একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে কোন চিহ্ন বসে?
ক
কমা ( , )
খ
কোলন ( : )
গ
হাইফেন ( - )
ঘ
সেমিকোলন ( ; )
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন ( ; ): - কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। - একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। - শব্দ বা পদের পরে সেমিকোলন বসে না। - সাধারণত বাক্যাংশের পরে বসে। যেমন: - চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে; পৃথিবী সূর্যের চারদিকে।
অন্যদিকে, - একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা কতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়। - বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। - জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসবে। যেমন- কাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পূর্বপরিচিত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২০২.
'উঃ! পায়ে বড্ড লেগেছে।' এখানে 'উঃ!' কোন ধরনের অব্যয়?
ক
অনুকার অব্যয়
খ
পদান্বয়ী অব্যয়
গ
অনুসর্গ অব্যয়
ঘ
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়: যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনোভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]
২০৮.
বিশেষ্য পদ নয় কোনটি?
ক
ইচ্ছাময়
খ
ঐচ্ছিক
গ
অনিচ্ছা
ঘ
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ্য পদ নয় - ঐচ্ছিক। - এটি বিশেষণ পদ - ঐচ্ছিক। - এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
শব্দের অর্থ: - ইচ্ছানুরূপ,ইচ্ছানুযায়ী।
অন্যদিকে, বিশেষ্য পদ - ইচ্ছাময়, অনিচ্ছা, ইচ্ছা।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০৯.
'গৃহ' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
ক
আলয়
খ
সদন
গ
নিকেতন
ঘ
ঘরোয়া
ব্যাখ্যা
• 'গৃহ' এর সমার্থক শব্দ নয় - ঘরোয়া।
- ঘরোয়া শব্দের অর্থ: পারিবারিক। গৃহস্থালি-সম্পর্কিত। অনানুষ্ঠানিক।
• 'গৃহ/ঘর' এর সমার্থক শব্দ: - নিলয়, আলয়, ভবন, নিবাস, নিকেতন, আগার, বাড়ি, আবাস, বাটি, গেহ, নিকেত ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১০.
বিভক্তিযুক্ত ধাতু ও শব্দকে কি বলে?
ক
ক) শব্দ
খ
খ) কারক
গ
গ) ক্রিয়াপদ
ঘ
ঘ) পদ
ব্যাখ্যা
- বাক্যে ব্যবহৃত বিভক্তিযুক্ত শব্দ ও ধাতুকে পদ বলে।
পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ- • শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। • বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়: ১. বিশেষ্য ২. সর্বনাম ৩. বিশেষণ ৪. ক্রিয়া ৫. ক্রিয়াবিশেষণ ৬. অনুসর্গ ৭. যোজক ৮. আবেগ
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২১১.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি যুক্ত শব্দ কোনটি?
ক
নানা
খ
কাকা
গ
চাচা
ঘ
দাদা
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়: - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন, - দন্ত্য ব্যঞ্জন, - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন, - মূর্ধন্য ব্যঞ্জন, - তালব্য ব্যঞ্জন, - কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন, - কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ, দন্ত্যধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• তাবল্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন: কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।
২১২.
'কলুষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ কী?
ক
আবিল
খ
পঙ্কিল
গ
অমলিন
ঘ
দোষ
ব্যাখ্যা
• 'কলুষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - অমলিন।
• 'কলুষ' শব্দের অর্থ - পাপ; দোষ, মলিনতা, মলিন, আবিল; অধর্ম। • ‘অমলিন’ শব্দের অর্থ - মলিন নয় এমন; উজ্জ্বল, নির্দোষ; নিষ্কলঙ্ক। • 'পঙ্কিল' শব্দের অর্থ - কর্দমাক্ত।
• সাধিত ধাতু: - মৌলিক ধাতু কিংবা কোনো কোনো নাম-শব্দের সঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগে যে ধাতু গঠিত হয়, তাকে সাধিত ধাতু বলে। যেমন - - দেখ্ + আ = দেখা, - পড়্ + আ= পড়া, - বল্ + আ = বলা। এরূপ, - কর্ + আ = করা।
অন্যদিকে, • মৌলিক ধাতু: - যেসব ধাতু বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়। যেমন- চল্, পড়, কর্, শো, দে, খা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি(২০১৮সংস্করণ)।
২১৫.
কোনটি শুদ্ধ বানান?
ক
ঠাণ্ডা
খ
কণ্টক
গ
ঝাণ্ডা
ঘ
গুণ্ডা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - কণ্টক।
মূর্ধন্য-ণ ও দন্ত্য-ন এর ব্যবহার: - অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না। যেমন: - ইরান, কান, কোরান, গভর্নর, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন।
- তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়। যেমন: - কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।
- কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে। যেমন: - গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১৬.
কোনটি আরবি উপসর্গ?
ক
খাস
খ
বদ
গ
দর
ঘ
কম
ব্যাখ্যা
বিদেশি উপসর্গ: - আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। - এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমন: আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। উর্দু উপসর্গ: হর। ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: ১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। ২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১৭.
