বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৩৫ / ৩৫৪ · ৩,৪০১৩,৫০০ / ৩৫,৭১৩

৩,৪০১.
'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অপদার্থ
  2. দুর্লভ বস্তু
  3. দুর্বল
  4. স্বেচ্ছাচারী
ব্যাখ্যা

• 'উনপাঁজুরে' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্বল

অন্যদিকে,
- ডুমুরের ফুল = দুর্লভ বস্তু।
- অকাল কুষ্মাণ্ড ও আমড়া কাঠের ঢেঁকি = অপদার্থ।
- 'গোকুলের ষাঁড়'  হচ্ছে - স্বেচ্ছাচারী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৪০২.
অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) দুই ভাগে
  2. খ) তিন ভাগে
  3. গ) চার ভাগে
  4. ঘ) পাঁচ ভাগে
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
যথা-
- যৌগিক শব্দ
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ
- যোগরূঢ় শব্দ

উৎসগতভাবে শব্দসমূহ চার ভাগে বিভক্ত:
- তৎসম শব্দ
- তদ্ভব শব্দ
- দেশি শব্দ
- বিদেশি শব্দ


গঠনগতভাবে শব্দসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:
- মৌলক শব্দ
- যৌগিক শব্দ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ]
৩,৪০৩.
যে বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি ধাতু বা শব্দের পরে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে তাকে বলে-
  1. ক) ক্রিয়া
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) বিভক্তি
  4. ঘ) প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

মূলশব্দ বা মৌলিক শব্দের সঙ্গে যে অতিরিক্ত শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন নামপদ গঠন করে, তাকে প্রত্যয় বলে।
অর্থাৎ, প্রাতিপদিক ও ধাতুর সঙ্গে যেই শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদেরকেই প্রত্যয় বলে।
যেমন,
পড় + উয়া = পড়ুয়া
এখানে, ‘√পড়’-এর সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় 'উয়া' যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ 'পড়ুয়া' গঠন করেছে।
লাজ + উক = লাজুক
এখানে, ‘লাজ’-এর সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় 'উক' যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ 'লাজুক' গঠন করেছে।

যে পদের দ্বারা কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া বলে।
যেমন- যাব, খাই, ঘুমাও।

বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না। এগুলো অন্যে শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন- নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়, শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়, শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে, শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে এবং শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন- 
‘পাতি’ একটি বাংলা উপসর্গ। এটি ক্ষুদ্র বা ছোট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
'পাতি' যোগে কিছু শব্দঃ পাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু, পাতকুয়ো ইত্যাদি।

বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদের বিভক্তি বলে।
বিভক্তি প্রধানত ২ প্রকার।
যথা- ক্রিয়া বিভক্তি(পড়+তে=পড়তে) এবং নাম বিভক্তি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪০৪.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ব্যতীত
  2. অভিমুখে
  3. কর্তৃক
  4. স্বয়ং
ব্যাখ্যা

• কর্তৃক, ব্যতীত, অভিমুখে → এগুলো অনুসর্গ।
• স্বয়ং → এটি অব্যয় শব্দ, কিন্তু অনুসর্গ নয়। (যেমন: "স্বয়ং সে পরিশ্রম করেছে।")।

------------------
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৩,৪০৫.
'তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।' বাক্যটি যে বাচ্যের উদাহরণ -
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) ভাববাচ্য
  3. গ) কর্মকর্তৃবাচ্য
  4. ঘ) কর্মবাচ্য
ব্যাখ্যা

ভাববাচ্যঃ
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন -
- আমার খাওয়া হলো না।
- আমাকে এখন যেতে হবে।
- এ পথে চলা যায় না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না। 
তেমনিভাবে,
- তোমাকে দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে, তা আশা করা যায়নি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।

৩,৪০৬.
‘ভোম্বল’ শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) নির্বোধ
  2. খ) বিভোর
  3. গ) শেষরাত
  4. ঘ) ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• ভোম্বল (বিশেষণ)
- দেশি শব্দ
অর্থ: হাঁদা, নির্বোধ

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪০৭.
'তখনই' শব্দে 'ই' কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. বচন
  4. বলক
ব্যাখ্যা

• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

• লগ্নক:

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। লগ্নক চার ধরনের:

বিভক্তি:

- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বচন:
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫সংস্করণ)।

৩,৪০৮.
কোন গুচ্ছের সবগুলো শব্দই সমার্থক শব্দ নয়?
  1. ময়ূর, শিখী, শিখণ্ডী
  2. মধুপ , আর্ঘা , পুষ্পলিহ
  3. সাপ, কুণ্ডলী, দ্বিপ
  4. হরিণ,সারঙ্গ, সুনয়ন 
ব্যাখ্যা
'ময়ূর' শব্দের সমার্থক শব্দ - কলাপী , কেকী , শিখী , শিখণ্ডী , বর্হী , বর্হিণ 
'মৌমাছি' শব্দের সমার্থক শব্দ -মধুপ , আর্ঘা , পুষ্পলিহ 
'সাপ' শব্দের সমার্থক শব্দ -অহি, উরগ, পন্নগ, কুণ্ডলী  
'হাতি' শব্দের সমার্থক শব্দ -গজ , দ্বিপ , নাগ , পিল 
'হরিণ' শব্দের সমার্থক শব্দ -মৃগ , কুরঙ্গ , সারঙ্গ, সুনয়ন 

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
৩,৪০৯.
নিচের কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত?
  1. ক) পড়াতাম
  2. খ) পড়ালাম
  3. গ) পড়িয়েছিলাম
  4. ঘ) পড়াবো
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত (অভ্যস্ততা) এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলা হয়।
ক) কামনা প্রকাশে : আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হত।
খ) অসম্ভব কল্পনায় : সাতাশ হত যদি একশ’ সাতাশ।
গ) সম্ভাবনা প্রকাশে : তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হত।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪১০.
‘সর্বনাম’ ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বনাম’ ব্যাকরণের রূপতত্ত্বে আলোচিত হয়।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪১১.
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
  2. তদ্ভব শব্দের ব্যবহার কম। 
  3. এই ভাষারীতি পরিবর্তনশীল। 
  4. এটি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় - তদ্ভব শব্দের ব্যবহার কম। 

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:

১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সবসময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩,৪১২.
‘পণ্ডিতে পণ্ডিতে লড়াই করে।’- ‘পণ্ডিতে’ কোন কারকের উদাহরণ?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. করণ কারক
  3. কর্ম কারক
  4. কর্তৃ কারক
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- খোকা বই পড়ে। (কে পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)।
- মেয়েরা ফুল তোলে। (কে তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।
- পণ্ডিতে পণ্ডিতে লড়াই করে। (কে লড়াই করে? (পণ্ডিতে- কর্তৃকারকে ৭মী বিভক্তি)।

