বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৪১ / ৩৫৪ · ৪,০০১৪,১০০ / ৩৫,৭১৩

৪,০০১.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. সর্বশুচি
  2. মার্তণ্ড
  3. শিখিন
  4. শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা

'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

অন্যদিকে,
'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, বিশ্বপা, সর্বশুচি, হিমারাতি, বায়ুসখ, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।

'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০০২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
  2. আমি সাক্ষী দিব না।
  3. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  4. ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
• শুদ্ধ বাক্য: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
------------------------------------- 
অন্যদিকে, 
এমনকিছু অশুদ্ধ ও শুদ্ধ বাক্য হলো-
• অশুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষী দিব না।
• শুদ্ধ বাক্য: আমি সাক্ষ্য দিব না।

• অশুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ বাক্য: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

• অশুদ্ধ বাক্য: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাস্কর।
- শুদ্ধ বাক্য: ঘটনাটি অত্যন্ত লজ্জাকর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০০৩.
অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা। এখানে 'দিকে' শব্দটি-
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা।' এখানে 'দিকে' শব্দটি- অনুসর্গ

যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না। - এই বাক্যে ছাড়া একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে পর্যন্ত একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০০৪.
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখার অন্তর্ভুক্ত ভাষা কোনটি?
  1. ইতালিক
  2. গ্রিক
  3. হিওিক
  4. ইন্দো-ইরানিয়ান
ব্যাখ্যা
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা - ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন।
আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তম (Centum)।
- কেন্তম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে।
- এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়।
- অ্যাসকোলির ধারণা - কেন্তম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।


উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম।
৪,০০৫.
'সমুদয়' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক
  2. আত্মবাচক
  3. সাকল্যবাচক
  4. অনির্দেশক
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম পদ নানারকম হয়।

যেমন:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, এরা, ওরা ইত্যাদি।
২. নির্দেশক সর্বনাম: এ, এটি, সেটি, সেগুলো ইত্যাদি।
৩. সাকল্যবাচক সর্বনাম: সকল, সব, সমুদয় ইত্যাদি।
৪. সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি ইত্যাদি।
৫. প্রশ্নসূচক সর্বনাম: কী, কার, কাদের, কিসে ইত্যাদি।
৬. অনির্দেশক সর্বনাম: কেউ, কোন, কেহ, কিছু ইত্যাদি।
৭. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি ইত্যাদি।
৮. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০০৬.
'Annex' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সূচিপত্র
  2. টীকা
  3. ক্রোড়পত্র
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'Annex' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ- ক্রোড়পত্র।

অন্যদিকে:
• 'Annotation' অর্থ - টীকা।
• 'Index' অর্থ - সূচিপত্র। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা
৪,০০৭.
নিচের কোনটি আদিস্বরলোপের উদাহরণ?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
  3. করিয়া > কইর‌্যা > করে
  4. মুরগ > মুরােগ > মােরগ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন বসতি বস্তি, জানালা জাল্লা ইত্যাদি।

ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্নু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ। (স্বরলোপ বস্তুত স্বরাগমের বিপরীত প্রক্রিয়া।)

অন্যদিকে, 
• 'করিয়া > কইর‌্যা > করে' অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 
• 'মুরগ > মুরােগ > মােরগ' মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,০০৮.
নিচের কোন শব্দটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) দাপট
  2. খ) পেঁটরা
  3. গ) মিতালি
  4. ঘ) যাচাই
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে আলি থাকলে আলি হবে। 
• শর্টকাট : আলি = আলি। মিতালী হচ্ছে তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ।

• প্রদত্ত শব্দ    প্রকৃতি ও প্রত্যয়
গৃহস্থালি  --  গৃহস্থ + আলি    
গীতালি  --  গীত + আলি
ঘটকালি  --  ঘটক + আলি    
সোনালি  --  সোনা + আলি
মিতালি  --  মিতা + আলি    
রুপালি  --  রুপা + আলি

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাবহারিক বাংলা ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা।
৪,০০৯.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. নিক্বণ
  2. ভ্রাতুস্পুত্র
  3. পোস্টমাস্টার
  4. দূষণীয়
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুস্পুত্র'

• এর শুদ্ধ বানান - 'ভ্রাতুষ্পুত্র'
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: ভ্রাতুঃ + পুত্র।
এর অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

অন্যদিকে,
- নিক্বণ, পোস্টমাস্টার এবং দূষণীয় - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০১০.
'Manuscript' এর বাংলা প্রতিশব্দ কি?
  1. পাণ্ডুলিপি
  2. শ্বেতপত্র
  3. ইশতেহার
  4. নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

• 'Manuscript' এর বাংলা পরিভাষা - পাণ্ডুলিপি

অন্যদিকে,
Manifesto - ইশতেহার।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Agenda - আলোচ্যসূচি।
Constitution - সংবিধান।
Constituency - নির্বাচনী এলাকা/ নির্বাচকমণ্ডলী।
Edition- সংস্করণ।
Manual - সারগ্রন্থ।
Gazette - ঘোষণাপত্র।
Invoice - চালান, প্রেরিতক-সূচি।
Constipation- কোষ্ঠকাঠিন্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৪,০১১.
প্রফুল্ল শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) ম্লান
  2. খ) বিষন্ন
  3. গ) ক + খ
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
প্রফুল্ল শব্দের বিপরীত শব্দ = ম্লান/বিষন্ন 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
৪,০১২.
অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. ট্যা ট্যা
  2. মিন মিন
  3. কুহু কুহু
  4. মড়মড়
ব্যাখ্যা
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার - মিন মিন

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-

মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৪,০১৩.
'Morgue' এর বাংলা পরিভাষা-
  1. ক) শবাগার
  2. খ) মনোবল
  3. গ) বন্ধক
  4. ঘ) গতি
ব্যাখ্যা
- 'Morgue' এর বাংলা পরিভাষা হচ্ছে শবাগার

• প্রদত্ত প্রশ্নে অন্যান্য অপশন:
Morale = মনোবল ।
Mortgage = বন্ধক।
Motion = গতি।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৪,০১৪.
‘অক্ষয়’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
  1. অশেষ
  2. অন্তহীন
  3. অবিনাশী
  4. আগন্তুক
ব্যাখ্যা
• ‘অক্ষয়’ শব্দের প্রতিশব্দ নয় - আগন্তুক
- এটি 'অতিথি' শব্দের প্রতিশব্দ।

'অক্ষয়’ শব্দের আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- চিরন্তন, ক্ষয়হীন, অশেষ, অনিঃশেষ, অন্তহীন, অবিনাশী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০১৫.
বিসর্গ (ঃ) বর্ণটি কোন বর্ণের রূপান্তর?
  1. ক) হ
  2. খ) স
  3. গ) শ
  4. ঘ) ম
ব্যাখ্যা
(বিসর্গ) :
বিসর্গ হলাে অঘােষ ‘হ’-এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি।
হ-এর উচ্চারণ ঘােষ, কিন্তু ঃ এর উচ্চারণ অঘােষ।
বাংলায় একমাত্র বিষয়াদি প্রকাশক অব্যয়েই বিসর্গের ধ্বনি শােনা যায়। যথা- আঃ, উঃ, ওঃ, বাঃ ইত্যাদি।
সাধারণত বাংলায় শব্দের অন্তে বিসর্গ প্রায়ই অনুচ্চারিত থাকে। যেমন – বিশেষতঃ (বিশেষত), ফলতঃ (ফলত)।
পদের মধ্যে বিসর্গ থাকলে পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়। যেমন – দুঃখ (দুখখ), প্রাতঃকাল (প্রাতককাল)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪,০১৬.
কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ?
  1. দাই
  2. সারী
  3. বেগম
  4. বেয়াইন
ব্যাখ্যা
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কতগুলো শব্দ নিত্য স্ত্রীবাচক। এগুলোর পুরুষবাচক শব্দ নেই।