'পার্থিব' এর প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
ক
পার্থ + বিন
খ
পৃথবী + ষ্ণ
গ
পৃথিবী + ষ্ণিক
ঘ
পৃথিবী + ষ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'পার্থিব' একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়ের উদাহরণ। - পাথির্ব = পৃথিবী + ষ্ণ/অ।
---------------------- আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকৃতি- প্রত্যয়: - 'দাপট' শব্দের সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় = দাপ + অট। - 'শ্রমী' এর সঠিক প্রকৃতি- প্রত্যয়: '√ শ্রম্ + ইন্ '। - 'নন্দন' শব্দটির সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয়: √ নন্দি+অন। - 'দর্শনীয়' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √ দৃশ্ + অনীয়।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৮.
’কেঁচে গণ্ডূষ’ বাগ্ধারার অর্থ -
ক
নীরস ও অনমনীয়
খ
নতুন করে আরম্ভ করা
গ
বেমানান
ঘ
অকর্মণ্য
ব্যাখ্যা
• ’কেঁচে গণ্ডূষ’ বাগ্ধারার অর্থ - নতুন করে আরম্ভ করা।
৪. ক্রিয়ার রূপ: "থাকব" → "থাকবে" (পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তন)।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল: ক) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে) এবং পুরুষ পরিবর্তন হয়নি। গ) পুরুষ ও স্থান পরিবর্তন হয়নি ("আমি এখানে" রয়ে গেছে)। ঘ) এখনও প্রত্যক্ষ উক্তি (উদ্ধৃতি চিহ্ন আছে)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২২৪.
নিচের কোনটি মধ্যস্বরাগমের উদাহরণ?
ক
স্কুল > ইস্কুল
খ
রত্ন > রতন
গ
সত্য > সত্যি
ঘ
মারি > মাইর
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis): সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন - অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন স্বপন, হর্ষ > হরষ, ইত্যাদি। ই - প্রীতি » পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি। উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, > ভুরু ইত্যাদি। এ – গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ » সেরেফ ইত্যাদি। ও - শ্লোক » শশালােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি। ------------------- আদি স্বরাগম: শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন। যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।
অন্ত্যস্বরাগম: শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন। যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি।
অপিনিহিতি: পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- - মারি > মাইর, - আজি > আইজ, - সাধু > সাউধ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২৫.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
ক
ক) মুণ্ডমালা
খ
খ) শঙ্খিনী
গ
গ) সুতীক্ষ্ম
ঘ
ঘ) বৃদ্ধিজীবী
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: সুতীক্ষ্ম • শুদ্ধ: সুতীক্ষ্ণ - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = সু+√তিজ্+স্ন অর্থ: অত্যন্ত ধারালো, তীব্র।
অন্যদিকে, মুণ্ডমালা, শঙ্খিনী ও বৃদ্ধিজীবী শব্দের বানান শুদ্ধ।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২৬.
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
ক
কর্ত্রী
খ
সতী
গ
ময়ুরী
ঘ
নারী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত স্ত্রীবাচক শব্দঃ যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়। যেমনঃ কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী ইত্যাদি। পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়। যথাঃ সৎ - সতী, মহৎ - মহতী ইত্যাদি। কোন কোন পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়। যেমনঃ রাজা - রানী, নর - নারী ইত্যাদি। সংস্কৃত স্ত্রী প্রত্যয়ঃ ঈ - প্রত্যয় যোগে জাতি বা শ্রেণীবাচক উদাহরঃ সিংহ - সিংহী, ময়ুর - ময়ুরী ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
২২৭.
বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ নয় কোনটি?
ক
তদ্ভব
খ
দেশি
গ
তৎসম
ঘ
অর্ধতৎসম
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার 'নিজস্ব শব্দ'- - বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম ও বিদেশি শব্দাবলি ছাড়া আর সব শব্দকে 'নিজস্ব শব্দ বলা হবে। - প্রথাগত ব্যাকরণের অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি শব্দাবলি 'নিজস্ব' শব্দভুক্ত। - তাছাড়া যে-সব বিদেশি শব্দ বানান ও শব্দবন্ধে যথেষ্ট পরিবর্তিত হয়ে গেছে, সেগুলোও বাংলার 'নিজস্ব শব্দ' হিসেবে গৃহীত।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২২৮.
ণত্ব বিধান বাংলা বানানে কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
ক
ক) সংস্কৃত
খ
খ) বিদেশি শব্দ
গ
গ) দেশি শব্দ
ঘ
ঘ) তদ্ভব শব্দ
ব্যাখ্যা
• তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ণ- এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান। - বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধান নেই। - সমাসবদ্ধ শব্দের বানানেও ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
২২৯.
নিচের কোনটি মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
ক
ক) [ফ্]
খ
খ) [ত্]
গ
গ) [হ্]
ঘ
ঘ) [ণ্]
ব্যাখ্যা
মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০ টি। এরমধ্যে আছে - [ফ্], [ত্], [হ্], [ঙ্]। এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হচ্ছে। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
২৩০.
কোনটি কর্মধারয় সমাস?
ক
গাছপাকা
খ
কুশীলব
গ
বাগবিতণ্ডা
ঘ
মহাত্মা
ব্যাখ্যা
কর্মধারয় সমাস: - মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত, রূপক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন: - কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা, - দুঃ যে শাসন = দুঃশাসন, - মহৎ যে আত্মা = মহাত্মা।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, '• বুদ্ধিজীবী' -তৎসম শব্দ। - বুৎপত্তি: বুদ্ধি +√জীব্ + ইন। - এটি বিশেষণ ও বিশেষ্য উভয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, - 'বদনাম' - ফারসি শব্দ। - 'বোতল' ইংরেজি ভাষা হতে আগত। - 'বেহালা' পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩২.
