বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৪৬ / ৩৫৪ · ৪,৫০১৪,৬০০ / ৩৫,৭১৩

৪,৫০১.
'Physicians heal thyself' এর বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. আপ ভালা তো জগৎ ভালা।
  2. চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।
  3. তিলকে তাল করা।
  4. তেলা মাথায় তেল দেয়া।
ব্যাখ্যা
• 'Physicians heal thyself' এর বঙ্গানুবাদ - চাচা আপন প্রাণ বাঁচা

অন্যদিকে,
• 'To the pure all things are pure' এর বঙ্গানুবাদ - আপ ভালা তো জগৎ ভালা।
• 'To make a mountain of a molehill' এর বঙ্গানুবাদ - তিলকে তাল করা।
• 'Carry coal to Newcastle' এর বঙ্গানুবাদ - তেলা মাথায় তেল দেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০২.
নিচের কোন বিপরীত শব্দ জোড়া অশুদ্ধ?
  1. ক) পুষ্ট - ক্ষীণ
  2. খ) পারত্রিক - ঐহিক
  3. গ) হর্তা - ভর্তা
  4. ঘ) বিকুঞ্চন - প্রসারণ
ব্যাখ্যা
বিকুঞ্চন - প্রসারণ বিপরীত শব্দ জোড়া অশুদ্ধ কারণ এরা সমার্থক।
এদের বিপরীতার্থক শব্দ হবে বিকুঞ্চন বা প্রসারণ - আকুঞ্চন বা সংকোচন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫০৩.
‘আইশা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।’ বাক্যে কী ধরণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যোগ্যতা জনিত
  2. কারক জনিত
  3. পদক্রম জনিত
  4. বানান জনিত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘আইশা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।’ বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। 
• শুদ্ধ রূপ: আইশা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছে।

•  (মনঃকষ্ট) সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ। বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫০৪.
'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. স্বাপদসংকুল
  2. অতলস্পর্শী
  3. শ্বাপদসংকুল
  4. অনিকেত
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'শ্বাপদসংকুল' শব্দের অর্থ - 'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ'।

• 'যে বন হিংস্র জন্তুতে পরিপূর্ণ' এর এক কথায় প্রকাশ - 'শ্বাপদসংকুল'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,৫০৫.
কোনটি উপসর্গ নয়?
  1. প্র
  2. পরা
  3. পরি
  4. আমি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ নয় - আমি।
- ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদ- আমি, তুমি, আমরা ইত্যাদি। 

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।

যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫০৬.
"আম, খাস" - কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ফারসি উপসর্গ
  2. আরবি উপসর্গ
  3. উর্দু উপসর্গ
  4. হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
 
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫০৭.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদের উদাহরণ?
  1. ক) তত + অধিক = ততোধিক
  2. খ) ততঃ + অধিক = অত্যধিক
  3. গ) ততঃ + অধিক = ততোধিক
  4. ঘ) ততঃ + অধিক = ততোঃধিক
ব্যাখ্যা
অ ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ - এই তিনে মিলে ও কার হয়। যেমন - ততঃ + অধিক = ততোধিক।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,৫০৮.
‘বৃক্ষ’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. পাদপ
  2. দ্রুম
  3. শাখী
  4. অটবী
ব্যাখ্যা
বৃক্ষ: গাছ, তরু, দ্রুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
'অটবী' শব্দটি 'বন' শব্দের প্রতিশব্দ।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০২১)।
৪,৫০৯.
'অমিতব্যয়ী' অর্থ বুঝাতে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উনপাঁজুরে
  2. উড়নচণ্ডী
  3. কূপমণ্ডুক
  4. গোঁফ খেজুরে
ব্যাখ্যা

• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ- অমিতব্যয়ী। 

অন্যদিকে, 
• 'উনপাঁজুরে' অর্থ- দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন।
• 'কূপমণ্ডুক' অর্থ- সীমাবদ্ধ জ্ঞান। 
• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ- অত্যন্ত অলস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫১০.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অর্ধরাত্র
  2. পিতৃহারা
  3. নিরপরাধী
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নিরপরাধী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরপরাধ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ: 
অশুদ্ধ শব্দ ⇒ শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫১১.
"মাদৃশ" - বলতে কী বোঝায়?
  1. তার তুল্য
  2. আমার তুল্য
  3. ইহার তুল্য
  4. ঋষির তুল্য
ব্যাখ্যা

• 'আমার মতো' এর এক কথায় প্রকাশ - মাদৃশ।

অন্যদিকে,
তার তুল্য - তাদৃশ।
ইহার তুল্য - ঈদৃশ।
ঋষির তুল্য - ঋষিতুল্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫১২.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. তৃণ
  2. কাণ্ড
  3. প্রনয়
  4. ঘণ্টা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
' প্রনয়' শব্দটি - অশুদ্ধ।

• 'প্রনয়' শব্দটির সঠিক বানান হলো - 'প্রণয়'।

এখানে,
'প্রণয়' অর্থে প্রেম বা ভালোবাসা বোঝানো হয়।

বাকিগুলো সঠিক:
তৃণ (সঠিক), 
কাণ্ড (সঠিক),
ঘণ্টা (সঠিক)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৫১৩.
নিচের কোনটি বিপরীতার্থক শব্দ যোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস নয়?
  1. ক) আয় - ব্যয়
  2. খ) অহি - নকুল
  3. গ) লাভ - লোকসান
  4. ঘ) সবগুলোই বিপরীতার্থক
ব্যাখ্যা

যে সমাসে প্রতেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো -
অহি - নকুল, দা - কুমড়া, স্বর্গ - নরক ইত্যাদি।

বিপরীতার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস হলো:
জমা – খরচ, আয় – ব্যয়, ছোট – বড়, লাভ – লোকসান ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী

৪,৫১৪.
'গ্রেপ্তারি' শব্দটি 'গ্রেপ্‌তার' থেকে এসেছে। - এখানে 'গ্রেপ্‌তার' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি 
  2. তুর্কি
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফারসি 
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'গ্রেপ্তারি' শব্দটি ফারসি 'গ্রেপ্‌তার' থেকে এসেছে।
 অর্থ- গ্রেফতারি। 

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ: 
খরগোশ, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫১৫.
নিচের কোনটি নির্দেশক নয়?
  1. -জন
  2. -তম
  3. -খানা
  4. -টি
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক:
যেসব লগ্নক শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টতা বোঝায়, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
যেমন-টা, -টি, -খানা, -খানি, -জন, -টুকু।

• -টা, -টি:
- বিশেষ্য, সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে-টা, -টি নির্দেশক বসে।
- এর দুটি রূপান্তর:-টো ও -টে।
যেমন-
- বাড়িটা, ছেলেটা, এটা, সেটা, আমারটা ইত্যাদি।

• -খানা, -খানি:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, খানি নির্দেশক বসে।
যেমন-
- ব্যাপারখানা, ভাবখানা, একখানা, আধখানা, মুখখানি, অনেকখানি ইত্যাদি।

• -জন:
- শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়।
যেমন-
- বিজ্ঞজন, লোকজন, অনেকজন, কয়জন, এতজন, পণ্ডিতজন ইত্যাদি।

• -টুকু:
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়।
- বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়।
- এর রূপভেদ:-টু বা-টুক।
যেমন-
সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, , একটু, আধটু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৪,৫১৬.
"তোমার কথাগুলো অসত্য।" জটিল বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. তুমি কথাগুলো বললে তা কিন্তু অসত্য।
  2. তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
  3. তুমি কথাগুলো বললে এবং তা অসত্য।
  4. তুমি অসত্য কথা বলছো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: তোমার কথাগুলো অসত্য।
জটিল বাক্য: তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।

সরল বাক্য: বৃষ্টি হলে বের হব না।
জটিল বাক্য: যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫১৭.
'আয়াস' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. দুঃখ
  2. উদ্ভব
  3. ইচ্ছা
  4. ভাগ্য
ব্যাখ্যা
• ‘দুঃখ'র সমার্থক শব্দ: ক্লেশ, মেহনত, যন্ত্রণা, দুঃখ, আয়াস, পরিশ্রম।

অন্যদিকে,
• ‘উদ্ভব’ শব্দের সমার্থক শব্দ: জন্ম, উৎপত্তি, সৃষ্টি, ভূমিষ্ঠ, জনম, আবির্ভাব।

• ‘ইচ্ছা’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
আকাঙ্ক্ষা, আশা, ইচ্ছা, প্রার্থনা, চাওয়া, স্পৃহা, অভিপ্রায়, সাধ, অভিরুচি, প্রবৃত্তি, মনোরথ, ঈপ্সা, অভীপ্সা, বাসনা, কামনা, বাঞ্ছা।

• কপাল এর সমার্থক শব্দ: বিধিলিপি, দৈব, ভাগ্য, ললাট, অলীক, অদৃষ্ট, নিয়তি, ভাল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫১৮.
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ, কোন প্রকার বহুব্রীহির উদাহরণ-
  1. ক) সমানাধিকরণ
  2. খ) ব্যধিকরণ
  3. গ) ব্যাতিহার
  4. ঘ) মধ্যপদলোপী
ব্যাখ্যা
ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:
বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ এবং পরপদ কোনােটিই যদি বিশেষণ না হয়, তবে তাকে বলা হয় ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যেমন-
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ,
কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব,
পাপে মতি যার = পাপমতি,
পদ্ম নাভিতে যার = পদ্মনাভ,
ধর্মে মতি যার = ধর্মমতি,
দুষ্টু মতি যার = দুষ্টমতি,
নদী মাত যার = নদীমাতৃক,
ধর্মে প্রাণ আছে যার = ধর্মপ্রাণ,
ঊর্ণ নাভিতে যার = ঊর্ণনাভ,
বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি ইত্যাদি।
পরপদ কৃদন্ত বিশেষ্য হলেও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়।
যেমন-
দুই কান কাটা যার = দুকানকাটা,
ধামা ধরে যে = ধামাধরা,
বোটা খসেছে যার = বোঁটাখসা,
পা চাটে যে = পা-চাটা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫১৯.
মোজা > মুজো কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  2. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি 
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

মোজা > মুজো অন্যোন্য স্বরসঙ্গতির উদাহরণ। 
-------------------------
• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি-
- একটি শব্দে থাকা দুটি ভিন্ন স্বরধ্বনি যখন পরস্পরের প্রভাবে বদলে গিয়ে নতুন ধ্বনিগত রূপ সৃষ্টি করে, তখন তাকে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলে।
- এখানে কোনো একটি স্বর এককভাবে প্রভাব ফেলে না;
- বরং আগের ও পরের স্বরধ্বনি একে অপরকে প্রভাবিত করেই ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে; 
- এজন্য একে পারস্পরিক বা অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- উদাহরণ:
- মোজা > মুজো, 
- ঝোলা > ঝুলি, 
- পূজা > পুজো, 
- খেলা > খেলো, 
- মেলা > মেলো। 
-------------------------
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- স্বরসঙ্গতি বলতে বোঝায়—একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের ভেতরের অন্য স্বরধ্বনি বদলে যাওয়া।
- এতে শব্দের উচ্চারণে মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- সহজভাবে বলা যায়, স্বরসঙ্গতি হলো স্বরধ্বনির পারস্পরিক প্রভাবের ফল।
- বাংলার কথ্য ভাষায় এ ধরনের পরিবর্তন বেশি দেখা যায়।
- যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো।

- স্বরসঙ্গতি ৪ প্রকারে বিভক্ত-
- প্রগত; 
- পরাগত; 
- মধ্যগত; 
- অন্যোন্য। 
------------------------------------
অন্যদিকে,
• পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
- যখন শব্দের শেষের স্বরধ্বনির কারণে শুরু বা আগের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে পরাগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- এখানে পরের স্বর আগের স্বরকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ:
- দেশি > দিশি,
- আখো > এখো, 
- মিশে > মেশে।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive)-
- যখন শব্দের প্রথম স্বরধ্বনির প্রভাবে শেষের স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়, তখন তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলা হয়।
- অর্থাৎ আগের স্বর পরে থাকা স্বরকে বদলে দেয়।
- উদাহরণ:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি- 
- মধ্যগত স্বরসঙ্গতি বলতে এমন স্বরসঙ্গতিকে বোঝায়, যেখানে শব্দের প্রথম স্বরধ্বনি বা শেষের স্বরধ্বনির প্রভাবে মাঝখানে থাকা স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
- এর ফলে শব্দের ভেতরের স্বরধ্বনিগুলোর মধ্যে ধ্বনিগত মিল বা সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
- যেমন—
- বিলাতি থেকে বিলিতি-তে প্রথম ‘ই’ স্বরের প্রভাবে মাঝের ‘আ’ বদলে ‘ই’ হয়েছে।
- আবার জিলাপি থেকে জিলিপি -তে আদি ‘ই’ স্বরের কারণে মধ্যবর্তী ‘আ’ পরিবর্তিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলা ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৪,৫২০.
'নির্বন্ধ' শব্দটির অর্থ কি?
  1. বিধান
  2. নিগুট
  3. নিশ্চিত
  4. আগ্রহ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নির্বন্ধ' শব্দটির অর্থ:
- বিধান,
- আগ্রহ,
- পীড়াপীড়ি,
- অভিনিবেশ,
- যোগাযোগ। 

অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, সংসদ বাংলা অভিধান। 
৪,৫২১.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে?
  1. সে বই পড়ছে
  2. সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
  3. সে ঘুমিয়ে আছে
  4. সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না
ব্যাখ্যা
• সমধাতুজ কর্ম:
বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।
যেমন:
- 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি'- বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।

আবার,
- ‘সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না’- বাক্যে কর্মপদ চাল এবং ক্রিয়াপদ চেলেছে একই ধাতু চাল থেকে গঠিত হয়েছে। সমধাতুজ কর্মপদ অকর্মক ক্রিয়াকে সকর্মক করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫২২.
কোনটি পরাশ্রয়ী ধ্বনি নয়?
  1. ক) ৎ
  2. খ) ঃ
  3. গ) ং
  4. ঘ) ঁ
ব্যাখ্যা
পরাশ্রয়ী ধ্বনি:
- ং, ঃ, ঁ এ তিনটি স্বাধীন ভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। তাই এ বর্ণগুলােকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
- ং এর উচ্চারণ ঙ-এর উচ্চারণের মতাে। যেমন- রং (রঙ), বাংলা (বাংলা) ইত্যাদি।
- উচ্চারণে অভিন্ন হয়ে যাওয়ায় ং-এর বদলে ঙ এবং ঙ-এর বদলে ং-এর ব্যবহার খুবই সাধারণ। ং ঃ '-এ তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। তাই এ বর্ণগুলােকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• খণ্ড-ত (ৎ)- ‘ত বর্ণের হস-চিহ্ন যুক্ত (ত্‌)-এর রূপভেদ মাত্র।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫২৩.
‘কথাচ্ছলে’ শব্দটির সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) কথা + ছল
  2. খ) কথাঃ + ছল
  3. গ) কথা + ছলে
  4. ঘ) কথা + চ্ছলে
ব্যাখ্যা

কথা + ছলে = কথাচ্ছলে, পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ এর জায়গায় চ্ছ হচ্ছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৪,৫২৪.
'মন্বন্তর' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মন + অন্তর
  2. মনঃ + অন্তর
  3. মনো + অন্তর
  4. মনু + অন্তর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- উ-ধ্বনি বা ঊ-ধ্বনির পরে অন্য স্বরধ্বনি থাকলে উ অথবা ঊ-ধ্বনির জায়গায় ব-ফলা হয় এবং পরের স্বরধ্বনির চিহ্ন আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- মনু + অন্তর = মন্বন্তর,
- সু + আগত = স্বাগত,
- পশু + আচার = পশ্বাচার,
- অনু + ঈক্ষা = অন্বীক্ষা,
- তনু + ঈ = তন্বী,
- গুরু + ঈ = গুবী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫২৫.
’আদালত’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে জাত?
  1. আরবি
  2. বাংলা
  3. পর্তুগিজ
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা
• ’আদালত’ শব্দটি আরবি ভাষা থেকে জাত।

কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তকদির,
- তুফান,
- ফসল,
- মজলুম,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৫২৬.
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন কোনটি?
  1. উপসর্গ + মূল শব্দ
  2. ধাতু + প্রত্যয়
  3. ধাতু + উপসর্গ
  4. অব্যয় + অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) উপসর্গ + মূল শব্দ।

বিশ্লেষণ:
'অশিক্ষিত' শব্দের গঠন:

- অ (উপসর্গ) + শিক্ষিত (মূল শব্দ)।

এখানে:
- 'অ' একটি নেতিবাচক উপসর্গ যা 'না' বা 'নয়' অর্থ প্রকাশ করে
- 'শিক্ষিত' হলো মূল শব্দ যার অর্থ 'যে শিক্ষা লাভ করেছে'
- 'অ' উপসর্গ যোগে 'শিক্ষিত' শব্দের বিপরীত অর্থ তৈরি হয়েছে - 'যে শিক্ষা লাভ করেনি'।

অনুরূপ উদাহরণ:
- অসুস্থ = অ + সুস্থ;
- অযোগ্য = অ + যোগ্য;
- অপরিচিত = অ + পরিচিত।

সুতরাং 'অশিক্ষিত' শব্দটি উপসর্গ + মূল শব্দ দিয়ে গঠিত।
 
উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৫২৭.
'ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ -
  1. বৈয়াকরণ
  2. শাস্ত্রকার
  3. শাস্ত্রজ্ঞ
  4. ব্যাকরণবিদ
ব্যাখ্যা

• 'ব্যাকরণে পণ্ডিত যিনি' এর এক কথায় প্রকাশ - বৈয়াকরণ

অন্যদিকে,
যিনি ব্যাকরণ রচনা করেন - ব্যাকরণবিদ
স্মৃতিশাস্ত্র রচনা করেন যিনি - শাস্ত্রকার।
স্মৃতিশাস্ত্রে পণ্ডিত যিনি - শাস্ত্রজ্ঞ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৫২৮.
সমুদ্র - এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. অর্নব
  2. ইরাবান
  3. আপ্লব
  4. নীলাম্বু
  5. বারিধি
ব্যাখ্যা
সমুদ্র এর সমার্থক শব্দগুলো হলো - বারিধি, জলনিধি, অম্বুধি, জলধি, পয়োনিধি, সিন্ধু, অর্ণব, পারাবার, রত্নাকর, ইরাবান, নীলাম্বু ইত্যাদি।
আপ্লব শব্দের অর্থ বন্যা, জলপ্লাবন, আবগাহন।
৪,৫২৯.
কোনটি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন?
ব্যাখ্যা
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।

যেমন:
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- 'ক, খ, গ কন্ঠ ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৩০.
'আজকাল শহরের অনেকেই কুলোপনা চক্করের দলে পড়েছেন।' - এখানে 'কুলোপনা চক্কর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. উচ্ছৃঙ্খল
  2. অত্যন্ত কৃপণ
  3. সাড়হীন আড়ম্বর
  4. অনভিজ্ঞ
ব্যাখ্যা
• 'আজকাল শহরের অনেকেই কুলোপনা চক্করের দলে পড়েছেন।' - এখানে 'কুলোপনা চক্কর' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'সাড়হীন আড়ম্বর'।

অন্যদিকে, 
• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'উচ্ছৃঙ্খল',
• 'কিপটের জাসু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'অত্যন্ত কৃপণ',
• 'কেবলা হাকিম' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - 'অনভিজ্ঞ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৩১.
"তালাচাবি" কোন ভাষার শব্দের সংমিশ্রণে গঠিত?
  1. আরবি + তৎসম
  2. আরবি + আরবি
  3. বাংলা + পর্তুগিজ
  4. ফারসি + আরবি
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'তালাচাবি' শব্দটি "বাংলা (তালা) এবং পর্তুগিজ (চাবি) শব্দের সংমিশ্রণে গঠিত।

•  'তালাচাবি' শব্দের অর্থ:
- বাক্স, কপাট প্রভৃতি খোলার সরঞ্জাম।

আরো কয়েকটি মিশ্র ভাষার শব্দ: 
আদমশুমারি = আরবি + ফারসি,
হেড - মৌলবি = ইংরেজি + আরবি,
ওকালতনামা = আরবি + ফারসি, 
রাজা-উজির =  তৎসম + আরবি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫৩২.
'কাঁচি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. হিন্দি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে,
'কাঁচি' - তুর্কি শব্দ। 

'কাঁচি' (বিশেষ্য)- শব্দের অর্থ: 
- কাপড় কাগজ প্রভৃতি কাটার জন্য ব্যবহৃত দুটি হাতলযুক্ত ইস্পাতের ফলা একত্রে জুড়ে তৈরি ধারালো অস্ত্রবিশেষ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
৪,৫৩৩.
নিচের কোন বিপরীত শব্দজোড় শুদ্ধ নয়?
  1. ক) ঊর্ধ্ব - আধঃ
  2. খ) উত্তম - মধ্যম
  3. গ) উত্থান - পতন
  4. ঘ) উত্তর - দক্ষিণ
ব্যাখ্যা
উত্তম - মধ্যম- এটি একটি অশুদ্ধ বিপরীতার্থক শব্দজোড়।
• সঠিক শব্দজোড়: উত্তম-অধম।

অন্যদিকে, সঠিক বিপরীতার্থক হলো:
ঊর্ধ্ব - আধঃ
উত্থান - পতন
উত্তর - দক্ষিণ

গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দজোড় :
কৃতজ্ঞ - অকৃতজ্ঞ
কৃতঘ্ন - কৃতজ্ঞ/প্রত্যুপকারী।
গরিষ্ঠ - লঘিষ্ঠ।
ঘাতক - পলাতক।
ক্ষুণ্ণ - প্রসন্ন/অক্ষুণ্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৩৪.
"বাবু > বাপু" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. বিষমীভবন
  2. অঘোষীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা

অঘোষীভবন:
- ঘোষধ্বনি অঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে অঘোষীভবন বলে।

যেমন,
- বাগ > বাক,
- বাবু > বাপু,
- কাজকাম > কাচকাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫৩৫.
'অথই' শব্দের 'অ' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ছাড়া
  2. অশুভ
  3. অভাব
  4. ক্রমাগত
ব্যাখ্যা
'অ' উপসর্গের ব্যবহার:
নিন্দিত অর্থে = অকাজ, অকেজো, অবেলা, অপায়া।
ক্রমাগত অর্থে = অঝোর, অঝোরে, অঘোরে।
অভাব অর্থে = অজানা, অচেনা, অচিন, অথই

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়।
যেমন:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৩৬.
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ -
  1. পঙ্কজ
  2. অরবিন্দ
  3. বিটপী
  4. কান্তার
ব্যাখ্যা

'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
 
অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
 
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫৩৭.
একাদিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে, তাকে কি বলে?
  1. ক) সন্ধি
  2. খ) সমাস
  3. গ) বাচ্য
  4. ঘ) বাক্য সংক্ষেপণ
ব্যাখ্যা

একাদিক পদ বা উপবাক্যকে একটি শব্দে প্রকাশ করা হলে তাকে বাক্য-সংক্ষেপণ বলে।
এটি বাক্য সংকোচন বা এক কথায় প্রকাশে'রই নামান্তর।
বহুপদকে একপদে পরিণত করার মধ্য দিয়ে বাক্যাংশের বা বাক্যের সংকোচন কাজ চলে।একেই বলা হয় বাক্য সংকোচন, নামান্তরে একপদীকরণ বা বাক্‌সংহতি।
যেমনঃ যা বার বার দুলছে = দোদুল্যমান।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,৫৩৮.
কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট ?
  1. ক) কথ্য ভাষা
  2. খ) আঞ্চলিক ভাষা
  3. গ) সাধু ভাষা
  4. ঘ) চলিত ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা  বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং  চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

অপরদিকে, 
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৫৩৯.
নিচের কোন শব্দগঠনে তৎসম উপসর্গ ব্যবহার করা হয়েছে? 
  1. অনুশোচনা
  2. দুশ্চিন্তা
  3. বরখাস্ত
  4. হাজিরা
ব্যাখ্যা

অনুশোচনা তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ।

• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ হলো সেই উপসর্গ যা সংস্কৃত থেকে এসেছে এবং
- সংস্কৃত ধাতু/শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে—যেমন প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির্, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অভি, অতি, অপি, উপ, আ।
- অনুশোচনা = 'অনু' (উপসর্গ) + 'শোচনা' (মৌলিক শব্দ), তাই এটি তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত।
- কিছু তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত শব্দ:
• অনুমান: 'অনু' (উপসর্গ) + 'মান' (মৌলিক শব্দ);
• পরিষ্কার: 'পরি' (উপসর্গ) + 'ষ্কার' (মৌলিক শব্দ);
• অবরোহণ: 'অব' (উপসর্গ) + 'রোহণ' (মৌলিক শব্দ);
• অধিগমন: 'অধি' (উপসর্গ) + 'গমন' (মৌলিক শব্দ)।
---------------------------------------------------------
• উপসর্গ:
- উপসর্গ হলো অর্থহীন অব্যয়সূচক শব্দাংশ।
- এটি মূল শব্দ বা ধাতুর আগে যুক্ত হয়ে নতুন অর্থযুক্ত শব্দ গঠন করে। 
- এটি শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সংকোচন বা সম্প্রসারণ ঘটায়। 
- যেমন— ‘অ’ + কাজ = অকাজ, ‘সু’ + দিন = সুদিন, ‘প্র’ + সরণ = প্রসারণ। 
- উপসর্গ একা ব্যবহৃত হতে পারে না, অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থবহ শব্দ তৈরি করে।
- বাংলা ভাষায় তিন ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়।
- খাঁটি বাংলা,
- সংস্কৃত বা তৎসম,
- এবং বিদেশি উপসর্গ।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,৫৪০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) পসারী
  2. খ) পসারিণী
  3. গ) পসারীণী
  4. ঘ) পসারিনী
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বানান গুলোর মধ্যে শুদ্ধ বানান হলো 'পসারিণী'
পসারি শব্দের অর্থ হলো-
১) দোকানদার; পণ্যবিক্রেতা।
২) মিছরি, মসলা, বিবিধ গাছগাছড়া, শুষ্ক ফল ইত্যাদি।

পসারি শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ হলো (বিশেষণ)।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান
৪,৫৪১.
শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. রূপ
  3. বর্ণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশকে - ধ্বনি বলে। 
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
তাই অপশনে ধ্বনি ও বর্ণ দুটিই থাকলে সঠিক উত্তর হবে ধ্বনি, এবং অপশনে যদি ধ্বনি না থাকে এবং বর্ণ থাকে তাহলে সঠিক উত্তর হবে বর্ণ।
----------------- 

• ধ্বনি: 
- বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়। 
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
-----------------

বর্ণ: 
- যেসব প্রতীক বা চিহ্ন দিয়ে ধ্বনি নির্দেশ করা হয় তাদের বর্ণ বলে। 
- বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ। 

• রূপ:
ব্যাকরণে রূপ বলতে বুঝায় - বিভক্তিযুক্ত শব্দ বা ধাতু (শব্দরূপ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 

৪,৫৪২.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ঠনঠন করা
  2. এগিয়ে চলা
  3. সরে দাঁড়ানো
  4. মরে যাওয়া
ব্যাখ্যা

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৫৪৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) উত্ + লম্ব = উল্লম্ব
  2. খ) বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা
  3. গ) উৎ + ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
  4. ঘ) ভ্রাতু + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র
ব্যাখ্যা

- সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো বৃহৎ + ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা৷

উচ্ছাস, ভ্রাতুষ্পুত্র, উল্লম্ব শব্দগুলোর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলোঃ
- উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
- ভ্রাতুঃ + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র,
- উৎ + লম্ব = উল্লম্ব৷

উৎসঃ‌ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।

৪,৫৪৪.
নিচের কোন বিপরীত শব্দযুগল অশুদ্ধ?
  1. ক) শিষ্ট - শান্ত
  2. খ) অন্তরঙ্গ - বহিরঙ্গ
  3. গ) অন্ত - অনন্ত
  4. ঘ) জঙ্গম - স্থাবর
ব্যাখ্যা
সঠিক বিপরীত শব্দ -
শিষ্ট - অশিষ্ট;
অন্তরঙ্গ - বহিরঙ্গ;
অন্ত - অনন্ত;
অস্থাবর, জঙ্গম - স্থাবর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম - দশম শ্রেণি
৪,৫৪৫.
’মর্সিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ’মর্সিয়া’ ফারসি ভাষা থেকে আগত একটি শব্দ।
অর্থ- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা।

• আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ ফারসি শব্দ : দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫৪৬.
সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে-
  1. ক) শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়
  2. খ) শব্দার্থ পরিবর্তিত হয়
  3. গ) শব্দার্থের অবনতি ঘটে
  4. ঘ) শব্দ ভাণ্ডার হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে- শব্দ ভান্ডার সমৃদ্ধ হয়

⇒ সমজাতীয় অর্থ প্রকাশক শব্দকে সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ বলে। বাংলা ভাষায় শব্দভান্ডারে এমন অনেক শব্দ আছে যা অন্য একটি শব্দের প্রতিশব্দ অর্থাৎ অন্য একটি শব্দের অনুরূপ বা একই অর্থ বা নম-অর্থ প্রকাশ করে। এরূপ সমান অর্থজ্ঞাপক ভিন্ন শব্দই সমার্থক শব্দ।

• বাংলা ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় সমার্থবোধক শব্দ বা প্রতিশব্দের অর্থ হলো বহু অর্থপ্রদানকারী শব্দ, যা স্থান ও কালভেদে শব্দের মৌলিক অর্থ ঠিক রেখে বিভিন্ন রূপে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
আকাশ : অম্বর, গগন, শূন্য।
নদী: প্রবাহিনী, তটিনী, তরঙ্গিনী।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হায়াৎ মামুদ)।
৪,৫৪৭.
প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের সময় কী ধরনের শব্দের পরিবর্তন হয়?
  1. কালবাচক ও স্থানবাচক
  2. ভাববাচক
  3. স্থানবাচক
  4. কালবাচক
ব্যাখ্যা
উক্তি:
বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন-
প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।” – এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরােক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।
যেমন -
প্রত্যক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন, “আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।”
পরােক্ষ উক্তি: লােকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন।

উৎস; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৪,৫৪৮.
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) পদ
  2. খ) বাক্যাংশ
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) বচন
ব্যাখ্যা
• শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগে বর্ণনা করা যায়:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে এগুলোর নাম লগ্নক।
• লগ্নক চার ধরণের:
বিভক্তি
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
৪,৫৪৯.
নিচের কোনটি বিষমীভবনের উদাহরণ?
  1. ধোবা > ধোপা
  2. পক্ব > পক্ক 
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. লাল> নাল
ব্যাখ্যা
বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন - শরীর > শরীল, লাল> নাল। 

অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন - ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি। 

সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন - জন্ম > জম্ম, পক্ব > পক্ক ।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন - কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৫০.
'মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে' কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) অভিশ্রুতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি (Umlaut):
- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া কিংবা বিপর্যয়ের ফলে কইরা থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
এরূপ- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া >কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া >হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৫১.
কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. মিশুক
  2. মিথ্যুক
  3. নিন্দক
  4. চড়ক
ব্যাখ্যা

•  কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - মিথ্যুক = মিথ্যা + উক। এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
→ √চড়্‌ + ক = চড়ক।
→ √নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক।
→ √মিশ + উক = মিশুক।
উপরের উদাহরণগুলোতে, 'ক', 'অক' এবং 'উক' হলো কৃৎ-প্রত্যয় এবং 'চড়ক', 'নিন্দক' এবং 'পাঠক' হলো কৃদন্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৪,৫৫২.
'মাস্টারসাহেব' কোন সমাস?
  1. সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. অলুক তৎপুরুষ সমাস
  4. বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
যে সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে বলা হয় কর্মধারয় সমাস।
যেমন:
- যিনি মাস্টার তিনিই সাহেব = মাস্টারসাহেব।
- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম।
- যে শান্ত সেই শিষ্ট = শান্তশিষ্ট।
- যা কাঁচা তাই পাকা = কাঁচাপাকা।
- যিনি জজ তিনিই সাহেব = জজসাহেব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৫৫৩.
বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৭ টি
  3. ৫ টি
  4. ৩ টি
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি:
- ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি; মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

মৌলিক স্বরধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
- [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪,৫৫৪.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. ড্যাস
  4. দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে যতিচিহ্ন বোঝায়।
- যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্ন ২ প্রকার:
 - প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
 - বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৫৫.
সমীভবন ঘটিত পরিবর্তন যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে হয় এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয় তবে তাকে _____বলে।
  1. প্রগত সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
সমীভবন ঘটিত পরিবর্তন যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে হয় এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয় তবে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমনঃ গল্প>গপ্প, বদ্‌ + জাত> বজ্জাত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৫৫৬.
দন্ত্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
  1.  ধ
ব্যাখ্যা

• দন্ত্য ব্যঞ্জন নয়- স। 
-  স- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন। 

--------------------
• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,৫৫৭.
সর্বনাম পদের চলিতরীতির উদাহরণ কোনটি?
  1. তাহা
  2. কেহ
  3. এই
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম পদের চলিতরীতির উদাহরণ - এ।

চলিত ভাষারীতি:

১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

সর্বনামপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু-চলিত:
→ এই-এ, 
→ ইহা-এ, 
→ ইহাকে-একে, 
→ ইহাদের এদের, 
→ উহা-ও, 
→ উহাদিগের-ওদের, 
→ কাহাকে-কাকে, 
→ কেহ-কেউ, 
→ তাহা-তা, 
→ তাহার-তার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,৫৫৮.
কুল + নীল = কুলীন - কোন প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. কৃৎ প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
• এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়। 
- 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয় হচ্ছে কুলীন (কুল + নীন)।
- নব + নীন = নবীন,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন ইত্যাদি আরো কিছু 'নীন (ঈন্)' প্রত্যয়যোগে গঠিত সংস্কৃত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷
৪,৫৫৯.
তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে, কোন বর্ণটির সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়?
  1. সবগুলোই
  2. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে,
ট- বর্গের (ট, ঠ, ড, ঢ) সঙ্গে যুক্ত 'দন্ত-ন' পরিবর্তিত হয়ে 'মূর্ধন্য-ণ' হয়ে যায়। 
যেমন,
- মণ্ড, উৎকণ্ঠা , লুণ্ঠন, বণ্টন, খণ্ড, ভণ্ড, কাণ্ড ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,৫৬০.
'গোবরগণেশ' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
  3. গ) উপমিত কর্মধারয়
  4. ঘ) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যে মধ্যপদের লোভ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন- গোবরে জন্ম যে গণেশ = গোবরগণেশ, সাহিত্য বিষয়ক সভা = সাহিত্যসভা।
উৎসঃ বাংলা প্রশ্নের টীকা-ভাষ্য, অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৬১.
"গায়েপড়া" শব্দটি কোন ধরনের বহুব্রীহি সমাস?
  1. সংখ্যাবাচক
  2. পদলোপী
  3. ব্যাধিকরণ
  4. অলুক
ব্যাখ্যা
"গায়েপড়া" শব্দটি অলুক বহুব্রীহি সমাস।

• অলুক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসে সমস্যমান পদের পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
যেমন-
- গায়ে এসে পড়ে যে = গায়েপড়া,
- কানে খাটো যে = কানেখাটো।

• অন্যান্য অপশন:
• সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন-
- চার ভুজ যে ক্ষেত্রের = চতুর্ভুজ,
- সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

পদলোপী বহুব্রীহি সমাস
- যে বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্য থেকে এক বা একাধিক পদ লোপ পায়, তাকে পদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন-
- চিরুনির মতো দাঁত যার চিরুনদাঁতি,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে হাতেখড়ি।

• ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
- পূর্বপদ ও পরপদ উভয়ই বিশেষ্য (কখনো কখনো ক্রিয়াবিশেষ্য) হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি হয়।
যেমন-
- গোঁফে খেজুর যার = গোঁফখেজুরে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৪,৫৬২.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক ও
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,৫৬৩.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি? 
  1. শ্চ
  2. ল্ফ
  3. ষ্ট
  4. ব্ধ 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট ইত্যাদি।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

৪,৫৬৪.
"পরানপ্রিয়" শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. নিত্য সমাস
ব্যাখ্যা
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
- যে সমাসে পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তির (হইতে, থেকে, চেয়ে) লােপ পায় তাকে বলা হয় পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস।

যেমন:
- পরানের চেয়ে প্রিয় = পরানপ্রিয়, 
- আগা থেকে গোড়া = আগাগোড়া, 
- রোগ হতে মুক্ত = রোগমুক্ত,
-  ঋণ হতে মুক্ত = ঋণমুক্ত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৬৫.
'ঝাঁক' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. জাতিবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: 
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৬৬.
'কলকাঠি নাড়া' বাগধারাটির অর্থ কি?
  1. ক) গোপনে সু-পরামর্শ দেয়া
  2. খ) গোপনে কু-পরামর্শ দেয়া
  3. গ) গুপ্তচরবৃত্তি
  4. ঘ) সমস্যা সমাধান
ব্যাখ্যা
'কলকাঠি নাড়া' বাগধারাটির অর্থ গোপনে কু-পরামর্শ দেয়া।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা-ড.হায়াৎ মামুদ
৪,৫৬৭.
শুদ্ধ বাক্যটি শনাক্ত করুন।
  1. ক) তিনি স্বস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন
  2. খ) তুমি, করিম ও আমি আজ পড়িতে যাইব
  3. গ) ভাত ছড়ালে শালিকের অভাব হয় না
  4. ঘ) তার দুচোখ অশ্রুতে ভেসে গেলো
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য -
তিনি সস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন।
করিম, তুমি ও আমি আজ পড়িতে যাইব।
ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয় না।
তার দুচোখ অশ্রুতে ভেসে গেলো।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৫৬৮.
'ঝানু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ঝুনা
  2. খ) মজবুত
  3. গ) আনাড়ি
  4. ঘ) রুষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'ঝানু' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = 'আনাড়ি'

অন্যদিকে, 
'ঝুনা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = কাচা/কচি 
'ঠুনকো' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = মজবুত 
 'তুষ্ট' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = রুষ্ট

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৬৯.
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি কোনটি?
  1. ক্ষুৎপিপাসা
  2. একাদশ
  3. ষষ্ঠ
  4. উত্থাপন
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ হলো:
বন + পতি = বনস্পতি,
আ + চর্য = আশ্চর্য,
গো + পদ = গোষ্পদ,
পর + পর = পরস্পর,
ষট্ + দশ = ষোড়শ,
এক্‌ + দশ = একাদশ,
পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ক্ষুধ + পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
ষম্ + থ্ = ষষ্ঠ; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।
উৎ + স্থাপন = উত্থাপন; এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৭০.
ভাব অর্থে 'ই / ঈ' প্রত্যয়যুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. পোদ্দারি
  2. উমেদারি
  3. মােক্তারি
  4. দোকানি
ব্যাখ্যা
ই/ঈ - প্রত্যয়:

ভাব অর্থে:
- বাহাদুর +ই = বাহাদুরি,
- উমেদার- উমেদারি

বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে:
- ডাক্তার-ডাক্তারি,
- মােক্তার-মােক্তারি,
- পােদ্দার-পােদ্দারি,
- ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।

মালিক অর্থে:
- জমিদার-জমিদারি,
- দোকান-দোকানি

জাত, আগত বা সম্বন্ধ বােঝাতে:
- ভাগলপুর-ভাগলপুরি,
- মাদ্রাজ-মাদ্রাজি,
- রেশম-রেশমি,
- সরকার-সরকারি (সম্বন্ধ বাচক)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৭১.
'ন্যাকামিটা এখন রাখ' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সাথে 'টা' যুক্ত হয়ে কোন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
  1. ভিন্নার্থকতা
  2. ব্যর্থতা
  3. নিরর্থকতা
  4. সার্থকতা
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশকের ব্যবহার:
(ক) ‘এক’ শব্দের সঙ্গে টা, টি, যুক্ত হলে অনির্দিষ্টতা বোঝায়। 
যেমন
- একটি দেশ, সে যেমনই হোক দেখতে। কিন্তু অন্য সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে টা, টি যুক্ত হলে নির্দিষ্টতা বোঝায়।
যেমন: তিনটি টাকা, দশটি বছর।

(খ) নিরর্থকভাবেও নির্দেশক টা, টি-র ব্যবহার লক্ষণীয়।
 যেমন:
- সারাটি সকাল তোমার আশায় বসে আছি।
- ন্যাকামিটা এখন রাখ।

(গ) নির্দেশক সর্বনামের পরে টা, টি যুক্ত হলে তা সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়।
যেমন:
- ওটি যেন কার তৈরি?
- এটা - নয় ওটা আন। 
- সেইটেই ছিল আমার প্রিয় কলম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৭২.
'অসময়ের আবির্ভাব' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) তুলকালাম
  2. খ) অকাল বোধন
  3. গ) ঢাকঢোল পেটানো
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘অকাল বোধন' বাগধারাটির অর্থ - অসময়ের আবির্ভাব।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা হলো:
‘ঢাকঢোল পেটানো’ বাগধারাটির অর্থ - প্রচারণা।
‘ঢি ঢি পড়া’ বাগধারাটির অর্থ - দুর্নাম রটনা।
‘ঢুঁ মারা’ বাগধারাটির অর্থ - অনুসন্ধান/চেষ্টা।
‘তালপাতার সেপাই’ বাগধারাটির অর্থ - রুগ্ণ/ছিপছিপে।
তুলকালাম’ বাগধারাটির অর্থ - হৈ চৈ/ সাংঘাতিক ঘটনা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৭৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) স্যাঁতসেতেঁ
  2. খ) স্যাঁতসেঁতে
  3. গ) স্যাঁতসেতে
  4. ঘ) স্যাতঁসেতেঁ
ব্যাখ্যা
- শুদ্ধ বানান হচ্ছে স্যাঁতসেঁতে।

• স্যাঁতসেঁতে (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শ্যাত্‌ঁশেঁতে।
- এর অর্থ হচ্ছে ঈষৎ সিক্ত, প্রায় ভেজা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,৫৭৪.
নিচের বাক্যগুলোর মধ্যে সঠিক বাক্য-
  1. আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্যতা করা অনুচিত।
  2. অনুষ্ঠানে স্ববান্ধবে আপনি আমন্ত্রিত।
  3. ছাত্রদের কঠোর অধ্যাবসায় প্রশংসনীয়।
  4. মুমূর্ষু লোকটিকে সাহায্য করা উচিত।
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে ভুল বাক্যের সঠিক রূপঃ
- 'আবশ্যকীয় ব্যয়ে কার্পণ্যতা করা অনুচিত।' এর সঠিক বাক্য 'আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।'
- অনুষ্ঠানে স্ববান্ধবে আপনি আমন্ত্রিত। এর সঠিক বাক্য 'অনুষ্ঠানে আপনি সবান্ধব আমন্ত্রিত।'
- ছাত্রদের কঠোর অধ্যাবসায় প্রশংসনীয়। এর সঠিক বাক্য 'ছাত্রদের কঠোর অধ্যবসায় প্রশংসনীয়।'
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রতিম বাংলা বানানের নিয়ম।

৪,৫৭৫.
'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. উচ্ছৃঙ্খল
  2. খুঁটিনাটি
  3. অপব্যয়
  4. কাণ্ডজ্ঞানহীন
ব্যাখ্যা
• 'নয়-ছয়' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অপব্যয়।

অন্যদিকে,
• 'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - উচ্ছৃঙ্খল।
• 'বারো সতেরো' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - খুঁটিনাটি।
• 'গোঁয়ার গোবিন্দ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৫৭৬.
নিচের কোনটি একবচন প্রকাশক পদাশ্রিত নির্দেশক?
  1. টা
  2. টে
  3. গুলো
  4. জন
ব্যাখ্যা
পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 
 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক:
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত। 

বাংলা পদাশ্রিত নির্দেশকের ধরন:
বাংলা ভাষায় বচনভেদে পদাশ্রিত নির্দেশক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন -

ক. একবচন প্রকাশে: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
যেমন - কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, ইত্যাদি।

খ. বহুবচন প্রকাশে: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
যেমন - আমগুলি, ফলগুলো, গরুগুলো, কুকুরগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

গ. কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা প্রকাশে: টে, টুকু, টুকুন ইত্যাদি। 
যেমন - তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েস টুকুন, এতটুকুন মেয়ে প্রভৃতি। 

ঘ. অনির্দেশক প্রত্যয়: টি, টা, এক, জন, খান ইত্যাদি দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে বোঝায় না। তাই এসব প্রত্যয় অনির্দেশক প্রত্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। 
যেমন - একটা গল্প বলি, চারটি ভাত দাও, জন চারেক লোক হলেই চলবে, এক যে ছিল রাণী, গোটা কয়েক সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,৫৭৭.
'গুরুভক্তি' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. উপমান কর্মধারায় সমাস
  2. উপপদ তৎপুরুষ সমাস
  3. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  4. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, রে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। চতুর্থী বিভক্তির চিহ্ন কে, রে। নিমিত্ত বা জন্য অর্থেও চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন:
- দেবকে দত্ত = দেবদত্ত;
- বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল। 

এরকম- 
• গুরুকে ভক্তি - গুরুভক্তি।
• বসতের নিমিত্ত বাড়ি - বসতবাড়ি।
• মুক্তির নিমিত্তে বা জন্য যুদ্ধ - মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৭৮.
'আগুন'- এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) ভাতি
  2. খ) সর্বশুচি
  3. গ) অংশ
  4. ঘ) জ্যোতি
ব্যাখ্যা
আগুন শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল,
- পাবক,
- অগ্নি,
- বহ্নি,
- হুতাশন 
- বৈশ্বানর,
- সর্বশুচি
 
উৎস : বাংলা একাডেমি অভিধান, বাংলা ভাষা শিক্ষা (হায়াৎ মামুদ), বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,৫৭৯.
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪,৫৮০.
'আইন শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
• 'আইন'
- বিশেষ্য পদ।
- ফারসি শব্দ।
  অর্থ: 
- দেশের সকল অধিবাসী মেনে চলতে বাধ্য এমন রাষ্ট্রীয় বিধান,
- নিয়ম,
- বিধি,
- কানুন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৫৮১.
'লেশ' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. যথেষ্ঠ
  2. লগ্ন
  3. বিনীত
  4. নিষ্ঠুর
ব্যাখ্যা
• 'লেশ' শব্দের বিপরীত শব্দ হচ্ছে - যথেষ্ঠ

অন্যদিকে,
- 'উদ্ধত' এর বিপরীত শব্দ - বিনীত।
- 'লগ্ন' এর বিপরীত শব্দ - চ্যুত।
- 'মরমি' এর বিপরীত শব্দ - নিষ্ঠুর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৮২.
'উচাটন' এর বিপরীত শব্দ - 
  1. ব্যাকুল
  2. সঞ্চয়
  3. প্রশান্ত
  4. সরল
ব্যাখ্যা

• 'উচাটন' এর বিপরীত শব্দ - প্রশান্ত।
------------------
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
উচাটন (বিশেষণ)
অর্থ: ব্যাকুল; অস্বস্তিপূর্ণ; উৎকণ্ঠিত, 
(বিশেষ্য) অর্থ: ব্যাকুলতা; উৎকণ্ঠা।

অন্যদিকে,
• 'প্রশান্ত' (বিশেষণ) অর্থ:
- অতিশয় শান্ত, ধীর, স্থির; অব্যাকুল; নিবৃত্ত; শান্তিময়।
------------ 
• শব্দের অর্থানুসারে, 'উচাটন' এর বিপরীতার্থক শব্দ - প্রশান্ত।
---------------------- 
অন্যদিকে,
- 'সঞ্চয়' শব্দের বিপরীতর্থক শব্দ = অপচয়।
- 'জটিল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ = সরল।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫৮৩.
'পেয়ারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ফরাসী 
  2. হিন্দি
  3. পর্তুগিজ
  4. রুশ 
ব্যাখ্যা

পেয়ারা পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• পর্তুগিজ শব্দ:

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ শব্দ হলো:
• গির্জা,
•  চাবি,
• গুদাম,
• আলমারি,
• আনারস,
পেয়ারা,
• সাবান,
• কেরানি,
• পাদ্রি,
• বালতি,
• কেদারা,
• কামরা,
• জানালা,
• বারান্দা,
• আলমারি,
• গুদাম,
• পেঁপে,
• পাউরুটি,
• তোয়ালে,
• বোতাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ফরাসী ভাষা থেকে আগত শব্দ- আয়োডিন, থিয়েটার, ইত্যাদি। 
- হিন্দি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বহু শব্দ এসেছে, যেমন - 'জঙ্গল', ‘পালকি’,‘চাটনি’, ‘চামচা', 'হাওয়া', 'দোস্ত', 'পাগল', 'শহিদ', 'গুমটি', 'খানা', 'বাজার' ইত্যাদি। 
- রুশ ভাষা থেকে আগত শব্দ- 'কমরেড', 'বলশেভিক', ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,৫৮৪.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. অধ্যাপক
  2. বাদশা
  3. মহীয়ান
  4. জল্লাদ
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ - জল্লাদ।

অন্যদিকে,
• 'অধ্যাপক' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- অধ্যাপিকা।
• 'মহীয়ান' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- মহীয়সী।
• 'বাদশা'- এর স্ত্রীবাচক শব্দ- বেগম।

--------------------
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ: 
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন: গুন্ডা, জল্লাদ, লম্পট, পুরোহিত, কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
আবার কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক, এদের পুরুষবাচক শব্দ নেই, এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে
যেমন: সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই, অসতী, গর্ববতী ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ),
৪,৫৮৫.
'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়- নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. ঘর্ষণ
  2. উৎকৃষ্ট
  3. ষড়যন্ত্র
  4. মুমূর্ষু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + र् + ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'য' হয়। যেমন: সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক,  বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। অভিসেক > অভিষেক,  অনুস্থান > প্রতিষ্ঠান। 

৩. 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'য' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'য' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।ণ
৪,৫৮৬.
কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ঘ, ঙ, ক
  2. হ, গ, খ
  3. ফ, ঠ, ছ
  4. জ, ভ, ল
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,৫৮৭.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অনুসঙ্গ
  2. চক্ষুষ্মান
  3. উৎকৃষ্ট
  4. মুমূর্ষু
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- অনুসঙ্গ। 
- শুদ্ধ বানান - অনুষঙ্গ।  

--------------------
• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন- অভিষেক, সুষুপ্ত, অনুষঙ্গ, প্রতিষেধক, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৮৮.
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোন গুলো?
  1. ক) ক, খ, গ, ঘ
  2. খ) ত, থ, দ, ধ
  3. গ) ট, ঠ, ড, ঢ
  4. ঘ) চ, ছ, জ, ঝ
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,৫৮৯.
'কত ধানে কত চাল তা আমি জানি।' - বাক্যে 'ধানে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. অধিকরণে ৭মী
ব্যাখ্যা
অপাদান কারক:
- যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে।
এই কারকে সাধারণত হতে’, ‘থেকে ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে।
যেমন -
- জমি থেকে ফসল পাই।
- সুপ্তি থেকে মুক্তো মেলে।
- কত ধানে কত চাল তা আমি জানি। অপাদানে ৭মী বিভক্তি।

অন্যদিকে,
অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে।
যেমন:
- বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়৷
- তিলে তৈল আছে।

করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে।
- এই কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়।
যেমন,
-ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে।

কর্ম কারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- বাক্যের মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্ম- উভয় ধরনের কর্মই কর্ম কারক হিসেবে গণ্য হয়।
- সাধারনত মুখ্য কর্ম কারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্ম কারকে- 'কে' বিভক্তি হয়।
যেমন,
- শিক্ষককে জানাও।
- অসহায়কে সাহায্য করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৪,৫৯০.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. দোধারি
  2. দোতালা
  3. দোকান
  4. দোটানা
ব্যাখ্যা
• দোকান (বিশেষ্য),
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: যে গৃহ থেকে পণ্য-সামগ্রী ক্রয় করা যায়; বিপণি; পণ্যশালা।

অন্যদিকে,
• দোধারি (বিশেষণ),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: দুদিকে ধার আছে এমন।

• দোতালা (বিশেষণ),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: দুই তল বিশিষ্ট; পাকা বাড়ির দ্বিতীয় তল।

• দোটানা (বিশেষ্য),
- বাংলা শব্দ।
অর্থ: বিপরীতধর্মী দুটি ভিন্ন বস্তু বা দিকের প্রতি আকর্ষণজনিত দ্বিধা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,৫৯১.
'ক্ষ্ম' যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি?
  1. ক্ + ম + ষ্
  2. ক্ + ষ্ + ম
  3. ক্ + ক্ষ + ম
  4. ক্ + ষ্ + হ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষ্ম' যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ - ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।
৪,৫৯২.
‘নন্দিত’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বিষন্ন
  2. বিষাদ
  3. প্রচ্ছন্ন
  4. এর কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নন্দিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ = নিন্দিত।

কিছু বিপরীতার্থক শব্দযুগল সমূহ- 
- হলাহল-সুধা/ অমৃত,
- হর্ষ/হরিষ - বিষাদ,
- প্রসন্ন - বিষণ্ণ,
- সন্নিকৃষ্ট - বিপ্রকৃষ্ট,
- সন্ধি - বিগ্রহ/বিবাদ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,৫৯৩.
নিচের কোনটি দেশী শব্দ না?
  1. ক) কোলা
  2. খ) ডাব
  3. গ) বাকি
  4. ঘ) ঢেঁকি
ব্যাখ্যা
দেশী শব্দ - গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, কোলা, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি।
‘বাকি’ আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,৫৯৪.
বুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ কয় প্রকার?
  1. ৪ প্রকার
  2. ১ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ব্যুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ গুলিকে দুটিভাগে ভাগ করা যায়- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ

• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- সংস্কৃত অনুসর্গ
- বিবির্তিত অনুসর্গ
- ফারসি অনুসর্গ

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি হয় তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে হতে ইত্যাদি।

• ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ- উদাহরণ:
- করে : কাপড়্গুলো ভালোকরে পরিষ্কার করো। 
- থেকে: আমার কথ শুনে সে আকাশ থেকে আকাশ থেকে পড়লো।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত। 
- বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।


উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৪,৫৯৫.
'অপহরণ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা উপসর্গ 
  2. সংস্কৃত উপসর্গ 
  3. ফারসি উপসর্গ 
  4. আরবি উপসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

'অপ' সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার:
- বিপরীত অর্থে- অপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ ।
- নিকৃষ্ট অর্থে- অপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ।
- স্থানান্তর অর্থে- অপসারণ, অপহরণ, অপনোদন ।
- বিকৃত অর্থে- অপমৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,৫৯৬.
ধনাত্মক শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. কবি কবি
  2. ঠুকঠুক
  3. ঝাল-টাল
  4. মোটাসোটা
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব:
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব,
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পসল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম ।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৪,৫৯৭.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. ক্রিয়া ও সর্বনাম শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয়।
  2. তৎসম শব্দের বহুল ব্যবহার।
  3. ব্যাকরণ অনুসরণ করে চলে।
  4. এ ভাষা গুরুগম্ভীর।
ব্যাখ্যা
⇒ চলিত রীতি বা প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- এই রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম, অনুসর্গ প্রভৃতি শ্রেণির শব্দ হ্রস্ব হয় এবং তৎসম শব্দের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কমে। প্রথম দিকে চলিত রীতিতে শুধু সাহিত্য রচিত হতো; দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যাচর্চা ইত্যাদি হতো সাধু ভাষায়।
- বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রীতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি'।
- এটি ‘মান রীতি নামেও পরিচিত। বর্তমানে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে,
বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে। এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৫৯৮.
কোন শব্দটি অপিনিহিতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. তুলো
  2. সাউধ
  3. শিকে
  4. মুলো
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি: 
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন: 
- আজি > আইজ,
- চারি > চাইর,
- সাধু > সাউধ,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,৫৯৯.
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ব 
ব্যাখ্যা
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
-----------------
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,৬০০.
ভিন্নার্থক বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ঢাকের কাঠি
  2. ধামাধরা
  3. খয়ের খাঁ
  4. আদার ব্যাপারী
ব্যাখ্যা
'আদার ব্যাপারী' বাগ্‌ধারা অর্থ- সাধারণ লোক।  

অন্যদিকে,
'ঢাকের কাঠি' অর্থ - তোষামুদে।
'ধামাধরা' অর্থ - তোষামুদে/চাটুকারিতা।
'খয়ের খাঁ' অর্থ - তোষামোদকারী। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।