বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৫৮ / ৩৫৪ · ৫,৭০১৫,৮০০ / ৩৫,৭১৩

৫,৭০১.
'অরণ্যে রোদন' না বলে 'বনে ক্রন্দন' বললে বাক্যটি কী হারাবে?
  1. ক) আকাঙ্ক্ষা
  2. খ) আসক্তি
  3. গ) যোগ্যতা
  4. ঘ) ঊদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা
• বাগধারার শব্দ পরিবর্তন:
- বাগধারা ভাষাবিশেষের ঐতিহ্য।
- এর যথেচ্ছ পরিবর্তন করলে শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- যেমন- ‘অরণ্যে রোদন' (অর্থ : নিষ্ফল আবেদন)-এর পরিবর্তে যদি বলা হয়।
- ‘বনে ক্রন্দন’ তবে বাগধারাটি তার যোগ্যতা হারাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০১৯)। 
৫,৭০২.
প্রাকৃত শব্দের ভাষাগত অর্থ -
  1. মূর্খদের ভাষা
  2. পণ্ডিতদের ভাষা
  3. জনগণের ভাষা
  4. লেখকদের ভাষা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃত  মধ্যভারতীয় আর্যভাষা। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা বৈদিক বা  সংস্কৃত থেকে এর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়।
- সংস্কৃত ভাষার যে রূপটি ছিল সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা, তা এক সময় শিথিল ও সরল হয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ ধারণ করে
- কালক্রমে এগুলিকেই বলা হয় প্রাকৃত ভাষা।

- প্রাকৃত ভাষার নামকরণ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন যে, এর প্রকৃতি বা মূল হচ্ছে ‘সংস্কৃত’, তাই প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বলে এর নাম হয়েছে প্রাকৃত।
- আবার কেউ কেউ বলেন, ‘প্রকৃতি’ অর্থ সাধারণ জনগণ এবং তাদের ব্যবহূত ভাষাই প্রাকৃত ভাষা, অর্থাৎ প্রাকৃত জনের ভাষা প্রাকৃত ভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৭০৩.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) জ + ঞ = জ্ঞ
  2. খ) ঞ + জ = ঞ্জ
  3. গ) ক + ষ = ক্ষ
  4. ঘ) দ + ধ = দ্ব
ব্যাখ্যা
দ+ধ এর শুদ্ধ রূপ ‘দ্ধ’। অন্য তিনটি সঠিক।
এরূপ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ হচ্ছে হ্+ম=হ্ম, ষ্+ণ=ষ্ণ, ঞ্+চ=ঞ্চ ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী
৫,৭০৪.
'আদাব' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) সংস্কৃত
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
আদাব (বিশেষ্য)
- আরবি শব্দ।
অর্থ:
- অভিবাদন সূচক উক্তি,
- সালাম,
- অভিবাদন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭০৫.
স্কুল> ইস্কুল কিসের উদাহরণ?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) আদি স্বরাগম
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) মধগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন- স্কুল> ইস্কুল, স্টেশন˃ ইস্টিশন, স্পর্ধা˃ আস্পর্ধা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৭০৬.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. কয়জন
  2. করণীয় 
  3. লাজ
  4. অবজ্ঞেয়
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য পদ:
- কোনো কিছুর নামকে বিশেষ্য পদ বলে। বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাদের বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য ,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য,
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• বিশেষ্য পদ - লাজ।

শব্দের অর্থ:
- লজ্জা সরম।

অন্যদিকে,
• বিশেষণ পদ - কয়জন, করণীয়, অবজ্ঞেয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৭০৭.
’যা দমন করা যায় না’ এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. দুর্দমনীয়
  2. দুর্নিবার
  3. অদম্য
  4. অবশ্যম্ভাবী
ব্যাখ্যা
• ’যা দমন করা যায় না’ এক কথায় বলা হয়- অদম্য।
------------------
অন্যদিকে,
• ’যা দমন করা কষ্টকর’ এক কথায় বলা হয়- দুর্দমনীয়।
• ’যা নিবারণ করা কষ্টকর’ এক কথায় বলা হয়- দুর্নিবার।
• ’যা অবশ্যই ঘটবে’ এক কথায় বলা হয়- অবশ্যম্ভাবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৫,৭০৮.
‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. বিশিষ্টতা
  2. কৃপণতা
  3. স্বাতন্ত্র‌্যতা
  4. চঞ্চলতা
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাতন্ত্র‌্যতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।

• ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

এরূপ কিছু অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধরূপ হলো:
অশুদ্ধরূপ - শুদ্ধরূপ:
• অধৈর্যতা - অধৈর্য, ধীরতা।
• আলস্যতা - আলস্য, অলসতা।
• স্বাতন্ত্র‌্যতা - স্বাতন্ত্র‌্য, স্বতন্ত্রতা।
• ঐক্যতা - ঐক্য, একতা।
• দৈন্যতা - দৈন্য, দীনতা।
• বৈশিষ্ট্যতা -বৈশিষ্ট্য, বিশিষ্টতা।
• কার্পণ্যতা - কার্পন্য, কৃপণতা।
• চাঞ্চল্যতা - চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭০৯.
'শিব গড়তে বাঁদর' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ কী?
  1. অপরাধ ঢাকার চেষ্টা
  2. ভালো কাজ করতে গিয়ে খারাপ ফল লাভ
  3. নাজেহাল হওয়া
  4. অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
'শিব গড়তে বাঁদর' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - ভালো কাজ করতে গিয়ে খারাপ ফল লাভ

অন্যদিকে,
- 'সাত ঘাটের কানাকড়ি' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - অকিঞ্চিৎকর সংগ্রহ।
- 'সাত ঘাটের জল খাওয়া' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - নাজেহাল হওয়া।
- 'শাক দিয়ে মাছ ঢাকা' প্রবাদ প্রবচনের অর্থ - অপরাধ ঢাকার চেষ্টা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭১০.
শব্দের পরে বসে শব্দকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কোনটি?
  1. প্রত্যয়
  2. অনুসর্গ
  3. উপসর্গ
  4. আবেগ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]

• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

-----------------------
অন্যদিকে,
• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ।

• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• প্রত্যয়:
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭১১.
'হস্তী' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়  
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭১২.
'ধুনারি' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ধুনা + অরি
  2. √ধুন্ + আরি
  3. √ধুনা + আরি
  4. √ধুনা + উরি
ব্যাখ্যা
• আরি বা আরী বিকল্পে রি/উরি-প্রত্যয় যোগে শব্দ গঠন হয়। এরূপ কিছু শব্দ হলো- 
যেম:
- √ডুব্‌ + আরি/উরি = ডুবুরি।
- √ধুন্ + আরি = ধুনারি, 
- √পূজ + আরি = পূজারি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭১৩.
'আষাঢ়' শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
• 'আষাঢ়' শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- বাংলা বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস, বর্ষাঋতুর প্রথম মাস, গ্রেগোরীয় বর্ষপঞ্জির ১৫ই জুন থেকে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত কালপর্ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭১৪.
'অভিবাসন' শব্দে কোন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) অতিক্রম অর্থে
  2. খ) সম্যক অর্থে
  3. গ) বিশেষ অর্থে
  4. ঘ) গমন অর্থে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'অভি' উপসর্গের ব্যবহার - 
সম্যক অর্থে = অভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিসার, অভিনিবেশ
বিশেষ অর্থে = অভিধান, অভিনয়, অভিনেতা, অভিভাবক
গমন অর্থে = অভিযান, অভিকেন্দ্র, অভিবাসী, অভিবাসন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭১৫.
'বনেবাদাড়ে' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারায় সমাস
  3. দ্বন্দ্ব সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা
• অলুক দ্বন্দ্ব সমাস:
যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

অর্থাৎ কিছু দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের বিভক্তি সমাসবদ্ধ হলেও বিদ্যমান থাকে। এই ধরনের দ্বন্দ্ব সমাসের নাম অলুক দ্বন্দ্ব সমাস।
যেমন:
- কেটে ও ছিঁড়ে = কেটে-ছিঁড়ে;
- কোলে ও পিঠে = কোলেপিঠে;
- ঘরে ও বাইরে = ঘরেবাইরে;
- তেলে ও বেগুনে = তেলেবেগুনে;
- দুধে ও ভাতে = দুধেভাতে;
- পথে ও ঘাটে = পথেঘাটে;
- হাতে ও পায়ে = হাতে-পায়ে;
- বনে ও বাদাড়ে = বনেবাদাড়ে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫,৭১৬.
’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. বাহিকা 
  2. গায়িকা
  3. পূজনীয়া 
  4. শিক্ষিকা
ব্যাখ্যা

- ’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ পূজনীয়া।

’আ-প্রত্যয়’ যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক:
- পুংবাচক শব্দের শেষে ‘আ’’ প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
- যেমন:
∗ পুরুষবাচক – স্ত্রীবাচক:
- পূজনীয় – পূজনীয়া ;
- চপল – চপলা;
- অগ্রজ – অগ্রজা;
- বৃদ্ধ – বৃদ্ধা;
- অনাথ – অনাথা;
- মহাশয় – মহাশয়া;
- কুটিল – কুটিলা;
- শিষ্য – শিষ্যা;
- মনোহর – মনোহরা;
- মূর্খ – মূর্খা;
- কৃপণ – কৃপণা;
- জীবিত – জীবিতা;
- কোকিল – কোকিলা;
- প্রিয় – প্রিয়া;
- সুনয়ন – সুনয়না;
- জটিল – জটিলা;
- বীর – বীরাঙ্গনা;
- প্রবীণ  – প্রবীণা;
- সেবক  –  সেবিকা;
- সুনীল – সুনীলা, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'ক' বা 'অক' থাকলে 'ইকা' যোগ করে স্ত্রীবাচক করা হয়, যেমন:
- বাহক - বাহিকা;
- গায়ক - গায়িকা;
- শিক্ষক - শিক্ষিকা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,৭১৭.
কোন দুটি স্বরের মিলিত ধ্বনিতে 'ঐ' সৃষ্টি হয়?
  1. ও + ই
  2. অ + উ
  3. এ + ই
  4. অ + ই
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

• দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

(পেট্রেবাংলা) জব সল্যুশনের প্রশ্ন ছিলো এটি।
মাধ্যমিক ব্যাকরণ (পুরাতন সংস্করণ) অনুসারে, ঐ = অ + ই।
মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন সংস্করণ) অনুসারে, ঐ = ও + ই।
অপশনে উভয়টিই থাকায়- নতুন সংস্করণ অনুসারে উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৭১৮.
"ছুরিতে কাটল ফল।" - এ বাক্যে "ছুরিতে" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. করণে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী 
ব্যাখ্যা

• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। 
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। 

• একবচনে ব্যবহৃত ৭মী বিভক্তি: এ, য়, তে, এতে ইত্যাদি। 

• বাক্যটি - "ছুরিতে কাটল ফল।" - 
- এখানে "কিসের দ্বারা কাটল?" প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'ছুরিতে'।
- এবং ৭মী বিভক্তি (এ) এর প্রয়োগ ঘটেছে। 
- সে অনুসারে এখানে 'ছুরিতে' হচ্ছে করণে ৭মী বিভক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭১৯.
'দশানন’ কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) বহুব্রীহি সমাস
  2. খ) প্রাদি সমাস
  3. গ) তৎপুরুষ সমাস
  4. ঘ) দ্বন্দ সমাস
ব্যাখ্যা
যে সমাসে পূর্ব বা পর কোন পদের অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় কোন অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমনঃ দশ আনন যার = দশানন, চতুষ্পদ = চার পা বিশিষ্ট প্রাণী, পদ্মনাভ = পদ্ম নাভিতে যার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৭২০.
'It is a long story'-এর সঠিক বাংলা অনুবাদ -
  1. ক) সে এক বিরাট ইতিহাস
  2. খ) বড়ো কাহিনি
  3. গ) সে অনেক কথা
  4. ঘ) সে অনেক বড়ো কাহিনি
ব্যাখ্যা
'It is a long story'-এর সঠিক বাংলা অনুবাদ = সে অনেক কথা।

অন্যদিকে, 
সে এক বিরাট ইতিহাস। = It's a great history.
বড়ো কাহিনি। = big story.
সে অনেক বড়ো কাহিনি। = It's a big story.
৫,৭২১.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. সলাজ
  2. অবলা
  3. প্রভাব
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা

• একাদশ - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি সন্ধি সাধিত শব্দ।
- 'একাদশ' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : এক  + দশ।
- যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে।
- কিন্তু, এখানে 'এক' কোনো ধরনের উপসর্গ নয়।

অন্যদিকে,
- সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে।
- অবলা - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' রয়েছে।
- প্রভাব - তৎসম উপসর্গ 'প্র' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৭২২.
'অভিবাদন' শব্দটিতে কয়টি উপসর্গ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• 'অভিবাদন' শব্দটিতে ১টি উপসর্গ রয়েছে।

• 'অভিবাদন' শব্দের বিশ্লেষণ:
- অভি (উপসর্গ) + বাদন।
-------------------- 
উপসর্গ ৩ প্রকার।
যথা-
বাংলা উপসর্গ, তৎসম উপসর্গ এবং বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: 
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ। 

• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭২৩.
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণ: যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। যেমন-
১. ধ্বনি (Sound)
২. শব্দ (Word)
৩. বাক্য (Sentence)
৪. অর্থ (Meaning)

 • সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ব (Semantics)
এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭২৪.
'ক্ষুন্নিবৃত্তি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি
  2. ক্ষুদ্‌ + নিবৃত্তি
  3. ক্ষুৎ + নিবৃত্তি
  4. ক্ষুধা + নিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুন্নিবৃত্তি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি।

• সন্ধির নিয়ম:

- আগে ৎ বা দ্ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়।
- কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন -
- ৎ + ন্ = ন্ন; উৎ + নীত = উন্নীত।
- ধ + ন্ = ন্ন; ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি।
- দ্ + ম্ = ন্ম; তদ্ + মাত্র = তন্মাত্র।
- ৎ + ল্ = ল্ল; উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭২৫.
'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. মৃত
  2. সরল
  3. বিরল
  4. বিষাদ
ব্যাখ্যা
• 'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিষাদ

অন্যদিকে,
- 'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
- 'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
- 'জীবিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মৃত।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭২৬.
"সবাই এসো আলোর মিছিলে হে নবীন তরুণ দল।" এখানে 'মিছিল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা 
  2. ফারসি 
  3. ওলন্দাজ
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা



মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
- মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
- বিন্যাস, সিজিল।
- সমান, সমকক্ষ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, দারোয়ান, সাদা, খরগোশ, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭২৭.
দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে কোনটির?
  1. ননদ
  2. প্রিয়া
  3. শিষ্যা
  4. আয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ননদ’ স্ত্রীবাচক শব্দের দুটি পুরুষবাচক শব্দ রয়েছে।
যথা: দেবর ও ননদাই।

কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন:
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বনব্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রিয় - প্রিয়া।
• শিষ্য - শিষ্যা।
• খানসামা - আয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-১৯ সংস্করণ)।
৫,৭২৮.
Immigration - এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. অভিবাসন
  2. অভিবাসী
  3. আদিবাসী
  4. অবৈধ
ব্যাখ্যা
'Immigration' - এর বাংলা পরিভাষা - অভিবাসন।

এছাড়া,
Illegal - অবৈধ,
'Immigrant' - অভিবাসী।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৫,৭২৯.
‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক্ + ষ্ + ন
  2. ক্ + ষ্ + ণ 
  3. হ্ + ম্ + ন
  4. ক্ + ষ্ + ম 
ব্যাখ্যা

• ‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণটি (ক্ + ষ্ + ম) বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

------------------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৭৩০.
কোনগুলো ফরাসি শব্দ?
  1. ক) ডিপো, সাম্পান
  2. খ) ইস্কাপন, লিচু
  3. গ) লুঙ্গি, লোটা
  4. ঘ) কুপন, রেস্তোরাঁ
ব্যাখ্যা

ফরাসি: ডিপাে, রেস্তোরাঁ, কুপন, কার্তুজ।

ওলন্দাজ: ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি৷

অন্যান্য ভাষার শব্দ :
- রিকসা (রিক্সা), সাম্পান (জাপানি);
- চা, চিনি, লিচু, তুফান (চিনা);
- লুঙ্গি, ঘুঘনি, (বর্মী অর্থাৎ মায়ানমারের);
- স্টুডিও, ম্যালেরিয়া (ইতালীয়);
- সাগু (মালয়ী);
- কচুরি, লােটা, খানাপিনা, লাগাতার, বন, টালমাটাল (উর্দু/হিন্দি);
- হরতাল, খদ্দর (গুজরাটি) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৫,৭৩১.
বাংলা ভাষার কোন শব্দসমূহ অনার্য জাতির ভাষা থেকে এসেছে?
  1. তৎসম শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. বিদেশি শব্দ
  4. দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৭৩২.
'He can hardly keep the wolf from the door'. বাক্যটির যথাযথ বঙ্গানুবাদ হলো—
  1. ক) সে ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না ।
  2. খ) তার এখন শিরে সংক্রান্তি।
  3. গ) তার নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
  4. ঘ) সে না পারে সইতে না পারে কইতে।
ব্যাখ্যা
- 'He can hardly keep the wolf from the door' এর সঠিক অনুবাদ হলো- 'তার নুন আনতে পান্তা ফুরায়'।

 আরও কিছু গুরুত্ত্বপূর্ণ অনুবাদ হলো-
• Better late than never.– একেবারেই না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়াও ভালো।
• Birds of a feather flock together.– চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
• Blue are the hills that are far from us.– দূরের জিনিস ভালো মনে হয় 
• Brevity is the soul of wit.– মানিকের খানিক ভালো।
• Build castles in the air.– আকাশকুসুম রচনা করা বা অলীক কল্পনা করা।
• Butter will/would not melt in somebody's mouth.– ভাজা মাছটি উলটে খেতে জানে না।
• Bypass the immediate superior/proper channel.– ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,৭৩৩.
'শয়ন' কোন বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) সাধারণ বিশেষ্য
  3. গ) নামবাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) ভাববাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
বাক্যমধ্যে ব্যবহৃত যে সমস্ত পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, জাতি, সমষ্টি, বস্তু, স্থান, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝানো হয় তাকে বিশেষ্য পদ বলে।

বিশেষ্যপদ ছয় প্রকার:
১. সংজ্ঞা (বা নাম) বাচক বিশেষ্য,
২. জাতিবাচক বিশেষ্য,
৩. বস্তুবাচক বিশেষ্য,
৪. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য,
৫. ভাববাচক বিশেষ্য,
৬. গুণবাচক বিশেষ্য।

• যে বিশেষ্য পদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন: গমন, শয়ন, ভোজন, দর্শন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৩৪.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. মহর্শি
  2. মহর্ষি
  3. মহর্সি
  4. মহর্ষী
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান - মহর্ষি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [মহান্ + ঋষি]
অর্থ: ঋষিশ্রেষ্ঠ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৩৫.
'লাফিয়ে চলে যে' এক কথায় বলে- 
  1. পন্নগ
  2. প্রবচর
  3. প্লবতা
  4. প্লবগ
ব্যাখ্যা

• 'লাফিয়ে চলে যে' এক কথায় প্রকাশ - প্লবগ।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'পা দিয়ে যে চলেনা' এক কথায় প্রকাশ- পন্নগ।
• 'হাঁস ডাহুক প্রভৃতি উভচর পাখি' - প্রবচর।
• 'ভেসে থাকতে পারার গুণ' - প্লবতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭৩৬.
ই, উ কোন ধরণের স্বরধ্বনি?
  1. ক) নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ স্বরধ্বনি
  3. গ) উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত :
- উচ্চ স্বরধ্বনি:- ই, উ
- উচ্চ মধ্য স্বরধ্বনি:-এ ,ও
- নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি:- অ্যা, অ
- নিম্ন স্বরধ্বনি:- আ