'পাণিনি' ছিলেন?
ক
ক) নাট্যকার
খ
খ) কবি
গ
গ) ব্যাকরণবিদ
ঘ
ঘ) শিক্ষক
ব্যাখ্যা
• পাণিনি: - পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের বৈদিক যুগের একজন সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ। - তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত। - প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে। তবে খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৩৩.
‘ভিক্ষান্ন’ কোন সমাসের উদাহরণ?
ক
সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
খ
অলুক দ্বন্দ্ব সমাস
গ
পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ঘ
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস
ব্যাখ্যা
• কর্মধারয় সমাস: যেখানে বিশেষণ বা বিশেষণভাবাপন্ন পদের সাথে বিশেষ্য বা বিশেষ্যভাবাপন্ন পদের সমাস হয় এবং পরপদের অর্থই প্রধান রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
• মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ হয়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: - আত্ম বিষয়ে যে স্বাতন্ত্র্য = আত্মস্বাতন্ত্র্য; - সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন; - হাসি মাখা মুখ = হাসিমুখ; - ঝাল মিশ্রিত মুড়ি = ঝালমুড়ি; - ভিক্ষা লব্ধ অন্ন = ভিক্ষান্ন; - প্রাণ যাওয়ার ভয় = প্রাণভয়; - স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ; - উর্ণ নির্মিত জাল = উর্ণাজাল।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৩৪.
সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের কোন জোড় ব্যবহার করা হয়?
ক
যেটুকু-সেটুকু
খ
যখন-তখন
গ
যত-তত
ঘ
যে-সে
ব্যাখ্যা
• সময় বোঝাতে জটিল বাক্যে যোজকের ‘যখন-তখন’ জোড় ব্যবহার হয়। যেমন: - যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
-------------------- • জটিল বাক্য: যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
যেমন: - যে রক্ষক, সে ভক্ষক। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই। - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২৩৫.
নিচের কোনটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে?
ক
ক) গরুর শকট
খ
খ) মড়া পোড়া
গ
গ) শবদাহ
ঘ
ঘ) দাবদাহ
ব্যাখ্যা
- গুরুচণ্ডালী দোষ বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ। এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷ - গুরুচণ্ডালী দোষ গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ। শুদ্ধরূপঃ - গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৬.
‘দিনের আলো ও সন্ধ্যার আধাঁর মিলন’- এক কথায়
ক
ক) পরাহ্ন
খ
খ) গোধূলি
গ
গ) অপরাহ্ন
ঘ
ঘ) প্রদোষ
ঙ
ঙ) সায়াহ্ন
ব্যাখ্যা
গোধুলি [গোধুলি] (বিশেষ্য) - সন্ধ্যাবেলা; সায়ংকাল; সূর্যাস্ত কাল; - যখন গরুর পাল ধূলি উড়াইয়া গৃহে ফেরে (গোধূলির লাল রং তখন আকাশে)। {(তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ) গো+ধূলি}
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিগম্য অভিধান।
২৩৭.
'তপ্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ -
ক
ক্রুদ্ধ
খ
গরম
গ
হিম
ঘ
অতৃপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'তপ্ত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - হিম।
উল্লেখ্য, 'তুহিন' শব্দের অর্থ - বরফ, তুষার, হিম। 'উষ্ণ' শব্দের অর্থ - তপ্ত, গরম, ক্রুদ্ধ, প্রখর।
অন্যদিকে, তৃপ্ত - অতৃপ্ত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩৮.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
উদীচি
খ
মনিষী
গ
দধীচি
ঘ
প্রতিচী
ঙ
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, - 'দধীচি' বানানটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে, - 'উদীচি' এর সঠিক বানান হবে 'উদীচী'। - 'মনিষী' এর সঠিক বানান হবে 'মনীষী'। - 'প্রতিচী' এর সঠিক বানান হবে 'প্রতীচী'।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৩৯.
নিচের কোন শব্দটিতে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
ক
অদ্যাবধি
খ
অনাটন
গ
প্রাতরাশ
ঘ
উপর্যুপরি
ব্যাখ্যা
• "অনাটন" শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি অপপ্রয়োগ। এখানে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে। - এর সঠিক শব্দ হলো "অনটন"।
অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ: • অদ্যাবধি → সঠিক, অর্থ: আজ পর্যন্ত। • উপর্যুপরি → সঠিক, অর্থ: একটার পর একটা (বারবার)। • প্রাতরাশ → সঠিক, অর্থ: সকালের নাশতা (সংস্কৃতমূলে গঠিত)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪০.
কোন বাক্যটিতে নিমিত্তার্থে চতুর্থী বিভক্তির প্রয়োগ দেখানো হয়েছে?
ক
ক) ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
খ
খ) তাকে ডেকে আন
গ
গ) ‘বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল’
ঘ
ঘ) সমিতিতে চাঁদা দাও
ব্যাখ্যা
নিমিত্তার্থে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হলে সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন: বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল। সম্প্রদান কারকে কখনো দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় না। যাকে কিছু দেওয়া হয় তা সম্প্রদান। আর যা দেওয়া হয় তা কর্ম। যেমন: ভিখারীকে (সম্প্রদানে ৪র্থী) ভিক্ষা (কর্মে শূন্য) দাও।
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করলে, তাকে বলা হয় সমীভবন। - যেমন- জন্ম >জম্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি। সমীভবন তিন রীতিতে হয়, যথা- • প্রগত সমীভবন (Progressive) : পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন। যেমন- পক্ব > পক্ক, চন্দন > চন্নন, গলদা > গল্লা, পদ্ম >পদ্দ, লগ্ন >লগৃগ, চক্র> চর, রাজ্য > রাজ্জ, স্বর্ণ >সন্ন ইত্যাদি।
• পরাগত সমীভবন (Regressive) : পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হলে তাকে পরাগত সমীভবন বলে। যেমন- কাদনা > কান্না, কর্ম >কম্ম, কর্তা > কত্তা, ধর্ম > ধম্ম, করতাল > কত্তাল, পাঁচসের >পাশূসের, ডাকঘর > ডাগৃঘর, তৎ + জন্য >তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।
• অন্যোন্য সমীভবন: সমীভবন (Mutual) : যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন, যেমন- বৎসর > বচ্ছর, মহােৎসব >মােচ্ছব, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, বিশ্রি >বিচ্ছিরি, কুৎসিত >কুচ্ছিত, সত্য > সচ্চ, বিদ্যা > বিজ্জা ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
উপসর্গ কোনটি?
ক
তরে
খ
চেয়ে
গ
হতে
ঘ
অতি
ব্যাখ্যা
• ‘অতি’ তৎসম উপসর্গের উদাহরণ।
অন্যদিকে, তরে, চেয়ে, হতে অনুসর্গের উদাহরণ।
কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ: - অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। --------------------- • সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যে সকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমন: - আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। - ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। - উর্দু উপসর্গ: হর। - ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৫.
'তোশক' কোন ভাষার শব্দ?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
তৎসম
ঘ
দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'তোশক' ফারসি ভাষার শব্দ।
• শব্দের অর্থ: - বিছানায় চাদরের নিচে পাতা হয় এমন তুলা কৃত্রিম স্পঞ্জ প্রভৃতির তৈরি গদিবিশেষ।
• প্রাণী বা বস্তুর নামকে বহুবচন করতে ‘সব’, ‘সমূহ’, ‘আবলি’, ‘মালা’ ইত্যাদি লগ্নক যোগ করতে হয়। যেমন: সব - ভাইসব, পাখিসব। সমূহ - গ্রন্থসমূহ, বৃক্ষসমূহ। আবলি - নিয়মাবলি, রচনাবলি। মালা - মেঘমালা, পর্বতমালা।
অন্যদিকে, অপ্রণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত লগ্নক ‘দল’ - শৈবালদাম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৭.
'কোকিল' এর প্রতিশব্দ নয় কোনটি?
ক
অন্যপুষ্ট
খ
কলকন্ঠ
গ
মধুসখা
ঘ
পরভৃৎ
ব্যাখ্যা
• কোকিল শব্দের প্রতিশব্দ: - পরভৃত, পিক, অন্যপুষ্ট, কলকন্ঠ, বসন্তদূত, মধুসখা ইত্যাদি।
অন্যদিকে, 'পরভৃৎ' অর্থ- কাক। এটা কোকিল এর প্রতিশব্দ নয়।
• কাকের সমার্থক শব্দ- বায়স, কঙ্খ, বৃক, বলিভূক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৮.
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচনে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়?
ক
সব
খ
কুল
গ
গণ
ঘ
পাল
ব্যাখ্যা
উন্নত প্রাণিবাচক বহুবচনে গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়। [সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী]
২৪৯.
‘যে লোক মূর্খ সে অবজ্ঞার পাত্র।’ - কোন ধরনের বাক্য?
ক
সরল বাক্য
খ
জটিল বাক্য
গ
যৌগিক বাক্য
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: - যে লোক মূর্খ, সে অবজ্ঞার পাত্র। - যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই । - যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে। - যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২২ সংস্করণ)।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫১.
'ইতিহাস রচনা করেন যিনি' এক কথায় কী বলে?
ক
ইতিবৃত্তাকার
খ
ইতিহাসজ্ঞো
গ
ঐতিহাসিক
ঘ
ইতিহাসবিত্তা
ব্যাখ্যা
• 'ইতিহাস রচনা করেন যিনি' এক কথায় বলে - ঐতিহাসিক।
উল্লেখ্য, অপশনে প্রদত্ত ইতিবৃত্তাকার, ইতিহাসজ্ঞো ও ইতিহাসবিত্তা বানানগুলো অশুদ্ধ।
অন্যদিকে, • ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ যিনি - ইতিহাসবেত্তা / ইতিহাসজ্ঞ। • ইতিহাস রচয়িতা - ইতিবৃত্তকার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫২.
নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে?
ক
তাসের ঘর
খ
জলের দাগ
গ
পদ্মপাতায় জল
ঘ
জলভাত
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মপাতার জল', 'তাসের ঘর' এবং ‘জলের দাগ’ বাগ্ধারা সমূহের অর্থ - ক্ষণস্থায়ী।
অন্যদিকে, • ‘জলভাত’ বাগধারার অর্থ - সহজ সাধ্য।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৩.
