া যায় না এমন,
- অতি গভীর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৫৩১.
"আমি মাত্রই বাড়িতে ফিরেছি।" বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
• আমি অঙ্কটি করেছি।
• তারা বাড়িতে ফিরেছে।
• আমি মাত্রই বাড়িতে ফিরেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৬,৫৩২.
বাংলা বর্ণমালায় পরাশ্রয়ী বর্ণ সংখ্যা কতটি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
যে বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না তাকে পরাশ্রয়ী বর্ণ বলে।
এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। তাই এ বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
যেমন- ং, ঃ, ঁ।


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ]
৬,৫৩৩.
‘সাংবাদিক’ শব্দটি কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি?
  1. উপসর্গযোগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. দ্বিত্ব ব্যবহার করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

প্রত্যয়: যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন,
'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।
সুতরাং বলা যায়, 'সাংবাদিক' শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫৩৪.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
  2. তাহারা সাংঘাতি আনন্দ হইল।
  3. চোরটি বমাল ধরা পড়েছে।
  4. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বাক্য- চোরটি বমাল ধরা পড়েছে।।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ বাক্য- সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।
• শুদ্ধ বাক্য- সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

• অশুদ্ধ বাক্য- তাহারা সাংঘাতি আনন্দ হইল।
• শুদ্ধ বাক্য- তাহারা অপরিসীম আনন্দ হইল।

• অশুদ্ধ বাক্য - তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
• শুদ্ধ বাক্য - তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ,।

৬,৫৩৫.
'ছাপাখানা' কোন প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়
  4. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

• ছাপা + খানা = ছাপাখানা; বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়সাধিত শব্দ। 
---------------------------
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৬,৫৩৬.
'চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।' - এখানে 'কাস্তে' কোন কারক?
  1. করণ
  2. কর্ম
  3. অধিকরণ
  4. কর্তা
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
- চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটে।
- বগুড়ার চিনিপাতা দই সুস্বাদু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৫৩৭.
যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং সমস্ত পদের দ্বারা সমাহার বোঝায় তাকে বলে?
  1. অব্যয়ীভাব সমাস
  2. দ্বন্দ্ব সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন -
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫৩৮.
'নিন্দুক' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী হবে?
  1. প্রকৃষ্ট
  2. নির্লিপ্ত
  3. মৃত
  4. স্তাবক
ব্যাখ্যা

• 'নিন্দুক' এর বিপরীতার্থক শব্দ - স্তাবক।
• স্তাবকঅর্থ: তোষামোদ-কারী, স্তুতিকারক, চাটুকার।
অন্যদিকে,
- প্রকৃষ্ট = নিকৃষ্ট।
- নিন্দুক = স্তাবক। 
- মৃত = জীবিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫৩৯.
কোনটি বিশেষ্য ও বিশেষণের সঙ্গে ব্যবহৃত নির্দেশক?
  1. -টা
  2. -খানি
  3. -টি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
-টা, -খানি, -টি — এরা তিনটিই বিশেষ্য ও বিশেষণের সঙ্গে ব্যবহৃত নির্দেশক লগ্নক/লগ্নরূপ, যা সংখ্যাবাচকতা ও নির্দিষ্টতা বোঝায়।

নির্দেশক:

- যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন: টা, টি, খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

কিছু নির্দেশকের ব্যবহার:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-টুকু নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬,৫৪০.
নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিড়াল-তপস্বী
  2. বকধার্মিক
  3. লক্কা পায়রা
  4. ভিজে বিড়াল
ব্যাখ্যা
• ‘বিড়াল-তপস্বী’, ‘বকধার্মিক’ ও ‘ভিজে বিড়াল’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড বা কপটচারী।

অন্যদিকে,
• ‘লক্কা পায়রা’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ফুল বাবা।
বাক্য: বেকার মানুষ তুমি অথচ লক্কা পায়রা হয়ে ঘুরে বেড়াও কেন?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৫৪১.
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানী
  2. নাপিতানী
  3. মেথরানী
  4. কুমারনী
ব্যাখ্যা
নী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ:
• কামার - কামারনী,
• জেলে - জেলেনী,
• কুমার - কুমারনী,
• ধোপা - ধোপানী,
• মজুর - মজুরনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• আনী-প্রত্যয়:
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৫৪২.
‘নাছোড়বান্দা’ অর্থে কোন বাগ্‌ধারার ব্যবহার প্রযোজ্য?
  1. ক) চিনে জোঁক
  2. খ) চশমখোর
  3. গ) কলুর বলদ
  4. ঘ) খয়ের খাঁ
ব্যাখ্যা