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উপরে ওঠে
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৫,৭৩৭.
'পৃথ্বীশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পৃথ্বী + ঈশ
  2. পৃথ্বি + ঈশ
  3. পৃথী + ঈশ
  4. পৃথি + ঈশ
ব্যাখ্যা
⇒ ই-কার অথবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
- দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়।

- ই + ই = ঈ
গিরি + ইন্দ্র = গিরীন্দ্র
অতি + ই = অতীত
যতি + ইন্দ্র = যতীন্দ্র
অতি + ই = অতীব

- ই + ঈ = ঈ
ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর
দিল্লী + ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর
পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা

- ঈ + ই = ঈ
মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র
সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র

ঈ + ঈ = ঈ
পৃথ্বী + ঈশ = পৃথ্বীশ

উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৭৩৮.
'Certified' -এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) সত্যায়িত
  2. খ) প্রতিপাদিত
  3. গ) প্রত্যয়িত
  4. ঘ) প্রমাণীকৃত
ব্যাখ্যা
Attested - সত্যায়িত।
Certified - প্রত্যয়িত।
Verified - প্রতিপাদিত।
Authenticated - প্রমাণীকৃত।
 
উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি। 
৫,৭৩৯.
'ব্যাঘ্র' কোন রীতির শব্দ?
  1. সাধু
  2. চলিত
  3. উভয় রীতি
  4. প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• "ব্যাঘ্র" শব্দটি তৎসম এবং সাধু রীতির শব্দ। এটি সাধারণত লেখ্য ভাষায় ব্যবহার হয়।
- চলিত রীতিতে এর পরিবর্তে "বাঘ" শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

কিছু বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু ---- চলিত-

• অগ্নি - আগুন, 
• কর্ণ - কান, 
• চন্দ্র - চাঁদ, 
• দন্ত - দাঁত, 
• পক্ষী - পাখি, 
• ব্যাঘ্র - বাঘ, 
• মৎস্য - মাছ, 
• হস্তী - হাতি।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৪০.
বাংলা তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি বাদে বাকিগুলো নিয়মেই গঠিত হয়েছে
  1. হিন্দি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা

বাংলা মাসের তারিখ বোঝাতে যে সংখ্যাবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাদের তারিখবাচক শব্দ বলে।
যেমন- পহেলা বৈশাখ, চৌদ্দই ফাল্গুন।

বাংলা তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি (১-৪) হিন্দি নিয়মে গঠিত।
বাকিগুলো অবশ্য বাংলার নিজস্ব নিয়মেই গঠিত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৫,৭৪১.
'যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।'- কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. যৌগিক
  2. জটিল বা মিশ্র
  3. সরল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারণভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

• যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা; যতই -ততই ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখনতখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন: 
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যতই পরিশ্রম করবে ততই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৪২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ ?
  1. ক) পোষাক
  2. খ) স্মার্ট
  3. গ) স্টেশন
  4. ঘ) কিশমিশ
ব্যাখ্যা
• বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োগ নেই।
যেমন- স্টেশন, স্মার্ট, কিশমিশ, পোশাক, আপস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,৭৪৩.
'ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।'- এখানে 'ফুলের' কোন কারক?
  1. অধিকরণ কারকে ৪র্থী
  2. করণ কারকে ৬ষ্ঠী
  3. কর্মকারকে ২য়া
  4. সম্বন্ধ কারকে ৬ষ্ঠী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সম্বন্ধ কারক:
যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে।এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ।
- এই কারকে শব্দের সঙ্গে '-র', '-এর', '-য়ের', '-কার', '-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
- তার হাতের লেখা চমৎকার।
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
- আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম।
- রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৭৪৪.
কোন বাক্যে উত্তম পুরুষ ব্যবহার করা হয়েছে?
  1. ওরা কি করে?
  2. আপনি গিয়েছিলেন?
  3. তোরা কবে আসবি?
  4. আমরা যাচ্ছি না।
ব্যাখ্যা
• ‘আমরা যাচ্ছি না।’- বাক্যে আমরা উত্তম পুরুষের দৃষ্টান্ত।

পুরুষ তিন প্রকার। যেমন:
১. উত্তম পুরুষ,
২. মধ্যম পুরুষ,
৩. নাম পুরুষ।

⇒ উত্তম পুরুষ: ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে। যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।
⇒ মধ্যম পুরুষ: বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে। যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।
⇒ নাম পুরুষ: বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে। যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৪৫.
‘Louvers’ এর বাংলা পরিভাষা -
  1. রক্ষী
  2. অক্ষি
  3. আরামকক্ষ
  4. পাখি
ব্যাখ্যা
• ‘Louvers’ এর বাংলা পরিভাষা - পাখি

অন্যদিকে,
Lounge - আরামকক্ষ
Eye - অক্ষি।
Guard - রক্ষী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৫,৭৪৬.
'মেয়েটার উড়ু উড়ু ভাব।' বাক্যে 'উড়ু উড়ু' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তীব্রতা বোঝাতে
  2. স্বল্পকাল বোঝাতে
  3. সামান্যতা বোঝাতে
  4. আধিক্য বোঝাতে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
 
বিশেষণ শাব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
আধিক্য বোঝাতে: 
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
 
তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতেন: 
- গরম গরম জিলাপি।
- নরম নরম হাত।
 
সামান্যতা বোঝাতে: 
- উড়ু উড়ু ভাব।
- কালো কালো চেহারা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৪৭.
কোনটি 'Incite' শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. ক) Permit
  2. খ) Deceive
  3. গ) Instigate
  4. ঘ) Urge
ব্যাখ্যা

Incite(verb): encourage or stir up.
Synonym: provoke, instigate, motivate.
Source: Merriam Webster Dictionary.