Excise duty এর যথার্থ বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক
ক) বিক্রয় কর
খ
খ) সম্পূরক শুল্ক
গ
গ) আবগারি শুল্ক
ঘ
ঘ) মূসক
ব্যাখ্যা
Excise duty এর যথাযথ বাংলা পরিভাষা হলো আবগারি শুল্ক। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্য বা পণ্যের উপর আরোপিত করকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। অন্যদিকে Value Added Tax (VAT) এবং Supplementary Tax অর্থ যথাক্রমে মূসক এবং সম্পূরক শুল্ক। (সূত্রঃ প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন এবং বাংলা একাডেমি ডিকশনারি)
২৫৪.
'তন্মধ্যে' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
ক
তধ্ + মধ্যে
খ
তন + মধ্যে
গ
তদ্ + মধ্যে
ঘ
তৎ + মধ্যে
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধি: স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৫.
'মোহনের পাশে আঁখি রবে আমরণ' - এখানে 'পাশে' কোন অনুসর্গ?
ক
ক্রিয়া অনুসর্গ
খ
ফারসি অনুসর্গ
গ
বিবর্তিত অনুসর্গ
ঘ
সংস্কৃত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ: - বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোন পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মত কাজ করে। - এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত। - এদেরকে পরসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়ও শব্দ বলা হয়ে থাকে।
• অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার। যথা - - নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ। - ক্রিয়া অনুসর্গ।
• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা - - সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি। - বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি। - ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২৫৬.
"সে মা মা বলে কাঁদছে" এখানে 'মা মা' দ্বিরুক্তি শব্দ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?
ক
সামান্য
খ
আগ্রহ
গ
আধিক্য
ঘ
পরস্পরতা
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: - বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: - বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে- ক) আধিক্য বোঝাতে: • রাশি রাশি ধান, • থোকা থোকা জাম।
খ) সামান্য বোঝাতে: • আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: • তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, • সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: • সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বোঝাতে: • তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বোঝাতে: • সে মা মা বলে কাঁদছে।
উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
’কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
ক
অন্যভৃত
খ
পরভৃৎ
গ
কাকপুষ্ট
ঘ
বসন্তসখ
ব্যাখ্যা
’কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ নয় = পরভৃৎ। পরভৃৎ শব্দের অর্থ - কাক।
• কোকিল’ শব্দের সমার্থক শব্দ- অন্যভৃত, পিক, পরপুষ্ট, কাকপুষ্ট, কলঘোষ, বসন্তসখ, বসন্তী, । • কাক শব্দের সমার্থক শব্দ - পরভৃৎ, পরপোষক, বায়স।
এছাড়াও, • কন্যা শব্দের সমার্থক শব্দ - মেয়ে, নন্দিনী, তনয়া, দুহিতা, আত্মাসম্ভবা, পুত্রিকা, তনুজা, মাইয়া, দুলালি। • কবুতর এর সমার্থক শব্দ - পারাবত, কপোত, পায়রা, নোটন।
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫৮.
'প্রতিচ্ছবি' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
ক
স্বর + স্বর
খ
ব্যঞ্জন + স্বর
গ
স্বর + ব্যঞ্জন
ঘ
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে। - এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা - ১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি, ২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি, ৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি: স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। যথা- - অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি। - আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে। - ই + ছ = চ্ছ; প্রতি + ছবি = প্রতিচ্ছবি। এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, পরিচ্ছদ, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
ক
ক) পুঙ্খানুপুঙখ
খ
খ) পুঙ্খানুপুঙ্খ
গ
গ) পুঙ্খানুপুঙখ
ঘ
ঘ) পুঙ্খনুপুঙখ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে “পুঙখানুপুঙখ” শব্দটি সঠিক।
ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস: - পরস্পর এক জাতীয় ক্রিয়া করা বোঝালে এ সমাস হয়। - এতে পূর্বপদে 'আ' এবং পরপদে 'ই' যুক্ত হতে দেখা যায়। যেমন: লাঠালাঠি, দেখাদেখি, হাসাহাসি ইত্যাদি।
রূপক কর্মধারয় সমাস: যে কর্মধারয় সমাসে উপমান ও উপমেয়কে অভিন্ন কল্পনা করা হয় এবং উপমান ও উপমেয় বা উপমিত পদে সমাস হয় তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: কাজলের ন্যায় কালো= কাজলকালো, বিষাদ রূপ সিন্ধু = বিষাদ-সিন্ধু, মন রূপ মাঝি = মনমাঝি ইত্যাদি।
সমানাধিকার বহুব্রীহি সমাস: যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: কালাে বরণ যার = কালােবরণ; এক গোঁ যার= একগুঁয়ে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
২৬১.
যেসব শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হয়ে মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে তাকে কি বলে?
ক
যৌগিক শব্দ
খ
যোগরূঢ় শব্দ
গ
রূঢ়ি শব্দ
ঘ
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ: যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- - হস্তী=হস্ত + ইন; অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়। - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা।অথচ, বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন- গায়ক (গৈ + ণক (অক) অর্থ গান করে যে। কর্তব্য = কৃ + তব্য অর্থ: যা করা উচিত।
যোগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন- পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৬২.
নিচের কোনটি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয়?
