বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৪২ / ৩৫৪ · ৪,১০১৪,২০০ / ৩৫,৭১৩

৪,১০১.
'তেজী' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. সাহসী
  2. নিস্তেজ
  3. শান্ত
  4. অভ্র
ব্যাখ্যা
• 'তেজী' শব্দের বিপরীত শব্দ- নিস্তেজ।

আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
পথ - বিপথ,
পণ্ড - সফল,
দূর - নিকট,
ঠকা - জেতা,
বিচ্ছেদ - সন্ধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি, সংস্করণ -২০২২।
৪,১০২.
নিচের কোনটি একটি উপসর্গ নয়?
  1. বে
  2. তরে
  3. অভি
ব্যাখ্যা
• ‘অ, বে, অভি’ উপসর্গের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
তরে - অনুসর্গের উদাহরণ।
---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১০৩.
ম-ফলার অনুনাসিক উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পদ্ম
  2. যুগ্ম
  3. জন্ম
  4. গুল্ম
ব্যাখ্যা

• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন: শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪,১০৪.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. বাক্যের ব্যঞ্জনা 
  2. প্রতিশব্দ
  3. বাক্যের যোগ্যতা
  4. বাগ্‌ধারা
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - বাক্যের যোগ্যতা। এটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,১০৫.
‘সমঝোতা’ কোন বিদেশি ভাষা থেকে বাংলা ভাষাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ফারসি
  2. বাংলা
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, ‘সমঝোতা’ হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
‘সমঝোতা’ শব্দের অর্থ:
- চুক্তি, বোঝাপড়া।

আরও কিছু হিন্দি ভাষার শব্দ:
- চাঁচর, চাঁটা, চাঁদমারি ইত্যাদি।

হিন্দি ছাড়া অন্যান্য বিদেশি ভাষার শব্দ:
- ফারসি: অন্দর, আমিনি, দরবার ইত্যাদি।
- বাংলা: চলা, চাউর, চাঁদমুখ ইত্যাদি।
- তুর্কি: উজবুক, বাবা, বেগম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১০৬.
এক কথায় প্রকাশ করুনঃ অনেক অভিজ্ঞতা আছে যার।
  1. ক) দূরদর্শী
  2. খ) অভিজ্ঞ
  3. গ) বহুদর্শী
  4. ঘ) ত্রিকালজ্ঞ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অভিজ্ঞতার অভাব আছে যার- অনভিজ্ঞ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৪,১০৭.
নিচের কোনটি কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ?
  1. ঘাটাল 
  2. দৈনিক
  3. মাছুয়া
  4. মাতাল 
ব্যাখ্যা

• কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ- মাতাল (মাত্+আল)

উল্লেখ্য,
- ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি; আর ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়। যেমন-
চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়) = চলন (বিশেষ্য পদ)। চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন্ত (কৃৎ-প্রত্যয়)-চলন্ত (বিশেষণ পদ)।

অন্যদিকে,
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ:
- দিন + ইক= দৈনিক।
- ঘাট + আল = ঘাটাল ।
- মাছ+উয়া = মাছুয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)

৪,১০৮.
চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. শিকা > শিকে
  2. দেশি > দিশি
  3. জিলাপি > জিলিপি
  4. মিঠা > মিঠে
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,১০৯.
”Agenda” শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. আলোচ্যসূচি
  2. গণসংযোগ
  3. স্মারকলিপি
  4. ইশতেহার
ব্যাখ্যা

- Agenda শব্দের বাংলা পরিভাষা- আলোচ্যসূচি।

অন্যদিকে,
- 'Memorandum' এর বাংলা পরিভাষা- 'স্মারকলিপি'। 
- ‘Mass communication’ এর বাংলা পরিভাষা- গণসংযোগ। 
- ’Manifesto’ শব্দের বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা। 

৪,১১০.
'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মস্‌স্রিণ
  2. মোস্‌সৃণ
  3. মস্‌সৃন
  4. মোস্‌সৃন্
ব্যাখ্যা
• 'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'মোস্‌সৃন্'।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ:
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষাশিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১১.
বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যে-বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না সেগুলোই হলো স্বরধ্বনি (vowel)। স্বরধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই সম্পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে। যেমন- অ, আ, ই, উ।

কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। যেমন- আঁ, ই, ঐ, ওঁ ইত্যাদি। 

বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি আছে সাতটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও। যেহেতু এই স্বরধ্বনিগুলো বাংলায় শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার স্বরধ্বনিমূল বা যর স্বনিম।

বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা সাতটি হলেও এর বর্ণমালায় এখন স্বরবর্ণের সংখ্যা এগারোটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, উ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১২.
'সূর্য' শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) তপন
  2. খ) ভানু
  3. গ) প্রত্যুষ
  4. ঘ) মিহির
ব্যাখ্যা
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ = রবি, তপন, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, ভাস্কর, দিনেশ, কিরণমালী, দিনমণি, বিভাকর, পূষণ, অংশুমান, অরুন।
'প্রত্যুষ' শব্দটি 'ঊষা/প্রভাত' এর সমার্থক। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,১১৩.
'বেহাল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) আরবি + ফারসি
  2. খ) বাংলা + আরবি
  3. গ) ফারসি + আরবি
  4. ঘ) ফরাসি + আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
বেহাল (বিশেষ্য)
- বে (ফারসি) + হাল (আরবি) শব্দ।
অর্থ:
- দুর্ভোগ,
- দুর্দশা,
- বিশৃঙ্খলা।

বেহাল (বিশেষণ)
- দুর্দশাগ্রস্ত,
- নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য,
- অরাজক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১১৪.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
  1. জয়
  2. ভয়
  3. ক্ষয়
  4. সৌর
ব্যাখ্যা

সৌর = সূর্য + ষ্ণ, এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
এটি নিপাতনে সিদ্ধ তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ (সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সুর + ষ্ণ = সৌর)।
কিন্তু, অন্যান্যগুলো সব কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- √ক্ষি + অল্‌ = ক্ষয়,
- √জি + অল্‌ = জয়,
- √ভি + অল্‌ = ভয় ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১১৫.
'অনুক্ষণ' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. নঞ্ তৎপুরুষ
  3. কর্মধারয়
  4. নঞ্ বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থ প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
- দিন দিন = প্রতি দিন,
- ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে,
- ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১১৬.
'পরমেশ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + এশ
  2. পরম + ঈশ
  3. পরম + ইশ
  4. পরম + ইস
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৪,১১৭.
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল'। বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,১১৮.
'উত্তমর্ণ' বলতে বোঝায় -
  1. ঋষির ন্যায়
  2. ঋণ দেয় যে
  3. ঋণ নেয় যে
  4. ঋণশোধে অসমর্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'উত্তমর্ণ' বলতে বোঝায় - ঋণ দেয় যে, মহাজন।

