বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৫৬ / ৩৫৪ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ৩৫,৭১৩

৫,৫০১.
'Duet' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) দ্বৈতসংগীত
  2. খ) নলী
  3. গ) দ্বৈতবাদ
  4. ঘ) দ্বিজাতিত্ব
ব্যাখ্যা
'Duet'  শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বৈতসংগীত

অন্যান্য অপশন গুলোর বাংলা পরিভাষা:
'Dual nationality' শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বিজাতিত্ব।
'Duct' শব্দের বাংলা পরিভাষা - নলী।
'Dualism' শব্দের বাংলা পরিভাষা - দ্বৈতবাদ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ হলো:
Whirling/ Rotation শব্দের বাংলা পরিভাষা- ঘূর্ণায়মান।
Valuation শব্দের বাংলা পরিভাষা- মাননির্ণয়/ মূল্যনির্ধারণ। 
Variable শব্দের বাংলা পরিভাষা- অসম/ চল/ পরিবর্তনীয়। 
Venation শব্দের বাংলা পরিভাষা- শিরাবিন্যাস। 
Verification শব্দের বাংলা পরিভাষা- প্রতিপাদন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৫,৫০২.
'তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ-
  1. তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয় না।
  2. তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
  3. তবু না দেখা বিষয়টি সবার না মানার উপায় থাকে না।
  4. তবু না দেখা বিষয়টি সবার মানতে হয়।
ব্যাখ্যা
• 'তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে নেয়।' বাক্যটির নেতিবাচক রূপ - তবু না দেখা বিষয়টি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না

• বিবৃতিমূলক বা  নির্দেশাত্মক বাক্যকে, ক. অস্তিবাচক ও খ. নেতিবাচক - এই দুভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে, অর্থানুসারে শ্রেণিভুক্ত সাত প্রকারের বাক্যকে সামগ্রিকভাবে দুটি মৌল শ্রেণিতে ভাগ করা যায়; সে দুটি হলো - অস্তিবাচক ও নেতিবাচক বাক্য। কেননা প্রতিটি শ্রেণিতেই আছে বক্তব্যের প্রতিষ্ঠাকে স্বীকৃতির ও অস্বীকৃতির দুটি দিক।

• অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বা হাঁ-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্তিবাচক বা অস্ত্যর্থক বাক্য বলে।
যেমন - 
'হৈমন্তী চুপ করিয়া রহিল।'
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু করিয়া উঠিল।'

নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বা না-বাচক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো ঘটনায়, কাজে, বা ভাবে অস্বীকৃতি, অনস্তিত্ব, নিষেধ বা না-সূচক অর্থ বোঝায় তাকে নেতিবাচক বা নাস্ত্যর্থক বাক্য বলে। যেমন -
'হৈমন্তী কোন কথা বলিল না।'
'আমার বুকের ভেতরটা হু হু না করিয়া পারিল না।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫০৩.
উৎসগতভাবে "জানোয়ার" শব্দটি কোন ভাষা হতে আগত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
• উৎসগতভাবে "জানোয়ার" শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটিই একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দের উচ্চারণ - জানোআর্।
শব্দের অর্থ:
- নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না কিন্তু চলাচল করতে পারে এমন প্রাণী, পশু, জন্তু। (অলংকাররূপে) মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তি। কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫০৪.
কোন বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত?
  1. খুব শীত লাগছে।
  2. মনটা ভাল নেই আমার।
  3. করিম স্কুলে যায়।
  4. আজ প্রচণ্ড গরম।
ব্যাখ্যা
আজ প্রচণ্ড গরম। - বাক্যে ক্রিয়া অনুক্ত।

অনুক্ত ক্রিয়াপদ:
- ক্রিয়াপদ বাক্যগঠনের অপরিহার্য অঙ্গ।
- ক্রিয়াপদ ভিন্ন কোনো মনোভাবই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না।
- তবে কখনো কখনো বাক্যে ক্রিয়াপদ উহ্য বা অনুক্ত থাকতে পারে।
যেমন -
→ ইনি আমার ভাই = ইনি আমার ভাই (হন)।
আজ প্রচণ্ড গরম = আজ প্রচণ্ড গরম (অনুভূত হচ্ছে)।
→ তোমার মা কেমন? = তোমার মা কেমন (আছেন)?
- বাক্যে সাধারণত 'হ্' এবং 'আছ' ধাতু গঠিত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫০৫.
কোনটি সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ?
  1. সুবুদ্ধি
  2. রাজগণ
  3. মাতাজাতি
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা
• সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ - মাতাজাতি।
- শব্দটির শুদ্ধ প্রয়োগ - মাতৃজাতি।

অন্যদিকে,
- নীরোগ,
- রাজগণ,
- সুবুদ্ধি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫০৬.
কখন ন হয় না
  1. ক বর্গের আগে
  2. চ বর্গের আগে
  3. ট বর্গের আগে
  4. ত বর্গের আগে
ব্যাখ্যা
ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে কখনো ‘ন’ ব্যবহৃত হয় না।

• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
 
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
 
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫০৭.
'Rules of business' শব্দের পারিভাষিক অর্থ-
  1. নিয়মাবলী
  2. কার্যবিধি
  3. কার্যপ্রণালী
  4. সওয়ালের নিয়ম
ব্যাখ্যা
Rules of business - কার্যবিধি
Rules and regulations -  নিয়মাবলী 
Rules of procedure - কার্যপ্রণালী 
Rules of pleading - সওয়ালের নিয়ম 

উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা
৫,৫০৮.
সন্ধি জনিত অপপ্রয়োগ-
  1. ক) যথেষ্ট
  2. খ) স্বেচ্ছা
  3. গ) সদেব
  4. ঘ) রমেশ
ব্যাখ্যা
আ+এ = ঐ হয়, সুতরাং সদা+এব=সদৈব হবে সঠিক সন্ধির প্রয়োগ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৫,৫০৯.
নিচের কোন বাক্যে বিরোধ যোজকের উদাহরণ আছে?
  1. লাল বা নীল কলমটা আনো।
  2. তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।
  3. বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।
  4. যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
ব্যাখ্যা

• বিরোধ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।
- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
- তোমাকে ইমেইল করেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি।

 অন্যদিকে,
বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।

যেমন:
- লাল বা নীল কলমটা আনো।
- চা না-হয় কফি খান।

• কারণ যোজক: এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন:
- জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি।
- বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব।
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ)।

৫,৫১০.
কোনটি তারিখ পূরণবাচক শব্দ?
  1. দ্বাদশী
  2. একত্রিশে
  3. তৃতীয়
  4. এগারোতম
ব্যাখ্যা
• তারিখ পূরণবাচক শব্দ- একত্রিশে। 

---------------
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ প্রকার।
যথা:
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক,
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
যেমন: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই। যেমন: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২ শ) ও বারোতম (১২তম) ইত্যাদি।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়। যেমন: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)। 

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে।
যেমন:
প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী, একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী) ত্রয়োদশী (১৩শী) ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই....... ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৫১১.
‘মর্সিয়া’ শব্দের উৎস কোনটি?
  1. সংস্কৃত
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফারসি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘মর্সিয়া’ শব্দটি 'ফারসি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা; (৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে) কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫১২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পুনরুজ্জীবন
  2. পুনরূজ্জীবন
  3. পুনঃরুজ্জীবন
  4. পুনঃরূজ্জীবন
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - পুনরুজ্জীবন
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: নতুন জীবনলাভ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫১৩.
মেয়েটি দেখতে ভারী সুন্দর! নিম্নরেখ অংশটি বাক্যের কোন বর্গ নির্দেশ করে?
  1. ক) বিশেষ্য বর্গ
  2. খ) বিশেষণ বর্গ
  3. গ) ক্রিয়া বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ব্যাখ্যা
- বাক্যের 'ভারী সুন্দর' অংশটি হলো বিশেষণ বর্গ

- বিশেষণজাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণ বর্গ।

এছাড়াও-

বিশেষ্য বর্গ- বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধপদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বর্গ তৈরি হয়।
ক্রিয়া বর্গ - বাক্যের বিধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় ক্ষেত্রেই ক্রিয়াবর্গ তৈরি করে।
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ - এর উদাহরণ- সকাল আটটার সময়ে সে রওনা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( ২০২২-সংস্করণ)।
৫,৫১৪.
'কাজে গা লাগাও'- বাক্যে 'গা' শব্দটি কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. শরীর
  2. মনোযোগ
  3. গ্রাহ্য করা
  4. অভ্যস্ত
ব্যাখ্যা

• 'কাজে গা লাগাও'- বাক্যে 'গা' শব্দটি 'মনোযোগ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

• 'গা' শব্দের বিশিষ্ট অর্থে প্রয়োগ: 
» শরীর অর্থে- গা ব্যথা ব্যথা করছে।
» 'মনোযোগ' অর্থে- কাজে গা লাগাও।
» দম্ভ অর্থে- গায়ের জোর দেখিয়ে কাজ হাসিল করতে চাও। 
» গ্রাহ্য করা অর্থে- ও কথা গায়ে মেখো না। 
» অভ্যস্ত অর্থে- অন্যায় এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। 

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,৫১৫.
কোনটি বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস?
  1. জ্বিন-পরি
  2. মাসি-পিসি
  3. ছোট-বড়
  4. মা-বাপ
ব্যাখ্যা
বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- জমা-খরচ,
- আয়-ব্যয়,
- ছোট-বড়,
- লাভ-লোকসান ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মিলনার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস:
- মা-বাপ,
- মাসি-পিসি,
- জ্বিন-পরি,
- চা-বিস্কুট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫১৬.
কোনটির অভাবে চিঠি লেখার ঊদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়?
  1. ক) প্রেরকের ঠিকানা
  2. খ) প্রাপকের ঠিকানা
  3. গ) পত্রগর্ভ
  4. ঘ) স্বাক্ষর ও তারিখ
ব্যাখ্যা
'প্রাপকের ঠিকানা'র অভাবে চিঠি লেখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। 
কেননা, চিঠি লেখা হয় প্রেরকের মনের বক্তব্য প্রাপকের নিকট পৌঁছাবার জন্য, 
যদি প্রাপকের ঠিকানা সঠিক ভাবে লেখা না হয়ে থাকে তবে তা প্রাপকের নিকট পৌঁছবে না। 
এতে করে চিঠি লেখার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।
৫,৫১৭.
"হিসাবনিকাশ" অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. গৌরচন্দ্রিকা
  2. খতিয়ে দেখা
  3. গাছপাথর
  4. কাঠখোট্টা
ব্যাখ্যা

• 'গাছপাথর' বাগ্‌ধারার অর্থ - হিসাবনিকাশ।

অন্যদিকে,
গৌরচন্দ্রিকা - ভূমিকা। 
খতিয়ে দেখা - বিবেচনা করা। 
কাঠখোট্টা - নীরস ও অনমনীয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫১৮.
'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' - এখানে 'ওগো' কোন ধরনের অব্যয় পদ?
  1. অনুকার অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' - এখানে 'ওগো' অনন্বয়ী অব্যয়। 

⇒ অনন্বয়ী অব্যয়: 
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন: মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।
বাক্যে ব্যবহার: 
• 'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' উচ্ছ্বাস প্রকাশে অনন্বয়ী অব্যয়।

কিছু অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ হলো:
•  ‘হ্যাঁ’ আমি যাব না (স্বীকৃতি জ্ঞাপনে)।
•  ‘উঃ!’ পায়ে বড্ড লেগেছে (যন্ত্রণা প্রকাশে)।
• ‘ওগো’ আজ তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে' (সম্বোধন অর্থে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৭ সংস্করণ)।
৫,৫১৯.
ব্রাহ্মী লিপির কোন শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. পশ্চিম-ভারতীয়
  2. উত্তর-ভারতীয় 
  3. দক্ষিণ-ভারতীয়
  4. পূর্ব-ভারতীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।

- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এইবিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর  বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা। আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি । বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি -
স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়৷ ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা লিখতে এক সময়ে অন্য লিপির পাশাপাশি বাংলা লিপিও ব্যবহৃত হতো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৫,৫২০.
'বাবাকে বড্ড ভয় পাই।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে দ্বিতীয়া
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. অধিকরণে দ্বিতীয়া
  4. কর্মে দ্বিতীয়া
ব্যাখ্যা

অপাদান কারক:
- যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, পতিত, গৃহীত, জাত, রক্ষিত, বিরত, দূরীভূত ও উৎপন্ন এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।

যেমন:
অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: ট্রেনটি ঢাকা ছাড়ল।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
তৃতীয়া বিভক্তি: তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
পঞ্চমী বিভক্তি: জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরছে।
ষষ্ঠী বিভক্তি: বাঘের ভয়ে সকলে ভীত।
সপ্তমী বিভক্তি: দুধে দই হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৫,৫২১.
‘ঘণ্টা বেজে উঠল‘ কোন ধরণের ক্রিয়াপদ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) মিশ্র ক্রিয়া
  4. ঘ) নাম ধাতুর ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"ঘণ্টা বেজে উঠল"- বাক্যে 'বেজে উঠা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫২২.
পিপাসিত শব্দের বিশেষ্য রূপ-
  1. পিপাসী
  2. পিয়াসী
  3. পিপাসা
  4. পিপাসু
ব্যাখ্যা
• 'পিপাসা'
- বিশেষ্য পদ। 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: √পিপাস্‌ + আ।
অর্থ: 
- পান করার বাসনা,
- তৃষ্ণা।

অন্যদিকে, 
- পিপাসিত, পিপাসী এবং পিপাসু বিশেষণ পদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫২৩.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্যের শিকার হন।
  2. দীনতা প্রশংসনীয় নয়।
  3. নীরোগী লোকেরা যথার্থ সুখী।
  4. আমার বড় দুরাবস্থা।
ব্যাখ্যা

 • দীনতা প্রশংসনীয় নয়।- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ বাক্য:আমার বড় দুরাবস্থা। 
শুদ্ধ বাক্য:দুআমার বড় দুরবস্থা।

অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যান ব্যক্তিগণ দারিদ্যের শিকার হন। 
শুদ্ধ বাক্য: বিদ্বান ব্যক্তিগণ দারিদ্যের শিকার হন। 

অশুদ্ধ বাক্য: নীরোগী লোকেরা যথার্থ সুখী। 
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক যথার্থ সুখী।

উৎস: উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৫২৪.
১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত পূরণবাচক শব্দে কোন প্রত্যয় যোগ করা হয়?
  1. ক) তর
  2. খ) তম
  3. গ) ঈ
  4. ঘ) তা
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবাচক শব্দ ২ প্রকার 
- ক্রমবাচক
- পূরণবাচক