ক
বহতা
খ
ছত্র
গ
দাতব্য
ঘ
শৈশব
ব্যাখ্যা
তদ্ধিত প্রত্যয়: - শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে তদ্ধিত প্রত্যয়। যেমন: - শিশু + অ = শৈশব, - দীর্ঘ + তম = দীর্ঘতম, - বাঘ + আ = বাঘা, - আশি + তম = আশিতম।
অন্যদিকে, কৃৎ প্রত্যয়: - ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয় তাকে বলে কৃৎ প্রত্যয়। যেমন: √ বহ্ + তা = বহতা, √ ছদ্ + ত্র = ছত্র, √ দা + তব্য = দাতব্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৩.
উপমিত কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি?
ক
নয়নপদ্ম
খ
পদ্মআঁখি
গ
সিংহপুরুষ
ঘ
বিষাদসিন্ধু
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়: - যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
অন্যদিকে, বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- লাল > নাল, শরীর > শরীল ইত্যাদি।
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন: কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বলে। যেমন: পাকা > পাক্কা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৬.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন : ‘স্বাগত’
ক
ক) সু + আগত
খ
খ) স্ব + আগত
গ
গ) স্বা + গত
ঘ
ঘ) স্বা + আগত
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম: উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন- অনু + এষণ = অন্বেষণ, সু + অল্প = স্বল্প তনু + ঈ = তন্বী, অনু + ইত = অন্বিত, সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৬৭.
অব্যয় পদের জন্য কোনটি সঠিক নয়?
ক
ক) সর্বদা অপরিবর্তনীয়
খ
খ) বাক্যের শোভা বর্ধন করে
গ
গ) বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়
ঘ
ঘ) বাংলা ভাষায় অব্যয় শব্দ চার প্রকার
ব্যাখ্যা
যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে। বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে- বাংলা, তৎসম এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ। সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৬৮.
নিচের কোনটি বিদেশি অব্যয় বাচক শব্দের উদাহরণ?
ক
ক) ও
খ
খ) আপাতত
গ
গ) বরং
ঘ
ঘ) শাবাশ
ব্যাখ্যা
বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ। তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং। বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (৯ম - ১০ম শ্রেণী)
২৬৯.
'ভ্রূ' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
ক
ভ্ + ঋ + ঊ
খ
ভ্ + র্ + ঋ
গ
ভ্ + র + উ
ঘ
ভ + ঊ + ঋ
ঙ
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রূ' হলো অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণের উদাহরণ। - এটির গঠিত হয়েছে (ভ্ + র্ + ঊ ) বর্ণযোগে।
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। - যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। যেমন: - এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ। - ক্ + ত = ক্ত, - ক্ + ম = ক্ম, - ক্ + র = ক্র, - ক্ + ষ = ক্ষ, - ক্ + স = ক্স, - ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম, -ষ্ + ণ = ষ্ণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
২৭০.
'শ্রবণ' শব্দটি কোন শ্রেণির ধাতু হতে গঠিত?
ক
দেশি
খ
সংস্কৃত
গ
বাংলা
ঘ
বিদেশি
ব্যাখ্যা
• 'শ্রবণ' শব্দটি সংস্কৃত 'শ্রু' ধাতু হতে গঠিত।
• বাংলা ভাষায় মৌলিক ধাতুগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা: (ক) বাংলা, (খ) সংস্কৃত এবং (গ) বিদেশি ধাতু।
বাংলা ধাতু: - যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে। যেমন - কাদ্, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি। অন্যদিকে,
সংস্কৃত মূল ধাতু: - যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। - এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়। যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্, হস্, পঠ্, দৃশ্ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭১.
‘সংস্কৃত’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
ক
সং + কৃত
খ
সম্ + র্কত
গ
সন্ + কৃত
ঘ
সম্ + কৃত
ব্যাখ্যা
• কতগুলো সন্ধি বিশেষ নিয়মে সাধিত হয়। • বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো: - সম্ + কৃত = সংস্কৃত, - সম্ + কার = সংস্কার, - উৎ + স্থাপন = উত্থাপন, - উৎ + স্থান = উত্থান। এরূপ : পরিস্কৃত, সংস্কৃতি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭২.
নিচের কোনটি বাগ্ধারা নয়?
ক
ডিমে রোগা
খ
তিলেতিলে
গ
পত্রপঠন
ঘ
রাশভারী
ব্যাখ্যা
এখানে, - 'ডিমে রোগা' বাগ্ধারার অর্থ - সর্বদা রুগ্ণ। - "রাশভারী" বাগ্ধারার অথ - গ্মভীর প্রকৃতি। - 'তিলেতিলে' বাগ্ধারার অর্থ - ধীরে ধীরে।
অন্যদিকে, - 'পত্রপাঠ' নামে বাগ্ধারা থাকলেও 'পত্রপঠন' নামে কোনো বাগ্ধারা নেই।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।
২৭৩.
'উচ্ছৃঙ্খল' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
ক
উধ্ + শৃঙ্খল
খ
উত + শৃঙ্খল
গ
উদ্ + শৃঙ্খল
ঘ
উৎ + শৃঙ্খল
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি: ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়। যেমন: - উৎ + হার = উদ্ধার, - উৎ + হৃত = উদ্ধৃত, - পদ্ + হতি = পদ্ধতি, - তদ্ + হিত = তদ্ধিত, - উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস, - উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭৪.
কোনটি অনুসর্গের উদাহরণ?
ক
ক) বলে, কয়ে
খ
খ) জোরে, আস্তে
গ
গ) অবধি, কর্তৃক
ঘ
ঘ) আপন, তুমি
ব্যাখ্যা
• যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে। যেমন - সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। – এই বাক্যে ‘ছাড়া’ একটি অনুসর্গ। - কোন পর্যন্ত পড়েছ? – এই বাক্যে ‘পর্যন্ত’ একটি অনুসর্গ।
• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।। - এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
২৭৬.
'মুখচ্ছবি' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
ক
স্বর + স্বর
খ
স্বর + ব্যঞ্জন
গ
ব্যঞ্জন + স্বর
ঘ
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি: স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে। - এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা - ১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি, ২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি, ৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৭.
'আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে।' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
ক
সাধারণ বর্তমান
খ
পুরাঘটিত অতীত
গ
সাধারণ অতীত
ঘ
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: ক. অনুমতি প্রার্থনায় (ভবিষ্যৎ কালের অর্থে): এখন তবে আসি। খ. প্রাচীন লেখকের উদ্ধৃতি দিতে (অতীত কালের অর্থে): চণ্ডীদাস বলেন, 'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'। গ. বর্ণিত বিষয় প্রত্যক্ষীভূত করতে (অতীতের স্থলে): আমি দেখেছি, বাচ্চাটি রোজ রাতে কাঁদে। ঘ. 'নেই', 'নাই' বা 'নি' শব্দযোগে অতীত কালের ক্রিয়ায়: তিনি গতকাল হাটে যাননি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭৮.
বাংলা সন্ধি কত প্রকার?
ক
দুই
খ
তিন
গ
চার
ঘ
পাঁচ
ব্যাখ্যা
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকম। যথা- • স্বরসন্ধি, • ব্যঞ্জন সন্ধি।
- তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার। যথা- • স্বরসন্ধি, • ব্যঞ্জন সন্ধি এবং • বিসর্গ সন্ধি।
- নিপাতনে সিদ্ধ হচ্ছে সন্ধির সাধারণ নিয়ম না মেনে যে সব সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ বা নিয়ম বহির্ভূত সন্ধি বলে। যেমন- • গো + + পদ = গোষ্পদ। - এখানে নিয়ম অনুযায়ী ষ আসতে পারে না কিন্তু এখানে এসেছে। তাই এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী এবং ভাষান-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৭৯.
নিম্নের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
ক
ক) আকণ্ঠ ভোজন করলাম।
খ
খ) সে ক্রোধান্ধ হইয়াছে।
গ
গ) সশঙ্কিত চিত্তে সে বলল।
ঘ
ঘ) এটা কাঁচা হাতের লেখা।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্যের শুদ্ধ রূপ: - শঙ্কিত চিত্তে সে বলল ।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৮০.
'দুঃখ' কোন বিশেষ্য পদ?
ক
গুণবাচক
খ
ভাববাচক
গ
জাতিবাচক
ঘ
কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য: - যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য। যেমন: - মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি। তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
জাতিবাচক বিশেষ্য: - যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
ভাববাচক বিশেষ্য: - যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- - গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৮১.
‘প্রবীণ’ কোন লিঙ্গ?
ক
ক) স্ত্রীলিঙ্গ
খ
খ) ক্লীবলিঙ্গ
গ
গ) পুংলিঙ্গ
ঘ
ঘ) উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ চার প্রকার লিঙ্গ হলাে - ক) পুংলিঙ্গ, খ) স্ত্রীলিঙ্গ, গ) ক্লীবলিঙ্গ ও ঘ) উভয়লিঙ্গ।
• পুংলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বােঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গােয়ালা, কিশাের, প্রবীণ ইত্যাদি।
• স্ত্রীলিঙ্গ: যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বােঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলাে- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশােরী, প্রবীণা ইত্যাদি।
• ক্লীবলিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনােটিই বােঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। এসব শব্দের উদাহরণ হলাে- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।
• উভয় লিঙ্গ: যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বােঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলাে- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮৪.
'বাবার শরীর খারাপ, শোওয়া হয়নি।'- কোন বাচ্য?
ক
কর্তাবাচ্য
খ
কর্মবাচ্য
গ
ভাববাচ্য
ঘ
কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
• 'বাবার শরীর খারাপ, শোওয়া হয়নি।'- ভাববাচ্য।
• ভাববাচ্য : - বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে প্রকাশিত হলে তাকে ভাববাচ্য বলে। - এ ধরনের বাক্যে কর্ম থাকে না এবং কর্তাও প্রধান হয় না। - এ ধরনের বাক্যে কর্তায়- ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি হয়। - মাঝে মাঝে মূল ক্রিয়াপদের সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়াপদও যুক্ত হয়। - কখনো কখনো কর্তা উহ্য থাকে, অর্থাৎ কর্তা অনুল্লেখিত থাকে। • যেমন- - আমার খাওয়া হল না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)। - তোমার যাওয়া হবে না। (নামপুরুষের ক্রিয়াপদ)।
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
২৮৫.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ল' কেমন ধ্বনি?
ক
দন্ত্য
খ
মূর্ধন্য
গ
তালব্য
ঘ
কন্ঠ্য
ব্যাখ্যা
[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
২৮৬.
'আশীবিষ' কোন সমাস?
ক
ক) কর্মধারয়
খ
খ) বহুব্রীহি
গ
গ) তৎপুরুষ
ঘ
ঘ) অব্যয়ীভাব
ব্যাখ্যা
আশীতে (দাঁতে) বিষ যার = আশীবিষ হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। যে বহুব্রীহি সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ কোনটিই বিশেষণ নয়, তাকে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। এছাড়াও কথাসর্বস্ব, ছা-পোষা, পা-চাটা, পাতা-চাটা, পাতাছেঁড়া, ধামাধরা, বোঁটাখোসা ইত্যাদি হলো ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
২৮৭.
চ ছ জ ঝ বর্ণসমূহ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ধরণের বর্ণ?
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৯.
নিচের কোনটি রূপক কর্মধারয় সমাস?
ক
ক) মনমাঝি
খ
খ) বিষাদসিন্ধু
গ
গ) ক্রোধানল
ঘ
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উপমান ও উপমেয়ের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে রূপক কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন - ক্রোধানল, বিষাদসিন্ধু, মনমাঝি ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
২৯০.
কোনটি দন্ত্য ব্যঞ্জন?
ক
ন
খ
ল
গ
স
ঘ
থ
ব্যাখ্যা
দন্ত্য ব্যঞ্জন: - যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। - তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
অন্যদিকে, দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন - নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
২৯১.
নিচের কোনটি আরবি উপসর্গ?
ক
রাম
খ
উৎ
গ
গর
ঘ
ফি
ব্যাখ্যা
• 'গর' আরবি উপসর্গ।
----------------- • উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসব শব্দখণ্ড বা শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে বলে উপসর্গ।
• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- ১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ, ২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং ৩. বিদেশি উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি। যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।
• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়। যেমন: - আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। - ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। - উর্দু উপসর্গ: হর। - ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯২.
'কলম' শব্দটি কোন ভাষা হতে গৃহীত?
ক
সংস্কৃত
খ
আরবি
গ
ফারসি
ঘ
তুর্কি
ব্যাখ্যা
• "কলম" শব্দটি 'আরবি' ভাষা হতে আগত। - এটি একটি বিশেষ্য পদ। অর্থ: - কোন শক্ত দন্ডের প্রান্তে বল বা নিব সংযুক্ত করে তৈরী লেখনী; ঝরনাকলম - নলখাগড়া পালক প্রভৃতির অগ্রভাগ ত্যারচা করে কেটে তৈরী লেখনী।
কিছু আরবি শব্দ: - এলাহি, - কয়েদ, - কসাই, - খারাবি, - খারাপ, - খারিজইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৯৩.
লাল → নাল কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
ক
বিষমীভবন
খ
ধ্বনি বিপর্যয়
গ
ব্যঞ্জনবিকৃতি
ঘ
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
• লাল → নাল বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। -------------------------- • বিষমীভবন: - শব্দের ভেতরে পাশাপাশি থাকা দুটি সমবর্ণ বা একই ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে একটি ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ভিন্ন ধ্বনিতে রূপ নিলে তাকে বিষমীভবন বলা হয়। - এটি মূলত সমীভবন-এর বিপরীত ধ্বনিপ্রক্রিয়া। - এখানে একই ধ্বনিকে একই রাখার বদলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য একটি ধ্বনি ভিন্ন রূপ ধারণ করে। - যেমন— - শরীর → শরীল শব্দে পাশাপাশি থাকা ‘র’ ধ্বনির একটি পরিবর্তিত হয়ে ‘ল’ হয়েছে; - লাল → নাল শব্দে একটি ‘ল’ ধ্বনি ‘ন’-এ রূপান্তরিত হয়েছে; - আবার লাঙ্গল → নাঙ্গল শব্দে ‘ল’ ধ্বনির পরিবর্তন ঘটেছে। --------------------------- অন্যদিকে, • ধ্বনি বিপর্যয়: - ধ্বনি বিপর্যয় হলো এমন ধ্বনিগত পরিবর্তন, যেখানে উচ্চারণের সময় শব্দের আগের ধ্বনি পিছিয়ে যায় এবং পরের ধ্বনি সামনে চলে আসে। - ফলে ধ্বনির স্বাভাবিক ক্রম উল্টে যায়। - যেমন— - রিক্সা → রিস্কা, - তলোয়ার → তরোয়াল, - নকশা → নশকা, - লাফ → ফাল।
• ব্যঞ্জনবিকৃতি: - ব্যঞ্জনবিকৃতি বলতে বোঝায়—শব্দের ভেতরে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি রূপান্তরিত হয়ে ভিন্ন ব্যঞ্জনে পরিণত হওয়া। - এতে ধ্বনিটি লোপ পায় না, বরং তার ধ্বনিগত রূপ বদলে যায়। - যেমন— - কবাট → কপাট, - ধাইমা → দাইমা।
• অন্তর্হতি: - অন্তর্হতি বলতে বোঝায়—শব্দের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি সম্পূর্ণভাবে লোপ পাওয়া। - এই প্রক্রিয়ায় শব্দটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ উচ্চারণযোগ্য হয়ে ওঠে। - যেমন— - আলাহিদা → আলাদা, - ফাল্গুন → ফাগুন, - ফলাহার → ফলার।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
কৃৎ প্রত্যয়: - ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত সেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন- √চল + অন্ত = চলন্ত। √পড়ু + আ = পড়ুয়া। √কৃ + তব্য = কর্তব্য।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৯৭.
নিচের কোন শব্দটিতে ‘আ’ উপসর্গটি ‘পর্যন্ত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি?