বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৫১ / ৩৫৪ · ৫,০০১৫,১০০ / ৩৫,৭১৩

৫,০০১.
কোনো কিছু দেখে শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে কী বলে?
  1. ক) বিবৃতিবাচক
  2. খ) প্রশ্নবাচক
  3. গ) অনুজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) আবেগবাচক
ব্যাখ্যা
বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি
ভাগে ভাগ করা যায়। 

আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন -
দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০০২.
'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ-
  1. বিরক্ত
  2. বিনীত
  3. বিরত
  4. নরম
ব্যাখ্যা
• 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিরত।

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীত শব্দ-
উদ্ধত - বিনীত।
শক্ত - নরম। 
বিরক্ত - অনুরক্ত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০০৩.
নিচের কোন বাক্যে 'আনাড়ি' অর্থে 'কাঁচা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স। 
  2. কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।
  3. গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।
  4.  এমন কাঁচা লোক দিয়ে সব কাজ চলে না।
ব্যাখ্যা

• এমন কাঁচা লোক দিয়ে সব কাজ চলে না। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি 'আনাড়ি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স। - এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিণত বয়স বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
• কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি অপরিপক্ক আম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
• গহনাটি একেবারেই কাঁচা সোনা দিয়ে তৈরি।- এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি খাঁটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন (২য় খণ্ড)।

৫,০০৪.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাস?
  1. রাজপুত্র
  2. গরুরগাড়ি
  3. খেয়াঘাট
  4. চাবাগান
ব্যাখ্যা

• তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।

যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা,
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
- খেলার মাঠ = খেলারমাঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট,
- ক্রোড়ের পত্র = ক্রোড়পত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০০৫.
'পাগলামি' অর্থে ব্যবহৃত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) ঊনপাঁজরে
  2. খ) ঊর্মিমালী
  3. গ) ঊনপঞ্চাশ বায়ু
  4. ঘ) ঊনকোটি চৌষট্টি
ব্যাখ্যা
'ঊনপঞ্চাশ বায়ু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = 'পাগলামি' 

অন্যদিকে
'ঊনপাঁজরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = অপদার্থ
'ঊর্মিমালী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = সমুদ্র 
'ঊনকোটি চৌষট্টি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ = প্রায় সম্পূর্ণ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০০৬.
'বিতংস' শব্দের অর্থ কী?
  1. অশ্বারোহী
  2. পশুপাখি ধরার ফাঁদ
  3. সাপের খোলস
  4. ব্যাঙের ডাক
ব্যাখ্যা

• 'বিতংস' শব্দের অর্থ - পশুপাখি ধরার জাল বা ফাঁদ

অন্যদিকে,
'সাদি' শব্দের অর্থ - অশ্বারোহী, গজারোহী,  রথারোহী, আরোহী।
'নির্মোক' শব্দের অর্থ - সাপের খোলস।
'মকমক' শব্দের অর্থ - ব্যাঙের ডাক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৫,০০৭.
'বিমুগ্ধ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বি + মুগ্ধ
  2. বিঃ + মুগ্ধ
  3. বিমুহ্ + ত
  4. বিমুগ + ত
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০০৮.
কোন কারকে 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়?
  1. অধিকরণ কারক
  2. অপাদান কারক
  3. কর্ম কারক
  4. করণ কারক
ব্যাখ্যা
কারক:
- ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের বিশেষ্য ও সর্বনামের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে।
- কারক সম্পর্ক বোঝাতে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে সাধারণত বিভক্তি ও অনুসর্গ যুক্ত হয়ে থাকে।

• কারক ছয় প্রকার। যথা:
১. কর্তা কারক,
২. কর্ম কারক,
৩. করণ কারক,
৪. অপাদান কারক,
৫.অধিকরণ কারক ও
৬. সম্বন্ধ কারক।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা’, 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়
যেমন -
ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
চাষিরা ধারালাে কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০০৯.
'রূপার চেয়ে সোনার দাম বেশি।' নিম্নরেখ শব্দটি যে কারকের দুষ্টান্ত-
  1. ক) কর্ম
  2. খ) কর্তৃ
  3. গ) করণ
  4. ঘ) অধিকরণ
ব্যাখ্যা
যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে৷
ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷
প্রশ্নোক্ত বাক্যে কর্তা না থাকলেও 'কী' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'সোনা'।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০১০.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। 
  2. এক মাঘে শীত যায় না। 
  3. বিরাট গরু ছাগলের হাট।  
  4. এখানে হাতের সুন্দর লেখা শেখানো হয়। 
ব্যাখ্যা

উপমার ভুল প্রয়োগ: 
- উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটে যখন তুলনা অপ্রাসঙ্গিক, বেমানান বা অযৌক্তিক হয়।
- উপমার ভুল প্রয়োগ বাক্যের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে।
- উপমার ভুল প্রয়োগে অর্থ বোঝায় অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো। বাক্যটি সঠিক নয় (উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে)। কেননা বীজ বপন করা হয় খেতে, মন্দিরে নয়।
সঠিক বাক্যটি হবে আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হলো।

অন্যদিকে, 

• “এখানে হাতের সুন্দর লেখা শেখানো হয়" এই বাক্যে পদক্রম ঠিক নেই। 
- কারণ, হাতের সুন্দর লেখা বলে কিছু হয়না, কিন্তু সুন্দর হাতের লেখা হতে পারে। এখানে ‘সুন্দর’ শব্দটি হাতের লেখার গুণমান বা বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, এটি কোনো বস্তু বা নাম নয়, বরং একটি বিশেষণ, যা লেখার রূপ বা মানের বর্ণনা দিচ্ছে।
সঠিক প্রয়োগ হবে যখন বলা হবে- 'এখানে সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হয়'।

• বিরাট গরু ছাগলের হাট-
এখানে, "বিরাট" শব্দটি "হাট" কে বিশেষিত করছে, "গরু-ছাগল" কে নয়। অর্থাৎ, শিরোনামটির প্রকৃত অর্থ হলো— "বিরাট (বৃহৎ) গরু-ছাগলের হাট"। গঠনগতভাবে, "গরু-ছাগলের" একটি সম্বন্ধ পদ যা হাটের ধরন বোঝাচ্ছে (গরু-ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট হাট)।
সঠিক পদক্রম: বিরাট (বিশেষণ) + গরু-ছাগলের (সম্বন্ধ পদ) + হাট (বিশেষ্য)।

• বাগ্‌ধারার প্রয়োগে শুদ্ধবাক্য: 
- এক মাঘে শীত যায়না।
- এই বাগ্‌ধারাটির অর্থ হচ্ছে- বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সব সময় এক রকম থাকেনা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,০১১.
'বচন' ব্যাকরণের কোন পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'বচন':
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

• একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৫,০১২.
কোন বাক্যে 'মাথা' শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. মাথা খাটিয়ে কাজ করবে
  2. তিনিই সমাজের মাথা
  3. মাথা নেই তার মাথা ব্যথা
  4. লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল
ব্যাখ্যা
• 'মাথা খাটিয়ে কাজ কর' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি বুদ্ধি অর্থে ব্যবহৃত।

