ব্যাখ্যা
- ঊর্মি, তরঙ্গ, ঢেউ, কল্লোল, হিল্লোল, বীচি, লহর, লহরী, উল্লোল, মহোর্মি।
অন্যদিকে,
'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সিন্ধু, সায়র, দরিয়া, বারিধি, জলধি, অকূল, নীলাম্বু, পয়োধি ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৪৮ / ৩৫৪ · ৪,৭০১–৪,৮০০ / ৩৫,৭১৩
• মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ বা ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদ লোপ পেয়ে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার = সোনামুখ।
- এক দিকে চোখ যার = একচোখা/একচোখো।
এরকম- ক্ষুরধার, গজানন, মৃগনয়না, মীনাক্ষী, পদ্মমুখী, মেঘবরণ, শ্বাপদ, বিড়ালচোখা, হুতুমচোখি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয় কিংবা পূর্বপদ বিশেষ্য এবং পরপদ বিশেষণ হয় তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন:
- কালো বরণ যার = কালোবরণ;
- পোড়া কপাল যার = পোড়াকপালে।
• ব্যধিকরণ বহুব্রীহি:
পরপদ কৃদন্ত বিশেষণ হলেও ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- দু কান কান কাটা যার = দুকানকাটা, বোঁটা খসেছে যার = বোঁটাখসা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'কিছু দরকার হলে বলো' ও 'কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ'?- বাক্য দুইটিতে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'কিছু' অনির্দিষ্ট সর্বনামের উদাহরণ এবং 'কে' প্রশ্নবাচক সর্বনামের উদাহরণ।
• সর্বনাম পদ:
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলো মূলত নয়টি ভাগে বিভক্ত করা যায়:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম, যেমন—স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম- নিকট নির্দেশক (এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি) এবং দূর নির্দেশক (ও, ওই, ওরা, উনি)।
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম- কে, কারা, কাকে, কার, কী।
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন।
৭. পারস্পারিক সর্বনাম- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা।
৮. সকল বা সাকুল্যবাচক সর্বনাম- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত।
৯. অন্যবাচক সর্বনাম- অন্য, অপর, পর, অমুক। এছাড়া সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামও আছে, যেমন—যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যের মধ্যে একটি প্রধান বাক্য থাকে এবং একাধিক বাক্যকে প্রধান বাক্যের ওপর নির্ভরশীল দেখা যায়, তাকে জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য বলে৷
যেমন-
যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে৷
যিনি সৎ পথে চলেন, তিনি সুখী হন।
উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷
• 'মেঘ' এর সমার্থক শব্দ:
জলদ, বারিদ, জলধর, নীরদ, ঘন, অভ্র, জীমূত, অভ্র, তোয়দ, অম্বুবাহ, অনুবাহী, পয়োধর, পয়োদ, বারিবাহ, অম্মুধর, কাদম্বিনী, নীরধর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদর পার্থক্য করা যায় না।
যেমন:
• ‘চির’ শব্দের অর্থ - দীর্ঘ।
• চির - দীর্ঘকাল।
• ‘চীর’ শব্দের অর্থ - ছিন্নবস্ত্র।
• ‘চুর’ শব্দের অর্থ - নেশাগ্রন্ত।
• ‘চূর’ শব্দের অর্থ - চূর্ণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'হনন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিঘাংসা।
অন্যদিকে,
- 'নিন্দা করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জুগুপ্সা।
- 'গমন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগমিষা।
- 'জয় করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিগীষা।
এরূপ আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ-
- 'বিজয় লাভের ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিজিগীষা।
- 'ভোজন করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বুভুক্ষা।
- 'লাভ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - লিপ্সা।
- 'দেখবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষা।
- 'বলবার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - বিবক্ষা।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা ভাষার সাধুরীতির বৈশিষ্ঠ্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
• "আবক্ষ জলে নেমে স্নান" এর এক কথায় প্রকাশ - অবগাহন।
আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এর এক কথায় প্রকাশ:
• আকাশে গমন করে যে - বিহগ।
• আঘাতের বিপরীত - প্রত্যাঘাত।
• উদ্ভিদের নতুন পাতা - কিশলয়।
• আত্মাকে অধিকার করে - আধ্যাত্ম।
• আট প্রহর পরা যায় যা - আটপৌরে।
• আয়নায় দেখা মূর্তি - প্রতিবিম্ব।
• আরাধনার যোগ্য যিনি - আরাধ্য।
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'সয়লাব' 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
শব্দের অর্থ:
- প্লাবিত,
- ছেয়ে গেছে এমন।
কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- অদ্যাপি (অব্যয়) - এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত (অদ্যাপি ব্যবহৃত)।
- ঐকমত্য, ঐক্যমত্য (বিশেষ্য) - একমত; মতের অভিন্নতা; মতের মিল বা ঐক্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
'Like priest, like pupil’ এর যথার্থ অনুবাদ :যেমন গুরু তেমন চেলা।
অন্যদিকে,
- Empty vessels sound much. এর বাংলা অনুবাদ: যত গর্জে তত বর্ষে না।
- As you sow so you reap. এর বাংলা অনুবাদ: যেমন কাজ তেমন ফল।
- To make a mountain of a molehill. এর বাংলা অনুবাদ: তিলকে তাল বানানো।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণ গুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো যায় না।
যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়,
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।
⇒ জ্ঞ = জ্ + ঞ- বর্ণদ্বয়ের সমন্বয়ে 'বিজ্ঞান' শব্দটি গঠিত।
- 'জ্ঞ' যুক্ত শব্দের উদাহরণ- জ্ঞান, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞ ইত্যাদি।
- 'জ্ঞ' হচ্ছে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণবাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
যেমন:
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্ৰ মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।
অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
• যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যতি বা ছেদ বা বিরাম চিহ্ন বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হবে।
---------------
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন,
- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ, কর্ম্ম, মূর্চ্ছা ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে- অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, মূর্ছা ইত্যাদি।
- 'বার্দ্ধক্য' এর শুদ্ধ বানান হবে- বার্ধক্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
- 'যা দমন করা যায় না' - অদম্য।
অন্যদিকে,
- 'যা দমন করা কষ্টকর' - দুর্দমনীয়।
- 'যা নিবারণ করা কষ্টকর' - দুর্নিবার।
- 'যা চিরস্থায়ী নয়' এক কথায় প্রকাশ - নশ্বর।
• আরও কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- 'যা পূর্বে ছিল এখন নেই' - ভূতপূর্ব।
- 'যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে' - প্রত্যুৎপন্নমতি।
- 'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় প্রকাশ - অবিনশ্বর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যেমন-
- দেবর - ননদ (দেবরের বোন) এবং জা (দেবরের স্ত্রী)।
- ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী)।
- শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী)।
- বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বনব্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী)।
- দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী) ইত্যাদি।
এছাড়া,
•'কবিরাজ' ও ঢাকী শব্দের কোন স্ত্রীবাচক শব্দ নেই। এরা নিত্য পুরুষবাচক শব্দ।
• 'মরদ' শব্দের স্ত্রীবাচক - জেনানা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।
উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
কাল: ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কাল বলে।
ক্রিয়া বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশই ক্রিয়ার কাল ।
ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার। যথা:
১. বর্তমান কাল। যেমন: আমরা বই পড়ি।
২. অতীত কাল। যেমন: কাল তুমি শহরে গিয়েছিলে।
৩. ভবিষ্যত কাল। যেমন: আগামীকাল স্কুল বন্ধ থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঙ্ + ক = ঙ্ক।
অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্ + ণ = হ্ণ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ক্ + ষ = ক্ষ।
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্ + র = ভ্র,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- হ্ + ম = হ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যেমন:
- সংবৃত: [ই], [উ]।
- অর্ধ-সংবৃত: [ এ ], [ও]।
- বিবৃত: [আ]।
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা], [অ]।
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
- “সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো”–বাক্যটিতে প্রযোজক কর্তা - সে।
• প্রযোজক কর্তা:
- প্রযোজক কর্তা কর্তৃকারকের একটি প্রকারভেদ।
- প্রযোজক কর্তা হলো সেই কর্তা, যিনি নিজে সরাসরি কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করান।
- অন্যদিকে, যাকে দিয়ে কাজটি করানো হয় তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ,
• “সে আমাকে দিয়ে চিঠিটা লেখালো” —এখানে সে প্রযোজক কর্তা, কারণ সে নিজে লিখছেনা, আমাকে দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করেছে।
• “হুজুর ছাত্রদের কুরআন পড়াচ্ছেন”—এখানে হুজুর প্রযোজক কর্তা, কারণ তিনি নিজে পড়াচ্ছেন না, ছাত্রদের দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করছেন।
• “মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন”—এখানে মা প্রযোজক কর্তা এবং শিশু প্রযোজ্য কর্তা।
• প্রযোজক কর্তার কিছু উদাহরণ হলো:
- “মালিক শ্রমিককে দিয়ে বাড়ি তৈরি করাচ্ছেন” → মালিক = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে অঙ্কটা কষালাম” → আমি = প্রযোজক কর্তা।
- "কৃষক গরু দিয়ে চাষ করায়" → কৃষক = প্রযোজক কর্তা।
- “সাপুড়ে সাপ খেলাচ্ছে।” → সাপুড়ে = প্রযোজক কর্তা।
- “আমি তাকে দিয়ে কাজটি করালাম।” → আমি = প্রযোজক কর্তা।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ);
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
• 'চশমখোর' বাগ্ধারার অর্থ - নির্লজ্জ।
অন্যদিকে,
চোখের পর্দা - লজ্জা।
গোমূর্খ - অতি মূর্খ।
গায়ে পড়া - অযাচিত।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
- পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা।- এটি একটি স্বরসন্ধি।
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনি মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে।
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য ফলা হয়। য ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা,
- মসী + আধার = মস্যাধার ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯সংস্করণ )।
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- এক + দশ = একাদশ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জন ও ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ - সঞ্চয় (সম্ + চয়)।
- স্বর ও ব্যঞ্জনে গঠিত শব্দ - পরিচ্ছেদ (পরি + ছেদ)।
- ব্যঞ্জন ও স্বরে গঠিত শব্দ - দিগন্ত (দিক্ + অন্ত)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
• অর্থতত্ত্ব আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়,বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।
এছাড়াও,
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।
• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া,ক্রিয়াবিশেষণ, শব্দগঠন প্রক্রিয়া ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।
• বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
পুরাঘটিত অতীত:
- যে ক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
- আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।
বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ নয়- সম্রাজ্ঞী।
- 'সম্রাজ্ঞী' সংস্কৃত স্ত্রীবাচক শব্দ।
• বিদেশি স্ত্রীবাচক শব্দ:
খান - খানম,
মরদ - জেনানা,
মালেক - মালেকা,
মুহতারিম- মুহতারিমা,
সুলতান - সুলতানা।
অন্যদিকে,
------------------
• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট-সম্রাজ্ঞী, রাজা-রানি, যুবক-যুবতী, শ্বশুর-শ্বশ্রু, নর-নারী, বন্ধু-বান্ধবী, দেবর-জা, শিক্ষক- শিক্ষয়িত্রী, স্বামী-স্ত্রী, পতি-পত্নী, সভাপতি-সভানেত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। — এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
--------------------------
• অনুসর্গ:
- অনুসর্গ হলো এমন এক ধরনের অব্যয় যা সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে।
- এটি শব্দের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় না।
- পৃথকভাবে বসে এবং বিভক্তির মতো কাজ করে বাক্যের অর্থকে স্পষ্ট করে।
- এর মাধ্যমে পদের কারক সম্পর্ক বোঝানো যায়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• “আমার জন্য সে অপেক্ষা করল” বাক্যে ‘জন্য’ একটি অনুসর্গ, যা ‘আমার’ পদের পরে বসে সম্পর্ক নির্দেশ করছে।
• “তার দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হলো” – এখানে ‘দ্বারা’ অনুসর্গটি ‘তার’ পদের পরে বসে কর্ম নির্দেশ করছে।
• তেমনই, “খাওয়া ছাড়া আর কিছু মনে নেই” বাক্যে ‘ছাড়া’ অনুসর্গটি ‘খাওয়া’ পদের পরে বসে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করছে।
- কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ-
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দক্ষিণ, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাদন, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।
• বিভিন্ন অর্থরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- 'চালচলন' - শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।