৫,৭৪৮.
বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে-
  1. কমা
  2. দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
কমা (,) বাংলা ভাষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন যা বাক্যে সামান্য বিরতি নির্দেশ করে এবং বক্তব্যকে স্পষ্ট ও সুবিন্যস্ত করতে সাহায্য করে। এটি পূর্ণযতিচিহ্ন নয়, তাই কমা দিয়ে বাক্য শেষ হয় না। নিচে কমার ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:

কমার ব্যবহার:
• শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্য পৃথক করা: বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ, বাক্যাংশ বা অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু।

• সম্বোধন পদের পরে: কাউকে সম্বোধন করার সময় নাম বা সম্বোধন পদের পর কমা বসে।
উদাহরণ: সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• বাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যা বা অতিরিক্ত তথ্য আলাদা করা: বাক্যে কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

• উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথনের আগে: কোনো উদ্ধৃতি বা সরাসরি কথন শুরুর আগে কমা বসে।
উদাহরণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ।"

• বাক্যে স্পষ্টতা আনতে: বাক্যের গঠন জটিল হলে পড়ার সুবিধার্থে বা অর্থ স্পষ্ট করতে কমা ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।

অন্যদিকে,
• দাঁড়ি, বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
• বাক্যাংশ বা বাক্যের অংশকে সংযুক্ত করতে এবং নির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭৪৯.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র
  2. অতী + ইন্দ্র = অতীন্দ্র
  3. অধী + ঈশ্বর = অধীশ্বর
  4. ফণি + ঈশ্বর = ফণীশ্বর
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ-যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র। 

• স্বরসন্ধির নিয়ম:

প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়।
বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• সূত্র: ই + ই = ঈ:
- অতি + ইত = অতীত,
- অভি + ইষ্ট= অভীষ্ট,
- প্রতি + ইতি = প্রতীতি,
- অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• সূত্র: ই + ঈ = ঈ:
- গিরি + ঈশ = গিরীশ,
- অধি+ ঈশ্বর = অধীশ্বর,
- ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ,
- অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

• সূত্র: ঈ + ই = ঈ:
- শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র,
- যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র।

• সূত্র: ঈ + ঈ = ঈ:
- সতী + ঈশ = সতীশ,
- শ্রী+ ঈশ = শ্রীশ,
- মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর,
- ফণী + ঈশ্বর = ফণীশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৭৫০.
'অত্যন্ত গরিব' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ছকড়া-নকড়া
  2. চেটেনেটে
  3. ছা-পোষা
  4. ঘটিরাম
ব্যাখ্যা
• 'ছা-পোষা' বাগ্‌ধারার অর্থ - অত্যন্ত গরিব। 

অন্যদিকে, 
• 'ছকড়া-নকড়া' অর্থ - সস্তা দর। 
• 'ঘটিরাম' অর্থ - অপদার্থ/অযোগ্য।  
• 'চেটেনেটে' অর্থ - কমবয়সি বধূ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫১.
'Monotony' এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. একঘেয়েমি
  2. রাজতন্ত্র
  3. বন্ধক
  4. একচেটিয়া
ব্যাখ্যা

• 'Monotony' এর বাংলা পরিভাষা - একঘেয়েমি

অন্যদিকে,
Monopoly - একচেটিয়া
Monarchy -  রাজতন্ত্র
Mortgage - বন্ধক

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭৫২.
সমার্থক শব্দ নির্ণয় করুন: 'মেঘ'
  1. উদক
  2. তোয়
  3. অভ্র
  4. অপ
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• মেঘ শব্দের সমার্থক শব্দ- অভ্র। 




'মেঘ' শব্দের সমার্থক শব্দ:

জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।

অন্যদিকে, 
'পানি'-এর সমার্থক শব্দ:
জল, নীর, উদক, সলিল, পানি, অপ, প্রানদ, তোয়, জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭৫৩.
‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’ — এটুকু বললে বাক্যের কোন গুণের অভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. আসত্তি
  2. পদক্রম
  3. যোগ্যতা
  4. আকাঙ্ক্ষা
ব্যাখ্যা

আকাঙ্ক্ষা:
- বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তা-ই আকাঙ্ক্ষা।

যেমন:
- ‘চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে’- এটুকু বললে বাক্যটি সম্পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে না, আরও কিছু ইচ্ছা থাকে।
- বাক্যটি এভাবে পূর্ণাঙ্গ করা যায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
- এখানে আকাঙ্ক্ষার নিবৃত্তি হয়েছে বলে এটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য।

অন্যদিকে,
আসত্তি:
- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
 যেমন:
- কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত।
- লেখা হওয়াতে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
- তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
 যেমন:
- কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
- বাক্যটি আসত্তি সম্পন্ন।

যোগ্যতা:
- বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মিলকখনের নাম যোগ্যতা।
যেমন:
- বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়। - এটি একটি যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য।
- কারণ, বাক্যটিতে পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৭৫৪.
'গজনীরাজ' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. দ্বন্দ্ব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৫.
‘তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আয়' এখানে ক্রিয়ার কোন কাল ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  2. খ) ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  3. গ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  4. ঘ) পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার আছে ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা, যেখানে বলা হয় কাজটি এই মুহূর্তে না করলেও চলবে, অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতে সম্পাদন করতে হবে। 
- এ ভবিষ্যৎ কেবল স্রোতাপক্ষে ব্যবহৃত হয়, তারই ক্রিয়ার বিশেষ রূপের জন্য নির্দিষ্ট আছে। যেমন:

বর্তমান অনুজ্ঞা: এ বইটা তাড়াতাড়ি পোড়ো। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: এ বইটা তাড়াতাড়ি পড়ো। 
বর্তমান অনুজ্ঞা: তুমি কাল আমাদের বাড়ি যাও। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: তুমি কাল আমাদের বাড়ি যেও। 
বর্তমান অনুজ্ঞা: তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আয়। 
ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা: তুই তাহলে আমাদের সঙ্গে আসিস। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
৫,৭৫৬.
"ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।" - এখানে কোন ধরনের খণ্ডবাক্য রয়েছে?
  1. বিশেষণ স্থানীয়
  2. ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয়
  3. বিশেষ্য স্থানীয়
  4. কার্যবাচক
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য:
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্যস্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যথা:
- আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।
- ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৭৫৭.
স্বভাবতই ‘ণ’ হয় কোন শব্দে?
  1. ক) চিক্কণ
  2. খ) বেণু
  3. গ) লণ্ঠন
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়।
যেমনঃ
চাণক্য মাণিক্য গণ, বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা।
কল্যাণ শোণিত মণি, স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা।
আপণ লাবণ্য বাণী, নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ।
চিক্কণ নিক্বণ তূণ, কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৫,৭৫৮.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুলটা
  2. শূদ্র
  3. সেনাপতি
  4. শিষ্য
ব্যাখ্যা
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
- কবিরাজ,
- কৃতদার,
- অকৃতদার,
- ঢাকী,
- সেনাপতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ - কুলটা।
- শিষ্য-শিষ্যা,
- শূদ্র-শূদ্রা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৫৯.
"রফিক বললো, "আমি বাড়ি যাবো।" - পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. রফিক বললো সে বাড়ি যাবে।
  2. রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।
  3. রফিক বললো, বাড়ি যাবো।
  4. রফিক বললো বাড়ি যেতে হবে।
ব্যাখ্যা
উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
• প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়।
• অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।
• পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়।
• প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

সে অনুসারে, 
বাক্যটি হবে - রফিক বললো যে, সে বাড়ি যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২৩ সংস্করণ)।
৫,৭৬০.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ফেন + ইল্ = ফেনিল
  2. ঘর + ওয়া = ঘরোয়া
  3. গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা
  4. পাগল + আমি = পাগলামি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে ।
যথা:
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফেনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