অন্যদিকে,
• 'তিনিই সমাজের মাথা' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি প্রধান ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত।
• 'লজ্জায় আমার মাথা কাটা গেল' বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি সম্মান অর্থে ব্যবহৃত।
• 'মাথা নেই তার মাথা ব্যাথা' বাক্যে উভয় ‘মাথা’ই মাথা অর্থে ব্যবহৃত।

উৎস: অভিগম্য অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০১৩.
"তৎকাল" এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তৎ্‌ + কাল
  2. তত্‌ + কাল
  3. তদ্‌ + কাল
  4. ততঃ + কাল
ব্যাখ্যা
• 'তৎকাল' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তদ্‌ + কাল।

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়মানুসারে,
দ্ ও ধ্‌ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, থ, ফ থাকলে দ্ ও ধ্‌ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়।
যেমন -
- দ্‌ > ত্ ⇒ তদ্‌ + কাল = তৎকাল।
- ধ্‌ > ত্ ⇒ ক্ষুধ্‌ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা।

এরূপ - হৃৎকম্প, তৎপর, তত্ত্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০১৪.
একখানি রৌদ্রপীত হিরণ্য-অঞ্চল। এখানে "হিরণ্য" শব্দের অর্থ কী?
  1. সূর্য
  2. হীরা
  3. স্বর্ণ
  4. রৌপ্য
ব্যাখ্যা
• একখানি রৌদ্রপীত হিরণ্য-অঞ্চল। এখানে "হিরণ্য" শব্দের অর্থ'স্বর্ণ'।

• "হিরণ্য" শব্দের আরো কয়েকটি প্রতিশব্দ:

- সুবর্ণ
- স্বর্ণ,
- সোনা,
- ধন,
- কড়ি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,০১৫.
'নাবালক' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) উপপদ তৎপুরুষ
  2. খ) নঞ্‌ তৎপুরুষ
  3. গ) অলুক তৎপুরুষ
  4. ঘ) ষষ্ঠী তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
নঞ্‌ তৎপুরুষ: 
না বাচক নঞ্‌ অব্যয় (না, নেই, নাই, নয়) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে নঞ্‌ তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- যথা ন আচার = অনাচার
         ন কাতর = অকাতর 
- অনুরূপ, অনাদর, নাতিদীর্ঘ, নাতিখর্ব, বেতাল, অভাব ইত্যাদি। 
- খাঁটি বাংলায় অ, আ, না ইত্যাদি অনা হয়। 
যেমন- ন কাল = অকাল। তদ্রুপ - আধোয়া, নামঞ্জুর, অকেজো, অজানা, অচেনা, আলুনি, নাছোড়, অনাবাদী, নাবালক ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,০১৬.
কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ?
  1. ক) মনমাঝি
  2. খ) উপনদী
  3. গ) নরপশু
  4. ঘ) গ্রামান্তর
ব্যাখ্যা
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ বা সমাস নিকল্পপদ।

• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর।
অর্থাৎ, নিত্য সমাসের সমস্ত পদ হলো “গ্রামান্তর”।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ (কোনাে নিয়মের অধীনে নয়) বহুব্রীহি সমাস:
- নরাকারের পশু যে = নরপশু।

• রূপক কর্মধারয় সমাস:
- মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

• অব্যয়ীভাব সমাস:
সামীপ্য (উপ) :কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।
- ক্ষুদ্র অর্থে (উপ) : উপগ্রহ, উপনদী, উপজেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।
৫,০১৭.
নিচের কোনটি 'অলুক তৎপুরুষ' সমাস?
  1. মামাবাড়ি
  2. গাছপাকা
  3. ছেলে-ভুলানো
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস 
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
- যেমন: 
• ছেলেকে ভুলানো = ছেলে-ভুলানো; 
• মামার বাড়ি = মামাবাড়ি;
• ধানের খেত = ধানখেত;
• গাছে পাকা = গাছপাকা; 
• রথকে চালন = রথচালন। 
• বিয়েপাগলা, গ্রামছাড়া, আগাগোড়া, রাজপথ, দুঃখপ্রাপ্ত, অকালমৃত্যু ইত্যাদি। 

♣ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন - 
• গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি; 
• তেলে ভাজা = তেলেভাজা;  
• ঘিয়েভাজা, ঘোড়ার-ডিম, চোখের বালি, গানের-আসর, সোনার-বাংলা ইত্যাদি।    

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০১৮.
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে কোনটি পদের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন নাম হয় পদ।

প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে বাংলা ভাষার শব্দগুলিকে পাঁচটি শব্দশ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
এগুলো হলো: 
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
৫. অব্যয় 

তবে, আধুনিক প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে পদ ৮ প্রকার:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক
৮. আবেগ।

প্রচলিত ব্যাকরণের অব্যয় কথাটিকে এই ব্যাকরণে গ্রহণ করা হয় নি, তার কারণ হল,  শব্দ শ্রেণি হিসাবে অব্যয় কারক-বিভক্তি-বহুল সংস্কৃত ব্যাকরণের ধারণা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

৫,০১৯.
‘কানু ছাড়া গীত নাই’ বাগধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. একমাত্র অবলম্বন
  2. হতভাগ্য
  3. অত্যন্ত একগুঁয়ে
  4. অনভিজ্ঞ
ব্যাখ্যা

• ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ বাগধারার অর্থ - একমাত্র অবলম্বন।
উদাহরণ: এই শর্মাকে সব কাজে ডাকতেই হবে। জানই তো, কানু ছাড়া গীত নাই।

অন্যদিকে,
‘কাঁজি ভক্ষণ নামে গোয়ালা’ বাগধারার অর্থ - হতভাগ্য।
‘কাট-গোঁয়ার’ বাগধারার অর্থ - অত্যন্ত একগুঁয়ে।
‘কেবলা হাকিম’ বাগধারার অর্থ - অনভিজ্ঞ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,০২০.
কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. মাতাপিতা
  2. তেলেভাজা
  3. নাজানা
  4. সাহিত্যসভা
ব্যাখ্যা

তৎপুরুষ সমাস:
- সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

অলুক তৎপুরুষ:
 কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।

অন্যদিকে:
- 'সাহিত্যসভা' মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।
- 'মাতাপিতা' সমার্থক দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'নাজানা' নঞ বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)।

৫,০২১.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কণ্টকিত
  2. পাগলামি
  3. চোরাই
  4. গিন্নীপনা
ব্যাখ্যা

 সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- বাত + উয়া = বাতুয়া;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,০২২.
উইলিয়াম কেরি কত সালে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ১৭৮৮ সালে
  2. ১৮৬৬ সালে
  3. ১৮৩৩ সালে
  4. ১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।
- এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫,০২৩.
কোনটি নিত্য মূর্ধন্য-ষ বাচক শব্দ?
  1. ক) পরিষ্কার
  2. খ) তৃষ্ণা
  3. গ) কষ্ট
  4. ঘ) বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান
৫,০২৪.
প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয়-
  1. উপমিত
  2. উপমান
  3. রূপক
  4. উপমেয়
ব্যাখ্যা