পূরণবাচক: পূরণবাচক সংখ্যা দিয়ে যেকোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়। 

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ ৩ ধরনের হয়,
সাধারণ পূরণবাচক
তারিখ পূরণবাচক
ভগ্নাংশ পূরণবাচক

সাধারণ পূরণবাচক: ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থান নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি। এদের সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায় যেমন- ১ম, ২য়, ৩য় ইত্যাদি
- -১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ(১১শ) ও এগারোতম(১১তম), দ্বাদশ(১২ শ)  ও বারোতম(১২তম) ইত্যাদি।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক শব্দে শুধু তম প্রত্যয় যোগ করা হয়।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচক শব্দে নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন - প্রথমা(১মা), দ্বিতীয়া(২য়া), তৃতীয়া(৩য়া), একাদশী(১১শী), দ্বাদশী(১২শী) ত্রয়োদশী(১৩শী) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫২৫.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ? 
  1. গাছ
  2. ধৈর্য 
  3. কারক 
  4. হস্তী 
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
- যেমন পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- √ কৃ + ণক = কারক। 
- √ ধীর + য/ষ্ণ্য = ধৈর্য ।
- হস্ত + ইন্‌ = হস্তী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫,৫২৬.
'এক যে ছিলো রাজা।' - এখানে 'রাজা' কোন কারক?
  1. কর্তৃকারক
  2. করণ কারক
  3. কর্মকারক
  4. অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা

কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তৃকারক।
 
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: এক যে ছিলো রাজা
 দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: বশিরকে যেতে হবে।
 তৃতীয়া বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসী কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।
 ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।
 সপ্তমী বিভক্তি: চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫২৭.
দার' ও 'দ্বার' শব্দের অর্থ যথাক্রমে -
  1. দরজা, দিয়ে
  2. স্ত্রী, দরজা
  3. দিয়ে, দরজা
  4. দরজা, স্ত্রী
ব্যাখ্যা
• শব্দজোড়: 
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন;
- এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায়।

• উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি শব্দজোড় ও অর্থ:
- 'দার' শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
- 'দ্বার' শব্দের অর্থ - দরজা।

- 'দারা' শব্দের অর্থ - স্ত্রী।
- 'দ্বারা' শব্দের অর্থ - দিয়ে।

- তরণী - নৌকা।
- তরুণী – যুবতী।

- তারা – নক্ষত্র।
- নিতি – রোজ।

- পিন – আলপিন।
- পীন – স্থূল।

- দন্ত – দাঁত।
- দন্ত্য – দাঁত বিষয়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৫,৫২৮.
'পরিচ্ছেদ' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
ব্যাখ্যা
• 'পরিচ্ছেদ'- 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।
--------------------
• 'স্বর + ব্যঞ্জন' নিয়ম: 
- স্বর + ছ = স্বর + চ্ছ।
যেমন,
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ- এর জায়গায় 'চ্ছ' হয়েছে।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৫,৫২৯.
প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• প্রান্তিক যতিচিহ্ন নয় - সেমিকোলন।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• যতিচিহ্নকে দুভাগে ফেলা যায়।
যথা:
১. প্রান্তিক অর্থাৎ বাক্য যেখানে শেষ হয়।
যেমন: দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন।

২. বাক্যান্তর্গত অর্থাৎ যেখানে বাক্য শেষ হয় না।
যেমন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৩০.
ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভাবকে সহজ করে তোলার নামই হচ্ছে-
  1. ক) সারাংশ
  2. খ) অনুবাদ
  3. গ) ভাবসম্প্রসারণ
  4. ঘ) বাগধারা
ব্যাখ্যা
কোনাে কবিতা বা গদ্যরচনার অংশকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করাকে ভাব-সম্প্রসারণ বলে।
- কবিতার বেলায় সেইসব পঙুক্তির ভাব-সম্প্রসারণ দরকার হয়, যেগুলাের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনাে বক্তব্য বা তত্ত্ব থাকে।
- অন্যদিকে গদ্যরচনার সেইসব বাক্য ভাব-সম্প্রসারণের জন্য ঠিক করা হয়, সাধারণত যা প্রবাদ বা প্রবচনের মর্যাদায় উন্নীত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৩১.
কোনটি হ্রস্বস্বর?
ব্যাখ্যা

হ্রস্বস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, , উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

দীর্ঘস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ, , ঊ, এ, , , ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৩২.
'কুলটা' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. পুংলিঙ্গবাচক
  2. স্ত্রীলিঙ্গবাচক
  3. ক্লীবলিঙ্গবাচক
  4. উভলিঙ্গবাচক
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
এসব শব্দের পুরুষবাচক রূপ নেই।
যেমন,
- সধবা, বিধবা, সতীন, ললনা, পোয়াতী, লক্ষ্মী, সুজলা, সুফলা, অধীরা, গর্ভিনী, ডাইনী, পেত্নী, শাকচুন্নী, কুলটা, বিমাতা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৩৩.
"মনোজ" বলতে কী বোঝায়?
  1. ভ্রমণ করা স্বভাব যার
  2. মনে যার জন্ম
  3. মরে না যে
  4. মর্মকে ভেদকারী
ব্যাখ্যা
• 'মনে যার জন্ম' এর এক কথায় প্রকাশ - মনসিজ/ মনোজ

অন্যদিকে,
মর্মকে ভেদকারী - মর্মভেদী।
মরে না যে - অমর।
ভ্রমণ করা স্বভাব যার - ভ্রমর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৩৪.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?
  1. রূপবান
  2. নিখুঁত
  3. গাম্ভীর্য
  4. মেঘলা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য পদ - গাম্ভীর্য
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।

অর্থ:
- গম্ভীর ভাব,
- চপলতার অভাব,
- প্রগাঢ়তা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ পদ - রূপবান, নিখুঁত।
বিশেষণ পদ - মেঘলা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৫৩৫.
কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি- জ।

---------------------------------
• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৩৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) নীরিক্ষণ
  2. খ) নিরীক্ষণ
  3. গ) নীরিক্ষন
  4. ঘ) নিরীক্ষন
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান-  
নিরীক্ষণ
(বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = নির্‌+√ঈক্ষ্‌+অক
অর্থ: যত্ন সহকারে অবলোকন, গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,৫৩৭.
'বুঝে নেওয়া' - এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ​সরল ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. নাম ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।

​যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

​অন্যদিকে,
​সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৫৩৮.
'চোখ বুজে থাকা' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. সহজলভ্য
  2. ভূমিকা না রাখা
  3. বিপদে দিশেহারা হওয়া
  4. কূটবুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'চোখ বুজে থাকা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভূমিকা না রাখা

অন্যদিকে,
চোখে সরষে ফুল দেখা - বিপদে দিশেহারা হওয়া।
ছেলের হাতের মোয়া - সহজলভ্য।
জিলাপির প্যাঁচ - কূটবুদ্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৩৯.
"ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — কোন আবেগ বোঝায়?
  1. কারণ
  2. সাপেক্ষ
  3. বিস্ময়
  4. বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• বিরক্তি আবেগ:
এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।

• বাক্যটি "ছি ছি! টাকার জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে?" — এতে বিরক্তি বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, কারণ এখানে কেউ টাকা পেতে এত নিচে নামার ব্যাপারে নিন্দা করা হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫৪০.
'ডাক্তার' - শব্দটি কোন লিঙ্গ?
  1. পুং লিঙ্গ
  2. স্ত্রী লিঙ্গ
  3. ক্লীব লিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - উভয় লিঙ্গবাচক শব্দ ।

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো - লিঙ্গ + অ = লিঙ্গ।
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. পুং লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

২. স্ত্রী লিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

৩. ক্লীব লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪১.
'কেউ' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. আত্মবাচক সর্বনাম 
  2. প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  3. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
  4. অন্যবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

• সর্বনাম পদ: 

 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনাম কে ৯ টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা -
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম - ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম - প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম - অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম - যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম - পরষ্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম - দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারষ্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম - ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম - নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৫৪২.
বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।
  2. কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।
  3. লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
  4. কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: লোকটির যেন শিং মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।
• শুদ্ধ: লোকটির যেন কৈ মাছের প্রাণ, এত কষ্টেও মরেনি।

• বাগ্‌ধারার বিকৃতিজনিত অশুদ্ধি:

বাগ্‌ধারা ভাষার সৌন্দর্যবর্ধন, অর্থের স্পষ্টতা এবং ভাবের ব্যঞ্জনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ এ বাগ্‌ধারার অপপ্রয়োগ দেখ যায়, ফলে বাগ্‌ধারার সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি অশুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়।

যেমন:
• অশুদ্ধ: উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই।
• শুদ্ধ: উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

• অশুদ্ধ: কলার পাতে ভাত খাই ঘোলের স্বাদ দুধে মেটাই।
• শুদ্ধ: কলারপাতে ভাত খাই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই।

• অশুদ্ধ: কাঁচা টাকা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।
• শুদ্ধ: কাঁচা পয়সা পাও তো, তাই খরচ করতে অসুবিধা হয় না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৪৩.
সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
  1. কবিতার পংক্তিতে
  2. গালের কলিতে
  3. গল্পের বর্ণনায়
  4. নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা
• উনিশ শতকের শুরুতে সংস্কৃতানুসারী পণ্ডিতদের উদ্যোগ-আয়োজনে যে সাহিত্যিক গদ্য ভাষার উন্মেষ হয়, তাই সাধুভাষা।

সাধুভাষার বৈশিষ্টগুলো হলো-
- সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। যেমন: তাহার, ইহার, কাহাকে, ইহাকে ইত্যাদি।
-  সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, করিতেছিল ইত্যাদি।
- সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চন্দ্র, অভ্যন্তর, অঙ্গ, সৌষ্ঠব, বৃন্ত, চর্ম, কাষ্ঠ, দর্পণ ইত্যাদি।
- সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেমন: কাষ্ঠাহরণে, রাজাজ্ঞা, রাজপুত্রহস্তে ইত্যাদি।
- সাধুভাষায় বাক্যে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ বাক্যে প্রথমে উদ্দেশ্য ও পরে বিধেয় থাকে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে থাকে। যেমন: সম্মুখে এক ক্ষুদ্র প্রান্তর দেখিতে পাইলাম। সর্বশেষে আসিল রাত্রির কৃষ্ণকায় পক্ষী তাহার পক্ষ মেলিয়া।
- সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে। তবে সাধুভাষায় একসময় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত। যেমন: অত্রত্য, অপার্যমানে, নিষণ্ণ।
- সাধুভাষায় অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: জন্য, হইতে, দ্বারা, দিয়া, অপেক্ষা।
- সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
- সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
- সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৪৪.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
  4. আমি সন্তোষ হলাম।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি বংশের মাথায় চুনকালি দিল।
শুদ্ধ বাক্য: ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তোষ হলাম।
শুদ্ধ বাক্য: আমি সন্তুষ্ট হলাম।

অশুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: অধ্যাপনাই ছাত্রদের তপস্যা।
শুদ্ধ বাক্য: অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৪৫.
'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি?
  1. ঙ্‌ + গ
  2. ঙ্‌ + ক
  3. ঞ্‌ + ক
  4. ন্‌ + ক
ব্যাখ্যা

• 'অঙ্কুর' শব্দে যুক্তবর্ণটি 'ঙ্‌ + ক = ঙ্ক' দুটি বর্ণের মিলনে তৈরি।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৫৪৬.
'দৃশ্য' শব্দের উচ্চারণ কীরূপ?
  1. দৃশশো
  2. দৃশ্‌শ
  3. দ্ৰিশ্শাে‌
  4. দ্ৰিশ্‌শ
ব্যাখ্যা
ঋ বর্ণের উচ্চারণ রি-এর মতাে:
- ঋতু [রিতু],
- ঋণ [রিন্],
- কৃষক [ক্রিশক্‌],
- দৃশ্য [দ্ৰিশ্শাে‌]।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
দৃশ্য [দৃশ্‌শো]:
অর্থ - দেখা যায় এমন বিষয় বা বস্তু, নাটকের গর্ভাঙ্ক ইত্যাদি।
৫,৫৪৭.
“এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই।”-  এখানে ‘হাত থাকা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অংশগ্রহণ
  2. প্রভাব
  3. দায়িত্ব
  4. দক্ষতা
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্য শব্দের প্রয়োগভেদে অর্থের পার্থক্য হয়। বাক্য ভেদে 'হাত' শব্দটি বিভিন্ন অর্থ প্রয়োগ করে।
যেমন:

• হাত আসা (দক্ষতা অর্থে)- কাজ করতে করতেই কাজে হাত আসবে।
• হাত গুটান (কার্যে বিরতি অর্থে)-হাত গুটিয়ে বসে আছ কেন?
• হাত করা (আয়ত্তে আনা অর্থে)- সাহেবকে হাত করতে পারলেই কাজ হবে।
• হাত ছাড়া (হস্তচ্যুত অর্থে)- টাকাগুলো হাত ছাড়া করো না।
• হাত থাকা (প্রভাব অর্থে)- এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই।

দ্রষ্টব্য: বান্ধারা গঠনে বিভিন্ন পদের ব্যবহারকে রীতিসিদ্ধ প্রয়োগও বলে।

'হাত' শব্দের রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ-
• হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল): এ টাকা কটিই ছিল আমার হাতের পাঁচ।
• হাতে হাতে (অবিলম্বে): হাতে হাতে এ কাজের ফল পাবেন।
• হাতে খড়ি (বিদ্যারম্ভ): এ মাসেই খোকার হাতে খড়ি হবে।
• হাতে কলমে (স্বহস্তে, কার্যকর ভাবে): হাতে-কলমে শিক্ষা কেতাবি শিক্ষার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৫৪৮.
নিচের কোন বাক্যে ঘটনা অতীতের, কিন্তু ক্রিয়ার কাল ভবিষ্যৎ?
  1. আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম।
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  3. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
  4. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার কাল:
- ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সময়কে ক্রিয়ার কাল বলে।
- ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার: বর্তমান কাল, অতীত কাল ও ভবিষ্যৎ কাল।

ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়ােগ: 
 অনেক সময়ে ক্রিয়াবিভক্তি যে কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলাে ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ। 

সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ)

অন্যদিকে,
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান)
- শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৪৯.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দযুগল কোনটি?
  1. ক) ঊহ্য - ব্যক্ত
  2. খ) থৈ - অথৈ
  3. গ) ধনিক - দরিদ্র
  4. ঘ) তন্ময় - মৃন্ময়
ব্যাখ্যা
কতিপয় বিপরীতার্থক শব্দ:
থৈ - অথৈ 
ঊহ্য - স্পষ্ট  
খরিদ - বিক্রয় 
ত্যাজ্য - গ্রাহ্য 
তন্ময় - মন্ময় 
ধনিক - শ্রমিক 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫০.
‘বজ্জাত’ কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. উপপদ তৎপুরুষ
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. অলুক তৎপুরুষ
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

• পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- বদ থেকে জাত = বজ্জাত।
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া।
- জন্ম হতে অন্ধ = জন্মান্ধ।
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত।
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

তেমনই- স্বর্গভ্রষ্ট, লোকভয়, মেঘমুক্ত, মুখভ্রষ্ট, পদচ্যুত, ধর্মভীরু ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৫১.
'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ কোনটি?
  1. হিমান
  2. হিমাদ্রি
  3. হিমানী
  4. হিমসী
ব্যাখ্যা

• 'হিম' শব্দের বিপরীত লিঙ্গ - হিমানী।

লিঙ্গান্তরের নিয়ম:
- লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ।
- বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি সত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়।
- তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, সত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।

• শব্দের শেষে '-আনি'/ 'আনী' প্রত্যয় যোগ করে লিঙ্গ পরিবর্তন করা হয়:
যেমন:
• মেথর - মেথরানি,
• নাপিত - নাপিতানি,
• হিম - হিমানী,
• শূদ্র - শূদ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫,৫৫২.
'রোগী পথ্য সেবন করে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মকর্তৃবাচ্য
  2. ভাববাচ্য
  3. কর্তৃবাচ্য
  4. কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৫৩.
নিচের কোনটি অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ?
  1. একগুয়ে
  2. কানেখাটো
  3. চিরুনদাতি
  4. কাজলকালো
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুন্ন থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া।
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

----------------------
অন্যদিকে, 
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস: পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকার বহুব্রীহি বলে।
যেমন:
- এক গোঁ যার = একগুঁয়ে,
- লাল পাড় যে শাড়ির = লালপেড়ে।

• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখী।
- চিরুনির মতো দাঁত যার = চিরুনদাঁতি।
[ বাক্যে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লুপ্ত হয়ে বহুব্রীহি সমাস সৃষ্টি হয়েছে।]

• উপমান কর্মধারয় সমাস: যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়।
এগুলোকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫৫৪.
‘বিক্রেতা' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) বি+√ক্রে + তৃ
  2. খ) বি+√ক্রে + তৃচ্‌
  3. গ) বি+ক্রী + তৃচ
  4. ঘ) বি+√ক্রী+তৃ
ব্যাখ্যা
• বিক্রেতা (বিশেষ্যণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = [বি+√ক্রী+তৃ] 
অর্থ: বিক্রয়কারী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৫৫.
বাংলা উপসর্গের মধ্যে কোন চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়?
  1. আ, স, বি, নি
  2. আ, সা, বি, নি
  3. আ, সু, বি, নি
  4. অ, স, বি, নি
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গের মধ্যে চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায় : 

• সেগুলো হলো: 
- আ,
- সু,
- বি,
- নি।
 
• বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে:
১. বাংলা,
২. তৎসম (সংস্কৃত) এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় বহু সংস্কৃত শব্দ হুবহু এসে গেছে।
- সেই সঙ্গে সংস্কৃত উপসর্গও তৎসম শব্দের আগে বসে শব্দের নতুন রূপে অর্থের সংকোচন সম্প্রসারণ করে থাকে।
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ যেমন বাংলা শব্দের আগে বসে, তেমনি তৎসম উপসর্গ তৎসম (সংস্কৃত) শব্দের আগে বসে।
- বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি - এ চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
- বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।

যেমন,
- আকাশ, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। অতএব উপসর্গ আ, সু, বি, নি-ও বাংলা।
- আর আকন্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। কাজেই এসব শব্দের উপসর্গ আ, সু, বি, নি-ও তৎসম উপসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৫৬.
‘জানালা’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. পর্তুগিজ
  3. তুর্কি
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
• ‘জানালা’ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
- আনারস,
- কামরা,
- গির্জা,
- গুদাম,
- চাবি,
- তোয়ালে,
- পাউরুটি,
- পাদ্রি,
- পেয়ারা,
- পেঁপে, 
- বালতি,
- বোতল, 
- বোতাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৫৭.
কোনটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ?
  1. ঘৃষ্
  2. গড়্
  3. বুধ্
  4. ফির্
ব্যাখ্যা
• ‘ফির্’ বিদেশি ধাতুর উদাহরণ।

• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন: চল্‌, পড়্‌, কর্‌ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্, কিন্, গড়্, ধর্, পড়, রাখ্, শুন্, হাস্, বুঝ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্‌, দৃশ্, বুধ্, স্থা, শ্রু, ধৃ, বন্ধ্, ঘৃষ্, ক্রী ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, জম্, ঝুল্, টান্, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, বিগড়, ভিজ্, ঠেল্, ডাক্, লটক্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৫৮.
‘উচ্ছেদ’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) উৎকট
  2. খ) উৎপাটন
  3. গ) কোপন
  4. ঘ) উত্তুঙ্গ
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্ছেদ’ শব্দের সমার্থক শব্দ: বিনাশ, উৎপাটন, উৎখাত, উচ্ছেদন, নির্মূল, মূলোৎপাটন, সমুৎপাটন, সমুৎসাদন, সমুচ্ছেদ, উৎসাদন, স্থানচ্যুতি।

অন্যদিকে,
‘উঁচু’ শব্দের সমার্থক শব্দ: উচ্চ, উত্তুঙ্গ, তুঙ্গ, সমুচ্চ, অত্যুচ্চ, সমুন্নত, সমুচ্চ, প্রোন্নত, আকাশ-ছোঁয়া, গগনচুম্বী, গগনস্পর্শী, আকাশচুম্বী, অভ্রভেদী।
‘উগ্র’ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো: কোপন, প্রচণ্ড, তীব্র, প্রখর, উৎকট, কঠোর, রুক্ষ, রূঢ়, চণ্ড, উচ্চণ্ড, গোঁয়ার , জেদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,৫৫৯.
'উকিল' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. উর্দু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উকিল (বিশেষ্য):
- আরবি শব্দ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
- আইন ব্যবসায়ী,
- ব্যবহারজীবী,
- প্রতিনিধি
- মুসলমান সমাজের বিবাহের অনুষ্ঠানে যে ব্যাক্তি কনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপিত করে।

• আরো কিছু আরবি শব্দ:
- আল্লাহ, হারাম, হালাল, হজ, জাকাত, ঈদ, উকিল, কলম, নগদ, বাকি, আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৬০.
‘মিছিল’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়া
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. ক্রিয়া-বিশেষণ
ব্যাখ্যা
•  ‘মিছিল’ সমষ্টি-বিশেষ্য পদের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৫৬১.
'ত্রিভুজ' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) দ্বন্দ্ব সমাস
  2. খ) দ্বিগু সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
'তিন ভুজের সমাহার= ত্রিভুজ'- দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। 

দ্বিগু সমাস:
 
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন-
তিন মাথার সমাহার = তেমাথা, 
তিন ভুজের সমাহার = ত্রিভুজ, 
সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি, 
পঞ্চ ঋষির সমাহার = পঞ্চর্ষি, 
পঞ্চ বটের সমাহার = পঞ্চবটী। 

[পুরাতন সংস্করণের বইগুলোতে 'দ্বিগু' আলাদা সমাস থাকলেও ২০২১ এর সংস্করণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।]

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,৫৬২.
উপসর্গ বিহীন শব্দ কোনটি?
  1. অচিন
  2. দরপত্তনী
  3. অথৈ
  4. কদর্য
  5. অনিচ্ছা
ব্যাখ্যা
• 'অনিচ্ছা'- উপসর্গ বিহীন শব্দ।
এখানে অনিচ্ছা' স্বতন্ত্র' শব্দ। কোন ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।
এটি সমাস সাধিত শব্দ: অন্‌(নঞ্‌) + ইচ্ছা; (নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস);

অন্য অপশনের,
- অচিন, অথৈ শব্দগুলোতে 'অ' উপসর্গ' আছে।
- 'দরপত্তনী' শব্দটিতে ফারসি 'দর্‌' উপসর্গ রয়েছে। 
- কদর্য শব্দটিতে 'কদ্‌' উপসর্গ আছে।
-------------- 
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর। 
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও অভিগম্য অভিধান।
৫,৫৬৩.
শুদ্ধ বাক্য-
  1. একটা গোপন কথা বলি।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
  3. তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।
  4. বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।
ব্যাখ্যা

 • শুদ্ধ বাক্য: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হয়েছি।

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: একটা গোপন কথা বলি।।
শুদ্ধ বাক্য: একটা গোপনীয় কথা বলি।

অশুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: বিদ্যান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়। 
শুদ্ধ বাক্য:  বিদ্বান মূর্খ অপেক্ষা শ্রেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫৬৪.
'সিংহাসন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
  2. নিত্য সমাস
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারায়
  4. নিমিত্তার্থে চতুর্থী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
- সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা,
- স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ,
- সিংহ চিহ্নিত আসন=সিংহাসন।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

৫,৫৬৫.
যৌগিক শব্দ নয় কোনটি? 
  1. মিতালি
  2. সরোজ
  3. গায়ক
  4. মধুর
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- মিতালি = মিতা + আলি; যার অর্থ সখ্য, বন্ধুত্ব, বন্ধুতা।
- গায়ক (মূল শব্দ)-= গৈ + অক (শব্দ গঠন অর্থ); অর্থ যে গান করে। -
- মধুর = মধু + র; অর্থ মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

অন্যদিকে,
-'সরোজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৬৬.
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত নয় কোনটি?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। 

তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগােষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলােকে দেশি শব্দ বলা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৬৭.
'পূর্ণচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ কোনটি?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• 'পূর্ণচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে থামার পরিমাণ - ১ সেকেন্ড

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৬৮.
জ্ঞানিন্ শব্দের সঠিক প্রকৃতি-পত্যয় কোনটি?
  1. ক) জ্ঞান + ঈন
  2. খ) জ্ঞান + ইন
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইন (ঈ) - প্রত্যয় : সাধারণ বিশেষণ গঠণে
জ্ঞান + ইন্ = জ্ঞানি‌ন্,
সুখ + ইন্‌ = সুখিন্,
গুন + ইন্ = গুণিন্,
মান + ইন্ = মানিন্‌।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

যেহেতু প্রকৃতি-প্রত্যয় ও সন্ধির ক্ষেত্রে হস্‌ - চিহ্ন (্‌) খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তরের অপশনগুলোতে “কোনটিই নয়” রয়েছে।
তাই, উত্তর “খ) জ্ঞান + ইন” হবে না। সঠিক উত্তর - ঘ) কোনটিই নয় হবে।

৫,৫৬৯.
'তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।' - এখানে 'খাওয়া' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বিদেশাগত ধাতু:
  2. প্রযোজক ধাতু
  3. নাম ধাতু
  4. কর্মবাচ্যের ধাতু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কর্মবাচ্যের ধাতু:
- বাক্যে কর্তার চেয়ে কর্মের সাথে যখন ক্রিয়ার সম্পর্ক প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সে ক্রিয়াকে কর্মবাচ্যের ক্রিয়া বলে। কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার মূলকে কর্মবাচ্যের ধাতু বলে। মৌলিক ধাতুর সাথে আ-প্রত্যয়যোগে কর্মবাচ্যের ধাতু গঠিত হয়।

যেমন:
কর্ + আ = করা: আমি তোমাকে অঙ্কটি করতে বলেছি।
হার্ + আ = হারা: বইটি হারিয়ে ফেলেছি।
খা + ওয়া = খাওয়া: তোমার খাওয়া হলে আমাকে বলো।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৫৭০.
কোন বাক্যে সমধাতুজ কর্ম ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে ?
  2. খ) এমন কষ্টের মরণ কেউ কি চায়?
  3. গ) এমন সুখের মরণ কে না চায়?
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্মপদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদটিকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন -
আর কত খেলে খেলবে।
এখানে 'খেল' ধাতু থেকে ক্রিয়াপদ 'খেলবে' এবং কর্মপদ 'খেলা' উভয়ই গঠিত হয়েছে।
তাই 'খেলা' পদটি সমধাতুজ বা ধাত্বর্থক কর্ম।
- সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।
যেমন:
- এমন সুখের মরণ কে মরতে পারে?
- বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি।
- আর মায়াকান্না কেঁদো না গো বাপু।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৭১.
'ঘোড়ায় গাড়ি টানে।' এখানে 'ঘোড়ায়' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মকারকে সপ্তমী
  2. করণ কারকে সপ্তমী
  3. কর্তৃকারকে সপ্তমী
  4. কোনোটীই নয়
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যের যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সাহায্যে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয়, তাকে বলা হয় কর্তৃকারক।
যেমন- শামীম কলেজে যাচ্ছে।
[এ বাক্যের কর্তা হলো বিশেষ্য পদ শামীম। অতএব শামীম হলো কর্তৃকারক।]

কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

• প্রথমা শূন্য বা অ বিভক্তি: খোকন বই পড়ে।
• দ্বিতীয়া বা কে বিভক্তি: মাসুমকে যেতে হবে।
• তৃতীয় বা দ্বারা বিভক্তি: ফেরদৌসি কর্তৃক শাহনামা রচিত হয়েছে।

• ষষ্ঠী বা র বিভক্তি: আমার যাওয়া হয়নি।

• সপ্তমী বা এ, য়, তে বিভক্তি:
- গাঁয়ে মানে না, আপনি মোড়ল।
- বাপে না জিজ্ঞাসে, মায়ে না সম্ভাষে।
- পাগলে কী না বলে, ছাগলে কী না খায়।
- বাঘে-মহিষে খানা একঘাটে খাবেন।

• য়-বিভক্তি: ঘোড়ায় গাড়ি টানে।

•তে-বিভক্তি:
- গরুতে দুধ দেয়।
- বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিবে কীসে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৭২.
‘Mandate’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ কী?
  1. ক) বাধ্যতামূলক
  2. খ) আজ্ঞা
  3. গ) শাসক
  4. ঘ) প্রেষণা
ব্যাখ্যা

‘Mandate’ শব্দের পারিভাষিক অর্থ - আজ্ঞা।
সূত্র: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

৫,৫৭৩.
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয় তাকে বলে-
  1. বহুপদী দ্বন্দ্ব
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. উপমান কর্মধারয়
  4. অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
⇒ উপপদ তৎপুরুষ:
কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়  তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে।
যেমন:
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী;
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- শিরো ধার্য যা = শিরোধার্য;
- বর্ণ চুরি করে যে = বর্ণচোরা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৭৪.
‘আশীর্বাদ’ কোন সন্ধির নিয়ম সাধিত শব্দ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি: বিসর্গের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুই ভাগে বিভক্ত যথা-
 ১. র্-জাত বিসর্গ।
 ২. স্-জাত বিসর্গ।

সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘সৃ’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ সন্ধি হয়।
যেমন:
• র্-জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ, অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
• স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

⇒ বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৭৫.
কোন শব্দটি ইংরেজি ভাষা হতে আগত?
  1. বোতাম
  2. জানালা
  3. পেরেক
  4. জাঁদরেল
ব্যাখ্যা
• "জাঁদরেল" শব্দটি 'ইংরেজি' ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি,
- মহাবীর,
- সেনাপতি।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজ শব্দ - পেরেক, জানালা, বোতাম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৭৬.
ক্রিয়া প্রকৃতির সাথে কোন প্রত্যয় যুক্ত হয়?
  1. স্ত্রী প্রত্যয়
  2. তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. কৃৎ প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়: 
- শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যে নাম প্রকৃতি বা ক্রিয়া প্রকৃতির পরে যে শব্দাংশ যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয় বলে।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন
(১) ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর
(২) ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
যেমন -
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন (বিশেষ্য পদ)।
→ চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি) + অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়) - চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

 • তদ্ধিত প্রত্যয়:
- নাম শব্দ বা নাম প্রকৃতির সাথে যেসব প্রত্যয় যুক্ত সেসব প্রত্যয় কে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
ঢাকা + আই - ঢাকাই, 
সাহিত্য + ইক - সাহিত্যিক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৭৭.
ভুল বানান কোনটি?
  1. অভ্যন্তরীন
  2. আদ্যন্ত
  3. আদ্যিকাল
  4. আদ্যোপান্ত
ব্যাখ্যা
• ভুল বানান - অভ্যন্তরীন।
- শুদ্ধ বানান - অভ্যন্তরীণ। 
- শব্দটি বিশেষণ। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- অর্থ: মধ্যবর্তী, অভ্যন্তরে আছে এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৭৮.
'নৈসর্গিক' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. দিবাকালীন
  2. পারত্রিক
  3. কৃত্রিম
  4. রাজসিক
ব্যাখ্যা

• 'নৈসর্গিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - কৃত্রিম/অনৈসর্গিক।

অন্যদিকে, 
- 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পারত্রিক।
- 'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - রাজসিক। 
- ‘আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫৭৯.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. বুদ্ধিজীবি
  2. প্রজ্জ্বল
  3. অন্তঃজগৎ
  4. গোধূলি
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'গোধূলি'
অর্থ:
১. গোরুর পাল ধূলি উড়িয়ে ঘরে ফেরার সময়, সূর্যাস্তের সময়, সায়ংকাল, সন্ধ্যাকাল।
২. (আল.) শেষজীবন।

অন্যদিকে,
- অন্তঃজগৎ → অন্তর্জগত,
- প্রজ্জ্বল →প্রোজ্জ্বল,
- বুদ্ধিজীবি → বুদ্ধিজীবী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৫৮০.
“মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন” এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনুসর্গ অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'- এখানে 'কিংবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

• সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৫৮১.
হামিদ বলল, “তােমরা আগামীকাল এসাে।”- পরোক্ষ উক্তিতে বাক্যটি কী হবে?
  1. হামিদ তাদের বললো যে তারা যেন পরদিন আসে।
  2. হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।
  3. হামিদ বলল যে তোমরা পরদিন এসো।
  4. হামিদ তাদের বলল যে তারা যেন আগামীকাল আসে।
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নবােধক, অনুজ্ঞাসূচক ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে হলে প্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
যেমন:
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
প্রত্যক্ষ উক্তি: হামিদ বলল, “তােমরা আগামীকাল এসাে।”
পরােক্ষ উক্তি: হামিদ তাদের পরদিন আসতে বলল।

 প্রত্যক্ষ উক্তি : তিনি বললেন, “দয়া করে ভেতরে আসুন।”
 পরোক্ষ উক্তি: তিনি আমাকে ভেতরে যেতে অনুরোধ করলেন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৮২.
'পাতিহাঁস' শব্দটিতে 'পাতি' উপসর্গটি কী অর্থ বোঝায়?
  1. বিপরীত
  2. ক্ষুদ্র
  3. বিপ্সা
  4. বৃহৎ
ব্যাখ্যা

- পাতি একটি বাংলা উপসর্গ।
- এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- যেমনঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতিকুয়ো ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৩.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) বিজয়িনী
  2. খ) যোগিনী
  3. গ) বুদ্ধিমতী
  4. ঘ) তেজস্বিনী
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধিমতী'- 'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ নয়।
'বুদ্ধিমতী'- 'মতী; প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ।  

'ইনী' প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ
যেমন:
বিজয়- বিজয়িনী
যোগী- যোগিনী 
তেজস্বী- তেজস্বিনী 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫,৫৮৪.
“সমৃদ্ধ” বা “সম্পদশালী” - এর স্থলে “সমৃদ্ধশালী” ব্যবহার করা হলে কোন ধরনের ভুল সংগঠিত হয়?
  1. ক) প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি
  2. খ) বানানজনিত অশুদ্ধি
  3. গ) সন্ধিজনিত অশুদ্ধি
  4. ঘ) নির্দেশক জনিত অশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
“সমৃদ্ধ” বা “সম্পদশালী” - এর স্থলে “সমৃদ্ধশালী” ব্যবহার করা হলে এক্ষেত্রে সাধারণ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ সংগঠিত হয়।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৫,৫৮৫.
ত - বর্গীয় ধ্বনিকে কী বলে?
  1. মূর্ধন্য ধ্বনি
  2. কণ্ঠ ধ্বনি
  3. দন্ত ধ্বনি
  4. তালব্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৮৬.
'শিষ্য' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শিষয়ী
  2. শিষ্যানি
  3. শিষ্যা
  4. শিষ্যাণী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-আ' প্রত্যয়যোগ গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
যেমন:
→ প্রিয়-প্রিয়া,
→ প্রবীণ-প্রবীণা,
→ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা,
→ মাননীয়-মাননীয়া,
শিষ্য-শিষ্যা,
→ সরল-সরলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫,৫৮৭.
'তীক্ষ্ণ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণের সংযোগ ঘটেছে?
  1. ক) ক্‌ + ষ
  2. খ) ক্‌ + ষ্‌ + ন
  3. গ) ক্‌ + ষ্‌ + ণ
  4. ঘ) ক্‌ + ষ্‌ + ম
ব্যাখ্যা
তীক্ষ্ণ শব্দে ক্ষ্ণ = ক্‌ + ষ্‌ + ণ
লক্ষ্মণ, লক্ষ্মী শব্দে ক্ষ্ম = ক্‌ + ষ্‌ + ম 
বক্ষ, ক্ষুদ্র, লক্ষ শব্দে ক্ষ = ক্‌ + ষ

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৮৮.
‘অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য অসত্য ভাষণ’ এক কথায় বলে-
  1. বচসা
  2. উপচার
  3. আপ্তবাক্য
  4. বক্ষ্যমাণ
ব্যাখ্যা
• ‘অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য অসত্য ভাষণ’ এক কথায় প্রকাশ - উপচার।

অন্যদিকে,
• ‘ভুলহীন ঋষি বাক্য’ এক বথায় বলে - আপ্তবাক্য।
• ‘বাক্যের দ্বারা কৃতকলহ’ এক বথায় বলে - বচসা।
• ‘বলা হতে যাচ্ছে বা হবে’ এক বথায় বলে - বক্ষ্যমাণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৯.
'পদ্ম > পদ্দ' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  4. প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।

যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৯০.
সুষুপ্তি:নিদ্রা :: ময়ূখ: ?
  1. ক) পদ্ম
  2. খ) দীপ্তি
  3. গ) মেঘ
  4. ঘ) সূর্য
ব্যাখ্যা
'সুষুপ্তি' = 'নিদ্রা' এর প্রতিশব্দ।
'ময়ূখ' = 'দীপ্তি' এর প্রতিশব্দ।

'দীপ্তি' এর অন্যান্য প্রতিশব্দ = আলোক, দ্যুতি, প্রভা, তেজ, শোভা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৯১.
নিচের কোন প্রকৃতি- প্রত্যয়টি ভুল?
  1. বন্ধু+ তা = বন্ধুতা
  2. বন্ধু+ত্ব = বন্ধুত্ব
  3. শত্রু+তা = শত্রুতা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সবগুলোই সঠিক তাই উত্তর হবে কোনোটিই নয়।

• তা ও ত্ব-প্রত্যয়: বিশেষ্য গঠনে
- বন্ধু+ তা =বন্ধুতা, শত্রু+তা = শত্রুতা।
- বন্ধু+ত্ব = বন্ধুত্ব, গুরু+ত্ব = গুরুত্ব।
- ঘন+ত্ব = ঘনত্ব, মহৎ+ত্ব = মহত্ত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৫৯২.
'ন, র, ল, স' প্রভৃতি কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ক) মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. খ) দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. গ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তাছাড়া-

প, ফ, ব, ভ, ম = ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।
ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় = মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনি
ত, থ, দ, ধ দন্ত্য = দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫,৫৯৩.
"প্রত্যয় ও সমাস" ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. শব্দতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে 
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, ভাষার ক্ষুদ্রতম অর্থপূর্ণ একককে বলা হয় রূপমূল (morpheme)। রূপমূল গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।

• ব্যাকরণের এ অংশে শব্দ ও পদের ব্যুৎপত্তি-গঠন নিয়ে আলোচনা করা হয়।
যেমন-  
- বচন,
- লিঙ্গ,
- উপসর্গ,
- প্রত্যয়,
- বিভক্তি,
- সমাস,
- ধাতুরূপ,
- কাল (সময়) ইত্যাদি বিষয় এ অংশে আলোচিত হয়।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৯৪.
নিচের কোন ভাষা বাংলা লিপিতে লেখা হয়?
  1. নেপালি
  2. অহমিয়া
  3. ভোজপুরি
  4. তিব্বতি
  5. তামিল
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৯৫.
'কংক্রিট' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ইংরেজি
  2. ল্যাটিন
  3. তুর্কি
  4. ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা
• কংক্রিট (বিশেষ্য পদ),
- ল্যাটিন ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
নির্দিষ্ট অনুপাতে সিমেন্ট বালি পাথরকুচি ও জলের সংমিশ্রণে তৈরি ঢালাই যা শুকানোর পর শক্ত হয়ে যায়I

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৯৬.
স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্বেষণ
  2. দুর্যোগ
  3. ষড়ানন
  4. সুবন্ত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির উদাহরণ - অন্বেষণ (অনু + এষণ)।

অন্যদিকে,
• বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ - দুর্যোগ (দুঃ + যোগ)।
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ - ষড়ানন (ষট্‌ + আনন), সুবন্ত (সুপ্‌ + অন্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৯৭.
'তেহাই' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তারিখ পূরণবাচক
  2. ভগ্নাংশ পূরণবাচক
  3. সাধারণ পূরণবাচক
  4. ক্রমবাচক সংখ্যাশব্দ
ব্যাখ্যা
পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
১. সাধারণ পূরণবাচক
২. তারিখ পূরণবাচক
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: 
কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন:
আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
• তৃতীয়, তৃতীয়া = সাধারণ পূরণবাচক।
• তেসরা = তারিখ পূরণবাচক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৯৮.
'রচনা' শব্দের বহুবচনে কোন লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
  1. বলী
  2. সব
  3. আবলি
  4. নিচয়
ব্যাখ্যা
• বচন:
একের বেশি সংখ্যা বোঝাতে যেসব লগ্নক বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে বচন বলে। যেসব শব্দের সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় না, সেগুলোকে একবচন শব্দ এবং যেগুলোর সঙ্গে বহুবচন লগ্নক যুক্ত হয় সেগুলোকে বহুবচন শব্দ বলা হয়।

• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা' ইত্যাদি লগ্নক যােগ করতে হয়।
যেমন:
সব - ভাইসব, পাখিসব।
সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ।
আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি।
মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।

অন্যদিকে,
• ‘নিচয়’ লগ্নকটি উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন: পুষ্পনিচয়, বুধনিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৯৯.
'দর' ও 'দড়' শব্দজোড়ের অর্থ কী?
  1. মূল্য - প্রহরী
  2. মূল্য - প্রধান
  3. মূল্য - মজবুত
  4. মূল্য - স্ত্রী
ব্যাখ্যা
'দর' শব্দের অর্থ - মূল্য। 
'দড়' শব্দের অর্থ- কঠিন, মজবুত। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো:
দার - স্ত্রী।  
দাঁড় - নৌকার বৈঠা। 

দ্বারী - প্রহরী। 
দাঁড়ি - যতিচিহ্ন। 
দাড়ি - শ্মশ্রু।  

ধর - ধারণকারী। 
ধড় - দেহ। 

ধরা - স্পর্শ করা, পৃথিবী। 
ধড়া - কটিবস্ত্র। 

ধারী - ধারণকারী। 
ধাড়ি - প্রধান, সর্দার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৬০০.
কোনটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়?
  1. আরী
  2. তব্য
  3. অট
  4. সই
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
১. ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি-বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি-দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ-মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ-দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।
২. ওয়ান>আন (হিন্দি): গাড়ি-গাড়োয়ান, দার-দারোয়ান।
৩. আনা>আনি (হিন্দি): মুনশি-মুনশিয়ানা, বিবি-বিবিআনা, হিন্দু-হিন্দুয়ানি।
8. সা (হিন্দি): পানি-পানসা> পানসে, এক-একসা, কাল (কাল)-কালসা>কালসে।
৫. গর> কর (ফারসি) কারিগর, বাজিকর, সওদাগর।
৬. দার (ফারসি): তাঁবেদার, খবরদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার।
৭. বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি) কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ, গলাবাজ-ই-গলাবাজি (বিশেষ্য)।
৮. বন্দি (কদ্-ফারসি): জবানবন্দি, সারিবন্দি, নজরবন্দি, কোমরবন্দ।
৯. সই: মতো অর্থে: জুতসই, মানানসই, চলনসই, টেকসই।
১০. পনা: মতো অর্থে গিন্নীপনা, বেহায়াপনা।

অন্যদিকে, 
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়-
 অট>ট-প্রত্যয়: স্বার্থে : ভরা-ভরাট, জমা-জমাট।
• আরি/আরী/আরু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।

• সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়- তব্য: √কৃ+তব্য-কর্তব্য, দা+তব্য-দাতব্য, পট্+তব্য=পঠিতব্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।