বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৩৭ / ৩৫৪ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ৩৫,৭১৩

৩,৬০১.
'অন্ধজনে দেহ আলো।' এখানে 'অন্ধজনে' কোন কারকে কোন বিভক্তি? 
  1. অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি 
  2. কর্ম কারকে ৭মী বিভক্তি
  3. করণ কারকে ৭মী বিভক্তি
  4. সম্প্রদান কারকে ৭মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• সম্প্রদান কারক:
- যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়- ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক।
(অনেক বৈয়াকরণ বাংলা ব্যাকরণে সম্প্রদান কারক স্বীকার করেন না; কারণ, কর্মকারক দ্বারাই সম্প্রদান কারকের কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা যায়।)
- সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার
(ক) চতুর্থী বা কে বিভক্তি: ভিখারিকে ভিক্ষা দাও। (স্বত্বত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন ধোপাকে কাপড় দাও।)
(খ) সপ্তমী বা এ বিভক্তি: সৎপাত্রে কন্যা দান কর। সমিতিতে চাঁদা দাও। 'অন্ধজনে দেহ আলো'।

জ্ঞাতব্য: নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন- 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৬০২.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. টসটস
  2. ঝিকিমিকি
  3. গরম গরম
  4. পর পর
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন: ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২৪)।

৩,৬০৩.
'আগমন' শব্দে 'আ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অভাব
  2. বিপরীত
  3. পর্যন্ত
  4. ঈষৎ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত উপসর্গ 'আ' উপসর্গের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:
- পর্যন্ত অর্থে- আকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র।
- ঈষৎ অর্থে- আরক্ত, আভাস।
- বিপরীত অর্থে- আদান, আগমন।

---------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:

বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দূর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
৩,৬০৪.
নিপাতনে সিদ্ধ কৃৎপ্রত্যয় নয় কোনটি?
  1. ক) গীতি
  2. খ) শক্তি
  3. গ) বুদ্ধি
  4. ঘ) মুক্তি
ব্যাখ্যা

গীতি, শক্তি, বুদ্ধি ও সিদ্ধি - এই চারটি নিপাতনেসিদ্ধ কৃৎ প্রত্যয়।
মুক্তি = √মুচ্ + তি/ক্তি

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৩,৬০৫.
"দেশের সকল শিক্ষকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।" - বাক্যটি - 
  1. গুরুচণ্ডালী দোষে অশুদ্ধ
  2. বাহুল্য দোষে অশুদ্ধ
  3. বানানজনিত অশুদ্ধ
  4. বাক্যটি শুদ্ধ
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যোগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
যেমন:
- সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত।
- বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না। দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।

• "সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে।
শুদ্ধ বাক্যটি হবে: "সকল শিক্ষক আজ উপস্থিত" অথবা "শিক্ষকগণ আজ উপস্থিত"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬০৬.
শুদ্ধবাক্য নির্ণয় করুন-
  1. ইহা প্রমাণ হয়েছে।
  2. অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
  3. এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রগণ মনোযোগী।
  4. মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।
ব্যাখ্যা

 "মেয়েটি দারুণ বুদ্ধিমতী।" বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: ইহা প্রমাণ হয়েছে।
- শুদ্ধ: ইহা প্রমাণিত হয়েছে।

- অশুদ্ধ: অধীনস্ত কর্মচারীরা কাজটি করেছে।
- শুদ্ধ: অধীন কর্মচারীরা কাজটি করেছে।

- অশুদ্ধ: এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রগণ মনোযোগী।
- শুদ্ধ: এ বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র মনোযোগী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬০৭.
'কাজটি কি তুমি করেছিলে?' কোন ধরনের অতীত কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. ঘটনার অতীত
ব্যাখ্যা
অতীত কাল:
- বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল। 
 
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন-
প্রদীপ নিভে গেল।
শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

. নিত্যবৃত্ত অতীত:
অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
বলে।
যেমন-
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

•. ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

. পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: , বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)
৩,৬০৮.
‘রাত্রির শেষভাগ' এক কথায় কী বলে?
  1. তামসী
  2. পররাত্র
  3. সৌপ্তিক
  4. মহানিশা
ব্যাখ্যা
• ‘রাত্রির শেষভাগ' এর এক কথায় প্রকাশ - পররাত্র।  

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু এক কথায় প্রকাশ হলো:
- ‘রাত্রির প্রথম ভাগ’ এক কথায় বলে -পূর্বরাত্র।
- ‘রাত্রির মধ্যভাগ’ এক কথায় বলে - মহানিশা। 
- ‘রাত্রির তিনভাগ একত্রে' এক কথায় বলে - ত্রিযামা। 
- ‘রাত্রিকালীন যুদ্ধ’ এক কথায় বলে - সৌপ্তিক।
- ‘ঘোর অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তমিস্রা।
- ‘অন্ধকার রাত্রি’ এক কথায় বলে - তামসী।
- ‘কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি’ এক কথায় বলে - অমাবস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৯.
কোনটি প্রাদি সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) গৃহস্থ
  2. খ) ছা-পোষা
  3. গ) শতাব্দী
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
'প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'- প্রাদি সমাসের উদাহরণ। 

প্রাদি সমাস
প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যেও সমাস হয় তাকে বলে প্রাদি সমাস।
যেমন, 
প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি= প্রগতি'
প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন,
প্র ( প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
৩,৬১০.
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বলে-
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) নির্দেশক
  3. গ) বচন
  4. ঘ) বলক
ব্যাখ্যা
বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

পদ:
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 

লগ্নক চার ধরনের: 
বিভক্তি: ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ। 

নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। ‘লোকটি’ বা ‘ভালোটুকু' পদের ‘টি' বা ‘টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ ।

বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। ‘ছেলেরা’
বা ‘বইগুলো” পদের ‘রাত বা ‘গুলো হলো বচনের উদাহরণ।

বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। ‘তখনই
বা ‘এখনও’ পদের ‘ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৩,৬১১.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অন্তসত্তা
  2. প্রাচ্যুর্য
  3. স্বৈরসাশক
  4. অন্যমনস্ক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: অন্যমনস্ক (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অন্যমনা,
- অমনোযোগী।

অন্যান্য অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ:
• প্রাচুর্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: আধিক্য, বাহুল্য।

• অন্তঃসত্তা (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: আত্মা, অভ্যন্তরে কোনো বস্তুর অবস্থিতি।

• স্বৈরশাসক (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: একনায়ক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬১২.
'রাশি' শব্দযোগে গঠিত সঠিক বহুবচন শব্দ কোনটি?
  1. বৃক্ষরাশি
  2. মেঘরাশি
  3. জলরাশি
  4. কুসুমরাশি
ব্যাখ্যা
• 'জল' এর সাথে 'রাশি' বহুবচন বাচক শব্দ বেশি মানানসই এবং শুদ্ধ।

• অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ:

- আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি।
- যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, জলরাশি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
- বাকি অপশনের সঠিক বহুবচন হলো:
- কুসুমনিচয় বা কুসুমদাম, 
- মেঘকুঞ্জ বা মেঘমালা, 
- বৃক্ষরাজি বা বৃক্ষসমূহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৬১৩.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. প্রণয়িনী
  2. প্রণয়িণি
  3. প্রণয়ীনী
  4. প্রনয়িনী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- সঠিক বানান = প্রণয়িনী
- এটি একটি স্ত্রীবাচক শব্দ।

- প্রণয়ী শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ -প্রণয়িনী/প্রোনোয়িনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৬১৪.
"কৃষক হাল দিয়ে জমি চাষ করছে।" কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া
  2. কর্মকারকে তৃতীয়া
  3. করণ কারকে তৃতীয়া
  4. অপাদান কারকে পঞ্চমী
ব্যাখ্যা
করণ কারক:
- করণ কারক অর্থ কার্য সম্পাদনের যন্ত্র বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
যেমন- আমরা কানে শুনি। কী দিয়ে শুনি? কান দিয়ে। 'কান' করণ কারক।

- এককথায়, ক্রিয়াকে কী দিয়ে বা কী উপায়ে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
যেমন:
- পিয়াল কলম দিয়ে লিখছে।

• "কৃষক হাল দিয়ে জমি চাষ করছে।" - 

এই বাক্যে, 
হাল দিয়ে: এখানে "হাল" কাজ সম্পাদনের মাধ্যম বা উপকরণ বোঝায়, যা করণ কারক নির্দেশ করে।
এবং, দিয়ে: তৃতীয়া বিভক্তির চিহ্ন।
তাই,
বাক্যটিতে  হাল দিয়ে করণ কারকে তৃতীয়া" বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬১৫.
ভাষার মৌলিক অংশ কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
ক. ধ্বনি,
খ. শব্দ,
গ. বাক্য,
ঘ. অর্থ।

তাছাড়া, 
• বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ - ২ টি।
ক. লৈখিক,
খ. মৌখিক।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৬১৬.
Enumerator-এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. উৎসেচক
  2. উপাখ্যান
  3. গণনাকারী
  4. লোমনাশক
ব্যাখ্যা
• Enumerator-এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ — গণনাকারী।

অন্যদিকে,
• 'Enzyme' — এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ — উৎসেচক।
• 'Episode' — এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ — উপাখ্যান।
• 'Epilatory' — এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ — লোমনাশক। 

আরো কিছু পারিভাষিক শব্দ:
Copyright — গ্রন্থস্বত্ব, 
Equipment — উপকরণ, 
Poetics — সাহিত্যতত্ত্ব,
Skeleton — প্রাণিদেহের কঙ্কাল, 
Dialect — উপভাষা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৬১৭.
নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে কোন বর্ণটি?
ব্যাখ্যা
• 'অ' নিলীন বর্ণ:
- ‘অ' কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না।
- কারণ ‘অ’-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- কিন্তু 'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে বলে সেগুলো কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়।
যেমন :
- কর = কর্ + অ (‘অ') দেখা যায় না।
আবার,
- করা = কর্ + আ (‘আ’ দেখা যায়।
[অর্থাৎ ‘অ’ অন্য বর্ণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে বা নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে বলে নিলীন বর্ণ।]

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। বাংলায় কার বর্ণের সংখ্যা- ১০ টি।
যেমন: আ - কার, ই - কার, ঈ - কার, উ - কার, ঊ - কার, ঋ - কার, এ - কার, ঐ - কার, ও - কার, ঔ - কার।

• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ফলা আছে মোট ৬ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৮.
'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে'-
  1. কালাধিকরণ
  2. ভাবাধিকরণ
  3. অধিকারাধিকরণ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে।'- এখানে 'ঘাটে' ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ। 

• অধিকরণ কারক:
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ' 'য়' 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। 

অধিকরণ তিন প্রকার
১. কালাধিকরণ।
২. আধারাধিকরণ।
৩. ভাবাধিকরণ।

• ভাবাধিকরণ:
যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়।

• কালাধিকরণ:

- সময় বুঝালে কালাধিকরণ হবে। 

• আধারাধিকরণ:
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত:
ক. ঐকদেশীয় আধারাধিকরণ: বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে। 
খ. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ: উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
গ. বৈষয়িক আধারাধিকরণ: বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৬১৯.
'সুনামীর তান্ডবে অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছে।'- বাক্যটিতে কয়টি ভুল আছে? 
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. ভুল নেই
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে প্রদত্ত বাক্যে তিনটি শব্দের বানান ভুল রয়েছে
শব্দগুলো যথাক্রমে - সুনামী, তান্ডব, সর্বশান্ত।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
এদের শুদ্ধ রূপ: সুনামি, তাণ্ডব, সর্বস্বান্ত।
বাক্যটির শুদ্ধ রূপ: সুনামির তাণ্ডবে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে।

----------------
• সুনামি (বিশেষ্য):
শব্দের উৎস: জাপানি ভাষা।
অর্থ:
- সমুদ্রগর্ভে তীব্র ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎ-পাতের ফলে সমুদ্র উপকূলকে প্লাবিত করে এমন প্রবল বেগে ধেয়ে আসা জলোচ্ছ্বাস,
- বেলোর্মি।

----------------
• তাণ্ডব (বিশেষ্য):
শব্দের উৎস: সংস্কৃত ভাষা।
অর্থ:
- তণ্ডুমুনি-উদ্ভাবিত নৃত্য,
- উদ্যাম নৃত্য,
- শিবের নৃত্য।
আলংকারিক অর্থ: প্রলয়ংকর ব্যাপার।

----------------
• সর্বস্বান্ত (বিশেষণ):
শব্দের উৎস: সংস্কৃত ভাষা।
অর্থ: সব সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬২০.
নিম্নের কোন বাক্যে বহুবচন প্রকাশক এর ব্যবহার সঠিকভাবে হয়েছে?
  1. ক) পাখিবর্গ আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে।
  2. খ) গ্রন্থগণ খুঁজে পাচ্ছিনা।
  3. গ) মৌমাছি মৌচাক বানায়।
  4. ঘ) দর্শকমালা চলচ্চিত্র উপভোগ করছে।
ব্যাখ্যা
বচন হলাে সংখ্যার ধারণা। বচনের মাধ্যমে গণনাবাচক বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের সংখ্যা নির্দেশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় বচন দ্বিবিধ: একবচন ও বহুবচন। সাধারণত কিছু শব্দাংশ বা লগ্নক একবচন শব্দের পরে যুক্ত হয়ে বহুবচন শব্দ তৈরি করে।

অনেক ক্ষেত্রে বচন লগ্নক ব্যবহৃত না হলেও বহুবচন হতে পারে।
যেমন -
- বাজারে লােক কম।
- মৌমাছি মৌচাক বানায়।
- সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক প্রয়োগ- 
- পাখিসব আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। 
- গ্রন্থসমূহ খুঁজে পাচ্ছিনা। 
- দর্শকবৃন্দ চলচ্চিত্র উপভোগ করছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৬২১.
'কোর্মা' শব্দের উৎস-
  1. ফারসি 
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. দেশি 
ব্যাখ্যা

• 'কোর্মা':
- তুর্কি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- তুর্কি পদ্ধতিতে দইসহযোগে অল্প মসলায় রাঁধা মাছ মাংস প্রভৃতি।

আরো কিছু তুর্কি শব্দ:
- কলগি,
- চাকু,
- বাবা,
- বাবুর্চি,
- মুচলেকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৬২২.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. চিকামারা
  2. তৈল
  3. বাঁশি
  4. আদিত্য
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য

অন্যদিকে,
- যৌগিক শব্দ - চিকামারা।
- রূঢ়ি শব্দ: বাঁশি, তৈল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬২৩.
পূর্ণ যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহারে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং 'দাঁড়ি' একটি পূর্ণ যতিচিহ্ন। 

• যতিচিহ্ন:

মুখের কথার লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট (বন্ধনী) থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৬২৪.
'নদ্যম্বু' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নদ + অম্বু
  2. নদ্য + অম্বু
  3. নদ্যা + অম্বু
  4. নদী + অম্বু
ব্যাখ্যা
• 'নদ্যম্বু' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নদী + অম্বু

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- ই + অ = য্ + অ; অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ই + আ = য্ + আ; ইতি + আদি = ইত্যাদি। 
- ই + উ = য্‌ + উ; অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- ই + উ = য্‌ + উ; প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- ঈ + আ = য্ + আ; মসী + আধার = মস্যাধার।
- ই + এ = য্ + এ; প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- ঈ + অ = য্ + অ; নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬২৫.
'কেউকেটা' এর বিপরীত বাগ্‌ধারা কোনটি?
  1. ক) চশমখোর
  2. খ) অকালকুষ্মান্ড
  3. গ) চুনোপুঁটি
  4. ঘ) কংস-মামা
ব্যাখ্যা
কেউকেটা অর্থ বিশিষ্ট ব্যক্তি 
অপরদিকে, চুনোপুঁটি = সামান্য ব্যক্তি 

কংস-মামা = নির্মম আত্মীয় 
চশমখোর = নির্লজ্জ 
অকালকুষ্মান্ড = অপদার্থ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৬২৬.
কোন শব্দটি শুদ্ধ বানানে লেখা হয়েছে?
  1. শূণ্য
  2. চুর্ণ
  3. গন্য
  4. কর্ণ
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান: কর্ণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- কান,
- শ্রবণেন্দ্রিয়।

অশুদ্ধ বানানগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শুদ্ধ: শূন্য (বিশেষ্য পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- অবিদ্যমানতাসূচক চিহ্ন, পরিমাণ বা আয়তনের অভাব, অভাব, অবিদ্য-মানতা ইত্যাদি।

শুদ্ধ: চূর্ণ ((বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়),
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- গুঁড়ো করা হয়েছে এমন,
- আবির ইত্যাদি।

• শুদ্ধ: গণ্য (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত থেকে আগত শব্দ।
এর অর্থ:
- গণনার যোগ্য, গণনীয়, বিবেচনার যোগ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬২৭.
'ছড়া' কোন ছন্দে রচিত হয়?
  1. ক) মাত্রাবৃত্ত
  2. খ) স্বরবৃত্ত
  3. গ) অক্ষরবৃত্ত
  4. ঘ) ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
ছড়ার ছন্দ বাংলা কবিতার প্রাচীনতম ছন্দ।
- ছড়ার ছন্দ স্বরাঘাত বা শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দ।
- পর্বের আদি স্বরে স্বাসাঘাত পড়ে বলে এই নাম দেওয়া হয়েছে। 
- একে লৌকিক ছন্দও বলা হয়। 
- আধুনিক কালে এই ছন্দ ছড়ার বিষয়বস্তুর পরিধি ছাড়িয়ে নানা বিষয়ের বাহন হয়ে উঠেছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক
৩,৬২৮.
হস্তী রাখার স্থান -কে এক কথায় কী বলে?
  1. ক) বারী
  2. খ) হ্রেষা
  3. গ) বৃংহতি
  4. ঘ) রেসকোর্স
ব্যাখ্যা
‘হস্তী রাখার স্থান' এর এক কথায় প্রকাশ - বারী/পিলখানা

কিছু এক কথায় প্রকাশ:
বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি- ঝংকার  
হাতির ডাক - বৃংহতি
পাখির কলতান - কূজন
ঘোড়ার ডাক - হ্রেষা

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৬২৯.
"কিন্নর" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিম + কর
  2. কিন্ন + কর
  3. কিম্ + নর
  4. কিন্ + নর
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- ম্-এর পরে যে কোনাে বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন
- সম্ + চয় = সঞ্চয়,
- শম্ + কা = শঙ্কা,
- সম্ + তাপ = সন্তাপ, 
- কিম্ + নর = কিন্নর ইত্যাদি।

→ এরূপ- সম্মান, সন্ন্যাস, সন্ধান, কিন্নর, সন্দর্শন, কিম্ভুত ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৬৩০.
'স্বর' শব্দের অর্থ কী?
  1. তির
  2. আঁশ
  3. সুর
  4. সব
ব্যাখ্যা

• 'স্বর' শব্দের অর্থ - সুর

অন্যদিকে,
• শর - তির।
• শকল - আঁশ।
• সকল - সব।

শব্দজোড়:
- বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না।
- বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৬৩১.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন: ‘সূর্যোদয়’
  1. ক) সূর্য + দয়
  2. খ) সূর্য + উদয়
  3. গ) সূর্যো + দয়
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়।

• সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• সন্ধি তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি ৷
- 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়। 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধি এর উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
মহা+ঋষি = মহর্ষি।
শীত+ঋত = শীতার্ত।
জন+এক = জনৈক।
বন+ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩২.
ভাষা পরিবর্তন কিসের সাথে সম্পর্কযুক্ত
  1. ক) শব্দের পরিবর্তনের সাথে
  2. খ) বাক্যের পরিবর্তনের সাথে
  3. গ) ধ্বনি পরিবর্তন এর সাথে
  4. ঘ) পদ পরিবর্তন এর সাথে
ব্যাখ্যা
ভাষা পরিবর্তন- ধ্বনি পরিবর্তন এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। 

ধ্বনি পরিবর্তন:
ভাষা সর্বদা পরিবর্তনশীল। কোন ভাষার পরিবর্তন নিয়ম বা ব্যাকরণ দিয়ে বন্ধ করে দিলে সে ভাষা আস্তে আস্তে মরে যায়। যেমন মরে গেছে - সংস্কৃত ভাষা।
মানুষের মুখে মুখে উচ্চারণের সুবিধার্থে ভাষার শব্দ, মূলত শব্দের অন্তর্গত ধ্বনি নানাভাবে পরিবর্তিত হয়। তবে এই পরিবর্তনও কিছু নিয়ম মেনে হয়ে থাকে।
ধ্বনির এই পরিবর্তনই মূলত ভাষার পরিবর্তন ঘটায়। অর্থ্যাৎ, ভাষার পরিবর্তন ধ্বনি পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৩,৬৩৩.
'অনুমোদিত' শব্দের বিপরীতার্থক -
  1. ক) প্রমোদিত
  2. খ) অননুমোদিত
  3. গ) অনাবশ্যক
  4. ঘ) মতানৈক্য
ব্যাখ্যা
- 'অনুমোদিত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হচ্ছে 'অননুমোদিত'

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিপরীতার্থক শব্দ:

মূলশব্দ  ------ বিপরীতার্থক শব্দ
অভিজ্ঞ - অনভিজ্ঞ।
অনুমোদিত - অননুমোদিত।
অস্তগামী - উদীয়মান।
অবহিত - অনবহিত।
আলসে - চটপটে।
অমর - মরণশীল।
আনন্দিত - দুঃখিত।
আদিষ্ট - নিষিদ্ধ।
অবতরণ - উত্তরণ/ আরোহণ।
অগ্রিম - বকেয়া।
আঁটসাট - ঢলঢলে।
আবশ্যক - অনাবশ্যক।
মতৈক্য - মতানৈক্য।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড.হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,৬৩৪.
কোনটি মধ্য স্বরাগম পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্টেশন > ইস্টেশন
  2. দিশ্ > দিশা
  3. আজি > আজ
  4. স্রেফ > সেরেফ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
- অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
- ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
- উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
- এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
- ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'স্টেশন > ইস্টেশন' আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'দিশ্ > দিশা' অন্ত্যস্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।
- 'আজি > আজ' অন্ত্যস্বর লোপ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৩৫.
কোন ক্রিয়াটি ঘটমান বর্তমান?
  1. করেছি
  2. ডেকেছেন
  3. খেলছে
  4. ফিরেছেন
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান: 
- যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায় নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে। 
যেমন: 
আমার ছোট ভাই লিখছে। 
ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে। 
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে। 
 
অন্যদিকে,
পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 
যেমন: 
এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৬৩৬.
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোনটি?




ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
- মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
- তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
- কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৬৩৭.
'তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি।' এটি কোন শ্রেণির বাক্য?
  1. সরল বাক্য 
  2. জটিল বাক্য 
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

• ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause):
- যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- 'যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।'
- তুমি আসবে বলে, আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৩৮.
'জগজ্জীবন' শব্দটি সন্ধির কোন নিয়ম অনুসরণে করা হয়েছে?
  1. ক) ত + ঝ = জ্জ
  2. খ) দ + ঝ = জ্জ
  3. গ) দ্‌ + ঝ = জ্জ
  4. ঘ) ত্‌ + জ = জ্জ
ব্যাখ্যা
ত্‌ ও দ্‌ -এরপর জ্‌ ও দ্‌ -এর স্থানে জ্‌ হয়।
যেমন,
ত্‌ + জ =জ্জ,  জগৎ + জীবন = জগজ্জীবন।
ত্‌ + জ =জ্জ, সৎ + জন = সজ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৩৯.
"পঞ্চায়েত" কোন বিশেষ্য পদের উদাহরণ?
  1. ভাববাচক
  2. সমষ্টিবাচক
  3. বস্তুবাচক
  4. ব্যক্তিবাচক
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন-
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৪০.
'পোস্টাল কোড' কী নির্দেশ করে?
  1. ক) ডাক বিভাগের নাম
  2. খ) প্রাপকের এলাকা
  3. গ) চিঠি লেখার স্থান
  4. ঘ) পোস্ট অফিসের নাম
ব্যাখ্যা
Cambridge Dictionary এর সংজ্ঞা অনুসারে 
Postal Code: a short series of letters and numbers that is part of an address, and shows exactly where a place is.

অর্থাৎ, পোস্টাল কোড একটি এলাকা সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ করে যা মূলত প্রাপকের এলাকা নির্দেশ করে।
৩,৬৪১.
'উদোগেঁড়ে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অভাবগ্রস্থ লোক
  2. অপব্যয়ী
  3. আলসে
  4. ভাগ্যবান
ব্যাখ্যা

• 'উদোগেঁড়ে' বাগ্‌ধারার অর্থ - আলসে

অন্যদিকে,
উপোসি ছারপোকা - অভাবগ্রস্থ লোক।
উড়নপেকে - অপব্যয়ী।
উঁচু কপালে - ভাগ্যবান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণ। (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৬৪২.
নিচের কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) থ
  2. খ) ভ
  3. গ) শ
  4. ঘ) ন
ব্যাখ্যা
‘ভ’ ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাদের ঘোষ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না তাদের অঘোষ ধ্বনি বলে।
অন্যদিকে যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাদের মহাপ্রাণ ধ্বনি এবং যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে না, তাদের অল্পপ্রাণ ধ্বনি বলে।
শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ, ‘হ’ ঘোষ মহাপ্রাণ।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৬৪৩.
বৈশ্বানর কোনটির প্রতিশব্দ?
  1. ক) আগুন
  2. খ) পর্বত
  3. গ) জল
  4. ঘ) আকাশ
ব্যাখ্যা
'বৈশ্বানর' হলো  'আগুন' শব্দের প্রতিশব্দ। 
'আগুন' এর অন্যান্য প্রতিশব্দ =  অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, দহন, সর্বভুক, অগ্নি, পিঙ্গল, হিমারতি, বায়ুসখা, শুচি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৬৪৪.
প্রত্যক্ষ উক্তির মধ্যে চিরন্তন সত্য থাকলে কালের কী পরিবর্তন হয়?
  1. পরিবর্তন হয় না
  2. আংশিক পরিবর্তন হয়
  3. সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়
  4. অর্ধেক পরিবর্তন হয়
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
যেমন -
• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।"
• পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

উক্তি:

- বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।
- উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।

যেমন -
• প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।"
• পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।

- যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- আর যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।
- প্রত্যক্ষ উক্তি লেখার সময়ে উদ্ধারচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
• রফিক হেসে বললো, "আমি আপনাকে লক্ষ করিনি।"
• কালো চুলের মানুষটি বলল, "দশ পর্যন্ত গুনতে পারি। যোগ কী আমার ধারণা আছে। কিন্তু বিয়োগ করতে পারি না।”

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৬৪৫.
'যেসব লোক দুর্জন তারা পরিত্যাজ্য।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।

সরল বাক্য: বৃষ্টি হলে বের হব না।
জটিল বাক্য: যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬৪৬.
কোনটি গণনাবাচক সংখ্যা?
  1. ক) একুশে
  2. খ) একবিংশ
  3. গ) একুশ
  4. ঘ) ২১
ব্যাখ্যা
পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যাঃ কোন কিছুর সংখ্যা বা পরিমাণ অঙ্কে না লিখে ভাষায় লিখলে তাকে পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা বলে।
যেমন- এক, দই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ, এগারো, বার, বিশ, কুড়ি, একুশ, সপ্তাহ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৪৭.
‘বিবি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. ফরাসি
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
• তুর্কি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কাঁচি, খোকা, বাবুর্চি, উজবুক, কোর্মা, তুরুক, বন্দুক, তোশক, বেগম, বাবা, বিবি।

অন্যদিকে,
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
কুমকুম, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
কার্নিশ, টারবাইন, রেস্টুরেন্ট, টেলিগ্রাম, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, টয়লেট, টুর্নামেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৪৮.
নিচের কোনটিতে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়নি?
  1. কঙ্কণ
  2. ব্যাকরণ
  3. লাবণ্য
  4. গৌণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়:
যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৪৯.
'শাখামৃগ' কোন শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. বানর
  2. হাতি
  3. মাতা
  4. ঘোড়া
  5. কোনোটিই নয়।
ব্যাখ্যা
• 'শাখামৃগ'  শব্দের সমার্থক শব্দ- বানর।

• বানরের সমার্থক শব্দ:
- শাখামৃগ, বাঁদর, বান্দর।

অন্যদিকে,
• 'ঘোড়া' শব্দের সমার্থক শব্দ -
অশ্ব ঘোড়া, ঘোটক, হয়, বাহ বাজী, তুরঙ্গ, মরুদ্রথ, সৈন্ধব, বাহনশ্রেষ্ঠ, হেষী, মরুদ্রথ, ঘোটকী, বামী, টাঙ্গন, ইত্যাদি।

• মাতা শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জননী, মা, আম্মা, অম্বা, প্রসূতি, গর্ভধারিণী, জন্মদাতৃ।

• 'হাতি' এর সমার্থক শব্দ:
গজ, দ্বিপ, দ্বিরদ, ঐরাবত হস্তী, করী, দন্তী, দন্তাবল, নগজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৫০.
হাট-বাজার কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. ক) মিলনার্থে
  2. খ) সমার্থে
  3. গ) বিপরীতার্থে
  4. ঘ) বিয়োগার্থে
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে হাট-বাজার সমার্থে দ্বন্দ্ব।
হাট-বাজার, ঘর-দুয়ার, কল-কারখানা, মোল্লা-মৌলভী, খাতা-পত্র ইত্যাদি সমার্থক শব্দ যোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৫১.
'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. ক্রিয়াবিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• 'পাঁচটি বছর' - এখানে 'পাঁচটি' সংখ্যাবাচক বিশেষণ পদ।

• নাম বিশেষণ:
- যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

নাম বিশেষণের প্রকারভেদ:
ক. রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
খ. গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
গ. অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
ঘ. সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
ঙ. ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
চ. পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
ছ. অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
জ. উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
ঝ. প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
ঞ. নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৬৫২.
বাংলায় স্বরধ্বনিতে কয়টি হ্রস্বস্বর আছে?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা স্বরধ্বনিতে — ৪টি হ্রস্বস্বর আছে।

• উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন:
ক.হ্রস্বস্বর ও
খ. দীর্ঘস্বর।

হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই (৪টি হ্রস্বস্বর)।

দীর্ঘস্বর: 
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ,ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৫৩.
‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’—এখানে ‘না’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষণ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ক্রিয়াবিশেষণ।

ব্যাখ্যা:
• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়। এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।

বাক্যটি: ‘ওই ঘরে আজকাল সহজে কেউ ঘেঁষে না।’

- এখানে ‘না’ শব্দটি ক্রিয়ার অর্থকে নেতিবাচক করে দিচ্ছে।
- এটি ঘেঁষে (ক্রিয়া)-কে বিশেষিত করছে → অর্থাৎ ঘেঁষা হচ্ছে না।
- বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াকে যে শব্দ নেতিবাচক বা বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ (Adverb) বলা হয়।
- এখানে ‘না’ ক্রিয়ার নেতিবাচকতা প্রকাশ করছে → ক্রিয়াবিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৬৫৪.
'Compiler' এর সঠিক বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ভাষান্তরক
  2. সংকলক
  3. অনুবাদক
  4. সমন্বয়ক
ব্যাখ্যা

'Compiler' এর সঠিক বাংলা পরিভাষা - সংকলক।

অন্যদিকে,
- অনুবাদক → Translator।
- সমন্বয়ক → Coordinator
- ভাষান্তরক → Interpreter / Language Converter

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান।

৩,৬৫৫.
ডুবুডুবু নৌকা- কোন ধরনের বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) অব্যয়জাত
  2. খ) বীপ্সামূলক
  3. গ) ক্রিয়াজাত
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়জাত
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বীপ্সামূলক বিশেষণের উদাহরণঃ- হাসিহাসি মুখ, কাঁদো কাঁদো চেহারা, ডুবুডুবু নৌকা।
৩,৬৫৬.
'গাথা' ও 'গাঁথা' শব্দজোড়ের অর্থ যথাক্রমে -
  1. কাহিনি ও গ্রন্থন
  2. গ্রন্থন ও কাহিনি
  3. স্থায়ী ও নির্মাণ
  4. নির্মাণ ও স্থায়ী
ব্যাখ্যা
শব্দজোড়:
বাংলা ভাষায় এমন কিছু শব্দ আছে, যেগুলোর উচ্চারণ এক অথবা প্রায় এক, কিন্তু অর্থ ভিন্ন; এমন যুগল শব্দকে শব্দজোড় বলে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের বানান ভিন্ন হয়, তবে উচ্চারণ এক হওয়ায় কানে শুনে এদের পার্থক্য করা যায় না। বাক্যে ব্যবহৃত হলে প্রসঙ্গ বিবেচনায় এসব শব্দের পার্থক্য বোঝা যায় ।

কিছু শব্দজোড়ের উদাহরণ:
• অবিহিত - অন্যায়।
• অভিহিত - কথিত।
• কুল - বংশ।
• কূল - তীর।
• গাথা - কাহিনি
• গাঁথা - গ্রন্থন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৬৫৭.
'Forgery' শব্দের বাংলা পরিভাষা কী?
  1. ফৌজদারি
  2. দালাল
  3. দলিল
  4. জালিয়াতি
ব্যাখ্যা
• 'Forgery' শব্দের বাংলা পরিভাষা জালিয়াতি।

• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পারিভাষিক শব্দ:
- Manifesto - ইশতেহার।
- Manuscript - পান্ডুলিপি।
- Memorandum - স্মারকলিপি।
- Gazette - ঘোষণাপত্র।
- Apprentice - শিক্ষানবিশ।
- Invoice - চালান, প্রেরিতক-সূচি।
- Agenda - কৃত্যসূচি,
- Quarantine - সঙ্গরোধ।
- Quarterly - ত্রৈমাসিক,
- Isolation - বিচ্ছিন্নতা,
- Cease Fire -  অস্ত্র সংবরণ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা- বাংলা একাডেমি।
৩,৬৫৮.
'গোলাম' কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু 
  2. ফারসি 
  3. হিন্দি 
  4. আরবি
ব্যাখ্যা

• গোলাম (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি আরবি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- ক্রীতদাস। 
- একান্ত অনুগত ব্যক্তি। 
- তাসের রংবিশেষ।

আরোকিছু আরবি শব্দ:
- কয়েদ,
- খারাবি, 
- খারাপ,
- তকদির,
- ফসল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৬৫৯.
'সৌদামিনী' শব্দের অর্থ কী?
  1. পর্বত
  2. বৃক্ষ
  3. বিদ্যুৎ
  4. মেঘ
ব্যাখ্যা
'সৈদামিনী' শব্দের অর্থ বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ এর সমার্থক শব্দ - তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা। 
পর্বত এর সমার্থক শব্দ - পাহাড়, অর্দ্রি, ভূধর, শৈল, গিরি, অচল
বৃক্ষ এর সমার্থক শব্দ - গাছ, তরু, দ্রুম, শাখী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ।
মেঘ এর সমার্থক শব্দ - জলদ, জলধর, নীরদ, বারিদ, ঘন, জীমূত, অভ্র, অম্বুবাহ।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৬৬০.
"জ" কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. দন্ত্য
  2. তালব্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, , ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৬৬১.
'হ্যাঁ' শব্দটি কোন ধরনের পদ?
  1. ক) বিশেষণ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) সর্বনাম
ব্যাখ্যা
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়। যেমন- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩,৬৬২.
'সকাল থেকে কাজ করো।' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদান কারকে ৩য়া বিভক্তি
  2. অধিকরণ কারকে ৩য়া বিভক্তি
  3. অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি
  4. অধিকরণ কারকে ৫মী বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অপশন অনুসারে, সঠিক উত্তর: গ) অপাদান কারকে ৫মী বিভক্তি।

বাক্য: “সকাল থেকে কাজ করো।”
এখানে “সকাল থেকে” — যে সময় থেকে কাজ শুরু হচ্ছে → সূত্র বা উৎপত্তি বোঝাচ্ছে, তাই এটি অপাদান কারক। “থেকে” হলো ৫মী বিভক্তি (অপাদান বিভক্তি)।
অপাদান সাধারণত যা থেকে কিছু শুরু বা বিচ্যুত হয়— সেই অর্থ প্রকাশ করে।
তাই “সকাল থেকে” = অপাদান কারক + ৫মী বিভক্তি।

অপাদান কারক:

- যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।

উদাহরণসমূহ:
- বিচ্যুত: গাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: সুক্তি থেকে মুক্তো মেলে। দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: জমি থেকে ফসল পাই। খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- দূরীভূত: দেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
- রক্ষিত: বিপদ থেকে বাঁচাও।
- আরম্ভ: সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
- ভীত: বাঘকে ভয় পায় না কে?

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
- অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও 'হইতে', 'হতে', 'থেকে', 'দিয়া', 'দিয়ে' ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩,৬৬৩.
কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন। এখানে 'কেউ কেউ' কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
যে সর্বনাম দ্বারা অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন কোনো কিছুকে বুঝায় তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে।
- এ ধরনের সর্বনাম হলো : কেউ, কেউ; কিছু, কিছু,  

যেমন : 
- কেউ কোথাও আছে বলে মনে হয় না।
- কেউ কেউ ঘটনাটা জানবেন।
- কোনো কিছু আমার জানা নেই।
- কিছু না খেলে আর পারছি না।
- যে কেউ এর নিন্দা করবে। 
- চলো কোথাও ঘুরে আসি।

উৎস : মাধ্যমিক ব্যাকরণ (নতুন) এবং বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক ব্যাকরণ।
৩,৬৬৪.
প্র, পরা, অপ- এগুলো
  1. সংস্কৃত উপসর্গ
  2. বিদেশি উপসর্গ
  3. বাংলা উপসর্গ
  4. উপমান স্থানীয় অব্যয়
ব্যাখ্যা

• প্র,পরা, অপ ইত্যাদি সংস্কৃত উপসর্গ।

---------------------
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬৬৫.
বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় না নিম্নোক্ত কোন উপায়ে?
  1. সমাস দ্বারা
  2. লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা
  3. উপসর্গ যোগে
  4. ক, খ ও গ তিন উপায়েই হয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় শব্দ সাধন হয় বা গঠন হয় না লিঙ্গ পরিবর্তন দ্বারা।

শব্দ গঠনের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে এগুলো হচ্ছে:
• উপসর্গ:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। 'পরিচালক' শব্দের 'পরি' অংশ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে। 'সাংবাদিক' শব্দের 'ইক' অংশ একটি প্রত্যয়।

• সমাস:
শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রধান প্রক্রিয়া হলো সমাস যার মাধ্যমে একাধিক শব্দ এক শব্দে পরিণত হয়। যেমন: ‘হাট’ ও ‘বাজার’ শব্দ দুটি সমাসবদ্ধ হয়ে হয় ‘হাটবাজার’।

• শব্দদ্বিত্ব:
এছাড়া কোনো শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে নতুন শব্দ গঠিত হলে তাকে বলে শব্দদ্বিত্ব, যেমন 'ঠক' ও 'ঠক' মিলে গঠিত হয় 'ঠকঠক', একইভাবে 'অঙ্ক' ও অনুরূপ ধ্বনি 'টঙ্ক' মিলে হয় 'অঙ্কটঙ্ক'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩,৬৬৬.
নিচের কোনটিতে সন্ধির ফলে বিসর্গ 'ও' তে রূপান্তরিত হয়েছে?
  1. ক) নীরোগ
  2. খ) নিরাকার
  3. গ) তপোবন
  4. ঘ) নীরস
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়: 
- বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃপতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
- বিসর্গ 'ও' হয়ে যায় মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান= তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন
- বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ
- বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার  
- কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি। (নবম- দশম শ্রেণী)
৩,৬৬৭.
ঘােষ ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা
• ‘ত’ অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়,, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩,৬৬৮.
'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে কোনটি তে?
  1. কালো কালো চেহারা
  2. ছোট ছোট ডাল
  3. গরম গরম জিলাপি 
  4. ভালো ভালো আম
ব্যাখ্যা
• 'গরম গরম জিলাপি'- দ্বিরুক্তি শব্দজুটি 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝায়। 

• অন্যদিকে, 
- 'ভালো ভালো আম' - আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
- 'কালো কালো চেহারা' - 'সামান্যতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
- 'ছোট ছোট ডাল' - 'আধিক্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
================ 
• দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
৩,৬৬৯.
‘যা স্থায়ী নয়' এক কথায় বলে-
  1. নশ্বর
  2. ক্ষণস্থায়ী
  3. অস্থায়ী
  4. ক্ষণিক
ব্যাখ্যা
- 'যা স্থায়ী নয়' এক কথায় বলে - অস্থায়ী।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এক কথায় প্রকাশ:
- 'নষ্ট হওয়ার স্বভাব যার'এক কথায় বলে - নশ্বর।
- 'যা চিরস্থায়ী নয়' এক কথায় বলে - নশ্বর।
- 'যা কখনো নষ্ট হয় না' এক কথায় বলে - অবিনশ্বর।
- 'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' এক কথায় বলে - ক্ষণস্থায়ী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৬৭০.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
  2. যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
  3. উপমান কর্মধারয় সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়।
  4. উপমিত কর্মধারয় সমাসে উভয় পদই বিশেষণ হয়।
ব্যাখ্যা
উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলােকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন -
কাজলের মতাে কালাে = কাজলকালাে
শশের মতাে ব্যস্ত = শশব্যস্ত
এই সমাসে পরপদ সাধারণত বিশেষণ হয়। 

উপমিত কর্মধারয় সমাস:
যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলােকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন -
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি,
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ
এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
৩,৬৭১.
'Quarterly' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ষাণ্মাষিক
  2. ত্রৈমাসিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. পাক্ষিক
ব্যাখ্যা
'Quarterly' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ - ত্রৈমাসিক।

অন্যদিকে,
- Fortnightly - পাক্ষিক। 
- Weekly - সাপ্তাহিক। 
- Half yearly - ষাণ্মাষিক।

উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩,৬৭২.
'যার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ আছে' এক কথায় বলে -
  1. ক্ষণজন্মা
  2. দ্বিরদ
  3. দ্বিজ
  4. জাতিস্মর
ব্যাখ্যা
• 'যার পূর্বজন্মের কথা স্মরণ আছে' এক কথায় বলে - জাতিস্মর

অন্যদিকে,
- 'যার দুটি মাত্র দাঁত' এক কথায় বলে - দ্বিরদ।
- ‘শুভক্ষণে জন্ম যার‘ এক কথায় বলে - ক্ষণজন্মা।
- 'যার দুবার জন্ম হয়' তাকে এক কথায় বলে - দ্বিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৭৩.
'কারক' - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'কারক' ব্যাকরণের - বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

 বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কিভাবে বিন্যস্ত থাকে বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া বাক্যের রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি এই অংশের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি বাক্যতত্ত্ব অংশে আলোচিত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৬৭৪.
'ধনুকের ধ্বনি' এক কথায় কী বলে?
  1. নিক্বণ
  2. শিঞ্জন
  3. টঙ্কার
  4. ঝংকার
ব্যাখ্যা

• 'ধনুকের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- টঙ্কার।  

অন্যদিকে, 
- 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- নিক্বণ। 
- 'অলঙ্কারের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- শিঞ্জন। 
- 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- ঝংকার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬৭৫.
'আমমোক্তার' শব্দে 'আম' কোন উপসর্গ?
  1. আরবি
  2. তৎসম
  3. ফারসি
  4. উর্দু
ব্যাখ্যা
• 'আমমোক্তার' শব্দে 'আম' 'আরবি' উপসর্গ।

বিদেশি উপসর্গ:

- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
উর্দু উপসর্গ: হর।
ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৬৭৬.
নিচের কোন বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই?
ব্যাখ্যা
• ‘ঞ’ বর্ণ:
ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন]-এর মতো উচ্চারিতহয়: মিঞা [মিয়াঁ], চঞ্চল [চন্‌চল্], গঞ্জ [গন্-জো]।
 
অন্যদিকে,
• ‘এ’ বর্ণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- ‘এ’ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
- ‘এ’ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]

• ‘ম’ বর্ণ:
ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়। যেমন- শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]। শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন- পদ্ম [পদ্‌দোঁ]। কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন- যুগ্ম [জুগ্‌মো]।

• র বর্ণ:
র বর্ণের উচ্চারণ [র]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে। শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনোব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়, যেমন- মাত্র [মাত্ত্রো], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রোহো], যাত্রী [জাত্ত্রি]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না, যেমন – কেন্দ্র [কেন্দ্রো], শাস্ত্র [শাস্ত্রো], বস্ত্র [বস্ত্রো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩,৬৭৭.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) উদীচি
  2. খ) ঐকত্য
  3. গ) ইয়াত্তা
  4. ঘ) কিঞ্চিত
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে কিঞ্চিত বানানটি শুদ্ধ।
৩,৬৭৮.
কোনটি 'ক্রন্দসী' এর সম্প্রসারিত প্রকাশ?
  1. আকাশ ও পৃথিবী
  2. আকাশে বিচরণ করে
  3. স্বর্গ ও মর্ত্য
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'স্বর্গ ও মর্ত্য' এর এক কথায় প্রকাশ - ক্রন্দসী
- 'আকাশ ও পৃথিবী' এর এক কথায় প্রকাশ - ক্রন্দসী
- 'পৃথিবী ও স্বর্গ' এর এক কথায় প্রকাশ - রোদসী।

অন্যদিকে,
- 'আকাশে বিচরণ করে এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - খেচর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৭৯.
'সৌভাগ্যের বিষয়' কথাটিকে কোন বাগধারা দিয়ে বোঝানো হয়েছে?
  1. ক) কেউকেটা
  2. খ) একাদশে বৃহস্পতি
  3. গ) এলাহী কান্ড
  4. ঘ) গোঁফ খেজুরে
ব্যাখ্যা
'একাদশে বৃহস্পতি' বাগধারাটির অর্থ - সৌভাগ্যের বিষয়।

অন্যদিকে,
'কেউকাটা' বাগধারাটির অর্থ - সামান্য।
'গোঁফ-খেজুরে' বাগধারাটির অর্থ - নিতান্তই অলস।
‘এলাহী কাণ্ড’ বাগধারাটির অর্থ - বিরাট আয়োজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৬৮০.
'ইনকিলাব' শব্দের অর্থ কী?
  1. বিপ্লব
  2. বিদ্রোহ
  3. আন্দোলন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
• 'ইনকিলাব' (বিশেষ্য) - আরবি শব্দ। 

• শব্দের অর্থ -
- বিপ্লব;
- বিদ্রোহ,
- আন্দোলন। 

উল্লেখ্য,  
- বিপ্লব: দেশের শাসনব্যবস্থা বা সমাজব্যবস্থায় দ্রুত ও আমূল পরিবর্তন, কোনো সমাজ ব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তন। 
- আন্দোলন: বিক্ষোভ; আলোড়ন, বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য প্রচার বা আলোচনা দ্বারা উত্তেজনা সৃষ্টি করা (যেমন - ভাষা আন্দোলন)।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৮১.
শুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. মনমোহন 
  2. তত্ত্বজ্ঞান
  3. ভ্রাতূষ্পুত্র
  4. বিবাদমান
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
• শুদ্ধ বানান – তত্ত্বজ্ঞান।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- পরমার্থবিষয়ে জ্ঞান,
- দিব্যজ্ঞান।

অন্যদিকে,
বিবাদমান – বিবদমান, 
ভ্রাতূষ্পুত্র – ভ্রাতুষ্পুত্র, 
মনমোহন – মনোমোহন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৬৮২.
"নির্ভীক" অর্থে কোন বাগ্‌ধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ডামাডোল
  2. টুপ ভুজঙ্গ
  3. ডাকাবুকো
  4. টাকার গরম
ব্যাখ্যা

• 'ডাকাবুকো' বাগ্‌ধারার অর্থ - নির্ভীক।

অন্যদিকে,
ডামাডোল - গোলযোগ।
টুপ ভুজঙ্গ - নেশাগ্রস্ত।
টাকার গরম - বিত্তের অহঙ্কার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬৮৩.
'অর্ণব' শব্দের অর্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সৈকত
  2. খ) সমুদ্র
  3. গ) সাগর
  4. ঘ) জলধি
ব্যাখ্যা
অর্ণব- এর সমার্থক শব্দ জলধি, সমুদ্র, পাথার, দরিয়া, সিন্ধু, সাগর।
৩,৬৮৪.
'পিতৃধন' শব্দটি কোন সমাস?
  1. কর্মধারয়
  2. বহুব্রীহি
  3. তৎপুরুষ
  4. দ্বন্দ্ব
ব্যাখ্যা
যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে ‘রাজা' স্থলে ‘রাজ’, পিতা, মাতা, ভ্রাতা স্থলে যথাক্রমে ‘পিতৃ’, ‘মাতৃ’, ‘ভ্রাতৃ’ হয়।
যেমন:
- গজনীর রাজা = গজনীরাজ,
- রাজার পুত্র রাজপুত্র,
- পিতার ধন = পিতৃধন,
- মাতার সেবা = মাতৃসেবা,
- ভ্রাতার স্নেহ = ভ্রাতৃস্নেহ,
- পুত্রের বধূ = পুত্রবধূ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৬৮৫.
নদীতে পানি আছে। এখানে 'নদীতে' কোন কারক?
  1. ক) ঐকদেশিক আধারাধিকরণ
  2. খ) অভিব্যাপক আধারাধিকরণ
  3. গ) বৈষয়িক আধারাধিকরণ
  4. ঘ) অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যে উল্লেখিত 'নদীতে' হলো অভিব্যাপক আধারাধিকরণ কারকের উদাহরণ।
•অভিব্যাপক-
উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন- তিলে তৈল আছে।
•অধিকরণ কারক বলতে ক্রিয়া সম্পাদনের সময় এবংআধারকে নির্দেশ করে।

•ক্রিয়াকে "কখন" ও "কোথায়" দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তরে অধিকরণ কারক পাওয়া যায়।

অধিকরণ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ '-এ' '-য়' '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

-অধিকরণ কারক তিন প্রকার।
যথা-
১. কালাধিকরণ,
২. আধারাধিকরণ এবং
৩. ভাবাধিকরণ।

- আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:-

১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
উদাহরণ:- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
৩,৬৮৬.
'কথাসর্বস্ব' কোন জাতীয় সমাস?
  1. ক) ব্যাতিহার বহুব্রীহি
  2. খ) নঞ্ বহুব্রীহি
  3. গ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি
  4. ঘ) অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা

কথা সর্বস্ব যার = কথাসর্বস্ব হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস।
যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কোনটিই বিশেষণ নয়, তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।
ছা - পোষা, পাতা - চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা, কথাসর্বস্ব, পা - চাটা, বোঁটাখোসা ইত্যাদি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাসের আরো কয়েকটি উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৩,৬৮৭.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কারিগরি
  2. নিরুপম
  3. কুপমণ্ডূক
  4. কিংবদন্তি
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - 'কুপমণ্ডূক'

- শব্দটির শুদ্ধ বানান - 'কূপমণ্ডূক'
- বিশেষ্য পদ।
শব্দের অর্থ:
- সীমাবদ্ধ জ্ঞানবিশিষ্ট।

অন্যদিকে,
- কারিগরি, কিংবদন্তি এবং নিরুপম - শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৮৮.
শুদ্ধ বাক্য নির্ণয় করুন-
  1. আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গিয়েছেন।
  4. তাকে স্নেহাশিষ দিও।
ব্যাখ্যা

• 'রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।'- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
- অশুদ্ধ: তাকে স্নেহাশিষ দিও।
- শুদ্ধ: তাকে স্নেহাশিস দিও।

- অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক বেড়াতে গিয়েছেন।
- শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক বেড়াতে গিয়েছেন।

- অশুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার স্বাদ নাই।
- শুদ্ধ: আমার আর বাঁচিবার সাধ নাই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৬৮৯.
আমি, তুমি ও সে -
  1. ক) সবাই
  2. খ) আমরা
  3. গ) আমাদের
  4. ঘ) সকলে
ব্যাখ্যা
আমরা - আমি, তুমি ও সে। বাংলায় ‘আমরা’কে একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। অবশ্য ‘আমরা’কে নিত্য সমাসেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৯০.
“হাসিমের ভাই এসেছে” - এ বাক্যে ‘হাসিমের’ পদটি কীসের সম্প্রসারক?
  1. ক) ক্রিয়ার সম্প্রসারক
  2. খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
  3. গ) বিশেষণের সম্প্রসারক
  4. ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক
ব্যাখ্যা

প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলা হয়।
যেমন: খোকা এখন (উদ্দেশ্য) বই পড়ছে (বিধেয়)।

একটি মাত্র পদবিশিষ্ট কর্তৃপদকে সরল উদ্দেশ্য বলে।
উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশেষণাদি যুক্ত থাকলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে।

প্রশ্নের বাক্যে,
হাসিমের (উদ্দেশ্য) ভাই এসেছে (বিধেয়)।
সুতরাং, উদ্দেশ্যের সম্প্রসারণ হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬৯১.
Aeronaut- এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. বিমানঘাঁটি
  2. বৈমানিক
  3. বিমানবিদ্যা
  4. কান্তিবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• Aeronaut.- এর বাংলা পরিভাষা = বৈমানিক।

অন্যদিকে,
• Aerodrome.- এর বাংলা পরিভাষা = বিমানঘাঁটি।
• Aeronautics.- এর বাংলা পরিভাষা = বিমানবিদ্যা।
• Aesthetics- এর বাংলা পরিভাষা = কান্তিবিদ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৬৯২.
শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয় তখন তাকে কি বলে?
  1. বিভক্তি
  2. পদ
  3. প্রত্যয়
  4. উপসর্গ
ব্যাখ্যা

• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া
৫. ক্রিয়া বিশেষণ
৬. অনুসর্গ
৭. যোজক
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৬৯৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. হু = হ্‌ + উ
  2. ক্ম = ক্‌+ ন
  3. ক্ষ = ক্‌ + ষ
  4. ক্স = ক্‌ + স
ব্যাখ্যা
• "ক্ম = ক্‌+ ন" - যুক্তবর্ণ বিশ্লেষণটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ বিশ্লেষণ হবে- ক্ম ( ক্‌ + ম)। 

-------------------- 
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:

- হু (হ্‌ + উ),
- ক্ম ( ক্‌ + ম), 
- ক্ত (ক্‌ + ত),
- ক্স (ক্‌+স),
- ক্র (ক্‌+র),
- ক্ষ (ক+ষ),
- ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৬৯৪.
বিদেশী প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দটি চিহ্নিত করুন।
  1. ক) পাঞ্চভৌতিক
  2. খ) মহিমা
  3. গ) পার্বত্য
  4. ঘ) খবরদার
ব্যাখ্যা
পঞ্চভূত + ষ্ণিক = পাঞ্চভৌতিক, সর্বভূমি + ষ্ণ = সার্বভৌম, পরলোক + ষ্ণিক = পারলৌকিক, মহৎ + ইমন = মহিমা এবং পর্বত + ষ্ণ্য = পার্বত্য ইত্যাদি সংস্কৃত 'তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে' গঠিত শব্দ।
অন্যদিকে 'খবরদার' ফারসি 'দার' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।
এরূপ- তাঁবেদার, বুটিদার, দেনাদার, চৌকিদার, পাহারাদার ইত্যাদি৷
উৎসঃবাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৩,৬৯৫.
‘নীল আকশের নিচে আমি রাস্তা  চলেছি একা’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য
  2. করণে শূন্য
  3. অপাদানে শূন্য
  4. সম্প্রদানে শূন্য
ব্যাখ্যা
• 'নীল আকশের নিচে আমি রাস্তা  চলেছি একা’ - বাক্যে নিম্নরেখ শব্দটি 'করণ' কারকে 'শূন্য' বিভক্তি। 

• করণ কারক: 
- ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যের ক্রিয়া পদকে ‘কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ বা 'কীসের সাহায্যে' প্রশ্ন করলে যে উওর পাওয়া যায় তাই করণ কারক।
যেমন: 
- 'নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তা চলেছি একা'। বাক্যটিতে 'রাস্তা' শব্দটি করণ কারকে শূন্য বিভক্তি।
- কারণ, বাক্যের ক্রিয়াপদ 'চলেছি' কে 'কীসের সাহায্যে/ কী দিয়ে' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় - রাস্তা। 

• সহজ কথায়, যন্ত্র সহায়ক বা উপায় বোঝালে করণ কারক হবে।
- এখানে রাস্তার সাহায্যে যাচ্ছে। মানে সহায়ক হচ্ছে রাস্তা তাই এটি অধিকরণ না হয়ে করণ কারক হবে। 
- প্রশ্নের ক্রিয়ার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে “চলেছি” অর্থাৎ বাক্যের কর্তা কিন্তু থেমে নেই, সে নীল আকাশের নিচে রাস্তা ব্যবহার করে তার গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।
- তার মানে, এখানে ‘রাস্তা’ কর্তার গন্তব্যস্থলে যাওয়ার একটি মাধ্যম অর্থাৎ করণ কারক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৬৯৬.
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) লাল > নাল
  2. খ) চাকরি > চারকি
  3. গ) শরীর > শরীল
  4. ঘ) কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় শব্দের কোনাে কোনাে ধ্বনির স্থান পরিবর্তন হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। একে বর্ণ বিপর্যয়ও বলা হয়।
যেমন- নকশা > নশকা, কলমি > কমলি, পিশাচ > পিচাশ, বাক্স > বাসক, রিক্সা > রিসকা, লাফ > ফাল, তলােয়ার > তরােয়াল, চাকরি > চারকি, লােকসান > লােসকান, তুলতুলা > লুতলুতা, এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি।
অপরদিকে, শব্দের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি কোনাে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন- ধােবা > ধােপা, কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা, শাক > শাগ ইত্যাদি।
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
৩,৬৯৭.
‘তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।’— বাক্যটিতে 'তবু' কোন ধরনের যোজক নির্দেশ করেছে?
  1. বিরোধ যোজক
  2. সাধারণ যোজক
  3. সাপেক্ষ যোজক
  4. বিকল্প যোজক
ব্যাখ্যা
• বিরোধ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না।

- তাকে আসতে বললাম, তবু এল না।
(এখানে, 'তবু' যোজকটি দুইটি বাক্যাংশের মধ্যে বিরোধ নির্দেশ করে।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৬৯৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. অনুষঙ্গিক
  2. অনুসঙ্গিক
  3. আনুসঙ্গিক
  4. আনুষঙ্গিক
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে — আনুষঙ্গিক।
- অর্থ: সংশ্লিষ্ট।



• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বানান হলো-
- অভ্যন্তরীণ, আভ্যন্তরিক, সর্বজনীন, সার্বজনীন, মোহ্যমান, মুমূর্ষু, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৬৯৯.
'জায়া' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. অর্ধাঙ্গিনী
  2. কন্যা
  3. নন্দিনী
  4. ভাগনী
ব্যাখ্যা
• 'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ- দুহিতা, আত্মজা, তনয়া, সুতা, নন্দিনী, মেয়ে,দুলালী, আত্মসম্ভবা, পুত্রিকা, ঝিউরি, দুলালি, ঝি ইত্যাদি।

• 'পত্নী' শব্দের সমার্থক শব্দ- স্ত্রী, বউ, সহধর্মিণী, অর্ধাঙ্গিনী, দারা কলত্র, অঙ্গনা, বনিতা, ভার্যা, জায়া, দয়িতা, ধর্মপত্নী ইত্যাদি।
• 'ভাগনী' বোন এর সমার্থক শব্দ 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ। 
৩,৭০০.
"নিষ্কাম" শব্দে উপসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিষেধ
  2. অভাব
  3. আতিশয্য
  4. নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

তৎসম 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম

তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশটি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।