• উপমান অর্থ তুলনীয় বস্তু।
• প্রত্যক্ষ কোনো বস্তুর সাথে পরোক্ষ কোনো বস্তুর তুলনা করলে প্রত্যক্ষ বস্তুটিকে বলা হয় উপমেয়।
• আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে তাকে বলা হয় উপমান।
• উপমান এবং উপমেয়ের একটি সাধারণ ধর্ম থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫,০২৫.
কোন শব্দটি উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. নৌবহর
  2. গৃহস্থ
  3. ধানখেত
  4. পুষ্পসৌরভ
ব্যাখ্যা

উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- কল্পনায় বিলাস করে যে = কল্পনাবিলাসী,
- গৃহে থাকে যে = গৃহস্থ,
- গায়ে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

অন্যদিকে,
ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস - ধানের খেত = ধানখেত, নৌয়ের বহর = নৌবহর, পুষ্পের সৌরভ = পুষ্পসৌরভ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,০২৬.
‘চারি > চার’ কিসের উদাহরণ?
  1. ক) স্বরলােপ
  2. খ) স্বরাগম
  3. গ) সম্প্রকর্ষ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ :
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনাে স্বরধ্বনির সােপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন– বসতি > বস্‌তি, জানালা > জানলা ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলােপ (Aphesis) : যেমন— অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার » উধার » ধার।
খ. মধ্যস্বর শােপ (Syncope) : অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ » স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লােপ (Apocope) : আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা) , সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। ( স্বরলােপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৫,০২৭.
নিম্নের কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. ক) দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়
  2. খ) শুধুমাত্র তুমি গেলেই হবে 
  3. গ) একের লাঠি দশের বোঝা
  4. ঘ) আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম
ব্যাখ্যা
** অশুদ্ধ - শুদ্ধ 
• তার উদ্ধতপূর্ণ আচরণে ব্যথিত হয়েছি - তার উদ্ধত (বা ঔদ্ধতপূর্ণ) আচরণে ব্যথিত হয়েছি 
• দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়। - দীনতা প্রশংসনীয় নয়।
• তোমার তথ্য গ্রাহ্যযোগ্য নয়। - তোমার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
• শুধুমাত্র তুমি গেলেই হবে। - শুধু তুমি গেলেই হবে।
• আমি সাক্ষী দিব না। - আমি সাক্ষ্য দিব না।
• একের লাঠি দিশের বোঝা। - দশের লাঠি একের বোঝা।
• আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞতা রইলাম। - আমি তোমার নিকট কৃতজ্ঞ রইলাম।
• আমি ও আমার মামা ঢাকা গিয়েছিলাম। - আমার মামা ও আমি ঢাকা গিয়েছিলাম।


উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০২৮.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. চঞ্চলতা
  2. গম্ভীরতা
  3. স্বতঃপ্রণোদিত
  4. গাম্ভীর্যতা
ব্যাখ্যা

• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।

অন্যদিকে,
শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: চঞ্চলতা; গম্ভীরতা; স্বতঃপ্রণোদিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০২৯.
সন্ধি সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. সন্ধির ফলে উচ্চারণে সহজতা আসে
  2. সন্ধি নতুন শব্দ তৈরি করে
  3. খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায়
  4. সন্ধির মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়
ব্যাখ্যা
- 'সন্ধি' শব্দের অর্থ মিলন।

• সন্ধির কতিপয় উদ্দেশ্য:
- সন্ধি মাধ্যমে ধ্বনির মিলন হয়।
- নতুন শব্দ তৈরি করা হয়।
- উচ্চারণে সহজতা আসে।

• সন্ধির ক্ষেত্রে বর্জনীয়:
- বাংলা ক্রিয়াপদের সাথে সন্ধি করা যায় না।
- খাঁটি বাংলা শব্দের সাথে বিসর্গ সন্ধি করা যায় না।

উৎস- ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৩০.
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল নয় কোনটি?
  1. ক) দুষ্কর - সুকর
  2. খ) তির্যক - ঋজু
  3. গ) দমন - প্রশ্রয়
  4. ঘ) তন্ময় - মৃন্ময়
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীতার্থক শব্দ যুগল = তন্ময় - মন্ময়

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ- 
তেজি - মন্দা 
তামসিক - রাজসিক 
তোয়াজ - তাচ্ছিল্য 
জ্বলন্র - নিভন্ত 
ঝানু - আনাড়ি 
জিন্দাবাদ - মুর্দাবাদ 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৩১.
‘যা উচ্চারণ করা কঠিন’ এর এককথায় প্রকাশ কী?
  1. অনুভূয়মান
  2. অনুচ্চার্য
  3. দুরুচ্চার্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘যা উচ্চারণ করা কঠিন’ এর এককথায় প্রকাশ - দুরুচ্চার্য।

অন্যদিকে,
- ‘যা উচ্চারণ করা যায় না’ এর এককথায় প্রকাশ - অনুচ্চার্য।
- ‘যা অনুভব করা হচ্ছে’ এর এককথায় প্রকাশ - অনুভূয়মান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৩২.
“তার চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'- কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
“তার চুল পেকেছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি'- যৌগিক বাক্যের উদাহরণ। 

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু,অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
- যেমন: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

সরল বাক্য: 
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন - পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

জটিল বাক্য: 
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২২।
৫,০৩৩.
ত - বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০৩৪.
'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. ক্ষিতিধর
  2. অবনি
  3. পৃথ্বীধর
  4. শৈল
ব্যাখ্যা

'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- ধরা, ধরণি, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা, ভূ, ভূমণ্ডল, অবনি, ক্ষিতি, মহী, বসুমতী, মেদিনী, জগৎ, মর্ত্যলোক, ব্রহ্মাণ্ড, বিশ্ব, অখিল, ভুবন, ভূমি, পৃথ্বী, দুনিয়া, ভুবন, ভূলোক, উর্বী।

অন্যদিকে,
'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গিরি, শৈল, পাহাড়, ভূধর, নগ, অচল, শৃঙ্গধর, অগ, ক্ষিতিধর, পৃথ্বীধর

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৩৫.
'ছক্কাপাঞ্জা করা' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. গুরুভার
  2. বড়ো বড়ো কথা বলা
  3. জমকালো কিন্তু বেমানান
  4. সামান্য ব্যক্তি
ব্যাখ্যা

• 'ছক্কাপাঞ্জা করা' বাগ্‌ধারার অর্থ - বড়ো বড়ো কথা বলা

অন্যদিকে,
জগদ্দল পাথর - গুরুভার।
জবরজং - জমকালো কিন্তু বেমানান।
চুনোপুটি - সামান্য ব্যক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৩৬.
'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সকর্মক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মপদটি মুখ্য বা প্রধান কর্ম এবং ব্যক্তিবাচক কর্ম পদটিকে গৌণ কর্ম পদ বলে।
যেমন- 'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন'। এখানে 'কলম' (বস্তু) মুখ্য বা প্রধান কর্ম আর 'আমাকে' (ব্যক্তি) গৌণ কর্ম পদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৩৭.
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় -
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের  আলােচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত। যথা:

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব: ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়  ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব: রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায়  বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।
 
⇒ বাক্যতত্ত্ব: বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।  বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

⇒ অর্থতত্ত্ব: ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৫,০৩৮.
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি। - এখানে 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৩৯.
নিচের কোনটিতে নামক্রিয়া আছে?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
  2. খ) তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
  3. গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
  4. ঘ) মাথা ঝিমঝিম করছে। 
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫,০৪০.
যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. বাক্যকে অলংকৃত করার জন্য
  2. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্য
  3. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য
  4. বাক্য সংকোচনের জন্য
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয়।
- লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য,
- বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে,
- বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য,
- যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরাম- চিহ্ন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৪১.
'সম্প্রীতি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সমো + প্রীতি
  2. সমঃ + প্রীতি
  3. সম্ + প্রীতি
  4. সম্ + প্রতি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধির সূত্র: ম্‌ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন:
সম্ + ধি = সন্ধি,
সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ,
সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস,
সম্ + প্রীতি = সম্প্রীতি ইত্যাদি।

এরূপ- কিম্ভুত, সন্দর্শন, কিন্নর, সম্মান, সন্ধান, সন্ন্যাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,০৪২.
ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে বলা হয় -
  1. বিবর্তিত ভাষা
  2. উপভাষা
  3. ভাষা লিপি
  4. শাখাভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষা: 
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। 
- যেমন ‘ছেলে’ শব্দটিকে বিভিন্ন উপভাষায় যেভাবে উচ্চারণ করা হয় তা হলো এরূপ: 
ছাওয়াল (খুলনা, যশোর), ব্যাটা ছৈল (বগুড়া), পোলা (ঢাকা, ফরিদপুর), পুত (ময়মনসিংহ), পুয়া (সিলেট), পুতো (মণিপুর), পোয়া (চট্টগ্রাম, চাকমা) এবং হুত (নোয়াখালী)।
- ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে বলা হয় উপভাষা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৩.
'হাতঘড়ি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• 'হাতঘড়ি'- কর্মধারয় সমাস এর উদাহরণ।
- এটি মধ্যপদলােপী কর্মধারয়।

মধ্যপদলােপী কর্মধারয়:
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লােপ হয়, তাকে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
'হাতে পরা হয় যে ঘড়ি'- 'হাতঘড়ি'। 
ঘি মাখানো ভাত- ঘিভাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫,০৪৪.
'দোজবরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. সুখে থাকা
  2. দুই স্বামী থাকা
  3. দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চায় যে ছেলে
  4. আয়ুশেষ
ব্যাখ্যা
• 'দোজবরে' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে চায় যে ছেলে।

অন্যদিকে,
- দুধে ভাতে থাকা মানে - সুখে থাকা।
- দিন ফুরানো মানে - আয়ুশেষ।

গুরুত্বপুর্ণ কয়েকটি বাগ্‌ধারা:
- 'দক্ষযজ্ঞ' অর্থ -ব্যাপক আয়োজন,
- 'ধর্মের ষাড়' অর্থ - যথেচ্ছাকারী,
- 'পঞ্চত্ব প্রাপ্ত' অর্থ - মারা যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।।
৫,০৪৫.
কোন ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে?
  1. ক) দন্ত্য ব্যঞ্জন
  2. খ) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. গ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দণ্ড্য ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,০৪৬.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. বঙ্গ-কামরুপি
  2. গৌড়ি অপভ্রংশ
  3. গৌড়ি প্রাকৃত
  4. মাগধী অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৫,০৪৭.
'অন্তরিন্দ্রিয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. অন্তরঙ্গ
  2. অন্তর্জগৎ
  3. অন্তর্বাস
  4. বাহ্যিক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অন্তরিন্দ্রিয়' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বাহ্যিক

অন্যদিকে,
অন্তরঙ্গ - বহিরঙ্গ।
অন্তর্বাস - বহির্বাস।
অন্তর্জগৎ - বহির্জগৎ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৫,০৪৮.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) ছেলেটি বংশের চোখে চুনকালি দিল
  2. খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
  3. গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
  4. ঘ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত অসুখী
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ বাক্য হচ্ছে - তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
- বাকি অপশনগুলো অশুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে - 
- ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
- নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী।
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫,০৪৯.
তুমি কী খাবে? - এ বাক্যে কী কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
কী + ক্রিয়া = সর্বনাম। এখানে কী-এর উত্তর হয় ভাত/মাছ/বিরিয়ানি, অর্থাৎ কোনো খাবারের নাম, সুতরাং কী হলো সর্বনাম।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৫,০৫০.
নিম্নের কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. ক) শ্রেনি
  2. খ) প্রাণিবিদ্যা
  3. গ) পদবি
  4. ঘ) কিংবদন্তি
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান = শ্রেনি 
শুদ্ধ রূপ = শ্রেণি 

শ্রেণি (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √শ্রি+ণি 
অর্থ: 
- বিভাগ, ক্লাস
- গুণানুযায়ী স্থান
- সারি, পঙ্‌ক্তি
- সম্প্রদায়, সমাজ
- একসঙ্গে অবস্থান করে এমন দল বা যূথ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,০৫১.
‘সমতার ভাব’ এক কথায় বলে-
  1. ক) সাম্য
  2. খ) সস্ত্রীক
  3. গ) সর্বংসহ
  4. ঘ) সর্বজনীন
ব্যাখ্যা
• ‘সমতার ভাব’ এককথায় বলে = সাম্য

অন্যদিকে,
'সকলের জন্য প্রযোজ্য'কে এক কথায় বলে - সর্বজনীন
আবার 
সর্বজনের হিতকর = সর্বজনীন
সর্বজন সম্বন্ধীয় = সর্বজনীন
স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক 
যে সমস্তই সহ্য করে = সর্বংসহ

আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
সংসদের সদস্য = সাংসদ। 
সাহিত্যে নিপুণ = সাহিত্যিক।
যিনি ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত = নৈয়ায়িক।
যিনি বিদ্রালাভ করেছেন = কৃতবিদ্যা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৫২.
‘হাট-বাজার’ মিশ্র শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের মিশ্রনে গঠিত?
  1. ক) তৎসম+ফারসি
  2. খ) বাংলা+ফারসি
  3. গ) ফারসি+আরবি
  4. ঘ) তৎসম+আরবি
ব্যাখ্যা

হাট - {(তৎসম বা সংস্কৃত) হট্ট>}
বাজার - {(ফারসি) বাজার}
অর্থাৎ, হাট-বাজার শব্দটি তৎসম+ফারসি শব্দের মিশ্রণে গঠিত।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

