ব্যাখ্যা
অন্যদিকে,
- ঠোঁট কাটা = বেহায়া;
- খয়ের খাঁ = চাটুকার;
- তালকানা = কাণ্ডজ্ঞানহীন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩৯ / ৩৫৪ · ৩,৮০১–৩,৯০০ / ৩৫,৭১৩
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ = রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই = প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ = মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ = গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও = শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।
• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।
• অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।
• অসমীকরণ:
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন
- ধপ ধপ > ধপাধপ, টপ টপ > টপাটপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
কিছু কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক শব্দ হয়, সেগুলোকে দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন,
- তিন ফলের সমাহার= ত্রিফলা।
- চার রাস্তার মিলন= চৌরাস্তা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
- এষণ, ভীষণ, দূষণ - বানানে ষ-ত্ব বিধি অনুযায়ী ষ হয়েছে।
- বিশেষণ শব্দের বানানে স্বভাবতই ষ হয়েছে।
উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
• মূর্ধন্য ‘ষ’ এর ব্যবহার:
- বাংলা বর্ণমালায় মূল মূর্ধন্য বর্ণ ৭টি।
- এগুলো হলো—ট-বর্গীয় ধ্বনিসমূহ (ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) এবং 'ড়', 'ঢ়' ।
- বাংলা ব্যাকরণে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম হলো— ট ও ঠ এই দুটি মূর্ধন্য বর্ণের আগে সর্বদা মূর্ধন্য ‘ষ’ ব্যবহৃত হয়, দন্ত্য ‘স’ নয়।
- কারণ ট ও ঠ নিজেই মূর্ধন্য উচ্চারণস্থানভুক্ত ব্যঞ্জন, তাই তাদের পূর্ববর্তী ‘স’ ধ্বনি উচ্চারণের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে মূর্ধন্য ‘ষ’-এ রূপান্তরিত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ-
- কষ্ট, নষ্ট, দুষ্ট, কাষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ, অনিষ্ট, অনাবৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্ট, ওষ্ঠ, সুষ্ঠু ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।
অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি - কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা।
অভিশ্রতি - গাছুয়া > গাউছা > গেছো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'গয়ংগচ্ছ' বাগ্ধারার অর্থ - ঢিলেমি।
অন্যদিকে,
• ‘ডাকাবুকো’ বাগ্ধারাটির অর্থ - নির্ভীক।
• ‘বকধার্মিক’ বাগ্ধারাটির অর্থ - ভণ্ড।
• ‘পায়া ভারি’ বাগধারা টির অর্থ - অহংকার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
গুরুচন্ডালী দোষ:
- বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ এবং দেশীয় শব্দের একসাথে ব্যবহার এর ফলে মাঝেমধ্যে গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি হয়। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে যে তৃতীয় রূপের প্রকাশ ঘটে তাকে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বলে।
যেমন,
- শবপোড়া-শব (তৎসম শব্দ) পোড়া (দেশি শব্দ),
- মড়াদাহ- মড়া (দেশি শব্দ) দহ (তৎসম শব্দ),
- শবদাহ-শব (তৎসম শব্দ) দাহ (তৎসম শব্দ)।
উল্লেখ্য,
'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়োগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ।
• উপধা:
ধাতুকে বিশ্লেষণ করলে যে বর্ণগুলো পাওয়া যায় সেই বর্ণগুলোর শেষের বর্ণের আগের বর্ণটিকে উপধা বলা হয়।
যেমন : পচ্ = প + অ + চ্ ।
এখানে ‘চ্’ ধ্বনির আগের ধ্বনি - ‘অ’ হলো উপধা।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• প্রদত্ত অপশনগুলোতে 'তিনি স্বস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন।' বাক্যটি সঠিক নয়।
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ হবে- তিনি সস্ত্রীক বাজারে গিয়েছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
যতিচিহ্নের বিরতিকাল পরিমাণ:
- দাঁড়ি চিহ্নের বিরামের কাল - ১ সেকেন্ড।
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ( : ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাশ ( :- ) বিরামের সময় - ১ সেকেন্ড।
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে - 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- সেমিকোলন ( ; ) - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- হাইফেন ( - ) বিরামের সময় - থামার প্রয়োজন নেই।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ব্যঞ্জন সন্ধিসাধিত শব্দ হচ্ছে — ‘শঙ্কা’।
সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ: শম্ + কা = শঙ্কা।
অন্যদিকে,
- চার রাস্তার সমাহার =চৌরাস্তা- সমাস সাধিত শব্দ
- ‘হাত’ + ‘ল’ = হাতল (প্রত্যয় সাধিত শব্দ)।
- গোলাপ -মৌলিক শব্দ)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ — ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বহুদর্শী - যে বহু বিষয়ে জানে; বিবিধ বিষয় সম্পর্কে অভিজ্ঞ; বিচক্ষণ
সবজান্তা - সব বিষয়ে জানে এমন; সর্বজ্ঞ
বহুজ্ঞ - বহুবিষয়বিদ; অনেক বিষয় জানে এমন।
উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
কোলন ( : ) বিরামচিহ্নটি বাক্যের শেষে ব্যবহৃত হয় না।
বিরামচিহ্ন:
- লিখিত বাক্যে অর্থ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি ব্যক্ত করার জন্য যে চিহ্নসমূহ ব্যবহার করা হয় তাকে বিরামচিহ্ন বলে।
- একে যতি বা ছেদ-চিহ্নও বলা হয়ে থাকে।
- বিরামচিহ্ন ব্যবহারের ফলে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট হয়।
• বাক্যের শেষে ব্যবহৃত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- দাঁড়ি (। ),
- জিজ্ঞাসাচিহ্ন ( ? ),
- বিস্ময়চিহ্ন ( ! )।
অন্যদিকে,
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।
সঠিক উত্তর: গ) সরকার অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে।
---------------
শুদ্ধ বাক্যটি: সরকার অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে।
কারণ,
শুদ্ধ বানান ও ব্যাকরণ এর নিয়ম অনুসারে,
অভ্যন্তরীণ → এটিই প্রমিত ও সঠিক বানান।
অন্যদিকে,
অন্য অপশনগুলোর বানান ভুল।
কারণ, ব্যাকরণ অনুসারে, 'আভ্যন্তরীণ' অশুদ্ধ। 'অভ্যন্তর' শব্দের সঙ্গে 'ঈণ' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'অভ্যন্তরীণ' হয়েছে। এখানে 'আভ্যন্তরীন' লিখলে ভুল হবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'অম্ল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর।
উল্লেখ্য,
'অম্ল' শব্দের অর্থ - অম্বল, টক ব্যঞ্জন, রোগবিশেষ, অ্যাসিড, টকস্বাদযুক্ত।
'মধুর' শব্দের অর্থ - অত্যন্ত মিষ্ট, প্রীতিকর।
অন্যদিকে,
অকৃত্রিম - কৃত্রিম।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সেমিকোলন:
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাযে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'নিষ্কর' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নিঃ + কর। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।
সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- নিঃ + কর = নিষ্কর,
- দুঃ + কর = দুষ্কর।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- সৰ্প, অহি, ফণী, নাগ, ভুজগ, ভুজঙ্গ, আশীবিষ, উরগ, বিষধর, পন্নগ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গজ, হস্তী, করী, দ্বিপ, বারণ, মাতঙ্গ, কুঞ্জর, দন্তী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• এছাড়া বাংলা ভাষায় দুইয়ের অধিক বর্ণ সংযোগেও কিছু সংযুক্ত বর্ণ গঠিত হয়।
যেমন:
- সূক্ষ্ম শব্দে 'ক্ষ্ম' বর্ণ= ক্ + ষ + ম- ফলা;
- স্বাতন্ত্র্য শব্দের 'ন্ত্র্য' = ন + ত + র-ফলা (,) + য-ফলা ( ্য ) ইত্যাদি।
এরূপ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
জ্জ = জ্ + জ। যেমন- উজ্জীবন, উজ্জীবিত।
জ্ঝ = জ্ + ঝ। যেমন- কুঞ্ঝটিকা।
জ্ঞ = জ্ + ঞ। যেমন- উচ্চারণ ‘গ্য’— এর মতো) যেমন- জ্ঞান, সংজ্ঞা, বিজ্ঞান ।
ঞ্চ = ঞ্ + চ। যেমন- অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম।
ঞ্ছ = ঞ্ + ছ। যেমন- বাঞ্ছিত, বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা।
ঞ্জ = ঞ্ + জ। যেমন-গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ।
ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ। যেমন- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়।
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
অন্যদিকে,
'পদ্ম' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।
'বৃক্ষ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- গাছ, পাদপ, দ্রুম, বনানী, তরু, বিটপী, শাখী, পণী, শৃঙ্গী, শিখরী, মহীরুহ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'দর্' ফারসি উপসর্গ যোগে 'মধ্যস্থ/অধীন' অর্থে গঠিত শব্দ- দরপত্তনী, দরপাট্টা, দরদালান।
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
• আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু: হিন্দি উপসর্গ: হর।
• ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• গুড়ে বালি বাগ্ধারার অর্থ - আশায় নৈরাশ্য।
অন্যদিকে,
• ’চুলোয় যাওয়া’ বাগ্ধারার অর্থ - নষ্ট হওয়া।
• ’গোড়ায় গলদ ‘ বাগ্ধারার অর্থ - শুরুতেই ভুল।
• ’তানকানা’ বাগ্ধারার অর্থ - কাণ্ডজ্ঞানহীন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শশাঙ্ক এর সমার্থক শব্দ চাঁদ।
• চাঁদ এর অন্যান্য সমর্থক শব্দগুলো হলো: চন্দ্রমা; নিশাকর; নিশাকান্ত; শশধর; হিমাংশু; সুধাংশু; সুধাকর; ইন্দু; বিধু; শশী; সোম ইত্যাদি।
অন্যদিকে:
- খরগোশ এর সমর্থক শব্দ শশক।
- সমুদ্র এর সমর্থক শব্দগুলো হলো: সাগর; বারীশ; সিন্ধু; বারিধি; উদধি; অর্ণব; জলধি; রত্নাকর।
- সূর্য এর সমর্থক শব্দগুলো হলো: দিবাকর; রবি; ভানু; আফতাব; তপন; প্রভাকর; দিনমণি; বিবস্বান; বিভাবসু; মিত্র; মিহির; সবিতা; ভাস্কর; আদিত্য; মার্তণ্ড; অর্ক; পূষা; সূর; অর্যমা।
সূত্র: অভিগম্য অভিধান।
•'ব' এর উচ্চারণ:
- ব বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]।
- তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে।
- শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না।
যেমন- ত্বক [তক্], শ্বশুর [শোশুর্], স্বাধীন [শাধিন]।
- শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়: অশ্ব [অশ্শো], বিশ্বাস [বিশ্শাশ্], পক্ক [পক্কো]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।
দ্বিরুক্ত শব্দকে ভাঙলে পাওয়া যায় ‘দ্বি+উক্ত’।
অর্থাৎ, যা দুইবার বলা হয়েছে।
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার- শব্দের দ্বিরুক্তি, পদের দ্বিরুক্তি ও অনুকার দ্বিরুক্তি
পদাত্মক দ্বিরুক্তির প্রয়োগঃ
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি -
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতেঃ সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতেঃ
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতেঃ
ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতেঃ
পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনাঃ
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
কোলন (:) এর ব্যবহার:
- একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে আর একটি বাক্যের অবতারণা করতে গেলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: সভায় সাব্যস্ত হলো: এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়, ক্রিয়া।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলন বসে। যেমন- সিরাজ: আমার দুর্ভাগ্য যে আপনাকে আমার অপমান করতে হয়েছে।
- আবেদন পত্রে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম: পিতার নাম: ঠিকানা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বাক্ষর: তারিখ:।
- সময়কে সংখ্যায় নির্দেশ করতে: ১২:৩০, ২:১৫।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• বর্তমান কাল :
⇒ সাধারণ বর্তমান কাল যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।
ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)
⇒ নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়।
(২) ঐতিহাসিক বর্তমান :অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
(৩) কাব্যের ভণিতায় :মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।
(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২০ সালের সংস্করণ)।
• এখানে 'ভার' হলো 'সমূহ' অর্থ প্রকাশ করে।
এছাড়া 'ভার' যেসকল অর্থ প্রকাশ করতে পারে:
• ভারকেন্দ্র (বিশেষ্য) (পদার্থবিদ্যা) বস্তুর ভারের মধ্যবিন্দু; centre of gravity।
• ভারগ্রস্ত (বিশেষণ) ভারাক্রান্ত (এই ভারগ্রস্ত ভাঙা সংসারটিকে চারাইবার-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর))।
• ভারবাহ, ভারবাহক, ভারবাহী (বিশেষণ), (বিশেষ্য) যে বোঝা বহন করে; বোঝা বহনকারী; ভারী।
•ভারযষ্টি (বিশেষ্য) ভার বহনের বাঁক।
• ভারসহ (বিশেষণ) ভার সইতে পারে এমন।
• ভারসাম্য (বিশেষ্য) দুই দিকের ভাবের সমতামূলক সামঞ্জস্য; balance।
• ভারহীন (বিশেষণ) হালকা; ওজনহীন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।
নিত্য সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলাে নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে। তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যােগে এগুলাের অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য সাপ = কালসাপ।
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।