এরূপ-
- গরুতে গাড়ি টানে।- এই বাক্যে ‘গরুতে’ কর্তৃকারক।
[কারণ গাড়ি টানার কাজ গরু নিজেই করছে। সুতরাং এখানে ‘গরুতে’ কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৩,৪১৩.
অশুদ্ধ বানান নির্ণয় করুন-
  1. সমীচীন
  2. ভাগীরথি
  3. শ্রমজীবী
  4. বিভীষিকা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান - 'ভাগীরথি'।
- শুদ্ধরূপ ভাগীরথী। 
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
এর অর্থ:
- গঙ্গা নদীর অন্য নাম, গঙ্গার শাখা নদী বিশেষ।

অন্যদিকে,
- বিভীষিকা, কৃষিজীবী এবং সমীচীন - বানানগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৪১৪.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. মেঘ
  2. ছুটি
  3. কাব্য
  4. দ্বীপ
ব্যাখ্যা

• 'ছুটি' মৌলিক শব্দ।

গঠন প্রণালি অনুসারে বাংলা ভাষার শব্দকে দুভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
- মৌলিক শব্দ
- সাধিত শব্দ

• মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে দেখানো যায় না তাদের মৌলিক শব্দ বলে।
- যেমন- মা, বাবা। হাত, পা, ভাত, ভাই, লাল, শাল, লতা, গোলাপ, চল্‌ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো সাধিত শব্দ।
- মেঘ =  √মিহ্ + অ
- কাব্য = √কব + য
- দ্বীপ =  দ্বী + অপ্‌ + অ

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৪১৫.
উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় কোনটি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. তালব্য
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান নয়- ওষ্ঠ্য।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:

যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪১৬.
‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গানটির গীতিকার কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  3. নজরুল ইসলাম বাবু
  4. নয়ীম গহর
ব্যাখ্যা
• ‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গানটির গীতিকার - গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার

‘মা গো ভাবনা কেন/ আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে' গান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান।
- গানটির সুরকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনিই এই গানে কণ্ঠ দেন।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তাঁর রচিত আরেকটি জনপ্রিয় গান -

‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/ লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি/ আকাশে-বাতাসে ওঠে রণি:/ বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৮।
৩,৪১৭.
'কাঁচা হাত' বাগ্‌ধারার  অর্থ -
  1. নিরেট মূর্খ
  2. ভাবনাচিন্তাহীন
  3. অপটু
  4. সীমাবন্ধ জ্ঞান
ব্যাখ্যা
'কাঁচা হাত' বাগ্‌ধারার  অর্থ - অপটু।

অন্যদিকে,
কূপমণ্ডূক - সীমাবন্ধ জ্ঞান। 
খোদার খাসি - ভাবনাচিন্তাহীন।
গোবরগণেশ - নিরেট মূর্খ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪১৮.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. রাজপথ
  2. রক্তলাল
  3. ঘরজামাই
  4. ঘনশ্যাম
ব্যাখ্যা
⇒ তৎপুরুষ সমাস:
সমাস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

ক. বিভক্তি লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
ছেলেকে ভুলানো= ছেলে-ভুলানো,
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ।

খ. সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা,
রান্নার জন্য ঘরে = রান্নাঘর,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রাম ছাড়া,
বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।

গ. কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লোপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ। যেমন-
গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি,
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

অন্যদিকে,
রক্তলাল ও ঘনশ্যাম সাধারণ কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
ঘরজামাই মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪১৯.
'সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. নিত্য অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• বর্তমান কাল
বর্তমানে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে বর্তমান কাল বলে। বর্তমান কাল চার প্রকার: সাধারণ বর্তমান, ঘটমান বর্তমান, পুরাঘটিত বর্তমান এবং অনুজ্ঞা বর্তমান।

• সাধারণ বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

• ঘটমান বর্তমান: যে ক্রিয়া বর্তমানে চলছে বোঝায়, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি স্কুলে যাচ্ছি।
- আমাদের পরীক্ষা চলছে।

• পুরাঘটিত বর্তমান: এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- আমি অঙ্কটি করেছি।
- তারা বাড়িতে ফিরেছে।

• অনুজ্ঞা বর্তমান: যে ক্রিয়া দিয়ে বর্তমান কালে বক্তার আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, অভিশাপ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি করো।
- সকলের মঙ্গল হোক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৪২০.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. প্রজ্বলন
  2. নূন্যতম
  3. প্রাতঃরাশ
  4. নিরব
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের অপশনে শুদ্ধ বানানটি হচ্ছে প্রজ্বলন।
- নিরব শব্দের শুদ্ধ বানান - নীরব।
- নূন্যতম শব্দের শুদ্ধ বানান - ন্যূনতম।
- প্রাতঃরাশ শব্দের শুদ্ধ বানান - প্রাতরাশ।

উৎসঃ;ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩,৪২১.
‘প্রচ্ছদ’ শব্দের প্রকৃত সন্ধি বিচ্ছেদ হলো :
  1. ক) প্র + ছদ
  2. খ) প্রৎ + ছদ
  3. গ) প্রচ্ছ + দ
  4. ঘ) প্রচ্ছদ + অ
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন-
এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
অঙ্গ + ছেদ = অঙ্গচ্ছেদ,
আলোক + ছটা = আলোকচ্ছটা,
প্র + ছদ = প্রচ্ছদ,
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষছায়া,
কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
আচ্ছা + দন = আচ্ছাদন,
পরি + ছদ = পরিচ্ছদ,
বি + ছেদ= বিচ্ছেদ,
বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন,
প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি,
অনু + ছেদ = অনুচ্ছেদ,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪২২.
'Interval' শব্দের পারিভাষিক শব্দ কী?
  1. ক) বাঁধা
  2. খ) বিরাম
  3. গ) ছেদ
  4. ঘ) বিচ্ছিন্ন
ব্যাখ্যা
'Interval' শব্দের পারিভাষিক শব্দ বিরাম, অন্তর

→ Intersection - ছেদ 
→ Intermediate - মধ্যবর্তী 
→ Intellect - বুদ্ধি 
→ Intern - অন্তরীণ করা
→ Internship - অন্তরীণতা
→ Interaction - মিথষ্ক্রিয়া 
→ Interrupt - ব্যাহত করা

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩,৪২৩.
কোনটি অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. দেশান্তর
  2. আলুসিদ্ধ
  3. প্রতিদান
  4. দুধভাত
ব্যাখ্যা

• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়।

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- শ্রীর অভাব = বিশ্রী;
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- দানের বিপরীত = প্রতিদান;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- বিঘ্নের অভাব = নির্বিঘ্ন;
- ঈষৎ নত = আনত;
- অন্য মত = মতান্তর;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ;
- একটি লোক = লোকটি।

অন্যদিকে,
• অন্য দেশ = দেশান্তর; নিত্য সমাস।
• সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ; সাধারণ কর্মধারয় সমাস।
• দুধ মিশ্রিত ভাত = দুধভাত; মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৪২৪.
'তলোয়ার' শব্দের অর্থ কী?
  1. কুঁড়ি
  2. কৃপাণ
  3. কপাল
  4. খবর
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'তলোয়ার' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- তলোয়ার, কৃপাণ, তরবারি, অসি।