উল্লেখ্য, নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইতে এটা ভুল দেয়া আছে।
দুইটি ভিন্ন ধরনের শব্দ সমাসবদ্ধ হয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে একত্রিত হলে ওই নতুন শব্দটিকে বলা হয় মিশ্র শব্দ।
বোর্ড বই থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র শব্দের উদাহরণ দেয়া হল -
রাজা-বাদশা (তৎসম+ফারসি),
হেড-মৌলভি (ইংরেজি+ফারসি),
হেড-পন্ডিত (ইংরেজি+তৎসম),
খ্রিষ্টাব্দ (ইংরেজি+তৎসম),
ডাক্তার-খানা (ইংরেজি+ফারসি),
পকেট-মার (ইংরেজি+বাংলা),
চৌ-হদ্দি (ফারসি+আরবি) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি]

৫,০৫৩.
"ক্ষয়িষ্ণু" শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ ক্ষম্ + ষ্ণিক
  2. √ ক্ষম্ + ইষ্ণু
  3. √ ক্ষম্ + ষ্ণক
  4. √ ক্ষম্ + ষ্ণু
ব্যাখ্যা

কৃৎ প্রত্যয়:
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দের উদাহরণ:

ইষ্ণু-প্রত্যয়:
- √ চল্ + ইষ্ণু = চলিষ্ণু, 
- √ সহ্ + ইষ্ণু = সহিষ্ণু, 
- √ ক্ষম্ + ইষ্ণু = ক্ষয়িষ্ণু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,০৫৪.
যেসব শব্দের নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু এগুলোর সাহায্যে বিশেষ বিশেষ ভাব প্রকাশ করা যায় -
  1. ক) ধবন্যাত্নক শব্দ
  2. খ) অর্থবহ শব্দ
  3. গ) ব্যঞ্জনবিকল্প শব্দ
  4. ঘ) অনুকার শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় যে সকল শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দ ব্যবহৃত হয় সেগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই  কিন্তু এর ব্যবহার বাক্যে এক ধরনের বিশেষ দ্যোতনা সৃষ্টি করে।
যদিও এসব শব্দের নিজস্ব অর্থ নেই কিন্তু এগুলোর সাহায্যে বিশেষ বিশেষ ভাব প্রকাশ করা যায়, যা অন্য কোনো শব্দের সাহায্যে সম্ভব নয়। শারীরিক অনুভূতি, হাসি ও কান্নার বর্ণনা, রং বৈচিত্র্য, নিঃশব্দতা, শূন্যতা প্রভৃতি বোঝাতে শব্দদ্বৈতের ব্যবহার হয়ে থাকে ।
 যেমন :
 ধবধবে সাদা, কনকনে ঠান্ডা, নিবুনিবু আলো ইত্যাদি । 

শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দ বাংলা ভাষার এক অমূল্য সম্পদ। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ সম্পর্কে বলেছেন, “সৈন্য দলের পশ্চাতে যেমন একদল অভিযাত্রিক থাকে, তাহারা রীতিমত সৈন্য নহে, সৈন্যদের নানাবিধ প্রয়োজন সরবরাহ করে, ইহারাও বাংলা ভাষার পশ্চাতে সেইরূপ ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরিয়া সহস্র কর্ম করিয়া থাকে, অথচ ঠিকমত সৈন্য শ্রেণীতে ভর্তি হইয়া অভিধানকারের নিকট সম্মানপ্রাপ্ত হয় নাই । ইহারা না থাকিলে বাংলা ভাষার বর্ণনার পাঠ একেবারে উঠাইয়া দিতে হয় ।”

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৫,০৫৫.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. যৌবন
  2. শয়ন
  3. স্বাস্থ্য
  4. সুখ
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫,০৫৬.
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কোন কারক?
  1. করণ কারক
  2. কর্ম কারক
  3. অপাদান কারক
  4. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

• ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়৷

তাই,
'ছাত্ররা ক্রিকেট খেলছে।'- এখানে 'ক্রিকেট' কর্ম কারক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫,০৫৭.
'বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।' - বাক্যটিকে কর্তৃবাচ্য রূপান্তর করলে কোনটি হবে?
  1. বিদ্বান দ্বারা সবাই আদৃত হন।
  2. বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
  3. বিদ্বান দ্বারা সবাই সমাদৃত হন।
  4. বিদ্বানকে সকলেই পছন্দ করে।
ব্যাখ্যা

• কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে -
(১) কর্তায় তৃতীয়া,
(২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং
(৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
- কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।
- কর্তৃবাচ্যে ব্যবহৃত তৎসম মিশ্রক্রিয়াটি কর্মবাচ্যে যৌগিক ক্রিয়াজাত ক্রিয়াবিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়।

কর্তৃবাচ্য → কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে। ⇒ (ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। ⇒ (খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সুমাইয়া পুস্তক পাঠ করছে। ⇒ (গ)  সুমাইয়া কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,০৫৮.
বাংলা বর্ণমালায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি:
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনির সংখ্যা ৭টি।
যেমন-
- ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫,০৫৯.
‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নিরঃ + ময়
  2. নিরা + ময়
  3. নিঃ + আময়
  4. নির + ময়
ব্যাখ্যা

• ‘নিরাময়’ - এর সন্ধি-বিচ্ছেদ - নিঃ + আময়।

• নিরাময় (বিশেষণ):
- রোগহীন; নীরোগ; সুস্থ।
- দূরীকৃত; বিতাড়িত (চিকিৎসা দ্বারা নিরাময় করা)।

• নিরাময় (বিশেষ্য):
- দূরীকরণ; বিতাড়ন (অসুস্থতা নিরাময়ের জন্য)।

• নিরাময়:
- শব্দ: তৎসম বা সংস্কৃত।
- সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + আময়।
- সমাস: বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৬০.
'কমিক' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ইংরেজি 
  2. ল্যাটিন 
  3. তুর্কি 
  4. গ্রিক 
ব্যাখ্যা

'কমিক' গ্রিক ভাষার শব্দ।
অর্থ: 
কৌতুকপ্রদ; ব্যঙ্গচিত্র বা হাস্যরসাত্মক রচনা, কৌতুক।

• গ্রিক ভাষার আরোকিছু শব্দ হলো: 
কমিক, ক্লোন, ক্লোরাইড, ক্লোরিন, ক্লোরোফর্ম, দাম, ইউরোনাস।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৬১.
জীবিত থেকেও যে মৃত - তাকে কী বলে?
  1. জীবমৃত
  2. মৃতন্মৃত
  3. জীবন্মৃত
  4. মৃতপ্রায়
ব্যাখ্যা

জীবিত থেকে যে মৃত - জীবন্মৃত
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
জীবন্মৃত (বিশেষণ):
১. জীবিত থেকেও মৃতের ন্যায় অচল-অক্ষম; জীয়ন্তে মরা।
২. নির্জীব; মনমরা।
(তৎসম বা সংস্কৃত) জীবৎ + মৃত; (কর্মধারয় সমাস)

৫,০৬২.
'গোঁফখেজুরে' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. অলুক তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য হলে বা কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।

