বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

মোট প্রশ্ন৩৫,৭১৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ

PrepBank · পাতা ৩২ / ৩৫৪ · ৩,১০১৩,২০০ / ৩৫,৭১৩

৩,১০১.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. মনযোগ
  2. ভৌগলিক
  3. ঐক্যতা
  4. যদ্যপি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'যদ্যপি'- শুদ্ধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। 

অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ:

অশুদ্ধ শব্দ-- শুদ্ধ শব্দ:
মনযোগ- মনোযোগ, 
ভৌগলিক - ভৌগোলিক, 
ঐক্যতা- ঐক্য/ একতা। 

উৎস:  বাঙ্গালা ব্যাকরণ- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১০২.
নিচের কোনটি সমাস সাধিত শব্দ?
  1. অপুত্রক
  2. ফাজলামো
  3. ভাদরিয়া
  4. মানব
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস:
- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোন পদকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
- বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
যেমন:
- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক,
- নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, 
- নাই পুত্র যার = অপুত্রক, 
- স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক,
- জনের মুখ হতে শ্রুত যা = জনশ্রুতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ফাজিল + আমো = ফাজলামো, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- ভাদর + ইয়া = ভাদরিয়া, তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।
- মনু + ষ্ণ = মানব তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১০৩.
বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি নয় কোনটি?
ব্যাখ্যা
• অর্ধস্বরধ্বনি: 
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।

বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
[ই], [উ], [এ] এবং [ও]।

- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবেই দীর্ঘ করা যায় না। 

অন্যদিকে,
- [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১০৪.
‘অক্ষয়কীর্তি’ কোন সমাস?
  1. অব্যয়ীভাব
  2. বহুব্রীহি
  3. কর্মধারয়
  4. তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস:
- বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়  তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। 
যেমন, 
- ক্ষুধিত-পাষাণ =ক্ষুধিত যে পাষাণ।
- অক্ষয়কীর্তি = অক্ষয় যে কীর্তি। 
- অর্ধপথ = অর্ধ যে পথ।
- খাসমহল = খাস যে মহল। 
- নবান্ন = নব যে অন্ন। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৩,১০৫.
"গাড়িটি দ্রুত চলে গেল।" - এখানে 'দ্রুত' কোন ধরনের পদ?
  1. ক্রিয়া  
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ 
  4. অব্যয় 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর — ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ।
---------------

ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে, দ্রুত, ধীরে — শব্দগুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

প্রশ্নে দেওয়া বাক্যটি হলো: “গাড়িটি দ্রুত চলে গেল।”
 — ‘দ্রুত’ শব্দের অর্থ হলো — ‘শীঘ্র’ বা ‘তাড়াতাড়ি’। এটি বাক্যে ‘চলে গেল’ ক্রিয়াটির গতি বা পদ্ধতি বর্ণনা করছে।
এ বাক্যে, ‘দ্রুত’ — ক্রিয়া ‘চলে গেল’- এর গুণ বা অবস্থা বিশেষিত করছে, যা ক্রিয়া-বিশেষণের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১০৬.
তুর্কি শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. সওগাত
  2. চাহিদা
  3. বদমাশ
  4. হরতাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’সওগাত’ তুর্কি ভাষার শব্দ:


অন্যদিকে,
• ফারসি ভাষা থেকে আগত  শব্দ: বদমাশ।
• গুজরাটি শব্দ:  হরতাল।
• বাংলা শব্দ:  চাহিদা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১০৭.
'ইংরেজি' শব্দটি উৎসগত দিক দিয়ে কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ওলন্দাজ
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) তুর্কি
ব্যাখ্যা
ইংরেজি (ইংরেজি)
- বিশেষ্য 
- উৎসগত দিক দিয়ে পর্তুগিজ শব্দ। 
অর্থ = ইংরেজদের ভাষা 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,১০৮.
'Consciousness' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. সচেতন
  2. অবচেতন
  3. চেতনা
  4. সজাগ
ব্যাখ্যা
• 'Consciousness' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - চেতনা।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- 'Unconscious' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - অচেতন।
- 'Conscious' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - সচেতন। 
- ‘Subconscious' শব্দটির বাংলা পারিভাষিক শব্দ হলো - অবচেতন।
- ‘Wakeful/Awake/Vigilant/Aware/Conscious’ শব্দের পারিভাষিক শব্দ - সজাগ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,১০৯.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. দিঙ্‌নির্ণয়
  2. তফাত
  3. দিক্‌ভ্রম  
  4. তদনুসারে
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বানান- দিক্‌ভ্রম।   

• শুদ্ধ বানান: দিগ্‌ভ্রম। 
বিশেষ্য পদ। 
সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- দিক নিরূপণে ভ্রান্তি।

• দিঙ্‌নির্ণয়, তফাত ও তদনুসারে শব্দের বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১১০.
"Coast" এর সঠিক বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উপনিবেশ
  2. প্রতিলিপি
  3. উপকূল
  4. মূল্য
ব্যাখ্যা

• "Coast" এর সঠিক বাংলা পরিভাষা - উপকূল

অন্যদিকে,
Cost - মূল্য।
Copy  - প্রতিলিপি।
Colony - উপনিবেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

৩,১১১.
'মন্বন্তর' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. মনন + অন্তর
  2. মনু + অন্তর
  3. মনা + অন্তর
  4. মন + অন্তর
ব্যাখ্যা
• 'মন্বন্তর' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - মনু + অন্তর

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- উ + অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প, মনু + অন্তর = মন্বন্তর
- উ + আ = ব + আ; সু + আগত = স্বাগত।
- উ + ই = ব + ই; অনু + ইত = অন্বিত।
- উ + ঈ = ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।
- উ + এ = ব + এ; অনু + এষণ – অন্বেষণ।

এরূপ- পশ্বধম, পশ্বাচার, অন্বয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ;বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১১২.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বহ্নি
  2. অনল
  3. বিভাবসু
  4. হুতাশন
ব্যাখ্যা
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু

অন্যদিকে,
'আগুন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- অগ্নি, অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১১৩.
'জিজীবিষা' শব্দটি দিয়ে কী নির্দেশ করে?
  1. জীবন-জীবিকার পথ
  2. জয়ের ইচ্ছা
  3. বেঁচে থাকার ইচ্ছা
  4. যুদ্ধ করার ইচ্ছা
ব্যাখ্যা

• জিজীবিষা (বিশেষ্য):
অর্থ -
১. বেঁচে থাকার ইচ্ছা;
২. জীবনের আকাঙ্খা (তখনকার মরণাতঙ্ক নিরুপম জিজীবিষার উত্তরসাক্ষ্য নয়-সুধীন্দ্রনাথ দত্ত)।

জিজীবিষু (বিশেষণ): বেঁচে থাকতে ইচ্ছুক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১১৪.
নিচের কোনটিতে বিসর্গ 'র' হয়ে যায়?
  1. ক) দুষ্কর
  2. খ) আশীর্বাদ
  3. গ) নীরব
  4. ঘ) পুরস্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি।
• বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যোগ = মনোযোগ, তিরঃ+ধান = তিরোধান, তপঃ+বন = তপোবন।
• বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ।
• বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার।
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রোগ = নীরোগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১১৫.
'চাকর' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. চাকরানী
  2. চাকরনী
  3. চাকরাণী
  4. চাকরানি
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
• আনী-প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
- ঠাকুর-ঠাকুরানী,
- নাপিত-নাপিতানী,
- মেথর-মেথরানী,
- চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,১১৬.
'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ - 
  1. বিভাবসু
  2. সুধাকর
  3. তপন
  4. সবিতা
ব্যাখ্যা

'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ: 
- চন্দ্র, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, বিধু, সোম, নিশাকর, সুধাংশু, সুধাকর, ইন্দু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক।

অন্যদিকে,
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৩,১১৭.
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে কী বলে?
  1. উপসর্গ
  2. অনুসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ-
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন-
সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সাধারণ অনুসর্গ, 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলা হয়।
যেমন,
উপরে- মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে- কার কাছে গেলে জানা যাবে?

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন,
করে- ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে- মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
-----------------
অন্যদিকে,

• প্রত্যয়:
যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।

• উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
- অজানা (অ+জানা), অভিযোগ (অভি+যোগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ', 'অভি', 'বে' হলো উপসর্গ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১১৮.
'Retrospective' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. সারসংকলন
  2. সংবহনতন্ত্র
  3. ভূতাপেক্ষ
  4. রেখাবন্ধনী
ব্যাখ্যা
• 'Retrospective' এর বাংলা পরিভাষা — 'ভূতাপেক্ষ'।

অন্যদিকে,
• Resume - সারসংকলন;
• Vascular system - সংবহনতন্ত্র;
• Vinculum - রেখাবন্ধনী।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,১১৯.
বাংলায় কবিতায় ব্যবহৃত ছন্দ কয় ভাগে বিভক্ত?
ব্যাখ্যা
⇒ ছন্দ:
- ছন্দ কাব্যের গতিসৌন্দর্য বিধায়ক একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্মাণকৌশল।
- হাজার বছর ধরে বিচিত্র আবেগ, অনুভূতি ও বিষয়ভাবনা দ্বারা পরিপুষ্ট বাংলা কাব্যের গতিময় নান্দনিক সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কবিরা বহুবিধ ছন্দের নির্মাণ ও বিকাশ সাধন করেছেন।
- ভারতবর্ষে ছন্দচর্চার ইতিহাস অনেক প্রাচীন।
 - সুদূর অতীতে বৈদিক ভাষা ও সাহিত্য (খ্রি.পূ ২৫০০-৯০০ অব্দ) চর্চার সময়কাল থেকেই ভারতবর্ষে কাব্যের প্রধান উপাদানরূপে ছন্দের চর্চা হয়ে আসছে।

- বাংলায় কবিতায় ব্যবহৃত ছন্দ প্রধানত তিন প্রকার।
যেমন:
১) স্বরবৃত্ত,
২) অক্ষরবৃত্ত ও 
৩) মাত্রাবৃত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১২০.
'অণু - অনু' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মেঘ - কণা
  2. পানি - ক্ষুদ্রতম অংশ
  3. ক্ষুদ্রতম অংশ - পশ্চাৎ
  4. পশ্চাৎ - পানি
ব্যাখ্যা
• 'অণু' শব্দের অর্থ - ক্ষুদ্রতম অংশ। 
• 'অনু' শব্দের অর্থ - পশ্চাৎ। 

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হলো-
• অনিষ্ট - ক্ষতি। 
• অনিষ্ঠ - নিষ্ঠাহীন। 

• অন্ত্য - শেষ। 
• অন্তঃ - ভিতর। 

• অন্ন - ভাত। 
• অন্য - অপর। 

• অন্যান্য - অপরাপর। 
• অনন্য - একক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,১২১.
স্পর্ধা˃ আস্পর্ধা- এখানে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) আদি স্বরাগম
  2. খ) মধ্য স্বরাগম
  3. গ) বিপ্রকর্ষ
  4. ঘ) অন্ত্য স্বরাগম
ব্যাখ্যা
শব্দের আদিতে বা শুরচতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলা হয় আদি স্বরাগম। যেমন, ‘স্কুল’ শব্দটি উচ্চারণের সুবিধার জন্য শুরচতে ‘ই’ স্বরধ্বনি যুক্ত হয়ে ‘ইস্কুল’ হয়ে গেছে। এটি আদি স্বরাগম। এরকম- স্টেশন˃ ইস্টিশন, স্ট্যাবল˃ আস্তাবল, স্পর্ধা˃ আস্পর্ধা।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩,১২২.
উত্তর শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ক) উদীচী
  2. খ) বীচি
  3. গ) গগন
  4. ঘ) জঠর
ব্যাখ্যা
উত্তর শব্দের সমার্থক শব্দ হলো উদীচী, জবাব, মীমাংসা ইত্যাদি। অন্যদিকে বীচি অর্থ ঢেউ। জঠর অর্থ পেট বা উদর এবং গগন অর্থ আকাশ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১২৩.
বাক্যের বর্গ কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
বাক্যের বর্গ চার প্রকার। 
যথা :
ক. বিশেষ্যবর্গ
খ. বিশেষণবর্গ
গ. ক্রিয়াবিশেষ্যবর্গ
ঘ.ক্রিয়াবর্গ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১২৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) কাহিনী
  2. খ) কাহীনি
  3. গ) কাহীনী
  4. ঘ) কাহিনি
ব্যাখ্যা
কাহিনি (বিশেষ্য)
হিন্দি শব্দ কাহানি থেকে আগত।
অর্থ:
- গল্প,
- উপন্যাস, 
- বৃন্তান্ত ও বিবরণ,
- আখ্যান।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,১২৫.
'আমির' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
  1. বিত্তবান
  2. নকল
  3. গরিব
  4. প্রশংসা
ব্যাখ্যা
• 'আমির' এর বিপরীতার্থক শব্দ - গরিব

উল্লেখ্য,
'আমির' শব্দের অর্থ - বিত্তবান বা ধনী ব্যক্তি, উচ্চপদস্থ কর্মচারী।

অন্যদিকে,
আসল - নকল।
ঈর্ষা - প্রীতি/প্রশংসা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১২৬.
উপসর্গ কোন ধরনের শব্দাংশ?
  1. সর্বনাম 
  2. ক্রিয়া 
  3. অব্যয়
  4. বিশেষণ 
ব্যাখ্যা

• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এমন কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ রয়েছে, যা স্বাধীন পদ হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হতে পারে না।
- এগুলো অন্য শব্দের আগে বসে। এর প্রভাবে শব্দটির কয়েক ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়।
যেমন:
১. নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়।
২. শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধিত হয়।
৩. শব্দের অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে।
৪. শব্দের অর্থের সংকোচন ঘটে। এবং
৫. শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটে।

ভাষায় ব্যবহৃত এসব অব্যয়সূচক শব্দাংশেরই নাম উপসর্গ।
যেমন:
- 'কাজ' একটি শব্দ। এর আগে 'অ' অব্যয়টি যুক্ত হলে হয় 'অকাজ'- যার অর্থ নিন্দনীয় কাজ।
- এখানে অর্থের সংকোচন হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,১২৭.
নিচের কোনটি পুংলিঙ্গ?
  1. শিশু
  2. মানুষ
  3. বিদ্বান
  4. বাঙালি
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে-
ক) পুংলিঙ্গ,
খ) স্ত্রীলিঙ্গ,
গ) ক্লীবলিঙ্গ ও
ঘ) উভয়লিঙ্গ।

• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, বিদ্বান, প্রবীণ, সুন্দর ইত্যাদি।

• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, বিদুষী, প্রবীণা ইত্যাদি।

• ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিশু, মানুষ, বাঙালি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১২৮.
'চিনিপাতা' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. বহুব্রীহি সমাস
  3. দ্বিগু সমাস
  4. কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
- ছেলেকে ভুলানাে = ছেলেভুলানাে।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
- মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা।
- চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ।
যেমন:
- গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি।
- তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১২৯.
'চশমা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কী
ব্যাখ্যা
• চশমা (বিশেষ্য)
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।

• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
- গ্রেপ্তারি,
- গ্রেফতার,
- দারোগা,
- খোয়াব,
- চেহারা,
- কাগজ,
- চাকর,
- চারপায়,
- ছয়লাপ, 
- লুঙ্গি,
- দারোয়ান,
- সাদা,
- আসমান,
- কাজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৩০.
কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. অগুরু > অগ্রু
  2. শ্লোক > শােলােক
  3. সুবর্ণ > স্বর্ণ
  4. সাধু > সাউধ
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই  - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সম্প্রকর্ষ - অগুরু > অগ্রু, সুবর্ণ > স্বর্ণ।
• অপিনিহিতি - সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৩১.
নিচের কোনটি প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. নদী বহে। 
  2. আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম।
  3. জাদুকর জাদু দেখায়।
  4. বাতাস হু-হু করে বইছে। 
ব্যাখ্যা

জাদুকর জাদু দেখায়- প্রযোজক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

প্রযোজক ক্রিয়া:
- প্রযোজক ক্রিয়া হলো সেই ক্রিয়া যা একজনের প্রযোজনায় বা চালনায় অন্য কর্তৃক সম্পন্ন হয়।
- সংস্কৃত ব্যাকরণে এই ক্রিয়াকে ণিজন্ত ক্রিয়াও বলা হয়।
- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে ‘জাদু দেখায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
- কারণ জাদুকর নিজে জাদু হয় না, বরং দর্শককে জাদু দেখায়।
- প্রযোজক কর্তা হলো যে ব্যক্তি ক্রিয়াটি প্রযোজনা করছে।
- আর প্রযোজ্য কর্তা হলো যার মাধ্যমে ক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে।
- উদাহরণস্বরূপ- জাদুকর জাদু দেখায়- এই বাক্যে-
- প্রযোজক কর্তা: জাদুকর;
- প্রযোজ্য কর্তা: দর্শককে (অপ্রকাশিত/উহ্য);
- প্রযোজক ক্রিয়া: জাদু দেখায়। 
--------------------------------------------------
অন্যদিকে,
• নদী বহে- অকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।

• 'আমরা জাদুঘর দর্শন করলাম'- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ। 
- মিশ্র ক্রিয়া হলো এমন ক্রিয়া যা বিশেষ্য, বিশেষণ অথবা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে ‘কর’, ‘হ’, ‘দে’, ‘পা’, ‘গাও’, ‘কাট্’ প্রভৃতি ধাতু বা মূল ক্রিয়ার সংযোগে সৃষ্টি হয়।

• বাতাস হু-হু করে বইছে- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- যৌগিক ক্রিয়া বলতে সেই ক্রিয়াকে বোঝায়, যা একটি অসমাপিকা ক্রিয়া এবং একটি সমাপিকা ক্রিয়ার মিলনে গঠিত হয় এবং একসঙ্গে একটি সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ);
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,১৩২.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ধ্যাণধারণা
  2. ধ্যাণধারনা
  3. ধ্যানধারণা
  4. ধ্যানধারনা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান: ধ্যানধারণা
- শব্দটি বিশেষ্য।
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: ধ্যান + ধারণা।
- অর্থ: একাগ্র চিন্তা ও বিশ্বাস।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৩৩.
কোন ভাষার সাহিত্যের গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়?
  1. চলতি ভাষায়
  2. কথ্য ভাষায়
  3. আঞ্চলিক ভাষায়
  4. সাধু ভাষায়
ব্যাখ্যা
সাধু রীতিতে 'তৎসম' শব্দের ব্যবহার বেশি হয়। 
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস: অষ্টম শ্রেণির ব্যকরণ বই।
৩,১৩৪.
ভাবাধিকরণ কারকে সর্বদাই কোন বিভক্তির প্রয়োগ হয়?
  1. পঞ্চমী
  2. ষষ্ঠী
  3. সপ্তমী
  4. চতুর্থী
ব্যাখ্যা

ভাবাধিকরণ কারক:
- যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনোরূপ ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তবে তাকে ভাবাধিকরণ বলে।
- ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ‘ভাবে সপ্তমী’ বলা হয়।
যেমন-
সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।
কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৩৫.
'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. বায়ুসখ
  2. সর্বভুক
  3. কৃশানু
  4. প্রভাকর
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
রবি, তপন, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, সবিতা, প্রভাকর, দিবাকর, বিভাবসু, দিনমণি, মার্তণ্ড, অংশুমালী, অরুণ।

​অন্যদিকে, 
• ​'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, কৃশানু, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হৃতভুক, পিঙ্গল, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখ, জগন্ন, সপ্তাংশু, হবিরশন, সর্বভুক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,১৩৬.
প্রগত সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. লাল > নাল
  2. বিদ্যা > বিজ্জা 
  3. লগ্ন > লগ্গ
  4. রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
• সমীভবন (Assimilation):
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জম্ম; কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন: চক্র > চক্ক; পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য; তৎ + হিত > তদ্ধিত; উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

• অন্যান্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যান্য সমীভবন।
যেমন: সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ; সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
- শরীর > শরীল, 
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৩৭.
সন্ধির সূত্র কাজে লাগে কখন?
  1. ক) সমাস প্রক্রিয়ায়
  2. খ) প্রত্যয় প্রক্রিয়ায়
  3. গ) উপসর্গ প্রক্রিয়ায়
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷ সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
* তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা। 
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- যেমন আমি এখন চা আনতে যাই বাংলা ভাষার এই বাক্যটিকে সন্ধির সূত্র মনুযায়ী ‘আম্যেখন চানতে যাই বলা যায় না।
- তবে বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৩৮.
'রাজা' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) মৃগেন্দ্র
  2. খ) নরেন্দ্র
  3. গ) নৃপেন্দ্র
  4. ঘ) শাসক
ব্যাখ্যা
রাজা শব্দের সমার্থক শব্দ হলো নরেন্দ্র, নৃপেন্দ্র, শাসক, বাদশাহ, নরপতি, ভূপতি, নৃপতি ইত্যাদি। অন্যদিকে মৃগেন্দ্র অর্থ সিংহ। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৩,১৩৯.
"কুসুমকোমল" শব্দটি কোন ধরনের সমাসের উদাহরণ? 
  1. উপমিত কর্মধারয়
  2. উপমান কর্মধারয়
  3. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• উপমান কর্মধারয় সমাস:
যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তা উপমান। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমানের সঙ্গে গুণবাচক শব্দের সমাস হয়। এগুলোকে উপমান কর্মধারয় বলে।
যেমন:
- কাজলের মতো কালো = কাজলকালো,
- শশের মতো ব্যস্ত = শশব্যস্ত,
- কুসুমের ন্যায় কোমল = কুসুমকোমল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩,১৪০.
"আমার যাওয়া হয়নি" এখানে আমার -
  1. কর্তায় ষষ্ঠী
  2. কর্তায় শূন্য
  3. কর্মে শূন্য
  4. কর্মে ষষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• কর্তৃকারক:
- বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলে।
- ক্রিয়াকে ‘কে/ কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তৃকারক। (কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের বাক্যে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।)

• 'আমার যাওয়া হয়নি'- বাক্যটিতে 'আমার' কর্তৃকারকে ৬ষ্ঠী বিভক্তি। 
-  ‘আমা’  শব্দে ৬ষ্ঠী বিভক্তি ‘র’ ব্যবহৃত হয়ে ‘আমার’ শব্দটি গঠিত হয়েছে।
 
কর্তৃকারকে বিভক্তির প্রয়োগের উদাহরণ-
- রাখাল গরু চড়ায়।- কর্তৃকারকে শূন্য বিভক্তি।
- মামাকে ডাকতে হবে।- কর্তৃকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি।
- রহিমকে দিয়ে এ কাজ হবেনা।- কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি।
- আমা হতে এমন কিছু আশা করা ঠিক হবেনা।-  কর্তৃকারকে পঞ্চমী বিভক্তি। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩,১৪১.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. তওবা
  2. তসবি
  3. হাদিস
  4. বেগম
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'হাদিস' ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ


- অর্থ:
- হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর দর্শন ও নির্দেশসংবলিত সংকলনগ্রন্থ।

অন্যদিকে,
- 'তওবা' ও 'তসবি' আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
- 'বেগম' তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩,১৪২.
'আফতাব' শব্দের সমার্থক শব্দ, কোনটি?
  1. অর্ণব
  2. রাতুল
  3. অর্ক
  4. জলধি
ব্যাখ্যা
• 'আফতাব' এর সমার্থক শব্দ - অর্ক।

• ‘সূর্য’ এর সমার্থক শব্দ:
- অর্ক,
- আফতাব,
- আদিত্য,
- মিহির,
- অরুণ,
- রবি,
- তপন,
- মার্তণ্ড,
- সবিতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অর্ণব 'জলধি' হলো সমুদ্র শব্দের সমার্থক শব্দ।
রাতুল‘ শব্দের সমার্থক শব্দ - রক্ত বর্ণ, লাল।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৪৩.
'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? কোন ধরণের উক্তি?
  1. প্রশ্নবোধক
  2. প্রত্যক্ষ
  3. পরোক্ষ
  4. পুনরুক্ত
ব্যাখ্যা
• উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৪৪.
কোনটি সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ?
  1. মাসি-পিসি
  2. স্বর্গ-নরক
  3. কাপড়-চোপড়
  4. যাওয়া-আসা
ব্যাখ্যা
দ্বন্দ্ব সমাস:
- যে সমাসে প্রত্যেক সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।

প্রায় সমার্থক ও সহচর শব্দযোগে দ্বন্দ্ব সমাস:
যেমন:
- দয়া-মায়া,
- কাপড়-চোপড়,
- পোকা-মাকড়,
- দয়া-মায়া,
- ধূতি-চাদর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'যাওয়া-আসা' দুটি ক্রিয়াযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'স্বর্গ-নরক' বিরোধার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।
- 'মাসি-পিসি' মিলনার্থক' শব্দযোগে গঠিত দ্বন্দ্ব সমাস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,১৪৫.
কোন উপসর্গটি 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উপনেতা
  2. উপভোগ
  3. উপগ্রহ
  4. উপসাগর
ব্যাখ্যা
• উপভোগ শব্দে 'উপ' উপসর্গ 'বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
উপনেতা, উপসাগর, উপগ্রহ শব্দে 'উপ' উপসর্গ 'ক্ষুদ্র' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৪৬.
“ঝির ঝির”, “টাপুর টুপুর” — এই শব্দগুলো কী নির্দেশ করে?
  1. অনুভূতি বা ভাব
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা
অব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিরুক্তি বোঝাতে:

ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ। 

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৮)।
৩,১৪৭.
'কর্ম' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) কৃ+ম
  2. খ) কৃ+মন্‌
  3. গ) √কৃ+ম
  4. ঘ) √কৃ+মন্‌
ব্যাখ্যা
কর্ম (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ। 
- সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = √কৃ+মন্‌ 
অর্থ: 
- যা করা হয়, কাজ, ক্রিয়া, অনুষ্ঠান।
- সার্থকতা, উপযোগিতা। 
- জীবিকা, বৃত্তি।
- কারকবিশেষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,১৪৮.
‘মূঢ়তা' শব্দের অর্থ কী?
  1. ক) দৃঢ়তা
  2. খ) অনভিজ্ঞতা
  3. গ) গোপনীয়তা
  4. ঘ) বাস্তবতা
ব্যাখ্যা
‘মূঢ়' শব্দটি বিশেষণ 
‘মূঢ়' শব্দের অর্থ: মূর্খ, অবিবেচক, নিষ্ক্রিয়
‘মূঢ়' শব্দের বিশেষ্য রূপ হলো 'মূঢ়তা' 
কাছাকাছি অর্থ হিসেবে 'অনভিজ্ঞতা' কে উত্তর হিসেবে নেয়া যেতে পারে। 

[উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান]
৩,১৪৯.
‘যে রূপ ইচ্ছা’ এক কথায় বলে-
  1. দিদৃক্ষা
  2. সিসৃক্ষা
  3. যদৃচ্ছা
  4. রিরংসা
ব্যাখ্যা
• ‘যে রূপ ইচ্ছা’ এক কথায় বলে = যদৃচ্ছা।

অন্যদিকে,
• ‘সৃষ্টি করার ইচ্ছা’ এক কথায় বলে = সিসৃক্ষা।
• ‘দেখবার ইচ্ছা’ এক কথায় বলে = দিদৃক্ষা।
• ‘রমণের ইচ্ছা’ এক কথায় বলে = রিরংসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৫০.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. কলম
  2. কফিন
  3. কার্পেট
  4. চশমা
  5. আসবাব
ব্যাখ্যা
• ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ইংরেজি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এফিডেভিট, এপ্রিল, এমডি, এয়ারপোর্ট, কনফারেন্স, কফিন, কমিটি, ক্যাবিন, ডজন, ডলফিন, তার্পিন।

• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৫১.
‘আকাশ’ কোন ধরনের বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. জাতি-বিশেষ্য
  2. সমষ্টি-বিশেষ্য
  3. বস্তু-বিশেষ্য
  4. গুণ-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘আকাশ’ বস্তু-বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:

যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৫২.
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ঙ্‌ + ক = ঙ্ক
  2. থ + ঊ = ত্থ
  3. ঙ্‌ + গ = ঙ্গ
  4. ক্‌ + র = ক্র
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ- থ + ঊ = ত্থ
- এর শুদ্ধরূপ- ত্ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
ক্‌ + র = ক্র,  
ঙ্‌ + ক = ঙ্ক। 
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৩,১৫৩.
কোনটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বিশেষ্য
  2. ধ্বনির বিন্যাস
  3. বাগ্‌ধারা
  4. সর্বনাম
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা, বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি।
- রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১৫৪.
‘নদীমাতৃক’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) অব্যয়ীভাব
  4. ঘ) তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাসে পরপদের মাতৃ, পত্নী, পুত্র, স্ত্রী ইত্যাদি শব্দ থাকলে এ শব্দগুলোর সঙ্গে ‘ক’ যুক্ত হয়।
যেমন- বি (বিগত) হয়েছে পত্নী যার = বিপত্নীক, নদী মাতা (মাতৃ) যার = নদীমাতৃক, নাই পুত্র যার = অপুত্রক, স্ত্রীর সঙ্গে বর্তমান = সস্ত্রীক ইত্যাদি।
(উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১৫৫.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. কাঙালিনি
  2. বুদ্ধিমতী
  3. জেলেনি
  4. বিজয়িনী
ব্যাখ্যা
• 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ - বিজয়িনী

• নরবাচক শব্দকে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করতে সাধারণত কিছু প্রত্যয় যোগ করতে হয়।
যেমন-
- আ প্রত্যয়: বৃদ্ধ - বৃদ্ধা, প্রিয় - প্রিয়া।
- ই প্রত্যয়: দাদা - দাদি, জেঠা - জেঠি।
- ইনি প্রত্যয়: কাঙাল - কাঙালিনি, বাঘ - বাঘিনি।
- ইনী প্রত্যয়: বিজয় - বিজয়িনী, তেজস্বী - তেজস্বিনী।
- ঈ প্রত্যয়: নার - নারী, কিশোর - কিশোরী।
- নি প্রত্যয়: জেলে - জেলেনি, বেদে - বেদেনি।
- বতী প্রত্যয়: গুণবান - গুণবতী, পূণ্যবান - পূণ্যবতী।
- মতী প্রত্যয়: বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, শ্রীমান - শ্রীমতী ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,১৫৬.
কোনটি ‘কিরণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ?
  1. প্রভাকর
  2. শিখিন
  3. দীপ্তি
  4. অর্ক
ব্যাখ্যা
• ‘কিরণ’ শব্দের সমার্থক শব্দ: রশ্মি, কর, প্রভা, দীপ্তি, অংশু।

অন্যদিকে,
• ‘অগ্নি’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
অনল, বহ্নি, পাবক, হুতাশন, বৈশ্বানর, জ্বলন, শিখাবৎ, শিখিন, বায়ুসখা, হুতভুক, বিশ্বপা, হিমারাতি, বায়ুসখা, অনিলসখ, জগন্নু, সর্বভুক ইত্যাদি।

• ‘সূর্য’ শব্দের সমার্থক শব্দ:
অর্ক, রবি, তপন, সবিতা, প্রভাকর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৫৭.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণনা
  2. ব্যাকরণ
  3. ত্রিনয়ণ 
  4. কঙ্কণ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- ত্রিনয়ণ।  

-----------------
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৫৮.
'Philology' এর বাংলা পারিভাষিক কোনটি?
  1. ভাষাবিদ্যা
  2. ধ্বনিবিদ্যা
  3. মনোবিদ্যা
  4. দর্শনবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• 'Philology' অর্থ - ভাষাবিদ্যা; ভাষাবিজ্ঞান; ভাষাতত্ত্ব।

অন্যদিকে, 
• 'Phonology' অর্থ - ধ্বনিবিদ্যা।
• 'Philosophy' অর্থ - দর্শনবিদ্যা।
• 'Psychology' অর্থ - মনোবিদ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, অভিগম্য  অভিধান এবং বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ।
৩,১৫৯.
'সাজোয়ান' শব্দে 'সা' উপসর্গ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট অর্থে
  2. ভিন্ন অর্থে
  3. নিন্দিত অর্থে
  4. অস্পষ্ট অর্থে
ব্যাখ্যা
• 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' - বাংলা উপসর্গ।
- 'সাজোয়ান' শব্দের 'সা' উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,১৬০.
নিচের কোনটি তুর্কি শব্দ?
  1. নগদ
  2. কারখানা
  3. তোপ
  4. নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
• 'তোপ'
- তুর্কি শব্দ।
- বিশেষ্য শব্দ।
অর্থ:
- গোলা ছোড়া যায় এমন আগ্নেয়াস্ত্র।
- কামান। 

অন্যদিকে,
- 'কারখানা' ফারসি শব্দ।
- 'নগদ' আরবি শব্দ।
- 'নক্ষত্র' সংস্কৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৬১.
নিচের কোনটি শুদ্ধ?
  1. অহর্নিশি
  2. দিবারাত্রি
  3. নির্দোষ
  4. পিতাহারা
ব্যাখ্যা

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,১৬২.
‘ছবিঘর’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. কর্মধারয়
  2. তৎপুরুষ
  3. বহুব্রীহি
  4. অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
• তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

• ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লােপ পায় তাকে বলা হয় ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলা হয়।
যেমন:
- চায়ের বাগান = চাবাগান;
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র;
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট;
- ছাত্রের সমাজ = ছাত্রসমাজ;
- দেশের সেবা = দেশসেবা;
- দিল্লীর ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর;
- পাটের ক্ষেত = পাটক্ষেত;
- ছবির ঘর = ছবিঘর;
- বিড়ালের ছানা = বিড়ালছানা;
- মৃগীর শিশু = মৃগশিশু।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৩.
প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. গ্রামীণ
  2. তৃষ্ণার্ত
  3. প্রণাম
  4. লালপেড়ে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয় দিয়ে গঠিত শব্দ - গ্রামীণ
- এটি '-ঈন' প্রত্যয়যোগে গঠিত তদ্ধিত প্রত্যয়।
- প্রকৃতি-প্রত্যয় = গ্রাম + ঈন।

আরো কিছু তদ্ধিত প্রত্যয়:
- সর্বজনীন = সর্বজন + ঈন।
- রাষ্ট্রীয় = রাষ্ট্র + ঈয়।
- মিশিরীয় = মিশর + ঈয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৬৪.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. অভী + ইস্পা = অভীপ্সা।
  2. ক্ষিতী + ইশ = ক্ষিতীশ
  3. গিরি + ঈশ = গিরীশ
  4. অধী + ঈশ্বর = অধীশ্বর
ব্যাখ্যা
⇒ সন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-ই বা দীর্ঘ-ঈ ধ্বনির যোগে দীর্ঘ-ঈ হয়। বানানে তা দীর্ঘ-ঈ-কার হয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

• ই + ই = ঈ (ঈ-তে রূপান্তর):
⇒ অতি + ইত = অতীত;
⇒ অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট;
⇒ প্রতি + ইতি = প্রতীতি;
⇒ অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র।

• ই + ঈ = ঈ (ই-ধ্বনির লোপ):
⇒ গিরি + ঈশ = গিরীশ;
⇒ ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ;
⇒ অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর;
⇒ অভি + ঈপ্সা = অভীপ্সা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৬৫.
'আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমানকাল
  2. পুরাঘটিত বর্তমানকাল
  3. নিত্যবৃত্ত অতীতকাল
  4. পুরাঘটিত অতীতকাল
ব্যাখ্যা
• সাধারণ অতীতকাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- তিনি রাড়ি গেলেন, কাফি এসেছিল ইত্যাদি।

• নিত্যবৃত্ত অতীতকাল:
অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে। যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

• ঘটমান অতীতকাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তখনো কাজটি সমাপ্ত হয়নি- ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- মা তখন শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছিলেন।
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- মা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• পুরাঘটিত অতীতকাল:
যে ক্রিয়া অতীতে বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন: সেবার তোমাকে সুস্থই দেখেছিলাম।

পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ:
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ মারাঠা সৈন্য মারা গিয়েছিল।
• অতীতে সংঘটিত ঘটনার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়: বৃষ্টি শেষ হবার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৬৬.
‘হ্ম’ যুক্তবর্ণের মধ্যে কোন্ কোন্ বর্ণ রয়েছে?
  1. ক + ষ
  2. ক্ষ + হ
  3. ক্ষ + ম
  4. হ্ + ম
ব্যাখ্যা

ক + ষ = ক্ষ
হ্ + ম = হ্ম
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বই (২০২১)

৩,১৬৭.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) কণ্টক
  2. খ) ঘন্টা
  3. গ) বণ্টন
  4. ঘ) কণ্ঠ
ব্যাখ্যা
ঘন্টা- বানানটি সঠিক নয়।
এর সঠিক রূপ: ঘণ্টা।

নিয়ম: 
'ণ'- ত্ব বিধান- ট- বর্গের শেষ অক্ষর হওয়ায় ট, ঠ, ড, ঢ- এর পূর্বে 'ণ' যুক্ত হবে, কখনোই 'ঞ' বা 'ন' হবেনা। 
যেমন-
- কণ্টক  
- বণ্টন
 - কণ্ঠ 
- দণ্ড
- খণ্ড
- লুণ্ঠন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৩,১৬৮.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) হিরন্ময়
  2. খ) হীরন্ময়
  3. গ) হীরনময়
  4. ঘ) হিরণ্ময়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - হিরণ্ময়
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় =[হিরণ্য+ময়ট্]
অর্থ: স্বর্ণবর্ণ, সোনালি, সোনার তৈরি।

অন্যদিকে প্রমীত বাংলা বানানের নিয়ম এবং বাংলাবিদ স্যারের ক্লাস অনুসারে,
• হীরা, নীল অর্খ প্রকাশক সব বানানে ঈ-কার হবে। 
উদাহরণ: হীরক, নীলপদ্ম, হীরণ্ময়, নীলাভ ইত্যাদি। 

[কোনো প্রশ্নের অপশনে যদি হরিণ্ময় ও হীরণ্ময় দুইটি শব্দই দেয়া থাকে। তাহলে বংলা একাডেমির অভিধান অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায়, অভিধান অনুসারে হিরণ্ময় সঠিক উত্তর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।]
৩,১৬৯.
‘রুম ঝুমঝুম মঞ্জীরে বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে’- বাক্যে ‘মণিবন্ধ’ এর সম্প্রসারিত রূপ-
  1. ক) হাতের চতুর্থ আঙ্গুল
  2. খ) হাতের কব্জি
  3. গ) হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত অংশ
  4. ঘ) হাতের কব্জি থেকে আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
মণিবন্ধ[মোনিবন্‌ধো] (বিশেষ্য) হাতের কবজি (রুম ঝুমঝুম মঞ্জীর বাজে কঙ্কণ মণিবন্ধে-কাজী নজরুল ইসলাম)। {(তৎসম বা সংস্কৃত) মণি+বন্ধ}। সূত্র- অভিগম্য অভিধান, বাংলা একাডেমী।
৩,১৭০.
'অজর' শব্দের বিপরীত কোনটি?
  1. অমলিন
  2. বার্ধক্য
  3. অমর
  4. ব্যাধিগ্রস্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'অজর' শব্দের অর্থ- বার্ধক্যরহিত।

ব্যাখ্যা:
‘অজর’ শব্দের অর্থ — ‘যা জরা বা বৃদ্ধত্ব দ্বারা অস্পৃষ্ট’, অর্থাৎ ‘যে বার্ধক্যজনিত ক্ষয় বা জরায় আক্রান্ত হয় না, অর্থাৎ চিরযৌবনসম্পন্ন'। এর বিপরীত অর্থ হবে এমন কিছু যা বৃদ্ধত্ব বা জরাগ্রস্ততার সঙ্গে সম্পর্কিত। ‘বার্ধক্য’ শব্দটির অর্থ ‘বৃদ্ধাবস্থা’ বা ‘জরা’, যা ‘অজর’-এর সরাসরি বিপরীত।

অপশন বিশ্লেষণ:
ক) অমলিন: এর অর্থ 'নির্মল' বা 'পরিষ্কার'। এটি 'অজর'-এর বিপরীত নয়, বরং 'মলিন'-এর বিপরীত।
খ) বার্ধক্য: এর অর্থ 'বৃদ্ধাবস্থা' বা 'জরা'। এটি 'অজর'-এর সরাসরি বিপরীত, কারণ 'অজর' হলো জরার অভাব, আর 'বার্ধক্য' হলো জরার অবস্থা।
গ) অমর: এর অর্থ 'যার মৃত্যু নেই'। এটি 'অজর'-এর সমার্থক বা নিকটবর্তী (যেমন, অমরত্বের ধারণা), কিন্তু বিপরীত নয়। 'অজর' বিশেষভাবে বার্ধক্যের ক্ষয়কে নির্দেশ করে, মৃত্যুকে নয়।
ঘ) ব্যাধিগ্রস্ত: এর অর্থ 'রোগাক্রান্ত'। এটি 'অজর'-এর বিপরীত নয়, কারণ 'অজর' রোগের পরিবর্তে বার্ধক্যের ক্ষয়হীনতাকে বোঝায়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) বার্ধক্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৭১.
'আবলি' যোগে শুদ্ধ বহুবচনবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মেঘবলি
  2. রচনাবলি
  3. পর্বতবলি
  4. বৃক্ষাবলি
ব্যাখ্যা
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে '-সব', '-সমূহ', '-আবলি', '-মালা' ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়।
যেমন-
সব: ভাইসব, পাখিসব। 
সমূহ: গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। 
আবলি: নিয়মাবলি, রচনাবলি। 
মালা: মেঘমালা, পর্বতমালা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,১৭২.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. শামিয়ানা
  2. শৌখিন
  3. কিশমিষ
  4. স্টিমার
ব্যাখ্যা

• কিশমিষ -অশুদ্ধ বানান।
- এর শুদ্ধ বানান হচ্ছে - কিশমিশ।

• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ষ' ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
যেমন:
- কিশমিশ, নাশতা, পোশাক, স্টিমার, বেহেস্ত, শখ, শরম, শহর, শামিয়ানা, শার্ট, শৌখিন

উৎস : প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মতি- ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩,১৭৩.
কোন শব্দটির ক্ষেত্রে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. অধীনস্ত
  3. উপলক্ষ্য
  4. সৌন্দর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'উপলক্ষ্য' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - উদ্দেশ্য, প্রয়োজন।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
• সুবুদ্ধিমান - বুদ্ধিমান,
• অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৪.
'কোড়া' শব্দটির অর্থ -
  1. মমতা
  2. চূড়া
  3. বেত্র
  4. ডালা
ব্যাখ্যা
কোড়া - (দেশি শব্দ) - কশা, চাবুক, বেত্র।

- অন্যান্য অপশন গুলো - 
• চূড়া শব্দটির অর্থ হচ্ছে - ডগা।
• মমতা শব্দটির অর্থ হচ্ছে - আসক্তি।
• ডালা শব্দটির অর্থ হচ্ছে - ঢাকনা।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৭৫.
‘পঙ্কজ’ কোন সমাস?
  1. ক) কর্মধারয়
  2. খ) বহুব্রীহি
  3. গ) তৎপুরুষ
  4. ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা

কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন : জলে চড়ে যা - জলচর ; জল দেয় যে - জলদ ; পঙ্কে জন্মে যা - পঙ্কজ।

কৃদন্ত পদ: কৃৎ প্রত্যয় যোগে যে শব্দ তৈরি হয় তাকে কৃদন্ত পদ বলে।
যেমন : √চর্‌ > চর (বিচরণ করা অর্থে) ; √ধর্‌ > ধর (ধরা অর্থে)

উপপদ: কোন শব্দকে বিশ্লেষণ করলে যদি একটি পৃথক শব্দ, এরপর ধাতু, এরপর প্রত্যয় পাওয়া যায় (শব্দ + ধাতু + প্রত্যয়) এবং সেই প্রত্যয়টি হয় কৃৎ প্রত্যয় তাহলে প্রাপ্ত বিশিষ্ট শব্দকে উপপদ বলা হয়।
যেমন : বাস্তুহারা = বাস্তু + √হার্‌ + আ ; খেচর = খ + √চর্‌ + অ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

উপপদ তৎপুরুষ সমাস
উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের যে-সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।
উপপদ তৎপুরুষের উদাহরণ : অগ্রজ, আত্মজ, পঙ্কজ; মাছিমারা , ইদুরমারা (কল); ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকার (কুম্ভ করে যে], জলচর, খেচর, নিশাচর, নভশ্চর৷
উৎসঃ ভাষাশিক্ষা, হায়াৎ মামুদ

৩,১৭৬.
কোনটি উপমান কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ ?
  1. ক) চরণপদ্ম
  2. খ) করকমল
  3. গ) বাহুলতা
  4. ঘ) কুসুমকোমল
ব্যাখ্যা

 কুসুমকোমল = কুসুমের ন্যায় কোমল; উপমান কর্মধারয় সমাস।
- সাধারণ ধর্মবাচক পদের সাথে উপমান পদের যে সমাস হয় তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে।
- চরণপদ্ম, করকমল, বাহুলতা উপমিত কর্মধারয় সমাস। 

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা শিক্ষা বই।

৩,১৭৭.
নিচের কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. কোথাও
  2. পরস্পর
  3. সমস্ত
  4. ব্যতীত
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]
 
• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।
 
• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!
 
অন্যদিকে,
- ‘কোথাও, পরস্পর, সমস্ত’ সর্বনাম পদের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৭৮.
'বরফ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. তুহ্মার
  2. তুহিন
  3. তুর্মলিন
  4. ত্বরা
ব্যাখ্যা
তুহিন (বিশেষ্য)
অর্থ: বরফ; তুষার; হিম।
(বিশেষণ)
অর্থ: অত্যন্ত শীতল; তুষারের ন্যায় অতিশয় শীতল।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) √তুহ্‌+ইন(ইনন্‌)}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩,১৭৯.
’তরঙ্গ’ এর সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. গর্জন
  2. ঊর্মি
  3. সরোবর
  4. পারাবার
ব্যাখ্যা
’তরঙ্গ’ এর সমার্থক শব্দ = ঊর্মি।

• তরঙ্গ এর অন্য সমার্থক শব্দ = ঢেউ, ঊর্মি, বীচি, হিল্লোল, লহর, লহরী, কল্লোল, হিল্লোল, তরঙ্গমালা, দোলা।


অন্যদিকে,
• জলধি এর সমার্থক শব্দ = সমুদ্র, দরিয়া, অর্ণব, পারাবার, পাথার, পয়োধি, সিন্ধু।

• ঝংকর এর সমার্থক শব্দ =  গুঞ্জন, তর্জন, গর্জন, ঝনৎকার, টংকার, ঝনঝনানি, মৃদুধ্বনি।

• জলাশয় এর সমার্থক শব্দ = পুষ্করিণী, পুকুর, সরোবর, দিঘি, জলাধার।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৮০.
'আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।' - বাক্যটি কোন কাল প্রকাশ করে?
  1. বর্তমান অনুজ্ঞা
  2. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  3. ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞা
  4. সাধারণ বর্তমান
ব্যাখ্যা
বর্তমান অনুজ্ঞা:
- বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।
- আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দান করুক।

সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে তার কালকে বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- তৃণা স্কুলে যায়।
- বর্ণ বই পড়ে।

ঘটমান বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখন চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।
যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৮১.
'মনীষা' শব্দের অর্থ নয় কোনটি?
  1. অলস
  2. মনন
  3. বুদ্ধি
  4. প্রজ্ঞা
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'মনীষা' শব্দের অর্থ নয় 'অলস'।
• মনীষা [ মনস্ + ঈষা] 
অর্থ:
- প্রজ্ঞা;
- প্রতিভা;
- বুদ্ধি;
- মনন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,১৮২.
শব্দের পূর্বে বসে কোনটি?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. অনুসর্গ
  4. বিভক্তি
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

২. খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
- যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

৩. বিদেশি উপসর্গ:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
- এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• বিভক্তি:

- বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দের অন্বয় সাধনের জন্য শব্দের সঙ্গে যে সকল বর্ণ যুক্ত হয়, তাদেও বিভক্তি বলে।
যেমন:
- ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছে।
বাক্যাটিতে ছাদে (ছাদ +এ বিভক্তি); শিশুকে )শিশু + কে বিভক্তি) ইত্যাদি পদে বিভিন্ন বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
- সুতরাং বলা যায় বিভক্তি শব্দের পরে বসে।

• অনুসর্গ:
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• প্রত্যয়:
- যেসকল শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
- 'সাংবাদিক' শব্দে 'ইক' একটি প্রত্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ), ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৮৩.
'দীনে দয়া কর।' এখানে 'দীন' কোন কারক?
  1. করণ
  2. সম্প্রদান
  3. অধিকরণ
  4. অপাদান
ব্যাখ্যা

সম্প্রদান কারক:
- 'সম্প্রদান' অর্থ স্বেচ্ছায় দান। যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে কোনো কিছু দান করা হয়, সেই দান গ্রহীতাকে সম্প্রদান কারক বলে।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: গুরু দক্ষিণা দাও।
চতুর্থী বিভক্তি: দরিদ্রকে দান কর।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
সপ্তমী বিভক্তি: দীনে দয়া কর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৩,১৮৪.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত ইংরেজি উপসর্গ কোনটি?
  1. সাব
  2. কার
  3. ফি
  4. বে
ব্যাখ্যা
• উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ। 

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৮৫.
নিচের কোন বাক্যে আকাঙ্ক্ষা গুণের অভাব পরিলক্ষিত?
  1. সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে।
  2. কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
  3. নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
  4. বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
ব্যাখ্যা
কটি আদর্শ বাক্যের জন্যে তিনটি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা:
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
যেমন:
- ছেলেরা খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।

উপরের দু'টি বাক্যই অসম্পূর্ন অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যগুলো এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- ছেলেরা ফুটবল খেলে।
- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হল-আসত্তি।
- নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।

উপরের বাক্যে পদ সন্নিবেশ ঠিকঠাক না হওয়ায় শব্দগুলোর অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। বাক্যটি এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়-
- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে। এখন বাক্যটি আসত্তিসম্পন্ন।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
- ‘বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে’।
- সূর্য পশ্চিম দিকে উঠছে।


উপরের বাক্যটি ভাব প্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না এবং সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেনা। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে-
- বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে।
- সূর্য পূর্ব দিকে উঠছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮৬.
'জলে বাষ্প হয়।'- এখানে ‘জলে‘ কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় ৭মী
  2. অপাদানে ৭মী
  3. কর্মে ৭মী
  4. করণে ৭মী
ব্যাখ্যা
• অপাদান কারক:
যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।বাক্যের ক্রিয়াপদকে কোথা হতে, কি থেকে, কিসের থেকে ইত্যাদি প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কারক পাওয়া যায়, তা-ই হলো অপাদান কারক।
যেমন:
- বিচ্যুত: মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
- গৃহীত: দুধ থেকে দই হয়।
- জাত: খেজুর রসে গুড় হয়।
- বিরত: পাপে বিরত হও।
- বিরত: কুকর্মে বিরত হও। [কুকর্মে শব্দে অপাদান কারকে সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে]

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
• প্রথমা বা শূন্য বা 'অ' বিভক্তি:
- বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
- 'মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠ দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।'

• দ্বিতীয়া বা 'কে' বিভক্তি: বাবাকে বড্ড ভয় পাই।

• ষষ্ঠী বা 'এর' বিভক্তি: যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধে হয়।

• সপ্তমী বা 'এ' বিভক্তি:
- লোকমুখে শুনেছি।
- তিলে তৈল হয়।
- বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
- য় বিভক্তি: টাকায় টাকা হয়।

• প্রশ্নে প্রদত্ত 'জলে বাষ্প হয়।'- বাক্যকে 'কি থেকে বাষ্প হয়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'জলে'। সুতরাং জলে অপাদান কারকে ৭মী বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৮৭.
'সন্ধি' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সন্‌ + ধি
  2. সমঃ + ধি
  3. সম্‌ + ধি
  4. সম্‌ + অধি
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
সন্ধি শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ — সম্‌ + ধি।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে অন্য ধ্বনির পরিবর্তন হয়।
সূত্র: ম্‌ + ধ = ন্ধ, 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, অষ্টম শ্রেণি।
৩,১৮৮.
'তৃতীয়' শব্দটি কোন ধরনের সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) গণনাবাচক শব্দ
  2. খ) তারিখবাচক শব্দ
  3. গ) পূরণবাচক শব্দ
  4. ঘ) অঙ্কবাচক শব্দ
ব্যাখ্যা
'তৃতীয়' শব্দটি পূরণবাচক শব্দ।

সংখ্যাবাচক শব্দ মূলত দুই প্রকার।
যথা - 
- ক্রমবাচক - এক, দুই, তিন, চার...আট ইত্যাদি।
- পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি।

পূরণবাচক শব্দ আবার ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ... নবম ইত্যাদি।
- তারিখ পূরণবাচক - পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি।
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক - আধ, সাড়ে, পোয়া, দেড়, আড়াই ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,১৮৯.
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ নয় কোনটি?
  1. কুলটা
  2. সতীন
  3. রজঃস্বলা
  4. পাগলি
ব্যাখ্যা
পাগলি নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ নয়।
পাগলি -ই প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ।

• কিছু শব্দ রয়েছে যা নিত্য নারীবাচক।
নিত্য স্ত্রীলিঙ্গ যেমন:
- সতীন,
- বিধবা,
- বারবানিয়া (অন্যান্য প্রতিশব্দ),
- অসতী,
- কুলটা,
- গর্ভবতী,
- রজঃস্বলা, ইত্যাদি।

উৎস: ১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
২। ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,১৯০.
'বাস্তুঘুঘু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অসহায় ব্যক্তি
  2. অতি ধূর্ত লোক
  3. ভবঘুরে ব্যক্তি
  4. বাস্তুহারা লোক
ব্যাখ্যা
• 'বাস্তুঘুঘু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ অতি ধূর্ত লোক।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- বর্ণচোরা - কপটচারী। 
- ব্যাঙের সর্দি - অসম্ভব ঘটনা। 
- বক দেখানো - অশোভন বিদ্রুপ করা। 
- ব্যাঙের আধুলি - সামান্য ধনে অহংকার। 
- বচনবাগীশ - কথায় পটু।
- বামন হয়ে চাঁদে হাত - অসম্ভব কিছু পাওয়ার চেষ্টা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,১৯১.
কোনটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
  2. পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট
  3. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
  4. চটুল, সরল ও সাবলীল
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
৮. সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,১৯২.
'ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।’- বাক্যটিতে ‘গান শেখায়’ কোন কারক নির্দেশ করে? 
  1. ঐকদেশিক অধিকরণ
  2. বৈষয়িক অধিকরণ 
  3. অভিব্যাপক অধিকরণ
  4. কালাধিকরণ
ব্যাখ্যা

‘ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।’— বাক্যটিতে ‘গান শেখায়’ বৈষয়িক অধিকরণ।
----------------------------------------
• অধিকরণ কারক:
- অধিকরণ কারক সময়, ভাব বা স্থানের বিশেষ অংশ নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং 
- এটি সপ্তমী বিভক্তিতে প্রকাশ পায়।
- অধিকরণ কারকের তিনটি প্রধান ধরন রয়েছে:
১. কালাধিকরণ: যখন ক্রিয়ার সময় বোঝানো হয়। যেমন – “প্রভাতে সূর্য উঠে।” এখানে ‘প্রভাতে’ সময় নির্দেশ করছে।
২. ভাবাধিকরণ: কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য যদি অন্য ক্রিয়ার ভাব প্রকাশ করে। সবসময় সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহার হয়।
৩. আধারাধিকরণ: ক্রিয়ার স্থান বা আধারের সাথে সম্পর্কিত।
-------------------------------
• আধারাধিকরণ তিন ভাগে বিভক্ত।
- যথা:
১. ঐকদেশিক,
২. অভিব্যাপক এবং
৩. বৈষয়িক।

•  ঐকদেশিক অধিকরণ:
- বিশাল স্থানের যে কোনো এক অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- পুকুরে মাছ আছে।
- বনে বাঘ আছে।
- আকাশে চাঁদ উঠেছে।

• অভিব্যাপক অধিকরণ:
- উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে,তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে।
যেমন-
- তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)।
- নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)।

• বৈষয়িক অধিকরণ:
- বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারও কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক অধিকরণ হয়।
যেমন-
- ললিতার গান শেখায় আগ্রহ আছে।
- রাকিব অঙ্কে কাঁচা।
- আমাদের পুলিশরা সাহসে দুর্জয়। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ। 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩,১৯৩.
কোন সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের কোনটি অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বোঝায়?
  1. ক) তৎপুরুষ সমাস
  2. খ) দ্বিগু সমাস
  3. গ) বহুব্রীহি সমাস
  4. ঘ) কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
বহুব্রীহি সমাস : যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনােটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কিছু বােঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
যেমন -
- বউ ভাত পরিবেশন করে যে অনুষ্ঠানে = বউভাত,
- লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ = লাঠালাঠি ইত্যাদি।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ,সংস্করণ ২০২১]
৩,১৯৪.
'Assassination' শব্দটির বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. হত্যা
  2. গণহত্যা
  3. গুপ্তহত্যা
  4. আত্মহত্যা
ব্যাখ্যা

• 'Assassination' শব্দটির বাংলা পরিভাষা - গুপ্তহত্যা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Bank rate- ব্যাংক হার,
- Bankrupt- দেউলিয়া,
- Badge- তকমা,
- Background- পটভূমি,
- Attestation- সত্যায়ন,
- Assembly- পরিষদ,
- Assessment- নির্ধারণ, কর নির্ধারণ,
- Asylum- আশ্রয়,
- Attachment- ক্রোক.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, অভিগম্য অভিধান।

৩,১৯৫.
'Avocation' এর বাংলা পরিভাষা কী?
  1. সঙ্কলন
  2. ইশতেহার
  3. বিমানচালক
  4. পেশা
ব্যাখ্যা
'Avocation' এর বাংলা পরিভাষা - পেশা / বৃত্তি।

অন্যদিকে,
- 'Aviator' এর বাংলা পরিভাষা - বিমানচালক।
- 'Communique' এর বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।
- 'Compilation' এর বাংলা পরিভাষা - সঙ্কলন।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা।
৩,১৯৬.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) প্রতিমুহূর্ত ও মূমুর্ষূ
  2. খ) মুমূর্ষু ও প্রতিমুহূর্ত
  3. গ) প্রতিমুহুর্ত ও মুমূর্ষু
  4. ঘ) মুমুর্ষু ও প্রতিমুহুর্ত
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান - গ) মুমূর্ষু ও প্রতিমুহূর্ত 

মুমূর্ষু (বিশেষণ):
- এটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
অর্থ -
- মৃত্যুকাল আসন্ন এমন।
- মরণাপন্ন
- মৃতপ্রায়।
 
প্রতিমুহূর্ত (ক্রিয়াবিশেষণ) 
অর্থ :
সর্বদা; প্রতিক্ষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩,১৯৭.
লোক মুখে শুনেছি। - এখানে 'লোক মুখে' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. ক) করণে ষষ্ঠী
  2. খ) কর্মে ষষ্ঠী
  3. গ) অপাদানে সপ্তমী
  4. ঘ) কর্তৃকারকে সপ্তমী
ব্যাখ্যা

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয় তাকেই অপাদান কারক বলে।
যেমনঃ
- লোক মুখে শুনেছি।
- ছোট মুখে বড় কথা মানায় না।
এখানে উভয় বাক্যেই 'মুখ' শব্দটি অপাদান কারক। আর সাথে 'এ' বিভক্তি। 'এ' হলো সপ্তমী বিভক্তি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বই

 
৩,১৯৮.
Accessory-বাংলা পরিভাষা-
  1. সরঞ্জাম
  2. আনুষাঙ্গিক
  3. অভিগম্য
  4. প্রবেশ
ব্যাখ্যা
• Accessory-বাংলা পরিভাষা- আনুষাঙ্গিক, অতিরিক্ত, সহায়ক।
---------------------------------------------------
• Accessories - বাংলা পরিভাষা- সরঞ্জাম।
• Accessible - বাংলা পরিভাষা- অভিগম্য।
• Access-বাংলা পরিভাষা- প্রবেশ।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
৩,১৯৯.
‘লঘু চপল’ ভাব কোন ছন্দের?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) মাত্রাবৃত্ত
  3. গ) অক্ষরবৃত্ত
  4. ঘ) পয়ার
ব্যাখ্যা
স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ। এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়গুলো স্বরবৃত্তে রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন। এর ভাব লঘু ও চপল।

উৎস : প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৩,২০০.
'মাধ্যমিক' - শব্দটির সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয় কোনটি?
  1. মাধ্য + মিক
  2. মধ্যম + ইক
  3. মাধ্যমিক + অ
  4. মধ্যম + অ
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'মাধ্যমিক' এর প্রকৃতি- প্রত্যয়: 'মধ্যম + ইক'।

• মাধ্যমিক (বিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = মধ্যম + ইক।
অর্থ: 
- মধ্যবর্তী,
- মধ্যস্থ, 
- মধ্যম সম্পর্কিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।