চিনে জোঁক অর্থ নাছোড়বান্দা।
যেমন- লোকটি এ কাজটি পাওয়ার জন্য একেবারে চিনে জোঁকের মত লেগে আছে
এছাড়াও ‘কচ্ছপের কামড়’ বাগ্‌ধারাটিও নাছোরবান্দা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

চশমখোর = বেহায়া,
কলুর বলদ = একটানা খাটুনি
খয়ের খাঁ = চাটুকার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।

৬,৫৪৩.
খাঁটি বাংলা শব্দে নিচের কোনটি যুক্ত হয় না?
ব্যাখ্যা
• খাঁটি বাংলা শব্দে ণ-ত্ব বিধান বা ‘ণ’ এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয়।

-------------------------
• ণ-ত্ব বিধান:

তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. খাঁটি বাংলা, দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫৪৪.
নিচের কোনটি প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. উহা
  2. আগামীকাল
  3. ওটা
  4. সেদিন
ব্যাখ্যা

• 'আগামীকাল'- প্রত্যক্ষ উক্তির শব্দ। 

• প্রত্যক্ষ উক্তির বাক্যের সর্বনাম এবং কালসূচক শব্দের পরােক্ষ উক্তিতে নিম্নলিখিত পরিবর্তন সংঘটিত হয়।

উক্তির প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ রূপ:
• এই  -  সেই।
• ইহা  -  তাহা/উহা।
• এখানে  -  ওইখানে।
• আগামীকাল  -  পরদিন।
• গতকল্য  -  পূর্বদিন।
• এটা  - ওটা/সেটা।
• এ  -  সে।
• আজ  - সেদিন।
• গতকাল  -  আগেরদিন।
• এখন  -  তখন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৫৪৫.
ভাববাচক বিশেষ্য নয় কোনটি? 
  1. ভোজন
  2. দর্শন
  3. শোনা
  4. তারল্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ:
ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,৫৪৬.
নিচের যে গুচ্ছে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটেনি-
  1. ক) অধীন, অজ্ঞানতা
  2. খ) তনুদেহ, পান্তাভাত
  3. গ) সমসাময়িককালে, জন্ম বার্ষিক
  4. ঘ) ভাষী, সবান্ধব
ব্যাখ্যা
সমসাময়িককালে শব্দে 'কালে' ব্যবহার করা যাবে না।
তনু অর্থই দেহ এবং পান্তা দ্বারা পানিতে ভিজানো বাসি ভাত-কেই বুঝায়, তাই এর সাথে ভাত ব্যবহার করতে হবে না।
ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীর প্রয়োগ শুদ্ধ এবং বান্ধবদের সঙ্গে বুঝাতে সবান্ধব শুদ্ধ।
অর্থাৎ অপশন ঘ-তে কোনো অপপ্রয়োগ ঘটে নি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬,৫৪৭.
'পরিচর' শব্দের অর্থ হলো- 
  1. ক) সেবক
  2. খ) হনন
  3. গ) বিভক্ত
  4. ঘ) পোশাক
ব্যাখ্যা
পরিচর শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।  
পরিচর শব্দের অর্থ হলো-
১. সেবক, পরিচারক 
২. সহচর 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
৬,৫৪৮.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কখনো বা দেখা হবে।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৫৪৯.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) হিমালয়
  2. খ) অহরহ
  3. গ) সংসার
  4. ঘ) বনস্পতি
ব্যাখ্যা
হিমালয় = হিম + আলয় 
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

অ কার কিংবা আ কারের পর অ কার কিংবা আ কার থাকলে উভয় মিলে আ কার হয়, আ কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন- 
অ + অ = আ ----  নর+ অধম = নরাধম। এরূপ-হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
অ + আ = আ --- হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ - দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
আ + অ = আ --- যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ — আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
আ + আ = আ --- বিদ্যা+ আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ,  নবম-  দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ
৬,৫৫০.
'পাণি' শব্দের অর্থ কী?
  1. মুখ
  2. চোখ
  3. হাত
  4. মোহানা
ব্যাখ্যা
• 'পাণি' শব্দের অর্থ - হস্ত, হাত

অন্যদিকে,
'চোখ' শব্দের অর্থ - চক্ষু, নয়ন, লোচন, দর্শনেন্দ্রিয়।
'মুখ' শব্দের অর্থ - বাচন (মুখ খোলা), প্রবেশপথ, মোহানা, ছিপি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৫৫১.
পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি ?
  1. ফটা ফট
  2. হঠাৎ হঠাৎ
  3. দুম দুম
  4. এলো মেলো
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
• ফটা ফট ও দুম দুম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
• এলো মেলো অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৫৫২.
কোনটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. কনকচাঁপা
  2. কানাকানি
  3. ধানখেত
  4. রাজপথ
ব্যাখ্যা
•ব্যতিহার বহুব্রীহি:
- পারস্পরিক ক্রিয়ায় কোনো অবস্থা তৈরি হলে ব্যতিহার বহুব্রীহি হয়।
যেমন
- হাতে হাতে যে যুদ্ধ = হাতাহাতি,
- কানে কানে যে কথা = কানাকানি।

উল্লেখ্য,
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
 
অন্যদিকে,
- ’রাজপথ’, ’ধানখেত’, তৎপুরুষ সমাস।
- ’কনকচাঁপা’ কর্মধারায় সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,৫৫৩.
'কৃশকায়' এর বিপরীত শব্দ -
  1. সরল
  2. সুরুচি
  3. বীরপুরুষ
  4. স্থূলকায়
ব্যাখ্যা
• 'কৃশকায়' এর বিপরীত শব্দ - স্থূলকায়।

এখানে,
• 'কৃশকায়' শব্দের অর্থ - ক্ষীণকায়; শীর্ণ।

অন্যদিকে,
সরল - জটিল;
সুরুচি - কুরুচি;
কাপুরুষ- বীরপুরুষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫৫৪.
বাংলা ভাষায় ‘অনুসর্গ’ বসে - 
  1. বাক্যের মধ্যে
  2. বাক্যের পূর্বে
  3. শব্দের পরে
  4. শব্দের আগে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে '-কে', '-র' ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
- সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

• অনুসর্গ দুই প্রকার। যথা:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৫৫৫.
উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে কী বলে?
  1. উপমান কর্মধারয়
  2. উপমিত কর্মধারয়
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত পদকে বলা হয় কৃদন্ত পদ। কৃদন্ত পদের পূর্বের পদকে বলা হয় উপপদ।
উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন-
- পঙ্কে জন্মে যে = পঙ্কজ,
- যাদু করে যে = যাদুকর,
- ইন্দ্রকে জয় করেছে যে = ইন্দ্রজিৎ,
- ছেলে ধরে যে = ছেলেধরা,
- পকেট মারে যে = পকেটমার,
- স্থলে চলে যে = স্থলচর,
- চিত্র আঁকে যে = চিত্রকর,
- মানুষ খায় যে = মানুষখেকো ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৫৬.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত
  2. খ) ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়
  3. গ) দশচক্রে ভগবান ভূত
  4. ঘ) তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন
ব্যাখ্যা
• তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন- বাক্যটি অশুদ্ধ।
- শুদ্ধ বাক্য- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
• শুদ্ধ বাক্য-
আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত
ব্যাপারটা আমার আয়ত্ত নয়
দশচক্রে ভগবান ভূত

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫৫৭.
‘ভ’ - কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  3. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. দন্ত্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 
যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,৫৫৮.
'গরিমা' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. মহিমা
  2. গুরুত্ব
  3. লঘিমা
  4. অগরিমা
ব্যাখ্যা

• 'গরিমা' এর বিপরীতার্থক শব্দ - লঘিমা

উল্লেখ্য,
'গরিমা' শব্দের অর্থ - মহিমা, মাহাত্ম্য, গর্ব, দর্প, গুরুত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব।
'লঘিমা' শব্দের অর্থ - লঘুর ভাব, লঘুতা, যোগলব্ধ যে অলৌকিক শক্তি দিয়ে দেহকে ইচ্ছেমতো লঘু করা যায়, গৌরবহীনতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,৫৫৯.
কোনটি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. শব্দজোড়
  2. বাগ্‌ধারা
  3. বাচ্য
  4. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৫৬০.
'জনশ্রুতি' - কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।

যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক,
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক,
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি,
- ওকালতি করেন যিনি = উকিল ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫৬১.
শুদ্ধ বানান নয় নিচের কোনটি?
  1. সুকেশীনী
  2. সুকেশী
  3. সুকেশিনী
  4. সুকেশা
ব্যাখ্যা
• 'সুকেশীনী'- বানানটি শুদ্ধ নয়। 
- সুকেশী, সুকেশা, সুকেশিনী- তিনটিই শুদ্ধ। 

• সুকেশী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সুকেশ+ইন্‌
অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্ট। 

• সুকেশা
- সুকেশ (বিশেষ্য) এর স্ত্রীবাচক শব্দ। 

সুকেশিনী (বিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = সু+কেশ+ইন্‌+ঈ
অর্থ: সুন্দর কেশবিশিষ্টা,  যে মেয়ের চুল সুন্দর। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,৫৬২.
বাংলা ভাষার কোন রীতিটি সবচেয়ে বৈচিত্র্যময়?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. উপভাষা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- সব ভাষারই আঞ্চলিক রূপের বৈচিত্র্য থাকে, বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও তেমনটি রয়েছে।
- বিভিন্ন অঞ্চলে কথ্য রীতির বিভিন্নতা লক্ষিত হয়; আবার কোথাও কোথাও কারো উচ্চারণে বিভিন্ন অঞ্চলের মিশ্রণও লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫৬৩.
‘বিশ্রী’ -এর বিপরীতার্থক শব্দ কি?
  1. শ্রীত
  2. সুন্দর
  3. শ্রী
  4. কৃশ
ব্যাখ্যা
বিশ্রী:
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এর সমার্থক শব্দ - লজ্জাকর, জঘন্য, অশ্লীল।
- এর বিপরীত শব্দ - সুন্দর।

উৎস: বাংলা একাডেমী, আধুনিক বাংলা অভিধান।
 
৬,৫৬৪.
'সদন' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) সাদা
  2. খ) নিবাস
  3. গ) প্রথা
  4. ঘ) আদি
ব্যাখ্যা
সদন [শদন্‌] (বিশেষ্য) -১ঃ আলয়; আবাস
২ঃ সামীপ্য; নৈকট্য; সকাশ
৩ঃ আশ্রম; সমীপ
{(তৎসম বা সংস্কৃত) √সদ্‌+অন(ল্যুট্‌)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,৫৬৫.
বাংলা বর্ণমালায় ফলার সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ।
- অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে।
- বাংলা বর্ণমালায় ফলার সংখ্যা ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র-ফলা, ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৫৬৬.
'ঘোড়া' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
ব্যাখ্যা
• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:
হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৫৬৭.
নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক?
  1. ক) কুরুক্ষেত্র কাণ্ড
  2. খ) খণ্ড প্রলয়
  3. গ) নবমী দশা
  4. ঘ) ধুন্ধুমার
ব্যাখ্যা
কুরুক্ষেত্র, খণ্ড প্রলয় এবং ধুন্ধুমার অর্থ তুমুল কাণ্ড। অন্যদিকে নবমী দশা অর্থ মূর্ছা।
(সূত্রঃ বাগধারা বাগবিধি : মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান)
৬,৫৬৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি? 
  1. সঞ্চয়
  2. বাগ্দান
  3. পরিচ্ছেদ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি: 
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। 

ক. স্বর + ব্যঞ্জন: স্বর + ছ = স্বর + চ্ছ। 
যেমন- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।  
এখানে, পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ-এর জায়গায় চ্ছ হয়েছে। 

খ. ব্যঞ্জন + স্বর: ক/চ/ট/ত/প + স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, সৎ + উপায় = সদুপায়। 
- স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। 
এখানে, ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়। 

গ. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন: ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। 
যেমন- 
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ), 
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ), 
• উৎ + লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল), 
বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ), 
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন), 
• শম্ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ), 
সম্ + চয় = সঞ্চয় (এখানে তালব্যধ্বনি চ-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঞ), 
• সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন), 
• সম্ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে), 
• ষষ্ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)। 

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি: 
- কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। 
যেমন– 
• গো + পদ = গোষ্পদ, 
• এক + দশ = একাদশ, 
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৫৬৯.
উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
ব্যাখ্যা
- [অ] নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- [এ] উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও] উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [আ] নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৬,৫৭০.
'ঞ' কোন বর্গীয় ধ্বনি?
  1. ক-বর্গীয়
  2. চ-বর্গীয়
  3. ট-বর্গীয় 
  4. ত-বর্গীয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক খ গ ঘ ঙ এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ ছ জ ঝ ঞ—এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট ঠ ড ঢ ণ এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দত্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।
• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত থ দ ধ ন— এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প ফ ব ভ ম – এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,৫৭১.
'বেহায়াপনা' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ভূষণ্ডির কাক
  2. খ) বিড়ালের আড়াই পা
  3. গ) ইঁদুর কপালে
  4. ঘ) তামার বিষ
ব্যাখ্যা
• 'বিড়ালের আড়াই পা' বাগধারাটির অর্থ - বেহায়াপনা। 
বাক্য গঠন: হাজার বকলেও লাভ নেই, তাঁর হচ্ছে বিরালের আড়াই পা।

আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ বাগধারা সমূহ:
- খয়ের খাঁ বাগধারার অর্থ - চাটুকার।
- 'তামার বিষ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- অর্থের কুপ্রভাব।
- ইঁদুর কপালে বাগধারাটির অর্থ- মন্দভাগ্য।
- অদৃষ্টের পরিহাস বাগধারাটির অর্থ- ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা।
- ‘তামার বিষ’ বাগধারাটির অর্থ অর্থের কু-প্রভাব।
- ‘ভূষন্ডির কাক’ - বিচক্ষণ ব্যক্তি/ দীর্ঘজীবী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,৫৭২.
'Blueprint' শব্দের পারিভাষিক অর্থ -
  1. ক) শ্বেতপত্র
  2. খ) নীল ছবি
  3. গ) অনুলিপি
  4. ঘ) নীল নকশা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষার অভিধান অনুসারে,
Blueprint = প্রতিচিত্র; আলোকচিত্রের সাহায্যে অঙ্কিত নীলবর্ণের কাগজের উপর সাদা রেখাবিশিষ্ট নকশা (বিশেষত দালানকোঠার জন্য); (লাক্ষণিক) পরিকল্পনা।

'Blueprint' শব্দের অন্য আরেকটি পারিভাষিক অর্থ - নীলনকশা।
নীলনকশা = সার্বিক কাজের পরিকল্পনা।
৬,৫৭৩.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্তপদ?
  1. দর্শনমাত্র
  2. অনুগমন
  3. অজ্ঞান
  4. দু কানকাটা
ব্যাখ্যা
• ‘দর্শনমাত্র'- নিত্য সমাসের সমস্তপদ।
------------------- 
• নিত্যসমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
• পশ্চাৎ গমন - অনুগমন; অব্য্যীভাব সমাস।
• ন জ্ঞান যার - অজ্ঞান; নঞ বহুব্রীহি।
• দুই কান কাটা যার- দু কানকাটা; ব্যাধিকরণ সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৬,৫৭৪.
মূলত কীসের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়?
  1. শ্বাস গ্রহণ
  2. শ্বাস ত্যাগ
  3. চিৎকার করা
  4. জিভ নাড়ানোর সময়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি: 
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। 
- ফুসফুসতাড়িত বাতাস গলনালি হয়ে মুখ ও নাক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ধ্বনি উচ্চারিত হয়। 
- মূলত শ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ধ্বনি উৎপন্ন হয়। 

• আরো কিছু তথ্য: 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। 
- এই বর্ণ কানে শােনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলাে বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।  
৬,৫৭৫.
ঝানু শব্দের সঠিক বিপরীত শব্দ চিহ্নিত করুন।
  1. ক) আনাড়ি
  2. খ) জরা
  3. গ) নিরীহ
  4. ঘ) দুর্বোধ্য
ব্যাখ্যা
ঝানু - আনাড়ি
জরা - যৌবন
নিরীহ - দুর্দান্ত
দুর্বোধ্য - প্রাঞ্জল
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,৫৭৬.
পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভূধর
  2. উর্বী
  3. ব্রহ্মাণ্ড
  4. ভূলোক
ব্যাখ্যা
• ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয়- ভূধর।
- ‘ভূধর’ পর্বত শব্দের সমার্থক শব্দ।

• 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:

মহীধর, পাহাড়, গিরি, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।

অন্যদিকে,
• ‘পৃথিবী’ শব্দের সমার্থক শব্দ: 
ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহি, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,৫৭৭.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভ্রাতৃবৃন্দ
  2. অহোরাত্র
  3. নির্দোষ
  4. মহিমামণ্ডিত
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ। 
নিরভিমানী - নিরভিমান। 
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র। 
মাতাজাতি - মাতৃজাতি। 
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত। 
ভ্রাতাবৃন্দ - ভ্রাতৃবৃন্দ। 
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার। 
অহোরাত্রি - অহোরাত্র। 
নির্দোষী - নির্দোষ। 
দিবারাত্রি - দিবারাত্র। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,৫৭৮.
"সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি" - সাধু ভাষা সম্পর্কে কে এই কথাটি বলেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন 
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। 
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। 
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।

- সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি; দৈনিক ইত্তেফাক রিপোর্ট - "বাংলা ভাষার বিকৃতি আর কত কাল চলবে?"

৬,৫৭৯.
বাক্যে এক পদের পর অন্য পদ শোনার ইচ্ছাকে কী বলে?
  1. আসত্তি
  2. আকাঙ্ক্ষা
  3. যোগ্যতা
  4. আশক্তি
ব্যাখ্যা
একটি বাক্যকে সার্থক ও শুদ্ধ হতে হলে কতগুলাে গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার। এগুলাে হচ্ছে- 
- আকাঙ্ক্ষা,
- আসত্তি এবং
- যােগ্যতা।

⇒ আকাক্ষা: বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে স্পষ্টভাবে বােঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শােনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা। 
⇒ আসত্তি: মনােভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলি এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে যাতে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক থাকে এবং ভাষার নিয়ম অনুযায়ী নৈকট্য থাকে।
⇒ যােগ্যতা: বাক্যের পদসমূহের অর্থগত ও ভাবগত মেলবন্ধনের নামই যােগ্যতা। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৫৮০.
'বিষাদসিন্ধু' শব্দটি কোন সমাস?
  1. ক) দ্বিগু
  2. খ) কর্মধারয়
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
বিষাদসিন্ধু শব্দটি রূপক কর্মধারয় সমাস। বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদসিন্ধু।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,৫৮১.
‘নক্ষত্র’ কোন ধরণের শব্দের উদাহরণ?
  1. তৎসম
  2. অর্ধতৎসম
  3. তদ্ভব
  4. দেশী
  5. বিদেশী
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দঃ
- চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, আকাশ ইত্যাদি।
উৎসঃ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বোর্ড বই।

৬,৫৮২.
'পালের গোদা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. একগুঁয়ে
  2. দলপতি
  3. শ্রমবিমুখ
  4. কপট ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• 'পালের গোদা' বাগ্‌ধারার অর্থ - দলপতি। 

অন্যদিকে, 
• 'ননীর পুতুল' অর্থ - শ্রমবিমুখ। 
• 'নেই আঁকড়া' অর্থ - একগুঁয়ে। 
• 'বর্ণচোরা' অর্থ - কপট ব্যক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬,৫৮৩.
'সন্দেশ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. তৎসম
  2. যোগরূঢ়
  3. যৌগিক
  4. রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমনঃ
- হস্তী,
- গবেষণা,
- বাঁশি,
- তৈল,
- প্রবীণ,
- সন্দেশ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৫৮৪.
'পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।' - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা সবই বাস্তব।
  2. পৃথিবীতে বাস্তব ও অবাস্তব উভয়ই আছে।
  3. পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।
  4. পৃথিবীতে কিছু কিছু জিনিস অবাস্তব নয়।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্য রূপান্তর: 
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

যেমন:
সরল বাক্য: পৃথিবীতে অবাস্তব বলে কিছু নেই।
যৌগিক বাক্য: পৃথিবীতে অনেক কিছু আছে, কিন্তু অবাস্তব কিছু নেই।

সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫৮৫.
‘একগুয়ে স্বভাবের’ অর্থ প্রকাশে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সাক্ষী গোপাল
  2. নেই আঁকড়া
  3. লেফাফা দূরস্ত
  4. বর্ণচোরা
ব্যাখ্যা
• ‘নেই আঁকড়া’ বাগধারাটির অর্থ - একগুয়ে স্বভাবের।
- বাক্য: তোমার মত নেই আঁকড়াকে দিয়ে কিছুই হবে না।

অন্যদিকে,
• 'সাক্ষী গোপাল' বাগধারাটির অর্থ - নিষ্ক্রিয় দর্শক।
• ‘লেফাফা দূরস্ত’ বাগধারাটির অর্থ - পরিপাটি।
• ‘বর্ণচোরা’ বাগধারাটির অর্থ - কপট ব্যক্তি।

গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- ‘হস্তিমূর্খ’ বাগধারাটির অর্থ - নিরেট বোকা।
- ‘রাবণের চিতা’ বাগধারাটির অর্থ - চির অশান্তি।
- ‘বুদ্ধির ঢেকি’ বাগধারাটির অর্থ - নির্বোধ।
- ‘ব্যাঙের সর্দি’ বাগধারাটির অর্থ - অসমভব বস্তু।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৫৮৬.
‘গোঁজমিল দেওয়া’ অর্থ বোঝাতে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) অকালবোধন
  2. খ) অজগড় বৃত্তি
  3. গ) এণ্ডায় গণ্ডায়
  4. ঘ) কুমিরের সান্নিপাত
ব্যাখ্যা
• ‘এণ্ডায় গণ্ডা‘ বাগধারার অর্থ = গোঁজমিল দেওয়া।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
- অকালবোধন = অসময়ের আবির্ভাব।
- অজগড় বৃত্তি = আলসেমি।
- আদাড়ের হাড়ি = সামান্য লোক
- কুমিরের সান্নিপাত = অসম্ভব ব্যাপার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৫৮৭.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
  3. ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
  4. এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত কাল - সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
পুরাঘটিত বর্তমান কাল - অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি। এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬,৫৮৮.
'বিদুর-বিদূর-বিধুর' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. দূরবর্তী-জ্ঞানী-ব্যথিত 
  2. ধীর-দূরবর্তী-কাতর 
  3. জ্ঞানী-বহুদূর-নেশগ্রস্থ 
  4. পণ্ডিত-দূরবর্তী-মোহগ্রস্থ 
ব্যাখ্যা

'বিদুর' অর্থ - ধীর, জ্ঞানী।  
'বিদূর' অর্থ- দূরবর্তী। 
'বিধুর' অর্থ- কাতর। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
বাদিত - ধ্বনিত। 
বাধিত - কৃতার্থ। 

বালি - বালু। 
বালী - কিষ্কিন্ধ্যার রাজা।  

বাসি - টাটকা নয়। 
বাসী - বসবাসকারী। 

বিচি - বীজ। 
বীচি - ঢেউ। 

বিস্মিত - আশ্চর্যান্বিত। 
বিস্মৃত - যা মনে নেই। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  

৬,৫৮৯.
'কথাসর্বস্ব' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
  2. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  3. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
  4. সপ্তমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি :
- বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনোটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি।
যথা:
- আশীতে (দাঁতে) বিষ যার - আশীবিষ,
- কথা সর্বস্ব যার - কথাসর্বস্ব।

অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি:
- পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। 
যেমন:
- হত হয়েছে শ্রী যার - হতশ্রী,
- খোশ মেজাজ যার - খোশমেজাজ। 

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: 
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। 
- যেমন: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর - বিড়ালচোখী।

• সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ হয়ে যে সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।
- যেমন: গাছে পাকা - গাছপাকা।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম, শ্রেণি( ২০১৮ সংস্ককরণ)।
৬,৫৯০.
ভাষা-পরিবারের নাম নয় কোনটি?
  1. চীনা-তিব্বতীয়
  2. আফ্রিকীয়
  3. অস্ট্রো-দ্রাবিড়ীয়
  4. সেমীয়-হেমীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা-পরিবারের নাম নয়- অস্ট্রো-দ্রাবিড়ীয়।  

• বাংলা ভাষা পরিবার:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় -  ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।

- বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখার একটি ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫৯১.
'আলো' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) দুহিতা
  2. খ) কিরণ
  3. গ) বিভা
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

আলো - আলোক, বিভা, কিরণ, দীপ্তি, প্রভা, জ্যোতি, ময়ূখ, রওশন, নুর, আভা৷
অন্যদিকে,
কন্যা - মেয়ে, নন্দিনী, দুহিতা, আত্মজা, সুতা, তনয়া, তনজা, ঝি, বেটি৷
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৬,৫৯২.
'ধাতুরূপ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) রূপতত্ত্বে
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) ছন্দতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
পদগঠনে রূপতত্ত্বের দুটি প্রধান ভাগ- 
১. শব্দরূপ (Case inflection) যেখানে ভাংলাভাষার ক্ষেত্রে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের নানা কারকের রূপ দেখানো হয়। 
২. ধাতুরূপ বা ক্রিয়াপ্রকরণ (conjugation) যাতে নানা কালে (tense), প্রকারে (aspect), ভাবে (mood), এবং পক্ষে (person) ক্রিয়ার রূপ নির্মাণ করা হয়।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৬,৫৯৩.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) শশব্যস্ত
  2. খ) কালচক্র
  3. গ) পরাণপাখি
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাসঃ
উপমান পদের সঙ্গে সাধারণ ধর্মবাচক পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- প্রত্যক্ষ কোন বস্তুর সঙ্গে পরোক্ষ কোন বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয় আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
যেমনঃ
- মিশির মতো কালো = মিশকালো।
- শশকের ন্যায়/মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এরকম,
ভ্রমরকৃষ্ণ কেশ, তুষারশুভ্র, বজ্রকঠিন, অগ্নিশর্মা, অরুণরাঙা, কুসুমকোমল, কাজলকালো, গোবেচারা ইত্যাদি।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫৯৪.
নিচের কোনটি কর্মবাচ্যের উদাহরণ?
  1. কোথায় থাকা হয়।
  2. আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
  3. তোমার পড়া হোক।
  4. আমার খাওায়া হলো না।
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন:
- আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়।
- চোরটা ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে, 
ভাববাচ্য:
- যে বাক্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন: 
- আমার খাওায়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- তোমার পড়া হোক।
- কোথায় থাকা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,৫৯৫.
'শ্মশান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শ্বশান্‌
  2. শঁশান্
  3. শ্বঁশান্‌
  4. শশ্বানঁ
ব্যাখ্যা
ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,

যেমন:
- শ্মশান [শঁশান্],
- স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন:
- আত্মীয় [আতিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জমো],
- গুল্ম [গুমো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৬,৫৯৬.
শব্দের উপকরণ কোনটি?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) ধ্বনি
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) অক্ষর
ব্যাখ্যা

শব্দের উপকরণ বা বৃহত্তম রূপ - বর্ণ বা ধ্বনি।
তবে,
এক্ষেত্রে ধ্বনি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে।

কিন্তু শব্দের উপাদান বা ক্ষুদ্রতম একক হলো - বর্ণ বা ধ্বনি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,৫৯৭.
'জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন' - কর্তাবাচ্যের বাক্যটির কর্মবাচ্যের রূপ কোনটি?
  1. ক) জাহানারা ইমাম নিজে একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  2. খ) জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
  3. গ) জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
  4. ঘ) জাহানারা ইমামের হাত ধরেই একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের কর্তাবাচ্যের বাক্যটি কর্মবাচ্যের রূপ - জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

• কর্তাবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
- কর্তাবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয় এবং ক্রিয়ারূপকে কর্মের অনুসারী করতে হয়।
যেমন:
কর্তাবাচ্য: জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।
কর্মবাচ্য: জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।

কর্তাবাচ্য: তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।
কর্মবাচ্য: তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৬,৫৯৮.
‘Allegory’ শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ব্যঙ্গরচনা
  2. রূপক কাহিনি
  3. শোককবিতা
  4. ভ্রমণবৃত্তান্ত
ব্যাখ্যা
• ‘Allegory’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - রূপক বর্ণনা; প্রতীকাশ্রয়ী কাহিনি। 
 
অন্যদিকে,
• ‘Satire’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - ব্যঙ্গরচনা।
• ‘Elegy’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - শোককবিতা।
• ‘Travelogue’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - ভ্রমণবৃত্তান্ত। 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান; অভিগম্য অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৫৯৯.
‘আবার’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- আর, আবার, হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার, আলবত, বহুত, খুব ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে৷
যথা- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,৬০০.
নিচের কোনটি সরল বাক্যের উদাহরণ?
  1. যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।
  2. মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।
  3. যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।
  4. শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- শোনামাত্র তারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তোমরা বাড়ি যাও।
- সত্যের পূজারি বলে তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।

অন্যদিকে,
- মেঘ গর্জন করে তবে ময়ূর নৃত্য করে।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- যাদের বুদ্ধি নেই তারাই একথা বিশ্বাস করবে।- এটি একটি জটিল বাক্য।
- যেহেতু নির্বাচন হয়েছে সেহেতু গণতন্ত্র ফিরে আসবেই।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।