যেমন:
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে,
- কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
- আশীতে বিষ যার = আশীবিষ,
- বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৬৩.
'সুমতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. সবুদ্ধি
  2. দুষ্ট
  3. শিষ্ট
  4. মন্দবুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• 'সুমতি' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মন্দবুদ্ধি

উল্লেখ্য,
'দুর্মতি' শব্দের অর্থ - অসৎ মনোভাব; মন্দবুদ্ধি, কুবুদ্ধি।
'সুমতি' শব্দের অর্থ - উত্তম বা সবুদ্ধি, সদিচ্ছা, সৎপ্রবৃত্তি, দয়া।

অন্যদিকে,
পথ - বিপথ।
দুষ্ট - শিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৬৪.
'মিছিল' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তৎসম
  4. গুজরাটি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'মিছিল' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
১. শোভাযাত্রা (মহরমের মিছিল)।
২. মোকদ্দমা ও তৎসম্বন্ধীয় নথিপত্র।
৩. বিন্যাস, সিজিল।
৪. সমান, সমকক্ষ।

• কিছু ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি আমদানি ,সবজি , রসিদ, বাবরি, মিছিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৬৫.
শাখামৃগ অর্থ কী?
  1. ক) হরিণ শাবক
  2. খ) হরিণ
  3. গ) বানর
  4. ঘ) বানর শাবক
ব্যাখ্যা
মৃগ অর্থ হরিণ,
কিন্তু শাখামৃগ অর্থ বানর।
 শাখামৃগ (বিশেষ্য): বানর - (কেহ শাখামৃগ হইয়াছে উঠি আধ্যাত্মিক উঁচু শাখায়-কাজী নজরুল ইসলাম)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,০৬৬.
কোনটি স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. বিলেত
  2. বসতি
  3. চাদর
  4. পিরীতি
ব্যাখ্যা
• প্রীতি > পিরীতি; মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ।

----------------------------
• আদি স্বরাগম:

ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে মূল শব্দের আদিতে স্বরধ্বনির আগমন ঘটাকে আদি স্বরাগম বলে। যেমন -
- স্কুল > ইস্কুল, 
- স্ত্রী > ইস্ত্রী,
- স্টেশন > ইস্টেশন,
- স্টিমার > ইস্টিমার ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে।
- একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৬৭.
"ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক" অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. দুধের মাছি
  2. বসন্তের কোকিল
  3. কংস মামা
  4. দহরম মহরম
ব্যাখ্যা

• 'দহরম মহরম' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

অন্যদিকে,
• 'দুধের মাছি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - সুসময়ের বন্ধু।
• 'বসন্তের কোকিল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- সুসময়ের বন্ধু। 
• 'কংস মামা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- নির্মম আত্মীয় 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫,০৬৮.
নিচের কোন শব্দটি তালব্য ব্যঞ্জন দিয়ে গঠিত?
  1. সালাম
  2. ঝড়
  3. লাল
  4. থালা
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, , শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,০৬৯.
কোন সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয়?
  1. ক) দ্বন্দ্ব
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) কর্মধারয়
  4. ঘ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয়,তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,০৭০.
'Autonomous' এর পারিভাষিক অর্থ কী?
  1. ক) স্বাক্ষর
  2. খ) সত্যায়িত
  3. গ) সত্যায়িত
  4. ঘ) স্বায়ত্তশাসিত
ব্যাখ্যা
• Autonomous শব্দের সঠিক পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পারিভাষিক শব্দ হচ্ছে:
Armoury - অস্ত্রাগার
Bond - মুচলেকা
Calorie - তাপাঙ্ক । Confiscated - বাজেয়াপ্ত।
Emancipation - মুক্তি।
Freight - মাল ভাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,০৭১.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. অথবা
  2. নিশ্চয়ই
  3. অধিকন্তু
  4. নয়তো
ব্যাখ্যা

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

অন্যদিকে,
- সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - নয়তো, অধিকন্তু, অথবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,০৭২.
কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. স্খ
  2. ক্ম
  3. ক্ষ্ম
  4. গ্ধ
ব্যাখ্যা
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - স্খ

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:

- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
- ক্ত = (ক্ + ত), ক্ম = (ক্ + ম), ক্ষ = (ক্ + ষ), ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম), ক্স = (ক্ + স), গু = (গ্ + উ), গ্ধ = (গ্ + ধ),  ঙ্গ = (ঙ্ + গ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,০৭৩.
'সৌম্য' এর বিপরীত শব্দ -
  1. করাল
  2. নির্ভীক
  3. বিনীত
  4. খাতক
ব্যাখ্যা

• 'সৌম্য' এর বিপরীত শব্দ - করাল

অন্যদিকে,
ভীরু - নির্ভীক।
উদ্ধত - বিনীত।
মহাজান - খাতক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,০৭৪.
বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. আ + চর্য = আশ্চার্য
  2. এক + দশ = একাদশ
  3. তৎ + কর = তস্কর
  4. সম্‌ + কার = সংস্কার
ব্যাখ্যা

বিশেষ নিয়মে সাধিত সন্ধির উদাহরনঃ
উৎ + স্থান = উত্থান, সম + কার = সংস্কার
কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়ঃ
আ + চর্য = আশ্চার্য
তৎ + কর = তস্কর
সম্‌ + কার = সংস্কার
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণী)

৫,০৭৫.
নিচের কোনটি দীর্ঘস্বর নয়?
ব্যাখ্যা
• দীর্ঘস্বর নয় - ই। 

স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ ও উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য:

- উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন: ক. হ্রস্বস্বর ও খ. দীর্ঘস্বর।

হ্রস্বস্বর:
- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে। অ, ই, উ, ঋ হ্রস্বস্বর।

দীর্ঘস্বর:

- যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে। আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৫,০৭৬.
'অনল' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) আগুন
  2. খ) দ্যুলোক
  3. গ) সর্বভুক
  4. ঘ) হুতাশন
ব্যাখ্যা

অগ্নি - অনল, আগুন, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বায়ুসখা, সর্বভুক
আকাশ - গগন, নভোমন্ডল, দ্যুলোক, অন্তরিক্ষ, ব্যোম।

উৎসঃ ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৫,০৭৭.
'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই’--এর অর্থ কী?
  1. ক) তেজি কুমিরকে রুখে দিই
  2. খ) বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
  3. গ) গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
  4. ঘ) ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ২নং পদের রচয়িতা কুক্কুরী পা।
পদটি হলো:
“দুলি দুহি পিটা ধরণ ন জাই।
রুখের তেন্তুলি কুম্ভীরে খাঅ।।”

অর্থ্যাৎ, "মাদী কাছিম দোহন করে দুধ পাত্রে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।"
সুতুরাং, 'রুখের তেন্তুলি কুমীরে খাই' অর্থ - গাছের তেঁতুল কুমিরে খাচ্ছে।

উৎস: বাংলাবাজার আর্কাইভ।


৫,০৭৮.
নিচের কোনটি স্ত্রীবাচক প্রত্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. আনো
  2. ইনি
  3. অক
ব্যাখ্যা

• 'ইনি' প্রত্যয়:
- স্ত্রীবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় পুরুষবাচক শব্দের পরে বসে স্ত্রীবাচক শব্দে পরিণত করে।
যেমন- 
বিজয়ী-বিজয়িনী, যােগী-যােগিনী, তেজস্বী-তেজদ্বিনী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,০৭৯.
নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিস্ময়
  2. দাঁড়ি
  3. প্রশ্নবোধক
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে-
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন-সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৮০.
'ঝড়' শব্দের অর্থ কী?
  1. লহর
  2. প্রভঞ্জন
  3. আহব
  4. অসি
ব্যাখ্যা

• 'ঝড়' শব্দের অর্থ - ঝটিকা, প্রভঞ্জন, ঝঞ্ঝা।

অন্যদিকে,
'ঢেউ' শব্দের অর্থ - ঊর্মি, তরঙ্গ, লহর, লহরী।
'যুদ্ধ' শব্দের অর্থ - আহব, রণ, সমর।
'অসি' শব্দের অর্থ - তলোয়ার, তরবারি, কৃপাণ, অস্ত্রবল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৮১.
সম্প্রকর্ষ - এর উদাহরণ হলো-
  1. ক) বাক্‌স > বাস্‌ক
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) আলাহিদা > আলাদা
  4. ঘ) জানালা > জান্‌লা
ব্যাখ্যা
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ৷
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা।
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন- বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা।
ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা হলো অন্তর্হতির উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,০৮২.
'বিবর' শব্দের অর্থ কী?
  1. গহ্বর
  2. শীর্ষদেশ
  3. ডানা
  4. গাছের পাতা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর, গর্ত, ছিদ্র।

অন্যদিকে,
'চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর।
'পর্ণ শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা

আরো কিছু শব্দার্থ:
'অঙ্গনা' শব্দের অর্থ - অঙ্গসৌষ্ঠববিশিষ্ট নারী, সুন্দর নারী।
'ললনা' শব্দের অর্থ - নারী, কান্তা, পত্নী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৫,০৮৩.
'বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।' - কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর। (করণে শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৫,০৮৪.
'মতলববাজ' শব্দটির উৎসমূল-
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. আরবি+ফারসি
  4. তৎসম + বাংলা
ব্যাখ্যা
• 'মতলববাজ' শব্দটির উৎসমূল:
- 'মতলববাজ' শব্দটি আরবি শব্দ 'মতলব' এবং ফারসি শব্দ 'বাজ' নিয়ে গঠিত।

• 'মতলববাজ' শব্দের অর্থ:
- সুযোগসন্ধানী, স্বার্থপর।

• কয়েকটি 'আরবি + ফারসি' ভাষার শব্দ: 
- আদমশুমারি, ওকালতনামা, কেতাদুরস্ত, বরকন্দাজ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৮৫.
'চিরসুখী' কোন সমাস?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. কর্মধারয় সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• 'চিরকাল ব্যাপীয় সুখী= চিরসুখী'- ২য়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

- সমস্তপদ - ব্যাসবাক্য
- চিরসুখী - চির কাল ব্যাপিয়া সুখী।
- চিরস্থায়ী - চির কাল ব্যাপিয়া স্থায়ী।
- চিরস্মরণীয় - চির কাল ব্যাপিয়া স্মরণীয়।
- চিরশত্রু - চির কাল ব্যাপিয়া শত্রু।

• দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস :
পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লােপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা : দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত, বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন ।

• ব্যাপ্তি অর্থেও দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন : চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = চিরসুখী। এরকম : গা-ঢাকা, রথদেখা, বীজবােনা, ভাঁতরাধা, ছেলে-ভুলানাে (ছড়া), নভেল-পড়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,০৮৬.
'তনু' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. রূপসী
  2. নারী
  3. তনয়া
  4. দেহ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'তনু' শব্দের অর্থ: দেহ, শরীর।

• 'তনু' শব্দের সমার্থক শব্দ:
দেহ, শরীর, কায়া, গাত্র, অবয়ব।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,০৮৭.
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় নিচের কোন শব্দটি শুদ্ধ?
  1. ক) সুস্বাস্থ্য
  2. খ) সচিত্রিত
  3. গ) শ্রেষ্ঠতম
  4. ঘ) স্বাগত
ব্যাখ্যা
প্রয়োগের অর্থ বিবেচনায় শুদ্ধ হলো স্বাগত। অপশনে প্রদত্ত বাকি শব্দগুলোর প্রায়োগিক শুদ্ধরূপ যথাক্রমে স্বাস্থ্য, সচিত্র/চিত্রিত ও শ্রেষ্ঠ।
৫,০৮৮.
কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টির বিশেষ অর্থে ব্যবহার হয়-
  1. সমার্থক শব্দ
  2. বাগ্‌বিধি
  3. বিপরীতার্থক শব্দ
  4. ভিন্নার্থক শব্দ
ব্যাখ্যা
⇒ 'বাগ্বিধি বা বাগ্‌বিধি' বাগ্‌ধারা এর অপর নাম, যা সাধারণ অর্থের বাইরে যা বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে থাকে। 

• বাগ্‌বিধি  (বিশেষ্য), 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = বাক্‌+বিধি;
অর্থ: 
- কথা বলার ধরণ, 
- বাক্য প্রয়োগের রীতি, 
- কোনো শব্দ বা শব্দসমষ্টির বিশেষ অর্থে ব্যবহার। 
- বাগ্‌ধারা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫,০৮৯.
'পুঁথিগত' কোন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) তৎপুরুষ
  3. গ) বহুব্রীহি
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
পুঁথিগত = পুঁথি হইতে আগত, 
- এটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। 

তৎপুরুষ সমাস- 
- পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পেয়ে এবং পরপদের অর্থ প্রধানরূপে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে বলা হয় তৎপুরুষ সমাস।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লােপ পায় এবং উত্তরপদের অর্থ প্রধানরূপে বুঝায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। 
- তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনাে বিভক্তি থাকতে পারে আর পূর্বপদের বিভক্তি হিসেবে এদের নামকরণ হয়।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।
- সাধারণত পুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, নিয়ত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, চালানাে, ভ্রষ্ট ইত্যাদি পরস্পরের ফলে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন-
বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত।
অনুরূপ ভাবে, পুঁথি হইতে আগত = পুঁথিগত।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,০৯০.
Q. 01 - 16:Choose the correct answer.
১) সাধুভাষা থেকে চলিত বাংলায় লিখতে কোন পদযুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  2. খ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  4. ঘ) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
৫,০৯১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. মূমুর্ষূ
  2. মুমুর্ষু
  3. মুমূর্ষু
  4. মূমূর্ষ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - মুমূর্ষু
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
- মরণাপন্ন
- মৃতপ্রায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৯২.
নিচের অপশনগুলো থেকে শুদ্ধ বানানটি চিহ্নিত করুন-
  1. ক) রৌদ্রকরৌজ্জল
  2. খ) রৌদ্রকরৌজ্জ্বল
  3. গ) রৌদ্রকরোজ্জ্বল
  4. ঘ) রৌদ্রকরুনজ্জ্বল
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে ‘রৌদ্রকরোজ্জ্বল’ শুদ্ধ বানান।
৫,০৯৩.
'দম্ভোলি' শব্দের অর্থ কী?
  1. ভয়ানক
  2. বজ্র
  3. যুদ্ধ
  4. ক্রোধ
ব্যাখ্যা

• 'দম্ভোলি' শব্দের অর্থ - বাজ, বজ্র, অশনি, কুলিশ।

অন্যদিকে,
'যুদ্ধ' শব্দের অর্থ - রণ, সমর, সংগ্রাম, বিগ্রহ।
'ভয়ানক' শব্দের অর্থ - ভীষণ, ভীম, খুব, ভয়ঙ্কর, ভয়াবহ।
'ক্রোধ' শব্দের অর্থ - রাগ, রোষ, গোসা, কোপ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৯৪.
আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মাতুলানী
  2. মায়াবিনী
  3. কুহকিনী
  4. মেধাবিনী
ব্যাখ্যা

আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ইন্দ্র-ইন্দ্রানী,
- মাতুল-মাতুলানী,
- শূদ্র-শূদ্রানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈনী এবং নী প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মায়াবী-মায়াবিনী,
- কুহক-কুহকিনী,
- যোগী-যোগিনী,
- মেধাবী-মেধাবিনী,
- দুঃখী-দুঃখিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,০৯৫.
'ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।' - বাক্যে 'কর্তব্য' শব্দটি কোন ধাতুযোগে গঠিত?
  1. বাংলা ধাতু
  2. বিদেশগাত ধাতু
  3. সংস্কৃত ধাতু
  4. প্রযোজক ধাতু
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত ধাতু: 
- তৎসম ক্রিয়াপদের ধাতুকে সংস্কৃত ধাতু বলে।

যেমন:
- অক্ + অন = অঙ্কন: ছোটদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিথু প্রথম হয়েছে।
- দৃশ্ + য = দৃশ্য: দুর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য বর্ণনা করা যায় না।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য: ছাত্রদের কর্তব্য লেখাপড়া করা।
- হস্ + য = হাস্য: অকারণ হাস্য-পরিহাস ত্যাগ কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫,০৯৬.
‘ক্ষণদা’ শব্দের অর্থ কী?
  1. চাঁদ
  2. লগ্ন
  3. দিন
  4. রাত্রি
ব্যাখ্যা

• ‘রাত্রি’ শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো:
নিশি, নিশা, নিশীথ, রাত্তির, রাত, রাতি, রজনী, যমিনী, ক্ষণদা, যামবতী, যামী, যামিকা, নিশীতিনী, নিশুতি, ত্রিযামা, নক্ত, ক্ষপা, তামসী, তারকিণী, অন্ধিকা, শর্বরী, বিভবরী।

অন্যদিকে,
• ‘লগ্ন’ শব্দের সমার্থক শব্দ: তিথি, ক্ষণ, দণ্ড, সময়, কাল।
• ‘দিন’ এর সমার্থক শব্দ: দিবা, দিবস, অযামিনী, তমসতাড়িনী, অহন, অহ্ন, ইত্যদি।
• ‘চাঁদ’ শব্দের  প্রতিশব্দ:-চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,০৯৭.
শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথ + অযথ = যথাযথ
  2. দণ্ডা + আদেশ = দণ্ডাদেশ
  3. দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক
  4. যথা + আর্থ = যথার্থ
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।
যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ।
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।
• ষট্ + দশ = ষোড়শ।
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র।
• বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
• গো + পদ = গোষ্পদ।
• আ + পদ = আস্পদ।
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি।
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ।
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

• স্বরসন্ধি:
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। এর কিছু নিয়ম হলো:
• নিয়ম: অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• নিয়ম: আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,০৯৮.
'ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য' এক কথায় বলে-
  1. দুরুচ্চার্য
  2. অবর্ণনীয়
  3. অনুচ্চার্য
  4. অবাচ্য
ব্যাখ্যা

• 'ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য' এক কথায় বলে - অকথ্য/অবাচ্য।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'যা বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়/অবর্ণনা করা যায় না এমন' এক কথায় বলে-  অনির্বচনীয়/অবর্ণনীয়। 
• 'যা উচ্চারণ করা কঠিন' এক কথায় বলে - দুরুচ্চার্য।
• 'যা উচ্চারণ করা যায় না' এক কথায় বলে - অনুচ্চার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,০৯৯.
সমাসের 'ব্যাসবাক্য' বলতে কী বোঝায়?
  1. সমাসের পূর্বপদ
  2. যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়।
  3. সমাসের শেষ শব্দ
  4. সমাসবদ্ধ শব্দ
ব্যাখ্যা
সমাস:
- পরস্পর অর্থ সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহুপদের একপদে পরিণত হওয়াকে বলা হয় সমাস।
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক পদের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে'। 

সমাসের কয়েকটি পরিভাষা:

ক. সমস্যমান পদ:
- যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ:
- সমস্যমান পদগুলো মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
- একে আবার সমাসবদ্ধ পদও বলা হয়।
যেমন— সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য:
- যেসব শব্দ দিয়ে সমস্তপদকে ব্যাখ্যা করা হয়। 

- সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে।
- ‘ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
- একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়।
উপরের বাক্যে 'সিংহ চিহ্নিত আসন' হলো সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ:
- সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
সিংহাসন শব্দের সিংহ হলো পূর্বপদ, আর আসন হলো পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০২২ সংস্করণ)।
৫,১০০.
'অমরকোষ' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. মহাকাব্য
  3. নাটক
  4. অভিধান
ব্যাখ্যা
• 'অমরকোষ' হলো একটি প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান যা প্রাচীন ভারতে রচিত এবং সবচেয়ে বিখ্যাত অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি রচনা করেছিলেন অমরসিংহ, যিনি ষষ্ঠ শতকের বুদ্ধিজীবী এবং উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের একজন ছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সংস্করণ:
হেনরি টমাস কোলব্রুক ১৮০৮ এবং ১৮২৫ সালে কলকাতা থেকে অমরকোষের একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন।
চিন্তামণি শাস্ত্রী থাট্টে ও কিয়েন হর্ন ১৮৭৭ সালে মহেশ্বর-ভাষ্যসহ আরেকটি সংস্করণ বোম্বাই থেকে প্রকাশ করেন।

'অমরসিংহ' সম্পর্কে:
পণ্ডিতরা মনে করেন, অমরসিংহ ছিলেন ৬ষ্ঠ শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বুদ্ধিজীবী।
তিনি উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্নের অন্যতম ছিলেন।
এই তথ্য অনুযায়ী অমরকোষ সংস্কৃত ভাষার প্রচলিত ও প্রাচীনতম অভিধানগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এর প্রভাব সংস্কৃতসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যাপকভাবে পড়েছে।

রেফারেন্স:
- বাংলাপিডিয়া,
- অন্যান্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও প্রবন্ধ (যেমন ডেইলি স্টার, জনকণ্ঠ)।