ব্যাখ্যা
অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ-- শুদ্ধ শব্দ:
মনযোগ- মনোযোগ,
ভৌগলিক - ভৌগোলিক,
ঐক্যতা- ঐক্য/ একতা।
উৎস: বাঙ্গালা ব্যাকরণ- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৩২ / ৩৫৪ · ৩,১০১–৩,২০০ / ৩৫,৭১৩
সঠিক উত্তর — ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ।
---------------
ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।
নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে, দ্রুত, ধীরে — শব্দগুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।
প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “গাড়িটি দ্রুত চলে গেল।”
— ‘দ্রুত’ শব্দের অর্থ হলো — ‘শীঘ্র’ বা ‘তাড়াতাড়ি’। এটি বাক্যে ‘চলে গেল’ ক্রিয়াটির গতি বা পদ্ধতি বর্ণনা করছে।
এ বাক্যে, ‘দ্রুত’ — ক্রিয়া ‘চলে গেল’- এর গুণ বা অবস্থা বিশেষিত করছে, যা ক্রিয়া-বিশেষণের বৈশিষ্ট্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• "Coast" এর সঠিক বাংলা পরিভাষা - উপকূল।
অন্যদিকে,
Cost - মূল্য।
Copy - প্রতিলিপি।
Colony - উপনিবেশ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
• জিজীবিষা (বিশেষ্য):
অর্থ -
১. বেঁচে থাকার ইচ্ছা;
২. জীবনের আকাঙ্খা (তখনকার মরণাতঙ্ক নিরুপম জিজীবিষার উত্তরসাক্ষ্য নয়-সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)।
জিজীবিষু (বিশেষণ): বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সূত্র:
• আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।
অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।
ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন:
- 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ।
• প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়।
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ।
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।
• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।
অন্যদিকে,
• 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হৃতভুক, পিঙ্গল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, জগন্ন, সপ্তাংশু, হবিরশন, সর্বভুক।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
• অশুদ্ধ- ত্রিনয়ণ।
-----------------
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।
• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
ক + ষ = ক্ষ
হ্ + ম = হ্ম
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০২১)
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অজর' শব্দের অর্থ- বার্ধক্যরহিত।
ব্যাখ্যা:
‘অজর’ শব্দের অর্থ — ‘যা জরা বা বৃদ্ধত্ব দ্বারা অস্পৃষ্ট’, অর্থাৎ ‘যে বার্ধক্যজনিত ক্ষয় বা জরায় আক্রান্ত হয় না, অর্থাৎ চিরযৌবনসম্পন্ন'। এর বিপরীত অর্থ হবে এমন কিছু যা বৃদ্ধত্ব বা জরাগ্রস্ততার সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘বার্ধক্য’ শব্দটির অর্থ ‘বৃদ্ধাবস্থা’ বা ‘জরা’, যা ‘অজর’-এর সরাসরি বিপরীত।
অপশন বিশ্লেষণ:
ক) অমলিন: এর অর্থ 'নির্মল' বা 'পরিষ্কার'। এটি 'অজর'-এর বিপরীত নয়, বরং 'মলিন'-এর বিপরীত।
খ) বার্ধক্য: এর অর্থ 'বৃদ্ধাবস্থা' বা 'জরা'। এটি 'অজর'-এর সরাসরি বিপরীত, কারণ 'অজর' হলো জরার অভাব, আর 'বার্ধক্য' হলো জরার অবস্থা।
গ) অমর: এর অর্থ 'যার মৃত্যু নেই'। এটি 'অজর'-এর সমার্থক বা নিকটবর্তী (যেমন, অমরত্বের ধারণা), কিন্তু বিপরীত নয়। 'অজর' বিশেষভাবে বার্ধক্যের ক্ষয়কে নির্দেশ করে, মৃত্যুকে নয়।
ঘ) ব্যাধিগ্রস্ত: এর অর্থ 'রোগাক্রান্ত'। এটি 'অজর'-এর বিপরীত নয়, কারণ 'অজর' রোগের পরিবর্তে বার্ধক্যের ক্ষয়হীনতাকে বোঝায়।
সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) বার্ধক্য।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• কিশমিষ -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - কিশমিশ।
• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন।
উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।
কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্ > ধর (ধরা অর্থে)
উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্ + আ ; খেচর = খ + √চর্ + অ।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ : অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা , ইদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার (কুম্ভ করে যে], জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর৷
উৎসঃ ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ
কুসুমকোমল = কুসুমের ন্যায় কোমল; উপমান কর্মধারয় সমাস।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- চরণপদ্ম, করকমল, বাহুলতা উপমিত কর্মধারয় সমাস।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা বই।
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'মনীষা' শব্দের অর্থ নয় 'অলস'।
• মনীষা [ মনস্ + ঈষা]
অর্থ:
- প্রজ্ঞা;
- প্রতিভা;
- বুদ্ধি;
- মনন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান। যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।
সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
• ‘ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।’— বাক্যটিতে ‘গান শেখায়’ বৈষয়িক অধিকরণ।
----------------------------------------
• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
- যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।
• ঐকদেশিক অধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।
• অভিব্যাপক অধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।
• বৈষয়িক অধিকরণ:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের পুলিশরা সাহসে দুর্জয়।
উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• 'Assassination' শব্দটির বাংলা পরিভাষা - গুপ্তহত্যা।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Bank rate- ব্যাংক হার,
- Bankrupt- দেউলিয়া,
- Badge- তকমা,
- Background- পটভূমি,
- Attestation- সত্যায়ন,
- Assembly- পরিষদ,
- Assessment- নির্ধারণ, কর নির্ধারণ,
- Asylum- আশ্রয়,
- Attachment- ক্রোক.
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, অভিগম্য অভিধান।
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- লোক মুখে শুনেছি।
- ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।
এখানে উভয় বাক্যেই 'মুখ' শব্দটি অপাদান কারক। আর সাথে 'এ' বিভক্তি। 'এ' হলো সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক'।
• মাধ্যমিক (বিশেষণ):
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক।
অর্থ:
- মধ্যবর্তী,
- মধ্যস্থ,
- মধ্যম সম্পর্কিত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।