বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৬২ / ৩৫৪ · ৬,১০১৬,২০০ / ৩৫,৭১৩

৬,১০১.
নিচের কোন বাক্যে বিকল্প যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
  2. চা না-হয় কফি খান।
  3. যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।
  4. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান

অন্যদিকে,
কারণ যোজক - বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
সাপেক্ষ যোজক - যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব। যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।
৬,১০২.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. স্বাতন্ত্র্যতা
  2. স্বাতন্ত্র্য
  3. স্বতন্ত্রতা
  4. খ এবং গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
"স্বাতন্ত্র্য" এবং "স্বতন্ত্রতা" — দুটি শব্দই বাংলা ভাষায় শুদ্ধ।

• "স্বাতন্ত্র্যতা" - শব্দটি অশুদ্ধ।

আরো কিছু শুদ্ধ বানান:
- উপর্যুক্ত;
- প্রতিদ্বন্দ্বিতা;
- উচ্ছল;
- একান্নবর্তিতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১০৩.
'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ-
  1. নিতান্ত অলস
  2. দুর্বল
  3. অজুহাতপ্রবণ
  4. ছিঁচকে চোর
ব্যাখ্যা
• 'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- দুর্বল। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- দহরম মহরম= ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- পুকুর চুরি= বড় রকমের চুরি।
- মণিকাঞ্চন যোগ= উপযুক্ত মিলন।
- মিছরির ছুরি= মুখে মধু অন্তরে বিষ।
- হাটে হাঁড়ি ভাঙা= গোপন কথা প্রকাশ করা।
- শাঁখের করাত= উভয় সংকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১০৪.
‘তার সঙ্গী সাথি কেউ নেই’ বাক্যটিতে ‘সঙ্গী সাথি‘ কী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অনুরূপ
  2. খ) তীব্রতা
  3. গ) পারষ্পরিকতা
  4. ঘ) একত্রতা
ব্যাখ্যা
বাক্যটিতে সঙ্গী-সাথি দ্বিরুক্তি টি অনুরূপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎসঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এইচএসসি, বাংলা দ্বিতীয় পত্র
৬,১০৫.
‘সুবন্ত’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সুর + অন্ত
  2. সুপঃ + অন্ত
  3. সু + বন্ত
  4. সুপ্ + অন্ত
ব্যাখ্যা
• ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১০৬.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধমূলক অলংকারের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ‘বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।’
  2. মরণের ফুল বড় হয়ে ফোটে/জীবনের উদ্যানে।
  3. স্পর্শ ছড়ালো;/আমার ঈর্ষা জাগালো।
  4. স্বর্ণপাত্রে সুধারস, না সে বিষ?
ব্যাখ্যা
⇒ বিরোধমূলক অলংকার:
বিরোধমূলক অলংকার সৃষ্টি হয় দুটি পদার্থের আপাত বিরোধকে অবলম্বন করে।
যেমন-
- ‘বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।’    
এতে আপাত বিবেচনায় ‘বড় হওয়া’ এবং ছোট হওয়া’ এ দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও প্রকৃত কোনো বিরোধ নেই। তাই এটি বিরোধমূলক অলংকারের উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১০৭.
‘বাবার সামান্য আয়ে সংসারই চলে না, সেখানে আমার বিদেশ যাওয়ার শখ ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার মতোই হাস্যকর’- এ বাক্যে ‘ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অর্থের অভাব
  2. খ) দুরাশা
  3. গ) দুর্ভাগ্য
  4. ঘ) বৃথা চেষ্টা
ব্যাখ্যা

‘ছেঁড়ে চুলে খোঁপা বাঁধা’ প্রশ্নোক্ত বাক্যে 'বৃথা চেষ্টা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অবশ্য এই বাগধারাটির সাধারণ অর্থ হচ্ছে – 'পরকে আপন করার চেষ্টা'।

৬,১০৮.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক
  1. ক) গতকালের সভায় সকল সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন
  2. খ) ছেলেটি ভয়ংকর মেধাবী
  3. গ) নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী
  4. ঘ) তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন
ব্যাখ্যা

নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।বাক্যটি সঠিক

প্রশ্নের অন্যন্য অপশনগুলির সঠিক রূপ -
গতকালের সভায় সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১০৯.
কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্ষ
  2. শ্ছ
  3. জ্ঞ
  4. ষ্ণ
ব্যাখ্যা
সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:

- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ষ = (ক্ + ষ), জ্ঞ = (জ্‌  + ঞ), ষ্ণ = (ষ্ + ণ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১১০.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঘুম ঘুম
  2. গুটিশুটি
  3. টাট্রু-ফাট্রু
  4. হিস হিস
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ হচ্ছে- হিস হিস।

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, টাট্রু-ফাট্রু, গুটিশুটি ইত্যাদি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, ফুসুর ফুসুর, হিস হিস।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। 
- যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম, মজার মজার, পথে পথে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৬,১১১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বাক্য নয়?
  1. ক) তার বাবা একজন বুদ্ধিজীবী
  2. খ) সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন
  3. গ) শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন
  4. ঘ) তিনি আরোগ্য হইয়াছেন
ব্যাখ্যা

সঠিক বাক্যসমূহ-
তার বাবা একজন বুদ্ধিজীবী।
সমুদয় সভ্য আসিয়াছেন।
শামীমের চিঠি দেখে তিনি অবাক হলেন।
তিনি আরোগ্য লাভ করিয়াছেন।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১১২.
নিচের কোনটি অব্যয়জাত শব্দ দ্বারা গঠিত বিশেষণ?
  1. হঠাৎ বড়লোক
  2. নৈতিক বল
  3. স্বীয় সম্পত্তি
  4. কাঁদকাঁদ চেহারা
ব্যাখ্যা
বিভিন্নভাবে বিশেষণ গঠনের পদ্ধতি:
ক. ক্রিয়াজাত: হারানো সম্পত্তি, অনাগত দিন।
খ. অব্যয়জাত: উপরি পাওনা, হঠাৎ বড়লোক
গ. সর্বনাম জাত: স্বীয় সম্পত্তি, কবেকার কথা।
ঘ. সমাসসিদ্ধ: জ্ঞানহারা, চৌচালা ঘর।
ঙ. বীপ্সামূলক: কাঁদকাঁদ চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
চ. অনুকার অব্যয়জাত: কনকনে শীত, ধিকিধিকি আগুন।
ছ. কৃদন্ত: কৃতী সন্তান, হৃত সম্পত্তি।
জ. তদ্ধিতজাত: নৈতিক বল, মেঠো পথ।
ঝ. উপসর্গযুক্ত: নিখঁত কাজ, নির্জলা মিথ্যে।
ঞ. বিদেশি: নাস্তানাবুদ অবস্থা, দরপত্তনি তালুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১১৩.
'দ্বীপী' শব্দের অর্থ কী?
  1. দ্বীপবাসী
  2. সমুদ্র
  3. চিতাবাঘ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
দ্বীপী (বিশেষ্য):
অর্থ -
- বাঘ, চিতাবাঘ
- সমুদ্র

আবার,
বিশেষণ হিসাবে "দ্বীপী" এর অর্থ - দ্বীপবাসী।

- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৪.
নিচের কোনটি একবচন?
  1. তারা
  2. বইটা 
  3. মেয়েরা 
  4. পাখিগুলো
ব্যাখ্যা
বচন:
- ‘বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা।
- ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন।
- বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার : একবচন ও বহুবচন ।
 
• একবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
- যেমন- বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? 

• বহুবচন :
যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি। সবাই কাজে মন দাও। পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)
৬,১১৫.
'উহ্যমান' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) উজজোমান্‌
  2. খ) উজ্‌ঝোমান্‌
  3. গ) উজ্‌ঝমান্‌
  4. ঘ) উহ্‌হোমান্‌
ব্যাখ্যা
উহ্য (উজ্‌ঝোমান্‌):
- বিশেষণ
- [স. √বহ্‌+মান]
অর্থ:
- নীত হয়েছে এমন; নীয়মান।
- আকর্ষিত হচ্ছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১১৬.
‘সে পরিশ্রম করেছে কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নি’- গঠন অনুসারে বাক্যটি-
  1. ক) সরল
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) মিশ্র
  4. ঘ) জটিল
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক
বাক্য বলে।

• যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, নতুবা, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- তাঁর টাকা আছে কিন্তু তিনি দান করেন না।
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে কিন্তু কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- তার বয়স হয়েছে, কিন্তু বুদ্ধি হয়নি।
- বুঝে শুনে উত্তর দাও নতুবা ভুল হবে।
- সে পরিশ্রম করেছে কিন্তু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় নি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,১১৭.
'আবাহন' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিসর্জন
  2. সম্মতি
  3. বিলম্ব
  4. তিরোভাব
ব্যাখ্যা

•  'আবাহন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিসর্জন।

এখানে,
• 'আবাহন' অর্থ- আহ্বান।
• 'বিসর্জস' অর্থ- ত্যাগ।

অন্যদিকে,
- 'আপত্তি' এর বিপরীত শব্দ - সম্মতি।
- 'আশু' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ - বিলম্ব।
- 'আবির্ভাব' এর বিপরীত শব্দ - তিরোভাব।

উৎস: বাংলা ভাষা-সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা এবং আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১১৮.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দর্শনমাত্র
  2. খ) আমৃত্যু
  3. গ) জীবন্মৃত
  4. ঘ) সফল
ব্যাখ্যা
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে থাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
যেমন : উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন ইত্যাদি। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৬,১১৯.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' প্রবাদের অর্থ -
  1. দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি ক্ষতির ভয়ে ভীত হয় না।
  2. যোগ্যতার মূল্য সর্বাবস্থায়
  3. লক্ষ্য অর্জনে প্রাণপণ চেষ্টা
  4. মর্মান্তিক আঘাতের ওপর আঘাত
ব্যাখ্যা
• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন' প্রবাদের অর্থ - লক্ষ্য অর্জনে প্রাণপণ চেষ্টা। 

অন্যদিকে, 
• 'মরা হাতি লাখ টাকা' অর্থ - যোগ্যতার মূল্য সর্বাবস্থায়। 
• 'ভাঙবে তো মচকাবে না' অর্থ - দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি ক্ষতির ভয়ে ভীত হয় না। 
• 'মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা' অর্থ - মর্মান্তিক আঘাতের ওপর আঘাত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১২০.
আরবি উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. লাখেরাজ
  2. কারখানা 
  3. বরখাস্ত 
  4. নিমরাজি 
ব্যাখ্যা

• 'লা' উপসর্গটি একটি আরবি উপসর্গ।

• 'লা' উপসর্গ দিয়ে 'নাই' অর্থে কিছু গঠিত শব্দ:
- লাজওয়াব,
- লাখেরাজ,
- লাওয়ারিশ,
- লাপাত্তা।

নিম্নরূপ আরোকিছু আরবি উপসর্গ দেওয়া হল:
- আম, খাস, লা, বাজে, গর ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কারখানা, বরখাস্ত, নিমরাজি ফারসি উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ। 

-------------------
বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: লা, আম, খাস, লা, বাজে, গর। 
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১২১.
'উভয় সংকট' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কচ্ছপের কামড়
  2. করাতের দাঁত
  3. কলমি কাপ্তেন
  4. কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
• 'উভয় সংকট' অর্থে 'করাতের দাঁত' বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয় ।

অন্যদিকে,
• 'কচ্ছপের কামড়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - যা সহজে ছাড়ে না।
• 'কলমি কাপ্তেন' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দরিদ্র কিন্তু বিলাসী।
• 'কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ড' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - তুমুল হট্টগোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১২২.
তালব্য ধ্বনির আরেক নাম কী?
  1. জিহ্বামূলীয়
  2. অগ্রতালুজাত
  3. পশ্চাৎ দন্তমূলীয়
  4. অগ্র দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:
- ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহ্বা ও ওষ্ঠ। আর উচ্চারণের স্থান হলাে কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

• উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামুলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১২৩.
‘হাতি’ শব্দে ‘হ’ কোন ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠনালীয়
  3. ওষ্ঠ্য
  4. মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কম্পিত ব্যঞ্জন - র।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়।
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন - প, ফ, ব, ভ, ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১২৪.
চলিত শব্দ কোনটি?
  1. করে
  2. করিলেন
  3. পার হইয়া
  4. পড়িল
ব্যাখ্যা
• 'করিয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে - করে

সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর।
- এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত।
- বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
- পার হইয়া = পেরিয়ে,
- পড়িল = পড়ল/পড়লো,
- করিয়া = করে,
- করিয়াছিলেন = করেছিলেন,
- করিলেন = করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১২৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ?
  1. ক) বাহ্যিক
  2. খ) বৈচিত্রতা
  3. গ) দৈন্যতা
  4. ঘ) মনোকামনা
ব্যাখ্যা
‘মনোকামনা’ শব্দটির প্রয়োগ যথার্থ।
অপশনের বাকি শব্দগুলোর সঠিক ব্যবহার হলোঃ
বাহ্যিক - বাহ্য
বৈচিত্রতা - বৈচিত্র, বিচিত্রতা
দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৬,১২৬.
'বিদিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অবগত
  2. খ্যাত
  3. অজ্ঞাত
  4. অনুরাগ
ব্যাখ্যা

• 'বিদিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অজ্ঞাত

উল্লেখ্য,
'অজ্ঞাত' শব্দের অর্থ - অজানা, অবিদিত; অপ্রকাশিত।
'বিদিত' শব্দের অর্থ - জেনেছে, এমন, জ্ঞাত, অবগত, খ্যাত

অন্যদিকে,
অনুরাগ - বিরাগ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১২৭.
কোনটি সংস্কৃত ধাতুর উদাহরণ?
  1. পঠ্‌
  2. আক্
  3. কহ্
  4. নাচ্
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত মূল ধাতু:
- যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১২৮.
কোনটি ভিন্নার্থক শব্দ?
  1. ক) নগরাজ
  2. খ) নগাধিপ
  3. গ) নরপতি
  4. ঘ) হিমালয়
ব্যাখ্যা
নগেন্দ্র (বিশেষ্য): নগ, নগপতি, নগরাজ, নগাধিপ, নগাধিরাজ, পর্বতশ্রেষ্ঠ; সর্বোচ্চ পর্বত; হিমালয়।
নৃপতি (বিশেষ্য) - নৃপ, ভূপতি; নরপতি; রাজা; বাদশাহ।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৬,১২৯.
"স্মিত" বলতে কী বোঝায়?
  1. ঈষৎ কম্পিত
  2. ঈষৎ উষ্ণ
  3. ঈষৎ হাস্য
  4. ঈষৎ রক্তবর্ণ
ব্যাখ্যা

• 'ঈষৎ হাস্য' এর এক কথায় প্রকাশ - স্মিত

অন্যদিকে,
ঈষৎ কম্পিত - আধুত।
ঈষৎ উষ্ণ - কবোষ্ণ।
ঈষৎ রক্তবর্ণ - আরক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১৩০.
'ঝিউড়ি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তনয়া
  2. জীবনসাথী
  3. ভার্যা
  4. জায়া
ব্যাখ্যা
'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- দুহিতা, তনয়া, নন্দিনী, মেয়ে, দুলালি, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউড়ি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
'পত্নী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- স্ত্রী, বউ, ভার্যা, জীবনসাথী, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, জায়া, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৩১.
'নিশ্ছিদ্র' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিশ + ছিদ্র
  2. নি + ছিদ্র
  3. নিশঃ + ছিদ্র
  4. নিঃ + ছিদ্র
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ,
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৩২.
উচ্চারণের স্থান ও প্রকৃতি অনুযায়ী বর্ণ কয়ভাবে বিভক্ত?
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:
- ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহবা ও ওষ্ঠ।
- আর উচ্চারণের স্থান হলাে কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

- উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
যেমন:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামুলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৩৩.
'বই' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. নাম-বিশেষ্য
  2. জাতি-বিশেষ্য
  3. গুণ-বিশেষ্য
  4. বস্তু-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
নাম-বিশেষ্য: ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।

ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
যেমন:
- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি ।

গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।
যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৩৪.
'ঞ্চ' যুক্তবর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়?
  1. ঞ+ম
  2. ঞ+ছ
  3. ঞ+চ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- 'ঞ্চ' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো:
- ঞ্চ = ঞ্ + চ।
যেমন- অঞ্চল, চঞ্চল।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৬,১৩৫.
"একোন" শব্দটি কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. দ্বন্দ্ব
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। ঊন, হীন, শূন্য প্রভৃতি শব্দ উত্তরপদ হলেও তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।

যেমন:
- এক দ্বারা ঊন = একোন,
- পাঁচ দ্বারা কম = পাঁচকম,
- অগ্নি দ্বারা উৎপাত = অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,১৩৬.
'Disclose' শব্দের অর্থ কী?
  1. ত্যাজ্য করা
  2. বাতিল করা
  3. অনাবৃত করা
  4. খালাস করা
ব্যাখ্যা
• 'Disclose' শব্দের অর্থ - অনাবৃত করা; খুলে দেওয়া।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'Disclaim' অর্থ - দাবি পরিত্যাগ করা; সম্পর্ক অস্বীকার করা; ত্যাজ্য করা। 
• 'Discard' অর্থ - বাতিল করা; ফেলে দেওয়া; অপ্রার্থিত; অবাঞ্ছিত কিছু পরিত্যাগ করা। 
• 'Discharge' অর্থ - জাহাজ থেকে মাল খালাস করা। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।
৬,১৩৭.
কোন শব্দটি দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. সিংহাসন
  2. রাজপথ
  3. প্রভাত
  4. দম্পতি
ব্যাখ্যা
দম্পতি - দ্বন্দ্ব সমাস।

দ্বন্দ্ব সমাস:
যে সমাসে দুই বা বহুপদ মিলে এক পদ এবং প্রত্যেক পদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন -
- জায়া ও পতি = জায়াপতি > জম্পতি > দম্পতি।
- সাহেব ও বিবি ও গোলাম = সাহেববিবিগোলাম।

• উল্লেখ্য,

মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন, জ্যোৎস্না শোভিত যে রাত = জ্যোৎস্নারাত, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।

তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
যেমন: 'রাজপথ'-এর ব্যাসবাক্য = পথের রাজা।

প্রাদি সমাস: প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন: প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩৮.
‘বাস্তঘুঘু’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. ক্রোধী লোক
  2. সুসময়ের বন্ধু
  3. অতি ধূর্ত লোক
  4. বিচক্ষণ ব্যক্তি
  5. নিষ্ঠুর ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• ‘বাস্তঘুঘু’ বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অতি ধূর্ত লোক।

অন্যদিকে,
• ‘ফোঁস মনসা’ অর্থ - ক্রোধী লোক।
• ‘দুধের মাছি’ অর্থ - সুসময়ের বন্ধু।
• ‘ভূষণ্ডির কাক’ অর্থ - বিচক্ষণ ব্যক্তি।
• ‘যমের দোসর’ অর্থ - নিষ্ঠুর ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৩৯.
'দ্বৈপায়ন' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দ্বীপ + আয়ন
  2. দ্বীপ + অয়ন
  3. দ্বিপ + অনট
  4. দ্বীপ + অনট
ব্যাখ্যা
• 'দ্বৈপায়ন' সন্ধি সাধিত শব্দ নয়। এটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• ‘আয়ন’ সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
এই প্রত্যয় বংশধর অর্থে বিশেষ্য শব্দ গঠন করে। যেমন:
- বাৎস্য + আয়ন = বাৎস্যায়ন,
- বদর + আয়ন = বাদরায়ণ, 
- দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন।

যদিও প্রশ্নটি ভুল তবে, ৩৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নটি আসার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নটি এসে থাকে। প্রশ্নটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আসলে ‘দ্বীপ + আয়ন = দ্বৈপায়ন’ উত্তর করবেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৪০.
অন্ত্য যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নচিহ্ন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• অন্ত্য যতিচিহ্ন নয়- সেমিকোলন। এটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন।

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।

৬,১৪১.
'যে শুনেই মনে রাখতে পারে' এক কথায় প্রকাশ করুন:
  1. ক) মেধাবী
  2. খ) অশ্রুতপূর্ব
  3. গ) শ্রুতিধর
  4. ঘ) জাতিস্মর
ব্যাখ্যা
• যে শুনেই মনে রাখতে পারে - শ্রুতিধর। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু এককথায় প্রকাশ: 
• যা পূর্বে শোনা যায়নি- অশ্রুতপূর্ব। 
• যা অনুভব করা হচ্ছে - অনুভূয়মান।
• যা ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে - অপসৃয়মাণ।  
• যা বহন করা হচ্ছে -নীয়মান।
• যা বলা হচ্ছে- বক্ষ্যমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,১৪২.
নঞ্‌ বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. নাতিদীর্ঘ
  2. নির্ভুল
  3. নাতিখর্ব
  4. অভাব
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা

• নঞ্‌ বহুব্রীহি:
- বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে বহুব্রীহি সমাস করা হলে তাকে নঞ বহুব্রীহি বলে। নঞ বহুব্রীহি সমাসে সাধিত পদটি বিশেষণ হয়।

যেমন:
- ন (নাই) জ্ঞান যার = অজ্ঞান,
- বে (নাই) হেড যার = বেহেড,
- না (নাই) চারা (উপায়) যার = নাচার।
- নি (নাই) ভুল যার= নির্ভুল,
- না (নয়) জানা যা = নাজানা, অজানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস:
- না বাচক নঞ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যথা-
- ন আচার = অনাচার,
- ন কাতর = অকাতর।
এরূপ – অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, অভাব, বেতাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৪৩.
কোনটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. চড়ক
  2. ছত্র
  3. নেত্র
  4. ফলক
ব্যাখ্যা
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ফলক (ফলা + ক)।

অন্যদিকে,
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চড়ক (√চড়্‌ + অক)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - ছত্র (√ছদ্‌ + ত্র)।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - নেত্র (√নী + ত্র)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৪৪.
‘সাত-পাঁচ' কোন ধরনের সমাস?
  1. ক) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি
  2. খ) তৎপুরুষ সমাস
  3. গ) সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস
  4. ঘ) দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে সমাসে সমস্যমান প্রত্যেক পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
- এ সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ বোঝানোর জন্য ব্যাসবাক্যে ও, এবং, আর- এ তিনটি অব্যয়পদ সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

⇒ সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় দ্বারা সংখ্যা বোঝায় তাকে বলা হয় সংখ্যাবাচক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন- সাত-পাঁচ, ছয়-নয়, নয়-ছয়, ঊনিশ-বিশ. সাত-সতের, লক্ষ-কোটি, দশ-বারো ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৪৫.
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ কোনটি?
  1. রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।
  2. শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।
  3. আমার জন্য একটি বই আনবেন।
  4. আমি গল্প লিখতে থাকব।
ব্যাখ্যা
সাধারণ ভবিষ্যৎ:
- ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন-
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।
- শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

অন্যদিকে,
ঘটমান ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন -
- আমি গল্প লিখতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
- যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন –
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
- আমার জন্য একটি বই আনবেন
- 'রেখো মা, দাসেরে মনে এ মিনতি করি পদে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৪৬.
'মহাকীর্তি'-এর সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) মহতী যে কীর্তি
  2. খ) মহা যে কীর্তি
  3. গ) মহান যে কীর্তি
  4. ঘ) মহান কীর্তি যার
ব্যাখ্যা
মহাকীর্তি শব্দের সঠিক ব্যাসবাক্য হলো 'মহতী যে কীর্তি'।
এটি কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

কর্মধারয় সমাস: 
- যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়
এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: নীল যে পদ্ম= নীলপদ্ম। 

কিছু কিছু পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে কর্মধারয় সমাসে সেটি পুরুষ বাচক হয়।
যেমন:  'মহতী যে কীর্তি'= 'মহাকীর্তি'।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,১৪৭.
"আনী" প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. দুঃখিনী
  2. মায়াবিনী
  3. যোগিনী
  4. শূদ্রানী
ব্যাখ্যা

"আনী" প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী-মায়াবিনী,
- কুহক-কুহকিনী,
- যোগী-যোগিনী,
- মেধাবী-মেধাবিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৪৮.
'হলাহল' শব্দটির বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বেহাল
  2. বন্ধুর
  3. নিন্দিত
  4. অমৃত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'হলাহল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সুধা / অমৃত। 

• 'হলাহল' অর্থ: কাল-কূট, দেবাসুর কর্তৃক সমুদ্রমন্থনে উত্থিত তীব্র বিষ।
• 'সুধা' অর্থ: অমৃত, জ্যোৎস্না, গঙ্গা, জল।

অন্যদিকে,
- হাল - বেহাল;
- মসৃণ - বন্ধুর;
- নিন্দিত - প্রশংসিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৪৯.
কোন শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত?
  1. কাজি
  2. চেহারা
  3. গির্জা
  4. দারোগা
ব্যাখ্যা
• 'গির্জা' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - দারোগা, চেহারা, কাজি।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৫০.
উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ নয় কোনটি?
  1. শিক্ষকবৃন্দ
  2. জনগণ
  3. মনুষ্যসকল
  4. সুধীবৃন্দ
ব্যাখ্যা

উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ গুলো হলো:
গণ - দেবগন, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি।
বৃন্দ - সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি।
মণ্ডলী - শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ - পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রীবর্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:
কুল - কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল - পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব - ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ - বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৫১.
'গরীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কী?
  1. গরীয়সী
  2. মহান
  3. গরিয়সী
  4. মহিয়সী
ব্যাখ্যা
• গরীয়ান অর্থ
- মর্যাদা-পূর্ণ, মহান।
- গুরুতর; বৃহত্তর।
- মহার্ঘ।
- বিত্তশালী। 
স্ত্রীবাচক শব্দ = গরীয়সী/গোরিয়োশি/।

উল্লেখ্য,
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মানু, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা:
সৎ= সতী,
মহৎ = মহতী,
গুণবান = গুণবতী,
রূপবান = রূপবতী,
শ্রীমান = শ্রীমতী,
বুদ্ধিমান = বুদ্ধিমতী,
গরীয়ান = গরীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি ২০১৮ সালের সংস্করণ।
৬,১৫২.
’সন্ন্যাসী’ শব্দের  বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বাউল
  2. বৈরাগী
  3. সঞ্চয়ী
  4. গৃহী
ব্যাখ্যা

- ’গৃহী’ অর্থ - গৃহস্থ বা সংসারী।
- ’সন্ন্যাসী’ অর্থ - যে ব্যক্তি সংসারধর্ম ত্যাগ করে চতুর্থ আশ্রম অর্থাৎ সন্ন্যাস গ্রহণ করেছে।
- ’বৈরাগী’ অর্থ- সংসারের প্রতি অনাসক্ত।

- 'সন্ন্যাসী' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - গৃহী। 

অন্য কিছু বিপরীতার্থক শব্দের উদাহরণ-
এঁড়ে - বকনা। 
কৃষ্ণ - শুক্ল। 
গলগ্রহ - প্রতিপাল্য। 
গৃহীত - বর্জিত। 
গুরু - লঘু। 
গরিমা - লঘিমা। 
অন্ধ - চক্ষুষ্মান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৫৩.
নিম্নের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) নির্দ্দিষ্ট
  2. খ) কার্যালয়
  3. গ) সূর্য্য
  4. ঘ) পর্ব্বত
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান = কার্যালয় 

অশুদ্ধ বানানের শুদ্ধ রূপ - নির্দিষ্ট, সূর্য, পর্বত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৫৪.
‘রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।’- এখানে ‘উৎপল’ শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. সুন্দর
  2. পদ্ম
  3. চোখ
  4. গোলাপ
ব্যাখ্যা
• উৎপল (বিশেষ্য পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- পদ্ম,
- অম্বুজ,
- অরবিন্দ,
- শতদল,
- কমল,
- কুমুদ।

• ‘রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।’- এখানে ‘উৎপল’ শব্দটি ‘পদ্ম’ অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৫৫.
'বামী' শব্দের অর্থ কী?
  1. ঘোড়া
  2. হাতী 
  3. গাধা 
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা



• 'অশ্ব' শব্দের সমার্থক শব্দ:
ঘোড়া, ঘোটক, হয়, বাহ, বাজী, তুরঙ্গ, বাহনশ্রেষ্ঠ, হ্রেষী, ঘোটকী, তুরঙ্গ, বামী, টাঙ্গন, বড়বা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৬,১৫৬.
‘কারিগর’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'কারিগর’ শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
 
• কিছু ফারসি শব্দ:
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৫৭.
'মৃদু' শব্দটির বিপরীত শব্দ নয় -
  1. প্রবল
  2. তীব্র
  3. উগ্র
  4. হালকা
ব্যাখ্যা
• 'মৃদু' শব্দটির বিপরীত শব্দ - উগ্র / তীব্র / প্রবল।

অন্যদিকে,
- 'ভারী' শব্দের বিপরীত শব্দ - হালকা।

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ:
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত,
'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - নির্ভীক,
'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - স্থাবর,
'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান,
'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিরত,
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৫৮.
'হস্তী' এর সমার্থক শব্দ -
  1. মৃগেন্দ্র
  2. মাতঙ্গ
  3. অহি
  4. শশক
ব্যাখ্যা
• 'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরদ, পিল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'সিংহ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
কেশরী, পশুরাজ, মৃগেন্দ্র, পারীন্দ্র, মৃগরাজ ইত্যাদি।

• 'ফণী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সর্প, সাপ, আশীবিষ, নাগ, অহি।

• 'খরগোশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- শশক।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১৫৯.
নিত্য মূর্ধন্য-ষ কোন শব্দে বিদ্যমান?
  1. পৌষ
  2. কাষ্ঠ
  3. বর্ষণ
  4. চিকীর্ষা
ব্যাখ্যা
• নিত্য মূর্ধন্য-ষ বা স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ ব্যবহৃত হয়েছে- পৌষ শব্দে।

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি। 
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়।
যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,১৬০.
'ক্যামেরা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ফরাসি 
  2. ল্যাটিন 
  3. ইংরেজি 
  4. স্প্যানিশ 
ব্যাখ্যা

'ক্যামেরা' বিশেষ্য পদ। 
- এটি একটি ল্যাটিন শব্দ।
অর্থ:
- চলমান বা স্থিরচিত্র ধারণের সরঞ্জামবিশেষ। 
- বিচারকের খাসকামরা (প্রকাশ্য নয়)।

• এরূপ কিছু ল্যাটিন শব্দ- ক্যামেলিয়া, ক্যাম্পাস, ক্লাস, ক্লাসিক, ক্লাসিক্যাল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৬১.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'চাচা' শব্দে কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,১৬২.
উচ্চারণের সময় মুখবিবর উন্মুক্ত থাকে বলে 'আ' কে কী বলে?
  1. সংবৃত স্বরধ্বনি
  2. বিবৃত স্বরধ্বনি
  3. সম্মুখ স্বরধ্বনি
  4. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [3]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উল্লেখ্য, 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা-
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [3]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি- [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,১৬৩.
'নাজ্জামাই' শব্দের যথার্থ সান্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নাতি+জামাই
  2. খ) নাত+ জামাই
  3. গ) নাজ+জামাই
  4. ঘ) নাতিন+জামাই
ব্যাখ্যা
চ বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ বর্গীয় ধ্বনীর দ্বিত্ব হয়৷ যেমনঃ নাত + জামাই = নাজ্জামাই, বদ + জাত = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,১৬৪.
কোন ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে?
  1. সমাস প্রক্রিয়ায়
  2. কারকে
  3. পদ পরিবর্তনে
  4. অনুসর্গে
ব্যাখ্যা
সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
* তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা। 
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন আমি এখন চা আনতে যাই বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র মনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৬৫.
কোন ধ্বনি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ঘ, ঝ
  2. ক, চ
  3. খ, ছ
  4. গ, জ
ব্যাখ্যা
• ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি - ঘ, ঝ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:

- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৬,১৬৬.
কোনটি বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) নিগৃহিত
  2. খ) নিঃস্বার্থ
  3. গ) নিকুঞ্জ
  4. ঘ) নিদ্রাকর্ষক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - নিগৃহিত
• শুদ্ধ বানান - নিগৃহীত (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত প্রত্যয় = [নি+√গ্রহ্+ত]
অর্থ: নির্যাতিত, লাঞ্ছিত, দণ্ডিত ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, নিঃস্বার্থ; নিকুঞ্জ; নিদ্রাকর্ষক বানাগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬,১৬৭.
কোন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বাধা সৃষ্টি করে?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  3. দন্ত্য ব্যঞ্জন
  4. তালব্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৬৮.
‘হাড়হদ্দ’ বাগ্‌ধারাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. গভীরভাবে
  2. প্রধান সহযোগী
  3. সবকিছু
  4. ভরপুর
  5. গুরুভার
ব্যাখ্যা
• ‘হাড়হদ্দ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সবকিছু।

অন্যদিকে
• ‘হাড়ে হাড়ে’ অর্থ - গভীরভাবে।
• ‘দক্ষিণ হস্ত’ অর্থ - প্রধান সহযোগী।
• 'জগদ্দল পাথর' অর্থ - গুরুভার।
• ‘টইটম্বুর’ অর্থ - ভরপুর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৬৯.
‘পদপল্লব’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপমিত কর্মধারয় সমাস
  2. খ) উপমান কর্মধারয় সমাস
  3. গ) রূপক কর্মধারয় সমাস
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
- উপমিত কর্মধারয় সমাস : প্রত্যক্ষ বস্তুর সাথে পরোক্ষ বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয় বা উপমিত। 
- যেমন : 
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = মুখচন্দ্র,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ
- চরণ কোমলের ন্যায় =চরণকোমল
- অধর কোমলের ন্যায় = অধরকোমল
- ফুল বাবুর ন্যায় = ফুলবাবু
- ফুল কুমারীর ন্যায় = ফুলকুমারী, 
- কর কমল সদৃশ =করকমল
- পদ পল্লবের ন্যায় = পদপল্লব ইত্যাদি। 


উৎস : বাংলা দ্বিতীয় পত্র (এসএসসি প্রোগ্রাম) : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,১৭০.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. রাজপুত 
  2. গায়ক
  3. কর্তব্য
  4. প্রবীণ
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- পঙ্কজ ; রাজপুত ; মহাযাত্রা ; জলধি ।

অন্যদিকে,
• রূঢ়ি শব্দ = বাঁশি; তৈল; প্রবীণ; সন্দেশ।
• যৌগিক শব্দ = গায়ক; কর্তব্য; বাবুয়ানা; মধুর; দৌহিত্র; চিকামারা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০১৯ সালের সংস্করণ।

৬,১৭১.
সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. যথারীতি
  2. উপকণ্ঠ
  3. উপবন
  4. উপনদী
ব্যাখ্যা
• সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,

- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:

- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে:
- বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:
- রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,

- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য।

• সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর।

• ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

• পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে:
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২৪ ও ২০১৮ সংস্করণ)।
৬,১৭২.
'অন্তরীক্ষ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি হবে?
  1. অন্ত + ইক্ষ
  2. অন্তঃ + ঈক্ষ
  3. অন্তর + ইক্ষ
  4. অন্তঃ + ইক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'অন্তরীক্ষ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'অন্তঃ + ঈক্ষ'।

• সন্ধির নিয়ম: 
অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্‌, পুনর্‌, প্রাতর্‌) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন,
অঃ + ঈ + র্‌ + ঈ; 'অন্তঃ + ঈক্ষ'= 'অন্তরীক্ষ'।

উৎস: ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
৬,১৭৩.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. লাল
  2. খর্ব
  3. মাঠ
  4. বাপু
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মাঠ' একটি দেশি শব্দ।
অর্থ:
১. প্রান্তর, ময়দান; খেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান।
২. কৃষিক্ষেত্র (মাঠের ফসল)।
৩. পশুচারণ ক্ষেত্র।

কিছু দেশি শব্দ:
ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, , ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

অন্যদিকে,
- লাল ও খর্ব সংস্কৃত শব্দ।
- বাপু হিন্দি শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৭৪.
'কুঁড়ি' শব্দটি এসেছে-
  1. ক) 'কুঁড়ে' থেকে
  2. খ) 'কুড়িল' থেকে
  3. গ) কোরক' থেকে
  4. ঘ) 'পুষ্প' থেকে
ব্যাখ্যা

কুঁড়ি [কুঁড়ি] (বিশেষ্য) আফোটা ফুল; মুকুল; কলিকা।
{(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) কুট্মল>কুড্‌মল>কুঁড়ি; (তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ ) কোরক>কোরঅ>কুঁড় (ও= উ, র=ড়)+ই = কুঁড়ি}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৬,১৭৫.
কোন বিপরীত শব্দ যুগল শুদ্ধ নয়?
  1. সংহত - বিভক্ত
  2. বাউন্ডুলে - সন্যাসী
  3. সুরভি - নিন্দা
  4. তিরস্কার - পুরস্কার
ব্যাখ্যা
- বাউন্ডুলে ও সন্যাসী শব্দ দুটি সমার্থক।
- বাউন্ডুলে শব্দের বিপরীতার্হক শব্দ - সংসারী।
অপশনগুলোতে বর্ণিত অন্যান্য বিপরীত শব্দযুগল শুদ্ধ।
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (২০২১)
৬,১৭৬.
কোনটি একপদী ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ?
  1. যায় যায়
  2. ভয়ে ভয়ে
  3. ভালোভাবে
  4. চুপি চুপি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
 
• গঠন বিবেচেনায় ক্রিয়াবিশেষণকে একপদী ও বহুপদী - এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
একপদী ক্রিয়াবিশেষণ: আস্তে, জোরে, চেঁচিয়ে, সহজে, ভালোভাবে, গুনগুনিয়ে ইত্যাদি।
বহুপদী ক্রিয়াবিশেষণ: ভয়ে ভয়ে, চুপি চুপি, মরতে মরতে, যায় যায় ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৭৭.
'ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।' কোন কারক?
  1.  কর্ম কারক
  2. অপাদান কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
• যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’ ‘দিয়ে’ ‘কতৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন-
ভেড়া দিয়ে হাল চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৭৮.
'অন্বয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী হবে?
  1. অসংগতি
  2. ধারা
  3. সম্বন্ধ
  4. সংশয়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'অন্বয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অসংগতি

উল্লেখ্য,
'অন্বয়' শব্দের অর্থ - সম্বন্ধ; মিল, ক্রম, ধারা, বংশ।
'অনন্বয়' শব্দের অর্থ - পরস্পর সম্বন্ধহীন, অসংগতি, উপমান ও উপমেয় উভয়ের ধর্ম আরোপিত হয় এমন অর্থালংকার।

অন্যদিকে,
- 'প্রত্যয়' এর বিপরীত শব্দ - সংশয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬,১৭৯.
কোন বাক্যে ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ আছে?
  1. টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে
  2. বৃষ্টি হতে পারে
  3. বৃষ্টি পড়ছে
  4. বৃষ্টিতে মন কেমন করে
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।
টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৮০.
'রাজু পুস্তক পাঠ করছে।' বাক্যটির কর্মবাচ্যে রূপ হবে-
  1. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  2. রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  3. রাজু কর্তৃক পুস্তক পাঠ্য হচ্ছে।
  4. পুস্তক কর্তৃক রাজু পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• কর্তৃবাচ্য: রাজু পুস্তক পাঠ করছে।
• কর্মবাচ্য: রাজু কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
------------------------------------------
• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য
-  কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
-  কর্তায় তৃতীয়া , কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

যেমন:
• কর্তৃবাচ্য: বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
• কর্মবাচ্য: বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।

• কর্তৃবাচ্য: খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
• কর্মবাচ্য: বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬,১৮১.
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোন কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তা-
কে বলে-
  1. Prothesis
  2. Apothesis
  3. Apenthesis
  4. Progressive
ব্যাখ্যা

আদি স্বরাগম (Prothesis): উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন–
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন।
এরূপ – আস্তাবল, আস্পর্ধা।

অন্যদিকে,
অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis): কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।

যেমন-
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন –
- আজি > আইজ,
- সাধু> সাউধ।

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive): আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন
– মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৬,১৮২.
ভাষার মূল উপাদান - 
  1. শব্দ
  2. ধ্বনি
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
ব্যাখ্যা

- ভাষার মূল উপাদান - 'ধ্বনি'।
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উল্লেখ্য,
বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক/উপাদান হলো 'ধ্বনি'। কিন্তু বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ। বাক্যের ক্ষেত্রে মৌলিক কথাটি উল্লেখ থাকলে উত্তর শব্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,১৮৩.
কোন পাখিকে 'অন্যপুষ্ট' বলা হয়?
  1. কোকিল
  2. ময়না
  3. কাক
  4. কবুতর
ব্যাখ্যা

• কোকিল এর সমার্থক শব্দ: অন্যপুষ্ট।

• কোকিল এর সমার্থক শব্দ: 

- কলকণ্ঠ, 
- পরপুষ্ট, 
- বসন্তদূত, 
- মধুসখা, 
- মধুস্বর,
- কাকপুষ্ট,
- পরভৃত।

অন্যান্য অপশনগুলো:
• 'কাক' শব্দের সমার্থক শব্দ: বায়স,পরভৃৎ, কানুক, বৃক, বলিভুক। 
• কবুতর এর সমার্থক শব্দ - পারাবত, কপোত, পায়রা, নোটন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,১৮৪.
'ছাপাখানা' শব্দের 'খানা' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• ছাপা + খানা = ছাপাখানা, এখানে 'খানা' বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

---------------------------
• তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
যথা:
১. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়;
২. তৎসম তদ্ধিত প্রত্যয়;
৩. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।

• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: অণু + ইক = আণবিক; পুষ্প + ইত = পুষ্পিত।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন: থাল + আ = থালা; চোর + আই = চোরাই ।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন: মুসাফির + খানা = মুসাফিরখানা; বিবি + আনা = বিবিয়ানা।

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১৮৫.
বাংলা ভাষায় কয়টি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ৪টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা সংখ্যাবর্ণ হচ্ছে — ১০টি।

• সংখ্যাবর্ণ:
- বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে।
যেমন,
০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)

৬,১৮৬.
“যিনি ন্যায়শাস্ত্র জানেন” এর এককথায় প্রকাশিত রূপ হলাে-
  1. ন্যায়বাগীশ
  2. নৈয়ায়িক
  3. ন্যায়পাল
  4. ন্যায়ঋদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'ন্যায় শাস্ত্র জানেন যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ - নৈয়ায়িক।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ-
• 'ঋতুতে ঋতুতে যজ্ঞ করেন যিনি' - ঋত্বিক।
• 'যুদ্ধে স্থির থাকেন যিনি' - যুধিষ্ঠির।
• 'মায়া জানে না যে' - অমায়িক।
• বিবাদ করে যে - বিবাদমান।
• বচনে কুশল - বাগ্মী।
• বিদ্যা আছে যার - বিদ্বান।
• বেদ সম্বন্ধীয় - বৈদিক।
• বেশি কথা বলে যে - বাচাল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৬,১৮৭.
"এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।" - এখানে ‘যায় যায়’ কী বোঝায়?
  1. বিশেষণ
  2. স্বল্পকাল স্থায়ী
  3. পৌনঃপুনিকতা
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দ:
বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না। 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো। 
ক্রিয়া বিশেষণ: ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে? 
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৮৮.
’সত্য > সইত্য’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সমীভবন
  2. বিষমীভবন
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য >বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,১৮৯.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- এ বাক্যে 'চিকচিক' দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন ধরনের পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া 
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- এ বাক্যে 'চিকচিক' দ্বিরুক্ত শব্দটি - ক্রিয়া বিশেষণ পদরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:

বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: চিকচিক কর বালি কোথা নাহি কাদা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,১৯০.
'শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে'- এখানে 'ভুঁই' শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) চাষের জমি
  2. খ) ধান
  3. গ) বাড়ি
  4. ঘ) ফসল
ব্যাখ্যা
- 'শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে' একটি কবিতার লাইন।
- কবিতার নাম হচ্ছে 'দুই বিঘা জমি' এবং এর রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ভুঁই:
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে ভুঁই্‌।
- এর অর্থ হচ্ছে ভূমি, চাষের জমি
সুতরাং 'ভুঁই' শব্দের সঠিক অর্থ- চাষের জমি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬,১৯১.
'বউভাত' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. তৎপুরুষ সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদ্গুলোর প্রতিটিতেই অর্থ প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
- ভাইবোন,
- তালতমাল ইত্যাদি।

তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন:
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ।

কর্মধারয় সমাস:
- যে সমাসে পরপদের অর্থ-প্রাধান্য থাকবে এবং পূর্বপদটি পরপদের বিশেষণের মত কাজ করবে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন: নীল যে কমল = নীলকমল, এখানে পূর্বপদ নীল হচ্ছে পরপদ কমলের বিশেষণ এবং 'নীলকমল' শব্দে কমলের‌ই অর্থপ্রাধান্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৯২.
উক্তি পরিবর্তন করুন: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।"
  1. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।
  2. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকে।
  3. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো।
  4. পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি এ বাসায় থাকতো।
ব্যাখ্যা
উক্তি:
- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
যেমন -
ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।” - এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। – এটি পরোক্ষ উক্তি।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উক্তি পরিবর্তন:
- প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, "আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।"
পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

- অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।”
পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।
প্রত্যক্ষ উক্তি: পাভেল বললো, "আমার জানামতে সামি এ বাসায় থাকে।”
পরোক্ষ উক্তি: পাভেল বললো যে, তার জানামতে সামি সে বাসায় থাকতো

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১৯৩.
'Acceptability' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. গ্রহণ করা
  2. সম্মতি
  3. গ্রহণযোগ্যতা
  4. সম্মতিপত্র
ব্যাখ্যা

• 'Acceptability' এর পারিভাষিক শব্দ- গ্রহণযোগ্যতা। 

অন্যদিকে, 
• 'Accept' অর্থ - গ্রহণ করা। 
• 'Acceptance' অর্থ - গ্রহণ, সম্মতি। 
• 'Acceptance letter' অর্থ - সম্মতিপত্র, স্বীকৃতিপত্র, গ্রহণপত্র। 

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি। 

৬,১৯৪.
"শরীর > শরীল" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. বিষমীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লাল > নাল ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৬,১৯৫.
কোনটি সাধু ভাষার দৃষ্টান্ত?
  1. রক্ষে
  2. যুগল
  3. বরং
  4. এলো
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষার উদাহরণ হলো যুগল।
- এর চলিত রূপ - জোড়া।

অন্যদিকে,
চলিত শব্দের সাধু রূপ হলো:
- রক্ষে - পরিত্রাণ।
- বরং - বরঞ্চ।
- এলো - আসিল।

⇒ সাধু রীতি:

- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
- প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

• সাধু ভাষারীতির আরো কিছু বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। 
- 'সাধু ভাষা' রীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬,১৯৬.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক?
  1. ক) দেশ গোটা ছারখার হয়ে গেছে
  2. খ) সাতেক গোটা আম এনো।
  3. গ) দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম।
  4. ঘ) কমলালেবু গোটা দুই আছে।
ব্যাখ্যা
• 'দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম।'- বাক্যটি সঠিক। 

• 'গোটা’ বচনবাচক শব্দের আগে বসে এবং খানা, খানি পরে বসে।
এগুলো নির্দেশক ও অনির্দেশক দুই অর্থেই প্রযোজ্য।
‘গোটা’ শব্দ আগে বসে এবং সংশ্লিষ্ট পদটি নির্দিষ্টতা না বুঝিয়ে অনির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন-
- গোটাসাতেক আম এনো।
- গোটা দেশই ছারখার হয়ে গেছে।
- গোটাদুই কমলালেবু আছে (অনির্দিষ্ট)।
- দুখানা কম্বল চেয়েছিলাম (নির্দিষ্ট)।
- একখানা বই কিনে নিও (অনির্দিষ্ট)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ। 
৬,১৯৭.
নিচের কোন শব্দটি আরবি উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. কমজোর
  2. গরমিল
  3. আগাছা
  4. হররোজ
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' গঠিত শব্দটি 'গর' উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
- এখানে 'গর' হচ্ছে আরবি উপসর্গ যা অভাব অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
----------------
অন্যদিকে,
• 'কমজোর' শব্দটি- ফারসি উপসর্গ 'কম' নিয়ে গঠিত।
• 'আগাছা' শব্দটি- বাংলা উপসর্গ 'আ' নিয়ে গঠিত।
• 'হররোজ' শব্দটি- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ 'হর' নিয়ে গঠিত।
------------------------ 
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু-হিন্দি উপসর্গ: হর, হরেক।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,১৯৮.
‘অনীক’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √অন্‌ + ক
  2. √অ + নিক
  3. √অন্‌ + ঈক
  4. √অন্‌ + এক
ব্যাখ্যা

‘অনীক’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় = √অন্‌ + ঈক। 

• অনীক (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √অন্‌+ঈক
অর্থ: 
- যুদ্ধ।
- সেনাবাহিনী।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। 

৬,১৯৯.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনাম?
  1. কেউ
  2. যে-সে
  3. কোথাও
  4. স্বয়ং
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন- তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
আত্মবাচক সর্বনাম - স্বয়ং।
অনির্দিষ্ট সর্বনাম - কেউ, কোথাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,২০০.
তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া। এখানে 'তরে' শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সঙ্গে
  2. মধ্যে
  3. নিকট
  4. নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'তোমার তরে এনেছি মালা গাঁথিয়া।' বাক্যে 'তরে' অনুসর্গটি "নিমিত্ত" অর্থে ব্যবহৃ হয়েছে।

• আরো কয়েকটি অনুসর্গের ব্যবহার:
- কাছে : 'নিকট' অর্থে = আমার কাছে আর কে বলবে?
- মাঝে: 'মধ্যে' অর্থে = সীমার মাঝে অসীম তুমি।
- জন্য: 'নিমিত্তে' অর্থে = এ ধন-সম্পদ তোমার জন্য।
- পানে : প্রতি, দিকে অর্থে ঐ তো ঘর পানে ছুটেছেন।
- পক্ষে : সক্ষমতা অর্থে রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।