যেমন:
সতীন,
সৎমা,
এয়ো,
দাই,
সধবা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বেয়াই-বেয়াইন,
বাদশা-বেগম,
শুক-সারী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০১৭.
'কুঞ্জর' শব্দটি কোন প্রাণী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. ঘোড়া
  2. সিংহ
  3. হাতি
  4. হরিণ
ব্যাখ্যা
উত্তর: গ) হাতি।

• ‘কুঞ্জর’ শব্দটি সংস্কৃত ব্যুৎপত্তিযুক্ত এবং এটি হাতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
- এটি 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ বা প্রতিশব্দ।

আরো কয়েকটি প্রতিশব্দ:
- হস্তী, গজ, করী, কুঞ্জর, দন্তী, দ্বিরথ, নাগ, বারণ, মাতঙ্গ ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলোর প্রতিশব্দ:
ক) ঘোড়া = অশ্ব, হয়, তুরঙ্গ, ঘোটক, তুরঙ্গম, তুরগ, হ্রেষী, বামী।
খ) সিংহ = কেশরী, মৃগেন্দ্র, পশুরাজ।
ঘ) হরিণ = কুরঙ্গ, মৃগ, সুনয়ন, সারঙ্গ।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০২২  সংস্করণ)।
৪,০১৮.
'কৃশ' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. স্থির
  2. ক্ষীণ
  3. স্থূল
  4. নির্বোধ
ব্যাখ্যা
• 'কৃশ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - স্থূল।

উল্লেখ্য,
'কৃশ' শব্দের অর্থ - দুর্বল, ক্ষীণ
'স্থূল' শব্দের অর্থ - চ্যাপ্টা, ভোঁতা, সূক্ষ্ম নয় এমন।

অন্যদিকে,
'চতুর' - নির্বোধ।
'চঞ্চল' - স্থির।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০১৯.
সঠিক বাক্য কোনটি?
  1. প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ শেখান।
  2. প্রশিক্ষক সকল প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ শেখান।
  3. প্রশিক্ষক সকল প্রশিক্ষণার্থীদেরকে কাজ শেখান।
  4. প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের শেখান।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ শেখান।

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না। 

অন্যদিকে,
- প্রশিক্ষক সকল প্রশিক্ষণার্থীদের কাজ শেখান ও প্রশিক্ষক সকল প্রশিক্ষণার্থীদেরকে কাজ শেখান- বচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
- প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের শেখান- কর্ম না থাকায় বাক্যটি অপরিপূর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০২০.
'ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে আর পারলে না।'- এই বাক্যে কোন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. লজ্জা
  2. ধিক্কার
  3. ঘৃণা
  4. বিরক্তি
ব্যাখ্যা
• 'ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে আর পারলে না। বাক্যটি দ্বারা - 'লজ্জা প্রকাশ' পেয়েছে। 

আদেশ বাচক বাক্য (Imperative sentence):
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যথা : শিক্ষক মহােদয় শ্রেণিকক্ষে এলে উঠে দাঁড়াবে। চুপটি করে বস। উঠে দাঁড়াও। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।
- স্বরভঙ্গি তথা বাগৃভঙ্গির সাহায্যে ক্রোধ, আদর, আনন্দ, দুঃখ, বিরক্তি, বিস্ময়, লজ্জা, ঘৃণা প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অনুভূতি প্রকাশ করা যায়।
যথা :
১. সাধারণ বিবৃতিতে: সে আজ যাবে।
২. জিজ্ঞাসায়: সে আজ যাবে?
৩. বিস্ময় প্রকাশে: সে আজ যাবে!
৪. ক্রোধ প্রকাশে: আমি তােমাকে দেখে নেব।
৫. আদর বােঝাতে: বড় শুকিয়ে গেছিস রে।
৬. আনন্দ প্রকাশে: বেশ বেশ, খুব ভালাে হয়েছে।
৭. দুঃখ প্রকাশে: আহা, গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙেছে!
৮. বিরক্তি প্রকাশে: আঃ, ভালাে লাগছে না, এখন এখান থেকে যাও তাে।
৯. ভীতি প্রদর্শনে: যাবি কি না বল?
১০. লজ্জা প্রকাশে: ছিঃ ছিঃ, তার সঙ্গে পারলে না।
১১. ধিক্কার দিতে: ছিঃ, তােমার এই কাজ।
১২. ঘৃণা প্রকাশে: তুমি এত নীচ।
১৩. অনুরােধ প্রকাশে: কাজটি করে দাও না ভাই।
১৪. প্রার্থনা: ঈশ্বর তােমার মঙ্গল করুন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০২১.
'কাঠের পুতুল' বাগধারাটির অর্থ -
  1. শ্রমবিমুখ
  2. অতি আদরের বড় লোকের নষ্ট পুত্র
  3. অসার
  4. নিতান্ত অলস
ব্যাখ্যা
• 'কাঠের পুতুল' বাগধারাটির অর্থ - নির্জীব বা অসার

অন্যদিকে, 
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাগধারার অর্থ - অতি আদরের বড় লোকের নষ্ট পুত্র।
- 'গোঁফ খেজুরে' বাগধারাটির অর্থ - নিতান্ত অলস।
- 'ননীর পুতুল' বাগধারার অর্থ - শ্রমবিমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০২২.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অদ্যবধি
  2. অধ্যবসায়
  3. অনুসঙ্গ
  4. অনুর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
অধ্যবসায় (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অবিরাম সাধনা।
- নিবিড় প্রযত্ন।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধ রূপ-
অদ্যবধি - অদ্যাবধি। 
অনুসঙ্গ - অনুষঙ্গ। 
অনুর্ধ্ব - অনূর্ধ্ব। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০২৩.
"সদানন্দ" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদান + অন্দ
  2. সদা + আনন্দ
  3. সদ + আনন্দ
  4. সদাঃ + আনন্দ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- নর + অধম = নরাধম
- পাগল + আমি = পাগলামি, 
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়, 
- সদা + আনন্দ = সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০২৪.
চলিতরীতির উদাহরণ কোনটি?
  1. এই
  2. উহা
  3. ইহা
  4. তা
ব্যাখ্যা
• চলিতরীতির উদাহরণ - তা।
- এর সাধুরূপ - তাহা।

সর্বনামপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ এই-এ,
→ ইহা-এ,
→ ইহাকে-একে,
→ ইহাদের এদের,
→ উহা-ও,
→ উহাদিগের-ওদের,
→ কাহাকে-কাকে,
→ কেহ-কেউ,
তাহা-তা,
→ তাহার-তার ইত্যাদি।

চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০২৫.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যের "গিয়ে" কোন ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. সকর্মক
  4. সমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- সে বই নিয়ে ...
• এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০২৬.
‘আন’ কোন প্রকারের উপসর্গ?
  1. ক) খাঁটি বাংলা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
- বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০২৭.
বাংলা ব্যাকরণে সিদ্ধ ধাতু কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু:
যে ধাতুকে আর বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে বলা হয় মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু। এসব ধাতুর রূপ গঠনের দিক থেকে ন্যূনতম একক। এসব ধাতু আবার স্বয়ংসিদ্ধ ধাতু নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। যেমন- কর, চল, দেখ, খি, যা, আস ইত্যাদি। বাংলা ভাষার মৌলিক ধাতুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১) খাঁটি বাংলা ধাতু
২) সংস্কৃত মূল ধাতু ও
৩) বিদেশি ধাতু। 