অন্যদিকে,
- 'খবর' শব্দের সমার্থক শব্দ - বার্তা, ফরমান।
- 'কপাল' শব্দের সমার্থক শব্দ - ভাল, ভাগ্য, ললাট।
- 'কোরক' শব্দের সমার্থক শব্দ - কুঁড়ি, মুকুল, কলি, কলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪২৫.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. সূচিষ্মিতা
  2. সূচিস্মিতা
  3. সুচীস্মিতা
  4. শুচিস্মিতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,  
• শুদ্ধ বানান: 'শুচিস্মিতা'। 
- এটি স্ত্রীবাচক শব্দ।
- এর পুরুষবাচক শব্দ হলো শুচিস্মিত।

• 'যে নারীর হাসি পবিত্র' এক কথায় বলে - শুচিস্মিতা। 

• শুচিস্মিত (বিশেষণ): 
শব্দের অর্থ: 'মৃদু ও নির্মল হাসিযুক্ত'।  

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৪২৬.
‘যত চাও তত লও তরণী পরে।’— এখানে ‘যত-তত’ হলো—
  1. নির্দেশক সর্বনাম 
  2. সাপেক্ষ সর্বনাম
  3. পারস্পরিক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম 
ব্যাখ্যা

• 'যত চাও তত লও তরণী পরে' - এই বাক্যে 'যত-তত' হলো — সাপেক্ষ সর্বনাম।
-----------------
• সাপেক্ষ সর্বনাম:
- পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।

যেমন:
- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

অন্যান্য অপশন ক্ষেত্রে:
• (ক) নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম  বলে।
যেমন -
নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি।
দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

(গ) পারস্পরিক সর্বনাম:
দুই পক্ষের সহযােগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন – পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

(ঘ) অনির্দিষ্ট সর্বনাম: 
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বােঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
যেমন:
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৪২৭.
‘ওদন’ শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. ক) নরম
  2. খ) উদর
  3. গ) অন্ন
  4. ঘ) উষ্ণতা
ব্যাখ্যা
• ওদন (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [√উন্দ্+অন]
অর্থ: অন্ন, ভাত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪২৮.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. চতুরালি
  2. বাবুয়ানা
  3. তেজাল
  4. ধুনাচি
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

• আনা, আনি:
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
- সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
- নজর + আনা = নজরানা।

• খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
• কানু + আই = কানাই, ধুনা + আচি = ধুনাচি, বেত + আন্ = বেতান > বেতানো।
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল >দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক -ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩,৪২৯.
কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- , খ, চ, ছ ইত্যাদি। 

• ঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন- গ, জ, ড, ঘ, ঝ, ধ ইত্যাদি ঘোষ ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪৩০.
কোন দুটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জন?
  1. ড়, ঠ
  2. ট, ত
  3. ড, ধ
  4. থ, দ
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, , ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪৩১.
'দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ' কে কোন বাগধারা দিয়ে প্রকাশ করা হয়?
  1. ক) রাবণের চিতা
  2. খ) রাহুর দশা
  3. গ) বসন্তের কোকিল
  4. ঘ) অহি নকুল
ব্যাখ্যা

রাবণের চিতা - চির অশান্তি।
রাহুর দশা- অত্যন্ত অশুভ সময়।
বসন্তের কোকিল- সুসময়ের বন্ধু।
অহি নকুল - ভীষণ শত্রুতা।
উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৪৩২.
'গুজব' অর্থ নিচের কোন বাগ্‌ধারাটি প্রকাশ করে?
  1. ক) উড়োকথা
  2. খ) উড়োচিঠি
  3. গ) কান ভাঙানো
  4. ঘ) কানকথা
ব্যাখ্যা
'উড়োকথা' বাগ্‌ধারাটি গুজব অর্থ প্রকাশ করে।

এছাড়া,
উড়োকথা বাগ্‌ধারাটির অর্থ - বেনামি চিঠি।
কান ভাঙানো বাগ্‌ধারাটির অর্থ - কুপরামর্শ।

গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারাসমূহ:
চুনোপুঁটি - সামান্য ব্যক্তি
কানকাটা - নির্লজ্জ
কুয়োর ব্যাঙ - সংকীর্ণমনা লোক
গুড়ে বালি - আশায় নৈরাশ্য

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম -দশম শ্রেণি, সংস্করণ -২০২২।
৩,৪৩৩.
'চুলোয় যাওয়া' বাগ্‌ধারার অর্থ -
  1. পালিয়ে যাওয়া
  2. নষ্ট হওয়া
  3. নাছোড়বান্দা
  4. বেহায়া
ব্যাখ্যা
• 'চুলোয় যাওয়া' বাগ্‌ধারার অর্থ - নষ্ট হওয়া

অন্যদিকে,
ডুব মারা - পালিয়ে যাওয়া।
চিনে জোঁক - নাছোড়বান্দা।
চশমখোর - বেহায়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৩৪.
"দর্শনমাত্র" - কোন সমাস?
  1. নিত্য সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• নিত্য সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। শুধু সমস্তপদের ব্যাখ্যা দিতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- অন্য দেশ = দেশান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- কেবল যাওয়া = যাওয়ামাত্র,
- কেবল বলা = বলামাত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৪৩৫.
প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ী 'ভূষণ' শব্দের সঠিক গঠন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) √ভৌ + অন
  2. খ) √ভব্ + অন
  3. গ) √ভূ + অন
  4. ঘ) √ভূষ্ + অন
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি ও প্রত্যয় অনুযায়ী 'ভূষণ' শব্দের সঠিক গঠন প্রক্রিয়া হলো- √ভূষ্ + অন = ভূষণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩,৪৩৬.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  2. ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত
  3. যথা + ঈষ্ট = যথেষ্ট
  4. শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - যথা + ঈষ্ট = যথেষ্ট
- এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট। 

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয় মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, 
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট,
- মহা + ঈশ = মহেশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া, ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত, নদী + অম্বু = নদ্যম্বু - সন্ধিবিচ্ছেদ শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৪৩৭.
‘যার বাসস্থান নেই’— এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. অনাথ
  2. নিঃস্ব
  3. অনিকেত
  4. আশ্রয়হীন
ব্যাখ্যা
• 'যার বাসস্থান নেই' এর এক কথায় প্রকাশ - অনিকেত।

আরো কয়েকটি বাক্য সংকোচন:
-'স্থায়ী ঠিকানা নেই যার' - উদ্বাস্তু।
-'যে বাস্তু থেকে উৎখাত হয়েছে' - উদ্বাস্তু।
-'ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী' - ক্ষণস্থায়ী।
-'যা স্থায়ী নয়' - অস্থায়ী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৩৮.
ব্যতিহারিক সর্বনাম কোনটি?
  1. ইহারা
  2. যিনি
  3. নিজে নিজে
  4. কেহ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণির (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনাম সমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে:
 
১. ব্যাক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক: স্বয়ং, খোদ, নিজে, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব ইত্যাদি।
৫. সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার ইত্যাদি।
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।
 
সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।
৩,৪৩৯.
'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরিয়াসী
  2. গরীয়সী
  3. গরীয়াসী
  4. গরিয়ানী
ব্যাখ্যা

• 'গরীয়ান' শব্দটির স্ত্রীবাচক শব্দ- 'গরীয়সী'।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'গরীয়ান' - এর অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, মহান, গুরুতর, বৃহত্তর, বিত্তশালী, মহার্ঘ।
- এর স্ত্রী লিঙ্গ- গরীয়সী।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৪৪০.
ভাববাচ্যের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
  2. এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
  3. শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।
  4. কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
ব্যাখ্যা

• কর্মবাচ্য: 
যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন- শিকারি কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

----------------
• ভাববাচ্য: 

যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।
১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় যষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন-
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের কিয়া)
(গ) তোমার যারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম যারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন-
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন-
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৩,৪৪১.
'কর্তিত' শব্দটি কোন ধাতু যোগে গঠিত?
  1. কৃৎ
  2. কর্‌ 
  3. কৃ
  4. কথ্‌ 
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক - অঙ্কন, অঙ্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৪২.
‘উগ্র’ এর বিপরীত শব্দ -
  1. কোমল
  2. ম্লান
  3. রগচটা
  4. সান্ত
ব্যাখ্যা
• ‘উগ্র’ এর বিপরীত শব্দ - কোমল / সৌম্য।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• অনন্ত - অন্ত / সান্ত।
• ধৃষ্ট - নম্র / বিনয়ী।
• নশ্বর - শাশ্বত।
• অর্থী - প্রত্যর্থী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৪৩.
’অপকর্ষতা’ কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
ব্যাখ্যা
• ’অপকর্ষতা’ প্রত্যয়জনিত কারনে অশুদ্ধ।
- ’অপকর্ষতা’ এর শুদ্ধরূপ - ’অপকর্ষ’ 

উল্লেখ্য,
তা এবং ত্ব হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো তা বা ত্ব যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন: • ’অপকর্ষ’ শব্দের সঙ্গে বিশেষণবাচক তা প্রত্যয় যোগ করলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

• তা” যুক্ত কিছু অপপ্রয়োগ হয়।

- অপপ্রয়োগ   প্রয়োগ;
- দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা = সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা= বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা= দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৪৪.
'পাভেল করে মাঠে কাজ ' বাক্যটি সার্থক বাক্যের কোন গুণ হারিয়েছে?
  1. আকাঙ্ক্ষা
  2. আসত্তি
  3. আসক্তি
  4. যোগ্যতা
ব্যাখ্যা
•ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।
যেমন-
(১) আকাঙ্ক্ষা, 
(২) আসত্তি এবং
(৩) যোগ্যতা।

• আসত্তি:

- মনোভাব প্রকাশের জন্য বাক্যে শব্দগুলো এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়।
- বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।
- যেমন-'পাভেল করে মাঠে কাজ।এই বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকভাবে না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাবটি যথাযথ প্রকাশিত হয়নি।
তাই এটি একটি বাক্য হয়নি।
- মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করার জন্য পদগুলোকে নিম্নলিখিতভাবে যথাস্থানে সন্নিবিষ্ট করতে হবে।
যেমন- পাভেল মাঠে কাজ করে। বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

উৎস: : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৪৫.
কোনটি অনন্বয়ী অব্যয়?
  1. তাই
  2. নিশ্চয়ই
  3. কিংবা
  4. অধিকন্তু
ব্যাখ্যা

অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়ের উদাহরণ - কিংবা, অধিকন্তু, এবং, তাই

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।

৩,৪৪৬.
‘সবাই মিলে বিদ্যালয় পরিষ্কার করল।' - ‘সবাই' কোন কারকের উদাহরণ?
  1. কর্তৃকারক
  2. কর্মকারক 
  3. করণ কারক 
  4. অপাদান কারক 
  5. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তা ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক।
ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক।
যেমন:
- সবাই মিলে বিদ্যালয় পরিষ্কার করল।
এখানে ‘সবাই’ হলো কর্তৃকারকের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৩,৪৪৭.
বিসর্গসন্ধির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) পরিচ্ছেদ
  2. খ) মনোযোগ
  3. গ) তিরোধান
  4. ঘ) পুনর্মিলন
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্যকরা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট; অধঃ + পতন = অধঃপতন।
২. বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যোগ = মনোযোগ; তিরঃ + ধান = তিরোধান।
৩. বিসর্গ 'র' হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার; পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন।

অন্যদিকে, 
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ; ব্যঞ্জনসন্ধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৪৮.
‘কাক নিদ্রা’- এর সঠিক অর্থ কোনটি ?
  1. ক) কপট চিন্তা
  2. খ) অগভীর নিদ্রা
  3. গ) পরের অনিষ্ট চিন্তা
  4. ঘ) নিদ্রার ভান করা
ব্যাখ্যা

কাকতন্দ্রা, কাকনিদ্রা (বিশেষ্য) - অগভীর সতর্ক ঘুম।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,৪৪৯.
কোনটি সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. সর্বনাম হ্রস্বতর
  2. অনুসর্গ হ্রস্বতর
  3. বিশেষ্যের আধিক্য
  4. ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি:
- দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়।
উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে।
প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু ছিল।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর, যেমন 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া, করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে 'হ'-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।
(গ) সাধু রীতিতে তৎসম শব্দ এবং সাধিত শব্দের প্রাধান্য থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩,৪৫০.
কোনটি শুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ঙ্ + গ = ঙ্গ
  2. হ্ + ঊ = হু
  3. হ্ + ণ = হৃ
  4. ড্‌ + ণ  = ণ্ড
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ঙ্ + গ = ঙ্গ

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ, 
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৪৫১.
''তার মতো অকড়িয়া লোকের কাছে ধার চেয়ে লাভ নেই।'' - বাক্যে 'অকড়িয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অকর্মণ্য
  2. ধনহীন
  3. নির্বোধ
  4. সামান্য লোক
ব্যাখ্যা
• ''তার মতো অকড়িয়া লোকের কাছে ধার চেয়ে লাভ নেই।'' - বাক্যে 'অকড়িয়া' বাগ্‌ধারাটির অর্থ: ধনহীন। 

অন্যদিকে, 
'অপোগণ্ড' বাগধারাটির অর্থ - অকর্মণ্য।
'অঘারাম' বাগধারাটির অর্থ- নির্বোধ। 
'আদাড়ের হাঁড়ি' বাগধারাটির অর্থ- সামান্য লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৫২.
‘Great Bear’ এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. মহাকর্ষ
  2. সপ্তর্ষিমণ্ডল
  3. জ্যোতিষ্ক
  4. গুরুবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘Great Bear’ এর বাংলা পরিভাষা: সপ্তর্ষিমণ্ডল