অন্যদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৬১.
'লিঙ্গ' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব 
  2. বাক্যতত্ত্ব 
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব:
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব বলা হয়। রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ- প্রকরণ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫,৭৬২.
নিচের কোনটি প্রমিত বানান?
  1. স্নেহাশিস 
  2. স্নেহাশীষ 
  3. স্নেহশিষ 
  4. স্নেহশীষ 
ব্যাখ্যা

•  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান- স্নেহাশিস ।
- শব্দটির অর্থ- স্নেহাশীর্বাদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭৬৩.
'Profiteer' এর বাংলা পরিভাষা -
  1. শিক্ষানবিস
  2. মুনাফাখোর
  3. প্রতারণা
  4. কার্যক্রম-সমন্বয়ক
ব্যাখ্যা

• 'Profiteer' এর বাংলা পরিভাষা - মুনাফাখোর।

অন্যদিকে,
• 'Apprentice' এর বাংলা পরিভাষা- 'শিক্ষানবিস'।
• 'Deceit' এর বাংলা পরিভাষা- 'প্রতারণা'।
• ‘Programme co-ordinator’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - 'কার্যক্রম সমন্বয়ক'।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৫,৭৬৪.
’আভরণ'
  1. ক) অলংকার
  2. খ) গাছের বাকল
  3. গ) আচ্ছদন
  4. ঘ) জিনিসপত্র
ব্যাখ্যা
• আভরণ (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [আ+√ভৃ+অন]
অর্থ: ভূষণ, অলংকার, গহনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৬৫.
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগ্‌ম
  2. জুগ্‌মো
  3. জুওগ্‌মো
  4. জোগ্‌মো
ব্যাখ্যা

ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়। যেমন:
- শ্মশান [শশাঁন্‌],
- স্মরণ [শরোঁন্]।

অন্যদিকে,
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন-
- আত্মীয় [আত্‌তীঁয়],
- পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

আবার,
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন-
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জন্‌মো],
- গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৬- সংস্করণ)।

৫,৭৬৬.
বাংলা ব্যাকরণে কয় ধরনের অনুবর্ণ রয়েছে?
  1. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম — অনুবর্ণ।

অনুবর্ণ — ৩ প্রকার।
যথা - 
- ফলা, 
- রেফ, 
- বর্ণসংক্ষেপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৭৬৭.
'দক্ষিণ হস্ত' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অন্তরঙ্গতা
  2. প্রধান সহযোগী
  3. অবস্থা নাগালে আসা
  4. সত্যবাদিতার ভান করা
ব্যাখ্যা

• 'দক্ষিণ হস্ত বাগ্‌ধারার অর্থ - প্রধান সহযোগী

অন্যদিকে,
দহরম মহরম - অন্তরঙ্গতা।
থই পাওয়া - পথ পাওয়া/ অবস্থা নাগালে আসা।
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির - সত্যবাদিতার ভান করা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭৬৮.
‘উল্লাস‘ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? 
  1. উৎ + লাস
  2. উত + লাস
  3. ঊৎ + লাস
  4. উল + লাস
ব্যাখ্যা
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। 
যেমন - 
• চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ), 
• বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ), 
উৎ+লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৭৬৯.
"ধামাধরা লোকজন সব সময় বসের পাশে থাকে" — বাক্যটি কোন ধরনের আচরণকে নির্দেশ করে?
  1. নির্লিপ্ততা
  2. কদরহীন লোক
  3. যথেচ্ছাচারী
  4. তোষামোদকারী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) তোষামোদকারী।

উল্লখ্য,
'ধামাধরা' বাগধারাটির অর্থ = তোষামোদকারী/ যে ব্যক্তি অন্যের প্রশংসা করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে।

বাক্যের বিশ্লেষণ:
 • "ধামাধরা লোকজন সব সময় বসের পাশে থাকে" - এখানে বোঝানো হচ্ছে যে তোষামোদকারী লোকেরা সবসময় ক্ষমতাবান ব্যক্তির (বস) কাছাকাছি থাকে তাদের খুশি রাখার জন্য এবং নিজেদের সুবিধা আদায়ের জন্য।

অন্যান্য অপশনগুলো:
নির্লিপ্ততা অর্থ- উদাসীনতা।
কদরহীন লোক অর্থ- যার মূল্য নেই।
যথেচ্ছাচারী অর্থ- ইচ্ছামতো আচরণকারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৭৭০.
‘দুঃখের দহন’ কোন প্রকার সম্বন্ধ পদ?
  1. ক) অভেদ সম্বন্ধ
  2. খ) কার্যকারণ সম্বন্ধ
  3. গ) ব্যাপ্তি সম্বন্ধ
  4. ঘ) উপমান-উপমেয়
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে। যেমন:
অধিকরণ সম্বন্ধ : রাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
কার্যকারণ সম্বন্ধ : অগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
হেতু সম্বন্ধ : ধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দাহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধ : ননীর পুতুল, লোহার শরীর।
নির্ধারক সম্বন্ধ : সবার সেরা, সবার ছোট।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি।
৫,৭৭১.
‘পাতিশিয়াল’ শব্দে পাতি উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বড়
  2. বিশিষ্ট
  3. ক্ষুদ্র
  4. ভিন্নতা
ব্যাখ্যা
• 'পতি' খাঁটি বাংলা উপসর্গের উদাহরণ।
• 'পাতি' উপসর্গটি ‘ক্ষুদ্র’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু ইত্যাদি শব্দে।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৭৭২.
'হাতি' শব্দের 'হ' ধ্বনিটি কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য
  2. তালব্য
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।

• বাংলা বর্ণমালায় — ১টি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে।
যেমন,
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি - হ।

যেমন, 
- 'হাতি' শব্দের 'হ' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৭৭৩.
কোনটি লগ্নক নয়?
  1. উপসর্গ
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ' লগ্নক নয়।

লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের। যথা:

বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে।
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৭৭৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন এ-কার ব্যবহার করতেন কেন? 
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে 
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন এ-কার ব্যবহার করতেন 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:

‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৭৭৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. নিরঃবধি
  2. ঘূর্নিঝড়
  3. লন্ঠন
  4. সুবর্ন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'লন্ঠন'- শব্দটির বানান শুদ্ধ।
কারণ, 
'ণ-ত্ব' বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন নেই। 'লন্ঠন' - ইংরেজি শব্দ।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ বানান:
নিরঃবধি- নিরবধি, 
ঘূর্নিঝড় - ঘূর্ণিঝড়,
সুবর্ন - সুবর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৭৬.
'Pupil' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ছাত্র
  2. চোখের মণি
  3. তারারন্ধ্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• 'Pupil' এর বাংলা পরিভাষা: 
- ছাত্র; স্কুলের শিক্ষার্থী;
- চোখের মণি; তারারন্ধ্র।

আরো কয়েকটি বাংলা পরিভাষা:
• 'Incumbent' এর বাংলা পরিভাষা: 'পদধারী',
• 'Assailant'- এর বাংলা পরিভাষা 'আক্রমণকারী', 
• 'Evaluation'- এর বাংলা পরিভাষা: 'মূল্যায়ন', 
• 'Arsenal'- এর বাংলা পরিভাষা: 'অস্ত্রাগার'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৫,৭৭৭.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ইন্দ্রযালিক
  2. মনোহারিণী
  3. কুসংষ্কার
  4. সন্তোস
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - মনোহারিণী
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- উচ্চ পদমর্যাদাসম্পন্ন মহিলা।

অন্যদিকে,
- ইন্দ্রযালিক - ইন্দ্রজালিক,
- কুসংষ্কার - কুসংস্কার,
- সন্তোস - সন্তোষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৭৮.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  2. খ) নির্বাচন উপলক্ষ্যে পুরোদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  3. গ) নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
ব্যাখ্যা
নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। - বাক্যটি শুদ্ধ।

• নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। - বাক্যে 'সারা দেশব্যাপী' বাগ্‌ভঙ্গিটির ব্যবহার বাহুল্য দোষে দুষ্ট। 'দেশব্যাপী' শব্দের অর্থ সারা দেশ। সুতরাং দেশব্যাপীর পুর্বে অযথা 'সারা' লেখা সমীচীন নয়। এটি বাক্যটিকে অশুদ্ধ, মেদবহুল, ও অসুন্দর করে দিয়েছে।

লিখতে হবে: নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,৭৭৯.
ভাষার মৌলিক অংশ-
  1. ধ্বনি, শব্দ, বাক্য
  2. ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ
  3. উপসর্গ, অনুসর্গ, ধ্বনি
  4. শব্দ, সন্ধি, বর্ণ
ব্যাখ্যা

• বাংলা ব্যাকরণ: যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।
• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে। যেমন-
১. ধ্বনি (Sound)
২. শব্দ (Word)
৩. বাক্য (Sentence)
৪. অর্থ (Meaning)

 • সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology)
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology)
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax)
৪. অর্থতত্ব (Semantics)
এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৭৮০.
'ধৃত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মুক্তি
  2. নম্র
  3. মসৃণ 
  4. মুক্ত
ব্যাখ্যা
• ‘ধৃত’ বিশেষণ পদ।
অর্থ: গ্রেফতার করা হয়েছে এমন।

• ‘মুক্ত’ বিশেষণ পদ।
অর্থ: অব্যাহতিপ্রাপ্ত; উন্মুক্ত; নিষ্কৃতিপ্রাপ্ত।

অন্যদিকে,
• ‘মুক্তি’ বিশেষ্য পদ।
অর্থ: স্বাধীনতা, পরিত্রাণ, অবসান।
[যা ‘ধৃত’ শব্দের বিপরীত শব্দ হিসেবে যথাযথ অর্থ প্রদান করে না।]

সুতরাং,
• 'ধৃত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মুক্ত।

অন্যদিকে,
• ধৃষ্ট - নম্র।
• বন্ধুর - মসৃণ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ হলো:
• মূর্ত - বিমূর্ত। 
• ধূর্ত - সরল / বোকা।
• চাপল্য - গাম্ভীর্য। 
• ঔদার্য - কার্পণ্য। 
• ঔদ্ধত্য - বিনয়। 
• ত্বরিত - শ্লেথ।
• রিক্ত - পূর্ণ।
• আশু - বিলম্ব।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৮১.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) এটা কাঁচা হাতের লেখা।
  2. খ) সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
  3. গ) বৃক্ষটি সমূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) জ্যোৎস্না রাত বড়ই মধুর।
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপটি হচ্ছে-
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭৮২.
'দরজা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. বাংলা 
  2. আরবি 
  3. হিন্দি 
  4. ফারসি 
ব্যাখ্যা

দরজা (বিশেষ্য পদ),
- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ:
- দুয়ার,
- দ্বার,
- পাট।

এরূপ ফারসি ভাষার কিছু শব্দ হলো-
দরকার, দরখাস্ত, দরগা, দরজি, দরদ, দরদালান, দরদি, দরপরদা, দরদিয়া ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।  

৫,৭৮৩.
'লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।' এখানে ‘জাতিতে’ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অধিকরণে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অপাদানে ৭মী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ' শব্দটির অর্থ: যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়।
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলা হয়।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা–ই করণ কারক।
 যেমন:
- নীরা কলম দিয়ে লেখে। (উপকরণ –কলম),
- জগতে কীর্তিমান হয় সাধনায়। (উপায় – সাধনা)।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
- সপ্তমী বা এ বিভক্তি: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।
- তে বিভক্তি: লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
- য় বিভক্তি: চেষ্টায় সব হয়।

অন্যদিকে:
অপাদান কারক:
- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, জাত, বিরত, আরম্ভ, উৎপন্ন, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

কর্মকারক:
- কর্তা যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্মকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কি বা ‘কাকে' জিজ্ঞেস করে যে উত্তর পাওয়া যায় তা কর্ম এবং ক্রিয়া পদের সঙ্গে কর্মের সম্বন্ধই কর্মকারক।

অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে (সময় এবং স্থানকে) অধিকরণ কারক বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৭৮৪.
কয়টি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় উপসর্গে পাওয়া যায়?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও রয়েছে।

- বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৭৮৫.
কোনটি অনুসর্গ পদের দৃষ্টান্ত?
  1. কেউ-কোথাও
  2. যেমন-তেমন
  3. উপরে-নিচে
  4. অপর-পর
ব্যাখ্যা
• উপরে ও নিচে শব্দ দুটি অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:

যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- ‘যেমন-তেমন’ সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
- ‘অপর-পর’ অন্যবাচক সর্বনাম পদের উদাহরণ।
- ‘কেউ-কোথাও’ অনির্দষ্ট সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫,৭৮৬.
সম অর্থবহ শব্দগুচ্ছ কোনটি?
  1. ক) হুতাশন, বায়ুসখা
  2. খ) অন্তরিক্ষ, ব্যোম
  3. গ) দ্রুম, বিটপী
  4. ঘ) উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
অগ্নি - অনল, আগুন, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বায়ুসখা, সর্বভুক।
আকাশ - গগন, নভোমন্ডল, দ্যুলোক, অন্তরিক্ষ, ব্যোম।
বৃক্ষ - দ্রুম, বিটপী, তরু, মহীরুহ, গাছপালা।
উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৫,৭৮৭.
'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. ভাবনাচিন্তাহীন
  2. তোষামোদকারী
  3. তুচ্ছ ব্যাক্তি
  4. সীমাবন্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

 • 'কূপমণ্ডূক' বাগ্‌ধারা অর্থ - সীমাবন্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

উল্লেখ্য,
- কেউকেটা - তুচ্ছ ব্যক্তি।
- খয়ের খাঁ - তোষামোদকারী।
- খোদার খাসি - ভাবনাচিন্তাহীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৭৮৮.
বিপরীতার্থক শব্দ যোগে গঠিত সমাস নয়-
  1. জমা-খরচ
  2. ছেলে-বুড়ো
  3. আয়-ব্যয়
  4. অহি-নকুল
ব্যাখ্যা

- বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত সমাসঃ
• অহি-নকুল,
• দা-কুমড়া,
• স্বর্গ-নরক ইত্যাদি।
- বিপরীতার্থক শব্দ যোগে গঠিত সমাসঃ
• জমা-খরচ,
• ছেলে-বুড়ো,
• আয়-ব্যয়,
• লাভ-লোকসান,
• ছোট-বড় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৭৮৯.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) আইনত অনুসারে তিনি একাজ করতে পারেন না।
  2. খ) এটা অপক্ক হাতের লেখা।
  3. গ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
  4. ঘ) মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসি।
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্যঃ
- আইনত তিনি একাজ করতে পারেন না।
- এটা কাঁচা হাতের লেখা।
- বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
- মেয়েটি সুকেশী ও সুহাসিনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৭৯০.
‘কৃষ্টি’-এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. কৃ + তি
  2. কৃষঃ + তি
  3. কৃষ্‌ + তি
  4. কৃষ্‌ + টি
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্টি' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ: 'কৃষ্‌ + তি'।  

• সন্ধির সূত্র:
ষ্‌ এর পরে ত্‌ বা থ্‌ থাকলে ত্‌ ও থ্‌ স্থানে যথাক্রমে ট ও ঠ হয়।
যেমন-
কৃষ্টি - কৃষ্‌ + তি;
বৃষ্টি - বৃষ+তি;
ষষ্ঠ - ষষ্‌ + থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৫,৭৯১.
'শান্তি' শব্দের প্রকৃতি কোনটি?
  1. শাম্‌
  2. শম্‌
  3. শান্ত
  4. শান্‌
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'শান্তি' শব্দের প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শম্‌ + তি'। (এখানে, 'শম্' হলো- প্রকৃতি এবং 'তি' হলো- প্রত্যয়)

• 'শান্তি' শব্দের অর্থ: 
- প্রশান্তি; উৎকণ্ঠাশূন্যতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৫,৭৯২.
কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. উদ্ধত
  2. গাম্ভীর্য
  3. অজ্ঞাত
  4. পার্থিব
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - গাম্ভীর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

শব্দের অর্থ:
- গম্ভীর ভাব, চপলতার অভাব; অবিকারত্ব, গুরুত্ব; প্রগাঢ়তা, মহিমা।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - উদ্ধত, অজ্ঞাত এবং পার্থিব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৭৯৩.
'দুর্জন' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. সজ্জন
  2. বর্জন
  3. কুঞ্চন
  4. কুজন
ব্যাখ্যা
'দুর্জন' এর বিপরীত শব্দ - সজ্জন।

অন্যদিকে,
- 'কুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- 'বর্জন' এর বিপরীত শব্দ - গ্রহণ।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
- 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ - নির্দয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৭৯৪.
কোন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধিযোগে গঠিত নয়?
  1. মিথ্যুক
  2. ছোড়দা
  3. আন্না
  4. চাট্টি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি,
- আর + না = আন্না,
- ছোট + দা = ছোড়দা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধিযোগে গঠিত - মিথ্যা + উক = মিথ্যুক।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৭৯৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. অভীভুত
  2. অভিভুত
  3. অভীভূত
  4. অভিভূত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - অভিভূত
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বিহ্বল।
- ভাবাবিষ্ট।
- পরাভূত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৭৯৬.
'অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ'- এখানে 'সন্তরণ' শব্দের অর্থ কী?
  1. গভীরতা
  2. সাহায্য
  3. সাঁতার
  4. উপায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানেনা সন্তরণ'- এখানে 'সন্তরণ' শব্দের অর্থ: 'সাঁতার'।

• উচ্চারণ:  শন্‌তরন্‌। 
- সন্তরণ দক্ষ (বিশেষণ) - সাঁতারে অভিজ্ঞ।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) সম্‌ + √ তৃ + অন(ল্যুট্‌)}। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,৭৯৭.
'টেস্ট পরীক্ষা' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা
  2. খ) টেস্ট্‌ পরিখ্কা‌
  3. গ) টেস্‌ট পরিখ্‌কা
  4. ঘ) টেস্ট পোরিক্ষা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা।

• টেস্ট পরীক্ষা:
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে টেস্‌ট্‌ পোরিক্‌খা।
- এর অর্থ হচ্ছে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৭৯৮.
‘Agoraphobia’ এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) মুক্তস্থানাতঙ্ক
  2. খ) আশ্রয়হীনাতঙ্ক
  3. গ) উচ্চতাভীতি
  4. ঘ) অন্ধকারভীতি
ব্যাখ্যা

'Agoraphobia' এর পারিভাষিক শব্দ মুক্তস্থানাতঙ্ক; মুক্ত স্থান সম্বন্ধে আতঙ্ক।
সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।

৫,৭৯৯.
'বরখেলাপ' শব্দটি কোন উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত উপসর্গ
  2. ফারসি উপসর্গ
  3. খাটি বাংলা উপসর্গ
  4. উর্দু উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• 'ফারসি' উপসর্গ হলো:
কার্, দর্, না, নিম্, ফি, বদ্‌, বে, কম্, বর্ ইত্যাদি।

• 'বর' ফারসি উপসর্গ যোগে 'বাইরে/মধ্যে' অর্থে গঠিত শব্দ- বরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ।

-----------------
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৮০০.
বাংলা ভাষায় স্পর্শ বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ২০
  2. খ) ২৫
  3. গ) ২৭
  4. ঘ) ৩০
ব্যাখ্যা
• ক-ম পর্যন্ত ২৫ টি বর্ণকে স্পর্শ বা বৰ্গীয় বৰ্ণ বলে। যথা:

- ক বর্গীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
- চ বৰ্গীয় বর্ণ : চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
- ট বর্গীয় বর্ণ ট, ঠ, ড, ঢ, ণ৷
- ত বৰ্গীয় বর্ণ : ত, থ, দ, ধ, ন৷
- প বর্গীয় বর্ণ : প, ফ, ব, ভ, ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।