• খাঁটি বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতুর মূল সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে আসেনি, কিন্তু অপভ্রংশ বা প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এসে ব্যবহৃত হচ্ছে তাকে বলা হয় খাঁটি বাংলা ধাতু। এসব ধাতুকে ভিত্তি করেই বাংলা ক্রিয়াপদ, কৃদন্ত, বিশেষ্য, বিশেষণ ইত্যাদি শব্দ গঠিত হয়েছে।
যেমন- নাচ্-নাচা, কাট্- কাটা, কাঁদ্‌- কাঁদা ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।

যেমন- 'কৃ' ধাতুর সাহায্যে গঠিত পদ কর, করা ইত্যাদি। আবার 'কৃ' থেকে গঠিত ক্রিয়াপদ- কৃত, কর্তব্য, করণীয়, কর্তৃত্ব ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে, 'গম' থেকে- গমন করা, গতি, গম, গত ইত্যাদি। 'দা' ধাতু থেকে- দান করা, দাতা, দান, দাতব্য। 'তাজ' ধাতু থেকে- ত্যাগ করা, ত্যাগ, ত্যাজ্য ইত্যাদি।
কয়েকটি সংস্কৃত মূল ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- অঙ্ক, আঁক্, কথ, কহ্, কৃৎ, কাট্, ক্রন্দ, কাঁদ্, ক্রী, কিন্, খাদ্। 

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম এবং খাঁটি বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। প্রধানত হিন্দি, আরবি, ফারসি ভাষা থেকে এসব ধাতু বাংলা ভাষায় এসেছে। যেমন- ভিক্ষে মেগে খায়- এ বাক্যে মাগ ধাতু হিন্দি 'মাঙ' থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আরও কিছু ক্রিয়ামূল রয়েছে যাদের ক্রিয়ামূলের মূল ভাষা নির্ণয় করা কঠিন। এ ধরনের ক্রিয়ামূলকে অজ্ঞাতমূল ধাতু বলে। যেমন- হের ঐ দুয়ারে দাঁড়িয়ে কে? এ বাক্যে 'হের' ধাতুটি কোন ভাষা থেকে এসেছে তা নির্ণয় করা যায়নি। তাই এটি অজ্ঞাতমূল ধাতু হিসেবে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি বিদেশি ধাতুর উদাহরণ দেয়া হলো- আঁট্, খাট, ফির্, চাহ্, টান্‌, টুট্‌ ।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০২৮.
'মশগুল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) তুর্কী
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) ফার্সি
  4. ঘ) আরবি
  5. ঙ) বাংলা
ব্যাখ্যা

- মশগুল, মসগুল (বিশেষণ) - মগ্ন; আবিষ্ট; বিভোর; বিহ্বল।
- এটি একটি আরবি শব্দ।

- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ হলোঃ
- জান্নাত, জাহান্নাম, তওবা, তসবি, জাকাত, হজ, হাদিস, হারাম, হালাল, আদালত, আলেম, ইনসান, ঈদ, উকিল, ওজর, এজলাস, এলেম, কানুন, কলম, কিতাব।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমী অভিধান।

৪,০২৯.
নিত্য সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. নগরীর সমীপে = উপনগরী
  2. অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর
  3. অক্ষির সমীপে = সমক্ষ
  4. ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা
• নিত্যসমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন -
→ অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
→ কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
→ অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
→ (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
→ তুমি আমি ও সে = আমরা,
→ দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

অন্যদিকে,
"নগরীর সমীপে = উপনগরী;
অক্ষির সমীপে = সমক্ষ;
ক্ষুদ্র মহাদেশ = উপমহাদেশ" অপশনগুলো অব্যয়ীভাব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৩০.
কলাজ্ঞান আছে যার = _________।
  1. কলাক
  2. কলাজ্ঞ
  3. কলাবিদ
  4. কলৈক
  5. কলারদ
ব্যাখ্যা
• ‘কলাবিদ’ শব্দের অর্থ: শিল্পজ্ঞানী, শিল্পরসজ্ঞ, শিল্পরসিক।

সুতরাং,
• ‘কলাজ্ঞান আছে যার’ এক কথায় বলে - কলাবিদ।

এরূপ-
• বহুবিষয়বিদ / বহু বিষয় জানে এমন - বহুজ্ঞ। 

অন্যদিকে: 
- সব কিছু জানে এমন - সর্বজ্ঞ।
- সব বিষয়ে জানে এমনম - সবজান্তা।
- বিবিধ বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ - বহুদর্শী। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও অভিগম্য অভিধান। 
৪,০৩১.
'কুম্ভ' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) কুমির
  2. খ) কুয়ো
  3. গ) কলস
  4. ঘ) হাতি
ব্যাখ্যা
কুম্ভ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: 
- ঘট, কলস। 
- রাশিচক্রের একাদশ রাশি। 
- হাতির মাথার দুই পার্শ্বস্থ মাংসপিণ্ড 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,০৩২.
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ইন্দু
  2. শশী
  3. তুহিন
  4. সোম
ব্যাখ্যা

'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ নয়- তুহিন। 
• 'তুহিন' শব্দের অর্থ: বরফ, তুষার; হিম।

-----------------
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ: চন্দ্র, চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাকর; ইন্দু; সুধাংশু; বিধু; শশীসোম; মৃগাঙ্ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৩৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান -
  1. আশিস
  2. আত্নস্থ
  3. ঋদ্ধিমান
  4. আটপৌরে
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ বানান - 'আত্নস্থ'
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'আত্মস্থ'
শব্দটির অর্থ: আত্মগত; আত্মনিষ্ঠ, প্রকৃতিস্থ, আত্মসমাহিত, আত্মনিমগ্ন।

অন্যদিকে,
- ঋদ্ধিমান, আশিস এবং আটপৌরে- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,০৩৪.
নিচের কোন শব্দজোড় সমার্থক নয়?
  1. ক) কুমুদ, কুবলয়
  2. খ) কুসুম, প্রসূন
  3. গ) ভুজ, পাণি
  4. ঘ) দুহিতা, সীমন্তিনী
ব্যাখ্যা
কুমুদ, কুবলয় = পদ্ম এর সমার্থক শব্দ ।
কুসুম, প্রসূন = ফুল এর সমার্থক শব্দ ।
ভুজ, পাণি = হাত এর সমার্থক শব্দ ।
দুহিতা = কন্যা এর সমার্থক শব্দ ।
সীমন্তিনী = নারী এর সমার্থক শব্দ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৩৫.
'মধ্য স্বরাগম' এর অপর নাম কী?
  1. অসমীকরণ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা

• 'মধ্য স্বরাগম' এর সমার্থক শব বা অপর নাম - বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

---------------------
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্বরলোপ' এর সমার্থক - সম্প্রকর্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,০৩৬.
'বসতবাড়ি' - শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. কর্মধারয়
  4. বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা, 
- তপের নিমিত্ত বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,০৩৭.
'ব্যোম' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. রাত
  2. সমুদ্র
  3. আকাশ
  4. চাঁদ
ব্যাখ্যা
• ব্যোম (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অম্বর;
- আকাশ;
- শূন্য।

• 'আকাশ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অম্বর, ব্যোম, খ, গগন, অন্তরিক্ষ, শূন্যলোক, আসমান, দ্যুলোক, অভ্র, নীলিমা, শূন্য, নভঃ, অনন্ত, সুরপথ, অম্মরতল, খলোক, খগোল, নক্ষত্রলোক, নভোলোক, নভোমণ্ডল, নভস্তন, নভস্থল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৩৮.
কোন শব্দটি ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত?
  1. ছটফট
  2. রীতিনীতি
  3. বনজঙ্গল
  4. অলিগলি
ব্যাখ্যা

যুগ্মরীতিতে শব্দ দ্বিরুক্ত গঠন:
- একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।

যেমন:
- শব্দের আদিস্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি, টুপটাপ।
- শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
- দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
- সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
- ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি
- বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৩৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) অন্তেষ্টিক্রিয়া
  2. খ) অদ্যাপি
  3. গ) অন্তেঃষ্টিক্রিয়া
  4. ঘ) অদ্যপি
ব্যাখ্যা
- অদ্যাপি: এখনও; আজও; একাল পর্যন্ত।
- অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া (বিশেষ্য) - মৃতের সৎকার; অন্তিম অনুষ্ঠান। 

সূত্র: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৪০.
কোন যুক্তবর্ণের গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. ক্স = (ক্ + স)
  2. ক্ষ = (ক্ + ষ)
  3. ঞ্জ = (ঞ্ + ছ)
  4. ক্ত = (ক্ + ত)
ব্যাখ্যা
• ঞ্জ = (ঞ্ + ছ) এর শুদ্ধ যুক্তবর্ণ গঠন: 'ঞ্জ (ঞ্ + জ)। 
----------------- 
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স,  ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৪১.
নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কোলন চিহ্ন 
  2. উদ্ধৃতি চিহ্ন 
  3. বিকল্প চিহ্ন 
  4. হাইফেন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' যতিচিহ্ন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
• বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
• কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭:২০।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
• গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৪২.
বাক্য গঠনের উপাদান কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. ভাষা
  3. পদ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে। বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে। এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।

• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

--------------
• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪,০৪৩.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. রুক্মিনী
  2. ভাষণ
  3. কৃপণ
  4. উষ্ণ
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - রুক্মিনী।
- এর শুদ্ধ বানান - রুক্মিণী।

ণ-ত্ব ব্যবহারের নিয়ম:

- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৪৪.
'দৈবাৎ' শব্দের অর্থ কী?
  1. অকস্মাৎ
  2. আশ্চর্য
  3. নবীন
  4. সদ্য
ব্যাখ্যা

'অকস্মাৎ' শব্দের অর্থ - আকস্মিক, আচমকা, হঠাৎ, সহসা, অতর্কিত, দৈবাৎ

অন্যদিকে,
'নতুন' শব্দের অর্থ - নবীন, সদ্য, আনকোরা, আধুনিক, অধুনা, অর্বাচীন।
'অদ্ভুত' শব্দের অর্থ - উদ্ভট, আজব, আজগুবি, তাজ্জব, বিস্ময়কর, আশ্চর্য, অস্বাভাবিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংল অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৪,০৪৫.
শুদ্ধ বানান নয় কোনটি?
  1. মধ্যাহ্ন
  2. পূর্বাহ্ন
  3. অপরাহ্ণ
  4. সায়াহ্ন
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান: পূর্বাহ্ন।

• শুদ্ধ: পূর্বাহ্ণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- দিবসের প্রথম অর্ধ,
- পূর্ববর্তী সময়।

অন্যদিকে
• শুদ্ধ বানান: মধ্যাহ্ন।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: দিনের মধ্যভাগ, দুপুরবেলা, দ্বিপ্রহর।

• শুদ্ধ বানান: অপরাহ্ণ।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: মধ্যাহ্ন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়, বিকেল।

• শুদ্ধ বানান: সায়াহ্ন (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- সন্ধ্যা,
- সাঁঝ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।শুদ্ধ
৪,০৪৬.
লাফ > ফাল কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) ধ্বনি বিপর্যয়
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমনঃ বাক্‌স > বাস্‌ক, রিক্‌সা > রিস্‌কা।
এরূপ- পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৪,০৪৭.
'দুর্ভিক্ষ' কোন সমাস?
  1. বহুব্রীহি সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- অতিক্রান্ত (উৎ) অর্থে: বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল,
- শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত =  উচ্ছৃঙ্খল,
- অনতিক্রম্যতা (যথা) অর্থে:  রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি,
- সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য,
- ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি। 
 
উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৪৮.
'বাচ্যার্থ' শব্দের কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. লক্ষ্যার্থ
  2. পরোক্ষ
  3. মূখ্য
  4. গৌণ
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ: 
- ভাষা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য মনের ভাব প্রকাশ করা।
- মনের ভাব প্রকাশ করতে মানুষ শব্দ ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে।
- এগুলাের অর্থই মূলত বক্তা ও শ্রোতার মধ্যে সংযোেগ ঘটায়।
- শব্দ ও শব্দগুচ্ছের অর্থকে বাগর্থ বলে।

• অর্থের শ্রেণিবিভাগ: 
- অনুসারে শব্দের অর্থ অন্তত দুই রকমের।
-কোথাও শব্দের গাঠনিক উপাদানগুলাের অর্থ প্রাধান্য পায়, আবার কোথাও গাঠনিক অর্থ ছাপিয়ে শব্দের ভিন্ন অর্থ তৈরি হয়।
- এই দুই ধরনের অর্থের নাম - বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থ।

• বাচ্যার্থ:
- একটি শব্দ শােনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে যে ছবি বা বােধ জেগে ওঠে, সেটাই শব্দটির বাচ্যার্থ।
- অভিধানে অর্থ গ্রহণের বেলায় শব্দের বাচ্যার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
- 'মাথা' শব্দটি শােনার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের যে ছবি মনে ভেসে ওঠে, তা-ই ‘মাথা’ শব্দের বাচ্যার্থ।
- বাচ্যার্থ হলাে শব্দের মুখ্য অর্থ।
- এই অর্থকে আক্ষরিক অর্থও বলা হয়ে থাকে।

• লক্ষ্যার্থ:
- একটি শব্দের বাচ্যার্থের বাইরেও আলাদা অর্থ তৈরি হতে পারে।
- এই আলাদা অর্থের নাম লক্ষ্যার্থ।
- যেমন: 'তিনি গ্রামের মাথা'। 
- এখানে মাথা’ শব্দ শােনার পরে শ্রোতার মনে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গের কোনাে ছবি ভেসে ওঠে না, মাননীয় কোনাে ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে।
- লক্ষ্যার্থকে গৌণার্থ বা লাক্ষণিক অর্থ বলা হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৪৯.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) কুপণ
  2. খ) উষ্ণ
  3. গ) বাণিজ্য
  4. ঘ) স্থাণু
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• কুপন(ফারসি শব্দ)।
- ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন নেই। অতএব ণ-ত্ব বিধান অনুসারে কুপণ শব্দটি অশুদ্ধ।

⇒ ণ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৫০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. পিপাসিত
  2. পিঁপাসীত
  3. পিঁপাসিত
  4. পিপাসীত
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান- পিপাসিত। 
​- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
​- বিশেষণ পদ। 
​অর্থ:
- পিপাসাযুক্ত, তৃষ্ণার্ত।
- লোলুপ, লোভাতুর। 

এর ​স্ত্রীবাচক শব্দ-  পিপাসিতা।

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,০৫১.
সাকুল্যবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ঐসব
  2. সমুদয়
  3. অপর
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৫২.
'তেলে ভাজা = তেলে ভাজা' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সপ্তমী তৎপুরুষ
  2. খ) তৃতীয়া তৎপুরুষ
  3. গ) উপপদ তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তির দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি লোপ না হলে অলুক তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হয়।
যেমন : তেলে ভাজা (তেল দিয়ে ভাজা) = তেলেভাজা। এরূপ- কলেছাঁটা, তাঁতেবোনা, হাতেকাটা ইত্যাদি।
[সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণীর বোর্ড বই]
৪,০৫৩.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) নিরপরাধী
  2. খ) দারিদ্র্যতা
  3. গ) স্বার্থকতা
  4. ঘ) প্রাণিকুল
ব্যাখ্যা
• কুল যোগে গঠিত বহুবচন শব্দগুলো হলো কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
কুল (প্রাণিবাচক শব্দে): জীবকুল, প্রাণিকুল, মনুষ্যকুল ইত্যাদি।

• প্রাণিকুল (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রাণী+কুল
অর্থ: জীব-জন্তুসমূহ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫৪.
কোন শব্দে বিদেশি উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সরাজ
  2. বিজ্ঞান
  3. প্রবেশ
  4. বেকার
ব্যাখ্যা
• ‘বেকার’ শব্দটি ফারসি ‘বে’ উপসর্গযোগে গঠিত।

অন্যদিকে,
- ‘প্রবেশ’ ও ‘বিজ্ঞা ‘ শব্দদুটি সংস্কৃত উপসর্গ ‘প্র’ ও ‘বি’ যোগে গঠিত।
- ‘সরাজ’ শব্দটি খাাঁটি বাংলা উপসর্গ ‘স’ যোগে গঠিত।

-----------------
• উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৫৫.
"অ + অ = আ" নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. স্বাধীন
  2. যথাযথ
  3. মহাশয়
  4. হতাশ
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধি:
স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• নিয়ম: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + অ = আ;
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন।
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

অন্যদিকে,
• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• আ + আ = আ;
- বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা + আগার = কারাগার।

• আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,০৫৬.
প্রবাদ-প্রবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  2. সবুরে লেওয়া ফলে।
  3. চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
  4. খালি কলসির বাজনা বেশি।
ব্যাখ্যা
• প্রবাদ-প্রবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ- সবুরে লেওয়া ফলে।

• শুদ্ধ প্রবাদ-প্রবচন: সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্যে সফলতা আসে। 

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: লোভী বা স্বার্থান্বেষীর আশা সর্বদা পূরণ হয় না।

• শুদ্ধ প্রয়োগ: চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: খারপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক।

• খালি কলসির বাজনা বেশি।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি / আসারের তর্জনগর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৫৭.
'ক্ষর' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. নিঃসরণ
  2. নাশ
  3. উৎকর্ষ
  4. বর্ধিষ্ণু
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষর' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বর্ধিষ্ণু

উল্লেখ্য,
'ক্ষর' শব্দের অর্থ - ক্ষরণ, নিঃসরণ, নাশ
'বর্ধিষ্ণু' শব্দের অর্থ - ক্রমে বাড়ছে এমন, সমৃদ্ধ হচ্ছে এমন।

অন্যদিকে,
উৎকর্ষ - অপকর্ষ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৫৮.
নিচের কোনটি ভাববাচ্যের উদাহরণ? 
  1. সে যেন আসে।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। 
ব্যাখ্যা
• 'এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।'- ভাববাচ্যের উদাহরণ।

 • ভাববাচ্য:
- যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
• ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন-
- আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)। 

• কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন- এ পথে চলা যায় না।

• মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

অন্যদিকে,
- সে যেন আসে।- কর্তৃবাচ্য।
- দস্যুদল গৃহটি লুণ্ঠন করেছে।- কর্মবাচ্য। 
- মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে। - কর্তৃবাচ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০৫৯.
'পাঞ্চভৌতিক' শব্দের সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. পঞ্চভূত + ষ্ণিক
  2. পঞ্চভূত + ষ্ণ্য
  3. পঞ্চভূত + ষ্ণ
  4. পঞ্চভুত + ষ্ণিক
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
- ষ্ণ, ষ্ণি, ষ্ণিক, ষ্ণ্য, ইত, ইমন, ইল, তর, তা, ত্ব, বতুপ, নীন, বিন্, র, ল প্রভৃতি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে যে সমস্ত শব্দ গঠিত হয়, সেগুলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে । 
যেমন, মধুর+ষ্ণ = মাধুর্য
 
• সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ে গঠিত কিছু প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
- তেজঃ + বিন = তেজস্বী,
- পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক,
- কুসুম + ইত = কুসুমিত,
- সর্বজন + নীন = সর্বজনীন,
- নীল + ইমন = নীলিমা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৬০.
'বাক্যের যোগ্যতা' ও 'বাক্যের ব্যঞ্জনা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্ব
  3. দুটোই বাক্যতত্ত্ব
  4. দুটোই অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'বাক্যের যোগ্যতা' ও 'বাক্যের ব্যঞ্জনা' ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বে ও অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০৬১.
'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. কুমুদ
  2. অরবিন্দ
  3. শশধর
  4. সরিৎ
ব্যাখ্যা
• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ- শশধর। 

• 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক:
সোম, চন্দ্র, চন্দ্রমা, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, শুধাংশু, হিমাংশু, বিধু, ইন্দু, সিতকর, নিশাকর, সুধাকর, নিশাকান্ত, মৃগাঙ্ক, রজনীকান্ত, কলাধর, কলানিধি, কুমুদনাথ।

অন্যদিকে,
কুমুদ, অরবিন্দ - পদ্ম এর সমার্থক শব্দ।
সরিৎ - নদী এর সমার্থক শব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৬২.
সঠিক বিপরীত শব্দযুগল নয় কোনটি?
  1. অনুরক্ত-বিরক্ত
  2. আবির্ভাব-তিরোভাব
  3. লিপ্ত-নির্লিপ্ত
  4. অতিকায়-বৃহদাকার
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সঠিক বিপরীত শব্দযুগল নয় - অতিকায়-বৃহদাকার। কারণ, অতিকায় শব্দের অর্থ - বৃহৎ।

অন্যদিকে,
• 'অনুরক্ত' এর বিপরীত শব্দ - বিরক্ত। 
• 'আবির্ভাব' এর সঠিক বিপরীত শব্দ - তিরোভাব।
• 'লিপ্ত' এর সঠিক বিপরীত শব্দ = নির্লিপ্ত। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৬৩.
'প্রপৌত্র' - শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনুগামিত
  2. খ্যাতি
  3. সম্যক
  4. আধিক্য
ব্যাখ্যা

'প্র' উপসর্গের ব্যবহার:
- প্রকৃষ্ট/সম্যক অর্থে = প্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত।
- খ্যাতি অর্থে = প্রসিদ্ধ, প্রতাপ, প্রভাব।
- আধিক্য অর্থে = প্রগাঢ়, প্রচার, প্রবল, প্রসার।
- গতি অর্থে = প্রবেশ, প্রস্থান।
- ধারা-পরম্পরা বা অনুগামিত অর্থে = প্রপৌত্র, প্রশাখা।

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৬৪.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. দিবারাত্র পরিশ্রমে তাহার স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইয়াছে।
  2. চরিত্রহীন লোক পশ্বধম।
  3. পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।
  4. বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
• ‘বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’ কাব্যটিতে ভাবগত মেলবন্ধন না থাকায় বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।   
- সঠিক বাক্যটি হবে ‘বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’।

ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা :
• আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।

• আসত্তি: বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।

• যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬৫.
ধ্বনি হলো -
  1. ক) দুটি শব্দের মিলন
  2. খ) ভাষার ক্ষুদ্রতম অংশ
  3. গ) অর্থবোধক শব্দসমষ্টি
  4. ঘ) ভাষার লিখিত রূপ
ব্যাখ্যা
ভাষাকে সূক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় ধ্বনি অর্থাৎ ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলো 'ধ্বনি'।
ধ্বনির লিখিত রুপকে বলা হয় বর্ণ অর্থাৎ শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ হলো বর্ণ৷ এবং বাক্যের সংক্ষিপ্ত রুপ হলো শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৪,০৬৬.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

------------------------
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
• অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
• শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

• অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
• শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

• অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৬৭.
নিচের কোনটি ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ?
  1. ক) মানানসই
  2. খ) দারোয়ান
  3. গ) বাবুয়ানা
  4. ঘ) বেহায়াপনা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় বেশকিছু ফারসি তদ্ধিত প্রত্যয় রয়েছে এগুলো হলো- গিরি = বাবুগিরি, কেরানিগিরি ইত্যাদি। গর = কারিগর, বাজিগর। সই = মানানসই, টেকসই।খোর = সুদখোর, আফিমখোর ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,০৬৮.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. নীরোগ লোক আসলে সুখী।
  2. অতিলোভে তাতী নষ্ট।
  3. গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
  4. সব মাছগুলোর দাম কত।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক আসলে সুখী।

অন্যদিকে:
অশুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাতী নষ্ট।
শুদ্ধ বাক্য: অতিলোভে তাঁতি নষ্ট।

অশুদ্ধ বাক্য: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারবো না।
শুদ্ধ বাক্য: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ বাক্য: সব মাছগুলোর দাম কত।
শুদ্ধ বাক্য: মাছগুলোর দাম কত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৬৯.
'বিরক্ত'-এর বিপরীত শব্দ -
  1. উক্ত
  2. নিয়ত
  3. অনুরক্ত
  4. দয়া
ব্যাখ্যা
• 'বিরক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে: অনুরক্ত।

 • কিছু গুরত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিনীত।
- 'ঔদ্ধত্য' শব্দের বিপরীত শব্দ - বিনয়।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত। 
- 'দরদি' এর বিপরীত শব্দ-নির্দয়।  

অন্যদিকে, 
 • 'উক্ত' শব্দের অর্থ: বলা বা কথিত হয়েছে এমন; ব্যক্ত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, অভিগম্য অভিধান- বাংলা একাডেমি।
৪,০৭০.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ষড় + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র
  2. উৎ + ঘটন = উদঘাটন
  3. তদ + রূপ = তদ্রূপ
  4. বাক্ + দান = বাগদান
ব্যাখ্যা
ক্ + দ = গ্ + দ        বাক্ + দান = বাগদান
ট্ + য = ড্ + য         ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্র
ত্ + ঘ = দ্ + ঘ         উৎ + ঘাটন = উদঘাটন
ত্ + য = দ্ + য         উৎ + যোগ =উদ্যোগ
ত্ + র = দ্ + র         তৎ + রূপ = তদ্রূপ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪,০৭১.
'তোমরা যা খুশি করো, আমি বিদায় হলাম'- এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• 'তোমরা যা খুশি করো, আমি বিদায় হলাম'- এটি সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
• যে ক্রিয়া অতীত কালে সাধারণভাবে সংঘটিত হয়েছে অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে , তাকে সাধারণ অতীত কাল বলা হয়।
যেমন :
- আমি কাজটি করলাম।
- আমি খেলা দেখে এলাম।
- এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে ইত্যাদি।

সাধারণ অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
পুরাঘটিত বর্তমান স্থলে : 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' 
বিশেষ ইচ্ছা অর্থে বর্তমান কালের পরিবর্তে : তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৪,০৭২.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. জাপান উন্নতশীল দেশ।
  2. ইচ্ছা প্রমাণ হয়েছে।
  3. নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  4. স্বস্ত্রীক আসবেন।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্য - গ) নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
এই বাক্যে ব্যাকরণগত ও অর্থগত কোনো ভুল নেই।

অন্য অপশনগুলোর ভুল:

ক) "জাপান উন্নতশীল দেশ।" - ভুল
সমস্যা: জাপান একটি উন্নত দেশ, উন্নতশীল নয়
শুদ্ধ: জাপান উন্নত দেশ।

খ) "ইচ্ছা প্রমাণ হয়েছে।" - ভুল।
সমস্যা: ইচ্ছা প্রমাণ হয় না, বাস্তবায়িত/পূরণ হয়।
শুদ্ধ: ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।

ঘ) "স্বস্ত্রীক আসবেন।" - ভুল।
সমস্যা: 'স্বস্ত্রীক' শব্দের ভুল ব্যবহার
শুদ্ধ: সস্ত্রীক আসবেন। (স্ত্রী সহ আসবেন অর্থে)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
 
৪,০৭৩.
‘গভীর রাত্রি’ এক কথায় কী বলে?
  1. ত্রিযামা
  2. অমাবস্যা
  3. তমিস্রা
  4. নিশীথ
  5. সৌপ্তিক
ব্যাখ্যা
• ‘গভীর রাত্রি’ এক কথায় বলে - নিশীথ।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
- 'কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি' - অমাবস্যা।
- ‘ঘোর অন্ধকার রাত্রি’ - তামসী, তমিস্রা।
- ‘রাত্রির তিন ভাগ একত্রে’ - ত্রিযামা।
- ‘রাতের শিশির’ - শবনম।
- ‘রাত্রির প্রথম ভাগ’  -পূর্বরাত্র।
- ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ - মহানিশা। 
- ‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ - সৌপ্তিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৭৪.
কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. অপরাহ্ণ
  2. ছন্ন
  3. প্রত্ন
  4. মধ্যাহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ণ' শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ণ' এর ব্যবহার হয়েছে।
- 'হ্ণ' যুক্তবর্ণে (হ্‌ + ণ) রয়েছে। 

ণ-ত্ব বিধান: 
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

অন্যদিকে,
- 'ছন্ন' শব্দের 'ন্ন' যুক্তবর্ণে ( ন্‌ + ন) রয়েছে।
- 'প্রত্ন' শব্দের 'ত্ন' যুক্তবর্ণে ( ত্‌ + ন) রয়েছে।
- 'মধ্যাহ্ন' শব্দের 'হ্ন' যুক্তবর্ণে ( হ্‌ + ন) রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৭৫.
নিচের কোন নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল নেই?
  1. মেয়ে
  2. নারী
  3. কিশোরী
  4. সুন্দরী
ব্যাখ্যা
• কিছু নারীবাচক শব্দের সঙ্গে নরবাচক শব্দের গঠনগত মিল থাকে না।
যেমন:
- ভাই - বােন,
- পিতা - মাতা,
- ছেলে - মেয়ে,
- বর - কনে,
- বাদশা - বেগম।
 
• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তন করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়। এ রকম কয়েকটি প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ হলো:
‘আ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• প্রিয় - প্রিয়া;
• কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠা।
 
‘ইনী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বিজয়ী - বিজয়িনী;
• যোগী - যোগিনী;
• তেজস্বী - তেজস্বিনী।

‘মতী’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী;
• শ্রীমান - শ্রীমতী।

‘ঈ’ প্রত্যয়যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ:
• কিশোর - কিশোরী;
• নর - নারী;
• সুন্দর - সুন্দরী।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৪,০৭৬.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অনাটন
  2. দৌর্বল্য
  3. নিরপরাধী
  4. সমূলসহ
ব্যাখ্যা
• 'দৌর্বল্য' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'অনাটন'
- শব্দটির সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: অনটন।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সমূলসহ'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সমূল / মূলসহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৭৭.
বাক্যের বিধেয় অংশ না থাকায় বাক্যকে কোন দুই অংশে ভাগ করা হয়?
  1. ক) অক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়
  2. খ) সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়
  3. গ) অক্রিয় ও বিক্রিয়
  4. ঘ) সক্রিয় ও অক্রিয়
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায়: সক্রিয় বাক্য ও অক্রিয় বাক্য।

• সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলােকে সক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন – আমার মা চাকরি করেন।

• অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলােকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন - তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়ােগে এগুলাে সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন – 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন' বা 'তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন'

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০৭৮.
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক) ছ + ঙ
  2. খ) ঞ + চ
  3. গ) ণ + ছ
  4. ঘ) ঞ্ + ছ
ব্যাখ্যা
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় ঞ্ছ = ঞ্ + ছ।

এর কিছু উদাহরণ হলো- বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৪,০৭৯.
'বাচ্য' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. শব্দতত্ত্ব 
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

অন্যদিকে,
-------------------
• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪,০৮০.
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না, সেগুলোকে কোন প্রকার স্বরধ্বনি বলে?
  1. মৌলিক স্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. অর্ধস্বরধ্বনি
  4. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
- [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

অন্যদিকে,
মৌলিক স্বরধ্বনি: 
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
- এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি।

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি:
- মৌলিক স্বরধ্বনিগুলাে উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে।
- এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,০৮১.
'পরোপকার মানুষের মহৎ গুণের বহিপ্রকাশ' বাক্যে নিম্নরেখ শব্দ দুটির শুদ্ধ রূপ হলো -
  1. ক) পরোপকার, বহিঃপ্রকাশ
  2. খ) পরপকার, বহিঃপ্রকাশ
  3. গ) পরোপকার, বহিপ্রকাশ
  4. ঘ) পরোপোকার, বহিঃ প্রকাশ
ব্যাখ্যা
শব্দ দুটির শুদ্ধ রূপ পরোপকার ও বহিঃপ্রকাশ। [সূত্র: বাংলা একাডেমী এর অভিধান]
৪,০৮২.
'দীপ-দ্বীপ' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. উজ্জ্বল - প্রাচুর্য 
  2. প্রদীপ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড 
  3. জলবেষ্টিত ভূখণ্ড - আলো
  4. বলিষ্ঠ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড 
ব্যাখ্যা

• 'দীপ' শব্দের অর্থ - প্রদীপ।
• 'দ্বীপ' শব্দের অর্থ - জলবেষ্টিত ভূখণ্ড

অন্যদিকে,
'দৃপ্ত' - বলিষ্ঠ।
'দীপ্ত' - উজ্জ্বল।

দূতী - নারী সংবাদবাহক।
দ্যুতি - আলো।

ধুম - প্রাচুর্য।
ধূম - ধোঁয়া।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৮৩.
“The idle knave get the better of the honest toiler” - এর বাংলা প্রবাদ কি?
  1. নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা
  2. ঢিল মারলে পাটকেল খাওয়া
  3. পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায়
  4. যার ধন তার নয় নেপোয় মারে দই
  5. ফাঁপা ঢেঁকির শব্দ বড়ো
ব্যাখ্যা

নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা (prov) - A bad workman quarrels with his tools.
যার ধন তার নয় নেপোয় মারে দই (prov) - The idle knave get the better of the honest toiler.
ঢিল মারলে পাটকেল খাওয়া (prov) - tit for tat.
পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তে যায় (prov) - Ill-gotten goods/gains seldom prosper; Ill gotten ill spent.
ফাঁপা ঢেঁকির শব্দ বড়ো (prov) - An empty vessel sounds much.

Source: Bangla Academy 

৪,০৮৪.
'বিষমীভবন' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  2. লাল > নাল
  3. শরীর > শরীল
  4. লাফ ˃ ফাল
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল;
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লাল > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
:যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৮৫.
নিচের কোনটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) সোনার তরী
  2. খ) দ্রুতগামী
  3. গ) ভারপ্রাপ্ত
  4. ঘ) প্রাণপ্রিয়
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
সোনার-তরী = সোনার তরী, ঘোড়ার-ডিম = ঘোড়ার ডিম এগুলো অলুক তৎপুরুষ সমাস। যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ হয় না তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,০৮৬.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ
  2. ঞ্‌ + থ = ঞ্চ
  3. ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ
  4. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ঙ + খ = ঙ্খ। যেমন- শৃঙ্খলা, শঙ্খ।
• ঙ + গ = ঙ্গ। যেমন- অঙ্গ, মঙ্গল, সঙ্গীত।
• ঙ + ঘ = ঙ্ঘ। যেমন- সঙ্ঘ, লঙ্ঘন।
• চ্ + চ = চ্চ। যেমন- উচ্চ, উচ্চারণ, উচ্চকিত।
• চ্ + ছ = চ্ছ। যেমন- উচ্ছল, উচ্ছৃঙ্খল, উচ্ছেদ।
• জ্ + জ = জ্জ। যেমন- উজ্জীবন, উজ্জীবিত।
• জ্‌ + ঝ = জ্ঝ। যেমন- কুজ্ঝটিকা।
• জ্‌ + ঞ = জ্ঞ। যেমন- উচ্চারণ 'গ্য'- এর মতো) যেমন- জ্ঞান, সংজ্ঞা, বিজ্ঞান।
• ঞ্‌ + চ = ঞ্চ। যেমন- অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম।
• ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ। যেমন-বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা।
• ঞ্‌ + জ = ঞ্জ। যেমন- গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ।
• ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ।  যেমন- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০৮৭.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. চার আর তিনে সাত হয়।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
  4. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- আমার ছোট ভাই লিখছে।
- ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
- টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, 
• এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।- পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ। 
• সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। চার আর তিনে সাত হয়।-  নিত্যবৃত্ত সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪,০৮৮.
অশুদ্ধ শব্দজোড় কোনটি?
  1. ক) প্রাণী, প্রাণিবিদ্যা
  2. খ) কুমারী, কুমারিত্ব
  3. গ) মন্ত্রী, মন্ত্রিসভা
  4. ঘ) মায়াবী, মায়াবিনী
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ শব্দজোড় = কুমারী, কুমারিত্ব
শুদ্ধ রূপ = কুমারী, কুমারীত্ব।

কুমারী (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = কুমার+ঈ
অর্থ: অবিবাহিত কন্যা, রাজকন্যা

কুমারীত্ব (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় 
অর্থ: অবিবাহিত অবস্থা

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪,০৮৯.
'দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?'- এখানে 'না' এর ব্যবহার কী অর্থে?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. বিষ্ময়সূচক
  3. হ্যাঁ-বাচক
  4. নির্দেশাত্মক
ব্যাখ্যা
• নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর:
নির্দেশাত্মক বাক্য থেকে প্রশ্নাত্মক বাক্যে রূপান্তর করতে হলে বাক্যের মৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে প্রশ্নাত্মক বাক্যটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যার সবচেয়ে কাছাকাছি সম্ভাব্য উত্তর হবে নির্দেশাত্মক বাক্যটি।

• সূত্র: নির্দেশাত্মক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে না-বাচক, নির্দেশাত্মক বাক্য না-বাচক হলে প্রশ্নাত্মক হবে হ্যাঁ-বাচক। প্রথমটির ক্ষেত্রে বিধেয় ক্রিয়ার সঙ্গে নঞর্থক শব্দ যোগ করতে হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে নঞর্থক শব্দ বর্জন করে 'আর' প্রভৃতি বাক্যালঙ্কার শব্দের আগমন ঘটাতে হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: দেশপ্রেমিককে সবাই ভালোবাসে।
• প্রশ্নাত্মক: দেশপ্রেমিককে কে না ভালোবাসে?

তেমনই,
• নির্দেশাত্মক: তুমি বলেছিলে আগামীকাল আসবে।
• প্রশ্নাত্মক: তুমি না বলেছিলে আগামীকাল আসবে?

• সূত্র: রূপান্তরিত বাক্যে প্রয়োজনমতো 'কে', 'কি', 'কোথায়' ইত্যাদি প্রশ্নাত্মক শব্দ এবং প্রশ্ন (?) চিহ্ন বসাতে
হয়।
যেমন:
• নির্দেশাত্মক: কেউ মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না।
• প্রশ্নাত্মক: কেউ কি মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৯০.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. মৌনতা
  2. স্বতন্ত্রতা
  3. সখ্যতা
  4. সারল্যতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল শব্দসমূহ হলো- 

অশুদ্ধশব্দ 
- শুদ্ধশব্দ:
• মৈত্রতা - মৈত্র, মিত্রতা। 
• লাঘবতা - লাঘব, লঘুতা। 
• মৌনতা - মৌন। 
• সখ্যতা - সখ্য। 
• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা। 
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা। 
• সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য, সুন্দরতা। 
• সৌহার্দ্যতা - সৌহার্দ্য। 
• স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৯১.
‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।’- এখানে ‘গগনে’ কোন কারক?
  1. অপাদান কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. অধিকরণ কারক
  5. সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়া সমাপদনের কাল, স্থান ও সময়কে অধিকরণ কারক বলে। অর্থাৎ যে স্থানে বা সময়ে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় সেটিই অধিকরণ কারক।
অর্থাৎ ক্রিয়াপদকে কোথায়, কোন স্থানে, কখন, কোন সময়ে, কবে, কোন বিষয়ে বা ব্যাপারে এসব প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই অধিকরণ কারক।

অধিকরণ কারকে বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি:
- আমি ঢাকা যাব।
- বাবা বাড়ি নেই।
- সারারাত বৃষ্টি ছিলো।

• তৃতীয়া বিভক্তি: খিলিপান (এর ভিতরে) দিয়ে ঔষধ খাবে।
• পঞ্চমী বিভক্তি: বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
• সপ্তমী বা তে বিভক্তি: এ বাড়িতে কেউ নেই।

প্রশ্নে প্রদত্ত ‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা।’- বাক্যেকে কোথায় দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় ‘গগনে’। সুতরাং ‘গগনে’ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভিক্তির উদাহরণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৯২.
নিম্নের কোন শব্দে সদৃশ অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার ঘটেছে?
  1. ক) উপকরণ
  2. খ) উপদেশ
  3. গ) উপদ্বীপ
  4. ঘ) উপনেতা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন অর্থে 'উপ' উপসর্গের ব্যবহার- 

- সম্যক অর্থে উপকরণ, উপক্রম, উপচার, উপদেশ, উপহার। 
- ক্ষুদ্র অর্থে উপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপনদী, উপজেলা।
- সামীপ্য অর্থে উপকণ্ঠ, উপকূল, উপনগর। 
- সদৃশ অর্থে উপদ্বীপ, উপবন। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৯৩.
'বেদখল' শব্দে 'বে' উপসর্গটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. জোর
  2. বহির্ভূত
  3. হৃত
  4. বিশেষ
ব্যাখ্যা
যেসকল অর্থহীন শব্দ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে উপসর্গ বলে । 
- উপসর্গের নিজের অর্থ নেই; কিন্তু নতুন নতুন অর্থবোধক শব তৈরীতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

- বে + দখল = বেদখল (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'হৃত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)
- বে + আইন = বেআইন (এখানে 'বে' উপসর্গটি 'বহির্ভূত' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৯৪.
নিচের কোন শব্দটি উভলিঙ্গ প্রকাশক?
  1. বালক
  2. প্রবীণ
  3. ফল
  4. ডাক্তার
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - শব্দটি উভয়লিঙ্গ।
---------------- 
• লিঙ্গ:

- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। 
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক) পুংলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। 
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি। 

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। 
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি। 

গ) ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। 
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি। 

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। 
যেমন-
শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪,০৯৫.
অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ধীরে, সুস্থে
  2. মাঝে, মধ্যে
  3. সাথে, পাশে
  4. সম্মুখে, পিছনে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে’, ‘-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০৯৬.
'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. দিন + ইক
  2. দিন + এক
  3. দীন + ইক
  4. দীন + এক
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয়: দিন + ইক
- এটি তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

তদ্ধিত প্রত্যয়:
- শব্দের সঙ্গে (শেষে) যেসব প্রত্যয় যোগে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের তদ্ধিত প্রত্যয় বলা হয়।
- বিভক্তিহীন নাম শব্দকে বলা হয় প্রাতিপদিক। প্রাতিপদিক তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি বলে প্রাতিপদিককে নাম প্রকৃতিও বলা হয়।
- ধাতু যেমন কৃৎ-প্রত্যয়ের প্রকৃতি, তেমনি প্রাতিপদিকও তদ্ধিত প্রত্যয়ের প্রকৃতি।
- প্রত্যয় যুক্ত হলে ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি এবং প্রাতিপদিককে বলা হয় নাম প্রকৃতি।
- তদ্ধিত প্রত্যয়গুলো বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার।
ক. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
খ. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়।
গ. তৎসম বা সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০৯৭.
'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. বাঘা
  2. চোরা
  3. কানাই
  4. জেঠামি
ব্যাখ্যা
• 'আদর' অর্থে প্রত্যয় সাধিত শব্দ: 'কানু → কানাই'। 

অন্যদিকে, 
 চোর → চোরা = 'অবজ্ঞা' অর্থে। 
 বাঘ → বাঘা = সদৃশ অর্থে। 
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে। 
ঢাকা → ঢাকাই = জাত অর্থে।
জেঠা → জেঠামি = নিন্দা অর্থে।
বাঘ→ বাঘা = সদৃশ  অর্থে।
মাটি → মেটে = উপকরণ অর্থে।
বাত → বেতো = রোগগ্রস্থ অর্থে।
গাঁ → গেঁয়ো = সংশ্লিষ্ট অর্থে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০৯৮.
বাংলা যুগ্ম স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ঈ
  2. খ) ঋ
  3. গ) ও
  4. ঘ) ঐ
ব্যাখ্যা
বাংলা যুগ্ম স্বরধ্বনি দুইটি। যথা- ঐ (অ+ই), এবং ঔ (অ+উ)। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,০৯৯.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত হয়েছে?
  1. রোষ
  2. আষাঢ়
  3. কোষ
  4. সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• 'সৃষ্টি' শব্দটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী গঠিত হয়েছে।
সূত্র: 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,১০০.
অর্ধ-বিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. [ই]
  2. [এ]
  3. [আ]
  4. [অ্যা]
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা - 
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে।
• বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।