অন্যদিকে, 
‘Gravitation’ এর বাংলা পরিভাষা - মহাকর্ষ।
‘Heavenly body’ এর বাংলা পরিভাষা - জ্যোতিষ্ক।
‘Great circle’ এর বাংলা পরিভাষা - গুরুবৃত্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৪৫৩.
‘ইহলোকে যা সামান্য নয়’ - এক কথায় কী হবে?
  1. অনন্যসাধারণ
  2. আনন্যসাধারণ
  3. অলোকসামান্য
  4. আলোকসামান্য
ব্যাখ্যা
• 'ইহলোকে যা সামান্য নয়' - এক কথায় বলে: অলোকসামান্য

অন্যদিকে,
• ‘যা সাধারণের মধ্যে দেখা যায় না এমন’ এর বাক্য সংকোচন - অনন্যসাধারণ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্য সংকোচন:  
• 'যা দীপ্তি পাচ্ছে' এর বাক্য সংকোচন - দেদীপ্যমান।
• 'যা অধ্যয়ন করা হয়েছে' এর বাক্য সংকোচন - অধীত।
• 'যার অনুরাগ দূর হয়েছে' এর বাক্য সংকোচন - বীতরাগ। 
• 'যা লাফিয়া চলে' এর বাক্য সংকোচন - প্লবগ। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৩,৪৫৪.
নিচের কোনটি বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে।
  2. খ) সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে ।
  3. গ) বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
  4. ঘ) সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যটির শুদ্ধরূপ : বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৩,৪৫৫.
"সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ" এটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
"সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ" এটি "ব্যঞ্জনসন্ধি" সন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:

- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।

যেমন:
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৫৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) দারিদ্র
  2. খ) দরিদ্র্য
  3. গ) দারিদ্র্যতা
  4. ঘ) দরিদ্রতা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
দরিদ্রতা (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ।
- দরিদ্র + তা
অর্থ: দারিদ্র্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪৫৭.
‘ঘটিরাম’ বাগধারাটির অর্থ কী?
  1. ভণ্ড ধার্মিক
  2. ন্যাকামো
  3. বড়মুখ
  4. অপদার্থ
ব্যাখ্যা
• ‘ঘটিরাম’ বাগধারাটির অর্থ - অপদার্থ।

এরূপ কিছু বাগধারা হলো:
• ‘অকালকুষ্মাণ্ড’, ‘কচুবনের কালাচাঁদ’, ‘ঢেঁকির কুমির’ প্রভৃতি বাগধারার অর্থ - অপদার্থ।
• ‘ইতুনিদকুঁড়ে’ বাগধারাটির অর্থ - অলস।
• ‘খয়ের খাঁ’, ‘ঢাকের কাঠি’ বাগধারার অর্থ - চাটুকার।

উৎস:: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৪৫৮.
"কুমার" শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কুমারিনী
  2. কুমারনীকা
  3. কুমারনী
  4. কামারনী
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে '-নি/-নী' প্রত্যয়যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:

যেমন:
→ কামার-কামারনী, 
→ জেলে-জেলেনি, 
কুমার-কুমারনী
→ ধোপা-ধোপানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৫৯.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. ক) গমন
  2. খ) বহর
  3. গ) যৌবন
  4. ঘ) চাল
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ হলো- যৌবন। 

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। 
যেমন- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। 
তদ্রুপ- সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,৪৬০.
নিচের কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. পৃথগন্ন
  3. অনটন
  4. বাগেশ্বরী
ব্যাখ্যা
- 'বাগেশ্বরী' শব্দের শুদ্ধরূপ 'বাগীশ্বরী'।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- বাক্‌ + ঈশ্বরী = বাগীশ্বরী।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৬১.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. তিল
  2. গোলাপ
  3. চলন্ত
  4. ফুল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - চলন্ত।
---------------------- 
• গঠন বিবেচনায় শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত।
যথা:

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: মা, পা, গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৬২.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দূষণীয়
  2. গণনীয়
  3. অসহ্যনীয়
  4. পূজনীয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: অসহ্যনীয়।
শুদ্ধ প্রয়োগ: অসহনীয়/অসহ্য।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- দোষণীয় - দূষণীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- পুজ্যনীয় - পূজনীয়;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৬৩.
উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা ও বিশদ মন্তব্যের আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
ব্যাখ্যা
কোলন (:) যতিচিহ্নের ব্যবহার-
১. বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম পাশ করবই।
২. কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- পদ আট প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, যোজক, অনুসর্গ ও আবেগ শব্দ।
৩. উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা, বিশদ মন্তব্যের আগে কোলন বসে। যেমন- বাড়িতে যেসব জিনিস নিতে হবে: আম, চাল, ডাল, তেল ও দুই গজ সাদা সুতি কাপড়। 
8. নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে-রাজা: কে কোথায় আছ, উজির-নাজির সবাই এসো হাজির হও।
৫. কটা বেজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে কোলন বসে। যেমন- ৭:২০; ১১:৪৫; ১২:০৬।
৬. ধারাবাহিক উপস্থাপনের বেলায়। যেমন- ছবিতে বাম থেকে সফিক, শুভ, মোস্তফা, মলি ও সালমা।
৭. চিঠিপত্র ও বিভিন্ন রকমের ফর্মে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম, পিতার নাম: বিষয় প্রসজ্ঞা, ঠিকানা, তারিখ:।
৮. গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ফেলের হার ৪:৮।
৯. প্রশ্ন রচনায় কোলন বসে। যেমন- টীকা লেখ:। ব্যাখ্যা লেখ:।
১০. ও, রা, এবং-এসব অব্যয় ব্যবহার না করে কোলন ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন- বাংলা নাটক: উৎস ও ধারা।
১১. কোনো উদ্ধৃতির আগে কোলন বসে। যেমন- কবি বলেছেন: 'বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৬৪.
"এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি" বাক্যে 'কোথাও' কোন প্রকার ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. খ) কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. গ) পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  4. ঘ) স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• যে পদ ক্রিয়া কে বিশেষিত করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। যেমন: লোকটি ধীরে হাটে। 

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন -
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -
সে এখন যাবে না।
তিনি বেড়াতে যাননি।
এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন -
কি: আমি কি যাব?
যে: খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪৬৫.
কোন বানানগুচ্ছ শুদ্ধ?
  1. ক) গৃহীতা, আত্মসাৎ, আদ্র,
  2. খ) স্থায়ীভাবে, আয়ত্বধীন, ধূলিসাৎ
  3. গ) কৌতূহল, কৃচ্ছ্রসাধন, ক্বচিৎ
  4. ঘ) মহত্ব, অঙ্গীভূত, পথিকৃত
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বানান- গ্রহীতা, আর্দ্র, স্থায়িভাবে, আয়ত্তাধীন, মহত্ত্ব, পথিকৃৎ।
৩,৪৬৬.
'ফতো নবাব' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. ক) দূর্লভ বস্তু
  2. খ) অকালপক্ক
  3. গ) অমিতব্যয়ী ব্যক্তি
  4. ঘ) নিরেট বোকা
ব্যাখ্যা
'ফতো' শব্দ ব্যঙ্গার্থে পরপুষ্ট বা অন্তঃসারশূন্য এবং নবাব শব্দটি শাসনকর্তা বা রাজপ্রতিনিধি না হয়ে, আরামপ্রিয়, বিলাসপ্রিয় বা অমিতব্যয়ী ব্যক্তি হিসেবে ব্যবহৃত আমাদের প্রবাদে।
অনেকটা পরের ধনে পোদ্দারি করার মতো অবস্থা আর কী!
অর্থের বিচারে এখানে - অমিতব্যয়ী ব্যক্তি সঠিক উত্তর।

উৎস: প্রবাদের উৎস সন্ধান, সমর পাল।
৩,৪৬৭.
"পড়াশুনায় অসম্ভব বলে কিছু নেই।" - বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. পড়াশুনায় সবকিছু সম্ভব তাই কিছুই অসম্ভব নয়।
  2. পড়াশুনায় কিছু অসম্ভব নেই তাই সবকিছু সম্ভব।
  3. পড়াশুনায় যা কিছু আছে তা সবই সম্ভব এবং কিছুই অসম্ভব নয়।
  4. পড়াশুনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে:
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
- সরল বাক্য: পড়াশুনায় অসম্ভব বলে কিছু নেই।
- যৌগিক বাক্য: পড়াশুনায় অনেক কিছু আছে, কিন্তু অসম্ভব বলে কিছু নেই।

- সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
- যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

- সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
- যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৪৬৮.
'বর' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত-প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ-প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত-প্রত্যয়
  4. সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
কৃদন্ত বিশেষণ গঠনে কতিপয় সংস্কৃত কৃৎ-প্রত্যয়:
• ইষ্ণু-প্রত্যয়:
- চল্+ইষ্ণু = চলিষ্ণু।

এরূপ - ক্ষয়িষ্ণু, বর্ধিষ্ণু।

• বর-প্রত্যয়:
- ঈশ্ + বর = ঈশ্বর,
- ভাস্ + বর = ভাস্বর।

এরূপ- নশ্বর, স্থাবর।

• র-প্রত্যয়:
- হিন + স্ + র = হিংস্র,
- নম্ + র = নম্র।

• উক/উক-প্রত্যয়:
- ভু + উক= (ভৌ + উক) = ভাবুক,
- জাগ্‌ + উক = (জাগর + উক) জাগরুক।

• শানচ্-প্রত্যয় ('শ' ও 'চ' ইৎ, 'আন' বিকল্পে 'মান' থাকে):
- দীপ্ + শানচ্ = দীপ্যমান।

এরূপ– √চল্ + শানচ্  = চলমান, বৃধ + শানচ্ = বর্ধমান।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৬৯.
‘কর’ ধাতুর পুরাঘটিত অতীত কালের প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ কোনটি?
  1. করেছিলে
  2. করতে
  3. করিয়েছিলাম
  4. করলাম
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত অতীত কাল: 
- অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীতকাল বলে।
যেমন
- খবরটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া: 
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।

যেমন:
''আমি আরিফকে দিয়ে কাজটি করিয়েছিলাম।" 
- বাক্যটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ। 
- 'করিয়েছিলাম' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া,
- 'করিয়েছিলাম' ক্রিয়াটি কর ধাতু থেকে উৎপন্ন।
- 'আমি' প্রযোজক কর্তা এবং
- 'আরিফকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৭০.
'ক' এবং 'খ'—এই দুটি ধ্বনি নিচের কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘোষ ধ্বনি
  2. উষ্ম ধ্বনি
  3. অঘোষ ধ্বনি
  4. নাসিক্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৪৭১.
'গবেষণা' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গৈ + এষণা
  2. গো + এষণা
  3. গৌ + এষণা
  4. গৈ + ষণা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।

যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৩,৪৭২.
ষ-ত্ব বিধানের ভুল প্রয়োগ হয়েছে নিচের কোনটিতে?
  1. ক) নিষ্পাপ
  2. খ) পাষাণ
  3. গ) ষ্টোর
  4. ঘ) পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
যেসব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে ষ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ষ-ত্ব বিধান।

অপশন ক তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম: ঋ-কারে পরে মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: ঋষি, বৃষ, বৃষ্টি।

অপশন খ তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম:
কোন শব্দে অ/আ স্বরধ্বনি ছাড়া অন্য কোন স্বরধ্বনির পরে ঃ থাকলে এবং তারপর ক, খ, প, ফ থাকলে ঃ এর স্থানে ষ হয়। যেমন:
বহিঃ + কার = বহিষ্কার
নিঃ + পাপ = নিষ্পাপ

অপশন গ তে ষ এর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে। কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়। যেমন: আষাঢ়, নিষ্কর, পাষাণ, ষোড়শ ইত্যাদি। 

অপশন ঘ তে ষ এর ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
নিয়ম বিদেশি শব্দে ষ হয় না। তাই এখানে হবে স্টোর। সুতরাং এটি সঠিক উত্তর।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম-দশম শ্রেণি
৩,৪৭৩.
সন্ধির প্রধান সুবিধা কী?
  1. পড়ার সুবিধা
  2. লেখার সুবিধা
  3. উচ্চারণের সুবিধা
  4. শোনার সুবিধা
ব্যাখ্যা
• সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। 
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। 
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। 
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়। 
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা। 
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪৭৪.
কোনটি দেশী শব্দ?
  1. মরিচ
  2. আচার
  3. ঝোল
  4. হালুয়া
ব্যাখ্যা
• ঝোল (বিশেষ্য পদ)
- এটি দেশি শব্দ।
অর্থ:
- ব্যঞ্জনের ক্বাথ,
- সৃপ।

অন্যদিকে,
• মরিচ সংস্কৃত শব্দ।
• হালুয়া আরবি শব্দ।
•  আচার পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪৭৫.
কোন দুটি বর্ণের পর ‘ণ' ও ‘ষ’ হয়?
  1. ক, র
  2. ত, থ
  3. ঋ, র
  4. ঋ, ত
ব্যাখ্যা

• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন -
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যেমন -
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দে 'র'- এর পর 'ষ' হয়।
যেমন -
- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৪৭৬.
‘ভেদ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) অভেদ্য
  2. খ) অভেদ
  3. গ) বিভেদ
  4. ঘ) বিবাদ
ব্যাখ্যা

ভেদ (বিশেষ্য) : বিদারণ; ছেদন (লক্ষ্যভেদ)।
অভেদ (বিশেষ্য) : ভেদের অভাব।
অভেদনীয়, অভেদ্য (বিশেষণ) : ভেদ করা যায় না এমন।
বিভেদ (বিশেষ্য) : বিভিন্নতা; প্রভেদ; পার্থক্য।
বিবাদ (বিশেষ্য): ঝগড়া; বিরোধ; কলহ।
সুতরাং, ‘ভেদ’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ‘অভেদ’।
সূত্র: বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।

৩,৪৭৭.
তার চোখে ছিল এক _______ স্বপ্নের দীপ্তি।
  1. প্রজ্জ্বলিত
  2. প্রোজ্জ্বলিত
  3. প্রজ্বলিত
  4. প্রোজ্বলিত
ব্যাখ্যা
• এখানে শুদ্ধ বানান হলো- 'প্রজ্বলিত'।

• 'প্রজ্বলিত' শব্দের অর্থ :
- জ্বলছে এমন।

বাক্যটি হবে:
"তার চোখে ছিল এক প্রজ্বলিত স্বপ্নের দীপ্তি।"

তবে, 'প্রোজ্জ্বল' বানানটি শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪৭৮.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) লাল
  3. গ) নাক
  4. ঘ) মানব
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

অপরদিকে,
মনু + অ/ষ্ণ = 'মানব' হলো সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩,৪৭৯.
'মালী' শব্দটি-
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) ক্রিয়া
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মালী (-লিন্‌) [মালি] (বিশেষ্য)
১) মাল্যরচনাকারী; মালাকর।
২) বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি; উদ্যানরক্ষক; উদ্যানপালক।
৩) একটি হিন্দু জাতি।
(বিশেষণ) মালাধারী; মাল্যবিশিষ্ট।
মালিনী (২) (স্ত্রীলিঙ্গ)।
{(তৎসম বা সংস্কৃত) মাল্য+ইন্‌(ইন)}
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

৩,৪৮০.
কোন বর্গের শব্দের আগে কখনো 'ন' হয় না?
  1. ক বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
ব্যাখ্যা
• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে কখনো 'ন' ব্যবহৃত হয় না।
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৪৮১.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
 যেমন:
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।
এরূপ –
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৪৮২.
কালবৈশাখীর ইংরেজি -
  1. ক) Dark Westerlies
  2. খ) West Westerlles
  3. গ) North Westerlies
  4. ঘ) Black Westerlics
ব্যাখ্যা
Northwester (noun) - বায়ুকোণাগত ঝড়; কালবৈশাখী।

North-westerly (noun)
plural noun: north-westerlies
A wind blowing from the north-west; a northwester.

Source: Accessible Dictionary by Bangla Academy & Oxford.
৩,৪৮৩.
"আজকে আমার যাওয়া হবে না।" - বাক্যে 'আজকে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি
  2. কর্ম কারকে ২য়া বিভক্তি
  3. অধিকরণ কারকে ২য়া বিভক্তি
  4. অপাদান কারকে ২য়া বিভক্তি
ব্যাখ্যা

• অধিকরণ কারক:
ক্রিয়ার আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক। আধার বলতে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হওয়ার স্থান, কাল ও ভাবকে বোঝায়। অর্থাৎ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল এবং আধারকে বলা হয় অধিকরণ কারক।
বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথায়, কখন ও কোনো বিষয় বোঝাতে অধিকরণ কারক হয়।
যেমন:
- বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।
- আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক।
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

এরূপ-
- আজকে আমার যাওয়া হবে না।
[বাক্যকে 'কখন দ্বারা 'প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আজকে'। সুতরাং 'আজকে' অধিকরণ কারক। এবং এর সাথে দ্বিতীয়া বিভক্তি।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৪৮৪.
কোনটি অনুকার শব্দ দ্বিত্ব?
  1. চোটপাট
  2. হিহি
  3. ট্যা ট্যা
  4. খক খক
ব্যাখ্যা
অনুকার শব্দ:
- শব্দের অনুকরণে বা বিকারে যেসব শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে অনুকার শব্দ বলে। অনুকার শব্দ ধ্বন্যাত্মক শব্দেরই রকমফের মাত্র।
যেমন:
- আবোলতাবোল,
- কাপড়চোপড়, 
- খাবারদাবার, 
- গোছগাছ, 
- চোটপাট
- জড়সড় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ভেউ ভেউ, 
- হিহি
- ট্যা ট্যা
- গুনগুন,
- খক খক

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৪৮৫.
‘আহা! বেচারার কত কষ্ট।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘আহা’ কোন পদ?
  1. অনুসর্গ
  2. সর্বনাম
  3. আবেগ
  4. যোজক
ব্যাখ্যা
⇒ আবেগ শব্দ: মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে তাকে আবেগ বলে।

নিম্নে বিভিন্ন ধরনের আবেগ শব্দের প্রয়োগ দেখানো হলো:
⇒ অলংকার আবেগ: এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয় অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যাকগে, ওসব কথা থাক। 

⇒ সিদ্ধান্ত আবেগ: এ জাতীয় শব্দের সাহায্যে অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়।
যেমন:
- বেশ, তবে যাওয়াই যাক।
- হুঁ, যুক্তিটা মন্দ মনে হচ্ছে না।

⇒ প্রশংসা আবেগ: এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাহ, চমৎকার লিখেছ।
- শাবাশ! খেলার মতো খেলা দেখালে।

⇒ বিরক্তি আবেগ: এ ধরনের শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছি ছি! এরকম কথা মুখে মানায় না।
- কী জ্বালা! আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব।

⇒ আতঙ্ক আবেগ: এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- উহ! কি বিপদে পরা গেল।
- আহ! কী বিপদ।

⇒ বিস্ময় আবেগ: এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আরে! তুমি আবার কখন এলে?
- অ্যাঁ, বলছ কী?

⇒ করুণা আবেগ: এ ধরনের শব্দ করুণা, মায়া, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- আহা! বেচারার কত কষ্ট।
- হায়! হায়! এখন ওদের কে দেখবে!

⇒ সম্বোধন আবেগ: এ ধরনের শব্দ সম্বোধন বা আহ্বান করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ওগো, তোরা সব জয়ধ্বনি কর।
- ওরে, তুই কোথায় চললি ?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৪৮৬.
'তোমার কথাগুলো অসত্য।' - বাক্যটির জটিল রূপ কী?
  1. তোমার কথাগুলো মিথ্যা, তাই অসত্য।
  2. তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।
  3. তুমি যা বলেছ, তা অসত্য।
  4. তোমার কথা অসত্য কারণ তুমি মিথ্যা বলো।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন-

সরল বাক্য: তোমার কথাগুলো অসত্য।
জটিল বাক্য: তুমি যে কথাগুলো বললে তা অসত্য।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৮৭.
'Affiliation' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো -
  1. আসত্তি
  2. সম্বন্ধীকরণ
  3. সম্বন্ধ
  4. হলফনামা
ব্যাখ্যা
• 'Affiliation' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - সম্বন্ধীকরণ

অন্যদিকে,
- 'Affidavit' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - হলফনামা।
- 'Affiliated' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - সম্বন্ধ।
- 'Affinity' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - সম্পর্ক, আসত্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৪৮৮.
কোনটি দেশি?
  1. ক) খাদি
  2. খ) হরতাল
  3. গ) গুনাহ
  4. ঘ) রুটি
ব্যাখ্যা
‘রুটি’ শব্দটি দেশি। 

তাছাড়া, 
- গুজরাটি : খাদি, হরতাল
- ফারসি- গুনাহ 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
৩,৪৮৯.
'উজ্জ্বল' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উৎ + জল
  2. উত্‌ + জল
  3. উৎ + জ্বল
  4. উজ্‌ + জ্বল
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বল' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'উৎ + জ্বল'।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• 'উজ্জ্বল' শব্দটির সন্ধির নিয়ম:
- ত্‌ ও দ্‌ এরপর জ্‌ ও ঝ্‌ থাকলে ত্‌ ও দ্‌ এর স্থানে জ্‌ হয়।
যেমন,
সৎ + জন = সজ্জন, 
কুৎ + ঝটিকা = কুঝ্বটিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৯০.
খেয়াপার করে যে তাকে বলা হয় -
  1. মাঝি
  2. ঘাটাল
  3. পাটনি
  4. কর্ণধার
ব্যাখ্যা
• 'পাটনি'
- দেশি শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ: 
- খেয়াঘাটের মাঝি।

• 'মাঝি'
- বাংলা শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- নৌকার দাঁড় বাওয়া যার পেশা;
- মৎস্যব্যবসায়ী।

• 'ঘাটাল'
- বাংলা শব্দ।
- বিশেষণ পদ।
অর্থ:
- বন্ধুর;
- অসমতল।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অপশন বিবেচনায় সঠিক উত্তর - পাটনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,৪৯১.
শুদ্ধ বানানে লেখা কোনটি? 
  1. ক) মুর্মুষ
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) মুর্মূষ
  4. ঘ) মুর্মষ
ব্যাখ্যা
মুমূর্ষু (বিশেষণ):
- মরণাপন্ন;
- মৃতপ্রায় 
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৩,৪৯২.
Chancellor এর পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) আচার্য
  2. খ) উপচার্য
  3. গ) অধ্যক্ষ
  4. ঘ) প্রাধ্যক্ষ
ব্যাখ্যা
Chancellor এর পরিভাষা আচার্য,
Vice Chancellor এর পরিভাষা উপাচার্য,
Principal এর পরিভাষা অধ্যক্ষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
৩,৪৯৩.
'কৈশাের’ শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কিশাের + ঙ
  2. খ) কৈশ + ওর
  3. গ) কিশাের + ষ্ণ
  4. ঘ) কৃশ + ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• যে শব্দের সঙ্গে ষ্ণ(অ) প্রত্যয় যুক্ত হয় তার মূল স্বর বৃদ্ধি পায় (বৃদ্ধির নিয়ম: শুরুতে অ, ই/ঈ, উ/উ এবং ঋ থাকলে আ, ঐ, ঔ এবং আর হয়) এবং অন্ত্যস্বরের উ-কার, ও-কারে পরণিত হয়। যেমনঃ
- শিশু + ষ্ণ = শৈশব,
- কিশাের + ষ্ণ = কৈশাের ইত্যাদি।

৩,৪৯৪.
'হাত ধুয়ে বসা'- বাগধারার অর্থ কি?
  1. দায়িত্ব না রাখা
  2. শুরু করা
  3. ভন্ডামী করা
  4. অপেক্ষা করা
ব্যাখ্যা

• ভাষা-শিক্ষা, - ড. হায়াৎ মামুদের বই অনুসারে, 'হাত ধুয়ে বসা'- বাগ্‌ধারাটির অর্থ- 'নিশ্চিন্ত বোধ করা'।
• অভিগম্য অভিধান অনুসারে, 'হাত ধুয়ে বসা'- বাগ্‌ধারাটির অর্থ- আশা ত্যাগ করা।
• সংসদ বাংলা অভিধান অনুসারে, 'হাত ধুয়ে বসা'- বাগ্‌ধারাটির অর্থ- আশা বা সম্পর্ক ত্যাগ করা, দায়িত্ব না নেয়া

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বান্ধারা হলো:
'চুলোয় যাওয়া' বাগধারাটির অর্থ - নষ্ট হওয়া।
'উড়োকথা' বাগধারাটির অর্থ - গুজব।
'উড়োচিঠি' বাগধারাটির অর্থ - বেনামি চিঠি।
'গা ঢাকা দেওয়া' বাগধারাটির অর্থ - পলায়ন করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ভাষা-শিক্ষা, - ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৪৯৫.
কোনটি শুদ্ধ বাক্য?
  1. আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।
  2. কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কৈ।
  3. তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
  4. মাদকাশক্তি ভাল নয়।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কৈ

তাছাড়া,
অশুদ্ধ বাক্য: আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।
শুদ্ধ বাক্য: আমি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। / চাক্ষুস দেখেছি।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দিবেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দিবেন।

অশুদ্ধ বাক্য: মাদকাশক্তি ভাল নয়।
শুদ্ধ বাক্য: মাদকাসক্তি ভাল নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৪৯৬.
'Manifesto' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সারগ্রন্থ
  2. পাণ্ডুলিপি
  3. সংবিধান
  4. ইশতেহার
ব্যাখ্যা
• 'Manifesto' এর পারিভাষিক শব্দ - 'ইশতেহার'।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ হলো:
'Manifesto' - 'ইশতেহার'। 
'Constitution' - 'সংবিধান'।
'Constituency' - 'নির্বাচনী এলাকা/  নির্বাচকমণ্ডলী'।
'Manuscript' - 'পাণ্ডুলিপি'।
'Deceit' - 'প্রতারণা'। 
'Manual’ - 'সারগ্রন্থ'।
‘Memorandum’ - 'স্মারকলিপি'।
'Gazette' - 'ঘোষণাপত্র'। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,৪৯৭.
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি: যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌] এবং [ও্‌]।

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না। যেমন –
'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌]। এখানে (আ) হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩,৪৯৮.
'হস্তী' শব্দটির বহুবচন-
  1. হস্তীসব
  2. হস্তীযূথ
  3. হস্তীসকল
  4. হস্তীবর্গ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হস্তী' শব্দটির বহুবচন - হস্তীযূথ।
- যূথ- বহুবচন বোধক শব্দটি 'হস্তী' শব্দটির পর বসবে।

• পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করেছে।
- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৪৯৯.
'গৃহোর্দ্ধ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গৃহ + ঊর্ধ্ব
  2. গৃহ + উর্ধ
  3. গৃহো + ঊর্ধ
  4. গৃহা + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়,
- যথা + উচিত = যথোচিত,
- গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্দ্ধ,
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৫০০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ নয়?
  1. ইহার আবশ্যকতা নাই।
  2. অতিলোভে তাতী নষ্ট। 
  3. অপমানিত হবার ভয় নেই।
  4. সভায় অনেক ছাত্র এসেছিল।
ব্যাখ্যা
'অতিলোভে তাতী নষ্ট।' বাক্যটি অশুদ্ধ।

শুদ্ধরূপ: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট - এটি একটি বহুল প্রচলিত প্রবচন।
এই প্রবচনটির মূল অর্থ হলো বেশি লোভ করা একদমই ভালো নয়।


[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ]