বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬৩ / ৩৫৪ · ৬,২০১৬,৩০০ / ৩৫,৭১৩

৬,২০১.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. তিনি নিরহঙ্কারী ও নিরপরাধী মানুষ।
  2. তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান।
  3. অপরাহ্ন লিখতে অনেকেই ভুল করে।
  4. তিনি পৈতৃক ভিটায় বসবাস করেন।
ব্যাখ্যা

- 'তিনি নিরহঙ্কারী ও নিরপরাধী মানুষ।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি নিরহঙ্কার ও নিরপরাধ মানুষ।'
- 'তিনি স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'তিনি সচ্ছল পরিবারের সন্তান।'
- 'অপরাহ্ন লিখতে অনেকেই ভুল করে।' বাক্যের সঠিক রূপ হবে 'অপরাহ্ণ লিখতে অনেকেই ভুল করে।'
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।

৬,২০২.
উপসর্গযুক্ত কোন শব্দটি "ঈষৎ" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আভাস
  2. আকণ্ঠ
  3. আগমন
  4. আদান
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার:
- পর্যন্ত অর্থে = আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে = আরক্ত, আভাস
- বিপরীত অর্থে = আদান, আগমন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,২০৩.
নিচের কোনটি ”দন্ত্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ?
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,

- ফ,  ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,২০৪.
ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হচিহ্ন না থাকলে কোন ধ্বনি আছে বলে ধরে নেওয়া হয়?
  1. [উ]
  2. [ই]
  3. [আ]
  4. [অ]
ব্যাখ্যা
কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ: া,্ি,ী.ু,ূ,ৃ,্ে,াে,ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
- এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২০৫.
মৌলিক স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. ক) অ্যা
  2. খ) উ
  3. গ) ই
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। যথা- অ আ ই উ এ অ্যা ও। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৬.
কোনটি প্রমিত বানান?
  1. খ্রিস্টান
  2. গড্ডালিকা
  3. অহোরাত্রি
  4. মিথস্ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = মিথস্ক্রিয়া।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
-পারস্পরিক ক্রিয়া, আন্তঃক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• অশুদ্ধ = খ্রিস্টান;
• শুদ্ধ = খ্রিষ্টান;

• অশুদ্ধ = গড্ডালিকা;
• শুদ্ধ = গড্ডলিকা;

• অশুদ্ধ = অহোরাত্রি;
• শুদ্ধ = অহোরাত্র;

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২০৭.
মাত্রাহীন বর্ণের মধ্যে ব্যঞ্জনবর্ণ কতটি?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ৭টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

মাত্রাহীন বর্ণের মধ্যে ব্যঞ্জনবর্ণ ৬ টি। 

• বর্ণ :
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২০৮.
‘অবরে সবরে’ বাগ্‌ধারার অর্থ নিচের কোনটি?
  1. অস্পষ্ট ধারনা
  2. অপদার্থ
  3. কালে-ভদ্রে
  4. গোপন চক্রান্ত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অবরেসবরে' বাগ্‌ধারার অর্থ - কালে-ভদ্রে।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি' - অপদার্থ।
- 'অন্ধের যষ্টি' - অপরিহার্য অবলম্বন। 
- 'আগরম বাগড়ম' - অর্থহীন কথা।
- 'অকালের বাদলা' - অপ্রত্যাশিত বাধা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২০৯.
কোনটি বাংলা ধাতু?
  1. গঠ্‌
  2. বুধ্‌
  3. আক্‌
  4. কথ্‌
ব্যাখ্যা

বাংলা ধাতু:
- যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।

যেমন: 
- কাদ্‌, কাট্‌, নাচ্‌, আক্‌ কহ্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত ধাতু - কথ্‌, বুধ্‌, গঠ্‌।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২১০.
যে সন্ধিগুলো কোন নিয়ম অনুসারে হয় না এগুলোকে কি বলে?
  1. স্বরসন্ধি
  2. বিসর্গসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না।
- অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- একাদশ = এক + দশ,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- গোষ্পদ = গো + পদ ,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১১.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ফোরা টনটন করে।
  2. তার জ্বরজ্বর ভাব।
  3. সোনা চকচক করে।
  4. গা ছমছম করে।
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ: তার জ্বরজ্বর ভাব।

অন্যদিকে,
- ফোরা টনটন করে।
- সোনা চকচক করে।
- গা ছমছম করে।

[বাক্যগুলোতে টনটন, চকচক ও ছমছম ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব শব্দের উদাহরণ।]

--------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন - ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন
- ফোরা টনটন করে, গা ছমছম করে।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২১২.
'কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।' - বাক্যে 'কূলে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. অপাদানে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
- অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ ‘এ’, 'য়', ‘তে’ ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।
যথা-
→ আধার (স্থান): আমরা রোজ স্কুলে যাই।
→ কাল (সময়): প্রভাতে সূর্য ওঠে।

• অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি: বাবা বাড়ি নেই।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ওষুধ খাবে।

• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।

• সপ্তমী বা এ, তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই। কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২১৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. বিচিত্রতা
  2. উৎকর্ষ
  3. মিত্রতা
  4. সাদৃশ্যতা
ব্যাখ্যা
• 'সাদৃশ্যতা' শব্দটি প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
এর সঠিক শব্দ: সাদৃশ্য, সদৃশ। 

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।  
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,২১৪.
''পুরষ্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত 'অপরিস্কার''। - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই অশুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই শুদ্ধ
ব্যাখ্যা
র-ধ্বনির পরে যদি অ,আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়।কিন্তু অ,আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।সুতরাং পুরষ্কার এবং অপরিস্কার শব্দ দুটো অশুদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,২১৫.
বিবৃত স্বরধ্বনি বলতে বোঝায় -
  1. যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে ঠোঁট বেশি খোলে
  2. যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ উঁচু হয়
  3. যে স্বরধ্বনি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হয়
  4. যে স্বরধ্বনি উচ্চারণে বিকৃতি ঘটে
ব্যাখ্যা

• বিবৃত স্বরধ্বনি বলতে বোঝায়- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চারভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খেলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

আবার, 
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা-
১. উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি- [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।

৬,২১৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. নিষ্কর
  2. নিষ্কলঙ্ক
  3. নিষ্প্রভ
  4. বাচষ্পতি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: বাচষ্পতি।

• বাচস্পতি (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কথাবার্তায় পটু ব্যক্তি,
- বৃহস্পিত।

------------------
• বানানের নিয়ম:
• বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে বর্ণে সাধারণত 'স' যুক্ত হয় (পুরঃ + কার = পুরস্কার) এবং বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনির সঙ্গে সন্ধি হলে সাধারণত 'ষ' যুক্ত হয় (বহিঃ + কার = বহিষ্কার)।

• তবে স্ক / স্ক সংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানকল্পে বলা যায় : অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন: নমস্কার, পুরস্কার, বনস্পতি, তিরস্কার, বাচস্পতি ইত্যাদি।

• অন্যদিকে ই-যুক্ত বর্ণের পর সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন: আবিষ্কার, নিষ্কলঙ্ক, পরিষ্কার, নিষ্ফল, নিষ্প্রভ, নিষ্পাপ, নিষ্পন্ন, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি। (স্প / স্ত / স্থ থাকলে 'ষ' হয় না। যেমন: নিস্পন্দ / নিস্তব্ধ / দুস্থ ইত্যাদি)।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২১৭.
'উদ্ধার' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + ধার
  2. উদ্‌ + হার
  3. উৎ + হার
  4. উৎ + ধার
ব্যাখ্যা

• ‘উদ্ধার’ শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ - উৎ + হার।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
• ত্ ও দ্‌ এর পর হ থাকলে ত্ ও দ্‌ এর স্থলে দ এবংহ এর স্থলে ধ্‌ হয়।
যেমন -
- ত্‌ + হ = দ্‌ + ধ = দ্ধ; উৎ + হার = উদ্ধার।
- দ্‌ + হ = দ্‌ + ধ = দ্ধ; পদ্‌ + হতি = পদ্ধতি।

এরূপ,
উদ্ধৃত, উদ্ধত, তদ্ধিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২১৮.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপ
  2. হস্তী
  3. বাঁশি
  4. পঙ্কজ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, লতা, হাত, ফুল ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় অর্থ্যাৎ যেসব শব্দ প্রত্যয়, উপসর্গ, বিভক্তি, সন্ধি, সমাস ইত্য্যাদি নিয়মে গঠিত হত, তাদেরকে সাধিত শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, বাঁশি, হস্তী যৌগিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,২১৯.
‘তন্বী' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তনু + ঈ
  2. তন্ব + ই
  3. তন্ব + ঈ
  4. তনু + ই
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার ও উ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বাউ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
- সু + আগত = স্বাগত, 
- অনু + ইত = অন্বিত, 
- তনু + ঈ = তন্বী, 
- অনু + এষণ = অন্বেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২২০.
’বলিয়া > বলে’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অভিশ্রুতি
  2. বিষমীভবন
  3. অন্তর্হতি
  4. সমীভবন
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি : 
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন-
- মাছুয়া > মেছো ;
- শুনিয়া> শুনে,
- বলিয়া> বলে, 
- হাটুয়া > হাউটা;

অন্যদিকে,
• অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন-
- ফাল্গুন > ফাগুন, 
- ফলাহার > ফলার, 
- আলাহিদা >আলাদা ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল, 
- লাল > নাল ইত্যাদি।

• সমীভবন:
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন-
- জন্ম> জন্ম, 
- কাঁদনা > কান্না, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২২১.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. গননা
  2. গনণা
  3. গণণা
  4. গণনা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান 'গণনা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √গণ্‌ +অন + আ।
অর্থ: 
- হিসাব,
- অঙ্কের সমাধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২২২.
'পাতি’ - উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহার করা হয়?
  1. বিপরীত
  2. বিশেষ
  3. ক্ষুদ্র
  4. ভিন্ন
ব্যাখ্যা

'পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয়।
---------------------------------------
- পাতি’ উপসর্গটি  ‘ক্ষুদ্র বা ছোট’ অর্থে ব্যবহার হয় এমন আরো শব্দ হলো:  
- পাতিহাঁস,
- পাতিশিয়াল,
- পাতিলেবু,
- পাতকুয়ো ইত্যাদি

উল্লেখ্য,
- পাতি একটি বাংলা উপসর্গ।
- বাংলা উপসর্গ মোট ২০ ‍টি।
-  বাংলা উপসর্গ:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।

৬,২২৩.
'তখনই কাজটি শুরু করা উচিত ছিলো।'- এখানে 'তখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. প্রত্যয়
  2. উপসর্গ
  3. ধাতু
  4. বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
'তখনই কাজটি শুরু করা উচিত ছিলো।'- এখানে 'তখনই' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'- হলো বলক।

--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক।

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২২৪.
উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. কাজলকালো
  2. মুখচন্দ্র
  3. চরণকমল
  4. সিংহাসন
ব্যাখ্যা

উপমান কর্মধারয় সমাস:
- যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে। এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

অন্যদিকে,
উপমিত কর্মধারয় সমাস: মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র, চরণ কমলের ন্যায় = চরণকমল।
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২২৫.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে -
  1. ক) সুচরিতেষু
  2. খ) শ্রদ্ধাস্পদেষু
  3. গ) শ্রদ্ধাভাজনাসু
  4. ঘ) প্রীতিভাজন
ব্যাখ্যা
পত্রের শুরুতে নারীকে লিখিত কয়েকটি সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি

স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের সম্বোধন:
- সুচরিতেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, প্রীতিভাজন, স্নেহার্দ্র, স্নেহাশিস - ইত্যাদি

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২২৬.
'রাশি রাশি ধান' - কোন ধরণের শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) বাক্যালংকার শব্দ
  2. খ) অবস্থাবাচক শব্দ
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
  4. ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
'রাশি রাশি ধান' হচ্ছে দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 


৬,২২৭.
‘কপর্দকহীন’ অর্থ-
  1. ক) বোকা
  2. খ) নিঃস্ব
  3. গ) অসহায়
  4. ঘ) মলিন
ব্যাখ্যা
• ‘কপর্দকহীন’
- অর্থ:  নিঃস/নিঃসম্বল
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কপর্দক+হীন

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২২৮.
এক কথায় প্রকাশ করুন- 'আত্মাকে অধিকার করে'  
  1. আধ্যান
  2. অধ্যাত্ম
  3. আধ্যাত্মিক
  4. আধ্যাত্য
ব্যাখ্যা

 • 'আত্মাকে অধিকার করে' এর এক কথায় প্রকাশ - অধ্যাত্ম।

অন্যদিকে,
• 'আধ্যান' অর্থ - স্মরণ, ধ্যান, চিন্তন। 
• আত্মা থেকে জাত - আধ্যাত্মিক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২২৯.
'দীপ্যমান' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √দিপ্‌ + মান
  2. √দীপ্‌ + মান
  3. √দিপ্য্‌ +মান
  4. √দীপ্য্‌ + মান
ব্যাখ্যা
• 'দীপ্যমান' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় হচ্ছে - √দীপ্‌ + মান।
এটি সংস্কৃত কৃৎপ্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

দীপ্যমান (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - [√দীপ্‌ + মান] 
অর্থ: উজ্জ্বল, জ্বলন্ত, ভাস্বর।
 
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২৩০.
'লগ্ন > লগ্গ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. অন্যোন্য সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৩১.
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) অনুকার অব্যয়
  2. খ) অনুসর্গ অব্যয়
  3. গ) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. ঘ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশের ব্যবহৃত হয় তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমনঃ
• 'আপনি যা জানেন তা তো ঠিকই বটে।'
- বাক্যটি 'তো' এর সাথে অন্য কোনো পদের মিল নেই।
• এটি ছাড়াও বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে।
• তাই 'তো' এখানে অনন্বয়ী অব্যয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৩২.
নিচের কোনটি পূর্ণ সংখ্যার ন্যূনতা বোঝায় না?
  1. ক) সিকি
  2. খ) অষ্টমাংশ
  3. গ) তেহাই
  4. ঘ) দেড়
ব্যাখ্যা
- 'দেড়' দ্বারা পূর্ণ সংখ্যার ন্যূনতা বোঝায় না।

• ‘ন্যূন’ বলতে কোনো ভাগের অংশ বোঝায়।
যেমন : 
১/৪ = চার ভাগের এক ভাগ = চৌথা, সিকি বা পোয়া।
১/৩ = তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই।
৩/৪ = চার ভাগের তিন ভাগ = পৌনে।
১/২ = দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ বা আধা।
১/৮ = আট ভাগের এক ভাগ = অষ্টমাংশ।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬,২৩৩.
'ধোপাকে কাপড় দাও'- এখানে ‘ধোপাকে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. সম্প্রদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে চতুর্থী
ব্যাখ্যা
কর্মকারক:
- কর্তা যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- যেমন:
- ধোপাকে কাপড় দাও। (কর্মে দ্বিতীয়া)।
- যেহেতু এখানে স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া হয়নি তাই এটি কর্মকারক।

- কিন্তু স্বত্বত্যাগ করে দেওয়া বোঝালে সম্প্রদান কারক হবে।
- যেমন:
- ভিখারিকে ভিক্ষা দাও।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
২) উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ৩৬।
৬,২৩৪.
কোনটি জটিল বাক্যের উদাহরণ?
  1. পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।
  2. তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
  3. তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
  4. তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
ব্যাখ্যা

জটিল বাক্য:
- যে-সে, যারা তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন -
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।

অন্যদিকে,
সরল বাক্য - পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে। তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
যৌগিক বাক্য - তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২৩৫.
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. শব্দতত্ত্বে 
  2. ধ্বনিতত্ত্বে 
  3. বাক্যতত্ত্বে 
  4. অর্থতত্ত্বে 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৩৬.
'অযথা সময় নষ্ট করো না' এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. প্রশ্নবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়। যেমন -
- আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
- অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
- উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
- নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না। 

অন্যদিকে,
• বিবৃতিবাচক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।যেমন -
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
- কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি !

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২৩৭.
‘জেলেনি’ শব্দটি কোন প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত হয়েছে?
  1. নি
  2. ইনী
  3. ইনি
ব্যাখ্যা
নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। যেমন:
⇒ ‘নি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• জেলে - জেলেনি;
• বেদে - বেদেনি;
• ধোপা - ধোপানি।

⇒ ‘ইনি’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কাঙাল - কাঙালিনি;
• বাঘ - বাঘিনি।

⇒ ‘ই’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• দাদা - দাদি;
• জেঠা - জেঠি।

⇒ ‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৬,২৩৮.
বাগ্‌ধারা বা বাগ্‌বিধি কোন শব্দ বা শব্দগুচ্ছের -
  1. ক) আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করে
  2. খ) বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে
  3. গ) আক্ষরিক অর্থ প্রকাশ করে
  4. ঘ) অতিরিক্ত অর্থ প্রকাশ করে
ব্যাখ্যা
বাগ্‌ধারা
- ‘বাগ্‌ধারা’ বা ‘বিশিষ্টার্থক' শব্দের অর্থ কথা বলার ‘বিশেষ ঢং' বা ‘রীতি’।
- এটা এক ধরনের গভীর ভাব ও অর্থবোধক শব্দ বা শব্দগুচ্ছ।
- বাগ্‌ধারার সাহায্যে নতুন এবং বিশেষ ধরনের অর্থবোধক শব্দ বা শব্দগুচ্ছ গঠিত হয়। একে ‘বাগবিধি’ও বলা হয়।
- ইংরেজিতে এদের ‘ইডিয়ম’ (idiom) বলে।

- পৃথিবীর সব ভাষাতেই এমন কতকগুলো শব্দসমষ্টির সাক্ষাৎ পাওয়া যায় যাদের অর্থ বাচ্যার্থ দ্বারা প্রকাশিত হয় না বাচ্যার্থকে অতিক্রম করে লক্ষ্যার্থ বা ব্যঙ্গার্থ দ্বারা তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ পরিস্ফুট হয়। এমন শব্দ বা শব্দসমষ্টিকে বাগধারা বা বাগ্‌বিধি বলে।

- এক কথায়, আক্ষরিক অর্থ ছাপিয়ে যখন কোনো শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে বাগ্‌ধারা বা বিশিষ্টার্থক শব্দ বা শব্দগুচ্ছ বলে।

উৎস: 
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৩৯.
'কারক' বাংলা ব্যাকারণের কোন অংশে আলোচিত হয়েছে-
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

"কারক” - ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি

• বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২২ সালের সংস্করণ।

৬,২৪০.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. মহত্ব
  2. মাহাত্ম্য
  3. মহাত্মা
  4. মর্মস্পর্শী
ব্যাখ্যা
• 'মহত্ব'- বানানটি অশুদ্ধ।  
সঠিক বানান- 'মহত্ত্ব'।

 • 'মহত্ত্ব' শব্দের অর্থ- উদারতা, প্রকর্ষ। 

অন্যদিকে, 
মহাত্মা- অতি মহৎ। 
মাহাত্ম্য - মহানুভবতা, মহিমা, গৌরব। 
মর্মস্পর্শী - মর্মকে স্পর্শ বা আকুল করে এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬,২৪১.
‘চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।’ কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। 
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৪২.
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয় তখন তাকে কী বাক্য বলে?
  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

যেমন
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে- বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

উল্লেখ্য,
- এবং, ও, আর, অথবা, বা,কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা (,), সেমিকোলন (:), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,২৪৩.
'পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।' - বাক্যে 'চম্পারে' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. অধিকরণ কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্তা কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম - উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে '-কে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।
- শিক্ষককে জানাও।

→ কাব্যভাষায় কর্মকারকে 'রে' বিভক্তি হয়।
যেমন -
- আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।
- সপ্তমীর এ বিভক্তি: জিজ্ঞাসিবে জনে জনে
- পারুল বনের চম্পারে মোর হয় না জানা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৪৪.
‘কন কন’ শব্দটি যে ধরনের দ্বিরুক্তি?
  1. অব্যয়ের
  2. ধ্বন্যাত্মক
  3. পদাত্মক
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
কন কন - ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ।

শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের।
যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। এ ধরনের কোনো কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দে প্রথম অংশের পরে আ-এর বিধান ঘটার ফলে আর-এক ধরনের অব্যাহত ব্যাপ্তির অর্থ সূচিত হয়।

যেমন: খপাখপ, টাপুর-টুপুর, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উল্লেখ্য, অব্যয় পদ বা দ্বিরুক্তি বর্তমান সংস্করণ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সুতরাং 'কন কন' ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৪৫.
'তারুণ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. জাতিবাচক বিশেষ্য
  4. ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা - 
মধুর মিষ্টত্বের গুণ = মধুরতা। 
তদ্রূপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২৩ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪৬.
'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. লিপ্সা
  2. বুভুক্ষা
  3. বিবক্ষা
  4. দিদৃক্ষা
ব্যাখ্যা

• 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা।

অন্যদিকে, 
'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।
'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,২৪৭.
‘অতিকায়’ শব্দে ‘অতি’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অতিরিক্ত
  2. ঊর্ধ্বে
  3. উত্তম
  4. বৃহৎ
ব্যাখ্যা
• ‘অতিকায়’ শব্দে ‘অতি’ তৎসম উপসর্গটি বৃহৎ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৪৮.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. অনুতাপ
  2. গৃহান্তর
  3. প্রবচন
  4. লাঠালাঠি
ব্যাখ্যা

• 'গৃহান্তর'- 'নিত্য সমাস'। 

নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদ গুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না তাকে নিত্য সমাস বলে।
যেমন-
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- কাল তুল্য সাপ = কালসাপ,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অনুতাপ- প্রাদি সমাস।
• প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন - প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
• লাঠালাঠি - ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৪৯.
‘পালিয়ে যাওয়া’ অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অকূল পাথার
  2. ডুব মারা
  3. ভরাডুবি
  4. এণ্ডায় গণ্ডায়
ব্যাখ্যা
- 'ডুব মারা' বাগধারার অর্থ পালিয়ে যাওয়া

অন্যদিকে,
- 'অকূল পাথার' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভীষণ বিপদ। 
- 'ভরাডুবি' বাগ্‌ধারার অর্থ - সর্বনাশ।
-  ‘এণ্ডায় গণ্ডায়‘ বাগ্‌ধারার অর্থ - গোঁজামিল দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৬,২৫০.
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক্ষনস্থায়ী
  2. ঘরছাড়া
  3. চালকুমড়া
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যথা:
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন,
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- চালে আশ্রিত কুমড়া = চালকুমড়া,
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ।

অন্যদিকে:
- ক্ষণকাল ব্যাপীয়া স্থায়ী = ক্ষণস্থায়ী- এটি ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
- ঘর থেকে ছাড়া = ঘরছাড়া (পঞ্চমী তৎপুরুষ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,২৫১.
’প্রত্যুষ’ শব্দর সন্ধি বিচ্ছেদ করুন।
  1. ক) প্রতি + ঊষ
  2. খ) প্রত্যু + উষ
  3. গ) প্রতি + উষ
  4. ঘ) প্রত্যু + উষ
ব্যাখ্যা

ই-কার বা ঈ-কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধির ক্ষেত্রে ই বা ঈ - স্থানে 'য' বা 'য-ফলা' হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
অতি + অন্ত = অত্যন্ত (ই + অ = য্‌ + অ)
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি (ই + উ = য্‌ + উ); একই ভাবে, প্রতি + উষ = প্রত্যুষ।
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ (ই + ঊ = য্‌ + ঊ)
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু (ঈ + অ = য্‌ + অ)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২৫২.
ব্যাকরণের কোন অংশে "শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা" — নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে, 

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ -
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।  
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৬,২৫৩.
'Money begets Money' এর বঙ্গানুবাদ কী হবে?
  1. টাকায় মানুষেরে চরিত্র নষ্ট হয়।
  2. টাকা মানুষকে অহংকারী করে তোলে।
  3. টাকায় টাকা হয়।
  4. টাকা মানুষকে বিনয়ী করে।
ব্যাখ্যা
• 'Money begets Money' এর বঙ্গানুবাদ -'টাকায় টাকা হয়'।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদ:
- Too many cooks spoil the broth – অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
- Haste makes waste – তাড়াহুড়ো ক্ষতি আনে।
- Curiosity killed the cat – অতিরিক্ত কৌতূহল বিপদ ডেকে আনে।
- Variety is the spice of life – বৈচিত্রই জীবনের আনন্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৫৪.
‘জন্য’ শব্দটি কোন পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) সর্বনাম
  3. গ) ক্রিয়া
  4. ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থ্যাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৫৫.
'Eruption' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অগ্ন্যুৎপাত
  2. উচ্ছেদ
  3. শুদ্ধিপত্র
  4. ঘোষণাপত্র
ব্যাখ্যা
• 'Eruption' এর বাংলা পরিভাষা - 'অগ্ন্যুৎপাত '। 

অন্যদিকে, 
'Eradication' এর বাংলা পরিভাষা হল- উচ্ছেদ। 
'Erratum' এর বাংলা পরিভাষা- 'শুদ্ধিপত্র'।  
'Gazette' শব্দের বাংলা পারিভাষা -  ঘোষণাপত্র।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা, Accessible Dictionary.
৬,২৫৬.
ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. দুর্নীতি
  2. প্রমাণ
  3. দুর্ণাম
  4. পরিণতি
ব্যাখ্যা
• দুর্ণাম - বানানটি অশুদ্ধ। 
শুদ্ধ বানান- দুর্নাম।
----------------- 
ণ-ত্ব বিধান: 
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি। 
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি।

• যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৫৭.
মৌলিক স্বরবর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
• মৌলিক স্বরধ্বনি:
- যে স্বরধ্বনিকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না, তাকে মৌলিক স্বর বলে।
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
- যেমন: ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
- বাংলা বর্ণমালায় ‘অ্যা’ ধ্বনিজ্ঞাপক কোনো বর্ণ নেই।
- তাই, মৌলিক স্বরবর্ণ - ৬টি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৮.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. অহংকার
  2. অম্ময়
  3. আস্পদ
  4. আকৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অহম্‌ + কার = অহংকার।
• অপ + ময় = অম্ময়। 
• আকৃষ্‌ + ত = আকৃষ্ট। 
[উপরে প্রদত্ত শব্দগুলো ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে গঠিত।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৫৯.
নিচের কোনটি জাতিবাচক বিশেষ্য?
  1. নজরুল
  2. নদী
  3. পঞ্চায়েত
  4. ঝাঁক
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
- যেমন: মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, নদী, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অপরদিকে:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
- যেমন- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

নামবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি, ভৌগোলিক স্থান, বা গ্রন্থ বিশেষের নাম বিজ্ঞাপিত হয়, তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য পদ বলে।
- যেমন- নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, হিমালয়, গীতাঞ্জলি, ফাল্গুন, বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬,২৬০.
‘ওরে, তুই কোথায় চললি?’- বাক্যে ‘ওরে’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. যোজক
  3. অনুসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা

• আবেগ-শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,২৬১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্থানু
  2. কুর্ণিশ
  3. দুরবিন
  4. অশরিরী
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান- দুরবিন।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: অশরিরী।
- শুদ্ধ: অশরীরী।

- অশুদ্ধ: কুর্ণিশ।
- শুদ্ধ: কুর্নিশ।

- অশুদ্ধ: স্থানু।
- শুদ্ধ: স্থাণু।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,২৬২.
'পাছে লােকে কিছু বলে' - বাক্যে 'পাছে লোকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
  2. খ) কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তর
  3. গ) কর্মকারকে শূণ্য বিভক্তি
  4. ঘ) কর্মকারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ- 

- পাখি সব করে রব = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- আমার দ্বারা এ কাজ হবে না সাধন = কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি
- পাছে লােকে কিছু বলে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- ঘােড়ায় গাড়ি টানে = কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি
- মানুষ ভাবে এক হয় আর এক = কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি
- সবাইকে একদিন মরতে হবে = কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৬৩.
অবলা -
  1. অনুক্ত
  2. নিন্দনীয়
  3. নিরীহ
  4. নির্লজ্জ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অবলা' শব্দের অর্থ - বলহীন, অক্ষম, অসমর্থ।

অন্যদিকে,
- 'নিরীহ' শব্দের অর্থ - শান্ত, নিরুদ্রব, নির্বিরোধ, ক্রোধহীন, নিস্পৃহ, নিশ্চেষ্ট।
- 'অনুক্ত' শব্দের অর্থ - অকথিত, ঊহ্য।
- 'নিন্দনীয়' শব্দের অর্থ - নিন্দার্হ, দূষণীয়।
- 'নির্লজ্জ' শব্দের অর্থ - বেহায়া, লজ্জা নাই এমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২৬৪.
কোনটি তারিখবাচক শব্দ?
  1. তৃতীয়
  2. পোয়া
  3. আধ
  4. চৌঠা
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
• সাধারণ পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ... নবম ইত্যাদি।
• তারিখ পূরণবাচক: পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,২৬৫.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. বীমোহিত
  2. বিমহিতো
  3. বিমোহীত
  4. বিমোহিত
ব্যাখ্যা
• সঠিক বানান: বিমোহিত (বিশেষণ),
- সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
অর্থ: মুগ্ধ, অভিভূত, মোহগ্রস্থ, বিহ্বল।

• বাক্য গঠন: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়েছি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,২৬৬.
'দ্বৈপায়ন' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দ্বীপ+আয়ন
  2. দ্বীপ+অয়ন
  3. দ্বিপ+অনট
  4. দ্বীপ+ অনাট
ব্যাখ্যা
আয়ন (<ফক্):
ক) বংশধর অর্থে: বাৎস্য+আয়ন=বাৎস্যায়ন, বদর+আয়ন=বাদরায়ণ, (‘রামায়ণ' এই ‘আয়ন' প্রত্যয়যোগে সিদ্ধ নয়। রাম অয়ন যার এই অর্থে রামায়ণ)।

খ) এই স্থানে জাত অর্থে: দ্বীপ+আয়ন = দ্বৈপায়ন।
এই ‘আয়ন’-এর সঙ্গে কৃদন্ত আয়+অন=আয়নের পার্থক্য লক্ষণীয়। দুষ্কৃতায়ন, বনায়ন, দুর্বৃত্তায়ন, বিশ্বায়ন প্রভৃতি শব্দ 'আয়ন’ যোগে গঠিত নয়।
-  দ্বৈপায়ন শব্দটি মূলত প্রত্যয় সাধিত শব্দ যার প্রকৃতি প্রত্যয়  দ্বীপ+আয়ন।

এটি সন্ধি সাধিত নয়। ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় এ প্রশ্নটি আসার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এসে থাকে। এটি পরীক্ষায় আসলে দ্বীপ+আয়ন = দ্বৈপায়ন উত্তর করবেন। 
৬,২৬৭.
'আলাহিদা > আলাদা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
ফলাহার > ফলার;
আলাহিদা > আলাদা;
ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৬৮.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) প্রাতঃরাশ
  2. খ) উপর্যপরি
  3. গ) উপর্যুক্ত
  4. ঘ) দুরাদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = উপর্যুক্ত। 

অন্যান্য বানানের শুদ্ধ রুপ- 

• দুরদৃষ্ট (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুঃ+আদৃষ্ট 
অর্থ:  
- মন্দভাগ্য, পোড়া ভাগ্য। 

• উপর্যুপরি (ক্রিয়াবিশেষণ) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উপরি+উপরি
অর্থ: পরপর, ক্রমান্বয়ে, ক্রমাগত, অবিরাম। 

• প্রাতরাশ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাতঃ+অশ্‌+অ
অর্থ: সকালবেলার প্রথম আহার। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,২৬৯.
‘Fair weather friends' এই ইংরেজি প্রবচনের কাছাকাছি বাংলা প্রবচন কোনটি?
  1. ক) দুধের মাছি
  2. খ) চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
  3. গ) পিরিত বিনে সুহৃদ নাই
  4. ঘ) ধামাধরা মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'Fair weather friends'- এই ইংরেজি প্রবচনের কাছাকাছি বাংলা প্রবচন - দুধের মাছি। 

Proverb: Birds of a feather, flock together.
Bangla Meaning - চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

উৎস: LiveMcq Lecture প্রবাদ- প্রবচন।
৬,২৭০.
কোনটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন?
  1. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন -  ন, র, ল,।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,২৭১.
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" - বাক্যে 'হেতু' শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ব্যাপ্তি
  2. নিমিত্ত
  3. মধ্যে
  4. প্রতি
ব্যাখ্যা
• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া’ - বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গটি 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করছে।

উল্লেখ্য,
নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

কিছু অনুসর্গের ব্যবহার:
'বোকার মতো কাজ করো না।'- 'মতো' অনুসর্গটি 'ন্যায়' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'আমার কাছে আর কে আসবে?'- 'কাছে' অনুসর্গটি 'নিকট' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।'- 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সবগে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে। 
যেমন-
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৭২.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. সম + সার = সংসার 
  2. বাক্‌ + দান = বাগদান
  3. উৎ + লাস = উল্লাস
  4. পর্‌ + পর = পরস্পর
ব্যাখ্যা
• পর + পর = পরস্পর - নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি। 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
প্র + এষণ = প্রেষণ,
কুল + অটা = কুলটা,
পর + পর = পরস্পর,
অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,২৭৩.
'নদী' শব্দের সমার্থক নয়-
  1. ক) ফল্গু
  2. খ) তরঙ্গিণী
  3. গ) শৈবলিনী
  4. ঘ) পাটনি
ব্যাখ্যা
• 'নদী' শব্দের সমার্থক নয় - 'পাটনি'
'পাটনি' শব্দের অর্থ = খেয়াঘাটের মাঝি। 

• 'ফল্গু' শব্দের অর্থ = ভারতের গয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অন্তঃসলিলা নদীর নাম।)

• 'নদী' শব্দের সমার্থক শব্দ: নদ, নদনদী, তটিনী, প্রবাহিণী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী, স্রোতস্বতী, নির্ঝরণী, গাঙ, সরিৎ, সমুদ্রকান্তা, সমুদ্রদয়িতা, স্রোতবহা, মন্দাকিনী, স্রোতোবহ, কল্লোলিনী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি এবং  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৭৪.
নিচের কোনটি চাঁদের সমার্থক শব্দ?
  1. সবিতা
  2. তপন
  3. কৌমুদী
  4. নিশাকর
ব্যাখ্যা
• চাঁদের সমার্থক শব্দ- 'নিশাকর'।

• চাঁদের সমার্থক শব্দ-
- চন্দ্র,
- নিশাকর,
- সুধাকর,
- হিমাংশু,
- শশাঙ্ক,
- বিধু,
- সোম,
-  শীতাংশু,
- মৃগাঙ্ক,
- শশী,
- শশধর,
- দ্বিজরাজ,
- নিশাপতি,
- তারাপতি,
- তারানাথ প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• 'কৌমুদী' হলো- জ্যোৎস্না।
• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ - সবিতা, তপন।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
 
৬,২৭৫.
Lexicography এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) অভিধান
  3. গ) আভিধানিক
  4. ঘ) অভিধানতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
Lexicography = অভিধানতত্ত্ব 
Lexicographer = আভিধানিক
Lexicon = অভিধান

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৬,২৭৬.
বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে কোন পদের সম্পর্ক থাকলে, তাকে কারক বলে?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. ক এবং খ উভয়ই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সাথে নামপদের সম্পর্ককে কারক বলে।
আবার,
বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ গঠন করে তাকে নামপদ বলে। 
- মূলত ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- অর্থ্যাৎ, বাক্যের ক্রিয়া পদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে। 
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৬,২৭৭.
'ঘোষজায়া' শব্দটি কোন অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. বন্ধুর স্ত্রী অর্থে
  2. কন্যা অর্থে
  3. পত্নী অর্থে
  4. পেশা অর্থে
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষার বহু বিশেষ্য পদ রয়েছে যাদের কোনটিতে পুরুষ ও কোনটিতে স্ত্রী বোঝায়।
- যে শব্দের পুরুষ বোঝায় তাকে পুরুষবাচক শব্দ আর যে শব্দ স্ত্রী বোঝায় তাকে স্ত্রী বাচক শব্দ বলে।

কুল উপাধির ও স্ত্রীবাচকতা রয়েছে।
যেমন: 
- ঘোষ (পুরুষ),
- ঘোষজা (কন্যা অর্থে), 
- ঘোষজায়া (পত্নী অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৬,২৭৮.
ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. কষাকষি
  2. ষ্টেশন
  3. ষাণ্মাসিক
  4. বিষয়ী
ব্যাখ্যা
⇒ ষ-ত্ব বিধান অনুসারে, বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

⇒ তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে।
- সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও বিষয়ী শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাশা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৭৯.
'চুল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. লোচন
  2. শর্বরী
  3. কুন্তল
  4. বিভাবরী
ব্যাখ্যা
• 'চুল' শব্দের সমার্থক শব্দ: কেশ, অলক, চিকুর, কুন্তল, কবরী।

অন্যদিকে,
-------------------
• 'চোখ' শব্দের সমার্থক শব্দ: চক্ষু, নয়ন, আঁখি, অক্ষি, নেত্র, লোচন।
• 'রাত্রি'র সমার্থক শব্দ: রাজনী; যামিনী; রাত; নিশা; নিশীথিনী; ক্ষণদা; শর্বরী; বিভাবরী

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,২৮০.
কোন শব্দের 'অ' এর উচ্চারণ সংবৃত?
  1. মৌন
  2. অকাল
  3. গয়না
  4. ক্ষণ
ব্যাখ্যা
অ-এর উচ্চারণ দু রকম:

স্বাভাবিক (অ-এর মতো):
- অজ (অজো), অকাল (অকাল্), কথা (কথা), শপথ (শপথ্) ক্ষণ (খন্‌), জঞ্জাল (জাল্), গয়না (গা), ঘর (ঘর্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (ও-এর মতো):
- অতি (ওতি), নদী (নোদি), অভিধান (ওভিধান), অতনু (অতোনু), সুমতি (সুমোতি), মৌন (মৌনো), মৃগ (মৃগো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,২৮১.
নিচের কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) গবেষণা
  3. গ) কর্তব্য
  4. ঘ) পঙ্কজ
ব্যাখ্যা

যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে ।

যেমন–

গায়ক = গৈ + ণক (অক)

অর্থ: গান করে যে।

কর্তব্য = কৃ + তব্য

অর্থ: যা করা উচিত।

বাবুয়ানা = বাবু + আনা

অর্থ: বাবুর ভাব। 

'গবেষণা' শব্দটি রূঢ়ি শব্দ।

'পঙ্কজ' যোগরূঢ় শব্দ।

'গোলাপ' মৌলিক শব্দ৷ 


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৬,২৮২.
কোনটি কণ্ঠমূলীয় ধ্বনি?
  1. ক) শ
  2. খ) ন
  3. গ) হ
  4. ঘ) ব
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠমূলীয় ধ্বনি:
- স্বরযন্ত্রের মধ্যবর্তী স্বরতন্ত্রীদ্বয়ের স্পর্শজাত ধ্বনিকে বলা হয় কণ্ঠমূলীয় ধ্বনি। যেমন- 'হ'

অন্যান্য অপশন:
• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
- জিভের ডগা উপরের পাটি দাঁতের গোড়া বা দন্তমূল স্পর্শ করে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে।
- যেমন: বাংলা 'ন', 'ব', 'ল' ইত্যাদি।
• পশ্চাৎ দন্তমূলীয় ধ্বনি:
- জিভের পাতা দন্তমূল স্পর্শ করলে যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তার নাম পশ্চাৎ দন্তমূলীয় ধ্বনি। যেমন- 'শ'।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,২৮৩.
 কোনটি বাংলা বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত নয়?​
  1. ধ্বনিবর্ণ
  2. যুক্তবর্ণ
  3. অনুবর্ণ
  4. কারবর্ণ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি ও বর্ণ:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি। মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি। এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ। ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি।
- তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৬,২৮৪.
'হরকিসিম' শব্দের 'হর' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পূর্ণ অর্থে
  2. প্রধান অর্থে
  3. ভিন্ন অর্থে 
  4. প্রত্যেক অর্থে 
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ - 'হর'। 
- 'হর' উপসর্গযোগে 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়-  হররোজ, হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা। 

---------------
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৮৫.
ষোলকলা অর্থ--
  1. ক) সম্পূর্ণ
  2. খ) সুন্দর কলা
  3. গ) ষোলটি কলা
  4. ঘ) একটাকা
ব্যাখ্যা
ষোলো, ষোল: (ক্রিয়াবিশেষণ) (আলঙ্কারিক) সম্পূর্ণ; পুরোপুরি।
বাপের স্বভাব একেবারে ষোলকলায় পেয়েছে -শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬,২৮৬.
কোনটি বাংলা কৃৎ প্রত্যয় গঠিত শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. কাঁদন
  3. জয়
  4. পাঠ
ব্যাখ্যা
বাংলা কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
অ:
- √কাঁদ্ + অ = কাঁদ,
- √ধর্ + অ = ধর,
- √চল্ + অ = চল,
- √পড়ু + অ = পড়।

অন> ওন:
- √নাচ্ + অন = নাচন,
- √কাঁদ্ + অন = কাঁদন।

অন্যদিকে,
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
১. অ(অচ্)
√পট্ + অ = পাঠ, 
√জি + অ = জয়,
Vকৃ + তব্য = কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৬,২৮৭.
'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কী?
  1. কুটিল
  2. বিষাদ
  3. মৃত
  4. মধুর
ব্যাখ্যা
• 'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর

অন্যদিকে,
- 'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
- 'জীবিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মৃত।
- 'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৮৮.
"সে নিজে অঙ্কটা করছে।" বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

৬,২৮৯.
‘গবাক্ষ’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গ + অক্ষ
  2. গবা + অক্ষ
  3. গৌ + অক্ষ
  4. গো + অক্ষ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৯০.
নিম্নের কোন বাক্যে ‘উগ্র’ অর্থে গরম শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
  2. খ) তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
  3. গ) দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
  4. ঘ) শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে। যেমন: গরম শব্দটি বাক্যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ পেতে পারে।

উষ্ণ - এক কাপ খুব গরম চা দাও। 
গ্রীষ্ণ - বৈশাখ জৈষ্ঠ গরমকাল। 
চড়া - সরবরাহ কম থাকলে বাজার গরম থাকে।
উগ্র - তোমার গরম মেজাজ কে আমি ভয় পাই না।
অহংকার - দু নম্বরি টাকার গরমে রহিমের পা যেনো মাটিতে পরে না।
শীত নিবারক - শীতকালে গরম কাপড় না হলে চলে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।

৬,২৯১.
'রাকিবকে  দিয়ে এ কাজ হবে না।' - এ বাক্যে 'দিয়ে' ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ অব্যয় : 
​- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
​- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

​যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

​অনন্বয়ী অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
ক. উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
খ. স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে : হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
গ. সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

​উৎস: 

অনুকার অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা
ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা-
- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়। 
- মেঘের গর্জন – গুড় গুড়। 
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
- সিংহের গর্জন – গর গর। 

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৬,২৯২.
'আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. প্রশ্নবাচক বাক্য
  2. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. আবেগবাচক বাক্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়:

• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
আমাকে একটি কলম দাও।
তার মঙ্গল হোক।

• আবেগবাচক বাক্য: কোনো কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৬,২৯৩.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতি'র উদাহরণ?
  1. করিয়া > করে
  2. বড়দাদা > বড়দা
  3. ধােবা > ধােপা
  4. ফলাহার > ফলা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অভিশ্রতি - করিয়া > করে।
ব্যঞ্জনচ্যুতি - বড়দাদা > বড়দা।
অন্তর্হতি - ফলাহার > ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,২৯৪.
'ত্বরা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অবিলম্বে
  2. নম্র
  3. মুখর
  4. মন্থর
ব্যাখ্যা

• 'ত্বরা’ এর বিপরীতার্থক শব্দ - মন্থর

উল্লেখ্য,
'ত্বরা’ শব্দের অর্থ - শীঘ্র, তাড়া, অবিলম্বে
'ধীর' শব্দের অর্থ - স্থিরচিত্ত, মন্থর, সামান্য, বিনীত।

অন্যদিকে,
• ধৃষ্ট - নম্র।
• মৌন - মুখর।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা একাডেমি ও অভিগম্য অভিধান।

৬,২৯৫.
'মাটি, চাল, চিনি' কোন ধরনের বিশেষ্যবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. ভাববাচক
  4. গুণবাচক
ব্যাখ্যা

• যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
• এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমনঃ
- বই,
- খাতা,
- কলম,
- থালা,
- বাটি,
- মাটি,
- চাল,
- চিনি,
- লবণ,
- পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৯৬.
কোনটি 'কেশ' শব্দের সমার্থক?
  1. ক) তমসা
  2. খ) উন্মুলন
  3. গ) কঞ্জ
  4. ঘ) চিকুর
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'চিকুর' শব্দটি 'কেশ' শব্দের সমার্থক।

• 'কেশ' শব্দের কয়েকটি সমার্থক:
- চুল, কুন্তল, অলক, চিকুর, কেশপাশ, কেশদাম, কবরী।

• 'উচ্ছেদ' শব্দের কয়েকটি সমার্থক:
- বিনাশ, উৎপাটন, উন্মুলন, স্থানচ্যুতি।

• কঞ্জ শব্দের সমার্থক শব্দ:
পদ্ম, কমল, শতদল, উৎপল, নলিনী, পঙ্কজ, সরোজ, কুমুদ, পুষ্কর, কুবল, কুবেল, অন্তোজ, কুবলয়, রাত্রিহাস, নীরজ, ইন্দিরালয়, কুশেশয় ইত্যাদি।

• অন্ধকার শব্দের সমার্থক শব্দ:
তিমির, তম, নাভাক, আঁধারি, তম্রিস, তমস, তমসা, তমিস্রা, শর্বর, আলোকহীনতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,২৯৭.
ধ্বনি পরিবর্তন প্রক্রিয়ার উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. অন্ত্যস্বরাগম
  2. অসমীভবন
  3. অপিনিহিতি
  4. অসমীকরণ
ব্যাখ্যা

• অসমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়ম নয়।

-----------------------
• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis): কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। যেমন- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি (Apenthesis): পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি। 

• অসমীকরণ (Dissimilation): একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ। যেমন - ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,২৯৮.
‘আদিষ্ট’ - এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অনাসক্ত
  2. উদ্ধত
  3. হাজির
  4. নিষিদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'আদিষ্ট' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = নিষিদ্ধ। 

অন্যদিকে:
- 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিরত
- 'হাজির' শব্দের বিপরীত শব্দ - গরহাজির।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,২৯৯.
বাংলা ব্যাকরণে লগ্নক কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক

লগ্নক চার ধরনের:

১. বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,৩০০.
ঐ এবং ঔ কোন জাতীয় বর্ণ?
  1. অর্ধস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনির
  3. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
  4. পূর্ণস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনির
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন – - লাউ’ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই]: তাই, নাই
[এই]: সেই, নেই
[আ]: যাও, দাও
[আ]: খায়, যায়
[উই]: দুই, রুই
[অ]: নয়, হয়
[ওউ]: মৌ, বউ
[ওই]: কৈ, দই
[এ]: কেউ, ঘেউ

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ]।
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।