ব্যাখ্যা
- আর যে ক্রিয়াপদে বর্তমান কালের অনুজ্ঞা প্রকাশ পায় তাকে বর্তমান অনুজ্ঞা বলে।
- এক্ষেত্রে ক্রিয়ার শেষে অ, ও, উন, এন যুক্ত হয়।
যেমন:
- তুমি যাও
- কাজটি করে ফেল।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬১ / ৩৫৪ · ৬,০০১–৬,১০০ / ৩৫,৭১৩
• "সকালে সে রওনা দিল।" - এখানে সকালে - ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ এর উদাহরণ।
বাক্যের বর্গ:
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
বিশেষ্যবর্গ:
- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
যেমন – আমার ভাই পড়তে বসেছে।
বিশেষণবর্গ:
- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা যায় বিশেষণবর্গ।
যেমন –
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ক্রিয়াবিশেষণ-বৰ্গ:
- যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ বলে।
যেমন:
সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো ।
তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালাম ।
ক্রিয়াবৰ্গ
- বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
যেমন –
অস্ত্রসহ সৈন্যদল এগিয়ে চলেছে।
সে লিখছে আর হাসছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
ক্রিয়াবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ:
যেমন:
বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না।
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়। তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
জটিল বাক্যে ব্যবহৃত সাপেক্ষ সর্বনাম ও যোজক/অব্যয়গুলো হলো:
• যে - সে, যা - তা, যিনি - তিনি, যাঁরা - তাঁরা ইত্যাদি।
• নিত্যসম্বন্ধীয় যোজক (অব্যয়): যখন – তখন, যেমন - তেমন, বরং - তবু, যেইনা - অমনি, যেহেতু -সেজন্যে/সেহেতু ইত্যাদি।
যেমন:
- মুসলিমদের যে আত্মজাগরণ তা অভিনন্দনের দাবি রাখে।
[প্রদত্ত বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন অপ্রধান খণ্ডবাক্য 'যা - তা' সাপেক্ষ সর্বনাম দ্বারা যুক্ত হয়ে ভাব প্রকাশ করছে।]
অন্যদিকে,
• পরিশ্রমী ব্যক্তিরাই জীবনে সাফল্য লাভ করে।
• সৎ লোক কখনোই মিথ্যার সঙ্গে আপস করে না।
বাক্যগুলো সরল বাক্যের উদাহরণ।
• তিনি বিদ্বান কিন্তু তাঁর বিন্দুমাত্র অহংকার নেই।বাক্যটি সরল বাক্যের উদাহরণ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ছন্দ:
কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল। হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ:
• মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত অন্যতম প্রাচীন ছন্দ।
• অক্ষরবৃত্তের প্রভাব থেকে রবীন্দ্রনাথ একে মুক্ত করে এতে এক নতুন রীতি প্রবর্তন করেন, যে কারণে মাত্রাবৃত্তকে কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি বলে মনে করেন।
• এ ছন্দ চর্যাপদে প্রথম লক্ষিত হয়। মূলত মাত্রাবৃত্ত একটি সর্বভারতীয় ছন্দ এবং সংস্কৃত ও প্রাকৃতের সময় থেকেই এটি ভারতবর্ষে প্রচলিত।
• বাংলা ভাষায় এটি প্রবেশ করেছে প্রাকৃত ও অপভ্রংশ কবিতা এবং সংস্কৃত কাব্য গীতগোবিন্দম্-এর মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথও স্বীকার করেছেন যে, এ ছন্দের সৃষ্টি হয়েছে সংস্কৃত ছন্দকে বাংলায় ভেঙে নিয়ে।
• অন্যান্য বাংলা ছন্দের তুলনায় মাত্রাবৃত্ত একটি দুর্বল ছন্দ; কেননা পর্বদৈর্ঘ্য অনুযায়ী চার, পাঁচ, ছয় বা সাত মাত্রার এ ছন্দে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল উচ্চারণভঙ্গি ফুটে ওঠে এবং এতে শক্তি বা সুরের স্বাভাবিক প্রকাশ না হয়ে কেবল মাত্রারই প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। এজন্যই এ ছন্দকে মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বলা হয়।
• বাংলা সাহিত্যে এ ছন্দকে ধ্বনিপ্রধান, বিস্তারপ্রধান, সরল কলামাত্রিক ইত্যাদি নামেও অভিহিত করা হয়।
• চর্যাপদে মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রথম প্রকাশ পরিলক্ষিত হলেও সেখানে তা একেবারেই সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
• অকথ্য শব্দের অর্থ:
১. বলার অযোগ্য, অবাচ্য (অকথ্য কথন)।
২. কথায় প্রকাশ করা যায় না এমন (অকথ্য নির্যাতন)।
উল্লেখ্য,
- যা বলা হয়নি = অনুক্ত।
- যা বলা হয়েছে = উক্ত।
- যা বলা হবে = বক্তব্য।
- যা প্রকাশ করা হয়নি = অব্যক্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ' নিয়ে ব্যাকরণের 'অর্থতত্ত্ব' অংশ আলোচনা করে।
• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- শব্দের অর্থবিচার ও বাক্যের অর্থবিচার,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়।
• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক যদি আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।
যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: হ্ + ণ = হ্ণ।
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
যেমন:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঊ = হূ,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ণ = হ্ণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• ‘লক্ষ্মী’ শব্দের ‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণটি - ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
- কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়।
অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]।
অন্যদিকে,
মৌলিক স্বরধ্বনি:
- [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।
এরূপ- ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
- ‘লেফাফা দুরস্ত’ বাগধারাটির অর্থ 'পরিপাটি'
- 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বাগধারার অর্থ 'অপদার্থ'
- 'তুলসী বনের বাঘ' বাগধারার অর্থ 'শয়তান'
- 'হস্তিমূর্খ' বাগধারাটির অর্থ নিরেট 'মূর্খ'
[উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ]
• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
- গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত, হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, দ্রুমারি, গজ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
'ফণী' শব্দের সমার্থক শব্দ - সর্প, সাপ, আশীবিষ, নাগ, অহি, ভুজঙ্গ, ফনাধর, বিষধর ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কর্মধারয় সমাস:
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- আয়ের উপর কর = আয়কর।
- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন;
- হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ;
- রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি = রাষ্ট্রনীতি;
- ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি;
- প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়;
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
’শাপে বর’ -বাগ্ধারার অর্থ- অমঙ্গলে মঙ্গল ঘটা।
অন্যদিকে,
’সাপে নেউলে’- বাগ্ধারার অর্থ- ভীষণ শত্রুতা।
’সপ্তকাণ্ড রামায়ণ’- বাগ্ধারার অর্থ- বৃহৎ বিষয়।
’ঘোল কলা’- বাগ্ধারার অর্থ- সম্পূর্ণ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
যেমন:
বিচ্যুত: বৃক্ষ থেকে পাতা ঝরে।
পতিত: মেঘে বৃষ্টি হয়।
গৃহীত: ঝিনুক থেকে মুক্তা মেলে।
জাত: জমি থেকে ফসল পাই।
রক্ষিত: বিপদে মোরে রক্ষা কর।
বিরত: পাপে বিরত হও।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ); বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।
অন্যদিকে,
-সৌহার্দ;
- চাঞ্চল্য;
- স্বতঃপ্রণোদিত।
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দই দেশি শব্দ।
• দেশি শব্দ:
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসীদের ভাষা থেকে নেওয়া যে শব্দগুলো আজও অপরিবর্তিতভাবে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো দেশি শব্দ নামে পরিচিত।
- বাংলার প্রাচীন অধিবাসী—যেমন দ্রাবিড়, অনার্য, কোল, মুণ্ডাসহ ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে কিছু শব্দ আজও বাংলায় টিকে আছে। এই শব্দগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- অনেক ক্ষেত্রে এসব শব্দের সঠিক উৎস জানা না গেলেও কোন ভাষা থেকে এসেছে, তার ধারণা পাওয়া যায়; যেমন—
- কুড়ি (বিশ) কোল ভাষা থেকে এসেছে;
- পেট (উদর) তামিল থেকে এসেছে;
- আর চুলা (উনুন) মুণ্ডারী ভাষা থেকে এসেছে।
- আর ও কিছু উদাহরণ: জমজম, জারুল, কুলা, গঞ্জ, ঢেঁকি, টোপর, বেগুনী, কালো, পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল, ময়না, খিচুড়ি, রুই, সেমাই ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• তৎসম শব্দ:
- যে শব্দগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি বাংলায় এসেছে এবং ব্যবহারের সময় যেগুলোর মূল রূপ সাধারণত অপরিবর্তিত থাকে সেগুলোই তৎসম শব্দ।
- “তৎসম” শব্দটি ‘তৎ’ (তার) ও ‘সম’ (সমান)—এই দুই অংশ থেকে এসেছে, অর্থাৎ “সংস্কৃতের সমান”।
- উদাহরণ: কমলা, ধর্ম, শাক, নারিকেল, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, গৃহ, ভাষা, দধি, নীল ইত্যাদি।
• তদ্ভব শব্দ:
- যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত ভাষার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় পৌঁছেছে, সেগুলো তদ্ভব শব্দ।
- এসব শব্দের মূল সংস্কৃত হলেও ধ্বনিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলায় এদের রূপ অনেকটাই ভিন্ন হয়েছে। বাংলায় নিজস্ব রূপে ব্যবহৃত এসব শব্দকে একেবারে স্বতন্ত্র ধরা হয়।
- তদ্ভব শব্দকে অনেকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে থাকেন।
- উদাহরণ : আকাশ, বাতাস, পাখি, পাতা, কান, হাত, চাঁদ, চামার, মা ইত্যাদি।
উৎস:
ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
বাংলাপিডিয়া।
• ভাষা পরিবার নয়- অস্ট্রো-সেমীয়।
• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এইবিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা। আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
• ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব হলো বাংলা ভাষার একটি ধ্বনি পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যেখানে জোর দেওয়া বা উচ্চারণকে সহজ ও স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে শব্দের ভেতরের কোনো একটি ব্যঞ্জনধ্বনি পরপর দুইবার উচ্চারিত হয়।
- এই ক্ষেত্রে একক ব্যঞ্জনটি রূপান্তরিত হয়ে দ্বিগুণ ব্যঞ্জনে পরিণত হয়।
- সাধারণত কথ্য ভাষায় আবেগ, তীব্রতা বা গুরুত্ব বোঝাতে এই ধরনের দ্বিত্ব ব্যঞ্জনের ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
- যেমন—
- সকাল → সক্কাল—এখানে ‘ক’ ব্যঞ্জনটি দ্বিত্ব হয়ে ‘ক্ক’ রূপ ধারণ করেছে।
- এই প্রক্রিয়ায় শব্দের অর্থ অপরিবর্তিত থাকলেও উচ্চারণগত রূপে স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- আরও কিছু উদাহরণ:
- পাকা > পাক্কা,
- ছোট > ছোট্ট,
- গপ > গপ্পো,
- শাক > শাক্ক,
- মুলুক > মুল্লুক,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু।
-------------------
অন্যদিকে,
- করলাম > কল্লাম;
- মারল > মাল্ল;
- তর্ক > তক্ক- র-কার লোপের উদাহরণ।
- র-কার লোপ:
- আধুনিক চলিত বাংলায় দ্রুত উচ্চারণের সময় যখন কোনো শব্দের মাঝের 'র' বা ‘র-ফলা’ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তার পরিবর্তে পরবর্তী ব্যঞ্জনবর্ণটি দুইবার উচ্চারিত হয়, তখন তাকে র-কার লোপ বা ‘র’ লোপ বলা হয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শবনম (বিশেষ্য পদ):
- ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শিশির;
- কুজ্ঝটিকা (ভোরের শবনাম তৃণদলে-ফররুখ আহমদ)।
- সূক্ষ্ম মসলিন কাপড়।
অন্যদিকে,
• ‘রাতের শিশির’ কে এক কথায় বলে - শবনম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
স্পর্শব্যঞ্জন বা স্পৃষ্টব্যঞ্জন :
- ‘ক’ থেকে ‘ম’ পর্যন্ত ধ্বনিগুলােকে বলা হয় স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি। এই ধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময় জিভ বা মুখের ভেতরে কোনাে-না-কোনাে জায়গা কিংবা এক ঠোট আরেক ঠোটকে স্পর্শ করে।
- স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপকে স্পর্শ ব্যঞ্জনবর্ণ বলে। ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি ধ্বনিকে সাধারণভাবে স্পর্শধ্বনি বলা হলেও ঙ, ঞ, ণ, ন এবং ম বাদে বাকি কুড়িটি ধ্বনি প্রকৃত স্পর্শধ্বনি। এই কুড়িটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-
১) দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
২) দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব। যিনি রাজা তিনিই ঋষি = রাজর্ষি।
৩) কার্যে পরপম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪) পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
৫) বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
৬) পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
৭) পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
৮) বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
দাপট (বিশেষ্য):
- প্রবল প্রতাপ; দুর্দান্ত; প্রভাব; তেজ (দাপটে অস্থির)।
{দাপ+ট}
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান
ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য গঠনে 'অন' প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়ঃ
√কাঁদ+অন = কাঁদন
√নাচ+অন = নাচন
√বাড়+অন= বাড়ন
√ঝুল+অন = ঝুলন
√দুল+অন = দোলন
ধাতুর শেষে ‘আ-কার’ থাকলে ‘ওন’ হয়। যেমন-
√খা+অন = খাওন
√ছা+অন = ছাওন
√দে+অন = দেওন
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
যে সন্ধিগুলো কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি :
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি ; বনস্পতি = বন + পতি।
পরস্পর = পর + পর ; তস্কর = তৎ + কর।
গোস্পদ = গো + পদ ; একাদশ = এক + দশ।
ষোড়শ = ষট্ + দশ ; মনীষা = মনস্ + ঈষা।
আশ্চর্য = আ + চর্য ; পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি ।
দ্যুলোক = দিব্ + লোক।
উৎস: সৌমিত্র শেখর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।