উল্লেখ্য, 
- ঋণ দেয় যে' এর এক কথায় প্রকাশ- 'উত্তমর্ণ'।

অন্যদিকে,
• ঋষির ন্যায় - ঋষিকল্প, 
• ঋণ নেয় যে - অধমর্ণ, 
• ঋণশোধে অসমর্থ - দেউলিয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১১৯.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চুপচাপ
  2. ঝিকিমিকি
  3. হেন-তেন
  4. ঝমঝম
ব্যাখ্যা
• ঝমঝম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, হেন-তেন, ঝাল-টাল, চুপচাপ, ঝিকিমিকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৪,১২০.
বাক্যের কোন দুটি অংশ থাকে?
  1. সাধু, চলিত
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  3. উপমা, অলংকার
  4. প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। 
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১২১.
'নিরাকার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) নির + কার
  2. খ) নিরঃ + আকার
  3. গ) নিঃ + কার
  4. ঘ) নিঃ + আকার
ব্যাখ্যা
'নিরাকার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + আকার।

- এটি বিসর্গ সন্ধি।
- এখানে বিসর্গ 'র' হয়ে যায়।
যেমন-
পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন।
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি ২০২১ সংস্করন।
৪,১২২.
গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) সাধারণ মানুষ অর্থে
  2. খ) জনগণের রচিত সাহিত্য অর্থে
  3. গ) জনগণের জন্য সাহিত্য অর্থে
  4. ঘ) লোকসাহিত্য অর্থে
ব্যাখ্যা

গণ - সমূহ; সমষ্টি।
বহুবচনবাচক শব্দ (কৃষকগণ, লোকগণ)।
জনসাধারণ (গণ-আন্দোলন)।

গণসাহিত্য শব্দে ‘গণ’ কথাটি ব্যবহৃত হয় সাধারণ মানুষ অর্থে।

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪,১২৩.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী সম্মুখ স্বরধ্বনি বলা হয় কোনটিকে?
ব্যাখ্যা
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যেমন:
• সম্মুখ স্বরধ্বনি - [ই], [এ], [অ্যা]।
• মধ্য স্বরধ্বনি - [আ]।
• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি - [অ], [ও], [উ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,১২৪.
‘ক্রিয়ার কাল ও পুরুষ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি।
যথা:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম ও
- অর্থতত্ত্ব।

রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলো:
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- ক্রিয়া
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১২৫.
"এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম" - বাক্যটিতে 'স্বাধীনতার' শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে ষষ্ঠী
  2. করণে ষষ্ঠী
  3. নিমিত্তার্থে ষষ্ঠী
  4. সম্প্রদানে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• নিমিত্ত কারক:
কর্তা যার জন্য, যার উদ্দেশ্যে বা যে অভিপ্রায়ে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে নিমিত্ত কারক বলে।

» "এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম।" - এর বাক্যে 'স্বাধিনতার' বলতে বুঝানো হয়েছে স্বাধিনতার জন্য সংগ্রাম।
- তাই এটি নিমিত্তার্থে 'র' বিভক্তি বা ষষ্ঠী বিভক্তি হয়েছে।


নিচে নিমিত্ত কারকের কিছু উদাহরণ - 
যেমন: 
• তোমার জন্য কলম আনবো। - নিমিত্ত কারকে ‘জন্য' অনুসর্গ।
• মহারাজ শিকারে গেছেন। – নিমিত্ত কারকে 'এ' বিভক্তি।
• সখি, জলকে চল। - নিমিত্ত কারকে ‘কে’ বিভক্তি।
• চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শহরে এসেছি। – নিমিত্ত কারকে ‘উদ্দেশ্যে' অনুসর্গ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৬.
দ্বিস্বর ধ্বনি যুক্ত শব্দ-
  1. তৈল
  2. রক্ষক
  3. স্বর্ণ
  4. আবরণ
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত। অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
- দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ।
- বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বরি চিহ্ন রয়েছে: ঐ এবং ঔ।
যেমন: 
- অ + ই = ঐ,
- অ + উ = ঔ। উদাহরণ: কৈ, বৌ।

সুতরাং ‘তৈল’ শব্দে দ্বিস্বর স্বরধ্বরি ঐ-কার রয়েছে-  ৈ (ঐ) + ত = তৈ।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১২৭.
'চতুর্ভুজ হওয়া' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উৎফুল্ল হওয়া 
  2. বিস্মিত হওয়া 
  3. ঘনিষ্ট বন্ধু 
  4. উভয় সংকট 
ব্যাখ্যা
• 'চতুর্ভুজ হওয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ- উৎফুল্ল হওয়া। 

অন্যদিকে, 
• 'চোখ কপালে তোলা' অর্থ - বিস্মিত হওয়া। 
• 'জোড়ের পায়রা' অর্থ - ঘনিষ্ট বন্ধু। 
• 'জলে কুমির ডাঙায় বাঘ' অর্থ - উভয় সংকট। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১২৮.
'উদ্বেল' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) উদ্‌বেল
  2. খ) উদ্‌দেল
  3. গ) উদ্দেল
  4. ঘ) উদ্‌হেল
ব্যাখ্যা
'উদ্বেল' এর সঠিক উচ্চারণ = উদ্‌বেল। 
উদ্বেল (উদ্‌বেল) 
- বিশেষণ পদ
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উদ্‌ + বেলা 
অর্থ:
- বেলাভূমি বা তীর অতিক্রম করেছে এমন। 
- উচ্ছলিত; উথলিত। 
- সীমাতিক্রান্ত। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,১২৯.
'পনস' শব্দের অর্থ-
  1. নরম
  2. কাঁঠাল
  3. তুলা
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• পনস (বিশেষ্য) শব্দ: 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √ পন্‌ + অস। 
অর্থ: কাঁঠাল।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,১৩০.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ?
  1. ধোঁকাবাজ
  2. দিল্লিওয়ালা
  3. গাড়োয়ান
  4. হিন্দুয়ানি
ব্যাখ্যা
'বাজ' ফারসি প্রত্যয়যোগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হচ্ছে - গলাবাজ, কলমবাজ, ধড়িবাজ, ধোঁকাবাজ ইত্যাদি।
দিল্লিওয়ালা, গাড়োয়ান ও হিন্দুয়ানি শব্দগুলোতে যথাক্রমে হিন্দি প্রত্যয় 'ওয়ালা > আলা'; ওয়ান > আন এবং আনা > আনি ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৩১.
প্রশ্ন (২৬ - ৩০) শব্দের অর্থ নির্ণয় করুন :
২৬. কিরীট
  1. ক) কীট পতঙ্গ
  2. খ) ছুরি
  3. গ) তলোয়ার
  4. ঘ) মুকুট
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান অনুসারে, 
'কিরীট' শব্দের অর্থ- 'মুকুট' 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
৪,১৩২.
'পান্ডব' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) পাণ্ডু + অব
  2. খ) পান্ড + অ
  3. গ) পাণ্ডু + অ
  4. ঘ) পাণ্ড+ অব
ব্যাখ্যা
'পান্ডব' - শব্দের সঠিক প্রকৃতি-পাণ্ডু + অ।

- সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে  অ ( অন, অএ ,ষ্ণ) প্রত্যয় যোগে বিভিন্ন অর্থে শব্দ গঠিত হয়।

• অপত্য অর্থে :
যদু + অ = যাদব
পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব
দনু + অ = দানব
• ভক্ত বা উপাসক অর্থে :
শিব + অ = শৈব
শক্তি + অ = শাক্ত
বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব 
• রচিত অর্থে :
ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ
স্মৃতি + অ = স্মার্ত
• বিকার অর্থে:
তিল + অ = তৈল
হেম + অ = হৈম
• স্বভাব অর্থে :
তপস + অ = তাপস
ছত্র + অ = ছাত্র ।
• তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে :

পৃথিবী + অ = পার্থিব
নিশা + অ = নৈশ
দেব + অ = দৈব
বিধি + অ = বৈধ
• ভাবার্থে:
মুনি + অ = মৌন
গুরু + অ = গৌরব
লঘু + অ = লাঘব
• অবস্থা অর্থে:
শিশু + অ = শৈশব
যুবন + অ = যৌবন

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,১৩৩.
কোনটি মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস?
  1. আশীবিষ
  2. খোশমেজাজ
  3. হাতেখড়ি
  4. হতশ্রী
ব্যাখ্যা

মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস:
- বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে।

যেমন:
- বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী,
- হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে = হাতেখড়ি,
এমনি ভাবে - গায়ে হলুদ, মেনিমুখো ইত্যদি।

অন্যদিকে,
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি - হত হয়েছে শ্রী যার = হতশ্রী, খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।
ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি - আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৪,১৩৪.
"ঢ়" এটি কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. কম্পিত ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা

• "ঢ়" এটি 'মূর্ধন্য ব্যঞ্জন' ব্যঞ্জনধ্বনি।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:

- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,১৩৫.
নিচের কোন শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম সাধিত উপায়ে গঠিত হয়েছে?
  1. পিণাক
  2. কফণি
  3. অর্পণ
  4. আপণ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- 'অর্পণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

অন্যদিকে,
- আপণ, কফণি, পিণাক শব্দগুলোতে স্বভাবতই 'ণ' হয়।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন আরো কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৩৬.
'বিজিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. বিজয়ী
  2. পরাজিত
  3. বিচ্যুত
  4. বর্জিত
ব্যাখ্যা
• বিজিত (বিশেষণ পদ),
- ‘বিজিত’ শব্দের অর্থ:
- জয় করে নেয়া হয়েছে এমন অর্থ্যাৎ পরাজিত।

বিজিত" শব্দের অর্থ বুঝতে হবে। "বিজিত" মানে হলো যে কাউকে পরাজিত করা হয়েছে, বা যুদ্ধ বা প্রতিযোগিতায় হারানো। অর্থাৎ, বিজিত হলো পরাজিত ব্যক্তি বা দল।

এখানে, "বিজিত" এর বিপরীত হলো - যিনি বিজয় লাভ করেছেন, যে জিতেছে, অর্থাৎ বিজয়ী।
তাই, সঠিক উত্তর - ক) বিজয়ী।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৩৭.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) সদা + এব = সদৈব
  2. খ) সতী + ঈশ = সতীশ
  3. গ) মহা + ঈশ = মহেশ
  4. ঘ) ভো + উক = ভাবুক
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ = ভো + উক = ভাবুক 
'ভাবুক' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ = ভৌ + উক
এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ 

এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক; (সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ ) 
- পৌ + অক = পাবক
- গো + আদি = গবাদি
- গো + এষণা = গবেষণা 
- পো + ইত্র = পবিত্র 
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৩৮.
'Plateau' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সমতল ভূমি
  2. মালভূমি
  3. মরুভূমি
  4. ঊষর
ব্যাখ্যা
• 'Plateau' এর বাংলা পরিভাষা — মালভূমি। 

অন্যদিকে, 
Even/level ground — সমতল ভূমি, 
Desert — মরুভূমি, 
Barren — ঊষর। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান- বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
৪,১৩৯.
'শত্রু' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ত্‌ + র
  2. খ) এ + উ
  3. গ) ত্‌ + উ
  4. ঘ) ত্‌ + র + উ
ব্যাখ্যা
'শত্রু' শব্দে যুক্তবর্ণ ত্রু। 
ত্রু = ত্‌ + র + উ 

উদাহরণ - শত্রু, ত্রুটি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪০.
'ন্যাকামিটা এখন রাখো' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সঙ্গে 'টা' কী নির্দেশ করে?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. পদাশ্রিত নির্দেশক
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ন্যাকামিটা এখন রাখো' বাক্যে 'ন্যাকামি' শব্দের সঙ্গে 'টা' হলো- পদাশ্রিত নির্দেশক। 

• পদাশ্রিত নির্দেশক:
যে সব অব্যয় বা প্রত্যয় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদকে নির্দেশ করার জন্য বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে যুক্ত হয়, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলা হয়। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: বাংলা ভাষার ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকের মধ্যে টি, টা, টো, টুকু, টুকুন, টু, টুক, খান, খানা, খানি, খানেক, খানিক, গাছ, গাছি, গাছা, গোটা, গুলি, গুলো, গুলান ইত্যাদি বহুল প্রচলিত।

-------------------- 
পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি। 
উদাহরণ: কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি। 
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি। 

• কোনো সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টে, টুক, টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি। 
উদাহরণ: তিনটে চাল, ভাতটুকু, পায়েসটুকু, এতটুকুন মেয়ে দুটো ভাত, প্রভৃতি। 

• পদাশ্রিত নির্দেশক 'গোটা' শব্দটি বচনবাচক ও সংখ্যাবাচক শব্দের আগে বসে অনির্দিষ্টিতা বোঝায়। 
যেমন - 
- গোটা দেশটাই গোল্লায় গেছে। 
- গোটা দুই আম দাও। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৪১.
মাত্রাহীন স্বরবর্ণ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
• মাত্রাহীন স্বরবর্ণের ৪টি- এ, ঐ, ও, ঔ।

• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ) ।

 • অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)। 

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। 
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

সূত্র: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৪২.
কোনটি মহাপ্রাণ অঘোষ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা
⇒ ‘থ’ মহাপ্রাণ অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

⇒ ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

⇒ অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।


• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

⇒ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

⇒ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,১৪৩.
'ইতিহাস রচনা করেন যিনি' - এককথায় কী বলা হয়?
  1. ইতিহাসবিদ
  2. পণ্ডিতস্মন্য
  3. ঐতিহাসিক
  4. ইতিহাসবেত্তা
ব্যাখ্যা
• 'ইতিহাস রচনা করেন যিনি' এর এককথায় প্রকাশ = ঐতিহাসিক।
• 'ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি' এর এককথায় প্রকাশ = ইতিহাসবেত্তা।

গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
আদি নেই যার = অনাদি।
আমার সদৃশ = মাদৃশ।
কষ্টে অতিক্রম করা যায়না = দুরতিক্রম্য।
কোন কিছুতে ভয় নেই যার = অকুতোভয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,১৪৪.
'যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই' এর এককথায় প্রকাশ -
  1. নির্বাক
  2. হতবাগ
  3. অভিজ্ঞ
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'যে বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই' এর এককথায় প্রকাশ - অবিসংবাদী

অন্যদিকে, 
• 'যে ভবিষ্যত না ভেবেই কাজ করে' এর এককথায় প্রকাশ - অবিমৃশ্যকারী।
• 'যে ভবিষ্যতের চিন্তা করেনা বা দেখে না' এর এককথায় প্রকাশ - অপরিণামদর্শী। 
• 'যার উপস্থিত বুদ্ধি আছে' এর এককথায় প্রকাশ - প্রত্যুৎপন্নমতি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ৷
৪,১৪৫.
কোন শব্দটিতে 'অব' উপসর্গটি 'অধোমুখিতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অবমাননা
  2. অবসান
  3. অবগত
  4. অবতরণ
ব্যাখ্যা

অবমাননা - 'হীনতা' অর্থে
অবসান - 'অল্পতা' অর্থে
অবগত - 'সম্যকভাবে' অর্থে
অবতরণ - 'অধোমুখিতা' অর্থে

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৪,১৪৬.
কোনটি বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. আয়-ব্যয়
  2. জমা–খরচ
  3. অহি-নকুল
  4. হাট-বাজার
ব্যাখ্যা

বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে দ্বন্দ্ব সমাসে পরপদটি পূর্বপদের বৈরী অর্থ বা ভাব প্রকাশ করে, তাকে বিরোধার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন-
- অহি ও নকুল = অহি-নকুল;
- দা ও কুমড়া = দা-কুমড়া।

অন্যদিকে,
সমার্থক দ্বন্দ্ব: - হাট ও বাজার = হাট-বাজার। 
বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস: - জমা–খরচআয়-ব্যয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৪,১৪৭.
'সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।' - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. সুসংবাদ পাওয়ার পর সে আনন্দিত হলো।
  2. সে সুসংবাদটা পেল এবং সে আনন্দিত হলো।
  3. যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।
  4. সে সুসংবাদটা পেয়েই, আনন্দিত হলো।
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। 
যেমন- 

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। 
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৪৮.
‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিপত্য
  2. উর্ধ্বমুখিতা
  3. উত্তম
  4. প্রভাব
ব্যাখ্যা
• ‘উদ্যম’ শব্দে ‘উৎ’ খাঁটি বাংলা উপসর্গটি উর্ধ্বমুখিতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

-----------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৪৯.
সাধু ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. বন্য
  2. জুতো
  3. শুকনো
  4. তুলো
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,১৫০.
কোনটি বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয়?
  1. ওষ্ঠ
  2. জিভ
  3. মূর্ধা
  4. প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ নয় - প্রকোষ্ঠ। 

বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভূক্ত।
- বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
১. ফুসফুস, 
২. শ্বাসনালি,
৩. স্বরযন্ত্র,
৪. জিভ,
৫. আলজিভ,
৬. তালু,
৭. মূর্ধা,
৮. দন্তমূল ও দন্ত (দাঁত),
৯. ওষ্ঠ,
১০. নাসিকা ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৫১.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শুধুমাত্র
  2. এইমাত্র
  3. কিছুমাত্র
  4. বলামাত্র
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল। 
বিবিধপ্রকার - বিবিধ। 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান। 
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন। 
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র। 
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র। 

----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার: 
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।

লক্ষণীয়,  মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৫২.
নিচের কোন বাগ্‌ধারা জোড়টি ভিন্নার্থক অর্থ প্রকাশ করে?
  1. রামগরুড়ের ছানা - কলুর বলদ
  2. বর্ণচোরা - বিড়াল তপস্বী
  3. পোয়া বারো - জোর-কপাল
  4. ঊনপাঁজরে - কায়েতের ঘরের ঢেঁকি
ব্যাখ্যা
ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত বাগধারা দুটি হলো:
• 'রামগরুড়ের ছানা' বাগ্‌ধারার অর্থ - গোমড়ামুখো লোক। 
• ‘কলুর বলদ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - একটানা খাটুনি।

অন্যদিকে, প্রায় সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত বাগধারাগুলো হলো:
• 'বর্ণচোরা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড।
• ‘বিড়াল তপস্বী’ বাগ্‌ধারার অর্থ - ভণ্ড লোক।

• ‘পোয়া বারো’  বাগ্‌ধারার অর্থ - সৌভাগ্য।
• ‘জোর-কপাল’ বাগ্‌ধারার অর্থ - সুপ্রসন্ন ভাগ্য।

• ‘ঊনপাঁজরে’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অপদার্থ।
• ‘কায়েতের ঘরের ঢেঁকি’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অপদার্থ লোক।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৫৩.
তুমি, তোমরা সর্বনামগুলো দিয়ে কোন পক্ষ বোঝায়?
  1. শ্রোতা ও বক্তা উভয়পক্ষ
  2. অন্যপক্ষ
  3. বক্তাপক্ষ
  4. শ্রোতাপক্ষ
ব্যাখ্যা

• তুমি, তোমরা সর্বনামগুলো দিয়ে শ্রোতাপক্ষ পক্ষ বোঝায়।

• পুরুষ তিন প্রকার।
যেমন:
- উত্তম পুরুষ,
- মধ্যম পুরুষ,
- নাম পুরুষ।

• উত্তম পুরুষ:
ক্রিয়ার কর্তা নিজেকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে উত্তম পুরুষ বলে।
যেমন: আমি, আমরা ইত্যাদি।

• মধ্যম পুরুষ:
বক্তা যার সাথে কথা বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে মধ্যম পুরুষ বলে।
যেমন: তুমি, তােমরা, আপনি ইত্যাদি।

• নাম পুরুষ:
বক্তা যার সম্পর্কে কিছু বলে তাকে বুঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহার করে, তাকে নাম পুরুষ বলে।
যেমন: সে, তারা, ওরা, করিম, এটা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৫৪.
সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাস অনুসরণ করে কোন ভাষারীতি?
  1. সাধু ভাষারীতি
  2. প্রমিত ভাষারীতি
  3. উপ ভাষারীতি
  4. আঞ্চলিক ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -২০২১ সংস্করণ)।
৪,১৫৫.
বর্তমানে নিম্নের কোনটি কারকের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) কর্তা কারক
  2. খ) কর্ম কাবক
  3. গ) সম্প্রদান কারক
  4. ঘ) সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• কারক ছয় প্রকার :
- কর্তা কারক
- কর্ম কাবক
- করণ কারক
- অপাদান কারক
- অধিকরণ কারক ও
- সম্বন্ধ কারক।

মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি  এর সর্বশেষ সংস্করণে সম্প্রদান কারককে বাতিল করা হয়েছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৫৬.
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ-
  1. ক) জুতসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাড়িওয়ালা
  4. ঘ) ইতরামি
ব্যাখ্যা
• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়- সই, বাজ, ওয়ালা, ওয়ান যোগে গঠিত শব্দ হলো:
- জুত + সই = জুতসই,
- বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা,
- দার + ওয়ান = দারোয়ান,
- ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজি ইত্যাদি।

অপরদিকে,
• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় 'আমি' যোগে গঠিত শব্দ-
- ইতর + আমি = ইতরামি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৫৭.
'উড়নচণ্ডী' বাগ্‌ধারার অর্থ-
  1. কিছু না জানা
  2. কাল্পনিক বস্তু
  3. অমিতব্যয়ী
  4. হতবুদ্ধি হওয়া
ব্যাখ্যা
• "উড়নচণ্ডী" বাগ্‌ধারা অর্থ - অমিতব্যয়ী।
বাক্য: যা উড়নচণ্ডী ছেলে- পৈতৃক সম্পত্তি দু দিনেই শেষ। 

অন্যদিকে, 
"অন্ধকারে থাকা" অর্থ - কিছু না জানা। 
"আকাশকুসুম" অর্থ - কাল্পনিক বস্তু। 
"আক্কেল গুড়ুম" অর্থ - হতবুদ্ধি হওয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৫৮.
'কুবলয়' শব্দের অর্থ কী?
  1. কবুতর
  2. ময়ূর
  3. পদ্ম
  4. অগ্নি
ব্যাখ্যা
• কুবলয় [বিশেষ্য পদ],
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নীলপদ্ম।
- পদ্ম,
- নলিনী,
- উৎপল।

• 'পদ্ম' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৫৯.
"Duty" শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. শুল্ক
  2. কর্তব্য
  3. কার্য
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

"Duty" শব্দের বাংলা পরিভাষা- শুল্ক, কর্তব্য, কার্য।

• আরো কিছু গুরত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Duty ‍ad valorem-  মূল্যানুসার শুল্ক।
- Duty allowance- কার্য-ভাতা।
- Duty officer- কার্য-অফিসার।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৪,১৬০.
বাক্যে কী কী থাকলে তা যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হবে?
  1. ক) রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা
  2. খ) দুর্বোধ্যতা
  3. গ) বাহুল্যদোষ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
রীতিসিদ্ধ অর্থবাচকতা, দুর্বোধ্যতা, উপমার ভুল প্রয়োগ, বাহুল্যদোষ, বাগধারার রদবদল, গুরুচণ্ডালী দোষ ইত্যাদি থাকলে বাক্য যোগ্যতাহীন বলে বিবেচিত হয়।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,১৬১.
"গোবর গণেশ" বাগ্‌ধারাটির অর্থ -
  1. পদ্মফুল
  2. অপদার্থ
  3. উঁচু নিচুর সহাবস্থান
  4. কপট স্বজন
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'গোবর গণেশ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য/অপদার্থ।
বাক্য গঠন: তোমার মতো গোবর গণেশ দিয়ে কোনো কাজ হবে না।
---------------
অন্য অপশনে,
• 'গুরুচণ্ডালী' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - উঁচু নিচুর সহাবস্থান।
• 'ঘরভেদী বিভীষণ' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কপট স্বজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,১৬২.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনাম?
  1. নিজেরা নিজেরা
  2. পরস্পর
  3. যারা-তারা
  4. নিজে
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম - পরস্পর, নিজেরা নিজেরা
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪,১৬৩.
কোনটি দিগু সমাস?
  1. পঞ্চবঢী
  2. সেতার
  3. চৌচালা
  4. দশগজি
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
- দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
 যেমন:
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- দশগজি, চৌচালা, এবং সেতার সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৬৪.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে? 
  1. সে ঘুমিয়ে আছে।
  2. সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
  3. সে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
  4. সে বই পড়ছে।
ব্যাখ্যা
সমধাতুজ কর্ম:
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।

যেমন:
- 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি'- বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।
অনুরূপ,
- সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

অন্যদিকে,
অন্যান্য বাক্যে সমধাতুজ কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৬৫.
'দিতে হবে' - কে এক কথায় কী বলে?
  1. ক) ভূতপূর্ব
  2. খ) দেয়
  3. গ) জিতনিদ্র
  4. ঘ) অনাদ্যন্ত
ব্যাখ্যা
দেয় (বিশেষ্য) - দানের যোগ্য; দিতে হবে এমন; দাবত্য।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৪,১৬৬.
"ভাঁড়ে ভবানী" প্রবচনটির অর্থ -
  1. অনড় সংকল্প
  2. নিষ্ক্রিয় দর্শক
  3. নিঃস্ব অবস্থা
  4. অত্যন্ত ধার্মিক
ব্যাখ্যা
• "ভাঁড়ে মা ভবানী" অর্থ - নিঃস্ব অবস্থা বা হত দরিদ্র অবস্থা।

আরো কিছু প্রবাদ-প্রবচন:
 - 'ধারে না হলে ভারে কাটে' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - কোনো না কোনোভাবে কার্যসিদ্ধি।
- 'ধান ভানতে শিবের-গীত্র / ধেনো হাটে ওল নামানো' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা।
- 'চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - অসাধু লোককে উপদেশ অর্থহীন।
- 'চাঁদেরও কলঙ্ক আছে' প্রবাদ প্রবচনটির অর্থ - যোগ্য ব্যক্তিরাও ত্রুটিমুক্ত নন।

উৎসঃ ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪,১৬৭.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. গনিকা
  2. গৌন
  3. শোণিত
  4. ত্রিনয়ণ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: শোণিত। 

• শোণিত (বিশেষ্য পদ), 
- সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ: 
- রক্ত,
- লোহিত,
- রুধির।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ-
গনিকা - গণিকা। 
ত্রিনয়ণ - ত্রিনয়ন। 
গৌন - গৌণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৬৮.
নিচের কোনটি অঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনির উদাহরণ?
  1. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি - ফ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

 মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৬৯.
কোন চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসমে আছে?
  1. ক) আ, সু, বি, ব
  2. খ) আ, সু, বি, বে
  3. গ) সু, বি, নি, আ
  4. ঘ) সু, বি, নি, অ
ব্যাখ্যা
চারটি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই আছে। যেমন : আ, সু, বি, নি 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৪,১৭০.
'যা সহজে ভেদ করা যায় না' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. দুর্বধ্য
  2. দুর্ভেদ্য
  3. অর্ভেদ্য
  4. দুরর্ভেদ
ব্যাখ্যা
• 'যা সহজে ভেদ করা যায় না' এক কথায় প্রকাশ - দুর্ভেদ্য।

অন্যদিকে,
- 'দুর্বধ্য' অর্থ - যা সহজে বধ করা যায় না।
- অর্ভেদ্য ও দুরর্ভেদ বানানগুলো অশুদ্ধ। 

এরকম আর কিছু এক কথায় প্রকাশ:
 -যা সহজে ভেঙে যায় - ভঙ্গুর।
- যা সহজে করা যায় না - দুষ্কর।
- যা সহজে জানা যায় না - দুর্জেয়।
- যা সহজে মরে না - দুর্মর।
- যা সহজে পাওয়া যায় না- দুষ্প্রাপ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৭১.
"বাবা আমাদের দেখাশুনা করছিলেন।" বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
• "বাবা আমাদের দেখাশুনা করছিলেন।" বাক্যের ক্রিয়া ঘটমান অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,১৭২.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের দৃষ্টান্ত?
  1. মিলামিশা > মেলামেশা
  2. বিলাতি > বিলিতি
  3. তুলা > তুলো
  4. মুক্তা > মুকুতা
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম:
সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম। মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- মুক্তা > মুকুতা,
- গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রগত স্বরসঙ্গতি: আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- তুলা > তুলো।
• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি > বিলিতি।
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি: মিলামিশা > মেলামেশা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৭৩.
'ঘটিরাম' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মূর্খ
  2. অপদার্থ
  3. লজ্জাহীন
  4. সামান্য ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ঘটিরাম' বাগ্‌ধারা অর্থ - অপদার্থ।
বাক্য: ইব্রাহীম একটা ঘটিরাম, ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না।

অন্যদিকে, 
• 'গোবর গণেশ' অর্থ - মূর্খ।
• 'চশমখোর' অর্থ - লজ্জাহীন। 
• 'চুনোপুটি' অর্থ - সামান্য ব্যক্তি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭৪.
কোন সমাসের ক্ষেত্রে "বিপরীত ও অনুরূপ" শব্দের সংযোগ ঘটে?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. দ্বিগু সমাস
  3. নিত্য সমাস
  4. দ্বন্দ্ব সমাস
ব্যাখ্যা

• দ্বন্দ্ব সমাস:
দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ উভয় পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে।
যেমন –
‘সােনা-রুপা সমস্তপদের ব্যাসবাক্য ‘সােনা ও রুপা।

• দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে সমজাতীয়, বিপরীত ও অনুরূপ শব্দের সংযােগ ঘটে।
যেমন –
মা ও বাবা = মা-বাবা, স্বর্গ ও নরক = স্বর্গ-নরক, জমা ও খরচ = জমাখরচ।
অনুরূপভাবে,
ভাই ও বোন = ভাই-বোন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,১৭৫.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) নিরপরাধী
  2. খ) নিরোপরাধী
  3. গ) নিরপরাধ
  4. ঘ) নিরপরাধি
ব্যাখ্যা
নিরপরাধ- নির্দোষ; অপরাধ করেনি এমন; অপরাধশূন্য; কোনো পক্ষেই নেই এমন।

সোর্সঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।
৪,১৭৬.
'তুমি কিংবা সে এর জন্য দায়ী।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'তুমি কিংবা সে এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' একটি বিয়োজক অব্যয়। 

--------------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
[এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।]

(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
[আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।]

বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৭৭.
'কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে' কোন প্রকার বাক্যের উদাহরণ?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সংযুক্ত বাক্য
ব্যাখ্যা
আলোচ্য বাক্যটি জটিল বাক্যের উদাহরণ। 

মিশ্র বা জটিল বাক্য:
কোনাে কোনাে বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অর্থাৎ কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া ছাড়া এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকতে পারে। এই অপ্রধান খণ্ডাংশ মূল বাক্যেরই অংশ।
- এ ধরনের বাক্যকে মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন- 'সে যদি আসে তবে আমি খাব।' বাক্যটিতে 'সে যদি আসে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য আর “তবে আমি খাব প্রধান খণ্ডবাক্য।

জটিল বাক্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা
ক. আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য
খ. সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য ও
গ. প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য।

আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্যটি প্রধান খণ্ডবাক্যের আশ্রয়ে থাকে এবং প্রধান খণ্ডবাক্যের সম্পূরক রূপে কাজ করে তাকে আশ্রয়-আশ্রিত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- নিপা যে আসবে, তা বলা যায় না।

সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য: যে জটিল বাক্যের আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের বিধেয় ক্রিয়া সংগঠনের উপর নির্ভর করে, তাকে সাপেক্ষ-পদযুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘কাল যদি বৃষ্টি হয়, তবে স্কুল বন্ধ থাকবে।'
এ ধরনের জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যে সাধারণত সাপেক্ষ অব্যয় ‘যদি’ এবং আশ্রিত খণ্ডবাক্যে ‘তাহলে / তবে / না হয় ইত্যাদি যুক্ত থাকে।

প্রতি-নির্দেশক সর্বনামযুক্ত জটিল বাক্য: যখন-তখন, যা-তা, যাহা-তাহা, যার-তার, যেখানে-সেখানে, যথা-তথা ইত্যাদি প্রতিনির্দেশক সর্বনাম ব্যবহার করে জটিল বাক্য গঠন করলে। তাকে প্রতিনির্দেশক সর্বনাম যুক্ত জটিল বাক্য বলে।
যেমন- ‘যখন রােদ উঠল, তখন আমরা বাড়ি পৌছে গেছি।'

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,১৭৮.
'পরিচ্ছদ' শব্দটি কোন নিয়মে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি তিন নিয়মে হয়:
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব।
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪,১৭৯.
‘উকর ধাকর’ বাগধারা টির প্রকৃত অর্থ কি?
  1. ক) কাছাকাছি
  2. খ) এলোপাথাড়ি
  3. গ) অপক্ব
  4. ঘ) ছটফটানি
ব্যাখ্যা
‘উকর ধাকর’ ( এলোপাথাড়ি ) উকর ধাকর নাচ দিয়ে আসর মাতানো যাবে না।
উৎস: বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ডঃ. সৌমিত্র শেখর
৪,১৮০.
‘ভূতের মুখে রাম নাম’ প্রবাদটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি
  2. অবিশ্বাস্য ব্যাপার
  3. অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা
  4. অসম্ভব ব্যাপার
ব্যাখ্যা
• ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ প্রবাদটির অর্থ - অসম্ভব ব্যাপার।

অন্যদিকে,
• ‘ব্যঙের সর্দি’ অর্থ - অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
• ‘সাপের পাঁচ পা দেখা’ অর্থ - অহঙ্কারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা।
• ‘মেঘ না চাইতে জল’ অর্থ - অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৮১.
বস্তুত বিসর্গ কিসের সংক্ষিপ্ত রূপ?
  1. র্‌ - এর
  2. স্‌ - এর
  3. ড় - এর
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৮২.
'খেদ' শব্দের বিপরীত শব্দ -
  1. হর্ষ
  2. অখ্যাতনামা
  3. অখণ্ড
  4. আঘাট
ব্যাখ্যা
• 'খেদ' শব্দের বিপরীত শব্দ - হর্ষ / অখেদ।

অন্যদিকে, 
- 'খ্যাতনামা' শব্দের বিপরীত শব্দ - অখ্যাতনামা।
- 'খণ্ড' শব্দের বিপরীত শব্দ - অখণ্ড।
- 'ঘাট' শব্দের বিপরীত শব্দ - আঘাট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৮৩.
অশুদ্ধ বানান -
  1. বিদূষিত
  2. কূপমণ্ডূক
  3. বিভূতিভূষণ
  4. কৃচ্ছসাধন
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - কৃচ্ছসাধন
- শুদ্ধ বানান 'কৃচ্ছ্রসাধন'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: কৃচ্ছ্র + √ সাধ্‌ + অন। 
অর্থ:
- কৃচ্ছ্রসাধনা।

অন্যদিকে,
• শুদ্ধ বানান - 'বিদূষিত'
• শুদ্ধ বানান - 'কূপমণ্ডূক'
• শুদ্ধ বানান 'বিভূতিভূষণ'

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,১৮৪.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. ক) ঘোড়া
  2. খ) পৃথিবী
  3. গ) আকাশ
  4. ঘ) বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৪,১৮৫.
ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. চালচলন
  2. ছোট-বড়
  3. আসা-যাওয়া
  4. তালাচাবি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• 'তালাচাবি' — ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১৮৬.
‘আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় -
  1. নাপিত-নাপিতানী
  2. কুমার > কুমারনী
  3. মেথর-মেথরানী
  4. চাকর-চাকরানী
ব্যাখ্যা
‘আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'কুমার > কুমারনী' - নী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৮৭.
পত্র লেখকের স্থান ও তারিখ, ব্যক্তিগত পত্রের কোথায় লেখা হয়?
  1. উপরের ডান কোণে
  2. নিচের ডান কোণে
  3. উপরের বাম কোণে
  4. নিচের বাম কোণে
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিগত পত্রের উপরের ডান কোণে পত্র লেখকের বা প্রেরকের স্থান ও তারিখ উল্লেখ থাকে।

• সাধারণত একটি ব্যক্তিগত পত্রে ছয়টি অংশ বিদ্যমান থাকে। যথা:
১. মঙ্গলসূচক শব্দ।
২. স্থান ও তারিখ।
৩. সম্বোধন ও সম্ভাষণ।
৪. চিঠির বক্তব্য।
৫. লেখকের স্বাক্ষর, বিদায় সম্ভাষণ।
৬. শিরোনাম - প্রেরক ও প্রাপকের নাম ঠিকানা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,১৮৮.
'অপোগণ্ড' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. ভণ্ড
  2. দুর্ভাগ্য
  3. অপদার্থ
  4. অকালপক্ক
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান অনুসারে,
• অপোগণ্ড (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ-
- অপদার্থ,
- অল্পবয়স্ক;
- নাবালক,
- অযোগ্য ইত্যাদি।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- আঠারো আনা - বাড়াবাড়ি / সম্ভাবনা। 
- আক্কেল গুড়ুম - হতবুদ্ধি / স্তম্ভিত। 
- আদাড়ের হাঁড়ি - তুচ্ছ / অনাদৃত ব্যক্তি। 
- আকাট মূর্খ - নিরেট বোকা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা বানান অভিধান ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।

৪,১৮৯.
‘Miscible’ এর বাংলা পরিভাষা -
  1. দুশ্চরিত
  2. মিশ্রণীয়
  3. ভুলগণনা
  4. দুর্বৃত্ত
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘Miscible’ এর বাংলা পরিভাষা - মিশ্রণীয়। 

অন্যদিকে,
Misconduct - দুশ্চরিত। 
Miscount - ভুলগণনা। 
Miscreant - দুর্বৃত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৪,১৯০.
'গুরুত্বহীন লোক' অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. উজলপাঁজল
  2. ঊনপাঁজরে
  3. উলুখাগড়া
  4. কেউকেটা
ব্যাখ্যা

• 'উলুখাগড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ- গুরুত্বহীন লোক।

অন্যদিকে, 
• 'ঊনপাঁজরে' অর্থ - অপদার্থ।
• 'উজলপাঁজল' অর্থ - উথালপাথাল। 
• 'কেউকেটা'  অর্থ - বিশিষ্ট ব্যক্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,১৯১.
'কনাভৃৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ কী?
  1. ক) অগ্নি
  2. খ) চন্দ্র
  3. গ) জল
  4. ঘ) সূর্য
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে ভুল আছে ( যদি প্রশ্নে ‘কলাভৃৎ’ থাকতাে তাহলে উত্তর হতো ‘চন্দ্র’ কিন্তু প্রশ্নে ছিল কনাভৃৎ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,১৯২.
'কাজটি করে দাও না ভাই।' বাক্যটি একটি-
  1. ক) প্রার্থনাসূচক বাক্য
  2. খ) বর্ণনামূলক বাক্য
  3. গ) অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  4. ঘ) বিবৃতিমূলক বাক্য
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাহক, অনুজ্ঞাসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমনঃ
উপদেশ-
- সদা সত্য কথা বলবে।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।

আদেশ-
- কাছে এসো।
- চুপটি করে বসো।
- উঠে দাঁড়াও।

অনুরোধ-
- দয়া করে আমাকে কাজটা করে দেবেন/দিন।
- কাজটি করে দাও না ভাই।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,১৯৩.
শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া ব্যাকরণের কোথায় আলোচিত হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়, যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব। 

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব
ধ্বনিতত্ত্বের আলােচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলােচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলােচ্য বাদ্যযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলােচনা করা হয়। এই আলােচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

⇒ বাক্যতত্ত্ব
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলােচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলােচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যােগ্যতা, বাক্যের উপাদান লােপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলােচিত হয়ে থাকে।

⇒ অর্থতত্ত্ব
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলােচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলােচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,১৯৪.
নিচের কোন বর্ণের পরে ‘ষ’ হয়?
  1. ক) অ
  2. খ) ঋ
  3. গ) আ
  4. ঘ) থ
ব্যাখ্যা
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• র-এর পর ‘অ’, ‘আ’ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকলে ‘ষ’ বসে। আর ‘অ’, ‘আ’ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,১৯৫.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) গবাক্ষ
  2. খ) একাদশ
  3. গ) গোষ্পদ
  4. ঘ) বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
• পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
• কিছু স্বরসন্ধি ও কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি কোনো সূত্র বা নিয়ম অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ কিছু স্বরসন্ধি হলো:
কুল+অটা = কুলটা,
গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

নিপাতনে সিদ্ধ কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি হলো:
গো+পদ = গোষ্পদ,
এক+দশ = একাদশ,
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,১৯৬.
‘দমাদম’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকরণ দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,১৯৭.
‘আমার মতো’ এক কথায় বলে-
  1. তাদৃশ
  2. ঈদৃশ
  3. মাদৃশ
  4. আদৃত
ব্যাখ্যা
• ‘আমার মতো / সদৃশ’ এক কথায় বলে - মাদৃশ।

অন্যদিকে,
‘ইহার তুল্য’ এক কথায় বলে - ঈদৃশ।
‘সেই প্রকার বা সেই রকম’ এক কথায় বলে - তাদৃশ।
‘সদরে গৃহীত’ এক কথায় বলে - আদৃত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,১৯৮.
'ধোপা' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ -
  1. ক) ধুপী
  2. খ) ধুপানী
  3. গ) ধোপী
  4. ঘ) ধোপানী
ব্যাখ্যা

নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দঃ
- ধোপা - ধোপানী,
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,১৯৯.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
  2. বন + ঔষধি = বনৌষধি
  3. জন + এক = জনৈক
  4. মহা + ঋষি = মহর্ষি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - বন + ঔষধি = বনৌষধি। এর শুদ্ধরূপ - বন + ওষধি = বনৌষধি।

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
- মহা + ঋষি = মহর্ষি
- শীত + ঋত = শীতার্ত।
- জন + এক = জনৈক
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,২০০.
’ভাবনা চিন্তাহীন’ কোন বাগধারাটির অর্থ প্রকাশ করে ?
  1. ক) সুখের পায়রা
  2. খ) খোদার খাসি
  3. গ) যক্ষের ধন
  4. ঘ) বসন্তের কোকিল
ব্যাখ্যা
• 'খোদার খাসি' বাগ্‌ধারার অর্থ ভাবনা চিন্তাহীন।
উদাহরণ- খোদার খাসির মতো চলাফেরা করলে তো আর জীবন চলে না। 

--------------------------
• 'যক্ষের ধন' বাগ্‌ধারার অর্থ কৃপণের কড়ি।
• 'শরতের শিশির/ দুধের মাছি/ সুখের পায়রা/ লক্ষ্মীর বরযাত্রী/ বসন্তের কোকিল' সবগুলো বাগ্‌ধারার অর্থ সুসময়ের বন্ধু।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।